মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট, ২০১৪

কবরের #জীবন, কবরের #ফেতনা, কবরের #আজাব, আজাব থেকে #বাঁচার উপায়

বিষয়ঃ কবরের #জীবন,  কবরের #ফেতনা,  কবরের #আজাব,  আজাব থেকে #বাঁচার উপায়

পরকালের #অনন্তকালের জীবনের জন্য আমাদের প্রথম স্টেশান হচ্ছে কবর। শুধুমাত্র যাদের উপর কেয়ামত কায়েম হবে তারা ছাড়া, আর সকলকেই এই কবরের মধ্য দিয়ে পরকালের জীবন শুরু করবেপ্রথম এই স্টেশানটা যিনি নিরাপদে পার করতে পারবে, মোটামুটি আশা করা যায় - রোয কেয়ামতের দিন, হাশর ও মীযানের সময়ও তিনি নিরাপদে পার করতে পারবেন। তাই আমাদের সকলের চেষ্টা করা উচিত, কবরের জীবনে যাতে করে শান্তিতে থাকতে পারি তার জন্য আত্মনিয়োগ করা।

কবরের জীবনের ফেতনাঃ
প্রতিটি আদম সন্তান, সে কাফের হোক, ঈমানদার বা মুনাফেক হোক সকলকেই কবরে ৩টি প্রশ্নের মুখোমুখী হতে হবে।

. মার-রব্বুকা - তোমার #রব্ব কে?  
. ওয়ামা দ্বীনুকা তোমার #দ্বীন (ধর্ম/জীবন ব্যবস্থা) কি?
. এই ব্যক্তি কে (#রাসুল সাঃ এর ন ব্যপারে প্রশ্ন করা হবে)?

একে #কবরের #ফেতনা বলা হয়। শুধুমাত্র আল্লাহর প্রতি সঠিক ঈমান রেখে এবং ক্বুরান ও সুন্নাহ অনুযায়ী নেক আমল করে, নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত যথাযথভাবে পালন করে, দুনিয়াতে আল্লাহকে ভয় করে যারা আল্লাহর অনুগত থাকবেন, শুধুমাত্র তারাই এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারবেন, চাই সে আরবী জানুক আর না জানুক। এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলে সেখানে তারা কেয়ামত পর্যন্ত সুখের ঘুমানো, জান্নাতের বিছানা ইত্যাদি নেয়ামতের মাঝে থাকবে।

আর কাফের, মুশরেক, মুনাফেক বা নামকাওয়াস্তে মুসলমান, বেনামাযী, কবর-মাযারপূজারী, হালাল-হারাম সম্পর্কে বেপরোয়া, ফাসেক, পাপাচারী, পাপিষ্ঠ এরা দুনিয়ার জীবনে যতই নিজেকে মুসলমান দাবী করুক না কেনো, তারা এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কস্মিন কালেও দিতে পারবেনা। তারা হায় আফসোস! আমি জানিনা, আমি জানিনা বলে আহাজারি করবে এবং কঠিন শাস্তি ভোগ করতে থাকবে

কবরের আযাবঃ
দুনিয়ার জীবনে পাপাচারে লিপ্ত ব্যক্তিদের যারা তোওবা করবেনা, আল্লাহর রহমত অর্জন করতে ব্যর্থ হবে, তাদের জাহান্নামের শাস্তি কবরের জীবনেই শুরু হয়ে যাবে। এই শাস্তি চলবে কেয়ামত পর্যন্ত, আর জাহান্নামের শাস্তিতো আরো #কঠিন ও #দীর্ঘস্থায়ী। এইজন্য রাসুল সাঃ আমাদেরকে বারবার কবরের আযাব থেকে বাঁচার জন্য, আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার জন্য উপদেশ দিয়েছেন। তিনি নিজেও নামাযের ভেতরে ও বাইরে কবরের আযাব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন। কবরের আযাবের ভয়াবহতা চিন্তা করে সাইয়্যিদিনা উসমান ইবনে আফফান (রাঃ) কবরের কথা স্মরণ করলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়তেন, এমনকি তাঁর কাপড় ভিজে যেত চোখের পানিতে।

কবরের শাস্তি হিসেবে যা থাকবে তার উদাহরণঃ
. #কাজ্জাব বা বড় মিথ্যাবাদী ও মিথ্যা কথা প্রচারকারীর শাস্তিঃ
কাজ্জাবকে দাঁড়ানো অবস্থায় এক পাশের চোয়াল এমনভাবে আকড়া দিয়ে বিদ্ধ করা হবে যে, সেটা তার চোয়াল বিদীর্ণ করে মস্তকের পশ্চাদভাগ পর্যন্ত পৌঁছে যাবে তারপর অপর চোয়ালটিকেও একইভাবে বিদীর্ণ করা হবে এইভাবে তাদেরকে কেয়ামত পর্যন্ত শাস্তি দেওয়া হবে।

২. #ক্বুরান শিখে সে অনুযায়ী আমল না করা এবং #বেনামাযীদের শাস্তিঃ
ক্বুরানকে অবহেলাকারী ও বেনামাযীকে মাটিতে ফেলে তার মাথার কাছে একজন আজাবের ফেরেশতা দাঁড়িয়ে পাথর দিয়ে আঘাত করে তার মাথা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবে নিক্ষিপ্ত পাথর দূরে গড়িয়ে যাওয়ার ফলে তা তুলে নিয়ে শায়িত ব্যক্তির কাছে ফিরে আসার আগেই ভেঙ্গে যাওয়া মাথা আগের মতো আবার জোড়া লেগে যাবে ফেরেশতা পুনরায় তার মাথার উপরে পাথর নিক্ষেপ করবে এইভাবে তাদেরকে কেয়ামত পর্যন্ত শাস্তি দেওয়া হবে।

