পারিবারিক জীবন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পারিবারিক জীবন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

বিয়ের জন্যে কেমন ছেলে বা মেয়ে দেখতে হবে? (পর্ব-১)


বিয়ের জন্যে কেমন ছেলে বা মেয়ে দেখতে হবে? (পর্ব-১)
(১) পাত্র অথবা পাত্রীকে সবার প্রথম ঈমানদার, পাঁচ ওয়াক্ত নামাযী মুসলিম ব্যক্তি হতে হবে।
(২) আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআ'ত বা "সুন্নী" আকিদাহর অনুসারী এবং প্রকাশ্য শিরক, কুফর ও বিদাত মুক্ত থাকতে হবে।
(৩) বিদাতী, পথভ্রষ্ট ব্যক্তি বা দলের কুপ্রভাব ও অনুকরণ থেকে মুক্ত থাকতে হবে।
(৪) দ্বীনদার, চরিত্র ভালো ও কোমল হৃদয়ের অধিকারী হতে হবে।
(৫) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাহ কি, তা জানতে, বুঝতে ও মানার আন্তরিক চেষ্টা থাকতে হবে।
(৬) আল্লাহকে ভয় করে এমন গুণাবলী ও তার বহিঃপ্রকাশ থাকতে হবে।
(৭) পাত্রকে হালাল ও সৎ জীবিকা নির্বাহ করতে হবে।
(৮) পাত্রীকে হিজাব-পর্দা করতে হবে।
(৯) দ্বীন শিক্ষার্থী হতে হবে।
(১০) স্বামী, স্ত্রী একজন আরেকজনের উপর কি অধিকার ও হক্ক তা জানার এবং মানার আন্তরিক ইচ্ছা থাকতে হবে।
(১১) প্রতিদিন নিয়মিত ক্বুরান তেলাওয়াতকারী হতে হবে।
(১২) জীবনে ব্যপারে সব সময়েই আশাবাদী এবং আল্লাহর রহমতের আকাংখী হতে হবে। হাতাশাবাদী বা নিরাশ হলে চলবেনা।
(১৩) কোনমতেই ধূমপান করা যাবেনা।
(১৪) স্বামীর অবাধ্য হওয়া যাবেনা।
(১৫) মা-বোনের কথা শুনে স্ত্রীর হক্ক নষ্ট করা যাবেনা।
(১৬) একজন আরেকজনকে সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার জন্যে অংগীকারবদ্ধ থাকতে হবে। এমন না যে বিয়ের পরে বলবেঃ আমি তোমাকে বিয়ে করে ভুল করে ফেলেছি, তুমি তোমার পথ দেখো, আমার কথা না মানলে চলে যাও ইত্যাদি।
(১৭) টিভিতে নাচ-গান, হারাম অনুষ্ঠান, কার্টুন, খেলাধূলা দেখার নেশা থেকে বিরত থাকতে হবে, হারাম পত্রিকা ম্যাগাজিন থেকে দূরে থাকতে হবে।
(১৮) আহলে সুন্নাহর আলেমদেরকে ভালোবাসতে হবে।
(১৯) যত্রতত্র ছবি তোলা এবং নির্বোধের মতো সেলফি, ফেইসবুকে ছবি আপলোডের মতো বিরক্তিকর সংস্কৃতির অন্ধ অনুসারী হওয়া যাবেনা।
(২০) কাফির মুশরিক এবং ইসলামের দুশমনদের প্রতি ও তাদের সংস্কৃতির প্রতি অন্তর থেকে ঘৃণা ও শত্রুতা পোষণকারী হতে হবে। এটা must, এ ব্যপারে কোন আপোষ চলবেনা।
(২১) দুনিয়ার লোভে গণতান্ত্রিক শিরকি মতবাদের অনুসারী, পথভ্রষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর পদলেহনকারী হওয়া যাবেনা।
(২২) দাঁড়ি রাখতে হবে, প্যান্ট টাখনুর উপরে পড়তে হবে।


সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

বিবাহের জন্যে মোহরের সুন্নাহ

বিবাহের জন্যে মোহরের সুন্নাহ
শায়খ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসায়মিন রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
(আধুনিক যুগের মুদ্রাতে সুন্নাহ অনুযায়ী বিয়ের জন্যে) সর্বনিন্ম মোহর হচ্ছে ১১২ সৌদি রিয়াল. . .আর সুন্নাহ অনুযায়ী সর্বোচ্চ মোহর হচ্ছে ১৪০ সৌদি রিয়াল। অথচ, বর্তমানে এটা ৭০,০০০ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।
শারহ আল-মুমতিলা যাদ আল-মুস্তাকনিঃ খন্ড-১২, পৃষ্ঠা ২৫২-২৫৩।
*৪ই মার্চ, ২০১৬ইং তারিখে এক সৌদি রিয়ালের মূল্য বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ২০.৯ টাকা। সে হিসাবে ১১২ সৌদি রিয়াল হচ্ছে ২৩৪০ টাকা, আর ১৪০ সৌদি রিয়াল হচ্ছে ২৯২৬ টাকা।
শায়খ মুহাম্মদ আল-ওয়াসসাবি হাফিজাহুল্লাহ বলেন,
সুন্নাহ হচ্ছে বিয়ের মোহর ৫০০ দিরহাম, যার বর্তমান মূল্য প্রায় ৫০০০ ইয়েমেনি রিয়ালের [১] সমান। আর সর্বোত্তম আদর্শ হচ্ছে (আমি) মুহাম্মাদ-এর আদর্শ। [২] যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন, তাহলে সুন্নাহর অনুসারীদের উচিৎ (নবীজির এই আদর্শ বাস্তবায়নে) সবার অগ্রগামী হওয়া। [৩]
[১] শায়খ মুহাম্মদ আল-ওয়াসসাবি হচ্ছেন ইয়েমেনের একজন প্রখ্যাত আলেমে-দ্বীন, একারণে তিনি ইয়েমেনি মুদ্রায় ৫০০ দিরহামের দামের কথা উল্লেখ করেছেন। ৮ই ফেব্রুয়ারী, ২০১৬ ইং তারিখে ইন্টারনেটে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ৫০০০ ইয়েমেনি রিয়ালের দাম বাংলাদেশী টাকায় সর্বোচ্চ ১৮৩১ টাকা। এই পরিমান মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে সুন্নাহ বা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদর্শ। কোন মেয়ে বা মেয়ের ওয়ালী এর চাইতে বেশি বা এর চাইতে কমও মোহর নির্ধারণ করতে পারে, এ ব্যপারে এখতিয়ার রয়েছে। তবে আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তোমাদের জন্যে আল্লাহর রসুলের মাঝে সর্বোত্তম আদর্শ রয়েছে। সুরা আহযাবঃ ২১।
[২] এটা একটা হাদীসের অংশ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সর্বোত্তম বাণী হচ্ছে আল্লাহর কিতাব (কুরানুল কারমী), আর সর্বোত্তম আদর্শ হচ্ছে (আমি) মুহাম্মাদ-এর আদর্শ। সহীহ আল-বুখারী, আচার ব্যবহার অধ্যায়, খন্ড ৮, অধ্যায় ৭৩, হাদীস নং-১২০।

[৩] শায়খের বক্তব্যের উৎসঃ অডিও টেপ আহকাম আয-যাওয়াজ (বিয়ের হুকুম)।  

বিয়ের পরে পাত্র বা পাত্রীকে জেনে বুঝে নেওয়া

প্রশ্নঃ আসসালামু আলাইকুম। কোন ছেলে যদি কোন মেয়েকে বিবাহের জন্য পছন্দ করে (যেখানে মেয়ের পরিবার এবিষয়ে জানে না), তবে বিবাহের পূর্বে সেই মেয়ের সাথে দীর্ঘদিন দেখা সাক্ষাত করা, কথা-বার্তা বলা, জেনেবুঝে নেওয়া. . .এই ব্যাপার গুলো কতটুকু ঠিক?

