বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৪

প্রতিদিনের রুকইয়া ও ঝাড়ফুক

প্রতিদিনের রুকইয়া ও ঝাড়ফুক
চোখের নজর, কালো যাদু, তাবীজ-কবজ, এক্সিডেন্ট, রোগ-ব্যাধি, জিনের আসর.এইরকম যেকোন ক্ষতি থেকে বেচে থাকার জন্য প্রতিদিন এই দুয়াগুলো পড়তে হয়। এই দুয়াগুলো ওযু ছাড়া, শুয়ে বসে যেকোন অবস্থাতে, এমনকি নারীরা ঋতু অবস্থাতেও পড়তে পারবেন। বিভিন্ন বিপদ-আপদ ও ক্ষতি থেকে নিরিপদ থাকার জন্য আমাদের এই দুয়াগুলো পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।
১. জিনের আসর ও দুষ্টু জিনের ক্ষতি থেকে বাচার জন্য আমলঃ সকালসন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসী পাঠ করা
জিনেরা মানুষের উপর আসর করে মানুষের মন-মেজাজ, চিন্তা ভাবনা এমনকি কাজের উপরও প্রভাব বিস্তার করতে পারে। অনেক দুষ্টু জিন মানুষের বিশেষ করে মুমিনদের ক্ষতি করে থাকে, এক সাহাবীকে জিনেরা তীর বিদ্ধ করে হত্যা করেছিলো। অন্য এক সাহাবীর ঘরে একটা জিন সাপ হিসেবে বসে ছিলো। ঐ সাহাবী যখন তাকে সাপ মনে করে হত্যা করতে যান তখন ঐ জিন তাকে দংশন করে হত্যা করে। জিনের ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকার সহজ একটি আমল হচ্ছে সকাল ও সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসী ১ বার পড়া।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে তাকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জিনদের থেকে রক্ষা করা হবে আর, যে সন্ধ্যায় পাঠ করবে তাকে সকাল পর্যন্ত রক্ষা করা হবে।
সহীহ তারগীব ওয়াত-তারতীবঃ ৬৬২।
নোটঃ সুরা বাকারার ২৫৫ নাম্বার আয়াতকে আয়াতুল কুরসী বলা হয়। নিয়মিত আয়াতুল কুরসী পড়লে যাদু, চোখের নজর, জিনের ক্ষতি ও অন্যান্য বিপদ আপদ থেকে সুরক্ষা করে আর প্রত্যেক ফরয নামাযের পরে একবার করে পড়লে মৃত্যুর পরে বিনা হিসেবে জান্নাত রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয সালাতের পর আয়াতুল কুরসী পাঠ করে মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখতে পারবেনা নাসায়ী, ইবনু হিব্বান, হাদীস সহীহ
২. প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার করে সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক্ব ও সুরা নাস ৩ বার করে পড়া। সকাল হচ্ছে ফযরের পর থেকে যোহর পর্যন্ত যেকোন সময়, আর সন্ধ্যা হচ্ছে আসর থেকে নিয়ে মাগরিব পর্যন্ত সময়। এর ফযীলত হচ্ছেঃ এই দুয়া পড়লে যেকোন (ক্ষতিকর) জিনিস থেকে নিরাপত্তা দেবে।
আব্দুল্লাহ ইবনে খুবাইব রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিততিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ তুমি প্রতিদিন সকালসন্ধ্যায় ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ (সুরা ইখলাস), ক্বুল আঊযু বিরাবিবল ফালাক্ব (সুরা ফালাক্ব) ক্বুল আঊযু বিরাবিবন্নাস (সুরা নাস) তিনবার করে পড়। তাহলে যেকোন (ক্ষতিকর) জিনিস থেকে নিরাপত্তার জন্য এটা তোমার জন্য যথেষ্ট হবে।
তিরমিযী ৩৫৭৫, আবূ দাউদ ৫০৮২, হাসান সহীহ বলেছেন।  ইমাম তিরমিযী, শায়খ আলবানী।
পড়ার নিয়ম আউযুবিল্লাহ..., বিসমিল্লাহ..., পড়ে  সুরা ইখলাস,  সুরা ফালাক, সুরা নাস - এইভাবে ১ বার করে পড়ার পরে এই সিরিয়ালে আরো ২ বার, মোট ৩ বার পড়তে হবে। প্রত্যেক সুরার আগে শুধু বিসমিল্লাহ...পড়বেন।
৩. হঠাৎ কোন বিপদ-আপদ ও দুর্ঘটনা থেকে নিরাপদ থাকার জন্য দুয়াঃ কালসন্ধ্যায় ৩ বার
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে তিনবার ও সন্ধ্যায় তিন বার এই দুআ পড়বে, কোনো কিছুই ঐ ব্যক্তির ক্ষতি করতে পারবেনা
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلاَ فِي السّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
আরবী উচ্চারণঃ বিসমিল্লা-হিল্লাযী লা ইয়াদুররু মা আসমিহী শাইউন ফিল আরদি, ওয়ালা ফিস সামা-য়ী, ওয়াহুয়াস সামীউল আলীম। (৩ বার)।
বাংলা অর্থঃ আমি সেই আল্লাহর নামে শুরু করছি, যার নামে শুরু করলে আসমান ও যমীনের কোনো কিছুই কোনো ক্ষতি করতে পারেনা। প্রকৃতপক্ষে তিনি সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী। (৩ বার)।
আবু দাউদ, তিরমিযী ৩৩৮৮, ইবনে মাজাহ ৩৮৬৯, মুসনাদে আহমাদ ৪৪৮, ৫২৯। হিসনুল মুসলিম, পৃষ্ঠা ১৩৮। শেখ আলবানীর মতে হাদীসটি হাসান।
৪. চোখের নজর থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করার দুয়াঃ কালসন্ধ্যায় ৩ বার
চোখের নজরের কারণে মানুষের অনেক ক্ষতি হতে পারে। হিংসুক লোকের অন্তরে বিদ্বেষ বা লোভ নিয়ে চিন্তা করা, উচ্চ প্রশংসামূলক বাক্য, চিন্তা বা চোখের দ্বারা দৃষ্টির দ্বারা কারো নিজের বা তার পরিবারের লোকজনের স্বাস্থ্য, সম্পদ, ব্যবসা, পড়ালেখা, বিদ্যা-বুদ্ধি, সৌন্দর্যের ক্ষতি হতে পারে, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নষ্ট এমনকি কারো মৃত্যুর কারণ পর্যন্ত হতে পারে।
যা দ্বারা শিশুদের জন্য চোখের নজর থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে হয়ঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর জন্য এই বলে (আল্লাহ্‌র) আশ্রয় প্রার্থনা করতেন-
أُعِيذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ
উচ্চারণঃ উইযুকুমা বিকালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মাতি মিন কুল্লি শাইতানিওঁয়া হা-ম্মাহ্‌, ওয়ামিন কুল্লি আইনিল্লা-ম্মাহ্‌।
অর্থঃ আমি তোমাদের দুই জনকে আল্লাহ্‌র পরিপূর্ণ কালেমা সমূহের আশ্রয়ে নিচ্ছি, যাবতীয় শয়তান ও বিষধর জন্তু থেকে এবং যাবতীয় ক্ষতিকর চক্ষু (বদনযর) থেকে। বুখারীঃ ৩৩৭১।
কেউ নিজের জন্য চোখের নজর থেকে বাঁচার জন্য উপরের দুয়াটি পড়ে তবে উইযুকুমা বিকালিমা-তিল্লা-হিত……এর পরিবর্তে أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ  ঊযু বিকালিমা-তিল্লাহিত্তা-ম্মাতি মিন্এইভাবে পড়তে হবে।
৫. দশজন দাস মুক্ত করার সমান সওয়াব ও সশস্ত্র ফেরেশতা দল দিয়ে নিরাপত্তাসহ অনেক বড় ফযীলতের একটা দুয়াঃ
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণঃ লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু, লা শারীকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু, ইয়ুহয়ী ওয়াইয়ূমীত, ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইইং ক্বাদীর।
অর্থঃ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তারই এবং সমস্ত প্রশংসা তাঁর। তিনিই জীবন দান করেন এবং তিনিই মৃত্যু দান করেন। আর তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
এই দুয়া ফযর ও মাগরিবের সালাতের পর পড়লেঃ
(ক) আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তির জন্য সশস্ত্র ফেরেশতাদের দল পাঠাবেন যারা তাকে সকাল পর্যন্ত যেকোন ক্ষতি হতে পাহারা দিয়ে রাখবেন।
(খ) তার আমলনামায় দশটি নেকী লিখে দেওয়া হবে।
(গ) তার আমলনামা থেকে দশটি ধ্বংসাত্মক গুনাহ মুছে দেওয়া হবে।
(ঘ) দশ জন ঈমানদার দাস মুক্ত করার সমান সওয়াব তাকে দেওয়া হবে।
সুনানে তিরমিযীঃ ৩৫৩৪, হাদীসটি হাসান সহীহ, দারুস সালাম তাহকীক।
বিঃদ্রঃ লক্ষ্য করুন দুয়াটাতে অতিরিক্ত ইয়ুহয়ী ওয়াইয়ূমীত, এই কথাটা অতিরিক্ত আছে, এটাসহ পড়তে হবে।

