বুধবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৭

আপনারা আলেমদের সম্পর্কে গীবত করেন কেনো? (পর্ব-১-২)

আপনারা আলেমদের সম্পর্কে গীবত করেন কেনো? (পর্ব-১)
উত্তরঃ শিরক-বিদআত প্রচার করে, ক্বুরআন-হাদীসের অপব্যখ্যা করে যারা মানুষকে ইসলাম থেকে বিভ্রান্ত করে, বিনিময়ে নিজের পকেট ভারী করে, জনপ্রিয়তা, ভোট বা নিজের দলের পাল্লা ভারী করতে চায়, এরা কোনদিন আলেম হতে পারেনা। এমন পথভ্রষ্ট ব্যক্তিদের ব্যপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, (ফিতনার যুগে) কিছু লোক এমন হবে, যারা জাহান্নামের দরজার দিকে মানুষকে দাওয়াত দিবে (অর্থাৎ তাদের দাওয়াত এমন ভ্রষ্টতাপূর্ণ হবে, যা জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে); যারা তাদের ডাকে সাড়া দিবে তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে। সহীহ বুখারীঃ হাদীস নং-৩৩৩৬, ৬৬৭৯।
এইরকম যারা শিরক বিদাত প্রচার করে সাধারণ মানুষের ঈমান-আকিদাহ ও আমল নষ্ট করে, তাদের সমালোচনা করা জায়েজ, এটা গীবত হবেনা।
তাবেয়ী বিদ্বান, ইমাম হাসান আল-বসরী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন,
তিনটি ক্ষেত্রে গীবত করা হারাম নয়ঃ
(১) প্রকাশ্য কবীরাহ গুনাহকারী (যে তার পাপের উপর অটল থাকে),
(২) জালেম বা অত্যাচারী,
(৩) বিদআতী ব্যক্তি।
মওসুয়াত ইবনে আবি দুনিয়াঃ ৪/৩৭৯।
পথভ্রষ্ট আলেম, ব্যক্তি বা দলের সমালোচনা করা, তাদের ভুল-ত্রুটি মানুষের সামনে তুলে ধরে তাদের ব্যপারে মানুষকে সতর্ক করা শুধুমাত্র জায়েজই নয়, বরং নেক উদ্দেশ্য নিয়ে করলে তার জন্য সওয়াব রয়েছে। অনেকের কাছে কথাগুলো খারাপ লাগতে পারে, অন্য একজন দ্বায়ীর নামে খারাপ কথা বলা হচ্ছে। তাদের জন্য দ্বীনের কিছু উসুল (মূলনীতি, principle) বর্ণনা করা হলো।
আমাদের আলেমরা কুরান ও হাদীসের দলীল থেকে এমন কিছু ক্ষেত্র বের করেছেন যেইসব ক্ষেত্রে গীবত করা জায়েজ। এ সম্পর্কে কুরআন ও হাদীসের প্রখ্যাত সংকলন রিয়াদুস সালেহীন এর গ্রন্থকার, ইমাম আন-নববী (রহঃ) বলেন, যেসব ক্ষেত্রে গীবত করা বৈধঃ
(১) অত্যাচারীর অত্যাচার প্রকাশ করার জন্য।
(২) সমাজ থেকে অন্যায় দূর করা এবং পাপীকে সঠিকপথে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সাহায্য করার জন্য।
(৩) হাদীছের সনদ যাচাই করা ও ফতওয়া জানার জন্য।
(৪) মুসলিমদেরকে মন্দ থেকে সতর্ক করা ও তাদের মঙ্গল কামনার ক্ষেত্রে।
(৫) পাপাচার ও বিদআতে লিপ্ত হলে তা প্রকাশ করার ক্ষেত্রে।
(৬) প্রসিদ্ধ নাম ধরে পরিচয় দেওয়ার ক্ষেত্রে।
ইমাম আন-নববী, রিয়াদুস-সালেহীন, ২৫৬ অনুচ্ছেদ, পৃঃ ৫৭৫।
আহলুল হাওয়া ও বিদআতি ব্যক্তি ও দলগুলোর ভুল মানুষের সামনে তুলে ধরা, তাদের শিরক, বিদআত ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যগুলোর সমালোচনা করা এবং এইগুলো থেকে মানুষকে সতর্ক করার গুরুত্বঃ
শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ বলেন, বিদআতি নেতাদের মতোই ক্বুরআন ও হাদীসের বিরোধীতাকারী ব্যক্তিদের ও ভুল আমলকারীদের পথভ্রষ্টতা ও বিভ্রান্তি মানুষের কাছে তুলে ধরা ও তাদের থেকে উম্মতকে সতর্ক করা সর্বসম্মতক্রমে ওয়াজিব।
ইমাম আহমাদ রহিমাহুল্লাহকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো, এক ব্যক্তি (নফল) নামায পড়ে, রোয রাখে, ইতেকাফে বসে ইত্যাদি অনেক নেক আমল করে। এই ব্যক্তির আমলগুলো আপনার কাছে বেশি প্রিয় নাকি, এটা আপনার কাছে বেশি প্রিয় যে, সেই ব্যক্তি বিদআতিদের সম্পর্কে কথা বলবে ও তাদের ব্যপারে মানুষকে সতর্ক করবে? উত্তরে ইমাম আহমাদ রহিমাহুল্লাহ বলেছিলেন, যদি সেই ব্যক্তি (নফল) নামায, রোযা, ইতেকাফ ইত্যাদি ইবাদত-বন্দেগী করে, তবে সেটা শুধুমাত্র তার নিজের জন্য কল্যানকর হবে। কিন্তু সে যদি বিদআতির বিরুদ্ধে কথা বলে, তাহলে সেটা সমস্ত মুসলমানদের জন্য কল্যানকর হবে। সুতরাং, এটাই তার জন্য উত্তম। মাজমাউল ফাতওয়াঃ ২৮/২২১।
বিঃদ্রঃ বিষয়টি সম্পর্কে যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীসের দলীল ও তার ব্যখ্যা জানতে চান, তারা কোন আলেম কর্তৃক রিয়াদুস সালেহীনের গীবত অধ্যায়ের হাদিসগুলোর ব্যখ্যা দেখে নিতে পারেন।
(সমাপ্ত)
.
আপনারা আলেমদের সম্পর্কে গীবত করেন কেনো? (পর্ব-২)
যে সব ক্ষেত্রে গীবত করা বৈধঃ
