মঙ্গলবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৫

নবী ﷺ কি গায়েব জানতেন? ক্বুরান ও হাদীস কি বলে?

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সীরাহ (জীবনী) থেকে শিক্ষাঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন এক যুদ্ধের সফরে সংগী-সাথীদের নিয়ে বের হলেন, আর তাঁর সংগিনী হিসেবে আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা কে সাথে নিলেন। পথিমধ্যে আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহার গলার হার (নেকলেস) ছিড়ে পড়ে গেলো, কিন্তু কখন পড়লো তিনি সেটা টের পেলেন না। যখন তিনি বুঝতে পারলেন তাঁর গলার হার হারিয়ে গেছে, সেটা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জানানো হলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহার হার খুঁজে বের করার জন্যে সফরে বিরতি দিলেন, সাথে সাথে কাফেলার সবাই সফরে বিরতি দিতে বাধ্য হলেন। কিন্তু অনেক খুঁজাখুঁজি করেও সেই হার পাওয়া যাচ্ছিলোনা। এইদিকে কাফেলার লোকদের সাথে ওযু-গোসল করা ও অন্যান্য কাজের জন্যে প্রয়োজনীয় পানি সাথে ছিলোনা এবং যেই জায়গায় কাফেলা থেমে ছিলো তার আশেপাশে কোন কুয়া বা পানির কোন ব্যবস্থাও ছিলনা। আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহার গলার হার হারিয়ে যাওয়া নিয়ে পুরো কাফেলার সবাই অসুবিধার সম্মুখীন হওয়া এবং পানির অভাবে সকলের সালাত কাযা হওয়ার আশংকায়  তাঁর পিতা আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু মেয়ের উপর অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হলেন এবং এনিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে অভিযোগ করতে আসলেন। এসময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহার কোলে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছিলেন। আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা কে অনেক কথা শোনালেন এবং ক্রোধের এক পর্যায়ে আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহার কোমরে হাত দিয়ে আঘাত করেন। আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা অনেক ব্যাথা পেলেন, কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কোলে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছিলেন বলে তিনি নাড়াচাড়াও করতে পারছিলেন না, যাতে করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ঘুম না ভেঙ্গে যায়। যাই হোক, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভোর বেলায় ঘুম থেকে উঠে দেখেন ফযরের সালাত পড়ার জন্যে ওযু করার মতো পানি নেই। তখন আল্লাহ তাআলা পানি না থাকা অবস্থায় তায়াম্মুম অর্থাৎ পানির পরিবর্তে মাটি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করার বিধান দিয়ে ক্বুরানুল কারীমের এই আয়াত নাযিল করলেন,
হে মুমিনগণ! যখন তোমরা সালাতের জন্যে উঠ, তখন স্বীয় মুখমন্ডল ও হস্তসমূহ কনুই পর্যন্ত ধৌত কর, মাথা মাসাহ কর এবং দুই পায়ের গিঁট পর্যন্ত ধৌত কর। যদি তোমরা অপবিত্র হও তবে সারা দেহ পবিত্র করে নাও এবং যদি তোমরা রুগ্ন হও, অথবা প্রবাসে থাক অথবা তোমাদের কেউ প্রসাব-পায়খানা সেরে আসে অথবা তোমরা স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর, অতঃপর পানি না পাও, তবে তোমরা পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও অর্থাৎ, স্বীয় মুখ-মন্ডল ও হস্তদ্বয় মাটি দ্বারা মুছে ফেল। আল্লাহ তোমাদেরকে অসুবিধায় ফেলতে চান না; কিন্তু তোমাদেরকে পবিত্র রাখতে চান এবং তোমাদের প্রতি স্বীয় নেয়ামত পূর্ণ করতে চান, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
সুরা আল-মায়িদাহঃ ৬।
তখন সবাই তায়াম্মুম করে সালাত পড়ে নিলেন। উসাইদ ইবনু হুযাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু নামক একজন সাহাবী বললেন, হে আবু বাকর-এর বংশধর (আয়িশাহ)! এটাই আপনাদের কারণে পাওয়া প্রথম বরকত নয়। (এখানে বরকত দ্বারা পানি না থাকা অবস্থায় তায়াম্মুম করার সহজ বিধান কে বুঝিয়েছেন)।
আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, যেই উটের উপরে আমি ছিলাম, তাকে আমরা যখন উঠালাম, তখন দেখি আমার গলার হার তার নিচে পড়ে আছে। (একারণেই হারটি খুঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যাচ্ছিলোনা।)
সহীহ বুখারী, অধ্যায়ঃ ৬৫ কুরআন মাজীদের তাফসীর
হাদিস নম্বরঃ তাওহীদ প্রকাশনীঃ ৪৬০৭; আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৪৬; ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪২৪৯।
___________________________
ঘটনা থেকে শিক্ষাঃ
১. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও কোমল স্বভাবের মানুষ। তাঁর স্ত্রী মূল্যবান হার হারিয়ে ফেলেছে শুনেও তিনি তাঁকে গাল-মন্দ করলেন বা কোনপ্রকার দোষারোপ করলেন না। অথচ আজকাল যুগের কোন পুরুষের স্ত্রী এই কাজ করলে প্রথমেই একচোট মারপিট করে মনের রাগ নিভাতো। আর মারপিট না করলেও, কতো যে মন্দ কথা বলে হুলস্থূল শুরু করতো আর কটু কথা বলে কষ্ট দিতো! আসলে আমরা মুখে দাবী করি আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উম্মত, কিন্তু আমরা কথায় ও কাজে অনুসরণ করি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুশমনদের।
২. আল্লাহ মানুষের জন্যে সহজ জীবন বিধান ইসলাম নাযিল করেছেন, এইজনে কঠিন অবস্থায় পতিত হলে দ্বীনের বিধানে সহজতা দান করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, 
আল্লাহ তোমাদের জন্যে (তাঁর বিধান) সহজ করে দিতে চান এবং তিনি তোমাদের জন্যে (তাঁর বিধান) কঠিন-কষ্টকর করতে চান না।
সুরা আল-বাক্বারাহঃ ১৮৫। 
পানি না পাওয়া গেলে মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করার সহজ নিয়ম তারই একটা উদাহরণ। এ ধরণেই সহজতা দ্বারা বান্দার প্রতি আল্লাহর দয়া ও নিয়ামতের কথা উপলব্ধি করা যায়।
৩. উসাইদ ইবনু হুযাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু নামক একজন সাহাবী বললেন, হে আবু বাকর-এর বংশধর! এটাই আপনাদের কারণে পাওয়া প্রথম বরকত নয়।