উত্তরঃ ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি বারাকাতুহু। জেনে বুঝে নেয়ার ব্যাপার আসলে একজন মানুষকে বিয়ে করার পূর্বে ঠিক কতটুকু দেখতে হবে? অনেকে প্রেম ভালোবাসার নামে অথবা বিয়ের পূর্বে পাত্র অথবা পাত্রীকে জেনে বুঝে নিতে গিয়ে একাকী মেয়ের সাথে দেখা-সাক্ষাত করে, ঘনিষ্ঠতা করে, দীর্ঘদিন ধরে জিনা ব্যভিচার করে শেষ পর্যন্ত জানা বুঝা সব শেষ করে ফেলে। এর পরে অন্য মেয়ে তালাশ করে, জেনে বুঝে নেওয়ার জন্যে। এইগুলো হচ্ছে মেয়ে দেখার নাম করে অবৈধভাবে মেয়েদেরকে ভোগ করার জন্য পুরুষদের ছলনা মাত্র। অনেক সরলমনা মেয়েরা এইভাবে প্রেমিকের কাছে, হবু লম্পট স্বামীর কাছে ইজ্জত হারিয়ে বা ধর্ষিত হয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছে। বিয়ের উদ্দেশ্যে মেয়ের বাবা অথবা কোন মাহরাম পুরুষের উপস্থিতিতে পাত্র সরাসরি নিজে একবার মেয়েকে দেখবে। পছন্দ হলে বিয়ে করবে, আর নয়তো কথা সেখানেই কথা শেষ। এর অতিরিক্ত আর কোন বুঝাবুঝির দরকার নাই। ছেলে-মেয়ে নিজেদের মাঝে কোন ধরণের ব্যক্তিগত দেখা-সাক্ষাত বা যোগাযোগ করবেনা। মূলত যারা সারা জীবন ফ্রী-মিক্সিং পরিবেশে নারীদের সাথে উঠা-বসা করে অন্তর কলুষিত করে ফেলেছে, নারীদের সাথে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত থাকে, তারাই এইভাবে জেনে বুঝে নেওয়ার দাবী জানায়। আর নারীরা দুষ্ট লোকের মিষ্টি কথা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে, নিজের দ্বীনকে বিসর্জন দিয়ে এদের ডাকে সাড়া দেয়। এমন দুশ্চরিত্রে লোকদের থেকে নারীরা সাবধান! নারীদের বুদ্ধির ত্রুটি রয়েছে, একারণে তারা যাতে পুরুষদের লালসা থেকে নিজেদেরকে বাঁচাতে পারে সেইজন্য আল্লাহ তাআ'লা রহমত স্বরূপ তাদের জন্য হিজাব-পর্দার বিধান দিয়েছেন। যারাই হিজাব-পর্দাকে অবহেলা বা ঘৃণা করবে, তারা দুনিয়া এবং আখিরাতে লাঞ্চিত হবে। বর্তমান যুগে ফ্রী মিক্সিং-এ অভ্যস্ত নারীদের চূড়ান্ত পরিণতির দিকে লক্ষ্য বিষয়টা খুবই স্পষ্ট। আল্লাহ আমাদেরকে ও আমাদের পরিবারকে হিফাজত করুন, আমিন।

শুক্রবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৫

পারিবারিক জীবন (পর্ব-সিরিয়াল করা হয়নি)

পারিবারিক জীবন (পর্ব-সিরিয়াল করা হয়নি)
অনেক স্ত্রী স্বামীর আদেশ মানতে চায়না, এতে করে স্বামীর মনে সন্দেহ ও সংসারে অশান্তির সৃষ্টি হয়। অনেক স্বামীর এমন অবাধ্যতার সূত্র ধরে স্ত্রীর উপর জুলুম অত্যাচার শুরু করে। এর কোনটাই কাম্য নয়, যা ইসলাম হারাম করেছে। সম্প্রতি সৌদি আরবে একজন পুরুষ তার স্ত্রীকে অনুমতি ছাড়া ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করে। নিষেধ করা সত্ত্বেও সেই স্ত্রী তার স্বামীর অনুমতি ছাড়াই ঘর থেকে কয়েকবার বের হয়। এক পর্যায়ে লোকটি রাগের বশবর্তী হয়ে স্ত্রীর গালে দুইটি চড় মারে এবং স্ত্রীর গায়ে থুথু নিক্ষেপ করে। মহিলাটির ভাই তার পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করে। সেই লোকটি নিজের অপরাধ স্বীকার করে কিন্তু স্ত্রীর অবাধ্যতার কথা বলে নিজেকে নির্দোষ দাবী করে। সাউদী আরবের ইসলামী শরিয়াহ দ্বারা পরিচালিত আদালতের বিজ্ঞ বিচারক বিস্তারিত জানার পরে আইন ভংগ করার অপরাধে লোকটিকে এক সপ্তাহের জেল এবং ৩০টি দোররা মারার শাস্তির আদেশ দেন। আর সেই মহিলাকে তার স্বামীর অনুমতি ছাড়া ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করেন। আমাদের দেশে পারিবারিক অশান্তি, জুলুম অত্যাচার প্রতিরোধ ও দমনে ইসলামী আইনের বড় প্রয়োজন।
তারিখঃ ১৩/১১/২০১৫, শুক্রবার।
সূত্রঃ সাবাক্ব, সাউদী আরবের একটি অনলাইন সংবাদপত্র থেকে সংগৃহীত।
বিঃদ্রঃ কারো মুখমন্ডল বা গালে আঘাত করা নিষিদ্ধ। অথচ, অনেক বাবা-মা বা স্বামী প্রায়ই এই হারাম কাজটা করে থাকে। এমন বিবেকহীন বোকা লোকদেরকে আল্লাহ হেদায়েত করুন। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যখন লড়াই করবে, তখন সে যেন কারো মুখমন্ডলে আঘাত না করে।
সহীহ বুখারী, খন্ড ৩, অধ্যায় ৪৬, হাদীস নং- ৭৩৪।

বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

বিয়ে এবং স্বামী স্ত্রী সংক্রান্ত কুরান ও হাদীসের কিছু কথা

বিসমিল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহ।
ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহ।
আম্মা বাআদু।
_________________________
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন,
উযু বিল্লাহিমিনাশ-শাইতানির রাযীম।
_________________________
আমি তোমাদেরকে (নারী এবং পুরুষ) জোড়া হিসেবে সৃষ্টি করেছি।
সুরা নাবাঃ ৮।
_________________________
তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্য পোশাকস্বরূপ আর তোমরা তাদের জন্যে পোশাকস্বরূপ।
সুরা বাক্বারাহঃ ১৮৭।
_________________________
আর (আল্লাহ তাআলার) এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের জন্যে সংগিনী (স্ত্রীদেরকে) সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের (স্বামী এবং স্ত্রীদের) মাঝে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করে দিয়েছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল ব্যক্তিদের জন্যে (আল্লাহর) নিদর্শনাবলী রয়েছে।
সুরা রুমঃ ২১।
_________________________
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
এমন দুইজন যারা একজন আরেকজনকে ভালোবাসে, তাদের জন্যে বিয়ের মতো এমন আর কিছু হয়না।
সুনানে ইবনে মাজাহ।
_________________________
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন,
এ পৃথিবীর পুরোটাই হচ্ছে ভোগ-বিলাস ও আনন্দ উল্লাসের সামগ্রী। তার মাঝে সর্বোত্তম সম্পদ হচ্ছে নেক ও সৎকর্মপরায়ণ স্ত্রী।
সহীহ মুসলিম। 
_________________________
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন,
চারটি জিনিস হচ্ছে সৌভাগ্যের নিদর্শনঃ
ক. নেককার স্ত্রী, খ. প্রশস্ত বাসস্থান, গ. উত্তম প্রতিবেশী ও ঘ. আরামদায়ক যানবাহন।
আর চারটি জিনিস হচ্ছে দুর্ভাগ্যের নিদর্শনঃ
ক. খারাপ স্ত্রী, খ. সংকীর্ণ বাসস্থান, গ. খারাপ প্রতিবেশী ও ঘ. মন্দ যানবাহন।
মুসনাদে আহমাদঃ ২৪৪৫, ইবনে হিববানঃ ৪০৩২; হাদীসটি সহীহ, শায়খ আলবানী রাহিমাহুল্লা, সিলসিলাহ ছহীহাহঃ ২৮২; ছহীহুল জামেঃ ৮৮৭।
_________________________
আল্লামাহ শায়খ সালেহ আল-ফাউজান হাফিজাহুল্লাহ বলেন,
যে ব্যক্তি খালি বাড়িতে ফিরে আসে এবং যার স্ত্রী নেই, সে একটা কঠিন জীবন পরিচালনা করা, যদিও সে বাড়িটা সম্পদ ও আনন্দের বস্তু দ্বারা পূর্ণ থাকে।
আল-ইত্তিহাফঃ ৮৫৭ পৃষ্ঠা।
______________________
ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
মানুষের রিজিক যেমনিভাবে পূর্বেও লিপিবদ্ধ করা করা হয়েছে, ঠিক তেমনি বিবাহ করাও পূর্বেই নির্ধারিত করা রয়েছে। এই পৃথিবীতে কে কার স্বামী বা স্ত্রী হবে, সেটাও নির্দিষ্ট করা রয়েছে। আসমান জমিনের কোন কিছুই আল্লাহর কাছে গোপন নয়।
ফাতাওয়া আরকানুল ইসলামঃ ঈমান অধ্যায়, প্রশ্ন নং-৬২।
_________________________
বাদুর রহমান বা, যারা রহমানের বান্দা তারা এই বলে দুয়া করে,
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
উচ্চারণঃ রাব্বানা হাবলানা মিং আযওয়াজিনা ওয়া মং যুররিয়্যাতিনা ক্বুররাতা আয়ুনিন্। ওয়াজ্-আলনা লিল মুাত্তাক্বীনা ইমামা।
অর্থঃ হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের স্ত্রীদের ও সন্তানদেরকে আমাদের জন্যে চোখের শীতলতা স্বরূপ করে দাও, এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্যে ইমাম (আদর্শ) বানাও।
সুরা ফুরক্বানঃ ৭৪।

