শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০১৫

পারিবারিক জীবনঃ পুরুষদের মাঝে দুইটি মন্দ স্বভাব

পারিবারিক জীবনঃ পুরুষদের মাঝে দুইটি মন্দ স্বভাব
১. জেলাসী না থাকাঃ
সাধারণত জেলাসী মানে হলো কারো ভালো দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়া বা হিংসা করা। এটা খুবই খারাপ, হিংসা মানুষের নেক আমলকে ধ্বংস করে, ব্যক্তিকে মানসিক কষ্টে পোড়ায়। তাই কারো ভালো দেখে তার প্রতি হিংসা করা যাবেনা। বরং, কারো কোনো কল্যান দেখলে বলতে হবে মা শা আল্লাহ তাবারাকাল্লাহ, এই কথা বললে, আপনার চোখের নজর থেকে আপনার কোনো মুসলিম ভাই বা বোনের ক্ষতি হওয়া থেকে নিরাপদ থাকবে।
আমি যেই জেলাসীর কথা বলছি সেটা হচ্ছে, নিজেদের ঘরের নারীদের বাইরে প্রদর্শনী করে বেড়ানো। এর কারণ হলো, তার মধ্যে এই অনুভূতিটা নাই যে, লম্পট পুরুষ তার ঘরের মেয়েদের দিকে খারাপ দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকুক, আজেবাজে মন্তব্য করুক তাতে তার কিছু যায় আসেনা।
এইধরণের বিশেষ অনুভূতিহীন পুরুষদেরকে হাদীসের ভাষায় দাইয়ুস বলা হয়। আর ৩ শ্রেণীর মানুষ জাহান্নামে যাবেই, তাদের মধ্যে এক প্রকার হচ্ছে দাইয়ুস পুরুষ।
২. নারীদের গায়ে হাত তোলাঃ
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর স্ত্রীদের গায়ে কোনোদিন হাত তুলেন নি। নারীদের গায়ে হাত তোলা পুরুষ হচ্ছে নিজেই দুর্বল মানসিক দিক থেকে। এই জন্য নারীদের গায়ে হাত তুলে সে মনে মনে আত্মতৃপ্তি অনুভব করে, বাহাদুরীর কাজ বলে মনে করে। নারীদের মধ্যে অবাধ্যতা চরম মাত্রায় পৌঁছালে তাদেরকে শাসন হিসেবে মৃদু প্রহার করা শরীয়ত সম্মত। তবে আমি যতগুলো কেইস জানি, কোথাও এইরকম কাহিনী হয়েছে, সেটাকে শরীয়তের দিক থেকে জায়েজ বলা যাবেনা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্বামীর খামখেয়ালী আচরণ, বদমেজাজী, রাগকে নিয়ন্ত্রন করতে না পারা. . .স্ত্রীদেরকে মারধদের জন্য এরকম বদ চরিত্রই বেশি দায়ী। আর একথা বলা রাখেনা, স্ত্রীদের অন্যায় মারধর ও নির্যাতনকারী একজন জালেম ও পাপীষ্ঠ লোক। এরকম পাপী লোকদের উচিত যত শীঘ্রই স্ত্রীর কাছ থেকে ক্ষমা চাওয়া।
এদের ব্যাপারে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলেছেন, তোমরা স্ত্রীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো
আল্লাহ আমাদের পারিবারিক জীবনকে সুন্দর করুন।

বিঃদ্রঃ আমার এ লেখায় ভুল-ত্রুটি হলে আল্লাহর মাফ করুন। আর কেউ মনে কষ্ট পেয়ে থাকলে আশা করি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০১৫

ভারতীয় উপমহাদেশে হানাফীরা ৫ ভাগে বিভক্ত হয়েছে

ভারতীয় উপমহাদেশে হানাফীরা ৫ ভাগে বিভক্ত হয়েছেঃ

১. কাদিয়ানী এরা গোলাম আহমাদ কাদিয়ানী নামে এক দাজ্জাল যে মিথ্যা নবুওতীর দাবী করেছিলো তার উম্মত। এরা নিজেদেরকে আহমদীয়া নামে পরিচয় দেয়। এরা পরিষ্কার কাফের ও মুরতাদ।

