শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৫

‘ইসলামী ব্যংক’ নিয়ে প্রশ্নের উত্তর

ইসলামী ব্যংক নিয়ে প্রশ্নের উত্তর
- আনসারুস সুন্নাহ
__________________________
অনেকেই আমাকে ইসলামী ব্যংক নিয়ে প্রশ্ন করেন। তাদের সকলের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, বিজনেস ও ব্যংকিং সম্পর্কে আমার পড়াশোনা খুব কম। আর প্রচলিত ইসলামী ব্যংকগুলো সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা ও গবেষণাও সামান্য। সুতরাং, একথা বলতে আমার কোন বাঁধা নেই যে, এ ব্যপারে আমার নিশ্চিত কোন জ্ঞান নেই, যার উপর ভিত্তি করে হালাল নাকি হারাম স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারি। সুতরাং আপনাদের কাছে আমি অনুরোধ করবো, এই ব্যপারে আপনার কাছে যিনি নির্ভরযোগ্য, এমন কোন আলেম এর কাছে প্রশ্ন করুন, যিনি আপনাকে সঠিক জিনিস জানাতে পারবেন। তবে এই ব্যপারে আমি কিছু কথা বলি -
১. কোন ব্যংক যদি ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী পরিচালিত হয় তাহলে সেই ব্যংকের সেবা নিতে পারবেন এবং সেখানে চাকুরী করা জায়েজ হবে।
২. বর্তমানে প্রচলিত ব্যংকের অনেক কথা ও কাজ প্রশ্নবিদ্ধ, তারা কিছু কথা বলে, কিন্তু সেটা তাদের কাজের বিপরীত। যেমন
ক. প্রচলিত কিছু ইসলামী ব্যংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স নামে বিভিন্ন স্কীম চালু করেছে। অথচ জীবন বীমা সম্পূর্ণ হারাম এবং এটা জুয়ার অন্তর্ভুক্ত। এখানে আসলে ইসলাম নাম নিয়ে ব্যবসা চালু করেছে।
খ. প্রচলিত ইসলামী ব্যংকগুলো দাবী করে তারা ব্যবসায়ের লোকসান বহন করে। অথচ এমন অনেক রিপোর্ট আছে, তাদের কাছ থেকে যারা ব্যবসায়িক ঋণ নিয়েছেন, সেই ব্যবসায় তারা দেওলিয়া হয়ে গেলেও ব্যংক এক টাকাও লোকসান বহন করতে রাজি হয়নি। বরং, আইনের ভয় দেখিয়ে জমি বাড়ি বিক্রি করে সম্পূর্ণ ঋণ পরিশোধ করতে বাধ্য হয়েছেন।
গ. ব্যংকে যে যেভাবেই টাকা রাখুক, বছর শেষে লাভ পাবেই, কোন মিস নেই। আজ পর্যন্ত আমি একজনকে পেলাম না, ব্যংকে টাকা রেখে, ফিক্সড ডিপোজিট (এই ফিক্সড ডিপোজিট কতটুকু ইসলামিক আল্লাহ ভালো জানেন!) করে লস খেয়েছে। অথচ দুনিয়াতে এমন কোন ব্যবসা নেই যেখানে কোন না কোন এক সময় লস হয়।
ঘ. আজকাল নিরাপত্তার জন্যে ব্যংকে টাকা রাখার বিকল্প নেই, সেইক্ষেত্রে ব্যংকে যদি টাকা রাখতেই হয় তাহলে যারা দাবী করছে তারা শরিয়াহ মেনে ব্যংক চালায় তাদের এখানেই রাখবেন। কারণ সুদী ব্যংকে টাকা রাখলে আপনার টাকা দিয়ে তারা সুদী ব্যবসা করে লাভবান হবে। সুতরাং শুধু টাকা রাখার জন্যে আপনার ইসলামি ব্যংকগুলোর কাছে যেতে পারেন। তারা অন্তত সুদ হারাম এটা স্বীকার করছে, এবং সুদ মুক্ত দাবী করছে।
