বুধবার, ৪ মে, ২০১৬

শায়খ ওয়াসী উল্লাহ আব্বাস হা’ফিজাহুল্লাহ-এর জীবনী


নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আল-উলামা ওয়ারাসাতুল আম্বিয়া অর্থাৎ, আলেমরা হচ্ছে নবী-রাসুলদের ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকারী। এজন্য যুগে যুগে শয়তানের একটা ষড়যন্ত্র হচ্ছে উলামায়ে রাব্বানীদের থেকে সাধারণ মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া, বিভিন্নভাবে তাদেরকে যাতে মানুষ না চিনে, তাদের কাছ থেকে উপকৃত হতে না পারে, সেই চেষ্টা করা। এতে করে তারা প্রকৃত ইসলাের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে এবং সহজেই ভন্ড আলেমদের খপ্পড়ে, অথবা শিরক-বেদাত, হারাম ও পাপাচারের গর্তে গিয়ে পড়বে।
কেয়ামতের লক্ষণ হচ্ছে আলেমদের সংখ্যা কম হবে আর তোতা পাখির মতো মুখস্থ বিদ্যার অধিকারী কিন্তু প্রজ্ঞার অভাব, এমন বক্তা ও ক্বারীদের সংখ্যা বেশি হবে। তাদের ইলম কম হবে, কিন্তু মুখস্থ বিদ্যায় পারদর্শী হবে, যা বলবে নিজেরা না বুঝে ভুল ব্যখ্যা করবে। আর বর্তমানে এমনটাই দেখা যাচ্ছে, সরলমনা মুসলমানেরা ইলমের অভাবে এইরকম হাফেজে দলীলদেরকেই আল্লামাহ, মুফতি বলে মনে করছে! কেয়ামতের পূর্বে মানুষ অজ্ঞ লোকদেরকে আলেম মনে করে তাদের কাছে ফতোয়া চাইবে। ঐ মূর্খরা তখন নিজের মনগড়া ফতোয়া দিয়ে নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে, সাথে সাথে তাদের যারা অনুসরণ করবে তাদেরকেও জাহান্নামী বানাবে (নাউযুবিল্লাহ)।
যাই হোক, চলুন আজকে আমরা মসজিদুল হারাম বা কাবার সম্মানিত মুদাররিস (শিক্ষক) ও ডেপুটি মুফতি, শায়খ ওয়াসী উল্লাহ আব্বাস হা'ফিজাহুল্লাহ এর সংক্ষিপ্ত জীবনী জেনে নেই।
___________________________
আল্লামাহ শায়খ ডা. ওয়াসী উল্লাহ আব্বাস (হাফিজাহুল্লাহ), তিনি মূলত আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ইন্ডিয়াতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু অল্প বয়স থেকেই দীর্ঘদিন ধরে তিনি সৌদি আরবে বসবাস কর আসছেন। সেখানেই তিনি পড়াশোনা করেন এবং বর্তমানে মসজিদুল হারাম থেকে দ্বীন প্রচার করে যাচ্ছেন। ১৯৬৮ সালে তিনি "মদীনা ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়" থেকে তাঁর ব্যাচেলার ডিগ্রী সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি মক্কার "উম্মুল কুররাহ বিশ্ববিদ্যালয়" থেকে এম.এ. ও পরে হাদীসের উপর পি.এইচ.ডি. ডিগ্রী সম্পন্ন করেন। ১৯৭৯ সাল থেকে তিনি উম্মুল কুররাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের এম.এ. ও পি.এইচ.ডি. ছাত্রদেরকে তাফসীর, হাদীস, হাদীসের উসুল শিক্ষা দিয়ে আসছেন। এছাড়া মসজিদুল হারামে তিনি বিগত ১৬ বছর ধরে নিয়মিত আরবী ও উর্দু ভাষাতে দারস দিয়ে যাচ্ছেন, ঠিক সেই জায়গা থেকে যেখান থেকে দারস দিয়েছেন রইসুল মুফাসসির, বিখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ), বিশিষ্ট তাবেয়ী আতা ইবনে আবি রাবাহ (রহঃ) তাঁদের ছাত্রদেরকে দারস দিতেন। এটা একজন আলেমের জন্য অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদার বিষয়, আল্লাহ তাঁকে কবুল করে নিন, আমিন। তিনি হারামে সহীহ বুখারী ও সুনানে আবু দাউদ, হাদীসের উসুলের উপর কিতাব সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বই থেকে দারস দিয়ে থাকেন।
শায়খের একটা আমলঃ শায়খ বলেন, আমি এমন কোনো নামায নেই যেই নামাযের সিজদাতে রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া... এবং রাব্বির হাম হুমা..., এই দুইটা দুয়া করিনা। মা শা আল্লাহ! খুব সুন্দর একটা আমল, আমরাও চেষ্টা করবো সিজদাতে গুরুত্বপূর্ণ এই দুইটা দুয়াগু বেশি করে পড়ার জন্য।
একটা লক্ষ্যণীয় বিষয়ঃ শায়খ তার লেকচারে প্রায়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাম বললে পেয়ারা নবী (প্রিয় নবী) বলে সম্বোধন করে থাকেন। শায়খের অনেক লেকচার আরবী ও উর্দুতে পাওয়া যায়, আপনারা YouTube এ Shaykh Wasi Ullah Abbas লিখে সার্চ দিয়ে তার লেকচার শুনতে পারবেন। শায়খ উয়াসী উল্লাহ আব্বাস এর ইলম অর্জন করা মহান যাত্রা ও সংক্ষিপ্ত জীবনী শায়খের কাছ থেকেই শুনুন এই লিংকে -
https://www.youtube.com/watch?v=bNIuZddOp2Q

