শুক্রবার, ১২ জুন, ২০১৫

“রমযান মাসের ৩০ আসর” - শায়খ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমিন (রহঃ)

“রমযান মাসের ৩০ আসর”
- শায়খ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমিন (রহঃ)
________________________________
প্রথম আসরঃ রমযান মাসের ফযীলত
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/photos/pb.125167817515974.-2207520000.1434117936./1376456875720389/?type=3&src=https%3A%2F%2Ffbcdn-sphotos-a-a.akamaihd.net%2Fhphotos-ak-xta1%2Ft31.0-8%2F11411780_1376456875720389_630975407903025247_o.jpg&smallsrc=https%3A%2F%2Ffbcdn-sphotos-a-a.akamaihd.net%2Fhphotos-ak-xta1%2Fv%2Ft1.0-9%2F11401478_1376456875720389_630975407903025247_n.jpg%3Foh%3D9a0907bc5c1efb32c77a3f3965e6da43%26oe%3D55E6AA89%26__gda__%3D1442163712_52e9c121556e7024889662d9e8b0ce95&size=1030%2C419&fbid=1376456875720389
________________________________
দ্বিতীয় আসরঃ সিয়ামের ফযীলতের বর্ণনা
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/photos/a.130928300273259.14132.125167817515974/1380217312011012/?type=1
___________________________________

বুধবার, ১০ জুন, ২০১৫

দাজ্জালের মারাত্মক ফেতনা ও ঈসা (আঃ) এর আশ্চর্যজনক কাহিনী

দাজ্জালের মারাত্মক ফেতনা ও ঈসা (আঃ) এর আশ্চর্যজনক কাহিনী
- আনসারুস সুন্নাহ।
__________________________
নাওওয়ান ইবন সামআন কিলাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন সকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাজ্জালের আলোচনা করলেন এবং বিষয়টির ভয়াবহতা এবং নিকৃষ্টতা সব কিছু তুলে ধরেন। এমনকি আমাদের ধারণা হচ্ছিল যে, দাজ্জাল মনে হয় এই মুহূর্তে আমাদের খেজুর বাগানেই উপস্থিত রয়েছে।
নাওওয়াস রাদিয়াল্লাহু আনহু আরো বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছ থেকে ফিরে গেলাম। পরে বিকালে আবার তাঁর কাছে এলাম। তিনি আমাদের মাঝে দাজ্জালের ভীতির চিহৃ দেখে বললেন, তোমাদের একি অবস্থা?
আমরা বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আপনি সকালে দাজ্জালের আলোচনা করেছিলেন এবং বিষয়টির ভীষণতা এবং নিকৃষ্টতা এমন উল্লেখ করেছিলেন যে, আমাদের মনে হচ্ছিল সে বুঝি খেজুর বাগানের কিনারে এসে হাজির।
তিনি বললেন, আমি তোমাদের জন্য দাজ্জাল ছাড়া অন্য কিছুর ব্যপারে অধিক আশংকা আমার রয়েছে। তোমাদের মাঝে আমার জীবদ্দশায় যদি দাজ্জালের আবির্ভাব হয় তাহলে আমিই তোমাদের পক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে বিতর্কে জয়ী হব। আর আমি যদি তোমাদের মাঝে না থাকি তখন যদি সে বের হয়, তবে প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজের পক্ষে তার বিরুদ্ধে বিতর্ককারী হবে। প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আমার স্থলে আল্লাহ তাআ'লা নিজেই সহায়ক হবেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন,
দাজ্জাল হল একজন যুবক মানুষ। তার চুল হবে অতিশয় কুকড়ানো ও চোখ তার স্থির। সে আবদুল উযযা ইবন কাতান এর মতো দেখতে হবে। তোমাদের কেউ যদি তাকে পায়, তবে সে যেন সুরাতুল কাহফ (১৮ নাম্বার সুরা) এর শুরুর দিকের আয়াতগুলো তিলাওয়াত করে। তিনি আরো বলেন, শাম ও ইরাকের মধ্যবর্তী অঞ্চল থেকে সে বের হবে। ডান দিক ও বাম দিক সে ফেতনা-ফাসাদের সৃষ্টি করে ফিরবে। হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা তখন দৃঢ় থাকবে।

আমরা বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! যে দিনটি হবে এক বছরের মত বড় সে দিন কি একদিনের সালাতেই আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে বলে আপনি মনে করেন?

