আকিদাহ ও মানহাজ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আকিদাহ ও মানহাজ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১৭

ডা. জাকির নায়েক (পর্ব-২)

ডা. জাকির নায়েক (পর্ব-২)
(১) ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন রাহিমাহুল্লাহ একজন বিখ্যাত তাবেয়ী। তিনি ১১১ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেছিলন। আজ হচ্ছে ১৪৩৭ হিজরী। অর্থাৎ, তিনি প্রায় ১৩২৬ বছর পূর্বে আমাদের থেকে বিদায় নিয়েছেন। তাঁর একটা কথা খুব বিখ্যাত ও স্বরণযোগ্য। কথাটা এতো গুরুত্বপূর্ণ যে, সহীহ মুসলিমের সংকলক ইমাম মুসলিম রাহিমাহুল্লাহ তাঁর সহীহ মুসলিম এর ভূমিকাতেই কথাটা উল্লেখ করেছেন।
ইমাম ইবনে সিরীন রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, মানুষেরা পূর্বে হাদীসের সনদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতোনা। কিন্তু যখন ফিতনাহ এসে পড়ল, তখন তারা বলা শুরু করলেন, তোমাদের হাদীসের রাবী বা বর্ণনাকারীর নাম বল। এরপর কেবল আহলুস সুন্নাহ ব্যক্তিদের হাদীস গ্রহণ করা হত। আর আহলুল বিদআহ হলে তার কাছ থেকে হাদীস গ্রহণ করা হতোনা। সহীহ মুসলিম, মুক্বাদ্দিমাহ অধ্যায়।
আপনার আহলে হাদীস লাইব্রেরী প্রকাশনী কিংবা ইসলামী ফাউন্ডেশান থেকে অনুদিত সহীহ মুসলিমের প্রথম খন্ডের ভূমিকাতেই এই কথাটি খুঁজে পাবেন।
.
(২) ইমাম ইবনে সিরীন রাহিমাহুল্লাহর এই কথার দ্বারা প্রমানিত হয় যে, রাসুলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস মোতাবেক মুসলিমদের মধ্যে যে মোট ৭৩-টি দল-উপদল সৃষ্টি হবে, সেইগুলোর মাঝে একমাত্র নাজাতপ্রাপ্ত দলটি অন্তত ১৩২৬ বছর পূর্ব থেকে নিজেদেরকে আহলুস সুন্নাহ বলে পরিচয় দিয়ে আসছে। ইমাম ইবনে সিরীন রাহিমাহুল্লাহর মৃত্যুর পরে ১৩২৬ বছরের মাঝে মুসলিম উম্মাহর মাঝে নক্ষত্রের মতো যেই সমস্ত আলেম গত হয়েছেন, তাঁদের কয়েকজন হচ্ছেনঃ
- নূমান বিন সাবিত রাহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু ১৫০ হিজরী), যিনি ইমাম আবু হানীফা নামে পরিচিত।
- মালেক বিন আনাস রাহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু ১৭৯ হিজরী), যিনি ইমাম মালেক নামে পরিচিত।
- মুহাম্মদ ইবনে ইদরীস রাহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু ২০৪ হিজরী), যিনি ইমাম শাফেয়ী নামে পরিচিত।
- আহমাদ ইবনে হাম্বাল রাহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু ২৪১ হিজরী), যিনি ইমাম আহমাদ নামে পরিচিত।
- মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল রাহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু ২৫৬ হিজরী), যিনি ইমাম বুখারী নামে পরিচিত।
- মুহাম্মদ ইবনে আল-হাজ্জাজ রাহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু ২৬৪ হিজরী), যিনি ইমাম মুসলিম নামে পরিচিত।
- ইমাম তাহাবী রাহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু ৩২১ হিজরী)
- আব্দুল ক্বাদির জিলানী রাহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু ৫৬১ হিজরী)
- ইমাম নববী রাহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু ৬৭৬ হিজরী)
- ইমাম ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু ৭২৮ হিজরী)
- ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী রাহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু ৮৫২ হিজরী)
আধুনিক যুগের আলেমদের মধ্যে রয়েছেনঃ
- সৌদি আরবের বিগত প্রধান মুফতি, আল্লামাহ আব্দুল আজিজ বিন বাজ রাহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু ১৪২০ হিজরী)
- বিগত শতাব্দীর প্রধান মুহাদ্দিস, আল্লামাহ নাসির উদ্দীন আলবানী রাহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু ১৪২০ হিজরী)।
.
উপরে যাদের নাম উল্লেখ করা হলো, তাঁরা সকলেই ক্বুরানুল কারীম হিফজ করেছেন, তাঁর আয়াত সমূহ পড়েছেন, বুঝেছেন, সেইগুলো নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং সেই অনুযায়ী উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁদের সকলেই ক্বুরানুল পড়তেন, যেখানে এই আয়াতটিও পড়তেন
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তার চাইতে উত্তম কথা আর কার হতে পারে, যে ব্যক্তি মানুষকে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, নেক আমল করে এবং বলেঃ আমি একজন মুসলিম (আজ্ঞাবহ)? সুরা হা মীম আস-সাজদাহঃ ৩৩।
.
উপরে উল্লেখিত সমস্ত আলেমগণ সুরা হা মীম আস-সাজদাহর ৩৩ নাম্বার আয়াত পড়তে, বুঝতেন, কিন্তু আজ পর্যন্ত আলেমদের মধ্যে কোন একজন আলেম এই ফতোয়া দেন নি যে,
- ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন রহিমাহুল্লাহ হক্কপন্থী মুসলিমদেরকে আহলুস সুন্নাহ নামে ডেকে ভুল করেছেন।
অথবা,
- নিজেকে আহলুস সুন্নাহ বা সুন্নী নাম বলে পরিচয় দেওয়া যাবে না, দিলে সেটা সুরা হা মীম আস-সাজদাহর ৩৩ নাম্বার আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে যায়।
বরং, উপরে উল্লেখিত সমস্ত আলেমরা ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন রহিমাহুল্লাহর মতোই নিজেকে আহলুস সুন্নাহ বা সংক্ষেপে সুন্নী নামে পরিচয় দিয়েছেন। তাঁরা নিজেরাও আহলুস সুন্নাহর অনুসারীদের আকিদাহ, মূলনীতি, কর্মপদ্ধতি কি, এনিয়ে কত শত বই লিখেছেন।
.
কিন্তু ১৯৬০ সালে পাকিস্থানের মাসুদ আহমেদ বি.এস.সি. নামক জনৈক এক ব্যক্তি জামাতে মুসলিমিন নামে নতুন একটি চরমপন্থী, বিদআতী দল গঠন করলেন এবং মুসলিমদের সামনে এই থিওরী পেশ করলেনঃ
আমাদেরকে শুধুমাত্র মুসলিম বলে পরিচয় দিতে হবে, অন্য কোন নাম (যেমন সুন্নী, সালাফী) নামে পরিচয় দেওয়া চরম অপরাধ।
.