২. মওদুদী জামাত এরা সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদুদীর অনুসারী। এদের সংগঠনের নাম জামায়েতে ইসলামী। ইসলাম ধর্মের রাজনৈতিক অপব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে তারা গণতন্ত্রের শিরকী কুফুরীকে জায়েজ বানিয়েছে, হরতালকে জিহাদের সমান বানিয়েছে, নির্বাচনকে ওহুদ-বদরের ময়দান বানিয়েছে। আর এই তরীকায় মারামারি করে কেউ মরে গেলে তারা শহীদ হিসেবে সার্টিফিকেট দেয় আর বড় পুণ্যের কাজ বলে মনে করে। ক্ষমতায় যাবার জন্য যেকোনো সময় তারা তাদের নীতি-গতি পরিবর্তন করে। একবার নারী নেতৃত্ব হারাম অনৈসলামিক ফতোয়া দেয়, আবার ক্ষমতায় যাবার জন্য হুদায়বিয়ার চুক্তির দোহাই দিয়ে জায়েজ বলে তর্ক করে।

৩. বেরেলভী এরা আহমাদ রেজা খান বেরেলবীর অনুসারী। এরা নিজেদেরকে রিজভী, বেরেলবী বা কখনো সুন্নী নামে পরিচয় দেয়, যদিও সুন্নতের সাথে তাদের কোনো সম্পর্কে নেই। তাদের কাছে ধর্ম মানেই হলো কবর, মাজার আর পীর পূজা। এদের শিরকি কুফুরী অনেক ক্ষেত্রে হিন্দুদের মতোই। মাযারে সিজদা দেওয়া, পীরকে খুশি করার জন্য পীরের পায়ে খাসি-মুরগি উতসর্গ করা, বিপদে পড়ে আল্লাহকে না ডেকে পীর-বুজুর্গদেরকে ডাকা, বানোয়াট শীরকি কাহিনী দিয়ে ওয়াজ করা...এমন বহু অপকর্মের সাথে জড়িত এই বিদাতী সূফীরা। দেওয়ানবাগি, কুতুববাগী, রাজারবাগি, সাইদাবাদী, আটরশী, মাইজভান্ডারি, মানিকগঞ্জ...এদের প্রধান প্রধান পীরের তরিকাগুলোর নাম। 

৪. দেওবন্দী এরা দেওবন্দ মাদ্রাসা ও তার আলেমদের অন্ধ ভক্ত। তারা মনে করে দেওবন্দ হচ্ছে শ্রেষ্ঠ মাদ্রাসা যদিও ভারতের বাইরে এই মাদ্রাসাকে মানুষ চিনেইনা, এইখানে পড়তে আসাতো দূরের কথা। এরা মক্কা-মদীনার আলেমদের সাথে সাথে উপরে উপরে ভাব দেখায়, কিন্তু অন্তরে তাদের সাথে দুশমনি রাখে ও তাদের নামে মিথ্যা ও বাজে কথা প্রচার করে বেড়ায়। দেওবন্দী আলেমদের মাঝে অনেক শিরকি কুফুরী লক্ষ্য করা যায় যেগুলো বেরেলবীদের মাঝেও দেখা যায়। তবে পার্থক্য হলো দেওবন্দীদের শিরকি কুফুরীগুলো অনেকটা গোপন, অধিকাংশ মানুষই জানেই না।

৫. তাবলিগ জামাত মাওলানা ইলিয়াস সাহেবের স্বপ্নে প্রাপ্ত ধর্ম তাবলিগ জামাত নিজেদের মনমতো দাওয়াত ও তাবলিগের একটা জামাত যাদের মূল উদ্দেশ্য হলো ইসলাম নাম দিয়ে দেওবন্দী মতবাদ প্রচার করে যাওয়া। এরা কুরান হাদীস বাদ দিয়ে ফাযায়েল আমাল নামক একটা ভেজালের কেতাব পড়ে ও আমল করে আমাদের দেশে অনেক বেদাত ও ভ্রান্ত মতবাদের মূল উৎস এই ভেজাল আমল।
____________________________

