সোমবার, ৯ মার্চ, ২০১৫

বাথরুমে থাকা অবস্থায় আজান শুনলে কি আজানের উত্তর দিতে হবে?

প্রশ্নঃ বাথরুমে থাকা অবস্থায় আজান শুনলে কি আজানের উত্তর দিতে হবে?
উত্তরঃ না, বাথরুমে থেকে আযানের উত্তর দেওয়া যাবেনা। শুধু আযানের উত্তরই না, বাথরুমে সমস্ত প্রকার যিকির, দুয়া, দুরুদ ও কুরআন তেলাওয়াত নিষিদ্ধ। কারণ অপবিত্র জায়গায় আল্লাহর যিকির করা তাঁর সম্মান ও মর্যাদার পরিপন্থী। তবে কেউ যদি বাথরুমে প্রবেশ করার দুয়া ও বের হওয়ার দুয়া পড়ে ঐ সময়টা ইবাদতের মধ্যেই গণ্য হবে।
বাথরুমে প্রবেশ করার আগে দুয়াঃ

(بِسْمِ اللهِ) اَللَّهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ.

বিসমিল্লাহ, আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবা-ঈসি

অর্থঃ আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ আমি তোমার কাছে অপবিত্র পুরুষ জিন ও অপবিত্র নারী জিন হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
[বুখারীঃ ১/৪৫, মুসলিমঃ ১/২৮৩]
বাথরুম থেকে বের হওয়ার দুয়াঃ

غُفْرَانَكَ.

উচ্চারণঃ গুফরা-নাকা।
অর্থঃ (হে আল্লাহ) আমি তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি
[আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাযাহ]

উল্লেখ্যঃ জিকির বলতে এখানে মুখে উচ্চারণ করে বা ঠোট নেড়ে আমরা নিয়মিত যে দুয়া সুবহানআল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, বা আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা...কে বুঝানো হয়েছে। এটা নিষিদ্ধ। তবে কেউ অন্তরে আল্লাহর কথা মনে করতে পারে, বা আল্লাহ অথবা আল্লাহর কুদরত, মহিমা ও বড়ত্ব নিয়ে চিন্তা করতে পারে। 

রবিবার, ৮ মার্চ, ২০১৫

তিরমিযী ও ইবনে মাজাহতে বর্ণিত শবে বরাতের (জাল/জয়ীফ) হাদীস

তিরমিযী ও ইবনে মাজাহতে বর্ণিত শবে বরাতের (জাল/জয়ীফ) হাদীস নিয়ে দেশি হুজুর মাওলানাদের ভন্ডামীঃ

আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের আরবী বোঝার ক্ষমতা নাই, আর কুরআন-হাদীস সব হলো আরবীতে। তাই শরীয়ত জানার জন্য আমরা বেদাতীদের অনুবাদ করা (কুরআন, বুখারী, তিরমিযী ইত্যাদির অনুবাদ) বা লেখা বইগুলোই (বেহেশতি যেওর, মকসুদুল মুমিনিন, ফাযায়েলে আমল, নেওয়ামুল কুরআন সহ অন্যান্য বেদাতি বই পুস্তক) পড়ি। কিন্তু, আপনি যদি কানা হন তাহলে বেদাতীরা আপনাকে কুঁড়েঘর দেখিয়ে হাইকোর্ট বলে চালিয়ে দেবে, আর আপনি অন্ধ বিশ্বাসে সেটাকেই মেনে নিবেন এটাই সত্যি।
চলুন আজকে আমরা এমন একটা ঘটনা দেখি, যেখানে বেদাতী হুজুরের হাদীসের নামে প্রতারণা করে শবে বরাতের রাতে হালুয়া-রুটি খাওয়ার ধর্ম চালু করেছে।

