নাসীহাহ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নাসীহাহ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

মানুষের বিপদ ও দুর্ভাগ্যের কারণ

মানুষের বিপদ ও দুর্ভাগ্যের কারণঃ
(১) আল্লাহর প্রতি প্রকৃত ভয় ও যথার্থ ভালোবাসা না থাকা
(২) নামায না পড়া, নামাযে অবহেলা করা।   
(৩) পিতা-মাতাকে অসম্মান করা, তাদের অবাধ্য হওয়া 
(৪) দুনিয়াকে অত্যাধিক ভালোবাসা ও আখেরাতের চাইতে দুনিয়াকে প্রধান্য দেওয়া
(৫) পরনারী / পরপুরুষের প্রতি অন্তর লালায়িত থাকা  
(৬) নিজেকে নিজে বড় মনে করা ও অন্তরে অহংকার লালন করা  
(৭) অন্তরে হিংসা, ক্রোধ বা প্রতিশোধ পরায়ন মনোভাব রাখা 
(৮) জনপ্রিয়তা, সুনাম ও মানুষের মাঝে নিজেকে প্রকাশ করার প্রতি মোহ  
(৯) স্বামীর অবাধ্য হওয়া 
(১০) স্ত্রীর হক্ক নষ্ট করা  
(১১) ক্বুরআন না পড়া, ক্বুরআন থেকে দূরে থাকা  
(১২) প্রকৃত আলেমদেরকে চিনতে না পারা, তাদের সম্মান ও মূল্য বুঝতে ব্যর্থ হওয়া
(১৩) পথভ্রষ্ট, বিদআতী, জাহেল লোকদেরকে আলেম মনে করে প্রতারণার শিকার হওয়া
(১৪) সন্তানদেরকে দ্বীন শিক্ষা না দেওয়া, দ্বীনি পরিবেশ থেকে দূরে রাখা, তাদেরকে পাপাচারে ছেড়ে দেওয়া
(১৫) টিভি বা রেডিওতে হারাম অনুষ্ঠান দেখা বা শোনা  
(১৬) বাজে কিংবা বেহুদা কথা ও কাজের দ্বারা ফেইসবুক, ইন্টারনেটে সময় নষ্ট করা
(১৭) মানুষের সাথে তর্ক কিংবা বিবাদে লিপ্ত হওয়া  
(১৮) বেশি কথা বলা, পানাহার বেশি করা ও অধিক ঘুমে অভ্যস্ত হওয়া 
(১৯) গায়ের মাহরাম নারী/পুরুষের সাথে পর্দাহীন মিলা-মিশা করা, বন্ধুত্ব, নির্জনে একাকী দেখা-সাক্ষাত ও অবস্থান করা, প্রাইভেটে কথা বলা  
(২০) কাফির জাতি ও তাদের সংস্কৃতি-সভ্যতা, ফ্যাশানের অনুকরণ করা, সেইগুলোকে উত্তম বলে ধারণা করা
(২১) তোওবা না করে ক্রমাগত পাপ কাজে লিপ্ত থাকা  
(২২) যিনা-ব্যভিচার, পরকীয়ায় লিপ্ত থাকা, স্বামী/স্ত্রীকে ধোঁকা দেওয়া, হস্ত-মৈথুন, পর্নোগ্রাফী, ঋতু অবস্থায় বা পায়ুপথে স্ত্রীর সাথে সহবাস করা, এমন যেকোন অশ্লীল কাজে লিপ্ত থাকা
(২৩) কঠোর প্রকৃতির, বদ মেজাজী ও দুশ্চরিত্রের অধিকারী হওয়া 
(২৪) শুদ্ধ উচ্চারণে ক্বুরআন পড়তে না পারা 
(২৫) পাপাচারে লিপ্ত থাকা কিংবা বিদআতী দলের অন্তর্ভুক্ত থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা
(২৬) আল্লাহ সম্পর্কে, দ্বীনের ব্যপারে ওয়াসওয়াসা (সন্দেহের) মাঝে পড়া 
(২৭) কু-প্রবৃত্তির অনুসরণ করা
(২৮) হারাম উপার্জনের উপর খুশি থাকা
(২৯) নিজেকে আল্লাহওয়ালা, জ্ঞানী লোক বলে আত্মতৃপ্তি বোধ করা 
(৩০) মৃত্যু, কবরের আযাব ও আখেরাতকে ভুলে থাকা

