রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৫

প্রসংগঃ সুদী ব্যংক বা প্রতিষ্ঠানে চাকরী ও তার বেতন

প্রসংগঃ সুদী ব্যংক বা প্রতিষ্ঠানে চাকরী ও তার বেতন

আমি শায়খ আব্দুল হামিদ মাদানী ফাইজীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম,
একজনের বাবা সুদী ব্যংকে চাকুরী করতো। তিনি মারা যান, এখন তার পরিবার কি সেই চাকুরির পেনশান, প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা নিতে পারবে? তার পরিবার এখন যেই টাকা পাচ্ছে, সেটা কি করবে?
উত্তরে শায়খ বললেন, সুদী ব্যংকে চাকুরী ও তার বেতন হালাল নয়। সেই টাকা তারা নিঃস্বদের দিতে পারে।

নবী করীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
যে সুদ খায়, সুদ খাওয়ায়, সুদের সাক্ষী হয় এবং সুদের দলিল লেখে, তাদের সকলের উপর আল্লাহ তাআলা লানত করেছেন।
ইমাম আহমদ এর মুনসাদ, হাদীস নং ৩৮০৯।

বর্তমান যুগে মানুষের মাঝে ব্যপকতা লাভ করেছে এমন কিছু সুদের মাধ্যমঃ
সরকারী অথবা বেসুরকারী ব্যংক, বীমা, এনজিও ইত্যাদ প্রতিষ্ঠান যারা ইন্টারেস্ট নামক সুদের সাথে জড়িত, এইগুলোতে যেকোন চাকরির উপার্জন, সুদী কোম্পানির শেয়ার, সুদী ব্যংকে টাকা রেখে তার ইন্টারেস্ট, তাদের দেওয়া স্কলারশিপ, স্পন্সরশিপ বা যেকোন ধরণের গিফট ইত্যাদি।
- আনসারুস সুন্নাহ

১২ই রবিউল আওয়াল, ১৪৩৫।

রিয়ার শির্ক নিয়ে প্রশ্ন -

রিয়ার শির্ক নিয়ে প্রশ্ন -

প্রশ্নঃ আসসালামু আলাইকুম।
প্রকাশ্যে দানের প্রসঙ্গে একটা প্রশ্নঃ আয়াত অনুযায়ী প্রকাশ্যে দান করা যাবে (অর্থাৎ মানুষের দৃষ্টিগোচর হলে সমস্যা নাই)। কিন্তু আবার বলা আছে, এমন ভাবে দান করতে হবে যেন ডান হাত দান করলে বাম হাত না জানে। এই ব্যাপার ক্লিয়ার করলে ভালো হয়।
আরেকটি বিষয়, অনেক সময় প্রকাশ্য দান বা আমলের ক্ষেত্রে নিজের অনিচ্ছায় বিন্দুপরিমান হলেও মনে রিয়া সৃষ্টি হয় এবং অপরাধবোধ জাগে। এই ক্ষেত্রে কি ঐ আমল বা দান থেকে বিরত থাকতে হবে, যেহেতু রিয়া এক প্রকার শিরকের মধ্যে পরে যায়?

উত্তরঃ ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

দান গোপনে করা উত্তম ও রিয়া নিরাপদ, তবে গোপনে করা সম্ভব না হলে প্রকাশ্যেও করা যাবে। আর রিয়ার ভয় হলে যেকোন আমল করার পূর্বে ইখলাসকে ঠিক করে নিতে হবে, মানুষে দেখলে দেখুক কিন্তু আমি করছি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য, আল্লাহর কাছ থেকে প্রতিদান পাওয়ার আশা নিয়ে সেই কাজটা করতে হবে। শয়তান মনে রিয়ার ওয়াওয়াসা দিবে, সেই ভয়ে আমল পরিত্যাগ করা যাবেনা। ইখলাস নিয়ে আমল করতে হবে।

শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০১৫

‘রিদা মিন ক্বালিল’ বা অল্পে তুষ্ট থাকা

জীবনে সুখী হওয়ার একটা শর্ত হচ্ছে, রিদা মিন ক্বালিল বা অল্পে তুষ্ট থাকা। দুনিয়াতে অনেকে আপনার চাইতে অনেক বেশি ভোগ-বিলাসে থাকবে, আবার দুনিয়াতে অনেকে আপনার চাইতে অনেক বেশি দুঃখ-কষ্টে থাকবে। আপনি যদি দুনিয়ার ব্যপারে আপনার চাইতে উপরের কারো দিকে তাকান, তাহলে আল্লাহ্‌ আপনাকে যা দিয়েছে সেটা অনেক কম মনে হবে। ফলে আপনি আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া না করে উল্টা না পাওয়ার জন্য আফসোস করে নাশোকরী করে বসবেন। আর দ্বীনের ব্যপারে যদি আপনি আপনার থেকে কোন নিচু ব্যক্তির দিকে তাকান তাহলে নিজের পাপ কাজগুলোকে অনেক কম মনে হয়ে নিজেকে আল্লাহর ওয়ালী ভাবতে শুরু করবেন।
সেইজন্য রাসুল সাঃ বলেছেন, তোমরা সবসময় দুনিয়ার ব্যপারে তোমাদের চাইতে নিচু কারো প্রতি লক্ষ্য করবে, আর দ্বীনের ব্যপারে তোমাদের চাইতে উত্তম কোন ব্যক্তির দিকে লক্ষ্য করবে। এতে করে তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতগুলোর কথা স্বরণ করতে পারবে এবং এটা তোমাদেরলে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞশীল হতে সাহায্য করবে।

অল্পে তুষ্ট থাকা নিয়ে শেখ সাদীর একটা কবিতার বাংলা অনুবাদঃ
একদা ছিলনা জুতা চরণ যুগলে
দহিল হৃদয়-অমন সেই ক্ষোভানলে,
ধীরে ধীরে চুপি চুপি দুঃখাকুল মনে
গেলাম ভজনালয়ে ভজন কারনে।
দেখি সেথা একজন পদ নাহি তার
অমনি জুতার খেদ ঘুচিল আমার।
পরের দুঃখের কথা করিলে চিন্তন

আপনার মনে দুঃখ থাকে কতক্ষণ?