ঘুমানোর পূর্বে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সুন্নতী আমলঃ
৫. আয়াতুল কুরসী পাঠ করা ১ বার।

ঘুমানোর পূর্বে আয়াতুল কুরসী পাঠ করার ফযীলতঃ
ক. সকাল পর্যন্ত তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন হেফাজতকারী (ফেরেশতা) তাকে নিরাপত্তা দেবে।
খ. শয়তান তার কাছে আসতে পারবেনা।
যখন বিছানায় ঘুমুতে যাবে আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে, তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার উপর সব সময় একজন হেফাযতকারী নিযুক্ত থাকবে এবং ভোর পর্যন্ত শয়তান তোমার ধারে কাছেও আসতে পারবে না।
সহীহ বুখারী, খন্ড ৬, অধ্যায় ৬১, হাদিস নং- ৫৩০।
এখানে হাদীসটা সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে। এটা আসলে এক জিনের সাথে এক সাহাবীর আশ্চর্যজনক বড় একটা ঘটনা। সম্পূর্ণ কাহিনীটা জানার জন্য আপনারা রিয়াদুস সালেহীনে ১০২২ নং দেখুন।
৬. সুরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত পড়া ১ বার।
ঘুমানোর আগে সুরা বাক্বারার শেষ ২ আয়াত (২৮৫+২৮৬) পড়ার ফযীলতঃ
ক. রাত জেগে তাহাজ্জুদ নামায পড়ার সমান সওয়াব পাওয়া যাবে
খ. বালা-মুসিবত ও যেকোনো ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য যথেষ্ঠ হবে।
গ. জিন ও শয়তানের ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য যথেষ্ঠ হবে।
ঘ. আয়াতগুলো পড়ে শেষ আমিন বললে আয়াতগুলোতে যেই দুয়া আছে সেইগুলো আল্লাহ তাআলা কবুল করে নেন।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাতের বেলা সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়বে সেটা তার জন্য যথেষ্ঠ হবে সহীহ বুখারিঃ ৫০১০, সহীহ মুসলিমঃ ৮০৭।
বিখ্যাত হাদীসগ্রন্থ রিয়াদুস সালেহীন এর লেখক ও সহীহ মুসলিমের ভাষ্যকার, ইমাম আন-নববী (রহঃ) বলেন, এর অর্থ কেউ বলেছেনঃ কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ নামাযের জন্য যথেষ্ঠ হবে। কেউ বলেছেনঃ শয়তানের ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য যথেষ্ঠ হবে। কেউ বলেছেনঃ বালা-মুসিবত থেকে নিরাপত্তা পাওয়া যাবে। তবে সবগুলো অর্থ সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শারহুন নববী আলা সহিহ মুসলিমঃ ৮০৭।
সহীহ বুখারীর ভাষ্যকার, আমিরুল মুমিনিন ফিল হাদীস, ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ) এই অভিমত সমর্থন করে বলেন, উপরের সবগুলো অর্থ নেওয়া সঠিক। আল্লাহ ভালো জানেন। প্রথম অর্থটি (তাহাজ্জুদের সমান সওয়াব পাওয়া) আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে একটি মারফু হাদীসে স্পষ্ট উল্লেখ আছে।

ফাতহুল বারী ৮/৬৭৩, হাদীস ৫০১০। এ কারণেই আলী (রাঃ) বলেনঃ আমার মতে যার সামান্যও বুদ্ধিজ্ঞান আছে, সে এ দুটি আয়াত পাঠ করা ছাড়া নিদ্রা যাবে না। মানাকিবুস সাহাবা। ইমাম নববী এটাকে সহীহ বলেছেন, আল-আযকার।

বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০১৪

মুহাম্মদ আল-আরিফী? সে কি কোন আলেম?


মুহাম্মদ আল-আরিফী? সে কি কোন আলেম?

জসীম উদ্দিন রাহমানী, আনোয়ার আল-আওলাকি, আল-কায়েদাহ ভক্ত অল্প-বয়ষ্ক কিছু ছেলেরা মুহাম্মাদ আল-আরিফীকে বড় জিহাদী(!) আলেম বলে প্রচার করছে। সে নাকি এতো বড় আলেম যে, তারা আরিফীর উপাধি দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রাণভোমরা!?
আসল কে এই মুহাম্মদ আল-আরিফী? সে কি কোন আলেম?

উত্তরঃ আলহামদুলিল্লাহ। ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহ। আম্মা বাআদ।

+ আল্লামাহ শায়খ মুহাম্মাদ বিন হাদী (হাফিঃ) বলেন, আমি মুহাম্মদ আল-আরিফী কে চিনি ও তার কথা শুনেছি। সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাঃ) সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলে। সে একজন জাহেল (মূর্খ), সাহিবু হাওয়া (প্রবৃত্তির অনুসারী)।. তাঁর কথা শুনবেনা।

শায়খের ফতোয়া ও তার ইংরেজী অনুবাদ দেখুন
https://www.youtube.com/watch?v=hjr2A_NXrhs

++ শায়খ মুহাম্মদ বিন হাদী আরিফীকে কেনো মূর্খ ও প্রবৃত্তির অনুসারী বলেছেন
মুহাম্মদ আল-আরিফী নামে পরিচিত জনপ্রিয় একজন সউদী টিভি বক্তা যাকে অনেকে জিহাদী(!) আলেম মনে করে বিভ্রান্ত হচ্ছেন, সে রাসুল সাঃ এর একটি হাদীসকে অপব্যখ্যা করে নতুন একটি #বিদাত রচনা করেছেন। রাসুল সাঃ আমাদের আদেশ করেছেন, (মুসলিম) শাসক যদি তোমার উপর অত্যাচার করে, তোমার সম্পদ কেড়ে নেয় এবং তোমাকে চাবুক দিয়ে পেটায়, তবুও তার আনুগত্য করো। এটা হুযাইফা বিন ইয়ামান রাঃ থেকে বর্ণিত বিখ্যাত হাদীস, যা সহীহ আল-মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে।

কথিত এই জিহাদী আলেম আরিফী দাবী করেন, এই হাদীস যদি রাজা একজনের উপর যুলুম করে তাহলে প্রযোজ্য হবে। কিন্তু কোনো শাসক যদি তার অধীনস্তদের অনেকের উপরে যুলুম-অত্যচার করে তাহলে ঐ শাসকের কথা শোনা যাবেনা, তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা জায়েজ হবে।

এটা স্পষ্ট রাসুল সাঃ এর হাদীসের অপব্যখ্যা ও মনগড়া বিদাতী কথা যা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের #আকিদাহ বিরোধী। সমস্ত আলেমরা একমত, শাসক যুলুম অত্যাচার করলেও তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা হারাম ও জমীনে ফাসাদ সৃষ্টি করার অন্তর্ভুক্ত, যা আসলে খারেজীদের কাজ।

