রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৫

#মুনাফেক আর #খারেজী শ্রেণীর লোক সবচাইতে ক্ষতিকর

ইতিহাস স্বাক্ষী, যুগে যুগে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছে #মুনাফেক আর #খারেজী শ্রেণীর লোকেরা। এই উভয় দলের লোকেরা মুখে ভালো ভালো কথা শোনায়, কিন্তু কাজ করে সবচাইতে ধ্বংসাত্মক!

হে মুসলমান ভাই ও বোনেরা! মুসলমানদের এই চরম দুর্দিনে মুনাফেক ও খারেজী মনোভাবের লোকের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং, তাদের আসল চেহারা মানুষের সামনে তুলে ধরে তাদের ব্যপারে মুসলমানদেরকে সতর্ক করুন।

মহান আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন,
আর যখন তাদেরকে (মুনাফেকদেরকে) বলা হয় যে, তোমরা দুনিয়ার বুকে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে, আমরাই হচ্ছি শান্তি স্থাপনকারী। জেনে রাখো, প্রকৃতপক্ষে তারাই হচ্ছে হাঙ্গামা সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা সেটা বুঝতে পারেনা
সুরা আল-বাক্বারাহঃ ১১-১২।

মহান আল্লাহ্‌ তাআলা আরো বলেছেন,
আর এমন কিছু লোক রযেছে যাদের পার্থিব জীবনের কথাবার্তা তোমাকে চমৎকৃত করবে। আর তারা সাক্ষ্য স্থাপন করে আল্লাহকে নিজের মনের কথার ব্যাপারে। প্রকৃতপক্ষে তারা অত্যন্ত ঝগড়াটে লোক। আর তারা যখন ফিরে যায়, তখন চেষ্টা করে যাতে সেখানে অকল্যাণ সৃষ্টি করতে পারে এবং শস্যক্ষেত্র ও প্রাণনাশ করতে পারে। আল্লাহ ফাসাদ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা পছন্দ করেন না। আর যখন তাকে বলা হয় যে, আল্লাহকে ভয় কর, তখন তার পাপ তাকে অহঙ্কারে উদ্বুদ্ধ করে। সুতরাং তার জন্যে জাহান্নামই যথেষ্ট। আর নিঃসন্দেহে তা হচ্ছে অত্যন্ত নিকৃষ্ট আবাসস্থল।

সুরা আল-বাক্বারাহঃ ২০৪-২০৬।

হরতাল, বিক্ষোভ, পেট্রোল বোমা

গতকালকে আমি লিখেছিলাম,
সরকারী দলের লোক হোক, আর বিরোধী দলের লোক হোক, রাজনীতির নামে যারাই পেট্রোল বোমা মেরে নিরীহ মানুষ পুড়ায়, তাদের প্রতি আল্লাহর লানত পড়ুক, আল্লাহ্‌ তাদেরকে কঠিন শাস্তি দিন।

আমাদের সেই পোস্টে একজন মন্তব্য করেছেন,
রাসূল স. কি জুলুমবাজ এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে বলেননি? আর এতে মানুষ মরবেই, কারন এখন ফাঁকা মাঠে সংগ্রাম হয না। হয় রাস্তায়।

বাংলাদেশের শতকরা ৮০ ভাগ লোক নিজেদের মুসলমান বলে দাবী করে। বেঁচে থাকার তাগিদে এই মানুষগুলোর কেউ অফিস-আদালতে, কেউ স্কুল-কলেজে, কেউবা জরুরী চিকিতসার জন্য হাসপাতালে যায়। এখন আমি যদি ক্ষমতায় যেতে না পেরে, সরকারকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামানোর জন্য অথবা, জুলুম-অত্যাচার করে, টাকার লোভে দেশকে দেশের শত্রুদের কাছে বিক্রি করে দিয়েও নিজের ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য পেট্রোল বোমা মেরে নিরীহ মানুষ পুড়াই, টিভি ক্যামেরার সামনে সাপের মতো পিটিয়ে নির্মমভাবে মানুষ হত্যা করি, তাহলে আমি নিজেকে কতবড় মুসলমান বলে মনে করতে পারি?     