. #জেনাকারী, নারী-পুরুষের অবৈধ যৌন সম্পর্কের শাস্তিঃ
চুলার ন্যায় বড় একটা গর্ত থাকবে যেন সেটা বিশাল একটা কড়াই গর্তের উপরিভাগ হচ্ছে সরু নীচের অংশ চওড়া এবং এর নিচ থেকে আগুন জ্বলতে থাকবে এর ভেতরে জেনাকারী নারী ও পুরুষদেরকে উলংগ করে আগুনে পুড়িয়ে শাস্তি দেওয়া হবে। আগুন গর্তের একেবারে মুখের কাছে চলে আসলে জেনাকারীরা আগুনের তাপ সহ্য করতে না পেরে উপরে চলে আসবে যেন তারা গর্ত থেকে পালিয়ে যেতে পারে ফেরেশতারা তাদেরকে আবার আগুনের গর্তে ফেরত পাঠাবেন। আগুনের তাপ একটু কমে আসলে তারা আবার গর্তে নিচে ফিরে যাবে এইভাবে তাদেরকে কেয়ামত পর্যন্ত শাস্তি দেওয়া হবে।

ঘরে স্বামী/স্ত্রী রেখে অন্য কারো সাথে জেনা করার শাস্তিঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিরাজের রাত্রিতে একদল লোকের কাছে উপস্থিত হয়ে দেখতে পেলেন তাদের সামনে একটি পাত্রে গোশত রান্না করে রাখা হয়েছে। অদূরেই অন্য একটি পাত্রে রয়েছে পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত কাঁচা গোশত। লোকদেরকে রান্না করে রাখা গোশত থেকে বিরত রেখে পঁচা এবং দুর্গন্ধযুক্ত, কাঁচা গোশত খেতে বাধ্য করা হচ্ছে। তারা চিৎকার করছে এবং একান্ত অনিচ্ছা সত্বেও তা থেকে ভক্ষণ করছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিবরীল ফেরেশতাক জিজ্ঞেস করলেনঃ এরা কোন শ্রেণীর লোক? জিবরীল বললেনঃ এরা আপনার উম্মতের ঐ সমস্ত পুরুষ লোক যারা নিজেদের ঘরে পবিত্র এবং হালাল স্ত্রী থাকা সত্বেও অপবিত্র এবং খারাপ মহিলাদের সাথে রাত কাটাতোউৎসঃ আল-খুতাবুল মিম্বারিয়াঃ ডা সালেহ আল-ফাওজান।

৪. #সুদখোরের শাস্তিঃ
জাহান্নামে একটি রক্ত প্রবাহিত নদী আছে যার মাঝখানে সুদখোর দাঁড়ানো থাকবে। নদীর তীরে একজন ফেরেশতা থাকবে যার সামনে অনেক পাথর থাকবে সুদখোর রক্তের নদী থেকে বের হয়ে আসার জন্য তীরে আসার চেষ্টা করলে তীরে দাঁড়ানো আজাবের ফেরেশতা সে ব্যক্তির মুখ বরাবর পাথর নিক্ষেপ করবে, এতে সুদখোর আবার নদীর মাঝখানে চলে যাবে এমনভাবে যতবার সুদখোর তীরে উঠে আসতে চেষ্টা করবে, ততবার ঐ ফেরেশতা তার মুখ বরাবর পাথর নিক্ষেপ করে পূর্বস্থানে ফিরে যেতে বাধ্য করবে। এইভাবে তাদেরকে কেয়ামত পর্যন্ত শাস্তি দেওয়া হবে।
উপরের দীর্ঘ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে সহীহ বুখারীঃ জানাজা অধ্যায়ে।

. এছাড়া উহুদ পাহাড়ের সমান ওজনের হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা, বিষাক্ত সাপের দংশন, বিচ্ছুর কামড় ইত্যাদি শাস্তি থাকবে কবরে।

কবরে আযাব হওয়ার কারণঃ
কবরের আযাব হওয়ার কারণ হচ্ছে দুনিয়ার জীবনে #কবীরাহ গুনাহ বা বড়বড় পাপকাজে লিপ্ত থাকা। কবীরাহ গুনাহতে লিপ্ত থাকা এবং তোওবা না করে, সংশোধন না করেই মৃত্যুবরণ করা। হাদীসে বিশেষ ২টি কারণ উল্লেখ করা আছে, যেই দুইটি পাপকে মানুষ ছোট মনে করে কিন্তু অনেকেই এই ২টি পাপ কাজের কারণে আযাব দেওয়া হবে।
. চোগলখুরী করা (এক জনের গীবত আরেকজনের কাছে বলে মানুষের মাঝে ঝগড়া-বিবাদ ও হিংসা-বিদ্বেষ সৃষ্টি করা)।
. পেশাবের অপবিত্রতা থেকে সাবধান না থাকা।

একদা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদীনা বা মক্কার কোন একটি বাগানের পাশদিয়ে অতিক্রম করছিলেন তথায় তিনি দুজন এমন মানুষের আওয়াজ শুনতে পেলেন যাদেরকে কবরে শাস্তি দেয়া হচ্ছিল রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তাদেরকে আযাব দেয়া হচ্ছে অথচ বড় কোন অপরাধের কারণে আযাব দেয়া হচ্ছে না অতঃপর তিনি বললেনঃ তাদের একজন পেশাব করার সময় আড়াল করতোনা আর দ্বিতীয় ব্যক্তি একজনের কথা অন্যজনের কাছে লাগাত বুখারীঃ কিতাবুল ওযু অধ্যায়।