হক্বানী পীর আর ভন্ড পীর দুই ভাগ নেই।

সব পীরই ভন্ডঃ
==============
ইসলামে আমাদের কাছে হক্বানী পীর আর ভন্ড পীর দুই ভাগ নেই।
যেমন বিদআতের দুই ভাগ নেই তেমন পীরতন্ত্রের দুইভাগ নেই, ভালো করে মনে রাখবেন। আর শুধু আমাদের কাছে না, কোরআন আর হাদীসের কথা বলছি, আল্লাহর কসম করে বলছি, কোরআন ও হাদীসে,
সত্য পীর আর মিথ্যা পীর!
হক্বানী পীর আর ভন্ড পীর!
এই ভাগ নেই ইসলামে, ভালো করে শুনে রাখুন।
আল্লাহার কাছে কাল কেয়ামতে জবাবদিহী করতে হবে।
এরপরও যদি বলে, না হক্বানী পীর আছে বাংলাদেশে!
এক শ্রেনীর আলেমরা নিজের দুনিয়ার ব্যবসা চালাবার জন্য বলছে
না না আমরা সব পীরের কেন বিরোধী হবো?
হক্বানী পীর দুনিয়াতে আছে।
কোথা থেকে আছে?
যেটা ইসলামে নেই, সেটা আছে কোথায়?
পীরতন্ত্র ইসলামে নেই, তাসাউফ নেই, এই পীর-মুরিদীর ইসলামের নেই।
তাহলে হক্বানী পীর কোথা থেকে হয়ে গেলো?

-     শায়েখ মতিউর রহমান মাদানী!

শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৫

হিজবুত তাহরীর থেকে সাবধান!

হিজবুত তাহরীর থেকে সাবধান!
লেখক: আব্দুল্লাহ শাহেদ আল মাদানী
[দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব]

পাঠকদের সামনে হিজবুত তাহরীরের আকীদা ও বিশ্বাস তাদের কিতাব থেকেই তুলে ধরছি..

দলের প্রতিষ্ঠাতা:
এই দলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম আমীর হচ্ছে, তকীউদ্দীন নাবাহানী। তিনি ১৯০৯ সালে বর্তমান ইসরাঈলের হাইফা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৪৮ সালে বাইরুতে হিজবুত তাহরীর প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৭ সালে তিনি বাইরুতে ইন্তকাল করেন

দলটির মূলনীতিঃ
এ দলের মূলনীতি মুতাযেলা ও আশআরী সম্প্রদায়ের সাথে মিলে যায়। তারা শরীয়তের দলীলের উপর মানবীয় বিবেক বুদ্ধিকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে

এই দলের কার্যকলাপ সম্পর্কে যতদূর জানা যায়ঃ
তাদের একমাত্র দাবী হচ্ছে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করা। এ দিকেই তারা আহবান করে। ঈমান, নামায, রোজা ও ইসলামের অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে তাদের কোন তৎপরতা লক্ষ্য করা যায় না।
তাদের অনেক নেতাই নিজ নিজ দেশ ছেড়ে পাশ্চাত্য দেশে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে
তারা খেলাফত পুনরুদ্ধার করতে চায়। কিন্তু শির্ক, বিদআত, সুফীবাদ ও পাপ কাজে লিপ্ত হওয়ার কারণে যে উছমানী খেলাফতের পতন ঘটেছে, তা নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যাথা নেই। তারা নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন ছাড়াই আল্লাহর কাছে ভাগ্যের পরিবর্তন চায়
তারা সবসময় রাজনীতি নিয়েই ভাষণ ও বক্তৃতা দেয়। ইসলামের অন্যান্য মৌলিক শিক্ষার দিকে কোন গুরুত্ব নেই
মুসলিম দেশের সেনাপতি অমুসলিম হলেও কোন অসুবিধা নেই। (দেখুনঃ ৫/৬/১৯৭০ তারিখে এ দলের আমীর নাবহানী কর্তৃক প্রকাশিত একটি প্রশ্নোত্তর সম্বলিত লিফলেট)
হারাম পথ অবলম্বন করে লক্ষ্য-উদ্দেশ্যে পৌঁছাতে কোন অসুবিধা নেই
আমরা যে অর্থে তাকদীরের প্রতি বিশ্বাস করি, তারা তা অস্বীকার করে। (দেখুনঃ আদ্-দাওসীয়া, পৃষ্ঠা নং-১৮ )
আকল তথা মানবীয় বিবেক হচ্ছে দ্বীনের অন্যতম মূলনীতি। তাদের এ নীতিটি মুতাযেলাদের কথার সাথে মিলে যায়
কর্মক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের একত্রিত হওয়া এবং পরস্পর সহযোগিতা করা জরুরী
শিয়া ও সুন্নীর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। (দেখুনঃ আল-ওয়াঈ আত্ তাহরীরিয়া, সংখ্য ৭৫, বর্ষ-১৯৯৩)
তাদেরকে ছাড়া তারা সকল মুসলমানকে কাফের মনে করে এবং সকল মুসলিম রাষ্ট্রকে কুফরী রাষ্ট্র বলে মনে করে। এমন কি মক্কা ও মদীনাকেও তারা ইসলামী দেশ মনে করে না
অপরিচিত মহিলাকে চুম্বন করা ও তার সাথে মুসাফাহা করা জায়েয। (দেখুনঃ তাদের আমীর নাবহান কর্তৃক প্রকাশিত ২৯/৫/১৯৭০ সালে প্রকাশিত ‌-একটি প্রশ্নের উত্তর- নামে একটি লিফলেট)
মহিলাদের উলঙ্গ ছবির দিকে তাকানো জায়েয
কুরআন ও সুন্নার বিরোধতা করলেও খলীফার আনুগত্য করা জরুরী। (আদ্ দাওলাতুল ইসলামীয়া, পৃষ্ঠা নং-১০৮)
খবরে ওয়াহেদ তথা একক ব্যক্তির সনদে বর্ণিত হাদীছ সহীহ হলেও তা গ্রহণযোগ্য নয়। এখানে তাদের কথা মুতাযেলাদের সাথে মিলে যায়
তারা কবরের আযাবকে অস্বীকার করে (তকিউদ্দিন আন-নাবাহানীর লেখা আদ-দাওাসিয়াহ, পৃষ্ঠা নং-৬)
ইমাম মাহদীর আগমণ সম্পর্কে বর্ণিত সহীহ হাদীছগুলো তারা গ্রহণ করে না
আজ এখানেই রেখে দিলাম। তাদের সম্পর্কে আরও কোন নতুন তথ্য পেলে আগামীতে লিখবো ইনশা-আল্লাহ্। এটি একটি বাতিল ও গোমরাহ ফির্কা। এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। তবে শেখ দামেশকিয়া কর্তৃক লিখিত ( حزب التحرير مناقشة لأهم مباديء الحزب ) নামক কিতাবটিতে তাদের মতবাদ সমূহ বিস্তারিত পাওয়া যাবে।

