বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০১৫

‘চরমোনাই’ পীরের ওয়াজ


দেখুন দেওবন্দী পীর কি কৌশলে তার মুরিদদের ব্রেইন ওয়াশ করেঃ
বরিশালের পীর চরমোনাই সাহেব তার কিতাবে লিখেছেন,
চোরের হাত পীরের হাতের সাথে লাগার কারণে পীর যদি তাকে পুলসিরাত পার করে দেয় , তাহলে মুরীদ যারা পীরের হাতে ধরে বায়াত হবে এদের কত বড় ফযীলত।
পীরের লেখা কিতাব, নামঃ ভেদে মারেফত, পৃষ্ঠা ২৭-২৮
অথচ অন্যকে পুলসিরাত পার করাতো দূরের কথা, কেয়ামতের ময়দান এতো কঠিন হবে যে নবী রাসুলেরাও ইয়া নাফসি ইয়া নাফসি বলবেন! আর এইসমস্ত পথভ্রষ্ট সুফীরা নাকি মানুষকে পুলসিরাত পার করে দেবে??
লা হাউলা ওয়ালা কুওয়্যতা ইল্লা বিল্লাহ
.
এইসব হচ্ছে ভন্ডামি, ধর্মের নামে ব্যবসা - মিথ্যা তরীকত আর পীরের উসীলা দিয়ে কাস্টমার (মুরীদ) ধরার ফাদ। কারণ, যত বেশি মুরীদ তত, তার ইনকাম তত বেশি...
.
এইজন্য এক ওয়াজে চরমোনাই পীর বলেছে, কেয়ামতের দিন তার বাবা ইসহাক সাহেব, ভাই ফযলুল করিম সাহেবরা নাকি বড়বড় জাহাজে করে পার হবে! আর তারা তাদের মুরীদদেরকে ফালায়া জান্নাতে যাবেনা, মানে তারা তাদের মুরীদদেরকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। চরমনাই পীর রেজাউল করীমের নিজের মুখ থেকে শুনেন সে কি বলছে...!!
http://www.youtube.com/watch?v=Q2po6LT6vuo
.
এটাই হচ্ছে পীরদের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র, পীরের অসীলা ধরে, পীরের হাতে বায়াত করে মুরীদদেরকে নাজাত দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস...
.
চরমনাই পীরের শিরকি কুফুরী কিচ্চাঃ
চরমনাই পীর সাহেব মুসা আঃ এবং এক রাখালকে নিয়ে একটা বানোয়াট শিরকি কাহিনী বলে, যেখানে বলা হয় এক রাখাল নাকি আল্লাহকে ছাগলের দুধ খাওয়াইবে. (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)!
আল্লাহকে নাকি সাজায়া পড়াইয়া দেবে। (নাউযুবিল্লাহ)!
এই সমস্ত শিরকি কথার উপরেও নাকি আল্লাহ তাআলা সন্তুষ্ট (নাউযুবিল্লাহ)!
নিজের কানে শুনুন চরমোনাই পীরের ওয়াজ নামের বাকোয়াজঃ
http://www.youtube.com/watch?v=w9i40UUpQW0
এইসব কথাবার্তা শুনেও যাদের অন্তরে তালা লেগে গেছে - যাদের পীরের ভক্তি আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার চেয়ে বেশি তারা উলটা আমাদেরকে গালি দেয়
.
কি জঘন্য পীর!!
আল্লাহর নাকি আন্দাজ নাই। (নাউযুবিল্লাহ!)
ভেদে মারেফত, ১৫ নাম্বার পৃষ্ঠা
.

একজন মানুষের মা-বাবার বিরুদ্ধে বললে সে ক্ষেপে যায়, আর আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নামে আজেবাজে কথা বলা হয় (নাউযুবিল্লাহ), আর এইগুলো শুনে পীরের মুরিদেরা জোরে জোড়ে সুবহানাল্লাহ পড়ে...এই হচ্ছে তাদের ঈমান্!!

ইখোয়ানুল মুসলিমিন এর ব্যপারে ওলামাদের ফতোয়াঃ

আমাদের দেশে যেমন জামাতে ইসলামী, তেমনি মিশরের একটি দল হচ্ছে ইখোয়ানুল মুসলিমিন বা ইংরেজীতে মুসলিম ব্রাদারহুড। তাদের শীর্ষস্থানীয় কিছু নেতা হচ্ছেন হাসান আল-বান্না, সাইয়েদ কুতুব, ইউসুফ কারযাভী এবং অন্যান্যরা। ইখোয়ানুল মুসলিমিন এর ব্যপারে ওলামাদের ফতোয়াঃ
১. শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ইখওয়ানুল মুসলিমীন ও তাবলীগ জামাত ৭২টা বিদআতী দলের মাঝে অন্তর্ভুক্ত, যাদের ব্যপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাহান্নামের ভয় দেখিয়েছেন।
২. শায়খ মুহাম্মাদ নাসিরউদ্দিন আল-আলবানী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ইখওয়ানুল মুসলিমীনকে আহলে সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত মনে করা ঠিক নয়, বরং তারা আহলে সুন্নাহর সাথে যুদ্ধ করছে।