ইমাম নববীর রাহিমাহুল্লাহ বলেন, যদিও গীবত করা হারাম, কোন কোন পরিস্থিতিতে গীবত করার অনুমোদন রয়েছে, যখন তা কোন মঙ্গলের জন্য করা হয়ে থাকে। গীবত করার এই ক্ষমতা কেবলমাত্র একটা ন্যায়সঙ্গত ও বৈধ কারণেই প্রদান করা যাবে, অন্যথায় এর অনুমতি দেয়া যাবে না। নিন্মের ছয়টি কারণের যে কোন একটি কারণে গীবত করা যেতে পারে।
(১) জুলুম/নিপীড়নের বিচার চাইতেঃ
যে ব্যক্তি নিপীড়িত হয়েছে, তার জন্য এই অনুমতি রয়েছে যে, সে তার অবস্থা সম্পর্কে শাসক বা বিচারককে বা অন্য যে কাউকে অবগত করতে পারে, যার ক্ষমতা রয়েছে তাকে জালিমের বিরুদ্ধে সুবিচার দেয়ার। তাকে উল্লেখ করতে হবে, অমুক লোক আমার প্রতি অন্যায় করেছে এবং সে আমার সাথে এই করেছে এবং সে আমাকে দমিয়ে রেখেছে এভাবে বা এরকম আরো তথ্য বলা যাবে। (এতে গীবত হবে না)।
(২) একটি মন্দকে পরিবর্তন করা এবং পাপীকে সঠিক পথের দিকে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য চাওয়াঃ
একজন ব্যক্তির উচিত, যার পক্ষে কোন মন্দ কাজ থামানো সম্ভব তাকে বলা, অমুক ব্যক্তি এরকম করেছিল, ফলে আমি তাকে তা থেকে বিরত রাখি বা এরকম কিছু। তার লক্ষ্যই হবে মন্দকে সম্পূর্ণরূপে দূর করা। যদি এ ধরনের কোন উদ্দেশ্য না থাকে, তবে তার জন্য কোন কথা উল্লেখ না করাই উত্তম।
(৩) ফতোয়া (ইসলামী বিধান) চাওয়া/জানাঃ
একজন ব্যক্তির উচিত একজন মুফতীকে (যিনি ফতোয়া দিতে পারেন) এইভাবে বলা, আমার বাবা বা আমার ভাই বা এই এই ব্যক্তি আমার সাথে এইরূপ অন্যায় করেছে। তার কি এটা করার অধিকার রয়েছে? কিভাবে আমি সেটা বন্ধ করতে পারি এবং আমার উপর থেকে জুলুম বন্ধ করে আমার অধিকার আদায় করতে পারি? এবং এরকম আরো তথ্য (সে বলতে পারবে)। এমনিভাবে, একজন বলতে পারে যে, আমার স্ত্রী এরূপ করেছে বা আমার স্বামী এরূপ করেছে এবং এরকম আরো তথ্য। প্রয়োজনের তাগিদে এধরনের ফতোয়া চাওয়া অনুমতিযোগ্য, কিন্তু সাবধানতা অবলম্বনের জন্য যে কারো উচিত এভাবে বলা, একজন ব্যক্তি সম্পর্কে আপনি কি বলেন যে এরূপ করেছে? বা একজন স্বামীর ব্যাপারে বা একজন স্ত্রী সম্পর্কে যে এরূপ করেছিল (আমার স্ত্রী এভাবে না বলে) ইত্যাদি। এই পদ্ধতিতে, কাউকে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ না করেই লক্ষ্য অর্জন করা যায়। যাহোক, একজন ব্যক্তির নামোল্লেখ করা এরকম পরিস্থিতিতে অনুমোদিত এই হাদীসের উপর ভিত্তি করে যে, হিন্দ রাদিয়াল্লাহু আনহা একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জানান, বস্তুত, আবু সুফিয়ান (তার স্বামী) একজন কৃপণ লোক। এবং আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে একথা বলা থেকে বিরত রাখেননি।
(৪) মুসলিমদেরকে কোন পাপ সম্পর্কে সতর্ক করা এবং উপদেশ দেয়াঃ
এর বেশ কয়েকটি দিক রয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে: কাউকে হাদীস বর্ণনা ও সাক্ষ্য দেয়ার ব্যাপারে অনির্ভরযোগ্য ঘোষণা করা। ইজমা (মুসলিম আলেমদের ঐক্যমত) অনুযায়ী এটি করা জায়েয। বরং গুরুত্বের ভিত্তিতে এটি কখনও কখনও অবশ্য কর্তব্য হয়। আরেকটি অবস্থা হচ্ছে, যখন কোন ব্যক্তি কারো সাথে সম্পর্কযুক্ত হয়, বিবাহ, ব্যবসা, সম্পত্তি হস্তান্তরের সময়, দৈনন্দিন লেনদেন ও যেকোন কিছু হস্তান্তরের সময় বা অনুরূপ কোন পরিস্থিতে আপনার জন্য ফরয সেই ব্যক্তিকে অপর ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে অবগত করা, যার সঙ্গে সে লেনদেন করতে যাচ্ছে, উপদেশের লক্ষ্যে। যদি আপনার উদ্দেশ্য এই কথা বলাতেই অর্জিত হয় যে তার সাথে ব্যবসায়িক লেনদেনে জড়ানো আপনার জন্য মঙ্গলজনক নয় বা এটা বলাতেও, আপনার এটা করা উচিত নয় বা এধরনের কিছু, তবে সেটুকুতেই সারতে হবে; তাই বলে ঐ লোকটির অন্যান্য (প্রসঙ্গ বহির্ভূত) খারাপ দোষগুলো সম্পর্কে জানানো যাবে না। আর যদি এতে কাজ না হয়, তবে আপনি নির্দিষ্টভাবে লোকটির অবস্থা সম্পর্কে তাকে অবগত করতে পারেন।
আর একটি অবস্থা হচ্ছে, যখন আপনি কাউকে এমন কোন লোকের কাছ থেকে কোন কিছু কিনতে দেখেন, যে নাকি চুরি, ব্যভিচার বা মদ্যপানের মত অপরাধের সাথে জড়িত। তখন ক্রেতাকে এ সম্পর্কে অবগত করানো আপনার কর্তব্য, যেহেতু তিনি জানেন না। এমনকি, এটা তখনও প্রযোজ্য যখন আপনি জানেন লোকটি যে বস্তুটি কিনতে যাচ্ছে তা ত্রুটিযুক্ত।
