শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০১৪

ক্বুরান মাজীদ এর আয়াত বিক্রি করে খাওয়া নিষিদ্ধ



ক্বুরান মাজীদ এর আয়াত বিক্রি করে খাওয়া নিষিদ্ধঃ

আর তোমরা অল্প মূল্যে আমার আয়াত সমূহকে বিক্রি করোনা।
সুর আল-বাক্বারাহঃ আয়াত ৪১।

সুবহানাল্লাহ ! ক্বুরানের স্পষ্ট আয়াত, তারপরেও আমাদের দেশের বহু (অর্থ না বুঝে) হাফেজ সাহেবকে দেখা যায় মৃতবাড়িতে ক্বুরান তেলাওয়াত করে, কবর জিয়াতের সময় কিছু সুরা পড়ে, মিলাদ পড়ে, মৃত্যুবার্ষিকীতে ক্বুরান খতম দিয়ে, কেউ বিপদে পড়লে খতমে ইউনুস (টাকার বিনিময়ে মাদ্রাসার সব ছাত্র মিলে সোয়া লক্ষ বার দুয়া ইউনুস পড়ার বেদাতী তরীকা), নারী-পুরুষের মাঝে অবৈধ ভালোবাসার মিল-মহব্বত করার জন্য তদবীর, ক্বুরানী তাবীজ দিয়ে টাকা খাওয়া ইত্যাদি নামে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে টাকা খাচ্ছে। এরা ক্বুরানের নাম করে ক্বুরান বিক্রি করে হারাম ইনকাম করছে, মানুষকে ধোঁকা দিয়ে বেদাতী আমল করিয়ে টাকা, সময় ও সওয়াব নষ্ট করছে।

কিছু বক্তা আছে, টাকার রেইট ধরে ইসলামী মাহফিলে ওয়াজ করে। শিরক বেদাতী আকীদায় ভরা কিন্তু মিষ্টি সুরে ওয়াজ করে আর কবরের সাপ ও জান্নাতের হুরের লোভ দেখিয়ে মানুষের হৃদয় গলিয়ে নিজের ডিমান্ড বাড়ায়। টাকার রেইট ধরে যেই বক্তা ওয়াজ করে এর ইনকাম অবৈধ, একে ভাড়া করে ওয়াজ শোনা নিষিদ্ধ কারণ সে ক্বুরানকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করছে।

উল্লেখ্য, মাদ্রাসায় পড়িয়ে বেতন নেওয়া বৈধ, বা ইমামের সম্মানী নেওয়া বৈধ। যদিও ইমাম আবু হানীফা রহঃ এইগুলোকে জায়েজ মনে করতেন না কিন্তু অন্য ফকীহ যারা, তাঁরা ক্বুরান, সুন্নাহ ও সাহাবাদের আদর্শ থেকে প্রমান করেছেন এই সমস্ত ক্ষেত্রে সম্মানী নেওয়া বৈধ।


প্রিয় দ্বীনি ভাই ও বোনেরা ইলম অর্জন করুন, আল্লাহর ইবাদত কিভাবে করতে হয় তা শিক্ষা করুন, যাতে করে ধোঁকায় পড়ে সিরাতাল মুস্তাকীম হারিয়ে না ফেলেন। আল্লাহ আমাদের নিরাপদ রাখুন, আমিন।  

প্রশ্নঃ পা ছুঁয়ে সালাম করা যাবে?



সাবধান ! মুসলমানদের মাঝে হিন্দুদের আকীদা ও আমল ঢুকে গেছে !!

প্রশ্নঃ পা ছুঁয়ে সালাম করা যাবে? বিয়ের পরে অনেক শ্বশুর-শাশুরি বাধ্য করে পা ছুঁয়ে সালাম করার জন্য, কি করবো?

উত্তরঃ পা ছুঁয়ে সালাম করা, কদমবুসি করা বা পায়ে চুমু খাওয়া, পদধূলি নেওয়া - এ সবগুলো হচ্ছে মুশরেক জাতি হিন্দুদের অনুকরণে নিকৃষ্ট বিদআত। মূলত কবর মাযার পূজারী আর পীর পূজারীরা মুসলমানদের মাঝে এই কুপ্রথা ঢুকিয়েছে। উল্লেখ করা যেতে পারে, এই বেদাতীরা কবর মাযার ও তাদের পীর বুজুর্গদেরকে সেজদাহ পর্যন্ত করে (নাউযুবিল্লাহ), সুতরাং পা ছুঁয়ে সালাম করা এদের কাছে কোন ব্যপারই না।

আফসোস ! আজ পর্যন্ত কোনো হিন্দু বা কাফেরকে দেখলামনা মুসলমানদের কোনো কিছু অনুকরণ করতে। মুসলমান জাতি কেনো হিন্দুয়ানি কালচার ফলো করার জন্য এতো দিওয়ানা হবে?