তিনি বললেনঃ না, বরং তোমরা এর জন্য (স্বাভাবিক দিনের পরিমান) আন্দায করে নিবে (এবং সে হিসাবমত সালাত আদায় করবে)।

আমরা বললামঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! পৃথিবীতে দাজ্জালের গতি কত দ্রুত হবে?

তিনি বললেনঃ বায়ু তাড়িত মেঘমালার মত। সে কোন এক সম্প্রদায়ের কাছে আসবে। তাদেরকে সে নিজের দলে যোগ দেওয়ার জন্যে ডাকবে। কিন্তু তারা তাকে অস্বীকার করবে এবং তার দাবী প্রত্যাখান করবে। সে তখন তাদের থেকে ফিরে আসবে আর (যেই সম্প্রদায় দাজ্জালকে মানবেনা) তাদের সম্পদ দাজ্জালের পিছে পিছে চলে যাবে। তাদের হাতে আর কিছুই থাকবে না। তারপর সে আরেক সম্প্রদায়ের কাছে যাবে। সে তাদেরকে নিজের দিকে ডাকবে। তারা তার কথা গ্রহণ করবে এবং তাকে সত্য বলে স্বীকার করে নিবে। তখন সে আকাশকে বৃষ্টি ঝড়াতে আদেশ দিবে। তারপর (আল্লাহর ইচ্ছা ও হুকুম অনুসারেই মানুষের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ) সে অনুযায়ী বৃষ্টি নামবে। দাজ্জাল যমীনকে উদ্ভিদ জন্মাতে নির্দেশ দিবে যার ফলে ফসল হবে। বিকালে তাদের পশুপালগুলো পূর্বের চেয়েও লম্বা, কুঁজ, বিস্তৃত নিতম্ব, দুগ্ধপুষ্ট ওলান বিশিষ্ট হয়ে ফিরে আসবে।

তারপর দাজ্জাল এক বিরান ধবংসস্তূপের কাছে আসবে। সেটিকে লক্ষ্য করে সে বলবেঃ তোমার ধনভান্ডার বের করে দাও। তারপর সে এখান থেকে ফিরে আসবে আর যেভাবে রানী মৌমাছিকে ঘিরে ধরে অন্য মৌমাছিগুলি তার অনুসরণ করে থাকে, তেমনিভাবে সব ধনভান্ডার দাজ্জালের অনুসরণ করবে।

এরপর সে যৌবনে পরিপূর্ণ এক তরুন যুবককে তার দিকে আহবান জানাবে। (সেই যুবক তাকে না মানলে) সে তাকে তলোয়ারের আঘাতে দ্বিখন্ডিত করে ফেলবে। পরে তাকে ডাকবে। যুবকটি (জীবিত হয়ে) হাস্যেজ্জল চেহারা নিয়ে এদিকে আসবে।

এমতাবস্থায় এদিকে ঈসা (আঃ) দুইজন ফেরেশতার ডানায় তাঁর হাত রেখে গেরুয়া রঙ্গের বসনে স্বেত-শুভ্র মিনারার কাছে দামেশকের পূর্ব দিকে অবতরণ করবেন। তাঁর মাথা নীচু করলে পানি ঝড়তে থাকবে আর তা উঠানে মোতির মত ফোটায় ফোটায় পানি পড়বে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ঈসাঃ (আঃ) এর শ্বাস-প্রশ্বাস কাফেরদের মাঝে যাকেই স্পর্শ করবে, সেই মারা যাবে। আর দুই চোখের দৃষ্টি যেখানে গিয়ে শেষ হবে, সেখান পর্যন্ত তাঁর নিঃশ্বাসের বাতাস পৌছবে। তিনি দাজ্জালকে তালাশ করবেন এবং লুদ (বায়তুল মুকাদ্দাসের নিকটবর্তী একটি শহর) এর নগর দরওয়াজার কাছে তাকে পাবেন। তারপর তিনি দাজ্জালকে হত্যা করবেন।

