শনিবার, ১ আগস্ট, ২০১৫

জামাতে ইসলামী ও ইখোয়ানুল মুসলিমিন এবং জেএমবি, আল-কায়েদাহ

দ্বীন কায়েম, ইসলামী আন্দোলন, জিহাদী ইত্যাদি নামে যারা আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত থেকে বের হয়ে গেছে, সেই দলগুলো একটা আরেকটার ব্যপারে কি দৃষ্টিভংগি রাখে, নিচে তা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।  
=> বাংলাদেশ, ভারত পাকিস্থানে জামাতে ইসলামী এবং মিশর সহ কিছু আরব দেশে ইখোয়ানুল মুসলিমিন (মুসলিম ব্রাদারহুডের) এর লোকেরা মনে করে তারা গণতন্ত্র এবং ভোটের মাধ্যমে শরিয়াহ বা ইসলামী খেলাফত কায়েম করবেন। আর জেএমবি, আল-কায়েদাহ, আইসিস এরা হচ্ছে আমেরিকার সৃষ্টি স্পাই ও জংগি সংগঠন, যারা বোমাবাজি করে মুসলমান দেশগুলোকে অস্থিতিশীল বানাতে চায়।
=> জেএমবি, আল-কায়েদাহ, আইসিস মনে করে তারা জিহাদ এর মাধ্যমে শরিয়াহ বা ইসলামী খেলাফত কায়েম করবে। আর জামাতে ইসলামী ও ইখোয়ানুল মুসলিমিন কুফুরী গণতন্ত্রের গর্তে পড়ে কাফেরদের দালালি করছে।
=> আল-কায়েদার মতে আবু বকর বাগদাদীর দল আইসিস হচ্ছে পথভ্রষ্ট খারেজী, তাদের খিলাফতের দাবী মিথ্যা, মিথ্যা খিলাফতের দাবীদার বাগদাদীকে কতল করা ওয়াজিব।
=> আইসিসের মতে আল-কায়েদাহ বাগদাদিকে বাইয়াত না দেওয়ায় তারা মুর্তাদ হয়ে গেছে, তাদেরকে হত্যা করা জায়েজ এবং তাদের অনেক নেতা কর্মীকে তারা ইতিমধ্যে হত্যাও করেছে।
=> জামাতে ইসলামী ও ইখোয়ানুল মুসলিমিন এবং জেএমবি, আল-কায়েদাহ, আইসিস এর লোকেরা হিযবুত তাহরীরকে বোকা লোকদের সংগঠন মনে করে।
=> আর হিযবুত তাহরীরের লোকেরা জামাতে ইসলামী ও ইখোয়ানুল মুসলিমিন এবং জেএমবি, আল-কায়েদাহ, আইসিস এদের সবাইকে গোমরাহ মনে করে।
সংক্ষেপে খারেজীদের জীবনচক্র...

জীবন শুরুর দিকে জামাত-শিবির > যখন জামাত শিবিরের দুইমুখী নীতি কিছুটা ধরতে পারে তখন মডার্ণ আদলে হিযুবত তাহরীর দলে যোগ দেয় >> হিযবুত তাহরীরে গিয়ে যখন আশার আলো দেখতে পায়না তখন এদের চাইতে বড় কট্টরপন্থী খারেজী দল আইসিস/আল-কায়েদাহ এর ভক্ত। আল্লাহ আমাদেরকে চরমপন্থী খারেজীদের ফেতনা-ফাসাদ থেকে রক্ষা করুন, আমিন।

তাক্বদীরের ভালো বা মন্দ আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত

ঈমানের ষষ্ঠ রুকন বা পিলার হচ্ছে তাক্বদীরের ভালো বা মন্দ আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। আর এই বিশ্বাস রাখা বান্দার নামায, রোযা, হজ্জ যাকাত সব কিছুর থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। অনেকে নামায রোযা করে, কিন্তু আমার ভাগ্য খারাপ, পোড়া কপাল ইত্যাদি বলে তাকদীরের প্রতি অসন্তুষ্ট হয় এবং গালমন্দ করে। অনেকে আল্লাহ সম্পর্রকে খারাপ ধারণা পোষণ করে, আল্লাহ আর কোন মানুষকে দেখেনা, কি পাপ করেছিলাম....এইরকম ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথা-বার্তা বলে যা কুফুরী, নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক।
তাক্বদীরে যা লিখা আছে, তাই হবে কিন্তু বান্দার দায়িত্ব হচ্ছে সাধ্য অনুযায়ী আমল করে যাওয়া। সেইজন্য বিপদে বা কঠিন অবস্থাতে তাকদীরের প্রতি অসন্তুষ্ট হওয়া মুমিনদের গুণাবলী নয়।

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমার বান্দাদের মাঝে খুব কম সংখ্যকই আমার প্রতি কৃতজ্ঞশী। [সুরা সাবাঃ ১৩]

ঈমান হচ্ছে....