বিঃ দ্রঃ পা ছুঁয়ে সালাম করতে গেলে মাথা কোনো মানুষের সামনে ঝুঁকানো হয়, যা শিরক। মুসলমানদের মাথা শুধুমাত্র এক আল্লাহর সামনেই নত হয় - নামাযের রুকু ও সিজদাতে, অন্য কারো জন্য না।
সমস্যা হচ্ছে, সমাজের অজ্ঞ লোকদেরকে নিয়ে জানেনা ইসলাম একফোটা, ক্বুরান হাদীস না জেনেই বড় বড় ফতোয়া ছাড়ে আর নিরিহ বউদেরকে বাধ্য করে এই হারাম কাজ করার জন্য। দেবদাস মার্কা স্বামী খাম্বার মতো দাঁড়িয়ে থাকে তার বউকে হারাম কাজে বাধ্য করা হচ্ছে, বাঁধা না দিয়ে বোবা শয়তান সেজে বসে থাকে। মোস্ট প্রবাবলি, এই ধরণের লোকগুলো মানুষকে খুশি করার জন্য নিজেও শ্বশুড়বাড়ি গিয়ে পায়ের ধূলা নেওয়ার জন্য অন্যের পায়ের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে। এদেরকে ইসলাম শেখানো জরুরী, এদের মূর্খতার কারণে পুরো সমাজে বিপর্যয় দেখা যাচ্ছে, নিজে ইসলাম জানেনা অন্যদের ইসলাম পালনে বাঁধা সৃষ্টি করে। সমাজের লোকেরা পাপ কাজে লিপ্ত থাকলে যদি আযাব আসে, সেটা কিন্তু ভালো-মন্দ সবাইকে স্পর্শ করে। তাই আমাদের মুসলমানদেরকে জমীন থেকে শিরক ও বেদাত উৎখাত করার জন্য ক্বুরান ও সুন্নাতের দাওয়াত ও তাবলীগে আরো বেশি মনোযোগী হতে হবে।  

যেই প্রসংগে কথাগুলো বলাঃ

শ্বশুড়-শ্বাশুড়ি আশা করলেই যে সব আশা পূরণ করতে হবে এমন না, হারাম কাজে তাদের কেন, স্বামীর আদেশও মান্য করা যাবেনা। ইসলামের বিধান হচ্ছেঃ জায়েজ কাজে স্বামীর আনুগত্য করতে হবে, যদিও সেটা কোনো স্ত্রীর ভালো না লাগে বা সে ঐ বিষয়ের সাথে একমত না হয়।
কিন্তু, স্বামী যদি এমন কোনো কথা বলে, যা কুরআন ও সুন্নাহর বিপরীত তাহলে সেটা মানা যাবেনা। আজকাল অনেক মুসলিম(!) পুরুষ তার স্ত্রী পর্দা করুক পছন্দ করেনা, এই ব্যাপারে স্বামীর অনুগত্য করা চলবেনা। এ প্রসংগে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ 
খালিক (সৃষ্টিকর্তার) অবাধ্য হয়ে কোনো মাখলুকের (সৃষ্টির) আনুগত্য নেই
মুসনাদে আহমাদ ও হাকিম।

আর কেউ যদি মানুষকে খুশি করার জন্য আল্লাহর আদেশ অমান্য করে তাহলে তার পরিণতি সম্পর্কে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
যে ব্যক্তি মানুষকে সন্তুষ্ট করার আল্লাহ তাআলাকে অসন্তুষ্ট করে, তাহলে আল্লাহ তাআলা তার প্রতি অসন্তুষ্ট হন। পরিণতিতে আল্লাহ তাআলাকে অসন্তুষ্ট করিয়া যাদেরকে সে সন্তুষ্ট করিয়াছিল, তারাও অসন্তুষ্ট হয়। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে মানুষকে অসন্তুষ্ট করে, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং আল্লাহ তাআলাকে সন্তুষ্ট করার জন্যে যাহাদেরকে সে অসন্তুষ্ট করেছিলো, তাদেরকেও আল্লাহ তাআলা সন্তুষ্ট করেন। সেই সব অসন্তুষ্ট লোকদের দৃষ্টিতে আল্লাহ তাআলা তাকে উত্তম করে দেন, সেই ব্যাক্তির কথা ও কাজকে তাহাদের দৃষ্টিতে শোভণীয় করে দেন।

সুনানে আত-তিরমিযী। 

নারীদের মিছিল করা



এই হচ্ছে কিছু মানুষের ইসলাম পালন !
নিজেদের সৌন্দর্য দিয়ে কুফফারদেরকে অন্তর নরম করে, ফিলিস্থিনে নির্যাতিত মুসলমানদেরকে সাহায্য করতে চাওয়ার বৃথা চেষ্টা !!