এরপর আল্লাহ যতদিন চান ঈসা (আঃ) এভাবে বসবাস করবেন। পরবর্তীতে আল্লাহ তাআ'লা তাকে ওয়াহী পাঠাবেনঃ আমার বান্দাদেরকে তুর পাহাড়ে সরিয়ে নাও। আমি আমার এমন একদল বান্দা নামাচ্ছি যাদের সংগে লড়াই করার ক্ষমতা কারো নেই। এরপর আল্লাহ তাআলা ইয়াজুজ-মাজুজের দল পাঠাবেন। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার বিবরণ মত প্রতি উচ্চ ভূমি থেকে তারা ছুটে আসবে। তাদের প্রথম দলটি তাবারিয়া উপসাগর (শামে অবস্থিত একটি ছোট সাগর) অতিক্রম করা কালে এর মাঝে যা পানি আছে সব পানি তারা পান করে শেষ করে ফেলবে। এমন অবস্থা হবে যে, পরে তাদের শেষ দলটি যখন এই উপসাগর অতিক্রম করবে তখন তারা বলবে এখানে এক কালে হয়ত পানি ছিল। আবার তারা চলবে এবং বায়তুল মুকাদ্দাসে অধ্যায়তে যেয়ে তাদের এই যাত্রার শেষ হবে। তারা পরস্পর বলবে; পৃথিবীতে যারা ছিল তাদেরকে তো বধ করেছি এস এবার আসমানে যারা আছে তাদের শেষ করে দইে। তারপর তারা আসমানের দিকে তাদের তীর ছুড়বে। আল্লাহ তাআলা তাদের তীরগুলোকে রক্ত রঞ্জিত করে ফিরিয়ে দিবেন। ঈসা ইবন মারয়াম (আঃ) ও তাঁর সঙ্গীগণ অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকবেন। তাদের অবস্থা এমন কঠিন হয়ে দাঁড়াবে যে, আজকে তোমাদের কাছে একশত স্বর্ণ মুদ্রার যে দাম, তাদের কাছে তখন একটি ষাড়ের মাথা তার চাইতে অনেক উত্তম বলে মনে হবে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তারপর ঈসা (আ) ও তাঁর সঙ্গীগণ আল্লাহর কাছে দুয়া করবেন। আল্লাহ তাআলা ইয়াজুজ মাজুজদের গর্দানে ‘‘নাগাফ’’ জাতীয় এক জীবানু মহামারিরূপে প্রেরণ করবেন। তারা সব ধবংশ হয়ে মরে যাবে যেন একটি মাত্র প্রাণের মৃত্যু হল। এরপর ঈসা (আঃ) ও তার সঙ্গীগণ পাহাড় থেকে নেমে আসবেন, কিন্তু তারা এব বিঘত পরিমান জায়গাও এমন পাবেন না, যেখানে ইয়জুজ-মাজুজের গলিত চর্বি, রক্ত ও দুর্গন্ধ ছড়িয়ে না আছে। তারপ ঈসা (আ) ও তাঁর সঙ্গীগণ আল্লাহর কাছে আবার দুয়া করবেন। তখন আল্লাহ তাআলা উটের মত লম্বা গলা বিশিষ্ট এক প্রকার পাখি প্রেরণ করবেন। পাখিগুলি ইয়াজুজ-মাজুজদের লাশ উঠিয়ে নীচু গর্তে নিয়ে ফেলে দিবে। মুসলিমগণ তাদের ফেলে যাওয়া ধনুকে জ্যা, তীর এবং তুলীর সাত বছর পর্যমত্ম জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করবে। আল্লাহ তাআলা প্রবল বৃষ্টি করবেন শহর বা গ্রামের কোন বাড়িঘরই তা থেকে রক্ষা পাবে না। সমস্ত যমীন ধৌত হয়ে যাবে এবং তা আয়নার মত ঝক ঝকে হয়ে উঠবে।

পরে যমীনকে বলা হবে, তোমার সব ফল ও ফসল বের করে দাও, সব বরকত ফিরিয়ে দাও। এমন হবে যে সেদিন একটি আনার একদল লোক খেতে পারবে এবং একদল লোক এর খোসার নীচে ছায়া গ্রহণ করতে পারবে। দুধের মাঝেও এমন বরকত হবে যে, একটি দুগ্ধবতী উট বহুসংখ্যক লোকের একটি বড় দলের জন্যও যথেষ্ট হবে। একটি দুগ্ধবতী গাভী একটি গোত্রের জন্য যথেষ্ট হবে। এদর উপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে, একটি দুগ্ধবতী ছাগল একটি পরিবারের জন্য যথেষ্ট হবে।