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
সে-ই প্রকৃত মুসলমান, যার জিহবা ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে। [সহিহ বুখারি]

মানুষের মাঝে এইরকম লোক যারা নিজেরা জমীনে ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়ায়, কিন্তু তারা দাবী করে তারা হচ্ছে শান্তি স্থাপনকারী, এটা আসলে মুনাফেক লোকদের চরিত্র।

মহান আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন,
আর যখন তাদেরকে (মুনাফেকদেরকে) বলা হয় যে, তোমরা দুনিয়ার বুকে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে, আমরাই হচ্ছি শান্তি স্থাপনকারী। জেনে রাখো, প্রকৃতপক্ষে তারাই হচ্ছে হাঙ্গামা সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা সেটা বুঝতে পারেনা
সুরা আল-বাক্বারাহঃ ১১-১২।

উল্লেখ্য, মুসলমানদের মাঝে বিভ্রান্ত খারেজী দলের লোকদের চরিত্রের মাঝেও নিকৃষ্ট এই চরিত্র দেখা যায়। তারা ইসলাম কায়েমের নামে, জিহাদের নাম দিয়ে অন্যায়ভাবে রক্তপাত করে, নিজেরা মরে অন্যদেরকে মারে, এইভাবে তারা ইসলাম বিরোধী, ধ্বংসাত্মক পথ বেছে নিয়ে অন্যায় যুদ্ধ করে, মানুষ মারে আর করে জান্নাতে যাবে!!?

মহান আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন,
আর এমন কিছু লোক রযেছে যাদের পার্থিব জীবনের কথাবার্তা তোমাকে চমৎকৃত করবে। আর তারা সাক্ষ্য স্থাপন করে আল্লাহকে নিজের মনের কথার ব্যাপারে। প্রকৃতপক্ষে তারা অত্যন্ত ঝগড়াটে লোক। আর তারা যখন ফিরে যায়, তখন চেষ্টা করে যাতে সেখানে অকল্যাণ সৃষ্টি করতে পারে এবং শস্যক্ষেত্র ও প্রাণনাশ করতে পারে। আল্লাহ ফাসাদ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা পছন্দ করেন না। আর যখন তাকে বলা হয় যে, আল্লাহকে ভয় কর, তখন তার পাপ তাকে অহঙ্কারে উদ্বুদ্ধ করে। সুতরাং তার জন্যে জাহান্নামই যথেষ্ট। আর নিঃসন্দেহে তা হচ্ছে অত্যন্ত নিকৃষ্ট আবাসস্থল।
সুরা আল-বাক্বারাহঃ ২০৪-২০৬।

শয়তান এদের বিবেককে নষ্ট করে ফেলেছে, এদের কোন একজনের বাবা-মা বা ছেলে-মেয়েকে অন্য কেউ যদি পুড়িয়ে মারে, তখন বুঝবে মানুষরূপী এই জানোয়ারগুলো, স্বজন হারানোর বেদনা।


সর্বশেষ, গণতন্ত্র একটি শিরকি মতবাদ, এই শিরকি ব্যবস্থাকে মেনে নেওয়ার কারণে আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অনুসারী লোকেরা যদিও নিজেদেরকে মুসলমান বলে দাবী করেও, কিন্তু আচার-আচরণে তারা মুশরেকদের মতোই!

