সালাত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সালাত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১৭

সারা বছর ধরে লায়লাতুল ক্বদরের সমান সওয়াব পাওয়ার জন্য সহজ আমল

সারা বছর ধরে লায়লাতুল ক্বদরের সমান সওয়াব পাওয়ার জন্য সহজ আমলঃ
ব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, যে ব্যক্তি ইশার পরে চার রাকাত সালাত আদায় করে, এটা তার জন্য লায়লাতুল ক্বদরে চার রাকাত সালাত আদায় করার মতোই। মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহঃ ২/৩৪২।
য়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন, ইশার পরে চার রাকাত সালাত লায়লাতুল ক্বদরে চার রাকাত সালাত আদায় করার মতোই। মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহঃ ২/৩৪২।
শায়খ মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন আলবানী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, ইশার পরে এই চার রাকাত সালাত আদায় করার ফযীলত কয়েকজন সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে। এই সবগুলো বর্ণনার মাঝে আয়িশাহ, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আব্দুর রাহমান ইবনে আল-আসওয়াদ, মুহজাহিদ, (আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন) এই সাহাবীদের থেকে বর্ণিত হাদীসগুলো সহীহ। যদিও এই হাদীসগুলো সাহাবীদের কথা হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু এই হাদীসগুলো রাসুলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথার সমান মর্যাদা বহন করে। কারণ ইবাদতের ক্ষেত্রে এমন কথা রাসুলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে শোনা ছাড়া কোন সাহাবী বলতে পারেন না। আর এই ফযীলতের কথা কয়েকজন সাহাবী বর্ণনা করেছেন। একারণে, যদিও হাদীসগুলো সাহাবীদের কথা হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু এই হাদীসের মর্যাদা রাসুলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথার সমপর্যায়ের বলে গণ্য হবে। সিলসিলাহ জয়ীফাহঃ ৫০৬০।
লায়লাতুল ক্বদরের সমান সওয়াব পাওয়ার জন্য ইশার পরে চার রাকাত সালাত আদায় করার নিয়মঃ
ইশার সালাত আদায়ের পরে চার রাকাত নফল সালাত আদায়ের নিয়তে এক সালামে চার রাকাত সালাত আদায় করতে হবে। মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহঃ ২/৩৪২।
এই চার রাকাত যোহরের পূর্বের চার রাকাত সুন্নত সালাতের মতোই স্বাভাবিক নিয়মে, যেকোন সুরা দিয়ে আদায় করা যাবে।
টিপসঃ যাদের জন্য অধিক সালাত আদায় করা কষ্টকরা হয়ে যায়, তারা বিতির সালাত তিন রাকাত না পড়ে এক রাকাত পড়বেন। প্রথমে উক্ত চার রাকাত নফল সালাত পড়বেন, তারপর এক রাকাত বিতির পড়বেন। এইভাবে আপনি তিন রাকাত বিতিরের পরিবর্তে ৪+১=৫ রাকাত সালাত পড়ে ক্বদরের রাতে চার রাকাত সালাত আদায় করার সমান সওয়াব পাবেন + বিতিরের সওয়াবও পেয়ে যাবেন। তবে কেউ যদি চার রাকাত পড়ে বিতির তিন রাকাত পড়ে, সেটার সওয়াব বেশি ও উত্তম হবে।
কৃতজ্ঞতাঃ
রাসুলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর শোকরগুজারিও আদায় করে না। জামে তিরমিজী।
এই পোস্টের জন্য আমি বিশেষভাবে আমাদের এক ভাই আবুল আলিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞ, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন, আমিন। আপনারা যারা ইংরেজী ভাষায় দ্বীন চর্চা করেন, আমি তাদেরকে বলবোঃ আপনারা অল্প ইলম সম্পন্ন কিংবা বিভ্রান্ত সেলেব্রিটি বক্তা ও লিখকদের কথা শুনে নিজেদের দ্বীনের ক্ষতি করবেন না। বরং, আলেমদের কাছ থেকে দ্বীন শিখেছেন, এমন নির্ভরযোগ্য তালিবুল ইলমদের কাছ থেকে উপকৃত হওয়ার চেষ্টা করুন। আবুল আলিয়ার ব্লগের লিংক -

