বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১৫

পহেলা বৈশাখের ‘হারামি’ অনুষ্ঠানে কলঙ্কিত টিএসসি

পহেলা বৈশাখের হারামি অনুষ্ঠানে কলঙ্কিত টিএসসিঃ প্রকাশ্যে নারীদেরকে বিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানী
১৫ই এপ্রিল, ২০১৫। 
পহেলা বৈশাখ নামক বাংগালী পূজার ব্যপারে দ্বীনি ভাই ও বোনদেরকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে গত রবিরাব সন্ধ্যায় আমি একটা পোস্ট করি, যেখানে আমি ১৩ টা পয়েন্ট উল্লেখ করেছিলাম, মুসলমানদের জন্য পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা কেনো জায়েজ হবেনা। সেই পোস্টের লিংক
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/1171414532891292
আমি লিখেছিলামঃ ভীড়ের মাঝে লম্পট যুবকদের নারীদের গায়ে হাত দেওয়া ও তাদের ইজ্জত হরণ করা। বোকা মেয়েগুলো পহেলা বৈশাখের ফূর্তি করতে গিয়ে লম্পটদের অত্যাচারের শিকার হয়।
সর্বশেষ, গতকাল পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও টিএসসির সামনে একদল লম্পট ছেলে কিছু মেয়েদের বিবস্ত্র করে তাদের ভিডিও ধারন করে। এসময় অসহায় মেয়েরা চিৎকার চেঁচামেচি করে সাহায্য চাইলে উচ্চস্বরে ভুভুজেলা বাজানো হয় যাতে কেউ বুঝতে না পারে।
ইসলাম না মেনে যারা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তাদের কেউ কেউ এভাবেই দুনিয়ার জীবনে লাঞ্চিত ও অপমানিত হয়। এ অবস্থা রোধ করার জন্যে প্রয়োজনঃ
১. অশ্লীলতা ও বেহায়াপনাকে উস্কে দেয় এমন সমস্ত হারাম অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বন্ধ করে দেওয়া।
২. যুবকদেরকে ইসলামী আদর্শে গড়ে তোলা ও বিজাতীয় অপসংস্কৃতির নোংরা ছোবল থেকে তাদেরকে বের করে আনা। 
৩. নারীদের কঠোর হিজাব-পর্দার মাঝে নিয়ে আসা, তাদের অরক্ষিত ও অনিয়ন্ত্রিত চলাফেরা বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া।

৪. ক্বুরান ও সুন্নাহর শিক্ষা চালু করে নর-নারীদেরকে পরকালমুখী জীবনের দিকে ফিরিয়ে আনা।

মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৫

প্রেম-ভালোবাসা ও অবৈধ সম্পর্কের বাস্তব কিছু নমুনা

=> প্রেম-ভালোবাসা ও অবৈধ সম্পর্কের বাস্তব কিছু নমুনাঃ
১. কেউ লুকিয়ে বিয়ে করেছে, কিন্তু ছেলে বা মেয়ের বাবা-মা মেনে নিচ্ছেনা আর এনিয়ে অশান্তি।
২. কারো প্রেমের সম্পর্কে আছে, দীর্ঘদিনের. . .কিন্তু তার প্রেমিক এখন তাকে বিয়ে করতে পারবেনা।
৩. কেউ পরকীয়ায় আছে, তার প্রেমিক এখন তাকে ব্ল্যাকমেইল করছে।
৪. কারো প্রেমিকা অন্যত্র বিয়ে করে ফেলেছে, সে এখন বেঁচে থাকার অর্থ খুঁজে পাচ্ছেনা।
৫. কারো প্রেমিক/প্রেমিকা ১০-১২ বছর ধরে সম্পর্ক রেখে, বিয়ে না করে সরে গেছে।
৬. কেউ পছন্দ করে মনের(!) মানুষকে বিয়ে করেছে, কিন্তু বিয়ের আগে যাকে ফেরেশতা মনে করেছিলো, এখন তাকে শয়তানের মতো লাগে! 
৭. কেউ প্রেমিকাকে বিয়ে করেছে ঠিকই, কিন্তু বউ হিসেবে সেই প্রেমিকাকে আর ভালো লাগেনা, তাইতো বউ রেখে অন্য প্রেমিকার পেছনে ছুটছে।
৮. কারো পরিবার বিয়ে দেবে বলেছে, অন্যপক্ষকে ২-৩ বছর ধরে ঝুলিয়ে রেখে এখন বলছে আর বিয়ে দেবেনা।
৯. কেউ দীর্ঘদিন ধরে জিনা করেছে, এখন তাকে ছাড়া আর চলবেনা।
১০. কেউ গর্ভবতী হয়েছে, নিজের ও বাবা-মায়ের সম্মান নষ্ট করেছে, প্রেমিক বা প্রেমিকের গার্জিয়ানের চাপে অবৈধ সন্তানকে হত্যা করেছে, তবুও শেষ রক্ষা হয়নি।
১১. স্বামী মাথার ঘাম পায়ে ফেলে বিদেশে বসে বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন দেখে আর এদিকে দেশে স্ত্রী অন্য কারো সাথে পালিয়ে গেছে, অথবা লুকিয়ে পরকীয়ায় লিপ্ত।
=> নামাযী-বেনামাযি, হিজাবী/আধা-হিজাবী/বেহিজাবী কোন ধরণের নারী অথবা পুরুষেরাই বাদ যাচ্ছেনা, শয়তানের এই দুষ্ট চক্রে পা দেয়নি এবং ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি।
=> বিয়ে বহিঃর্ভূত অবৈধ সম্পর্কে যারা জড়িত, তাদের জন্য ক্বুরানুল কারীমের এই আয়াতটা ফিট হয়,
(হে নবী!) আপনার প্রাণের কসম! তারা আপন নেশায় প্রমত্ত ছিল।
[সুরা আল-হিজরঃ ৭২]
=> শায়খুল ইসলাম, ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহঃ) বলেন,
ইশক বা প্রেম হচ্ছে একটি মানসিক ব্যাধি। আর যখন তা প্রকট আকার ধারণ করে তখন তা শরীরকেও প্রভাবিত করে। সে হিসেবে ইশক শরীরের জন্যও একটা ব্যাধি। মস্তিষ্কের জন্যও তা ব্যাধি। এজন্যই বলা হয়েছে যে, ইশক একটা হৃদয়জাত ব্যাধি। শরীরের ক্ষেত্রে এ ব্যাধির প্রকাশ ঘটে দুর্বলতা ও শরীর শুকিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে।
তিনি আরও বলেন, পরনারীর প্রেমে এমন সব ফাসাদ রয়েছে যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেও গুনে শেষ করতে পারবে না। এটা এমন ব্যাধিগুলোর একটি, যা মানুষের দ্বীনকে নষ্ট করে দেয়। মানুষের বুদ্ধি-বিবেচনাকে নষ্ট করে দেয়, অতঃপর তা শরীরকেও নষ্ট করে।

[মাজমুউল ফাতওয়াঃ ১০/১২৯-১৩২]

সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৫

বর্ষবরণ নয়, এ এক সুস্পষ্ট সাংস্কৃতিক যুদ্ধঃ

বর্ষবরণ নয়, এ এক সুস্পষ্ট সাংস্কৃতিক যুদ্ধঃ
আকবরের নবরত্ন সভার প্রভাবশালী সদস্য ফতেহ্‌উল্লাহ্‌ সিরাজ প্রবর্তিত বাংলা সনের প্রথম দিনটিকে বাঙালি উৎসবের লেবাস পড়িয়ে হিন্দুদের নানা পূজা-অর্চনাকে সার্বজনীন রূপ দেয়ার অপর নাম হলো পহেলা বৈশাখ উদযাপন বা বাংলা নববর্ষ বরণ।
ইসলাম বিরোধীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত মিডিয়াগুলো (টিভি চ্যানেল, পত্রিকা, ম্যাগাজিন) দিয়ে ইতোমধ্যেই হিন্দুদের বহুমাত্রিক পূজা এখন মুসলিম বাঙালীদের কাছেও নিছক বর্ষবরণ অনুষ্ঠান!!
হিন্দুদের গণেশ পূজার মঙ্গল যাত্রা থেকে নেওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রা, চৈত্র সংক্রান্তি পূজা থেকে নেওয়া চৈত্রসংক্রান্তি, হিন্দু-বৌদ্ধদের উল্কিপূজা থেকে নেওয়া উল্কি উৎসব, বিভিন্ন হিংস্র-অহিংস্র জীব-জন্তু পূজা থেকে নেওয়া রাক্ষস-খোক্ষসের মুখোশ ও পশু-পাখীর প্রতীমা নিয়ে উৎসব ও আনন্দ মিছিল, হিন্দুদের আশ্বিনে রান্না কার্তিকে খাওয়া প্রথার আদলে চৈত্রের শেষদিনে রান্না করা অন্নে জল ঢেলে পহেলা বৈশাখের সকালে পান্তা খাওয়ার প্রথা এবং পূজার মাঝে অপরিহার্য আইটেম ঢোল-তবলা, কুলা ও হিন্দু রমনীর লাল সিঁদুরের অবিকল লালটিপ-পূজার লেবাস শাদা শাড়ী ইত্যাদি হলো পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ উদযাপনের প্রধান উপাদান!
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
যে ব্যক্তি কোন ধর্মের মানুষের (ধর্মীয় আচারের) অনুকরণ বা স্বাদৃশ্য গ্রহণ করবে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে। [সুনানে আবু দাউদ]
পছন্দ আপনারঃ হিন্দুদের মূর্তি পূজা, প্রকৃতি পূজার অনুকরণে পহেলা বৈশাখ পালন নাম দিয়ে ঈমানহারা হবেন, নাকি কুরআন-সুন্নাহ মেনে, আল্লাহকে ভয় করে এই সমস্ত জাহেলিয়াত থেকে চৌদ্দ হাত দূরে থাকবেন।
Collected & Edited from Ahmad Ullah
পহেলা বৈশাখ আসলে বর্ষবরণ নাম দিয়ে হিন্দুদের সংস্কৃতি ও মূর্তিপূজা মুসলমানদের মাঝে ঢোকানোর ঘৃণ্য এক ষড়যন্ত্র। সকলেই সচেতন হন, মুসলমানদের মাঝে জাহেলিয়াত ঢোকানোর বিরুদ্ধে সোচ্চার হন।
_______________________________
ক্বুরানুল কারীমের একটি আয়াত ও তার সহজ-সরল তর্জমাঃ

أَعـوذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْـطانِ الرَّجيـم
বিতাড়িত শয়তানের কুমন্ত্রনা থেকে আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি ।

فَبَشِّرْ عِبَادِ

উচ্চারণঃ ফাবাশশির ইবাদি,
অর্থঃ অতএব, আমার বান্দাদেরকে সুসংবাদ দিন।

الَّذِينَ يَسْتَمِعُونَ الْقَوْلَ فَيَتَّبِعُونَ أَحْسَنَهُ أُوْلَئِكَ الَّذِينَ هَدَاهُمُ اللَّهُ وَأُوْلَئِكَ هُمْ أُوْلُوا الْأَلْبَابِ

উচ্চারণঃ আল্লাযিনা ইয়াসতামিউনাল ক্বাওলা ফা ইয়ত্তাবিউনা আহসানা, উলাইকাল্লাযিনা হাদা হুমুল্লাহ, ওয়া উলাইকা হুম উলিল আলবাব।
অর্থঃ (আমার সেই সমস্ত বান্দাদের জন্যে সুসংবাদ), যারা মনোযোগ সহকারে কথা শুনে, অতঃপর তারা মাঝে যা উত্তম, তার অনুসরণ করে। আল্লাহ তাদেরকেই সৎপথ প্রদর্শন করেন এবং তারাই হচ্ছে সত্যিকারের বুদ্ধিমান।

[সুরা আয-যুমারঃ ১৭-১৮]