ইমাম বুখারীর বাবা ও মা দুইজনেই অন্তন্ত ধার্মিক ও মুত্তাকী মানুষ ছিলেন

ইমাম বুখারীর বাবা ও মা দুইজনেই অন্তন্ত ধার্মিক ও মুত্তাকী মানুষ ছিলেন। ইমাম বুখারী রহঃ ইয়াতিম ছিলেন, ছোট থাকতেই তার বাবা মারা যায়। তার বাবা মৃত্যুর পূর্বে সন্তানদের জন্য খুব বেশি কিছু রেখে যেতে পারেন নি। কিন্তু সামান্য যাকিছু রেখে যান, সেই ব্যপারে তিনি বলেন, আমি আমার সন্তানদের জন্য এই পূজি রেখে যাচ্ছি যে আমি জীবনে চলার সময় তাক্বওয়া অর্জন করার চেষ্ট করেছি, আর যা কিছু রেখে যাচ্ছি সেখানে হারাম কোন সম্পদতো দূরের কথা, সন্দেহজনক কোন কিছু রেখে যাইনি। একবার ছোটবেলায় কি একটা অসুখের কারণে ইমাম বুখারী রহঃ এর দুইচোখ একেবারে অন্ধ হয়ে যায়। তার মাও (রহঃ) ছিলেন একজন অত্যন্ত নেককার, ধার্মিক মহিলা। তিনি ইমাম বুখারীকে নিয়ে খুব চিন্তায় পড়েন, একেতো গরিব ঘরের ইয়াতীম ছেলে, তার উপরে যদি অন্ধ হয়, এই ছেলে বড় হয়ে কি করে খাবে? তিনি রাত দিন কান্নাকাটি করে আল্লাহর কাছে দুয়া করেন, আল্লাহ্‌ যেনো তার ছেলের দুই চোখ ভালো করে দেন। একদিন তাহাজ্জুদের নামায পড়ে ইমাম বুখারীর মা আল্লাহর কাছে দুয়া করছিলেন আর এমন সময় ইমাম বুখারী রহঃ ঘুম থেকে উঠে বলেন, আল্লাহ্‌ তার দুই চোখ ভালো করে দিয়েছেন। আল্লাহু আকবর, আল্লাহ্‌ এইভাবে দুঃখের দিনে তাঁর প্রিয় বান্দা ও বান্দীদেরকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন, ঠিক সেইভাবে যেইভাবে তিনি মৃত গাছের ডাল থেকে গাছ বের করে আনেন। কিন্তু তার জন্য দরকার আল্লাহর নৈকট্য ও ভালোবাসা অর্জন করা। আমরা অনেকেই অভিযোগ করি, আল্লাহ্‌ কেনো আমাদের দুয়া কবুল করেন না। দুয়া কবুল না হওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে, তবে তাঁর পূর্বে আসলে আমাদের নিজেদের দিকেও একটু লক্ষ্য করা প্রয়োজন, আমরা কতটুকু ঈমান, ইখলাসের সাথে আল্লাহর কাছে চাইতে পারছি, আমরা ইতিমধ্যে যাই পেয়েছি তার জন্য কতটুকু শুকরিয়া আদায় করতে পেরেছি, আল্লাহর প্রতি কতটুকু আনুগত্যের মাধ্যমে নিজেদেরকে আল্লাহর গোলাম বানাতে পেরেছি?
আল্লাহ্‌ আমাদের সককলেই মাফ করুন, এবং তাঁর নিজ রহমতকে উসীলা করে আমাদেরকে কবুল করে নিন, আমিন।

বিঃদ্রঃ সন্তানের আমল-আখলাক অনেক ক্ষেত্রেই পিতা-মাতার উপরে নির্ভরশীল। খারাপ গাছ থেকে ভালো ফসল আশা করা যায়না। তাই নেককার সন্তাত পেতে হলে বিয়ের পূর্বে বা পরে নিজের ও সংগি/সংগিনীর দিকে লক্ষ্য রাখুন।

চাঁদপুরের লেংটা বাবার মাযার


চাঁদপুরের লেংটা বাবার মাযার যেখানে ১০ লক্ষ মানুষ যায় মাযার পূজা করতে.....

ভিডিও লিংক -
https://www.facebook.com/video.php?v=901458053220276

কেয়ামত নিকটে চলে এসেছে, রাসুল সাঃ এর হাদীসগুলো অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে সবগুলো হবে ইন শা আল্লাহ। রাসুল সাঃ বলে গেছেন আজ থেকে ১৪০০ বছর পূর্বে, কিছু মানুষ যারা নিজেদের মুসলমান বলে দাবী করবে কিন্তু তারা আকীদা ও আমলে মূর্তি পূজারী মুশরেকদের মতো হবে। তারা মূর্তি পূজা করবে, নারীরা মূর্তির সামনে কোমর দুলিয়ে অশ্লীল নৃত্য করবে, ইয়াহুদী-খ্রীস্টানদের মতো খোলাখুলি ও ব্যপকভাবে জিনাতে লিপ্ত হবে, বিভিন্ন নামে মদ-জুয়াকে হালাল করে নিবে। শাস্তি হিসেবে তাদের কিছুকে ইয়াহুদীদের মতো বানর-শূকরে পরিণত করে দেওয়া হবে। রাসুল সাঃ এর জবানে শুনুনঃ  
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এক হাদীসে বলেছেনঃ
আমার উম্মতের কিছু লোক মূর্তি পূজা করবে আর কিছু লোক কাফেরদের সাথে মিশে যাবে।
ইবনে মাজাহ।
উল্লেখ্য, অন্য হাদীসে আছে কিছু মহিলা মূর্তির কাছে কোমর দুলিয়ে অশ্লীল নৃত্য করবে।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এক হাদীসে বলেছেন, তোমরা ইয়াহুদী ও খ্রীস্টানদের পদে পদে অনুসরণ করবে। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ যদি প্রকাশ্যে তার মায়ের সাথে জেনা করে তাহলে তোমরাও তা করবে।
বাযযারঃ ১২১০৫।

আমার উম্মতের কিছু সংখ্যক লোক মদের নাম পরিবর্তন করে তা পান করবে। তাদের মাথার উপরে গান-বাজনা ও নারী-নৃত্য চলতে থাকবে। আল্লাহ তাদেরকে মাটিতে ধসিয়ে দেবেন। আর তাদেরকে বানর ও শূকরে পরিণত করে দেবেন।
ইবনে মাজাহঃ ২/৩২৪৭।

ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্থানে এমন মুশরেক হিন্দুদের মতো মাযার কবর-পূজারী একটা দল হচ্ছেঃ রিজভি-বেরেলবী সূফীবাদীদের জামাত। ধন্যবাদ ইটিভিকে তারা চাঁদপুরের কুখ্যাত লেংটা বাবার মাযার পূজার ভন্ডামি সবার সামনে তুলে ধরে মুসলমানদেরকে এদের আসল চেহারা তুলে ধরেছে

এই ভিডিওতে প্রমানসহ দেখানো আছে, মাযার পূজারীদের নিচের প্রত্যেকটা কাজ বড় শিরক ও কুফুরী, যারা এই কাজগুলো করবে সে মুশরেক ও কাফের হয়ে যাবে 
-  মানত বা মানসিক, অর্থ হচ্ছে কোন ইচ্ছা পূরণের জন্য, কল্যানের জন্য বা বিপদ থেকে বাঁচার জন্য জিন্দা বা মুর্দা অলি-আওলিয়া, পীরের (এখানে লেংটা বাবা) নামে গরু-ছাগল, হাস-মুরগি ইত্যাদি কুরবানী করার নিয়ত করা। ইচ্ছা পূরণ হলে ওরশ নামে কবর পূজার মেলার দিনে সেই পশুগুলো গায়রুল্লাহর (আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে) কুরবানি করে।
-  মাযারকে সিজদা করা।
-  গাউস-কুতুব ইত্যাদি আকীদাতে বিশ্বাস করা যে, তারা পৃথিবী, মানুষের ভালো-মন্দ ভাগ্য নিয়ন্ত্রন করে।
-  কবরকে তাওয়াফ করা

এছাড়া মুশরেক জাতির মতো হারাম ও নিকৃষ্ট কিছু কাজঃ
-  মহিলা কন্ঠে অশ্লীল গান বাজানো
-  ঢোল-তবলা ও গানের যন্ত্র
-  নারী-পুরুষ মিলেমিশে একাকার হয়ে নৃত্য করা
-  মদ-জুয়ার আসর বসানো
-  মহিলাদের শরীরে টাকা ছুঁড়ে দিয়ে তাদেরকে নাচ-গানের জন্য উতসাহিত করা

এমন আরেক জিন্দা শয়তান, দেওয়ানবাগী পীরের কিছু শিরকী-কুফুরী আকিদা ও উক্তি সমূহঃ


৭২টা জাহান্নামী তরীকার একটা হলো রিজভী-বেরেলবী ফেরকাঃ

ফেরকার নামঃ রিজভী-বেরেলবী।
এই তরীকার অন্তর্ভুক্ত পীরদের নামঃ আটরশি, ফুলতলী, মাইজভান্ডারী, দেওয়ানবাগী, কুতুববাগী, রাজারবাগ, চন্দ্রপূরী, পাকিস্থানের তাহের-উল-কাদরী।

আর শাহ জালাল, শাহ পরাণ, বায়েজীদ বোস্তামী, খান জাহান আলী, মিরপুর, মতিঝিল যতো মাজার আছে সমস্ত মাযারে এরা শিরকের ধান্দা বসিয়ে রেখেছে। অজ্ঞ মানুষদেরকে অলি আওলিয়ার কেরামত, ওরশ, শাফায়াত, তাসাউফ, সূফীবাদ, মারেফাত, আধ্যাতিকতা ইত্যাদি নাম করে তাদেরকে মুশরেক বানাচ্ছে।

ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্থানে সরাসরি কবর মাযার পূজারী হিসেবে বেশি পরিচিত যেই ফেরকাটি তার নাম হলো রিজভী বা অনেক এলাকায় তারা নিজেদের বেরেলবী বলেও পরিচয় দেয়। তারা সাধারণত নিজদের সুন্নী অথবা আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআ বলেও দাবী করে এবং এটা নিয়ে তারা বেশ গর্ববোধ করে থাকে যদিও আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের আকীদা, অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী সমস্ত সাহাবীদের নির্ভেজাল আকীদাহর সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা নিজেদের সুন্নী বলে পরিচয় দেয় আর যারা তাদের প্রচারিত কবর মাযার পূজা ও অলি আওলিয়া বা পীর পূজাসহ ধর্মের নামে বিভিন্ন শিরক বেদাতের বিরোধীতা করে তাদেরকে তারা ওহাবী বলে গালি দেয়। যদিও তারা গালি হিসেবেই তাওহীদবাদী মুসলিমদেরকে ওহাবী বলে ডাকে, কিন্তু মূলত ওহাবী নামটা ভালো। আল-ওহহাব আল্লাহ সুবহানাহু তাআলার একটা নাম যার অর্থ হচ্ছে পরম দাতা/অত্যন্ত দয়ালু, এই নাম আপনারা সুরা আলে ইমরানের ৮ নাম্বার আয়াতে পাবেন। তাই কাউকে ওহাবী ডাকলে আসলে তাকে আল্লাহওয়ালা বলে উলটা প্রশংসাই করা হয়, ফা লিল্লহিল হামদ!!

