সোমবার, ৭ মার্চ, ২০১৬

তোমার কষ্ট বেশি নয় বন্ধু!

তোমার কষ্ট বেশি নয় বন্ধু!
তোমার থেকে অনেক বেশি কষ্ট পেয়েছেন আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এ জগতের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, আল্লাহর নিকট সবার চাইতে প্রিয়তম বান্দা. . .এতো বড় মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও কত কষ্ট পেয়েছেন তিনি, তাহলে তুমি কে? তুমি তাঁর কথা স্বরণ করে সান্ত্বনা নাও। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ মসিবতে (অর্থাৎ দুঃখ-কষ্ট কিংবা বিপদ-আপদে) পড়ে, তখন সে যেন আমার জীবনের মসীবতের কথা স্বরণ করে (সান্ত্বনা নেয়)। কারণ আমার জীবনের মসীবত তোমাদের সবার মসিবতের চাইতে বড়। [ইবনে সাদ, সহীহুল জামিঃ ৩৪৭]
(১) মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্মের পূর্বে, মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থাতেই তাঁর পিতা মারা যান, ছয় বছর বয়সে তাঁর মাতাও ইন্তিকাল করেন, আট বছর বয়সে দাদা ইন্তিকাল করেন।
(২) নামাযের সেজদারত অবস্থাতে তাঁর ঘাড়ে উটের নাড়ি-ভূড়ি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। এতো ভারী ছিলো যে, সেই নাড়ি-ভূড়ির কারণে তিনি সেজদাহ থেকে মাথা তুলতে পারছিলেন না।
(৩) তায়েফে পাথর মেরে মেরে তাঁকে এতো আহত করার হয়েছিলো যে, শরীরের আঘাত থেকে রক্তের ধারা প্রবাহিত হয়ে তাঁর দুইপা রঙ্গিন হয়ে হয়েছিলো।
(৪) নিকট আত্মীয়-স্বজনদেরকে সহ তাঁকে একঘরে করে শিবে আবী তালেব নামক একটি পাহাড়ের উপত্যকায় দুই বা তিনি বছর ধরে অবরোধ করে রাখা হয়েছিলো। সে সময় খাবার না পেয়ে, চরম দারিদ্রতা ও ক্ষুদার কারণে তাঁরা সবাই পশুর চামড়া এবং গাছের পাতা চিবিয়ে খেতে বাধ্য হয়েছিলেন।
(৫) এমনকি নিজের মাতৃভূমি থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছিলো। জীবন রক্ষার জন্যে তিনি মদীনাতে হিজরত করে চলে যান।
(৬) তাঁর কত সাথী ও অনুসারীদেরকে হত্যা করা হয়েছিলো।
(৭) উহুদের যুদ্ধে তাঁর দাঁত ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছিলো।
(৮) তাঁর পবিত্র স্ত্রীর চরিত্র সম্পর্কে জঘন্য অপবাদ দেওয়া হয়েছিলো।
(৯) একটি মাত্র মেয়ে ছাড়া তাঁর দুই ছেলে এবং তিন মেয়ে, কলিজার টুকরা মোট ৫জন সন্তান তাঁর জীবদ্দশায় চোখের সামনেই মৃত্যু বরণ করেছিলেন।
(১০) ক্ষুদার তাড়নায় তিনি পেটে পাথর বেঁধেছিলেন, দিনের পর দিন তাঁর বাড়িতে রান্নার জন্যে চুলা জ্বলতোনা।
(১১) লোকেরা তাঁকে পাগল, কবি, মিথ্যাবাদী, জাদুকর ইত্যাদি বলে গালি দিতো।
(১২) কতবার তাঁকে খুন করার চেষ্টা করা হয়েছিলো। একবার তাঁর মাথার উপরে পাথর ফেলে দিয়ে তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিলো, আল্লাহর তাঁকে রক্ষা করেছিলেন। আরেকবার এক ইহুদী মহিলা খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে দিয়েছিলো। সেই খাবার খেয়ে একজন সাহাবী মৃত্যুবরণ করেছিলেন, আর এই বিষের যন্ত্রনায় কলিজা ছিঁড়ে গেলে যেমন কষ্ট হয়, তেমনি কষ্ট তিনি মৃত্যুর পূর্বে ভোগ করেছিলেন।
এ সব কথাই তো তোমার জানা-শোনা না পড়া আছে।
তুমি আরো জানো যে, করাত দিয়ে চিড়ে যাকারিয়া নবীকে দুই খন্ড করে হত্যা করা হয়েছিলো। যাকারিয়ার পুত্র আরেক ইয়াহইয়া নবীকেও খুন করা হয়েছিলো। ইব্রাহীম নবীকে বিশাল বড় আগুনে ফেলে দেওয়া হয়েছিলো। চরম বালা (পরীক্ষা) দেওয়া হয়েছিলো আইয়ুব নবীকে। মসীবতে ফেলা হয়েছিলো ইউনুস নবীকে। হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিলো ঈসা নবীকে। আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি শান্তি ও দয়া বর্ষণ করুন।
এছড়া মসজিদের ভেতরে নামায পড়া অবস্থাতে খঞ্জর মেরে শহীদ করা হয়েছিলো দ্বিতীয় খলিফা উমারকে। ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে ক্বুরান তেলাওয়াত করা অবস্থাতে খুন করা হয়েছিলো তৃতীয় খলিফা উসমানকে। বিষাক্ত ছুরি মেরে হত্যা করা হয়েছিলো চতুর্থ খলিফা আলীকে। আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন।
সুতরাং, হে বন্ধু! তুমি তোমার দুঃখ-কষ্টের ব্যপারে ধৈর্য হারিয়ে ফেলোনা। নবী-রাসুল, সাহাবা এবং অলি-আওলিয়া ও নেককার লোকদের মতো তুমিও বিপদে ধৈর্য ধারণ করো। আর তাঁদের মতো এতো বড় বিপদ বা কষ্টে পড়োনি দেখে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করো। আল্লাহর ইবাদতে মনোযোগ দাও, নামায পড়ো, ক্বুরান পড়ো। আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তরগুলো শান্তি পায়। সুতরাং আল্লাহর যিকির দ্বারা তোমার অন্তরটাকে সুখী রাখো।