প্রশ্নঃ প্রটেস্ট বা বিক্ষোভ মিছিল করার হুকুম কি?
উত্তরঃ ওলামাদের সর্বসম্মতিক্রমে মিছিল করা হারাম ও বেদাত, এটা কাফেরদের অনুকরণ করার মাঝে অন্তর্ভুক্ত। কিছু আলেম এর নাম যারা মিছিল করা বেদাত বলে ফতোয়া দিয়েছেনঃ

. ইমাম আব্দুল জিজ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে বাজ রাহি'মাহুল্লাহ
. মুহাদ্দিসদের ইমাম, আল্লামাহ নাসির উদ্দিন আলবানী রাহি'মাহুল্লাহ
. আল-ফকীহ, শায়খ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন (রাহিমাহুল্লাহ)
. শায়খ সালেহ আল-ফাওজান  
. শায়খ আব্দুল আজিজ আহলুশ শায়খ
. শায়খ উয়াসী উল্লাহ আব্বাস
. শায়খ সালেহ আস-শুহাইমি
. ইমাম আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ

এইরকম অসংখ্য আলেম এর সর্বসম্মতিক্রমে ইজমা হয়ে গেছে মিছিল করা সম্পূর্ণ হারাম ও এটা ফাসাদ সৃষ্টি করার মাঝে অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে শুধুমাত্র ইখওয়ানুল মুসলিমিন, জামাতে ইসলামীর মতো দল আর এদের থেকে বের হওয়া বিভিন্ন ভ্রান্ত ফেরকা হিজবুত তাহরীর, হিযবুত তাওহীদ এইরকম যারা মুখে ইসলাম কায়েমের কথা বলে, কিন্তু কাজে কর্মে কাফেরদের অনুকরণ করে - তারাই এই সমস্ত ফাসাদের (মিছিলের) পক্ষে ফতোয়াবাজি করে হালাল করতে চায়। বিস্তারিত জানতে দেখুনঃ

http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/07/blog-post_3417.html

প্রশ্নঃ নারীদের বাইরে বের হওয়ার হুকুম কি?
উত্তরঃ নিষিদ্ধ, শুধু জরুরী প্রয়োজনে বাইরে যেতে পারবে, শর্ত সাপেক্ষে।

আর তোমরা গৃহে অবস্থান করবে, জাহেলিয়াতের (মূর্খতা যুগের) মত নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না। তোমরা নামায কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে।
সুরা আল-আহজাবঃ ৩৩।

প্রশ্নঃ তাবাররুজ এর হুকুম কি?
উত্তরঃ নারীদের সৌন্দর্য প্রকাশ করে বাইরে ঘুরে বেড়ানো বা তাবাররুজ হচ্ছে সবচাইতে বড় মুনকার এর মাঝে অন্তর্ভুক্ত যার কারণে তার বাবা, স্বামী পর্যন্ত জাহান্নামী হয়ে যায়!

প্রশ্নঃ নারীরা টাইট পোশাক পড়তে পারে? What about জিন্স?? চেহারা খোলা রাখতে পারবে?
মন্তব্যঃ নারীদের জন্য পুরুষদের পোশাক - শার্ট, প্যান্ট পড়া সম্পূর্ণ হারাম ও লানত পাওয়ার কাজ। টাইট পোশাক পড়া পুরুষদের জন্যই হারাম, আর নারীদের জন্যতো আরো বড় হারাম কারণ তাদের প্রতি পুরুষের টেম্পটেশান বেশি। আর সঠিক মত অনুযায়ী, চেহারা ঢাকা নারীদের জন্য ওয়াজিব।

এত কিছুর পরেও যারা মনে করে তারা হিজাব করছে, এরা হচ্ছে মডারেট মুসলিম, হিজাব নাম দিয়ে ধোঁকা। আর কাফেররা এটাই চাচ্ছে, মুসলমানদেরকে বিভিন্নভাবে এমন ইসলাম গিলতে বাধ্য করা যাতে করে আসলে তারা ইসলামের বাইরে থাকবে যাতে করে কাফেররা ইসলামের জাগরণকে প্রতিহত করতে পারে। কিন্তু পথভ্রষ্ট লোকগুলো মনে করবে, আমিতো ইসলাম পালন করছি, কি দরকার ধর্ম নিয়ে এতো বাড়াবাড়ি করে, ইসলাম শান্তির ধর্ম ইসলাম এতো কঠোর না ব্লা ব্লা।

নিজে এতো এতো পাপের ডুবে থেকে মিছিলের মাধ্যমে কাফেরদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছে মুসলমানদের মেয়েরা, এর চাইতে বড় বিপদ আর কি হতে পারে?

যেই পুরুষেরা নিজের ঘরের মেয়েদের খোঁজ না নিয়ে দুনিয়ার মাঝে ডুবে আছে, নিজে পাপাচারে লিপ্ত থেকে অন্যদেরকেও পাপাচারে এলাউ করছে এই সমস্ত গাফেল নারী-পুরুষদের কারণেই আজকে মুসলমানদের এই দুর্দশা। বিশ্বাস না হলে হাদীস ও আমাদের কি করণীয় দেখুনঃ

যখন কোন জাতি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, তখন আল্লাহ তাদের উপর তাদের বিজাতীয় দুশমনকে ক্ষমতাসীন করেন এবং সে তাদের সহায়-সম্পদ কেড়ে নেয়।
ইবনু মাজাহ হা/৪০১৯, হাদীস সহীহ, ছহীহাহ হা/১০৬-০৭।

এ সম্পর্কিত আমাদের পূর্বের ২টি লেখার লিংকঃ-

http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/07/blog-post_12.html


http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/05/blog-post_6.html

বিক্ষোভ মিছিল/প্রটেস্ট/ডেমনস্ট্রেশান/সরকার বিরোধী সমাবেশ?



