শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৪

ইমাম সাহেবরা রুকু-সেজদা খুব দ্রুত করেন

"(হে নবী!) আপনি বলুন, যারা জানে এবং যারা জানেনা তারা কি সমান হতে পারে? চিন্তা-ভাবনা কেবল তারাই করে, যারা হচ্ছে বুদ্ধিমান।"
সুরা-যুমারঃ ৯।

আমাদের দেশের অনেক ইমাম সাহেবরা রুকু-সেজদা খুব দ্রুত করেন এবং ২ সেজদার মাঝখানে কোন দুয়া পড়েন না, মুসল্লিদেরকেও পড়ার জন্য কোন সময় দেন না। অথচ রুকু-সেজদা পূর্ণ ধীর-স্থিরতার সাথে করা নামাযের একটি রুকন যার খেলাফ করলে নামাযই হয়না, এবং দুই সেজদার মাঝখানে অন্তত একবার "রাব্বিগ ফিরলি" বলা ওয়াজিব। এই দুয়া একাধিকবার পড়া সুন্নত (দেখুন- অত্যাবশ্যকীয় পাঠ, আল্লামাহ আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বাজ রহঃ)।

এছাড়া দুই সেজদার মাঝখানে অতিরিক্ত "আল্লাহুম্মাগফিরলি ওয়ার হা'মনি ওয়াহদিনি ওয়াজ বুরনী ওয়া আ'ফিনি ওয়ার যুক্বনি ওয়ার ফা'নি" - এই দুয়া পড়াও সুন্নত।

সাধারণত প্রচলিত মসজিদগুলোর ইমাম সাহেবরা ভারতের সূফীবাদী দেওবন্দী কিংবা বেরেলুবী মাদ্রাসার মুকাল্লিদ বা অন্ধ অনুসারী। এরা নামাযটাই ঠিকমতো পড়াতে শিখেনি, আবার মক্কা-মদীনার আলেমদের ভুল ধরে।

যেই সমস্ত দাওয়াত খাওয়া হারাম

যেই সমস্ত দাওয়াত খাওয়া হারামঃ

=> একজন মুসলমানের উপর অন্য মুসলমান ভাইয়ের হক্ক হচ্ছে, দাওয়াত দিলে সেই দাওয়াত রক্ষা করা।

=> কিন্তু দাওয়াত যদি হয় কোন হারাম, বিদআ’ত বা আল্লাহ অপছন্দ করেন না এমন কোন অনুষ্ঠানের, তাহলে সেই দাওয়াত রক্ষা করা যাবেনা, বরং সেটাকে বর্জন করতে হবে।

=> বর্তমান অধিকাংশ মুসলমান চাল-চলন, চিন্তাভাবনায় ইয়াহুদী-খ্রীস্টানদের অন্ধ অনুকরণ করছে। সুতরাং দ্বিনি ভাই-বোনদের এইরকম পাপাচারপূর্ণ সমাজে বসবাস করার ব্যপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বর্তমানে বহুল প্রচলিত কিছু দাওয়াত, যাতে শরীক হওয়া হারাম তার কিছু উদাহরণ পেশ করা হলো।

১. মিলাদ – ‘মিলাদ’ শব্দের অর্থ জন্মবার্ষিকী। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ‘কথিত’ জন্মদিন ১২ই রবিউল আওয়াল (এই কথাটি প্রমানিত নয় যে, তিনি এই তারিখে জন্মগ্রহণ করেছিলেন) উদযাপন উপলক্ষ্যে এই বিদাতী দুয়া ও বানোয়াট দুরুদের আসরের নাম হচ্ছে মিলাদ বা মিলাদ-উন-নবী। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাহাবারা, তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ী বা পূর্ববর্তী ইমাম ও আলেমরা ‘মিলাদ’ নামে কোন দুয়ার অনুষ্ঠান পালন করেন নি। খ্রীস্টানরা যেমন ঈসা আঃ এর ‘কথিত’ জন্মদিন ২৫শে ডিসেম্বর উপলক্ষ্যে ‘ক্রিসমাস ডে’ বা ‘বড়দিন’, হিন্দুরা যেমন তাদের দেবতা কৃষ্ণের জন্মদিন উপলক্ষ্যে ‘জন্মাষ্টমি’ পালন করে ঠিক তেমনি তাদের অনুকরণ করে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মৃত্যুর ৪৫০ বছর পরে প্রথম ইরাকের ‘শিয়া’ রাজারা মুসলমানদের মাঝে মিলাদ নামের বিদাতী অনুষ্ঠান চালু করে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনের মধ্যে এমন নতুন কোন বিষয় তৈরী করবে, যা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয়, তাহলে সেটা প্রত্যাখ্যাত হবে।”
ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্থানের অল্পশিক্ষিত হুজুরেরা বিদাতী এই অনুষ্ঠানকে পবিত্র কাজ মনে করে কারো মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যেও ‘মিলাদ’ মানে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্মদিন পালন করে!? আসলেই যে বিদআ’তিদের বুদ্ধি থাকেনা, এটা তার একটা প্রমান। যাইহোক, মিলাদ নিয়ে বিস্তারিত জানার জন্য আপনারা শায়খ মতিউর রহমান মাদানীর ‘মিলাদ উন নবী’ লেকচারটা শুনবেন। 

