সিস্টার্স কর্ণার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সিস্টার্স কর্ণার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৭

নারী ও পুরুষের অধিকার নিয়ে ডা. জাকির নায়েকের ভুল ব্যখ্যা

আজ সন্ধ্যায় আমাদের পেইজে প্রকাশিত পুরুষের তুলনায় নারীর অধিকার কেমন? পোস্টে এক ভাই মন্তব্য করেছেন,
আপনি ডা. জাকির নায়েকের নারী এবং পুরুষের অধিকার নিয়ে লেকচারটি শুনলে সঠিক ব্যাখ্যাটা বুঝতে পারবেন। উনি বলেছেন সমান এবং এর সুন্দর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন।
উত্তরঃ ডা. জাকির নায়েক কোন আলেম নন, তার কথার ব্যপারে আপনারা সাবধান থাকবেন। বর্তমানে অল্প ইলম সম্পন্ন একশ্রেনীর লোকেরা অন্ধ ভক্তিতে মনে করেঃ ডা. জাকির নায়েক যা বলেন, তাই বুঝি ক্বুরআন ও হাদীসের মতো অভ্রান্ত! অথচ ক্বুরআন সম্পর্ক গভীর জ্ঞানের অভাবে ডা. জাকির নায়েক এমন কিছু কথা বলেছেন, যা ক্বুরআনের সাথে সুস্পষ্ট সাংঘর্ষিক। উপরে আপনি যা বলেছেন, সেটা তারই একটা উদাহরণ। আপনার কাছে যেটা সুন্দর ব্যখ্যা, ক্বুরআন ও হাদীসের সাথে মিলিয়ে দেখলে সেটা অজ্ঞতা ছাড়া আর কিছুই না। এই বিষয়ে আল্লাহ তাআলা ক্বুরআনুল কারীমে কি বর্ণনা করেছেন, নীচে আমি সংক্ষিপ্তভাবে তা উল্লেখ করছি। যারা অধিক জানতে আগ্রহী, তারা অন্ধভাবে টিভি, ইউটিউব বা ফেইসবুকের অনুসরণ না করে দ্বীনি বই-পুস্তক খুলে, আলেম-উলামাদের বক্তব্য শুনে নিজেদের সংশয় দূর করে নেবেন ইংশা আল্লাহ।
__________________________
(১) আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন,  
الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ
পুরুষ নারীর কর্তা। কারণ, আল্লাহ তাদের একজনকে (পুরুষকে) অপরের (নারীর) উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। সুরা আন-নিসাঃ ৩৪।
আয়াতের তাফসীরঃ এই আয়াতে পুরুষদের কর্তৃত্ব ও দায়িত্বশীলতার দুইটি কারণ বলা হয়েছে। প্রথমটি হল, আল্লাহ প্রদত্তঃ যেমন, পুরুষোচিত শক্তি ও সাহস এবং মেধাগত যোগ্যতায় পুরুষ সৃষ্টিগতভাবেই নারীর তুলনায় অনেক বেশী। (তাফসীর আহসানুল বায়ান)।
(২) উক্ত আয়াত ছাড়াও নারীর ওপর পুরুষের বিশেষ অধিকার ও প্রাধান্যের কথা ক্বুরআনুল কারীমের আরো বিভিন্ন স্থানে রয়েছে। যেমন, মহান আল্লাহ সুরা বাক্বারায় ইরশাদ করেছেন,
وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ ۚ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ ۗ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
পুরুষদের যেমন স্ত্রীদের ওপর অধিকার রয়েছে, তেমনি স্ত্রীদেরও অধিকার রয়েছে পুরুষদের ওপর নিয়ম অনুযায়ী। কিন্তু নারীদের উপর পুরুষদের কিছুটা মর্যাদা আছে। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। সুরা বাক্বারাহঃ ২২৮।
আয়াতের তাফসীরঃ বিশিষ্ট তাফসীরবিদ সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, আল্লাহ তাআলা পুরুষকে স্ত্রীলোকের তুলনায় বিশেষ উচ্চ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য দান করেছেন। তাফসীরে কুরতুবী।
এই আয়াতে নারীর ওপর পুরুষের শ্রেষ্ঠত্বের কথা স্পষ্টরূপে বর্ণনা করা হয়েছে। আর এই শ্রেষ্ঠত্ব যে মর্যাদার শ্রেষ্ঠত্ব, শুধু দায়িত্বের শ্রেষ্ঠত্ব নয়, তা বলাই বাহুল্য। এই আয়াতের তাফসীরে তা সুবিদিত।
(৩) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি যদি কাউকে কারো জন্য সিজদাহ করার আদেশ করতাম, তাহলে নারীকে আদেশ করতাম, সে যেন তার স্বামীকে সিজদাহ করে।’’ তিরমিযিঃ ১১৫৯।  

শুক্রবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৬

গল্পে গল্পে ইসলামী আকিদাহ শিক্ষা (পর্ব-১)