ঙ. ব্যংকে কোন ইনভেস্ট, ডিপোজিট স্কীম বা ট্রানজেকশান করে যদি লাভবান হতে চান, তার পূর্বে আপনি অবশ্যই আপনার কাছে মুত্তাক্বী ও জ্ঞানী কোন আলেমের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়ে নেবেন, ব্যংক যা বলেছে সেটা আসলেই ইসলামিক কিনা। জামাতে ইসলামী যেমন নিজেদের দলের নাম ইসলামিক রাখলেও সেটা ইসলামিক হয়ে যায়নি, ঠিক তেমনি কথার সত্যতা না থাকলে শুধু ইসলামী ব্যংক নাম রাখলেই সেটা যে ১০০ভাগ ইসলামিক হয়ে যাবে, এমন কোন কথা নেই। আল্লাহ আপনাকে জ্ঞান, চক্ষু ও বিবেক দিয়েছে, সুতরাং কোন কাজের পূর্বে আপনি সেইগুলোর ব্যবহার করবেন।
চ. প্রয়োজনে এই ব্যাংকগুলো (যারা নিজেদের ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী পরিচালিত দাবী করেছে), ব্যবহার করার সময় অনাকাংক্ষিত যদি কিছু সুদ চলেই আসে আপনার একাউন্টে, তাহলে তা গ্রহণ করা যাবেনা। বা জরূরী ভিত্তিক গ্রহণ করতে হলে যেন সেই টাকা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যায় করে দিতে হবে। যেমন, রাস্তাঘাট-টয়লেট ইত্যাদি তৈরি করে দেওয়া।
. এবার আমি আমার পরিচিত দুইজন শায়খ, যাদের কথা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে, তাদের বক্তব্য তুলে ধরছি।
__________________________
>> খাফজী ইসলামিক সেন্টার, সাউদী আরব এর দ্বাইয়ী, শায়খ আব্দুর রাক্বীব মাদানী নিচের এই ভিডিওতে আলোচনা করেছেন, ইসলামি ব্যাংকের মুদারাবা একাউন্ট এবং মুদারাবা ব্যবসা কি?
শায়খ এর এই আলোচনা থেকে এতোটুকু স্পষ্ট, প্রচলিত ইসলামিক ব্যংকগুলোতে মুদারাবা নামে যেই একাউন্টগুলো খোলা হচ্ছে, সেটা আসলে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী মুদারাবা নয়।
https://www.youtube.com/watch?v=W7Rvkh8RCgk 
__________________________
প্রচলিত ইসলামিক ব্যংকিং সম্পর্কে শায়খ মুজাম্মেল আল-হক্ক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে বলেছেনঃ
ইসলামি ব্যাঙ্কে কয়েক বছর চাকুরী করায় আর ইসলামিক ফাইন্যান্সে পি.এইচ.ডি. করার লেখাপড়ায় দীর্ঘ সময় ব্যয় কারায় যা বুঝেছি তা হলঃ
ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা হল গরীবের চামড়া খুলে নিয়ে ধনীর পায়ে জুতা পরানোর একটি সম্মিলিত মেকানিজম। পয়সা ওয়ালারা তাদের লাভ ও মূলধনের ১০০% নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তা বিধানের স্বার্থে সব রকম আইন বানিয়ে সরকার থেকে পাশ করিয়ে নেন। আর সরকার বাহাদুরগন ওই পয়সাওয়ালদের ট্যাক্স, ভ্যাট ও লেভীর কাছে দুর্বল থাকায় সবই পাশ করে দেন।
এই ব্যবসা প্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যারা যেভাবেই বা যে নামেই জড়িত থাকুন না কেন, আল্লাহর আদালতে সবাই সমান দোষে দোষী হবেন তাতে সন্দেহ নেই। ইসলামের নাম লাগিয়ে দিলেও কোন নিরাপত্তা মিলবেনা!