https://www.youtube.com/watch?v=28gMWYW3-kQ

২. জন্মদিন – নিজের, বউ, ছেলে-মেয়ের জন্মদিন পালন করা ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমিন রাহিমাহুল্লাহর মতে, হারাম ও বিদাতের নিকটবর্তী। কারণ জন্মদিন পালন করার বদঅভ্যাস ইংরেজরা ভারতবর্ষ দখল করার পর খ্রীস্টানদের দেখাদেখি ভারতীয় মুসলমানদের মাঝে ঢুকেছিলো। একেতো ইংরেজরা মুসলমানদের উপরে চেপে বসেছিলো, তার উপরে সাদা চামড়া ও নাটক-সিনেমা বেহায়াপনা দিকে দিয়ে শীর্ষে, সবকিছু মিলিয়ে ইংরেজদের মেয়েদের মাঝে জন্মদিন পালন দেখে আত্মমর্যাদা হারানো দুর্বল ঈমানের মুসলমানেরা সেইগুলো রাজকীয় কাজ বলে ভাবতে শুরু করে। কাফেরদের সংস্কৃতি অনুকরণ করা হারাম ও কবীরাহ গুনাহ।   রসূলুল্লাহ ( সঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি যেই সাথে জাতির সামঞ্জস্যতা অবলম্বন করবে, সে কিয়ামতের দিন তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।” [আবূ দাউদ ৪/৪০৩১, মুসনাদে আহমদ ২/৫০]

অনেক মুসলমান আছে তারা কোনরকমে ইংরেজদের সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ করতে পারেলেই বাঁচে, এই হচ্ছে অধঃপতিত মুসলমান জাতির অবস্থা, যেকারণে তারা আজ তাদের শত্রুদের দ্বারা লাঞ্ছিত। 

৩. গায়ে হলুদ – বর্তমানে গায়ে হলুদ নাম দিয়ে যেই অনুষ্ঠান করা হচ্ছে – এটা হচ্ছে মুশরেকিন হিন্দুদের দেখাদেখি প্রকাশ্য অশ্লীলতা ও বড় ফেতনা। ঈমানদার ভাই বোনদের ‘হলুদ’ নামের নারী-পুরুষের ফ্রী মিক্সিং, গান-বাজনা, নাচ, নারীদের অর্ধ-উলংগ হয়ে ছবি তোলার প্রতিযোগিতা ও পুরুষদেরকে জিনার দিকে আহবান জানানোর মতো অশ্লীলতাপূর্ণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া গর্হিত একটা কাজ এবং হারাম। 

৪. মৃত্যুবার্ষিকী, চিল্লা, চল্লিশা, কুলখানী – এইসবগুলো দাওয়াত হারাম ও সুস্পষ্ট বিদাত। এই দাওয়াতগুলো কোন খাবার খাবেন না। এটা সাদাকাহ, স্বচ্ছল মানুষের সাদাকাহ খাওয়া হারাম। মৃত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে খাওয়ালে ভালো আমল, কিন্তু সেটা মৃত্যুর তারিখ ধরে মৃত্যুবার্ষকী পালন করার মতো করা যাবেনা। বছরের যেকোন দিন খাওয়াতে হবে, আর খাবার খাওয়াতে হবে ফকির ও মিসকীনদেরকে।  

৫. মা দিবস, বাবা দিবস, ম্যারিজ ডে – এই সবগুলো হারাম, ও বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুকরণ করার অন্তর্ভুক্ত। 

৬. পীরের মৃত্যু উপলক্ষ্যে ওরশ পালন করা কবর পূজারীদের ধর্ম। এই ওরশ হচ্ছে শিরক ও বেদাতের মেলা। 

৭. চরিত্রহীন নারী-পুরুষদের ‘প্রেম’ নামকে জিনা-ব্যভিচারের লাইসেন্স নেওয়ার উপলক্ষে ভ্যালেন্টাই ডে পালন করা ফাহেশা কাজের অন্তর্ভুক্ত যা বড় হারাম। 

শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৪

কবীরাহ গুনাহ কোনগুলি? অতীত জীবনের ভুল-ভ্রান্তির কাফফারার জন্য শ্রেষ্ঠ একটি নেকীর আমলঃ

কবীরাহ গুনাহ কোনগুলি? 
অতীত জীবনের ভুল-ভ্রান্তির কাফফারার জন্য শ্রেষ্ঠ একটি নেকীর আমলঃ