এই কথার দ্বারা আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহার মর্যাদা বুঝা যায়। আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা অনিচ্ছাকৃতভাবে হার হারিয়ে যাওয়ায় সমস্ত মুসলিম কাফেলাটা সাময়িক অসুবিধার মাঝে পড়ে যায়। কিন্তু, এই ঘটনার সূত্র ধরেই তায়াম্মুম অর্থাৎ পানি না থাকলে পানির পরিবর্তে মাটি দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের সহজ নিয়ম পাওয়া গেলো। যা আজ পর্যন্ত মুসলিমরা উপকৃত হচ্ছে। 
৪. আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, যেই উটের উপর আমি ছিলাম, তাকে আমরা উঠালাম তখন দেখি হারটি তার নিচে পড়ে ছিলো।
আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহার এই কথা থেকে আক্বীদাগত অনেক বড় একটা বিষয় জান যায়, সেটা হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গায়েব বা অদৃশ্যের খবর জানতেন না। সেকারণে তাঁর স্ত্রীর মূল্যবান হার হারিয়ে গেলে সেটা কোথায় তিনি বলে দিতে পারেন নি। তিনি যদি গায়েব জানতেন, তাহলে আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা যখনই বলেছিলেন, আমার গলার হার হারিয়ে গেছে তখনই তিনি বলে দিতেন, তোমার হার উটের নিচে আছে। যেহেতু তিনি জানতেন না, সেইজন্যে যাত্রা বিরতি দিয়েছিলেন হার খুঁজে বের করার জন্যে। আর তিনি যাত্রাবিরতি দেওয়ায় কাফেলার সকলকেও যাত্রা বিরতি দিতে হলো। এমনকি এই ঘটনার রেশ ধরে যাত্রা বিলম্বির কারণে পানির অভাবে সকলের সালাত কাযা হওয়ার আশংকা দেখা দিলো। সকলের সালাত কাযা হয়ে যাবে এ কথা চিন্তা করেই আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর মেয়ের উপর অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন এবং এনিয়ে আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহাকে দোষারোপ ও আঘাত করেন। এতো কিছু হয়ে যাবে, এটাও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনদিন আগে থেকে জানতেন না, বা চিন্তা করেন নি। শেষে যখন উটকে উঠানো হলো, তখনই সকলে জানতে পারলো যে হার উটের নিচে এতোক্ষণ চাপা পড়ে ছিলো। এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট বুঝা যায়, হারটা কোথায় ছিলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানতেন না। সুতরাং, ভারত, পাকিস্থান ও বাংলাদেশে সুন্নী দাবীদার একশ্রেণীর সূফী লোকেরা যেই দাবী করে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গায়েব বা অদৃশের খবর, অতীত বর্তমানের সমস্ত খবর জানতেন, এই দাবী সম্পূর্ণ মিথ্যা ও শিরকী একটি আক্বীদাহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব খবর জানতেন না, তাঁকে আল্লাহ যা ওয়াহী করে জানাতেন, শুধুমাত্র ততটুকুই তিনি জানতে পারতেন। কিন্তু গায়বে বা অদৃশ্যের জ্ঞানের মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। এই কথা ক্বুরানের আল্লাহ স্পষ্ট করে অনেক জায়গাতে বলেছেন। যেমন,
(হে নবী!) আপনি ঘোষণা করে দিন যে, একমাত্র আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া আমার নিজের ভাল-মন্দ, লাভ-লোকসান, কল্যাণ-অকল্যাণ ইত্যাদি বিষয়ে আমার কোনই ক্ষমতা নেই। আর আমি যদি গায়েবের খবর জানতাম, তাহলে অনেক কল্যাণ লাভ করতে পারতাম, আর কোন প্রকার অকল্যাণ আমাকে স্পর্শ করতে পারত না।
সুরা আল-আরাফঃ ১৮৮।
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে আদেশ করেছেন, তিনি যেন তাঁর উম্মতকে স্পষ্ট করে বলে দেন যে, তিনি গায়েব জানেন না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি গায়েব জানতেন, তাহলে কোনপ্রকার অকল্যাণ তাঁকে স্পর্শ করতোনা। অথচ নবুওতী জীবনে তাঁকে অনেক অকল্যাণ তাঁকে স্পর্শ করেছে। তায়েফে নির্মম অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে, উহুদের যুদ্ধে মারাত্মক জখম হতে হয়েছে, তাঁর মুবারক দাঁত শহীদ হয়েছে, মুনাফিকরা তাঁর প্রিয় স্ত্রী আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহার বিরুদ্ধে জঘন্য অপবাদ দিয়ে মারাত্মক পেরেশানির মধ্যে ফেলেছিলো।
(হে নবী!) আপনি বলুন, আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ধন-ভান্ডারের চাবি রয়েছে। আর আমি গায়েব জানিনা। আমি এমন কথা বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা। আমি তো শুধুমাত্র সেই ওয়াহীর অনুসরণ করি, যা আমার কাছে অবতীর্ণ করা হয়। সুতরাং, আপনি তাদেরকে বলে দিন, অন্ধ ও দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন লোক কি কখনো সমান হতে পারে? তোমরা কি চিন্তা-ভাবনা কর না?
সুরা আল-আনআমঃ ৬।
সর্বশেষ, এতো দীর্ঘ আলোচনা এবং নিচে দিনের আলোর মতো স্পষ্ট আল্লাহর তাআলার এই বাণী পড়ার পরেও কোন ব্যক্তি, যে নিজেকে মুসলমান দাবী করে,
(ক) সে কি কখনো এই কথা বলতে পারে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা অন্য কেউ গায়েব জানেন?
(খ) আর যে ব্যক্তি সেই মিথ্যা দাবী করবে, সে কি হবে? মুসলিম, কাফের নাকি মুশরেক?
(হে নবী!) আপনি বলুন, আল্লাহ ছাড়া আসমান ও জমীনের কেউ গায়বের খবর জানে না।
সুরা নামলঃ ৬৫।
___________________________
কৃতজ্ঞতাঃ সূফী বেরেলুবী তরিকার অনুসারী আলেম, এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর ভক্ত এক ভাই, যিনি আমাদের ইনবক্সে দাবী করেছেনঃ
=> নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১০০% গায়েব জানেন!
=> সূরজ পুবদিখ থেকে উঠে এটা জেমন বাছতোব তেমনি  হুজুর (সাঃ) নূর ও গায়েব জানেন এটা ও তেমনি বাছতব!!
[নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক!]
সেই ভাইয়ের দাবীর প্রেক্ষিতে আমার এই পোস্ট লিখা, যাতে করে তাকে এবং তার মতো অন্যান্যদেরকে সতর্ক করা যায়। আমি আশা করি, আমাদের এই ভাই আল্লাহর আদেশ মোতাবেক একটু চিন্তা-ভাবনা করবেন এবং শিরকী আক্বীদাহ থেকে তোওবা করে ক্বুরান ও সুন্নাহর দিকে ফিরে আসবেন। ওয়ামা তোওফিক্বি ইল্লা বিল্লাহ।