শায়খুল ইসলাম ইমাম তাহাবী (রহঃ) লিখেছেন, আমীর ও শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করাকে আমরা জায়েয মনে করি না, যদিও তারা অত্যাচার করে। আমরা তাদের অভিশাপ দিব না এবং আনুগত্য হতে হাত গুটিয়ে নিব না। তাদের আনুগত্য আল্লাহর আনুগত্যের সাপেক্ষে ফরয, যতক্ষণ না তারা আল্লাহর অবাধ্যচরণের আদেশ দেয়। আমরা তাদের মঙ্গল ও কল্যাণের জন্য দোআ করব। [আকীদাহ আত-ত্বাহাবীয়া]

এনিয়ে আরো বিস্তারিত জানার জন্য এই পোস্ট দেখার অনুরোধ করছি
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/photos/pb.125167817515974.-2207520000.1411864525./909241182441963/?type=1&source=42

দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আরিফীকে অনেক আলেম সতর্ক করেন এবং উপদেশ দেন। সে আলেমদের উপদেশ ত নেয়ইনি বরং, শায়খ ফাওজানের কাছে সে মিথ্যা কথা বলে, এই অপব্যখ্যা নাকি সে ইমাম নববীর কাছ থেকে নিয়েছে! প্রথম কথা হচ্ছে দলিল বিহীন কোন কথা যত বড় আলেমই বলুক না কেনো সেটা গ্রহণযোগ্য নয়। তার উপরে এটা ইমাম নববী রহঃ বলেন নি। শায়খ ফাওজান ইমাম নববী রচিত সহীহ মুসলিমে শরাহ বা ব্যখ্যাগ্রন্থ সার্চ করে আরিফীর এইরকম বিভ্রান্তিকর কথা #বাতিল বলে প্রত্যাখ্যান করেন। আসলে ইমাম নববী এইরকম কথা বলেন নি।

+++ মুহাম্মাদ আল-আরিফীর কুফুরী বক্তব্য
আরিফী একটা কবিতা লিখে তার নাম দেয় সুরাতুল তুফফাহা(নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক) বা আপেলের সুরা। ক্বুরানের মতো করে সুরা তুফফাহা নাম দিয়ে সেই কবিতাটাকে সে সুরা মারিয়ামের মতো গেয়ে তার শ্রোতাদেরকে শোনায়, যেইভাবে ক্বুরানুল কারীম তেলাওয়াত করা হয়। সে এই কাজটা করে এবং বলে আমি হাসানোর জন্য এই কথা বলেছি। আরিফী কর্তৃক এই জঘন্য কাজের ব্যপারে আল্লামাহ শায়খ সালেহ আল-ফাউযান (হাফিঃ) কে আরিফীন নাম উল্লেখ না করেই, ক্বুরান নিয়ে এমন হাসি-ঠাট্টা করার হুকুম জানতে চেয়ে ফতোয়া জিজ্ঞেস করা হয়।

শায়খ ফাউজান বলেন, কেউ যদি কিছু শব্দ দিয়ে কবিতা বানিয়ে আল্লাহর কালামের মতো নকল করার চেষ্টা করে, এবং সুরা নাম দিয়ে ক্বুরানুল কারীম তেলাওয়াতের মতো করে আবৃত্তি করে শোনায়, তাহলে এটা ভয়ংকর একটা অপরাধ। এর কারণে সে কাফের হয়ে যাবে, যদিও সে এই কাজটা দ্বারা হাসি-ঠাট্টা করে থাকুক না কেনো। [কারণ মহান আল্লাহ তাআলা স্বয়ং নিজে তাঁকে বা তাঁর আয়াতের সাথে যে হাসি-ঠাট্টা বা মজাক করবে, তাকে ঈমান আনার পরেও কাফের হয়ে গেছে বলে ঘোষণা করেছেন]
আর যদি তুমি তাদের কাছে জিজ্ঞেস করো, তবে তারা বলবেঃ আমরাতো শুধু কথার কথাই বলছিলাম এবং কৌতুক করছিলাম। (হে নবী) আপনি বলুন! তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তাঁর আয়াতের সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করছিলে? তোমরা কোন অযুহাত পেশ করোনা, কারণ তোমরা ঈমান আনার পরে পুনরায় কাফের হয়ে গেছ। [সুরা আত-তাওবাহঃ ৬৫-৬৬]
সুতরাং, যে ব্যক্তি ক্বুরান নিয়ে হাসি ঠাট্টা করে, ক্বুরানের মতো করে কোন কবিতা লিখে মানুষকে ক্বুরান তেলাওয়াতের মতো করে পড়ে শোনায় এবং মানুষকে সুরা বলে প্রতারিত করে, এই কারণে সে মুর্তাদ হয়ে যাবে।

শায়খ উবায়েদ আল-জাবেরীও এর উপরে ফতোয়া দিয়েছেন। আরিফীর কুফুরী বক্তব্যের ভিডিও ও এর উপরে উক্ত দুইজন শায়খের ফতোয়া ও তার ইংরেজী অনুবাদ দেখুন
https://www.youtube.com/watch?v=DpEeB9vA7l4

++++ শায়খ ফাউজান নাম ধরে আরিফীক কাফের বলেন নি। তবে যে ব্যক্তি এই জঘন্য কাজটা করবে, সে কাফের হয়ে যাবে ফতোয়া দিয়েছেন।
আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আকীদাহ মতে, কেউ কোন কুফুরী কাজ করলে তাকে সরাসরি কাফের বলে ঘোষণা করা হয় না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তাকে সতর্ক করে দেওয়া হবে। সতর্ক করে দেওয়ার পরেও কেউ যদি জেনে বুঝে কুফুরী কাজ করে, তাহলে সব দিক বিবেচনা করে ওলামারা ফতোয়া দেবেন সে কাফের হয়ে গেছে হয়নি। আমরা সাধারণ মানুষ কাউকে কাফের বা মুর্তাদ বলবোনা, তবে আমরা জানবো কোন কাজটা করলে মানুষ কাফের বা মুর্তাদ হয়ে যায় এবং সেই ব্যপারে মানুষকে সতর্ক করবো। মুসলমানদের মাঝে কোন ব্যক্তি কাফের বা মুর্তাদ হয়ে গেছে নাকি, সেটা নির্ধারণ করার দায়িত্ব ওলামাদের।  

+++++ সর্বশেষ আরিফীর কাছ থেকে ইলম নেওয়া যাবে কিনা অথবা, তার কথা শোনা যাবে কিনা?
আরিফী সত্য-মিথ্যা বিভিন্ন কিসসা কাহিনী বলে মানুষকে মুগ্ধ করতে চায় যেমনটা আমাদের দেশে তাবলিগীরা করে থাকে, এছাড়া সে মনগড়া হাদীসের অপব্যখ্যা করে যা উপরে প্রমানসহ উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লামাহ শায়খ আহমাদ আন-নাজমী (রহঃ) কে মুহাম্মদ আল-আরিফীর ব্যপারে জিজ্ঞেস করা হলো তিনি বলেন, স্টোরি টেলার (গল্পবাজ) লোকদের কথা শোনা জায়েজ নয়। কিসসা-কাহিনী বলা লোকদের চারপাশে মানুষ জড়ো হয়, (এইভাবে সত্য-মিথ্যা) কাহিনী বলে বেড়ানো এটা ঠিক নয়। 

শায়খের ফতোয়া ও তার ইংরেজী অনুবাদ দেখুন
https://www.youtube.com/watch?v=pZsHqVYcRyo

মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৪

যুদ্ধে কাফেরদের সাহায্য নেওয়া জায়েজ কিনা?