কাতাদা (রঃ) বলেনঃ আমাদেরকে বলা হয়েছে কবরের আযাবের এক তৃতীয়াংশ হবে #গীবতের কারণে, এক তৃতীয়াংশ #পেশাব থেকে সাবধান না থাকার কারণে এবং এক তৃতীয়াংশ #চুগলখোরীর কারণে। যেহেতু গীবতকারী এবং চুগলখোর মিথ্যা কথাও বলে থাকে তাই সে #মিথ্যাবাদীর শাস্তিও ভোগ করবে।

কবরের আযাব থেকে বাঁচার উপায়ঃ
. কবরের আযাব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া ও দুয়া করাঃ
কবররে আযাব থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে নিয়মিত দুয়া করতে হবে, বিশেষ করা দুয়া মাসুরাতে বেশি বেশি দুয়া করতে হব।  যেই দুয়া মাসুরা পড়তে হবেঃ
দুয়া মাসুরা অর্থ হচ্ছে হাদীসে বর্ণিত দুয়া যেইগুলো রাসুল সাঃ করতেন আমাদের দেশের মানুষ মনে করে, দুয়া মাসুরা শুধু একটাই (আল্লাহুম্মা ইন্নি জালামতু নাফসান যুলমান কাসিরাও...), এটা ভুল নামাযে সালাম ফিরানোর আগে পড়তে হয় এমন অনেক সুন্দর সুন্দর দুয়া আছে সহীহ হাদীসে কারণ, ফরয নামাযে আত্তাহিয়্যাতু ও দুরুদ পড়ার পরে, সালাম ফেরানোর আগে দুয়া বেশি কবুল করা হয় দুয়া মাসুরা এক বা একের অধিক, যত ইচ্ছা পড়া যায় এইগুলো মুখস্থ করে আমল করা উচিত

৪টি জিনিস থেকে আশ্রয় চাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দুয়া মাসুরা আছে। কবরের আজাব, জাহান্নামের আজাব, দুনিয়ার ফেতনা ও মৃত্যুর সময়ের ফেতনা ও দাজ্জালের ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকার জন্য দুয়া মাসুরাঃ
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এইগুলো থেকে বাঁচার জন্য ফরয, নফল বা সুন্নত, যেকোনো সালাতে তাশাহুদ ও দুরুদের পরে সালাম ফিরানোর আগে এই দুয়া পড়তে বলেছেন।

اَللَّهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيْحِ الدَّجَّالِ.

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন আযাবিল ক্বাবরি ওয়া মিন আযাবি জাহান্নাম, ওয়ামিন ফিতনাতিল মাহইয়া, ওয়াল্ মামাতি, ওয়ামিং সাররি ফিতনাতিল্ মাসীহিদ্-দাজ্জাল।

অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে কাবরের আযাব থেকে রক্ষা করো,আমাকে জাহান্নামের আযাব, এবং দুনিয়ার ফিৎনা ও মৃত্যুর ফেতনা এবং দাজ্জালের ফিৎনা থেকে রক্ষা করো।
বুখারী ২১০২, মুসলিম ১/৪১২, হিসনুল মুসলিম, পৃষ্ঠা ৯০

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) দুয়া মাসুরা হিসেবে এই দুয়া পড়তে সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন।

. কবীরা গুনাহ, যেইগুলো বড়বড় পাপকাজ, সেইগুলো যে কারনে ক্বুরান ও সহীহ হাদীসে কঠিন শাস্তির ভয় দেখানো হয়েছে, সেইগুলো বর্জন করা ও আল্লাহর বেঁধে দেওয়া ফরয ও ওয়াজিব হুকুম পালনে যত্নবান হওয়া।

. সুরা মুলক
প্রতিদিন সুরা মুলক তেলাওয়াত করলে আশা করা যায় আল্লাহর রহমতে কবরের আজাব ও কেয়ামতের দিন শাস্তি থেকে নিরাপদ থাকা যাবে।
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রতিদিন রাতের বেলা তাবারাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুলক (সুরা মুলক) তেলাওয়াত করবে আল্লাহ তাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করবেন। রাসুলুল্লাহ সাঃ এর যামানায় এই সুরাটিকে আমরা আল-মাআনিয়াহ বা সুরক্ষাকারী বলতাম। যে রাতের বেলা এই সুরাটি পড়বে সে খুব ভালো একটা কাজ করলো
সুনানে আন-নাসায়ী /১৭৯, শায়খ আলবানীর মতে হাদীসটি হাসান সহীহ, সহীহ আত-তারগীব ওয়াল তারহীব ১৪৭৫। 

এই সুরা প্রত্যেকদিন রাতের বেলা তেলাওয়াত করলে কিয়ামতের দিন শাফায়াত করে জান্নাতে নিয়ে যাবে ইন শা আল্লাহঃ
রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেনঃ কুরআনে এমন একটা সুরা আছে যার মধ্যে ৩০টা আয়াত রয়েছে যেটা একজন ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করবে এবং তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। আর সেটা হলো তাবারাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুলকু (সুরা মুলক)
সুনানে আত-তিরমিযী ২৮৯১, সুনানে আবু দাউদ ১৪০০, মুসনাদের আহমাদ, ইবনে মাজাহ ৩৭৮৬
ইমাম তিরমিযী বলেছেন হাদীসটি হাসান, ইবনে তাইমিয়্যা বলেছেন সহীহ মাজমু ২২/২২৭, শায়খ আলবানীর মতে হাদীসটি সহীহ, সহীহ তিরমিযী ৩/, সহীহ ইবনে মাজাহ ৩০৫৩। 

