ব্রাদার্স কর্ণার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ব্রাদার্স কর্ণার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

বিয়ের জন্যে কেমন ছেলে বা মেয়ে দেখতে হবে? (পর্ব-১)


বিয়ের জন্যে কেমন ছেলে বা মেয়ে দেখতে হবে? (পর্ব-১)
(১) পাত্র অথবা পাত্রীকে সবার প্রথম ঈমানদার, পাঁচ ওয়াক্ত নামাযী মুসলিম ব্যক্তি হতে হবে।
(২) আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআ'ত বা "সুন্নী" আকিদাহর অনুসারী এবং প্রকাশ্য শিরক, কুফর ও বিদাত মুক্ত থাকতে হবে।
(৩) বিদাতী, পথভ্রষ্ট ব্যক্তি বা দলের কুপ্রভাব ও অনুকরণ থেকে মুক্ত থাকতে হবে।
(৪) দ্বীনদার, চরিত্র ভালো ও কোমল হৃদয়ের অধিকারী হতে হবে।
(৫) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাহ কি, তা জানতে, বুঝতে ও মানার আন্তরিক চেষ্টা থাকতে হবে।
(৬) আল্লাহকে ভয় করে এমন গুণাবলী ও তার বহিঃপ্রকাশ থাকতে হবে।
(৭) পাত্রকে হালাল ও সৎ জীবিকা নির্বাহ করতে হবে।
(৮) পাত্রীকে হিজাব-পর্দা করতে হবে।
(৯) দ্বীন শিক্ষার্থী হতে হবে।
(১০) স্বামী, স্ত্রী একজন আরেকজনের উপর কি অধিকার ও হক্ক তা জানার এবং মানার আন্তরিক ইচ্ছা থাকতে হবে।
(১১) প্রতিদিন নিয়মিত ক্বুরান তেলাওয়াতকারী হতে হবে।
(১২) জীবনে ব্যপারে সব সময়েই আশাবাদী এবং আল্লাহর রহমতের আকাংখী হতে হবে। হাতাশাবাদী বা নিরাশ হলে চলবেনা।
(১৩) কোনমতেই ধূমপান করা যাবেনা।
(১৪) স্বামীর অবাধ্য হওয়া যাবেনা।
(১৫) মা-বোনের কথা শুনে স্ত্রীর হক্ক নষ্ট করা যাবেনা।
(১৬) একজন আরেকজনকে সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার জন্যে অংগীকারবদ্ধ থাকতে হবে। এমন না যে বিয়ের পরে বলবেঃ আমি তোমাকে বিয়ে করে ভুল করে ফেলেছি, তুমি তোমার পথ দেখো, আমার কথা না মানলে চলে যাও ইত্যাদি।
(১৭) টিভিতে নাচ-গান, হারাম অনুষ্ঠান, কার্টুন, খেলাধূলা দেখার নেশা থেকে বিরত থাকতে হবে, হারাম পত্রিকা ম্যাগাজিন থেকে দূরে থাকতে হবে।
(১৮) আহলে সুন্নাহর আলেমদেরকে ভালোবাসতে হবে।
(১৯) যত্রতত্র ছবি তোলা এবং নির্বোধের মতো সেলফি, ফেইসবুকে ছবি আপলোডের মতো বিরক্তিকর সংস্কৃতির অন্ধ অনুসারী হওয়া যাবেনা।
(২০) কাফির মুশরিক এবং ইসলামের দুশমনদের প্রতি ও তাদের সংস্কৃতির প্রতি অন্তর থেকে ঘৃণা ও শত্রুতা পোষণকারী হতে হবে। এটা must, এ ব্যপারে কোন আপোষ চলবেনা।
(২১) দুনিয়ার লোভে গণতান্ত্রিক শিরকি মতবাদের অনুসারী, পথভ্রষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর পদলেহনকারী হওয়া যাবেনা।
(২২) দাঁড়ি রাখতে হবে, প্যান্ট টাখনুর উপরে পড়তে হবে।


বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন, ২০১৬

যেই পোশাক পরে নারী ও পুরুষেরা জাহান্নামে যাবে

যেই পোশাক পরে নারী ও পুরুষেরা জাহান্নামে যাবেঃ
>> পুরুষঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
তিন প্রকার লোক এমন রয়েছে, যাদের সাথে আল্লাহ কথা বলবেন না, আর না কেয়ামতের দিন তাদের দিকে তাকাবেন, আর না তাদের পবিত্র করবেন বরং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।
আমি (আবু হুরাইরা) বললাম, আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? ওরা তো ক্ষতিগ্রস্ত!
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তারা হচ্ছে,
(১) টাখনুর নিচে কাপড় পরিধানকারী,
(২) ব্যবসার সামগ্রী মিথ্যা কসম দিয়ে বিক্রয়কারী এবং
(৩) কাউকে কিছু দান করার পর তার খোটাদাতা।
সহীহ মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, নং ২৯৪।
>> নারীঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দুই প্রকার জাহান্নামী মানুষ আসবে, যাদেরকে আমি আমার যুগে দেখতে পাচ্ছিনা। এক প্রকার হচ্ছে, ঐ সকল মহিলা যারা কাপড় পরিধান করেও উলংগ থাকবে। তারা সাজ-সজ্জা করে পর পুরুষকে আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও অন্য পুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট থাকবে। তাদের মাথার খোপা (সাজ সজ্জা ও ফ্যাশানের দরুণ) উটের কুঁজের মত এদিক ওদিক হেলানো থাকবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, এমনকি তারা জান্নাতের সুগন্ধিটুকুও পাবে না। অথচ, জান্নাতের সুগন্ধি পাঁচশ বছর রাস্তার দূরত্ব থেকেও অনুভব করা যাবে। সহীহ মুসলিমঃ ২১২৮।
শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ এই হাদীসের ব্যখ্যায় বলেছেন,
কাপড় পড়েও উলংগ হচ্ছে সেই সমস্ত নারী, যারা এতো পাতলা কাপড় পরিধান করে যে, কাপড়ের মধ্য দিয়ে তাদের গায়ের চামড়া দেখা যায়, অথবা এমন টাইট পোশাক পরে যে, যার কারণে তাদের শরীরের আকৃতি বোঝা যায়।
মাজমু ফাতাওয়াঃ ১৪৬/২২।
>> জাহান্নামের কঠিন শাস্তির সামান্য বর্ণনাঃ
আল্লাহ তায়া'লা বলেছেন,
নিশ্চয়ই সীমালংঘনকারী অবাধ্য লোকদের জন্যে জাহান্নাম শত্রুর মতো ওত পেতে বসে আছে, তাদেরকে গ্রাস করার জন্য। তারা সেখানে শতকের পর শতক ধরে থাকবে। কিন্তু সেখানে তারা তৃপ্তিদায়ক কোন খাবার বা পানি খেতে পারবেনা। তাদেরকে শুধুমাত্র ফুটন্ত গরম পানি ও দুর্গন্ধযুক্ত পচা পূজ খাওয়ানো হবে। এটাই হচ্ছে তাদের উপযুক্ত প্রতিদান, কারণ তারা হিসাব-নিকাশের কোন পরোয়া করতোনা। আর আমার আয়াত (বা নিদররশন) স্মূহকে মিথ্যা বলতো।
সুরা নাবার ২২-২৮ আয়াতের তর্জমা থেকে নেওয়া। 

রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

Valentine Day ২০১৬ উপলক্ষ্যে কিছু কথা

হে মুসলমান যুবক -যুবতী ভাই ও বোনেরা!  
পরনারী বা পরপুরুষের প্রতি প্রেম ভালোবাসা ও আকর্ষণ, একটু খানি অবৈধভাবে স্পর্শ করা এবং যৌন সম্পর্কের লোভ থেকে বাঁচতে পারছেন না. . .এর চাইতে ১০০গুণ বেশি মারাত্মক, দাজ্জালের ধোঁকা থেকে নিজেদের ঈমানকে কিভাবে রক্ষা করবেন?
____________________________
শায়খ আব্দুল হামীদ মাদানী হাফিজুল্লাহর বই থেকে সংগৃহীত,
বলা হয়ে থাকে যে একদা রোমান সম্রাট (ক্লাউডিউস) রোমের সকল পুরুষদেরকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে আদেশ করলে, কিন্তু অনেক পুরুষ তাতে আগ্রহ দেখালো না। কারণ বিশ্লেষণ করে জানতে পারেন যে, সে সকল পুরুষরা হল বিবাহিত এবং তারা তাদের স্ত্রী -সন্তান ছেড়ে যুদ্ধে যেতে রাজী নয়। তাই তিনি বিবাহ নিষিদ্ধ করে দিলেন। কিন্তু যাজক Valentine গোপনে গীর্জার মধ্যে লোকদের বিবাহের কাজ সম্পন্ন করতে থাকেন। এই খবর পেয়ে সম্রাট তাকে ২৬৯ খ্রীস্টাব্দের ১৪-ই ফেব্রুয়ারি প্রাণদন্ড দেয়। তারপর থেকে, সেই খ্রীস্টান পাদ্রীর স্মরণে এই দিনটিকে প্রেমের দিন হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। অতঃপর, গীর্জার তরফ থেকে ১৯৬৯ সালে ইটালীতে Valentine Day পালন সরকারিভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়। যেহেতু তাদের মতে তা ছিল দ্বীন ও চরিত্র বিরোধী অবাস্তব উপকথাভিত্তিক। কিন্তু সাধারণ লোকেরা তা আজও পালন করে থাকে।
____________________________
কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার পূর্বে একের পর এক নিত্য-নতুন ফেতনা মুসলমানদেরকে গ্রাস করবে। তখনকার যুগে মানুষের ঈমানের অবস্থা কেমন হবে, সে সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
আঁধার রাতের অবিরাম খন্ডের মত কৃষ্ণ-কালো ফেতনা আবর্তিত হওয়ার পূর্বেই তোমরা দ্রুত নেক কাজে মনোনিবেশ কর। (এমন একটা সময় আসবে যখন) মানুষ সকাল বেলা মুমিন কিন্তু বিকেল বেলা সে হবে কাফের। আবার কেউ সন্ধ্যা বেলা মুমিন হবে তো সকাল বেলা হবে কাফের। দুনিয়াবি সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে সে দ্বীনকে বিক্রি করে ফেলবে। [সহীহ মুসলীম]
____________________________
আজকে যারা Happy Valentine Day লিখে বা বলে পাঠিয়েছেন, বিভিন্ন অশ্লীল ও হারাম কাজে লিপ্ত হয়ে এই দিনটি উদযাপন করেছেন, তারা আল্লাহর কাছে লজ্জিত হয়ে তোওবা করুন এবং অবৈধ সম্পর্ক থেকে ফিরে আসুন।
____________________________
পুরুষদের মাঝে যাদের বিয়ে করার সামর্থ্য আছে, তাদের প্রেমিকা যদি বিয়ে করার মতো উপযুক্ত হয়, তাহলে মেয়ের বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। মেয়ের বাবা রাজি থাকলে আলহামদুলিল্লাহ! দেরী না করে শীঘ্রই আক্বদ করে হালাল করে নিন। আর মেয়ের বাবা যদি একান্তই রাজি না হয়, তাহলে এই মেয়ের সাথে যোগাযোগ ও সম্পর্ক ছিন্ন করে ধার্মিক দেখে পছন্দমতো অন্য মেয়েকে বিয়ে করে আল্লাহর পথে চলার চেষ্টা করুন।
____________________________
নারীদের মাঝে যারা এই ফিতনায় পড়েছেন, তাদের প্রেমিক যদি বিয়ে করার উপযুক্ত হয়, তাহলে আপনাকে পেতে চাইলে কালকেই আপনার বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতে বলুন। যদি আপনার বাবা রাজী থাকে, তাহলে আলহামদুলিল্লাহ! শীঘ্রই বিয়ে সম্পন্ন করে হালাল করে নিন। ঐ পুরুষ যদি বিয়ে করতে রাজি না হয়, বা হেনতেন বলে বিয়ে করতে দেরী বা অস্বীকার করে, কিন্তু সম্পর্কে রেখে ঠিকই আপনাকে ভোগ করতে দাবী জানায়. . .তাহলে এমন লোককে সাক্ষাৎ ইবলিস মনে করে তার থেকে ১০০ হাত দূরে থাকুন। যা ক্ষতি হওয়ার হয়েছে, সেটা আর কোনদিন ফেরত আসবেনা। ইন্তু ভবিষ্যতে যাতে আল্লাহর নাফরমানি করে আপনার পরকাল নষ্ট না হয়, তার জন্যে প্রাণপন চেষ্টা করুন।
____________________________
আর যাদের বিয়ে করার সামর্থ্য নেই, বা যাদের বাবা বিয়ে দিচ্ছেনা, তারা পরপুরুষ বা পরনারীর সংশ্রব ও যোগাযোগ থেকে বেঁচে থাকুন, কারণ তা ক্রমেই জিনার সম্পর্কের দিকে নিয়ে যাবে। ধৈর্য ধরতে না পারলে রোযা রাখুন, যা আল্লাহকে স্বরণ রাখতে সাহায্য করবে এবং আপনার যৌন কামনা ও আবেগকে নিয়ন্ত্রন করবে।
____________________________
এ ব্যপারে কারো কোন পরামর্শ বা সাজেশান দরকার মনে করলে, আমাদেরকে ইনবক্স করতে পারেন। ইংশা-আল্লাহ, আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান ও সাধ্য অনুযায়ী আমরা আপনাদেরকে সাহায্য করার চেষ্টা করবো। আমি দুয়া করি, আল্লাহ আমাদেরকে অশ্লীলতার ফিতনাহ, যা বর্তমান যুগে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, তা থেকে আমাদের ও আমদেরকে পুরিবারকে হিফাজত করুন।

