শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০১৫

“ওযীফা নামক বেদাতী কিতাবের ধোঁকা”


ওযীফা নামক বেদাতী কিতাবের ধোঁকা
সাবধান ! মিথ্যাবাদী বিদাতী হুজুদের লেখা ওযীফার অনেক বইয়ে ভুয়া দুয়া, দুরুদ ও মিথ্যা ফযীলতের ধোঁকা দেওয়া আছে !!
পাঞ্জেগানা ওযীফা অথবা নূরানী ওয়াযেফ শরীফ, ওযীফা ইত্যাদি নামে বাজারে প্রচলিত ওযীফার বইগুলোতে অনেক বানোয়াট ও জাল দুয়া ও দুরুদ ও ফযীলতের কথা লেখা আছে। এইগুলোর ৭০-৮০% জাল, মিথ্যা ও বানোয়াট !!

বেদাতী দুয়া ও দুরুদের মাঝে সরাসরি শিরকী ও কুফুরী কথাও দেয়া আছে, যেইগুলো বিপদ-আপদ অথবা রোগ থেকে মুক্ত হওয়ার আশায় মানুষ সওয়াবের নিয়তে সকাল-সন্ধ্যায় পাঠ করছে। নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক!!

কয়েকটি দুয়া যেইগুলোর কোন দলিল নেই,
> আহাদ নামা,
> দুয়ায়ে গাঞ্জুল আরশ,
> হাফতে হাইকল,
> হিজবুল বাহার্ ইত্যাদি।
এইগুলো কুরানের বিভিন্ন আয়াত অথবা মানুষের বানানো দুয়া একত্রিত করে দুয়ার মতো বানানো হয়েছে যা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) করেন নি। এইভাবে কুরানের আয়াত উল্টা পাল্টা করে তেলাওয়াত করাটা বেদাত। কারণ ইবাদত নিজের মনমতো করার সুযোগ নাই। ইবাদত ঠিক সেইভাবেই করতে হবে, যেইভাবে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন। এই দুয়াগুলোর যে উপকার ও ফযীলতের কথা বলা আছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আল্লাহ এই সমস্ত জাহেল হুজুর-মাওলানাদের উচিৎ বিচার করুন, যারা মিথ্যা কথা বলে বেদাত চালু করেছে।

কয়েকটি দুরুদ যেইগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট,
> দুরুদে হাজারী,
> দুরুদে নারিয়া,
> দুরুদে মাহী,
> দুরুদ তাজ,
> দুরুদে আকবার,
> দুরুদে লাখী,
> দুরুদে তুনাজ্জিনা ইত্যাদি।
এইগুলো মানুষের বানানো ভুয়া দুরুদ। এইগুলো পড়লে কোনো সওয়াব নেই, উল্টা বেদাত করার কারণে গুনাহ হবে। দুরুদের মাঝে শ্রেষ্ঠ দুরুদ হচ্ছে দুরুদে ইব্রাহিম, যেটা আমরা নামাযে পড়ি। দুরুদ বেশি বেশি করে পড়ুন, একবার দুরুদ পড়লে আল্লাহ তাআলা ১০ বার রহম করেন। কিন্তু ভুয়া মানুষের বানানো বেদাতী দুরুদ পড়বেন না।

বিশেষ করে মা বোনেরা ওযীফার বই থেকে বেদাতী এই দুয়াগুলো বেশি খুব বেশি পড়ে থাকেন। আপনারা এই সমস্ত বেদাতী হুজুরদের লেখা ওযীফার বই পড়বেন না।

সহীহ ও সুন্নতী দুয়া, দুরুদ জানার জন্য #হিসনুল_মুসলিম বইটি কিনুন। আরো বেশি জানতে হলে #রিয়াদুস_সালেহীন বইয়ের দুয়া ও যিকির অধ্যায় দেখুন। এছাড়া আব্দুল হামীদ মাদানীরলেখা সহীহ দুয়া ও ঝাড়ফুক শিক্ষা বইটা কিনুন। এই বইটা খুবই ভালো, সম্ভব হলে অবশ্যই কিনবেন, অনেক কিছু জানতে ও শিখতে পারবেন।
সবাই শেয়ার করুন, মানুষকে বেদাত থেকে সতর্ক করুন।
==================================
সকাল থেকে ঘুম থেকে উঠে ঘুমানোর আগে পর্যন্ত কি কি সুন্নতী দুয়া আছে সেটা জানার জন্য হিসনুল মুসলিম - এই বইটা আপনারা অবশ্যই অবশ্যই কিনবেন। এই বইয়ের সবগুলো দুয়া কুরান ও সহীহ হাদীস থেকে নেওয়া হয়েছে। আহসান পাবলিকেশান, দাম মাত্র ৫০ টাকা।
http://www.islamhouse.com/1588/bn/bn/books/হিসনুল_মুসলিম_বা_কুরআন__হাদীস_থেকে_সংকলিত_দৈনন্দিন_যিকর__দোআর_সমাহার
অথবা এই লিংকে-
http://islamhousebd.wordpress.com/2011/08/29/হিস্নুল-মুস্লিম/