যুদ্ধে কাফেরদের সাহায্য নেওয়া জায়েজ?
_____________________________
১৯৯০ সালে ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন কোনরকম যুদ্ধ পরিস্থিতি ছাড়াই আকস্মিকভাবে আক্রমন করে তেল সমৃদ্ধ দেশ কুয়েত দখল করে নেয়। এতে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সুন্নী দেশগুলো নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। সে সময়ের সৌদি বাদশাহ ফাহাদ বিন আব্দুল আজিজ সাদ্দাম হোসেনকে প্রতিহত করার জন্য জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে এক চুক্তির মাধ্যমে আমেরিকার সাহায্য নিয়েছিলো। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালমান আল-আওদাহ, সফর আল-হাওয়ালি, মুহাম্মাদ আল-সুরুরের মতো কিছু ব্যক্তি এবং তাদের অন্ধভক্ত কিছু ইউটিউব বক্তা ইন্টারনেটে ও বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমগুলোতে ইমাম আব্দুল আজিজ ইবনে বাজ, ইমাম মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমিন সহ অন্যান্য সৌদি আলেমদের নামে আজেবাজে কথা প্রচার করে বেড়ায়। এমনকি তাদের ছড়ানো তাকফিরী বিষে আক্রান্ত কিছু বাংলা ও ইংরেজী ভাষাভাষী বক্তা ও লেখক আহলে সুন্নাহর সাম্প্রতিক কালের এই ইমামদেরকে সৌদি বাদশাহর দালাল, তাগুতের পা চাটা গোলাম এর মতো জঘন্য ভাষায় গালি দিতে দ্বিধা করছেনা। নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক, আল্লাহ তাদেরকে তাই দিন, যা তাদের জন্য উপযুক্ত।
তাদের অভিযোগ সৌদি আলেমরা বাদশাহর রাজত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য, তাদেরকে খুশি করার জন্য ফতোয়া পরিবর্তন করেছেন। অনেকে সরাসরি আলেমদেরকে মুনাফেক, দরবারী আলেম বলে গালি দেওয়াকে তাদের জন্য ফরজ করে নিয়েছেন। যাই হোক, চলুন আজ আমরা দেখি, আলেমরা কি আসলে দালালি করেন, নাকি ইসলামের কথাই বলেন, যা ইখোয়ানুল মুসলিমিন, হিযবুত তাহরীর, আল-কায়েদাহ, কথিত মুজাহিদসহ বিভিন্ন বিভ্রান্ত দলগুলোর হাওয়া (প্রবৃত্তির) সাথে মনোঃপুত না হওয়ায় ঠিক সেইরকম গালি-গালাজ করছে আলেমদেরকে, যেইরকম গালি খারেজীরা দিতো সাহাবীদেরকে।
____________________________________
অনেকে মনে করেন, মুসলমানদের জন্যে কোন যুদ্ধে কাফেরদের কাছ থেকে থেকে সাহায্য নেওয়া সব সময়ই হারাম। কোন মুসলমানের বিরুদ্ধে কাফেরদেরকে সাহায্য করলে সে কাফের হয়ে যাবে। সুতরাং সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে সৌদি আরব আমেরিকার সাহায্য নিয়ে সৌদি বাদশাহ কাফের হয়ে গেছে। আর শায়খ বিন বাজসহ অন্য সৌদি আলেমরা এটাকে সমর্থন করায় ও জায়েজ ফতোয়া দেওয়ার কারণে তারা তাগুতের গোলামী করে তাঁরাও কাফের হয়ে গেছেন, নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক। চলুন দেখি তাদের এই যুক্তির বিপরীতে আমাদের পূর্ববর্তী আলেমরা এই ব্যপারে কি ফতোয়া দিয়েছেনঃ
(১) ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) বলেন, কাফেরদের সাহায্য নেওয়া প্রথমে নিষিদ্ধ ছিল, কিন্তু পরবর্তীকালে এই হুকুম রহিত হয়ে যায়। নায়লুল আওতারঃ ৮/৪৪।
ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) আরো বলেছেন, কাফেরদের কাছ থেকে যুদ্ধের জন্য সাহায্য নেওয়া জায়েজ, যারা মুসলমানদের কাছে বিশ্বস্ত এবং যখন সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা থাকবে। এই শর্তগুলো পূরণ না হলে কাফেরদের সাহায্য নেওয়া মাকরুহ (অপছন্দনীয়)। শরাহ সহীহ মুসলিম, ইমাম নববী।
(২) এই বিষয়ে চার মাজহাবের ফুকাহাদের অবস্থান প্রায় কাছাকাছি যা ইমাম শাফেয়ী ব্যক্ত করেছেন। রেফারেন্স দেখুন
(i) হানাফি মাযহাবের মত দেখুনঃ শারাহা কিতাব আস শির ফাকারা, ২০১।
(ii). মালেকি মাযহাবের মত দেখুনঃ আল মাদুনাঃ ২/৪০, আল কুরতুবিঃ ৮/১০০।
(iii). শাফেয়ী মাজহাবে স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে, হারবি কাফেরদেরও সাহায্য নেয়া জায়েজ। নিহায়াত আল মাহতাজ ৮/৫৮, তাকমিলা আল মাজমুয়া ১৯/২৮।
(iv). হাম্বলি মাযহাবের মত দেখুন, ইমাম ইবনে কুদামাহর প্রসিদ্ধ ফতোয়ার কিতাব, আল-মুগনিঃ ৮/৪১৪।
____________________________________
এতো গেলো পূর্ববর্তী আলেমদের মতামত। চলুন এবার আমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সহীহ হাদিসে দেখি, কাফেরদের সাথে সন্ধি চুক্তি করে মুসলমানদের অন্য শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করা জায়েজ; তা সরাসরি হাদীস দিয়েই প্রমানিত।
যু-মিখবার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, অদূর ভবিষ্যতে তোমরা রোমানদের (খ্রিস্টানদের) সাথে শান্তি চুক্তি করবে। পরে তোমরা ও তারা (খ্রিস্টানরা) মিলে তোমাদের পিছন দিককার (শত্রুদের) সাথে যুদ্ধ করবে। সেই যুদ্ধে তোমরা জয়ী হবে, অনেক গনীমত অর্জন করবে এবং নিরাপত্তা লাভ করবে। তখন এক খৃষ্টান ব্যক্তি ক্রুশ উঁচু করে ধরে বলবে, ক্রুশ (ক্রস অর্থাৎ খ্রীস্টান ধর্ম) জয়ী হয়ে গেছে। ফলে মুসলমানদের মধ্যে এক ব্যক্তি তাতে ক্রুদ্ধ হয়ে ক্রুশটিকে ভেঙ্গে ফেলবে। এই ঘটনার সুত্র ধরে রোমানরা (খ্রিস্টানরা) বিশ্বাসঘাতকতা (সন্ধি চুক্তি ভঙ্গ) করবে।
মিশকাত শরীফ, মহাযুদ্ধ অধ্যায়, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, আবু দাউদঃ ১৫৮৮, হাদীসটি সহীহ, শায়খ আলবানী (রহঃ)।
____________________________________
সুতরাং সহীহ হাদীস দিয়ে স্পষ্ট প্রমানিত হয় যে, যুদ্ধে এক কাফেরের বিরুদ্ধে অন্য কাফেরের সাহায্য নেওয়া জায়েজ।
____________________________________
এবার আসি সাদ্দাম হোসেন প্রসংগে...
সাদ্দাম হোসেন ছিলো বাথিস্ট (Bathist). বাথিস্ট একটা রাজনৈতিক মতবাদ যাদের মূল মন্ত্র জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতবাদ ও সমাজতন্ত্রের উপর প্রতিষ্ঠিত, যেইগুলো ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক। সাদ্দাম হোসেন ক্ষমতায় আসার পরে তার দলের লোকেরা আল্লাহর কুশপুত্তলিকা বানিয়ে পুড়িয়ে ফেলে এবং আজ থেকে আল্লাহ মৃত বলে ঘোষণা করে, নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক। এছাড়া আরো অনেক শিরকি কুফুরী কাজের জন্য শায়খ বিন বাজসহ অন্য আলেমরা সাদ্দামকে #মুর্তাদ বলে ফতোয়া দিয়েছিলেন। অবশ্য সাদ্দাম হোসেনের ফাসির পূর্বে সে তোওবা করেছে বলে দাবী করে এবং দাড়ি রাখে, কোর্টে কুরআন নিয়ে আসে এবং লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলতে বলতেই সে ফাঁসিতে ঝুলে। তাই হতে পারে, তোওবাহ করার কারনে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। সুতরাং, আমরা সাদ্দাম হোসেনকে কাফের বা জাহান্নামী বলবোনা, সতর্কতা হিসেবে তার ব্যপারে চুপ থাকবো। তবে সে অনেক যুলুম অত্যাচার ও অন্যায় করে মৃত্যুবরণ করেছে।
____________________________________
১৯৯০ সালে সাদ্দাম হোসেন (কাফের থাকা অবস্থায়) আকস্মিকভাবে কুয়েত দখল করে মধ্যপ্রচ্যের অন্য দেশগুলোকে হুমকির মুখে ফেলে। উল্লেখ্য সে এবং তার ইরাকী সরকার তখন কুফুরীর উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলো যা আমাদের আলেমরা অনেক পূর্বেই ঘোষণা করেছিলেন। এইরকম অত্যাচারীকে, মুসলিম দেশ সমূহের সাথে শত্রুভাবাপন্ন কোন অন্যায়কারীকে প্রতিহত করার জন্য সৌদি আরব তখন শায়খ বিন বাজ, শায়খ মুহাম্মাদ আমান আল-জামি সহ বড় আলেমদের পরামর্শক্রমে জাতিসংঘের মাধ্যমে আমেরিকান কুফফারদের সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং এর মাধ্যমে তারা সাদ্দামের আগ্রাসন থেকে নিজেদেরকে হেফাজত করেন। শায়খ বিন বাজ রহঃ এর নেতৃত্বে সউদী ওলামাদের এই ফতোয়া ও বাদশাহর সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিলো তা উপরের আলোচনাতেই স্পষ্ট।
____________________________________
শায়খ আলবানী (রহঃ) এর ফতোয়া প্রসংগেঃ
উল্লেখ্য, আল্লামাহ শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী (রহঃ) সউদী ওলামাদের এই ফতোয়াকে ভুল বলেন এবং তিনি এর বিরোধীতা করেন। কিছু প্রতারক লোক যারা আসলে মনপূজারী, তারা শায়খ আলবানীর এই ফতোয়াটা খুব প্রচার করে, যদিও তারা জিহাদ, তাকফীর, রাজনীতিসহ অন্য বিষয়গুলোতে শায়খ আলবানীর কোন বক্তব্যকে গ্রহণ করেনা। কিন্তু শায়খ আলবানীর এই ফতোয়া তাদের প্রোপাগান্ডার পক্ষে, সেইজন্য শায়খ আলবানির এই ফতোয়াটা তারা খুব প্রচার করে থাকে।
____________________________________
কাফেরদের সাহায্য নেওয়া প্রসঙ্গে শায়খ আলবানী রহঃ এর ফতোয়ার ব্যপারে আমরা ইমাম মালেক রহঃ এর কথাই বলবো, সবার কথা নিতে হবে, ছাড়তেও হবে, শুধুমাত্র রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কথা ছাড়া।
____________________________________
আমরা আলেমদের (ইমাম আবু হানীফা, ইমাম মালেক, ইমাম শাফেয়ী, ইমাম আহমাদ...থেকে নিয়ে সর্বশেষ ইমাম ইবনে বাজ, ইমাম ইবনে উসায়মিন, ইমাম আলবানী), সবার কথাই যেটা সঠিক সেটা গ্রহণ করি, যেটা ভুল সেটা বর্জন করি। এটা বলিনা যে, এতোবড় আলেম তার ভুল হতেই পারেনা, কিংবা কারো কথা ১০০% ঠিক, তার সব কথা অক্ষরে অক্ষরে মানতে হবে আমরা এটাও বলিনা।
____________________________________
অনেক ব্যপারে আলেমরা মত পার্থক্য করেন, ইমাম আবু হানীফা, ইমাম মালেক, ইমাম শাফেয়ী, ইমাম আহমাদ তাদের মাঝে মতপার্থক্য হয়েছে, আমরা কোন ব্যপারে সেটাই মানি যা ক্বুরান ও সহীহ হাদীস দিয়ে প্রমানিত। তেমনি কোন যুদ্ধে মুসলমানদের যদি সাহায্যের প্রয়োজন হয় তখন কাফেরদের সাহায্য নেওয়া যাবে কিনা, এটা একটা ইজতেহাদী বিষয়, যেই ব্যপারে শায়খ বিন বাজ ও শায়খ আলবানীর মাঝে মত পার্থক্য হয়েছে। কিন্তু আমরা এই ব্যপারে ইমাম শাফেয়ী, ইমাম নববীর, শায়খ বিন বাজ, শায়খ মুহাম্মাদ আমান আল-জামি, শায়খ আব্দুল্ললাহ আল-গুনায়মান এর ফতোয়ার পক্ষেই শক্তিশালী দলিল দেখতে পাচ্ছি, যা সংক্ষেপে উপরে উল্লেখ করা হয়েছে, সেই জন্য এই ব্যপারে তাঁদের ফতোয়াকেই গ্রহণ করি।
____________________________________
এই বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য আপনারা শায়খ বিন বাজ (রহঃ) এর মূল ফতোয়ার অনুবাদ দেখতে পারেন -