আর একটি ব্যাপার হচ্ছে যে, যখন আপনি কোন শিক্ষার্থীকে (দ্বীনের ক্ষেত্রে) দেখেন একজন বিদআতী বা পথভ্রষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে জ্ঞানার্জন করছে, এবং আপনি তার ক্ষতির আশংকা করেন। তখন আপনি অবশ্যই সেই ছাত্রকে উপদেশ দেয়ার লক্ষ্যে সে ব্যক্তির অবস্থা সম্পর্কে অবগত করবেন। এক্ষেত্রে অনেক মানুষই ভুল করে থাকে, কেননা ব্যক্তিটি যার সম্পর্কে উপদেশ দিচ্ছেন তার ব্যাপারে তিনি ঈর্ষাপরায়ণ হতে পারেন বা শয়তান তাকে ভুল পথে নিয়ে যেতে পারে, এভাবে যে, তিনি ভাবতে পারেন যে তিনি যেটা করছেন তা হচেছ নসীহত এবং সমবেদনা প্রকাশ করা।
সর্বশেষে যে অবস্থাটি এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য, যখন কোন ব্যক্তি কোন নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করছে এবং সে তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেনা কেননা সে উপযুক্ত নয় বা সে একজন অমনোযোগী বা পাপী ইত্যাদি। এমতাবস্থায় একজন ব্যক্তির উচিত অন্যরা যারা তার উপর নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন, তাদের নিকট বিষয়টি জানানো, যাতে তাকে এই পদ থেকে সরানো যায় এবং একজন উপযুক্ত ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেয়া যায়। অথবা, যাদের সে ব্যক্তিটির উপর ক্ষমতা রয়েছে তারা যেন তার সম্পর্কে জানতে পারেন, যেন তার দ্বারা যাতে ক্ষতি সাধন না হয় তার ব্যবস্থা করতে পারেন বা তাকে ভাল হতে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন বা অন্য কাউকে তার স্থলাভিষিক্ত করতে পারেন।
(৫) যখন কোন ব্যক্তি উন্মুক্তভাবে মন্দকর্ম বা বিদআতী কাজে লিপ্ত থাকেঃ
এর উদাহরণ হচ্ছে যখন কেউ খোলাখুলিভাবে মদপান করে, লোকের টাকা আত্মসাৎ করে এবং তাদের নিকট থেকে অন্যায়ভাবে ট্যাক্স নেয় ইত্যাদি। ফলে জনসাধারণের সামনে ঐ ব্যক্তিটি যে সকল কাজ করে, তা নিয়ে আলোচনা করা বা কথা বলা বৈধ। কিন্তু ঐ লোকের অন্যান্য দোষত্রুটি সম্পর্কে আলোচনা করা নিষিদ্ধ, যতক্ষণ পর্যন্ত না সেইগুলো ঐ শ্রেণীর মধ্যে পড়ে, যে সকল কারণে গীবত করা জায়েয।
(৬) কোন ব্যক্তিকে সংজ্ঞায়িত করাঃ
কোন ব্যক্তি যদি লোকজনের নিকট তার ডাক নামে পরিচিত থাকে, যেমন ঝাপসা চোখ বিশিষ্ট যিনি, যিনি খোঁড়ান, বধির লোকটি, অন্ধ লোকটি, টেরা চক্ষু বিশিষ্ট, চ্যাপ্টা নাকওয়ালা, ইত্যাদি। তাহলে তাকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করার জন্য এভাবে বলা জায়েয। যাইহোক, তাকে হেয় করার জন্য এরকম নামকরণ করা নিষিদ্ধ। যদি তাকে অন্য কোনভাবে চিহ্নিত করা যায়, তবে তাকে সেভাবেই চিহ্নিত করা উচিত।
এগুলো হচ্ছে সেই ছয়টি অবস্থা যে ক্ষেত্রে গীবত করা জায়েয, যদি তা আলেমগণ যেভাবে দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন সেভাবে করা হয়ে থাকে। সহীহ হাদীস থেকেও এসব পরিস্থিতে গীবত করার অনুমোদন পাওয়া যায়।
সহীহ আল ব-খারী ও সহীহ মুসলিমে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন, একজন লোক রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট তাঁর ঘরে প্রবেশ করার জন্য অনুমতি চাইলে, তিনি বললেন: তাকে আসার অনুমতি দাও, এবং সে তার আত্মীয়স্বজনের জন্য কত খারাপ ভাই।
ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ এই হাদীসটিকে গীবত করার (জায়েজ) ক্ষেত্রে প্রমাণস্বরূপ ব্যবহার করেছেন।
আব্দুল্লাহ ইবন মাসুদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুদ্ধলব্ধ সম্পদের একাংশ বন্টন করছিলেন, তো একজন আনসারী বলল, আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি, মুহাম্মদ আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের ইচ্ছা রাখে না (অর্থাৎ, তিনি ন্যায্যভাবে বন্টন করেননি)। ফলে আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট গেলাম এবং তাঁকে ব্যাপারটি জানালাম। তাঁর চেহারা পরিবর্তিত হয়ে গেল (অর্থাৎ তিনি অত্যন্ত রাগান্বিত হলেন) এবং বললেন, আল্লাহ তাআলা মুসার প্রতি উপর রহম করুন। নিশ্চয়ই তিনি এর চাইতে গুরুতরভাবে অভিযুক্ত হয়েছিলেন, কিন্তু তিনি ধৈর্যশীল ছিলেন। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম।
তাছাড়া হিন্দ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদীসটি রয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন, নিশ্চয়ই আবু সুফিয়ান হচ্ছে একজন কৃপণ ব্যক্তি।