আশা করি, আমার বক্তব্য পরিষ্কার। আর পোস্টের শুরুতে একটা নাম উল্লেখ করেছি, তাঁর নাম কেনো উল্লেখ করলাম, বিস্তারিত উল্লেখ করলাম না। বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের জন্য ইশারাই যথেষ্ঠ।
.
আহলে সুন্নাহ নামে পরিচয় দেওয়া কি ক্বুরানের সাথে সাংঘর্ষিক?
https://www.facebook.com/dawati.kaj/posts/1847270068878483
.
সর্বশেষ, যারা আমাদের পেইজ আনলাইক করতে চান, আমাদেরকে গালি দিতে চান, জ্ঞান ছাড়াই কথা বলে বা তর্ক করে নিজেদের ও আমাদের সময় নষ্ট করতে চান, তাদের জন্য ক্বুরানের একটি আয়াত পেশ করে আজকের মতো এখানেই শেষ করছিঃ
উযু বিল্লাহিমিনাশ-শাইতানির রাযীম।
(হে নবী!) সুতরাং আপনি আমার বান্দাদেরকে সুসংবাদ দিন। (আমার সেই সমস্ত বান্দাদের জন্যে সুসংবাদ), যারা মনোযোগ সহকারে কথা শুনে, অতঃপর তারা মাঝে যা উত্তম, তার অনুসরণ করে। আল্লাহ তাদেরকেই সৎপথ প্রদর্শন করেন এবং তারাই হচ্ছে সত্যিকারের বুদ্ধিমান সুরা আয-যুমারঃ ১৭-১৮।

.

শনিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৭

ডা. জাকির নায়েক (পর্ব-১)

ডা. জাকির নায়েক (পর্ব-১)
Zobayer Hosain ভাই আমাদের ইনবক্সে লিখেছেনঃ
As salamu alaikum vai. Apni kmn Achen?? Apni, Zakir Naiek er shob gulo vule nia ekta post diben plz. Allah apnake valo rakhun.
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি বারাকাতুহু। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ ভালো রেখেছেন। আপনি কেমন আছেন? আল্লাহ আপনাকেও অনেক ভালো রাখুন, আমিন। আমি কিছু লিখবো ইনশা আল্লাহ।
__________________________
বর্তমান সময়ে কিছু অল্প বয়ষ্ক লোক রয়েছে যারা দাবী করছেঃ
(১) আমি শুধু ক্বুরআন ও হাদীস মানি, কোন আলেমের তাকলীদ করিনা।
(২) আলেমদেরকে মানা হারাম।
(৩) আমার জন্য শুধু ক্বুরআন ও হাদীসই যথেষ্ঠ, কোন আলেম লাগবে না।
- যদিও তারা দাবী করছে তারা শুধু ক্বুরআন ও হাদীস মানে, কিন্তু সত্যি কথা হচ্ছে তারা নিজেরা ক্বুরআন ও হাদীস পড়েনা বা জানে না। আলেম ওলামাদের সাহায্য ব্যতীত, শুধুমাত্র নিজের যোগ্যতার ক্বুরআন ও হাদীস বুঝা ও ব্যখ্যা করার মতো যোগ্যতায় তারা এখনো পৌঁছাতে পারে নি। কিছু বক্তা ও লেখকদের দুই-চারটা লেকচার শুনে আর কিছু ছোট ছোট কিছু বই পড়ে সামান্য ইলমের স্বাদ পেয়ে তারা মনে করছে, আলেম ওলামাদের সাহায্য ছাড়াই সরাসরি ক্বুরআন ও হাদীস ব্যখ্যা করার ও ফতোয়া দেওয়ার মতো যোগ্যতায় পৌঁছে গেছে। তাদের অনেকে আলেমদের মর্যাদা ও প্রয়োজনীয়তা এবং উসুলে ফিকহকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করে নিজেই ফতোয়াবাজি করে লোকদেরকে বিভ্রান্ত করছে।
- জোরে আমিন বলা, রুকুর পূর্বে ও পরে রাফউল ইয়াদাইন করা এমন দুই-চারটা আমল দেখে অনেকে তাদেরকে আহলে হাদীস বা সালাফী বলে মনে করে, অথচ আহলে হাদীস বা সালাফী দাওয়াতের সাথে এমন অজ্ঞতা-মূর্খতার কোন সম্পর্ক নেই।
- এই সমস্ত লোকেরা যদিও বলে, তারা শুধু ক্বুরআন ও হাদীস মানে, কোন আলেমের তাকলীদ করেনা। কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে, তারা ডা. জাকির নায়েকের অন্ধ অনুসরণ করে, এবং তাকে একমাত্র, অদ্বিতীয় আলেম, তার মতো আলেম দুনিয়াতে আর কেউ নেই বলে মনে করে।
__________________________
আজ আমি ডা. জাকির নায়েকের কয়েকটা ভুল তুলে ধরবো, এবং তার কিছু অনুসারী জেনেই হোক কিংবা না জেনে অন্ধভাবে তার অনুসরণ করছে, তার প্রমান আমি দিবো ইন শাল্লাহ।
__________________________
বিগত ৯-ই জানুসায়ী, ২০১৭-তে আমাদের পেইজে এটা লেখা পোস্ট করেছিলাম, যা নিন্মরূপঃ
(১) আল্লাহ কি সবকিছু করতে পারেন?
উত্তরঃ হ্যা, আল্লাহ সবকিছু করতে পারেন। দলীলঃ
وَكَانُوا أَشَدَّ مِنْهُمْ قُوَّةً ۚ وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعْجِزَهُ مِنْ شَيْءٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ ۚ إِنَّهُ كَانَ عَلِيمًا قَدِيرًا
বাংলা অনুবাদঃ আল্লাহ এমন নন যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর কোন কিছু তাঁকে ব্যর্থ করতে পারে। নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান। সুরা ফাতিরঃ ৪৪।
English Translation : Allah is not such that anything in the heavens or in the earth escapes Him. Verily, He is All Knowing, All Omnipotent. Sura Fatir: 44.
ডা. মুহসিন খান قَدِيرًا এর অর্থ করেছেন,
Omnipotent- having unlimited power, able to anything.
.
وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
বাংলা অনুবাদঃ আর তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। সুরা আল-মুলকঃ ১।
English Translation : and He is Able to do all things. Sura al-Mulk: 1.
.
(২) আল্লাহ কি সন্তান জন্ম দিতে পারেন?
উত্তরঃ সন্তান জন্ম দেওয়া আল্লাহর কাজ নয়। অথবা বলতে হবে, সন্তান জন্ম দেওয়া আল্লাহর জন্য শোভনীয় নয়। দলীলঃ
مَا كَانَ لِلَّهِ أَنْ يَتَّخِذَ مِنْ وَلَدٍ
বাংলা অনুবাদঃ সন্তান গ্রহণ করা আল্লাহর কাজ নয়। সুরা মারইয়ামঃ ৩৫।
English Translation : It befits not (the Majesty of) Allah that He should beget a son." Sura Maryam: 35.