http://www.alifta.net/Fatawa/FatawaChapters.aspx?languagename=en&View=Page&PageID=693&PageNo=1&BookID=14

“শয়তান এর ৬টি চক্রান্ত ও বাঁচার ১০টি উপায়”


শয়তান এর ৬টি চক্রান্ত ও বাঁচার ১০টি উপায়

শয়তান ৬ ভাবে আমাদের অনিষ্ট করার চেষ্টা করে; এই চেষ্টায় সে ততক্ষণ পর্যন্ত লেগে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত না মানুষকে এর কোন একটি বা একের অধিক ক্ষতিতে ফেলতে পারেঃ
. শিরক এবং অবিশ্বাস বা কুফরের মধ্যে ফেলা;
. তারপর বিদাআতে জড়িয়ে ফেলা;
. অতঃপর বড় গুনাহে প্রলুব্ধ করা;
. তারপর ছোট গুনাহে লিপ্ত করানো;
. এরপর নেক আমলের পরিবর্তে মুবাহ আমলে ব্যস্ত রাখা; (যে কাজে গুনাহ বা সওয়াব কোনটিই হয় না এমন কাজকে মুবাহ বলে, যেমন খাওয়া, ঘুম ইত্যাদি);
উপরের কোন উপায়েই যদি অনিষ্ট না করতে পারে তাহলে
. অবশেষে অধিক সওয়াবের আমলের পরিবর্তে তুলামূলক কম সওয়াবের আমলে ব্যস্ত রাখা।
শয়তান থেকে আত্মরক্ষার ১০টি উপায়ঃ
. আল্লাহর কাছে শয়তানের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়া;
. সুরা ফালাক ও সুরা নাস তেলাওয়াত করা;
. আয়াতুল কুরসি তেলাওয়াত করা;
. সুরা বাকারা তেলাওয়াত করা;
. সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত তেলাওয়াত করা;
. সুরা গাফির এর প্রথম তিন আয়াত তেলাওয়াত করা;
. লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদাহু, লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইইন কাদীর একশত বার পড়া যার অর্থ আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন মাবুদ নেই, তিনি এক তাঁর কোন শরীক নেই, রাজত্ব তারই, প্রশংসা মাত্রই তাঁর, তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
. অধিক হারে আল্লাহর জিকির করা;
. উত্তমরূপে ওজু করা এবং সালাত আদায় করা;
১০. অনর্থক এদিক সেদিক খেয়াল করা, অসার কথা বলা, অতিরিক্ত খাওয়া ও অহেতুক লোকজনের সাথে মেলামেশা থেকে নিজেকে বিরত রাখা।
উৎসঃ ইমাম ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়া (রহঃ) কর্তৃক লিখিত ;বাদা-ই আল ফাওয়া-ইদ তারীক আল ওয়াসুল ইলা আল ইলম আল মাউল (পৃষ্ঠা ১২৯) থেকে শায়খ আব্দুর রাহমান ইবনে নাসির আস সাদী (রহঃ) এর সংকলনকৃত। 

শিয়াদের আকীদাহ কেমন?