বিক্ষোভ মিছিল/প্রটেস্ট/ডেমনস্ট্রেশান/সরকার বিরোধী সমাবেশ???

প্রশ্নকর্তা শামীমঃ শায়খ আমার আরেকটা প্রশ্ন হচ্ছে বিক্ষোভ মিছিল বা প্রটেস্ট/ডেমনস্ট্রেশান নিয়ে। বর্তমান সময়ে আমাদের ওলামাদের মাঝে ইজমা বা ঐক্যমত আছে মিছিল করা ভুল। কিন্তু কিছু মানুষ IslamQA এর শায়খ সালিহ আল-মুনাজ্জিদ এর ফতোয়া কোট করে বলে, কিছু শর্তসাপেক্ষে মিছিল করা জায়েজ. অথবা ডা. জাকির নায়েকের কথা নিয়ে আসে যেখানে তিনি ফতোয়া দিয়েছেন - শান্তিপূর্ণ মিছিল করলে কোনো সমস্যা নেই. এই ব্যাপারে কি বলা হবে?

শায়খ ওয়াসী উল্লাহ আব্বাসঃ কিসের কথা বলা হচ্ছে? (শায়খ পরিষ্কার করতে চাচ্ছেন বিষয়টা), মানে কিছু মানুষ জমায়েত হবে আর সম্মিলিতভাবে সরকারের বিপক্ষে স্লোগান দিবে?

প্রশ্নকর্তাঃ হ্যা, হ্যা।

শায়খ ওয়াসী উল্লাহ আব্বাসঃ কোনো সন্দেহ নেই - এইরকম বিশ্বাস করা ভুল, এইরকম বিশ্বাস করা ভুল। এই কথা যেই বলে থাকুক না কেনো, মুনাজ্জিদ বা অন্যকেউ এটা ভুল. দেখুন যেখানে মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে আছে, মানুষকে দ্বীন পালন করতে বাঁধা দেওয়া হচ্ছেনা, মানুষকে নামায, রোযা ও অন্য ফরয কাজে বাঁধা দেওয়া হচ্ছেনা, এমন অবস্থায় যখন আমাদের শক্তি-সামর্থ্য নেই (অর্থাত মুসলিমরা দুর্বল), তখন একটা কাফির সরকারের বিরুদ্ধেও বিদ্রোহ করা জায়েজ নয়। মুসলিমরা দুর্বল অবস্থায় যদি বিদ্রোহ করে বসে তাহলে আরো বেশি বিপদের সম্ভাবনা আছে, মানুষের জীবন যাবে, সম্মান নষ্ট হবে। এটাই হলো প্রকৃত বাস্তবতা। আর যারা ফতোয়া দেয় মিছিল করা, স্লোগান দেওয়া এইগুলো জায়েজ, তারা (ক্ষতির জন্য) রাস্তা খুলে দিচ্ছে। এই সবকিছু (বর্তমানে এই ধরণের বিক্ষোভ মিছিলের কারণে যে ক্ষতি হচ্ছে, মুসলমানদের জীবন যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে) হয়েছে এই মিছিলের কারণেই। প্রথমে ইখওয়ানুল মুসলিমিন (মিশরের জামাতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক একটা দল) এটা শুরু করে এবং পরে (মিশরীয়) সালাফী একটা দল এতে অংশগ্রহণ করে। আর এইজন্য ইখওয়ানের যে ভাগ্য একই ভাগ্য বরণ করেছে মিশরীয় সালাফী এই দলটি, রক্তপাত ও হত্যা। একারণে আর্মি ও পুলিশ এর মাঝে আসে। এই ধরণের বিক্ষোভ, বিদ্রোহ, সরকার উচ্ছেদ এইগুলো শরীয়তের মাঝে নেই। একটা সরকার সরিয়ে আরেকটাকে আনবে, কয়েক মাস পরে সেই সরকারও একই রকম করবে, আবার তারা বিদ্রোহ করবে...আল্লাহ বলেছেনঃ   

আপনি যতই চান, অধিকাংশ লোক ঈমানদার নয়।
সুরা ইউসুফঃ ১০৩।

আল্লাহ বলছেন বেশিরভাগ মানুষ ঈমানই আনেনা, তাই আবার যখন বেশিরভাগ মানুষ একবার একটা সরকার উতখাত করে পরে নতুন একটাকে এনে আবার সেটাকেও সরাতে চাইবে। আর এইরকম কেয়ামত পর্যন্ত চলতে থাকবে। একারণে শরীয়তে এই ধরণের বিক্ষোভ মিছিল মোটেও জায়েজ না। কাফের সরকারের বিরুদ্ধ যদি ক্ষমতা থাকে তাহলে সেটাকে সরানোর জন্য চেষ্টা করবে। কিন্তু যদি ক্ষমতা না থাকে আর তারা যদি দ্বীন পালন করতে বাঁধা না দেয়, কারো দ্বীন ও ঈমান নিরাপদ থাকে, যেইরকম ছিলো বাদশাহ নাজ্জাশীর সময়ে, তখন এইরকম সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের চেষ্টা করা জায়েজ নয়।