http://www.abuaaliyah.com/

শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

ইচ্ছেমতো উটনীর উত্তরাধিকারী হন

ইচ্ছেমতো উটনীর উত্তরাধিকারী হন
উকবা ইবনে আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বের হলেন আমরা তখন সুফফায় (মসজিদে নববীর আঙ্গিনায়) অবস্থান করছিলামরাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে, যে প্রতিদিন সকালবেলা বুতহান বা আকীক উপত্যকায় গিয়ে সেখান থেকে কোনো প্রকার পাপ বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন না করে উঁচু কুঁজওয়ালা দুইটি টনী নিয়ে আসতে পছন্দ করে? আমরা (সাহাবারা) বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা অবশ্যই তা পছন্দ করিরাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন তোমাদের কেউ কি এরূপ করতে পার না যে, সকালবেলা মসজিদে গিয়ে মহান আল্লাহর কিতাব থেকে দুইটি আয়াত শিক্ষা করবে অথবা তেলাওয়াত করবে; তার ই আমল তার জন্য দুইটি উটনীর তুলনায় উত্তম আর তিনটি আয়াত তিনটি উটনীর তুলনায় উত্তম, চারটি আয়াত চারটি উটনীর তুলনায় উত্তম এমনিভাবে যত আয়াত তেলাওয়াত করবে, তত উটনীর চাইতে উত্তম হবে সহীহ মুসলিমঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশানের অনুবাদে ১৭৬৪-নং হাদীস।
হাদীসটির উপরে সংক্ষিপ্ত আলোচনাঃ
(১) সাহাবীদের মাঝে কিছু তরুণ, দরিদ্র ও অবিবাহিত সাহাবী ছিলেন, যাদের থাকার মতো কোন জায়গা ছিলোনা। কোন ধরণের সহায় সম্বল না থাকার কারণে তাঁরা মুসলমানদের দান-সাদাকার উপরে নির্ভরশীল ছিলেন, আর তাঁরা কুরআন ও হাদীস শিখতেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের বসবাসের জন্যে মসজিদে নববীর আঙ্গিনায় একটা স্থান করে দিয়েছিলেন। তাদেরই বসবাসের সেই জায়গাটাকে সুফফা বলা হতো। যেই সাহাবীরা সুফফাতে থাকতেন, তাঁদেরকে আসহাবে সুফফাহ বা, সুফফাহ বাসী বলা হতো।
(২) কোনো প্রকার পাপ বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন না করে এই কথার অর্থ হচ্ছেঃ সাধারণত মানুষ নিজ পরিশ্রম ব্যতীত দুইভাবে মূল্যবান সম্পদের মালিক হতে পারে। একটি পদ্ধতি হচ্ছে চুরি করে, সুদ, ঘুষ বা এমন হারাম উপায়ে অন্যের সম্পদ অবৈধভাবে অর্জন করা, আর এটা হচ্ছে পাপ। আর একটি বৈধ উপায় হচ্ছে, কোন নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুর ফলে উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পদ অর্জন করা, এটাকে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা বলা হয়েছে।