এমন অবস্থায় তারা দিন জীবন-যাপন করতে থাকবে হঠাৎ আল্লাহ তাআলা এক বাতাস প্রবাহিত করবেন। এই বাতাস প্রত্যেক মুমিনের রূহ কবয করে নিয়ে যাবে। বাকী কেবল দুষ্টু লোকেরাই থেকে যাবে। তারা গাধার মত নির্লজ্জভাবে প্রকাশ্যে নারী সঙ্গমে লিপ্ত হবে। আর এদের উপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে।

[সহিহ আত্-তিরমিজি, ফিতনা অধ্যায়, অধ্যায় নং-৩৩, হাদিস নং- ২২৪০ এর ভাবার্থ]

মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০১৫

যারা সুন্নী, সালাফী বা আসারি আকীদাহর বিরোধীতা করে

প্রশ্নঃ যারা সুন্নী, সালাফী বা আসারি আকীদাহর বিরোধীতা করে, তাদের ব্যপারে আমাদের দৃষ্টিভংগি কেমন হওয়া উচিত?
উত্তরঃ ইমাম আবু জাফর আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ রাহিমাহুল্লাহ (যিনি ইমাম তাহাবী নামে বেশি পরিচিত), আকীদাহর উপরে লেখা তাঁর অনন্য বইয়ে প্রায় ১০২টি পয়েন্টে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামআতের আকীদাহ বর্ণনা করার পর ১০৩ নাম্বার পয়েন্টে উল্লেখ করেছেন:

এই হচ্ছে আমাদের দ্বীন এবং আমাদের আক্বীদাহ বা মৌলিক ধর্ম বিশ্বাস, যা প্রকাশ্যে এবং অন্তরে আমরা ধারণ করি। যারা উল্লিখিত বিষয় বস্তুর বিরোধিতা করে, তাদের সঙ্গে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। [আল-আক্বীদাহ আত-তাহাবীয়া]

তালাক সংক্রান্ত পুরনো কিছু পোস্টের লিংক -

তালাক সংক্রান্ত পুরনো কিছু পোস্টের লিংক -
বিঃদ্রঃ প্রশ্ন থাকলে এই পোস্টে অথবা মেসেজে পাঠাবেন।
_________________________
স্ত্রী অবাধ্য হলে কি করতে হবে?
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/677478385618245?comment_id=7467253&offset=0&total_comments=132
_________________________
ইদ্দত কি জানার জন্য পড়ুনঃ
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/661144980584919
_________________________
ইদ্দতকালীন সময়ে নারীরা স্বামীর ঘরেই থাকবেঃ
https://www.facebook.com/permalink.php?id=187141538104738&story_fbid=247408262078065
_________________________
নারীরা কি তালাক দিতে পারে?
https://www.facebook.com/permalink.php?id=125167817515974&story_fbid=683898798309537
_________________________
হিল্লা বিয়ে কি?
https://www.facebook.com/permalink.php?id=125167817515974&story_fbid=661420360557381
_________________________
হিল্লা বিয়ে হারাম

https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/357545140950757?comment_id=4205809 

রবিবার, ৭ জুন, ২০১৫

ওসামা বিন লাদেন এর ‘ধ্বংসাত্মক মানহাজ’ এর ব্যপারে ওলামায়ে কিবার (বড় আলেমদের) কিছু ফতোয়াঃ

ওসামা বিন লাদেন এর ধ্বংসাত্মক মানহাজ এর ব্যপারে ওলামায়ে কিবার (বড় আলেমদের) কিছু ফতোয়াঃ

১. ওসামা বিন লাদেন মুসলিমদের মাঝে অনেক বড় ফিতনা সৃষ্টিকারী একজন ব্যক্তি, তার বিরুদ্ধে মুসলিমদেরকে সতর্ক করা ওয়াজিব।
- শায়খ সালেহ আল-ফাওজান হাফিজাহুল্লাহ, সৌদি আরব তথা বর্তমান বিশ্বের একজন শীর্ষস্থানীয় আলেমে দ্বীন ও মুফতি।