সরকার ভুল করতেছে, কিন্তু এটার জন্য তারা এই ধরণের কাজে জড়িয়ে পড়বেনা, বিক্ষোভ মিছিল করে স্লোগান দিবেনা।

বিক্ষোভ মিছিলের পক্ষে ফতোয়া যেই দিয়ে থাকুক থাকুক না কেনো, মুনাজ্জিদ বা অন্যকেউ এটা ভুল. আর জাকির নায়েক কোনো মুফতি না, সে মুনাজ্জিদ এবং অন্যদের কথা তাকলিদ (অন্ধভাবে বিশ্বাস) করেছে এবং মানুষের মাঝে প্রচার করছে। জাকির নায়েক কোনো আলেম না।

ফতোয়া দিয়েছেনঃ শায়খ ওয়াসী উল্লাহ আব্বাস (হাফিজাহুল্লাহ)।
মসজিদুল হারাম (কাবার) ডেপুটি মুফতি।

মূল ফতোয়ার লিংক, ইংরেজী অনুবাদসহঃ (৬:২০ থেকে ৯:৩০ মিনিট)



প্রশ্নত্তোরে ইসলাম



প্রশ্নত্তোরে ইসলামঃ

যিনা-ব্যভিচার ও গর্ভপাত নিয়ে প্রশ্নঃ
প্রশ্নঃ আজকাল সমাজে যিনা-ব্যভিচার ও পরকীয়া অনেক বেড়ে গেছে, সাথে সাথে বেড়ে গেছে অবৈধ সন্তান জন্ম দেওয়া। অনেক মেয়ে যিনা করে গর্ভবতী হয়, তারা চায়না তাদের পরিবার সমাজে কলংকিত হোক বা তার অপকর্মের কথা অন্য কেউ জানুক। সে কি গর্ভপাত করে সন্তান নষ্ট করতে পারবে? যিনা-ব্যভিচার বা অবৈধ সন্তানের কলংক ঢাকার জন্য কি তারা বিয়ে করতে পারবে?

উত্তরঃ কেয়ামতের একটা লক্ষণ হচ্ছে, যিনা-ব্যভিচার অনেক ব্যপকতা লাভ করবে, মানুষ প্রকাশ্যেই যিনা করবে যার ফলে মুসলিম সমাজে অবৈধ সন্তান বেড়ে যাবে। যাইহোক, সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ফতোয়া কমিটির ফতোয়া অনুযায়ীঃ যিনা করার কারণে কোন নারী গর্ভবতী হলে সে সন্তানকে হত্যা করতে পারবেনা। সে নির্দিষ্ট সময়ে বাচ্চা জন্ম দেবে, বাচ্চাটা মায়ের সাথে সম্পৃক্ত হবে, বাবার নামে পরিচিত হবেনা। যদি সন্তান হত্যা করে তাকে কাল কেয়ামতের দিনে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
আর যিনা করার কারণ গর্ভবতী হয়েছে এটা ঢাকার জন্য সে যিনাকারী বা অন্য কাউকেই বিয়ে করতে পারবেনা, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে জিনা থেকে তোওবা করবে, বাচ্চা জন্ম দেবে, এর পরে সে ঐ যিনাকারী বা অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারবে, তার পূর্বে নয়। 

অনেকে প্রশ্ন করতে পারে, এটা কি নারীদের প্রতি কঠোরতা নয়।

উত্তর হচ্ছেঃ হ্যা, নিশ্চয়ই এই রকম অবস্থাতে নারীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। যিনাকারী ও যিনাকারী দুইজনে সমান অপকর্ম করলো, কিন্তু নারী সাফার করবে বেশি। নারী গর্ভবতী হবে, পুরুষ হবেনা, নারী ও তার পরিবার দুনিয়াবাসীর সামনে বেইজ্জতি হবে, অথচ যিনাকারী কে মানুষ তা জানবেই না। অনেক যিনাকারী যিনা করে সরে পড়ে, হতে পারে সে অন্য কাউকে বিয়ে করে সংসার করা শুরু করলো। আর এইদিকে নারীটা হয় গর্ভপাত করে নিজের ও সন্তানের জীবন ও স্বাস্থের ক্ষতি করবে - যা শরীয়ত হারাম করেছে। আর যদি সে আল্লাহকে ভয় করে ও পরকালের কথা চিন্তা করে, তাহলে বাচ্চা জন্ম দেবে, এর কষ্ট ভোগ করবে, তার উপর তার বিয়ে করাও কঠিন হয়ে যাবে।