*যারা কষ্ট করে দীর্ঘ এই লেখাটা পড়েছেন, আমি দুয়া করি তাদের সকলের প্রতি আল্লাহ তাআলা রহম করুন। আমি তাদের প্রতি অনুরোধ করবো, আপনার ক্বুরানের এই বাণী মানুষের মাঝে পৌঁছে দিয়ে তাদেরকে শিরক থেকে সতর্ক করুন।

শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৫

তাবলীগ জামাতের উপরে আমাদের পোস্টগুলির ফেইসবুক লিংক

তাবলীগ জামাতের উপরে আমাদের পোস্টগুলির ফেইসবুক লিংক 
https://www.facebook.com/dawati.kaj/posts/1649556048649887:0

আমার বান্দাদের মাঝে অল্প সংখ্যক লোকেই কৃতজ্ঞ

#শুকরিয়া
তাক্বদীর বা আল্লাহর নির্ধারিত ভাগ্যের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা এবং আল্লাহর নিয়ামতের জন্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা জীবনে সুখী হওয়ার জন্য সবচাইতের জরুরী।
আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা বলেন,
আমার বান্দাদের মাঝে অল্প সংখ্যক লোকেই কৃতজ্ঞ। সুরা সাবাঃ ১৩।
আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা আরো বলেছেন,
সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদেরলে স্মরণ রাখবো। আর তোমরা আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর; আমার প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়ো না। সুরা বাক্বারাহঃ ১৫২।
______________________
জীবনে সুখী হওয়ার একটা শর্ত হচ্ছে, রিদা মিন ক্বালিল বা অল্পে তুষ্ট থাকা। দুনিয়াতে অনেকে আপনার চাইতে অধিক ভোগ-বিলাসে জীবন কাটাবে, আবার দুনিয়াতে অনেকে আপনার চাইতে অনেক বেশি দুঃখ-কষ্টে সময় পার করবে। আপনি যদি দুনিয়ার ব্যপারে আপনার চাইতে অধিক নেয়ামতপ্রাপ্ত কারো দিকে তাকান, তাহলে আল্লাহ্ আপনাকে যা দিয়েছেন সেগুলোকে অনেক কম মনে হবে। যার ফলে আপনি আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া না করে উল্টা না পাওয়ার জন্য আফসোস করে নাশোকরী করে বসবেন। আর দ্বীনের ব্যপারে যদি আপনি আপনার চাইতে নিকৃষ্ট কোন ব্যক্তির দিকে তাকান, তাহলে নিজের পাপ কাজগুলোকে অনেক কম মনে হয়ে নিজেকে আল্লাহর ওয়ালী ভাবতে শুরু করবেন। সেইজন্য রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা সবসময় দুনিয়ার ব্যপারে তোমাদের চাইতে নিচু কারো প্রতি লক্ষ্য করবে, আর দ্বীনের ব্যপারে তোমাদের চাইতে উত্তম কোন ব্যক্তির দিকে লক্ষ্য করবে। এতে করে তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতগুলোর কথা স্বরণ করতে পারবে এবং এটা তোমাদেরকে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞশীল হতে সাহায্য করবে।
______________________
অল্পে তুষ্ট থাকা নিয়ে বিখ্যাত কবি শেখ সাদী রহঃ এর একটা সুন্দর কবিতার বাংলা অনুবাদঃ
একদা ছিলনা জুতা চরণ যুগলে
দহিল হৃদয়-অমন সেই ক্ষোভানলে,
ধীরে ধীরে চুপি চুপি দুঃখাকুল মনে
গেলাম ভজনালয়ে ভজন কারণে।
দেখি সেথা একজন পদ নাহি তার
অমনি জুতার খেদ ঘুচিল আমার।
পরের দুঃখের কথা করিলে চিন্তন
আপনার মনে দুঃখ থাকে কতক্ষণ?
______________________
একটু চিন্তা করে দেখুনঃ আমাদের দুই পা, দুই চোখ, দুই কান, অংগ প্রত্যংগ গুলো আমাদের জন্য কত বড় নেয়ামত, যা না চাইতেই আল্লাহ আমাদেরকে দিয়েছেন। অথচ আমরা এই নেয়ামতগুলোর ব্যপারে উদাসীন!
আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তাআলা বলেন, (হে নবী! আপনি তাদেরকে) বলুন, তিনিই (হচ্ছেন মহান আল্লাহ্ যিনি) তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদেরকে দিয়েছেন কান, চোখ এবং অন্তর। (কিন্তু তোমরা) তোমরা খুব সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। সুরা মুলকঃ ২৩।
দুনিয়ার অনেক মানুষ আছে যারা চোখে দেখতে পারেনা, কানে শুনতে পারেনা, হাটা চলা করতে পারেনা, হাত-পা না থাকার কারণে পংগু হয়ে আছে, রোগ বা বয়সের ভারে হাসপাতালে বা বিছানায় অসহায় হয়ে পড়ে আছে. . .তার বিপরীতে আল্লাহ আমাদেরকে সুস্থ-সমর্থ্য রেখেছেন, হাটা চলা করার শক্তি দিয়েছেন, সেজন্য আমাদের উচিৎ সর্বদা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা। সত্যি কথা হচ্ছে, না চাইতেই এই নেয়ামতগুলো পেয়ে যাওয়ায়, দিন-রাত ২৪ ঘন্টা এই নেয়ামত ভোগ করলেও আমাদের কখনো মনেই হয়না যে এইগুলো আল্লাহ্‌ আমাদেরকে দান করেছেন। এমন অনেক নেয়ামত আমাদের জীবনে রয়েছে যা আল্লাহর দান কিন্তু আমরা বুঝতে পারিনা বা স্বীকার করিনা। এইজন্য আল্লাহ্‌ তাআআলা বলেছেন,
যে সকল বস্তু তোমরা চেয়েছ, তার প্রত্যেকটি থেকেই তিনি তোমাদেরকে দান করেছেন। যদি তোমরা আল্লাহর নেয়ামতসমূহ গণনা কর, তবে সেইগুলো গুণে শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় মানুষ হচ্ছে অত্যন্ত জালেম (অন্যায়কারী) ও অকৃতজ্ঞ। সুরা ইব্রাহীমঃ ৩৪।
সর্বশেষ, আমরা কেনো সর্বদা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবো, তাঁর নির্ধারিত তাকদীরের প্রতি সন্তুষ্ট থাকবো, আশা করি নিচের এই হাদীসটা পড়লে সেটা বুঝতে আমাদেরকে সাহায্য করবে।
রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রভাত করে এমন অবস্থায় যে, শরীরিকভাবে সে সুস্থ আছে, তার জান-মালের নিরাপত্তা আছে এবং তার কাছে ঐ দিনের খাদ্য মওজুদ আছে, তবে তাকে যেন সমস্ত দুনিয়া দিয়ে দেওয়া হয়েছে।


প্রশাসন, নেতৃত্ব ও মুসলিম শাসক নিয়ে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর

প্রশাসন, নেতৃত্ব ও মুসলিম শাসক নিয়ে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর
- আনসারুস সুন্নাহ
______________________
১-নং প্রশ্নঃ মুসলিম আমীর বা শাসক কে?
উত্তরঃ মুসলিম শাসক হচ্ছে
ক. যিনি কোন মুসলিম ভূখন্ডের শাসন কর্তৃত্ব দখল করে আছেন,
খ. যিনি নিজে মুসলিম এবং সালাত পড়েন,
গ. প্রকাশ্য বড় শিরক, কুফুরী অথবা ইসলাম ভংগকারী কোন কাজে লিপ্ত হয়না,
ঘ. দেশবাসীকে সালাত পড়তে বা দ্বীন ইসলামের মূল বিধি-বিধান মানতে বাঁধা দেন না,
ঙ. দেশবাসীকে প্রকাশ্য বড় শিরক ও কুফুরী করতে বাধ্য করেন না,
চ. যিনি আহলুল হাল ওয়াল আক্বদ কর্তৃক স্বীকৃত বা মনোনীত। আহলুল হাল ওয়াল আক্বদ হচ্ছেন শীর্ষস্থানীয় আলেম সমাজ, বিভন্ন মুসলিম গোত্রের প্রধান, মুসলিম সামাজের নেতা, এমন নেতৃস্থানীয় সম্মানিত লোকেরা।
এই গুণগুলো কোন শাসকে মাঝে বিদ্যমান থাকলে তিনি একজন মুসলিম শাসক। এখন ব্যক্তি জীবনে সেই শাসক নেককার কিংবা অত্যাচারী পাপীষ্ঠ বা জালেম যাই হয়ে থাকুন না কেনো, যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি ক্ষমতায় থাকবেন ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি মুসলিম আমীর বা শাসক বলে বিবেচিত হবেন।   