মূলঃ শায়খ আব্দুল হামীদ ফাইযীর লিখিত সুখের সন্ধানে, পৃষ্ঠা ৭৬-৭৭। (কিছুটা সম্পাদিত)  

রবিবার, ৬ মার্চ, ২০১৬

সোমবার ও বৃহস্পতিবার দিনের ফযীলতঃ

সোমবার ও বৃহস্পতিবার দিনের ফযীলতঃ
আল্লাহর তাআলার অনেক বড় রহমত যে আজ (৬ই মার্চ, ২০১৬) আরেকটি সোমবার পর্যন্ত (ইং শাআল্লাহ) ঈমানদার, মুসলিম হিসেবে তিনি আমাদের আয়ুকে বৃদ্ধি করেছেন। অথচ, গত এক সপ্তাহে আমাদের চাইতে কত কম বয়সে, কত সুস্থ সুন্দর মানুষ এই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেছে। সেইজন্যে আসুন আমরা সকলেই অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আমাদের সৃষ্টিকর্তা, আমাদের প্রাণের মালিকের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ বলিঃ  আলহামদুলিল্লাহ! আলহামদুলিল্লাহি হামদান কাসীরান ত্বাইয়্যিবান মুবারাকান ফীহ!
যদিও আজকে ফযীলতপূর্ণ একটি দিন শুরু হলো, কিন্তু অনেক মুসলমান এই দিনটির শুরুতেই পাপ কাজে লিপ্ত হয়ে আল্লাহকে ক্রোধান্বিত করছে। আমরা আল্লাহর কাছে তাঁর আজাব ও গজব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। বিশেষ করে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ যারা নিজেদেকে মুসলমান বলে মনে করে বা দাবী করা, T-20 বিশ্বকাপ ক্রিকেট নামক আধুনিক জুয়ার আসর দেখে বা শুনে তারা নানারকম উশৃংখলা, অবাধ্যতা ও পাপাচারে লিপ্ত হচ্ছে। এই খেলাগুলো দেখা, এদের উপর সন্তুষ্ট থাকা, এদের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করা, খেলায় কে কত রান করলো; সেটা নিয়ে গল্প করা বা তা শোনা, বাংলাদেশের পাপী এবং জাহেল খেলায়াড়দেরকে ভালোবেসে বিসিবির লোগো দেওয়া, প্রোপিক চেঞ্জ করা - এইসবগুলো কাজ আল্লাহ ঘৃণা করেন। কারণ এর দ্বারা পাপ কাজ ও পাপী লোকদের প্রতি সমর্থন ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করা হয়। সুতরাং, পরকালকে ভালোবাসেন, আল্লাহর সাক্ষাতের আশা রাখেন এমন সৎ মুসলমানদের জন্যে এটা ওয়াজিব (বাধ্যতামূলক) যে, তারা এই ধরণের হারাম কথা ও কাজ সম্পূর্ণভাবে বর্জন করবেন।
আরেকটা কথা বলি, আমি ফেইসবুকে এক লোককে চিনি, যে নিজের মূর্খতা ও হিংসাবশত ভারতীয় উপমহাদেশে আহলুস সুন্নাহর অনুসারী, আহলুল হাদীস জামআতের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে একটা বই লিখে মানুষের মাঝে প্রচার তাদেরকে বিভ্রান্তি করছে। অথচ গত কয়েকদিন ধরে দেখলাম, সেই লোক খেলা দেখার পক্ষে লিখালিখি করছে, এনিয়ে আলেমদের বিরুদ্ধে কথা বলছে। হক্ক কথা হচ্ছে এমন আহাম্মক লোকেরা, যাদের না আছে বিদ্যা না আছে বুদ্ধি, এরাই শিরকী ও বিদাতী দল বা মতবাদের অনুসরণ করে আর সুন্নীদেরকে গালিগালাজ করে, তাদের সাথে শত্রুতা রাখে। আর মানুষের মাঝে যারা নিয়তের দিক থেকে অসৎ, আমলের দিক থেকে পাপী, তারাই এমন নামধারী আলেমদেরকে অনুসরণ করে গোমরাহ হয়। একথার প্রমান হচ্ছে যে, সেই বাজে লেখকের খেলা দেখার পক্ষে লেখাতে দেখলাম তার শত শয় ভক্ত লাইক কমেন্ট করে তার কথার প্রতি সমর্থন করছে। যেমন বক্তা, তেমনি হচ্ছে তার শ্রোতারা! সুতরাং, আলেমের পোশাক পড়া এমন জাহিল ও নির্লজ্জ লোক, যারা মানুষকে সরল পথ থেকে বিচ্যুত করে, আপনারা এমন লোকদের কথা শুনবেন না, এদের দিকে মনোযোগ দেবেন না। এদের মতো নিন্মমানের লোকদেরকে খেলা-ধূলা বা অন্য যেকোন হারাম ও বিদাতের পক্ষে কথা বলতে দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। যাই হোক চলুন আমরা সোমবার ও বৃহস্পতিবারের ফযীলত নিয়ে সহীহ হাদীস পড়ি।
সোমবার ও বৃহস্পতিবার দিনের ফযীলতঃ