গল্পে গল্পে ইসলামী আকিদাহ শিক্ষা (পর্ব-১)
ফারজানার খুব ইচ্ছে উচ্চ শিক্ষার জন্যে বিদেশে যাবে। কিন্তু তার বাবা-মা মেয়েকে একাকী বিদেশে যেতে দিতে রাজীনা। বিদেশে গিয়ে কত মেয়ে খারাপ হচ্ছে, কত মেয়ের সর্বনাশ হচ্ছে, কত মেয়ে লিভ-টুগেদার নাম দিয়ে জিনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হচ্ছে, ইয়াহুদী-খ্রীস্টানদেরকে বিয়ে করছে, বিদেশে একাকী জীবন-যাপন করে পরে বাবা-মায়ের কথা আর শোনেনা, অনেকে তো মুর্তাদও হয়ে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে মুসলিম বাবা-মায়েরা মেয়েকে একাকী বিদেশে যেতে দিতে চাইবেনা, এটাই স্বাভাবিক। অনেক বোঝানোর পরেও ফারজানা কিছুতেই বুঝবেনা। শেষে তার বাবা মেয়েদের একাকী সফর করা জায়েজ নয়, শরিয়াতের এই হুকুমের কথা বলে মেয়ে আটকানোর শেষ চেষ্টা করলেন। কিন্তু ততদিনে অনেক দেরী হয়ে গেছে, কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে কিছু বাংলা, কিছু ইংরেজী, আর কিছু ইসলাম পড়ে ফারজানা এখন হাদীসের ধার ধারেনা, নিজের মনমতো কুরআন-হাদীসের অপব্যখ্যা নিয়েই সন্তুষ্ট। সুতরাং, রাসুলু্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কথা না শুনে উল্টা তার পরিবার তার উচ্চ শিক্ষা, তার জীবনের উন্নতির জন্যে বাঁধা দিচ্ছে বলে মনে করলো। সেইজন্যে বাবার মুখে ইসলামী আইন শুনে তার পরিবার ফতোয়া ঝুলিয়ে দিয়ে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চাচ্ছে বলে কটাক্ষ করলো। মানব কল্যাণের মহান উদ্দেশ্য নিয়ে সে রাসুলু্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদেশকে উপেক্ষা করে, বাবা-মায়ের অবাধ্য হয়ে ফারজানা বিদেশে পাড়ি জমালো।
.
নারীদের জন্য একাকী সফর করা হারামঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে নারী আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে জেনে রাখ! তার জন্য অনুমতি নেই যে সে আপন স্বামী অথবা মাহরাম পুরুষ ছাড়া সফর সমান দূরত্বে একাকী ভ্রমণ করবে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩৩৮।
এমনকি কোন নারী হজ্জের মতো ফরজ কাজের উদ্দেশ্যেও মক্কাতে একাকী যেতে পারেনা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোন নারী নিজ মাহরাম সংগী ছাড়া একাকী সফর করবেনা। তখন উপস্থিত এক সাহাবী আরয করলেন, আমি তো অমুক জিহাদে যাচ্ছি। আর এদিকে আমার স্ত্রী হজ্বে যেতে যাচ্ছে। (আমি কি করবো)? জিহাদে বের হবো, নাকি স্ত্রীর সাথে হজ্বের সফরে বের হব।? কারণ আমি ছাড়া তার অন্য কোন মাহরারম সঙ্গী নেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি জিহাদে না গিয়ে তোমার স্ত্রীর সাথে হজ্বের সফরে যাও। সহীহ বুখারী, হাদীস নং- ৩০০৬।
.
ইসলামের কোন বিষয়কে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা বা হেয় মনে করা কুফুরী এবং মুনাফেকের লক্ষণঃ
অনেক নারী ও পুরুষকে যখন ইসলামী শরিয়ান অনুযায়ী কোন হুকুম বর্ণনা করা হয়, অজ্ঞতা কিংবা দুর্বল ঈমানের কারণে অনেকে আল্লাহর আইন নিয়ে হাসি-ঠাট্টা বা কটাক্ষ করে। এটা একটা কুফুরী কাজ, যেকারণে মানুষের ঈমান নষ্ট হয়ে যায়। আজকাল হরহামেশা অনেক লেখক, সাহিত্যিক ইসলাম নিয়ে তির্যক লেখা লিখেন, না জেনে বা না বুঝে এ বিষয়ে পান্ডিত্য দেখাতে গিয়ে ডুবে যান কুফুরীর অতল সাগরে। মুসলমানী নামটুকু ছাড়া তার আর কিছুই বাকী থাকেনা। আল্লাহ পাক এমন লোকদেরকে বলছেন,
(হে নবী!) আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, তারা বলবে, আমরাতো হাসি তামাশা করছিলাম। আপনি বলে দিন, তোমরা কি আল্লাহকে নিয়ে এবং তার আয়াতসমূহ ও তার রাসুলকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করছ? তোমরা কোন অযুহাত দেখিয়ো না, তোমরা তো ঈমান আনার পরে কুফুরী করে ফেলেছো। সুরা তওবাঃ ৬৫-৬৬।
তোমরা কি কিতাবের কিছু অংশকে বিশ্বাস কর এবং কিছু অংশকে প্রত্যাখান কর? তোমাদের যারা এমন করে তাদের পার্থিব জগতে লাঞ্ছনা ও অবমাননা ছাড়া আর কী প্রতিদান হতে পারে? এবং ক্বিয়ামতের দিন তারা কঠিন শাস্তির মধ্যে নিক্ষিপ্ত হবে, আর তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ্ গাফেল নন। সুরা আল-বাক্বারাঃ ৮৫।
মুনাফেকদের প্রথম পরিচয় ছিল, তারা মুসলমানদেরকে নিয়ে হাসি তামাশা করতো, তাদেরকে বোকা ভাবতো। আল্লাহ পাক তাদেরকে ধমক দিয়ে বলেছেন, তারাই বোকা অথচ নিজেরা তা জানে না। সুরা আল-বাকারাহঃ ১৩।
ইমাম নববী (রহঃ) বলেন, কোন ব্যক্তি যদি স্বেচ্ছায় কিংবা কেউ যদি স্পষ্টভাবে এমন কোন কথা বলে যা আল্লাহ ও তার রাসূলের কোন বিধানকে তুচ্ছ করে, তা অবশ্যই কুফুরী।
ইমাম কুরতুবী (রহঃ) লিখেছেন, মজা করার জন্য হোক কিংবা সত্যি সত্যিই হোক, ইসলামের কোন সাধারণ বিষয় নিয়ে হাসি তামাশা করা কুফুরী। এতে কারো দ্বিমত নেই।

ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন, দ্বীনের যে কোন স্পষ্ট বিষয় নিয়ে ঠাট্টা করা কুফুরী। যে এমন করল তার ঈমান ধ্বংস হয়ে কুফুরীতে পরিণত হল।

সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

বিয়ের জন্যে কেমন ছেলে বা মেয়ে দেখতে হবে? (পর্ব-১)