_________________________

বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৫

নারীদের বিয়ে সংক্রান্ত দুইটি জরুরী মাসয়ালা

# আজকে নারীদের বিয়ে সংক্রান্ত দুইটি জরুরী মাসয়ালা দেওয়া হলো। কত নারী যে প্রেমের ছলনায় আবেগে গা ভাসিয়ে দিয়ে নিজে নিজে কোন অপাত্রকে বেছে নিয়ে, অথবা বাবা মায়ের পছন্দ করা অপাত্রের কারণে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে। কত বোনেরা এর প্রতিকার জানতে চান, এক আল্লাহ মাবূদ ভালো জানেন। সুতরাং নারী এবং তার গার্জিয়ানের উভয়ের উচিৎ নিজেদের খেয়াল-খুশিকে নয়, বিয়ের ক্ষেত্রে ইসলামী বিধি-বিধানকে প্রাধান্য দেওয়া। আল্লাহ আমাদের জীবকে ক্বুরান ও হাদীস দিয়ে পরিচালনা করার তোওফিক দান করুন, আমিন।
- আনসারুস সুন্নাহ।
_______________________
=> কোন নারী তার পিতা বা পিতা জীবিত না থাকলে বৈধ ওয়ালী (দাদা, ভাই বা চাচা, এমন কোন পুরুষ গার্জিয়ানের) অনুমতি ছাড়া পালিয়ে গিয়ে একা একা বিয়ে করতে পারবেনা। এ ধরণের বিয়ে অশুদ্ধ এবং নারীর ওয়ালী ব্যতীত বিয়ে হলে তারা পরস্পরের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বিবেচিত হবে না। উল্লেখ্য, মেয়ের মা বা অন্য কোন নারী মেয়ের ওয়ালী হতে পারেন না। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
(নারীদের ক্ষেত্রে) ‘’ওয়ালী বা অভিভাবক ব্যতীত কোন বিবাহ নেই। [তিরমিযী]।
তিনি (সাঃ) আরো বলেছেন, যে নারী নিজে নিজের বিবাহ সম্পন্ন করবে তার বিবাহ বাতিল, বাতিল, বাতিল। অভিভাবকরা যদি ঐ নারীর বিবাহে বাধা সৃষ্টি করে, তবে যার ওলী নেই সুলতান বা শাসক তার ওলী বা অভিভাবক হবে।
আহমাদ, তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ।
_______________________
=> নারী যেমন ওয়ালী অর্থাৎ তার অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া বিয়ে করতে পারবেনা, আবার কোনো নারীর পছন্দ ছাড়া তার গার্জিয়ান জোর করে কারো সাথে বিয়ে দিতে পারবেনা। কোনো গার্জিয়ান যদি কোন নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূরবক বিয়ে দেয়, তাহলে তিনি ইচ্ছা করলে শরীয়াহ কোর্টের মাধ্যমে এই বিয়ে বাতিল করে দিতে পারবেন। অতএব হে গার্জিয়ান সম্প্রদায়! আল্লাহকে ভয় করুন, কন্যাদেরকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করবেন না।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ পূর্বে বিয়ে হয়েছে এমন নারীর সাথে পরামর্শ করা ছাড়া তাকে বিয়ে দেওয়া যাবেনা। আর একজন কুমারী মেয়েকে তার সম্মতি আছে কিনা জিজ্ঞাস না করে তাকে বিয়ে দেওয়া যাবেনা। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, কুমারী মেয়েকে কিভাবে জিজ্ঞাসা করা হবে (কারণ, সেতো লজ্জায় হ্যা বা না কিছুই বলবেনা)।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ কুমারী মেয়ের নীরব থাকাই হলো সম্মতি।
[সহীহ আল-বুখারী ৬৪৫৫]
_______________________
কোনো গার্জিয়ান যদি কোনো নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেয় তাহলে শরীয়াহ কোর্টের মাধ্যমে সেই বিয়ে বাতিল করে দিতে পারবে তার প্রমানঃ
মা আয়িশাহ (রাঃ) এর কাছে একটি মেয়ে এসে বললো, সামাজিক মান-মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য আমার বাবা তার ভাইয়ের ছেলের সাথে (চাচাতো ভাইয়ের সাথে) আমার বিয়ের বিয়ে দেয় কিন্তু আমি এই বিয়ে করতে চাইনি (অর্থাৎ আমাকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছে)।
আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) না আসা পর্যন্ত তুমি এখানে বসে থাকো।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আসলে আয়িশাহ (রাঃ) তাঁকে মেয়েটির ব্যপারে বললেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) মেয়েটির বাবাকে ডেকে পাঠালেন এবং পরে মেয়েটিকে বললেন তুমি যেকোনো একটা বেছে নিতে পারো (হয় এই বিয়ে মেনে নিয়ে সংসার করতে পারো অথবা চাইলে এই বিয়ে ভেঙ্গে দিতে পারো)।
মেয়েটি বললোঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমার বাবা যা করেছে আমি সেটা মেনে নিয়েছি। কিন্তু আমি অন্য নারীদের কাছে এটা প্রমান করতে চাচ্ছিলাম (অর্থাত নারীদেরকে জোর করে বিয়ে দেওয়া যাবেনা)।
[সুনানে আন-নাসায়ী ৩২১৭]
_______________________
প্রশ্নঃ কোন ছেলের ব্যপারে একটি মেয়ে যদি সন্তুষ্ট না থাকে, তাহলে তাকে বিয়ের করার জন্য চাপ দেওয়ার অনুমতি কি বাবা-মায়ের আছে?
উত্তরঃ সৌদি আরবের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন ও বড় মুফাসসির, শায়খ আব্দুর রহমান আস-সাদি (রহঃ) বলেন,
বিয়ের জন্য মেয়ের বাবা মেয়েটির প্রতি জোর করতে পারবেনা, মেয়ের মা জোর করতে পারবেনা, এমনকি যদিও তারা (মেয়ের বাবা ও মা), তাদের দুজনেই ছেলের দ্বীনদারির ব্যপারে সন্তুষ্ট হয়ে থাকেন।
আল-মাজমুআহ আস-সাদিআহঃ ৭/৩৪৯। 
_______________________
সুতরাং, নারীদের বিয়ের ক্ষেত্রে গার্জিয়ান এবং যাকে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে উভয়ের সম্মতি লাগবে। একতরফা কোনো কিছু ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়।
_______________________
এতো গেলো সরাসরি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) সুন্নাহ থেকে প্রমান...
এবার দেখুন বাস্তব ঘটনার উপর ভিত্তি করে শায়খ সালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিজাহুল্লাহ) এর আরো দলীল-প্রমানসহ ফতোয়া।