- আনসারুস সুন্নাহ। 

সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

বিবাহের জন্যে মোহরের সুন্নাহ

বিবাহের জন্যে মোহরের সুন্নাহ
শায়খ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসায়মিন রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
(আধুনিক যুগের মুদ্রাতে সুন্নাহ অনুযায়ী বিয়ের জন্যে) সর্বনিন্ম মোহর হচ্ছে ১১২ সৌদি রিয়াল. . .আর সুন্নাহ অনুযায়ী সর্বোচ্চ মোহর হচ্ছে ১৪০ সৌদি রিয়াল। অথচ, বর্তমানে এটা ৭০,০০০ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।
শারহ আল-মুমতিলা যাদ আল-মুস্তাকনিঃ খন্ড-১২, পৃষ্ঠা ২৫২-২৫৩।
*৪ই মার্চ, ২০১৬ইং তারিখে এক সৌদি রিয়ালের মূল্য বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ২০.৯ টাকা। সে হিসাবে ১১২ সৌদি রিয়াল হচ্ছে ২৩৪০ টাকা, আর ১৪০ সৌদি রিয়াল হচ্ছে ২৯২৬ টাকা।
শায়খ মুহাম্মদ আল-ওয়াসসাবি হাফিজাহুল্লাহ বলেন,
সুন্নাহ হচ্ছে বিয়ের মোহর ৫০০ দিরহাম, যার বর্তমান মূল্য প্রায় ৫০০০ ইয়েমেনি রিয়ালের [১] সমান। আর সর্বোত্তম আদর্শ হচ্ছে (আমি) মুহাম্মাদ-এর আদর্শ। [২] যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন, তাহলে সুন্নাহর অনুসারীদের উচিৎ (নবীজির এই আদর্শ বাস্তবায়নে) সবার অগ্রগামী হওয়া। [৩]
[১] শায়খ মুহাম্মদ আল-ওয়াসসাবি হচ্ছেন ইয়েমেনের একজন প্রখ্যাত আলেমে-দ্বীন, একারণে তিনি ইয়েমেনি মুদ্রায় ৫০০ দিরহামের দামের কথা উল্লেখ করেছেন। ৮ই ফেব্রুয়ারী, ২০১৬ ইং তারিখে ইন্টারনেটে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ৫০০০ ইয়েমেনি রিয়ালের দাম বাংলাদেশী টাকায় সর্বোচ্চ ১৮৩১ টাকা। এই পরিমান মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে সুন্নাহ বা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদর্শ। কোন মেয়ে বা মেয়ের ওয়ালী এর চাইতে বেশি বা এর চাইতে কমও মোহর নির্ধারণ করতে পারে, এ ব্যপারে এখতিয়ার রয়েছে। তবে আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তোমাদের জন্যে আল্লাহর রসুলের মাঝে সর্বোত্তম আদর্শ রয়েছে। সুরা আহযাবঃ ২১।
[২] এটা একটা হাদীসের অংশ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সর্বোত্তম বাণী হচ্ছে আল্লাহর কিতাব (কুরানুল কারমী), আর সর্বোত্তম আদর্শ হচ্ছে (আমি) মুহাম্মাদ-এর আদর্শ। সহীহ আল-বুখারী, আচার ব্যবহার অধ্যায়, খন্ড ৮, অধ্যায় ৭৩, হাদীস নং-১২০।

[৩] শায়খের বক্তব্যের উৎসঃ অডিও টেপ আহকাম আয-যাওয়াজ (বিয়ের হুকুম)।  

বিয়ের পরে পাত্র বা পাত্রীকে জেনে বুঝে নেওয়া

প্রশ্নঃ আসসালামু আলাইকুম। কোন ছেলে যদি কোন মেয়েকে বিবাহের জন্য পছন্দ করে (যেখানে মেয়ের পরিবার এবিষয়ে জানে না), তবে বিবাহের পূর্বে সেই মেয়ের সাথে দীর্ঘদিন দেখা সাক্ষাত করা, কথা-বার্তা বলা, জেনেবুঝে নেওয়া. . .এই ব্যাপার গুলো কতটুকু ঠিক?

উত্তরঃ ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি বারাকাতুহু। জেনে বুঝে নেয়ার ব্যাপার আসলে একজন মানুষকে বিয়ে করার পূর্বে ঠিক কতটুকু দেখতে হবে? অনেকে প্রেম ভালোবাসার নামে অথবা বিয়ের পূর্বে পাত্র অথবা পাত্রীকে জেনে বুঝে নিতে গিয়ে একাকী মেয়ের সাথে দেখা-সাক্ষাত করে, ঘনিষ্ঠতা করে, দীর্ঘদিন ধরে জিনা ব্যভিচার করে শেষ পর্যন্ত জানা বুঝা সব শেষ করে ফেলে। এর পরে অন্য মেয়ে তালাশ করে, জেনে বুঝে নেওয়ার জন্যে। এইগুলো হচ্ছে মেয়ে দেখার নাম করে অবৈধভাবে মেয়েদেরকে ভোগ করার জন্য পুরুষদের ছলনা মাত্র। অনেক সরলমনা মেয়েরা এইভাবে প্রেমিকের কাছে, হবু লম্পট স্বামীর কাছে ইজ্জত হারিয়ে বা ধর্ষিত হয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছে। বিয়ের উদ্দেশ্যে মেয়ের বাবা অথবা কোন মাহরাম পুরুষের উপস্থিতিতে পাত্র সরাসরি নিজে একবার মেয়েকে দেখবে। পছন্দ হলে বিয়ে করবে, আর নয়তো কথা সেখানেই কথা শেষ। এর অতিরিক্ত আর কোন বুঝাবুঝির দরকার নাই। ছেলে-মেয়ে নিজেদের মাঝে কোন ধরণের ব্যক্তিগত দেখা-সাক্ষাত বা যোগাযোগ করবেনা। মূলত যারা সারা জীবন ফ্রী-মিক্সিং পরিবেশে নারীদের সাথে উঠা-বসা করে অন্তর কলুষিত করে ফেলেছে, নারীদের সাথে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত থাকে, তারাই এইভাবে জেনে বুঝে নেওয়ার দাবী জানায়। আর নারীরা দুষ্ট লোকের মিষ্টি কথা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে, নিজের দ্বীনকে বিসর্জন দিয়ে এদের ডাকে সাড়া দেয়। এমন দুশ্চরিত্রে লোকদের থেকে নারীরা সাবধান! নারীদের বুদ্ধির ত্রুটি রয়েছে, একারণে তারা যাতে পুরুষদের লালসা থেকে নিজেদেরকে বাঁচাতে পারে সেইজন্য আল্লাহ তাআ'লা রহমত স্বরূপ তাদের জন্য হিজাব-পর্দার বিধান দিয়েছেন। যারাই হিজাব-পর্দাকে অবহেলা বা ঘৃণা করবে, তারা দুনিয়া এবং আখিরাতে লাঞ্চিত হবে। বর্তমান যুগে ফ্রী মিক্সিং-এ অভ্যস্ত নারীদের চূড়ান্ত পরিণতির দিকে লক্ষ্য বিষয়টা খুবই স্পষ্ট। আল্লাহ আমাদেরকে ও আমাদের পরিবারকে হিফাজত করুন, আমিন।

সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

Huge Difference!