শবে বরাত নিয়ে তিরমিযীতে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে, আর হাদীসটি একই সনদে ইবনে মাজাহ সহ আরো দুই-একটা হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। হাদীসটি হচ্ছে, 
মা আয়েশা (রাঃ) বলেন, একবার আমি রাতের বেলায় রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে  খুঁজে পাচ্ছিলাম না। অনেক খোঁজাখুঁজির পর হঠাত্‍ আমি দেখতে পেলাম যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বাকী নামক কবরস্থানে অবস্থান করছেন। আমাকে দেখেই তিনি বললেন, হে আয়েশা! তুমি কি আল্লাহ ও রাসুলের পক্ষ থেকে তোমার উপর কোন জুলুমের আশংকা করছ? আমি আরয করলাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ)! আমি ধারণা করেছিলাম যে, আপনি হয়তো আপনার কোন বিবির ঘরে তাশরীফ নিয়েছেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন যে, আল্লাহ তায়ালা ১৫ই শাবানের রজনীতে দুনিয়ার আসমানে (অর্থাত্‍ ১ম আসমানে) অবতরণ করেন এবং বনী ক্বালব নামক গোত্রের বকরীসমূহের পশমের চাইতেও বেশি সংখ্যক মানুষকে ক্ষমা করে দেন।
এখানে দেখা যাচ্ছে যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) শবে বরাতের রাতে কবর জিয়ারত করছেন আর এর ফযীলতের কথা বলছেন (আসলে বলেন নি, হাদীসটি জয়ীফ), তাহলে অনেকেই কেনো শবে বরাত পালন করাকেত বেদাত বলছেন? এবারতো আপনি পুরাই হতভম্ব, কার কথা বিশ্বাস করবেন?

সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আরেকটু যাচাই করুন। ইমাম তিরমিযী (রহঃ) তার হাদীসের গ্রন্থে যে জায়গায় হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ঠিক তার নিচে নিজেই হাদীসটি সম্পর্কে মন্তব্য লিখেছেন,
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত এই হাদীস আমি এই সনদ ছাড়া অন্য কোনো সূত্রের কথা জানিনা। এই হাদীসটি আমি হাজ্জাজ বিন আরকার কাছ থেকে, হাজ্জাজ ইহইয়া ইবনে কাসীর থেকে, ইহইয়া উওরওয়া থেকে, উরওয়া আয়িশাহ থেকে), এই সনদে জেনেছি। আমি মুহাম্মাদকে (ইমাম বুখারী রহঃ কে যিনি তার ওস্তাদ ছিলেন) এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাস করেছিলাম। তিনি এই হাদীসকে জয়ীফ (দুর্বল) বলতেন। এই হাদীসটি দুর্বল এই কারণে যে, এই হাদীস ইহইয়া বিন কাসীর উরওয়া থেকে বর্ণনা করেছেন কিন্তু ইহইয়া উরওয়া থেকে এই হাদীস শুনেননি।
এখানে ইমাম বুখারী বলতে চাচ্ছেন, দুই জন বর্ণনাকারী রাবীর মাঝে বিচ্ছিন্নতা আছে অর্থাৎ ইহইয়া উরওয়ার কাছ থেকে সরাসরি শুনেননি, মাঝখানে অন্য আরেকজন আছে যার নাম সনদে উল্লেখ করা হয় নি। এই ধরণের হাদীসকে মুনকাতা (সূত্র বিচ্ছিন্ন) বলা হয় যার কারণে হাদীসটি জয়ীফ বলে গণ্য হয়। হাদীস মুনকাতা হলে সমস্যা হলো, মাঝখানে একজন অজ্ঞাত রাবী আছে, হতে পারে সে মুনাফেক, ধর্মের শত্রু, মিথ্যুক বা জাল হাদীস প্রচারকারী অথবা সে সত্যবাদী। এই সন্দেহের জন্য হাদীসটি জয়ীফ, আর সন্দেহযুক্ত জিনিস শরীয়তে দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয় না।
এছাড়া হাদীসটি জয়ীফ হওয়ার দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, হাজ্জাজ ইহইয়ার কাছ থেকেও সরাসরি শুনেননি। তৃতীয় কারণ, মুহাদ্দিসদের (হাদীস বিশেষজ্ঞ) নিকট হাজ্জাজ হাদীস বর্ণনাকারী হিসেবে নিজেই জয়ীফ, তাই তার বর্ণিত হাদীসও জয়ীফ।

সুতরাং, শবে বরাতের রাতে কবর জিয়ারত একটি ভিত্তিহীন আমল কারণ এর পক্ষে সহীহ কোন হাদীসের দলীল পাওয়া যায়না।