(১) প্রতি সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবার দিন নফল রোযা রাখা সুন্নত ও মুস্তাহাব কারণ, তা ছিল মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আমল আর এই দুই দিন আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট বান্দার আমল পেশ করা হয় মা আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোমবার ও বৃহস্পতিবার দিন রোযা রাখাকে প্রাধান্য দিতেন তিরমিযী, সহীহ, শায়খ আলবানী, সহীহ তারগীবঃ ১০২৭
সুতরাং, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণে মাসের যে কোন সোমবার অথবা বৃহস্পতিবারে ১টা, ২টা, ৩টা. . .এইভাবে একজন ব্যক্তির ইচ্ছা, সামর্থ্য ও সুযোগ অনুযায়ী যার যতগুলো ভালো লাগে, ততগুলো রোযা রাখা যাবে ব্যপারে নির্দিষ্ট কোন নিয়ম নেই, যত বেশি রোযা রাখা যায়, বান্দার জন্য তত উত্তম 
নিয়তঃ রাতের বেলা কিংবা সাহরী খাওয়ার পর আজ আমি সোমবার কিংবা বৃহস্পতিবার দিনের নফল রোযা রাখবো মনে মনে এতোটুকু চিন্তা বা সিদ্ধান্ত থাকলেই নিয়ত করা হয়ে যাবে এজন্য বিশেষ কোন আরবী দুয়া পড়তে হবে না উল্লেখ্য, সাহরী খাওয়া সুন্নত, সাহররী খাওয়ার মাঝে অনেক বরকত রয়েছে তবে সাহরী খাওয়ার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কেউ যদি ঘুম থেকে উঠে খেতে না পারে, তাহলে কারো যদি সামর্থ্যে কুলায়, তাহলে নফল-সুন্নত রোযা সাহরী না খেয়েও, ভোরবেলা উঠে নিয়ত করে রাখা যায় সহীহ মুসলিমঃ ১১৫৪ 
(২) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোমবার দিন জন্ম গ্রহণ করেছিলেন, সোমবারেই তাঁকে নবুওয়ত দেওয়া হয় এবং সোমবার দিনেই তিনি মৃত্যুবরণ করেছিলেন আবু কাতাদা আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সোমবার দিন রোজা রাখার কারণ জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তিনি বলেন, এই দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছিলাম এবং এই দিনেই আমাকে নবুওয়াত প্রদান করা হয়েছিলো অথবা, এই দিনে আমার উপর (ক্বুরআন) নাযিল করা হয়েছে সহীহ মুসলিমঃ ১১৬২ 
(৩) সোমবার ও বৃহস্পতিবার এই দুইদিন আল্লাহ তাআলা তাঁর রহমতের উসীলায় মুসলমানদের গুনাহ মাফ করেন তবে এমন দুইজন মুসলমান, যারা পরস্পর সম্পর্ক ছিন্ন করে, যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা এই গুনাহ থেকে তোওবা করে পুনরায় সম্পর্ক স্থাপন করবে, তারা এই ফযীলত থেকে বঞ্চিত থাকবে আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোমবার ও বৃহস্পতিবার দিন রোযা রাখতেন একদিন তাঁকে এর কারণ জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি সোমবার ও বৃহস্পতিবার দিন রোযা রাখেন কেনো? তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা সোমবার ও বৃহস্পতিবার এই দুই দিন প্রত্যেক মুসলমানের গুনাহ ক্ষমা করেন কিন্তু পরস্পর সম্পর্ক ছিন্নকারী সম্পর্কে (আল্লাহ বলেন), তাদেরকে ছেড়ে দাও, যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা স্থাপন করে ইবনে মাজাহঃ ১৭৪০ হাদীসটি সহীহ, শায়খ আলবানী, সহীহ আত-তারগীবঃ ১০২৮
(৪) সোমবার ও বৃহস্পতিবার এই দুইদিন কেরামান কাতেবীন অর্থাৎ, সম্মানিত আমল লেখক ফেরেশতারা আল্লাহর নিকট বান্দার আমল পেশ করে থাকেন এই হাদীসটিও আবু হুরারা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে রাসুলু্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সোমবার ও বৃহস্পতিবার আল্লাহর নিকট বান্দার আমল পেশ করা হয় তাই আমি পছন্দ করি যে, রোযা থাকা অবস্থায় যেন আমার আমলনামা (আল্লাহর) কাছে পেশ করা হয়। তিরমিযীঃ ৭৪৭ হাদীসটি সহীহ, শায়খ আলবানী, সহীহ আত-তারগীবঃ ১০২৭