বিঃদ্রঃ এইখানে তেলাওয়াত মানে শুধু তোতা পাখির মতো রিডিং পড়ে যাওয়া না। এই প্রসংগে সউদী আরবের স্থায়ী ফতোয়া বোর্ডের আলেমদের ফতোয়া হচ্ছেঃ এই হাদীসগুলোর আলোকে বলা যায়ঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সুরা মুলক বিশ্বাস করবে ও তেলাওয়াত করবে, এই সুরাতে যে শিক্ষা দেওয়া আছে তা গ্রহণ করবে এবং যে হুকুম আহকাম দেওয়া আছে সেইগুলো মেনে চলবে কেয়ামতের দিন তার জন্য এই সুরাটি শাফায়াত করবে

ফতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ /৩৩৩-৩৩৫। 

সন্তান পাওয়ার জন্য কি আমল করতে হবে

সন্তান পাওয়ার জন্য কি আমল করতে হবেঃ

সন্তান থাকা না থাকা দুইটাই #ফেতনা, আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা।
 ঈমানের ৬ নাম্বার পিলার হলো ওয়াল ক্বাদরী খায়রিহি ও শাররিহি - তাকদীরের ভালো বা মন্দের নিয়ন্ত্রনকর্তা মহান আল্লাহ। যে ব্যক্তি ঈমান আনে অর্থাৎ একজন মুমিন বিশ্বাস করে, আমার উপর যা কিছু ভালো বা মন্দ সব কিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। আর যাই আসুক না কেনো, আমাদের ভালো লাগুক বা খারাপ লাগুক, পরিণামে (হয় দুনিয়াতেই অথবা আখেরাতে) তা আমাদের জন্য উপকার নিয়ে আসবে, আর সেজন্য আপাতত সেটা তার ভালো না লাগলেও সে আল্লাহর উপর সন্তুষ্ট থাকে - এটাই হলো তাকদীরের প্রতি বিশ্বাসের বাস্তবতা। আল্লাহ আমাদেরকে যথাযথভাবে তাকদীরের প্রতি ঈমান আনার তোওফিক দান করুন (আমিন)।

ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি নিয়ে পবিত্র কোরানে মহান আল্লাহর তাআলার বাণীঃ

১. ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা।
তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তো শুধুমাত্র পরীক্ষাস্বরূপ। আর আল্লাহর কাছে রয়েছে মহাপুরস্কার।
সুরা আত-তাবাগুনঃ আয়াত ১৫।

২. আল্লাহ একেকজনকে একেকভাবে পরীক্ষা করেন, কাউকে ধন-সম্পদ বা সন্তান-সন্ততি দিয়ে পরীক্ষা করেন আবার কাউকে এগুলো না দিয়ে পরীক্ষা করেন।
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব আল্লাহ তাআলারই। তিনি যা ইচ্ছা তাই সৃষ্টি করেন, যাকে ইচ্ছা কন্যা-সন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন।
অথবা তাদেরকে পুত্র ও কন্যা সন্তান উভয়ই দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, ক্ষমতাশীল
সুরা আশ-শূরাঃ ৪৯-৫০।

তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছেন এবং একে অন্যের উপর মর্যাদা সমুন্নত করেছেন, যাতে তোমাদেরকে এ বিষয়ে পরীক্ষা করেন, যা তোমাদেরকে দিয়েছেন।
সুরা আনআমঃ আয়াত ১৬৫।

সন্তান পাওয়ার জন্য আমলঃ
. তোওবা করা
কোন ব্যক্তি পাপ কাজ ছেড়ে দিয়ে সংশোধন করে নিলে, ক্বুরান ও সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করলে, আন্তরিকভাবে বারবার তোওবা করলে আল্লাহ তাআলা তার সম্পদ ও সন্তান বৃদ্ধি করে দেবেন বলেছেন।

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেনঃ
তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে তোওবা করো (ক্ষমা প্রার্থনা কর), তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল (যদি তোমরা তোওবা করো তাহলে) তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা দেবেন এবং তোমাদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিবেন, তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন
সুরা আন-নূহঃ ১০-১২

তোওবা করার কিছু দুয়াঃ
. যেই দোয়া পড়ে রাসুলুল্লাহ সাঃ তোওবা করতেন ও আমাদেরকে পড়তে বলছেনঃ

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الْعَظيمَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ القَيّوُمُ وَأَتُوبُ إِلَيهِ

উচ্চারণঃ আসতাগফিরুল্লা-হাল আযীমাল্লাযী লা-ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়ুল ক্বাইয়ূমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।
অর্থঃ আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। যিনি ছাড়া ইবাদতের আর কোন যোগ্য উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী। আমি তাঁর কাছে তোওবা করছি।
রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেনঃ যেই ব্যক্তি এই দোয়া পড়বে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন, যদিও সে জিহাদের ময়দান থেকে পলাতক আসামী হয়
(অর্থাত, সে যদি বড় রকমের গুনাহগার হয়, তবুও আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন।)
হিসনুল মুসলিম পৃষ্ঠা ২৮৬, তিরমিযী ৪/৬৯, আবুদাঊদ ২/৮৫, মিশকাত হা/২৩৫৩, হাদীসটি সহীহঃ সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৭২৭।
উল্লেখ্যঃ এই দুয়াটা আসতাগফিরুল্লা-হাল আযীমাল্লাযী...ও আসতাগফিরুল্লা-হালাল্লাযী...এই দুইভাবেই হাদীসে আছে দুইটাই সহীহ যার যেটা ভালো লাগে পড়বেন)