.
(৩) কিন্তু কখনো এই কথা বলা যাবে না যে, আল্লাহ সন্তান জন্ম দিতে পারেন না, অথবা, আল্লাহ অমুক কাজ করতে পারেন না। এইভাবে বললে আল্লাহর প্রতি অক্ষমতা আরোপ করা হয়, অথচ আল্লাহ স্বয়ং নিজে বলছেন, তিনি সব কিছু করতে সক্ষম। আল্লাহ সবকিছু করতে পারেন না, আল্লাহ অমুক কাজ করতে পারেন না বললে আল্লাহর সব কিছু করার ক্ষমতাকে অস্বীকার করে তাঁর প্রতি অক্ষমতার মিথ্যা আরোপ করা হয়।
সন্তান জন্ম দেওয়া, নিজেকে ধ্বংস করা, আল্লাহর মতো দ্বিতীয় আল্লাহ সৃষ্টি করা (নাউযুবিল্লাহি মিং যালিক) - এই ধরণের কাজগুলো ঘোড়ার ডিমের মতোই অসম্ভব ও অস্তিত্বহীন কাজ। এই ধরণের কথা ও কাজ আল্লাহর সুমহান নাম, গুণাবলী ও মর্যাদার সাথে শোভনীয় নয়। কোন কাফের, মুশরেক, নাস্তিক বা মূর্খ ব্যক্তি যদি এই ধরণের প্রশ্ন করে উত্তর বলতে বলতে হবে, এই কাজ আল্লাহর সুমহান গুণাবলী ও মর্যাদার সাথে শোভনীয় নয়
.
(৪) শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, আহলে সুন্নাহর মত অনুযায়ী সবকিছুর পরেই আল্লাহ তালার ক্ষমতা রয়েছে, এবং যা বাস্তব তার সবকিছুই এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। আর এমন সব জিনিস যা সহজাতরূপেই অসম্ভব, যেমন এমন কিছু যা একই সাথে অস্তিত্ববান আবার অস্তিত্বহীন, যার মধ্যে কোন বাস্তবতা নেই এবং যার অস্তিত্ব কল্পনাও করা যায়না, পূর্ববর্তী আলেমদের ইজমা (ঐক্যমত) অনুযায়ী এমন কিছুকে কোন জিনিস হিসেবে অবিহিত করা যায়না। এর অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে (আল্লাহ কি) তাঁর অনুরূপ দ্বিতীয় কাউকে সৃষ্টি করতে পারেন ইত্যাদি এমন ধরণে কথা। মিনহাজ আ-সুন্নাহঃ ২/২৯৪
ইমাম ইবনুল কায়্যিম রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, যেই জিনিসটা অবাস্তব তা কোন জিনিস হতে পারেনা, কাজেই তাঁর (আল্লাহ) ক্ষমতার সাথে এর কোন সম্পর্কই নেই। সবকিছুর ওপরেই আল্লাহর ক্ষমতা আছে এবং কোন বাস্তব জিনিস আল্লাহর ক্ষমতার উর্ধে নয় শিফা আল-আলীলঃ ৩৭৪
(৫) আল্লামাহ সালিহ আল-ফাউজান হাফিজাহুল্লাহকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো,
প্রশ্নকর্তাঃ বর্তমান বিশ্বে একজন বিখ্যাত বক্তা দাবী করেছে, আল্লাহ সবকিছু করতে পারেন না। আমি ১০০০ জিনিসের নাম জানি যেইগুলো আল্লাহ করতে পারেন না। সে কি পথভ্রষ্ট বক্তা? আমরা কি তার ব্যপারে লোকদেরকে সতর্ক করবো?  
শায়খ ফাউজান হাফিজাহুল্লাহ উত্তরে বলেছেন, যে ব্যক্তি বলে যে, আল্লাহ সবকিছু করতে পারেন না, সে একজন মুলহিদ, সে আল্লাহর আসমা ও সিফাতের ব্যপারে ইলহাদ করেছে। এই বক্তা সত্যের উপরে প্রতিষ্ঠিত নয়।
*মুলহিদ বলা হয় এমন ব্যক্তিকে, যে আল্লাহর আসমা ও সিফাতের ব্যপারে ইলহাদ করেছে, হয় আল্লাহর আসমা ও সিফাতকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে অথবা, আল্লাহর আসমা ও সিফাতের অর্থ এমনভাবে বিকৃত করা যা আল্লাহর জন্য শোভনীয় নয়।
আমি ফতোয়াটা সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি, যারা শায়খের নিজের ভয়েস থেকে সম্পূর্ণ ফতোয়া শুনতে চান তারা এই লিংক দেখুন
https://www.youtube.com/watch?v=JpCraS7tlBY
__________________________
উপরে ক্বুরআনে আয়াত এবং শায়খ ফাউজানের প্রশ্নের উত্তর থেকে আসলে পরিষ্কার, আল্লাহ সব কিছুই করতে পারেন, এটা আল্লাহর একটা সিফাত। ক্বুরআন, হাদীস, আজ পর্যন্ত মুসলিম আলেমদের ফতোয়া - আপনারা কোথাও খুঁজে পাবেন না যে, আল্লাহ কোন কাজ করতে পারেন না। একারণে যে ব্যক্তি বলে যে, আল্লাহ ১০০০টা কাজ করতে পারেনা, সে আসলে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা অপবাদ দিলো। আর আল্লাহ সম্পর্কে যে মিথ্যা অপবাদ রচনা করে, তার সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ কি বলেছেন দেখুন, তার চাইতে বড় জালেম আর কে আছে, যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা কথা রচনা করে? সুরা কাহফঃ ১৫।
আল্লাহর কোন আসমা বা সিফাতকে অস্বীকার করাকে ইলহাদ বলা হয়। একারণে যে ব্যক্তি দাবী করে যে, আল্লাহ সব কিছু করতে পারেন না, শায়খ ফাউজানকে তার ব্যপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি তাকে মুলহিদ বলে ফতোয়া দিয়েছেন। ইলহাদ কি এবং ইলহাদ করার হুকুম কি, এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসায়মিন রহিমাহুল্লাহর ফতোয়া আরকানুল ইসলামের এই ফতোয়াটা দেখুন -
https://www.facebook.com/dawati.kaj/posts/1846373775634779?pnref=story
.
যাই হোক, আল্লাহ কি সবকিছু করতে পারেন? - আমার এই পোস্ট লিখার প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো, এক ভিডিওতে ডা. জাকির নায়েক বলেছেন, আল্লাহ সব কিছু করতে পারেন না। এমনকি কথা বাড়াতে বাড়াতে তিনি অন্য এ জায়গায় দাবী করেছেন, তিনি এক হাজারটা কাজের নাম বলতে পারবেন যা আল্লাহ করতে পারেন না। ডা. জাকির নায়েকের বক্তব্যের লিংক

(১)
আল্লাহ সব কিছু করতে পারেন? - ডা. জাকির নায়েক। (১:৪৮ সেকেন্ড)
https://www.youtube.com/watch?v=X6Ycq73ddvM
.