পরিশেষে, এই ৫টা দলই নিজেদেরকে হানাফী হওয়ার দাবী করে কিন্তু আসলে এরা কেউই প্রকৃত হানাফী নয়। কারণ ইমাম আবু হানীফা ছিলেন খালেস কুরান ও সুন্নতের অনুসারী আর এরা হচ্ছে নিজদের ফেরকার অন্ধ অনুসারী। এইজন্য হানাফী নামে ৫টা দলে ভাগ হয়েছে এবং এক দল আরেক দলের সাথে চরম বিরোধ।


সাধারণ মানুষ হিসেবে আমাদের উচিত এই ৫টা ভ্রান্ত দল থেকেই দূরে থাকা। আর নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী কুরান ও সুন্নতের সত্যিকারের আলেমদের কাছ থেকে ইলম শিক্ষা করে সেই অনুযায়ী জীবন গঠন করা। আল্লাহ আমাদের তোওফিক দান করুন, আমীন।

বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০১৫

+ প্রসংগঃ শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ, মূর্তি, ভাষ্কর্য বানানো?

+ প্রসংগঃ শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ, মূর্তি, ভাষ্কর্য বানানো?
ধ্বংসপ্রাপ্ত আদ জাতির স্বভাব ছিলো উঁচু উঁচু স্তম্ভ নির্মান করা। তাদের কাছে হুদ আলাইহিস সালাতু আস-সালাম কে নবী করে পাঠানো হয়েছিলো। হুদ (আঃ) তার পথভ্রষ্ট জাতির লোকদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, তোমরা কী প্রতিটি উচ্চস্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান করছো নিরর্থক। [সূরা শুআরাঃ ১২৮]

++ প্রশ্নঃ কোন বিবেকবান মুসলমান ইট পাথর দিয়ে বানানো শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ, মূর্তি, ভাষ্কর্যে ফুল-চন্দন, শ্রদ্ধাঞ্জলি বা পুষ্পার্ঘ দিতে পারে?
উত্তরঃ আপনারাই বলুন কোন বিবেকবান মুসলমান শহীদ মিনারে ফুল-চন্দন দিতে পারে?
আমি যখন ছোট ছিলাম তখন গ্রামে বড় হই। গ্রামে আমাদের বাগানে অনেক ফুল ফুটতো. . .সেইজন্য মাঝে মাঝে হিন্দুরা আসতো ফুল নিতে। এই ফুল দিয়ে তারা মূর্তিকে দিয়ে পূজা করতো, তাদের ঠাকুর দেবতাদেরকে শ্রদ্ধা জানাতো। তখন ইসলাম সম্পর্কে এতো কিছু জানতাম না, সেইজন্য আমরা ফুল দিতে তাদেরকে মানা করতাম না। যাই হোক, আমার মনে হয়না কোন মুসলমান এই কথাকে অস্বীকার করতে পারবে যে, ইট-পাথর, মিনার, সৌধ বা স্তম্ভে ফুল দিয়ে পুষ্পাঞ্জলি, শ্রদ্ধাঞ্জলি, পুষ্পার্ঘ দেওয়া. . .এই সংস্কৃতি হিন্দুদের কাছ থেকে এসেছে। হিন্দুরা মূর্তিকে ফুল দেয়. . .আর অজ্ঞ, নামধারী মুসলমান, মুনাফেক শ্রেণীর রাজনীতিবিদেরা অলি-আওলিয়ার নামে, শহীদের নামে, পাথর, সৌধ বা মিনারের নামে ফুল দেয়। এইসমস্ত বিভ্রান্ত লোক যারা পুরো বাঙালি মুসলমানদের উপর এইরকম জঘন্য শিরকি প্রথা চাপিয়ে দিতে চাচ্ছে, তাদেরকে উদ্দেশ্য করে রাসুল সাঃ এর একটি সহীহ হাদীস ও ক্বুরানের একটা আয়াত তুলে ধরতে চাই,

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
মান তাশাব্বাহা বি ক্বাওমিন ফা হুয়া মিনহুম অর্থাৎ, কোন ব্যক্তি যেই জাতির অনুকরণ করবে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত বলেই গণ্য হবে।
সুতরাং যারা হিন্দুদের অনুকরণ করবে তারা হিন্দুদের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে, যারা ইয়াহুদী-খ্রীস্টানদের অনুকরণ করবে তারা ইয়াহুদী-খ্রীস্টানদের অন্তর্ভুক্ত বলেই গণ্য হবে।

মহান আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন,
নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেন আর তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত করে দেন। আর জালিম (মুশরিকদের) জন্য কোন সাহায্যকারী নেই। [সূরা আল-মায়িদাহঃ ৭২]

+++ আমরা শুধু যুদ্ধে নিহতদের শ্রদ্ধা জানাই...
দেশকে ভালোবাসা খারাপ কিছুনা...