. আমাদের আদিপিতা আদম (আঃ) ও মা হাওয়্যা (আঃ) আল্লাহর নিষেধ অমান্য করলে ক্ষমা প্রার্থনা ও তোওবা করার জন্য স্বয়ং আল্লাহ তাআলা তাদের দুইজনকে এই দুয়াটি শিখিয়ে দেন। এই দুয়ার মাধ্যমে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ক্ষমা করে দেন। আমাদের উচিত তাদের মতো আমাদের পাপ থেকে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য নিয়মিত এই দুয়া করা।

رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ

উচ্চারণঃ রাব্বানা যোয়ালামনা আন-ফুসানা ওয়া-ইল্লাম তাগ-ফিরলানা ওয়াতার্ হামনা লানা কুনান্না মিনাল খাসিরিন
অর্থঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের প্রতি যুলুম করেছি, অতএব আপনি যদি আমদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন তাহলে নিশ্চয়ই আমরা ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভুক্ত হব আল-আরাফঃ ২৩

. এছাড়া ছোট্ট এই দুয়া পড়েও তোওবা করা যায়ঃ
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণঃ আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতূবু ইলাইহি
অর্থঃ আমি আল্লাহ্র কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকটই তাওবা (প্রত্যাবর্তন) করছি (প্রতি দিন ১০০ বার)
সহীহ আল-বুখারী (ফাতহুল বারীসহ) ১১/১০১, নং- ৬৩০৭; মুসলিম ৪/২০৭৫, নং- ২৭০২

২. দুয়া করা
আল্লাহর কাছে বিশ্বাস ও আশা রেখে বেশি বেশি করে দুয়া করে যেতে হবে। হতাশ হওয়া যাবেনা, বা দুয়া কবুল হতে দেরী হচ্ছে কেন, আল্লাহ আমার দুয়া কবুল করেন না, আমি কি দোষ করেছি, দুয়া করেছি কিন্তু আল্লাহ শুনেন না (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক), এই ধরণের নাফরমানীমূলক, কুফুরী কথাবার্তা বলা যাবেনা। বিপদে ধৈর্য ধরতে হবে, আল্লাহর কাছে দুয়া করতে হবে এবং তাক্বদীরের ভাল ও মন্দকে নিয়ে আল্লাহর উপর সন্তুষ্ট থাকতে হবে।

দুয়া কবুলের সময়গুলোতে যেমন - ফরয নামাযে তাশাহুদের পরে সালাম ফেরানোর আগে, রাতের শেষ তৃতীয়াংশে, যেকোন নামাযের সিজদাতে, নফল-সুন্নত রোযা রেখে, আযান-ইকামতের মাঝখানের দুয়া আল্লাহ বেশি কবুল করেন। এই সময়গুলোতে বেশি বেশি দুয়া করতে হবে। ক্বুরান ও সহিহ হাদীস থেকে সুন্দর কিছু দুয়াঃ
. নেককার স্বামী/স্ত্রী ও সন্তান পাওয়ার জন্য দুয়াঃ


رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

উচ্চারণঃ রব্বানা হাবলানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা ক্বুররাতা আইয়ুন, ওয়াজআলনা মুত্তাক্বীনা ইমামা।

অর্থঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানের পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে চোখের শীতলতা দান কর এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্যে আদর্শস্বরূপ কর।
সুরা আল-ফুরক্বানঃ ৭৪।

. উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা আকসির মালি ওয়া ওয়ালাদি, ওয়া বারিকলানা ফিমা আতাইতানি।
অর্থঃ হে আল্লাহ তুমি আমাকে অধিক সম্পদ ও সন্তান দান করুন এবং আমাকে যা দান করেছেন তার মাঝে বরকত দান করুন।


এছাড়া কেউ মুনাজাতে নিজের ভাষাতে বিনীতভাবে আল্লাহর কাছে যে কোন দুয়া করতে পারেন। নামাযের মাঝে সিজদাতে ও সালাম ফিরানোর আগে দুয়া করলে আরবীতে মুখস্থ করে পড়বেন, এটাই উত্তম। 

সোমবার, ৪ আগস্ট, ২০১৪

শাওয়ালের ৬ রোযা

শাওয়ালের ৬ রোযাঃ
_______________________
আজকে শাওয়ালের মাসের ১৯-তম দিন শেষ হয়ে ২০-তম শুরু হলো, আর মাত্র ৯/১০ দিন সময় আছে ৬টি রোযা পূরণ করার জন্যে। আজকে ঢাকায় সাহরীর শেষ সময়ঃ ৪:০৯ মিনিট এবং আগামীকাল ইফতার শুরুঃ ৬:৪০ মিনিটে।
_______________________
আপনারা আপনাদের বিভাগীয় শহরে সাহরী, ইফতার এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের সঠিক সময় জানার জন্য এই সাইট ফলো করতে পারেন।
http://www.islamicfinder.org/cityPrayerNew.php?country=bangladesh
_______________________
রমযানের ২৯/৩০টি রোযা রাখার পরে পুরো শাওয়াল মাসের যেকোন ৬ দিন রোযা রাখলেই এক বছর অর্থাৎ, পুরো ৩৬০ দিন রোযা রাখার সমান সওয়াব পাওয়া যাবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ
যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখবে অতপর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা পালন করবে, সে যেন সারা বছর রোজা রাখল। [সহীহ মুসলিমঃ ১১৬৪]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো ইরশাদ করেছেন, রমজানের রোজা দশ মাসের রোজার সমতুল্য আর (শাওয়ালের) ছয় রোজা দুমাসের রোজার সমান। সুতরাং এ হলো এক বছরের রোজা। অপর হাদীসে আছে, যে ব্যক্তি রমজানের রোজা শেষ করে ছয় দিন রোজা রাখবে সেটা তার জন্য পুরো বছর রোজা রাখার সমতুল্য।
(যে সৎকাজ নিয়ে এসেছে, তার জন্য হবে তার দশ গুণ। সূরা আনআম)
মুসনাদে আহমদঃ ৫/২৮০, দারেমিঃ ১৭৫৫।