(২) আমি ১০০০টা জিনিসের নাম জানি, যেইগুলো আল্লাহ করতে পারেন না (৫:১৮ সেকেন্ড)
https://www.youtube.com/watch?v=2p9acLJEka0
.
(৩) আল্লাহ সব কিছু করতে পারেন বলা অযৌক্তিক (৪:১৯ সেকেন্ড)
https://www.youtube.com/watch?v=Yf5lm3aDhgY
.
নাউযুবিল্লাহি মিং যালিক। মূলত তার এই কথা থেকে লোকদেরকে সতর্ক করার জন্য আমি তার নাম উল্লেখ না করে শুধুমাত্র ভুলটা তুলে ধরেছি। স্পষ্ট কুরআনের আয়াত এবং একজন বিজ্ঞ আলেমের ফতোয়া উল্লেখ করার পরেও, তার কিছু ভক্ত কোনরূপ চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই ডা. জাকির নায়েকের এই কুফুরী কথাকে অন্ধভাবে সমর্থন করে আমাদের পোস্টে মন্তব্য করেছেন,
MD Saiful Islam : জাকির নায়েক তো ঠিক-ই বলেছে। আপনি কি অস্বীকার করতে পারবেন, আসমান, যমিন, আকাশ, পাতাল, সবখানেই আল্লাহর রাজত্ব নেই? যদি সবখানেই আল্লহর রাজত্ব থেকে থাকে, তাহলে একজন ব্যাক্তিকে আল্লাহ যেদিকেই নিয়ে যাকনা কেন, আল্লাহর রাজত্বের ভিতরেই তো সে ব্যাক্তি টি থাকবে। তা নয় কি? যদি না বুঝেন বলেন, উদাহরন দিয়ে বুঝিয়ে দিব ইনশাআল্লাহ।
দেখুন আমাদের এই ভাই ক্বুরানের কথা গ্রহণ না করে, আলেমদের বক্তব্য গ্রহণ না করে কিভাবে নিজের পছন্দের ব্যক্তির কুফুরী কথাকে ভ্রান্ত যুক্তি দিয়ে অন্ধভাবে সমর্থন করছেন। এটা যদি তাকলীদ না হয়, তাহলে তাকলীদ কাকে বলে।
Mizanur Rahman নামক অন্য একজন এক ডিগ্রী বেশি মন্তব্য করেছেন, জাকির নায়েকের কথা ঠিক আছে। তার কথা অনেক উচ্চাঙের, তাই অনেকে ভুলও বুঝে ফেলে
আমরা যখন চরমোনাই পীরের শিরক ও বিদাতের সমালোচনা করি তখন তাঁর মুরিদেরাও ঠিক এইভাবে দাবী করে যে, তাদের পীরের কথা অনেক উঁচু পর্যায়ের, আমরা নাকি বুঝতে পারছিনা!
তাহলে এই সমস্ত পীর-মুরিদের সাথে আমি শুধু ক্বুরআন ও হাদীস মানি এই যিকিরকারী অন্ধভক্তদের পার্থক্য থাকলো কোথায়?
26 June 2016 এই তারিখে Shahidul Islam Naik নামক এক লোক ডা. জাকির নায়েকের আল্লাহ সবকিছু করতে পারেন না এই কথার পক্ষে কলম ধরতে গিয়ে সে প্রশ্ন করেছে, আপনি কি বিশ্বাষ করেন আল্লাহ সবকিছু করতে পারেন? আমরা মুসলিমরা কখনোই বলিনা আল্লাহ সব কিছু করতে পারেন
এটা আশ্চর্যের কোন বিষয় নয় যে, Shahidul Islam Naik এর এমন অজ্ঞতাপূর্ণ কুফুরী কথাতেও ৩৬০ জন অবিবেচক মানুষ লাইক দিয়ে রেখেছে, আর ৫০-৬০ জন কমেন্টে লেখাটিতে বাহবা দিচ্ছে। আপনারা ভুলে যাবেন না, বর্তমানে আমরা কিয়ামতের পূর্বের সে জামানায় আছি, যেই জামানা সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে পূর্বেই সতর্ক করেছিলেন, কেয়ামতের পূর্বে অজ্ঞতা ব্যপকতা লাভ করবে অন্য হাদীসে আছে, অজ্ঞতা (এতো বেশি হবে যেন) বৃষ্টির মতো বর্ষিত হবে

শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

আলেম কে, আলেমের যোগ্যতা কি?

_____________________________________
মুফতী কাকে বলা হয়?
যেই আলেমের ইজতেহাদ করে অর্থাৎ, ক্বুরান ও হাদীস গবেষণা করে ফতোয়া দেওয়ার মতো যোগ্যতা রয়েছে, তাকে মুফতী বলা হয় ফতোয়া হচ্ছে দ্বীনের কোন বিষয়ে মতামত দেওয়া যেমন, কোন আলেমকে জিজ্ঞেস করা হলো, অমুক কাজটা কি হালাল নাকি হারাম? এর উত্তরে তিনি বললেন, ক্বুরান ও হাদীসের উপরে আমার গবেষণা অনুযায়ী এই কাজটি হারাম অথবা, শরিয়তের দৃষ্টিতে এই কাজটি হারাম এমন বলা, এটা হচ্ছে সেই আলেমের ফতোয়া কোন আলেম কোন কিছুকে হালাল বা হারাম বানাতে পারেনা, হালাল বা হারাম বলার মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলার মুফতিরা শুধুমাত্র ক্বুরান ও হাদীস গবেষণা করে বের করেন, আল্লাহ এটাকে হালাল করেছেন নাকি, হারাম করেছেন   
একজন আলেমের কোন ফতোয়া সঠিক হতে পারে, আবার ভুলও হতে পারে কারণ, আলেমরাও মানুষ, তাই কোন আলেমের ফতোয়া ভুল হওয়াটা স্বাভাবিক তবে ফতোয়া ভুল হোক আর সঠিক হোক, আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্যে দ্বীনের ব্যপারে কোন প্রশ্নের উত্তর বের করার জন্যে তিনি যে কষ্ট করে গবেষণা করেছেন, এর বিনিময়ে তার জন্যে সওয়াব রয়েছে কোন আলেম যদি গবেষণা করে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন এবং সঠিক ফতোয়া দেন, তাহলে তার জন্যে দুইটি পুরষ্কার রয়েছে একটি পুরষ্কার হচ্ছে গবেষণা করার জন্যে, আরেকটি হচ্ছে সঠিক ফতোয়া দেওয়ার জন্য আর কোন যোগ্য আলেম যদি নিষ্ঠার সাথে চেষ্টা করেন, কিন্তু সঠিক সিদ্ধান্তে পোঁছাতে সক্ষম না হন, তবুও তার চেষ্টার জন্যে তিনি একটি পুরষ্কার পাবেন কোন আলেমের ফতোয়া ভুল হোক আর সঠিক হোক, আমাদের কাছে তাঁরা সব সময়েই সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী
আলেমদের মাঝে সবাই মুফতী নন অর্থাৎ, অনেকে আলেম হতে পারেন, ক্বুরান ও হাদীস সম্পর্কে একজন ব্যক্তি অনেক জ্ঞানী হতে পারেন, কিন্তু তার মানে এই না যে, তিনি একজন মুফতি আলেমদের মাঝে সবচাইতে জ্ঞানী, পরহেজগার, সুন্নতের অনুসারী, প্রখর স্মৃতিশক্তি ও তীক্ষ্ণ মেধা সম্পন্ন জ্ঞানী, যারা ইজতেহাদ করার মতো যোগ্যতায় পৌঁছাতে সক্ষম হন, তাঁরা হচ্ছেন মুফতি একজন আলেমের ফতোয়া দেওয়ার মতো যোগ্যতা অর্জনের জন্যে কিছু শর্ত পূরণ করতে হয় আমাদের দেশের কওমী মাদ্রাসার অনেকে মনে করেন, কোন ব্যক্তি এতো হাজার ফতোয়া মুখস্থ বলতে পারলে সে একজন মুফতি, এটা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত একটা ধারণা অন্য আলেমদের ফতোয়া মুখস্থ করে যে ব্যক্তি তার অন্ধ অনুসরণ করে, সে কোনদিন মুফতি হতে পারেনা, বরং তিনি একজন মুকাল্লিদ বা অন্ধ অনুসারী কোন আলেম নিজস্ব যোগ্যতার ভিত্তিতে ফতোয়া দিয়ে, এবং অন্য আলেমদের কাছেও মুফতি হিসেবে গ্রহণযোগ্য এবং স্বীকৃত হলে, তাঁকে আমরা একজন মুফতি বলতে পারি