বিয়ের জন্যে কেমন ছেলে বা মেয়ে দেখতে হবে? (পর্ব-১)
(১) পাত্র অথবা পাত্রীকে সবার প্রথম ঈমানদার, পাঁচ ওয়াক্ত নামাযী মুসলিম ব্যক্তি হতে হবে।
(২) আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআ'ত বা "সুন্নী" আকিদাহর অনুসারী এবং প্রকাশ্য শিরক, কুফর ও বিদাত মুক্ত থাকতে হবে।
(৩) বিদাতী, পথভ্রষ্ট ব্যক্তি বা দলের কুপ্রভাব ও অনুকরণ থেকে মুক্ত থাকতে হবে।
(৪) দ্বীনদার, চরিত্র ভালো ও কোমল হৃদয়ের অধিকারী হতে হবে।
(৫) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাহ কি, তা জানতে, বুঝতে ও মানার আন্তরিক চেষ্টা থাকতে হবে।
(৬) আল্লাহকে ভয় করে এমন গুণাবলী ও তার বহিঃপ্রকাশ থাকতে হবে।
(৭) পাত্রকে হালাল ও সৎ জীবিকা নির্বাহ করতে হবে।
(৮) পাত্রীকে হিজাব-পর্দা করতে হবে।
(৯) দ্বীন শিক্ষার্থী হতে হবে।
(১০) স্বামী, স্ত্রী একজন আরেকজনের উপর কি অধিকার ও হক্ক তা জানার এবং মানার আন্তরিক ইচ্ছা থাকতে হবে।
(১১) প্রতিদিন নিয়মিত ক্বুরান তেলাওয়াতকারী হতে হবে।
(১২) জীবনে ব্যপারে সব সময়েই আশাবাদী এবং আল্লাহর রহমতের আকাংখী হতে হবে। হাতাশাবাদী বা নিরাশ হলে চলবেনা।
(১৩) কোনমতেই ধূমপান করা যাবেনা।
(১৪) স্বামীর অবাধ্য হওয়া যাবেনা।
(১৫) মা-বোনের কথা শুনে স্ত্রীর হক্ক নষ্ট করা যাবেনা।
(১৬) একজন আরেকজনকে সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার জন্যে অংগীকারবদ্ধ থাকতে হবে। এমন না যে বিয়ের পরে বলবেঃ আমি তোমাকে বিয়ে করে ভুল করে ফেলেছি, তুমি তোমার পথ দেখো, আমার কথা না মানলে চলে যাও ইত্যাদি।
(১৭) টিভিতে নাচ-গান, হারাম অনুষ্ঠান, কার্টুন, খেলাধূলা দেখার নেশা থেকে বিরত থাকতে হবে, হারাম পত্রিকা ম্যাগাজিন থেকে দূরে থাকতে হবে।
(১৮) আহলে সুন্নাহর আলেমদেরকে ভালোবাসতে হবে।
(১৯) যত্রতত্র ছবি তোলা এবং নির্বোধের মতো সেলফি, ফেইসবুকে ছবি আপলোডের মতো বিরক্তিকর সংস্কৃতির অন্ধ অনুসারী হওয়া যাবেনা।
(২০) কাফির মুশরিক এবং ইসলামের দুশমনদের প্রতি ও তাদের সংস্কৃতির প্রতি অন্তর থেকে ঘৃণা ও শত্রুতা পোষণকারী হতে হবে। এটা must, এ ব্যপারে কোন আপোষ চলবেনা।
(২১) দুনিয়ার লোভে গণতান্ত্রিক শিরকি মতবাদের অনুসারী, পথভ্রষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর পদলেহনকারী হওয়া যাবেনা।
(২২) দাঁড়ি রাখতে হবে, প্যান্ট টাখনুর উপরে পড়তে হবে।


বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন, ২০১৬

যেই পোশাক পরে নারী ও পুরুষেরা জাহান্নামে যাবে

যেই পোশাক পরে নারী ও পুরুষেরা জাহান্নামে যাবেঃ
>> পুরুষঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
তিন প্রকার লোক এমন রয়েছে, যাদের সাথে আল্লাহ কথা বলবেন না, আর না কেয়ামতের দিন তাদের দিকে তাকাবেন, আর না তাদের পবিত্র করবেন বরং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।
আমি (আবু হুরাইরা) বললাম, আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? ওরা তো ক্ষতিগ্রস্ত!
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তারা হচ্ছে,
(১) টাখনুর নিচে কাপড় পরিধানকারী,
(২) ব্যবসার সামগ্রী মিথ্যা কসম দিয়ে বিক্রয়কারী এবং
(৩) কাউকে কিছু দান করার পর তার খোটাদাতা।
সহীহ মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, নং ২৯৪।
>> নারীঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দুই প্রকার জাহান্নামী মানুষ আসবে, যাদেরকে আমি আমার যুগে দেখতে পাচ্ছিনা। এক প্রকার হচ্ছে, ঐ সকল মহিলা যারা কাপড় পরিধান করেও উলংগ থাকবে। তারা সাজ-সজ্জা করে পর পুরুষকে আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও অন্য পুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট থাকবে। তাদের মাথার খোপা (সাজ সজ্জা ও ফ্যাশানের দরুণ) উটের কুঁজের মত এদিক ওদিক হেলানো থাকবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, এমনকি তারা জান্নাতের সুগন্ধিটুকুও পাবে না। অথচ, জান্নাতের সুগন্ধি পাঁচশ বছর রাস্তার দূরত্ব থেকেও অনুভব করা যাবে। সহীহ মুসলিমঃ ২১২৮।
শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ এই হাদীসের ব্যখ্যায় বলেছেন,
কাপড় পড়েও উলংগ হচ্ছে সেই সমস্ত নারী, যারা এতো পাতলা কাপড় পরিধান করে যে, কাপড়ের মধ্য দিয়ে তাদের গায়ের চামড়া দেখা যায়, অথবা এমন টাইট পোশাক পরে যে, যার কারণে তাদের শরীরের আকৃতি বোঝা যায়।
মাজমু ফাতাওয়াঃ ১৪৬/২২।
>> জাহান্নামের কঠিন শাস্তির সামান্য বর্ণনাঃ
আল্লাহ তায়া'লা বলেছেন,
নিশ্চয়ই সীমালংঘনকারী অবাধ্য লোকদের জন্যে জাহান্নাম শত্রুর মতো ওত পেতে বসে আছে, তাদেরকে গ্রাস করার জন্য। তারা সেখানে শতকের পর শতক ধরে থাকবে। কিন্তু সেখানে তারা তৃপ্তিদায়ক কোন খাবার বা পানি খেতে পারবেনা। তাদেরকে শুধুমাত্র ফুটন্ত গরম পানি ও দুর্গন্ধযুক্ত পচা পূজ খাওয়ানো হবে। এটাই হচ্ছে তাদের উপযুক্ত প্রতিদান, কারণ তারা হিসাব-নিকাশের কোন পরোয়া করতোনা। আর আমার আয়াত (বা নিদররশন) স্মূহকে মিথ্যা বলতো।
সুরা নাবার ২২-২৮ আয়াতের তর্জমা থেকে নেওয়া। 