২. ওসামা বিন লাদেন এবং তার মতো যারা এমন (মুসলিম দেশে বোমা হামলা করার মতো) দাওয়াত দিচ্ছে (বক্তব্য, লেখনী কিংবা বই-পুস্তক এর মাধ্যমে), তাদের চিন্তা-ভাবনা নষ্ট ও বাতিল। এইগুলো (এ ধরণের লেখা ও বক্তব্যের রেকর্ডিংগুলো) ধ্বংস করে ফেলতে হবে। (ওসামা বিন লাদেন এবং তার সাথে যারা ছিলো) তাদেরকে উপদেশ দেওয়া ওয়াজিব, তাদেরকে সাহায্য করা জায়েজ নয়। আমি তাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি, তারা যেন এমন ধ্বংসাত্মক রাস্তা থেকে ফিরে আসে এবং যেই অপকর্ম তারা করেছে, সে ব্যপারে আল্লাহকে ভয় করে।
- ইমাম আব্দুল আজিজ বিন বাজ রাহিমাহুল্লাহ, সৌদি আরবের বিগত গ্র্যান্ড মুফতি।

৩. ওসামা বিন লাদেন এবং তার মতো লোকেরা (আল-কায়েদাহ) পথভ্রষ্ট।
- শায়খ আব্দুল আজিজ আলে-শায়খ হাফিজাহুল্লাহ, সৌদি আরবের বর্তমান গ্র্যান্ড মুফতি।

৪. ওসামা বিন লাদেন একজন শয়তান, খবিস; ওসামা বিন লাদেন একজন শয়তান, খবিস ও খারেজী। ওসামা বিন লাদেনকে প্রশংসা করা জায়েজ নয়, যে ব্যক্তি তার প্রশংসা করে সেও তার মতই। তাদেরকে গ্রেফতার করে শাস্তি দেওয়া উচিৎ।
শায়খ আহমাদ বিন ইয়াহইয়া আন-নাজমী রাহিমাহুল্লাহ, সৌদি আরবের শীর্ষস্থানীয় একজন আলেম।

৫. শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা, মুসলমানদেরকে কাফের ফতোয়া দেওয়া, মুসলমানদের রক্ত হালাল ঘোষণা করা, মুসলমান দেশগুলোতে বোমা মেরে মানুষ হত্যা করা. . .এমন চিন্তা-ভাবনা যে রাখে (ওসামা বিন লাদেন ও অন্যান্যরা), নিঃসন্দেহে সে ব্যক্তি একজন খারেজী।
- শায়খ সালেহ আল-ফাওজান হাফিজাহুল্লাহ।

৬. ওসামা বিন লাদেন জমীনে ফিতনা ও ফাসাদ সৃষ্টিকারী। সে মানুষকে যে দাওয়াত দেয়, তার প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে সে একজন জাহেল (মূর্খ) কিন্তু নিজেকে আলেম (জ্ঞানী) মনে করে। আমি জানিনা পূর্ব নাকি পশ্চিম, তার পেছনে আসলে কারা কাজ করছে, তবে ওসামার পেছনে যারা কলকাঠি নাড়ে, তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে এই দেশ (সৌদি আরাবিয়া) ও অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোকে ধ্বংস করা। ওসামা বিন লাদেনকে একজন দ্বাইয়ী বলা মারাত্মক ভুল, বরং সে হচ্ছে একজন মুফসিদুন (জমীনে ফাসাদ সৃষ্টিকারী)।
- শায়খ সালেহ আল-লুহাইধান হাফিজাহুল্লাহ, সৌদি আরবের শীর্ষস্থানীয় একজন আলেম।

৭. ওসামা বিন লাদেন বিশৃখলা সৃষ্টি করতে চায়, আমরা সবার প্রথম তাকে রদ্দ (প্রত্যাখ্যান) করে বক্তব্য দিয়েছি। ওহ আল্লাহ্‌ তুমি ওসামার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করো।
- শায়খ মুক্ববিল বিন হাদী আল-ওয়াদী রাহিমাহুল্লাহ, ইয়েমেনের শীর্ষস্থানীয় একজন আলেম।