সুতরাং, প্রিয় দ্বিনি ভাই ও বোনেরা! প্রস্তুতি নিন - সামান্য আজরে বিরাট সওয়াব অর্জন করার জন্য। আল্লাহ আমাদের সকলকে তোওফিক দান করুন, আমিন।
_______________________
বিঃদ্রঃ এই রোযার বিশেষ কোন নিয়ম নেই, যেকোন দিনই রাখা যায়। ইচ্ছা হলে একবারে, ইচ্ছা হলে ভেঙ্গে ভেঙ্গে রাখবেন। বোনদের জন্য বা যাদের ভাংতি রোযা আছে তাদের জন্য নিয়ম হচ্ছে, আগে কাযাগুলো দ্রুত রেখে এর পরে শাওয়ালের রোযাগুলো রাখা শুরু করবেন। কারণে হাদীসে আগে রমযানের রোযা রেখে এর পরে শাওয়ালের রোযা রাখার কথা বলা হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে রমজানের রোজা রাখবে অর্থাৎ পুরোপুরি
আর যার ওপর কাজা রয়ে গেছে সে তো রোজা পুরা করেছে বলে গণ্য হবে না যতক্ষণ ওই রোজাগুলোর কাজা আদায় না করে। ফতোয়া, আল-মুগনিঃ ৪/৪৪০।
একারণে শায়খ ইবনে উসায়মিনের ফতোয়া হচ্ছেঃ নারীদের জন্য বা যাদের রোযা কাযা আছে, তারা শাওয়ালের সওয়াব পেতে হলে আগে কাযা রোযা রেখে এর পরে শাওয়ালের রোযা রাখা শুরু করতে হবে।

উল্লেখ্য, ফরযের কাযা রোযা এবং শাওয়ালের রোযা - ২টা রোযার নিয়ত একসাথে করলে হবেনা। যেকোন একটার জন্যেই নিয়ত করতে হবে।

মাজার, পীর, অলি আওলিয়াদের সিজদা করলে শিরক হবে কেন ?

প্রশ্নঃ মাজার, পীর, অলি আওলিয়াদের সিজদা করলে শিরক হবে কেন ?
উত্তরঃ পুরো লেখাটি না পড়ে কেউ কোন কমেন্ট করবেন না।

পীর পূজারী মুশরিকদের যুক্তি খন্ডনঃ

পীর পূজারীদের জবাব দেওয়ার আগে একটা বিষয় পরিষ্কার করে দেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করছি। আর সেটা হলো পীর পূজা শব্দটি দিয়ে আমরা কি বোঝাতে চাচ্ছি সেটা।

কেউ যদি কোনো ইবাদত যা শুধুমাত্র আল্লাহর হক্ক, তা পীরকে দেয় অর্থাৎ আল্লাহর ইবাদতে পীরকে শরীক করে তাহলে তাকে বলা হয় পীর পূজা। যেমন, দুয়া করা, সিজদা করা, কোরবানি করা ইত্যাদি।

অনেক পীর পূজারীদের দেখা যায় তারা তাদের পীরদেরকে সিজদা করে, এবং তাদের এই জঘন্য অপকর্মকে জাস্টিফাই করার জন্য বিভিন্ন যুক্তি প্রদর্শন করে। যেমন তারা বলে, সিজদা হলো দুই প্রকার, এক প্রকার ইবাদতের সিজদা যা আল্লাহর জন্য, আরেক প্রকার হলো তাজীম বা সম্মানের সিজদা যা তারা তাদের মাজার আর পীরদেরকে করে থাকে। এর স্বপক্ষে তারা ইউসুফ (আঃ) এর পিতা-মাতা ও এগারো ভাই কর্তৃক ইউসুফ (আঃ) এর সিজদা করার ঘটনাকে দলীল হিসেবে পেশ করে।

সুরা ইউসুফে সিজদা করার ঘটনাঃ
আর ইউসুফ (আঃ) তাঁর পিতা-মাতাকে সিংহাসনে বসালো এবং তারা সবাই তাঁর সামনে সিজদায় লুটিয়ে পড়লো।
সুরা ইউসুফ, আয়াত ১০০।

এই আয়াতে দেখা যাচ্ছে সত্যিই ইউসুফ (আঃ) এর পিতা-মাতা ও তাঁর এগারো ভাই ইউসুফ (আঃ) কে সিজদা করেছিলেন।

কিন্তু, পীর পূজারীদের কাছে আমাদের প্রথম প্রশ্ন, তারা কোন নবী ও কোন শরীয়তের উম্মত ছিলেন?