যে ফকীরকে ফ্রী দেওয়ার কথা, সে কেন ধনীকে বিরাট অংশ লাভ দিয়ে পন্য কিনতে বাধ্য হবে? আল্লাহ্‌ বলেন,
যার রয়েছে অর্থনৈতিক কাঠিন্য তার কাঠিন্যের প্রতি অবশ্যই নজর রাখতে হবে।
وَإِنْ كَانَ ذُو عُسْرَةٍ فَنَظِرَةٌ إِلَى مَيْسَرَةٍ وَأَنْ تَصَدَّقُوا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ
মধ্যস্থতাকারী যত সংস্থা এই ব্যবসায় জড়িত, যত হারে খরচের উপর কমিশন লাগিয়ে দেন, তার সবটা সুদে আসলে পরিশোধ করে ক্রেতারা। ক্রেতা ফকীর ও নিঃস্ব হলেও, একই দাম দিয়ে কিনতে হয় তাকে। লোন নিলে একই হারে সুদ দিতে বাধ্য হতে হয়। যাতে ধনীর লাভ ও মূলধন ১০০% সিকিউরড থাকে। আল্লাহুল মুস্তাআন।
আসলে হারাম বিষয়গুলো পরিহার করলে সব ব্যঙ্কই লাইনে উঠতে পারে। অন্তত অন্যেরা না চাইলেও, ইসলাম নামধারী ব্যাংক গুলোকে অবশ্যই পরিহার করা উচিত। কিন্তু বাস্তবতা এই যে, ইসলামি ব্যঙ্ক ত কনভেনশনাল ব্যাঙ্কের পেটে ঢুকে গিয়েছে প্রায়। উপরে থেকে কারা ওই ব্যঙ্কের চাবিকাঠি হাতে নেওয়ার ব্যবস্থা করছে, তা বুঝলে আরো পরিস্কার হবে। টাকা ওয়ালার টাকা ও মুনাফা নিশ্চিত করার ধোঁয়া তুলে যে সব আইন ও রেগুলেশন ইসলামি ব্যঙ্কের উপর চাপানো হয়েছে এবং হচ্ছে, তাতে বেশিদিন এই ব্যঙ্ক তার ইসলামি পরিচয় (প্রকৃত অর্থে) ধরে রাখতে পারবে বলে মনে করা যায়না। কে শোনে কার কথা? তাদের নিজেদের তৈরী মুফতি গন রয়েছেন। তারাই তাদের দিক নির্দেশক। অন্যেরা কি তাদের কাছে এমন কিছু যাদের কথায় তারা কান দেওয়া যেতে পারে বলে মনে করবেন?
শায়খের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিলোঃ পিএইচডি রিসার্চ করার পর আপনার মূল্যায়ন কি? আপনি কি আপনার পেশাটাকে সুদমুক্ত মনে করনে?
শায়খ এর উত্তরঃ পি এইচ ডি করা যেসব কারনে বন্ধ করতে হয়েছে, তার মধ্যে ওই বিষয়টি অন্যতম!
30 July, 2015.
__________________________
সুদী ব্যংক বা প্রতিষ্ঠানে চাকরী ও তার বেতনঃ
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/1098684000164346
সুদের সাথে লেন-দেন করে এমন ব্যংকের ব্যপারে সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ফতোয়া বোর্ডের ফতোয়ার অনুবাদঃ
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/photos/a.130928300273259.14132.125167817515974/667953829904034/?type=1
__________________________
শায়খ আব্দুর রাক্বীব মাদানীর ফেইসবুক একাউন্ট এর লিংক
https://www.facebook.com/araquib2?ref=ts&fref=ts

শায়খ মুজাম্মেল আল-হক্ক ফেইসবুক একাউন্ট এর লিংক
https://www.facebook.com/mdmuzammelul.hoque?ref=ts&fref=ts
__________________________

সরকার ইসলাম বিরোধী কাজে লিপ্ত

প্রশ্নঃ সরকার ইসলাম বিরোধী কাজে লিপ্ত, নাস্তিক ও ইসলাম ও দেশের শত্রুদের হয়ে কাজ করছে। হরতাল যদি নাজায়েজ হয়, তাহলে আমরা করে কি করবো?