বিঃদ্রঃ মূল বক্তব্য ঠিক রেখে ফতোয়াগুলোর ভাবানুবাদ করা হয়েছে, শায়খদের নিজেদের ভাষায় শোনার জন্য আপনারা ভিডিওটা দেখুন।

https://www.youtube.com/watch?v=0b0bUGrDy1I

শনিবার, ৬ জুন, ২০১৫

‘চেয়ারে বসা সালাত আদায় করা’

প্রসংগঃ চেয়ারে বসা সালাত আদায় করা নিয়ে ইসলামী ফাউন্ডেশানের ফতোয়া
____________________________
সরকারী দলের একনিষ্ঠ ভক্ত ও অনুরাগী বাংলাদেশ ইসলামী ফাউন্ডেশান হচ্ছে চরমপন্থী সূফী মাযহাবের অনুসারীদের আখড়া। এই ইসলামী ফাউন্ডেশান থেকে মানসুর হাল্লাজের মতো খবিস শয়তানকে আল্লাহর ওয়ালী বলে বই ছাপিয়েছিলো, যেই মানসুর হাল্লাজ নিজেকে আল্লাহ বলে দাবী করেছিলো, নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক! মানসুর হাল্লাজের শিরকি- কুফুরী আকীদাহ এতো জঘন্য যে, কিছু ওলামাদের ফতোয়া হচ্ছে মানসুর হাল্লাজকে যে কাফের মনে করেনা সে নিজেই কাফের। নিজেকে আল্লাহ দাবী করার কারণে তৎকালীন বাগদাদের সমস্ত আলেম-ওলামা মানসুর হাল্লাজকে হত্যা করার জন্য ফতোয়া দেয় এবং শেষ পর্যন্ত তাকে শূলে চড়িয়ে হত্যা করা হয়। যাই হোক সম্প্রতি চেয়ারে সালাত পড়া যাবেনা বলে ফতোয়া দিয়ে ইসলামী ফাউন্ডেশানের কিছু মুফতি অনেক ভাই ও বোনদেরকে পেরেশানির মাঝে ফেলেছে। এ সম্পর্কে শায়খ আব্দুর রাক্বীব মাদানীর কাছে একটা প্রশ্ন ও উত্তর শেয়ার করা হলো।
____________________________
আস্‌সালামু আলাইকুম শায়খ,
একটি জরুরী মাসআলা জানতে চাই।
এক্সিডেন্টের ফলে আমার হাঁটতে কষ্ট হয় বিধায় আমি চেয়ারে বসে সালাত আদায়ের চেষ্টা করি। আলহামদুলিল্লাহ্, এখন অনেকটা সুস্থ। চেয়ার ছাড়াই আজ আসরের সালাত আদায় করতে গিয়ে হাঁটুতে ব্যথা অনুভব করলাম। আমি যদি হাঁটুতে নরম কোন প্যাড লাগিয়ে অথবা জায়নামাজে যদি ছোট একটি বালিশের উপর হাঁটু রেখে সালাত আদায় করতে চাই, তাহলে কি তা শুদ্ধ হবে?
____________________________
শায়খ Abdur Raquib উত্তরে বলেনঃ
ওয়ালাইকুমুস সালাম। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
আল্লাহ সাধ্যের অতিরিক্ত কাউকে বাধ্য করেন না। [বাকারাহ/২৮৬]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
দাঁড়িয়ে নামায পড়, যদি না পারো তাহলে বসে পড়, তাও যদি না পারো তাহলে পার্শ্বদেশে ভর দিয়ে। [সহীহ বুখারীঃ ১১১৭]
তাই যে অসুস্থ ব্যক্তি দাঁড়াতে অক্ষম, কিংবা দাঁড়াতে কষ্ট হয়, কিংবা দাঁড়ালে অসুখ বেশী হওয়ার আশংকা থাকে কিংবা অসুখ সারতে দেরী হওয়ার আশংকা থাকে, তাহলে সে বসেই নামায আদায় করবে। এবং তাকে যেই ভাবে ও যাতে বসতে সহজ হবে সে সেই ভাবে ও তাতে বসবে। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়াতে অক্ষম হলে বসার কথা বলেছেন এবং কোনো এক বসার নিয়ম বা স্থান নির্ধারণ করে দেন নি। আর যেহেতু আপনি এখনও পুরো সুস্থ নন, তাই ঝুকলে ব্যাথা হয়, যা অসুখ বিলম্বে সারার কারণ। সে কারণে পুরো সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আপনি চেয়ারে বসেই নামায পড়বেন এবং এই অপারগতার কারণে আপনি পুরো সওয়াব পাবেন। হাঁটুতে পট্টি বা নিচে বালিশ ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। কারণ এমন করার অর্থ দাঁড়ায় আপনি অসুস্থতার কারণে বসে নামায পড়ার যেই ছাড় শরিয়াহ আপনাকে দিয়েছে তা কোনো না কোনোরূপে অপছন্দ করছেন; অথচ এটা একটি ছাড় আর আল্লাহ পছন্দ করেন যে, বান্দা যেন তার ছাড় গ্রহণ করে।