নারীদের ক্ষতি বেশি হয় পাপে জড়িয়ে পড়লে তার পূর্ব সতর্কতাবশত তাদের হুকুম আহকামগুলোও বেশি।

=> নারীরা ইচ্ছা করলেই বাইরে যেতে পারেনা, জরুরী প্রয়োজন ছাড়া।

=> জরুরী প্রয়োজনে বাইরে বের হলেও পুরুষ মাহরাম নিয়ে, পূর্ণ শরীর ঢেকে বের হতে হবে, সুগন্ধি ব্যবহার না করে, যাতে করে লম্পট পুরুষেরা তার দিকে আকৃষ্ট না হয়।

=> একা একা সফর করতে পারবেনা।

=> কোন গায়ের মাহরাম পুরুষের সাথে নম্র বা মিষ্টি স্বরে কথা বলতে পারবেনা। তাদের সাথে একাকী বা নির্জনে অবস্থান করতে পারবেনা।

=> তার ঘরে গায়ের মাহরাম কোন পুরুষকে প্রবেশ করতে দিবেনা, দেবর হোক আর যাই হোক।

=> মোবাইলে, ফেইসবুকে, চ্যাট ইত্যাদিতে পুরুষদের সাথে বন্ধুত্ব করতে পারবেনা।

আশা করি, যারা অভিযোগ করেন কেন ইসলাম নারীদের জন্য এতো কঠিন তারা সামান্য ধারণা পাবেন, ইসলাম নিয়ে বিস্তারিত স্টাডি করলে হয়তো বিষয়টা আরো পরিষ্কার হবে।

যাকাত নিয়ে প্রশ্নঃ
আমরা যারা চাকুরী করি তাদের বেতন থেকে প্রভিডেন্ট ফান্ড কাটা হয়, যেটা আমরা চাকুরী শেষ হলে পাই। এইক্ষেত্রে যাকাতের বিধান কি?
উত্তরঃ টাকা যদি এমন হয় যখন ইচ্ছা তোলা যাবে, তাহলে ঐ টাকার উপরে প্রতি বছর শেষে যাকাত দিতে হবে। আর যদি এমন হয় টাকা তোলা যাবেনা, নির্দিষ্ট সময়ের আগে তাহলে ঐ টাকার উপরে যাকাত দিতে হবেনা। যেইদিন টাকা হাতে পাবে এর পর থেকে যাকাত দিতে হবে।

সাওম নিয়ে প্রশ্নঃ
প্রশ্নঃ আমি ডায়েবেটিসের রোগী। ওষুধ খেতে মনে ছিলোনা, আযানের পরে মনে হয় আর ঔষধ খেয়ে নিয়েছিলাম। আমার রোযা কি হবে?
উত্তরঃ সাহরী (ভাত/পানি যেকোন কিছু) খাওয়া অবস্থায় আযান দিলে হাতের কাছে বা প্লেইটে যা থাকে সেটা খেয়ে শেষ করা যাবে। কিন্তু নতুন করে কোন কিছু নেওয়া যাবেনা। কিন্তু খাওয়া হচ্ছেনা এমন অবস্থান আযান দিলে এর পরে নতুন করে কোন কিছু খাওয়া যাবেনা, খেলে রোযা ভেঙ্গে যাবে। ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ এমন করলে তাকে পরবর্তীতে আরেকটা কাজায রোযা রেখে নিতে হবে।

দাম্পত্য নিয়ে প্রশ্নঃ
প্রশ্নঃ অনেক বোনের স্বামী বেনামাযী। তারা কি তাদের স্বামী থেকে পৃথক হয়ে যাবেন?

উত্তরঃ বিষয়টির উপরে শায়খ উসাইমিন (রহঃ) বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, বেনামাযি কাফের তার সাথে বসবাস করা বৈধ নয়। আপনারা ফতোয়া আরকানুল ইসলাম এর সালাত অধ্যায় দেখতে পারেন। তবে, কেউ প্রথমেই পৃথক না হয়ে, যদি কিছুদিন ধৈর্য ধরে স্বামীকে সংশোধনের চেষ্টা করতে পারে। হয়তো স্বামী, জাহেল, শরীয়ত কি জানেনা, তাই আগে তাকে সতর্ক করে, সংশোধনের চেষ্টা করে এর পরে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। (এই মতামতটা দিয়েছেন শায়খ মুসলেহ উদ্দিন, যা বাস্তবতার সাথে সামজস্যশীল, আর এর স্বপক্ষে তিনি রাসুল সাঃ এর এক কন্যার একটা ঘটনা দলীল হিসেবে পেশ করেছেন এ ব্যপারে আল্লাহই সবচাইতে ভালো জানেন)। 

২৭ শের রাত্রি শবে ক্বদর এই ধারণা ঠিকনা



২৭ শের রাত্রি শবে ক্বদর এই ধারণা ঠিকনা, বরং শেষ দশকের যেকোন বেজোড় রাত্রিতেই হতে পারেঃ