উত্তরঃ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন মুনকার বা খারাপ কোন কাজ হতে দেখ তখন তোমাদের দায়িত্ব হচ্ছে তোমরা হাত দিয়ে সেটার পরিবর্তন করবে, যদি সেটা করতে না পারো তাহলে জবান দ্বারা করতে হবে আরে সেটাও যদি করতে না পারো তাহলে অন্তর থেকে সেটাকে ঘৃণা করবে। আর সেটা হলো ঈমানের দুর্বলতম স্তর।
সহীহ আল-মুসলিম।
এই হাদীস থেকে বুঝা যাচ্ছে, কোনো ইসলাম বিরোধী, হারাম বা কোনো খারাপ কাজ হতে দেখলে ঈমানদারদের উপর দায়িত্ব হচ্ছেঃ যদি ক্ষমতা থাকে তাহলে হাত দিয়ে বাঁধা দিতে হবে এবং সংশোধন করে দিতে হবে। এখানে ক্ষমতা হচ্ছে অথরিটি অথবা সামর্থ্য। যেমন, বড় ভাইয়ের ক্ষমতা আছে ছোট ভাইকে হাতে বাঁধা দেওয়ার এটা শক্তি দিয়ে। প্রধানমন্ত্রী কোনো ভুল করলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা আছে প্রধানমন্ত্রীকে বাঁধা দিয়ে সংশোধন করার। অনুরূপ মুসলমানদের যদি ক্ষমতা থাকে, জিহাদ করার তাহলে ইসলামের দুশমন যারা ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতি করে তাদের উপর ফরয হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে ইসলাম ও মুসলমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এটা হলো যদি শক্তি থাকে তাহলে বল প্রয়োগ করে সংশোধন করা।
এই ক্ষমতা যাদের থাকবেনা, তাদের দায়িত্ব হচ্ছে জবান বা কথার দ্বারা বাঁধা দেওয়া। অর্থাৎ উপদেশ দিতে হবে, তাদেরকে ভুল ধরিয়ে দিতে হবে, সংশোধন করার জন্য আহবান জানাতে হবে, কাফের হলে তাকে দাওয়াত দিতে হবে, ইসলাম সত্য ধর্ম বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে।
তাদের বিরুদ্ধে বই পত্র লিখতে হবে, টিভি, মিডিয়াতে ইসলামের বাণী তুল ধরতে হবে ও সমস্ত মুনকারের বিরুদ্ধে মানুষকে সতর্ক করতে হবে। ওয়াজ মাহফিল, দাওয়াত, তাবলিগ, বই, পুস্তক, বক্তব্য ও লেখনীর মাধ্যমে মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত ঘরে ঘরে পৌছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
আর কারো যদি এই ক্ষমতাও নাও থাকে তাহলে সে অন্তরে সেটার প্রতি ঘৃণা করবে, এবং কিভাবে এর প্রতিকার করা যায় সেই চিন্তা করবে।
ইসলাম কায়েমের দুটি পথ দাওয়াত ও জিহাদ। মানুষকে দাওয়াত দিতে হবে, যদি দাওয়াত দিতে বাঁধা দেয়, ইসলামের কথা বললে নির্যাতন করে তাহলে যদি ক্ষমতা থাকে তাহলে কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদ চলবে।
কিন্তু এই দুইটার বাইরে, ইসলাম কায়েমের জন্য শিরকি কুফুরী মতবাদ (গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, হরতাল) এইগুলো হলো ভ্রান্ত।

ইসলাম এসেছে দুনিয়াতে সমস্ত শিরক ও কুফুরী উৎখাত এক আল্লাহর উপাসনা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। কেউ যদি বলে, সেই ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য কোনো একটা শিরক (গণতন্ত্র) করতে হবে হয় সে মূর্খ নয় পথভ্রষ্ট। সে ইসলাম বলতে কুরারন হাদীসের ইসলাম বুঝেনা শয়তানের ইসলামকে বুঝে। কারণ শয়তান চায় মানুষ শিরক করে জাহান্নামে যাক। শয়তান এদেরকে ধোঁকা দিচ্ছে তোমাদেরকে জান্নাতে যেতে হলে শিরক করতে হবে। আল্লাহ তাদেরকে, আমাদেরকে, আমাদের সকলকে হেদায়তে করুন - আমিন।

ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহর প্রশংসায় ইমাম শাফেঈ’ রাহিমাহুল্লাহ

একবার নিজেকে আহলে হাদীস দাবী করা একটা ছেলে সর্বজন স্বীকৃত ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করলে আমি ইনবক্সে তাকে কিছু কথা বলি। পরিণামে সে আমাকে আনফ্রেন্ড করে। এমন অল্প বয়ষ্ক লোকেরা যারা নিজেদের মতামতকে প্রাধান্য দেয়, উম্মতের মাঝে মতবিরোধের জন্যে এরা প্রধান একটা কারণ।
ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহর প্রশংসায় ইমাম শাফেঈ রাহিমাহুল্লাহ বলেনঃ
لقد زان البلاد ومن عليهـا
إمام المسلمين أبـو حنيفـة
بأحكـامٍ وآثــار وفـقـهٍ
كآيات الزبور على الصحيفة
فما بالمشـرقين لـه نظيـر
ولا بالمغربيـن ولا بكوفـة
فرحمـة ربنـا أبـداً عليـه
مدى الأيام ما قرئت صحيفة
সমগ্র দেশ ও দেশবাসীকে মুসলিমদের ইমাম আবু হানীফা কুরআন, সুন্নাহ ও ফিকহের জ্ঞানের মাধ্যমে ঠিক সেভাবেই আলোকিত করেছেন, যেইভাবে যবুরের (কুরআনের) আয়াতগুলো কাগজের (পুস্তকের) উপর চকচক করছে। পূর্ব ও পশ্চিমের দেশগুলোতে এমন কি কুফাতেও তার কোনো নযীর নেই। কিয়ামত পর্যন্ত আমাদের রব্বের রহমত তার উপর বর্ষিত হতেই থাকবে।
সূত্রঃ দেয়ানুশ শাফেঈ

অনুবাদ করেছেনঃ শায়খ Abdullah Shahed Al-madaniঅনুবাদ করেছেনঃ শায়খ Abdullah Shahed Al-madani

নোমান আলী খানের হাদীস ছাড়া ক্বুরানের তাফসীর কতটুকু গ্রহণযোগ্য?