দেশি মাওলানাদের মিথ্যাচার ও ভন্ডামী প্রসঙ্গেঃ 
মীনা বুক হাউস থেকে প্রকাশিত তিরমিযীর অনুবাদে শুধু হাদীসটা কোট করা হয়েছে, কিন্তু ইমাম তিরমিযী ও ইমাম বুখারী যে হাদীসটিকে জয়ীফ বলে যে আলোচনা করেছেন, সেই অংশটুকু গায়েব করে দিয়েছে। কারণ, সেই অংশ অনুবাদ করলে সাধারণ মানুষ জেনে যাবে, শবে বরাত সম্পর্কিত এই হাদীস সহীহ না, সুতরাং হালুয়া রুটি খাওয়া ধর্ম হতে পারেনা। আর এইরকম প্রতারণার অনুবাদ পড়ে জামাতুল আসাদ ওরফে জামাতুল ফাসাদ এর মতো মুফতিরা এই হাদীস বর্ণনা করে শবে বরাতের বেদাত প্রচার করছে। দেশের অন্য একটি প্রকাশনী, তাওহীদ পাবলিকেশানের অনুবাদে পুরোটা আরবীসহ বাংলা অনুবাদ করা হয়েছে।

শবে বরাতের ২য় হাদীস নিয়ে মিথ্যাচারঃ
শবে বরাত সম্পর্কে আরেকটা (জাল) হাদীস খুব বেশি প্রচার করে বিদাতপন্থীরা।
আলী (রা:) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন,
যখন শাবানের ১৫ তারিখ আগমন করে, সে দিন তোমরা রোযা পালন কর এবং রজনীতে আল্লাহর ইবাদতে দন্ডায়মান থাক। কেননা, উক্ত দিবসে সূর্যাস্তের পর মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং জগতবাসীকে ডেকে বলেন, হে মানব জাতি! কেউ কি আছ তোমাদের মধ্যে ক্ষমা প্রার্থী? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। ওহে আছ কি তোমাদের কেউ অভাবী? আমি তার অভাব পূরণ করব। আছ কি কেউ বিপদগ্রস্থ? আমি তোমাদের বিপদ মুক্ত করব। আছ কি কেউ এই সমস্যায়? এমনি ভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত ডাকতে থাকবেন ।
এই হাদীস বর্ণিত হয়েছে ইবনে মাজাহ ও মিশকাতে ১৩০৮ নাম্বার হাদীস। উল্লেখ্য, ইবনে মাজাতে বহু জয়ীফ হাদীসতো রয়েছে এমনকি কয়েক ডজন জাল হাদীসও রয়েছে আর এই হাদীসও জাল হাদীসের অন্তর্ভুক্ত। এই হাদীস হচ্ছে জাল (মানুষের বানানো কথা নবীর নামে চালানো হয়েছে)। কারণ এই হাদীস বর্ণনাকারীর একজন ইবন আবি বাসরাহ, যার সম্পর্ক ইমাম আহমাদ ও ইমাম ইবনে মাঈন বলেন, ইবনে আবি বাসরাহ হাদীস জাল করতো।
এখন পছন্দ আপনার, বিদাতী হুজুদের প্রচার করি মিথ্যুকদের জাল হাদীস মেনে নিয়ে শবে বরাত উদযাপন করবেন নাকি বিদাতী আমল থেকে বিরত থেকে নবী (সাঃ) এর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করবেন।
ইমাম ইবনে আল-জাওযী আলাদা একটা বই লিখেছেন, সমস্ত জাল হাদীসগুলোকে একত্রিত করে আল মাওজুয়াত নামে। আর সেই বইয়ে (২/১২৭) তিনি ইবনে মাজাহর বর্ণিত এই জাল হাদীসকে জাল বলে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া এই হাদীসকে জাল বলেছেন, ইমাম ইবনে কাইয়্যিম তার আল-মানার আল-মুনীফ ফিল সহীহ ওয়াল জয়ীফ (পৃষ্ঠা ৯৮), ইমাম শওকানী তার আল-ফাওয়ায়েদ আল-মাজমুয়াতে (পৃষ্ঠা ৫১)।
যেহেতু আমাদের দেশের মাওলানাদের সহীহ জয়ীফ নিয়ে কোনো পড়াশোনা নাই তাই এই সমস্ত জাল জয়ীফ হাদীস পাইলেই হইছে, সুন্নতী আমলগুলো বাদ দিয়ে বেদাতকে প্রতিষ্ঠা করতে উঠে পড়ে লেগে যায়। কই, যিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিনের ইবাদত নিয়েতো এতো লাফালফি করতে দেখিনা, অথচ কুরআন হাদীসে এই দিনগুলোর ইবাদত নিয়ে কত ফযীলতের কথা বর্ণিত হয়েছে।
বিঃদ্রঃ বিস্তারিত জানতে আরো দেখুন ও পড়ুন
http://islamqa.info/en/ref/154850

http://www.youtube.com/watch?v=YMDtVNoKd2Y

শনিবার, ৭ মার্চ, ২০১৫

গায়ে হলুদ, পহেলা বৈশাখ, বসন্তবরণ, হোলি, দিওয়ালি, সান্টা ক্লজ

গায়ে হলুদ, পহেলা বৈশাখ, বসন্তবরণ, হোলি, দিওয়ালি, সান্টা ক্লজ. . .কাফের (অবিশ্বাসী) ও মুশরেক (অংশীবাদী) জাতির তাক্বলীদ (অন্ধ অনুকরণ) এর ফেতনাঃ