প্রসংগঃ পহেলা বৈশাখ

প্রসংগঃ পহেলা বৈশাখ
আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের জন্য পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হারাম করে দিয়েছেন। নিজে জানুন, অন্যকে জানান। শিরক থেকে বেঁচে থাকুন, নিজের ঈমান ও আকীদার হেফাজত করুন।  
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত হারাম কাজগুলোর কিছু উদাহরণঃ
১. গান-বাজনার আসর বসানো। (শয়তানের সবচাইতে শক্তিশালী একটা অস্ত্র হচ্ছে গান, যা দিয়ে সে ঈমানদের অন্তরে মুনাফেকীর বীজ বপণ করে)।
২. বিভিন্ন প্রকার মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করা। (মদখোরের নামায ৪০ দিন পর্যন্ত কবুল হয়না, আর নেশা করতে অভ্যস্ত ব্যক্তি জাহান্নামে যাবেই)।  
৩. জুয়ার আয়োজন করা (জুয়া শয়তানের কাজ, সুরা মায়িদাহ)।
৪. নারী-পুরুষ অবাধ মেলামেশার সুযোগ করে দেওয়া (নারী-পুরুষের লজ্জা ভেঙ্গে তাদেরকে জিনাতে লিপ্ত করানোর প্রথম ধাপ)।
৫. ভীড়ের মাঝে লম্পট যুবকদের নারীদের গায়ে হাত দেওয়া ও তাদের ইজ্জত হরণ করা। বোকা মেয়েগুলো পহেলা বৈশাখের ফূর্তি করতে গিয়ে লম্পটদের অত্যাচারের শিকার হয়)।
৬. যিনা-ব্যভিচার (যিনা-ব্যভিচার তরুণ-তরুণীদের অন্তরটাকে নষ্ট করে দেয়, যিনাতে লিপ্ত নারী-পুরুষের দ্বারা যেকোন খারাপ কাজ করা সম্ভব)
৭. অর্ধনগ্ন নায়িকা ও গায়িকাদেরকে দিয়ে তরুণদেরকে অশ্লীল কাজের দিকে উৎসাহিত করা।
৮. মুখোশ ও মূর্তি (যারা প্রানীর মূর্তি ও ছবি বানায় কেয়ামতের দিন তাদেরকে সবচাইতে বেশি শাস্তি দেওয়া হবে)।
৯. গায়ে ট্যাটু বা উল্কি অংকন করা (তাদের প্রতি আল্লাহর লানত বর্ষিত হয়)
১০. হিন্দুদের মতো রথযাত্রার মতো মংগল শোভা বা মংগল যাত্রা বের করা।
১১. ছায়ানট, উদীচি, কমিউনিস্টসহ বিভিন্ন নাস্তিকদের সংগঠনের নাটক-সিনেমা, গান ও কবিতার মাধ্যমে কৌশলে মুসলমানদের মাঝে শিরকি ও কুফুরী চিন্তা-চেতনা ঢোকানোর নীলনক্সা।
১২. টিভিতে বিভিন্ন চমকপ্রদ ও বেহায়াপনা, অশ্লীলতা, নাচ-গানের মাধ্যমে কোটি-কোটি মুসলমানদেরকে আস্তে আস্তে বেদ্বীন বানানোর শয়তানের মাস্টার প্ল্যান।
১৩. নারীদের খোলামেলা পোশাক-আশাক ও সংস্কৃতি নাম দিয়ে পুরুষদের মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করে পুরুষদের চরিত্র ও নারীদের ইজ্জত নষ্ট করার দিন পহেলা বৈশাখ।
সর্বশেষ, মহান আল্লাহ্‌ তাআলা আরো বলেন,
আর আমি সৃষ্টি করেছি জাহান্নামের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ। তাদের অন্তর আছে, কিন্তু তার দ্বারা তারা চিন্তা-ভাবনা করে না, তাদের চোখ আছে কিন্তু তার দ্বারা তারা দেখেনা, আর তাদের কান আছে কিন্তু তার দ্বারা তারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তাদের চাইতেও নিকৃষ্টর। তারাই হল উদাসীন ও শৈথিল্যপরায়ণ। [সুরা আল-আরাফঃ ১৭৯]

সর্বশেষ, কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার পূর্বে একের পর এক নিত্য-নতুন ফেতনা যখন মুসলমানদেরকে গ্রাস করবে, তখনকার যুগে মানুষের ঈমানের যেই হবে সে সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

আঁধার রাতের অবিরাম খন্ডের মত কৃষ্ণ-কালো ফেতনা আবর্তিত হওয়ার পূর্বেই তোমরা দ্রুত নেক কাজে মনোনিবেশ কর। (এমন একটা সময় আসবে যখন) মানুষ সকাল বেলা মুমিন কিন্তু বিকেল বেলা সে হবে কাফের। আবার কেউ সন্ধ্যা বেলা মুমিন হবে তো সকাল বেলা হবে কাফের। দুনিয়াবি সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে সে দ্বীনকে বিক্রি করে ফেলবে। [সহীহ মুসলীম]