মুসলমানদের প্রাণের ভূমি, ইসলামের কেন্দ্র, মক্কা মদীনার দেশ সৌদি আরবের বর্তমান প্রধান মুফতির নাম হচ্ছে, শায়খ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ আহলুশ-শায়খ হাফিজাহুল্লাহ বর্তমান সারা বিশ্বের মাঝে জীবিত আলেমদের মাঝে তিনি শীর্ষস্থানীয় একজন আলেম হিসেবে বিবেচিত ১৯৯৯ সালে সৌদি আরবের প্রাক্তন প্রধান মুফতি আল্লামাহ আব্দুল আজিজ বিন বাজ রাহিমাহুল্লাহ মৃত্যুবরণ করার পর শায়খ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ আহলুশ-শায়খ সম্মানিত এই আসনের উত্তরাধিকারী হিসেবে নির্বাচিত হন উল্লেখ্য, আপনারা প্রতিবছর হজ্জের সময় ৯-ই জিলহজ্জ আরাফাহর ময়দানে ইহরামের সাদা পোশাক পড়া অবস্থায় যাকে খুতবা দিতে দেখেন, তিনিই হচ্ছেন শায়খ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ আহলুশ-শায়খ সুবহানাল্লাহ, এটা আল্লাহর একটা নিয়ামত যে, তিনি একাধারে বিগত ৩৪ বছর ধরে আরাফার ময়দানে খুতবা দিয়ে আসছেন শায়খ এর জন্ম হয়েছিলো ১৯৪ সালে, অর্থাৎ বর্তমানে তাঁর বয়স ৭৩ বছর মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলেন আল্লাহ তাঁর দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেন, কিন্তু এর পরিবর্তে তাঁকে সবচাইতে মূল্যবান জিনিস দ্বীনের জ্ঞান দান করেন ফা লিল্লাহিল হামদ
সৌদি আরবের আরেকজন বড় আলেম, শায়খ সালেহ আল-ফাওজান হাফিজাহুল্লাহ মুফতি হিসেবে আরব, অনারব সর্বত্র অত্যন্ত পরিচিত এবং গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তিত্ব বিগত শতাব্দীর শীর্ষস্থানীয় দুইজন আলেম ও মুফতি, শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ রাহিমাহুল্লাহ এবং শায়খ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমিন রাহিমাহুল্লাহ-কে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো, আপনার পরে ফতোয়া নেওয়ার জন্যে আমরা কার কাছে যাবো? তাঁদের দুইজনেই প্রথমেই যারা নাম বলেছিলেন এবং যার প্রশংসা করেছিলেন তিনি হচ্ছেনঃ শায়খ সালেহ আল-ফাওজান শায়খ সালেহ আল-ফাওজান হাফিজাহুল্লাহ ১৯৩৩ সালে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন, বর্তমান (২০১৬ সালে) তাঁর বয়স হচ্ছে ৮৩ বছর আকিদাহ, ফিকহ এবং দ্বীনের অনেক বিষয়ের উপরে তাঁর অসংখ্য কিতাব রয়েছে, যার অনেকগুলো ইতিমধ্যে বাংলা, ইংরেজীসহ বিশ্বের বিভিন্ন ভাষাতে অনুদিত হয়েছে
__________________________________________
দ্বীনের জ্ঞান অর্জনের ব্যপারে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ
বর্তমানে টেলিভিশন, ইউটিউব, ফেইসবুক কিংবা ইন্টারেন্টে এমন অনেক জনপ্রিয় বক্তা বা লিখক আছে, যাদেরকে মানুষ বড় আলেম বা দ্বাইয়ী মনে করে, কিন্তু তারা সালফে সালেহীন (সাহাবীদের) আক্বীদাহ (ধর্মীয় বিশ্বাস) ও মানহাজে (কর্ম পদ্ধিত বা চলার নীতিতে) বিশ্বাসী নয় কিন্তু তারা সেটা প্রকাশ করেনা বা তাদের আক্বিদাহ কি, তা কখনো স্পষ্ট করে বলেনা অনেক সময় তারা মনভোলানো যুক্তি ও কথার দ্বারা আহলে সুন্নাহর বিরোধীতা করে এবং কৌশলে তার ভক্ত-শ্রোতাদেরকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টায় লিপ্ত থাকে এমন ব্যক্তি যারা মূলত বিদআতের অনুসারী, কিন্তু মানুষের কাছে নিজেদের বিদআতকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে, তাদের চেনার সহজ উপায় হচ্ছেঃ সে কার সাথে বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা রাখে, সে কোন ব্যক্তিদের সাথে উঠা-বসা করে, কার প্রশংসা করে, সেইদিকে লক্ষ্য করা কারণ, একজন মানুষ সাধারণত তার বন্ধুর দ্বীনের অনুসারী হয়ে থাকে
(১) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, একজন মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের অনুসারী হয়ে থাকে সুতরাং সে যেনো লক্ষ্য রাখে, সে কার সাথে বন্ধুত্ব করছে তিরমিজিঃ ২৩৭৮, হাদীসটি হাসান সহীহ, শায়খ আলবানী রাহিমাহুল্লাহ
(২) এজন্যেই ইমাম আল-আউযায়ী (মৃত্যু-১৫৮ হিজরী) রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের কাছে তার বিদআতকে লুকিয়ে রাখে, সে কখনো আমাদের কাছে তার সংগীদেরকে লুকিয়ে রাখতে পারবেনা আল-ইবানাহঃ ২/৪৭৬
অনেকে ইসলামী বক্তা ও লেখক প্রকাশ্য বিদআতি ব্যক্তি বা দলগুলোকে বিভিন্ন যুক্তি দিয়ে সমর্থন করার চেষ্টা করে এমন ব্যক্তিদের ব্যপারেও আমাদের আলেমরা সতর্ক করেছেন
(৩) ইমাম ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি বিদআতিদের প্রতি সু-ধারনা রাখে এবং এই দাবি করে যে, তাদের অবস্থা অজ্ঞাত, তাহলে তাকে তাদের (বিদআতিদের) অবস্থা সম্বন্ধে অবহিত করতে হবে সুতরাং, সে যদি বিদাতীদের ব্যপারে বিরোধী মনোভাবাপন্ন না হয়, এবং তাদের প্রতি প্রতিবাদমূলক মনোভাব প্রকাশ না করে, তাহলে তাকেও বিদআতিদেরই মতাবলম্বী ও দলভুক্ত বলে জানতে হবে মাজমুয়া ফাতাওয়াঃ ২/১৩৩ 
(৪) শায়খ সালিহ আল-লুহাইধান হাফিজাহুল্লাহ কে প্রশ্ন করা হয়েছিলো,
প্রশ্নকর্তাঃ এক ব্যক্তি আহলে সুন্নাহ এবং আহলে বিদআহ সবার সাথেই বসে এবং বলে, এখন উম্মতের মাঝে অনেক বিভক্তি হয়েছে, তাই আমি সবার সাথেই বসি এমন দ্বাইয়ীদের ব্যপারে কি বলা হবে?