সাবধান! সাবধান!
হে মুসলিম যুবক ও শিক্ষিত ভাইগণ তাদের দলে শরীক হওয়া থেকে সাবধান।

হিজবুত তাহরীর যে সমস্ত বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ইসলামের দুটি মূলনীতি কুরআন ও সহীহ হাদীছের দলীলের উপর মানুষের বিবেক-বুদ্ধিকে প্রাধান্য দেওয়া। তাদের কিতাবগুলোতেই সুস্পষ্টভাবে উক্ত কথাটি উল্লেখ আছে। হিজবুত তাহরীরের অন্যতম একটি কিতাব نداء حار إلى المسلمين من حزب التحرير এ বলা হয়েছে, ইসলামের প্রকৃত রূপ হচ্ছে, তা চিন্তা ও গবেষণার ফলাফল সমূহ। এ জন্যই অহীর মাধ্যমে যা কিছু এসেছে, তার প্রতিটির মধ্যেই বিবেক ও চিন্তাকে কাজে লাগাতে হবে। ইসলাম এমন চিন্তা ও গবেষণার ফল যার ভিত্তি হচ্ছে মানুষের বিবেক। কিতাবটির লেখক আরও বলেনঃ বিবেক দিয়েই ইসলামকে বুঝতে হবে। সঠিক কথা হচ্ছে ইসলাম বিবেকের অধিনস্ত। আর যদি বলা হয় ইসলামকে মাপার যন্ত্রও হল আকল বা বিবেক, তাও ঠিক হবে। কারণ বিবেকই হচ্ছে ইসলামের মূল। সুতরাং আকল বা বিবেক-বুদ্ধি যেটা বলে সেটাই ইসলামের দলীল। করুআনের আয়াত বা হাদীছ নয়।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সকল ইমামের মতে ইসলামের মূল ভিত্তি হচ্ছে আল্লাহর কিতাব ও রাসূল সুন্নাত; মানুষের বিবেক-বুদ্ধি নয়। মানুষের বিবেক ও বুদ্ধি যদি কুরআন ও হাদীছের কোন তথ্য ও রহস্য বুঝতে সক্ষম হয় তাহলে তো ভালই। আর কোন বিষয়ের বা হুকুমের রহস্য বিবেক দ্বারা বুঝতে না পারলেও তা বিশ্বাস করা জরুরী। এমন কি কুরআন ও হাদীছে বর্ণিত কোন মাসআলা মানুষের বিবেকের বিরোধী হলে বিবেক প্রসুত কথা বাদ দিয়ে কুরআন ও হাদীছের কথাই মেনে নিতে হবে। কারণ কুরআন ও হাদীছের বাণী ভুলের উর্ধে। আর মানুষের জ্ঞান ও বুদ্ধি ভুলের উর্ধে নয়।

বিবেককে কুরআন ও হাদীছের দলীলের উপর প্রাধান্য দেওয়ার কারণেই হিজবুত তাহরীর ও মুতাযেলাদের যথেষ্ট মিল খুঁজে পাওয়া যায়। হিজবুত তাহরীরের লোকেরা মুতাযেলাদের ইমামদের প্রশংসা করেছেন। হিজবুত তাহরীরের প্রতিষ্ঠাতা তকীউদ্দীন নাবাহানী মুতাজেলাদের ইমাম ওয়াসেল বিন আতা, আমর বিন উবাইদ, আবু হিলাল আল-আল্লাক এবং নাযযাম প্রসংগে বলেন:

لم يحصل منهم أي انحراف في العقائد على اختلاف معتقداتهم، فكلهم مسلمون مدافعون عن الإسلام

আকীদার ক্ষেত্রে তাদের কোন প্রকার বিভ্রান্তি ঘটে নি। যদিও তাদের আকীদায় ভিন্নতা ছিল। তারা সকলেই ছিলেন মুসলিম এবং ইসলামের পক্ষের শক্তি। (দেখুন হিজবুত তাহরীরে কিতাবঃ الشخصية الإسلامية)
মুতাজেলাদের মতই হিজবুত তাহরীরের লোকেরা কবরের আযাব ও নেয়ামতকে অস্বীকার করেন। দাজ্জালের আগমণেও তারা বিশ্বাসী নয়।

