প্রচলিত কবীরা গুনাহ ও হারাম কাজ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রচলিত কবীরা গুনাহ ও হারাম কাজ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৬

ইন্টারনেট মুসলিম, ভার্চুয়াল ইসলাম (পর্ব-৪) - ছবি

ইন্টারনেট মুসলিম, ভার্চুয়াল ইসলাম (পর্ব-৪)
আহলে হাদীস, সালাফী, সহীহ আকিদাহ, ডা. জাকির নায়েক ভক্ত, এমন নামে-বেনামে বিভিন্ন লেবেলধারী অনেক লোকেরা ছবি নিয়ে মারাত্মক ফিতনাহর মাঝে ডুবে আছে। টিভি, ইন্টারনেট থেকে দ্বীন শেখা অনেক ছাত্রদের কাছে ছবি তোলা বা ছবি প্রচার করা যেন ফরয-ওয়াজিব হয়ে গেছে। তাদের অনেকে প্রিয় বক্তাদের ছবি ছাড়া কুরআনের একটা আয়াত প্রচার করতে পারছেন না। প্রতিদিন সকাল-বিকাল প্রিয় বক্তাদের একটা করে ছবি পোস্ট না করলে তাদের দিনটাই যেনো নষ্ট হয়ে গেলো। অমুক শায়খ খুতবা দেবেন, তার একটা ছবি। অমুক বক্তা হজ্জে গেছেন, কাবার সামনে তার একটা সেলফী। অমুক নামায পড়ছেন, দুয়া করছেন, তার একটা ছবি। ছবি প্রচার করার কত যে বাহানা! সাধারণ মানুষের কথা নাহয় বাদই দিলাম. . .তাদের বিশাল বড় বক্তারাই যত্রতত্র নিজেদের, নিজেদের ছেলে-মেয়েদের ছবি তুলে প্রচার করার প্রতিযোগীতায় লিপ্ত। ঈমানদারদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সব সময় নিজেদেরকে আড়াল রাখতে চায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি, মহান আল্লাহ্‌ মুত্তাক্বী, প্রশস্ত অন্তরের অধিকারী ও আত্মগোপনকারী বান্দাকে ভালোবাসেন। সহীহ মুসলিমঃ ৭৬২১।
আর বর্তমান যুগের নারী পুরুষেরা যেনো ফেইসবুক ইন্টারনেটে কোন একভাবে নিজেকে, নিজেদের স্ত্রী-সন্তানদেরকে, নিজেদের ঈমান-আমল মানুষের মাঝে প্রচার করে জনপ্রিয়তা বাড়ানোর অসুস্থ প্রতিযোগীতায় লিপ্ত। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই কাজগুলোকে অনেকে তাদের দাওয়াতের(!) প্রধান মাধ্যম বানিয়ে ফেলেছে। আর ইলম থেকে বঞ্চিত লোকেরা এমন অজ্ঞতাপ্রসূত কাজগুলোর জন্যে বাহবা দিচ্ছে। কিছু কিছু মানুষের অজ্ঞতা এতোটাই মারাত্মক যে, অবাক না হয়ে পারা যায়না। যেই সমস্ত আলেমরা যেমন শায়খ বিন বাজ, শায়খ আলবানী, শায়খ ফাউজানছবি তোলার নিষেধাজ্ঞার ব্যপারে সবচাইতে কঠোর ফতোয়া প্রদানকারী, আলেমদের ইখতিলাফ (মতবিরোধের) দোহাই দিয়ে সেই সমস্ত আলেমদের ছবিও প্রচার করতে তারা দ্বিধা বোধ করছেনা। সহিহ আকিদাহ লেবেল নিয়ে এমন অজ্ঞ ইসলাম প্রচারকারীদের ফিতনাহ থেকে আল্লাহ তায়ালা মুসলিম জাতিকে হেফাজত করুন, আমিন।
দাঁড়ি-টুপি পড়া অনেক লোকেরা মনে করে, আমরা পুরুষ মানুষ, আমাদের আবার কিসের লজ্জা? সুতরাং ইচ্ছামতো নিজে ছবি প্রচার করে ফ্যাশান শো করি। আবার অনেক হিজাবী কিন্তু মুখ খোলা মহিলারা মনে করছে, আমিতো হিজাব-পর্দা করছি। সুতরাং, হিজাব পর্দার আড়ালে বাজারের চাইতে নিকৃষ্ট একটা জায়গা ফেইসবুকে নিজের চেহারা বা শরীরের অংগ-ভংগি দ্বারা যদি পুরুষদের চোখে একটু মজা দিতে পারি, তাহলে এতে এমন আর কি ক্ষতি হয়ে গেলো? এইভাবে অনেক নামাযী, ধার্মিক লোকেরাও অমুলসিম কিংবা ফাসেক নায়ক-নায়িকাদের মতো ছবি তোলা এবং প্রচার করার ফ্যাশানে আক্রান্ত। ফেইসবুক, ইন্টারনেটে যত্রতত্র ছবি প্রচার করার ফিতনাহর ব্যপারে বিস্তারিত জানার জন্য আমি আপনাদের কিছু লিংক দিচ্ছি।
.
ইসলামে ছবি অঙ্কনের হুকুম
- শায়খ আব্দুল্লাহ শাহেদ আল-মাদানী
https://www.facebook.com/dawati.kaj/posts/1799829283622562
.
প্রয়োজন ছাড়া ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলার বিধান কি?
- শায়খ আব্দুর রাক্বিব মাদানী হাফিজাহুল্লাহ
https://www.youtube.com/watch?v=YTjFnS-bnP0
.
ফেইসবুকে নিজের ছবি পোষ্ট সম্পর্কে ইসলামী শরীয়তের হুকুম কি?
- শায়খ মতিউর রহমান মাদানী
https://www.youtube.com/watch?v=mYAtrzbjWCk
.
বিঃদ্রঃ
(১) লেখাটা ভালো করে পড়ে, তার অর্থ অনুধাবন না করে কেউ কোন মন্তব্য করবেন না। অপ্রাসংগিক বা যেকোন ধরণের অসংগত কমেন্ট রিমুভ করা হবে।