ঈমান হচ্ছে.....
১. প্রচন্ড রৌদ্রের দিনেও রোযা রেখে যেই জিনিসটা আপনাকে আত্বতৃপ্তি দিবে।
২. দেখার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও যা আপনাকে বেপর্দা মেয়ের প্রতি দৃষ্টিপাত করতে বাধা দেবে।
৩. নাটক-সিনেমা, গান-বাজনাফাসেক লোকেরা যেইগুলো ভালোবাসে সেইগুলো শুনলে আপনার মনে ক্রোধের সৃষ্টি করবে।
৪. ব্যস্ততা, অলসতা ও কষ্টের মাঝে যা আপনাকে নামায পড়তে বাধ্য করবে
৫. ক্বুরানের আয়াত শুনলে যা কঠিন হৃদয়টাকেও অত্যন্ত নরম করে দেবে যার কারণে দুইচোখ বেয়ে পানির ধারা বর্ষিত হবে।
৬. সারা দুনিয়া থাকা সত্ত্বেও মৃত্যুর কথা মনে করলে সবকিছু স্তব্ধ ও ফাকা করে দেবে।
৭. দুনিয়ার সবচাইতে দরিদ্র মানুষটাকেও দুনিয়ার সবচাইতে সম্পদশালী কাফের থেকেও ঐশ্বর্যশালী করে দেবে।
৮. জীবনে কোনদিন নামও শুনেন নি এমন দ্বীনি ভাইকে খুব অল্প সময়ের মাঝে কাছে এনে দেবে।
৯. সাত সমুদ্র তের নদী দূরেও যদি কোন মুসলমান ভাই-বোন কষ্ট পাচ্ছে শুনলে আপনার হৃদয়টা কেঁদে উঠবে।
১০. মুসলমানেরা পাপ কাজে লিপ্ত থাকলে আপনাকে কষ্ট দেবে।
১১. আল্লাহ এবং তার রাসুল সাঃ কে দুনিয়ার সবচাইতে প্রিয় করে দেবে।

১২. আল্লাহ এবং তার রাসুলের কথাই চূড়ান্ত, তার কথার বিরুদ্ধে সমস্ত কিছুকে অচল করে দেবে। 

ঈমান কি? সবচাইতে উত্তম আমল কোনটা?

=> ঈমান কি?
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিব্রাঈল আমিন (আঃ) প্রশ্ন করেছিলেন, ঈমান কি? উত্তরে তিনি বলেছিলেনঃ
ঈমান হচ্ছে তুমি
১. আল্লাহর প্রতি,
২. তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি,
৩. আল্লাহর নাযিল করা আসমানী কিতাবসমূহের প্রতি,
৪. সমস্ত নবী-রাসূলদের প্রতি,
৫. কেয়ামতের প্রতি এবং
৬. তাক্বদীর বা ভাগ্যের ভালো-মন্দ আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত
এই সবগুলোর প্রতি বিশ্বাস রাখা।
[সহীহ মুসলিমঃ হাদীস নং- ১]

=> সবচাইতে উত্তম আমল কোনটা?
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো কোন আমলটা সবচেয়ে উত্তম? উত্তরে তিনি বললেন,
১. আল্লাহর প্রতি ও তার রাসুলের প্রতি ঈমান আনা।
তাকে আবার জিজ্ঞেস করা হলো, এর পরে সবচেয়ে উত্তম আমল কোনটা? তিনি বললেন,
২. আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।
আবার প্রশ্ন করা হলো, এর পরে সবচেয়ে উত্তম আমল কোনটা? তিনি বললেন,
৩. এমন হজ্জ যা আল্লাহর অনুগ্রহে কবুল করা হয়েছে।