এ দলটি মুতাযেলাদের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার কারণেই খবরে ওয়াহেদ তথা একজন রাবীর সূত্রে বর্ণিত হাদীছ দ্বারা আকীদার যে সমস্ত মাসআলা সাব্যস্ত হয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করে থাকেন। তকীউদ্দীন নাবাহানী বলেনঃ خبر الآحاد ليس بحجة في العقائد
আকীদাহ বা বিশ্বাসের সাথে সম্পৃক্ত মাসআলাগুলোর ক্ষেত্রে একজন রাবীর মাধ্যমে বর্ণিত হাদীছ দলীল নয়। (দেখুন হিজবুত তাহরীরে কিতাবঃ الشخصية الإسلامية)

এটি অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর একটি কথা। এর মাধ্যমে মুতাযেলা সম্প্রদায় এবং হিজবুত তাহরীরের লোকেরা দ্বীনের অনেক বিষয় অস্বীকার করেছেন। মুহাদ্দিছগণের মতে আল্লাহর কিতাবের পর সবচেয়ে অধিক বিশুদ্ধ কিতাব বুখারী শরীফের প্রথম হাদীছটিই খবরে ওয়াহেদ তথা একজন রাবীর সূত্রে বর্ণিত। এভাবে যদি একক সূত্রে বর্ণিত হাদীছকে অস্বীকার করা হয় তাহলে দ্বীনের অনেক বিষয়কেই অস্বীকার করা হবে। সুতরাং এই দলের লোকদের থেকে সাবধান থাকতে হবে। তাদের বাহ্যিক বড় বড় কথা শুনে আমরা যেন বিভ্রান্ত না হই।

এ প্রসঙ্গে এই লেখাটিও পড়া যেতে পারে। ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন। (৩২ পৃষ্ঠা/৫.৩৪ মেগাবাইট)

https://app.box.com/s/4fbuphfu461600zb1dk4

অনেক বিপদগ্রস্থ বা দুঃখ কষ্টে আপতিত বান্দার কি করা উচিত?

প্রশ্নঃ অনেক বিপদগ্রস্থ বা দুঃখ কষ্টে আপতিত বান্দার কি করা উচিত?

উত্তরঃ সুখ-শান্তি আল্লাহর দান, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সুখে রাখেন যাকে ইচ্ছা কষ্টে রাখেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেনঃ এবং তিনিই হাসান এবং তিনিই কাঁদান।
সুরা আন-নাজমঃ ৪৩।

অবশ্য জীবনে সুখ-দুঃখ আমাদের জন্য পরীক্ষা। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, পূণ্যময় তিনি, যাঁর হাতে রাজত্ব, তিনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান। যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন, যাতে করে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন, কে তোমাদের মাঝে আমলের দিক থেকে শ্রেষ্ঠ? এবং তিনি পরাক্রমশালী, অত্যন্ত ক্ষমাশীল।
সুরা আল-মুলকঃ ১-২।

এমনকি মানুষের জীবন, সম্পদ, স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি, পার্থিব জীবনের ভোগ-বিলাস, এ সব কিছুই সেই পরীক্ষার অংশ। আল্লাহ এইগুলো কাউকে দিয়ে পরীক্ষা করেন, কাউক না দিয়ে পরীক্ষা করেন। তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তো কেবল পরীক্ষাস্বরূপ। আর আল্লাহর কাছে রয়েছে মহাপুরস্কার।
সুরা আত-তাগাবুনঃ ১৫।

যেহেতু আমাদের সুখ-শান্তি আল্লাহর দান, তাই বিপদের সময় আমাদের আল্লাহর কাছেই প্রত্যাবর্তন করা উচিত এবং তাঁর কাছে বিপদ-আপদ বা দুঃখ-কষ্ট থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য উচিত।

১. ধৈর্যের মাঝে রয়েছে কেউ যদি বিপদের সময় নফল রোযা রাখে এবং রোযা রেখে বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দুয়া করে, তাহলে সেটা খুবই উত্তম। কারণ, রোযাদার বান্দার দোয়া আল্লাহ বেশি কবুল করেন।

২. দুয়ার মাঝে সবচাইতে বড় একটা দুয়া হচ্ছে দুয়ায়ে ইউনুস।
ক. বিপদ বা দুঃশ্চিন্তার জন্য এই দুয়াটা সবাই মুখস্থ করে নিনঃ
তিমি মাছের পেটে থাকা অবস্থায় ইউনুস (আঃ) এই দোয়া করেছিলেন এবং কঠিন বিপদ থেকে উদ্ধার পেয়েছিলেন।

لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظّالِمِينَ

উচ্চারণঃ লা ইলা-হা ইল্লা-আনতা, সুবহা-নাকা ইন্নি কুনতু-মিনায-যোয়ালিমিন।
অর্থঃ "(হে আল্লাহ) তুমি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নাই, তুমি পবিত্র ও মহান! নিশ্চয় আমি জালেমদের অন্তর্ভুক্ত।"
কুরানুল কারীমে এই ঘটনা ও দুয়াটি বর্ণিত হয়েছে সুরা আল-আম্বিয়া, আয়াত নাম্বার ৮৭ তে।

এই দুয়ার উপকারীতাঃ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, কোনো মুসলিম যদি এই দুয়া পড়ে, তার দুয়া কবুল করা হবে। অন্য হাদীস অনুযায়ী, এই দুয়া পড়লে আল্লাহ তার দুঃশ্চিন্তা দূর করে দিবেন। সুনানে আত-তিরমিযী।