তাইসালা ইবন মাইয়াস বলেন, আমি যুদ্ধবিগ্রহে লিপ্ত ছিলাম। সেখানে এমন কিছু কার্যকলাপ আমার দ্বারা সংঘটিত হয় সেগুলিকে আমি কবীরা গোনাহ বলিয়া মনে করি। হযরত ইবন উমর (রা) এর খেদমতে আমি সে প্রশ্নটি উত্থাপন করিলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, তাহা কি কি? আমি বলিলাম, অমুক অমুক ব্যাপার। তিনি বলিলেন, এ গুলিতো কবীরা গোনাহ নয়, কবীরা গুনাহ হইতেছে নয়টিঃ

১. আল্লাহর সাথে শিরক করা, 

২. নরহত্যা, 

৩. জিহাদ হইতে পলায়ন, 

৪. সতীসাধ্বী নারীর বিরুদ্ধে অসতীত্বের অপবাদ রটানো, 

৫. সুদ খাওয়া, 

৬. ইয়াতীমের মাল আত্মসাৎ করা, 

৭. মসজিদে ধর্মদ্রোহিতা (ইহলাদ), 

৮. ধর্ম নিয়া উপহাস করা, এবং 

৯. সন্তানের অবাধ্যতার দ্বারা মাতাপিতাকে কাঁদানো।

ইনব উমর (রা) জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি কি জাহান্নাম হইতে দূরে থাকিতে এবং জান্নাতে প্রবেশ করিতে চাও? সে ব্যক্তি বলিলঃ আল্লাহর কসম, আমি তাহাই চাই। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমার পিতামাতা কি জীবিত আছেন? আমি বললাম আমার মা জীবিত আছেন। তিনি বলিলেন, কসম আল্লাহর, তুমি যদি তোমার মায়ের সহিত নম্রভাষায় কথা বল এবং তাঁহাকে ভরণপোষণ কর তবে, তুমি অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করিতে পারিবে। অবশ্য, যতক্ষণ কবীরা গোনাহসমূহ হইতে বিরত থাক।

উৎসঃ ইমাম বুখারী রচিত হাদীসের কিতাব, আল-আদাবুল মুফরাদ (অনন্য শিষ্টাচার) থেকে নেওয়া। মাতাপিতা পরিচ্ছেদ, অধ্যায় ১, হাদিস নং- ৮। হাদীসটি সহীহ, শায়খ আলবানী

নোটঃ এখানে ৯টি কবীরাহ গুনাহর কথা উল্লেখ করা হলেও, ক্বুরান ও হাদীস অনুযায়ী আরো অনেক গুনাহ কবীরাহ বা বড় গুনাহর নাম উল্লেখিত হয়েছে যার জন্য কঠিন শাস্তি নির্ধারিত রয়েছে। তবে উল্লেখিত ৯টি সবচাইতে মারাত্মক গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আরেকটি ব্যপার লক্ষ্যণীয়, মাতা-পিতার অনুগত থাকা, তাদের প্রতি সদ্ব্যবহার করা, তাদের দেখাশোনা করে...এইকাজগুলো এতো গুরুত্বপূর্ণ যে, এর সওয়াব অতীতের বড় গুনাহগুলোর জন্য তোওবা করার পাশাপাশি তার কাফফারা হতে পারে।

আল্লাহ আমাদেরকে এই হাদীস অনুযায়ী আমল করার তোওফিক দান করুন, আমিন।   

বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৪

এ বছর আরাফার ময়দানে হজ্জের খুতবার অনুবাদঃ

এ বছর আরাফার ময়দানে হজ্জের খুতবার অনুবাদঃ
- ফযীলাতুশ-শায়খ আবদুল আযীয ইবন আবদুল্লাহ আলে শাইখ হাফিজাহুল্লাহ।
অনুবাদঃ আলী হাসান তৈয়ব, সম্পাদনাঃ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
১৪৩৬ হিজরী, ২০১৪ সালেহ প্রকাশিত।