নোমান আলী খানের হাদীস ছাড়া ক্বুরানের তাফসীর কতটুকু গ্রহণযোগ্য?
- আনসারুস সুন্নাহ
______________________
ইংরেজী ভাষায় তাফসীরআরবী ভাষা শিক্ষার কোর্স করিয়ে নোমান আলী খান নামক একজন আমেরিকান বক্তা বর্তমান তরুণ সমাজের কাছে বেশ জনপ্রিয়। অনেকের কাছে তিনি একজন সেলেব্রিটি বা সুপারস্টার, অনেকেই তার মতো উস্তাদ হওয়ার স্বপ্ন বুকে নিয়ে ঘুরে বেড়ান। যাই হোক, নোমান আলী খান সম্প্রতি তার একটি তাফসীর এর ভিডিও টেপে ক্বুরানের কিছু আয়াত দিয়ে দাবী করেছেনঃ মূর্তি ভাঙ্গার অনুমতি ইসলামে নেই, শুধুমাত্র মসজিদের ভেতর কোন মূর্তি থাকলে সেইগুলো ভাঙ্গা যাবে, এছাড়া অন্য কোন মূর্তি ভাঙ্গা অযৌক্তিক, হাস্যকর এবং বোকামী।
নোমান আলী খানের বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের লিংক
https://www.youtube.com/watch?v=VWbzPFK6q_E
______________________
নোমান আলী খান নিজেই নিজের বলেছেন, হাদীস শাস্ত্র সম্পর্কে তিনি ভালো জানেন না। তার নিজ স্বীকারোক্তির লিংক
https://www.facebook.com/noumanbayyinah/posts/671094313023314
সুতরাং, তার নিজ স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হাদীস সম্পর্কে ভালোভাবে না জেনেই তিনি ক্বুরানের আয়াতের অর্থ ও তাফসীর করা শুরু করেছেন। অথচ সুন্নাহ বা হাদীস সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান ছাড়া ক্বুরানের অর্থ বুঝা বা তাফসীর করা অসম্ভব, অসম্ভব, একেবারেই অসম্ভব। কারণ ক্বুরানের আয়াতের অর্থ করতে হয় ৪টি উৎস থেকেঃ
১. ক্বুরানের এক আয়াতের অর্থ অন্য আয়াত দ্বারা করতে হয়।
২. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাহ বা হাদীস দ্বারা।
৩. সাহাবীদের কোন কথার দ্বারা। এর কারণ হচ্ছে কোন আয়াতের কি অর্থ, সেটা সাহাবীরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছ থেকে শিখেছেন।
৪. এই তিনটা উৎস থেকে ক্বুরানের আয়াতের কোন অর্থ পাওয়া না গেলে, আরবী ভাষা থেকে আয়াতের যেই অর্থ হয়, সেটা গ্রহণ করতে হয়।
ক্বুরানের আয়াতের অর্থ বা তাফসীর করার জন্য আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত এর এই ৪টি উৎস রয়েছে। এর মাঝে প্রথমটি, অর্থাৎ ক্বুরানের এক আয়াত দিয়ে অন্য আয়াতের তাফসীর করা যায় খুব কম আয়াতের, সে হিসেবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাহ বা হাদীস খুব গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যপক। আর আল্লাহ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে পাঠানোর উদ্দেশ্যই ছিলো, তিনি তাঁর কথা ও কাজের দ্বারা মানুষকে বুঝিয়ে দেবেন, ক্বুরানের কোন আয়াতের কি অর্থ, কিভাবে তার উপর আমল করতে হবে। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন,
নিশ্চয় আমি আপনার নিকট জিকির (কুরআন) নাযিল করেছি, যাতে করে আপনি বিশদভাবে মানুষের নিকট বর্ণনা করে দেন, যা তাদের নিকট নাযিল করা হয়েছে।
সুরা আন-নাহলঃ ৪৪।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি বলেছেন, কি করেছেন, তার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে সহীহ হাদীসগুলোতে। সুতরাং ক্বুরানের অর্থ বা তাফসীর বোঝার জন্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদীস সম্পর্কে জানার কোন বিকল্প নেই।