রিজভী বেরেলবীদের ইমাম বা নেতার নাম হচ্ছে আহমাদ রেজা খান ব্রেলভী, যিনি ইংরেজদের সময়ে ভারতের ব্রেলভী শহরের লোক ছিলেন। এই ব্রেলভী শহরের নাম থেকেই এসেছে বেরেলবি ফেরকার নাম। মূলত ব্রিটিশরা আহমাদ রেজা খান ব্রেলভী ও গোলাম আহমাদ কাদিয়ানি এই দুইজন শয়তানকে দাঁড় করায় তাওহীদবাদী মুসলিমদের বিরুদ্ধে ভ্রান্ত সৃষ্টি করে মুসলমানদেরকে প্রতিহত করার জন্য। এই দুইজনই ফতোয়া দিয়েছিলো, ইংরেজদের বিপক্ষে জিহাদ করা হারাম...এতেই বোঝা যায় কেনো ইংরেজরা তখন তাদেরকে বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেছিলো, তাদের ধর্ম মুসলমানদের মধ্যে প্রচার করে ইসলামকে ধ্বংস করার জন্য।

এদের শিরকি কুফুরী আকীদাহ বলে শেষ করা যাবেনা, আর এরা এতো মারাত্মক রকমের গোমড়াহ যে এরা প্রকাশ্যে দাবী করে এই সমস্ত শিরকি কুফুরী এবং এই আকীদাগুলোই নাকি ইসলাম??

এদের মধ্যে সবচাইতে বেশি যে শিরকগুলো দেখা যায়...
১. গায়রুল্লাহ বা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে দুয়া করা।
২. নবী-রাসুল এবং অলি আওলিয়াদেরকে আলেমুল গায়েব মনে করা।
৩. নবী রাসুল বা অলিরা যাকে ইচ্ছা তাকে জান্নাত বা জাহান্নামে দিতে পারে মনে করা।
৪. কবর, মাযার বা পীর বুজুর্গকে সিজদা করা।
৫. নবী রাসুল ও অলি আওলিয়ারা মানুষকে রিযিক, টাকা-পয়সা, ধন-দৌলত, সন্তান বা যা খুশি তাই দিতে পারে মনে করা।
৬. নবী রাসুল বা অলি আওলিয়ারা যখন খুশি তখন দুনিয়াতে আসতে পারে, যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। এমনকি চাইলে বিয়ে করে ছেলে মেয়েও হতে পারে!
৭. নবী রাসুলদের বা আওলিয়াদের কবরকে মাযার বানিয়ে সেখানে প্রতি বছর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ওরশ করতে হবে।
৮. মাযারে গিয়ে কিছু চাইলে পাওয়া যাবে।
৯. মাযারক পাকা করে, ফুল চাদড় চড়িয়ে তাকে তাওয়াফ করা, মাযারে সামনে রেখে নামায পড়া।
১০. গাওস, কুতুব, আবদাল ইত্যাদি নামে অলি আওলিয়ারা পৃথিবী নিয়ন্ত্রন করেন।
১১. অলিরা কবরে থেকে মানুষকে উদ্ধার করতে পারে।
১২. এরা নবী রাসুল ও অলি আওলিয়াদেরকে আল্লাহর অনেক নাম ও ক্ষমতার সমান মনে করে।
উপরে উল্লেখিত কাজগুলো সরাসরি আল্লাহ সুবহানাহু তাআলার রুবুবিয়্যাতের সাথে প্রকাশ্য বড় শিরক যার কারণে একজন মানুষ কাফের ও মুশরেক হয়ে মুর্তাদ হয়ে যায়।

তবে সমস্ত অলি আওলিয়াদের মাঝে আব্দুল কাদির জিলানী (রহঃ) কে তারা সবচেয়ে বেশী ক্ষমতার মালিক মনে করে। জিলানী সম্পর্কে বেরেলবীদের আকীদা ঠিক একেবারে হিন্দুদের তাদের দেব-দেবীদের সম্পর্কে আকীদার মতোই জঘন্য ও শিরকি আকীদাহ। আব্দুল কাদের জিলানীকে তারা গাউসুল আযম মনে করে, এবং এতো বাড়াবাড়ি রকমের কথাবার্তা বলে যে, শুনলে কেউ সন্দেহে পড়ে যাবে আসলে তাদের মাবূদ কে, আল্লাহ নাকি জিলানী?