এবং এই হাদীসটি যেখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) ফাতিমা বিনতে কায়েসকে রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বললেন (দুইজন পানি প্রার্থীর প্রসঙ্গে), মুয়াবিয়ার ক্ষেত্রে, সে হচ্ছে খুবই দরিদ্র আর আবু জাহমের ব্যাপারটি হচ্ছে, সে তার কাঁধ থেকে লাঠি নামায় না অর্থাৎ, সে তার স্ত্রীদেরকে খুব মারধর করে।’” সহীহ মুসলিম। 

মাওলানা আহমাদ শফি

মাওলানা আহমাদ শফি
দ্বীন শিক্ষার জন্য বাংলাদেশের প্রচলিত মাদ্রাসাগুলো প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত।
(১) ক্বওমী মাদ্রাসা। সাধারণত অধিকাংশ ক্বওমী মাদ্রাসাগুলো হিন্দুস্থানের দেওবন্দ মাদ্রাসা এবং দেওবন্দী আলেমদের অনুসরণ করে থাকে।
(২) আলিয়া মাদ্রাসা। যেখানে সীমিত সংখ্যক আরবীর পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজী শিক্ষা দেওয়া হয়। অনেকের মতে, ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদেরকে বিশুদ্ধ ক্বুরআন ও সুন্নাহর শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে দূরে রাখার জন্য ব্রিটিশদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটা দুর্বল সিলেবাস সম্বলিত আলিয়া মাদ্রাসাগুলো ইসলামের বিরুদ্ধে সুদূরপ্রসারী একটা ষড়যন্ত্র।
যাইহোক, ক্বওমী মাদ্রাসাগুলোর মাঝে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসা অনেক পুরনো এবং দেশের সবচাইতে বড় মাদ্রাসা হিসেবে পরিচিত। হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হচ্ছেন মাওলানা আহমাদ শফি (আল্লাহ তাকে হেদায়েত করুন)। তার ভক্ত ও অনুরাগীদের কাছে তিনি আল্লামাহ শফি নামে বেশি পরিচিত। দেওবন্দী আক্বিদাহর অনুসারী আলেমরা মাওলানা আহমাদ শফিকে আমাদের দেশের সবচাইতে বড় আলেম বলে মান্য করেন।
অন্যান্য দেওবন্দী আলেমদের মতো মাওলানা আহমাদ শফি সাহেবও সূফীবাদের অনুসরণ করেন। তিনি সূফীদের মাঝে প্রচলিত চিশতী তরীকার অনুসরণ করেন। আপনারা চিশতী তরীকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আহমাদ শফি সাহেবের নিজের লেখা কিতাব ফুয়ুজাতে আহমাদিয়া পৃষ্ঠা-৬৬ দেখুন।
মাওলানা আহমাদ শফি সাহেব পীর-মুরিদী প্রথার সমর্থন করেন, এবং তিনি নিজে পীর হিসেবে চিশতী তরীকার উপরে তার ভক্তদের বাইয়াত গ্রহণ করে থাকেন। ইউটিউবে মাওলানা আহমাদ শফি সাহেবের একটা ভিডিও রয়েছে, যেখানে তিনি তার অনেক ভক্তদের উদ্দেশ্যে একটা রশি নিক্ষেপ করেন এবং ক্বুরআনের একটা আয়াতের অপব্যবহার করে তার ভক্তদের কাছ থেকে বিদআতী বাইয়াত গ্রহণ করেন। এছাড়া এক সময়ের পীস টিভি বক্তা হাসান জামিল সাহেব মাওলানা আহমাদ শফি সাহেবকে তার নিজের পীর বলে স্বীকার করেছিলেন।
যদিও একশ্রেণীর মানুষ মাওলানা আহমাদ শফি সাহেবকে আল্লামাহ, হাক্কানী পীর, আল্লাহর বড় অলি, মহা বিদ্বান ইত্যাদি নজরকাড়া উপাধিতে ভূষিত করে থাকেন, কিন্তু অন্যান্য সূফীদের মতো তিনিও শিরক ও বিদআরী আমলের চর্চা ও ভ্রান্ত আক্বিদাহ লালন করে থাকেন। আল্লাহর অনুমতিক্রমে নীচে আমি তার একটা উদাহরণ দিচ্ছি।   
মাওলানা আহমাদ শফি সাহেব তার ভক্তদের জন্য একটা কিসসা বর্ণনা করেছেন, যা নিন্মরূপঃ
হোসাইন আহমদ মাদানীকে (একজন দেওবন্দী আলেমকে) মদীনায় তার ছাত্ররা প্রশ্ন করলো, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি কবরে জীবিত? হোসাইন আহমদ মাদানী বললেন, আলমে মেছালীতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবিত। কিন্ত তার ছাত্ররা দলিল-প্রমাণাদী পেশ করলো যে, কোরআনে সুরা যুমারের ৩০নং আয়াতে বলা হয়েছে
(হে নবী!) নিশ্চয় আপনি মৃত্যুবরণ করবেন আর তারাও মৃত্যুবরণ করবে।
হোসাইন আহমদ মাদানী ছাত্রদেরকে বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে বুঝাতে চেষ্টা করলেন, কিন্ত তারা বুঝতে অপ্রস্তুত। এরপর হোসাইন আহমদ মাদানী ছাত্রদেরকে নিয়ে রওযায়ে আতহার (অর্থাৎ, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবরের) কাছে নিয়ে গেলেন এবং হাত দিয়ে ইশারা করলেন। এই ইশারাতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রওযা থেকে মাথা উঠিয়ে সকলকে দেখা দিয়ে আবার মাটির নিচে লুকিয়ে গেলেন।