রিয়াদুস সালেহীন - ইমাম আন-নববী (রহঃ)।
শায়খ আলবানী (রহঃ) এর তাহকীকসহ, অবশ্যই তাওহীদ পাবলিকেশার সহীহ অনুবাদটা কিনবেন। কিভাবে কুরআন ও হাদীস দিয়ে জীবন পরিচালনা করতে হবে জানার জন্য এই বইটা বারবার পড়বেন।
http://www.quraneralo.com/riyadh-us-saliheen/

শায়খ আব্দুল হামীদ মাদানীর সহীহ দুয়া ও ঝাড়ফুক শিক্ষা ও অন্যান্য বইয়ের ডাউনলোড লিংক-

http://www.abdulhamid-alfaidi-almadani.com/books.htm

বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০১৫

ইলম

=> আপনি কিভাবে ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করছেন?
=> আপনি কি ইসলামী জ্ঞান অর্জন করার জন্য যথেষ্ঠ সময় ও শ্রম ব্যয় করছেন?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
ইলম (ইসলামী জ্ঞান) শিক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমান নর ও নারীর উপরে ফরয।
তিরমিযীঃ হাদীস নং-৭৪।

ইসলামী জ্ঞান শিক্ষা করা এক প্রকার জিহাদ।

ল্লামাহ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উষাইমিন রাহিমাহুল্লাহ, ফতোয়া আরকানুল ইসলামঃ যাকাত অধ্যায়।

বুধবার, ১১ মার্চ, ২০১৫

~ সৌদি আরবের সাথে কেন আমেরিকার সুসম্পর্ক ??

~ সৌদি আরবের সাথে কেন আমেরিকার সুসম্পর্ক ??

এর কারণ জানতে হলে আমাদের "সৌদি আরব" গঠিত হবার ইতিহাস জানতে হবে। তখন সৌদি আরব তুর্কিদের দখলে ছিল। ১৭৪৪ সালে রিয়াদের নিকটস্থ দিরিয়া নামের স্থানে মুহাম্মদ বিন সৌদ ও ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব "দিরিয়ায়ে আমিরাত" গঠন করেন। তখন থেকেই শুরু হয় তাদের নির্ভেজাল তাওহীদ প্রতিষ্ঠা ও বিদআতের বিরুদ্ধে কোঠার লড়াই। তাদের প্রথম টার্গেট ছিল সকল পাকা মাজার ভেঙে ফেলা ও সমাজ থেকে শিরক-বিদআত মুছে ফেলা। ১৭৬৫ সালে মুহাম্মদ বিন সৌদ এর মৃত্যু হলে তার ছেলে আবদুল আজিজ দিরিয়ায় ক্ষমতাসীন হন। তখন থেকে চলতে থাকে তুরকিদের বিরুদ্ধে তাদের লড়াই। এরপর দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ১৯২৬ সালের ৮ জানুয়ারি আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ মক্কা-মদিনা-জেদ্দার গোত্রীয় নেতাদের সমর্থনে হেজাজের সুলতান হন । ১৯২৭ সালের ২৭ জানুয়ারি ইবনে সৌদ নজদ ও বর্তমান হেজাজ মিলিয়ে Kingdom of Nejd and Hejaz ঘোষণা করেন। অবশেষে ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ইবনে সৌদ তার দুই রাজত্বকে একত্রিত করে তার নিজের ও বংশের পদবি অনুসারে দেশের নাম Kingdom of Saudi Arabia (আরবি: المملكة العربية السعودية ) ঘোষণা করেন। তাদের এ যুদ্ধে ব্রিটিশরা অস্ত্র ও সরঞ্জাম দিয়ে ব্যপক ও বিশাল পরিসরে সাহায্য করেছিল। যার কারণেই তখন থেকে তারা ব্রিটিশদের প্রতি কৃতজ্ঞ ও তাদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে । এরপর আমেরিকা ব্রিটিশদের চেয়ে বেশি ক্ষমতাবান ও প্রভাবশালী হয়ে উঠলে সৌদি আরব তাদের সাথেও সুসম্পর্ক গড়ে তোলে। এটা হল প্রধান কারণ এবং আরেকটি কারণ হল তাদের শত্রুতা ও অনিষ্ঠ থেকে আত্নরক্ষার জন্যই তারা আজও আমেরিকার সাথে সুসম্পর্ক রেখে চলেছে।