______________________
যাই হোক, ছবি ও মূর্তির ব্যপারে ইসলামের হুকুম হচ্ছে, মুসলমানদের হাতে যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব থাকবেনা, তখন মুশরিকদেরকে তাওহীদ এর দিকে দাওয়াত দিতে হবে, তাদেরক সুন্দরভাবে ক্বুরানের আয়াত দিয়ে মূর্তিপূজা ও যাবতীয় শিরকের অসারতা বোঝাতে হবে। যদি তারা সেটা গ্রহণ না করে, তাদের মূর্তি ভাংগা হবেনা বা তাদের দেব-দেবীকে গালি দেওয়া হবেনা। কারণ এর দ্বারা মুসলমানদের উপর অত্যাচার ও নির্যাতন হওয়ার আশংকা আছে এবং এর দ্বারা দাওয়াতী কাজে বাঁধা ও বিঘ্ন হবে। একারণে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মক্কার জীবনে মুশরেকরা কাবার ভেতরে ৩৬০টা মূর্তি রেখে পূজা-অর্চনা করলেও রাসুল বা তাঁর সাহাবীদের কেউই সেইগুলো ভেংগে ফেলার চেষ্টা করেন নি। কিন্তু যখন মুসলমানদের হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব থাকবে, ক্বুরান ও হাদীস দিয়ে দেশ পরিচালনা করার সুযোগ আসবে, তখন প্রকাশ্যে কোন ছবি ও মূর্তি থাকতে পারবেনা। কারণ এমন অবস্থায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেকোন ছবি ও মূর্তি এবং পাকা কবর ভেঙ্গে ফেলতে আদেশ করেছেনঃ
১. আবুল হাইয়াজ আল আসাদী থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেনঃ আলী বিন আবু তালিব রাদিআল্লাহু আনহু আমাকে বলেন যে, আমি কি তোমাকে সেই দায়িত্ব দিয়ে প্রেরণ করব না, যেই দায়িত্ব দিয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে প্রেরণ করেছিলেন? তা হচ্ছে এই যে, তুমি যেখানেই কোন ছবি-মূর্তি (প্রতিমা, ভাস্কার্য ইত্যাদি) দেখবে সেটা ভেঙ্গে ফেলবে এবং যেখানেই কোন পাকা উঁচু কবর দেখবে সেটা ভেঙ্গে মাটির সাথে সমান করে দেবে।
সহীহ মুসলিমঃ ২২১৫, আবু দাউদ, সনদ ছহীহ, মিশকাতঃ ১৬৯৬, তাহক্বীক্ব শায়খ আলবানী।
২. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তৎকালীন আরব মুশরিকদের সবচাইতে বড় দেবতার মূর্তি উযযা কে ধ্বংস করার জন্যে খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ) কে, মানাত কে ধ্বংস করার জন্যে সাঈদ ইবনে জায়েদ (রাঃ) কে, এবং সূয়া কে ধ্বংস করার জন্যে আমর ইবনে আস (রাঃ) কে অভিযানে পাঠিয়েছিলেন।
আল-বিদায়াহ ওয়াল-নিহায়াঃ ৪/৭১২, ৭৭৬, ৫/৮৩, আল-সীরাহ আল-নবাবিয়াহঃ ২/১১৮৬ ডা. আলি আল-সালাবী।
৩. এনিয়ে আরো বিস্তারিত জানার জন্যে আপনারা এই লিংকে দেখুন
Obligation to destroy idols
http://islamqa.info/en/20894
উল্লেখ্য, রাষ্ট্র যদি ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক পরিচালিত হয় তাহলেই শুধুমাত্র এই হুকুম প্রযোজ্য হবে। প্রকাশ্যে মূর্তিপূজার নিষিদ্ধ করা হবে, কিন্তু কোন অমুসলিমকে ইসলাম কবুল করতে বাধ্য করা হবেনা। তবে তারা তাদের মূর্তির কোনরূপ প্রদর্শনী করতে পারবেনা যাতে করে কোনপ্রকার ফিতনাহ সৃষ্টি না হয়।
আশা করি আমি আমার বক্তব্য পরিষ্কার করতে পেরেছি, মূর্তির ব্যপারে ইসলামের দৃষ্টিভংগি কেমন হওয়া উচিৎ। আশা করি আপনাদের কাছে এটাও স্পষ্ট হয়েছে যে, হাদিস না জেনে ক্বুরানের তাফসীর করলে সেটা কতটুকু গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