১. শ্রদ্ধা জিনিসটা শুধু মন থেকে আসে, হিন্দুদের মতো গান বাজনা, ঢাক ঢোল পিটিয়ে, মাযারে, মূর্তির সামনে ফুল দিয়ে, শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমির মতো করে জয়োতসব করে কোটি কোটি টাকা খরচ করে, মানুষের সময় ও শক্তি নষ্ট করে শ্রদ্ধা জানানোর দরকার আছে বলে মনে হয় না, ইসলাম এই সমস্ত বিজাতীয় সংস্কৃতি টোটাল হারাম করেছেI কত মানুষ না খেয়ে আছে,শীতের রাতে কষ্ট করে আর গণতন্ত্রবাদী বিভ্রান্ত লোকেরা কোটি কোটি টাকার ফুল কিনে দেশের সম্পদ ও টাকা নষ্ট করছে। এরা দেশের শত্রু।

২. "দেশপ্রেম ঈমানের অংগ" - এটা একটা জাল হাদীস, যা নাইন-টেনের বোর্ডের বইয়ে অর্ধ-শিক্ষিত হুজুরেরা লিখে রেখেছে। সবাই নিজের দেশকে ভালোবাসে, এটা খারাপ কিছুনা। তবে এটা নিয়ে জাতীয়াবাদী চিন্তাভাবনা, আমরা শ্রেষ্ঠ, আমরা আলাদা জাতি - এই ধরণের উগ্রপন্থী চিন্তাভাবনা ইসলামের শীক্ষা বিরোধী, যা হিটোলারের মতো লোকের জন্ম দিয়েছিলো। দেশকে ভালোবাসা জায়েজ, কিন্তু দেশপ্রেমের দোহাই দিয়ে হিন্দুয়ানি কৃষ্টি-কালচার বা অনৈসলামিক সভ্যতা চালানোর অপচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

[[ দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ- এই কথাটিকে ইমাম ইবন জাওযি রহঃ, ইমাম আস-সাগানি রহঃ, ইমাম নাসির উদ্দিন আলবানি রহঃ জাল হাদিস বলে প্রমাণ করেছেন। ]]

এই হাদিসটি মুসলমানদের মিথ্যা আশা দেয় যে তারা দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা না করেও দেশ প্রেমের জন্য জান্নাতে যেতে পারবে। যেই দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয় নি এবং যেই দেশের সরকার ইসলামের নিয়ম অনুসারে দেশ পরিচালনা করে না, সেই দেশের জন্য প্রেম ঈমানের অঙ্গ হতে পারে না। ঈমানের একটি অত্যাবশ্যকীয় দাবি হচ্ছে আল্লাহ যেটা আমাদের জন্য ভালো বলেছেন সেটাকে মনে প্রাণে ভালো মানা এবং আল্লাহ আমাদের জন্য যেটাকে খারাপ বলেছেন, সেটাকে মনে প্রাণে ঘৃণা করা।

এই ধরণের জাল হাদিস ব্যবহার করা হয় ধর্মের দোহাই দিয়ে দেশের মুসলমানদের মধ্যে দেশের প্রতি অন্ধ ভালবাসা সৃষ্টি করার জন্য। কাফির সরকার দ্বারা পরিচালিত কাফির শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত একটি দেশের প্রতি প্রেম আর যাই হোক, অন্তত আল্লাহর প্রতি ঈমানের অঙ্গ নয়।


তবে এটা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে দেশের আইন মেনে চলা এবং দেশের উপকার করা মুসলমানদের জন্য অত্যাবশ্যকীয়, যতক্ষণ না সেটা ধর্মের বিরুদ্ধে না যাচ্ছে।

মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০১৫

কাকে ‘বন্ধু’ হিসেবে নিচ্ছেন?