এরা আব্দুল কাদের জিলানীর নামে অসংখ্য বানোয়াট কিচ্ছা কাহিনী প্রচার করে যা সরাসরি শিরক ও স্পষ্ট কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী। এইসমস্ত শিরক বেদাতের সাথে জিলানীর কোনো সম্পর্ক নেই।

গাউসুল আজম- গাউস শব্দের অর্থ ত্রাণকর্তা, রক্ষাকর্তা, পরিত্রাণদানকারী, উদ্ধার কারী ইত্যাদি। এবং আজম শব্দের অর্থ মহান, বড় বা সর্বশ্রেষ্ঠ। গাউসুল আজম শব্দের অর্থ হল সর্ব শ্রেষ্ঠ ত্রাণকর্তা। এ কথাটি আল্লাহ ছাড়া আর কারো ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে কি?

মহান আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ কি সর্বশ্রেষ্ঠ ত্রাণকর্তা হতে পারেন? কোন মানুষকে এ নামে ডাকার অর্থ হল তাকে আল্লাহর গুণাবলীতে গুণান্বিত করা। কোন মানুষ কি নিজেকে গাউসুল আজম দাবি করেছেন? তাহলে কেন তাকে আমরা গাউসুল আজম ডাকব? কাউকে এ নামে ডাকলে তা হবে শিরকের নামান্তর।

প্রেমিক-প্রেমিকা একজন আরেকজনের সবচাইতে বড় দুশমন

প্রেমিক-প্রেমিকা একজন আরেকজনের সবচাইতে বড় দুশমনঃ

অবৈধ প্রেম-ভালোবাসায় লিপ্ত নারী-পুরুষেরা দুনিয়ার জীবনে একজন আরেকজনকে কত আপন বা বড় বন্ধু বলে মনে করে। এই প্রেমের কারণে বাবা-মাকে কষ্ট দেয়, মূল্যবান জীবন ও সময় নষ্ট করে, যিনা-ব্যভিচার, অশ্লীলতা, অবৈধ যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে চরিত্র, সতীত্ব ও মান-সম্মান নষ্ট করে, বিশ্বাসঘাতকতা করে। এর প্রতিদানে দুনিয়ার জীবনে কামনা ও প্রেমের অশান্তির আগুনে পুড়ে দগ্ধ হয়, আর পরকালকে ধ্বংস করে। এইরকম তাক্বওয়া বিরোধী, নাজায়েজ বন্ধুত্ব বা সম্পর্কের ব্যপারে আল্লাহ তায়া'লা বলেন,

"সেদিন (দুনিয়ার জীবনের) পরস্পর বন্ধুরা একজন আরেকজনের শত্র ুহয়ে যাবে, তবে যারা মুত্তাক্বী (আল্লাহ ভীরু) তারা ছাড়া।"
সুরা যুখরুফঃ আয়াত নং ৬৭।

আর যারা এইরকম বন্ধুত্ব করে পথভ্রষ্ট ও পাপী হয়ে জাহান্নামে যাবে, কেয়ামতের দিন তারা আফসোস করে নিজের হাতে কামড়াবে আর হায়-হুতাশ করে বলবে,

"জালেম সেইদিন আপন হস্তদ্বয় দংশন
করতে করতে বলবে, হায় আফসোস! আমি যদি রসূলের সাথে পথ অবলম্বন করতাম। হায় আমার দূর্ভাগ্য, আমি যদি অমুককে বন্ধু না বানাইতাম। আমার কাছে উপদেশ আসার পর সে আমাকে তা থেকে বিভ্রান্ত করেছিল। বিপদের সময় শয়তান মানুষকে ধোঁকা দেয়।"
সুরা ফুরক্বানঃ ২৭-২৯।

আল্লাহ আমাদেরকে তাক্বওয়ার মধ্য থেকেই বন্ধুত্ব করার তোওফিক দিন, শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য কাউকে ভালোবাসা এবং শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য কাউকে ঘৃণা করার তোওফিক দান করুন এবং তাক্বওয়া বিরোধী সমস্ত কাজ থেকে নিরাপদ রাখুন, আমিন।


admin : আনসারুস সুন্নাহ।

শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৫

সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহর মৃত্যু, নতুন বাদশাহ সালমান