(৩) সাধারণত উন্নত জাতের উটনী বড় ও প্রাপ্তবয়ষ্ক হলে তাদের কুঁজ উঁচু হয়। উঁচু কুঁজওয়ালা টনীর অর্থ হচ্ছেঃ সুন্দর, বড় ও অনেক দামী উটনী। সাধারণত নর পশুর চাইতে মাদী পশুর দাম বেশি হয়। কারণ, সেইগুলো লালন-পালন করলে দুধ দেয়, বাচ্চা দেয়। একারণে, হাদীসে উট না বলে, উটনীর চাইতে বেশি মূল্যবান বলা হয়েছে।  
(৪) কোন রকম পাপ না করে, কিংবা কোন নিকট আত্মীয়ের মৃত্যুর কারণ ছাড়াই সুন্দর, বড় ও অনেক দামী উটনীর মতো মূল্যবান সম্পদ অর্জন করার চাইতে উত্তম একটা আমল হচ্ছেঃ কোন ব্যক্তি সকাল বেলা মসজিদে যাবে, মসজিদে গিয়ে কুরআনুল কারীম থেকে কোন একটি আয়াত শিক্ষা করবে অথবা, শুধুমাত্র তেলাওয়াত করবে। আয়াত শিক্ষা করার অর্থঃ কুরআনের একটি আয়াত কিভাবে তেলাওয়াত করতে হয় তা জানা, আয়াতটি মুখস্থ করা ও তার তর্জমা ও তাফসীর জানা। অথবা, শুধুমাত্র আয়াতটি তেলাওয়াত করলেও একই সওয়াব পাওয়া যাবে ইংশায়াল্লাহ। এইভাবে সে যত আয়াত পড়বে, ততগুলো উটনীর চাইতে সেটা উত্তম হবে। সুবহানাল্লাহ!
(৫) হাদীসটি নিয়ে একটু চিন্তা করে দেখুন, প্রতিদিন সম্ভব না হলেও, অন্তত ছুটির দিনগুলোতে কোন ব্যক্তি যদি সকালবেলা মসজিদে যায়, আর আমপারা থেকে সুরা আন-নাবা (৪০ আয়াত) ও সুরা-নাযিয়াত (৪৬ আয়াত), এই দুইটি সুরা তেলাওয়াত করে, তাহলে সেটা তার জন্যে ৮৬টা মূল্যবান উটনীর চাইতে উত্তম হবে। আল্লাহু আকবার! অথচ এই দুইটি সুরা তেলাওয়াত করতে সর্বোচ্চ ১০-১২ মিনিটের বেশি সময় লাগবেনা। অল্প সময়ে, অল্প পরিশ্রমে কত বড় সওয়াব!
(৫) এই আমল করা জন্যে যারা ফযর বেলা জামাতে নামায পড়তে মসজিদে যাবেন, তারা জামাত পড়ে আর বাসায় ফিরবেন না। মসজিদে বসে থেকে কুরআন তেলাওয়াত করবেন, আপনার পক্ষে যতটুকু সম্ভব হয়। অন্তত ১০টা বা ২০টা আয়াত। আর যদি অধিক পরিমান তেলাওয়াত ও সকাল-সন্ধ্যার যিকির করে সূর্য উঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন, তাহলে একবারে ইশরাকের নামায পড়ে বাসায় ফিরবেন। এইভাবে আপনি অনেকগুলো উটের মালিক হওয়ার চাইতে উত্তম আমল করতে পারবেন, সাথে সাথে ইশরাকের নামায পড়ে একটি হজ্জ ও একটি উমরা করার সমান সওয়াব অর্জন করতে পারবেন।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে আমল করার তোওফিক দান করুন, আমিন।  

বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০১৬

তেলাওয়াতের সেজদাহ ও সেজদার আয়াত


তেলাওয়াতের সেজদাহ ও সেজদার আয়াত
বিসমিল্লাহ।
আলহামদুলিল্লাহ।
ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহ।
ছোটবেলায় আমরা যখন উস্তাদের কাছে আমপারা বা কুরআন পড়া শুরু করতাম, তখন আমাদের অনেকের মনে একটা ভয় কাজ করত, আর তা হচ্ছে সেজদার আয়াত। কোন সেজদার আয়াত পড়লে বা শুনলে সেজদা দিতে হবে, এই ভয়ে অনেকেই সেজদার আয়াত পড়তে চায়না, বা কোন তেলাওয়াতের সেজদা আছে এমন সুরাতে যখন সিজদার আয়াত আসতো, তখন সেই আয়াত না শোনার চেষ্টা করতো, যাতে করে সেজদাহ দেওয়ার হাত থেকে বেঁচে যায়। এমনকি, বড় হয়েও এখন পর্যন্ত অনেকের মাঝে দেখা যায় যে, তেলাওয়াতের সেজদার আয়াতের ব্যপারে একটা ভয়, আতংক বা অনীহা কাজ করে। অথচ এটা ঠিকনা, তেলাওয়াতের সেজদাহ করা একটা মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত, যা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উপায়। সুতরাং, মহান প্রভুর দরবারে বিনীত হয়ে একটা সেজদা করার সুযোগ লাভ করাতো আমাদের জন্যে একটা সৌভাগ্যের বিষয়। সেজন্য, সেজদার আয়াতকে আমাদের ভয় নয়, বরং আরো বেশি ভালোবাসা উচিৎ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে আল্লাহর কালামকে ভালোবাসার তোওফিক দান করুন, আমিন।
যাই হোক, এবার আমরা মূল আলোচনায় প্রবেশ করি, বি ইজনিল্লাহি তাআলা।
(১) সেজদার আয়াত কি?
কুরআনুল কারীমে এমন কিছু আয়াত আছে, যেইগুলো পড়লে বা শুনলে সেজদাহ করতে হয়, এই আয়াতগুলোকে সেজদার আয়াত বলা হয়। সাধারণত, এই আয়াতগুলোতে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সরাসরি সেজদাহ করার জন্য আদেশ করেছেন, অথবা কখনো উৎসাহিত করেছেন সেজদাহ করার জন্য। এজন্যে এই আয়াতগুলো পড়লে, আয়াতের হক্ক হিসেবে, আল্লাহর আদেশ পালনের জন্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটা সেজদাহ করতেন। আমরা আমাদের প্রিয়নবীর অনুসারী হিসেবে সেই সুন্নতের অনুসরণ করি। সাধারণত কুরআনে বিভিন্ন চিহ্ন ও কথার দ্বারা স্পষ্ট বলা থাকে, এটা সেজদার আয়াত।
(২) কুরআনে সেজদার আয়াত কয়টি ও কি কি?
এ ব্যপারে আলেমদের মাঝে কিছুটা ইখতিলাফ বা মতবিরোধ হয়েছে। তবে অনেক আলেম কুরআনে মোট ১৫টি সেজদার আয়াত রয়েছে বলে একমত পোষণ করেছেন। আর সেই আয়াতগুলো হচ্ছেঃ
সুরা আরাফঃ ২০৫, সুরা রাদঃ ১৫, সুরা নাহলঃ ৪৯, সুরা বনী ইসরাঈলঃ ১০৭,  সুরা মারিয়ামঃ ৫৮, সুরা হাজ্জঃ ১৮, সুরা হাজ্জঃ ৭৭, সুরা ফুরক্বানঃ ৬০, সুরা নমলঃ ২৫, সুরা সাজদাহঃ ১৫, সুরা ছোয়াদঃ ২৪, সুরা হা মীম সাজদাহঃ ৩৭, সুরা নজমঃ ৬২, সুরা ইনশিক্বাকঃ ২১, সুরা আলাক্বঃ ১৯।
(৩) সেজদার আয়াত পড়লে বা শুনলে সেজদাহ দেওয়ার হুকুম কি?
আল্লামাহ আব্দুল আজিজ বিন বাজ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, নামাযের ভেতরে কিংবা বাইরে, সেজদাহর আয়াত পড়লে বা শুনলে একটা সেজদাহ দেওয়া সুন্নত, ফরয কিংবা ওয়াজিব নয়। মাজমু ফাতওয়া ওয়া মাক্বালাত সামাহাত আল-শায়খ ইবনে বাজ, ১১/৪০৬। 
আল্লামাহ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসায়মিন রাহিমাহুল্লাহ বলেন, সেজদাহর আয়াত পড়লে বা শুনলে তার জন্যে একটা সেজদাহ দেওয়া সুন্নত, ফরয কিংবা ওয়াজিব নয়। মাজমু আল-ফাতওয়াঃ ১৪/৩১৮।
