রবিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৪

জিনা-ব্যভিচার সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন ও তার উত্তর

জিনা-ব্যভিচার সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন ও তার উত্তরঃ
[প্রশ্ন নং ১৮]
আমাকে একটি বিষয় খুবই উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠিত করছে, তাহলো আমি এক মহিলার সাথে ব্যভিচার করি। এখন কিভাবে তাওবা করবো?
অন্য একজন প্রশ্ন করেছেন, আমি বিদেশে গিয়ে কুকর্মে লিপ্ত হই। আমার দ্বারা মহিলাটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে। এখন কি সন্তানটি আমার হবে এবং তাকে কি আমি সন্তানের জন্য খরচা-পাতি পাঠাবো?
উত্তর: অশ্লীল কাজ সংক্রান্ত অনেক প্রশ্নমালা আসছে যার জন্য মুসলমানদের উপর জরুরী হয়ে পড়েছে বিষয়টির উপর গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করার এবং কুরআন হাদীস মোতাবেক নিজেদের সংশোধন করার এবং বিশেষ করে দৃষ্টি সংযত করার, নির্জন সাক্ষাৎ না করার এবং বেগানা মহিলাদের সাথে মুসাফাহা না করার আর পরিপূর্ণ শরয়ী পর্দা রক্ষা করে চলার। মেলামেশার বিপজ্জনকতা উপলব্ধি করা এবং কাফেরদের দেশে ভ্রমণে না যাওয়া। মুসলিম পারিবারিক ঐতিহ্য রক্ষা করে চলা, অল্প বয়সেই বিয়ে করা এবং এ ব্যাপারটি কঠোর না করে ফেলা।
যে ব্যক্তি কুকর্ম করেছে সেটি এ দু'অবস্থার বাইরে নয়:
১. হয়তো সে জোরপূর্বক জেনা করেছে এক্ষেত্রে তাকে মহরে মিস্‌ল্‌ প্রদান করতে হবে, তার যে ক্ষতি সাধন করেছে তা পূরণ করার লক্ষ্যে। সেই সাথে তাকে খালেস তাওবা করতে হবে এবং বিষয়টি যদি হাকেম বা বিচারক পর্যন্ত (ইসলামী বিচারক) গড়ায় তাহলে তার উপর হদ (শরয়ী শাস্তি বিধান) কায়েম করতে হবে। (বিস্তারিত দেখুন মাদারেজুস সালেকীন ১/৩৬৬)
২. উক্ত মহিলার সম্মতিতেই তার সাথে ব্যভিচার করেছে। এক্ষেত্রে তাকে শুধুমাত্র তাওবা করতে হবে। তার সাথে কখনো সন্তানকে সম্পৃক্ত করা হবে না এবং তাকে খরচও দিতে হবে না। কেননা সন্তান পরিচিত হবে মায়ের সাথে, কোনভাবেই জেনাকারীর সাথে সন্তান সম্পৃক্ত বা পরিচিত হবে না।
[প্রশ্ন নং ১৯]
আমার দ্বারা কুকর্ম সম্পাদিত হয়েছে। এজন্য আমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি সে মেয়ের সাথে বিবাহ বন্ধনেও আবদ্ধ হয়েছি। এটা বেশ কয়েক বছর পূর্বের ঘটনা। আমরা উভয়ে খালেস তাওবা করেছি। এখন আমাদের কর্তব্য কি?
উত্তর: যখন দু'জনের পক্ষ থেকেই তাওবা হয়েছে এজন্য আপনাদের উভয়কে বিবাহ বন্ধনটা নতুন করে নিতে হবে শরিয়তের শর্ত মোতাবেক ওলী, সাক্ষীর উপস্থিতিতে (যদি এর আগে শরীয়তের শর্ত মোতাবেক বিবাহ না হয়ে থাকে তবেই)। এজন্য জরুরী নয় যে, কোর্টে গিয়ে হাজির হতে হবে বরং বাসার মধ্যে হলেই যথেষ্ট হবে।
[প্রশ্ন নং ২০]
একজন মহিলা বলে, সে এক নেককার লোকের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। সে বিবাহের পূর্বে এমন কিছু কাজ করেছে যা আল্লাহ পছন্দ করেন না। এখন তার মনে বিষয়টি সর্বদা পীড়া দিচ্ছে। এখন তার প্রশ্ন, সে কি তার স্বামীকে পূর্বে যা কিছু ঘটেছে তা জানাবে?
উত্তর: স্বামী স্ত্রীর উভয়েরই কেউ অপরকে জানান ওয়াজিব নয় যে, অতীতে সে কি করেছে। কেউ যদি এসব পঙ্কিলতার দ্বারা পরীক্ষিত হয়ে থাকে তাহলে সে যেন তা আল্লাহর ওয়াস্তে গোপন করে। তার জন্য খালেস তাওবাই যথেষ্ট।
তবে কেউ যদি কুমারী মেয়েকে বিবাহ করে অতঃপর প্রকাশিত হয় যে, মেয়েটি প্রকৃত কুমারী নয়, অতীতে অপকর্ম করার কারণে, তাহলে সে যে মোহর দিয়েছে তা ফেরত নিয়ে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারে। আর যদি সে দেখে যে, সে তাওবা করেছে যার ফলে আল্লাহ তার দোষ গোপন রেখেছেন তাহলে যদি তাকে দাম্পত্যে রেখে দেয় তাহলে অবশ্যই মহান আল্লাহ কর্তৃক নেকী ও সোয়াবের ভাগী হবে।
শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদের লেখা অত্যন্ত উপকারী বই, যা সকলের পড়া উচিতঃ
“আমি ‪#‎তাওবা‬ করতে চাই কিন্তু...”
তোওবা কি, তোওবা কিভাবে করতে হবে, কিভাবে বুঝবো আমার তোওবা কবুল হয়েছে কিনা, এছাড়া বিভিন্ন ধরণের পাপ যে করে ফেলেছে সে কিভাবে তোওবা করবে – তোওবা সংক্রান্ত এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য এই বইটা অবশ্যই পড়বেন।http://bit.ly/1tdTuB8

শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৪

“জান্নাতে নারীরাও হুর পাবে…”

জান্নাতে নারীরাও হুর পাবে…”
ক্বুরান হাদীসের অনুবাদ পড়ে ফতোয়া দেওয়া যায় নাহ!!

ফতোয়া দিতে পারেন তারাই, যারা হচ্ছেন প্রকৃত ফকীহ বা মুজতাহিদ। ফতোয়া দেওয়ার মতো যোগ্যতা অর্জনের জন্য তাকে সরাসরি বড় আলেমদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে অধ্যায়ন করে, অনেক ইলম অর্জন করে নিতে হয়। আর ইলম অর্জনের যদি শুরু বলেন, সেটা হচ্ছে আরবী ভাষা, গ্রামার বা ব্যকরণ ও এর ব্যবহার সম্পর্কে দক্ষ হওয়া যাতে করে একজন ব্যক্তি ক্বুরানের আয়াত ও হাদিসগুলোর প্রকৃত অর্থ সরাসরি মূল #আরবী থেকেই বুঝতে পারেন, কারো অনুবাদ বা ব্যখ্যার দ্বারস্থ না হতে হয় তাহলেতো তিনি তার ব্যখ্যাটাকেই নকল করবেন, তার নিজস্ব ফতোয়া হবেনা। কারো অনুবাদ বা ব্যখ্যা পড়ে ফতোয়া দেওয়া, এটা এক প্রকার কপি-পেস্ট। এটা খারাপ কোন বিষয় না, সত্যি কথা বলতে যারা গায়ের-ফকীহ তাদের উচিত হচ্ছে বড় আলেমদের ফতোয়াগুলোই কপি করা। তবে অন্যায় যেটা, কেউ কপি-পেস্ট করতে করতে এক সময় নিজেই মনগড়া ফতোয়া দেওয়া শুরু করলেন, যদিও তার সেই যোগ্যতা নেই।

ফতোয়া দেওয়া খুব জটিল ও কঠিন একটা কাজ। একটা আরবী শব্দের অনেক অর্থ থাকে, আবার সেইগুলোর ব্যবহার ভিন্ন, তার উপর আয়াতের সঠিক তর্জমা ও তাফসীর, শানে নুযুল জানা, হাদীসের নাসেখ-মানসুখ জানা, ফিকহের মূলনীতিমালা ও তার প্রয়োগ, সাহাবা ও পূর্ববর্তী আলেমরা কিভাবে বিষয়টাকে বুঝেছেন বা দেখেছেন এমন অনেক বিষয় জানা ও বোঝার পরেই একজন আলেম বা প্রকৃত ফকীহ কোন একটা বিষয়ে ইসলামী হুকুম বা ফতোয়া কি হবে সেটা নির্ণয় করতে পারেন।