মঙ্গলবার, ৩ মে, ২০১৬

আপনার দ্বীন সম্পর্কে জানুন

আলহামদুলিল্লাহ।
(১) ওযুর পানি পবিত্র, কারো নিজের না অন্য কারো ওযুর পানি গায়ে বা কাপড়ে লাগলে কোন সমস্যা নেই।
(২) কারো স্বামী বা স্ত্রী মারা গেলে সে তার মৃতদেহ দেখতে পারবে, গোসলও করাতে পারবে, এতে কোন সমস্যা বা বাধা নেই। অনেকে মনে করে মৃত্যুর সাথে সাথে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়, সুতরাং তাদের একজন আরেকজনকে দেখা হারাম। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।
(৩) সিনেমা নাটকে অনেক নামধারী মুসলমান অভিনেতা অভিনেত্রী সামান্য কয়টা টাকার জন্যে যিনা-ব্যভিচারের অভিনয় করে, এমনকি এদেরকে টাকা দিলে মূর্তিপূজাও করে। অনেক গায়ক গায়িকা টাকার জন্যে অশ্লীল ও হারাম গান গাইছে, শিরকী কথা প্রচার করছে। মানব জাতির মাঝে এমন নারী পুরুষেরা নিকৃষ্ট এবং শয়তানের সৈনিক। এদের জন্যে কেয়ামতের দিন কঠোর শাস্তি রয়েছে। আফসোসের বিষয় হচ্ছে অনেক মুসলমান নারী পুরুষ এদেরকে ঘৃণা করেনা, বরং এদের হারাম কাজের দ্বারা আনন্দ উপভোগ করে, তাদেরকে মোহব্বত করে। এভাবেই এই সমস্ত মানুষেরা মানবরূপী শয়তানদের দ্বারা পথভ্রষ্ট হয়।
(৪) সকালের দিকে আল্লাহর অধিক বরকত রয়েছে, সুতরাং যেকোন ভালো কাজ সকাল সকাল করার চেষ্টা করবেন। যদিও আল্লাহর রহমত দিন রাত ২৪ ঘন্টাই উন্মুক্ত ও প্রশস্ত।
(৫) আসরের পরে ঘুমালে ক্ষতি হয় এটা ভিত্তিহীন, জাল কথা। এসময় ক্বুরান পড়া, জিকির করা, পড়াশোনা করা নিষিদ্ধ মনে করা একটা কুসংস্কার ও বাজে কথা।
(৬) মাগরিবের সালাতের পরে ঘুমানো এবং ইশা সালাতের পরে অনর্থক গল্প বা আড্ডা দেওয়া মাকরুহ। তবে ইশার পরে দ্বীন শিক্ষার জন্যে রাত্রি জাগরণ করা হাদীস দ্বারা প্রমানিত।
(৭) আল্লাহকে মুশরিকদের দেবতাদের নামে যেমন ব্রম্মা বিষ্ণু নামে ডাকা জায়েজ নয়। আল্লাহকে ডাকতে হয় ক্বুরান ও হাদীস দ্বারা প্রমানিত আসমাউল হুসনা সমূহ দ্বারা।
(৮) মানুষের কাছে বেশি চাইলে রাগ করে, কিন্তু আল্লাহর কাছে তার কোন বান্দা না চাইলে আল্লাহ রাগ করেন। আর আল্লাহ কাউকে কিছু দিলে তার কমে যাবেনা। সেইজন্যে আপনি যখন কোন কিছু চাইবেন, সবচাইতে বড়টাই চাইবেন, ছোটটা নয়। যেমন যখন জান্নাত চাইবেন একেবারে এক নাম্বার জান্নাত, জান্নাতুল ফেরদাউসই চাইবেন। কখনো মনটাকে ছোট করবেন না, আল্লাহর কাছে যত বেশি চাইবেন, আল্লাহ তত বেশি খুশি হন এবং বেহিসাবে দান করেন, হয় এই দুনিয়াতেই নয়তো আখেরাতে।
(৯) ব্যস্ততা ও ব্যক্তিগত কিছু কারণে অনেকের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। সেজন্যে আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। কারো ইমার্জেন্সি কোন প্রশ্ন হলে ইনবক্সে পাঠাবেন। আর উত্তর দেওয়া হোক না না হোক, আমাদের পোস্টে ফলোয়ারদের কেউ কোন উত্তর দেওয়া, অপ্রাসংগিক কোন মন্তব্য না নিজস্ব মতামত দেওয়া, লিংক বা আইডি শেয়ার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। পেইজটাকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে এ ব্যপারে আমাদের পেইজের নিয়ম অনুসরণ করার জন্যে আমি সকলের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি। আর পাঠকদেরকে আমি বলছি, ফেইসবুকে ইন্টারনেটে কিছু লেখা বা উত্তর পেলেই সেটাকে ইসলামিক বলে মনে করবেন না। বরং তার উতস কি যাচাই করার চেষ্টা করুন।
(১০) সমস্ত শক্তির উতস হচ্ছে সূর্য, এটা বিজ্ঞানী নামধারী কিছু ভ্রান্ত লোকের ধারণা। সমস্ত শক্তির উতস হচ্ছেন এক আল্লাহ তায়া'লা।