কাকে বন্ধু হিসেবে নিচ্ছেন?
অনেকে নিজে নামায পড়ে, গান শুনেনা ঠিকই কিন্তু. . .বেনামাযী, দ্বীনের ব্যপারে উদাসীন, গান-বাজনা ও অশ্লীল নাটক সিনেমাতে আসক্ত, অবৈধ সম্পর্কে জড়িত এমন ফাসেক ছেলেদেরকে বন্ধু বানায়. . .তাদের সাথে উঠা-বসা করে আর দ্বীনের ব্যপারে স্যাক্রিফাস করে চলে. . .তাদের পাপ কাজগুলো দেখে আর মনে মনে সেইগুলোর প্রতি লালায়িত থাকে। আবার অনেকে নিজে হিজাব-পর্দা করে কিন্তু. . .অহংকারী বেহিজাবী নারীদেরকে বন্ধু বানায়, তাদেরকে উপদেশ দেয়না. . .আস্তে আস্তে অজ্ঞ ও ফাসেক বান্ধবীর পাল্লায় পড়ে তারাও একসময় ছেলেদেরকে বন্ধু হিসেবে নেয় ও তাদের সাথে উঠা-বসা করে, ঘুরতে বের হয়, ছবি তুলে নেটে প্রচার করে, কূটনামী ও বাতিল চিন্তা-ভাবনার দিকে ঝুঁকে পড়ে। এ ধরণের অদূরদর্শী আচরণের কারণে তারা একসময় নিজেদের দ্বীনের ক্ষতি করে. . .।
সেইজন্য, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে সতর্ক করে বলেছেন, একজন মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের অনুসারী হয়ে থাকে। সুতরাং সে যেনো লক্ষ্য রাখে, সে কার সাথে বন্ধুত্ব করছে।   
আত-তিরমিজিঃ ২৩৭৮, হাদীসটি হাসান সহীহ, শায়খ আলবানী রহঃ।  
একজন কবি কতইনা সুন্দর বলেছিলেন,
সৎ সঙ্গে র্স্বগবাস, অসত্ সঙ্গে র্সবনাশ!

সুতরাং, আপনারা মুত্তাক্বী, ধার্মিক ও নামাযী, সত্যবাদী, বিনয়ী. . .যে মানুষকে সৎ কাজের দিকে আহবান জানায় ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করে. . .এমন কোন ব্যক্তি ছাড়া অন্য কাউকে বন্ধু বানাবেন না। তবে সবার সাথে ভালো ও সৌহার্দমূলক আচরণ করবেন, তাদের সামনে ইসলামের অনুপম সৌন্দর্য তুলে ধরুন উত্তম আচরণের মাধ্যমে, কিন্তু তাদেরকে আন্তরিক বন্ধু বানাবেন না।

এক ভাই প্রশ্ন করেছেন,

এক ভাই প্রশ্ন করেছেন,
aslamoalikum admin, apnader aiy pager shate prai 2 teke 3 bochor, alhumdolillah apnader mehnot o allahor bises rohmoter karone, nijeke onek bodlate parlam, alhumdolillah dari rekesi,proshno holo oju korar somoy mukh dowar por darite pani dibo naki hat dowar por, janale kub upokrito hobo, jajakallah kayer
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো লাগলো আপনার কথার শুনে, আপনি কেমন আছেন?
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে হেদায়েত করেন। আমরা শুধু মানুষের কাছে পোঁছে দিতে পারি. . .হেদায়েতের মালিক একমাত্র আল্লাহ। 
আর এতেই থেমে যাবেন না, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকীদা ও মানহাজের অনুসারী সত্যিকারের আলেমদের সাথে যোগাযোগ রাখুন, তাদের কাছ থেকে উপকৃত হওয়ার চেষ্টা করুন। পথভ্রষ্ট, অজ্ঞ ও বিদাতী বক্তা ও আলেমদের বিভ্রান্তির ব্যপারে সজাগ থাকুন। নিজের ব্যপারে আত্মতুষ্টি বা অতি আত্মবিশ্বাসে ভুগবেন না, এভাবে হেদায়েতের পরেও অনেকে গোমরাহ হয়। সর্বদা নিজেকে ইলম শীক্ষা ও নেক আমলের মেহনতে ব্যস্ত রাখুন, ফালতু ও বেহুদা কাজ থেকে বেঁচে চলুন। আল্লাহ আমাদের সকলকেই তোওফিক দান করুন ও তাঁর অসীম দয়ার মাঝে দাখিল করুন আমিন।

প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, মুখ মন্ডল ধৌত করার সময় দাড়িতে আঙ্গুলগুলো দিয়ে খিলাল করবেন।

সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০১৫

হায়রে পুরুষ. . .!