শনিবার, ১১ জুন, ২০১৬

“কাপড় পড়েও উলংগ” মহিলা কারা?

কাপড় পড়েও উলংগ মহিলা কারা?
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দুই প্রকার জাহান্নামী মানুষ আসবে, যাদেরকে আমি আমার যুগে দেখতে পাচ্ছিনা। এক প্রকার হচ্ছে, ঐ সকল মহিলা যারা কাপড় পরিধান করেও উলংগ থাকবে তারা সাজ-সজ্জা করে পর পুরুষকে আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও অন্য পুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট থাকবে। তাদের মাথার খোপা (সাজ সজ্জা ও ফ্যাশানের দরু) উটের কুঁজের মত এদিক ওদিক হেলানো থাকবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, এমনকি তারা জান্নাতের সুগন্ধিটুকুও পাবে না। অথচ, জান্নাতের সুগন্ধি পাঁচশ বছর রাস্তার দূরত্ব থেকে অনুভব করা যাবে। সহীহ মুসলিমঃ ২১২৮

শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ এই হাদীসের ব্যখ্যায় বলেছেন, কাপড় পড়েও উলংগ হচ্ছে সেই সমস্ত নারী, যারা এতো পাতলা কাপড় পরিধান করে যে, কাপড়ের মধ্য দিয়ে তাদের গায়ের চামড়া দেখা যায়, অথবা এমন টাইট পোশাক পরে যে, যার কারণে তাদের শরীরের আকৃতি বোঝা যায়। মাজমু ফাতাওয়াঃ ১৪৬/২২।

বুধবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৬

সিজারিয়ান ডেলিভারী নাকি নরমাল ডেলিভারী?

(১) আমাদের দেশের অধিকাংশ মহিলারা জব অথবা বিজনেস করে না।
(২) তাদের অধিকাংশের স্বামীই মারাত্মক রকমের এমন বড়লোক না যে শখ(!) করে অথবা স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার কারণে নিজে থেকে সিজারিয়ান ডেলিভারি করানোর জন্যে বায়না ধরবে। বরং, সিজারিয়ান ডেলিভারির জন্য যে খরচ, সেই ভয়েই অনেক বাবা ভয়ের মাঝে থাকেন
(৩) অন্যদিকে লন্ডন, এমেরিকার মহিলাদের বেশিরভাগ স্বাবলম্বী, তাদের হেলথ ইন্সুরেন্স থাকে, তাদের স্বামীরা আমদের দেশের স্বামীদের চাইতে বড়লোক, তাদের মহিলারা বাঙ্গালী মহিলাদের চাইতে শরীরের ব্যপারে অধিক সচেতন।
(৪) তারপরেও কেনো বাংলাদেশী কোন গর্ভবতী মহিলাকে সন্তান প্রসবের জন্যে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সিজারিয়ান ডেলিভারী করানো বর্তমানে বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে? অন্যদিকে লন্ডন এমেরিকাতে কোন মহিলা নিজে থেকে চেয়ে, অনুরোধ করেও সিজারিয়ান ডেলিভারী করার জন্যে ডাক্তারকে রাজী করাতে পারে না?
(৫) হঠাত করে বাংলাদেশী সমস্ত মহিলাদের শরীরে কি এমন পরিবর্তন হয়ে গেছে যে, মাত্র ২০-৩০ বছর আগেও যেখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নরমা ডেলিভারীতে সন্তান প্রসব সম্ভব হতো, এখন আর সেটা সম্ভব হচ্ছেনা?
(৬) সত্যি কথা বলতে, বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে নরমান ডেলিভারীতে সন্তান প্রসবের পরিবর্তে সিজারিয়ান ডেলিভারীর সংখ্যা অনেকগুণ বেড়ে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণের মাঝে প্রধান দুটি কারণ হচ্ছেঃ
(ক) হাসপাতাল এবং ডাক্তারের আর্থিক সুবিধার প্রতি লোভ এবং
(খ) একশ্রেণীর লোকদের অজ্ঞতা বা ফ্যাশান হিসেবে বিনা কারণে স্বেচ্ছায় সিজারিয়ান ডেলিভারীকে বেছে নেওয়া।
(৭) যেখানে নরমাল ডেলিভারীতেই সন্তান প্রসব সম্ভব, সেখানে শুধুমাত্র ডাক্তার বা হাসপাতালের টাকা উপার্জনের লোভে সিজারিয়ান ডেলিভারী সাজেস্ট করা নাজায়েজ, হারাম, এইভাবে তাদের উপার্জনের টাকা অবৈধ।
(৮) আমি মুসলিম ডাক্তার ভাই ও বোনদেরকে অনুরোধ করবো, আপনারা আপনাদের পেশার সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলোর উপরে শরিয়তের কি বক্তব্য তা জানার চেষ্টা করুন, হালাল হারাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করুন। ডাক্তারী পেশার সাথে জড়িত অনেকেই বিভিন্নভাবে হারাম অর্থ উপার্জন ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে থাকেন। না জানার কারণে হয়তোবা আপনিও সেই হারামের পাল্লায় পড়বেন।
(৯) আর সাধারণ মানুষের কাছে আমি আহবান জানাবো, সন্তান জন্ম দেওয়ার যেই ব্যবস্থা আল্লাহ দিয়েছেন সেটাই উত্তম। এর দ্বারা যে কি উপকার রয়েছে সে সম্পর্কে ইমাম মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসায়মিন রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
স্বাভাবিক কষ্টকর সন্তন প্রসবের দ্বারা
(i) মায়ের অনেক গুনাহ মাফ হয়।
(ii) আল্লাহর কাছে সওয়াব পাওয়ার নিয়তে ধৈর্য ধারণ করলে, আল্লাহর কাছে সেই মায়ের মর্যাদা অনেক বৃদ্ধি পায়।
(iii) সেই মা সুস্থ থাকার মর্যাদা বুঝতে পারে এবং এটা তার উপরে আল্লাহর নিয়ামতগুলো চিনতে সাহায্য করে।
(iv) সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা অনেক বেশি হবে।
(v) মা ও সন্তানের দুইজনের জন্যে এটাই উত্তম।
(vi) নরমাল সন্তান হলে সেই মায়ের ভবিষ্যতে অধিক সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ থাকবে।
(vii) সিজারিয়ানে অনেক সময় সন্তান ও মায়ের ক্ষতি হয়, যেকারণে সন্তানের অংগ হানি এবং ভবিষয়্যতে মায়ের সন্তান জন্ম দেওয়া কঠিন হয়।