দুয়া কিভাবে পড়তে হবেঃ বিপদ আপদ বা দুঃশ্চিন্তার সময় এই দুয়া বেশি বেশি করে পড়তে হয়। যতবার ইচ্ছা ও যতবার সম্ভব হয় ততবার পড়বেন। এক লক্ষ পঁচিশ হাজার পড়ে যে খতম ইউনুস পড়ানো হয় হুজুর বা মাদ্রাসা ছাত্রদেরকে টাকা দিয়ে ভাড়া করে, বা দুয়া কেনাবেচা করা হয় এইগুলো বেদাত এই রকম খতম করানোর কোনো দলীল নেই শরীয়তে। আপনার যতবার সম্ভব হয় ততবার পড়বেন এত এত বার পড়তে হবে, এমন কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। আপনি নিজের জন্য নিজে দুয়া করবেন - আল্লাহর কাছে সেটাই বেশি পছন্দনীয়। সর্বোত্তম হচ্ছে ফরয/নফল/সুন্নত যেকোনো নামাযের সিজদাতে এই দুয়া পড়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া। আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর অতুলনীয় রহমতের ছায়ার মধ্যে আশ্রয় দিন, আমীন।

খ. দুঃখ ও দুশ্চিন্তার সময় পড়ার দোআঃ
এই দুয়া সকাল সন্ধ্যায় একবার করে, যেকোন নামাযের দুয়া মাসুরা অর্থাৎ দুরুদ পড়ে সালাম ফেরানোর আগে এবং মুনাজাতে পড়তে পারেন।

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ

আল্লা-হুম্মা ইন্নি আঊযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়াল আজযি ওয়াল কাসালি, ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া দালাইদ দ্বাইনে ওয়া গালাবাতির রিজা-লি
হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অপারগতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের ভার ও মানুষদের দমন-পীড়ন থেকে।
বুখারী, ৭/১৫৮, নং ২৮৯৩; সেখানে এসেছে, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দোআটি বেশি বেশি করতেন। আরও দেখুন, বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ১১/১৭৩; আরও দেখুন যা পৃষ্ঠায় ১৩৭ নং এ বর্ণিত হবে।

গ. এমন আরো দুয়া জানার জন্য আপনারা হিসনুল মুসলিম বই পড়ুন, সেখানে বিপদ-আপদ ও দুঃশ্চিন্তার সময় রাসুল সাঃ এর সুন্নতি বিভিন্ন দুয়া দেওয়া আছে, আরবী মুখস্থ করতে না পারলে অন্তত দেখে দেখ পড়ুন।

৩. ইবাদতের দিকে মনোযোগী ও যত্নবান হওয়া, শিরক, বেদাত, হারাম ও পাপাচার ছেড়ে এক আল্লাহমুখী হওয়া। আমরা যারা রিযিক / সময়ের অভাবে ভুগছি, তারা নিচের হাদীসটি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে পারিঃ

রাসুল (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, হে আদম সন্তান! আমার ইবাদতের জন্য তুমি নিজের অবসর সময় তৈরী কর ও ইবাদতে মন দাও, তাহলে আমি তোমার অন্তরকে প্রাচুর্য দিয়ে ভরে দেব এবং তোমার দারিদ্র দূর দেব। আর যদি তা না কর, তবে তোমার হাতকে ব্যস্ততা দিয়ে ভরে দেব, এবং তোমার অভাব কখনোই দূর করব না।
জামে তিরমিযীঃ ২৬৫৪, সুনানে ইবনে মাজাঃ ৪১০৭।

এই পোস্টটা পড়তে ভুলবেন না, আল্লাহ আমাদের বিপদে কেনো ফেলেন?


https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/photos/pb.125167817515974.-2207520000.1411735158./909010189131729/?type=1

প্রশ্ন-উত্তর ১ জানুয়ারী, ২০১৫

১ জানুয়ারী, ২০১৫। পর্ব - ১  

প্রশ্নঃ হিন্দি সিরিয়াল আর রিয়েলিটি শো দেখা নিয়ে আলোচনার অনুরোধ করছি|
উত্তরঃ মুশরেক নারীরা উলঙ্গ হয়ে টিভিতে আসছে, জিনা-ব্যভিচার, পরকীয়া আর যাবতীয় হারাম কাজ ও শিরক শীক্ষা দেওয়া হচ্ছে সেইগুলোতে। সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ এইগুলো দেখতে পারেনা।

প্রশ্নঃ Bitor er namaz er shothik niyom ta bolben please
উত্তরঃ বিতির সালাত এর বিস্তারিত নিয়ম জানতে এই পোস্ট দেখুনঃ
https://www.facebook.com/photo.php?v=520034528092835&set=vb.125167817515974&type=3&video_source=pages_video_set

plz uttor dile khub upokrito hobo..
প্রশ্নঃ 1...namaj seshe mathai haat dewa ki hadis sommoto???
উত্তরঃ না, নামাযের সালাম ফিরিয়ে মাথায় হাত দেওয়ার পক্ষে কোন সহীহ হাদীস নেই। যেই কথাগুলো আছে সেইগুলো জাল নয়তো জয়ীফ। সুতরাং, মাথায় হাত দিয়ে বানোয়াট কোন দুয়া পড়বেন না। ফরয নামায শেষে সহীহ হাদীস সম্মত নিচের দুয়াগুলো পড়বেনঃ
ফরয সালাত শেষে কি দুয়া পড়তে হবে?
https://www.facebook.com/notes/তোমরা-তোমাদের-পালনকর্তার-অভিমূখী-হও-এবং-তাঁর-আজ্ঞাবহ-হও/ফরয-সালাত-শেষে-কি-দুয়া-পড়তে-হবে/758331430845585

2....amader mosjider imam taratari ruku kore, tai sura Fatiha pura porte parina. Ai khetre ki korbo? sura Fatiha pura porte parina bole ki namaz hobe na???
উত্তরঃ আশেপাশে অন্য ভালো মসজিদ থাকলে সেখানে পড়বেন।, না থাকলে এই ইমামের সাথেই জামাতে পড়বেন। কোন ভুল করলে ইমাম দায়ী থাকবে, ইন শা আল্লাহ্‌ আপনি আপনার সওয়াব পেয়ে যাবেন।