মাওলানা আহমাদ শফি সাহেব সাহেবের নিজের লিখা কিতাব ইরশাদাতে মুরশিদী, পৃষ্ঠা ৪২।
মন্তব্যঃ
(১) এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে নির্জলা মিথ্যা অপবাদ। কোন মানুষের ডাকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবর থেকে বের হয়ে এসেছেন (নাউযুবিল্লাহি মিং সাররি যালিক), এমন কথা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্মান ও মর্যাদার জন্য অসম্মানজনক। আর কোন নবী অথবা রাসুল (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি শান্তি প্রেরণ করুন) সম্পর্কে অসম্মানজনক কথা বলা কুফুরী।
(২) সূফীদের মাঝে বদ একটা চরিত্র হচ্ছে নিজেদের পীর ও মাশায়েখকে উঁচু করার জন্য কারামত নাম দিয়ে উদ্ভট ও মিথ্যা কাহিনী প্রচার করা। এমনকি কখনো তারা বেপরোয়া হয়ে এমন কাহিনী রচনা করে যা শিরক কিংবা কুফরে গিয়ে পৌঁছে, উপরের বানোয়াট ঘটনাটা তারই একটা উদাহরণ। ঠিক এমনই অন্য একটা মিথ্যা কিসসা বর্ণনা করেছেন প্রচলিত তাবলীগ জামাত এর লেখক মাওলানা জাকারিয়া কান্ধলবী সাহেব (আল্লাহ তাকে উপযুক্ত প্রতিদান দিন)। কাহিনীটির বিস্তারিত বর্ণনা এবং সে সম্পর্কে আরব বিশ্বের বড় আলেমদের ফতোয়ার অনুবাদ দেখুন এই লিংকে
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/1442257325807010
এছাড়া মাওলানা আহমাদ শফি সাহেবের আরো কিছু বিদআতী আমল নিন্মে বর্ণনা করা হলোঃ
(১) চিশতী তরীকা ধরতে হবে। ফুয়ুজাতে আহমাদিয়া, পৃষ্ঠা ৬৬।
(২) প্রতিদিন নির্জনে আধা ঘন্টা মোরাকাবা মাইয়্যিয়াত বা ধ্যান করতে হবে। ফুয়ুজাতে আহমাদিয়া, পৃষ্ঠা ২৫।
(৩) প্রতদিন এক ঘন্টা যিকরে পাছে আনফাছ করতে হবে। ফুয়ুজাতে আহমাদিয়া, পৃষ্ঠা ২২।
(৪) আল্লাহু আল্লাহু আল্লাহু জিকির করতে হবে প্রতিদিন ৫০ হাজার বা ১লক্ষ ২৫ হাজার বার। ফুয়ুজাতে আহমাদিয়া, পৃষ্ঠা ২৪।
(৫) ইল্লাল্লাহ ইল্লাল্লাহ - অর্থঃ আল্লাহ ছাড়া, আল্লাহ ছাড়া, (নাউযুবিল্লাহ!) এই যিকির করতে হবে ৪০০ বার। ফুয়ুজাতে আহমাদিয়া, পৃষ্ঠা ৬৬।
মন্তব্যঃ ইল্লাল্লাহ অর্থ আল্লাহ ছাড়া বা আল্লাহ নেই, নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক। পূর্ণ কালিমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বাদ দিয়ে শুধু ইল্লাল্লাহ ইল্লাল্লাহ শব্দ দিয়ে যিকির করা বিদআত এবং এই কথাটা কুফুরী।
আল্লাহ আমাদেরকে শিরক ও বিদআতের শয়তানী ধোঁকা থেকে হেফাজত রাখুন, আমিন।
.
বিঃদ্রঃ আমি ভালো করেই জানি, শিরক ও বিদআতে লিপ্ত আলেমদের সমালোচনা করলে তাদের অনুসারীরা আমাদের উপর রাগ করেন এবং কটু মন্তব্য করে দাওয়াতে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এছাড়া পথভ্রষ্ট ব্যক্তি বা দলের প্রতি দুর্বল বা অনেক আবেগী মুসলমান, যাদের ইলম কম কিন্তু জিহবা লম্বা, তাদের কেউ কেউ আমাদের বিরোধীতা করে বলেনঃ
(১) আমরা অন্যের নামে গীবত করছি,
(২) আমরা উম্মতের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি করছি,
(৩) আমাদের দাওয়াত ফেতনাহ সৃষ্টি করছে...
যারা অন্ধ হয়ে আবেগের ঘোড়ায় সওয়ারী হয়ে চলেন, ইলম ও আলেমদের থেকে দূরে নিজেদের অজ্ঞতা কিংবা আন্দাজের উপর মিথ্যা তর্ক করে আমাদের সময় নষ্ট করেন, অন্যায় গালি-গালাজে লিপ্ত হয়ে আমাদের দাওয়াতে বাঁধা দিতে চায়, তাদের জন্য দুয়া করা ছাড়া আমাদের আর কিছু বলার নাই। আর যারা ক্বুরআন ও সুন্নাহ থেকে প্রণীত আমাদের পূর্ববর্তী আলেম-উলামাদের নীতি সম্পর্কে জানতে চান, তাদেরকে নীচের এই দুইটা লিংক মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
আপনারা আলেমদের সম্পর্কে গীবত করেন কেনো? (পর্ব-১)
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/1824106874288718
আপনারা আলেমদের সম্পর্কে গীবত করেন কেনো? (পর্ব-২)  
হাদীস এবং ইমাম নববী রাহিমাহুল্লাহ কর্তৃক হাদীসের বিস্তারিত ব্যখ্যাঃ
https://www.facebook.com/dawati.kaj/posts/1845138912424932