(২) ব্যক্তিগত কারণে নিয়মিত পোস্ট কিংবা নতুন কোন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। সুতরাং, আমাদের পোস্টগুলোতে প্রশ্ন বা মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার জন্যে সকলকে বিনীতভাবে অনুরোধ করা হলো।

শুক্রবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৬

আমি তো মুসলমান! আমি পূজা করতে যাই না, পূজা দেখতে যাই

আমি তো মুসলমান! আমি পূজা করতে যাই না, পূজা দেখতে যাই. . .
=> বলা হয় মুসলমানদের দেশ, রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম. . .কিন্তু স্কুল-কলেজ, ইউনিভার্সিটি, অফিস, আদালাতে, রাস্তা-ঘাটে সামান্য কয়েকজন মুশরিকের জন্য বিশাল মূর্তি স্থাপন করা হচ্ছে, পূজার গান-বাজনা দিয়ে পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে।
=> বর্তমান যুগের এমন অনেকে রয়েছে যারা নিজেদেরকে ঈমানদার দাবী করে, কিন্তু পূজার দিনগুলোতে মুশরিকদের দেব-দেবীর মূর্তি দেখার জন্য ভীড় জমান।
=> পূজা উপলক্ষ্যে মুশরিকদের সাজানো জাক-জমকপূর্ণ ডেকোরেশান, গান-বাজনার আর বেহায়া মেয়েদের রূপে পাগল হয়ে লক্ষ লক্ষ মুসলমান পুরুষ ও নারীরা আল্লাহকে ভুলে গিয়ে মুশরিকদের সাথে মিলে-মিশে পূজা উদযাপন করছে।
=> অনেকে মুশরিকদের সাথে বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার কারণে পূজা উপলক্ষ্যে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।
=> অনেক নেতা-কর্মীরা অমুসলিমদের মাঝে জনপ্রিয়তা ও ভোট পাওয়ার জন্য, ক্ষমতার লোভে প্রতিবেশী মুশরিক দেশের সমর্থন পাওয়ার জন্য মুশরিকদের মন্দিরে পূজার উদ্বোধন করছেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার বলে মুসলমানদেরকে মূর্তি পূজার দাওয়াত দিচ্ছেন।
_____________________________
পূজা উপলক্ষ্যে মুশরিকদেরকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন?
বাংলাদেশের হিন্দুদের মাঝে সবচাইতে বড় পূজা হচ্ছে দুর্গা পূজা। অপর একটি বৃহত্তর পূজা হচ্ছে সরস্বতী পূজা। নাম শুনে বুঝা যায়, দুর্গা, সরস্বতী হচ্ছে মহিলার নাম। পূর্ব-পশ্চিম, মুশরিক যেখানের হোক, তাদের মাঝে সাধারণ একটা স্বভাব হচ্ছেঃ নারী পূজা করা।
মহান আল্লাহ বলেন, তারা (মুশরিকরা) আল্লাহকে বাদ দিয়ে শুধু নারীর পূজা করে এবং বিদ্রোহী ও অবাধ্য শয়তানের পূজা করে। সুরা নিসাঃ ১১৭।
উবাই ইবনু কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, প্রত্যেকটা মূর্তির সাথে একটা করে নারী জ্বিন থাকে। আহমাদঃ ২১২৬৯, সনদ হাসান, ইবনু কাসীর, তাফসীর সুরাহ নিসাঃ আয়াত-১১৭।
মক্বা বিজয়ের পরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদেশ অনুযায়ী খালিদ বিন ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বিখ্যাত উযযা মূর্তি ধ্বংস করার সময় সেখান থেকে কালো কুচকুচে রঙ্গের, উস্কু-খুস্কু চুল বিশিষ্ট একটা নগ্ন নারী জ্বিন বের হয়ে আসে। তিনি সেই জিনকে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করে দ্বিখন্ডিত করে ফেলেন। নাসাঈ কুবরাঃ ১১৫৪৭, তাবাকাত ইবনু সাদঃ ২/১৪৫-১৪৬।
_____________________________
কুরআনে আল্লাহ পাক ফিতনাহ শব্দ দ্বারা কয়েকটি বিষয়কে বুঝিয়েছেনঃ
(১) পরীক্ষা (test, trail),
(২) আযাব বা শাস্তি (punishment, torment),
(৩) শিরক (associating partner with Allah).
যেমন মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, ফিতনাহ মানুষ হত্যার চাইতে জঘন্য। সুরা আল-বাক্বারাহঃ ১৯১।
এই আয়াতের তাফসীর সম্পর্কে আবুল আলিয়া, মুজাহিদ, আল-হাসান, জাহহাক, ইকরিমা, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, কাতাদাহ (আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি রহম করুন), ক্বুরানের তাফসীরকারক হিসেবে প্রসিদ্ধ এই সমস্ত তাবেয়ীরা সকলেই বলেছেন, এই ফিতনার অর্থ হচ্ছেঃ শিরক
অর্থাৎ এই আয়াতের উদ্দিষ্ট অর্থ হচ্ছে, শিরকের পাপ মানুষ খুনের চাইতে নিকৃষ্ট। সুতরাং, মুশরিকদের পূজা উপলক্ষ্যে যারা তাদেরকে শুভেচ্ছা জানাবে, তাদের উৎসবে শরীক হবে, তারা খুনের চাইতে নিকৃষ্ট পাপকে সমর্থন জানানো এবং তাতে শরীক হওয়ার জঘন্য পাপে লিপ্ত হলো।
.
আজকাল অনেক পূজা মন্ডপে হিন্দুদের চাইতে মুসলমানদেরকেই বেশি দেখা যায়। এমনিভাবে কালের ব্যবধানে এক সময় নামধারী এই মুসলমানেরা ঈমান থেকে বের হয়ে মূর্তি পূজার শিরকে লিপ্ত হবে। এটা আখেরী জামানাতে কেয়ামতের একটা লক্ষণ। এ সম্পর্কে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহীহ হাদীসগুলো আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।
