হজ্জ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
হজ্জ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৬

ইসলামের পঞ্চম রুকন বা স্তম্ভ হচ্ছে হজ্জ

#হজ্জ
(১) ইসলামের পঞ্চম রুকন বা স্তম্ভ হচ্ছে হজ্জ।
(২) সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের জন্যে জীবনে একবার হজ্জ করা ফরয।
(৩) কেউ যদি প্রাপ্ত বয়ষ্ক অবস্থায়, হালাল সম্পদ দ্বারা একবার হজ্জ করে, সেটা নিজের হোক বা বৈধ উপায়ে প্রাপ্ত অন্যের সম্পদ দ্বারা হোক, জীবনে তার উপর হজ্জ করা আর কখনো ফর‍য হবে না।
(৪) নাবালক অবস্থায় কেউ হজ্জ করলে, সাবালক হলে আর হজ্জ করার সামর্থ্য থাকলে, তখন তাকে পুনরায় হজ্জ করতে হবে।
(৫) নারীদের জন্যে মাহরাম পুরুষ ছাড়া একাকী হজ্জ করতে যাওয়া জায়েজ নয়। বোনের স্বামী মাহরাম নয়, শ্বশুড় মাহরাম।
(৬) রসুল সাঃ হজ্জ করেছেন জীবনে একবার।
(৭) রসুল সাঃ বলেছেন, কবুল হয়েছে এমন হজ্জের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই না। আল্লাহু আকবার।
(৮) কাবাকে বায়তুল্লাহ বা আল্লাহর ঘর বলা হয়। আর কাবা ঘরকে কেন্দ্র করে নির্মিত মসজিদকে মসজিদুল হারাম বলা হয়। এখানে হারাম অর্থ সম্মানিত, যেখানে রক্তপাত নিষিদ্ধ।
(৯) সহীহ হাদীসে রয়েছে, মসজিদুল হারামে নামাযের সওয়াব অন্য যেকোন মসজিদের তুলনায় এক লক্ষ গুণ বেশি। সুবহানাল্লাহ!
(১০).যার জন্যে হজ্জ ফরয হয়েছে, তাদের জন্যে হজ্জ কিভাবে করতে হবে, সেটা শিক্ষা করাও ফরয। হজ্জ যখনই করুন, তার অনেক পূর্ব থেকেই এর নিয়ম কানুন শিখার চেষ্টা করুন। মানুষ ২-১ মাসে, ছোট ছোট কিছু বই পড়ে হজ্জের মতো এতো বড় ইবাদত পূর্ণাংগভাবে শিখতে পারেনা, এর জন্যে সময় ও মেহনত দিতে হবে।
(১১) বিনা কারণে হজ্জ পিছানো গর্হিত ও ঘৃণিত একটা কাজ। যখনই সামর্থ্য হবে আর সম্ভব হবে তখনই হজ্জ করে নিন। বিনা কারণে হজ্জে দেরী করা অজ্ঞ ও বোকা লোকদের কাজ। এটা শয়তানী একটা ধোঁকা।
(১২) পিতা-মাতার অনুমতি না থাকলে, বা পিতা-মাতার পূর্বে হজ্জ করা যাবেনা, ছেলে-মেয়ে বড়া নাহলে, সাবালিকা মেয়ের বিয়ে না দিয়ে হজ্জে যাওয়া ঠিক না এইগুলো সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা ও অজ্ঞ লোকদের মনগড়া ফতোয়া।
(১৩) রসুল সাঃ এর কবর জিয়ারত করা বা মদীনা শহর দেখতে যাওয়া হজ্জের কোন অংশ নয়।
(১৪) হজ্জ তিনভাবে করা যায়ঃ তামাত্তু, কিরান ইফরাদ।
ক - তামাত্তু হচ্ছেঃ প্রথমে শুধু উমরার নিয়ত করবে, উমরা করে ইহরাম থেকে ফারেগ হয়ে যাবে। পরে ৮-ই জিলহজ্জ তারিখে হজ্জের জন্যে নিয়ত করে ইহরাম বাঁধবে। অর্থাৎ, তামাত্তু হজ্জে উমরা ও হজ্জ দুটোই করা হয়, তবে আলাদা আলাদা নিয়তে, এবং মাঝখানে ইহরাম থেকে ফারেগ হয়ে দুইটিকে পৃথক করা হয়। তামাত্তু করা উত্তম, এবং রাসুল সাঃ এটাকে পছন্দ করেছিলেন, যদিও তার সাথে হাদঈ (কুরবানীর পশু) থাকার কারণে তিনি নিজে কিরান হজ্জ করেছিলেন।
খ - কিরান হচ্ছেঃ প্রথমেই উমরা ও হজ্জের নিয়ত একই সাথে করা হয়, এবং উমরা করে ইহরাম অবস্থাতে থেকে ৮ তারিখ পর্যন্ত হজ্জের অপেক্ষাতে থাকবে। কিরানে উমরা ও হজ্জ একই নিয়তে করা হয়।
গ - ইফরাদ হচ্ছে শুধুমাত্র হজ্জের নিয়ত করা, উমরা না করা।
(১৫) মসজিদে নববী সাঃ জিয়ারত করা সওয়াবের কাজ। আর এই উদ্দ্যেশ্যে মদীনায় সফর করা জায়েজ রয়েছে। কিন্তু রসুল সাঃ এর কবর দেখার নিয়তে মদীনায় সফর করা জায়েজ নয়। বিষয়টা মনোযোগ দিয়ে বুঝার চেষ্টা করুন। নিয়ত করতে হবেঃ মসজিদে নববী সাঃ দেখা, আর সেখানে গেলে আপনি নবী সাঃ এর কবর জিয়ারত করতে পারবেন। কিন্তু রাসুল সাঃ এর কবর দেখাকে মদীনাতে যাওয়ার আপনার উদ্দেশ্য বানাবেন না।
(১৬) তাবলীগ জামাতের লিখক মাওলানা জাকারিয়া সাহেবের লিখা ফাজায়েলে হজ্জ একটা মারাত্মক বিদাতী বই, যেখানে ঈমান ও আকিদাহ ধ্বংসকারী, মিথ্যা ও বানোয়াটা কিসসা-কাহিনী দিয়ে ও অনেক জাল-জয়ীফ হাদীস দিয়ে লিখা হয়েছে। হজ্জের উপরে সূফীবাদের অনুসারীদের লিখা অনেক শিরক-বিদাত ও কুসংস্কারপূর্ণ বই রয়েছে। এই সমস্ত বই ধ্বংস করা জরুরী।
(১৭) অনেক হজ্জ কাফেলা আসলে বিদাতী হুজুরের ধর্ম নিয়ে ব্যবসা, যারা হজ্জের মাঝে শিরক ও বিদাত শিক্ষা দেয়। এদের ব্যপারে সাবধান!
(১৮) হজ্জ শিখার জন্যে আপনারা
- শায়খ আব্দুল হামীদ ফাইজীর লিখা বই পড়তে পারেন। বইটা নেটে ফ্রী পাওয়া যায়।
- শায়খ সাইফুদ্দীন বেলাল ও শায়খ মতিউর রহমান মাদানীর লেকচার রয়েছে কুরান ও সহীহ হাদীস ভিত্তিক, সেইগুলোর অডিও ভিডিও ডাউনলোড করে শুনতে পারেন।