Huge Difference!
(১) ঢাকা শহরের ব্যস্ত একটা রাস্তা। বিকেল বেলা হেঁটে বাসায় ফিরছি। রাস্তাটা যখন ক্রস করছি তখন আমার একটু সামনেই রিকশায় বসা একটা ছেলে ও মেয়ে, মেয়েটা বোরখা+নিকাব পড়া। ছেলেটা মেয়েটার নিকাব খুলে তার মুখে চুমা দিলো। অবৈধ প্রেমে (জিনায়) লিপ্ত নারী-পুরুষ, বুঝতে কষ্ট হয়না। তবে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, এখনো রাত হয়নি, রাস্তা ভর্তি মানুষ. . .কোন লজ্জা শরম নাই। এভাবেই চলছে আজকালকার যুগের ছেলে-মেয়েদের প্রেমলীলা। এভাবেই লম্পট প্রেমিকের পাল্লায় পড়ে কলেজ-ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া মেয়েরা ইজ্জত নষ্ট করছে। সহশিক্ষার রঙ্গিন দুনিয়ায় অনেক হিজাব-নিকাবী মেয়েরাও বাঁচাতে পারছেনা সাপের মনির চাইতেও মূল্যবান সম্পদ। হয়তোবা, হাদিসের কথা অনুযায়ী ভবিষ্যতে এদের ছেলে-মেয়েরাই গাধার মতো প্রকাশ্যে জিনা-ব্যভিচারে লিপ্ত থাকবে।
(২) বছর দুয়েক আগে আমাদের গ্রামের বাড়িতে দুপুর বেলা যুহরের সালাত পড়ে বাসায় ফিরছি। আমাদের বাসার পাশেই নতুন একটা মহিলা মাদ্রাসা চালু হয়েছে, অল্প দিনেই গ্রামের বেশ কিছু মেয়ে সেখানে পড়াশোনাও শুরু করেছে। আমাদের বাসা ও মহিলা মাদ্রাসার পাশের রাস্তায় উঠলাম, ছুটি হওয়ায় বড় ক্লাসের কয়েকটা মেয়ে বাড়ী ফিরে যাচ্ছে। প্রত্যেকটা মেয়ের পা থেকে মাথা পর্যন্ত কালো বোরখা দিয়ে ঢাকা, হাত মোজা, পা মোজা। এমনকি চোখও যাতে দেখা না যায় সেইজন্যে কালো সানগ্লাসও পড়েছে। আমি খুব অবাক হলাম, সারাজীবন গ্রামে বড় হওয়া মেয়েরা এতো এডভান্স চিন্তা করে কিভাবে? যাই হোক, যখন মেয়েগুলোকে মুখোমুখি রাস্তা ক্রস করার সময় হলো, আমাকে খুব অবাক করে দিয়ে মেয়েগুলো রাস্তার একপাশ ধরে দাঁড়িয়ে গেলো। আমি আশ্চর্য হয়ে মনে মনে সুবহান আল্লাহ বললাম। কারণ, এতদিন হাদীসে পড়েছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে মহিলা সাহাবীরা রাস্তার একপাশ ধরে একেবারে মিশে মিশে হাঁটতেন, যাতে করে কোন পুরুষের সাথে গা বা স্পর্শ লেগে না যায়। এই ব্যপারটা এতোদিন শুধু হাদিসের কিতাবেই পড়েছিলাম। আজকের যুগে মেয়েদের মাঝে ব্যপারটা দেখে সত্যিই এতো চমকে উঠেছিলাম যে, আজ পর্যন্ত সেই ঘটনাটা ভুলতে পারিনি।
যাই হোক, উপরের দুইটা ঘটনা। একটা নারী-পুরুষ সহাবস্থানের সো কলড আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিফলন। আরেকটা এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখান, ক্বুরান ও হাদীস শিক্ষা দেওয়া হয়, আল্লাহর আইন মেনে জীবন পরিচালনা করতে উৎসাহিত করা হয়। দুটোর কি ফলাফল এবং কিয়ামতের দিন তাদের কি প্রতিদান হবে, আর তাদের বাবা-মায়ের কি প্রতিদান হবে, এটা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা না করলেও বুঝতে কষ্ট হয়না।
বিঃদ্রঃ ১ - আমার এই লেখার উদ্দেশ্য এই না যে, কলেজ ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া সব ছেলে-মেয়ে খারাপ, আর মাদ্রাসা পড়ুয়া সব ছেলে-মেয়ে একেবারে ধোঁয়া তুলসি পাতা। ভালো খারাপ সব জায়গাতেই আছে, এমনকি আমার ও আপনার মাঝেও ভালো ও মন্দ স্বভাব আছে। তবে ক্বুরআন-হাদীস পড়া একজন মানুষ যে ক্বুরান ও হাদীস অনুযায়ী চলতে চায়, আর যে ক্বুরান হাদীস পড়েনা, শিরকি কুফুরী মতবাদ ও দার্শনিকতা পড়া, অশ্লীলতার গল্পর নাটক ও কবিতা পড়া, সুদ ও বীমার অংক করা, দুনিয়ার জন্যে যখন তখন তার দ্বীন বিক্রি করে প্রস্তুত এমন একজন মানুষের মাঝে কিছুনা কিছু যে পার্থক্য অবশ্যই থাকবে, এটা কানার ভাই অন্ধও বুঝে। আর সেইজন্য অধিকাংশ ছেলে ও মেয়েদের অবস্থা সামান্য একটু লক্ষ্য করলে খুব সহজেই সেটা ধরা পড়ে।
বিঃদ্রঃ ২ আমার এই পোস্ট কারো অনুভূতিতে আঘাত করলে তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।

#ফাহিশাহ_নারী #দাইয়ুস #তাবাররুজ #সহশিক্ষা #হিজাব_পর্দা #জিনা #দোররা #রজম #জাহান্নাম

রবিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৬

জালেম স্বামীর জন্যে কি শাস্তি রয়েছে

যে স্বামী তার স্ত্রীর হক্ক আদায় করেনা, স্ত্রীকে অবহেলা ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে, তার হক্ক থেকে বঞ্চিত করে, স্ত্রীকে মারধর ও জুলুম অত্যাচার করে. . .এম জালেম বা অত্যাচারী স্বামীর জন্যে কি শাস্তি রয়েছে?
উত্তরঃ ইসলাম ধর্মে সব ধরণের জুলুম-অত্যাচার কঠোরভাবে হারাম বা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এটা একটা কবীরাহ গুনাহ বা মহাপাপ।
আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা বলেন, হে আমার বান্দারা! আমি আমার নিজের জন্যে জুলুম করা হারাম করে নিয়েছি এবং তোমাদের পরস্পরের মধ্যেও জুলুম হারাম করেছি। সুতরাং তোমরা একজন আরেকজনের উপর জুলুম করো না। সহিহ মুসলিমঃ ২৫৭৭; জামে তিরমিযি।