যাই হোক, #বোহরা নামের শীয়াদের চরমপন্থী কুফুরী একটা ফেরকার অনুসারী আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলীর করা ক্বুরানের অনুবাদ পড়ে জনপ্রিয় একজন টিভি বক্তা ফতোয়া দিয়েছেন - জান্নাতে নারীরাও নাকি হুর পাবে!?
তার মতে, হুরের কোন gender নেই, আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলী ক্বুরানের #হুর শব্দের সঠিক অর্থ করেছেন companion বা সংগী (অর্থাৎ, নারী অথবা উভয়ই)।
সুতরাং এই অনুবাদ অনুযায়ী জান্নাতে নারীরাও সুন্দর পবিত্র পুরুষ হুর পাবে!
____________________________    
জান্নাতে নারীরা পুরুষ হুর পাবে - এটা সম্পূর্ণ বাজে একটা কথা। জান্নাতে নারীদের জন্য তাদের দুনিয়ার জীবনের স্বামী থাকবেন, যাদের স্বামী জান্নাতে যাবেনা তাদের সাথে অবিবাহিত জান্নাতী পুরুষদের বা যাদের স্ত্রীরা জান্নাতে যেতে পারেনি তাদের সাথে বিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু পুরুষদের জন্য দুনিয়ার স্ত্রী ছাড়াও যেমন জান্নাতের হুর থাকবে নারীদের তেমনি পুরুষ হুর নামের কোন কিছু থাকবেনা। দেখুন ক্বুরানের আয়াত দ্বারাই এই জাহালতপূর্ণ অনুবাদ ও ফতোয়ার বিভ্রান্তি কতো স্পষ্টভাবে ভুল প্রমানিত হয়ঃ

সুরা ওয়াক্বিয়ায় আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
৩৫. আমি জান্নাতী রমণীদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করেছি।
৩৬. অতঃপর তাদেরকে করেছি #চিরকুমারী।
৩৭. #কামিনী, সমবয়স্কা।
৩৮. ডান দিকের লোকদের জন্যে।

=> হুরদের এই বর্ণনা কি কখনো কোন পুরুষের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে!? বুদ্ধিমান লোকদের জন্য চিন্তার খোরাক হিসেবেই প্রশ্নটা রেখে দিলাম।

সুরা আন-নাবায় আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
৩১. নিশ্চয়ই মুত্ত্বাকীদের জন্যে রয়েছে সাফল্য।
৩২. উদ্যান, আঙ্গুর,
৩৩. সমবয়স্কা, পূর্ণযৌবনা তরুণীরা।

৩৩ নাম্বার আয়াত, وَكَوَاعِبَ أَتْرَاباً এর অর্থ করা হয়েছে সমবয়স্কা, পূর্ণযৌবনা তরুণী

এখানে আরবীতে كَواعِبَ (ক্বাওয়ায়িবা) শব্দটির অর্থ হচ্ছে এমন নারী যার বক্ষ হচ্ছে উঁচু ও স্ফীত, যা সাধারণত কুমারী নারীদেরই হয়ে থাকে। উল্লেখ্য, এটা জান্নাতী নারীদের বিশেষ একটা বৈশিষ্ট্যই হছে তারা চিরকুমারী থাকবে, যা সুর ওয়াকিয়াতেও বলা হয়েছে। রেফারেন্স দেখুন সুরা ওয়াকিয়া ও সুরা নাবার তাফসীর, তাফসীর ইবনে কাসীর।

(Kawa`ib) - "This means round breasts. They meant by this that the breasts of these girls will be fully rounded and not sagging, because they will be virgins, equal in age."
See more at:
http://www.alim.org/library/quran/AlQuran-tafsir/TIK/78/31#sthash.pZLNhtpx.dpuf

আশা করি এই আয়াতগুলো থেকে স্পষ্ট, জান্নাতের হুরদের কোন জেন্ডার আছে কি নেই, আর থাকলে সেটা কোন জেন্ডার!? তারপরেও যারা আরো বিস্তারিত আলোচনা জানতে চান, তারা আল-ফকীহ, ইমাম ইবনে উসায়মিন রহঃ এর ফতওয়া আরকানুল ইসলাম বইয়ে হুরদের নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে দেখুন।