[সহীহ মুসলিমঃ ১৪৮] 

শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০১৫

আক্বিদাহ যদি সঠিক না হয়, তাহলে সমস্ত কথা ও কাজ বাতিল

শায়খ বিন বাজ রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
আক্বিদাহ যদি সঠিক না হয়, তাহলে সমস্ত কথা ও কাজ বাতিল।
[ফতোয়া ইবনে বাজঃ ১/১৩, আল-ইফতা]  
অনেক ভাইয়েরা এই কথাটার দলিল বা উৎস জানতে চেয়েছেন। নিচে আমি আক্বীদাহ শব্দের অর্থ এবং আকীদাহ সঠিক না হলে আমল বাতিল এই কথার দলিল উল্লেখ করছি।
===================
আরবী আক্বদ শব্দ থেকে আক্বীদাহ, যার শাব্দিক অর্থ হচ্ছে বন্ধন বা গিঁট, Knot.
ইসলামী পরিভাষায় একজন মুসলিম ব্যক্তির মৌলিক ধর্মীয় বিশাস (ইংরেজীতে Creed) এর এক একটি বিষয়, যেমন- আল্লাহ এক, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন রাসূল বা আল্লাহর প্রেরিত দূত, জিব্রাঈল আঃ আল্লাহর ওহী নিয়ে আসতেন, তাক্বদীর বা মানুষের ভাগ্য আল্লাহ নিয়ন্ত্রন করেন এবং তিনি তা লিখেও রেখেছেন, ইত্যাদি বিষয়গুলোকে আক্বীদাহ বলা হয়। কারণ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসগুলো গিঁটের মতোই মানুষের অন্তরের সাথে জোড়া লেগে থাকে, যা সহজে ভেঙ্গে বা নষ্ট হয়ে যায়না।
উল্লেখ্য, নোমান আলী খান নামক একজন এমেরিকান ইউটিউব বক্তা দাবী করেছেন, আক্বীদাহ কথাটি ক্বুরানে নেই, সুতরাং আক্বিদাহ শিক্ষা করাকে এতো গুরুত্ব দেওয়া ঠিকনা। এটা আসলে ইসলামী শিক্ষা নিয়ে তার মূর্খতাপূর্ণ বক্তব্য ছাড়া আর কিছুইনা। ক্বুরানে তারাবীহ শব্দ নাই, দাজ্জাল শব্দ নাই, তাই বলে আমরা কি এইগুলো শিক্ষা করা বাদ দিয়ে দেবো নাকি? এটা আসলে মূর্খতা, আপনারা এমন মূর্খতাপূর্ণ কথা-বার্তা থেকে সাবধান থাকবেন। আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা ক্বুরানুল কারীমে যেই জিনিসটাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন সেটা হচ্ছেঃ শিরকমুক্ত একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা। সেইজন্য আল্লাহ তাআলা ক্বুরানুল কারীমের পাতায় পাতায় আল্লাহ সম্পর্কে সঠিক বিশ্বাস কেমন হওয়া উচিৎ এবং কাফের মুশরেকদের ভ্রান্ত বিশ্বাসের প্রত্যাখ্যান করে আলোচনা করেছেন। আর এই একজন মুসলিমের এই বিশ্বাসলোকে সমস্ত ইসলামী পন্ডিতগণ আকিদাহ নামে উল্লেখ করেছেন এবং এনিয়ে বই লিখেছেন। এটা না বুঝেই একবিংশ শতাব্দীর মুফাসসির আর শায়খরা দাবী তুলেছেন, ক্বুরানে আকিদাহ শব্দ নাই সুতরাং আকিদাহ কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না! এটা জাহালাত (মূর্খতা), এটা দ্বোয়ালালাহ (পথভ্রষ্টতা)। 
===================
ক্বুরানুল কারীম থেকে আকীদাহ সঠিক না হলে আমল বাতিল এই কথার দলিলঃ
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, (হে নবী!) আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তী সকল (নবী-রাসূলদের) প্রতি এই ওয়াহী করা হয়েছিলো যে, আপনি যদি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করেন, তাহলে আপনার সমস্ত আমল বাতিল হয়ে যাবে, এবং আপনি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে একজন হবেন। [সুরা আল-জুমারঃ ৬৫]
সুতরাং, এই আয়াতে কারীমায় আল্লাহ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, শিরক করলে কারণে মানুষের সমস্ত আমল বর্বাদ হয়ে যাবে। যেটা তিনি অন্যান্য আয়াতেও উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তাআআলা আরো বলেছেনঃ