হে আল্লাহ, সমস্ত প্রশংসা তোমার জন্য। তুমি আমাদের সৃজন করেছ, যখন আমাদের কোন অস্তিত্বই ছিলোনা। আমাদেরকে ছোট থেকে বড় করেছ। সবল করেছ দুর্বলতা থেকে। ধনবান করেছ নির্ধনতা থেকে। চক্ষুষ্মান করেছ অন্ধত্ব থেকে। শ্রবণক্ষম করেছ বধিরতা থেকে। জ্ঞানবান করেছ মূর্খতা থেকে। সুপথ দেখিয়েছ পথভ্রষ্টতা থেকে। আমরা তোমার প্রশংসা করি আমাদেরকে ঈমান দান করার জন্য। তোমার প্রশংসা কুরআন নাযিল করার জন্য। তোমার প্রশংসা পরিবার, ধন-দৌলত ও সুস্থতার জন্য। তুমি আমাদের শত্রুদের পরাস্ত করেছ, আমাদের নিরাপত্তা বিধান করেছ। হে আমাদের রব! তোমার কাছে যা-ই চেয়েছি, তুমি তাই আমাদেরকে দিয়েছ। অতএব তোমার জন্য যাবতীয় প্রশংসা যাবৎ তুমি সন্তুষ্ট হও। তোমার জন্য প্রশংসা সন্তুষ্টির পরেও।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিজন ও সাহাবীদের ওপর।
হে আল্লাহর বান্দারা!
আমি আপনাদের এবং প্রথমত নিজের পাপাচারী ক্ষুদ্র অন্তরকে আল্লাহভীরুতার উপদেশ দিচ্ছি। কেননা তা সব কল্যাণকর্মের সমন্বয়ক। আল্লাহ বলেন,
﴿ وَمَن يَتَّقِ ٱللَّهَ يَجۡعَل لَّهُۥ مَخۡرَجٗا ٢ وَيَرۡزُقۡهُ مِنۡ حَيۡثُ لَا يَحۡتَسِبُۚ وَمَن يَتَوَكَّلۡ عَلَى ٱللَّهِ فَهُوَ حَسۡبُهُۥٓۚ إِنَّ ٱللَّهَ بَٰلِغُ أَمۡرِهِۦۚ قَدۡ جَعَلَ ٱللَّهُ لِكُلِّ شَيۡءٖ قَدۡرٗا ٣ [الطلاق: ٢، ٣]
যে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরী করে দেন। এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিযক দিবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই। নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
[সূরা আত-তালাক, আয়াতঃ ২-৩]

প্রিয় দীনী ভাইয়েরা, আজ জুমাবার। আজকের দিনটিই আবার আরাফা দিবস। আপনারা জানেন আরাফা দিবস কী? এ মহান দিবসে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি সুদৃষ্টি দেন। এদের নিয়ে গর্ব করেন ফেরেশতাদের সামনে। আল্লাহর রহমতের ব্যপ্তি কেমন দেখুন। আরাফার এ অবস্থানস্থলে বান্দারা পাপরাশি নিয়ে সমবেত হয়েছে। অথচ দয়ালু প্রভু তাদের নিয়েই ফেরেশতাদের সামনে গর্ব করছেন। তাই যে কেউ জাহান্নাম থেকে মুক্তি চায় সে যেন আরাফার দিনটিকে লুফে নেয়। এ বার্তাটি আর কারও নয় সে মহামানব মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের, যিনি নিজ থেকে বানিয়ে কিছু বলেন না; যা বলেন আল্লাহর পক্ষ থেকেই বলেন। তিনি বলেছেন,
مَا مِنْ يَوْمٍ أَكْثَرَ مِنْ أَنْ يُعْتِقَ اللهُ فِيهِ عَبْدًا مِنَ النَّارِ، مِنْ يَوْمِ عَرَفَةَ، وَإِنَّهُ لَيَدْنُو، ثُمَّ يُبَاهِي بِهِمِ الْمَلَائِكَةَ، فَيَقُولُ: مَا أَرَادَ هَؤُلَاءِ؟
আরাফার মতো কোনোদিন নেই, যাতে আল্লাহ এতো বেশি বান্দাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেন। আল্লাহ সেদিন দুনিয়ার আকাশের নিকটবর্তী হন এবং এদের (যারা আরাফার ময়দানে উপস্থিত তাদেরকে) নিয়ে ফেরেশতাদের কাছে গর্ব করে বলেন, ওরা কী চায়?
[সহীহ মুসলিমঃ ১৩৪৮]

যে কেউ তার চিরশত্রু ইবলিসকে পরাভূত করতে চায়, সে যেন আরাফার দিনটিকে কাজে লাগায়। তালহা বিন উবাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«مَا رُئِيَ الشَّيْطَانُ يَوْمًا، هُوَ فِيهِ أَصْغَرُ وَلَا أَدْحَرُ وَلَا أَحْقَرُ وَلَا أَغْيَظُ، مِنْهُ فِي يَوْمِ عَرَفَةَ. وَمَا ذَاكَ إِلَّا لِمَا رَأَى مِنْ تَنَزُّلِ الرَّحْمَةِ، وَتَجَاوُزِ اللَّهِ عَنِ الذُّنُوبِ الْعِظَامِ ».
শয়তানকে কখনো আরাফা দিবসের মতো এমন ছোট, হীন, পরাভূত ও ক্ষুব্ধ দেখা যায় না। আর তা এজন্য যে, সেদিন আল্লাহর রহমত নাযিল হয় এবং বড় বড় গুনাহ ক্ষমা করা হয়।
[মুয়াত্তা মালেকঃ ২৪৫, হাদীসটির সনদ মুরসাল]