সর্বশেষঃ ২-৩ মাস পূর্বে, কাছাকাছি একটা বিষয় নিয়ে পোস্ট দিলে একজন প্রবাসিনি আমাকে মেসেজে ইংরেজীতে কিছু কথা বলেন, তার কথা থেকে মনে হলো - সে হাদীসের ব্যপারে সন্দেহের মাঝে আছে, তিনি হাদীস মানতে রাজি নন। তিনি আরো তার অভিজ্ঞতা বললেন, কিভাবে তিনি এমেরিকান আলেম (আসলে রাশেদ খলিফার উম্মত, আহলে ক্বুরান) এর কাছ থেকে হুরের সঠিক অর্থ পেয়েছেন যে, নারীদের জন্যও পুরুষ হুর থাকবে। যাইহোক, কিছু কথা বলে আমি তাকে উপদেশ দিয়েছিলাম সম্ভব হলে মুসলিম কোন দেশে হিজরত করা ও মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়ার জন্য। বিদেশে ইয়াহুদী-খ্রীস্টানরা মুসলমানদের ঈমান নষ্ট করার জন্য অনেক ভ্রান্ত দল ও মতবাদ তৈরী করে রেখেছে, তাদের বই-পত্র ছাপায়। একজন সাধারণ মুসলমান যদি নূন্যতম জরুরী জ্ঞান না থাকে, বিভিন্ন-যুক্তি তর্কের ফাঁদে পড়ে সেই সমস্ত ভ্রান্ত মতবাদকেই সঠিক মনে করে পরকাল নষ্ট করবে। সেইজন্য সম্মানিত দ্বীনি ভাই ও বোনদের সকলের কাছে অনুরোধ, আপনারা দ্বীন শিক্ষা করুন। নিজেকে হেফাজত করুন, ইসলামের খেদমতে আত্মনিয়োগ করুন। 

প্রশ্নঃ husband and wife 2jon e jodi jannati hoy tahole o ki purush ti hur biye korbe?
হ্যা করবে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য নিয়ামত। এটা নিয়ে স্ত্রীদের চিন্তিত বা মন খারাপ করার কিছু নেই। জান্নাতে নারী বা পুরুষ যে যাই চাইবে তা-ই পাবে। তবে কেউ কখনো হারাম বা আল্লাহ যা করবেন না, এমন কোন কিছু কখনো চাইবেনা। জান্নাতী নারী ও পুরুষদের অন্তর থেকে লোভ, হিংসা বিদ্বেষ দূর করে দেওয়া হবে। দুনিয়ার জীবনে মতো জান্নাতে একজন অন্যজনের বিবির প্রতি কামনা বা লোভ করবেনা, এক স্ত্রী স্বামীর অন্য স্ত্রী থাকা নিয়ে অভিযোগ করবেনা। রাসুল সাঃ এর একাধিক বিবি ছিলো, তাঁরা জান্নাতে এটা নিয়ে কষ্ট পাবেনা বা এর পরিবর্তে অন্য কোন কিছু চাইবেন না। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, নিশ্চয়ই যারা বিশ্বাস ঈমান আনে ও নেক কাজ করে, তাদের অভ্যর্থনার জন্যে থাকবে জান্নাতুল ফেরদাউস। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, তার পরিবর্তে অন্য কোন কিছু চাইবে না। [সুরা আল-কাহফঃ ১০৭-১০৮]


মোট কথা যে জান্নাতে যাবে সে সর্ব রকম সুখ ও শান্তির মাঝে থাকবে, তার অন্তরে অণু পরিমান কষ্ট থাকবেনা। তাই আমাদের এই বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তিত হওয়ার থেকে, কিভাবে সেই নিয়ামতপূর্ণ জান্নাতে পা রাখতে পারবো সেই চিন্তাই বেশী করা উচিত। 

শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৪

ঈমানদার বান্দা ও বান্দীদের জন্য শয়তানদের কিছু ধোকার নমুনাঃ ১ম পর্ব

ঈমানদার বান্দা ও বান্দীদের জন্য শয়তানদের কিছু ধোকার নমুনাঃ
১. দুনিয়াটা মস্ত বড়, খাও দাও ফূর্তি করো।
২. তরুণ বয়স আর ফিরে আসবেনা, লাইফটাকে এখনই এনজয়(!) করে নাও।
৩. বিয়ের আগ পর্যন্ত যিনা-ব্যভিচার নষ্টামি বাদরামি করো। ভালো দেখে একটা বিয়ে করে, বিয়ের পরে তোওবা করে নিলেই হবে।
৪. ছেলে-মেয়েকে বিয়ে দিয়ে হজ্জ করতে যাবো।
৫. হজ্জ করে হারাম ইনকাম ছেড়ে দেবো।
৬. এখন হজ্জ করে ফেললে নষ্টামি, বাদরামি আর করা যাবেনা। তাই ম্রার আগে বুড়া বয়সে যখন পাপ করার মতো আর শক্তি থাকবেনা, তখন তোওবা করে হজ্জ করবো।
৭. ভাইয়া আমার বয়স অল্প, আর আজকালকার মেয়েরা খোলামেলা ড্রেস পড়ে। তাই দৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রন রাখতে পারিনা।
৮. দাড়ি রাখলে সুন্দরী মেয়ে বিয়ে করা যাবেনা, বিয়ে করে বউয়ের পারমিশান(!) নিয়ে দাড়ি রাখতে হবে।
৯. নামাযী বয়ফ্রেন্ড, হিজাবী গার্লফ্রেন্ড।
১০. এনার্জি ড্রিংক (আসলে মদের জুস)।
১১. ইসলামী(!) নাশিদ, ড্যান্স। (ধোকা)
১২. হিজাব (শুধুমাত্র মাথায় স্কার্ফ)
১৩. ফ্যাশান হাউজ, বিউটি কনটেস্ট (পতিতা নারীদের অনুকরণ করে তাদের মতো ইজ্জত বিক্রি করে দেওয়ার ট্রেনিং)
১৪. ইসলামী(!) গণতন্ত্র
১৫. বড় হুজুর বা পীর সাপ (বিদাতী, পথভ্রষ্ট বক্তা বা আলেম)
১৬. অনলাইন মুজাহিদ (গালি দেওয়ার উপরে ডিগ্রীপ্রাপ্ত)
১৭. সম্মানিত এডমিন (অল্পবয়ষ্ক মনগড়া ফতুয়াবাজ)
১৮. কিতাবের তালিম হবে (মুসলমানদের কাছে কিতাব মানে ক্বুরান। তাদের কাছে কিতাব মানে ভেজাল আমল)
১৯. বহুত ফায়দা (জাল জয়ীফ হাদীস দিয়ে মিথ্যা ফযীলতের ধোকা)
২০. ইসলাম প্রতিষ্ঠা (ইসলাম কি না জেনেই ভ্রান্ত দল বা সংগঠনে ঝাপিয়ে পড়া, চোখ বন্ধ করে তাদের কুকীর্তির সাফাই গাওয়া)
২১. আত্মশুদ্ধি, তাসাওফ, মারেফত (শিরক বেদাত শিক্ষা দিয়ে ঈমান নষ্ট করা)
২২. মাযার যিয়ারত (মাযারে সিজদা দেওয়া, মরা মানুষকে দেবতা হিসেবে নেওয়া)
২৩. তাবিজ, তদবীর (ক্বুরানের আয়াত বিক্রি করে খাওয়া।
২৪. নারী মুক্তি, সমান অধিকার, নারীদের ক্ষমতায়ন (আসলে মেয়েদেরকে পুরুষদের জন্য সহজলভ্য করার টেকনিক)

২৫. মুক্তমনা, ধর্ম নিরপেক্ষ, সুশীল বুদ্ধিজীবী (আসলে ইসলামের দুশমন, নাস্তিক)

তাবলীগ জামাতে উপরে লেখাগুলোর লিংক –

তাবলীগ জামাতে উপরে লেখাগুলোর লিংক

তাবলীগ অর্থ কি?
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/03/blog-post_8858.html

দ্বীনের নামে, ধর্মের নামে কিভাবে ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/03/blog-post_4811.html

আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/05/blog-post_17.html

তাবলিগ জামাত ও চিল্লা দেওয়ার উপরে আল্লামাহ শায়খ সালিহ আল-ফাওজানের ফাতওয়াঃ
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/04/blog-post_2743.html

তাবলীগী ভাইদের ফাযায়েলে আমাল সম্পর্কে সৌদি আরবের উলামাদের ফাতওয়া:
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/03/blog-post_4119.html

জামাতে ইসলামী তাবলিগ জামাত - শায়খ আব্দুর রাক্বীব মাদানী
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/05/blog-post_15.html

তাবলীগ জামাত এর উপরে শায়খ মুজাম্মেল আল-হক্ক এর গবেষণাধর্মী বিশ্লেষণ
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/06/blog-post_6404.html

তাবলীগ জামাত ও কবর মাযার পূজার শিক্ষাঃ
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/08/blog-post_13.html

ফাজিল আমল
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/08/blog-post_23.html

ফাযায়েলে আমলে কি আসলেই #শিরিক আছে? (পর্বঃ- ১)

http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/04/blog-post_10.html

বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৪

সুরা আল-কাহফ এর শীক্ষা

সুরা আল-কাহফ.