আর (শেষ বিচারের দিন) আমি তাদের আমলগুলোর প্রতি লক্ষ্য করবো, অতঃপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করে দেব। [সুরা আল ফুরক্বানঃ ২৩]
ধূলিকণায় পরিণত করে দেবেন কারণ তাদের ইবাদত বা আমলগুলো ছিলো শিরক মিশ্রিত অথবা বিদআত। আর শিরক মিশ্রিত কোন আমল বা বিদআত আল্লাহ কবুল করেন না। সেই জন্যে আমল করার পূর্বে আক্বিদাহ বা ধর্মীয় বিশ্বাস (Creed)  সঠিক করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী আমল করতে হবে। আকীদাহ সংশোধন না করেই বেশি বেশি আমল করলে সম্ভাবনা আছে সেই আমলের মাঝে শিরক ও বিদাত ঢুকে নষ্ট ও ব্যর্থ হয়ে যাবে।
===================
সুন্নাহ বা সহীহ হাদিস থেকে দলিলঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
যে ব্যক্তি কোন গণকের কাছে গিয়ে কোন কিছু জিজ্ঞেস করবে, তার ৪০ দিনের সালাত কবুল হবে না। [সহীহ মুসলিম]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন,
যে ব্যক্তি কোন গণক বা জ্যোতিষের কাছে যায় এবং তার কথা সত্যি বলে বিশ্বাস করে, তাহলে সে মুহাম্মাদ এর উপর নাযিলকৃত বিষয় (ক্বুরানুল কারীমের) সাথে কুফুরী করবে। [সুনানে আবু দাঊদ]
এই দুইটি হাদীস থেকে প্রথমটিতে দেখা যাচ্ছে, কেউ যদি শুধুমাত্র গণকের কাছে তার ভাগ্য নিয়ে তার ভবিষ্যতবাণী জিজ্ঞাস করে তাহলে তার ৪০ দিনের নামায কবুল হবেনা। এর কারণ হচ্ছে, সে গণক বা জ্যোতিষীর কথা বিশ্বাস করুক বা না করুক, গণক যে গায়েব বা অদৃশ্যের জ্ঞান জানার দাবী করা (বড় শিরক), সে তার প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করে দূরে থাকেনি। এতোটুকু ঈমানের ঘাটতির কারণে ৪০ দিন পর্যন্ত তার নামায কবুল করা হবেনা। আর যদি গণকের কথা বিশ্বাস করে তাহলে সে যেনো সম্পূর্ণ ক্বুরানকেই অস্বীকার করে কাফের হয়ে গেলো। 
===================
সাহাবীদের বক্তব্যঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মৃত্যুর পরে সাহাবীদের যুগে ইরাকের বসরা নামক অঞ্চলে কিছু লোক বের হয়েছিলো, যারা মনে করতোঃ তাক্বদীর বলতে কিছু নেই, সবকিছু তাৎক্ষনিকভাবে ঘটে থাকে। তাক্বদীর অস্বীকার করেছিলো বলে এই পথভ্রষ্ট লোকদেরকে ক্বাদরিয়া বলা হতো। যাই হোক সেখান থেকে কিছু তাবেয়ী মুসলমান মক্কায় হজ্জ  বা উমরা করতে আসেন এবং এমন সময় তারা সৌভাগ্যক্রমে আবদুল্লাহ ইবন উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) এর সাথে মসজিদে দেখা পেয়ে যান। তারা তাঁর কাছে গিয়ে একজন তাঁর ডানপাশে এবং আর একজন বামপাশে বসেন, এবং তাক্বদীর অস্বীকারকারী ক্বাদরিয়াদের ব্যপারে তাকে প্রশ্ন করেন। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) তাদেরকে বলন, তাদের সাথে তোমাদের দেখা হলে বলে দিও যে, তাদের সাথে আমার কোন সস্পর্ক নেই এবং আমার সঙ্গে তাদেরও কোন সম্পর্ক নেই । আল্লাহর কসম! তাদের মধ্য থেকে কেউ যদি ওহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনার মালিক হয় এবং তা আল্লাহর রাস্তায় দান করে, তাক্বদীরের প্রতি ঈমান না আনা পর্যন্ত আল্লাহ তা কবুল করবেন না।
[সহীহ মুসলিমঃ হাদীস নং-১]

===================

আজ সুরা কাহাফ পড়ার তোওফিক কি হয়েছে?