(১১) আল্লাহ আমাদের ও আপনাদেরকে সফলতা দান করুন। আল্লাহ তার নবী, নবীর স্ত্রী, বংশধরদের প্রতি শান্তি ও বরকত নাযিল করুন। আমিন।

সোমবার, ২ মে, ২০১৬

সেই ফেতনাহ যা কেয়ামতের পূর্বে প্রকাশ পাবে এবং মুসলমানদের মাঝে সর্বত্র বিস্তার লাভ করবে

হাদীসে বর্ণিত কি সেই ফিতনাহ, যা কেয়ামতের পূর্বে প্রকাশ পাবে এবং মুসলমানদের মাঝে সর্বত্র বিস্তার লাভ করবে?
আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, (কেয়ামতের পূর্বে) তোমাদের মাঝে এমন একটা ফিতনাহ সৃষ্টি হবে, যা থেকে কোন মুসলমানের ঘরই রেহাই পাবে না।
সহীহ বুখারীঃ ৩১৭৬, আবু দাউদঃ ৫০০০, আহমাদঃ ২৩৪৫১।
আল্লামাহ সালেহ আল-ফাউজান হাফিজাহুল্লাহ উপরোক্ত হাদীসের ব্যখ্যায় বলেন,
হাদীসে বর্ণিত এই ফিতনাহ এমন একটা ফিতনাহ, যেটা থেকে কোন মুসলমানের বাড়ি বেঁচে থাকতে পারবেনা। এটা একটা মারাত্মক সমস্যা, যা বর্তমানে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে এবং খুব বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন, আমার (শায়খ ফাউজন-এর) মতে, বর্তমান যুগের বিভিন্ন মিডিয়া এবং ইন্টারনেট হচ্ছে হাদীসে বর্ণিত সেই ফিতনাহ। কে জানে, এই মিডিয়ার থেকে সৃষ্ট ক্ষতি কত দূর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে! এই (মিডিয়া, ইন্টারনেট) নিজে থেকে মানুষের বাড়িতে প্রবেশ করছে। তোমার তাদের কাছে যাচ্ছ বিষয়টা এমন নয়, বরং তারা নিজেরাই তোমাদের কাছে চলে আসছে। তুমি তোমার বিছানায় শুয়ে আছে, আর এই অলস জিনিসটা তোমার পাশে আছে। তোমাদের কোন চেষ্টা পরিশ্রম ছাড়াই এইগুলো তোমার জন্যে অনেক বড় ক্ষতি ও ধংস নিয়ে আসছে। আর এটাই হচ্ছে ফিতনাহ (বিপর্যয়, কঠিন পরীক্ষা)। নাআম।
*এখানে মিডিয়া দ্বারা রেডিও, টেলিভিশন, ইউটিউব, ফেইসবুক, টুইটার ইত্যাদি যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে বোঝানো হয়েছে।


শনিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৬

জনপ্রিয় বক্তা ও লিখকদের ব্যপারে কিছু কথা

আজ (২৩শে এপ্রিল) Dr. Bilal Philips এর পেইজ থেকে #HalalHumor ক্যাপশান দিয়ে একটা পোস্ট করা হয়েছে, যেখানে ইসমাঈল মেঙ্ক এবং ড. বিলাল ফিলিপস-এর কিছু কাল্পনিক কথোপকথ ছবির সাহায্যে দেখানো হয়েছে। সম্পর্কে কিছু কথা উল্লেখ করছি।
(১) ফানি শায়খ
বর্তমানে অনেক বক্তা এবং দ্বাইয়ী দ্বীন প্রচারের নামে ফানি শায়খ এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। তাদের মাঝে অনেকের মান এতোটাই নীচে নেমে গেছে যে, তাদের ভূমিকা এখন আর দ্বাইয়ীর পর্যায়ে বলা যায় না, বরং তারা যেন একজন জোকার, যাদের কাজ হচ্ছে ভক্ত শ্রোতাদেরকে বিনোদন দেওয়া। এদের স্পর্ধা এতোটাই বেশি যে, এরা দ্বীন শেখানোর নামে তাদের বক্তব্য ও কথার মাঝে হালাল হারামের মতো বিষয়াবলী, রাসুল (সাঃ)-এর সুন্নাহ, সাহাবীদেরকে নিয়ে, পরহেজগার আলেম ওলামা ও তাদের ফতোয়া নিয়ে, আহলে সুন্নাহর অনুসারী লোকদেরকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা ও কটাক্ষ করতে দ্বিধা বোধ করেনা। আমি এখানে যে বৈশিষ্ট্যগুলোর কথা উল্লেখ করেছি, এমনই কিছু ঘটনার উদাহরণ দিচ্ছি। আল-মাগরিব ইনস্টিটিউট এর প্রতিষ্ঠতা মুহাম্মাদ আল-শরীফ, যে কিনা বিবাহ করাকে একপ্রকার জুলুম বলে কটাক্ষ করেছে। নোমান আলী খান, যে কিনা সাহাবীদের সম্পর্কে মিথ্যা কাহিনী বলে তাদের মানহানি করছে, এমনকি একজন সাহবীকে pokieman বলে কটাক্ষ করেছে। এছাড়া আরেকজন অভিনব বক্তা কামাল আল-মাক্কী তার দাওয়াতী কাজকে ফলপ্রসূ করার জন্যে যাদু(!) বিদ্যাকে বেছে নিয়েছেন। এমনকি তিনি তার এই ভ্রান্ত কাজকে ডিফেন্ড করার জন্যে হাতের কারসাজির চাইতে জঘন্য বিষয়, লেভেটেশান (শূণ্যে উড়ে দেখানোর) মতো কুফুরী কাজ করে দেখিয়েছেন।
এমন দ্বাইয়ী এবং বক্তা, যারা হাসি-ঠাট্টাকে দাওয়াতের মাধ্যম বানিয়েছে, তাদের জন্যে শায়খ সালেহ আল-ফাউজান হাফিজাহুল্লাহর দুইটি বক্তব্য পেশ করছিঃ
শায়খ সালেহ আল-ফাউজান হাফিজাহুল্লাহ বলেন,
বর্তমান যুগে অন্য অনেক ফেতনার সাথে এই উম্মত সবচাইতে বড় যে ফেতনার সম্মুখীন সেটা হচ্ছে, এমন অনেক দ্বাইয়ী আছে যারা ইলম ছাড়াই অজ্ঞতাবশত মানুষকে গোমরাহী ও বাতিলের দিকে দিকে দাওয়াত দিচ্ছে।
শায়খ ফাউজান আরো বলেছেন, Dawah is not by way of jokes, clowning and humor. Dawah is by the Book and the Sunnah and preaching, it is not by humor or making the people laugh or things like this. This is not from kindness. Perhaps someone will say this is from kindness. Kindness is not joking that leads to comedy. - Shaykh Saalih Al Fawzaan