আজ সৌদি আরবের বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ আস-সউদ ইন্তেকাল করেছেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন। ক্বুরান ও সুন্নাহভিত্তিক ইসলামের সঠিক শিক্ষা প্রচারের জন্য তিনি যে খেদমত করেছেন, আল্লাহ তাআলা তা কবুল করে নিন, আর আল্লাহ তার গুনাহ-খাতাগুলোকে মাফ করুন, আমিন। ২০০৫ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে বাদশাহ ১০ বছর ধরে শাসন করে ৯০ বছর বয়সে মৃত্যু বরণ করেন।

বাদশাহ আব্দুল্লাহর মৃত্যুর পর নতুন সৌদি বাদশাহ হচ্ছেন যুবরাজ আমির সালমান বিন আব্দুল আজিজ আস-সউদ। আলহামদুলিল্লাহ তিনি একজন ক্বুরানের হাফেজ। বাদশাহ সালমানের মা (রাহিমাহুল্লাহ) অত্যন্ত ধার্মিক মহিলা ছিলেন, তিনি বাদশাহ সালমানকে ছোটবেলাতেই মক্কার ইমামের কাছে পাঠিয়ে ক্বুরান হিফজ করান। আল্লাহ্ তাআলা বাদশাহ সালমানকে হেদায়েতের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখুন, তাকে ক্বুরান ও সুন্নাহ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করতে সাহায্য করুন, তাঁর অন্তরে তাক্বওয়া ও রাহমাহ ঢেলে দিন, আমিন।

উল্লেখ্য, ইখোয়ানি, খারেজী, বিভিন্ন মনপূজারী বিদাতী দলের লোকেরা যুবরাজ সালমানের ক্ষমতা গ্রহণের আগেই তাকে গালিগালাজ করছে এমনকি অনেকে তাকে কাফের-মুনাফেক বলেও ফতোয়া দিচ্ছে, নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক। মুসলমান শাসকদেরকে যারা গালিগালাজ করে তাদের ব্যপারে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদাহ কি দেখুনঃ

ইমাম হাসান ইবনে আলি আল-বারবাহারি (মৃত্যু ৩২৯ হিজরী) রাহিমাহুল্লাহ বলেন, যদি তুমি কোন ব্যক্তিকে দেখো সে শাসকদের বদদুয়া করছে, তাহলে জেনে রাখো সে একজন মনপূজারী, বিদাতী। আর তুমি যদি কোন ব্যক্তিকে দেখো সে শাসকদের জন্য ভালো দুয়া করছে, তাহলে সে একজন আহলে সুন্নাহ, ইন শা আল্লাহ্‌। 
শরাহুস সুন্নাহ, পৃষ্ঠা ১১৩-১১৪।

বিনীত,
আনসারুস সুন্নাহ

২৩শে জানুয়ারী, ২০১৫। 

ইখলাস, তাক্বওয়া

আসুন একটি হাদীস পড়ি এবং হাদীস থেকে কিভাবে পিতা-মাতার সেবা যত্ন করতে হবে, তাক্বওয়া, ইখলাস, ও নেক আমলকে ওসীলা বানিয়ে দুয়া করতে হয় সেটা শিখিঃ
_______________________________

অধ্যায়ঃ প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল কথা, কাজ ও নিয়তে ইখলাস (বিশুদ্ধতা) ও একনিষ্ঠতা জরুরী।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) বর্ণনা করেন, আমি রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, পুর্বেকার যুগে তিন ব্যক্তি কোথাও যাচ্ছিল। পথিমধ্যে বৃষ্টি এসে পড়ল। তারা রাত কাটানোর জন্য একটি পর্বত গুহায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হলো কিন্তু তারা গুহায় প্রবেশ করার সাথে সাথে একটি পাথর খণ্ড গড়িয়ে এসে গুহার মুখ বন্ধ করে দিল। তারা স্থির করল যে, তাদের নেক আমলকে অসীলা বানিয়ে আল্লাহর কাছে দোআ করলে এই কঠিন বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। তাদের একজন দোআ করলঃ হে আল্লাহ! আমার পিতা-মাতা অত্যন্ত বৃদ্ধ। আমি আমার পরিবার-পরিজনের আগেই তাদেরকে দুধ পান করাতাম। একদিন আমায় জ্বালানী কাঠের সন্ধানে অনেক দূরে যেতে হলো। আমি যখন রাতে বাড়ি ফিরে এলাম, তখন আমার পিতা-মাতা ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। আমি দুধ নিয়ে যথারীতি তাদের কাছে গিয়ে দেখি, তারা ঘুমিয়ে পড়েছেন। তাদেরকে জাগিয়ে তোলা আমি সমীচীন মনে করলাম না। আবার তাদের খাওয়ার পূর্বেই পরিবারের লোকদের দুধ পান করানোও সঙ্গত মনে হলো না। আমি দুধের পেয়ালা হাতে নিয়ে রাতভর পিতা-মাতার কাছে দাঁড়িয়ে রইলাম। তাদেরকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলা আমি সঙ্গত মনে করলাম না। এদিকে বাচ্চারা  আমার পায়ের কাছে বসে ক্ষুধায় কাঁদছিল। এই অবস্থায় সকাল হয়ে গেল এবং  তারা ঘুম থেকে জেগে উঠলেন। আমি তাদরেকে দুধ পান করালাম। হে আল্লাহ! আমি যদি এ কাজটি তোমার সন্তুষ্টির জন্য করে থাকি, তাহলে আমার ওপর থেকে পাথরের এই বিপদ দূর করে দাও। এতে পাথর খণ্ড কিছুটা দূরে সরে গেল বটে, কিন্তু গুহা থেকে কেউ বেরিয়ে আসতে পারল না।