বৃহস্পতিবার, ২৪ মার্চ, ২০১৬

হৃদয় গলানো উপদেশ

হৃদয় গলানো উপদেশ
প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুবারকময় জবান থেকে মূল্যবান উপদেশ সম্বলিত কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করা হলো। নিন্ম বর্ণিত সবগুলো হাদীস তাওহীদ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ইমাম ইবনে হাজার আসকালনি রাহিমাহুল্লাহর সংকলিত অমূল্য গ্রন্থ তাহক্বীক বুলুগুল মারাম থেকে সংগৃহীত, এবং সবগুলো হাদীস-ই সহীহ।
প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
(১) নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক চিরঞ্জীব, দানশীল। তাঁর কোন বান্দা নিজের দুই হাত তুলে তাঁর নিকট দুয়া করলে তিনি বান্দাকে শূণ্য হাত বা তাকে নিরাশ করে ফিরিয়ে দিতে লজ্জা বোধ করেন। আবু দাউদঃ ১৪৮৮, তিরমিযীঃ ৩৫৫৬।
(২) আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে তিনি দ্বীনের ইলম (জ্ঞান) দান করেন। বুখারীঃ ৭১, মুসলিমঃ ১০৩৭।
(৩) যে ব্যক্তি সন্দেহজনক জিনিসগুলো থেকে বেঁচে থাকবে সে তার দ্বীন ও মর্যাদা রক্ষা করতে পারবে। বুখারীঃ ৫২, মুসলিমঃ ১৫৯৯।
(৪) তুমি দুনিয়াতে এমনভাবে থাকো, যেন তুমি (অল্প সময়ের জন্যে) একজন প্রবাসী বা মুসাফির। বুখারীঃ ৬৪১৬, তিরমিযীঃ ২৩৩৩।
(৫) নিশ্চয়ই আল্লাহ ঐ বান্দাকে ভালোবাসেন, যে ব্যক্তি মুত্তাক্বী (আল্লাহ ভয়ে পাপ কাজ থেকে বিরত থাকে), মুখাপেক্ষাহীন (আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উপর নির্ভরশীল নয়), এবং আত্মগোপনকারী ( নিজের গুণ প্রকাশে অনিচ্ছুক)। মুসলিমঃ ২৯৬৫, আহমাদঃ ১৪৪৪।
(৬) পিতা-মাতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি (লাভ হয়), আর তাঁদের অসন্তুষ্টিতে আল্লাহর আসন্তুষ্টি রয়েছে। তিরমিযীঃ ১৯০০,ইবনে মাজাহঃ ২০৮৯।
(৭) নেকী হচ্ছে সুন্দর ব্যবহার আর পাপ হচ্ছে যা তোমরা অন্তরে খটকা জাগায় এবং মানুষ সেই বিষয়টা জানুক, তুমি সেটা অপছন্দ কর। মুসলিমঃ ২৫৫৩, আহমাদঃ ১৭১৭৯।