(৪) তেলাওয়াতের সেজদাহ কিভাবে করতে হয়?
নামযের ভেতরে কিংবা বাইরে সেজদার আয়াত পড়া বা শোনার পর তাকবীর দিয়ে (অর্থাৎ, আল্লাহু আকবার) বলে সরাসরি সেজদাতে চলে যেতে হবেসেজদাতে যাওয়ার পর স্বাভাবিক নামাজের সেজদার মতোই সুবহানা রাব্বীয়্যাল আলা তাসবীহ পড়তে হবে। এরপরে কেউ যদি অন্যান্য সেজদার তাসবীহ পড়তে চায়, পড়তে পারবে। যেকোন সেজদাতে অন্তত সুবহানা রাব্বীয়্যাল আলা এই তাসবীহ পড়া ওয়াজিব। এর অতিরিক্ত অন্য তাসবীহগুলো (যেমন- সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়াবি হামদিকা, আল্লাহুম্মাগ ফিরলী) পড়া সুন্নত বা মুস্তাহাব। উল্লেখ্য, তেলাওয়াতের সেজদাহর জন্যে বিশেষ একটা দুয়া আছে, সেই দুয়াটা মুখস্থ থাকলে সেটা পড়া আরো ভালো। আপনারা সেই দুয়াটা মুখস্থ করতে চাইলে হিসনুল মুসলিম বই থেকে দেখে নিন। তাসবীহ পড়া শেষ হলে, একটা মাত্র সেজদাহ দিয়েই দাঁড়িয়ে যেতে হবে। কারণ, তেলাওয়াতের সেজদার জন্যে সেজদা করতে হয় মাত্র একটা, দুটো নয়। উল্লেখ্য, যদি নামাযের মধ্যে হয় তাহলে আল্লাহু আকবার তাকবীর দিয়ে দাঁড়াতে হবে। আর যদি নামাযের বাইরে হয় তাহলে একটা সেজদাহ দিয়ে দাঁড়িয়ে যাবে, আল্লাহু আকবর বলতে হবেনা বা সালাম ফেরাতে হবেনা। এহচ্ছে তেলাওয়াতের সেজদার সুন্নতী পদ্ধতি।
(৫) তেলাওয়াতের সেজদাহ করার কি ফযীলত?
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আদম সন্তান যখন কোন সেজদার আয়াত পড়ে অতঃপর সেজদাহ করে, তখন শয়তান তার কাছ থেকে কাঁদতে কাঁদতে চলে যায় আর বলেঃ হায় আফসোস, আমার কি দুর্ভাগ্য! আদম সন্তানকে সেজদাহ করতে আদেশ করা হয়েছে, আর সে সেজদাহ করেছে। একারণে তাকে জান্নাত দেওয়া হবে। আর আমাকে সেজদাহ করতে আদেশ করা হয়েছিলো, কিন্তু আমি সেই আদেশ অমান্য করেছিলাম। একারণে আমি জাহান্নামে যাবো। সহীহ মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ।
(৬) সুরা মুখস্থ করার সময় সেজদার আয়াত বারবার পড়লে কয়টা সেজদাহ দিতে হয়?
আল্লামাহ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসায়মিন রাহিমাহুল্লাহ বলেন, কেউ যদি মুখস্থ করার জন্যে একই সেজদার আয়াত বারবার পড়ে, তাহলে প্রথম একবার পড়ার পরে একটা সেজদাহ দিলেই হবে। এরপরে সে যখন একই সেজদার আয়াত পুনরায় পড়বে, তখন আবার সেজদাহ না দিলেও হবে। মাজমু আল-ফাতওয়াঃ ১৪/৩১৮।
(৭) তেলাওয়াতের সিজদার জন্য ওযু থাকা ফরয কি না?
এ ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন, ওযু থাকতেই হবেকোন কোন আলেম বলেছেন তেলাওয়াতের সিজদার জন্যে ওযু থাকা ফরয নয়, ওযু ছাড়াও তেলাওয়াতের সিজদাহ করা যাবে কারণ, আব্দুল্লাহ বনে মার রাদিয়াল্লাহু আনহু ওযু ছাড়াই তেলাওয়াতের সেজদা করতেন।  এখান থেকে অনেক আলেম দলিল নিয়েছেন, যেহেতু তেলাওয়াতের সিজদা কোন নামায নয়, একটা সেজদাহ, আর কুরআন বা হাদীসে কোথাও তেলাওয়াতের সিজদার জন্যে ওযু থাকতেই হবে, একথা উল্লেখ নেই, তাই ওযু সহ কিংবা ওযু ছাড়া, সর্বাবস্থাতেই তেলাওয়াতের সিজদাহ করা যাবে। মাজমু ফাতওয়া ওয়া মাক্বালাত সামাহাত আল-শায়খ ইবনে বাজ, ১১/৪০৬। 
(৮) মোবাইল, কম্পিউটার কিংবা অডিও ভিডিও রেকর্ডিং থেকে কুরআন তেলাওয়াত শোনার সময় কি তেলাওয়াতের সিজদাহ করতে হবে?