২-নং প্রশ্নঃ মুসলিম আমীর বা শাসকের আমাদের উপর কি অধিকার রয়েছে?
উত্তরঃ মুসলিম আমীর বা শাসক একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, যার উপরে মুসলিমদের জাতীয় ও সামাজিক দায়িত্বগুলো ন্যস্ত। সেইজন্যে আমাদের উপরে তার কিছু অধিকার রয়েছে, তাদের উপরেও আমাদের অধিকার রয়েছে।  মুসলিম আমীর বা শাসকের অধিকার হচ্ছে, খুশির সময়ে কিংবা ক্রোধের সময়ে সকল সময়ে তাদের আনুগত্য করা এবং তাদের মেনে চলা। এমনকি কোন নাক কাটা হাবশি গোলামও (অর্থাৎ, নিচু স্তরের কোন ব্যক্তি) যদি শাসক হয় তবুও তার আনুগত্য করতে হবে। তারা যদি আমাদের কারো উপর জুলুম অত্যাচার করে, তবুও তাদের আনুগত্য থেকে বের হওয়া হারাম।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সুখে-দুঃখে, খুশী কিংবা অখুশী উভয় অবস্থাতে, এবং তোমার ওপর অন্য কাউকে প্রাধান্য দিয়েও যদি আমীর করা নিযুক্ত হয়, তবুও সর্বাবস্থায় আমীরের নির্দেশ শোনা এবং তার আনুগত্য করা তোমার জন্য বাধ্যতামূলক।
সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৩৬।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন, কোন ব্যক্তি তার আমীরের কোন কাজ অপছন্দ করলে সে যেন ধৈর্য্য ধারণ করে। কেননা যে ব্যক্তি সরকারের আনুগত্য থেকে এক বিঘত পরিমাণও দূরে সরে যায় এবং এই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে সে যেন জাহেলী মৃত্যুবরণ করল
সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭০৫৩, মুসলিম, হাদীস নং ১৮৪৯।
এনিয়ে আরো অনেক হাদীস রয়েছে। তবে এই আনুগত্য অবশ্যই জায়েজ কাজে, হারাম কিংবা নাজায়েজ কাজে কোন আনুগত্য নেই। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
নাফরমানীমূলক কাজে কারো আনুগত্য করা জায়েয নেই। প্রকৃতপক্ষে আনুগত্য তো কেবল ন্যায় এবং সৎ কাজেই।
সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৪০।
এনিয়ে বিস্তারিত জানার জন্যে আমাদের এই পোস্ট দেখুন
প্রসংগঃ মুসলিম আমীর বা শাসকদের অধিকার
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/1448331918532884:0
______________________
৩-নং প্রশ্নঃ মুসলিম আমীর বা শাসকের বিরুদ্ধে যে বিদ্রোহ বা যুদ্ধ ঘোষণা করে তার হুকুম কি?
উত্তরঃ আহলে সুন্নত ওয়াল জামআত এর আক্বীদাহ হচ্ছে, মুসলিম আমীর বা শাসকের অন্যায়, পাপ বা দ্বীনের ব্যপারে ত্রুটির কারণে যে ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে কিংবা তার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়, সে ব্যক্তি একজন খারেজী। এ ব্যপারে ইমাম আল-বারবাহারি রাহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু ৩২৯ হিজরী) তার লিখিত বিখ্যাত আক্বীদাহর কিতাবে উল্লেখ করেছেন,
যে ব্যক্তি কোন মুসলিম শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ (যুদ্ধ) করে সে
১. খারেজীদের অন্তর্ভুক্ত একজন,
২. সে মুসলিমদের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি করলো,
৩. সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদীসের বিরোধীতা করলো এবং
৪. তার মৃত্যু যেন জাহেলী যুগের মৃত্যুর মতো।
শরাহুস সুন্নাহঃ পৃষ্ঠা ৪২।
এনিয়ে বিস্তারিত জানার জন্যে আমাদের এই পোস্ট দেখুন
বিদ্রোহ করা আহলে সুন্নতের মূলনীতি বিরোধী
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/1411518355547574
______________________
৪-নং প্রশ্নঃ উত্তরঃ রাজতন্ত্রের মাধ্যমে মুসলিম শাসক নির্বাচন করা কি জায়েজ?
উত্তরঃ মুসলিমদের জন্যে আদর্শ হচ্ছে নেতৃস্থানীয় শূরা সদস্যরা পারস্পরিক সমঝোতা ও পরামর্শের ভিত্তিতে মুসলিম শাসক নির্বাচন করবেন। যেমনটা আল্লাহ তাআলা আদেশ করেছেন, (মুমিনরা যেন) পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে কাজ করে।
সুরা শুরাঃ ৩৮।
শুরা সদস্যের মাধ্যমে শাসক নির্বাচন করা হচ্ছে সর্বোত্তম। তবে মুসলিমদের ইতিহাসে এর পাশাপাশি, শুরা বিহীন পূর্ববর্তী শাসক কর্তৃক একার সিদ্ধান্তে পরবর্তী শাসক নিয়োগের অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। যেমন, আল্লাহ তাআলা সুলাইমান (আঃ) এর বংশধরদেরকে রাজতন্ত্র দিয়ে শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেছিলেন।
অনেক নবীর আমীরে মুয়াবিয়া (রাঃ) নিজ ছেলে ইয়াজীদকে পরবর্তী শাসক নিয়োগ করে যান যা তখনকার অধিকাংশ সাহাবী তাকে মেনে নেন, যদিও অনেকেই তাকে সবচাইতে যোগ্য ব্যক্তি মনে করতেন না। কিন্তু শাসক যদি কাউকে ক্ষমতার অধিকারী দিয়ে যান, তাকে মেনে নেওয়া সাহাবীদের আদর্শ।
রাজন্ত্র সম্পর্কে সংক্ষেপে বলা যায়, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সহীহ হাদীস অনুযায়ী তাঁর মৃত্যুর মাত্র ৩০ বছর পরেই খলিফাহর পরিবর্তে রাজতন্ত্রের আদর্শে মুসলিম নেতা নিয়োগ করা শুরু হয়। এবং তার পর থেকে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত তুর্কী খেলাফতের প্রায় পুরোটাই রাজতন্ত্র অনুযায়ী নেতা নির্বাচিত হয়ে আসছে। এই পুরো সময় জুড়ে হাজার হাজার সাহাবী, তাবেয়ী, চার মাযহাবের ৪ ইমাম, ইমাম আবু হানীফা, ইমাম মালেক, ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমাদ, হাদীস গ্রন্থগুলোর সংকলনকারী ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম, ইমাম তিরমিযী, ইমাম নাসায়ী সহ অন্যান্যরা, পরবর্তী যুগের অন্যান্য মুজতাহিদ ইমামরা যেমন ইবনে তাইমিয়্যা, ইবনে হাজার আসকালানী, ইমাম নববী, আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি রহম করুন, তাদের কেউই এই ফতোয়া দেন নি যে, রাজার ছেলে রাজা হবে, ইসলামী শরিয়াতে এই বিধান হারাম বা কুফুরী।
সাহাবা, তাবেয়ী কিংবা আমাদের পূর্ববর্তী কোন আলেম রাজতন্ত্রকে হারাম বলে ফতোয়া দেন নি, সুতরাং আমরা কেউই তাদের আগ বেড়ে রাজতন্ত্রকে হারাম বলে ফতোয়াবাজি করবোনা। আর এনিয়ে মাওলানা মওদুদী, সাইয়েদ কুতুব, জামাতে ইসলামী, ইখোয়ানুল মুসলিমিন, হিজবুত তাহরীর, আল-কায়েদাহ, আইসিস, আধুনিক যুগের পথভ্রষ্ট ব্যক্তি বা দলের মনগড়া ফতোয়ার দিকে লক্ষ্য করবোনা।
এনিয়ে বিস্তারিত জানার জন্যে আমাদের এই পোস্ট দেখুন
প্রসংগঃ রাজতন্ত্র কি ইসলামে জায়েজ?
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/804396302926452
______________________