(সমাপ্ত)

রবিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১৭

জান্নাতে যাওয়ার সহজ আমল + অল্প পরিশ্রমে অনেক বড় সওয়াব FB link

জান্নাতে যাওয়ার সহজ আমল (পর্বঃ--)
প্রথম পর্বের লিংক -
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/1828323103867095
.
দ্বিতীয় পর্বের লিংক -
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/1829336993765706
.
তৃতীয় পর্বের লিংক -
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/1829985497034189
.
চতুর্থ পর্বের লিংক -
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/1831131383586267
.
পঞ্চম পর্বের লিংক - (শেষ পর্ব) https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/1835291579836914
.
অল্প পরিশ্রমে অনেক বড় সওয়াব (পর্বঃ -)
প্রথম পর্বের লিংক -
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/1827610223938383
.
দ্বিতীয় পর্বের লিংক -
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/1827712743928131
.
তৃতীয় পর্বের লিংক - (শেষ পর্ব)
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/1835590313140374
.






মঙ্গলবার, ১০ জানুয়ারি, ২০১৭

রাজতন্র

(১) রাসুলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস অনুযায়ী, মুসলিম উম্মাহর মাঝে খুলাফায়ে রাশেদা ত্রিশ (৩০) বছর পর্যন্ত জারী ছিলো। এরপর আমীরে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে রাজতন্ত্র শুরু হয়। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে যে, মুসলিম জাতির ইতিহাসে সাহাবীদের যুগেই রাজতন্ত্র শুরু হয়। কিন্তু এমন কোন প্রমান নেই যে, কোন একজন সাহাবী ইসলামে রাজতন্ত্র হারাম, এই ফতোয়া দিয়ে তৎকালীন রাজা-বাদশাহদেরকে অস্বীকার করেছিলেন।
(২) সাহাবীদের যুগের পরে তাবেয়ীদের যুগেও রাজতন্ত্র বিদ্যমান ছিলো। কিন্তু এমন কোন প্রমান নেই যে, কোন একজন তাবেয়ী ইসলামে রাজতন্ত্র হারাম, এই ফতোয়া দিয়ে তৎকালীন রাজা-বাদশাহদেরকে অস্বীকার করেছিলেন।
(৩) পূর্ব যুগের সম্মানিত ইমাম ও আলেমদের মধ্যেঃ
(ক) ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহর সময়ে রাজতন্ত্র বিদ্যমান ছিলো।
(খ) ইমামের মালেক রাহিমাহুল্লাহর সময়েও রাজতন্ত্র বিদ্যমান ছিলো।
(গ) ইমাম শাফেয়ী রাহিমাহুল্লাহর সময়েও রাজতন্ত্র বিদ্যমান ছিলো।
(ঘ) ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল রাহিমাহুল্লাহর সময়ে রাজতন্ত্র বিদ্যমান ছিলো।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের প্রসিদ্ধ এই চার জন ইমাম, এবং তাঁদের পূর্বের ও পরের আলেমগণ - সকলেই ক্বুরআন ও হাদীস গবেষণা করে কেউই এই ফতোয়া দিতে পারেন নি যে, ইসলামে রাজতন্ত্র হারাম
কিন্তু ১৯০০-২০১৭ এই সময়ের মাঝে কিছু অল্প ইলম সম্পন্ন, স্বঘোষিত মুফতি মুহাদ্দিস বের হয়েছে, যারা ক্বুরআন ও হাদীস গবেষণা করে ইসলামকে নতুনভাবে(!) আবিষ্কার করেছে। বিগত ১৪০০ বছরের অধিক সময় ধরে মুসলিম উম্মাহ যা জানতে পারেনি, তাদের প্রচারিত এই নতুন ইসলামের কারণে মুসলিম উম্মত জানতে পারলো যে, ইসলামে রাজতন্ত্র হারাম। নতুন(!) এই ইসলামে ফতোয়া দেওয়া শুরু হলো যে, ইসলামে রাজতন্ত্র হারাম
দেখা যাচ্ছে কোন একজন আলেম ফতোয়া দেন নি যে, ইসলামে রাজতন্ত্র হারাম। তাহলে ইসলামে রাজতন্ত্র হারাম - এই ফতোয়া কারা দিচ্ছে? যদি কোন আলেম এই ফতোয়া না দিয়ে থাকেন, তাহলে নিশ্চয়ই এই ফতোয়া হচ্ছে একজন জাহেল (মূর্খ) ব্যক্তির।
ফুটনোটঃ