বর্তমান বাঙালি মুসলমান সমাজে এমন অনেকেই আছে,
    যাদের নাম মুসলমানদের নামের মতোই - আরিফ, হাসান, ইব্রাহীম, ফাতেমা, জামিলা, জিনাত ইত্যাদি।
    তারা মুসলমান বাবা-মায়ের সন্তান।
    তারা নিজেদেরকে মুসলমান বলেই দাবী করে, নাগরিকত্ব, সার্টিফিকেট পাসপোর্টে নিজেদের মুসলমান বলেই পরিচয় দেয়।
    ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে গরু জবাই করে খায়।
কিন্তু,
    জীবনে কোনদিন ৫ ওয়াক্ত নামায পড়েনা, পুরুষেরা শুধুমাত্র ঈদ আর জুমাহর দিনে, আর নারীরা শবে বরাত ও শবে ক্বদরে নামায পড়ে।
    ক্বুরানুল কারীম শেষ কবে পড়েছিলো সেটা বলতে পারবেনা, নিজের বাবা-মা না মরা পর্যন্ত আর কোনদিন খুলবেও বলে মনে হয়না।
    ঈমান, ইসলাম, হালাল-হারাম কি তা জানার ও মানার কোন ইচ্ছা বা আগ্রহ নেই, এইগুলোর প্রয়োজন আছে বলেও মনে করেনা। 
শুনলাম এই শ্রেণীর কিছু তরুণ ছেলে ও মেয়ে এবং শিশুরা গতকাল (৬ই মার্চ, ২০১৫) হিন্দুদের হোলি নামের উৎসব উদযাপ করেছে। ইতিঃপূর্বে আমাদের দেশের অনেক স্কুল, কলেজ ও বিভিন্ন পার্টিতে ২৫শে ডিসেম্বর উপলক্ষ্যে ক্রিসমাস ট্রি, বড়দিন, সান্টা ক্লজের শিরকি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। বিগত ১৩ই ফেব্রুয়ারী ২০১৫ তে বিভ্রান্ত তরুণ নারী ও পুরুষেরা জুমুয়াহর মতো মোবারক দিনে বসন্ত বরণ নামের বিজাতীয় উৎসব উদযাপ করেছে।

এই বসন্ত বরণ অনুষ্ঠানের উৎস সম্পর্কে উইকিপিডিয়ায় লেখা হয়েছে,
দোলযাত্রা একটি হিন্দু বৈষ্ণব উৎসব। বহির্বঙ্গে পালিত হোলি উৎসবটির সঙ্গে দোলযাত্রা উৎসবটি সম্পর্কযুক্ত। এই উৎসবের অপর নাম বসন্তোৎসব। ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে দোলযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী, ফাল্গুনী পূর্ণিমা বা দোলপূর্ণিমার দিন বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ আবির ও গুলাল নিয়ে রাধিকা ও অন্যান্য গোপীগণের সহিত রং খেলায় মেতেছিলেন। সেই ঘটনা থেকেই দোল খেলার উৎপত্তি হয়। দোলযাত্রার দিন সকালে তাই রাধা ও কৃষ্ণের বিগ্রহ আবির ও গুলালে স্নাত করে দোলায় চড়িয়ে কীর্তনগান সহকারে শোভাযাত্রায় বের করা হয়। এরপর ভক্তেরা আবির ও গুলাল নিয়ে পরস্পর রং খেলেন। দোল উৎসবের অনুষঙ্গে ফাল্গুনী পূর্ণিমাকে দোলপূর্ণিমা বলা হয়। আবার এই পূর্ণিমা তিথিতেই চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্ম বলে একে গৌরপূর্ণিমা নামেও অভিহিত করা হয়।
দোলযাত্রা উৎসবের একটি ধর্মনিরপেক্ষ দিকও রয়েছে। এই দিন সকাল থেকেই নারীপুরুষ নির্বিশেষে আবির, গুলাল ও বিভিন্ন প্রকার রং নিয়ে খেলায় মত্ত হয়। শান্তিনিকেতনে বিশেষ নৃত্যগীতের মাধ্যমে বসন্তোৎসব পালনের রীতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সময়কাল থেকেই চলে আসছে।
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে, লিংক
http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%A6%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE

সুতরাং আল্লাহকে অস্বীকারকারী রবি ঠাকুরের আদর্শে বাঙালি মুসলমানেরা বসন্তবরণ নাম দিয়ে আসলে হিন্দুদের দোল উৎসব উদযাপন করে আসছে।

ঈমানী চেতনাহীন এমন নারী ও পুরুষ যারা জেনে বা না জেনেই মুশরেকদের অনুকরণে তাদের ধর্মীয় রীতি-নীতিগুলোর অনুকরণ করবে তাদের সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
মান তাশাব্বাহা বি ক্বাওমিন ফা হুয়া মিনহুম অর্থাৎ, কোন ব্যক্তি যেই জাতির অনুকরণ করবে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত বলেই গণ্য হবে।
আবু দাউদঃ ৩৫১২, হাদীসটি সহীহ শায়খ আলবানী।

সুতরাং যারা হিন্দুদের অনুকরণ করবে তারা হিন্দুদের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে, যারা ইয়াহুদী-খ্রীস্টানদের অনুকরণ করবে তারা ইয়াহুদী-খ্রীস্টানদের অন্তর্ভুক্ত বলেই গণ্য হবে।

দুনিয়ার ধোঁকায় পড়ে অন্ধ নারী ও পুরুষদের মাঝে যারা প্রবৃত্তি ও খেয়াল-খুশির অনুসারী হবে, তাদের উদ্দেশ্যে ক্বুরানুল কারীমের একটি আয়াত এবং নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একটি সহীহ হাদীস পেশ করছিঃ

মহান আল্লাহ্ তাআলা বলেন,
অবশ্য আমি ইচ্ছা করলে এই নিদর্শনসমূহ দিয়ে তার মর্যাদা বাড়িয়ে দিতাম। কিন্তু সে এই দুনিয়ার প্রতি আসক্ত হলো এবং নিজের প্রবৃত্তির অনুসারী হয়ে রইল। সুতরাং তার অবস্থা হল কুকুরের মত; যদি তাকে তাড়া কর তাহলে সে জিহবা বের করে হাঁপাবে, আর যদি তাকে ছেড়ে দাও তবুও সে হাঁপাবে। এ হল সেসমস্ত লোকদের উদাহরণ; যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে। অতএব, আপনি তাদের কাছে এই কাহিনীগুলো বর্ণনা করে দিন, যাতে করে তারা এইগুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে।
সুরা আল-আ'রাফঃ আয়াত ১৭৬।

নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
আঁধার রাতের অবিরাম খন্ডের মত কৃষ্ণ-কালো ফেতনা আবর্তিত হওয়ার পূর্বেই তোমরা দ্রুত নেক কাজে মনোনিবেশ কর। (এমন একটা সময় আসবে যখন) মানুষ সকাল বেলা মুমিন কিন্তু বিকেল বেলা সে হবে কাফের। আবার কেউ সন্ধ্যা বেলা মুমিন হবে তো সকাল বেলা হবে কাফের। দুনিয়াবি সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে সে দ্বীনকে বিক্রি করে ফেলবে।
[সহীহ মুসলীম]


আল্লাহ্‌ আমাদের ও আমাদের পরিবারকে তাগুত, মূর্তিপূজা ও শয়তান থেকে নিরাপদ রাখুন, আমিন।

বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০১৫

‘বড় আলেম’ বা ‘মুফতি’ বলতে আমরা সাধারণত যা বুঝি

বড় আলেম বা মুফতি বলতে আমরা সাধারণত যা বুঝি, বাংলা অথবা ইংরেজী ভাষাভাষী দ্বাইয়ীদের মাঝে তেমন কেউ নেই। শায়খ আব্দুর রাক্বীব মাদানী এটা নিয়ে সুন্দর একটা পোস্ট দিয়েছিলেন, আলেম কাকে বলে ও আলেমদের যোগ্যতা নিয়ে। নিজেকে আহলে হাদীস বলে পরিচয় দিলেই কেউ সমস্ত ব্যপারে চূড়ান্ত হক হয়ে যায়না। (আমাদের দেশীইয় আলেমদের মাঝে) সাধারণত যারা নিজেদেরকে আহলে হাদীস বলে পরিচয় দেন, তাদের মাঝে কিছু ব্যপারে ভুল থাকা অসম্ভব কোন ব্যপার না, তবে প্রচলিত যেই অপবাদগুলো দেওয়া হয় (পেট্রোডলার শায়খ, দরবারি আলেম, জিহাদ বিমুখ, মাদখালী) আল-কায়েদাহ/ দাইয়িশ/ আইসিস, তাকফিরি, ইখোয়ানি ও হিযবুত তাহরীর, দেওবন্দী, তাবলিগির মতো ভ্রান্ত মতবাদের অনুসারীদের পক্ষ থেকে, এইগুলোর পেছনে হাওয়া (প্রবৃত্তি) ও জাহালত (অজ্ঞতা/মূর্খতা) ছাড়া আর কোন ভিত্তি নেই। আশা করি আপনারা সকলেই দ্বীনের ব্যপারে কঠোরতা এবং উদাসীনতা, এই দুই চরমপন্থা থেকেই সতর্ক থাকবেন। বর্তমান পৃথিবীতে বড় ওলামাদের মাঝে একজন হচ্ছেন ফযীলাতুশ-শায়খ আল্লামাহ ওয়াসী উল্লাহ আব্বাস হাফিজাহুল্লাহ, যিনি মসজিদুল হারাম বা কাবার একজন সম্মানিত মুদাররিস ও ডেপুটি মুফতি। তিনি ঈমান, আকীদাহ ও মানহাজ, ফিকহ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপরে উর্দুতে নিয়মিত দারস দেন, যার অডিও-ভিডিও ইন্টারনেটে এভেইলেবেল। অনারবদের মাঝে আমরা যারা আরবী ভাষা বুঝিনা, যারা সত্যিকারে ইলমের অনুসন্ধানকারী, তারা সেলেব্রিটি আলেম, ইউটিউব বক্তা ও ফেইসবুক মুফতিদের বিভ্রান্তিতে না পড়ে, শায়খ উয়াসী উল্লাহর আব্বাস হাফিজাহুল্লাহর এর কাছ থেকে উপকৃত হতে পারি ইন শা আল্লাহ্‌। আল্লাহ্‌ তাআলা আমাদের সকলকেই সিরাতাল মুস্তাকীমের উপরে মৃত্যু দান করুন, আমিন। 

রবিবার, ১ মার্চ, ২০১৫

“মুক্তমনা নয় মূত্রমনা”

মুক্তমনা নয় মূত্রমনা
যারা নিজেদের মনগড়া চিন্তাভাবনা ও অলীক মতবাদ (যেমন ডারউইন, এরিস্টটল, ডকিন্স, ফ্রয়েড) এর অনুসারী সেই নাস্তিকরা নিজেদের মুক্তমনাপ্রগতিশীল বলে মনে করে, আর এই পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা যিনি সেই আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামীনের বেঁধে দেওয়া জীবন বিধান যারা মেনে চলে তাদেরকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করে। আল্লাহ্‌ তাআলা পুরুষদেরকে একাধিক বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছেন - বিবেকহীন পশু, দুই পায়ের এই মানুষ শয়তানগুলো এই আইনের বিরুদ্ধে লাগে, কিন্তু নাস্তিকগুরুরা যখন সমকামিতা (নারী-নারী ও পুরুষে-পুরুষে মিলন) ও অজাচার (পিতা-মাতা, আপন ভাই অথবা বোনের সাথে মিলন! নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক!!), এই ধরণের পাশবিক কাজগুলোর পক্ষে তর্ক করে। এমন বিবেকহীন নিকৃষ্ট মানুষ, যাদের স্বাভাবিক মানবিক গুণাবলী লোপ পেয়েছে, তাদের ব্যপারে ক্বুরানুল কারীমের বক্তব্য হচ্ছে,
মহান আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন,
আপনি কি তার দিকে লক্ষ্য করেন নি, যে তার নিজের হাওয়া (প্রবৃত্তিকে) মাবূদ হিসেবে গ্রহণ করেছে? তবুও কি আপনি তার যিম্মাদার হবেন? আপনি কি মনে করেন যে, তাদের অধিকাংশ শোনে অথবা বোঝে? তারা তো চতুস্পদ জন্তুর মত; বরং তার চাইতেও পথভ্রষ্ট।
[সুরা আল-ফুরক্বানঃ ৪৩-৪৪]