(২) মানুষকে হাসানোর জন্যে দাওয়াতী কাজের মাঝে মিথ্যা বলা
দাওয়াতী কাজের মাঝে মানুষকে হাসানোর জন্যে অনেক বক্তা মিথ্যা ঘটনা রচনা করে অথবা, সত্যিকারের চরিত্রের সাথে সম্পর্কিত করে কাল্পনিক কথোপকথন বা কার্টুন অংকন করে, যা শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম। আজ ইসমাঈল মেঙ্ক এবং ড. বিলাল ফিলিপস এর মাঝে কথোপকথনের যেই ছবিটা প্রচার করা হয়েছে, এই কনভার্সেশানটা আসলে তাদের দুইজনের মাঝে কখনোই সংঘটিত হয়নি। বরং Dr. Bilal Philips এর পেইজের একজন নাম না জানা এডমিন নিজের মস্তিষ্ক প্রসূত চিন্তা থেকে এই বানোয়াট কনভার্সেশানটা রচনা করেছে। যদিও সে দাবী করেছেন, এই বানোয়াট কনভার্সেশান প্রচার করার জন্যে বক্তাদের অনুমতি নিয়েছে, কিন্তু মূলত কথাগুলো বানোয়াট, যার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে হাসানো। আর এমন কাজের কি ফজীলত(!) আশা করি প্রিয়নবী (সাঃ) এই একটিমাত্র হাদীস থেকেই স্পষ্টঃ যে ব্যক্তি মানুষকে হাসানোর জন্য মিথ্যা বলে, তার জন্য ধ্বংস! তার জন্য ধ্বংস! তার জন্য ধ্বংস! সুনানে তিরমিযী ৪/৫৫৭; সুনানে আবু দা৪/২৯৭
(৩) ছবি তোলার বিষয়টিকে পানি পানের মতোই জায়েজ ও হালকা বানিয়ে নেওয়া
বর্তমান যুগে মারাত্মক একটা ফিতনাহ হচ্ছে ছবি এবং সেলফি, যা থেকে আমাদের বেঁচে থাকা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। আধুনিক যুগের প্রায় সমস্ত আলেমরাই বিনা প্রয়োজনে ছবি তোলাকে হারাম বলে বিশ্বাস করেন। এমন কিছু আলেমের নামঃ শায়খ বিন বাজ, শায়খ আলবানী, আব্দুল্লাহ ইবনে ক্বাউদ, আব্দুল্লাহ ইবনে গুদায়্যান, আব্দুল রাজ্জাক্ব আফিফী, আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি রহম করুন এবং জীবিতদের মাঝে রয়েছেন শায়খ আব্দুল আজিজ আহলে শায়খ, শায়খ ফাউজান, শায়খ আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ, শায়খ রাবী আল-মাদখালী, শায়খ সালেহ আস-শুহাইমি, এমন আরো অসংখ্য আলেমগণ। অনেকে ফতোয়া আরকানুল ইসলাম এর একটি ফতোয়া থেকে মনে করেনঃ শায়খ ইবনে উসায়মিন রাহিমাহুল্লাহ ছবি তোলাকে জায়েজ বলে ফতোয়া দিয়েছিলেন। অথচ সেই ফতোয়াতে শায়খ যা বলেছিলেন, তারপরেও স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছিলেন, স্মৃতি সংরক্ষণের জন্যে ছবি তোলা জায়েজ নয়। যাই হোক, পরবর্তীতে শায়খ ইবনে উসায়মিন তাঁর নিজস্ব ইজতেহাদ থেকে প্রত্যাবর্তন করে শায়খ বিন বাজ রাহিমাহুল্লাহর ইজতেহাদের দিকে ফিরে আসেন। শায়খের নিজের মুখ থেকেই শুনুন
https://www.youtube.com/watch?v=y1efgfq4FE0&app=desktop