হায়রে পুরুষ. . .!
=> মজার একটা ব্যপার হচ্ছে কোথাও কোন নারীদের উপস্থিতি দেখলে একগাদা লোক মাছির মতো সেই দিকে ছুটে, একটু সংগ পাওয়া বা প্রেম করার লোভে. . .
=> একটা মেইল আইডি থেকে যত সুন্দর ইসলামি লেখা পোস্ট করা হোক না কেনো, অনেকে সেইগুলো পড়ার সময়ই পায়না. . .কিন্তু একটা মেয়ে যাই পষ্ট করুক, আমার মন খারাপ :(, আমার পাখি খায়না :O, আজকে তরকারিতে লবণ বেশি হয়ে গেছে...আপুদের লেখার প্রশংসায় কিছু ভাই অজ্ঞান...আর মুখে রঙ মেখে, টাইট হিজাবের ছবি যদি কোন নারী পোস্ট করে তাহলেতো কথাই নেই ব্যস! শুরু হয়ে যাবে মা শা আল্লাহ, কত সুন্দর হিজাব লেখার প্রতিযোগিতা...

এই সমস্ত লোকদেরকে ঘোল খাওয়ানোর জন্য দুষ্টবুদ্ধির লোকেরা প্রায়ই ফেইক আইডি খুলে ধোকা দেয়. . .এমনই একটা ঘটনা শুনুন।

বিঃদ্রঃ ফেইক আইডি খোলা ও ব্যবহার করা, নারীদের ছবি নেটে দেওয়া সম্পূর্ণ হারাম। নেটে পরিচিত আমার পরিচিত প্রবাস একভাইয়ের কাছ থেকে লেখাটা সংগ্রহ করা। আমার উদ্দেশ্য হচ্ছে, নিম্নমানের পুরুষদের লুলামি থেকে সতর্ক করা ও বোনেরা যাতে এ সমস্ত রুয়াইবিদাদেরকে প্রশ্রয় না দেন।
==============================
মাস দুয়েক আগে আমার আগের আইডিটি ব্লক হবার পর খুবই হতাশ হয়ে ভাবলাম কি করে এখন সময় কাটানো যায়। মাথায় একটি মনগড়া বুদ্ধি এলো, সুন্দরী একটি মেয়ের ছবি দিয়ে একটা মেয়ের নামে একটি ফেইক একাউন্ট খুলে ফেললাম তারপর কি এক অবাক করার মতো কান্ড ঘটেগেলো !!

একের পর এক  ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট গ্রহণ করতে করতে আমি অনেকটা বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। সাপ্তাখানেকের মধ্যেই আমার এফবি ফ্রেন্ডের  তালিকা বড় হতে বৃহত আকার ধারন করতে থাকে ।

চ্যাটে কথা বলার জন্য এর মধ্যে অনেকেই পাগল হতে থাকলো, আমার নিকট হতে তেমন রেসপন্স না পেয়ে কাউকে কাউকে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠতেও দেখলাম।

এর মধ্যে আমিও শতাধিক ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠালাম, তাতে ৯৯%  সাড়া পেলাম।

দিন যতই যেতে থাকলো মেয়ের সাথে চ্যাট-পাগল বন্ধুরা মরিয়া হয়ে উঠলো, আমি তাদেরকে কলেজ ও পরীক্ষার বাহানা দিয়ে পরে কথা হবে, এই বলে নিজেকে চ্যাট করা থেকে বিরত রাখলাম ।

পাকিস্তান, ইন্ডিয়া, স্প্যানিশ ভাষাবাসি ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো হতে অসংখ্য ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট আসতে থাকে। আমিও তা এক্সেপ্ট করতে থাকি, এবার শুরু হয় এফবি'র ফ্রী ফোন থেকে বিরতিহীন কল, ফোন কল আসতেই থাকলো। এই কারণে ফোন অফ করে ঘুমানো ছাড়া আমার পক্ষে আর কোন উপায় ছিলনা।

পাকিস্তান ও ইন্ডিয়ার যুবকেরা আমাকে তাদের সুন্দর সুন্দর ছবিসমূহ পাঠাতে থাকে। ফোনে একবার হলেও কথা বলতে সবিনয় অনুরোধ করতে থাকে।

আহা !! তারা যদি জানতো আমি মেয়ে নয় আমি একজন আস্ত পুরুষ, তাহলে কি তারা আমার সাথে কথা বলতে এভাবে পাগল হতো ?