শুধু জুলুম নয়, জুলুমে সহযোগিতা করা এবং জালিমদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা ও ঘনিষ্ঠতা রক্ষা করাও হারাম। মানুষের ওপর জুলুম এমন এক ভয়াবহ গোনাহ, যার শাস্তি কোনো না কোনো উপায়ে দুনিয়ার জীবনেই শুরু হয়ে যায়। অহংকার ও গর্বের কারণে জালেমরা মনে করে, তাদেরকে কেউ কখনো পাকড়াও করবেনা। অথচ আল্লাহ তাদেরকে সতর্ক করে বলেছেন, যালেমরা শীঘ্রই জানতে পারবে যে, তাদের গন্তব্যস্থল কেমন? সুরা আশ-শুআরাঃ ২২৭।

সেই গন্তব্যস্থল, শেষ বিচারের দিন জালেমদের কি অবস্থা হবে তার বর্ণনাঃ
(হে নবী!) জালেমদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আপনি কখনো আল্লাহ উদাসীন রয়েছে বলে মনে করবেন না। আল্লাহ তো তাদেরকে শুধু একটা নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত ছাড় দিয়েছেন, যেদিন চক্ষুগুলো বিস্ফোরিত হবে, আর জালেমরা মাথা ঊর্ধ্বমুখী করে উঠিপড়ি করে দৌড়াতে থাকবে। তাদের চোখ তাদের নিজেদের দিকে আর ফিরবে না, এবং তাদের হৃদয়গুলো দিশেহারা হয়ে যাবে। মানুষকে আল্লাহর আজাব চলে আসার দিন সম্পর্ক সাবধান করে দিন, যে দিন তাদের কাছে আজাব চলে আসবে। আর জালেমরা সেদিন বলবে, হে আমাদের রব্ব! আমাদেরকে একটু সময়ের জন্য অবকাশ দিন, তাহলে আমরা আপনার ডাকে সাড়া দেব (অন্যের ওপর জুলুম করব না) এবং রাসুলদের অনুসরণ করব। (আল্লাহ তখন বলবেন) তোমরা কি ইতিপূর্বে কসম খেয়ে বলতে না যে, তোমাদের পতন নেই! যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছে, তোমরা তো তাদের বাসস্থানেই বাস করছ এবং সেসব জালেমের সঙ্গে আমি কেমন আচরণ করেছি, তা তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে। উপরন্তু আমি তোমাদের জন্য বহু উদাহরণ দিয়েছি। সুরা ইব্রাহীমঃ ৪২-৪৫।

জাহান্নামে জালেমদের অনেক ধরণের কঠিন শাস্তি রয়েছে। তার মাঝে জাহান্নামীদের মধ্যে সবচাইতে কম শাস্তি যাকে দেওয়া হবে, তার শাস্তির ধরণ লক্ষ্য করলেই স্পষ্ট হবে জাহান্নাম কি কঠিন জায়গা।
সাহাবী নুমান বিন বশীর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, কেয়ামতের দিন জাহান্নামীদের মাঝে সবচে সহজ ও হালকা শাস্তি দেওয়া হবে যে ব্যক্তির, সে হল তার পায়ের তলাতে দুটো জ্বলন্ত অঙ্গার থাকবে যার কারণে তার মাথার মগজ ছোট মুখ বিশিষ্ট হাড়ির ন্যায় উথলাতে থাকবে। সহীহ বুখারীঃ ৬৫৬২, সহীহ মুসলিমঃ ২১৩।
আর সেখানে চিন্তা করুন জালেমদের শাস্তি কত কঠিন হবে যেখানে স্বয়ং আল্লাহ পূর্বেই তাঁর বান্দাদেরকে এই বলে সতর্ক করে দিয়েছেনঃ নিশ্চয় যারা জালেম, তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। সুরা ইব্রাহীমঃ ২২।


আল্লাহ আমাদেরকে কারো উপর জুলুম অত্যাচার করা এবং জুলুম অত্যাচারের শিকার হওয় থেকে রক্ষা করুন, আমাদেরকে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি থেকে রক্ষা করুন, আমিন। 

বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৫

বিয়ে নিয়ে কিছু কথা

(১) একজন মুসলমান যুবক গরীব হতে পারে, আল্লাহ কাউকে ধনী বানান কাউকে গরীব বানান। কিন্তু একজন দুই হাত দুই পা ওয়ালা সুস্থ সামর্থ্য মুসলমান যুবকের কখনোই ভিক্ষুক হওয়া উচিৎ নয়। বিয়ে করতে এসে যেই ছেলে মেয়ের বাবার কাছে যৌতুক, টাকা-পয়সা, সোফা সেট, খাট-পালং বা অন্য কোন কিছু দাবী করে, সে মিসকীন, সে রাস্তার ভিক্ষু্কের চাইতে নিকৃষ্ট। এমনকি মনে মনে গিফট আশা করাও অনুচিত। এমন যে করে সে থার্ডক্লাস, ছোটলোক, এটা আসলে হিন্দুদের স্বভাব। শিক্ষিত হোক অশিক্ষিত হোক, অনেক পরিবারেই এমন হারাম টাকা দাবী করছে একশ্রেণীর জাহেল লোকেরা। আর অসহায় মেয়ের পরিবার বাধ্য হচ্ছে দিতে। এমন ছোটলোক লোভী ছেলের কাছে মেয়ে বিয়ে দেওয়া ঠিকনা। একশ্রেণীর অজ্ঞ গার্জিয়ান শিক্ষিত(!), বড়লোক বা এস্টাব্লিশড ছেলে ধরার জন্যে যৌতুক দিয়ে বিয়ে দেয়। আর দুই দিন পরেই সে লোভী ছেলে আরো টাকা দাবী করে, মেয়েকে মারধর করে, অন্য জায়গায় অবৈধ সম্পর্ক করে স্ত্রীকে ঘর থেকে বের করে দেয়। লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু।
(২) বিয়ের পরে কোন জাহেল স্বামী টাকা দাবী করলে মেয়ের বাবার উচিৎ নয় তাকে টাকা দেওয়া, এতে করে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হয়। আফসোস! আমাদের দেশে ন্যায় বিচার নেই। মেয়ের বাবার সম্পদের লোভে যেই সমস্ত বদমাশ লোকেরা স্ত্রীর গায়ে হাত তুলে, গালি-গালাজ করে এই সমস্ত জালেম লোকদের বিচার হয়না। এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিৎ, যাতে করে ভবিষ্যতে অন্য কেউ স্ত্রীর গায়ে হাত তোলার পূর্বে ১০ বার চিন্তা করে। 
(৩) আজকাল একশ্রেণীর দাইয়ুস বাবা/ভাই/স্বামী বিয়ের অনুষ্ঠানে বিয়ের কন্যাকে হাজার হাজার টাকা খরচ করে মারাত্মক সাজ-গোজ দিয়ে, বেপর্দাভাবে স্টেইজে বসিয়ে শত শত পুরুষদেরকে দেখাচ্ছে...এই সমস্ত বাবা/ভাই/স্বামীর কোন মান সম্মান নেই, এরা ঘরের মেয়দের রূপ-যৌবন অন্য পুরুষদেরকে দেখিয়ে গর্ববোধ করে। ছিহ! একজন মুসলমান পুরুষ এতো আহাম্মক ও নির্বোধ হয় কি করে?
(৪) সবার নিজ নিজ অবস্থা অনুযায়ী বিয়ে করা উচিৎ। বেনামাজী ছেলে বেনামাযী মেয়েকে, ফাসেক আধুনিকমনা মেয়ে ফাসেক আধুনিকমনা ছেলেকে - এমন মিল রেখে। নামাযীকে বেনামাজীর সাথে বা কোন বেহায়াকে ভদ্র-শালীন কারো সাথে বিয়ে দিয়ে তাদের জীবনে সমস্যা বাঁধিয়ে দেবেন না। একটা রিক্সাতে ট্রাকের চাকা লাগালে সেটা না হবে রিক্সা না হবে ট্রাক, বরং সেটা চলাচলের অযোগ্য। এমন ছেলে মেয়ের দ্বীনদারীতার মাঝে বড় রকমের অসমতা থাকা ঠিকনা, এতে দুজনের জীবনে অশান্তি। 