(৮) যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্যে বিনয় ও নম্রতা প্রকাশ করে, আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন। মুসলিমঃ ২৫৮৮, তিরমিযীঃ ২০২৯।
(৯) যে ব্যক্তি তার কোন মুসলিম ভাইয়ের অসাক্ষাতে তার সম্মান হানিকর বস্তুকে প্রতিহত করবে, আল্লাহ তার মুখমন্ডল হতে কেয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুনকে দূর করে দেবেন। তিরমিযীঃ ১৯৩১, আহমাদঃ ২৬৯৮৮।
(১০) যে ব্যক্তি কোন এক দল লোকের কথার দিকে কান লাগাল, অথচ সেই লোকগুলো এটা পছন্দ করেনা যে, সেই ব্যক্তি তাদের কথা শুনুক, তাহলে কেয়ামতের দিন তার দুই কানে (গরম) সীসা ঢেলে দেওয়া হবে। বুখারীঃ ২২২৫, মুসলিমঃ ২১১০।
(১১) যে ব্যক্তি নিজের মনে নিজেকে বড় বলে মনে করে, চলার সময় অহংকার করে চলে, তাহলে সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎকালে আল্লাহ সেই ব্যক্তির উপর রাগান্বিত অবস্থায় থাকবেন। বুখারীঃ ৫৪৯, মুসলিমঃ ৬২৩।
(১২) চোগলখোর কক্ষনো জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেনা। বুখারীঃ ৬০৫৬, আবু দাউদঃ ৪৮৯৯।*যে ব্যক্তি একজনের কথা আরেকজনের কাছে লাগিয়ে মানুষের মাঝে ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টি করে অথবা দুইজনের মাঝে সম্পর্ক নষ্ট করে, তাকে চোগলখোর বলা হয়।
(১৩) তোমরা কৃপণতা হতে নিজেকে বাঁচাও, কারণ এটা আগের জাতিগুলোকে ধ্বংস করছিলো। মুসলিমঃ ২৫৭৮, আহমাদঃ ১৪০৫২।
(১৪) একজন ঈমানদার ব্যক্তি কখনো লোকদেরকে তিরস্কারকারী, অভিসম্পাত দানকারী, অশ্লীল ভাষী, নির্লজ্জ ইতর প্রকৃতির হতে পারেনা। তিরমিযীঃ ২০০।
(১৫) শয়তান বাম হাতে খায় এবং বাম হাতে পান করে। মুসলিমঃ ২০২০, তিরমিযীঃ ১৭৯৯।
(১৬) কিছু লোক আল্লাহর দেওয়া সম্পদ অন্যায়ভাবে খরচ করে, কেয়ামতের দিন তাদের জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত রয়েছে। বুখারীঃ ৩১১৮, তিরমিযীঃ ২৩৭৪।
(১৭) যখন তোমাদের কেউ যখন জুতা পড়ে, তখন সে যেন ডান পা দিয়ে শুরু করে, আর যখন জুতা খুলবে তখন সে যেন বাম পা দিয়ে শুরু করে। যাতে পড়ার সময় দুই পায়ের মধ্যে ডান পা প্রথমে হয় আর খোলার সময় শেষ হয়। বুখারীঃ ৫৮৫৫, মুসলিমঃ ২০৯৭ 