হযরত ইউসুফ (আঃ) এর পিতা হযরত ইয়াকুব (আঃ) নিজেই নবী ছিলেন আর তাঁর ভাইয়েরা হয় তাঁর পিতার নয়তো হযরত ইউসুফ (আঃ) এর উম্মত হিসেবে গণ্য হবেন। অর্থাৎ তাদের সবাই রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর পূর্বের শরীয়তের অনুসারী ছিলেন।

এখন দ্বিতীয় প্রশ্ন, সব শরীয়তের হুকুম কি এক?
উত্তর হচ্ছেঃ না একনা, যেমন আদম (আঃ) এর শরীয়তে ভাই-বোনের মধ্যে বিয়ে জায়েজ ছিলো, আর মুহাম্মাদ (সাঃ) এর শরীয়তে এটা চরম গরহিত অপরাধ, যার শাস্তি হলো তলোয়ার দিয়ে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া।

এই উদাহরণ থেকে একটা ব্যপার পরিষ্কার, পূর্বের শরীয়তে আমাদের জন্য কোনো দলীল নয়, আমাদেরকে রাসুল (সাঃ) যেইভাবে আদেশ করেছেন, ঠিক সেইভাবে আল্লাহর ইবাদত করতে হবে এবং বুঝতে হবে।
সহীহ বুঝারীতে বর্ণিত একটি হাদীসে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) উমার (রাঃ) কে বলেন, আজকে যদি মুসা (আঃ) বেঁচে থাকতেন তাহলে তাঁর আমার শরীয়ত মেনে নেয়া ছাড়া উপায় থাকতোনা। সুতরাং পূর্বের শরীয়তে যাই থাকুক, আমাদের জন্য রাসুল (সাঃ) শরীয়ত ছাড়া অন্য কোনো শরীয়ত অনুসরণ করার অনুমতি নেই।

এবার চলুন দেখি, রাসুল (সাঃ) এর আনীত দ্বীনে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো কাউকে সিজদা করার অনুমতি আছে কিনা?

সুরা ইউসুফের ১০০ নাম্বার আয়াতের তাফসীরঃ
হযরত ইউসুফ (আঃ) স্বীয় পিতা-মাতাকে রাজ-সিংহাসনে বসিয়ে দেন। সেই সময় তাঁর পিতা-মাতা ও এগারোটি ভাই তাঁর সামনে সিজদায় পড়ে যান। তখন ইউসুফ (আঃ) তাঁর পিতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আব্বাজান! দেখুন এতোদিনে আমার পূর্বের সেই স্বপ্নের ব্যখ্যা প্রকাশিত হলো। এই হচ্ছে সেই এগারোটি তারকা (তাঁর এগার ভাই) এবং এই হচ্ছে সেই সূর্য ও চন্দ্র (তাঁর পিতা-মাতা), যা আমার সামনে সিজদায় পতিত রয়েছে।
তাদের শরীয়তে এটা জায়েজ ছিল যে, বড়দেরকে তারা সালামের সাথে সিজদা করতেন। এমনকি হযরত আদম (আঃ) থেকে শুরু করে হযরত ঈসা (আঃ) পর্যন্ত সমস্ত নবীর উম্মতদের জন্যেটা জায়েজ ছিল। কিন্তু উম্মাতে মুহাম্মাদী (সাঃ) এর জন্য আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা নিজের পবিত্র সত্ত্বা ছাড়া অন্য কারো জন্য সিজদা করা বৈ্ধ করেন নাই। বরং, তিনি সেটা একমাত্র নিজের জন্যই নির্দিষ্ট করেছেন। প্রসিদ্ধ তাবেয়ী হযরত কাতাদা (রহঃ) সহ অন্যান্যদের উক্তির সারমর্ম এটাই।
- তাফসীর ইবনে কাসীর থেকে সংগৃহীত।

এই তাফসীরের দলীলঃ
হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাঃ) গিয়েছিলেন সিরিয়ায়। সেখানে তিনি দেখতে পান যে, সিরিয়াবাসীরা তাদের বড়দের সিজদা করে থাকে। তিনি ফিরে এসে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে সিজদা করলেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ হে মুয়াজ! এটা কি? তিনি উত্তরে বললেন, আমি সিরিয়াবাসীদেরকে দেখেছি যে, তারা তাদের বড় ও সম্মানিত লোকদেরকে সিজদা করে থাকে। সেজন্য, আপনিতো সিজদা পাওয়ার জন্য সবচেয়ে বড় হক্কদার। একথার উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, আমি যদি কাউকে কারো জন্য সিজদা করার আদেশ দিতাম, তাহলে স্ত্রীলোকদেরকে হুকুম করতাম, তারা যেন তাদের স্বামীদেরকে সিজদা করে। কারণ এইযে, তার বড় হক্ক রয়েছে।
হাদীসটি সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে মুসনাদে আহমাদ ও অন্যান্য গ্রন্থে।

তিরমিযীতে অন্য হাদীসে এসেছেঃ
সাহাবীরা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে সিজদা করার ব্যপারে জিজ্ঞাসা করলো, যদি কেউ তার ভাইয়ের সাথে দেখা করে তাহলে সে কি তাকে সিজদা করতে পারবে? রাসুলুল্লাহ (সাঃ) উত্তর দিলেন না পারবেনা।

অন্য এক হাদীসে রয়েছে যে, সালামান ফারসী (রাঃ) তার ইসলাম গ্রহণের শুরুতে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) পথে দেখে সিজদা করেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাকে বলেন, হে সালমান! আমাকে সিজদা করোনা। সিজদা ঐ আল্লাহকে কর যিনি চিরঞ্জীব, যিনি কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না।

এখন পীর পূজারীদের কাছে বিনীতভাবে জানতে চাইবো, যদি রাসুলুল্লাস (সাঃ) কে সিজদা করার অনুমতি না থাকে তাহলে তোমার ফাসিক ও অন্যায়ভাবে মুরীদের সম্পদ ভক্ষণকারী পীরকে ও মাযারের মরা মানুষকে সিজদা করা জায়েজ হয় কি করে?