ক্বুরানুল কারীমের ১১৪টি সুরার মাঝে বার বার পাঠককে পড়ার জন্য আকর্ষণ করে এমনই আশ্চর্যজনক একটি সুরা হচ্ছে সুরা কাহাফ, (১৮ নাম্বার সুরা)।

এই সুরাতে বিস্ময়কর কিছু কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। এই কাহিনীগুলো আল্লাহ তায়ালা তার কিতাবে উল্লেখ করেছেন, যেন তার বান্দারা এইগুলো বারবার পড়ে এবং পার্থিব জীবনের বিভিন্ন পরীক্ষাগুলো উপমা ও উদাহরণসহ উপলব্ধি করতে এমন মনে রেখে পরকালমুখী জীবন-যাপন করতে পারে।

পরীক্ষাগুলো নিম্নরূপঃ
১. আসহাবে কাহফ বা গুহাবাসী কিছু যুবক এবং একটি কুকুরের হৃদয় স্পর্শ করে যাওয়ার ঘটনা। এর মূল বিষয় হচ্ছে মানুষের দ্বীন নিয়ে পরীক্ষা এবং কিভাবে আল্লাহ তার মুখলিস বান্দাদেরকে দুনিয়ার জীবনে সাহায্য করে থাকেন তার এক অনুপম উদাহরণ।

২. দুইজন সাথী যার মধ্যে একজনের দুইটি বাগান ছিলো যা প্রচুর ফল-ফসল দিতো ও স্ত্রী সন্তান নিয়ে সম্পদশালী ছিলো। কিন্তু সে আল্লাহর সাথে নাফরমানী করে অকৃতজ্ঞ হয়ে যায়। ফলে শাস্তিস্বরূপ আল্লাহ তার বাগান ধ্বংস করে দেন। সে তার ভুল বুঝতে পারে কিন্তু অনেক দেরীতে। এখানের বিষয়বস্তু হচ্ছে পার্থিব জীবনে সম্পদের পরীক্ষা।

৩. আদম আঃ ও ইবলিসের কাহিনীও সংক্্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে। কিভাবে ইবলিস ও তার সন্তানেরা আদম আঃ ও তার সন্তানদের চির শত্রু হলো সে বর্ণনা এবং দুনিয়ার জীবনে তাদেরকে যে গোমরাহ করতে চাইবে তার সতর্কবাণী। এখানে জিন ও ইনসান একজন আরেকজনের জন্য পরীক্ষা সেটা তুলে ধরা হয়েছে।

৪. মুসা আঃ ও খিজর আঃ এর ঘটনা, এখানে ইলম বা হিকমাহর পরীক্ষা।

৫. যুল-কারনাইন এর সত শাসন, সারা পৃথিবী ভ্রমন ও ইয়াজুজ-মাজুজের ঘটনা।

=> সুরা কাহাফের ১ম ১০ আয়াত অথবা শেষের ১০ আয়াত মুখস্থ করলে দাজ্জালের ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।


=> জুমুয়ার দিনে এই সুরাটি পড়া সুন্নত। এর অনেক ফযীলত রয়েছে, এক জুমুয়াহ থেকে অন্য জুমুয়াহ পর্যন্ত পাঠকারীর জন্য আলোকিত হয়ে যায়।