৩. শায়খ সালেহ আল-ফাউজান হাফিজাহুল্লাহ বলেন, ইখওয়ানুল মুসলিমীন হচ্ছে হিজবী একটা দল, যাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে ক্ষমতা দখল করা। তারা মানুষকে সঠিক আক্বিদাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার জন্য উৎসাহী নয় এবং তারা তাদের অনুসারীদের মাঝে সুন্নী এবং বিদআতির মাঝে কোন পার্থক্য করেনা।
_______________________
reference:
তাবলিগ জামাত ও ইখোয়ানুল মুসলিমিনের ব্যপারে শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ রহিমাহুল্লাহর ফতোয়াঃ
https://www.youtube.com/watch?v=Y6c1UHTzaPY
_______________________
কিছু দুয়াত মানুষকে এই বলে বিভ্রান্ত করে থাকে যে, শায়খ বিন বাজ রহঃ নাকি তার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তাবলিগ জামাত ও ইখোয়ানুল মুসলিমিনের প্রশংসা করেছেন। এই মিথ্যার জবাব দিয়েছেন শায়খ সালেহ আল-ফাউজান হাফিজাহুল্লাহঃ
https://www.youtube.com/watch?v=BpFGR2f2jqw
_______________________
ইখোয়ানুল মুসলিমিনের ব্যপারে শায়খ মুহাম্মাদ নাসিরউদ্দিন আল-আলবানী রাহিমাহুল্লাহর ফতোয়াঃ
ইখোয়ানুল মুসলিমিন আহলে সুন্নাহর সাথে যুদ্ধ করছে
https://www.youtube.com/watch?v=16uvOFQhpYA&index=1&list=PL5Os9JN2k8EcpA3MEA8olzV95ywwr7Azh
_______________________
al-Ikhwan al-Muslimun only care about positions, parliaments, votes etc:
http://ahlulbidahwalhawa.com/2013/07/01/al-ikhwan-al-muslimun-only-care-about-positions-parliaments-votes-etc-imam-al-albani/
_______________________
শায়খ সালেহ আল-ফাউজান হাফিজাহুল্লাহ

https://www.youtube.com/watch?v=Qj2NuwWJBFY

বুধবার, ১ জুলাই, ২০১৫

কিতাবুত তাওহীদঃ আল্লাহ সম্পর্কে অন্তরে খারাপ ধারণা রাখার মুনাফেকী থেকে সতর্ক থাকুন

কিতাবুত তাওহীদ
- শায়খুল ইসলাম, ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওহহাব (রহঃ)
___________________________________
৫৯তম অধ্যায়ঃ
আল্লাহ সম্পর্কে অন্তরে খারাপ ধারণা রাখার মুনাফেকী থেকে সতর্ক থাকুন।
___________________________________
১. আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন,

يَظُنُّونَ بِاللَّهِ غَيْرَ الْحَقِّ ظَنَّ الْجَاهِلِيَّةِ يَقُولُونَ هَلْ لَنَا مِنَ الْأَمْرِ مِنْ شَيْءٍ قُلْ إِنَّ الْأَمْرَ كُلَّهُ لِلَّهِ (آل عمران: ১৫৪)

তারা জাহেলী যুগের ধারণার মত আল্লাহ সম্পর্কে অবাস্তব ধারণা পোষণ করে। তারা বলে, আমাদের জন্য কি কিছু করণীয় আছে? [হে রাসূল ] আপনি বলে দিন, সব বিষয়ই আল্লাহর ইখতিয়ারভূক্ত। [আল-ইমরান . ১৫৪]

২. আল্লাহ তাআলা আরো এরশাদ করেছেন,

الظَّانِّينَ بِاللَّهِ ظَنَّ السَّوْءِ عَلَيْهِمْ دَائِرَةُ السَّوْءِ (الفتح: ৬)

তারা [মুনাফিকরা] আল্লাহ সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করে, তারা নিজেরাই খারাপ ও দোষের আবর্তে নিপতিত। (আল-ফাতাহ . ৬]
___________________________________
প্রথম আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনুল কাইয়্যিম বলেছেন, ظن এর ব্যাখ্যা এটাই করা হয়েছে যে, মুনাফিকদের ধারণা হচ্ছে আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলকে সাহায্য করেন না। তাঁর বিষয়টি অচিরেই নিঃশেষ হয়ে যাবে। ব্যাখ্যায় আরো বলা হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্ল¬াম এর উপর যে সব বিপদাপদ এসেছে তা আদৌ আল্লাহর ফয়সালা, তাকদীর এবং হিকমত মোতাবেক হয়নি।

উপরোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়েছে যে, মানুফিকরা আল্লাহর হিকমত, তাকদীর, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পূর্ণাঙ্গ রিসালত এবং সকল দ্বীনের উপর আল্লাহর দীন তথা ইসলামের বিজয়কে অস্বীকার করেছে। আর এটাই হচ্ছে সেই খারাপ ধারণা যা সূরা ফাতহে উলে¬খিত মুনাফিক ও মুশরিকরা পোষণ করতো। এ ধারণা খারাপ হওয়ার কারণ এটাই যে, আল্লাহ তাআলার সুমহান মর্যাদার জন্য ইহা শোভনীয় ছিল না। তাঁর হিকমত প্রশংসা এবং সত্য ওয়াদার জন্যও উক্ত ধারণা ছিল বেমানান, অসৌজন্যমুলক।

যে ব্যক্তি মনে করে যে, আল্লাহ তাআলা বাতিলকে হকের উপর এতটুকু বিজয় দান করেন, যাতে হক অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে, অথবা যে ব্যক্তি আল্লাহর ফয়সালা, তাকদীরের নিয়মকে অস্বীকার করে, অথবা তাকদীর যে আল্লাহর হক মহা কৌশল এবং প্রশংসার দাবীদার এ কথা অস্বীকার করে, সাথে সাথে এ দাবীও করে যে, এসব আল্লাহ তাআলার নিছক অর্থহীন ইচ্ছামাত্র; তার এ ধারণা কাফেরদের ধারণা বৈ কিছু নয়। তাই জাহান্নামের কঠিন শাস্তি এ সব কাফেরদের জন্যই নির্ধারিত রয়েছে।

অধিকাংশ লোকই নিজেদের [সাথে সংশিষ্ট] বিষয়ে এবং অন্যান্য লোকদের বেলায় আল্লাহ তাআলার ফয়সালার ব্যাপারে খারাপ ধারণা পোষণ করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলা তাঁর আসমা ও সিফাত [নাম ও গুণাবলী] এবং তাঁর হিকমত ও প্রশংসা সম্পর্কে অবগত রয়েছে, কেবলমাত্র সেই আল্লাহর প্রতি এ খারাপ ধারণা থেকে মুক্ত থাকতে পারে।

যে ব্যক্তি প্রজ্ঞা সম্পন্ন, বুদ্ধিমান এবং নিজের জন্য কল্যাণকামী, তার উচিৎ এ আলোচনা দ্বারা বিষয়টির অপরিসীম গুরুত্ব অনুধাবন করা। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি স্বীয় রব সম্পর্কে খারাপ ধারণা করে, তার উচিৎ নিজ বদ-ধারণার জন্য আল্লাহর নিকট তওবা করা।

আল্লাহর প্রতি খারাপ ধারণা পোষণকারী কোন ব্যক্তিকে যদি তুমি পরীক্ষা করো, তাহলে দেখতে পাবে তার মধ্যে রয়েছে তাকদীরের প্রতি হিংসাত্মক বিরোধীতা এবং দোষারোপ করার মানসিকতা। তারা বলে, বিষয়টি এমন হওয়া উচিৎ ছিলো। এ ব্যাপারে কেউ বেশী, কেউ কম বলে থাকে তুমি তোমার নিজেকে পরীক্ষা করে দেখো, তুমি কি এ খারাপ ধারণা থেকে মুক্ত?
_________________________________
কবির ভাষায়...
মুক্ত যদি থাকো তুমি এ খারাবী থেকে,
বেঁচে গেলে তুমি এক মহা বিপদ থেকে।
আর যদি নাহি পারো ত্যাগিতে এ রীতি,
বাঁচার তরে তোমার লাগি নাইকো কোন গতি।
_________________________________
এধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায় .
১. সূরা আল- ইমরানের ১৫৪ নং আয়াতের তাফসীর।
২. সূরা ফাতাহ এর ৬ নং আয়াতের তাফসীর।
৩. আলোচিত বিষয়ের প্রকার সীমাবদ্ধ নয়।

৪. যে ব্যক্তি আল্লাহর আসমা ও সিফাত, [নাম ও গুণাবলী] এবং নিজের জ্ঞান সম্পর্কে অবহিত রয়েছে, কেবলমাত্র সেই আল্লাহর প্রতি কু-ধারণা পোষণ করা থেকে বাঁচতে পারে।