3........imam jokon sura Fatiha pore tokon ami kokon porbo???
উত্তরঃ ইমামে সাথে সাথেই সুরা ফাতিহা পড়ে নেবেন, ইমামের সাথে মিস করলে আমিন বলার পরে পড়ে নেবেন।
প্রশ্নঃ . Eid e miladunnubi palon kora jai ki ? Kono shahaba ki palon korache ? Ki babe er procholon holo ? Details dolilshoho janaben please.
উত্তরঃ ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা বিদাত

https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/photos/pb.125167817515974.-2207520000.1420130205./1047397121959701/?type=3&src=https%3A%2F%2Fscontent-b-cdg.xx.fbcdn.net%2Fhphotos-xfa1%2Ft31.0-8%2F10629515_1047397121959701_3826482012256150365_o.jpg&smallsrc=https%3A%2F%2Fscontent-b-cdg.xx.fbcdn.net%2Fhphotos-xap1%2Fv%2Ft1.0-9%2F10394780_1047397121959701_3826482012256150365_n.jpg%3Foh%3D05840d525540e840c281d86a17fe511f%26oe%3D54FA7D4C&size=1048%2C557&fbid=1047397121959701

প্রশ্নঃ কোন নামাজের জামাতের এক বা একাধিক রাকাত মিস করলে শেষ বৈঠকে তাশাহুদ ছাড়াও কি দুরূদ শরীফ বা দুয়া মাসূরা পড়া যাবে?
উত্তরঃ দুরূদ শরীফ পড়া যায়, দুয়া মাসূরা না পড়াই ভালো

প্রশ্নঃ Husband and wife divorce hoar por abar bea korte chaile ke hilla bea korte hobe? Pls answer it in details.
উত্তরঃ এক তালাকের মাধ্যমে ডীভোর্স হলে নতুন করে বিয়ে করতে পারবে। বিস্তারিত ভালো আলেমদের কাছ থেকে জেনে নিন।
***হিল্লা বিয়ে কি?
https://www.facebook.com/permalink.php?id=125167817515974&story_fbid=661420360557381
***হিল্লা বিয়ে হারাম
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/357545140950757?comment_id=4205809

প্রশ্নঃ Bipod ba kono uddesho puroner jonno sura yeasin 41 bar pore khotom dia monajat kora jabe ki? Please janaben...
উত্তরঃ এটা বিদাত, এইগুলো করা যাবেনা। এমনিতে দুয়া কবুলের সময়গুলোতে বেশি বেশী দুয়া করতে হবে। ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে।

প্রশ্নঃ
1.amar ak cousin unar husbandke vaiya bole daken.ami jante chaccilam husbandke vaiya otoba nam dhore daka jabe ki?
উত্তরঃ ভাইয়া ডাকবেনা, স্বামী রাগ না করলে নাম ধরে ডাকতে পারে।

2.meyeder hayejer napaki obostay jaynamaj,tasbih agulu sporsho korle ki napak hoye jabe? ai bepare koto tuku careful taklei jotesto pls janaben.
উত্তরঃ কোন কিছুই নাপাকী হবেনা। স্পর্শ করলে কোন সমস্যা নেই, মুসহাফ বা শুধুমাত্র আরবী ক্বুরান স্পর্শ করা নিষেধ, এছাড়া যেকোন তর্জমা, তাফসীর, হাদীস বা ইসলামী বই বা যেকোণ কিছুই স্পর্শ করতে পারবে।

3.onkei bolen eusuf (A) nd julekhar maje premer shomporko chilo. onkei shundor kore tader premer story bolen.prokitopokke tader shomporkota tik ki chilo jante chaisilam
উত্তরঃ নাউযুবিল্লাহ, দুশ্চরিত্র লোকের কুফুরী কথা ও মিথ্যা অপবাদ। বাদশাহর স্ত্রীর চরিত্র খারাপ ছিলো, আল্লাহ্‌ তাঁর নবীকে প্রেম নামের এই সমস্ত অশ্লীলতা থেকে নিরাপদ রেখেছিলেন।

প্রশ্নঃ .bisso istema somporke jante chai.ekhane jaoa jabe kina ba gele saoab hobe kina.ektu detail-a janaben plz. onk dhonnobad msg kholar jonno.Zajakallah khairan.
উত্তরঃ এটা বিদাতী ইজতেমা। এটাতে যাওয়া জায়েজ নয়, এখানে ক্বুরান ও সুন্নাহ বিরোধী বক্তব্য দেওয়া হয়। আর আখেরেঈ মুনাজাত একটা বিদাতী অনুষ্ঠান। আরব বিশ্বের ওলামাদের ফতোয়া দেখুন -

““তাবলীগ জামাত সম্পর্কে মক্কা-মদীনার আলেমদের ফতোয়া””
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/photos/pb.125167817515974.-2207520000.1420130205./1047275151971898/?type=3&src=https%3A%2F%2Fscontent-b-cdg.xx.fbcdn.net%2Fhphotos-xpa1%2Ft31.0-8%2F10872835_1047275151971898_7987914389474972574_o.jpg&smallsrc=https%3A%2F%2Fscontent-b-cdg.xx.fbcdn.net%2Fhphotos-xpf1%2Fv%2Ft1.0-9%2F1512809_1047275151971898_7987914389474972574_n.jpg%3Foh%3D2aea6b02c1d8311aa14de0b8502fe27a%26oe%3D553F0297&size=1126%2C529&fbid=1047275151971898