সুরা কাহফ নাযিল হওয়ার শানে নুযূল


সুরা কাহফ নাযিল হওয়ার শানে নুযূল
- তোমরা তোমাদের পালনকর্তার অভিমূখী হও এবং তাঁর আজ্ঞাবহ হও
_________________________
বিসমিল্লাহ।
আলহামদুলিল্লাহ।
ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহ।
আম্মা বাআদ।
_________________________
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, কুরাইশরা নাযার ইবনে হারিস ও উকবাহ ইবনে মুঈত কে মদিনার ইয়াহুদী আলেমদের নিকট পাঠিয়ে দেয় এবং তাদেরকে বলে, তোমরা তাদের (ইয়াহুদীদের) কাছে গিয়ে তাদের সামনে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সমস্ত অবস্থা বর্ণনা করবে। কারণ, তারাই প্রথম (আল্লাহর পক্ষ থেকে) কিতাব প্রাপ্ত হয়েছিলো। পুর্ববর্তী নবীগণ সম্পর্কে তাদের জ্ঞান সবচেয়ে বেশি। সুতরাং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে তাদের মতামত কি তা তাদেরকে জিজ্ঞেস করবে।
এই দুইজন তখন মদিনার ইয়াহুদী আলেমদের সাথে স্বাক্ষাৎ করে এবং তাদের সামনে মুহাম্মাদসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রচার করা কথা ও তাঁর গুণাবলী বর্ণনা করে। ইয়াহুদীরা কুরাইশদেরকে বলে, দেখ! আমরা তোমাদেরকে একটি চূড়ান্ত মীমাংসা হয় এমন কথা বলছি। তোমরা মক্কায় ফিরে গিয়ে তাঁকে (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে) তিনটি প্রশ্ন করবে। যদি তিনি উত্তর দিতে পারেন, তাহলে তিনি যে সত্য নবী এতে কোন সন্দেহ নেই। আর যদি উত্তর দিতে না পারেন, তাহলে তাঁর মিথ্যাবাদী হওয়া সম্পর্কে কোন সন্দেহ থাকবে না। তখন তোমরা তাঁর ব্যাপারে যা ইচ্ছা করতে পারো।
(১) তোমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করবে, পুর্বযুগে যেই যুবকগণ বেড়িয়ে গিয়েছিলেন তাঁদের ঘটনা বর্ণনা করুন। এটা তো একটা বিস্ময়কর ঘটনা!
(২) তারপর তাঁকে ঐ ব্যক্তির অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে, যিনি সমস্ত পৃথিবী ভ্রমণ করেছিলেন। তিনি পূর্ব প্রান্ত হতে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত ঘুরে এসেছিলেন।
(৩) আর তাঁকে তোমরা রুহ (আত্মার) অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে।
যদি তিনি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারেন তোমরা তাঁকে নবী বলে স্বীকার করে তাঁর অনুসরণ করবে। আর যদি উত্তর দিতে না পারেন তাহলে জানবে যে, তিনি মিথ্যাবাদী। সুতরাং যা ইচ্ছা তাই করবে। এরা দুজন মক্কায় ফিরে গিয়ে কুরাইশদের বললো, চূড়ান্ত ফয়সালার কথা ইহুদী আলেমগণ বলে দিয়েছেন। সুতরাং, চল আমরা তাকে প্রশ্নগুলি করি। অতঃপর তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আগমন করে তাঁকে ওই তিনটি প্রশ্ন করলে তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরা আগামী কাল এসো, আমি তোমাদের এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিব। কিন্তু তিনি ইনশা আল্লাহ (যদি আল্লাহ চান) এই কথা বলতে ভুলে যান। এরপর পনের দিন অতিবাহিত হয়ে যায় কিন্তু তাঁর কাছে না কোন ওহী আসে, আর না আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে তাঁকে এ প্রশ্নগুলির জবাব জানিয়ে দেয়া হয়।
এর ফলে মক্কাবাসী সন্দেহ করতে থাকে এবং পরস্পর বলাবলি করা শুরু করে, দেখ! একদিনের ওয়াদা ছিল। অথচ আজ পনের দিন কেটে গেল, তবুও সে কোন জবাব দিতে পারল না! এতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দ্বিগুণ দুঃখে জর্জরিত হতে লাগলেন। এক তো কুরাইশদের জবাব দিতে না পারায় তাদের কথা শুনতে হচ্ছে, দ্বিতীয়ত ওহী আসা বন্ধ রয়েছে। এরপর জিবরাঈল (আঃ) আগমন করেন এবং সুরা কাহফ অবতীর্ন হয়। এতেই ইনশাআল্লাহ না বলায় তাঁকে ধমকানো হয়, ঐ যুবকদের ঘটনা বর্ননা করা হয়, ঐ ভ্রমনকারীদের বর্ননা দেয়া হয় এবং রুহের ব্যাপারেও জবাব দেয়া হয়।
সুরা কাহাফ সম্পর্কে কতিপয় বিষয়াবলীঃ
(১) সুরা কাহফ এর প্রথম ১০ আয়াত যে মুখস্ত করবে তাকে দাজ্জালের ফেতনা থেকে রক্ষা করা হবে। সহিহ মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ।
(২) জুমুয়াহর দিনে (অর্থাৎ বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর থেকে শুক্রবার মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মাঝে) সুরা কাহফ তেলাওয়াত করলে দুই জুমুয়াহর মধ্যবর্তী সময় বান্দার জন্য নূরান্বিত বা আলোকিত হয়ে থাকে। হাকিম, ইমাম বুখারী ও মুসলিম হাদিসটিকে সহিহ সাব্যস্ত করেছেন, যদিও তাঁদের কিতাবে উল্লেখ করেন নি।
(৩) সুরা নাযিল হওয়ার ঘটনা থেকে শিক্ষাঃ ইনশা আল্লাহ বলার গুরুত্ব!
উৎসঃ তাফসির ইবনে কাসির।
_________________________
৩টি প্রশ্নের উত্তরঃ
(১) আসহাবে কাহফ না গুহাবাসী যুবকদের ঘটনা। বিস্তারিত জানার জন্য সুরা কাহফ এর ৯-২৩ নাম্বার আয়াতের তর্জমা ও তাফসীর পড়ুন। আসহাবে কাহফ নিয়ে আমাদের পোস্টের লিংক -
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/1456706451028764:0
(২) যুল কারনাইন নামের একজন ন্যায়পরায়ণ বাদশাহর ঘটনা। বিস্তারিত জানার জন্য সুরা কাহফ এর ৮৩-৯৮ নাম্বার আয়াতের তর্জমা ও তাফসীর পড়ুন। যুল কারনাইন নিয়ে আমাদের পোস্টের লিংক -
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/photos/a.130928300273259.14132.125167817515974/1523644661001609/?type=3
(৩) রুহ বা আত্মা সম্পর্কে মানুষকে আল্লাহ মানুষকে খুব অল্প জ্ঞান দান করেছেন, সুতরাং দুনিয়ার জীবনে এটা সম্পর্কে খুব কম জানা যাবে। এতোটুকুর উপরে ঈমান আনতে হবে - আত্মা আল্লাহর বিশেষ একটা সৃষ্টি, যা আল্লাহর আদেশের সাথে সম্পৃক্ত। যেইরকম অন্য আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা আপনাকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। (হে নবী) আপনি তাদেরকে বলু! রূহ আমার পালনকর্তার আদেশ ঘটিত একটি বিষয়। এ বিষয়ে তোমাদেরকে খুব অল্প জ্ঞান দান করা হয়েছে। সুরা বনী-ইসরাঈলঃ ৮৫
বিস্তারিত জানার জন্য সুরা বনী-ইসরাঈল এর ৮৫ নাম্বার আয়াতের তর্জমা ও তাফসীর পড়ুন।
_________________________
তাফসীর কোনটা পড়বেন?
=> আলেমদের কাছে সবচাইতে গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য তাফসীর গ্রন্থ হচ্ছে তাফসীর ইবনে কাসীর যা বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে। ইবনে কাসীর হচ্ছে বিস্তারিত ও দীর্ঘ একটি তাফসীর। কেউ যদি ক্বুরানের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যখ্যা জানতে চান, তাহলে "তাফসীর আহসানুল বায়ান" - এটা কিনতে পারেন। এছাড়া প্রাচীনকালের অন্যান্য তাফসীর গ্রন্থ হচ্ছে ইমাম ইবনে জারির আত-তাবারানি (রহঃ) এর তাফসীর, ইমাম বাগাভি (রহঃ) এর তাফসীর, ইমাম কুরতুবী (রহঃ) এর তাফসীর জগত বিখ্যাত।
_________________________
(সমাপ্ত)