_____________________________
(১) কেয়ামতের পূর্বে মুসলিম নামধারী কতগুলো লোক মূর্তি পুজা করবেঃ
আবু হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কিয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ যুল-খালাসার পাশে দাওস গোত্রের মহিলারা কোমর দুলিয়ে নাচবে। সহীহ বুখারীঃ ৭১১৬; সহীহ মুসলিমঃ ৭১৯০ (৫১/২৯০৬)।
নোটঃ যুল-খালাসাহ হল দাওস গোত্রের দেবতার মূর্তি। ইয়ামানের যুলখালাস নামক স্থানে দাওস বংশের এই মূর্তি ছিল, কোন বর্ণনায় এই স্থানের নাম তাবালাহ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞতার যুগে তারা এই মূর্তির ইবাদত করতো, সেখানে তাওয়াফ (চক্কর) দেয়া হতো।
.
(২) মুসলিমদের কোনো কোনো বংশ মূর্তি পূজা আরম্ভ করবে আর কিছু সংখ্যক মুশরিকদের সাথে মিলে যাবেঃ
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আযাদকৃত দাস সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি আমার উম্মাতের ব্যাপারে পথভ্রষ্ট ইমাম বা নেতাদেরকে ভয় করছি। অচিরেই আমার উম্মাতের কোনো কোনো গোত্র বা সম্প্রদায় প্রতিমা পূজায় লিপ্ত হবে, এবং আমার উম্মতের কতগুলো গোত্র মুশরিকদের সাথে যোগ দিবে। আবু দাউদঃ ৪২৫২; ইবনু মাযাহঃ ৩৯৫২; সহীহ, শায়খ আলবানি রাহিমাহুল্লাহ।
.
(৩) কেয়ামতের পূর্বে লাতউজ্জার পূজা এমনভাবে শুরু হবে যেইভাবে জাহেলিয়াতের সুময় (অন্ধকার যুগে) প্রচলিত ছিলঃ
আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, রাত ও দিন শেষ হবে না, যতক্ষন পর্যন্ত না লাত ও উযযা দেবতার পূজা আবার শুরু করা হবে।
এ কথা শুনে আমি (আয়িশায়) বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ নাযিল করেছেন, তিনি তাঁর রাসুলকে পাঠিয়েছেন হিদায়াত ও সত্য দ্বীন সহকারে, সকল দ্বীনের উপর বিজয়ী করার জন্য, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। সুরা আত-তাওবাঃ ৩৩।
এই আয়াত নাযিলের পর আমি তো (আয়িশাহ) মনে করেছিলাম যে, এ প্রতিশ্রুতি পূরন করা হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তা অবশ্যই হবে। তবে যতদিন আল্লাহ ইচ্ছা করবেন ততদিন পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। অতঃপর তিনি এক মনোরম বাতাস প্রেরন করবেন। ফলে যাদের অন্তরে সরিষার দানা পরিমান ঈমান আছে তাদের প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করবে। পরিশেষে যাদের মাঝে কোন কল্যাণ (ঈমান) নেই তারাই শুধু বেঁচে থাকবে। অতঃপর তারা আবার পিতৃ-পুরুষদের ধর্মের (শিরকের) দিকে ফিরে যাবে। সহীহ মুসলিমঃ ৭১৯১ (৫২/২৯০৭)।
.
(৪) মুসলমান হয়েও যারা মুশরিকদের দেব-দেবী দেখতে যাবে, তাদের উপরে আল্লাহর গজব বর্ষিত হবেঃ
উমার ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের উৎসবের দিনগুলোতে তাদের উপাসনালয়ে প্রবেশ করো না। কারণ, সেই সময় তাদের উপর আল্লাহর গযব নাযিল হতে থাকে। ইমাম ইবনুল ক্বাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ তাঁর আহকামুল জিম্মাহ (১/৭২৩-৭২৪), সহীহ সনদে বায়হাক্বী থেকে এই রেওয়ায়েতটি বর্ণনা করেছেন।
_____________________________
মানুষ চায় প্রবৃত্তির অনুসরণ করতে। এই সুযোগে আলেম নাম নিয়ে একশ্রেনীর জাহিল লোকেরা শ্রোতাদের মাঝে জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য ক্বুরআন ও হাদীস বিকৃত করে, সম্মানিত আলেমদের ফতোয়া নিয়ে মিথ্যা কথা বলে হালালকে হারাম আর হালালকে হারাম বানিয়ে দেয়। ইলম থেকে বঞ্চিত সরলমনা মুসলমানেরা প্রবৃত্তির অনুসারী এমন লোকদেরকেই মধ্যমপন্থী, BALANCED, যুগোপযোগী শায়খ বলে মনে করে ধোঁকা খায়। এমনই একটা বাস্তব উদাহরণ হচ্ছে, এমেরিকান ইসলামের ধারক-বাহক ইয়াসির UNQUALIFIED ক্বাদী। আমার এই পোস্ট এমনিতেই বড় হয়ে যাওয়ায় এনিয়ে কথা না বাড়িয়ে কৌতূহলী পাঠকদের জন্য একটা লিংক শেয়ার করছি
(1) Why You Are Doing To Muslims by Abu Mussab Wajdi Akkari
https://www.youtube.com/watch?v=z_xSfWL7ctU
.
(2) Be aware of American Islam
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/photos/a.130928300273259.14132.125167817515974/1496079073758168/?type=3&hc_ref=SEARCH
_____________________________
মহান আল্লাহ আমাদেরকে এবং আমাদের পরিবারকে প্রকাশ্য ও গোপন, নামে ও বেনামে, সকল ধরনের মূর্তি পূজা এবং যাবতীয় শিরকি কর্মকাণ্ড থেকে হেফাযত করুন (আমিন)।

বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৬

কাবার সামনে selfie

আমার এক ফেইসবুক ফ্রেন্ড কাবার সামনে selfie (নিজের ছবি নিজে) তুলে আপলোড করেছে। সেই ছবিতে দেখলাম অনেক লাইক করে সমর্থনও জানিয়েছে। যেই ভাই ছবিটা আপলোড করেছে সে কিন্তু কোন বিদাতপন্থী দলের অনুসারী নয়, সহীহ আকিদাহর অনুসারী। আর যারা লাইক করেছে তাদেরও বেশিরভাগ সালাফী, আহলুল হাদীস মানহাজের অনুসারী কিংবা ডা. জাকির নায়েকের ভক্ত। এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই যে, ডা. জাকির নায়েকের মতো জনপ্রিয় একজন ইসলামিক ব্যক্তিত্ব ইহরাম অবস্থাতে কাবার সামনে, রাসুলু্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কবরের সামনে selfie তুলে তার verified page publish করেন, তাহলে তার ভক্ত ও শ্রোতা সরলমনা মুসমানেরাও তাদের উস্তাদের মতোই একই কাজে লিপ্ত হবে। সত্যি কথা বলতেঃ অধিকাংশ মানুষ ইলম নয়, আবেগের অনুসারী হয়ে থাকে।
.
যাই হোক, বছর দুয়েক পূর্বে (সম্ভবত ২০১৪ সালে), সাউদী আরবের প্রখ্যাত আলেমে-দ্বীন ও মুফতি, আল্লামাহ সালিহ আল-ফাউজান হাফিজাহুল্লাহ মসজিদুল হারামে একজন লোককে selfie তুলতে দেখে তার সমালোচনা করে বলেন, এই লোকটি একজন criminal.
- অপ্রয়োজনে ছবি তোলা জায়েজ নয়। কাবাঘর ইবাদতের জায়গা, আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জায়গা। মসজিদুল হারামের মতো সম্মানিত ও আল্লাহর পছন্দের একটি স্থানে বেহুদা কাজ করে ইখলাস নষ্ট করা, নিজের আমলকে দূষিত করা মূর্খতা ছাড়া আর কিছুইনা। আধুনিকে যুগের টেকনোলজি আমাদের অনেক উপকারে আসছে, কিন্তু সেটা আমাদের অনেকের দ্বীনের মারাত্মক ক্ষতি করছে, যা আমরা টেরও পাচ্ছিনা। আল্লাহুল মুস্তাআন।
.
সালাফী, আহলুল হাদীস মানহাজের অনুসারী অনেক ভাইয়েরা মনে করেঃ আল্লামাহ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসায়মিন রাহিমাহুল্লাহ ব্যপকভাবে, যত্রতত্র ছবি তোলাকে জায়েজ বলে ফতোয়া দিয়েছেন। এটা ভুল ধারণা। আল্লামাহ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসায়মিন রাহিমাহুল্লাহ তাঁর ফতোয়ার মাঝে উল্লেখ করেছেনঃ
রাসুলু্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে ঘরে ছবি রয়েছে, সে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না। সহীহ বুখারী, পোশাক অধ্যায়। সুতরাং, স্মৃতি স্বরূপ কারও ছবি যত্ন করে রেখে দেওয়া জায়েয নয়। কাজেই, যার কাছে এ রকম ছবি রয়েছে, তার উচিৎ এগুলো নষ্ট করে দেয়া। চাই সেই ছবি দেয়ালে ঝুলন্ত থাকুক কিংবা এ্যালবামের ভিতরে সংরক্ষিত থাকুক অথবা অন্য কোন স্থানে থাকুক। কারণ ঘরের মধ্যে ছবি থাকলে ঘরের মালিক রহমতের ফেরেশতাদের প্রবেশ থেকে বঞ্চিত হবে।
ফতোয়া আরকানুল ইসলামঃ আকিদাহ অধ্যায়, ৮৫ নং প্রশ্নের উত্তর, পৃষ্ঠা-২২৬, তাওহীদ প্রকাশনী।
আল্লামাহ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসায়মিন রাহিমাহুল্লাহ আরো বলেছেন, স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ছবি সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ।
ফতোয়া আরকানুল ইসলামঃ আকিদাহ অধ্যায়, ৮৭ নং প্রশ্নের উত্তর, পৃষ্ঠা-২২৭, তাওহীদ প্রকাশনী।
.
সর্বশেষঃ আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা বলেন, সুতরাং (হে নবী!), আপনি আমার বান্দাদেরকে সুসংবাদ দিন। (আমার সেই সমস্ত বান্দাদের জন্যে সুসংবাদ), যারা মনোযোগ সহকারে কথা শুনে, অতঃপর তার মাঝে যা উত্তম, তার অনুসরণ করে। আল্লাহ তাদেরকেই সৎপথ প্রদর্শন করেন, আর তারাই হচ্ছে সত্যিকারের বুদ্ধিমান। সুরা আয-যুমারঃ ১৭-১৮।
.