আরাফা দিবসে আরাফায় অবস্থান ও দুআর মাধ্যমে আপনি পারেন আমলনামা থেকে পাপগুলো মুছে ফেলতে। পারেন আপনাকে শয়তানের বিচ্যুত ও পথভ্রষ্ট করার একটি পূর্ণ বছরের সাধনা এবং বিগত জীবনের পুরো প্রচেষ্টাকে মাটি করে দিতে। আরাফা দিবসে রহমতের মেঘমালা অবতীর্ণ হয়। আর তা ছেয়ে যায় এর অবস্থানকারীদের। এ সম্পর্কে ফুযাইল ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর দারুণ এক উক্তি স্মরণীয়। আরাফায় মানুষের ক্রন্দনরোল দেখে তিনি বলেছিলেন,
أرايتم لو أن هؤلاء صاروا إلى رجل واحد فسألوه دانقاً أكان يردهم ؟ قيل لا ، قال : والله للمغفرةُ عند الله عز وجل أهون من إجابة رَجُلٍ لهم بدانق .
তোমরাই বল, এত লোক যদি কোনো ব্যক্তির কাছে গিয়ে সমস্বরে একটি মুদ্রার মাত্র এক ষষ্ঠাংশ প্রার্থনা করে তিনি কি তাদের আবেদন ফেলতে পারবেন? কখনোই না। আল্লাহর শপথ, আল্লাহর কাছে এদের ক্ষমা করা তাদের জন্য ওই লোকটির মুদ্রার ষষ্ঠাংশ দেয়ার চেয়েও সহজতর।

এটি এমন এক দিবস যা পেলে একে ঈদের দিন হিসেবে গ্রহণে অভিশপ্ত ইয়াহূদীরাও আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে। তারিক বিন শিহাব থেকে বুখারীর এক বর্ণনায় এসেছে,
এক ইয়াহূদী ব্যক্তি খলীফা উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলল, আপনাদের কিতাবে আপনারা একটি আয়াত পড়েন, যদি তা আমাদের ওপর নাযিল হতো, আমরা এ দিবসকে ঈদ হিসেবে পালন করতাম। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, সেটি কোন আয়াত? লোকটি বলল, আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম। {সূরা মায়িদা : ৩} উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি অবশ্যই সে দিন এবং সে জায়গা সম্পর্কে অবগত যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর আয়াতটি নাযিল হয়েছিল। তিনি ছিলেন আরাফার ময়দানে দণ্ডায়মান। আর দিনটি ছিল জুমাবার।
[বুখারী : ৪৫, মুসলিম : ৩০১৭]
আরাফা এমন এক দিবস, যেদিন বান্দারা হাশরের ময়দানে নিজেদের সম্মিলনের কথা স্মরণ করে। এদিন তারা সবাই পার্থিব জৌলুস ও চাকচিক্য থেকে মুক্ত হয়। দু টুকরো সফেদ কাপড় গায়ে জড়ায়। এ যেন তাদের কাফনের কাপড়। যেন তারা হাশরের মাঠে তাদের রবের সামনে দাঁড়ানোর জন্য পুনরুত্থিত হয়েছে। সবার কাঁধ আকাশ অভিমুখী। সবার স্বর দুআ ও কান্নায় গুঞ্জরিত। পার্থক্য শুধু এতটুকু, এদিন দুআ কবুল করা হবে। মাগফিরাত ও রহমত করা হবে। আর হাশরের দিন খাতাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। সুতরাং হিসাবের খাতা বন্ধ করার আগেই দিনটিকে কাজে লাগাতে হবে।
আরাফা ময়দানে হাজিরা ছাতা, তাবু ও গাড়ির আড়ালে ছায়া খোঁজেন। কিন্তু কিয়ামতের দিন দয়াময় আল্লাহর আরশের ছায়া ছাড়া কোনো ছায়াই থাকবে না। অতএব কেন আমরা হায়াতকে সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে লুফে নেব না। যাতে আগামীকাল তা কাজে লাগে। যেদিন সবাই দয়াময়ের আরশের ছায়ার জন্য হাপিত্যেশ করবে। আমরা কেন সেখানে ছায়া লাভকারী সাতশ্রেণীর কেউ হব না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,  