কোন ব্যক্তির সামনা সামনি তার প্রশংসা করা ঠিকনা

কোন ব্যক্তির সামনা সামনি তার প্রশংসা করা ঠিকনা, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই কাজটা কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, কারো সামনে তার প্রশংসা করা তার পিঠে ছুরি মারা বা তার গলা কেটে ফেলার সমান। [আদাবুল মুফরাদঃ ৩৩৫]
অন্য হাদীসে তিনি বলেছেনঃ কেউ তোমাদের সামনা সামনি প্রশংসা করলে তার মুখে তোমরা পাথর ছুঁড়ে মারো। [আদাবুল মুফরাদঃ ৩৪০]

কারো সামনা সামনি প্রশংসা করা অপছন্দনীয় কারণ হচ্ছে, এতে মানুষের মনে অহংকার জন্ম নেয়। প্রশংসার কারণে ভবিষ্যতে তার অন্তরে রিয়া ঢুকে যেতে পারে। সে মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য নেক আমল করা শুরু করবে, আর প্রশংসা সম্মান বা খ্যাতি না পেলে কষ্ট পাবে, কারণ তার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি না হয়ে অন্যের সুনাম পাওয়ার লোভ মিক্সড থাকবে। জন্য আবার তার আমলের উন্নতি হওয়া বন্ধ হয়ে যাবে, কারণ মানুষের। আবার প্রশংসা পেয়ে সে বর্তমান আমল নিয়েই সন্তুষ্ট হয়ে যাবে। আমল আরো সুন্দর করা বা বেশি করার চেষ্টা বন্ধ করে দিবে। এটা মারাত্মক একটা ক্ষতি একজন মানুষের জন্য। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন, আমিন।

ওযুর পরে সহীহ দুয়া ৩টি


ওযুর পরে ৩টি সহীহ দুয়া
- আনসারুস সুন্নাহ
________________________
১. ওযু শেষ করে কালিমা শাহাদাত একবার পড়তে হবে,
أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَـهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ.
উচ্চারণঃ আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারিকা-লাহু ওয়াআশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।
অর্থঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন মাবূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সঃ) তাঁর বান্দা ও রাসূল।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে ব্যক্তি পূর্ণভাবে ওযু করবে এবং কালিমা শাহাদাত পাঠ করবে, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেয়া হবে। সে যেটা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে
মুসলিম ১/২০৯, মিশকাতঃ ২৮৯।
কালেমা শাহাদাত পড়ার সময় আকাশের দিকে তাকানোর প্রয়োজন নেই, এ সম্পর্কিত হাদীস মুনকার বা যঈফ। [শায়খ আলবানী, ইরোয়াউল গালীল ১/১৩৫]
________________________
২. এছাড়া আরো একটি দুয়া পড়া যায়, যেমন
اَللَّهُمَّ اجْعَلْنِيْ مِنَ التَّوَّابِيْنَ وَاجْعَلْنِيْ مِنَ الْمُتَطَهِّرِيْنَ.
উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মাজ আলনী মিনাত তাওয়্যাবীনা ওয়াজ আলনী মিনাল মুতা-ত্বাহহিরীন।
অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করো।
তিরমিযী ১/৭৯।
________________________
৩. ওযু শেষ করে ৩য় এই দুয়াটি পড়া সুন্নত
«سُبْحانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتوبُ إِلَيْكَ»
উচ্চারণঃ সুবহানাকা আল্লা-হুম্মা ওয়া বিহামদিকা আশহাদু আল লা-ইলাহা ইল্লা আন্তা আস্তাগফিরুকা ওয়াআতূবু ইলাইকা।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি। আমি সাক্ষ্য দেই যে, আপনি ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার নিকট তওবা করছি।
নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, পৃ. ১৭৩। আরও দেখুন, ইরওয়াউল গালীল, ১/১৩৫, ৩/৯৪।
উল্লেখ্য, এই দুয়াটাকে "বৈঠক খতমের দুয়া" বলা হয়। কারণ, এই দুয়াটা যেকোন সালাত, ক্বুরান তেলাওয়াত, যিকির, দ্বীনি মজলিস শেষে উঠার সময় পড়া সুন্নত। এই দুয়াটা পড়লে সেই বৈঠকে কোন ভুল করলে বা ভুল কিছু বলে ফেললে তার কাফফারা হয়ে যাবে। সুতরাং, বৈঠক শেষে এই দুয়াটা পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