http://islamqa.info/en/47439

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০১৫

বিষয়ঃ স্বামীর অবাধ্য স্ত্রী

বিষয়ঃ স্বামীর অবাধ্য স্ত্রী
একবার এক ভাই আমাকে বলেছিলেন, তার স্ত্রী তার কথা শোনেনা, অন্য পুরুষের সাথে কথা বলে, ঘুরতে বাইরে যায়। স্ত্রীর স্বাধীনতায় বাঁধা দিলে পারিবারিক অশান্তি সৃষ্টি করে। আরেক ভাই অভিযোগ করেছেন, তার স্ত্রীর কথামতো না চললে তার থেকে আলাদা হয়ে যেতে দাবী জানাচ্ছে। আজ আরেক ভাই অভিযোগ করেছেন, আমাদের পেইজ পড়ে এমন একজন নারী সামান্য কারণে তার স্বামীকে ডিভোর্স দিচ্ছে। তিনি আমাদেরকে অনুরোধ করেছেন এটা নিয়ে কিছু লেখার জন্যে। সুতরাং আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞানের আলোকে এনিয়ে আমার কিছু কথা আপনাদের সামনে পেশ করছি।
বিনীত,
- আনসারুস সুন্নাহ। 
________________________
আজকাল টিভিতে হিন্দী সিরিয়াল দেখে তার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে, বাজে পত্রিকা ও ম্যাগাজিন পড়ে অন্তরকে কলুষিত করে, অথবা দুষ্ট মা-বোন বা বান্ধবীর কূট চালের শিকার হয়ে, অথবা অন্য পুরুষের সাথে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে অনেক স্ত্রীরা স্বামীদের হক্ক আদায় করছেনা। তাদের স্বামীদেরকে তারা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে, তাদেরকে উপযুক্ত সম্মান দেয়না, ভালোবাসেনা। স্বামীর আনুগত্য করাকে অনেক মহিলা নিজের জন্য অসম্মানের বিষয় মনে করে, তাদের মতে এইগুলো হচ্ছে ব্যকডেটেড চিন্তা-ভাবনা। আধুনিক যুগের অনেক মেয়েরা মনে করে, আমি উপার্জন করি, স্বাধীনভাবে চলি, আমার কি দরকার পড়েছে স্বামীর কথা মতো চলার?
________________________
যাইহোক, স্বামীর প্রতি একজন নারী কতটুকু সম্মান করবে, ভালোবাসবে ও তার প্রতি আনুগত্য করবে, নিচের এই একটি মাত্র সহীহ হাদীস থেকে খুব সহজেই বোঝা যায়।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি যদি কাউকে কারো জন্য সিজদাহ করার আদেশ করতাম, তাহলে নারীকে আদেশ করতাম, সে যেন তার স্বামীকে সিজদাহ করে।’’ [তিরমিযিঃ ১১৫৯]
________________________
নফল রোযা আল্লাহর কাছে কত প্রিয় একটি আমল। অথচ স্বামীকে সন্তুষ্ট রাখা, তার হক্ক আদায় করারজন্যে একজন নারীকে এতো বেশি তাকীদ দেওয়া হয়েছে যে, স্বামীর অনুমতি ছাড়া কোন নারী নফল রোযা (যেমন শাওয়ালের রোযা, আশুরার রোযা, যিলহজ্জ মাসের রোযা ইত্যাদি)  রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, স্বামী (বাড়িতে) উপস্থিত থাকা অবস্থায় কোন মহিলা যেন তার স্বামীর অনুমতি ছাড়া কোন (নফল) রোযা না রাখে। [আবু দাউদ, ইবনে, মাজাহ, মিশকাত]
________________________
শরিয়ত সম্মত কারণ ছাড়াই যে নারী তালাক চাইবে তার পরিণতি সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন,
যে মহিলা তার স্বামীর কাছ থেকে কোন ক্ষতির আশংকা ছাড়াই তালাক চায়, তাহলে সেই নারী জান্নাতের সুগন্ধিও পাবেনা।
তিরমিযীঃ ১১৮৭, আবু দাউদঃ ২২২৬, ইমাম আয-যাহবী, ইমাম ইবনে হিব্বান ও ইমাম হাকেম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