উত্তরে শায়খ বলেনঃ সে একজন বিদআতি উম্মতের ঐক্যের স্বার্থে হক্ক (আহলে সুন্নাহ) ও বাতিল (আহলুল বিদআহ, যেমন শীয়া, সূফী, খারেজী ইত্যাদি দলের মাঝে) কোন পার্থক্য না করা, এটা একটি বিদআ আমরা তার হেদায়েতের জন্য দুয়া করি
বিঃদ্রঃ আমার এই লেখায় নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তি বা দলের নাম উল্লেখ করা হলোনা কারণ, তা অনেক সময় মানুষের জন্যে ফিতনাহ হয়ে দাঁড়ায় কোন ব্যক্তি বা দলের প্রতি আবেগ বা ভালোবাসার কারণে অনেকে লেখার মূল উদ্দেশ্য নিয়ে ভুল বুঝেন আমাদের উদ্দেশ্য মানুষের মাঝে ইলম তুলে ধরা, গ্রহণ করা বা না করা সেটা সবার নিজ নিজ ব্যক্তিগত ব্যপার
(৫) সর্বশেষ, প্রখ্যাত তাবেয়ী বিদ্বান, ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন রহিমাহুল্লাহ এর মূল্যবান একটা উপদেশ দিয়ে এখানেই শেষ করছি তিনি বলেছেন, নিশ্চয়ই এই ইলম , এটাই হচ্ছে তোমার দ্বীন সুতরাং, তোমরা কার নিকট থেকে ইলম অর্জন করছো, তার সম্পর্কে ভালো করে জেনে নিও সহীহ মুসলিম, মুকাদ্দিমা
__________________________________________
আলেম কে? বর্তমান যুগের আলেম কারা? বিসমিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ
ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহ
আম্মা বাআ আজকাল মানুষ যাদেরকে আলেম বলে মনে করেঃ
১. টিভিতে কাউকে কুরআন ও হাদীস নিয়ে কিছু কথা বলতে দেখলে,
২. কুরান হাদীসের মনগড়া ব্যখ্যা করে কিছু লেখালিখি করতে পারলে,
৩. ইউটিউব বা ইন্টারনেটে কিছু ওয়াজ-লেকচার ছেড়ে জনপ্রিয়তা পেলে,
৪. ফেইসবুক, টুইটারে কয়েক লক্ষ লাইক, ফলোয়ার বা একনিষ্ঠ মুরীদ জোটাতে পারলে,
৫. বড় কোন মাদ্রাসা বা সংগঠনে পজিশান বা ক্ষমতা দখল করে বসে থাকলে,
৬. মুফতি, মুহাদ্দিস হিসেবে সার্টিফিকেট নিতে পারলে অথবা নামের পূর্বে মাওলানা, শায়খ ইত্যাদি টাইটেলে যোগ করলে,
৭. হৃদয় গলানো বা গরম গরম আবেগী বক্তৃতা দিয়ে বা মনভুলানো কিছু লেখালিখি করে মানুষের মগজ ধোলাই করতে পারলে
যাই হোক, এইগুলো কি আসলেই কারো আলেম হওয়ার জন্য যথেষ্ঠ?
ইসলাম কি আমাদের এই শিক্ষা দেয় যে, এই গুণগুলো কারো মাঝে থাকলেই সে আলেম হয়ে যাবে?
আমাদের পূর্ব যুগের মুসলমানেরা এইভাবে মানুষকে আলেম হিসেবে গ্রহণ করতোনা কারণ আমরা যারা সাধারণ মানুষ, দ্বীন সম্পর্কে, কুরআন ও হাদীস সম্পর্কে জ্ঞানী না, তাদের সামনে যদি একজন মূর্খ লোকও সামান্য কিছু পড়াশোনা করে আলেমের লেবাস ধরে, আমরা কিন্তু ধরতে পারবোনা এই লোকটা আসলেই কি একজন আলেম? নাকি আলেম না হয়েও আলেম সেজে আমাদেরকে ধোঁকা দিচ্ছে? যেমন একজনু জুহুরীই কেবলমাত্র চিনতে পারে কোনটা আসল রত্ন কোনটা সস্তা পাথর, একজন স্বর্ণকারই চিনতে পারে কোনটা খাঁটি স্বর্ণ আর কোনটা সিটি গোল্ড বা ইমিটেশান ঠিক তেমনি একজন প্রকৃত আলেমই আসলে চিনতে পারেন, কে আলেম আর কে জাহেল (মূর্খ)
এজন্য সাহাবীদের পর থেকে তাবেয়ীদের যুগ থেকে, যখন থেকে মুসলমানদের মাঝে উলামায়ে সু (মন্দ বা পথভ্রষ্ট আলেম) ও আয়াম্মায়ে দ্বোয়াল্লিন (পথভ্রষ্ট ইমাম বা নেতা) মুসলিম উম্মাহর মাঝে প্রবেশ করেছে, তখন থেকেই আমাদের আলেমরা বার বার সতর্ক করে গেছেনঃ ইসলাম শেখার জন্য যাকে-তাকে উস্তাদ বা শিক্ষক হিসেবে গ্রহণ না করার জন্য অপরিচিত কোন ব্যক্তি, যাকে সম সাময়িক আলেমরা চিনেন না, বা যারা আলেমদের কাছ থেকে দ্বীন শিখেনি, তাঁদের সাথে কোন সম্পর্ক রাখেনা, তাদের কথা বা ওয়াজ-লেকচারা শোনা বা বই না পড়ার দ্বীনের ব্যপারে প্রকৃত আলেম ছাড়া অপরিচিত, অজ্ঞ লোকদেরকে আলেম মনে করে তাদের কথা বিশ্বাস করবেনা যদি করো, তাহলে যেন তুমি তোমার দ্বীনকেই ধ্বংস করলে!