আল্লাহ তায়ালা সাত শ্রেণীর ব্যক্তিকে সেদিন তাঁর আরশের নিচে ছায়া দান করবেন যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতিত আর কোনো ছায়া থাকবে না; তারা হলোঃ
১. ন্যায়পরায়ণ বাদশা (রাষ্ট্রনেতা)।
২. ওই যুবক, যার যৌবনকাল আল্লাহর ইবাদতে অতিবাহিত হয়।
৩. ওই ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সঙ্গে ঝুলে থাকে (মসজিদের প্রতি তাঁর মন সদা আকৃষ্ট থাকে)।
৪. ওই দুব্যক্তি যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা স্থাপন করে; এ ভালোবাসায় তারা মিলিত হয় এবং এ ভালোবাসা নিয়েই বিচ্ছিন্ন হয়।
৫. ওই ব্যক্তি যাকে কোনো উচ্চবংশীয় সুন্দরী নারী (অবৈধ যৌন মিলনে) আহ্বান করে, কিন্তু সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি।
৬. ওই ব্যক্তি যে গোপনে দান করে, এমনকি তাঁর ডান হাত যা দান করে তার বাম হাত পর্যন্ত তা জানতে পারে না।
৭. ওই ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে; ফলে তাঁর উভয় চোখে পানি বয়ে যায়।
[বুখারী : ১০৩১]
সর্বোপরি আরাফা দিবসে সারা বছর খুঁজে না পাওয়া মুসলিম জাতির একতার চিত্র ভেসে ওঠে। বর্ণ, ভাষা ও দেশের ভিন্নতা ঘুচে গিয়ে এদিন ঐক্যের অনুপম সুর বেজে ওঠে। সবার পোশাক এক। সবার শ্লোগান অভিন্ন। সবার কাজও এক। সবার রবও অভিন্ন।
আল্লাহর বান্দারা, আরাফা দিবসের উপযুক্ত মূল্যায়ন করুন। আরাফা দিবসের মর্যাদা কেবল হাজীদের জন্যই সীমিত নয়, বরং হজে না আসাদের জন্যও এ দিবসে সিয়ামের মতো মহান ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সুযোগ রয়েছে। হাজী ছাড়া অন্যদের জন্য আরাফা দিবসের সাওম সুন্নত প্রবর্তিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আরাফা দিবসের সাওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। উত্তরে তিনি বলেন,
«يُكَفِّرُ السَّنَةَ الْمَاضِيَةَ وَالْبَاقِيَةَ»
(এটি) বিগত ও আগত এক বছরের (গুনাহগুলোর) কাফফারা স্বরূপ। [মুসলিম : ১১৬২]
আল্লাহর বান্দারা, একটি গুনাহর ক্ষতিপূরণও আমাদের জন্য কত গুরুত্বপূর্ণ। আর সেখানে পুরো দুটি বছরের কাফফারা! অথচ অনেকে এদিনও নিষিদ্ধ কাজে ব্যস্ত থাকে। যেমন গান শোনা, চ্যানেলগুলোয় সম্প্রচারিত মন্দ ও অশ্লীতার পেছনে পড়ে থাকে। আবার অনেকে এদিন বৈধ কাজেই ব্যতিব্যস্ত থাকে। কিন্তু আল্লাহর কসম করে বলা যায় সেটি তার জন্য ক্ষতিকরই বটে। যেমন অনেকে এ মহান দিনে ছুটি পেয়ে বিনোদনে ডুবে যিকির ও ইবাদতের সুযোগ হাত ছাড়া করে। হজে আসতে না পারা সবাইকে আমি এদিন রোজা রেখে যথাসম্ভব বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত, যিকির, দুআ ও দয়াময়, ক্ষমাশীল আল্লাহর কাছে বিনীত কান্নাকাটির উপদেশ দিচ্ছি।
৯ যিলহজ ১৪৩৫ হি. মোতাবেক ২০১৪ সালে মক্কার আরাফার মসজিদে নামিরায় প্রদত্ত হজের খুতবার সার-সংক্ষেপ।