(৫) সর্বশেষ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্যুবরণ করেছিলেন সোমবারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোমবারে মৃত্যুবরণ করার কারণে সোমবার ফযীলতপূর্ণ হয় নি বরং, সোমবারের বিশেষ মর্যাদা হচ্ছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোমবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, এই দিন তাঁকে নবুওয়াত দেওয়া হয়েছিলো বা কুরআন নাযিল করা হয়েছিলো, এইদিনে বান্দার আমলনামা আল্লাহ তাআলার কাছে পেশ করা হয়, আল্লাহ তালা নিজ রহমতে সোমবার দিন মুসলিম বান্দাকে ক্ষমা করেন, এই কারণে তবে মুসলিম বান্দা হিসেবে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মত হিসেবে আমাদের জানা থাকা উচিত যে, অধিকাংশ আলেমদের নিকট প্রসিদ্ধ এবং গ্রহণযোগ্য মত হচ্ছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এগারো (১১) হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারি, রোজ সোমবার মৃত্যুবরণ করেছিলেন সুহাইলী প্রণীত আর-রওদুল উনফ (৪/৪৩৯-৪৪০), ইমাম ইবনে কাসীর রাহিমাহুল্লাহর আস-সিরাহ আন-নববীয়্যাহ (৪/৫০৯), ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী রাহিমাহুল্লাহর ফাতহুল বারী (৮/১৩০)
হিজরী ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজ ১৪৩৭ হিজরীর জামাদিউল আওয়াল মাসের ২৬ তারিখ। যাদের মাসের তিনটা রোযা এখনো বাকী, ইন শাআল্লাহ আগামীকাল রোযা রাখার জন্যে খুব ফযিলতপূর্ণ একটা দিন। আগামীকাল যারা রোযা রাখবেন, ঢাকা জেলায় সাহরীর শেষ সময় ৫:০১ মিনিট, আর আগামীকাল ইফতারি শুরু ৬:০৪ মিনিট।  

বৃহস্পতিবার, ৩ মার্চ, ২০১৬

স্বর্ণ দিয়ে লিখে রাখার মতো জ্ঞানী ব্যক্তিদের উপদেশ (পর্ব-৫)