যেকোন অসংগত কমেন্ট বিনা নোটিশে remove করা হবে, জাযাক আল্লাহু খায়রান।

শনিবার, ২৩ জুলাই, ২০১৬

এক নজরে জিনা-ব্যভিচারের শাস্তি

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি যা জানি, তোমরা যদি তা জানতে তাহলে অবশ্যই তোমরা অল্প হাসতে, আর অনেক বেশি কাঁদতে
সহিহ আত তিরমিজি, সংসারের প্রতি অনাসক্তি অধ্যায়, হাদিস নং-২৩১৩।
আমাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে, আল্লাহর রাসুসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসলে কি দেখেছিলেন? রাসুসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তি দেখেছিলেন, যার সম্পর্কে এই একটিমাত্র হাদীস থেকে সামান্য হলেও ধারণা পাওয়া যাবে।
আবু উমামা বাহেলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন, আমার নিকট দুজন ব্যক্তি আসল। তারা দুজন আমার দুবাহুর মাঝামাঝি ধরে আমাকে এক ভয়াবহ কঠিন পাহাড়ের নিকট নিয়ে আসল। তারা দুজন আমাকে বলল, আপনি এ পাহাড়ে উঠুন। আমি বললাম, আমি এ পাহাড়ে উঠতে সক্ষম নই। তারা দুজন বলল, আমরা আপনাকে পাহাড়ে উঠার কাজটি সহজ করে দিব। আমি উঠলাম, এমনকি পাহাড়ের উপরে চলে আসলাম। হঠাৎ আমি একটি বিকট আওয়াজ শুনলাম। আমি বললাম, এটা কিসের শব্দ? তারা বলল, এটা হচ্ছে জাহান্নামীদের বিলাপ-আর্তনাদ ও কান্না। তারপর তারা আমাকে নিয়ে যেতে লাগল। হঠাৎ আমি দেখলাম, একদল লোককে পায়ের সাথে বেঁধে ঝুলন্ত অবস্থায় রাখা হয়েছে। তাদের চোয়াল ফেটে দীর্ণ-বিদীর্ণ হয়ে আছে এবং চোয়াল হতে রক্ত ঝরছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি বললাম, এরা কারা? তারা বলল, এরা ঐসমস্ত লোক, যারা সময়ের পূর্বেই ইফতার করত। অর্থাৎ, সিয়াম পালন করত না। তখন তিনি বললেন, ইহুদী-নাছারারা ধ্বংস হোক. . .তারপর তারা আমাকে নিয়ে চলল। হঠাৎ দেখি, কিছু লোক খুব ফুলে উঠে মোটা হয়ে আছে। আর খুব দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। তাদের দৃশ্য খুব বিশ্রী! আমি বললাম, এরা কারা? তারা বলল, এরা ঐ সব লোক যারা কাফের অবস্থায় নিহত হয়েছে। তারপর তারা আমাকে নিয়ে চলল। হঠাৎ দেখলাম, কিছু লোক ফুলে মোটা হয়ে আছে। অতি দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এ দুর্গন্ধ যেন শৌচাগারের ন্যায়। আমি বললাম, এরা কারা? তারা দুজন বলল, এরা হচ্ছে ব্যভিচারী পুরুষ এবং ব্যভিচারিণী নারী। তারপর তারা আমাকে নিয়ে চলল, দেখলাম, কিছু মহিলা, প্রচুর সাপ তাদের স্তনগুলিতে বার বার ছোবল মারছে। আমি বললাম, এদের কি হয়েছে? এদের এ অবস্থা কেন? তারা বলল, এরা ঐসব মহিলা, যারা বাচ্চাদের দুধ পান করাতো না। তারপর তারা আমাকে নিয়ে চলল। হঠাৎ দেখলাম, বেশকিছু ছেলে তারা দুনদীর মাঝখানে খেলা করছে। আমি বললাম, এ সমস্ত ছেলে কারা? তারা বলল, এগুলি মুমিনদের শিশু সন্তান। তারপর তারা আমাকে আরো উঁচু একটি পাহাড়ে নিয়ে গেল। হঠাৎ দেখলাম, তিনজন মানুষ শরাব পান করছে। আমি বললাম, এ লোকগুলি কারা? তারা বলল, এ লোকগুলি হচ্ছে জাফর, যায়েদ ও ইবনে রাওয়াহা (এ তিনজন লোক মুতার যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন)। তারপর তারা আমাকে অন্য একটি উঁচু পাহাড়ে নিয়ে গেল। দেখলাম, তিনজন লোক। আমি বললাম, এ লোকগুলি কারা? তারা বলল, তাঁরা হচ্ছেন ইবরাহীম, মুসা ও ঈসা (আল্লাহ তাঁদের প্রতি শান্তি বর্ষণ করুন), তাঁরা আপনার (আগমনের) অপেক্ষায় রয়েছেন