অপরিচিত (অজ্ঞ/বেদাতী) লোকদের কথা শোনা খুবই মারাত্মক একটা বিষয় কারণ অতীত থেকে আজ পর্যন্ত এমন অনেক ঘটনাই হয়েছে যে একজন অপরিচিত লোক, সে কি প্রকৃত আহলে সুন্নাহ নাকি আহলে বিদআ'ত ভালোভাবে খোজ না নিয়েই তার কথা শুনেছে আর ধোঁকাবাজ, চতুর লোকেরা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে কৌশলে শিরক-বিদআ'ত ও তাদের গোমরাহী সুন্দরভাবে সাধারণ মানুষের সামনে উপস্থানপন করেছে প্রথম প্রথম অনেকেই, উনার কথা শুনতে ভালো লাগে, সেতো কুরান হাদীসের কথাই বলছে এই যুক্তিতে তার কথা শুনেছে, কিন্তু জ্ঞানের অভাবে তার ভুল অথবা শিরক-বিদআ'ত ধরতে না পেরে অনেক সৎ ও ধার্মিক মুসলমানও শেষ পর্যন্ত সেই সমস্ত শিরক-বিদআ'তগুলোর মাঝে পতিত হয়ে তাদের দ্বীনকে ধ্বংস করেছে আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি
এজন্য আলেমরা অপরিচিত কেউ এবং কেউ প্রকৃত আহলে সুন্নত নাকি ভেজাল আহলে সুন্নত, আহলে বিদআতের লোক কিনা, আলেম নাকি জাহেল, এই বিষয়গুলো ভালোভাবে যাচাই না করে তার কাছ থেকে ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান নিতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন
এই ব্যপারে প্রখ্যাত তাবেয়ী, ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন রাহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু ১১০ হিজরী), তিনি বলেছেন, এই যে জ্ঞান (দ্বীনের ব্যপারে), এটাই হচ্ছে তোমার দ্বীন সুতরাং, কার কাছে থেকে তুমি দ্বীনের জ্ঞান নিচ্ছ সেই ব্যাপারে সতর্ক থাকো সহীহ মুসলিম  
এইজন্য আমার যাকে ভালো লাগে, যার বই পড়ে বা ওয়াজ শুনে আমার কাছে বড় আলেম, জ্ঞানী ব্যক্তি মনে হয়, তাকেই আলেম হিসেবে মনে করা মারত্মক ভুল বরং দেখতে হবে, যার ব্যপারে কথা হচ্ছে, তার ব্যপারে তার পূর্বে যারা আলেম ছিলেন, তারা কি তাকে একজন আলেম বলে মনে করতেন, নাকি জাহেল (মূর্খ) বলে মনে করতেন?
ইলম বা দ্বীনের জ্ঞান আকাশে বাতাসে ঘুরে বেড়ায় না, যার ইচ্ছা নিয়ে সে আলেম হয়ে যাবে অথবা এমনটা ঠিকনা যে, বই পড়েই কেউ আলেম হয়ে যাবে এটা ঠিক ভালো কিছু বই পড়ে, বা কিছু উপকারী কথা শুনে আমার ইলম বাড়বে, কিন্তু তার মানে এইনা যে এর দ্বারা আমি বড় কোন মুফতি, আলেম, আল্লামাহ হয়ে যাবো যেমন কেউ নিজে নিজে ডাক্তারীর উপরে কিছু বই পড়েই ডাক্তার হয়ে যায়না, তার জন্য তাকে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে হবে, প্রফেসর ডাক্তারদের কাছ থেকে হাতে-কলমে ডাক্তারী শিখতে হবে ঠিক তেমনি কেউ নিজে নিজে শুধু কুরআন হাদীস পড়েই আলেম হয়ে যেতে পারেনা তাকে অবশ্যই আলেমদের কাছে যেতে হবে, দীর্ঘদিন ধরে তাদের সাথে থেকে, তাদের সাথে সময় কাটিয়ে কুরআন ও হাদীস সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে হবে এইভাবে আলেমদের সাথে ছাত্র-শিক্ষকের যে সম্পর্ক তৈরী হবে, এর মাধ্যমেই আসলে পরবর্তী প্রজন্মের আলেম তৈরী হয় অর্থাৎ, পূর্বের যারা আলেম, তাঁরা তাদের ছাত্রদের মাঝে যারা জ্ঞানী, বিচক্ষণ, আল্লাহওয়ালা তাদেরকে আলেম বলে ঘোষণা করে যান উম্মতের লোকদেরকে তাদের কাছ থেকেই উপকৃত হতে নসীহত করে যান
এর উদাহরণ হিসেবে ইমাম মালেক এর বিখ্যাত ঘটনা বলা যেতে পারে ইমাম মালেক রাহিমাহুল্লাহ বলেছিলেনঃ আমি ততদিন পর্যন্ত কোন ফাতওয়া দেইনি, যতদিন পর্যন্ত না ৭০ জন আলেম আমাকে ফাতওয়া দিতে বলেছেন
অর্থাৎ ইমাম মালেক নিজে থেকে কোন ফাতওয়া দেন নি (অর্থাৎ আলেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নি), যতদিন পর্যন্ত না ৭০ জন আলেম তাকে আলেম বলে ঘোষণা করেছেন এইভাবে পূর্ববর্তী আলেমরা যখন কাউকে আলেম হিসেবে ঘোষণা করেন, আমরা সাধারণ মানুষেরা ঐ আলেমদেরকে অনুসরণ করবো, তাদের কাছ থেকে ইলম নেবো তবে অন্ধভাবে নয়, কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে
মুসলিমদের চিরাচরিত নীতি অনুযায়ী, বর্তমান যুগের আলেম কে এটা জানার জন্য আমরা দেখবো এর আগের যুগে যারা আলেম ছিলেন তারা কাকে আলেম বলে ঘোষণা করেছেন বিগত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ আলেমদের মাঝে সৌদি আরবের সাবে প্রধান মুফতি আল্লামাহ শায়খ আব্দুল আজীজ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বাজ রাহিমাহুল্লাহ, শীর্ষস্থানীয় অন্য আরেকজন আলেম আল-ফকীহ, শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমিন, এই দুইজনকেই যখন প্রশ্ন করা হয়েছিলোঃ আপনাদের পরে ফতোয়া নেওয়ার জন্য আমরা কার কাছে যাবো? তারা দুইজনেই সবার প্রথম যার কথা বলেছিলেন তিনি হচ্ছেনঃ আল্লামাহ সালেহ আল-ফাওজান হাফিজাহুল্লাহ উল্লেখ্য শায়খ বিন বাজ, শায়খ উসাইমিনসহ আরো অন্যান্য বড় বড় আলেমরা আমাদেরকে শায়খ ফাওজানের কাছ থেকে ইলম নিতে বলেছেন