বিবাহে প্রচলিত সামাজিক কু-প্রথাঃ

বিবাহে প্রচলিত সামাজিক কু-প্রথাঃ
১.চন্দ্র বর্ষের কোন মাসে বা কোন দিনে অথবা বর/কনের জন্ম তারিখে বা তাদের পূর্ব পুরুষের মৃত্যুর তারিখে বিবাহ শাদী হওয়া অথবা যে কোন শুভ সৎ কাজ করার জন্য ইসলামী শারীয়াতে বা ইসলামী দিন তারিখের কোন বিধি নিষেধ নেয়। বরং উপরিউক্ত কাজগুলো বিশেষ কোন মাসে বা যে কোন দিনে করা যাবে না মনে করাই গুনাহ।
২.বিবাহ উৎসবে অথবা অন্য যে কোন উৎসবে পটকা-আতশবাজি ফুটান,অতিরিক্ত আলোকসজ্জা করা, রংবাজী করা বা রঙ দেওয়ার ছড়াছড়ি ইসলামের দৃষ্টিতে অবৈধ ও অপচয়।
আল্লাহু-তায়ালা বলেনঃ
إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ ۖ وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِرَبِّهِ كَفُورًا
নিশ্চয় অপচয়কারী শয়তানের ভাই। আর শয়তান হচ্ছে তার প্রভুর প্রতি বড় অকৃতজ্ঞ। (বানী ইসরাঈল-২৭)
৩.বাঁশের কুলায় চন্দন,মেহদি,হলুদ,কিছু ধান-দূর্বা ঘাস কিছু কলা, সিঁদুর ও মাটির চাটি নেওয়া হয়।মাটির চাটিতে তেল নিয়ে আগুন জ্বালানো হয়। স্ত্রী ও বরের কপালে তিনবার হলুদ লাগায় এমনকি মূর্তিপূজার ন্যায় কুলাতে রাখা আগুন জ্বালানো চাটি বর-কনের মুখের সামনে ধরা হয় ও আগুনের ধুঁয়া ও কুলা হেলিয়ে-দুলিয়ে বাতাস দেওয়া হয়। এসব হিন্দুয়ানী প্রথা ও অনৈসলামিক কাজ।
৪.বরের আত্মীয়রা কনেকে কোলে তুলে বাসর ঘর পর্যন্ত পৌছে দেওয়া অথবা বরের কোলে করে মুরুব্বীদের সামনে স্ত্রীর বাসর ঘরে গমনের নীতি একটি বেহায়াপনা, নিরলজ্জতা ও অনৈসলামিক কাজ।
৫.বরের ভাবী ও অন্য যুবতী মেয়েরা বরকে সমস্ত শরীরে হলুদ মাখিয়ে গোসল করিয়ে দেওয়া নির্লজ্জ কাজ যা ইসলাম সমর্থন করে না।
৬.বর ও কনেকে হলুদ বা গোসল করতে নিয়ে যাওয়ার সময় মাথার উপর বড় চাদর এর চার কোনা চার জনের ধরা হিন্দুয়ানী প্রথা।
৭.বিবাহ করতে যাওয়ার সময় বরকে পিড়িতে বসিয়ে বা সিল-পাটাই দাড় করিয়ে দই-ভাত খাওয়ান ইসলামিক প্রথা নয়।
৮.বিবাহ কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর বরকে দাড় করিয়ে সালাম দেওয়ানোর প্রথা রাসুল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তার সাহাবীদের (রাযি আল্লাহু আনহুম) দ্বারা প্রমানিত নয়।
৯.বর ও কনের মুরুব্বীদের কদমবুসি করা একটি মারাত্মক কু-প্রথা। বিয়ে তো নয় এমনকি যে কোন সময় কদমবুসি করা রাসুল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তার সাহাবীদের (রাযি আল্লাহু আনহুম) দ্বারা কোন কালে প্রমানিত নয়। কদমবুসি করার সময় সালাতের রুকু-সিজদার মত অবস্থা হয়। বেশি সম্মান প্রদর্শন করতে গিয়ে হিন্দুয়ানী প্রণামকে প্রথা হিসেবে নিয়ে আসা মুমিনদের বৈশিষ্ট্য নয়।

ইয়া আল্লাহ,দয়া করে আমাদেরকে আপনি সঠিক পন্থায় বিবাহ করার তওফিক দান করুন।আমিন।

কিছু ‪#‎শিরকি‬ ও ‪#‎কুফুরী‬ কাজ যা মুসলমানদের মাঝে বহুল প্রচলিত

কিছু ‪#‎শিরকি‬ ও ‪#‎কুফুরী‬ কাজ যা মুসলমানদের মাঝে বহুল প্রচলিতঃ

১. আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন কিছুর নামে কসম করা/শপথ করা।

২. গ্রহ-নক্ষত্রকে মানুষের ভাগ্য, বৃষ্টিপাত ইত্যাদি কল্যান ও অকল্যানের নিয়ন্ত্রনকারী মনে করা।

৩. সুলক্ষণ ও কুলক্ষণে বিশ্বাস করা।

৪. যামানা বা সময়কে গালি দেওয়া।

৫. তাকদীরের প্রতি অসন্তুষ্ট হওয়া।

৬. কল্যানের আশায় আংটি, তাবীজ, বালা, তাগা ইত্যাদি গায়ে দেওয়া।

৭. রাসুল সাঃ ও অলি-আওলিয়াদেরকে আলেমুল গায়েব এবং তারা সবকিছু দেখেন ও শুনেন বিশ্বাস করা।

৮. কালো যাদু, সাদা যাদু, জ্যোতিষী ও গণকের কথায় বিশ্বাস করা।

৯. হাত দেখে ভাগ্য গণনা করা।

১০. আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া কিংবা তার শাস্তি থেকে বেপরোয়া হওয়া।

১১. নামায ত্যাগ করা।

১২. দ্বীনের কোন বিষয়কে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা কিংবা হাসি-ঠাট্টা করা।

১৩. ুদ্বীন থেকে বিমুখ থাকা এবং দ্বীন শিক্ষা না করা।

১৪. বিজাতীয় কুফুরী মতবাদ (যেমন ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, বিবর্তনবাদ ইত্যাদিতে) বিশ্বাস করা কিংবা এইগুলোর প্রতি সন্তুষ্ট থাকা।

১৫. দেওবন্দী, বেরেলুবী এবং সূফীদের লেখা বেদাতী কিতাব (বেহেশতি যেওর, ফাজায়েলে আমল, মকসুদুল মুমেনিন, সোলেমানি খাবনামা ইত্যাদিতে) লেখা বানোয়াট শিরকি কিচ্ছা কাহিনীর প্রতি ঈমান রাখা।