(viii) হাসপাতালে ডাক্তারদের অধিকহারে সিজারিয়ান ডেলিভারী সাজেস্ট করা মুসলমানদের বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্র হতে পারে। কারণ মায়ের পেটে ছুড়ি ব্যবহার করলে ভবিষ্যতে সেই মায়ের সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা কমে যাবে, তার সন্তান কম হবে। এইভাবে মুসলমানদের জনসংখ্যা কম হওয়ার দ্বারা আস্তে আস্তে তাদেরকে দুর্বল করা হবে। 

বুধবার, ১৬ মার্চ, ২০১৬

নারীরা পুরুষের কাছে গেলে পুরুষেরা নারীদের ক্ষতি করে

নারীরা পুরুষের কাছে গেলে পুরুষেরা নারীদের ক্ষতি করে, অন্যায়ভাবে ভোগ করতে চায়। পরিনামে নারীদের ইজ্জত নষ্ট হয়...যদিও সাময়িক জৈবিক চাহিদা পূরণের নেশায় সেই নারীটা বুঝতে পারেনা, প্রিয়তম বন্ধু তার কত বড় সর্বনাশ করছে। যখন বুঝতে পারে, তখন অনেক দেরী হয়ে যায়, সেই পুরুষটা তার হৃদয় হরণ করে, ইজ্জত নষ্ট করে একা রেখে পালিয়ে যায়। পরিণামে চোখের জলে, অনুতাপের আগুনে দগ্ধ হয়ে সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়। এইজন্যে আল্লাহ নারী ও পুরুষের মাঝে হিজাব-পর্দার ব্যবস্থা দিয়েছেন, যাতে করে পুরুষেরা নারীদের হৃদয় ও শরীরকে নষ্ট করতে না পারে। আধুনিক যুগে নারী-পুরুষ ফ্রী মিক্সিং-এ কলেজ ইউনিভার্সিটিতে পড়ে, অফিস-আদালাতে পাশাপাশি কাজ করে, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেটে সহজেই নারী-পুরুষের মাঝে যোগাযোগের কারণে নারী পুরুষের মাঝে অবৈধ যোগাযোগ ও সম্পর্কের কারণে নারী ও পুরুষের আত্মিক ও চারিত্রিক পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে। তাক্বওয়া এবং আল্লাহর রহমত ছাড়া বর্তমান যুগে এই ফিতনাহ থেকে বেঁচে থাকা খুবই কঠিন। আল্লাহু মুস্তায়ান।

বিঃদ্রঃ নারীদের শক্তি ও বুদ্ধির দিক থেকে ত্রুটি থাকার কারণে পুরুষদের উপরে নির্ভরশীল। একারণে একজন পুরুষ তার অধীনে নারীদের জন্যে দায়ী থাকবেন। স্ত্রী, কন্যাদেরকে লোভী পুরুষদের সাথে পড়ালিখা করতে বা অফিস করতে পাঠাবেন, হোস্টেলে মেসে একাকী রাখবেন, সাবালিকা নারীদেরকে সময়মতো বিয়ে না দেওয়ার কারণে তাদের ইজ্জত নষ্ট হবে, জিনা-ব্যভিচারে লিপ্ত থাকবে, তাহলে সেই পুরুষ গার্জিয়য়ানও দায়ী থাকবে। 

রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

Valentine Day ২০১৬ উপলক্ষ্যে কিছু কথা

হে মুসলমান যুবক -যুবতী ভাই ও বোনেরা!  
পরনারী বা পরপুরুষের প্রতি প্রেম ভালোবাসা ও আকর্ষণ, একটু খানি অবৈধভাবে স্পর্শ করা এবং যৌন সম্পর্কের লোভ থেকে বাঁচতে পারছেন না. . .এর চাইতে ১০০গুণ বেশি মারাত্মক, দাজ্জালের ধোঁকা থেকে নিজেদের ঈমানকে কিভাবে রক্ষা করবেন?
____________________________
শায়খ আব্দুল হামীদ মাদানী হাফিজুল্লাহর বই থেকে সংগৃহীত,
বলা হয়ে থাকে যে একদা রোমান সম্রাট (ক্লাউডিউস) রোমের সকল পুরুষদেরকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে আদেশ করলে, কিন্তু অনেক পুরুষ তাতে আগ্রহ দেখালো না। কারণ বিশ্লেষণ করে জানতে পারেন যে, সে সকল পুরুষরা হল বিবাহিত এবং তারা তাদের স্ত্রী -সন্তান ছেড়ে যুদ্ধে যেতে রাজী নয়। তাই তিনি বিবাহ নিষিদ্ধ করে দিলেন। কিন্তু যাজক Valentine গোপনে গীর্জার মধ্যে লোকদের বিবাহের কাজ সম্পন্ন করতে থাকেন। এই খবর পেয়ে সম্রাট তাকে ২৬৯ খ্রীস্টাব্দের ১৪-ই ফেব্রুয়ারি প্রাণদন্ড দেয়। তারপর থেকে, সেই খ্রীস্টান পাদ্রীর স্মরণে এই দিনটিকে প্রেমের দিন হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। অতঃপর, গীর্জার তরফ থেকে ১৯৬৯ সালে ইটালীতে Valentine Day পালন সরকারিভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়। যেহেতু তাদের মতে তা ছিল দ্বীন ও চরিত্র বিরোধী অবাস্তব উপকথাভিত্তিক। কিন্তু সাধারণ লোকেরা তা আজও পালন করে থাকে।
____________________________
কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার পূর্বে একের পর এক নিত্য-নতুন ফেতনা মুসলমানদেরকে গ্রাস করবে। তখনকার যুগে মানুষের ঈমানের অবস্থা কেমন হবে, সে সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
আঁধার রাতের অবিরাম খন্ডের মত কৃষ্ণ-কালো ফেতনা আবর্তিত হওয়ার পূর্বেই তোমরা দ্রুত নেক কাজে মনোনিবেশ কর। (এমন একটা সময় আসবে যখন) মানুষ সকাল বেলা মুমিন কিন্তু বিকেল বেলা সে হবে কাফের। আবার কেউ সন্ধ্যা বেলা মুমিন হবে তো সকাল বেলা হবে কাফের। দুনিয়াবি সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে সে দ্বীনকে বিক্রি করে ফেলবে। [সহীহ মুসলীম]
____________________________
আজকে যারা Happy Valentine Day লিখে বা বলে পাঠিয়েছেন, বিভিন্ন অশ্লীল ও হারাম কাজে লিপ্ত হয়ে এই দিনটি উদযাপন করেছেন, তারা আল্লাহর কাছে লজ্জিত হয়ে তোওবা করুন এবং অবৈধ সম্পর্ক থেকে ফিরে আসুন।
____________________________
পুরুষদের মাঝে যাদের বিয়ে করার সামর্থ্য আছে, তাদের প্রেমিকা যদি বিয়ে করার মতো উপযুক্ত হয়, তাহলে মেয়ের বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। মেয়ের বাবা রাজি থাকলে আলহামদুলিল্লাহ! দেরী না করে শীঘ্রই আক্বদ করে হালাল করে নিন। আর মেয়ের বাবা যদি একান্তই রাজি না হয়, তাহলে এই মেয়ের সাথে যোগাযোগ ও সম্পর্ক ছিন্ন করে ধার্মিক দেখে পছন্দমতো অন্য মেয়েকে বিয়ে করে আল্লাহর পথে চলার চেষ্টা করুন।
____________________________
নারীদের মাঝে যারা এই ফিতনায় পড়েছেন, তাদের প্রেমিক যদি বিয়ে করার উপযুক্ত হয়, তাহলে আপনাকে পেতে চাইলে কালকেই আপনার বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতে বলুন। যদি আপনার বাবা রাজী থাকে, তাহলে আলহামদুলিল্লাহ! শীঘ্রই বিয়ে সম্পন্ন করে হালাল করে নিন। ঐ পুরুষ যদি বিয়ে করতে রাজি না হয়, বা হেনতেন বলে বিয়ে করতে দেরী বা অস্বীকার করে, কিন্তু সম্পর্কে রেখে ঠিকই আপনাকে ভোগ করতে দাবী জানায়. . .তাহলে এমন লোককে সাক্ষাৎ ইবলিস মনে করে তার থেকে ১০০ হাত দূরে থাকুন। যা ক্ষতি হওয়ার হয়েছে, সেটা আর কোনদিন ফেরত আসবেনা। ইন্তু ভবিষ্যতে যাতে আল্লাহর নাফরমানি করে আপনার পরকাল নষ্ট না হয়, তার জন্যে প্রাণপন চেষ্টা করুন।
____________________________
আর যাদের বিয়ে করার সামর্থ্য নেই, বা যাদের বাবা বিয়ে দিচ্ছেনা, তারা পরপুরুষ বা পরনারীর সংশ্রব ও যোগাযোগ থেকে বেঁচে থাকুন, কারণ তা ক্রমেই জিনার সম্পর্কের দিকে নিয়ে যাবে। ধৈর্য ধরতে না পারলে রোযা রাখুন, যা আল্লাহকে স্বরণ রাখতে সাহায্য করবে এবং আপনার যৌন কামনা ও আবেগকে নিয়ন্ত্রন করবে।
____________________________
এ ব্যপারে কারো কোন পরামর্শ বা সাজেশান দরকার মনে করলে, আমাদেরকে ইনবক্স করতে পারেন। ইংশা-আল্লাহ, আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান ও সাধ্য অনুযায়ী আমরা আপনাদেরকে সাহায্য করার চেষ্টা করবো। আমি দুয়া করি, আল্লাহ আমাদেরকে অশ্লীলতার ফিতনাহ, যা বর্তমান যুগে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, তা থেকে আমাদের ও আমদেরকে পুরিবারকে হিফাজত করুন।