(৫) গায়ে হলুদ নামে নারী-পুরুষ মিলে-মিশে বেহায়াপনা, ফাহেশাহ কার্যকলাপ, তাবাররুজ, গান-বাজনা, অপচয় - এই সবগুলো কাজ মুসলমানদের নয়, এইগুলো কাফের মুশরেকদের অনুকরণ। মুসলমানদের জন্যে এইগুলো করা, এই ধরণদের অনুষ্ঠানে যাওয়া সম্পূর্ণ হারাম।

রবিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৫

প্রচলিত ধারার দেশের শীর্ষস্থানীয় কিছু শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের ছাত্র এবং ছাত্রীদের অবস্থা

প্রচলিত ধারার দেশের শীর্ষস্থানীয় কিছু শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের ছাত্র এবং ছাত্রীদের সাথে কথা বলে যা পেলামঃ
(১) তাদের বেশিরভাগই সালাত পড়েনা, বা কখনো পড়ে কখনো পড়েনা।
(২) অনেকে ৩-৪টার বেশি সুরা মুখস্থ পারেনা, এইগুলো দিয়েই তারা সালাত পড়ে। সুরাগুলোর অর্থ জানা পরের কথা, তাদের কয়জন সঠিকভাবে পড়তে পারে সে ব্যপারে যথেষ্ঠ সন্দেহ রয়েছে।
(৩) আল্লাহর নাম, পরিচয়, আসমাউল হুসনা সম্পর্কে অনেকে জানেনা। সহজ ভাষায় বলতে গেলে আল্লাহ সম্পর্কে তাদের জ্ঞান খুবই সীমিত।
(৪) একজন মানুষের জন্য যা জানা ফরজ, এমন অনেক কিছুই তারা জানেনা। যদি নাই জানে, মানবে কি করে?
(৫) অধিকাংশ প্রেম-ভালোবাসা বা তার চাইতে নিকৃষ্ট কাজের সাথে জড়িত, এবং এ ব্যপারে তারা মোটেও লজ্জিত বা ভীত নয়।
(৬) হালাল হারাম সম্পর্কে তাদের জ্ঞান খুব বেশি নেই। আর থাকলেও অনেকে সে সবের পরোয়া করেনা।
(৭) ভবিষ্যতে ইসলাম সম্পর্কে জানার বা শেখার আগ্রহ বা চেষ্টা আছে বলে মনে হয়না।
(৮) তাদের মূল চিন্তার বিষয় হচ্ছে দুনিয়া, পরকাল বা মৃত্যুর পরের জীবন সম্পর্কে তাদের বিশ্বাস কম এবং সেটা নিয়ে তারা চিন্তা-ভাবনাও কম করে।
(৯) শেষ কবে ক্বুরান খুলেছিলো, অনেকে মনে করতে পারবেনা।

আরো অনেক কথা বলা যেতে পারে, তবে এখানেই শেষ করলাম। এভাবেই আস্তে আস্তে সেকুলার বা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা আগামী প্রজন্ম, যারা ভবিষ্যতে দেশের হাল ধরবে, তাদেরকে অত্যন্ত কৌশলের সাথে আস্তে আস্তে ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ বা ধর্ম-বিদ্বেষী বানিয়ে তুলছে। আমাদের মুসলিমদের এ ব্যপারে সচেতন হওয়া উচিৎ এবং গার্জিয়ানদেরকে তাদের সন্তানদেরকে ইসলাম শিক্ষা দেওয়ার জন্যে উদ্ধুদ্ধ করা উচিৎ। আখেরী জামানায় ইসলাম নিয়ে টিকে থাকা কিছুটা কঠিন হবে বৈকি, কিন্তু সঠিক জ্ঞান, সম্মিলিত চেষ্টা, আন্তরিক পরিশ্রম থাকলে ইসলামের দুশমনদের প্রতিহত করা সম্ভব। সে জন্যে সবার প্রথম প্রয়োজন হচ্ছেঃ ইলম (জ্ঞান) এবং হেদায়েত (দিক নির্দেশনা)।

মঙ্গলবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৫

ঈমানদার বান্দা ও বান্দীদেরকে জাহান্নামে নেওয়ার জন্যে শয়তানের বিছানো কিছু ধোকার নমুনা