কিছু মূর্খ লোক (জঙ্গি ও বিদআতি-মাযারপুজারিরা) কুরাআনের ১টি আয়াত দিয়ে অপব্যখ্যা করে সৌদি বাদশাহদের কাফির বলে ফতোয়া দেয় । কিন্তু পুরা আয়াত তারা বলে না কারণ সেখানেই তার উত্তর আছে। মহান আল্লাহ বলেনঃ
" মুমিনগণ যেন মুমিনগণকে ছেড়ে কাফিরদেরকে বন্ধু রূপে গ্রহণ না করে, এবং তাদের আশংকা হতে আত্মরক্ষা ব্যতীত যে এরূপ করে সে আল্লাহর নিকট সম্পর্কহীন; আর আল্লাহ তোমাদেরকে স্বীয় পবিত্র অস্তিত্বের ভয় প্রদর্শন করছেন এবং আল্লাহরই দিকে ফিরে যেতে হবে।" (সুরা ইমরান- ২৮)

কাজেই না জেনে আমাদের মনে ভুল ধারনা রাখা উচিত নয়। তারা কেন সুসম্পর্ক রাখছে তা আগে ভাল করে বুঝা উচিত।


- আব্দুর রহমান সালাফি

সোমবার, ৯ মার্চ, ২০১৫

বাথরুমে থাকা অবস্থায় আজান শুনলে কি আজানের উত্তর দিতে হবে?

প্রশ্নঃ বাথরুমে থাকা অবস্থায় আজান শুনলে কি আজানের উত্তর দিতে হবে?
উত্তরঃ না, বাথরুমে থেকে আযানের উত্তর দেওয়া যাবেনা। শুধু আযানের উত্তরই না, বাথরুমে সমস্ত প্রকার যিকির, দুয়া, দুরুদ ও কুরআন তেলাওয়াত নিষিদ্ধ। কারণ অপবিত্র জায়গায় আল্লাহর যিকির করা তাঁর সম্মান ও মর্যাদার পরিপন্থী। তবে কেউ যদি বাথরুমে প্রবেশ করার দুয়া ও বের হওয়ার দুয়া পড়ে ঐ সময়টা ইবাদতের মধ্যেই গণ্য হবে।
বাথরুমে প্রবেশ করার আগে দুয়াঃ

(بِسْمِ اللهِ) اَللَّهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ.

বিসমিল্লাহ, আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবা-ঈসি

অর্থঃ আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ আমি তোমার কাছে অপবিত্র পুরুষ জিন ও অপবিত্র নারী জিন হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
[বুখারীঃ ১/৪৫, মুসলিমঃ ১/২৮৩]
বাথরুম থেকে বের হওয়ার দুয়াঃ

غُفْرَانَكَ.

উচ্চারণঃ গুফরা-নাকা।
অর্থঃ (হে আল্লাহ) আমি তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি
[আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাযাহ]

উল্লেখ্যঃ জিকির বলতে এখানে মুখে উচ্চারণ করে বা ঠোট নেড়ে আমরা নিয়মিত যে দুয়া সুবহানআল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, বা আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা...কে বুঝানো হয়েছে। এটা নিষিদ্ধ। তবে কেউ অন্তরে আল্লাহর কথা মনে করতে পারে, বা আল্লাহ অথবা আল্লাহর কুদরত, মহিমা ও বড়ত্ব নিয়ে চিন্তা করতে পারে। 

রবিবার, ৮ মার্চ, ২০১৫

তিরমিযী ও ইবনে মাজাহতে বর্ণিত শবে বরাতের (জাল/জয়ীফ) হাদীস

তিরমিযী ও ইবনে মাজাহতে বর্ণিত শবে বরাতের (জাল/জয়ীফ) হাদীস নিয়ে দেশি হুজুর মাওলানাদের ভন্ডামীঃ

আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের আরবী বোঝার ক্ষমতা নাই, আর কুরআন-হাদীস সব হলো আরবীতে। তাই শরীয়ত জানার জন্য আমরা বেদাতীদের অনুবাদ করা (কুরআন, বুখারী, তিরমিযী ইত্যাদির অনুবাদ) বা লেখা বইগুলোই (বেহেশতি যেওর, মকসুদুল মুমিনিন, ফাযায়েলে আমল, নেওয়ামুল কুরআন সহ অন্যান্য বেদাতি বই পুস্তক) পড়ি। কিন্তু, আপনি যদি কানা হন তাহলে বেদাতীরা আপনাকে কুঁড়েঘর দেখিয়ে হাইকোর্ট বলে চালিয়ে দেবে, আর আপনি অন্ধ বিশ্বাসে সেটাকেই মেনে নিবেন এটাই সত্যি।
চলুন আজকে আমরা এমন একটা ঘটনা দেখি, যেখানে বেদাতী হুজুরের হাদীসের নামে প্রতারণা করে শবে বরাতের রাতে হালুয়া-রুটি খাওয়ার ধর্ম চালু করেছে।

শবে বরাত নিয়ে তিরমিযীতে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে, আর হাদীসটি একই সনদে ইবনে মাজাহ সহ আরো দুই-একটা হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। হাদীসটি হচ্ছে, 
মা আয়েশা (রাঃ) বলেন, একবার আমি রাতের বেলায় রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে  খুঁজে পাচ্ছিলাম না। অনেক খোঁজাখুঁজির পর হঠাত্‍ আমি দেখতে পেলাম যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বাকী নামক কবরস্থানে অবস্থান করছেন। আমাকে দেখেই তিনি বললেন, হে আয়েশা! তুমি কি আল্লাহ ও রাসুলের পক্ষ থেকে তোমার উপর কোন জুলুমের আশংকা করছ? আমি আরয করলাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ)! আমি ধারণা করেছিলাম যে, আপনি হয়তো আপনার কোন বিবির ঘরে তাশরীফ নিয়েছেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন যে, আল্লাহ তায়ালা ১৫ই শাবানের রজনীতে দুনিয়ার আসমানে (অর্থাত্‍ ১ম আসমানে) অবতরণ করেন এবং বনী ক্বালব নামক গোত্রের বকরীসমূহের পশমের চাইতেও বেশি সংখ্যক মানুষকে ক্ষমা করে দেন।
এখানে দেখা যাচ্ছে যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) শবে বরাতের রাতে কবর জিয়ারত করছেন আর এর ফযীলতের কথা বলছেন (আসলে বলেন নি, হাদীসটি জয়ীফ), তাহলে অনেকেই কেনো শবে বরাত পালন করাকেত বেদাত বলছেন? এবারতো আপনি পুরাই হতভম্ব, কার কথা বিশ্বাস করবেন?

সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আরেকটু যাচাই করুন। ইমাম তিরমিযী (রহঃ) তার হাদীসের গ্রন্থে যে জায়গায় হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ঠিক তার নিচে নিজেই হাদীসটি সম্পর্কে মন্তব্য লিখেছেন,
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত এই হাদীস আমি এই সনদ ছাড়া অন্য কোনো সূত্রের কথা জানিনা। এই হাদীসটি আমি হাজ্জাজ বিন আরকার কাছ থেকে, হাজ্জাজ ইহইয়া ইবনে কাসীর থেকে, ইহইয়া উওরওয়া থেকে, উরওয়া আয়িশাহ থেকে), এই সনদে জেনেছি। আমি মুহাম্মাদকে (ইমাম বুখারী রহঃ কে যিনি তার ওস্তাদ ছিলেন) এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাস করেছিলাম। তিনি এই হাদীসকে জয়ীফ (দুর্বল) বলতেন। এই হাদীসটি দুর্বল এই কারণে যে, এই হাদীস ইহইয়া বিন কাসীর উরওয়া থেকে বর্ণনা করেছেন কিন্তু ইহইয়া উরওয়া থেকে এই হাদীস শুনেননি।
এখানে ইমাম বুখারী বলতে চাচ্ছেন, দুই জন বর্ণনাকারী রাবীর মাঝে বিচ্ছিন্নতা আছে অর্থাৎ ইহইয়া উরওয়ার কাছ থেকে সরাসরি শুনেননি, মাঝখানে অন্য আরেকজন আছে যার নাম সনদে উল্লেখ করা হয় নি। এই ধরণের হাদীসকে মুনকাতা (সূত্র বিচ্ছিন্ন) বলা হয় যার কারণে হাদীসটি জয়ীফ বলে গণ্য হয়। হাদীস মুনকাতা হলে সমস্যা হলো, মাঝখানে একজন অজ্ঞাত রাবী আছে, হতে পারে সে মুনাফেক, ধর্মের শত্রু, মিথ্যুক বা জাল হাদীস প্রচারকারী অথবা সে সত্যবাদী। এই সন্দেহের জন্য হাদীসটি জয়ীফ, আর সন্দেহযুক্ত জিনিস শরীয়তে দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয় না।
এছাড়া হাদীসটি জয়ীফ হওয়ার দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, হাজ্জাজ ইহইয়ার কাছ থেকেও সরাসরি শুনেননি। তৃতীয় কারণ, মুহাদ্দিসদের (হাদীস বিশেষজ্ঞ) নিকট হাজ্জাজ হাদীস বর্ণনাকারী হিসেবে নিজেই জয়ীফ, তাই তার বর্ণিত হাদীসও জয়ীফ।