আজ সুরা কাহাফ পড়ার তোওফিক কি হয়েছে?
============================
ফেইসবুকে বোকা লোকদের লেখা পড়ে বা ছবি দেখে, টিভিতে হারাম ও অশ্লীল অনুষ্ঠান দেখে, বয়ফ্রেন্ড ও গার্লফ্রেন্ডের শয়তানী ধোঁকায় পড়ে বা বেহুদা আড্ডা ও খেলাধূলার পেছনে সময় নষ্ট না করে জুমুয়াহর দিনে যদি অন্তত সুরা কাহাফের ১০টা/২০টা আয়াতও পড়তে পারেন, তাহলে সেটা আপনার দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য অনেক বেশি কল্যানকর হবে। আল্লাহ আমাদেরকে বুঝার ও মানার তোওফিক দান করুন, আমিন।
==========================
সহীহ হাদীস অনুযায়ী সুরা কাহফের মর্যাদাঃ
১. সুরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্ত করলে দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচা যায়। [সহীহ মুসলিম]
২. জুমুয়ার দিনে সুরা কাহাফ পড়লে পরবর্তী জুমুয়াহ পর্যন্ত ঐ ব্যাক্তির জন্য একটি বিশেষ জ্যোতি আলোকিত হয়ে থাকবে। [মুস্তাদরাক হাকেম, সহিহুল জামে]

৩. সুরা কাহাফের তিলওয়াত করলে বাড়িতে শান্তি ও বরকত নাযিল হয়। [সহীহ বুখারি ও সহীহ মুসলিম]

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০১৫

অনলাইন মুজাহিদ দের কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর

(১) হাদীসে বলা হয়েছে যে, খোরাসান থেকে কালো পতাকা নিয়ে একটি দল বের হবে। সেই দল কোনটি?
উত্তরঃ আল কায়েদাহ, আইসিস, জেএমবির মতো এমন পথভ্রষ্ট দলের অনুসারী কিছু লোকেরা কালো পতাকা সম্পর্কিত কিছু হাদীস প্রচার করে থাকে। অথচ, কালো পতাকা নিয়ে কোন একটি সহীহ হাদীস নেই, এ সম্পর্কিত সবগুলো হাদীস জাল নয়তো জয়ীফ। বর্তমানে আইসিস নামক একটি দল এইরকম জাল ও জয়ীফ হাদিসের উপর ভিত্তি করে নিজেদেরকে সেই কালো পতাকাবাহী দল বলে দাবী করছে। অথচ আকিদাহগত দিক থেকে তারা খারেজীদের চাইতে নিকৃষ্ট। 