সিলসিলাতু হীহাহ হাদীস নং-১৪৩০।

রবিবার, ১৯ জুন, ২০১৬

মা দিবস, বাবা দিবস, জন্ম দিবস, মৃত্যু দিবস পালন করা জায়েজ নয়

(৯০) মাতৃ দিবসের উৎসব পালন করার হুকুম কি?
ইসলামী শরীয়তে যে ঈদ রয়েছে, তা ব্যতীত সকল প্রকার ঈদ বা উৎসব পালন করা বিদ্‌আত, যা সালাফে সালেহীনের যুগে ছিলনা। হতে পারে এটি অমুসলিমদের কাছ থেকে আমদানী করা। তাই এতে অমুসলিমদের সাথে সদৃশ্য থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। মুসলমানদের ঈদ মাত্র দুটি। ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা। তাছাড়া সপ্তাহিক ঈদ হল শুক্রবার। এই তিনটি ঈদ ব্যতীত মুসলমানদের অন্য কোন ঈদ নেই। এছাড়া যত ঈদ রয়েছে, ইসলামী শরীয়তে সবই বিদ্‌আত এবং প্রত্যাখ্যাত এবং বাতিল। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনের মধ্যে এমন নতুন বিষয় তৈরী করবে, যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত হবে। তিনি আরো বলেনঃ
যে ব্যক্তি এমন কোন আমল করবে, যে বিষয়ে আমার অনুমোদন নেই, তা প্রত্যাখ্যাত। সুতরাং প্রশ্নে বর্ণিত উৎসব পালন করা বৈধ নয়। এতে ঈদের মত আনন্দ প্রকাশ এবং উপহার বিনিময় করাও বৈধ নয়। মুসলমাদের অবশ্য কর্তব্য তাদের দ্বীন নিয়ে গর্ববোধ করা। আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল কর্তৃক নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকা। আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য যে দ্বীন মনোনীত করেছেন, কোন প্রকার বাড়ানো বা কমানো ছাড়াই তার অনুসরণ করা। প্রত্যেক মতবাদ এবং আহবায়কের পিছনে ছুটে যাওয়া মুসলমানদের উচিৎ নয়। বরং তার উচিৎ আল্লাহর দ্বীন মোতাবেক জীবন গঠন ও পরিচালনা করা। অন্য ধর্মের কাউকে অনুসরণ না করা; বরং মানুষই তার অনুসরণ করবে এবং সে হবে তাদের জন্য আদর্শ স্বরূপ। কারণ ইসলামী শরীয়তকে সকল দিক থেকে পূর্ণ করে দেয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন,
আজকের দিনে তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম। তোমাদের উপর আমার নেয়ামতকে পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসাবে মনোনীত করলাম। (সূরা মায়েদাঃ ৩) বছরে মাত্র একবার মাতৃ দিবস পালন করাই যথেষ্ট নয়। বরং সন্তানের উপর মায়ের রয়েছে অনেক হক, যা আদায় করা একান্ত জরুরী। আল্লাহর অবাধ্যতা ব্যতীত সকল ক্ষেত্রে মায়ের আনুগত্য করতে হবে। এর জন্য কোন স্থান বা সময় নির্ধারণ করার প্রয়োজন নেই।
(৯১) সন্তানদের জন্ম দিবস উপলক্ষে উৎসব পালন করা এবং বিবাহ উপলক্ষে উৎসব পালন করার হুকুম কি?
ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা এবং সপ্তাহের ঈদ শুক্রবার ব্যতীত ইসলামে কোন ঈদের অস্তিত্ব নেই। অনুরূপভাবে আরাফা দিবসকে হাজীদের ঈদ হিসেবে নাম রাখা হয়েছে। ঈদুল আযহার পরের তিন দিনও ঈদ হিসেবে পরিচিত কোন মানুষের জম্ম দিবস পালন করা বা তার সন্তানের জম্ম দিবস পালন করা অথবা বিবাহ উপলক্ষে প্রতি বছর ঈদ বা উৎসব পালন করা শরীয়ত সম্মত নয়; বরং বিদ্‌আতের নিকটবর্তী বরং এসমস্ত কাজ বিধর্মী খৃষ্টানদের অনুসরণ ছাড়া অন্য কিছু নয়।
উৎসঃ ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, ঈমান অধ্যায়