কেউ কউ আমাকে আজেবাজে ছবি পাঠাতে থাকে । নানা রকম চমকপ্রদ কথা বলতে থাকে ।
এই অবস্থা থেকে আমি কিভাবে মুক্তি পাবো তা নিয়েই ভাবতে থাকি ।


গত সাপ্তাহে এফবি কর্তৃপক্ষ মাত্রা অতিরিক্ত এক্টিভিটি ও মিসইউস করার কারণে একাউন্টটি বাতিল ঘোষণা করলে আমি স্বস্থির নি:শ্বাস ফেলতে সক্ষম হই।

সর্বশেষঃ একজন নারী একজন পুরুষের ঈমানকে কিভাবে বরবাদ করে দিতে পারে, আর কত সহজে মানুষ শয়তানের ধোঁকায় পতিত হয় পরীক্ষামূলক এই কাজের মাধ্যমে আবার প্রমানিত হলো।

রবিবার, ২২ মার্চ, ২০১৫

পাঠ্য বইয়ে দুষ্ট ‘বই’

পাঠ্য বইয়ে দুষ্ট বই
- লেখক : মাওলানা মুহাম্মদ শরীফ।

১৬ লাইনের একটি কবিতা। নাম : বই
ছাপা হয়েছে পঞ্চম শ্রেণীর আমার বাংলা বইএর ৩৫ তম পৃষ্ঠায়। সেদিন দেখলাম এক স্নেহভাজনের হাতে। কবিতার অর্থ সে বুঝতে চাচ্ছে। কবিতার বক্তব্য অনুযায়ী কোন ধরনের বই পড়তে হবে আর কোন ধরনের বই বাদ দিতে হবে- সে জানতে চাচ্ছে। তখন কবিতার আকারে যা ছাপা হয়েছে, তা দেখলাম। পাঠ শিখি অংশে এর যে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে তা-ও পড়লাম। দেখলাম এ কবিতার লেখকের নাম এবং চমকে উঠলাম।

কিছু কিছু বই পড়তে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং কিছু কিছু বই পড়তে মানা করা হয়েছে তাতে। নাম বই হলেও কিছু বইয়ের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে ওই কবিতায়। বলা হয়েছে-

যে-বই তোমায় দেখায় ভয়
সেগুলো কোনো বই-ই নয়
সে-বই তুমি পড়বে না।
যে-বই তোমায় অন্ধ করে
যে-বই তোমায় বন্ধ করে
সে-বই তুমি ধরবে না।

প্রশ্ন হচ্ছে, এই ভয় দেখানো আর অন্ধ করা-বন্ধ করা বই আসলে কোন্ বইগুলো?
এর অর্থ বোঝার জন্য ওই কবিতার লেখক-এর নামটি আগে দেখা যেতে পারে। সে নামটি হচ্ছে, হুমায়ুন আজাদ। ইসলাম ধর্ম বিরোধী লেখালেখির কৃতিত্বের কারণে তার ভক্তরা তাকে বলে থাকে - প্রথাবিরোধী লেখক
এদেশীয় অন্য বহু নাস্তিকের মতো তিনিও ধর্মের বিরুদ্ধে বিষোদগারের শুরুটা করতেন রাজাকার ও পাকিস্তান প্রসঙ্গ দিয়ে। এরপরই সরাসরি আঘাত করতেন ইসলাম ধর্মকে। খোলাখুলি ও ন্যাক্কারজনক উপায়ে। তার একটি বড় রচনা আমার অবিশ্বাস। আরেকটি উস্কানিমূলক ও ইসলামবিদ্বেষী রচনা : নারী। তাছাড়া তার অন্যান্য রচনা, গল্প-উপন্যাস, কলাম ও সাক্ষাৎকারেও তীব্র আর ঝাঁঝালো ইসলাম-বিদ্বেষের বহু দৃষ্টান্ত বিদ্যমান। সেই ব্যক্তিরই লেখায় ভয় দেখানো আর অন্ধ করা-বন্ধ করা বই মানে যে কোন্ ধরনের বই- এটা বুঝতে বাকি থাকার কথা নয় কোনো সচেতন পাঠকের। অথচ পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের কর্তারা সেটা বুঝেন না- এটা কি কল্পনা করা যায়! তারপরও কোমলমতি বাচ্চাদের পড়ার জন্য, মুখস্থ করার জন্য এবং ভাবগ্রহণের জন্য এমন একটিকবিতা কেন পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে- এটা একটা বড় প্রশ্ন।