(২) সৌদি সরকার ইসরাইলকে কিছু বলে না কেনো?
উত্তরঃ এটা ইখোয়ানী, তাকফিরীদের বাজে ধারণা মাত্র, যা নিয়ে আসলে অতীত থেকে অনেক ইতিহাস জানার আছে। ১৯৯৯-২০০০ এর দিকে সৌদি আরব যখন ফিলিস্থিন ইস্যু নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্যোগী হয়েছিলো আর আমেরিকা কিছু অন্তঃসারশূণ্য মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে আরব দেশগুলোকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছিলো। পরবর্তীতে ২০০১ এ ৯/১১ এর পরে পুরো বিশ্ব রাজনৈতিক ব্যবস্থারই পরিবর্তন হয়ে গেছে, যার রেশ ধরে শুধু সৌদি আরবই নয়, অনেক কাফের ও মুসলমান দেশই অনেক ব্যপারে আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে চলে গেছে। আর এইজন্যেই বিভিন্ন মোটিফ দেখে ধারণা করা হয় যে, ৯/১১ আসলে আমেরিকারই করা। হয় তারা সরাসরি নিজেরা করেছে, অথবা আইসিসের মতো এমন বিভ্রান্ত বিদাতী অথবা মুসলমান পোশাকে আমেরিকান স্পাই দিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে, যাতে করে একক আধিপত্য বিস্তার ও ইসলাম এর প্রচার বন্ধ করার জন্যে তাদের সাম্রাজ্যবাদী মিশন শুরু করতে পারে। এই ডকুমেন্টারিটা দেখুন, এনিয়ে ভালো কিছু তথ্য পাবেন।
https://www.youtube.com/watch?v=7GwFs7mPh0Q
(৩) সৌদি সরকার শিয়াদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে, তাহলে ইহুদির সাথে জিহাদ করাকে কেনো হারাম বলে?
এটা ভুল ব্যখ্যা বা অপপ্রচার। জিহাদের জন্যে একটা শর্ত হচ্ছে, সামর্থ্য থাকা। আমেরিকা, ইংল্যান্ড সহ অনেক কাফের দেশ প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্যভাবে ইসরায়েলকে আর্থিক ও সামরিক সাহয্য দিয়ে থাকে। এমনকি যেকোন পরিস্থিতিতে অন্য দেশের (মুসলমানদের) বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে জরুরী সামরিক সাহয্য দিতেও তারা অঙ্গীকারাবদ্ধ। অন্যদিকে আরব ও মুসলমান দেশগুলো নিজেরাই বিভক্ত। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব বা কোন মুসলমান দেশই সামরিক শক্তি দিয়ে ইসরায়েলকে দমন করার জন্য শক্তিশালী নয়। সেজন্যে তারা ইসরায়েল এবং পাশ্চাত্যের সাথে সরাসরি সংঘর্ষে যায়না। এজন্যে আমাদের উচিৎ আল্লাহর কাছে দুয়া করা এবং সমস্ত মুসলমান দেশগুলো যেনো একত্রিত হয়ে রাজনৈতিকভাবে আমেরিকান আগ্রাসন রোধ করতে সচেষ্ট হয় সেইজন্য কাজ করা। আর সৌদি আরবের ইয়েমেনে হুছী শিয়া দমনের জন্যে যুদ্ধে কারণ হচ্ছে, শিয়ারা ইতিমধ্যেই ইরান, লেবানন, ইরাক, সিরিয়াতে ক্ষমতা দখল করে সেখানকার সুন্নীদের রক্ত গংগা বইয়ে দিয়েছে। এইভাবে তাদের টার্গেট হচ্ছে মক্কা মদীনাহ দখল করে সুন্নী মুসলমানদেরকে ধ্বংস করা। ইহুদীরা ফিলিস্থিন দখল করে সেখানকার মুসলমানদেরকে হত্যা ও নির্যাতন করছে কিন্তু তারা মক্কা মদীনা আক্রমন করার জন্যে আপাত কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা। কিন্তু শিয়ারা ইতিমধ্যে কয়েকটি সুন্নী দেশ দখল করে আস্তে আস্তে মক্কার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। শিয়াদের এই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার জন্য সৌদি আরব ও তুরস্কের নেতৃত্বে প্রায় ২০টির মতো সুন্নী দেশ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আমরা আশা করি ও দুয়া করি এইভাবে মুসলমান দেশগুলো আল্লাহর জন্য এক হলে ভবিষ্যতে তারা অন্যান্য নির্যাতিত মুসলমানদেরকে সাহায্য করতে পারবে। 

(৪) সালাফি আলেমরা বিদাতীর বিরুদ্ধে এতো কঠোর কেন?
উত্তরঃ সালাফি আলেমরা প্রতিটি ব্যপারে ক্বুরান, সুন্নাহ এবং সালাফ (সাহাবাদের) আদর্শ অনুসরণ করার চেষ্টা করেন। আর আমাদের সালাফরা অবস্থা অনুযায়ী বিদআতীদের প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করেছেন। সালাফদের সম্পর্কে আসারগুলোতে এনিয়ে অনেক রেওয়ায়েত আছে। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে সবচাইতে ঘৃণিত বিষয় হচ্ছে বিদআত। [ইমাম বায়হাকী, সুনান আল-কুবরাঃ ৪/৩১৬]

(৫) সালাফিরা কি অমুসলিমের চাইতে বিদআতিদেরকে বেশি ঘৃণা করে?