কৃতজ্ঞতাঃ শায়খ আব্দুল হামীদ ফাইজী, শায়খ মতিউর রহমান মাদানী, শায়খ সাইফুদ্দিন বেলাল, শায়খ আব্দুর রাক্বীব বুখারী।

বুধবার, ১ অক্টোবর, ২০১৪

আরাফার দিন

আরাফার দিন আগামী শুক্রবার...

প্রশ্নঃ আসসালামুয়ালাইকুম শায়খ। শায়খ একটা ব্যাপারে মাসালা জানতে চাচ্ছিলাম। ব্যাপারটি নিয়ে আমি দ্বিধায় আছি। আরাফার দিনে রোজা রাখা অতন্ত্য ফজিলত পূর্ণ ইবাদত হিসেবে জানি আমরা। এখন ৯ই জিলহজ তারিখ আরাফার দিন। বাংলাদেশ হিসেবে এখালে ৯ই জিলহজ হল ইংরেজি মাসের ৫ তারিখ। কিন্তু, হাজিরা আরাফায় থাকবেন ৩ তারিখ ইংরেজি মাসের। 
এমতাবস্থায় আমি কোনদিন ৯ই জিলহজের রোজা রাখবো?? বাংলাদেশের নিয়মে নাকি সৌদির নিয়মে?? শায়খ একটু জানাবেন আশা করি। জাযাকাল্লাহ।

উত্তরঃ ওয়ালাইকুমুস সালাম। আপনি যদি আরাফার দিনটি সহীহ সূত্রে জানতে পারেন যে অমুক তারিখে বা দিনে হচ্ছে, যেমন এখন আপনি জানতে পারছেন, তাহলে সে দিনই রোযা রাখবেন বাংলাদেশে তারিখ যাই হোক না কেন। না জানতে পারলে নিজ দেশের আরবী তরিখ অনুযায়ী নবম তারিখে রোযা রাখবেন।