পাঠ শিখি অংশে বলা হয়েছে- যেসব বই তোমাকে স্বার্থপর করে, ঈর্ষাকাতর ও হিংসাজরজর করে তোলে সেসব বই তুমি পড়বে না। এখানে একটি বড় প্রশ্ন সৃষ্টি হয়। সেগুলো কোনো বই-ই নয়, তুমি পড়বে না,তুমি ধরবে না বলে হিংসাত্মক, আক্রমণাত্মক ও জেদী বাক্য যে লেখায় ছাপা হয়- সেটা কি কোমলমতিদের মনকে খুব আলোকিত করে? খুব উদার করে? হিংসা, বর্জন ও ঘৃণা-আশ্রয়ী এই কবিতার চেয়েও সংকীর্ণ ও হিংসাদুষ্ট কোনো বই কি বাংলাভাষায় লেখা হয়েছে? তাছাড়া আপাদমস্তক চিন্তায় ও লেখায় প্রথাবিরোধী (পড়ুন : ইসলাম-বিদ্বেষী) এক লেখকের এ জাতীয় উস্কানিমূলক কবিতা কি শিশুদের জন্য বাধ্যতামূলক করা খুব জরুরি ছিল? তাকে যারা চেনেন তারা সবাই একমত যে, ভয় দেখানো আর অন্ধকরা-বন্ধকরাদিয়ে তার উদ্দেশ্য ইসলামী বিশ্বাস ও বিধি-বিধান সম্বলিত বই। এটা তো তার অন্যান্য লেখা থেকেও পরিষ্কার।

ভয় দেখানো বলে তার উদ্দেশ্য হওয়ার কথা-জাহান্নামের ভয় বা দোযখের ভয়ে গুনাহর কাজ পরিহার করা। আর অন্ধ করাবন্ধ করা-র মর্ম তো পরিষ্কার। এদের মতো অবিশ্বাসীরা ধর্মবিশ্বাসকেই বলে অন্ধ বিশ্বাস। আর সেই বিশ্বাসে স্থির থাকার চেষ্টা করার মানেই মনকে বন্ধ করা।

আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে, বাচ্চাদের জন্য কবিতা নামে কিছু ছাপানো হলে সেটা তো কোমল ও কাব্যময় কিছুই হওয়া উচিত। অথচ ঘৃণা ও আক্রোশে (ধর্মবিদ্বেষী) রচিত কাব্যহীন কিছু ভোঁতা গদ্যের ছত্রকেও এখানে কবিতা হিসেবে চালিয়ে দেয়া হয়েছে। যেমন : যে-বই তোমায় দেখায় ভয় / সেগুলো কোনো বই-ই নয় / সে-বই তুমি পড়বে না।

তিনটি লাইন কি একসঙ্গে কোনো কবিতা হয়েছে? এতে কি কবিতার কোনো ভাব / ব্যঞ্জনা বা চরিত্র উপস্থিত? কবিতার কোনো সাধারণ ছাত্রও দেখে-শুনে এ জিজ্ঞাসার উত্তর খুঁজে দেখলে ভালো হয়।


একজন প্রথিতযশা, কীর্তিমান ইসলাম-বিদ্বেষী ও আক্রোশ-প্রবণ পন্ডিত লেখকের নামমাত্র কবিতার নাম : বই। বাচ্চাদের বইয়ে এ জাতীয় দুষ্ট বই অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে নীতি-নির্ধারকদের আরেকবার ভাবা উচিত বলে অভিভাবকরা মনে করেন।