(১৮) প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই বলে দুয়া করতেন, হে আল্লাহ তুমি আমাকে যেই ইলম দান করছো, তার দ্বারা আমাকে উপকৃত করো। তুমি আমাকে সেই ইলম দান করো, যা আমাকে উপকৃত করবে। আর আমার ইলম আরো বাড়িয়ে দাও। ইবনে মাজাহঃ ১/৪৭।  

শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

নাসীহাহ ১

(১) আমার অত্যন্ত প্রিয় একটা আয়াত, যা বার বার শুনতে ইচ্ছে করেঃ
আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা বলেন, হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ করো। ধৈর্য ধারণের ব্যপারে তোমরা একজন আরেকজনের সাথে প্রতিযোগীতা করো এবং (শত্রুদের বিপক্ষে) সর্বদা প্রস্তুত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক, যাতে করে তোমরা সফলকাম হতে পারে। [সুরা আলে-ইমরানঃ ২০০]
(২) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা উপদেশঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে আর নয়তো চুপ থাকে।” [সহীহ বুখারী]
(৩) এই মুবারক হাদীসের আলোকে ইমাম শাফেয়ী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, তুমি যদি কোন কথা বলতে চাও, তাহলে তার পূর্বে চিন্তা করে নিও। যদি মনে করো যে, এই কথার ফলে কোন ক্ষতি নেই, তাহলে সেটা বলো। আর যদি মনে করো যে, এই কথা বললে ক্ষতি হবে, তাহলে তুমি চুপ থাকো।
(৪) আমাদের জীবনে সবচাইতে মূল্যবান জিনিস হচ্ছে সময়, অথচ আমরা এই জিনিসটারই সবচাইতে বেশি নষ্ট বা অপচয় করি। হারাম কাজে লিপ্ত হয়ে; যেমনঃ অন্যের গীবত করে, গান শুনে, টিভি দেখে, গায়ের মাহরামদের সাথে রসের গল্প জমিয়ে ইত্যাদি, অথবা বেহুদা কাজ করে; যেমনঃ বিভিন্ন আড্ডায়, ফেইসবুকে ফাসেক ও বোকা লোকদের সাথে নিজের বিষয় নয় এমন অপ্রয়োজনীয় কথা বলে বা তাদের কার্যকলাপ প্রত্যক্ষ করে, এইভাবে আমরা আমাদের মূল্যবান সময়কে ধ্বংস করি। ধরুন আমরা যদি ১০টা মিনিট সময় নষ্ট করি কারো সাথে বেহুদা আড্ডা দিয়ে, এতে দুনিয়া বা আখেরাতের কোন লাভ নেই, বরং এর মাঝে যদি হারাম কোন কথা বলি যেমন গীবত করা, কারো নামে মিথ্যা অপবাদ দেই বা অহংকার করি, তাহলেতো বরং গুনাহ হবে, যার জন্য শাস্তি নির্ধারিত রয়েছে। পক্ষান্তরে আমরা যদি এক মিনিটে মাত্র একবার সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি বলি, আল্লাহর যিকিরের কারণে আমাদের অন্তরে প্রশান্তি নাযিল হবে, আর পরকালের জন্যে জান্নাতে একটা করা গাছ লাগানো হবে। আর বাকি নয়টা মিনিট যদি বিশ্রাম নেই তাহলে সেটা শরীর ও মনের জন্যে উপকারী হবে। কারণ চুপ থাকাও একতা ইবাদত, আর অতিরিক্ত কথা ও হাসি মানুষকে অন্তরকে মেরে ফেলে। অথবা এই সময়ের মাঝে নিজে কোন কষ্ট না করে শুধু কোন আলেমের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনি বা ক্বুরান তেলাওয়াত শুনি, এর দ্বারাও অনেক উপকৃত হব। সুতরাং আমাদের সব সময়ে খেয়াল রাখতে হবে, কোন জিনিসে আমাদের উপকার আছে, আর কোন জিনিসে ক্ষতি বা শুধু শুধু সময় নষ্ট হচ্ছে। এ ব্যপারে পরকালের আশা রাখে এমন একজন ঈমানদারকে আর দশটা মানুষের চাইতে অনেক বেশি বুদ্ধি ও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
(৫) একজন সাহাবীর সুন্দর একটা ঘটনা শুনুন। আবু দুজানা রাদিয়াল্লাহু আনহু মৃত্যুরোগে বিছানায় শায়িত ছিলেন। এসময় তাঁর চেহারা একেবারে চাঁদের মতো উজ্জ্বল হয়ে ছিলো। এ ব্যপারে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বললেন, আমার কাছে (পরকালের হিসাব-নিকাশের ব্যপারে) ভরসা করার মতো দুইটি আমল ছাড়া তেমন কিছুই নেই। তার প্রথমটি হচ্ছে এই যে, আমি কখনোই অনর্থক কথা বলতাম না। আর দ্বিতীয় হচ্ছে, মুসলিমদের জন্যে আমার অন্তর সব সময় পরিষ্কার ছিলো।
অন্তর পরিষ্কার রাখা কথাটির অর্থ হচ্ছেঃ মুসলিমদের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ, ঘৃণা, অহংকার বা শত্রুতা পোষণ না করা।
আল্লাহ আমাদের সকলকে সাহাবাদের মতো করেই আলাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করার তোওফিক দান করুন।

আমাদের পেইজের লেখাগুলো উপকারী মনে করলে আপনাদের বন্ধুদের মাঝে প্রচার করুন এবং সাদকায়ে জারিয়ার সওয়াব লাভ করুন। পেইজ থেকে পোস্ট শেয়ার করার চাইতে লেখাগুলো কপি করে নিজের টাইমলাইনে পোস্ট করুন, এতে মানুষ শেয়ারকৃত পোস্টের চাইতে পড়তে বেশি আগ্রহী হবে। আর আমাদের বা কোন আলেমের কাছ থেকে লেখা সংগ্রহ করলে, মূল লিখকের নাম উল্লেখ করে দিবেন।