ঘরে বাইরে, চতুর্দিক থেকে আজে-বাজে কথার ভীড়ে শায়খ আব্দুল হামীদ ফাইযীর রচিত সুখের সন্ধানে বই থেকে কিছু হৃদয়গ্রাহী কথা শুনুন
____________________________
(১) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, (মহান সৃষ্টিকর্তা এই দুনিয়া ও আকাশমন্ডলী সৃষ্টি করার ৫০ হাজার বছর পূর্বেই সৃষ্টিজগতের ভাগ্যলিপি লাওহে মাহফুজে, যা ইচ্ছা লিখে রেখেছেন [মুসনাদে আহমাদ]
(২) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, (দ্বীন প্রচারের ক্ষেত্রে) তোমরা সরলতা ব্যবহার করো, (মানুষের উপর) কঠোরতা আরোপ করোনা। আর মানুষের মনকে খুশি করো, এবং তাদের মনে ঘৃণার সৃষ্টি করোনা [বুখারী, মুসলিম]
(৩) যার ঈমান যত বড়, তার পরীক্ষা ও দুঃখও তত বড় হয়। যে গাছ যত উঁচু হয়, তাকে তত বেশি ঝড়ের মোকাবেলা করতে হয়। স্বর্ণকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে সেটা খাঁটি নাকি ভেজাল সেটা পরীক্ষা করা হয়।
(৪) সুখ আছে স্বল্প কামনার মাঝে, অধিক ধন-সম্পদের মাঝে নয়।
(৫) নারীর শান্তি হলো স্বামীর অধীনে চলে পবিত্র সংসার করার মাঝে। সেই পরাধীনতায় আছে চরম তৃপ্তি, পরম আনন্দ। মুরগীর কোল তা ছেড়ে যেমন ডিম ঘোলা হয়ে নষ্ট হয়ে যায়, ঠিক তেমনি নারী স্বামীর আদেশ-অনুমতির বাইরে গেলে নষ্ট হয়ে যায়, কষ্ট পায়। স্বাধীনতার মাঝে আনন্দ আছে, কিন্তু সুখ নেই।
(৬) আল্লাহর যিকির শুনে শয়তান পালিয়ে যায়।
(৭) একজন সৎ ও জ্ঞানী বন্ধু ফলদার গাছের মতো, যার নীচে বসলে সুশীতল ছায়া পাওয়া যায় এবং গাছের উপরে উঠলে সুমিষ্ট ফল পাওয়া যায়।
(৮) হে বন্ধু! তুমি কাফেরদের পার্থিব উন্নতি দেখে, তাদের পার্থিব জ্ঞান-বিজ্ঞান দেখে নিজেদেকে হেয় মনে করোনা। তাদের কাছে দুনিয়া আছে, আখেরাত নেই। তোমার তোমার লক্ষ্য আখেরাত, আর তোমার আখেরাত আছে। দুনিয়া পাওয়া তোমার আসল উদ্দেশ্য নয়।
(৯) সর্বশেষ, তুমি ছোট্ট শিশু ঈসা আলাইহিস সালাম-এর মতো বলো, (আল্লাহ) আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যতদিন জীবিত থাকি, ততদিন যেন আমি নামায পড়ি ও যাকাত আদায় করি, এবং আমার মায়ের প্রতি অনুগত থাকি। আর তিনি আমাকে উদ্ধত ও হতভাগ্য বানননি [সুরা মারিয়ামঃ ৩১-৩২]
____________________________
যারা দুনিয়া এবং আখেরাতের জীবনে সুখী হতে চান অথবা, যারা দুনিয়ার জীবনের পরীক্ষায় পড়ে সুখের সন্ধান করছেন, আমি তাদেরকে আহবান জানাবোঃ আপনারা শায়খ আব্দুল হামীদ ফাইযীর লেখা সুখের সন্ধানে বইটা কিনে একবার পড়ে দেখতে পারেন। আশা করি বইটা আপনাদের অনেক উপকারে আসবে।
বইটা পাবেনঃ তাওহীদ পাবলিকেশানের দোকান, বংশালে। দাম মাত্র ১৩৮ টাকা। এছাড়া ঢাকার কাটাবনে কনকর্ড টাওয়ারের নিচতলায় নতুন একটা দোকান খুলেছে তাসলীম লাইব্রেরী। সেখানে তাওহীদ পাবলিকেশান বা অন্য যেকোন বইয়ের দাম কম রাখে। তারা হোম ডেলিভারীও দেয়। এই বইয়ের দোকানে দিনের বেলায় ফোন করে যেকোন বই অর্ডার করতে পারেন, তারা কম দামে বই কুরিয়ার করে পাঠায়। তাসলীম লাইব্রেরীঃ ০১৯৩৭৭৬৩৯৮২, ০১৯১৯৯৬২৯১৯।