প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেনঃ 
শায়খ আব্দুর রাক্বীব মাদানী
দ্বাইয়ী, খাফজি ইসলামিক সেন্টার, সৌদি আরাবিয়া। 

শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

কুরবানী বিষয়ক সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো ১

কুরবানী বিষয়ক সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো

১.যিনি কুরবানী দিবেন, কেবল তিনি যিল হজের চাদ উঠার পর হতে কুরবানী সম্পন্ন করা পর্যন্ত নিজের চুল, গোঁফ, নখ কাটবেন না।
মিশকাত, হা/ ১৪৫৯।
পরিবারের সবাইকে চুল, নখ কাটা হতে বিরত থাকতে হবে-- এমন ধারণা ভুল।

২. ছাগল তথা খাসী কুরবানী করা উত্তম।
মিশকাত, হা/ ১৪৬১; সুবুলুস সালাম, ৪/ ১৮৫।

৩. চার ধরণের পশু কুরবানী করা নাজায়েজ।
ক. স্পষ্ট খোঁড়া।
খ. স্পষ্ট কানা।
গ. স্পষ্ট রোগী,জীর্ণ শরীর।
ঘ. অর্ধেক কান কাটা কিংবা ছিদ্র এবং অর্ধেক শিং ভাংগা।
মিশকাত, হা/ ১৪৬৫।

৪. কেনার পরে খুঁত পাওয়া গেলে উক্ত পশু কুরবানী করা বৈধ।

উৎসঃ ইমাম উবাইদুল্লাহ মুবারকপুরী, মিরআতুল মাফাতিহঃ ২/ ৩৬৩।

(চলমান, ইন শা আল্লাহ)

যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের ফযীলত ও করণীয়

যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের ফযীলত ও করণীয়

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله. أما بعد

আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ যে, তিনি নেক বান্দাদেরকে এমন কিছু মৌসুম দিয়েছেন যেগুলোতে
তারা বেশি বেশি নেকীর কাজ করতে পারে। এই মৌসুমগুলোর অন্যতম হল, যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিন। এ দিনগুলোর ফযীলতের ব্যাপারে কুরআন-সুন্নায় অনেক দলীল রয়েছে:

১. আল্লাহ তায়ালা বলেন:
وَالْفَجْرِ وَلَيَالٍ عَشْرٍ
শপথ ফজরের। শপথ দশ রাতের। সূরা ফজর: ১ ও ২।
ইমাম ইবনে কাসীর রাহ. বলেছেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল, যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিন।
এই মত ব্যক্ত করেন ইবনে আব্বাস, ইবনুয যুবাইর, মুজাহিদ প্রমুখ। সহীহ বুখারী।

২. আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যিলহজ্জের প্রথম দশকের চেয়ে উত্তম এমন কোন দিন নেই, যে দিনগুলোর সৎ আমল আল্লাহ্‌র নিকট অধিক পছন্দনীয়।
সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন: আল্লাহ্‌র পথে জিহাদও নয় হে রাসূলুল্লাহ্‌?
তিনি বললেন, আল্লাহ্‌র পথে জিহাদও নয়। অবশ্য সেই মুজাহিদের কথা ভিন্ন, যে জান-মাল নিয়ে জিহাদে বেরিয়ে পড়ে, কিন্তু আর কোন কিছুই নিয়ে ফিরে আসে না (অর্থাৎ আল্লাহর পথে শহীদ হয়ে যায়)।
সহীহ বুখারী।

৩. আল্লাহ তায়ালা বলেন:
وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فِي أَيَّامٍ مَعْلُومَاتٍ
তারা যেন নির্দিষ্ট দিন সমূহে আল্লাহর নাম স্মরণ করে। সূরা হজ্জ: ২৮।
ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন, (নির্দিষ্ট দিন সমূহ হল) যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিন।
তাফসীর ইবনে কাসীর।

৪. ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এ দশ দিনের তুলনায় অন্য কোন সময় আল্লাহর নিকট এতটা মর্যাদা পূর্ণ নয় বা তাতে আমল করা এতটা পছন্দনীয় নয়। সুতরাং এ দিনগুলোতে তোমরা অধিক পরিমাণ তাহলীল (লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ), তাকবীর (আল্লাহু আকবার) ও তাহমীদ (আল হামদুলিল্লাহ) পাঠ কর।
মুসনাদ আহমদ।