আল্লাহ আমাদের সকলকে আমল করার তোওফিক দান করুন, আমিন।

বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০১৫

বান্দাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে এমন ৩টি সহজ আমল

আমার ভালোবাসার ৩টি মাসনুন আমল, যা প্রতিদিন করা সুন্নাহ, আমল করা সহজ কিন্তু তার ফযীলত বা প্রতিদান অনেক বেশিঃ

১. প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় সাইয়্যিদুল ইস্তেগফার একবার করে পড়া।
ভালো লাগার কারণঃ এ দুয়াটির অর্থ এতো চমতকার, সুবহানআল্লাহ! নিজের গুনাহ-খাতা সমূহ স্বীকার করে নিয়ে অনুতপ্ত হৃদয় নিয়ে আল্লাহর কাছে নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাওয়ার জন্য এর চাইতে ভালো দুয়া আর হয়না।
ফযীলতঃ কেউ যদি আন্তরিক বিশ্বাসের সাথে এই দুয়া সকালে ও সন্ধ্যায় পড়ে আর সেইদিন সে মারা যায়, ইন শা আল্লাহ সে ব্যক্তি জান্নাতে যাবে। [সহীহ বুখারী]

সাইয়্যিদুল ইস্তেগফার সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/photos/a.130928300273259.14132.125167817515974/1143754345657311/

২. প্রতিদিন সুরা মুলক একবার করে তেলাওয়াত করা।
ভালো লাগার কারণঃ নামাযে কেরাত হিসেবে এই সুরাটির আয়াতগুলো বুঝে তেলাওয়াত করলে এতো ভালো লাগে. . .প্রতিদিন পড়ার ফলে গুরুত্বপূর্ণ অনেকগুলো বিষয় স্বরণ থাকে, আল্লাহর প্রতি ভয় সৃষ্টি হয় এবং নেক কাজ করার স্পৃহা বৃদ্ধি পায়। সারাদিনে যখনই সুরা মুলক পড়া শেষ হয়, মনে হয় আমার অগণিত খারাপ কাজের মাঝে অন্তত ভালো একটা কাজ করতে পারলাম, আলহামদুলিল্লাহ।
ফযীলতঃ এই সুরা নিয়মিত পাঠকারীকে কবরের আযাব থেকে সুরক্ষা করবে, কেয়ামতের দিন এই সুরাটি জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে সুপারিশ করে তাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। [এনিয়ে হাদীসগুলো রিয়াদুস সালেহীনে দেখুন]

সুরা মুলক সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/968363783196369:0

৩. প্রত্যেক ফরয নামাযের পরে আয়াতুল কুরসী পাঠ করা
ভালো লাগার কারণঃ প্রত্যেক ফরয নামায পাঠ শেষে ক্বুরানুল কারীমের মর্যাদাপূর্ণ শ্রেষ্ঠ আয়াত তেলাওয়াত করার মাধ্যমে আল্লাহর ওহদানিয়াত (একত্ব), তাঁর অপ্রতিদ্বন্দ্বী শ্রেষ্ঠত্ব ও মহিমার ঘোষণা করা হয়। এর মাধ্যমে বান্দা তার জবানের মাধ্যমে তাওহীদ এর স্বীকৃতি জ্ঞাপন করে।
ফযীলতঃ যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয নামাযের পরে আয়াতুল কুরসী পড়ে, তার আর জান্নাতের মাঝে এতোটুকু দূরত্ব যে, সে যেন শুধুমাত্র মৃত্যুবরণ করছেনা বলেই (কবরে) জান্নাতের নেয়ামতগুলো উপভোগ করতে পারছেনা।

আয়াতুল কুরসী সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন  

https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/photos/a.130928300273259.14132.125167817515974/1111129008919845/