يَا أَيُّهَا الْإِنسَانُ مَا غَرَّكَ بِرَبِّكَ الْكَرِيمِ
উচ্চারণঃ ইয়া আইয়্যুহাল ইনসানু মা গাররাকা বি-রাব্বিকাল কারীম?
অর্থঃ হে মানুষ! তোমার সম্মানিত রব্ব সম্পর্কে কোন জিনিসটা তোমাকে বিভ্রান্ত করল?  
সুর ইনফিতারঃ ৬।
___________________________
ঈমানদার বান্দা ও বান্দীদেরকে জাহান্নামে নেওয়ার জন্যে শয়তানের বিছানো কিছু ধোকার নমুনাঃ
 ১. দুনিয়াটা মস্ত বড়, খাও দাও করো।
২. তরুণ বয়স আর ফিরে আসবেনা, লাইফটাকে এখনই এনজয়(!) করে নাও।
৩. বিয়ের আগ পর্যন্ত নষ্টামি বাদরামি, যিনা-ব্যভিচার যা ইচ্ছা করো। ভালো দেখে একটা বিয়ে করে বিয়ের পরে তোওবা করে নিলেই হবে।
৪. ছেলে-মেয়েকে বিয়ে দিয়ে হজ্জ করতে যাবো।
৫. হজ্জ করে হারাম ইনকাম ছেড়ে দেবো।
৬. এখন হজ্জ করে ফেললে নষ্টামি, বাদরামি আর করা যাবেনা। তাই মরার আগে বুড়া বয়সে যখন পাপ করার মতো আর শক্তি থাকবেনা, তখন তোওবা করে হজ্জ করতে যাবো।
৭. ভাইয়া আমার বয়স অল্প, আর আজকালকার মেয়েরা খোলামেলা ড্রেস পড়ে। তাই দৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রন রাখতে পারিনা।
৮. দাড়ি রাখলে সুন্দরী মেয়ে বিয়ে করা যাবেনা, বিয়ে করে বউয়ের পারমিশান(!) নিয়ে দাড়ি রাখতে হবে।
৯. নামাযী বয়ফ্রেন্ড, হিজাবী গার্লফ্রেন্ড।
১০. এনার্জি ড্রিংক (আসলে মদের শরবত)।
১১. ইসলামী(!) নাশিদ, ড্যান্স। (ধোঁকা)
১২. হিজাবী আপু (শুধুমাত্র মাথায় স্কার্ফ)।
১৩. ফ্যাশান হাউজ, বিউটি কনটেস্ট (পতিতা নারীদের অনুকরণ করে তাদের মতো ইজ্জত বিক্রি করে দেওয়ার ট্রেনিং সেন্টার)।
১৪. ইসলামী(!) গণতন্ত্র।
১৫. বড় হুজুর বা পীর সাপ (বিদাতী, পথভ্রষ্ট বক্তা বা আলেম)।
১৬. অনলাইন মুজাহিদ (গালি দেওয়ার উপরে ডিগ্রীপ্রাপ্ত)।
১৭. ইসলামী পেইজের এডমিন (কপি-পেস্ট মাস্টার, অল্পবয়ষ্ক মনগড়া ফতুয়াবাজ)।
১৮. বাকী নামায বাদ কিতাবের তালিম হবে (মুসলমানদের কাছে কিতাব মানে ক্বুরান। তাদের কাছে কিতাব মানে ভেজাল আমল)।
১৯. বহুত ফায়দা (জাল জয়ীফ হাদীস দিয়ে মিথ্যা ফযীলতের ধোঁকা)।
২০. দ্বীন কায়েম, ইসলাম প্রতিষ্ঠা বা ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্যে আন্দোলন। (ইসলাম কি, সেটা না জেনেই ভ্রান্ত দল বা সংগঠনের অন্ধ অনুকরণে ঝাপিয়ে পড়া, চোখ বন্ধ করে তাদের কুকীর্তির পক্ষে সাফাই গাওয়া)।
২১. আত্মশুদ্ধি, তাসাওফ, মারেফত। (শিরক বেদাত শিক্ষা দিয়ে ঈমান নষ্ট করা)।
২২. মাযার যিয়ারত (মাযারে সিজদা দেওয়া, মরা মানুষকে দেবতার মতো ভক্তি-শ্রদ্ধা করা)।
২৩. তাবিজ, তদবীর (ক্বুরানের আয়াত বিক্রি করে খাওয়া)।
২৪. নারী মুক্তি, সমান অধিকার, নারীদের ক্ষমতায়ন (আসলে মেয়েদেরকে পুরুষদের জন্য সহজলভ্য করার টেকনিক)।
২৫. মুক্তমনা, ধর্ম নিরপেক্ষ, সুশীল বুদ্ধিজীবী (আসলে ইসলামের দুশমন, নাস্তিক)
২৬. ইস্ক, প্রেম, ভালোবাসা...(নারী পুরুষের একে অন্যের প্রতি আকর্ষণকে কাজে লাগিয়ে বিয়ে না করেই অবৈধভাবে নারীদের সতীত্ব নষ্ট করার জন্যে পুরুষদের ছলনা)। 
___________________________
فَأَيْنَ تَذْهَبُونَ
উচ্চারণঃ ফা আইনা তাজহাবুন?
অর্থঃ অতঃপর তোমরা কোন পথের অনুসরণ করছো?

সুরা তাকভীরঃ ২৬।

বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৫

পুরুষের তুলনায় “নারীর অধিকার”?