৫. সাঈদ ইবনে জুবাইর (যিনি পূর্বোক্ত ইবনে আব্বাস রা. এর হাদীস বর্ণনাকারী) জিলহজ্জের দশ দিন শুরু হলে ইবাদত-বন্দেগীতে এত বেশী পরিশ্রম করতেন যে, অন্য কারো জন্য এত ইবাদত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যেত।
দারেমী।

৬. ইবনে হাজার রহ. বুখারীর ব্যখ্যার কিতাব 'ফাতহুল বারী'তে বলেছেন, এই দশ দিন বিশেষ বৈশিষ্ট্য মণ্ডিত হওয়ার কারণ হিসেবে আমার নিকট এটাই প্রতিভাত হচ্ছে যে, এ দিনগুলোতে সালাত, সিয়াম, দান-সদকা, হজ্জ ইত্যাদি মৌলিক ইবাদতগুলোর সমাবেশ ঘটেছে। এ ছাড়া অন্য কখনো এগুলো একসাথে পাওয়া যায় না।

যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের দিনগুলোতে যেসব আমল করা মুস্তাহাবঃ
১. সালাত:
ফরয সালাতগুলো যথাসময়ে সম্পাদন করার পাশাপাশি প্রচুর নফল সালাত আদায় করা। কারণ, সালাতই হল আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায়। সাওবান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তুমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে অধিক পরিমাণ সেজদা কর (নফল সালাত আদায় কর), কারণ যখনই তুমি সেজদা কর বিনিময় আল্লাহ তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং গুনাহ মোচন করেন।
সহীহ মুসলিম।
এটি কেবল যিলহজ্জ মাস নয় বরং অন্য সকল সময়ের জন্য প্রযোজ্য।

২. সিয়াম:
রোজা রাখা অন্যতম একটি নেক কাজ। তাই এ দিনগুলোতে নফল রোজা রাখা খুবই ফযীলতের। হুনাইদা বিন খালেদ তার স্ত্রী থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জনৈক স্ত্রী থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলহজ্জ মাসের নয় তারিখ, আশুরার দিন ও প্রত্যেক মাসের তিন দিন রোজা পালন করতেন।
আহমদ, আবু দাউদ ও নাসায়ী।

ইমাম নববী যিলহজ্জ মাসের শেষ দশ দিনে রোযা রাখার ব্যাপারে বলেছেন, "এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ মুস্তাহাব"।

৩. তাকবীর, তাহলীল ও তাহমীদ:
পূর্বে ইবনে ওমর রা. এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তাতে রয়েছে, তোমরা বেশি বেশি তাকবীর (আল্লা-হু আকবার), তাহলীল (লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ), ও তাহমীদ (আল হামদুলিল্লা-হ) পড়। ইমাম বুখারী রহ. বলেছেন, ইবনে ওমর রা. এবং আবু হুরায়রা রা. এ দশ দিন তাকবীর বলতে বলতে বাজারে বের হতেন, আর মানুষরাও তাদের দেখে তাকবীর বলত। তিনি আরও বলেছেন, ইবনে উমর রা, মিনায় তাঁর তাঁবুতে তাকবীর বলতেন, তা শুনে মসজিদের লোকেরা তাকবীর বলত এবং বাজারের লোকেরাও তাকবীর বলত। এক পর্যায়ে পুরো মিনা তাকবীর ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠত।
ইবনে উমর রা. মিনায় অবস্থানের দিনগুলোতে, পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পরে, তাঁবুতে, বিছানায়, বসার স্থানে, চলার পথে সর্বত্র তাকবীর পাঠ করতেন। এ তাকবীরগুলো উচ্চ আওয়াজে পাঠ করা মুস্তাহাব। কারণ, সাহাবী উমর রা., তাঁর ছেলে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা., আবু হুরায়রা রা. তা উচ্চ আওয়াজে পাঠ করতেন। মুসলমানদের উচিত এ সুন্নতটি পুনর্জীবিত করা, যা বর্তমান যুগে প্রায় হারিয়ে গেছে এবং দু:খ জনক হলেও সত্য, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি নেককার লোকেরাও এটি প্রায় ভুলতে বসেছে। অথচ আমাদের পূর্বপুরুষগণ ছিলেন এর সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম।

তাকবীর বলার নিয়ম: নিন্মোক্ত যে কোন পদ্ধতিতে তাকবীর পাঠ করা যায়:
ক) আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার কাবীরা।
খ) আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লাইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।
গ) আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লাইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।