ফতোয়া দিয়েছেনঃ সম্মানিত শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন রাহিমাহুল্লাহ। 

শনিবার, ১৮ জুন, ২০১৬

গালি দেওয়া ভারী মজা?

গালি দেওয়া ভারী মজা?
কিছু মানুষ আমাকে গালি গালাজ করে ব্যপক মজা পায়, এমনকি সংযমের এই রমযান মাসেও তারা থেমে থাকেনি। অবশ্য আমি এতে রাগ করিনা বা কষ্ট পাইনা, বরং খুশি হই। সত্যি কথা বলতে, আমাকে গালি দেওয়া যদি কোন হারাম কাজ না হতো, তাহলে আরো বেশি গালি দেওয়ার জন্যে আমি তাদেরকে উৎসাহিত করতাম। কারণ, তারা নামায রোযা করবে, আর আমাকে গালি দিয়ে ফ্রী ফ্রী কিছু সওয়াব তারা আমার আমলনামায় হাদিয়া হিসেবে দিয়ে যাবে (ইন শা আল্লাহ)।
=> গালিবাজ লোকদের উদ্দেশ্যে শায়খ মুক্ববিল বিন হাদী রাহিমাহুল্লাহর মতো আমিও বলতে চাই,
আমার শত্রুরা আমার বিরুদ্ধে যা বলতে চায় বলুক, কারণ আমার পাপ অনেক। আমি আশা করি তাদের গীবতের কারণে আমার পাপকে হালকা করা হবে, আর তাদের উপর সেই পাপের বোঝা চাপানো হবে।
=> যে কোন মুসলমানকে গালি দেয়, সে একজন ফাসেকঃ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মুসলমানদেরকে গালমন্দ করা ফাসেকী, আর তাদের বিপক্ষে যুদ্ধ করা কুফরী। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম।
=> যে কোন মুসলমানকে কাফের বলে, সে নিজেই কাফেরঃ
কছু অহংকারী লোককে এই হাদীস দিলে তারা আমাকে কাফের বা মুনাফেক বলে। নাউযুবিল্লাহি মি্ং যালিক, তাদের জন্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই হাদীস পেশ করছি,
যে ব্যক্তি তার অপর কোন ভাইকে কাফের বলে, তাহলে তা দুইজনের যেকোন একজনের দিকে ফিরবে। যদি সে যা (কাফের) বলেছে বাস্তবে তাই হয়, তাহলেতো ঠিক আছে। আর সে যদি কাফের না হয় তাহলে উক্ত বিষয়টি (কুফুরী) যে বলেছে, তার দিকেই ফিরে আসবে। সহীহ মুসলিমঃ ২২৫।
=> ইসলামের কথা, ক্বুরান ও হাদীসের কথা শুনলে যারা কটুক্তি করে, মিথ্যা অপবাদ দেয়, তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটা হাদীস পেশ করছি, যে ব্যক্তি কোন মুমিন ব্যক্তি সম্পর্কে এমন কটূক্তি করবে, যা তার মাঝে প্রকৃতপক্ষে নেই, আল্লাহ তাকে রাদগাতুল খাবাল তথা জাহান্নামীদের গলিত রক্ত-পূজের স্তুপে বসবাস করাবেন। আবূ দাউদ, বিচার অধ্যায়, ৩১২৩ নং হাদীস।
=> সর্বশেষ, কুরআন ও হাদীসের কথা বললে, আহলে সুন্নাহর মহান পথের অনুসরণ করলে, মনপূজারী ও বিদাতী লোকেরা গালি দিবে, এটাই স্বাভাবিক। সুতরাং, এ ব্যপারে আমাদেরকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে।
শায়খ আব্দুল কাদের জীলানী রাহিমাহুল্লাহ (মৃত্যুঃ ৫৬১ হিজরী) বলেছেন,
বিদআতীদের লক্ষণ হচ্ছে আহলে হাদীসদের গালি দেওয়া এবং তাদেরকে বিভিন্ন খারাপ নামে সম্বোধন করা। এগুলি সুন্নাতপন্থীদের বিরুদ্ধে তাদের দলীয় বিদ্বেষ ও অন্তঃর্জ্বালার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই নয়। কেননা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অন্য কোন নাম নেই, একটি নাম ছাড়া। আর সেটি হচ্ছে আসহাবুল হাদীছ বা আহলে হাদীস। গুনিয়া-তুত্তালিবিনঃ ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা-৯০।



বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন, ২০১৬

যেই পোশাক পরে নারী ও পুরুষেরা জাহান্নামে যাবে

যেই পোশাক পরে নারী ও পুরুষেরা জাহান্নামে যাবেঃ
>> পুরুষঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
তিন প্রকার লোক এমন রয়েছে, যাদের সাথে আল্লাহ কথা বলবেন না, আর না কেয়ামতের দিন তাদের দিকে তাকাবেন, আর না তাদের পবিত্র করবেন বরং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।
আমি (আবু হুরাইরা) বললাম, আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? ওরা তো ক্ষতিগ্রস্ত!
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তারা হচ্ছে,
(১) টাখনুর নিচে কাপড় পরিধানকারী,
(২) ব্যবসার সামগ্রী মিথ্যা কসম দিয়ে বিক্রয়কারী এবং
(৩) কাউকে কিছু দান করার পর তার খোটাদাতা।
সহীহ মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, নং ২৯৪।
>> নারীঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দুই প্রকার জাহান্নামী মানুষ আসবে, যাদেরকে আমি আমার যুগে দেখতে পাচ্ছিনা। এক প্রকার হচ্ছে, ঐ সকল মহিলা যারা কাপড় পরিধান করেও উলংগ থাকবে। তারা সাজ-সজ্জা করে পর পুরুষকে আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও অন্য পুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট থাকবে। তাদের মাথার খোপা (সাজ সজ্জা ও ফ্যাশানের দরুণ) উটের কুঁজের মত এদিক ওদিক হেলানো থাকবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, এমনকি তারা জান্নাতের সুগন্ধিটুকুও পাবে না। অথচ, জান্নাতের সুগন্ধি পাঁচশ বছর রাস্তার দূরত্ব থেকেও অনুভব করা যাবে। সহীহ মুসলিমঃ ২১২৮।
শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ এই হাদীসের ব্যখ্যায় বলেছেন,
কাপড় পড়েও উলংগ হচ্ছে সেই সমস্ত নারী, যারা এতো পাতলা কাপড় পরিধান করে যে, কাপড়ের মধ্য দিয়ে তাদের গায়ের চামড়া দেখা যায়, অথবা এমন টাইট পোশাক পরে যে, যার কারণে তাদের শরীরের আকৃতি বোঝা যায়।
মাজমু ফাতাওয়াঃ ১৪৬/২২।
>> জাহান্নামের কঠিন শাস্তির সামান্য বর্ণনাঃ
আল্লাহ তায়া'লা বলেছেন,
নিশ্চয়ই সীমালংঘনকারী অবাধ্য লোকদের জন্যে জাহান্নাম শত্রুর মতো ওত পেতে বসে আছে, তাদেরকে গ্রাস করার জন্য। তারা সেখানে শতকের পর শতক ধরে থাকবে। কিন্তু সেখানে তারা তৃপ্তিদায়ক কোন খাবার বা পানি খেতে পারবেনা। তাদেরকে শুধুমাত্র ফুটন্ত গরম পানি ও দুর্গন্ধযুক্ত পচা পূজ খাওয়ানো হবে। এটাই হচ্ছে তাদের উপযুক্ত প্রতিদান, কারণ তারা হিসাব-নিকাশের কোন পরোয়া করতোনা। আর আমার আয়াত (বা নিদররশন) স্মূহকে মিথ্যা বলতো।
সুরা নাবার ২২-২৮ আয়াতের তর্জমা থেকে নেওয়া। 

শনিবার, ১১ জুন, ২০১৬

“কাপড় পড়েও উলংগ” মহিলা কারা?

কাপড় পড়েও উলংগ মহিলা কারা?
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দুই প্রকার জাহান্নামী মানুষ আসবে, যাদেরকে আমি আমার যুগে দেখতে পাচ্ছিনা। এক প্রকার হচ্ছে, ঐ সকল মহিলা যারা কাপড় পরিধান করেও উলংগ থাকবে তারা সাজ-সজ্জা করে পর পুরুষকে আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও অন্য পুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট থাকবে। তাদের মাথার খোপা (সাজ সজ্জা ও ফ্যাশানের দরু) উটের কুঁজের মত এদিক ওদিক হেলানো থাকবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, এমনকি তারা জান্নাতের সুগন্ধিটুকুও পাবে না। অথচ, জান্নাতের সুগন্ধি পাঁচশ বছর রাস্তার দূরত্ব থেকে অনুভব করা যাবে। সহীহ মুসলিমঃ ২১২৮

শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ এই হাদীসের ব্যখ্যায় বলেছেন, কাপড় পড়েও উলংগ হচ্ছে সেই সমস্ত নারী, যারা এতো পাতলা কাপড় পরিধান করে যে, কাপড়ের মধ্য দিয়ে তাদের গায়ের চামড়া দেখা যায়, অথবা এমন টাইট পোশাক পরে যে, যার কারণে তাদের শরীরের আকৃতি বোঝা যায়। মাজমু ফাতাওয়াঃ ১৪৬/২২।