প্রশ্নঃ সৌদি আরবের আলেমরে যুদ্ধ করাকে সমর্থন করে না। আমরা জানি যখন ইমাম মেহেদি আর ইসা (আ) আসবে তখন মারামারির যুদ্ধ হবে। আর সালাফিরাতো এমন যুদ্ধ সমর্থন করে না। তাহলে কি বলা যায় যে ইমাম মেহেদি আর ইসা (আ) এর সঙ্গি সালাফিরা হবে না?
উত্তরঃ সৌদি আরবের আলেমরে যুদ্ধ করাকে সমর্থন করে না, এটা একেবারেই বাজে কথা যা জসিম উদ্দিনের মতো বোকা লোকেরা প্রচার করে থাকে। সৌদি আরবের আলেমরা অন্যায় বা ইসলাম সমর্থন করেনা এমন যুদ্ধের বিরোধীতা করেন। কোন আলেম জিহাদের বিরোধীতা করেন না, তারা জিহাদ নাম দিয়ে ফাসাদের বিরোধীতা করেন।

প্রশ্নঃ সৌদি ওলামারা কি জিহাদের ব্যপারে মানুষকে নিবৃত করার চেষ্টা করছেন যদিও কোরআনে বার বার জিহাদের কথা বলা হয়েছে? শোনা যাচ্ছে যে আইএস এর খলিফা নির্বাচিত হয়েছে। তাই তারা কি এখন জিহাদ করতে পারে ?
#শায়খ_আব্দুল্লাহ_আল_কাফির এই প্রশ্নের জবাবে বলেনঃ
পৃথিবীতে আলেমদের মধ্যে যারা জিহাদের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশী অগ্রসর ছিলেন ও আছেন, তাঁরা হচ্ছেন সৌদী উলামা সমাজ। এখন পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন স্তানে সৌদীরাই বেশী জিহাদ করেছে বা করছে।
সোভিয়েতের বিরুদ্ধে আফগানিস্তান তার শ্রেষ্ঠ প্রমাণ,কিন্তু রাশিয়া হটিয়ে কি পেয়েছে ঐ জিহাদ? কি পেয়েছে আফগানিস্তান?

প্রশ্নঃ gan bajna ,haram, ta Quraner kothay ase? Ami take ai bapare ki uttor dite pari.. Janaben please!
উত্তরঃ ক্বুরান হাদিসে বহু আয়াত ও সহিহ হাদীস দ্বারা গান হারাম করা হয়েছ। সুরা লোকমানের এই দ্বারা গান-বাজনাকে হারাম করা হয়েছেঃ

"একশ্রেণীর লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করার উদ্দেশে অবান্তর কথাবার্তা সংগ্রহ করে অন্ধভাবে এবং উহাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। এদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি।"
সূরা লুকমান : ৬ উক্ত আয়াতের শানে নুযূলে বলা হয়েছে যে, নযর ইবনে হারিস বিদেশ থেকে একটি গায়িকা বাঁদী খরিদ করে এনে তাকে গান-বাজনায় নিয়োজিত করল। কেউ কুরআন শ্রবণের ইচ্ছা করলে তাকে গান শোনানোর জন্য সে গায়িকাকে আদেশ করত এবং বলত মুহাম্মদ তোমাদেরকে কুরআন শুনিয়ে নামায, রোযা এবং ধর্মের জন্য প্রাণ বিসর্জন দেওয়ার কথা বলে। এতে শুধু কষ্টই কষ্ট। তার চেয়ে বরং গান শোন এবং জীবনকে উপভোগ কর।

রাসুল সাঃ এর সহীহ হাদীসেও গান-বাজনার হারাম করা হয়েছে, সহীহ হাদিসে যা হারাম করা হয়েছে তা ক্বুরানের আয়াত দিয়ে হারাম করার সমান মর্যাদার। সহীহ হাদীস অস্বীকার করা কুফুরী।

গান-গায়িকা এবং এর ব্যবসা ও চর্চাকে হারাম আখ্যায়িত করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
তোমরা গায়িকা (দাসী) ক্রয়-বিক্রয় কর না এবং তাদেরকে গান শিক্ষা দিও না। আর এসবের ব্যবসায় কোনো কল্যাণ নেই। জেনে রেখ, এর প্রাপ্ত মূল্য হারাম।-জামে তিরমিযী হাদীস : ১২৮২; ইবনে মাজাহ হাদীস : ২১৬৮

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও ইরশাদ করেন, আমার উম্মতের কিছু লোক মদের নাম পরিবর্তন করে তা পান করবে। আর তাদের মাথার উপর বাদ্যযন্ত্র ও গায়িকা রমনীদের গান বাজতে থাকবে। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে যমীনে ধ্বসিয়ে দিবেন।-সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস : ৪০২০; সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস : ৬৭৫৮

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, পানি যেমন (ভূমিতে) তৃণলতা উৎপন্ন করে তেমনি গান মানুষের অন্তরে নিফাক সৃষ্টি করে।-ইগাছাতুল লাহফান ১/১৯৩; তাফসীরে কুরতুবী ১৪/৫২

বিস্তারিত জানতে এটা দেখুন
http://www.quraneralo.com/lets-come-back-from-music/

প্রশ্নঃ ami kauk mon theke khoma korte chassi but puraton kisu kosto ja o dise tar jnno khoma korte properly partesi na...ki korbo a khetre? ami tar jnno proti wakte doa kori but tarporeo maje moddhe keno sasti kamona kori janina....pls help me
উত্তরঃ সম্ভবত আপনার এর সাথে আরো সমস্যা আছে, সেইজন্য সহজ ভাবে নিতে পারছেন না। সেইসব বিষয়ে ইসলামের হুকুম কি জানুন এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থ নিন।
অন্যের জন্য ব্যস্ত না হয়ে নিজের আকিদা ও আমলের দিকে বেশি মনোযোগী হন, তাহলে সেইগুলো ভুলতে পারবেন এবং সঠিক পথে চলতে পারবেন ইন শা আল্লাহ্‌।
প্রশ্নঃ paer sathe pa melano kototuku joruri ? proman Soho jante chai,r hanafira kon doliler viktite pa milai na?janaben ,please.
উত্তরঃ জরুরী, এটা করতে রাসুল সাঃ আদেশ করছেন এবং সাহাবারা করতেন।
হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, একদা নামাযের ইকামত হল। নবী (সাঃ) আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, তোমরা তোমাদের কাতার সোজা কর এবং ঘন হয়ে দাঁড়াও। নিশ্চয় আমি আমার পিছন দিক হতেও দেখে থাকি। আনাস (রাঃ) বলেন, এরপর আমাদের প্রত্যেকে নিজ বাহুমূল তার পার্শ্ববর্তী সঙ্গীর বাহুমূলের সাথে এবং নিজ পা তার পায়ের সাথে (হাঁটু তার হাঁটুর সাথে, পায়ের গাঁট তার পায়ের গাঁটের সাথে) লাগিয়ে দিত। (বুখারী ৭১৮, মুসলিম, সহীহ ৪৩৬, আবূদাঊদ, সুনান ৬৬২নং)