অথচ এই সমস্ত প্রকৃত মুজতাহিদ, আলেমদের ফতোয়াকে পাশ কাটিয়ে অনেক বক্তা ও আলেম নিজস্ব চিন্তা-ভাবনাই মানুষের মাঝে বেশি প্রচার করছেন এবং নিজেরাও ব্যপকভাবে ছবি তোলার সংস্কৃতিতে জড়িয়ে পড়ছেন। উদাহরণ স্বরূপ, ড. জাকির নায়েক স্বয়ং নিজের ছবিকে এতো বেশি গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করে থাকেন যে, বর্তমানে তাঁর ভক্তরা ড. জাকির নায়েক এর ছবি বা সেলফি ছাড়া ক্বুরানের একটা আয়াতও প্রচার করতে পারছেন না। প্রতিদিন সকাল বিকাল ড. জাকির নায়েক এর একটা ছবি পোস্ট না করে মনে হয় মানুষের ঈমান ধরে রাখা যাচ্ছেনা। কিছুদিন পূর্বে জনপ্রিয় লেখক আইজ আল ক্বারনী ফিলিপাইনে যখন গুলিবিদ্ধ হন, তার ঠিক পূর্বেই একজন ফিলিপিনি যুবক অত্যন্ত দৃষ্টিকটুভাবে তাঁর সাথে সেলফি তোলার জন্যে ছুটে যায়। আইজ আল ক্বারনী সেই ছেলেকে উপদেশ না দিয়ে বরং একজন সেলেব্রিটির মতোই হাসিমুখে তার সাথে সেলফি তুলেন। অথচ আমেরিকান সাইকিয়াটিক এসোসিয়েশন এর মতে সেলফি বা নিজের ছবি নিজে তুলে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে মানুষের মাঝে প্রচার করা একটা মানসিক ভারসাম্যহীন বিষয়...এমনইভাবে অনেক বক্তা এবং লিখক ছবি তোলা এবং কার্টুন অংকনের বিষয়টিকে অত্যন্ত হালকাভাবে নিচ্ছেন, এবং এর দ্বারা তাদের ভক্ত শ্রোতাদেরকেও সেইদিকে উৎসাহিত করছেন। 