____________________________

বুধবার, ২ মার্চ, ২০১৬

হারাম খেলা জুয়া

আজ (২রা মার্চ, ২০১৬) আমাদের মসজিদে নিয়মিত ক্বুরানের তাফসীরের ক্লাস ছিলো। শুরুতেই ইমাম সাহেব আফসোস করে বললেন, (টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ) খেলা দেখার কারণে আজকে অনেক ভাইয়েরা আসে নাই। আমিও বিষয়টা খেয়াল করে দেখলাম, পরিচিত কিছু মানুষের চেহারা অনুপস্থিত! বুদ্ধিমান ভাই ও বোনেরা একটু চিন্তা করে দেখুন; নিয়মিত নামায পড়ে, ক্বুরানের ক্লাস করে এমন লোকদের অবস্থা যদি এতো খারাপ হয় যে সামান্য দুই পয়সার হারাম জুয়া খেলার কারণে ক্বুরান শিক্ষার মতো এই দুনিয়ার সবচাইতে দামী জিনিস বর্জন করে, তাহলে কলেজ ইউনিভার্সিটির বেনামাযী, বেহায়া, বেপর্দা, প্রেম ভালোবাসা, যিনা-ব্যভিচারে লিপ্ত, হারাম ও অবৈধ ইনকাম করে এমন নারী ও পুরুষেরা ক্বুরানের সাথে কত বড় গাদ্দারি করছে?  
_______________________
মদ এবং জুয়া খেলা সম্পূর্ণ হারাম এবং কবীরাহ গুনাহএকথার দলিল স্বয়ং আল্লাহ তাআলা ক্বুরানে দিয়েছেনঃ হে ঈমানদারগণ! এই যে #মদ, #জুয়া, মূর্তিপূজা এবং ভাগ্য-নির্ধারক তীর,সবগুলো হচ্ছে শয়তানের অপবিত্র, নোংরা কাজসুতরাং, তোমরাগুলো থেকে দূরে থাক, যাতে করে তোমরা সফলকাম হও [সুরা আল-মায়িদাহঃ ৯০]
সুতরাং, ক্বুরানের স্পষ্ট আয়াতে আল্লাহ তাআলা মদ এবং জুয়াকে শয়তানের নাপাক কাজ বলে ঘোষণা করেছেন।
এবার আসি জুয়া প্রসংগে। জুয়া কি?
ইসলামী শরিয়াতের পরিভাষায়, জুয়া হচ্ছে এমন একটা খেলা যেখানে হার জিতের জন্যে টাকা-পয়সা লেন-দেনের ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থাৎ, যেই খেলার জন্যে খেলোয়াড়কে টাকা দিয়ে ভাড়া করে আনা হবে বা খেলোয়াড়কে মজুরী হিসেবে টাকা দেওয়া হবে, এবং যেই খেলোয়াড় জয়ী হবে তাকে টাকা বা অর্থ-সম্পদ দেওয়া হবে তাহলে সেটা জুয়া। সেটা যেই খেলাই হোক না কেনো, টাকার বিনিময়ে যেই খেলা হবে, সেটাই জুয়া বলে গণ্য হবে।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সর্বপ্রকার খেলা-ধূলা হারাম। শুধুমাত্র তিনটি বিষয় এই খেলা-ধূলার অন্তর্ভুক্ত নয়।
() তীর-ধনুক চালনা করা,
() ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ দান করা,
() নিজ আহলিয়া (স্ত্রীর) সাথে শরীয়তসম্মত হাসি-তামাশা করা।
[মুসতাদরাক আল-হাকিম]
_______________________
মুবারকময় ইসলামী শরিয়াতের এই মহান নীতি অনুযায়ী বাংলাদেশ এবং পাকিস্থানের কিছু খেলোয়াড়ের মাঝে যদি টাকার বিনিময়ে কোন ফুটবল বা ক্রিকেট খেলার আয়োজন করা হয়, তাহলে সেই খেলাটা জুয়াতে পরিণত হবে। এই খেলাগুলো যারা খেলবে (মাশরাফি, আশরাফুল, তামিম, সাকিব এবং অন্যান্যরা), অবৈধ খেলা থেকে টাকা উপার্জন করার কারণে ইসলামী শরিয়াহ অনুযারী তারা জুয়াখোর বলে চিহ্নিত হবে। জুয়া খেলা দেখাও হারাম, সেটা খেলার মাঠে হোক, কিংবা টিভিতে দেখাই হোক অথবা রেডিওতে শোনাই হোক। এই সবগুলো কাজ হারাম এবং নিষিদ্ধ।
_______________________
আমরা যখন নিষিদ্ধ এবং হারামের মতো কোন বিষয়ের উপরে লিখি, তখন এই সমস্ত হারাম কাজে লিপ্ত একশ্রেণীর মুসলমান(!) নারী ও পুরুষেরা গালি দিতে আরম্ভ করে। আমি সেই সমস্ত অতি জ্ঞানী ভাই ও বোনদেরকে বলবো, আপনাদের কাছে আমার এই লেখা যদি সঠিক মনে না হয়, তাহলে আপনার আশেপাশে সবচাইতে বড় যেই মাদ্রাসা আছে সেখানের সবচাইতে বড় মুফতি সাহেবকে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন, এই যে টি টুয়েন্ট, বিশ্বকাপ ক্রিকেট, ফুটবল খেলা দেখা জায়েজ আছে কিনা? যদি এতোটুকু কষ্ট করতে না চান আর প্রবৃত্তির অনুসরণ চালিয়ে যেতে চান, তাহলে সেটা করুন। কিন্তু কোন ইসলামী পেইজে এসে গালিগালাজ করে আপনার নোংরা ও আহাম্মকি চরিত্রটা দুনিয়ার সামনে প্রকাশ করবেন না। পাপ করছেন সেটা গোপন রাখেন, আর গোপনেই আল্লাহর কাছে তোওবাহ করতে থাকেন। আল্লাহর কাছে সাহায্য চান যেনো এই হারাম ও খবিস কাজ থেকে বের হয়ে আসতে পারেন। কিন্তু প্রবৃত্তির অনুসরণ করতে গিয়ে কোন হালাল কাজকে হারাম বা হারাম কাজকে হালাল ফতুয়া দিয়ে নিজেকে জাহান্নামের খড়ি-কাঠি বানাবেন না।
_______________________
প্রবৃত্তির পূজারী লোকদের উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহ্ তাআলার বক্তব্য, (হে নবী!) আপনি কি তার দিকে লক্ষ্য করেন নি, যে তার নিজের হাওয়া (প্রবৃত্তিকে) মাবূদ হিসেবে গ্রহণ করেছে? তবুও কি আপনি তার যিম্মাদার হবেন? আপনি কি মনে করেন যে, তাদের অধিকাংশ শোনে অথবা বোঝে? তারা তো চতুস্পদ জন্তুর মত; বরং তার চাইতেও পথভ্রষ্ট। [সুরা আল-ফুরক্বানঃ ৪৩-৪৪]
মহান আল্লাহ্ তাআলা আরো বলেন, আর আমি সৃষ্টি করেছি জাহান্নামের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ। তাদের অন্তর আছে, কিন্তু তার দ্বারা তারা চিন্তা-ভাবনা করে না, তাদের চোখ আছে কিন্তু তার দ্বারা তারা দেখেনা, আর তাদের কান আছে কিন্তু তার দ্বারা তারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তাদের চাইতেও নিকৃষ্টর। তারাই হল উদাসীন ও শৈথিল্যপরায়ণ।
[সুরা আল-আরাফঃ ১৭৯]
_______________________
সর্বশেষ, কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার পূর্বে একের পর এক নিত্য-নতুন ফেতনা যখন মুসলমানদেরকে গ্রাস করবে, তখনকার যুগে মানুষের ঈমানের যেই হবে সে সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