(১) এই সমস্ত জাহেল মুফতি-মুহাদ্দিসদের অনুসরণ করেছে এবং তাদের প্রচারিত গোমরাহী মানুষের মাঝে প্রচারিত করে লোকদেরকে গোমরাহ করছে, এমন কিছু বিদআতী দলের নাম হচ্ছেঃ জামাতে ইসলামী, হিযবুত তাহরীর, হিযবুত তাওহীদ, ইখোয়ানুল মুসলিমিন, আল-কায়েদাহ, আইসিস।  
(২) দেশের রাজা যদি ক্বুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করেন, তাহলে কল্যাণকর কাজে তাঁর আনুগত্য করা ওয়াজিব। তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা হারাম এবং কবীরাহ গুনাহ।
(৩) খিলাফত ঘোষণা করার কোন জিনিস নয়। মুসলিম উম্মতের প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবান নেতা ও রব্বানী আলেমরা যদি একত্রিত হয়ে যোগ্য কোন ব্যক্তিকে খলিফাহ হিসেবে নির্বাচন করেন, তাহলে তিনি বৈধ মুসলিম খলিফা বলে গণ্য হবেন। ছোট-খাট দুয়েকটা দেশ দখল করে আর মুসলিম উম্মাহর সাথে পরামর্শ না করে কিংবা অনুমতি না নিয়ে যে ব্যক্তি নিজেই নিজেকে খলিফাহ বলে দাবী করবে, সে একজন পথভ্রষ্ট ও নির্বোধ ব্যক্তি।

(৪) আমি ভালো করেই জানি, আমার এই লেখা অনেকের শরীরে জ্বালা ধরাবে। তাদেরকে বলবোঃ যদি পারেন, আধুনিক যুগের জাহেল মুফতি-মুহাদ্দিসদের বাদ দিয়ে, ইসলামের ইতিহাসে বিগত ১৪০০ বছরের মধ্যে রেফারেন্স দেখান যে, কোন একজন আলেম ইসলামে রাজতন্ত্র হারাম - এমন ফতোয়া দিয়েছেন। কোন আলেমের পক্ষ থেকে এই ফতোয়া দেখাতে না পারলে, জাহেল হয়ে নিজে নিজে ফতোয়াবাজি বন্ধ করুন। আল্লাহকে ভয় করুন এবং জ্ঞান অর্জন করুন। জ্ঞান ছাড়া আন্দাজে ফতোয়াবাজি করে নিজেকে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত করবেন না।  

সোমবার, ৯ জানুয়ারি, ২০১৭

আল্লাহ কি সবকিছু করতে পারেন?

(১) আল্লাহ কি সবকিছু করতে পারেন?
উত্তরঃ হ্যা, আল্লাহ সবকিছু করতে পারেন। দলীলঃ
وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ  
বাংলা অনুবাদঃ আর তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। সুরা আল-মুলকঃ ১।
English Translation : and He is Able to do all things. Sura al-Mukl: 1.
.
(২) আল্লাহ কি সন্তান জন্ম দিতে পারেন?
উত্তরঃ সন্তান জন্ম দেওয়া আল্লাহর কাজ নয়। অথবা বলতে হবে, সন্তান জন্ম দেওয়া আল্লাহর জন্য শোভনীয় নয়। দলীলঃ
مَا كَانَ لِلَّهِ أَنْ يَتَّخِذَ مِنْ وَلَدٍ
বাংলা অনুবাদঃ সন্তান গ্রহণ করা আল্লাহর কাজ নয়। সুরা মারইয়ামঃ ৩৫।
English Translation : It befits not (the Majesty of) Allah that He should beget a son." Sura Maryam: 35.
.
(৩) এই কথা বলা যাবে না যে, আল্লাহ সন্তান জন্ম দিতে পারেন না, অথবা, আল্লাহ অমুক কাজ করতে পারেন না। এইভাবে বললে আল্লাহর প্রতি অক্ষমতা আরোপ করা হয়, অথচ আল্লাহ স্বয়ং নিজে বলছেন, তিনি সব কিছু করতে সক্ষম। আল্লাহ সবকিছু করতে পারেন না, আল্লাহ অমুক কাজ করতে পারেন না বললে আল্লাহর সব কিছু করার ক্ষমতাকে অস্বীকার করে তাঁর প্রতি অক্ষমতার মিথ্যা আরোপ করা হয়।
সন্তান জন্ম দেওয়া, নিজেকে ধ্বংস করা, আল্লাহর মতো দ্বিতীয় আল্লাহ সৃষ্টি করা (নাউযুবিল্লাহি মিং যালিক) - এই ধরণের কাজগুলো ঘোড়ার ডিমের মতোই কোন অসম্ভব ও অস্তিত্বহীন। এই ধরণের কথা ও কাজ আল্লাহর সুমহান নাম, গুণাবলী ও মর্যাদার সাথে শোভনীয় নয়। কোন কাফের, মুশরেক, নাস্তিক বা মূর্খ ব্যক্তি যদি এই ধরণের প্রশ্ন করে উত্তর বলতে বলতে হবে, এই কাজ আল্লাহর সুমহান গুণাবলী ও মর্যাদার সাথে শোভনীয় নয়।
.
(৪) আল্লামাহ সালিহ আল-ফাউজান হাফিজাহুল্লাহ বলেছেন, যে ব্যক্তি বলে যে, আল্লাহ সবকিছু করতে পারেন না, সে একজন মুলহিদ, সে আল্লাহর আসমা ও সিফাতের ব্যপারে ইলহাদ করেছে।