আমার ঘরে আয়াত উল কুরসী টাঙ্গানো আছে। এতে কোন সমস্যা হবে কি?

প্রশ্নঃ আমার ঘরে আয়াত উল কুরসী টাঙ্গানো আছে। এতে কোন সমস্যা হবে কি?
উত্তরঃ আয়াতুল কুরসী ঘরে, গাড়িতে বা অফিসে ঝুলাতে বলা হয় নাই, সুন্নাহ অনুযায়ী (প্রত্যেক ফরয নামাযের পরে, সকাল-সন্ধ্যায়, ঘুমানোর পূর্বে) পড়তে আদেশ করা হয়েছে। কুরান পাঠ করার ও আমল করার জিনিস, কুরান দিয়ে ঘর সাজানো বা প্রদর্শন করার জিনিস না! আল্লাহ আমাদের বোঝার তোওফিক দান করুন, আমিন।

***আপনারা কি প্রয়োজনীয় লেখাগুলো শেয়ার করেন? এটা দাওয়াত, ব্যবসা বা কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। ইং শা আল্লাহ এইগুলো হচ্ছে ফি সাবিলিল্লাহ। সুতরাং নির্দ্বিধায় কপি-পেস্ট করুন, আর ক্বুরান, হাদীস অথবা উপকারী জ্ঞানের কথা মানুষের মাঝে পৌঁছে দিয়ে দাওয়াতী কাজে শরীক হন। নিজে সওয়াব অর্জন করুন ও বন্ধুদেরকেও ইসলাম জানার সুযোগ করে দিন।