________________________
ক্বুরান হাদীসের কথা অস্বীকার করে নিজের খেয়াল খুশি মতো চললে আর যাই হোক, নিজেকে পূর্ণ ঈমানদার বলে দাবী করা যাবেনা। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন,
(যারা ঈমানদার) তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম। 
[সুরা বাক্বারাহঃ ২৮৫]
তিনি আরো বলেছেন, আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন কাজের আদেশ করলে কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন ক্ষমতা নেই যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আদেশ অমান্য করে। (যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আদেশ অমান্য করে) সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্ট তায় পতিত হয়। [সুরা আল-আহজাবঃ ৩৬]
________________________
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন,
তোমাদের মধ্যে কেউই ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি যা নিয়ে এসেছি (ক্বুরান ও হাদীসের আদেশ ও নিষেধ, হালাল ও হারাম এর বিধি বিধান) তার প্রতি তার ইচ্ছা-আকাঙ্খা অনুগত না হয়ে যায়।
[ইমাম নববীর ৪০ হাদীস, হাদীসটি হাসান]
________________________
প্রশ্নঃ নারীরা কি তালাক দিতে পারে?
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/683898798309537
________________________
প্রশ্নঃ স্ত্রী অবাধ্য হলে কি করতে হবে?
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/677478385618245
________________________
উল্লেখ্য, স্বামীর অবাধ্য স্ত্রীদেরকে নিয়ে লিখার কারণে অনেক বোনেরা স্ত্রীর হক্ক নষ্টকারী জাহিল পুরুষদের সম্পর্কে লিখতে অনুরোধ করতে পারেন। এবিষয়ে ইতিঃপূর্বে লেখা আমাদের পোস্টঃ
স্বামীর প্রতি স্ত্রীর অধিকারঃ বিবাহিত ভাইদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি...
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/1153030461396366:0
________________________

[সমাপ্ত]

রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০১৫

স্বামী ও স্ত্রীর হক্ক

স্ত্রীর উপর ফরয দায়িত্ব হচ্ছে স্বামীর আনুগত্য করা, সন্তান এবং ঘরের দেখাশোনা এবং এইগুলোর হেফাজত করা। আর স্বামীর উপর ফরয দায়িত্ব হচ্ছে স্ত্রীদের সাথে উত্তম আচরণ করা, সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের জন্য খরচ করা, তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া যাতে করে তার মৃত্যু সমান দেবর অথবা শ্বাশুড়ী, ননদরা কোন প্রকার শারিরিক বা মানসিক অত্যাচার করতে না পারে। আর সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে একে অন্যের আমানত এবং বিশ্বাস বজায় রাখা, কোন প্রকার অবৈধ সম্পর্ক বা জিনা-ব্যভিচারে না জড়ানো। যারাই এইগুলো লংঘন করবে তারা হয়তোবা সাময়িক পার পাবে কিন্তু অতি শীঘ্রই লাঞ্চিত ও অপমানিত হবে, দুনিয়াতে কিংবা আখেরাতে। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন।
ইন্না বাতসা রাব্বিকা লাশাদিদ
অর্থঃ নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তার পাকড়াও অত্যন্ত কঠোর।

[সুরা আল-বুরুজ]

শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০১৫

জীবনসঙ্গীকে সন্দেহ করতে যাবেন না

জীবনসঙ্গীকে সন্দেহ করতে যাবেন না। সন্দেহ সম্পর্ককে ধ্বংস করে। আপনার জীবনসঙ্গী আপনার খুব কাছের মানুষ এটা সত্যি। কিন্তু খুঁতখুঁত করে যদি তার বিষয়ে অনেক ঘাঁটাঘাঁটি করেন, আপনি নিঃসন্দেহে হতাশ হবেন। মানুষ কখনো নিখুঁত নয়। আর মনে রাখবেন, প্রত্যেকে তার নিজ নিজ হিসাব দিবে। তাই সন্দেহ দূর করুন। স্বামী বা স্ত্রী একে অপরের পোশাক স্বরূপ, ছোট-খাটো ভুলত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা নিয়ে অন্যদের কাছে বলে বেড়াবেন না, গীবত করবেন না। কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তাআআল ইরশাদ করেছেন,
হে মুমিনগণ, তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয় কতক ধারণা গোনাহ। এবং মানুষের গোপনীয় বিষয় তালাশ করো না। তোমাদের কেউ যেন কারও পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তারা মৃত ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করা পছন্দ করবে? বস্তুতঃ তোমরা তো একে ঘৃণাই কর। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।
[সুরা আল হুজুরাতঃ ১২]

post written by : মোহাম্মাদ সাইফুল্লাহ সজল

মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০১৫

তালাক সংক্রান্ত পুরনো কিছু পোস্টের লিংক -

তালাক সংক্রান্ত পুরনো কিছু পোস্টের লিংক -
বিঃদ্রঃ প্রশ্ন থাকলে এই পোস্টে অথবা মেসেজে পাঠাবেন।
_________________________
স্ত্রী অবাধ্য হলে কি করতে হবে?
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/677478385618245?comment_id=7467253&offset=0&total_comments=132
_________________________
ইদ্দত কি জানার জন্য পড়ুনঃ
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/661144980584919
_________________________
ইদ্দতকালীন সময়ে নারীরা স্বামীর ঘরেই থাকবেঃ
https://www.facebook.com/permalink.php?id=187141538104738&story_fbid=247408262078065
_________________________
নারীরা কি তালাক দিতে পারে?
https://www.facebook.com/permalink.php?id=125167817515974&story_fbid=683898798309537
_________________________
হিল্লা বিয়ে কি?
https://www.facebook.com/permalink.php?id=125167817515974&story_fbid=661420360557381
_________________________
হিল্লা বিয়ে হারাম

https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/357545140950757?comment_id=4205809 

বুধবার, ২০ মে, ২০১৫

বিয়ে করার বিধান কি?

প্রশ্নঃ আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন?আমার প্রশ্ন হচ্ছে,
ক. বিবাহ করার বিধান কি? ফরজ না সুন্মত???
খ. আমি যদি বিবাহ করার জন্য দীনদার মেয়ে খুঁজে না পাই, তখন বেদ্বীন মেয়ে বিবাহ করব, নাকি বিবাহ করা থেকে বিরত থাকব???
জানালে উপকৃত হব!!
______________________
উত্তরঃ ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি বারাকাতুহু।
আলহামদুলিল্লাহ ভালো, আপনি কেমন আছেন?
______________________
ক. বিয়ে করার বিধান কয়েক প্রকারঃ
১. যার বিয়ে করার সামর্থ্য আছে কিন্তু বিয়ে না করলে তার চরিত্র নষ্ট হয়ে অবৈধ সম্পর্কে ও জিনায় লিপ্ত হবে, তার জন্য বিয়ে করা ফরয।
২. যার বিয়ে করার সামর্থ্য আছে কিন্তু বিয়ে না করলেও চরিত্র ঠিক থাকবে তার জন্য বিয়ে করা সুন্নাহ অথবা মুস্তাহাব। তার বিয়ে করা উচিত।
৩. যার বিয়ে করার সামর্থ্য নেই, স্ত্রীর হক্ক আদায় করতে পারবেনা তার জন্য বিয়ে করা হারাম।
______________________
খ. দ্বীনদার কাউকে খুঁজে না পেলে আরো খুজতে হবে এবং তার জন্য আল্লাহর কাছে দুয়া করতে হবে। দ্বীনদার স্বামী/স্ত্রী না পাওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে। একটা বেদ্বীন স্বামী অথবা স্ত্রী কারো জীবন নষ্ট করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ঠ। সুতরাং, অভিশপ্ত প্রেম-ভালোবাসার খপ্পরে পড়ে, রূপ-সৌন্দর্য, ধন-সম্পদ দুনিয়াবী শিক্ষা-দীক্ষার ধোকায় পড়ে কোন ফাসেক ও বেদ্বীনকে বিয়ে করা ঠিক নয়। এতে অনেক ফাসাদ রয়েছে।

______________________