- আনসারুস সুন্নাহ। 

সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

বিবাহের জন্যে মোহরের সুন্নাহ

বিবাহের জন্যে মোহরের সুন্নাহ
শায়খ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসায়মিন রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
(আধুনিক যুগের মুদ্রাতে সুন্নাহ অনুযায়ী বিয়ের জন্যে) সর্বনিন্ম মোহর হচ্ছে ১১২ সৌদি রিয়াল. . .আর সুন্নাহ অনুযায়ী সর্বোচ্চ মোহর হচ্ছে ১৪০ সৌদি রিয়াল। অথচ, বর্তমানে এটা ৭০,০০০ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।
শারহ আল-মুমতিলা যাদ আল-মুস্তাকনিঃ খন্ড-১২, পৃষ্ঠা ২৫২-২৫৩।
*৪ই মার্চ, ২০১৬ইং তারিখে এক সৌদি রিয়ালের মূল্য বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ২০.৯ টাকা। সে হিসাবে ১১২ সৌদি রিয়াল হচ্ছে ২৩৪০ টাকা, আর ১৪০ সৌদি রিয়াল হচ্ছে ২৯২৬ টাকা।
শায়খ মুহাম্মদ আল-ওয়াসসাবি হাফিজাহুল্লাহ বলেন,
সুন্নাহ হচ্ছে বিয়ের মোহর ৫০০ দিরহাম, যার বর্তমান মূল্য প্রায় ৫০০০ ইয়েমেনি রিয়ালের [১] সমান। আর সর্বোত্তম আদর্শ হচ্ছে (আমি) মুহাম্মাদ-এর আদর্শ। [২] যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন, তাহলে সুন্নাহর অনুসারীদের উচিৎ (নবীজির এই আদর্শ বাস্তবায়নে) সবার অগ্রগামী হওয়া। [৩]
[১] শায়খ মুহাম্মদ আল-ওয়াসসাবি হচ্ছেন ইয়েমেনের একজন প্রখ্যাত আলেমে-দ্বীন, একারণে তিনি ইয়েমেনি মুদ্রায় ৫০০ দিরহামের দামের কথা উল্লেখ করেছেন। ৮ই ফেব্রুয়ারী, ২০১৬ ইং তারিখে ইন্টারনেটে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ৫০০০ ইয়েমেনি রিয়ালের দাম বাংলাদেশী টাকায় সর্বোচ্চ ১৮৩১ টাকা। এই পরিমান মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে সুন্নাহ বা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদর্শ। কোন মেয়ে বা মেয়ের ওয়ালী এর চাইতে বেশি বা এর চাইতে কমও মোহর নির্ধারণ করতে পারে, এ ব্যপারে এখতিয়ার রয়েছে। তবে আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তোমাদের জন্যে আল্লাহর রসুলের মাঝে সর্বোত্তম আদর্শ রয়েছে। সুরা আহযাবঃ ২১।
[২] এটা একটা হাদীসের অংশ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সর্বোত্তম বাণী হচ্ছে আল্লাহর কিতাব (কুরানুল কারমী), আর সর্বোত্তম আদর্শ হচ্ছে (আমি) মুহাম্মাদ-এর আদর্শ। সহীহ আল-বুখারী, আচার ব্যবহার অধ্যায়, খন্ড ৮, অধ্যায় ৭৩, হাদীস নং-১২০।

[৩] শায়খের বক্তব্যের উৎসঃ অডিও টেপ আহকাম আয-যাওয়াজ (বিয়ের হুকুম)।  

বিয়ের পরে পাত্র বা পাত্রীকে জেনে বুঝে নেওয়া

প্রশ্নঃ আসসালামু আলাইকুম। কোন ছেলে যদি কোন মেয়েকে বিবাহের জন্য পছন্দ করে (যেখানে মেয়ের পরিবার এবিষয়ে জানে না), তবে বিবাহের পূর্বে সেই মেয়ের সাথে দীর্ঘদিন দেখা সাক্ষাত করা, কথা-বার্তা বলা, জেনেবুঝে নেওয়া. . .এই ব্যাপার গুলো কতটুকু ঠিক?

উত্তরঃ ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি বারাকাতুহু। জেনে বুঝে নেয়ার ব্যাপার আসলে একজন মানুষকে বিয়ে করার পূর্বে ঠিক কতটুকু দেখতে হবে? অনেকে প্রেম ভালোবাসার নামে অথবা বিয়ের পূর্বে পাত্র অথবা পাত্রীকে জেনে বুঝে নিতে গিয়ে একাকী মেয়ের সাথে দেখা-সাক্ষাত করে, ঘনিষ্ঠতা করে, দীর্ঘদিন ধরে জিনা ব্যভিচার করে শেষ পর্যন্ত জানা বুঝা সব শেষ করে ফেলে। এর পরে অন্য মেয়ে তালাশ করে, জেনে বুঝে নেওয়ার জন্যে। এইগুলো হচ্ছে মেয়ে দেখার নাম করে অবৈধভাবে মেয়েদেরকে ভোগ করার জন্য পুরুষদের ছলনা মাত্র। অনেক সরলমনা মেয়েরা এইভাবে প্রেমিকের কাছে, হবু লম্পট স্বামীর কাছে ইজ্জত হারিয়ে বা ধর্ষিত হয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছে। বিয়ের উদ্দেশ্যে মেয়ের বাবা অথবা কোন মাহরাম পুরুষের উপস্থিতিতে পাত্র সরাসরি নিজে একবার মেয়েকে দেখবে। পছন্দ হলে বিয়ে করবে, আর নয়তো কথা সেখানেই কথা শেষ। এর অতিরিক্ত আর কোন বুঝাবুঝির দরকার নাই। ছেলে-মেয়ে নিজেদের মাঝে কোন ধরণের ব্যক্তিগত দেখা-সাক্ষাত বা যোগাযোগ করবেনা। মূলত যারা সারা জীবন ফ্রী-মিক্সিং পরিবেশে নারীদের সাথে উঠা-বসা করে অন্তর কলুষিত করে ফেলেছে, নারীদের সাথে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত থাকে, তারাই এইভাবে জেনে বুঝে নেওয়ার দাবী জানায়। আর নারীরা দুষ্ট লোকের মিষ্টি কথা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে, নিজের দ্বীনকে বিসর্জন দিয়ে এদের ডাকে সাড়া দেয়। এমন দুশ্চরিত্রে লোকদের থেকে নারীরা সাবধান! নারীদের বুদ্ধির ত্রুটি রয়েছে, একারণে তারা যাতে পুরুষদের লালসা থেকে নিজেদেরকে বাঁচাতে পারে সেইজন্য আল্লাহ তাআ'লা রহমত স্বরূপ তাদের জন্য হিজাব-পর্দার বিধান দিয়েছেন। যারাই হিজাব-পর্দাকে অবহেলা বা ঘৃণা করবে, তারা দুনিয়া এবং আখিরাতে লাঞ্চিত হবে। বর্তমান যুগে ফ্রী মিক্সিং-এ অভ্যস্ত নারীদের চূড়ান্ত পরিণতির দিকে লক্ষ্য বিষয়টা খুবই স্পষ্ট। আল্লাহ আমাদেরকে ও আমাদের পরিবারকে হিফাজত করুন, আমিন।

সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

Huge Difference!