বিতির সালাত কাযা পড়ার নিয়মঃ

বিতির সালাত কাযা পড়ার নিয়মঃ
যারা রাতে বিতির পড়তে পারেন নি কিন্তু ফযরের ওয়াক্ত হয়ে গেছেঃ
১. বিতির সালাতের অনেক সওয়াব, ইচ্ছা হলে কাযা পড়তে পারেন। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেউ বিতির পড়তে না পারলে কাযা পড়তে বলেছেন, তিনি নিজেও কজনো অসুস্থতার কারণে ফযরের পূর্বে বিতির পড়তে না পারলে, পরে ভোরবেলা কাযা পড়ে নিতেন।
২. বিতির সালাতের কাযা হলে সূর্য উদয় হয়ে বেলা উঠার পরে বা যখনই মনে পড়বে তখনই পড়তে হবে।
৩. বিতির সকাল বেলা কাযা পড়লে ১/৩/৫ বিজোড় করে পড়া যাবেনা। যিনি বিতির ১ রাকাত পড়তেন তিনি সকাল বেলা কাযা পড়লে ২ রাকাত পড়বেন, যিনি ৩ রাকাত পড়তেন তিনি ২ সালামে ২+২=৪ রাকাত পড়বেন।
এ সম্পর্কিত হাদীসগুলোঃ
১. বিতির সালাত হচ্ছে ১, ৩ বা ৫ রাকাত, যার যত রাকাত ভালো লাগে সে তাই পড়বে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, বিতির সলাত (হক্ক) সত্য। অতএব, কেউ চাইলে তা পাঁচ রাকাতও পড়তে পারে, তিন রাকাতও পড়তে পারে এবং এক রাকাতও পড়তে পারে।
সুনানে নাসায়ীঃ ১৭১০-১৭১৩; মুসনাদে আহমাদঃ ১৪২২,২৩০৩৩; সুনানে দারিমীঃ ১৫৮২।
হাদীসের তাহক্বীক্বঃ শায়খ আলবানী (রহঃ) হাদীসটিকে সহীহ আখ্যা দিয়েছেন। মিশকাতঃ ১২৬৫, সহীহ আবু দাউদঃ ১২৭৮।
২. বিতির কাযা পড়া যাবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি বিতির সলাত না পড়ে ঘুমিয়ে গেলো বা তা পড়তে ভুলে গেলো, সে যেন ভোরবেলা অথবা যখন তার স্মরণ হয় তখন তা পড়ে নেয়।
সুনানে ইবনে মাজাহ্ঃ হাদিস নং ১১৮৮।
তাহক্বীক্বঃ শায়খ আলবানী (রহঃ) হাদীসটিকে সহীহ আখ্যা দিয়েছেন। তাখরীজুল মিশকাতঃ ১২৬৮, ১২৭৯; ইরওয়াহ গালীলঃ ২/১৫৩।
৩. বিতির কাযা পড়লে বিজোড় নয়, জোড় করে পড়তে হবে। মা আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর) কখনো নিদ্রা বা কোন ব্যাধি তাঁর রাত জেগে ইবাদতের ব্যাপারে সংঘাত ঘটালে তিনি দিনের বেলা বার (১২) রাকাত সালাত আদায় করে নিতেন।
সহীহ মুসলিম, খন্ড ৪, হাদিস নং ১৬২৩, মুসাফিরের স্বলাত ও কসর স্বলাতের অধ্যায়
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতের সালাত (তাহাজ্জুদ+বিতির) সর্বদা ১১ রাকাত পড়তেন। কিন্তু কখনো অসুস্থতার কারণে ফযরের পূর্বে পড়তে না পারলে ভোরবেলা পড়লে ১১ এর পরিবর্তে ১২ পড়ে নিতেন। সুতরাং, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাহ অনুযায়ী যে ব্যক্তি ১ রাকাত বিতির পড়তো তিনি ২, যিনি ৩ পড়তেন তিনি ৪ রাকাত পড়বেন, যিনি ৫ রাকাত বিতির পড়তে অভ্যস্ত তিনি ৬ পড়বেন। উল্লেখ্য, ৪ বা ৬ পড়লে ২+২=৪ বা ২+২+২=৬ এইভাবে পড়তে হবে, এবং প্রত্যেকে ২ রাকাত শেষে বৈঠক করে সালাম ফেরাতে হবে।
সহীহ হাদীস অনুসারে বিতির সালাত পড়ার নিয়ম জানার জন্যে এই পোস্ট দেখুনঃ