১৬. পীর, কবর মাযার বা আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সেজদাহ করা।

১৭. জিন্দা-মুর্দা পীর সাপের নামে বা কবর-মাযারে মানত করা।

১৮. পীর জান্নাতে দিতে পারে এই আকীদা রাখা।

১৯. আল্লাহর নামগুলো (রহমান, খালিক্ব) দিয়ে মানুষকে ডাকা।

২০. ওরশের মেলা বসানো এবং এ উপলক্ষে নানারকম শিরকি কাজে লিপ্ত হওয়া।

২১. মানসুর হাল্লাজকে আল্লাহর অলি মনে করা এবং তার শিরকি যিকির আনাল হক্ক - আমিই আল্লাহ (নাউযুবিল্লাহ) এইরকম চিন্তা ভাবনাকে সঠিক মনে করা।

২২. আয়না পড়া, পানি পড়া, বাটি চালান দিয়ে হারানো ব্যক্তি বা চোরের নাম বের করা।

২৩. রিয়া অর্থাত অন্যকে খুশি করার জন্য বা লোক দেখানো ইবাদত করা।

উপরের সবগুলো কথা শিরক বা কুফুরী। আল্লাহ আমাদেরকে শিরক থেকে নিরাপদ রাখুন, আমিন।

মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৪

“শফি হুজুরের নতুন কিছু বিদাতী আমল”

শফি হুজুরের নতুন কিছু বিদাতী আমল

আল্লাহর দুনিয়াতে বাংলাদেশ নামে একটা দেশ আছে, এই দেশে অসম্ভব অনেক কিছুই পাওয়া যায় চাই সেটা আপনার ভালো লাগুক, আর না লাগুক। এমনই আজিব একটা ব্যাপার হলো, এইখানে ইসলাম নাম দিয়ে নিত্য নতুন ইবাদত বানানো হয়। আশ্চর্যের ব্যপার হচ্ছে, মেইড ইন চায়নার মতো মানুষের বানানো সেই ইবাদতগুলো মানুষ করে এবং এর দ্বারা জান্নাতে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে! যদিও আজ থেকে প্রায় ১৫০০ বছর আগেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন
আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম। [সুরা আল-মায়িদাহঃ ৩]

সুতরাং দ্বীন কামেল, অর্থাৎ পূর্ণাংগ। আমাদের দ্বীনের মাঝে নতুন কোন ইবাদত বাড়ানো বা কমানোর কোনো সুযোগ নেই।

যাইহোক বন্ধুরা...
দেশের বড় হুজুর, আহমদ শফি সাহেব নতুন নতুন কিছু ইবাদত বানিয়ে দিয়েছেন। আপনারা কে কে এই ইবাদতগুলো করতে রাজি আছেন? (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)

দেওবন্দীদের গুরু, শফি সাহেবের মাথা থেকে যে ইবাদতগুলো বের হয়েছে তার কিছু নমুনা ও বইয়ের নাম ও পৃষ্ঠা নাম্বার নিচে উল্লেখ করা হলোঃ

১. চিশতী তরীকা ধরতে হবে।
ফুয়ুজাতে আহমাদিয়া, পৃষ্ঠা ৬৬।

২. প্রতিদিন নির্জনে আধা ঘন্টা মোরাকাবা মাইয়্যিয়াত বা ধ্যান করতে হবে।
ফুয়ুজাতে আহমাদিয়া, পৃষ্ঠা ২৫।

৩. প্রতদিন এক ঘন্টা যিকরে পাছে আনফাছ করতে হবে।
ফুয়ুজাতে আহমাদিয়া, পৃষ্ঠা ২২।

৪. আল্লাহু আল্লাহু আল্লাহু জিকির করতে হবে প্রতিদিন ৫০ হাজার বা ১লক্ষ ২৫ হাজার বার।
ফুয়ুজাতে আহমাদিয়া, পৃষ্ঠা ২৪।

৫. ইল্লাল্লাহ ইল্লাল্লাহ - অর্থঃ আল্লাহ ছাড়া, আল্লাহ ছাড়া, (নাউযুবিল্লাহ!) এই যিকির করতে হবে ৪০০ বার।
ফুয়ুজাতে আহমাদিয়া, পৃষ্ঠা ৬৬।
বিঃদ্রঃ ইল্লাল্লাহ অর্থ আল্লাহ ছাড়া বা আল্লাহ নেই, নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক। পূর্ণ কালিমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বাদ দিয়ে শুধু ইল্লাল্লাহ ইল্লাল্লাহ শব্দ দিয়ে যিকির করা বিদাত এবং কুফুরী।


আল্লাহ আমাদের শিরক বেদাতের শয়তানী ধোঁকা থেকে হেফাজত রাখুন, আমিন।