সুতরাং, শবে বরাতের রাতে কবর জিয়ারত একটি ভিত্তিহীন আমল কারণ এর পক্ষে সহীহ কোন হাদীসের দলীল পাওয়া যায়না।

দেশি মাওলানাদের মিথ্যাচার ও ভন্ডামী প্রসঙ্গেঃ 
মীনা বুক হাউস থেকে প্রকাশিত তিরমিযীর অনুবাদে শুধু হাদীসটা কোট করা হয়েছে, কিন্তু ইমাম তিরমিযী ও ইমাম বুখারী যে হাদীসটিকে জয়ীফ বলে যে আলোচনা করেছেন, সেই অংশটুকু গায়েব করে দিয়েছে। কারণ, সেই অংশ অনুবাদ করলে সাধারণ মানুষ জেনে যাবে, শবে বরাত সম্পর্কিত এই হাদীস সহীহ না, সুতরাং হালুয়া রুটি খাওয়া ধর্ম হতে পারেনা। আর এইরকম প্রতারণার অনুবাদ পড়ে জামাতুল আসাদ ওরফে জামাতুল ফাসাদ এর মতো মুফতিরা এই হাদীস বর্ণনা করে শবে বরাতের বেদাত প্রচার করছে। দেশের অন্য একটি প্রকাশনী, তাওহীদ পাবলিকেশানের অনুবাদে পুরোটা আরবীসহ বাংলা অনুবাদ করা হয়েছে।