______________________
আরেকটি উদাহরণঃ এমনিভাবে নোমান আলী খান হাদীস সম্পর্কে না জেনে একটা ভিডিওতে একজন সম্মানিত সাহাবী সম্পর্কে মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছিলো। নারীদের মসজিদে আসার হাদীস নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে, তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাকি নারীদেরকে ফযরের জামাতে মসজিদে আসতে আদেশ করেছেন, যদিও এতে তাদের পর্দার কিছুটা খেলাফ হয়। আর একজন সাহাবী নাকি ওভার জেলাস হয়ে তার স্ত্রীকে নামাযরত অবস্থায় ডিসটার্ব করতো! হাদীসের নামে নোমান আলী খানের বাকোয়াজ দেখুন এই লিংকে
https://www.youtube.com/watch?v=WfHaldTQPkY
নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক। নিজের স্ত্রীকে নামাযরত অবস্থায় ডিসটার্ব করার মতো আহাম্মকি কাজ করা এমন জঘন্য মিথ্যা অপবাদ আমরা একজন সম্মানিত সাহাবীতো দূরের কথা, একজন সাধারণ মুসলমানদের বিরুদ্ধে বলতে গেলেও ১০ বার চিন্তা করে দেখবো। এখানে হাদিস নামে নোমান আলী খান যেই ঘটনা বর্ণনা করেছে, সেটা সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং মিথ্যা কাহিনী। শুধু তাই নয়, তাবলিগ জামাতের লোকদের মতো দলিল বিহীন এই মিথ্যা কিসসা দিয়ে একজন সাহাবীকে অত্যন্ত বোকার মতো করে উপস্থাপন করা হয়েছে! আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদেরকে মসজিদে যেতে আদেশ আদেশ করেন নি, তবে অনুমতি দিয়েছেন। নারীদের জন্যে মসজিদে যাওয়া জায়েজ, কিন্তু ঘরে নামায পড়াই তাদের জন্য উত্তম। কারো যদি ভালো লাগে আর সুযোগ থাকে মসজিদে যাওয়ার, তাহলে তিনি মসজিদে যেতে পারেন, কেউ বাঁধা দিতে পারবেনা। কিন্তু এটা বলা যাবেনা যে, নারীদের মসজিদে যেতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আদেশ করেছেন, বা তাদের মসজিদে নামায পড়া উচিৎ।
______________________
আপনি যদি ড্রাইভিং না শিখেই গাড়ি চালাতে শুরু করেন, সেটা যত দামী ও উন্নতমানের গাড়িী হোক না কেনো আপনি নিশ্চিত থাকুন, দুই দিন আগে বা পরে এক্সিডেন্ট করে আপনি নিজের ও যাত্রীদের জীবন ধ্বংস করবেন। ঠিক তেমনি, মানুষকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দেওয়া, ক্বুরান ও হাদীস শিক্ষা দেওয়া অনেক বড় ও মহান একটি কাজ। কিন্তু আপনি যদি ইসলাম সম্পর্কে ভালোভাবে না জেনে, ক্বুরান ও হাদিস সম্পর্কে যথেষ্ঠ জ্ঞান অর্জন না করেই মানুষকে শিখাতে শুরু করে দেন, তাহলে আপনি আন্দাজে বা অজ্ঞতাবশত কথা বলে যেমন নিজে বিভ্রান্ত হবেন, ঠিক তেমনি আপনি আপনার শ্রোতাদেরকেও বিভ্রান্ত করবেন। যেমনটা আমরা নোমান আলী খান এবং তার অনেক ভক্তদের মাঝে দেখতে পাই। মূর্তি নিয়ে নোমান আলী-খানের এই অসার বক্তব্যের ভুল তুলে ধরা হলে, এবং এর বিপরীতে সহীহ মুসলিম থেকে হাদীস তুলে ধরা হলে তার একজন মহিলা ভক্ত বলেন, সহীহ মুসলিম এর হাদীস ভুলও হতে পারে। এমন অনেক হাদীস আছে যা মানলে ঈমান নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক। এই মহিলা অন্ধভাবে তার প্রিয় বক্তার পক্ষে কথা বলতে গিয়ে হাদীসটি সহীহ নাকি জয়ীফ না জেনেই, সন্দেহবশত অসংখ্য সহীহ হাদীস দিয়ে প্রমানিত এমন একটি বিষয়কে অস্বীকার করেছেন!