উত্তরঃ নাহ, সালাফিরা অমুসলিমের চাইতে বিদাতিদেরকে বেশি ঘৃণা করেনা। তবে অমুসলিমদের ক্ষতি ও খারাপ দিক সম্পর্কে সকলেই জানে, কিন্তু বিদআতীরা ক্বুরান ও হাদীসের অপব্যখ্যা করে অনেক ধার্মিক মুসলমানদেরকে পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত করে। এইজন্যে অনেক সময় অমুসলিমদের ক্ষতি থেকে বিদআতীদের দ্বারা ইসলাম এর ক্ষতি বেশি হয়ে থাকে। কাফেররা আক্রমন ও নির্যাতন করে মুসলমানদেরকে শুধুমাত্র দুনিয়াবী ক্ষয়-ক্ষতি করতে পারে, কিন্তু বিদাতীরা সরলমনা সাধারণ মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করে তাদের দ্বীন এবং পরকালের ক্ষতি করে। একারণে মুসলমানদেরকে বিদাতীদের ব্যপারে এতো বেশি সতর্ক করতে হয়। হয়তোবা একারণেই বিদাতীদের ক্ষতি সম্পর্কে যারা ওয়াকিবহাল না, তারা এই ভুল ধারণা করতে পারে যেঃ সালাফিরা অমুসলিমের চাইতে বিদাতিদেরকে বেশি ঘৃণা করে। এটা ভুল ধারণা, বিদআতি যদি ইসলাম ভংগকারী শিরক বা কুফুরী না করে, তাহলে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামআতের আকিদাহ অনুযায়ী তারা মুসলিম, এবং তাদের বিষয়টা আল্লাহর ইচ্ছার অধীন। আল্লাহ তাদের গুনাহ মাফ করে সরাসরি জান্নাতে দিতে পারেন, অথবা জাহান্নামে পাপের শাস্তি দেওয়ার পরে জান্নাতে দিতে পারেন। [আক্বিদাহ তাহাবীয়া]

আমি একটা উদাহরণ দিচ্ছিঃ ৯/১১ এর পর থেকে জর্জ ডব্লিও বুশ ও এমেরিকা ইসলাম থেকে জিহাদ এবং আল-ওয়ালা ওয়াল বারা বাদ দিয়ে কাফের বান্ধব ইসলাম প্রচার ও প্রসারের জন্যে অনেক টাকা ব্যয় করছে। দ্বীনের ব্যপারে আন্তরিক যেকেউ তাদের এই নীল নকশা বুঝতে পারছে, এবং একমাত্র দুনিয়াপূজারী, ফাসেক এবং মুনাফেক ছাড়া কোন মুসলমান এই ব্যপারে তাদেরকে জীবন থাকতে সাহায্য-সহযোগিতা বা সমর্থন করবেনা। হয়তোবা, এটা নিয়ে আমেরিকা কোন মুসলমানকে জেলে দিতে পারে, হত্যা করতে পারে কিন্তু তার দ্বীনকে সে পরিবর্তন বা ক্ষতি করতে পারবেনা। অন্যদিকে, তাকফিরী কুতুবী মানহাজের উপর প্রতিষ্ঠিত জংগী সংগঠন আল-কায়েদাহর অনুসারী আনোয়ার আওলাকি ২০১০ সালে একটা ভিডিওতে সহীহ কিন্তু মানসুখ হাদীসের অপব্যখ্যা করে ৯/১১ এর মতো সন্ত্রাসী বোমা হামলা করে নিরীহ মানুষ মারা হত্যা করা বৈধতা দিয়ে একটা ফতোয়া দিয়েছিলো। অনেক আওলাকি ভক্তরা সত্যিকারের ওলামাদের কথা না শুনে, যখনই কোথাও মুসলমান নাম নিয়ে এমন সন্ত্রাসী আক্রমন করছে, জিহাদী চেতনা নিয়ে তোতা পাখির মতো সেই ফতোয়া আওড়ে সেইগুলোকে ইসলামি জিহাদ প্রমান করা তারা নিজেদের জন্য ফরয করে নিয়েছে। এইভাবে বিভ্রান্ত বক্তারা জিহাদ নাম দিয়ে মানবতাবিরোধী সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে ইসলামের মহান সেবা বলে মনে করছে এবং তরুণ যুবকদেরকেও অনুরূপ ভ্রষ্টতার গর্তে ফেলছে। আল্লাহু মুস্তায়ান।