শবে বরাতের ২য় হাদীস নিয়ে মিথ্যাচারঃ
শবে বরাত সম্পর্কে আরেকটা (জাল) হাদীস খুব বেশি প্রচার করে বিদাতপন্থীরা।
আলী (রা:) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন,
যখন শাবানের ১৫ তারিখ আগমন করে, সে দিন তোমরা রোযা পালন কর এবং রজনীতে আল্লাহর ইবাদতে দন্ডায়মান থাক। কেননা, উক্ত দিবসে সূর্যাস্তের পর মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং জগতবাসীকে ডেকে বলেন, হে মানব জাতি! কেউ কি আছ তোমাদের মধ্যে ক্ষমা প্রার্থী? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। ওহে আছ কি তোমাদের কেউ অভাবী? আমি তার অভাব পূরণ করব। আছ কি কেউ বিপদগ্রস্থ? আমি তোমাদের বিপদ মুক্ত করব। আছ কি কেউ এই সমস্যায়? এমনি ভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত ডাকতে থাকবেন ।
এই হাদীস বর্ণিত হয়েছে ইবনে মাজাহ ও মিশকাতে ১৩০৮ নাম্বার হাদীস। উল্লেখ্য, ইবনে মাজাতে বহু জয়ীফ হাদীসতো রয়েছে এমনকি কয়েক ডজন জাল হাদীসও রয়েছে আর এই হাদীসও জাল হাদীসের অন্তর্ভুক্ত। এই হাদীস হচ্ছে জাল (মানুষের বানানো কথা নবীর নামে চালানো হয়েছে)। কারণ এই হাদীস বর্ণনাকারীর একজন ইবন আবি বাসরাহ, যার সম্পর্ক ইমাম আহমাদ ও ইমাম ইবনে মাঈন বলেন, ইবনে আবি বাসরাহ হাদীস জাল করতো।
এখন পছন্দ আপনার, বিদাতী হুজুদের প্রচার করি মিথ্যুকদের জাল হাদীস মেনে নিয়ে শবে বরাত উদযাপন করবেন নাকি বিদাতী আমল থেকে বিরত থেকে নবী (সাঃ) এর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করবেন।
ইমাম ইবনে আল-জাওযী আলাদা একটা বই লিখেছেন, সমস্ত জাল হাদীসগুলোকে একত্রিত করে আল মাওজুয়াত নামে। আর সেই বইয়ে (২/১২৭) তিনি ইবনে মাজাহর বর্ণিত এই জাল হাদীসকে জাল বলে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া এই হাদীসকে জাল বলেছেন, ইমাম ইবনে কাইয়্যিম তার আল-মানার আল-মুনীফ ফিল সহীহ ওয়াল জয়ীফ (পৃষ্ঠা ৯৮), ইমাম শওকানী তার আল-ফাওয়ায়েদ আল-মাজমুয়াতে (পৃষ্ঠা ৫১)।
যেহেতু আমাদের দেশের মাওলানাদের সহীহ জয়ীফ নিয়ে কোনো পড়াশোনা নাই তাই এই সমস্ত জাল জয়ীফ হাদীস পাইলেই হইছে, সুন্নতী আমলগুলো বাদ দিয়ে বেদাতকে প্রতিষ্ঠা করতে উঠে পড়ে লেগে যায়। কই, যিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিনের ইবাদত নিয়েতো এতো লাফালফি করতে দেখিনা, অথচ কুরআন হাদীসে এই দিনগুলোর ইবাদত নিয়ে কত ফযীলতের কথা বর্ণিত হয়েছে।
বিঃদ্রঃ বিস্তারিত জানতে আরো দেখুন ও পড়ুন
http://islamqa.info/en/ref/154850

http://www.youtube.com/watch?v=YMDtVNoKd2Y

শনিবার, ৭ মার্চ, ২০১৫

গায়ে হলুদ, পহেলা বৈশাখ, বসন্তবরণ, হোলি, দিওয়ালি, সান্টা ক্লজ

গায়ে হলুদ, পহেলা বৈশাখ, বসন্তবরণ, হোলি, দিওয়ালি, সান্টা ক্লজ. . .কাফের (অবিশ্বাসী) ও মুশরেক (অংশীবাদী) জাতির তাক্বলীদ (অন্ধ অনুকরণ) এর ফেতনাঃ

বর্তমান বাঙালি মুসলমান সমাজে এমন অনেকেই আছে,
    যাদের নাম মুসলমানদের নামের মতোই - আরিফ, হাসান, ইব্রাহীম, ফাতেমা, জামিলা, জিনাত ইত্যাদি।
    তারা মুসলমান বাবা-মায়ের সন্তান।
    তারা নিজেদেরকে মুসলমান বলেই দাবী করে, নাগরিকত্ব, সার্টিফিকেট পাসপোর্টে নিজেদের মুসলমান বলেই পরিচয় দেয়।
    ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে গরু জবাই করে খায়।
কিন্তু,
    জীবনে কোনদিন ৫ ওয়াক্ত নামায পড়েনা, পুরুষেরা শুধুমাত্র ঈদ আর জুমাহর দিনে, আর নারীরা শবে বরাত ও শবে ক্বদরে নামায পড়ে।
    ক্বুরানুল কারীম শেষ কবে পড়েছিলো সেটা বলতে পারবেনা, নিজের বাবা-মা না মরা পর্যন্ত আর কোনদিন খুলবেও বলে মনে হয়না।
    ঈমান, ইসলাম, হালাল-হারাম কি তা জানার ও মানার কোন ইচ্ছা বা আগ্রহ নেই, এইগুলোর প্রয়োজন আছে বলেও মনে করেনা। 
শুনলাম এই শ্রেণীর কিছু তরুণ ছেলে ও মেয়ে এবং শিশুরা গতকাল (৬ই মার্চ, ২০১৫) হিন্দুদের হোলি নামের উৎসব উদযাপ করেছে। ইতিঃপূর্বে আমাদের দেশের অনেক স্কুল, কলেজ ও বিভিন্ন পার্টিতে ২৫শে ডিসেম্বর উপলক্ষ্যে ক্রিসমাস ট্রি, বড়দিন, সান্টা ক্লজের শিরকি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। বিগত ১৩ই ফেব্রুয়ারী ২০১৫ তে বিভ্রান্ত তরুণ নারী ও পুরুষেরা জুমুয়াহর মতো মোবারক দিনে বসন্ত বরণ নামের বিজাতীয় উৎসব উদযাপ করেছে।