তার আরেকজন ভক্ত বলেছেন, কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, ক্বুরান নাকি হাদীস?
নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক। একইভাবে এই লোকটা অন্ধভাবে তার প্রিয় বক্তার পক্ষে কথা বলতে গিয়ে ক্বুরান ও হাদীসকে আলাদা করে হাদীস এর মর্যাদাকে অস্বীকার করে বসে আছেন। ক্বুরান ও হাদীসকে আলাদা করেছেন, অথচ স্বয়ং আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে আদেশে করেছেন রাসুল তোমাদের যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা করতে নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক। [সুরা হাশরঃ ৭]
আমরা সকলেই জানি রাসুল আমাদেরকে যা দিয়েছেন সেটাই হচ্ছে সুন্নাহ, আর সুন্নাহগুলো লিপিবদ্ধ আছে সহীহ হাদীসে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন। তোমরা জেনে রাখ! আমাকে কুরআন দেওয়া হয়েছে এবং তার সাথে অনুরূপ আরেকটি জিনিস (সুন্নাহ বা হাদীস) দেওয়া হয়েছে। [আবু দাউদ, মিকদাদ ইবনে মাদিকারাব থেকে বর্ণিত, হাদীসটি সহীহ]
উপরে নোমান আলী খানের ভক্তদের দুইটা কমেন্টের স্ক্রীনশট আমার কাছে আছে, কেউ চাইলে দেওয়া যাবে।
______________________
সর্বশেষ, টিভি, ইউটিউব বক্তা, আলেম, নামধারী মুফতি ও মুফাসসির সাহেবরা ক্বুরান ও হাদীসের মনগড়া ব্যখ্যা দিয়ে নিজেরা পথভ্রষ্ট হন, তাদের ভক্তদেরকেও পথভ্রষ্ট করেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমার জীবনে তিনটি জিনিসের বড় ভয়। তার প্রথমটা হলো আয়াম্যায়ে দোয়াল্লিন বা ভ্রান্ত হুজুর। [মুসনাদে আহমাদ, হাদীসটি সহীহ]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেনঃ
(ফিতনার যুগে) কিছু লোক এমন হবে, যারা জাহান্নামের দরজার দিকে মানুষকে দাওয়াত দিবে (অর্থাৎ তাদের দাওয়াত এমন ভ্রষ্টতাপূর্ণ হবে, যা জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে); যারা তাদের ডাকে সাড়া দিবে তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে
সহীহ বুখারীঃ হাদীস নং-৩৩৩৬, ৬৬৭৯।
______________________
পথভ্রষ্ট বক্তা ও আলেমদের ফেতনার ভয়াবহতা সম্পর্কে শায়খ সালেহ আল-ফাওজান বলেনঃ বর্তমান যুগে অন্য অনেক ফেতনার সাথে এই উম্মত সবচাইতে বড় যে ফেতনার সম্মুখীন সেটা হচ্ছে - অনেক দ্বায়ী আছে যারা ইলম ছাড়া অজ্ঞতাবশত মানুষকে গোমরাহী ও বাতিলের দিকে দিকে দাওয়াত দিচ্ছে।
______________________
আপনারা যারা তাফসীর গ্রহণের নীতিমালা সম্পর্কে জানতে চান তারা শায়খ আজমল হুসাইন মাদানীর এই লেকচারটা দেখতে পারেন।
প্রথম অংশ -
https://www.youtube.com/watch?v=1UCtVrAZvaA
দ্বিতীয় অংশ -
https://www.youtube.com/watch?v=xUHRV1FY5V8
তৃতীয় অংশ -
https://www.youtube.com/watch?v=-YiXyPI8bQA
______________________

[সমাপ্ত]