নাহ, করতে হবেনা। অনেক আলেমের মতে, রেকর্ডিং থেকে কুরআন তেলাওয়াত শোনার সময় তেলাওয়াতের সিজদাহ করার প্রয়োজন নেই। শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজঃ মাজমু ফাতওয়া শায়খ ইবনে বাজ ১১/৪১৫; মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসায়মিনঃ আল-শরাহ আল-মুমতি ৪/১৩৩। 

বৃহস্পতিবার, ১৭ মার্চ, ২০১৬

বিতির নামাযের পরে দুই রাকাত নফল নামাযের বিবরণ

বিতির নামাযের পরে দুই রাকাত নফল নামাযের বিবরণ
রাতে ঘুমানোর পূর্বে কেউ যদি বিতির নামায পড়ে নেয়, আর তাহাজ্জুদ নামায পড়ার জন্যে মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠতে পারবে কিনা ,এনিয়ে নিশ্চিত না থাকেনতাহলে বিতির নামায পড়ার পরে তাহাজ্জুদের নিয়তে দুই রাকাত নফল নামায পড়ে নিতে পারে। এর ফলে, সে যদি তাহাজ্জুদ পড়ার জন্যে ঘুম থেকে উঠতে না পারেন, তাহলে এই দুই রাকাত তার জন্যে যথেষ্ঠ হবে।
আল্লামাহ মুহাম্মদ নাসির উদ্দীন আলবানী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আমল দ্বারা প্রমানিত হওয়ার কারণে বিতিরের পরে দুই রাকাত নফল নামায পড়া যায়। (এ ব্যপারে শুধুমাত্র তাঁর আমলই নয়) বরং, উক্ত দুই রাকাত নামায আদায় করার জন্যে তিনি তাঁর উম্মতকে নির্দেশ দিয়েছেন একবার সফরে থাকাকালীন অবস্থায় ইশার নামাযের পরে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন, নিশ্চয়ই এই (সফরে) রাত্রি জাগরণ ভারী ও কষ্টসাধ্য। সুতরাং, তোমাদের কেউ যখন বিতির নামায পড়বে, তখন সে যেন দুই রাকাত নফল নামায পড়ে নেয়। অতঃপর, সে যদি রাতে জাগতে পারে (তাহলেতো ভালো), আর নয়তো (তাহাজ্জুদ হিসেবে) এই দুই রাকাত তার জন্যে যথেষ্ঠ হবে।  
[সহীহ ইবনে খুজাইমাঃ ১১০৬; দারেমীঃ ১৫৫৫; হাদীসটি সহীহ; সিলসিলাহ সহীহাহঃ ১৯৯৩। এছাড়াও এনিয়ে আরো দলিল রয়েছেঃ সহীহ মুসলিমঃ ৭৩৮; আবু দাউদঃ ১৩৪০; নাসাঈঃ ১৭১৮; ইবনে মাজাহঃ ১১৯১; হাদীসের সনদ সহীহ]
একটি প্রশ্নের উত্তরঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা বিতিরকে তোমাদের রাতের শেষ নামায হিসেবে নির্ধারণ করো। [সহীহ বুখারীঃ ৯৯৮; সহীহ মুসলিমঃ ৭৫১]
এখানে যেই আদেশ দেওয়া হয়েছে সেটা ঐচ্ছিক বা মুস্তাহাব হিসেবে, আবশ্যিক হিসেবে নয়। সুতরাং, কেউ যদি বিতিরকে রাতের শেষ নাময বানায় এবং এর পরে কোন ধরণের নফল নাময না পড়ে, এটা উত্তম। কিন্তু কেউ যদি চায় বিতিরের পরে অন্য নফল নামায পড়তে, এটা জায়েজ আছে। হারাম (নিষিদ্ধ) বা মাকরুহ (অপছন্দনীয়) হবেনা। এই ফতোয়া দিয়েছেনঃ
(১) ইমাম নববী রাহিমাহুল্লাহ, দেখুন তাঁর ফতোয়ার গ্রন্থ মাজমুঃ ৩/৫১২।
() আল্লামাহ মুহাম্মদ নাসির উদ্দীন আলবানী রাহিমাহুল্লাহ, তাঁর তারাবীহ ও ইতিক্বাফ গ্রন্থের বিতির পরবর্তী দুই রাকাআত সালাত এর হাশিয়া।
নিয়তঃ বিতিরের পরে দুই রাকাত নফল নামাযের জন্যে আলাদা কোন নিয়ত বা দুয়া নেই। আমি ক্বিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ এর দুই রাকাত নফল নামায পড়ছি, মনে মনে এতটুকু নিয়ত বা চিন্তা করে নিলেই হয়ে যায়। এরপর অন্য নফল নামাযের মতো স্বাভাবিক নিয়মে দুই রাকাত নফল নামায পড়তে হবে
নামাযের ক্বিরাতঃ এই দুই রাকাতের প্রথম রাকাতে সুরা যিলযাল এবং দ্বিতীয় রাকাতে সুরা কাফিরুন পড়া মুস্তাহাব[সহীহ ইবনে খুজাইমাঃ ১১০৪, মুসনাদে আহমাদঃ ২২৩০০, সিফাতু সালাতিন নাবীঃ পৃষ্ঠা ১২৪]
অনেকে মনে করেন এই দুই রাকাত নামায বসে বসে পড়তে হয়, এটা ভুল ধারণা। বরং, অন্য যেকোন নামাযের মতোই এই দুই রাকাত দাঁড়িয়ে পড়তে হয়। তবে কেউ অসুস্থ বা দুর্বল হলে ভিন্ন কথা। সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ বিনা কারণে নফল নামায কেউ ইচ্ছা করলে বসে পড়তে পারেন, কিন্তু এতে তার নামাযের সওয়াব অর্ধেক পাবেন।

আল্লাহ আমাদের সকলকে এই আমল করার তোওফিক দান করুন, আমিন।