মহান আল্লাহ্‌ তাআলা আরো বলেন,
আর আমি সৃষ্টি করেছি জাহান্নামের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ। তাদের অন্তর আছে, কিন্তু তার দ্বারা তারা চিন্তা-ভাবনা করে না, তাদের চোখ আছে কিন্তু তার দ্বারা তারা দেখেনা, আর তাদের কান আছে কিন্তু তার দ্বারা তারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তাদের চাইতেও নিকৃষ্টর। তারাই হল উদাসীন ও শৈথিল্যপরায়ণ।

[সুরা আল-আরাফঃ ১৭৯]

দ্বীনদার কিন্তু ‘গরীব’ একটি ছেলে বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে এল।

=> দ্বীনদার কিন্তু গরীব একটি ছেলে বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে এল। কিন্তু পাত্রি পক্ষ প্রস্তাবে রাযি হল না।

=> আরেকটি বে-নামাজি এবং ফাসেক চরিত্রের ছেলে কিন্তু সে ধনবান প্রস্তাব নিয়ে এল। তার প্রস্তাবে তারা রাযি হয়ে গেল। তারা বলল, আমরা আশা করছি ছেলেটি হেদায়াত হয়ে যাবে, ভাল হয়ে যাবে।

এই যুক্তি তো প্রথম ছেলেটির ব্যাপারেও দেয়া যেত যে, আশা করা যায় আল্লাহ তাকে ধনবান করে দিবেন। হেদয়াতের মালিক ও সম্পদ প্রদানের মালিক কি এক আল্লাহই নন?

মহান আল্লাহ্‌ বলেন-
তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ন, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।
সুরা আন নুরঃ ৩২।

কিন্তু আসল ব্যাপার হচ্ছে মানুষ ধন-সম্পদের ব্যাপারে নগদ-নগদ চায়, আর দ্বীনদারী বাকির খাতায় পরে থাক। রাসূল (সাঃ) বলেন, যদি দ্বীনদার ও চরিত্রবান কোন যুবক তোমাদের কাছে বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে আসে, তবে তার সাথে তোমাদের মেয়ের বিবাহ দিয়ে দাও। যদি তোমরা তা না কর, তবে পৃথিবীতে বড় ধরণের ফেতনা হবে বড় ধরণের ফাসাদ হবে। [তিরমিযী, মিশকাত হা/৩০৯০]

মুহাম্মাদ (সাঃ) খালিফা হওয়া সত্ত্বেও তিনি আলী (রাঃ) মত দরিদ্র পাত্রের সাথে তার আদরের কন্যা ফাতিমা (রাঃ) কে বিবাহ দেন অথচ তার চেয়ে অনেক ধনী ব্যক্তির সাথে তিনি দিতে পারতেন কিন্তু তিনি দেননি। এই ব্যাপার গুলো কি আপনারা বুঝেন বা চিন্তা-ভাবনা করেন??

আরেকটি হাদিস পেশ করব, আবু আব্বাস সাহ্‌ল ইবনে সাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নাবী (সাঃ) এর পাশ দিয়ে পার হয়ে গেল, তখন নাবী (সাঃ) তার পাশে বসে থাকা এক লোককে জিজ্ঞাস করলেন- আচ্ছা, এই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার মন্তব্য কি? তখন লোকটি বলল- আল্লাহ্‌র কসম! সে কোথাও বিয়ের প্রস্তাব দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে। এবং কারো জন্য সুপারিশ করলে তা কবুল করা হবে। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নীরব থাকলেন। কিছুক্ষন পর আকের ব্যক্তি পার হয়ে গেল। তখন নাবী (সাঃ) তার পাশে বসে থাকা লোকটিকে জিজ্ঞাস করলেন- আচ্ছা, এই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার অভিমত কি? তখন লোকটি বলল- হে আল্লাহ্‌র রাসুল! এ তো একজন গরীব মুসলমান। সে এমন ব্যক্তি যে, সে কোথাও বিয়ের প্রস্তাব দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। এবং কারো জন্য সুপারিশ করলে তা কবুল করা হবে না এবং সে কোন কথা বললে তা শ্রবণযোগ্য হবে না। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেন এই ব্যক্তি দুনিয়া ভর্তি ঐরূপ ব্যক্তির চাইতে বহু উত্তম।
সহিহ বুখারীঃ ৫০৯১, ৬৪৪৭।