পুরুষের তুলনায় নারীর অধিকার?
১. সমান
২. কম
৩. বেশি
৪. কোনটাই না
_________________________
ইসলামের দৃষ্টিতে নারী ও পুরুষের হুকুম আহকামের কিছু নমুনাঃ
১. একজন পুরুষ নাভীর নিচে থেকে হাঁটু পর্যন্ত ঢাকা অবস্থায় রাস্তা দিয়ে হাটতে পারে, একজন নারীর সেই অধিকার নেই। অবশ্য কোন মুসলিম নারী কোনদিন এই অধিকার চাইবে না। [এর দ্বারা আমি পুরুষদেরকে এই কাজটা করতে উৎসাহিত করছি তা না, প্রত্যেকটা সমাজে কিছু প্রচলন থাকে, ইসলাম বিরোধী না হলে সেই ব্যপারে সমাজের মানুষের বিরোধীতা করা ঠিক নয়। তবে মুসলিম হিসেবে আমরা আমাদের শরিয়াহ সম্পর্কে জানবো, এবং তার প্রতি আন্তরিক বিশ্বাস রাখবো]
২. মায়ের (একজন নারীর) আদেশ মানতে ছেলে (একজন পুরুষ) বাধ্য, মায়ের পায়ের নিচে ছেলের জান্নাত।
৩. স্বামীর (একজন পুরুষের) কথা মানতে স্ত্রী (একজন নারী) বাধ্য, স্বামীর অবাধ্য হয়ে জান্নাতে যাওয়া যাবেনা।
৪. স্ত্রীর ভরণ-পোষণের খরচ দেওয়া স্বামীর জন্যে ফরয, স্বামীর ভরণ-পোষণের খরচ দেওয়া স্ত্রীর জন্যে ফরয নয়।
৫. জিহাদ পুরুষদের জন্যে ফরযে কিফায়া, কখনো সেটা ফরজে আইন। নারীদের জন্যে জিহাদ করা ফরজ নয়। তাদের জন্যে হজ্জই হচ্ছে তাদের জিহাদ। 
৬. পুরুষরা একাকী সফর করতে পারে, মাহরাম পুরুষ ছাড়া কোন নারী একাকী সফর করতে পারেনা।
৭. নারীরা স্বর্ণের অলংকার পড়তে পারে, পুরুষদের জন্যে যেকোন ধরণের অলংকার পড়া হারাম।
৮. নারীরা রেশমি বা সিল্কের কাপড় পড়তে পারে, পুরুষদের সেই অধিকার নেই।
৯. ঈদের দিনে নারীরা ধফ সহকারে ছোট বালিকাদের গান শুনতে পারে, পুরুষদের সেই অধিকার নেই।
১০. বিয়ের সময় নারীদের পুরুষদের কাছ থেকে মাহরানা নেওয়ার অধিকার আছে, কিন্তু পুরুষদের যৌতুক নেওয়ার কোন অধিকার নেই, হারাম।
১১ বিয়ের পরে নারীরা পুরুষদের কাছে থাকার জন্যে উপযুক্ত বাসস্থান দাবী করতে পারে, পুরুষদের সেই অধিকার নেই।
১২. পুরুষেরা বাড়ির বাইরে গেলে সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারে, তাদের জন্যে এটা সুন্নত। নারীরা বাইরে বের হলে তাদের এই অধিকার নেই যে, তারা সুগন্ধি ব্যবহার করবে। তাদের জন্যে এটা কবীরাহ গুনাহ।
১৩. পুরুষেরা মাথা না ঢেকে সালাত পড়তে পারে, নারীদের মাথা না ঢেকে সালাত কবুল হবেনা।
১৪. একজন নারীর অধিকার আছে মসজিদে না গিয়ে বাসায় একা একা সালাত পড়ে নেওয়ার জন্যে, মসজিদে যাওয়া তাদের জন্যে ফরজ ওয়াজিব নয়। কিন্তু উপযুক্ত কারণ ছাড়া একজন পুরুষের অধিকার নেই মসজিদে না গিয়ে বাসায় একা একা সালাত পড়ে নেওয়ার।
......এমন লিখলে আরো অনেক লিখা যাবে।
_________________________
পুরুষের তুলনায় নারীর অধিকার কম না বেশি, এটা ফেমিনিস্ট এবং ওরিয়েন্টালিস্ট নামক কিছু কাফের, যিন্দিক ও মুনাফেক শ্রেণীর মানুষদের প্রশ্ন, যা দিয়ে তারা আল্লাহর আইন সম্পর্কে সাধারণ মুসলিমদেরকে বিভ্রান্ত করতে চায়। একজন মুসলিম এই বিশ্বাস রাখবে যে, আল্লাহ হচ্ছেন সর্বজ্ঞানী এবং সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক। আল্লাহ নারী ও পুরুষের ন্যয্য অধিকার দিয়েছেন, সেটা কখনো কারো জন্যে বেশি, কারো জন্যে কম। সমান অধিকার মানেই যে ন্যায় বিচার, এটা একেবারেই ভুল ধারণা। একজন প্রতিবন্ধীকে যদি সমান সুযোগ দিয়ে একজন সুস্থ মানুষের সাথে দৌড প্রতিযোগিতায় নামানো হয়, অথবা ক্লাস ফাইভের একটা ছাত্রকে যদি সমান সুযোগ-সুবিধা দিয়ে ক্লাস নাইনের একজন ছাত্রের সাথে বৃত্তি পরীক্ষা দেওয়ানো হয়, এটা কোনদিন ন্যায় বিচার হতে পারেনা। আল্লাহ নারী ও পুরুষ উভয়কে সৃষ্টি করেছেন। তারা উভয়ে আল্লাহর বান্দা ও বান্দী, এই দৃষ্টিকোণ থেকে তারা সমান। তবে আল্লাহ তাআলার মহা পরিকল্পনা ও হিকমত অনুযায়ী তাদের মাঝে কিছু শারীরিক ও মানসিক পার্থক্য দিয়ে সৃষ্টি দিয়েছেন, যাতে করে তারা পরস্পর মিলে-মিশে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারে এবং একজন আরেকজনের উপযুক্ত সংগী/সংগিনী হতে পারে। আর এই শারীরিক ও মানসিক দিকগত পার্থক্যের জন্যে তাদের মাঝে কিছু হুকুম-আহকামগত পার্থক্য দিয়েছেন, তা উভয়ের কল্যাণের জন্যে। এখন কোনটার কি কল্যান, কেনো, কী কারণে, সেটা জানা থাকুক বা না থাকুক, একজন ঈমানদার হলে বিনা আপত্তিতে অন্তর থেকে সেইগুলোকে মেনে নেওয়ার নামই হচ্ছে ঈমান, সেটা আমার ভালো লাগুক বা না লাগুক। আমার স্বল্প বুদ্ধিতে সেটা যৌক্তিক মনে হোক, বা না হোক তবুও তার প্রতি বিশ্বাস রেখে সেটা পালন করতে হবে।
আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা বলেন,
(যারা ঈমানদার) তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম। 
সুরা বাক্বারাহঃ ২৮৫।
আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের দেওয়া কোন বিধান অন্তর থেকে মেনে নিয়ে তার প্রতি আত্মসমর্পণ করা না পর্যন্ত কেউ মুমিনই হতে পারবেনা!
অতএব, (হে নবী!) আপনার রব্বের কসম! লোকেরা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তাদের মধ্যে সৃষ্ট কোন বিবাদের ব্যাপারে আপনাকে ন্যায়বিচারক বলে মনে না করে। অতঃপর, আপনার দেওয়া মীমাংসার ব্যাপারে নিজের মনে কোন রকম সংকীর্ণতা না রাখে এবং তা সন্তুষ্টচিত্তে সেটা কবুল করে নেবে। [সুরা নিসাঃ ৬৫]
_________________________
এতো গেলো একজনকে মুসলিমকে আমরা কি বলবো, কিন্তু কোন কাফেরকে এনিয়ে আমরা কি যুক্তি দেখাতে পারি?
স্কুল-কলেজ, ইউনিভার্সিটিতে, দেশে কিংবা বিদেশে, কাফির হোক কিংবা মুসলিম, যেখানেই দৌড় প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হোক না কেনো, সেখানে নারী এবং পুরুষদেরকে আলাদা প্রতিযোগীতা করানো হয়। কিন্তু স্কুল কলেজের পরীক্ষাগুলোতে ঠিকই নারী এবং পুরুষকে একই সাথে ফার্স্ট, সেকেন্ড, থার্ড প্রতিযোগিতা করানো হয়। নারী ও পুরুষের মাঝে এই পার্থক্য মানুষের সৃষ্টি। মানুষের সামান্য জ্ঞান দিয়ে এই পার্থক্য করা হয়েছে, আর সেটা সকল মানুষে মেনে নিয়েছে। কিন্তু যেই আল্লাহ সমস্ত মানুষ, আসমান ও জমীন সব কিছুকে নিখুঁতভাবে সৃষ্টি করেছেন, যিনি সর্বজ্ঞানী, তিনি তাঁর জ্ঞান অনুযায়ী নারী ও পুরুষের মাঝে আলাদা কোন আইন দিলে সেটা মানুষের মানতে এতো আপত্তি?
এই উদাহরণ দ্বারা প্রমানিত হয় যে, কাফেররা আল্লাহকে উপযুক্ত সম্মান দেয়না, এমনকি মানুষের সমানও দাম দেয়না (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)। এজন্যে আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
তারা আল্লাহকে যথার্থ মর্যাদা দেয় নি। [সুরা যুমারঃ ৬৭]
_________________________
সুতরাং ৪. কোনটাই না এটাই সঠিক। ক্বুরান ও হাদীসের দৃষ্টিকোণ থেকে বলতে হবে, আল্লাহ তাআলা নারী ও পুরুষকে যারা যার ন্যায়সংগত অধিকার দিয়েছেন।
ওয়াল্লাহু আলীমু বিস-সোওয়াব।

- আনসারুস সুন্নাহ