শিয়াদের আকীদাহ কেমন?
হাদীস শাস্ত্রের আমিরুল মুমিনুন, ইমাম বুখারী রহঃ বলেন,
(রাফেজীদের আকীদা এতো জঘন্য যে), আমার দৃষ্টিতে একজন রাফেজী শিয়ার পেছনে নামায পড়া আর একজন ইয়াহুদীর পেছনে নামায পড়ার মাঝে কোন পার্থক্য দেখতে পাচ্ছিনা।

শিয়াদের অনেক ফেরকা যেমন আলাভী, নুসাইরি (সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার ও তার অনুসারী), ভারত পাকিস্থানের বোহরা, আগা খানি, ইমামিয়াসহ অনেকেই এরা পরিষ্কার কাফের।

ইয়েমেনের জায়েদী শিয়াদের আকীদা অন্য শিয়া ফেরকা থেকে ভালো, যদিও এদের মাঝে অনেক ভ্রান্ত বিশ্বাস আছে।

বর্তমানে সবচাইতে বেশি শিয়া হচ্ছে ইরানের রাফেজীরা। রাফেজি শিয়াদের কিছু শিরকি-কুফুরী আকীদাঃ
১. তাদের ১২ ইমাম আল্লাহর সমান ক্ষমতাবান নাউযুবিল্লাহ। বর্তমানে কথিত ইসলামিক(!) রাষ্ট্র ইরানের ইমাম(!) খোমাইনি বলেছে মহবিশ্বের প্রতিটি কণার উপরেই তাঁদের ১২ ইমামের ক্ষমতা রয়েছে।
এখন আপনারাই বলুন, এইরকম জঘন্য আকীদার লোক যদি মুশরকে না হয় তাহলে হিন্দুরা মুশরেক হবে কেনো?

২. ক্বুরান সম্পূর্ণ ও দোষত্রুটি মুক্ত নয়, কুরানকে যে কামেল বা পূর্ণাংগ মনে করবে সে কাফের, নাউযুবিল্লাহ।
রেফারেন্স দেখুন শিয়াদের সবচাইতে পবিত্র গ্রন্থ উসুলে কাফীর ঈমান অধ্যায়।

৩. মুনাফেকরা মা আয়িশাহ রাঃ এর বিরুদ্ধে যেই মিথ্যা অপবাদ দিয়েছিলো, তিনি নাকি সত্যিই যিনা করেছিলেন নাউযুবিল্লাহি মিন যালেক!!
মা আয়িশাহ রাঃ নির্দোষ ও সচ্চরিত্রের ছিলেন, এই সার্টিফিকেট স্বয়ং আল্লাহ দিয়েছেন সুরা নূরে। ক্বুরানের স্পষ্ট আয়াতের যে বিরোধীতা করে সে সরাসরি কাফের হয়ে যাবে।
৪. রাসুল সাঃ এর মৃত্যুর পরে মাত্র ৩ জন সাহাবী ছাড়া বাকি সসমস্ত সাহাবারা কাফের হয়ে গিয়েছিলেন। নাউযুবিল্লাহ!
রেফারেন্স দেখুন শিয়াদের সবচাইতে পবিত্র গ্রন্থ উসুলে কাফীর ঈমান অধ্যায়।

৫. কবর মাযার পূজা, অলি আওলিয়াদের কাছে দুয়া করা, তাদের কাছে বিপদে সাহায্য চাওয়া জায়েজ নাউযুবিল্লাহ। মূলত ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্থানে কবর মাযার পূজার যেই ধর্ম সেটা পারস্য বা ইরানের শিয়াদের কাছ থেকে এসেছে। মুঘল বাদশাহ সহ অন্যান্য বিদেশী বাদশাহরা ভারতীয়া উপমহাদেশে ইসলাম নাম দিয়ে কবর মাযার পূজা আর হিন্দু ধর্মের খিচুড়ী মার্কা ধর্ম প্রচারে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন।  

. কারবালার মর্যাদা কাবার চাইতে বেশি, কারবালা তাওয়াফ করলে ২টা হজ্জের সমআন নেকী, নাউযুবিল্লাহ।

বর্তমানে শিয়াদের যারা আয়াতুল্লাহ, ইমাম, আলেম যেমন খোমেনি, সিস্তানি, তিজানি এরা পরিষ্কার কাফের কারণ তারা জেনে বুঝে ক্বুরান এর কথাকে অস্বীকার করেছে। এরা মাজুসী বা অগ্নিপূজারীদের মতোই অপবিত্র ও নিকৃষ্ট। কিন্তু যারা সাধারণ অনুসারী তাদেরকে কাফের ফতোয়া দেওয়া যাবেনা, কারণ তারা অজ্ঞ। তাদেরকে আগে দাওয়াত দিতে হবে, শিরক কুফর বর্জন করতে উপদেশ দেওয়া হবে।


আপনারা শীয়াদের ভ্রান্ত আকীদাহ জানার জন্য ইংরেজীতে লেবানীজ একজন আলেম, শায়খ আব্দুর রহমান দিমাশকিয়ার লেকচার আছে অনেক, সেইগুলো শুনবেন। আর উর্দুতে আল্লামাহ এহসান ইলাহী যহির (রহঃ) ও শায়খ তৌউসিফ-উর-রহমানের অনেক লেকচার আছে এইগুলো শুনবেন।  

সোমবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৪

নারীদের ঋতু সংক্রান্ত মাসয়ালাগুলোর সঠিক উত্তর

নারীদের ঋতু সংক্রান্ত মাসয়ালাগুলোর সঠিক উত্তর জেনে নিন ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমিন রাহিমাহুল্লাহর "ফতোয়া আরকানুল ইসলাম" বইয়ের পবিত্রতা অধ্যায় থেকে। আজকে সেখান থেকে নির্বাচিত কিছু প্রশ্নের উত্তর পোস্ট করা হলো, মা বোনেরা এই পোস্টটা সেইভ করে রাখুন অথবা বইটা না থাকলে (অবশ্যই সংগ্রহে থাকা উচিত) প্রিন্ট করে রাখুন।
বিনীত, 
আনসারুস সুন্নাহ
১০ই মুহাররাম, ১৪৩৬।
__________________________
প্রশ্নঃ (১৭০) ঋতুর সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ নির্দিষ্ট দিন বলে কি কিছু আছে?
উত্তরঃ বিশুদ্ধ মতে ঋতুর সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দিন নির্দিষ্ট বলে কিছু নেই। কেননা আল্লাহ বলেনঃ
অর্থাৎ “আর তারা তোমার কাছে জিজ্ঞাসা করে হায়েয সমপর্কে। বলে দাও, এটা অপবিত্র। কাজেই তোমরা হায়েয অবস্থায় স্ত্রী মিলন থেকে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তাদের সাথে সহবাসে লিপ্ত হবে না; যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়।” (সূরা বাক্বারা- ২২২) এখানে স্ত্রী সহবাসের নিষিদ্ধতা নির্দিষ্ট দিনের সাথে সম্পর্কিত করা হয়নি। এর সম্পর্ক হচ্ছে অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার সাথে।

এ থেকে বুঝা যায়, বিধানটির কারণ হচ্ছে ঋতু থাকা বা না থাকা। যখনই ঋতু পাওয়া যাবে, বিধান প্রযোজ্য হবে। যখনই পবিত্র হয়ে যাবে, তার বিধান সমূহও রহিত হবে।