Huge Difference!
(১) ঢাকা শহরের ব্যস্ত একটা রাস্তা। বিকেল বেলা হেঁটে বাসায় ফিরছি। রাস্তাটা যখন ক্রস করছি তখন আমার একটু সামনেই রিকশায় বসা একটা ছেলে ও মেয়ে, মেয়েটা বোরখা+নিকাব পড়া। ছেলেটা মেয়েটার নিকাব খুলে তার মুখে চুমা দিলো। অবৈধ প্রেমে (জিনায়) লিপ্ত নারী-পুরুষ, বুঝতে কষ্ট হয়না। তবে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, এখনো রাত হয়নি, রাস্তা ভর্তি মানুষ. . .কোন লজ্জা শরম নাই। এভাবেই চলছে আজকালকার যুগের ছেলে-মেয়েদের প্রেমলীলা। এভাবেই লম্পট প্রেমিকের পাল্লায় পড়ে কলেজ-ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া মেয়েরা ইজ্জত নষ্ট করছে। সহশিক্ষার রঙ্গিন দুনিয়ায় অনেক হিজাব-নিকাবী মেয়েরাও বাঁচাতে পারছেনা সাপের মনির চাইতেও মূল্যবান সম্পদ। হয়তোবা, হাদিসের কথা অনুযায়ী ভবিষ্যতে এদের ছেলে-মেয়েরাই গাধার মতো প্রকাশ্যে জিনা-ব্যভিচারে লিপ্ত থাকবে।
(২) বছর দুয়েক আগে আমাদের গ্রামের বাড়িতে দুপুর বেলা যুহরের সালাত পড়ে বাসায় ফিরছি। আমাদের বাসার পাশেই নতুন একটা মহিলা মাদ্রাসা চালু হয়েছে, অল্প দিনেই গ্রামের বেশ কিছু মেয়ে সেখানে পড়াশোনাও শুরু করেছে। আমাদের বাসা ও মহিলা মাদ্রাসার পাশের রাস্তায় উঠলাম, ছুটি হওয়ায় বড় ক্লাসের কয়েকটা মেয়ে বাড়ী ফিরে যাচ্ছে। প্রত্যেকটা মেয়ের পা থেকে মাথা পর্যন্ত কালো বোরখা দিয়ে ঢাকা, হাত মোজা, পা মোজা। এমনকি চোখও যাতে দেখা না যায় সেইজন্যে কালো সানগ্লাসও পড়েছে। আমি খুব অবাক হলাম, সারাজীবন গ্রামে বড় হওয়া মেয়েরা এতো এডভান্স চিন্তা করে কিভাবে? যাই হোক, যখন মেয়েগুলোকে মুখোমুখি রাস্তা ক্রস করার সময় হলো, আমাকে খুব অবাক করে দিয়ে মেয়েগুলো রাস্তার একপাশ ধরে দাঁড়িয়ে গেলো। আমি আশ্চর্য হয়ে মনে মনে সুবহান আল্লাহ বললাম। কারণ, এতদিন হাদীসে পড়েছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে মহিলা সাহাবীরা রাস্তার একপাশ ধরে একেবারে মিশে মিশে হাঁটতেন, যাতে করে কোন পুরুষের সাথে গা বা স্পর্শ লেগে না যায়। এই ব্যপারটা এতোদিন শুধু হাদিসের কিতাবেই পড়েছিলাম। আজকের যুগে মেয়েদের মাঝে ব্যপারটা দেখে সত্যিই এতো চমকে উঠেছিলাম যে, আজ পর্যন্ত সেই ঘটনাটা ভুলতে পারিনি।
যাই হোক, উপরের দুইটা ঘটনা। একটা নারী-পুরুষ সহাবস্থানের সো কলড আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিফলন। আরেকটা এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখান, ক্বুরান ও হাদীস শিক্ষা দেওয়া হয়, আল্লাহর আইন মেনে জীবন পরিচালনা করতে উৎসাহিত করা হয়। দুটোর কি ফলাফল এবং কিয়ামতের দিন তাদের কি প্রতিদান হবে, আর তাদের বাবা-মায়ের কি প্রতিদান হবে, এটা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা না করলেও বুঝতে কষ্ট হয়না।
বিঃদ্রঃ ১ - আমার এই লেখার উদ্দেশ্য এই না যে, কলেজ ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া সব ছেলে-মেয়ে খারাপ, আর মাদ্রাসা পড়ুয়া সব ছেলে-মেয়ে একেবারে ধোঁয়া তুলসি পাতা। ভালো খারাপ সব জায়গাতেই আছে, এমনকি আমার ও আপনার মাঝেও ভালো ও মন্দ স্বভাব আছে। তবে ক্বুরআন-হাদীস পড়া একজন মানুষ যে ক্বুরান ও হাদীস অনুযায়ী চলতে চায়, আর যে ক্বুরান হাদীস পড়েনা, শিরকি কুফুরী মতবাদ ও দার্শনিকতা পড়া, অশ্লীলতার গল্পর নাটক ও কবিতা পড়া, সুদ ও বীমার অংক করা, দুনিয়ার জন্যে যখন তখন তার দ্বীন বিক্রি করে প্রস্তুত এমন একজন মানুষের মাঝে কিছুনা কিছু যে পার্থক্য অবশ্যই থাকবে, এটা কানার ভাই অন্ধও বুঝে। আর সেইজন্য অধিকাংশ ছেলে ও মেয়েদের অবস্থা সামান্য একটু লক্ষ্য করলে খুব সহজেই সেটা ধরা পড়ে।
বিঃদ্রঃ ২ আমার এই পোস্ট কারো অনুভূতিতে আঘাত করলে তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।

#ফাহিশাহ_নারী #দাইয়ুস #তাবাররুজ #সহশিক্ষা #হিজাব_পর্দা #জিনা #দোররা #রজম #জাহান্নাম