আমাদের দেশের মানুষ মনে করে, শবে ক্বদর হলো রমযানের ২৭ তারিখ রাতে এটা একটা ভুল ধারণ বিভিন্ন হাদীস একত্রে করে যে মতটা সবচাইতে শক্তিশালী সেটা হলো, রমযানের শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাত্রির যেকোনো একদিন (২১/২৩/২৫/২৭/২৯) শবে ক্বদর।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
তোমরা রামাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে শবে কদর অনুসন্ধান কর।
সহীহ বুখারী, অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সোয়াবের আশায় রোযা রাখে।

তবে শেষ সাত দিনের বেজোড় রাতে শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যেমন, নিম্নোক্ত হাদীসটিঃ
ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, কয়েকজন সাহাবী রামাযানের শেষ সাত রাত্রিতে স্বপ্ন মারফত শবে কদর হতে দেখেছেন। সাহাবীদের এ স্বপ্নের কথা জানতে পেরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ আমি দেখছি তোমাদের স্বপ্নগুলো মিলে যাচ্ছে শেষ সাত রাত্রিতে। অতঃএব কেউ চাইলে শেষ সাত রাত্রিতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করতে পারে।
সহীহ বুখারী ও মুসলিম। এ মর্মে আরও হাদীস রয়েছে।

কোন কোন সালাফে-সালেহীন সাতাইশ রাত শবে কদর হওয়ার অধিক সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করেছেন। সাহাবীগণের মধ্যে ইবনে আব্বাস (রাঃ), মুআবিয়া, উবাই ইবনে কাব (রাঃ) এর মতামত থেকে এটাই বুঝা যায়।

কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এভাবে নির্দিষ্ট করে লাইলাতুল কদর হওয়ার কোন হাদীস নাই। তাই উপরোক্ত সাহবীদের কথার উপর ভিত্তি করে বড় জোর সাতাইশে রাতে শবে কদর হওয়াকে অধিক সম্ভাবনাময় বলা যেতে পারে। নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

সঠিক কথা হলঃ শবে কদর কখনো ২১, কখনো ২৩, কখনো ২৫, কখনো ২৭ আবার কখনো ২৯ রাতে হতে পারে।

সুতরাং শুধু সাতাইশ তারিখ নয়, বরং কোন ব্যক্তি যদি রামাযানের শেষ দশকের উপরোক্ত পাঁচটি রাত জাগ্রত হয়ে ইবাদত-বন্দেগী করে তবে নিশ্চিতভাবে শবে কদর পাবে।

কিন্তু শুধু সাতাইশ রাত জাগলে শবে কদর পাবে তার কোন নিশ্চয়তা নাই। বরং অন্যান্য রাত বাদ দিয়ে শুধু সাতাইশ রাত উদযাপন করা বিদআতের অন্তর্ভূক্ত। বিশেষ করে আমাদের দেশে যেভাবে শুধু সাতাইশ তারিখ নির্দিষ্ট করে নেয়া হয়েছে সেটা বিদআত ছাড়া অন্য কিছু নয়। তাই বিদআত বর্জন করে সুন্নতী পন্থায় আমল করা আমাদের জন্য অপরিহার্য।

শবে কদরের বিশেষ দুয়াঃ
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি যদি জানতে পারি যে, কোন রাতটি লাইলাতুল কদর তাহলে তখন কোন দুয়াটি পাঠ করব? তিনি বললেন, তুমি বলঃ

اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّى

হে আল্লাহ, আপনি মহানুভব ক্ষমাশীল। আপনি ক্ষমা করা পছন্দ করেন। অতঃএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। তিরমিযী, অনুচ্ছেদ, কোন দুয়াটি শ্রেষ্ঠ। তিনি বলেন হাদীসটি হাসান, সহীহ।

যেই আমলগুলো করতে হবেঃ-
. নামায ২ রাকাত ২ রাকাত করে নফল নামায পড়বেন, যতটুকু সম্ভব সুরা ক্বদর বা সুরা ইখলাস এতোবার পড়তে হবে এমন কোন ধরাবাঁধা নিয়ম নেই, অন্য যেকোনো নফল নামাযের মতোই ২ রাকাত নফল নামায পড়তে হয়

নিচের আমলগুলো ঋতুবতী নারীসহ সকলেই করতে পারবেনঃ
. কুরআন তেলাওয়াত স্পর্শ না করে ঋতুবতী নারীরাও কুরআন পড়তে পড়তে পারবে, আলেমদের এই মতটাই সঠিক ইন শা আল্লাহ এটা নিয়ে পরে পোস্ট দেওয়া হবে তবে সন্দেহের কারণে কেউ ক্বুরান তেলাওয়াত করতে না করতে চাইলে যেই সমস্ত আলেম হারাম মনে করেন সেটার সাথে একমত হলে, এডমিনের সাথে ঝগড়া করার কিছু নেই কারণ এই বিষয় নিয়ে আলেমদের মাঝে দ্বিমত আছে