অপর ব্যক্তি বললঃ হে আল্লাহ! আমার এক চাচাতো বোন ছিল; আমার কাছে তাকে দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি সুন্দরী বলে মনে হতো। (এক বর্ণনা মতে) তার সাথে আমার অসামান্য ভালোবাসা ছিল। পুরুষ নারীকে যতটা ভালবাসতে পারে, আমি ততটাই তাকে ভালবাসতাম। আমি তার সঙ্গে কামনা চরিতার্থ করার আকাঙ্খা ব্যক্ত করলাম। কিন্তু সে এতে সম্মত হলো না। অবশেষে এক দুর্ভিক্ষের বছরে সে দুর্বল হলে আমার নিকট এলো। আমি তাকে আমার সাথে নির্জনে মিলনের শর্তে একশো বিশটি স্বর্ণমুদ্রা (দিনার) দিলাম। আমার প্রস্তাবে সে সম্মত হলো। আমি তখন তাকে নিয়ন্ত্রণে নিলাম। অন্য বর্ণনা মতে আমি যখন তার দুই হাঁটুর মাঝখানে বসলাম, তখন সে কম্পিত কন্ঠে বললঃ ওহে! তুমি আল্লাহকে ভয় কর এবং অবৈধভাবে আমার সতীত্ব নষ্ট করো না। আমি তৎক্ষণাৎ মেয়েটিকে ছেড়ে চলে গেলাম। অথচ আমি মেয়েটিকে তীব্রভাবে ভালোবাসতাম। আমি তাকে যে স্বর্ণ মুদ্রা দিয়েছিলাম তাও ফেলে এলাম। হে আল্লাহ! আমি যদি এ কাজটি তোমার সন্তুষ্টির জন্য করে থাকি, তাহলে এই বিপদ থেকে আমাদেরকে মুক্তি দান করো। এর ফলে পাথর খণ্ডটি আরও কিছুটা সরে গেল। কিন্তু এতেও তারা বের হতে পারল না।

তৃতীয় ব্যক্তি বললঃ হে আল্লাহ! আমি কয়েকজন শ্রমিককে কাজে লাগিয়েছিলাম। আমি তাদেরকে যথারীতি পারিশ্রমিক দিলাম। কিন্তু একজন শ্রমিক তার পারিশ্রমিক কম ভেবে তা না নিয়েই চলে গেল। আমি তার পারিশ্রমিককে ব্যবসায়ে নিয়োগ করলাম। এতে তার পারিশ্রমিকের অংক অনেক বেড়ে গেল। কিছুদিন পরে লোকটি ফিরে এলো। এসে আমায় সম্বোধন করে বললঃ হে আল্লাহর বান্দা! আমাকে আমার প্রাপ্য পারিশ্রমিকটা দিয়ে দাও।  আমি বললামঃ সামনে যত উট, গরু, ছাগল, ভেড়া ও চাকর-বাকর দেখছো, সবই তোমার পারিশ্রমিক। সে বললঃ  হে আল্লাহর বান্দা! তুমি আমার সাথে ঠাট্টা করো না। আমি তাকে বললামঃ আমি তোমার সাথে মোটেই ঠাট্টা করছি না। এরপর সে সব মালামাল নিয়ে চলে গেল এবং কিছুই রেখে গেল না। হে আল্লাহ! আমি যদি তোমার সন্তুষ্টির জন্য এ কাজ করে থাকি, তাহলে আমাদের থেকে এ বিপদটা দূর করে দাও। এরপর গুহার মুখ থেকে পাথর খণ্ডটি সরে গেল এবং তারা সকলেই বের হয়ে আপন গন্তব্যের দিকে চলে গেল।

সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম, রিয়াদুস সালেহীনঃ হাদিস নং- ১২।