এই বসন্ত বরণ অনুষ্ঠানের উৎস সম্পর্কে উইকিপিডিয়ায় লেখা হয়েছে,
দোলযাত্রা একটি হিন্দু বৈষ্ণব উৎসব। বহির্বঙ্গে পালিত হোলি উৎসবটির সঙ্গে দোলযাত্রা উৎসবটি সম্পর্কযুক্ত। এই উৎসবের অপর নাম বসন্তোৎসব। ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে দোলযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী, ফাল্গুনী পূর্ণিমা বা দোলপূর্ণিমার দিন বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ আবির ও গুলাল নিয়ে রাধিকা ও অন্যান্য গোপীগণের সহিত রং খেলায় মেতেছিলেন। সেই ঘটনা থেকেই দোল খেলার উৎপত্তি হয়। দোলযাত্রার দিন সকালে তাই রাধা ও কৃষ্ণের বিগ্রহ আবির ও গুলালে স্নাত করে দোলায় চড়িয়ে কীর্তনগান সহকারে শোভাযাত্রায় বের করা হয়। এরপর ভক্তেরা আবির ও গুলাল নিয়ে পরস্পর রং খেলেন। দোল উৎসবের অনুষঙ্গে ফাল্গুনী পূর্ণিমাকে দোলপূর্ণিমা বলা হয়। আবার এই পূর্ণিমা তিথিতেই চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্ম বলে একে গৌরপূর্ণিমা নামেও অভিহিত করা হয়।
দোলযাত্রা উৎসবের একটি ধর্মনিরপেক্ষ দিকও রয়েছে। এই দিন সকাল থেকেই নারীপুরুষ নির্বিশেষে আবির, গুলাল ও বিভিন্ন প্রকার রং নিয়ে খেলায় মত্ত হয়। শান্তিনিকেতনে বিশেষ নৃত্যগীতের মাধ্যমে বসন্তোৎসব পালনের রীতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সময়কাল থেকেই চলে আসছে।
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে, লিংক
http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%A6%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE

সুতরাং আল্লাহকে অস্বীকারকারী রবি ঠাকুরের আদর্শে বাঙালি মুসলমানেরা বসন্তবরণ নাম দিয়ে আসলে হিন্দুদের দোল উৎসব উদযাপন করে আসছে।

ঈমানী চেতনাহীন এমন নারী ও পুরুষ যারা জেনে বা না জেনেই মুশরেকদের অনুকরণে তাদের ধর্মীয় রীতি-নীতিগুলোর অনুকরণ করবে তাদের সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
মান তাশাব্বাহা বি ক্বাওমিন ফা হুয়া মিনহুম অর্থাৎ, কোন ব্যক্তি যেই জাতির অনুকরণ করবে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত বলেই গণ্য হবে।
আবু দাউদঃ ৩৫১২, হাদীসটি সহীহ শায়খ আলবানী।

সুতরাং যারা হিন্দুদের অনুকরণ করবে তারা হিন্দুদের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে, যারা ইয়াহুদী-খ্রীস্টানদের অনুকরণ করবে তারা ইয়াহুদী-খ্রীস্টানদের অন্তর্ভুক্ত বলেই গণ্য হবে।

দুনিয়ার ধোঁকায় পড়ে অন্ধ নারী ও পুরুষদের মাঝে যারা প্রবৃত্তি ও খেয়াল-খুশির অনুসারী হবে, তাদের উদ্দেশ্যে ক্বুরানুল কারীমের একটি আয়াত এবং নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একটি সহীহ হাদীস পেশ করছিঃ

মহান আল্লাহ্ তাআলা বলেন,
অবশ্য আমি ইচ্ছা করলে এই নিদর্শনসমূহ দিয়ে তার মর্যাদা বাড়িয়ে দিতাম। কিন্তু সে এই দুনিয়ার প্রতি আসক্ত হলো এবং নিজের প্রবৃত্তির অনুসারী হয়ে রইল। সুতরাং তার অবস্থা হল কুকুরের মত; যদি তাকে তাড়া কর তাহলে সে জিহবা বের করে হাঁপাবে, আর যদি তাকে ছেড়ে দাও তবুও সে হাঁপাবে। এ হল সেসমস্ত লোকদের উদাহরণ; যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে। অতএব, আপনি তাদের কাছে এই কাহিনীগুলো বর্ণনা করে দিন, যাতে করে তারা এইগুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে।
সুরা আল-আ'রাফঃ আয়াত ১৭৬।

নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
আঁধার রাতের অবিরাম খন্ডের মত কৃষ্ণ-কালো ফেতনা আবর্তিত হওয়ার পূর্বেই তোমরা দ্রুত নেক কাজে মনোনিবেশ কর। (এমন একটা সময় আসবে যখন) মানুষ সকাল বেলা মুমিন কিন্তু বিকেল বেলা সে হবে কাফের। আবার কেউ সন্ধ্যা বেলা মুমিন হবে তো সকাল বেলা হবে কাফের। দুনিয়াবি সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে সে দ্বীনকে বিক্রি করে ফেলবে।
[সহীহ মুসলীম]


আল্লাহ্‌ আমাদের ও আমাদের পরিবারকে তাগুত, মূর্তিপূজা ও শয়তান থেকে নিরাপদ রাখুন, আমিন।

বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০১৫

‘বড় আলেম’ বা ‘মুফতি’ বলতে আমরা সাধারণত যা বুঝি

বড় আলেম বা মুফতি বলতে আমরা সাধারণত যা বুঝি, বাংলা অথবা ইংরেজী ভাষাভাষী দ্বাইয়ীদের মাঝে তেমন কেউ নেই। শায়খ আব্দুর রাক্বীব মাদানী এটা নিয়ে সুন্দর একটা পোস্ট দিয়েছিলেন, আলেম কাকে বলে ও আলেমদের যোগ্যতা নিয়ে। নিজেকে আহলে হাদীস বলে পরিচয় দিলেই কেউ সমস্ত ব্যপারে চূড়ান্ত হক হয়ে যায়না। (আমাদের দেশীইয় আলেমদের মাঝে) সাধারণত যারা নিজেদেরকে আহলে হাদীস বলে পরিচয় দেন, তাদের মাঝে কিছু ব্যপারে ভুল থাকা অসম্ভব কোন ব্যপার না, তবে প্রচলিত যেই অপবাদগুলো দেওয়া হয় (পেট্রোডলার শায়খ, দরবারি আলেম, জিহাদ বিমুখ, মাদখালী) আল-কায়েদাহ/ দাইয়িশ/ আইসিস, তাকফিরি, ইখোয়ানি ও হিযবুত তাহরীর, দেওবন্দী, তাবলিগির মতো ভ্রান্ত মতবাদের অনুসারীদের পক্ষ থেকে, এইগুলোর পেছনে হাওয়া (প্রবৃত্তি) ও জাহালত (অজ্ঞতা/মূর্খতা) ছাড়া আর কোন ভিত্তি নেই। আশা করি আপনারা সকলেই দ্বীনের ব্যপারে কঠোরতা এবং উদাসীনতা, এই দুই চরমপন্থা থেকেই সতর্ক থাকবেন। বর্তমান পৃথিবীতে বড় ওলামাদের মাঝে একজন হচ্ছেন ফযীলাতুশ-শায়খ আল্লামাহ ওয়াসী উল্লাহ আব্বাস হাফিজাহুল্লাহ, যিনি মসজিদুল হারাম বা কাবার একজন সম্মানিত মুদাররিস ও ডেপুটি মুফতি। তিনি ঈমান, আকীদাহ ও মানহাজ, ফিকহ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপরে উর্দুতে নিয়মিত দারস দেন, যার অডিও-ভিডিও ইন্টারনেটে এভেইলেবেল। অনারবদের মাঝে আমরা যারা আরবী ভাষা বুঝিনা, যারা সত্যিকারে ইলমের অনুসন্ধানকারী, তারা সেলেব্রিটি আলেম, ইউটিউব বক্তা ও ফেইসবুক মুফতিদের বিভ্রান্তিতে না পড়ে, শায়খ উয়াসী উল্লাহর আব্বাস হাফিজাহুল্লাহর এর কাছ থেকে উপকৃত হতে পারি ইন শা আল্লাহ্‌। আল্লাহ্‌ তাআলা আমাদের সকলকেই সিরাতাল মুস্তাকীমের উপরে মৃত্যু দান করুন, আমিন।