তাছাড়া নির্দিষ্ট দিন বেঁধে দেয়ার কোন দলীলও নেই। অথচ বিষয়টি বর্ণনা করে দেয়ার দরকার ছিল। বয়স বা দিনের নির্দিষ্টতা যদি শরীয়ত সম্মত হত, তবে তা অবশ্যই আল্লাহর কিতাব ও রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সুন্নাতে বর্ণিত হত।

অতএব এই ভিত্তিতে নারীদের কাছে পরিচিত স্রাব যখনই দেখা যাবে, নারী তখনই নিজেকে ঋতুবতী গণ্য করবে। এখানে কোন দিন নির্দিষ্ট করবে না। কিন্তু নারীর স্রাব যদি চলতেই থাকে বন্ধ না হয়, অথবা সামান্য সময়ের জন্য বন্ধ হয়, যেমন মাসে একদিন বা দু’দিন তবে তা ইসে-হাযার স্রাব (বা অসুস্থতা) বলে গণ্য হবে।
______________________________
প্রশ্নঃ (১৭৩) নির্গত স্রাবের ব্যাপারে নারী যদি সন্দিহান হয় যে, এটা কি হায়েযের রক্ত না কি ইসে-হাযার রক্ত না কি অন্য কিছুর রক্ত? এবং সে পার্থক্যও করতে পারে না। তবে সে উহা কি গণ্য করবে?
উত্তরঃ আসল কথা হচ্ছে, নারীর গর্ভ থেকে নির্গত রক্ত হায়েযেরই হয়ে থাকে। কিন্তু যখন প্রমাণিত হয়ে যাবে যে, তা ইসে-হাযার স্রাব তখন ইসে-হাযা হিসেবে গণ্য করবে। অন্যথায় ইসে-হাযা কিনা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্গত রক্ত হায়েয বা ঋতু হিসেবেই গণ্য করবে।
_______________________________
প্রশ্নঃ (১৭৫) জনৈক নারীর ঋতুর নির্দিষ্ট দিন ছিল ছয় দিন। অতঃপর এই দিনের পরিমাণ বৃদ্ধি হয়ে গেছে। সে এখন কি করবে?
উত্তরঃ এই নারীর ঋতুর দিন ছিল ছয় দিন। কিন্তু তা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে নয় দিন বা দশ দিন বা এগার দিন হয়ে গেছে, তবে তা ঋতু হিসেবে গণ্য করে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত নামায-রোযা থেকে বিরত থাকবে। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঋতুর জন্য নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ করে দেননি। আল্লাহ তা’আলা বলেন, “আর তারা তোমার কাছে জিজ্ঞাসা করে হায়েয সমপর্কে। বলে দাও, এটা অপবিত্র।” (সূরা বাকারা- ২২২) 
অতএব যতক্ষণ পর্যন্ত এই স্রাব অবশিষ্ট থাকবে, নারীও নিজ অবস্থায় থেকে পবিত্র হওয়ার পর গোসল করে ছালাত-ছিয়াম আদায় করবে। পরবর্তী মাসে যদি তার স্রাবের দিন কম হয়ে যায়, তবে স্লাব বন্ধ হলেই গোসল করে পবিত্র হয়ে যাবে। যদিও আগের মাসের সমান দিন পূর্ণ না হয়।

মোটকথা নারী যতদিন ঋতু বিশিষ্ট থাকবে ততদিন সে ছালাত-ছিয়াম থেকে বিরত থাকবে। চাই ঋতুর দিন পূর্ববর্তী মাসের বরাবর হোক বা কম হোক বা বেশী হোক। স্রাব বন্ধ হয়ে পবিত্র হলেই গোসল করবে।
__________________________________
প্রশ্নঃ (১৭৬) জনৈক নারী মাসিক থেকে পবিত্র হওয়ার পর গোসল করে নামায শুরু করেছে। এভাবে নয় দিন অতিবাহিত হওয়ার পর আবার স্রাব দেখা গেছে। তিন দিন স্রাব প্রবাহমান ছিল। তখন নামায পড়েনি। তারপর পবিত্র হলে গোসল করে এগার দিন নামায আদায় করেছে। তারপর আবার তার স্বাভাবিক মাসিক শুরু হয়েছে। সে কি ঐ তিন দিনের নামায কাযা আদায় করবে? নাকি তা হায়েযের দিন হিসেবে গণ্য করবে?
উত্তরঃ নারীর গর্ভ থেকে যখনই রক্ত প্রবাহিত হবে তখনই তা ঋতু বা হায়েয হিসেবে গণ্য হবে। চাই সেই ঋতুর সময় পূর্বের ঋতুর সময়ের চাইতে দীর্ঘ হোক বা কম হোক। ঋতু থেকে পবিত্র হওয়ার পাঁচ দিন বা ছয় দিন বা দশ দিন পর পুনরায় স্রাব দেখা গেছে, তবে সে পবিত্র হওয়ার অপেক্ষা করবে এবং নামায পড়বে না। কেননা এটা ঋতু। সর্বাবস্থায় এরূপই করবে। পবিত্র হওয়ার পর আবার যদি ঋতু দেখা যায়, তবে অবশ্যই নামায-রোযা থেকে বিরত থাকবে। কিন্তু স্রাব যদি চলমান থাকে- সামান্য সময় ব্যতীত কখনই বন্ধ না হয়, তবে তা ইসে-হাযা বা অসুস্থতা বলে গণ্য হবে। তখন তার নির্দিষ্ট দিন সমূহ শুধু ছালাত-ছিয়াম থেকে বিরত থাকবে।
___________________________________
প্রশ্নঃ (১৭৭) ঋতু শুরু হওয়ার দু’দিন পূর্বে নারীর গর্ভ থেকে যে হলুদ রংয়ের তরল পদার্থ নির্গত হয় তার বিধান কি?
উত্তরঃ হলুদ রংয়ের এই তরল পদার্থ যদি ঋতুর সময় হওয়ার পূর্বে নির্গত হয়, তবে তা কিছু নয়। কেননা উম্মে আত্বীয়্যা (রাঃ) বলেন, “আমরা হলুদ রং ও মেটে রংয়ের তরল পদার্থ বের হলে তা কোন কিছুই গণ্য করতাম না।” (বুখারী) 
আবু দাঊদের বর্ণনায় এসেছে, উম্মে আত্বীয়্যা (রাঃ) বলেন, “পবিত্র হওয়ার পর হলুদ রং ও মেটে রংয়ের তরল পদার্থ বের হলে আমরা তাকে কোন কিছুই গণ্য করতাম না।” 
ঋতুর পূর্বের এই হলুদ রংয়ের তরল পদার্থ যদি ঋতু বের হওয়ার সাথে সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে তা কোন কিছু নয়। কিন্তু নারী যদি উহা ঋতুর সূচনা স্বরূপ মনে করে, তবে তা ঋতু হিসেবে গণ্য করবে এবং পবিত্র হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।
___________________________________
প্রশ্নঃ (১৭৮) পবিত্র হওয়ার পর হলুদ রং ও মেটে রংয়ের তরল পদার্থ বের হওয়ার বিধান কি?
উত্তরঃ ঋতুর ক্ষেত্রে নারীদের সমস্যা সাগরতুল্য যার কোন কুল কিনারা নেই। এর অনেক কারণের মধ্যে অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে, গর্ভ বা মাসিক নিরোধক ঔষধ ব্যবহার করা। পূর্বে মানুষ এত ধরণের সমস্যা সম্পর্কে অবগত ছিল না। সন্দেহ নেই সৃষ্টি লগ্ন থেকে নারীর নানান সমস্যা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে এর আধিক্য এত বেশী যে মানুষ তার সমাধানের ক্ষেত্রে হয়রান হয়ে যায়; যা দুঃখজনক বিষয়।