ওয়াল্লাহু আলাম।

শুক্রবার, ৫ জুন, ২০১৫

“আজকের জুমুয়াহর খুতবাহ থেকে শিক্ষা” পর্ব- ১

আজকের জুমুয়াহর খুতবাহ থেকে শিক্ষা
- আনসারুস সুন্নাহ।
১৮ই শাবান, ১৪৩৬হিজরী; ৫ই জুন, ২০১৫ ইং।
________________________________
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে মহিলা সাহাবীরা পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাতে এবং জুমুয়াহ ও ঈদের সালাতের জামাআতে অংশগ্রহণ করতেন, যদিও ঘরই তাদের সালাতের জন্য উত্তম জায়গা। তবে স্পষ্ট সহীহ হাদীস, সাহাবীদের আমল এবং বিজ্ঞ আলেমদের ফতোয়া দ্বারা প্রমানিত যে, ফেতনার আশংকা না থাকলে নারীদের জন্যেও জায়েজ আছে মসজিদে সালাত আদায় করা।
একজন মহিলা সাহাবী একটা হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রায়ই জুমুয়াহর খুতবাতে সুরা ক্বাফ (২৮ নাম্বার পারার ৫০ নাম্বার সুরাটি) তেলাওয়াত করে শোনাতেন, আর সেই খুতবা শুনতে শুনতে তিনি সুরা ক্বাফ মুখস্থ করে ফেলেছিলেন! 
________________________________
উম্মু হিশাম বিনতু হারিসাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু (অর্থাৎ হারিসাহর কন্যা ও হিশামের মা) তিনি এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন যে, আমি সুরা ক্বাফ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জবান থেকে মুখস্থ করেছি। তিনি সুরাটি প্রত্যেকটি জুমুয়াহর খুতবাতে মিম্বরে উঠে তেলাওয়াত করতেন।
[বুলুগুল মারামঃ ৪৫৩, সহীহ মুসলিমঃ ৮৭২, নাসায়ীঃ ৯৪৯, আবু দাউদঃ ১১০০, আহমাদঃ ২৬৯০৯]
________________________________
এই হাদীস থেকে জানা যায় যে,
১. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে মহিলা সাহাবীরা জুমুয়াহর খুতবা শুনতে যেতেন।
২. আরো একটি বিষয় জানা গেলো যে, সুরা ক্বাফ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সুরা। যে কারণে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে জুমুয়াহর খুতবাতে নিয়মিত এই সুরাটি তেলাওয়াত করে শোনাতেন। সুতরাং, বর্তমান যুগে আমাদের খতিব সাহেবদের জন্য মোস্তাহাব (অর্থাৎ উত্তম) হচ্ছে যে, জুমুয়াহর দিনের খুতবাতে মুসল্লিদেরকে সুরা ক্বাফ তেলাওয়াত করে শোনানো। আর যেই সমস্ত দেশের লোকেরা আরবী বোঝেন না, সেই সমস্ত দেশের সাধারণ লোকদের জন্য খুতবাতে আরবী তেলাওয়াতের পাশাপাশি নিজ নিজ ভাষায় আয়াতগুলোর অর্থটাও বুঝিয়ে দেওয়া।
________________________________
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
তোমরা আল্লাহর দাসীদেরকে মসজিদে আসতে বাধা দিওনা যদিও তাদের জন্য ঘরই উত্তম জায়গা। [আবু দাউদ ৫৬৭, মুসনাদে আহমাদ হাদীস সহীহ]
________________________________
অথচ আমাদের দেশের খতিব সাহেবরা এই সুন্নতগুলো থেকে গাফেল হয়ে আছেন। আমাদের দেশের মহিলাদের জন্য দ্বীন শিখার সুযোগ অতি সামান্য। এমন হয়তো অনেক বোনদেরকে পাওয়া যাবে, এমনকি অনেক ভাইদেরকেও হয়তোবা পাওয়া যাবে, যারা জীবনে সুরা ক্বাফ পড়া অথবা শোনাতো দূরের কথা, ক্বুরান মাজীদের সুরা ক্বাফ নামে একটা সুরা আছে, এটাই হয়তোবা তারা জানেন নাহ!