কেয়ামতের ছয়টি আলামত ও শায়খ ফাউজানের ব্যখ্যা


কেয়ামতের ছয়টি আলামত ও শায়খ ফাউজানের ব্যখ্যাঃ
আওফ ইবনে মালেক আল-আশজাঈ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাবুক যুদ্ধের সময় আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি একটি চামড়ার তাঁবুর ভেতরে ছিলেন। আমি তাঁবুর আঙ্গিনায় বসে পড়লাম। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ হে আওফ! ভেতরে এসো। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি কি সম্পূর্ণ প্রবেশ করবো? তিনি বলেনঃ হাঁ, সম্পূর্ণভাবে এসো। অতঃপর তিনি বললেনঃ হে আওফ! কিয়ামতের পূর্বে ছয়টি আলামত স্মরণ রাখবে।
(১) সেগুলো একটি হচ্ছে আমার মৃত্যু।  আওফ (রাঃ) বলেন, আমি একথায় অত্যন্ত মর্মাহত হলাম। তিনি বলেনঃ তুমি বলো, প্রথমটি।
(২) অতঃপর বাইতুল মুকাদ্দাস বিজয়।
(৩) অতঃপর তোমাদের মধ্যে এক মহামারী রোগ ছড়িয়ে পড়বে, যার দ্বারা আল্লাহ তোমাদের বংশধরকে ও তোমাদেরকে শাহাদত নসীব করবেন এবং তোমাদের আমলসমূহ পরিশুদ্ধ করবেন।
(৪) এরপর তোমাদের সম্পদের প্রাচুর্য হবে, এমনকি মাথাপিছু একশত দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) পেয়েও মানুষ সন্তুষ্ট হবে না।
(৫) তোমাদের মধ্যে এমন একটা ফিতনাহ সৃষ্টি হবে, যা থেকে কোন মুসলমানের ঘরই রেহাই পাবে না।
(৬) এরপর বনু আসফার (রোমক খৃস্টান)-এর সাথে তোমাদের সন্ধি হবে। কিন্তু তারা তোমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে এবং আশিটি পতাকা তলে সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। প্রতিটি পতাকার অধীনে থাকবে বারো হাজার সৈন্য।
সহী বুখারী ৩১৭৬, বু দাউদ ৫০০০, আহমাদ ২৩৪৫১
আল্লামাহ সালেহ আল-ফাউজান হাফিজাহুল্লাহ উপরোক্ত হাদীসের ব্যখ্যায় বলেনঃ কেয়ামতের পূর্বে ছয়টি ঘটনা ঘটবে।
(১) প্রথমটা হচ্ছে আল্লাহর রাসুল সাঃ এর মৃত্যু।
(২) এরপর হচ্ছে (মুসলমানেরা জেরুজালেমের) বায়তুল মুকাদ্দাস জয় করবে। আর এটা হযরত উমার (রাঃ) এর খিলাফতের সময় হয়েছিলো।
(৩) এরপর হচ্ছে মারাত্মক একটা মহামারী রোগ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়বে, যার কারণে অনেক মানুষ মৃত্যুবরণ করবে। আমরা আল্লাহর কাছে এটা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
(৪) এরপর হচ্ছে মানুষের মাঝে সম্পদ বেড়ে যাওয়া। সম্পদ বেড়ে যাওয়া একটা ফিতনাহ, এবং এটা কেয়ামতের একটা লক্ষণ। কেয়ামতের পূর্বে মানুষের হাতে সম্পদ বেড়ে যাওয়ার কারণে মানুষ অল্প সম্পদে সন্তুষ্ট হবেনা। এমনকি কোন ব্যক্তিকে একশত স্বর্ণমুদ্রা (অনেক সম্পদ) দিলেও সে সন্তুষ্ট হবেনা।
(৫) এরপর হচ্ছে, এমন একটা ফিতনাহ, যেটা থেকে কোন মুসলমানের বাড়ি বেঁচে থাকতে পারবেনা।  এটা একটা মারাত্মক সমস্যা, যা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে এবং যা বর্তমানে খুব বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন, আমার (শায়খ ফাউজন-এর) মতে, বর্তমান যুগের বিভিন্ন মিডিয়া এবং ইন্টারনেট হচ্ছে হাদীসে বর্ণিত সেই ফিতনাহ। কে জানে, এই মিডিয়ার থেকে সৃষ্ট ক্ষতি কত দূর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। এই (মিডিয়া, ইন্টারনেট) নিজে থেকে মানুষের বাড়িতে প্রবেশ করছে। তোমার তাদের কাছে যাচ্ছ বিষয়টা এমন নয়, বরং তারা নিজেরাই তোমাদের কাছে চলে আসছে। তুমি তোমার বিছানায় শুয়ে আছে, আর এই অলস জিনিসটা তোমার পাশে আছে। তোমার খুব বেশি চেষ্টা ছাড়াই এইগুলো তোমার জন্যে অনেক বড় ক্ষতি ও ধংস নিয়ে আসছে। এর এটাই হচ্ছে ফিতনাহ (বিপর্যয়, কঠিন পরীক্ষা)।
(৬) সর্বশেষ, তোমাদের ও বনু আসফার লোকদের মাঝে একটা সন্ধি চুক্তি। বনু আসফার হচ্ছে রোমান খ্রীস্টানরা। মুসলমান ও রোমান খ্রীস্টানদের মাঝে একটা সন্ধি চুক্তি হবে এবং তাদের মধ্যে যুদ্ধের মাধ্যমে এই চুক্তি শেষ হবে। রোমানরা তোমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে। রোমানরা মুসলমানদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে কারণ, প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা হচ্ছে কাফেরদের একটা চরিত্র। আর আমানত ও ওয়াদা রক্ষা করা হচ্ছে মুসলমানদের চরিত্র।