Collected from Shaykh Abdullah al-Kafi

সুন্দর একটি দুয়া মাসুরা


নবী সাল্লাল্লাহু লাইহি ওয়াসাল্লাম এর শেখানো সুন্দর একটি দুয়া মাসুরাঃ
নিচের এই একটি দুয়া পড়ে আল্লাহর কাছে যাবতীয় কল্যানকর বিষয় প্রার্থনা করা যায় এবং যাবতীয় অকল্যানকর বিষয় থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়। এই দুয়াটি দুয়া মাসুরা হিসেবে পড়া যাবে। প্রতিদিন অন্তত সকালের দিকে এবং সন্ধ্যা অথবা রাতে যেকোন নামাযের সালাম ফেরানোর পূর্বে দুয়া মাসুরা হিসেবে একবার অথবা যেকোন মুনাজাতে এই দুয়াটা পড়তে পারলে আল্লাহর পক্ষে থেকে কল্যান ও নিরাপত্তা পাওয়া যাবে ইন শা আল্লাহ্‌। যারা আরবীতে মুখস্থ করতে পারবেন না, তারা অন্তত বাংলায় মুখস্থ করে মুনাজাতের মাঝে গুরুত্বপূর্ণ এই দুয়াটা পড়তে পারনে।   

য়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন নাবী সাল্লাল্লাহু লাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে এই দুআ শিখিয়ে দিয়েছিলেন,

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنَ الْخَيْرِ كُلِّهِ عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمْ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الشَّرِّ كُلِّهِ عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمْ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا سَأَلَكَ عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا عَاذَ بِهِ عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ وَأَسْأَلُكَ أَنْ تَجْعَلَ كُلَّ قَضَاءٍ قَضَيْتَهُ لِي خَيْرًا

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিনাল খাইরি কুল্লিহি আ-জিলিহী ওয়া আ-জিলিহী মা আলিমতু মিনহু ওয়ামা লাম আলাম। ওয়া আযুবিকা মিনাশ শাররি কুল্লিহি আজিলিহী ওয়া আ-জিলিহী মা আলিমতু মিনহু ওয়ামা লাম আলাম। আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন খাইরি মা সাআলাকা আবদুকা ওয়া নাবিয়্যুকা ওয়া আউযুবিকা মিন শাররি মা আযাবিহি আবদুকা ওয়া নাবিয়্যুকা। আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল জান্নাতা ওয়ামা ক্বাররাবা ইলাইহা মিন ক্বাওলিন আও আমাল, ওয়া আউযুবিকা মিনান্নারি ওয়ামা ক্বাররাবা ইলাইহা মিন ক্বাওলিন আ­­­­­­ও আমাল। ওয়া আসআলুকা আন তাযআলা কুল্লা ক্বাযাইন ক্বাযাইতাহুলি খাইর।
অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি তোমার কাছে যাবতীয় কল্যাণ প্রার্থনা করছি, যা তাড়াতাড়ি আসে এবং যা দেরিতে আসে, যা আমার জানা এবং যা আমার অজানা। আর আমি যাবতীয় অকল্যান থেকে তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যা তাড়াতাড়ি আসে এবং যা দেরিতে আসে, যা আমার জানা এবং যা আমার অজানা। হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি তোমার নিকট সেই কল্যাণ ভিক্ষা করছি যা তোমার বান্দা ও তোমার নবী সাল্লাল্লাহু লাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার কাছে চেয়েছেন। আর তোমার কাছে ঐসমস্ত অকল্যান থেকে আশ্রয় চাচ্ছি যা হতে তোমার বান্দা ও নবী সাল্লাল্লাহু লাইহি ওয়াসাল্লাম আশ্রয় চেয়েছেন। হে আল্লাহ্! আমি তোমার কাছে জান্নাত এবং আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করে এমন প্রত্যেকটি কথা ও কাজ প্রার্থনা করছি। আর আমি জাহান্নাম এবং জাহান্নামের নিকটবর্তী করে এমন প্রত্যেকটি কথা ও কাজ থেকে তোমার কাছে প্রার্থনা করছি। আর আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি যে, তুমি আমার জন্য যেসব ফায়সালা করে রেখেছ তা আমার জন্য কল্যাণকর করে দাও।

সুনানু ইবনে মাজাহ্ঃ ৩৮৪৬, আহমাদঃ ২৪৪৯৮, হাদীসটি সহীহ।