https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/602379406461477

বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৫

“তাকফিরী” কারা?

প্রশ্নঃ তাকফিরী কারা?
তাকফিরীদের বক্তা ও লিখকদের ব্যপারে সাবধান!
উত্তরঃ আরবী কাফির থেকে তাকফির শব্দটি এসেছে। আর কাফের শব্দটি এসেছে কুফর থেকে।
কুফর - কুফর শব্দের অর্থ হচ্ছে অস্বীকার করা, অবিশ্বাস করা অথবা গোপন করা।
কাফের - বাংলাতে কাফের শব্দের অর্থ করা হয় অবিশ্বাসী বা বেঈমান, যে ব্যক্তির কোন ঈমান নেই। যে ব্যক্তি আল্লাহর নাযিলকৃত দ্বীন ইসলাম বা ইসলাম ধর্মের কোন অংশকে, ক্বুরানুল কারীম বা এর কোন আয়াতকে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অথবা কোন একজন নবী অথবা রাসুলকে অস্বীকার করে, ইসলামি আকিদাহ বা এর মৌলিক কোন ধর্মীয় বিশ্বাস বা অকাট্য দলিল দিয়ে প্রমানিত ইসলামের কোন বিধি-বিধানকে অস্বীকার করে, অবিশ্বাস করে বা প্রত্যাখ্যান করে, অথবা এইগুলো নিয়ে হাসি-ঠাট্টা বা অবজ্ঞা করে, নিঃসন্দেহে সে ব্যক্তি একজন কাফের। কাফের ব্যক্তি চির জাহান্নামী, সে কোনদিন জাহান্নাম থেকে বের হতে পারবেনা। অনন্তকাল সে জাহান্নামে কঠিন শাস্তি পেতে থাকবে। আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
উদাহরণঃ ইয়াহুদী ও খ্রীস্টানরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে রাসুল বা আল্লাহর দূত হিসেবে বিশ্বাস করেনা, ক্বুরানুল কারীম আল্লাহর কালাম এই কথা মেনে নেয়না, একারণে তারা কাফের, তারাও চির জাহান্নামী যদিওবা তারা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে। অনুরূপভাবে, নাস্তিক যারা আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করেনা তারাও কাফের। হিন্দুরাও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে রাসুল হিসেবে বিশ্বাস করেনা, সুতরাং একদিক থেকে যেমন তারা যেমন মূর্তি পূজা করে মুশরেক, অন্যদিক থেকে তারা কাফেরও বটে।
তাকফির কোন মুসলিম ব্যক্তিকে কাফের বলে ঘোষণা করাকে তাকফির বলা হয়। অর্থাৎ, যে ব্যক্তি নিজেকে মুসলিম দাবী করে, তাকে স্পষ্ট কোন শিরক বা কুফুরী করার কারণে তাকে কাফের বলে ঘোষণা করাকে তাকফির বলা হয়।
কোন ব্যক্তি যদি নিজেকে মুসলিম দাবী করে, কিন্তু সে দুর্গা পূজাতে শরীক হয়ে মূর্তিকে ফুল দেয়, কার্তিক, গণেশের কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করা, অথবা কোন নবী-রাসূল বা অলি-আওলিয়ার কাছে দুয়া করে, এই সবগুলো কাজ শিরক, যে কারণে ঐ ব্যক্তি নিজেকে মুসলিম দাবী করলেও তার ঈমান নষ্ট হয়ে সে কাফের হয়ে যাবে। অনুরূপভাবে, কেউ যদি ক্বুরানের কোন আয়াতকে অস্বীকার করে, বা আল্লাহর কোন বিধানকে অস্বীকার করে তাহলেও সে কাফের হয়ে যাবে। এমন অনেক কাজ আছে, যেইগুলো সুস্পষ্ট বড় শিরক বা কুফর, যেইগুলোতে লিপ্ত হলে একজন মুসলিমের ঈমান নষ্ট হয়ে সে কাফের হয়ে যাবে।
তাকফিরী কোন মুসলিম যদি শিরক অথবা কুফুরী করে, তাকে তোওবা করে দ্বীনে ফিরে আসতে বলার পরেও সে তোওবা না করে কুফুরীতে স্থির থাকে তাহলে ঐ ব্যক্তি কাফের, এবং কোন আলেম তাকে কাফের বলতে পারেন। তবে সাধারণ মানুষ যারা এই ব্যপারে যথেষ্ঠ জ্ঞানের অধিকারী নন, তারা নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে কাফের বলা থেকে বিরত থাকবেন, কারণ হতে পারে তিনি ভুল বুঝে কোন মুসলিম ব্যক্তিকেই কাফের বলে ফেলেছেন।