নাআম।

শুক্রবার, ২২ এপ্রিল, ২০১৬

Fatwa on FB, Twitter


(1) The Fitnah that will enter every Muslim home - Shaykh Saalih Al-Fawzaan
https://www.youtube.com/watch?v=9P1R7RiGAtA
___________________________
(2) Shaykh al-Fawzân about Facebook, Twitter and WhatsApp
https://www.youtube.com/watch?v=c1UZVibGGyg
___________________________
(3) Fiqh of Social Media : Shaykh Sulayman ar-Ruhayli
https://www.youtube.com/watch?v=Q29VVQViTOU
___________________________
(4) Advice to the Sisters who use Social Media - Shaikh Salih Al Fawzan
https://www.youtube.com/watch?v=4UgrwgcWN7A


___________________________

বুধবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৬

সিজারিয়ান ডেলিভারী নাকি নরমাল ডেলিভারী?

(১) আমাদের দেশের অধিকাংশ মহিলারা জব অথবা বিজনেস করে না।
(২) তাদের অধিকাংশের স্বামীই মারাত্মক রকমের এমন বড়লোক না যে শখ(!) করে অথবা স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার কারণে নিজে থেকে সিজারিয়ান ডেলিভারি করানোর জন্যে বায়না ধরবে। বরং, সিজারিয়ান ডেলিভারির জন্য যে খরচ, সেই ভয়েই অনেক বাবা ভয়ের মাঝে থাকেন
(৩) অন্যদিকে লন্ডন, এমেরিকার মহিলাদের বেশিরভাগ স্বাবলম্বী, তাদের হেলথ ইন্সুরেন্স থাকে, তাদের স্বামীরা আমদের দেশের স্বামীদের চাইতে বড়লোক, তাদের মহিলারা বাঙ্গালী মহিলাদের চাইতে শরীরের ব্যপারে অধিক সচেতন।
(৪) তারপরেও কেনো বাংলাদেশী কোন গর্ভবতী মহিলাকে সন্তান প্রসবের জন্যে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সিজারিয়ান ডেলিভারী করানো বর্তমানে বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে? অন্যদিকে লন্ডন এমেরিকাতে কোন মহিলা নিজে থেকে চেয়ে, অনুরোধ করেও সিজারিয়ান ডেলিভারী করার জন্যে ডাক্তারকে রাজী করাতে পারে না?
(৫) হঠাত করে বাংলাদেশী সমস্ত মহিলাদের শরীরে কি এমন পরিবর্তন হয়ে গেছে যে, মাত্র ২০-৩০ বছর আগেও যেখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নরমা ডেলিভারীতে সন্তান প্রসব সম্ভব হতো, এখন আর সেটা সম্ভব হচ্ছেনা?
(৬) সত্যি কথা বলতে, বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে নরমান ডেলিভারীতে সন্তান প্রসবের পরিবর্তে সিজারিয়ান ডেলিভারীর সংখ্যা অনেকগুণ বেড়ে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণের মাঝে প্রধান দুটি কারণ হচ্ছেঃ
(ক) হাসপাতাল এবং ডাক্তারের আর্থিক সুবিধার প্রতি লোভ এবং
(খ) একশ্রেণীর লোকদের অজ্ঞতা বা ফ্যাশান হিসেবে বিনা কারণে স্বেচ্ছায় সিজারিয়ান ডেলিভারীকে বেছে নেওয়া।
(৭) যেখানে নরমাল ডেলিভারীতেই সন্তান প্রসব সম্ভব, সেখানে শুধুমাত্র ডাক্তার বা হাসপাতালের টাকা উপার্জনের লোভে সিজারিয়ান ডেলিভারী সাজেস্ট করা নাজায়েজ, হারাম, এইভাবে তাদের উপার্জনের টাকা অবৈধ।
(৮) আমি মুসলিম ডাক্তার ভাই ও বোনদেরকে অনুরোধ করবো, আপনারা আপনাদের পেশার সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলোর উপরে শরিয়তের কি বক্তব্য তা জানার চেষ্টা করুন, হালাল হারাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করুন। ডাক্তারী পেশার সাথে জড়িত অনেকেই বিভিন্নভাবে হারাম অর্থ উপার্জন ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে থাকেন। না জানার কারণে হয়তোবা আপনিও সেই হারামের পাল্লায় পড়বেন।
(৯) আর সাধারণ মানুষের কাছে আমি আহবান জানাবো, সন্তান জন্ম দেওয়ার যেই ব্যবস্থা আল্লাহ দিয়েছেন সেটাই উত্তম। এর দ্বারা যে কি উপকার রয়েছে সে সম্পর্কে ইমাম মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসায়মিন রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
স্বাভাবিক কষ্টকর সন্তন প্রসবের দ্বারা
(i) মায়ের অনেক গুনাহ মাফ হয়।
(ii) আল্লাহর কাছে সওয়াব পাওয়ার নিয়তে ধৈর্য ধারণ করলে, আল্লাহর কাছে সেই মায়ের মর্যাদা অনেক বৃদ্ধি পায়।
(iii) সেই মা সুস্থ থাকার মর্যাদা বুঝতে পারে এবং এটা তার উপরে আল্লাহর নিয়ামতগুলো চিনতে সাহায্য করে।
(iv) সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা অনেক বেশি হবে।
(v) মা ও সন্তানের দুইজনের জন্যে এটাই উত্তম।
(vi) নরমাল সন্তান হলে সেই মায়ের ভবিষ্যতে অধিক সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ থাকবে।
(vii) সিজারিয়ানে অনেক সময় সন্তান ও মায়ের ক্ষতি হয়, যেকারণে সন্তানের অংগ হানি এবং ভবিষয়্যতে মায়ের সন্তান জন্ম দেওয়া কঠিন হয়।

(viii) হাসপাতালে ডাক্তারদের অধিকহারে সিজারিয়ান ডেলিভারী সাজেস্ট করা মুসলমানদের বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্র হতে পারে। কারণ মায়ের পেটে ছুড়ি ব্যবহার করলে ভবিষ্যতে সেই মায়ের সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা কমে যাবে, তার সন্তান কম হবে। এইভাবে মুসলমানদের জনসংখ্যা কম হওয়ার দ্বারা আস্তে আস্তে তাদেরকে দুর্বল করা হবে।