. তোওবা করা সারা জীবনের সমস্ত গুনাহর জন্য কান্নাকাটি করে তোওবা করা ও মাফ চাওয়া বাংলা বা আরবী যেকোনো ভাষায়, অতীতের ভুলের জন্য লজ্জিত হয়ে আন্তরিকভাবে ভবিষ্যতে আর না করার সংকল্প নিয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে আরবীতে করতে চাইলে - আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি হে আল্লাহ আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি ও তোমার দিকে প্রত্যাবর্তন করছি, এতোটুকু পড়ে বা ক্বুরান হাদীসে বর্ণিতে অন্য দুয়া দিয়ে তোওবা করা যাবে

. দুনিয়া ও আখেরাতের সমস্ত কল্যানের জন্য দুয়া করা নিজের জন্য, মাতা পিতা বা ভাই বোন, অন্য যেকোন জীবিত ও মৃত মুসলমানদের জন্য দুয়া করতে হবে

. জান্নাতুল ফিরদাউস পাওয়ার জন্য দুয়া করতে হবে

. যিকির আযকার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ১০০বার, ৩৩ বার সুবাহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৩ বার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহাদাহু লা শারীকালাহু...... ১০ বার ১০০ বার করে সহ, লা হাউলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ আরো দুয়া পড়ার জন্য হিসনুল মুসলিম দেখুন মুখস্থ না পারলে বই খুলে পড়তে পারবেন আরবী দুয়াগুলো না পারলে বাংলাতেই পড়ুন


. দুরুদ পড়া দুরুদের ইব্রাহীম বা নামাযে যে দুরুদ পড়া হয় সেটা পড়াই সবচাইতে বেশি সওয়াব আর দুরুদের হাজারী, লাখী, জামিল, মাহী, দুরুদে আকবর এইরকম যত্তগুলো দুরুদ দেওয়া আছে ওযীফার বেদাতী কিতাবে এইসবগুলো দুরুদ হচ্ছে বানোয়াট বেদাতী দুরুর, এর ফযীলত যা দেওয়া আছে সমস্তটাই হচ্ছে ধোঁকা। এইগুলো পড়া বেদাত ও হারাম। 

মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০১৪

নারী যখন ফেতনা...



নারী যখন ফেতনা...

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ
আমি পুরুষের জন্য নারীর চেয়ে বড় কোন ফিতনা রেখে যাচ্ছি না।
[বুখারী ও মুসলিম]

একটা মেয়ে যদি বাসায় বসে গান শুনে তাহলে সে শুধু মাত্র একটা খারাপ কাজ করলো। এর দ্বারা সে অন্যের কোনো ক্ষতি করছেনা, সে শুধুমাত্র তার নিজের উপরই জুলুম করছে।

কিন্তু, একটা মেয়ে যদি কোনো চাদর বা বোরখা ছাড়া বাসা থেকে বের হয়, তাহলে সে একদিকে যেমন নিজেকে বেপর্দা বেহিজাবি করে পাপীদের কাতারে ফেলে দিলো। আবার তার কারণে অনেকগুলো পুরুষের অন্তরে কুপ্রবৃত্তির সৃষ্টি হলো, মেয়েটি নিজের সৌন্দর্য দিয়েপ পুরুষদেরকে চোখের জেনা এবং বিভিন্ন অংগ-প্রত্যংগের জেনার দিকে উত্তেজিত করলো। এর দ্বারা সে জমীনে ফেতনা ছড়িয়ে বেড়ালো। ফেতনার কয়েকটা অর্থ আছে, একটা অর্থ হচ্ছে পরীক্ষা। সে পুরুষগুলোকে একটা পরীক্ষায় ফেললো - সে নিজেকে নিয়ন্ত্রন করে কিনা। কারণ, নারী সে হিজাবী হোক আর বেহিজাবী হোক পুরুষের জন্য ওয়াজিব হচ্ছে তার দৃষ্টি অবনত রাখা। কিন্তু কোনো নারী যদি নিজের সৌন্দর্য প্রকাশ করে বের হয় সে পুরুষদেরকে একটা ফেতনা বা পরীক্ষায় ফেলে।

আবার ধরুন, সন্ধ্যা সময় একটা তরুণী মেয়ে বেহিজাবী অবস্থায় সাজগোজ করে রাস্তার উপরে দাঁড়িয়ে থাকলো তার ছেলেবন্ধুদের সাথে চায়ের দোকানে আড্ডা দিয়ে বেড়ালো... আর দুনিয়ার পুরুষ মানুষেরা তার দিকে কুদৃষ্টি দিলো, তাকে মনে মনে কামনা করলো (মজার ব্যপার হলো তারা আবার মেয়েটাকে খারাপ চরিত্রের মনে করবে)।

এইভাবে কিন্তু সে তার বাবা-মা, গার্জিয়ানদেরকেও অপরাধী বানালো! এই অপরাধ হচ্ছে দাইয়ুসের পাপ, যে কারনে ঐ মেয়ের গার্জিয়ানদের জন্য জান্নাত হারাম হয়ে যায়।


আল্লাহ আমাদেরকে বোঝার ও মানার তোওফিক দান করুন, আমিন।