*মুলহিদ বলা হয় এমন ব্যক্তিকে, যে আল্লাহর আসমা ও সিফাতের ব্যপারে ইলহাদ করেছে, হয় আল্লাহর আসমা ও সিফাতকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে অথবা, আল্লাহর আসমা ও সিফাতের অর্থ এমনভাবে বিকৃত করা যা আল্লাহর জন্য শোভনীয় নয়। 

রবিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১৭

সারা বছর ধরে লায়লাতুল ক্বদরের সমান সওয়াব পাওয়ার জন্য সহজ আমল

সারা বছর ধরে লায়লাতুল ক্বদরের সমান সওয়াব পাওয়ার জন্য সহজ আমলঃ
ব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, যে ব্যক্তি ইশার পরে চার রাকাত সালাত আদায় করে, এটা তার জন্য লায়লাতুল ক্বদরে চার রাকাত সালাত আদায় করার মতোই। মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহঃ ২/৩৪২।
য়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন, ইশার পরে চার রাকাত সালাত লায়লাতুল ক্বদরে চার রাকাত সালাত আদায় করার মতোই। মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহঃ ২/৩৪২।
শায়খ মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন আলবানী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, ইশার পরে এই চার রাকাত সালাত আদায় করার ফযীলত কয়েকজন সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে। এই সবগুলো বর্ণনার মাঝে আয়িশাহ, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আব্দুর রাহমান ইবনে আল-আসওয়াদ, মুহজাহিদ, (আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন) এই সাহাবীদের থেকে বর্ণিত হাদীসগুলো সহীহ। যদিও এই হাদীসগুলো সাহাবীদের কথা হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু এই হাদীসগুলো রাসুলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথার সমান মর্যাদা বহন করে। কারণ ইবাদতের ক্ষেত্রে এমন কথা রাসুলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে শোনা ছাড়া কোন সাহাবী বলতে পারেন না। আর এই ফযীলতের কথা কয়েকজন সাহাবী বর্ণনা করেছেন। একারণে, যদিও হাদীসগুলো সাহাবীদের কথা হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু এই হাদীসের মর্যাদা রাসুলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথার সমপর্যায়ের বলে গণ্য হবে। সিলসিলাহ জয়ীফাহঃ ৫০৬০।
লায়লাতুল ক্বদরের সমান সওয়াব পাওয়ার জন্য ইশার পরে চার রাকাত সালাত আদায় করার নিয়মঃ
ইশার সালাত আদায়ের পরে চার রাকাত নফল সালাত আদায়ের নিয়তে এক সালামে চার রাকাত সালাত আদায় করতে হবে। মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহঃ ২/৩৪২।
এই চার রাকাত যোহরের পূর্বের চার রাকাত সুন্নত সালাতের মতোই স্বাভাবিক নিয়মে, যেকোন সুরা দিয়ে আদায় করা যাবে।
টিপসঃ যাদের জন্য অধিক সালাত আদায় করা কষ্টকরা হয়ে যায়, তারা বিতির সালাত তিন রাকাত না পড়ে এক রাকাত পড়বেন। প্রথমে উক্ত চার রাকাত নফল সালাত পড়বেন, তারপর এক রাকাত বিতির পড়বেন। এইভাবে আপনি তিন রাকাত বিতিরের পরিবর্তে ৪+১=৫ রাকাত সালাত পড়ে ক্বদরের রাতে চার রাকাত সালাত আদায় করার সমান সওয়াব পাবেন + বিতিরের সওয়াবও পেয়ে যাবেন। তবে কেউ যদি চার রাকাত পড়ে বিতির তিন রাকাত পড়ে, সেটার সওয়াব বেশি ও উত্তম হবে।
কৃতজ্ঞতাঃ
রাসুলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর শোকরগুজারিও আদায় করে না। জামে তিরমিজী।
এই পোস্টের জন্য আমি বিশেষভাবে আমাদের এক ভাই আবুল আলিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞ, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন, আমিন। আপনারা যারা ইংরেজী ভাষায় দ্বীন চর্চা করেন, আমি তাদেরকে বলবোঃ আপনারা অল্প ইলম সম্পন্ন কিংবা বিভ্রান্ত সেলেব্রিটি বক্তা ও লিখকদের কথা শুনে নিজেদের দ্বীনের ক্ষতি করবেন না। বরং, আলেমদের কাছ থেকে দ্বীন শিখেছেন, এমন নির্ভরযোগ্য তালিবুল ইলমদের কাছ থেকে উপকৃত হওয়ার চেষ্টা করুন। আবুল আলিয়ার ব্লগের লিংক -

http://www.abuaaliyah.com/