৪. আরাফার দিন রোজা:
আরাফার দিন রোজা রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত, তিনি আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে বলেছেন, আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী, এটি পূর্ববর্তী এক বছর ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।
সহীহ মুসলিম।
তবে আরাফায় অবস্থানকারী হাজীদের জন্য রোযা রাখা মুস্তাহাব নয়। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরাফায় অবস্থান করেছিলেন রোজা বিহীন অবস্থায়।

৫. কুরবানীর দিন (দশম যিলহজ্জ) এর মর্যাদা:
এই মহান দিনটির মর্যাদার ব্যাপারে অনেক মুসলমানই অসচেতন। কতিপয় বিদ্বান এ মত ব্যক্ত করেছেন যে, সাধারণভাবে সারা বছরের মধ্যে-এমনকি আরাফার দিনের চেয়েও নহর তথা কুরবানীর দিন উত্তম।
ইবনুল কাইয়িম রহ. বলেছেন, আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম দিন নহরের দিন। এটিই হল, হজ্জে আকবর (বড় হজ্জ) এর দিন। যেমন সুনানে আবু দাউদে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহর নিকট সর্বাধিক মহিমান্বিত দিন হল নহর তথা কুরবানীর দিন। অতঃপর কুরবানীর পরের দিন (অর্থাৎ যিলহজ্জের এগারতম দিন যে দিন হাজীগণ কুরবানী করার পর মিনায় অবস্থান করেন)।
অবশ্য কেউ কেউ বলেছেন, নহরের দিনের চেয়ে আরাফার দিন উত্তম। কারণ, সে দিনের সিয়াম দুই বছরের গুনাহের কাফফারা। তাছাড়া আল্লাহ তায়ালা আরাফার দিন যে পরিমাণ লোক জাহান্নাম থেকে মুক্ত করেন, তা অন্য কোন দিন করেন না। আরও এ জন্যও যে, আল্লাহ তায়ালা সে দিন বান্দার নিকটবর্তী হন এবং আরাফায় অবস্থানকারীদের নিয়ে ফেরেশতাদের সাথে গর্ব করেন। তবে প্রথম বক্তব্যই সঠিক। কারণ, হাদীস তারই প্রমাণ বহন করে। এর বিরোধী কিছু নেই। যাহোক, সর্বোত্তম দিন চাই কুরবানীর দিন হোক অথবা আরাফার দিন হোক যারা হজ্জে গমণ করেছেন বা যারা করেন নি সবার জন্য উচিৎ হল, সে দিনের ফযীলত অর্জনের চেষ্টা করা এবং এই সুযোগকে কাজে লাগানো।

ইবাদতের মৌসুমগুলো আমরা কিভাবে গ্রহণ করব?
১) প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য ইবাদতের মৌসুমগুলোতে খাঁটি ভাবে তওবা করা এবং পাপাচার ও আল্লাহর নাফরমানী থেকে বিরত থাকা। কারণ, পাপাচার মানুষকে আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে শুধু বঞ্চিতই রাখে না বরং আল্লাহ ও তার অন্তরের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে দেয়।
২) আরও কর্তব্য হল, আল্লাহ তায়ালাকে খুশি করে এমন কাজগুলোকে গনিমত মনে করে সেগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। যে আল্লাহর কথাকে বিশ্বাস করবে আল্লাহ তার ব্যাপারে তাঁর ওয়াদাকে বাস্তবায়ন করবেন। তিনি ওয়াদা করেছেন:
وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا
যারা আমার ব্যাপারে চেষ্টা ও সাধনা করবে আমি অবশ্যই তাকে আমার রাস্তাগুলো দেখাবো।
সূরা আনকাবূত: ৬৯।

প্রিয় মুসলিম ভাই, এই সকল অমূল্য সুযোগগুলো ফুরিয়ে যাওয়ার পূর্বেই তা গ্রহণ করুন। কারণ, সময় পার হয়ে গেলে তখন আফসোস করে লাভ হবে না। মহান আল্লাহর নিকট দোয়া করি, তিনি যেন আমাকে ও আপনাকে এই কল্যাণের মৌসুমগুলোকে অমূল্য সম্পদ হিসেবে গ্রহণ করার তাওফীক দান করেন এবং তাতে ভালোভাবে তাঁর ইবাদত-বন্দেগী সম্পাদনে সাহায্য করেন।

লেখক: শায়খ আব্দুল মালেক আল-কাসেম
সম্পাদনায়: শায়খ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল জিবরীন
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার

abuafnan12@gmail.com