তবে মূলনীতি হচ্ছে, নারী যদি নিশ্চিতভাবে ঋতু থেকে পবিত্রতা দেখতে পায়, যেমন নারীদের কাছে পরিচিত সাদা পানি বের হওয়া, বা হলুদ বা মেটে রং বের হওয়া বা ভিজা পাওয়া এগুলো সবই হায়েয বা ঋতু নয়। এগুলো নামায বা ছিয়াম থেকে বাধা দিবে না। স্বামী সহবাসে বাধা থাকবে না। কেননা এটা হায়েয নয়। উম্মু আতিয়্যা (রাঃ) বলেন, “পবিত্র হওয়ার পর হলুদ রং ও মেটে রংয়ের তরল পদার্থ বের হলে, আমরা তা কোন কিছুই গণ্য করতাম না।” এর সনদ ছহীহ।

এই ভিত্তিতে, নিশ্চিতভাবে পবিত্র হওয়ার পর এ ধরণের যা কিছুই ঘটুক, তাতে নারীর কোন অসুবিধা নেই। ছালাত-ছিয়াম ও স্বামী সহবাসে কোন বাধা নেই। কিন্তু পবিত্রতা না দেখা পর্যন্ত তাড়াহুড়া করবে না। কেননা কোন কোন নারী রক্ত বের হওয়াতে কিছুটা শুস্কতা দেখলেই পবিত্রতার চিহ্ন না দেখেই তাড়াহুড়া করে গোসল করে নেয়। এই জন্য মহিলা ছাহাবীগণ উম্মুল মু’মেনীন আয়েশা (রাঃ)কে দেখানোর জন্য তুলা নিয়ে আসতেন যাতে পীত রংয়ের তরল পদার্থ লেগে থাকতো। তখন তিনি তাদেরকে বলতেন, “সাদা পানি নির্গত না হওয়া পর্যন্ত তোমরা তাড়াহুড়া করবে না।”
___________________________________
প্রশ্নঃ (১৭৯) ঋতু বন্ধ করার জন্য ঔষধ (ট্যাবলেট) ব্যবহার করার বিধান কি?
উত্তরঃ ঋতু বন্ধ করার জন্য ঔষধ (ট্যাবলেট) ব্যবহার করলে স্বাস্ত্যগত দিক থেকে কোন ক্ষতির সম্ভাবনা না থাকলে, তাতে কোন অসুবিধা নেই। তবে তাতে স্বামীর অনুমতি থাকতে হবে। কিন্তু এযাবত আমি যা জেনেছি তাতে এ সমস্ত ঔষধ নারীর জন্য ক্ষতিকারক। একথা সবার জানা যে, মাসিকের রক্ত প্রবাহিত হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। আর সময় মত স্বাভাবিক বিষয়ের গতিতে বাধা দিলে সেখানে অবশ্যই ক্ষতির আশংকা থাকে। নারীর শরীরে তার ক্ষতিকর প্রভাবও লক্ষ্য করা যায়। তাছাড়া ইহা ব্যবহার করলে অনেক সময় নারীর স্বাভাবিক মাসিক বাধাগ্রস্ত হয় এবং সে পেরেশানী ও সন্দেহের মধ্যে পতিত হয়। নামায-রোযা ও স্বামীর সাথে সহবাসের ক্ষেত্রে অসুবিধার সম্মুখিন হয়।

এ জন্য আমি বলিনা যে এটা হারাম। কিন্তু নারীর ক্ষতির দিক চিন্তা করে বলি, এটা ব্যবহার করা উচিত নয়। আমার মতে এ পদক্ষেপ পসন্দনীয় নয়।

আরো বলি, আল্লাহ নারীর জন্য যা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, তাতেই তার সন্তুষ্ট থাকা উচিত। বিদায় হজ্জে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উম্মুল মু’মেনীন আয়েশা (রাঃ)এর ঘরে গিয়ে দেখেন তিনি কাঁদছেন। তখন আয়েশা (রাঃ) ওমরার ইহরাম বেঁধেছিলেন।

তিনি তাঁকে বললেন, “কি হয়েছে তোমার, কাঁদছো কেন? আয়েশা (রাঃ) বললেন, আমি বললাম, আল্লাহর শপথ এ বছর আমি হজ্জ না করলেই ভাল হত। তিনি বললেন, সম্ভবতঃ তুমি ঋতুবতী হয়ে গেছো? আমি বললাম, হ্যাঁ। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এটা এমন এক বিষয় যা আল্লাহ তা’আলা আদম সন্তানের মেয়েদের জন্য লিখে দিয়েছেন। (সুতরাং দুঃখ করার কিছু নেই।) অতএব নারীর উচিত হচ্ছে, এ সময় ধৈর্য ধারণ করা। ঋতুর কারণে ছালাত-ছিয়াম করতে না পারলে তো আল্লাহর যিকিরের দরজা উম্মুক্ত রয়েছে। তাসবীহ-তাহলীল করবে, দান্তসাদকা করবে, মানুষের সাথে সদাচরণ করবে, কথা-কাজে মানুষের উপকার করার চেষ্টা করবে, ইত্যাদি কাজ তো সুন্দর ও অত্যাধিক ফযীলতপূর্ণ আমল।
__________________________
প্রশ্নঃ (১৮৩) অসুস্থতার কারণে যদি কোন নারীর রক্তস্রাব নির্গত হতেই থাকে, তবে কিভাবে সে ছালাত ও ছিয়াম আদায় করবে?
উত্তরঃ এই নারীর অসুখ শুরু হওয়ার পূর্বে তথা গত মাসে তার ঋতুর যে দিন তারিখ নির্দিষ্ট ছিল, সেই নির্দিষ্ট দিন সমূহে সে নিজেকে ঋতুবতী হিসেবে গণ্য করে ছালাত-ছিয়াম প্রভৃতি থেকে বিরত থাকবে। উদাহরণ স্বরূপ বিগত মাসগুলোর প্রথম দিকে তার ছয়দিন ঋতু ছিল, তারপর এক সময় তার অসুখ শুরু হয়েছে, এক্ষেত্রে সে প্রত্যেক মাসের প্রথম দিকে ছয় দিন অপেক্ষা করবে এবং ছালাত ছিয়াম থেকে বিরত থাকবে। এ দিন সমূহ শেষ হলেই গোসল করে ছালাত-ছিয়াম আদায় করবে।

এ নারী বা তার মত নারীদের নামাযের পদ্ধতি হচ্ছে,

ক) ফরয নামাযের সময় হওয়ার পর পূর্ণাঙ্গরূপে লজ্জাস্থান ধৌত করবে।

খ) তারপর সেখানে প্যাড বা পট্টি জাতীয় কোন কিছু বেঁধে দিবে,

গ) এরপর ওযু করবে এবং নামায আদায় করবে।

নামাযের সময় উপস্থিত হওয়ার পূর্বে এরূপ ওযু ইত্যাদি কাজ করবে না। ফরয নামাযের সময় ব্যতীত অন্য সময় নফল নামায পড়তে চাইলেও এভাবে ওযু ইত্যাদি করবে।

এ অবস্থায় যেহেতু বারবার এতকাজ করা তার জন্য কষ্টসাধ্য ব্যাপার, তাই দু’নামাযকে একত্রিত করা জায়েয। যোহরের সাথে আছরের নামায আদায় করে নিবে বা আছরের সাথে যোহরের নামাযকে আদায় করবে। এবং মাগরিবের সাথে এশার নামায আদায় করবে অথবা এশার সময় মাগরিব ও এশার নামায আদায় করবে। যাতে করে তার একবারের পরিশ্রম দু’নামায যোহর ও আছরের জন্য যথেষ্ট হয় এবং দ্বিতীয়বারের পরিশ্রম মাগরিব ও এশার জন্য যথেষ্ট হয়। আর একবার ফজর নামাযের জন্য। অর্থাৎ- পাঁচবার পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের জন্য লজ্জাস্থান ধৌত করা, পট্টি বাঁধা, ওযু করা প্রভৃতি কষ্টকর বিষয়। তাই এর পরিবর্তে তিনবারেই একাজ আদায় হয়ে যাবে। কষ্টও অনেক লাঘব হবে। (আল্লাহই তাওফীক দাতা ও তিনিই অধিক জ্ঞাত আছেন)
____________________________