আঁধার রাতের অবিরাম খন্ডের মত কৃষ্ণ-কালো ফেতনা আবর্তিত হওয়ার পূর্বেই তোমরা দ্রুত নেক কাজে মনোনিবেশ কর। (এমন একটা সময় আসবে যখন) মানুষ সকাল বেলা মুমিন কিন্তু বিকেল বেলা সে হবে কাফের। আবার কেউ সন্ধ্যা বেলা মুমিন হবে তো সকাল বেলা হবে কাফের। দুনিয়াবি সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে সে দ্বীনকে বিক্রি করে ফেলবে। [সহীহ মুসলীম]
_______________________

মঙ্গলবার, ১ মার্চ, ২০১৬

প্রিয় ব্যক্তিত্ব (পর্ব-৪)

প্রিয় ব্যক্তিত্ব (পর্ব-৪)
আলহামদুলিল্লাহ। ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহ। আস সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আম্মা বাআদ।
আজ আমার এই লেখার শুরুতেই আমি আপনাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। কারণ, গতকাল বাংলাদেশী শায়খদের নামের লিস্টে আমি মাত্র ৮জনের নাম উল্লেখ করেছিলাম এবং এ ব্যপারে আর কোন কথা বলিনি। কেউ হয়তোবা মনে করতে পারেন যে, আমি ৮জনের নাম উল্লেখ করেছি তার মানে এই ৮জন ছাড়া অন্যদেরকে নির্ভরযোগ্য মনে করছিনা। এটা ঠিক নয়, বরং হক্ক কথা হচ্ছেঃ গতকালকে উল্লেখিত ৮জন ছাড়াও আরো বেশ কিছু শায়খ রয়েছেন বাংলাদেশ, ভারত ও সৌদি আরবে; যারা বাংলা ভাষায় মানুষদেরকে ক্বুরআন ও সুন্নাহর দিকে, সঠিক দ্বীন অনুসরণের জন্যে আহবান করে থাকেন। আপনারা দ্বীন শিক্ষার জন্যে তাঁদের উপর নির্ভর করতে পারেন। এছাড়া আরো কিছু বাংলা ভাষাভাষী বক্তা আছেন, যারা ভালো কথা বলেন, এর পাশাপাশি কিছু ভুল কথাও বলে থাকেন। তাঁদের কথার দ্বারা যারা উপকৃত হন, আমি তাঁদের ভুল কথাগুলোর ব্যপারে আপনাদেরকে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করতে আহবান জানচ্ছি।
যাই হোক, আজ আমি এমন একজন শায়খের নাম বলবো যার দ্বারা বিগত কয়েক বছর ধরে বিশেষ করে আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে অনেক উপকৃত হয়েছি এবং দ্বীনের ব্যপারে উৎসাহ পেয়েছি। তিনি হচ্ছে আমাদের সকলের অতি পরিচিত এবং প্রিয় ব্যক্তিত্ব শায়খ আব্দুল হামীদ ফাইযী, আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন এবং তাঁকে জান্নাতে উঁচু মর্যাদা দান করুন, আমিন। আমি আমার দ্বীনি ভাই ও বোনদেরকে আহবান জানাবো, আপনারা যারা বাংলা ভাষায় দলিল-প্রমানসহ সঠিক দ্বীন শিখতে চান, তারা শায়খের লেখা বইগুলো সংগ্রহ করুন। ঈমান-আক্বীদাহ, সালাত, সাওম, চরিত্র গঠন, হিজাব-পর্দা, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের দিক-নির্দেশনাসহ মানব জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে শায়খের লেখা বইগুলো অত্যন্ত উপকারী এবং তথ্যবহুল। যারা দুনিয়া এবং আখেরাতের জীবনে সুখী হতে চান অথবা, যারা দুনিয়ার জীবনের পরীক্ষায় পড়ে সুখের সন্ধান করছেন, আমি তাদেরকে বিনীতভাবে আহবান জানাবোঃ আপনারা শায়খ আব্দুল হামীদ ফাইযীর লেখা সুখের সন্ধানে বইটা কিনে একবার পড়ে দেখতে পারেন। আশা করি বইটা আপনাদের অনেক উপকারে আসবে। শায়খের লেখা এই বইটা বছর দুয়েক আগে আমি প্রথম পড়েছিলাম। মাত্র দুই-তিন পাতা পড়ার সাথে সাথেই সেই থেকে আজ পর্যন্ত সুখের সন্ধানে বইটা আমার অন্তরের অন্তঃস্থলে স্থান করে নিয়েছে।