কোন মুসলিম ব্যক্তি যদি কোন বড় রকমের অন্যায়, হারাম কিংবা কবীরাহ গুনাহতে লিপ্ত হয়, কিন্তু তা যদি এমন কোন বড় শিরক বা কুফুরী না হয় যে, যার কারণে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে সে কাফের হয়না, তাহলে এমন পাপী মুসলিমদেরকে কাফের বলা মারাত্মক অপরাধ।
কোন মুসলিম ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে কাফির আখ্যাদান সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সতর্কবাণীঃ
১. উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন কেউ তার মুসলিম ভাইকে কাফির বলে, তখন তাদের দুইজনের মধ্যে একজনের উপর তা (কুফুরী) বর্তায়। যা বলেছে, তা যদি সঠিক হয়, তাহলে তো ভালো। নচেৎ (যে কাফের বলেছে), তার উপর ঐ কথা ফিরে যায় (অর্থাৎ সে ব্যক্তি নিজেই কাফির হয়ে যায়)।’’
সহীহ বুখারীঃ ৬১০৪; সহীহ মুসলিমঃ ৬১।
২. আবু যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে কোন ব্যক্তিকে হে কাফির বলে অথবা হে আল্লাহর দুশমন বলে ডাকে, অথচ বাস্তবিক ক্ষেত্রে যদি সে তা না হয়, তাহলে তার (বক্তার) উপর তা বর্তায়।’’
রিয়াদুস সালিহীনঃ ১৭৪২।
৩. সাবিত ইবন যাহহাক (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ঈমানদারকে লানাত (অভিশাপ দেওয়া) করা তাকে হত্যা করার সমান। আর কেউ কোন ঈমানদার ব্যক্তিকে কুফুরির অপবাদ দিলে, সেটাও তাকে হত্যা করার সমান হবে।’’
সহীহ বুখারীঃ ৬১০৫।
যারা কোন মুসলিম ব্যক্তিকে তার কৃত পাপের কারণে কাফের বলে ফতোয়া দেয়, তারাই হচ্ছে তাকফিরী।
উদাহরণঃ ধরুন কোন রাজা মুসলিম, কিন্তু সে তার অধীনস্থদের উপর অনেক জুলুম অত্যাচার করে। সেই রাজা কোন কারণে কিছু মুসলিমকে হত্যা করলো। ধরুন সে ১০০ জন মুসলিমকে হত্যা করলো। সে যদি অন্যায়ভাবে মুসলিমদেরকে হত্যা করে, তাহলে সে অনেক বড় অন্যায় করলো। যেখানে একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করা গোটা মানবজাতিকে হত্যা করে ফেলার সমান অপরাধ!
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, যে কেউ কিসাস (প্রাণের বিনিময়ে প্রাণের আইনের জন্য) অথবা জমীনে ফাসাদ (অনর্থ সৃষ্টি করা) ছাড়া কাউকে হত্যা করে, সে যেন সমস্ত মানব জাতিকেই হত্যা করে ফেলে এবং যে কারও জীবন রক্ষা করে, সে যেন সমস্ত মানবজাতির জীবন রক্ষা করে।
[সুরা আল-মায়িদাহঃ ৩২]
নিরপরাধ মানুষ হত্যা করার কারণে সেই রাজা অনেক বড় ফাসেক এবং জালেম হবে, কিন্তু মানুষ হত্যা করার কারণে কেউ কাফের হয়না। কেউ যদি নিরপরাধ মানুষ হত্যা করাকে হালাল, জায়েজ বা বৈধ মনে করে, তাহলে সবচাইতে বড় হারাম বা কবীরাহ গুনাহকে হালাল মনে করার কারণে সে কাফের হবে। কিন্তু, সে যদি মানুষ হত্যা করা হারাম বলে স্বীকার করে কিন্তু, ব্যক্তিগত শত্রুতা, ক্রোধ বা হিংসার কারণে মানুষ হত্যা করে তাহলে সে অনেক বড় জালেম বা পাপী, কিন্তু একারণে তাকে কাফের বলা যাবেনা। এখন কেউ যদি আবেগের বশবর্তী হয়ে সেই জালেম রাজাকে কাফের বলে, তাহলে সে নিজেও একটা মহা অন্যায় করে বসলো, একজন মুসলিমকে কাফের বলার কারণে।

আর এমন যারা, জুলুম-অত্যাচার বা পাপের কারণে পাপী মুসলিমদেরকে কাফের বলে ফতোয়া দেওয়ার বদ-অভ্যাস রয়েছে, তাদের ব্যপারে মানুষদেরকে সতর্ক করার জন্যে তাদেরকে তাকফিরী বলা হয়।

রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০১৫

জামাতে ইসলামীর উপরে আমাদের সবগুলো পোস্টের ফেইসবুক লিংক

জামাতে ইসলামীর উপরে আমাদের সবগুলো পোস্টের ফেইসবুক লিংক -
https://www.facebook.com/dawati.kaj/photos/a.1539584829647010.1073741828.1440162482922579/1648238308781661/?type=3