হযরত জাবের বিন সামুরাহ্‌ (রাঃ) বলেন, একদা আল্লাহর রসূল (সাঃ) আমাদের কাছে এলেন। সে সময় আমরা গোলাকার দলে দলে বিভক্ত ছিলাম। তিনি বললেন, তোমাদেরকে আমি বিক্ষিপ্তরুপে দেখছি কেন? অতঃপর একদিন তিনি আমাদের কাছে এসে (আমাদেরকে অনুরুপ বিক্ষিপ্ত দেখে) বললেন, তোমরা প্রতিপালকের সামনে ফিরিশ্‌তাবর্গের কাতার বাঁধার মত কাতার বেঁধে দাঁড়াবে না কি? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! ফিরিশ্‌তাবর্গ তাঁদের প্রতিপালকের সামনে কিরুপে কাতার বেঁধে দাঁড়ান। তিনি বললেন, প্রথমকার কাতারসমূহ পূর্ণ করেন এবং ঘন হয়ে জমে কাতার বেঁধে দাঁড়ান। (মুসলিম, সহীহ ৪৩০, আবূদাঊদ, সুনান ৬৬১, মিশকাত ১০৯১নং)

প্রকাশ থাকে যে, ঘন করে দাঁড়ানোর অর্থ এই নয় যে, পরস্পর ঠেলাঠেলি ও চাপাচাপি করে দাঁড়াতে হবে। বরং এইরুপ দাঁড়ানোতে নামাযের একাগ্রতা ও বিনয় নষ্ট হতে পারে। অতএব যাতে পায়ে পা এবং বাহুতে বাহু স্বাভাবিকভাবে লেগে থাকে তারই চেষ্টা করতে হবে। আর তার জন্য যতটুকু দরকার ততটুকুই পা ফাঁক করে দাঁড়াতে হবে।
প্রচলিত মসজিদগুলো অজ্ঞতার কারণে এই আমলটা বাদ দিয়েছে, না করার কোন দলিল নেই।

প্রশ্নঃ dhorun kono Meyer family islamic BT oto ta noy.kintu shei ghorer kono meye dhormer pothe Chole.dhormo onujai ekjon ekjon Islamic mind er chele asha korche kintu family jodi omon kao gurutto deyna
.shei khetre oi meye ki korbe? r gurutto purno question jeta Meyer baba jibito kintu kichu karon boshoto baba tader shathe r nei.
উত্তরঃ আল্লাহর কাছে দুয়া করবে এবং যথাসম্ভব বাসার লোকদেরকে বোঝাবে। অযোগ্য বা গুরুতর প্রবলেম এমন ছেলে হলে আপত্তি করবে। মেয়ের সম্মতি ছাড়া বিয়ে হয়না।
বাবা দায়িত্ব না নিলে, তার দাদা হবে মেয়ের ওয়ালী।

প্রশ্নঃ আমাকে এক মুরব্বী আজ বলল যে বাংলাদেশের জৈনপুরীর যে হুজুর তারা নাকি সঠিক ?
উত্তরঃ জৈনপুরীর ছেলে, যার পরবর্তীতে #পীর হওয়ার কথা সে সহীহ আকিদার দাওয়াত গ্রহণ করেছে, আলহামদুলিল্লাহ।

জৈনপুরী পীর সাহেব মিজান বিন আব্দুল আজিজ হেদায়েত পেলেন........ https://www.youtube.com/watch?v=mzQ6ojmIQSI

প্রশ্নঃ  viaa dorun amar asorer namaj kono karone sute gese.amake ki seta magriber agge aoboshshoy pore nite hobe.naki magriber pore porleo cholbe.ami masjide giea jodi dekhi magriber jamat shuru hochche ba cholse ami ki agge asor pore nibo naki magriber jamate shamil hobo tarpor asor porbo.
উত্তরঃ জামাত হলে জামাত ধরতে পারেন, জামাতে মাগরিব পড়ে এর পর আসর পড়ে নিলেন। আর জামাত না হলে সিরিয়ালি ওয়াক্ত অনুযায়ী পড়তে হবে

না, জায়েজ নয়।পর পুরষের সামনে নারীদের চেহারা তাদের আওড়াহর অন্তর্ভুক্ত। এই লেখাগুলো দেখুন -
নারীদের জন্য নেকাব পড়া কি ফরয/ওয়াজিব?
https://www.facebook.com/photo.php?fbid=665430966822987&set=pb.125167817515974.-2207520000.1385186830.&type=3&src=https%3A%2F%2Fscontent-a-lga.xx.fbcdn.net%2Fhphotos-ash3%2F1452179_665430966822987_238369927_n.jpg&size=492%2C831

নেকাব ফরয হওয়ার বিরোধীদের যুক্তি ও তার খন্ডনঃ পর্ব ১

https://www.facebook.com/photo.php?fbid=665878666778217&set=pb.125167817515974.-2207520000.1385186830.&type=3&src=https%3A%2F%2Fscontent-b-lga.xx.fbcdn.net%2Fhphotos-frc1%2F575767_665878666778217_823815286_n.jpg&size=844%2C260