এই পেইজ চালাতে গিয়ে অথবা আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে যেই প্রশ্নগুলো আসে, সেইগুলোর উত্তর দিতে শায়খ আমাকে অনেক সাহায্য করেন। সাধারণত আমি যেই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানিনা, কোন আলেমের বই থেকে বা লেকচার থেকেও খুঁজে বের করতে পারিনা, অথবা উত্তর জানি কিন্তু পুনরায় নিশ্চিত হতে চাই, সেইগুলোর উত্তর দেওয়ার পূর্বে আমি শায়খের কাছে জিজ্ঞেস করে নিশ্চিত হয়ে এর পরে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করি। শায়খের কাছ থেকে পাওয়া সর্বশেষ তিনটি প্রশ্নের উত্তর আমি আপনাদের কাছে তুলে ধরছি।
(১) এক ভাইয়ের সাথে অনিবার্য কারণ বশত ইন্টার পড়ুয়া এক ছাত্রীর পরিচয় হয়েছিলো। সেই মেয়ে তার দ্বীনদারিতা দেখে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলো, সে যেন তাকে এবং তার বান্ধবীকে প্রাইভেট পড়ায়। সেই ভাইয়ের প্রশ্ন ছিলো, দুইজন সাবালিকা মেয়েকে একত্রে প্রাইভেট পড়ানো জায়েজ হবে কিনা?
শায়খের উত্তরঃ (পুরুষদের জন্যে) সাবালিকা মেয়েকে প্রাইভেট পড়ানো জায়েজ নয়। (তবে পড়ানোর সময় যদি ঐ মেয়ের) মাহরাম উপস্থিত থাকে, তাহলে জায়েজ হতে পারে।
(২) একজন নারী হাই-স্কুলে শিক্ষকতা করার অফার পেয়েছিলো। সেই বোনের প্রশ্ন ছিলো, ছেলে-মেয়ে মিক্সড এবং পুরুষ সহকর্মী আছে, এমন হাই স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে পড়ানো জায়েজ আছে কিনা? [উল্লেখ্য হাই-স্কুলে অনেক ছেলে থাকে যারা সাবালক।]
শায়খের উত্তরঃ না, জায়েজ হবেনা।
(৩) এই প্রশ্নটা শায়খকে আমি নিজেই করেছিলাম জানা জিনিস আবার নিশ্চিত হওয়ার জন্যে, আমাদের দেশে প্রচলিত মসজিদের মাইক দিয়ে উচ্চস্বরে মৃত্যুর সংবাদ প্রচার করা হয়, এটা জায়েজ আছে কিনা? মৃত্যুর সংবাদ অন্যদেরকে কিভাবে জানাতে হবে?
শায়খের উত্তরঃ মসজিদের মাইক দিয়ে মৃত্যুর সংবাদ প্রচার করা জায়েজ নয়, মাইক হওয়ার পূর্বে যেইভাবে জানানো হতো।
[এনিয়ে সহীহ হাদীসে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আছে আমি ইন শাল্লাহ পরে পোস্ট করবো। আর মাইক হওয়ার পূর্বে মানুষকে মুখে মুখে সংবাদ পৌঁছানো হতো। কিন্তু কেউ একজন মাইকে অথবা উচ্চস্বরে মৃত্যুর সংবাদ ঘোষণা করা স্পষ্ট সহীহ হাদীস দ্বারা নিষিদ্ধ]
সাধারণত আমি কারো সামনা-সামনি প্রশংসা করা ঘৃণা করি, কারণ তা একজন ব্যক্তির জন্যে ফেতনার কারণ হতে পারে। আমি দুয়া করছি, আমার এই লেখা যদি শায়খের কাছে পৌঁছায়, তাহলে আল্লাহ যেনো তাঁকে এর ফিতনাহ থেকে হেফাজত রাখেন। আল্লাহ যেনো শায়খের গুনাহ-খাতা মাফ করেন, তাঁর দাওয়াত ও দ্বীনের খেদমত কবুল করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউদ দান করেন, আমিন।
সর্বশেষঃ বৈঠক খতমের দুয়া দ্বারা আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। আপনারা এই দুয়াটা অবশ্যই আরবী দেখে মুখস্থ করবেন, এবং যেকোন বৈঠকের শেষে পড়ার জন্যে অভ্যাস গড়ে তুলবেন।

সুবহানাকা আল্লা-হুম্মা ওয়া বিহামদিকা আশহাদু আল লা-ইলাহা ইল্লা আংতা আস্তাগফিরুকা ওয়াআতুবু ইলাইকা।