এমনিভাবে বর্তমান যুগে জীবিত আছেন, এমন আরো কিছু আলেমদের নাম নিচে দেওয়া হলো উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গা ছাড়াও আহলে সুন্নতের আরো কিছু বড় আলেম রয়েছেন, আল্লাহ তাদের সকলকে হেফাজত করুন, আমিন
১. শায়খ সালেহ আল-ফাওজান হাফিজাহুল্লাহ
২. শায়খ আব্দুল আজীজ ইবনে আব্দুল্লাহ আর-রাজিহি হাফিজাহুল্লাহ
৩. শায়খ আব্দুল আজীজ আলে-শায়খ হাফিজাহুল্লাহ
৪. শায়খ সুলায়মান আর-রুহাইলি হাফিজাহুল্লাহ
৫. শায়খ আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ হাফিজাহুল্লাহ
৬. শায়খ রাবী বিন হাদী আল-মাদখালী হাফিজাহুল্লাহ
৭. শায়খ সালেহ বিন আব্দুল আজীজ আলে-শায়খ হাফিজাহুল্লাহ
৮. শায়খ উয়াসী উল্লাহ আব্বাস হাফিজাহুল্লাহ
৯. শায়খ সালেহ আল-লুহাইধান হাফিজাহুল্লাহ
১০. শায়খ উবায়েদ আল-জাবেরী হাফিজাহুল্লাহ
১১. শায়খ সালেহ আস-শুহাইমি হাফিজাহুল্লাহ
১২. শায়খ ফালাহ ইসমাঈল মান্দিকার হাফিজাহুল্লাহ
১৩. শায়খ মুহাম্মদ রামাজান আল-হাজিরি হাফিজাহুল্লাহ
১৪. শায়খ মুহাম্মাদ সাঈদ রাসলান হাফিজাহুল্লাহ
১৫. শায়খ আব্দুর রাজ্জাক বিন আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ হাফিজাহুল্লাহ
*******************************
আলেম কে? একজন আলেম এর কি কি যোগ্যতা থাকা চাই?
এই পোস্টটি লিখেছেনঃ শায়খ আব্দুর রাকীব বুখারী
বাংলা ভাষায় দ্বাইয়ীঃ খাফজী ইসলামিক সেন্টার সৌদি আরাবিয়া
এই বিষয়টির উপর ৪০০ হিজরীর একজন বড় আলেম, ইমাম আব্দুল বার (রহঃ) তার জামি বায়ানুল ইলম ওয়াল-ফাজলি নামক কিতাবে একজন আলেম হওয়ার জন্য যে সমস্ত শর্ত আরোপ করেছেন, নিম্নে তা উল্লেখ করা হল
(১) ক্বুরানুল কারীম সম্পর্কে জ্ঞান
হাফেজে কিতাবুল্লাহ, ৩০ পারা অর্থাৎ সম্পূর্ণ ক্বুরানুল কারীম তার মুখস্থ থাকতে হবে কোন ব্যক্তির আলেম হওয়ার জন্য এটা আব্যশক, তবে ওয়াজিব নয়
=> জরুরী হল আয়াতে আহকাম অর্থাৎ যে সমস্ত আয়াতগুলো হুকুম (আদেশ-নিষেধ) আছে সেগুলো হিফজ করা
=> আয়াতের শানে নুজুল ও তাফসির জানা
=> ক্বুরান বোঝার জন্য সকল উৎস জানা
=> নূন্যতম ১০ পারা হিফজ করা
(২) হাদীস বা সুন্নাহ সম্পর্কে জ্ঞান
কুতুবে সিত্তাহ তথা প্রসিদ্ধ ৬টি হাদীসের কিতাব আর সেইগুলো হচ্ছে,
ক. সহীহ বুখারী, খ. সহীহ মুসিলীম,
গ. জামি তিরমিজি, ঘ. সুনানে আবু দাউদ,
ঙ. সুনানে নাসাঈ, চ. সুনানে ইবনে মাজাহ
(এবং) অন্যান্য হাদীসের কিতাবগুলো যেমন,
সুনানে দারেমি,
মুসনাদে আহমাদ
বাইহাক্বী ও
সহীহ ইবনে খুজাইমা
এই সমস্ত কিতাবের সবগুলো হাদিসে কারিমা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা, কোনটা সহীহ, কোনটা জাল বা জয়ীফ বিস্তারিত তাহকীক সহ
(৩) ৫টি কিতাব সম্পর্কে জ্ঞান
উপরে বর্ণিত হাদীসের কিতাবগুলো থেকে সংকলন করা গুরুত্বপূর্ণ কিছু হাদীস নিয়ে ৫ জন ইমামের লিখিত পাঁচটি কিতাব সম্পর্কে একজন আলেম এর ইলম থাকা জরুরী সেই কিতাবগুলো হচ্ছে
ক. বুলুগুল মারআম মিন আদিল্লাতীন আহকাম
খ. উমদাতু আল-আহকাম
গ. আল মোহাররার হাদিসিল আহকাম
ঘ. আল ইলমাম
ঙ. মিশাকাতুল মাসাবিহ
(৪) উসুলে হাদিসের ইলম বা হাদীস শাস্ত্রের মূলনীতি সম্পর্কে জ্ঞান
(৫) উসুলে ফিকহের ইলম বা ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি সম্পর্কে জ্ঞান
(৬) আরবি গ্রামার এর ইলম
(৭) নাসেখ, মানসুখের ইলম
(৮) নাহু ছরফের ইলম
(৯) ইজমা এ উম্মাহ বা উম্মতের ঐক্যমতের দলিল জানা ইত্যাদি
সমাপ্ত
পরিশেষে বলছি, এই গুণগুলোর অধিকারী এমন ব্যক্তি যাকে একজন আলেম হিসাবে মানা যায়, আমাদের দেশে এই রকম কেউ আছে বলে আমি (আব্দুর রাকীব বুখারী) জনিনা
জাজাকাল্লাহু খাইরান এডমিন কর্তৃজ কিছুটা সম্পাদিত আপনারা আরো জানার জন্য শায়খের এই লেকচারটা দেখুন
আলেম কাকে বলে এবং আলেমদের পরিহাস করা কেমন?

https://www.youtube.com/watch?v=byX8867pyvk&feature=youtube_gdata_player