 ________________________________
খুতবাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদর্শ অনুসরণ না করে অনেক খতিব সাহেবরা মিথ্যা ও বানোয়াট কাহিনী দিয়ে অথবা জাল-জয়ীফ হাদীস দিয়ে মিথ্যা ফযীলতের বয়ান করেন। অথচ ক্বুরান ও সুন্নাহ অনুসরণ করলেও আমাদের ভাই ও বোনেরা দ্বীন কি জিনিস সেটা জানতে ও মানতে পারতো।
________________________________
যাই হোক, আজকে আমি যে মসজিদে জুমুয়াহর সালাত পড়েছি সেখানকার ইমাম সাহেব প্রথম রাকাতে সুরা মুনাফিকুনের শেষের দিকের ৩টি আয়াত ও দ্বিতীয় রাকাতে সুরা আল-বুরুজের শেষের দিকের ৯টি আয়াত তেলাওয়াত করে শোনান। সেই আয়াতগুলোতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া আছে, এই জন্য অনেক ইমাম প্রায়ই মাগরিব, এশা ও ফজরের সালাতে এই আয়াতগুলো পাঠ করে থাকেন। আজকে আমি সম্মানিত দ্বীনি ভাই ও বোনদের জন্য সেই আয়াতগুলোর অর্থ আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম। আপনারা তাফসীর ইবেন কাসীর থেকে এই আয়াতগুলোর বিস্তারিত অর্থ ও ব্যাখ্যা জানবেন এবং এই আয়াতগুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবেন।
________________________________
সুরা মুনাফিকুন
উযু বিল্লাহিমিনাশ-শাইতানির রাযীম।
৯. হে মুমিনগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন না করে। এ কারণে যারা আল্লাহর স্বরণ থেকে গাফেল হয়, তারাই তো হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত লোক।
১০. আর আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি, মৃত্যু আসার আগেই তা থেকে তোমরা ব্যয় কর। অন্যথায়, (যে আমার রাস্তায় দান করবেনা) সে বলবে, হে আমার পালনকর্তা, আমাকে আরও কিছুটা সময় অবকাশ দেন। তাহলে আমি তোমার রাস্তায় দানসদকা করি এবং এর দ্বারা আমি নেককার লোকদের অন্তর্ভুক্ত হইয়ে যাব।
১১. প্রত্যেক ব্যক্তির নির্ধারিত সময় যখন উপস্থিত হবে, তখন আল্লাহ কাউকে অবকাশ দেবেন না। আর তোমরা যা কর, সে বিষয়ে আল্লাহ খবর রাখেন।
________________________________
সুরা আল-বুরুজ
উযু বিল্লাহিমিনাশ-শাইতানির রাযীম।
১৪. আর তিনি হচ্ছেন ক্ষমাশীল, ভালোবাসায় পূর্ণ;
১৫. মহান আরশের মালিক।
১৬. তিনি যা ইচ্ছা করেন, তাই করেন।
১৭. (হে নবী!) আপনার কাছে কি সৈন্যবাহিনীর খবর এসে পোঁছেছে?
১৮. ফেরাউন এবং সামুদের সৈন্যবাহিনীর খবর?
১৯. বরং, যারা কাফের, তারা মিথ্যারোপ করায় রত আছে।
২০. আল্লাহ তাদেরকে চতুর্দিক থেকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন।
২১. আর এটা হচ্ছে মহান ক্বুরআ'ন,
২২. যা লওহে মাহফুযে লিপিবদ্ধ আছে।
________________________________

আয় আল্লাহ! আপনি আমাদের সকলকে ক্বুরান ও সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার তোওফিক দান করুন, আমাদের ও আমাদের পরিবারের প্রত্যেককে উভয় জীবনেই সফলতা দান করুন, আমিন।