আমাদের পেজের সম্মানিত ইউজারদের অনুরোধ করবো আপনারা শিরক ও বিদাতের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন, নিজেরা ইমান, আকীদা, শিরক বিদাত সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করুন, নিজেরা এসব পথভ্রষ্টতা থেকে দূরে থাকুন এবং অন্যদেরকেও শিরকের বিরুদ্ধে সতর্ক করুন। আজকে সারা বিশ্বে মুসলমানদের সংখ্যা ১৫০ কোটিরও উপরে তারপরেও তারা সামান্য কিছু ইয়াহুদীদের দ্বারা যুগের পরে যুগ ধরে নির্যাতিত। আজ আল্লাহর সাহায্য মুসলমানদের সাথে নেই, আর এই জন্যই তাদের এমন অপমানকর অবস্থার শিকার হতে হচ্ছে।

কিভাবে আল্লাহর সাহায্য আসবে? যেখানে সো কল্ড মুসলিম দেশগুলোতেই শিরকের বন্যা, যেখানে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের অধিকাংশ মানুষ মাযার আর পীর পূজায় লিপ্ত, যেখানে দাঁড়ি টুপি পড়া কিছু আলেম নামের শয়তান মাযার নামক মরা মানুষের ব্যবসা দিয়ে অসংখ্য অগণিতে মানুষকে মুশরিকে পরিণত করছে, যেখানে মানুষ আল্লাহর হুকুমকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে মানব রচিত বিধান দিয়ে দেশ পরিচালনা করে দেশের জনগণকে রাজনীতিবিদদের গোলামে পরিণত করা হচ্ছে, সেইখানে এই নামধারী মুসলমানেরা কি করে আল্লাহর সাহায্য আশা করতে পারে?

মুসলমানদের আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার প্রথম শর্ত হলো আল্লাহর প্রতি ইমান আনতে হবে এবং আল্লাহ ছাড়া সমস্ত মাবুদের পূজা থেকে দূরে থাকতে হবে। তাহলে আল্লাহ যেমন সাহাবীদেরকে সমস্ত পৃথিবীর শাসন কর্তৃত্ব দিয়েছিলেন, ঠিক তেমনি আমাদেরকেও এই অপমানকর অবস্থা থেকে পরিত্রান দিয়ে মুসলমানদের অতীত সম্মান ও গৌরব ফিরিয়ে দেবেন, যেমনটা আল্লাহ তাঁর কিতাবে ওয়াদা করেছেন।

তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ তাদের কাছে ওয়াদা করেছেন যে, তাদেরকে অবশ্যই শাসনকর্তৃত্ব দান করবেন, যেমনিভাবে তিনি শাসনকর্তৃত্ব দান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে। এবং তিনি অবশ্যই তাদের দ্বীনকে সুদৃঢ় করবেন যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদেরকে ভয়-ভীতির পরিবর্তে শান্তি দান করবেন। তারা আমার ইবাদত করবে এবং আমার সাথে কাউকে শরীক করবেনা।
সুরা আন-নূর, আয়াত ৫৫।


#আনসারুস_সুন্নাহ।

শনিবার, ২ আগস্ট, ২০১৪

ইসলাম কায়েম বলতে আপনি কি বুঝেছেন



ইসলাম কায়েম বলতে আপনি কি বুঝেছেন আর মানুষকে কি বুঝাচ্ছেন?

যদি আপনি এমন মনে করেন যে - ইসলামের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলঃ একটি ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করে দ্বীন কায়েম করা, তাহলে প্রশ্ন আসেঃ

১. ইসলামের যেই ৫টি রুকনের কথা নবী (সাঃ) হাদীসে জিব্রীলে উল্লেখ করলেন, তাতে এই ইকামতে দ্বীন কোথায়? তাহলে যেগুলো ইসলামের মূল বিধান তা বাদ দিয়ে ইসলামের নামে একটি নব আবিষ্কৃত লক্ষ্য উদ্দেশ্য তৈরি করা হয়নি কি?

২. ধরে নিলাম একটি ইসলামী রাষ্ট্র কেউ তৈরী করলো, কিন্তু ইসলামী রাষ্ট্র তৈরী হলেই কি সাথে সাথে কাফেররা মুমিন হয়ে যাবে এবং মুশরিকরা শির্ক বর্জন করে তাওহীদী হয়ে যাবে? ধরুন বাংলাদেশে এমন একটি সরকার আসলো, তাতে কি পীরপন্থী, কবর-মাযারওয়ালারা কবরপূজা ছেড়ে দিবে? আইনের ভয়ে যদি তারা কিছু কার্য-কলাপ বন্ধও রাখে কিন্তু তাতে কি তাদের ঈমান পরিবর্তন হবে? তাই অন্তরের পরিবর্তনই মূল পরিবর্তন, আইনী পরিবর্তন হচ্ছে সাময়িক ও মুনাফেকী পরিবর্তন।

৩. ইসলামের অধিকাংশ বিধানের প্রতি আমল করতে কি কোন ইসলামী রাষ্ট্র ক্ষমতার প্রয়োজন আছে? ইসলামী হুকুমত থাকবে তাহলেই কি আপনি নামায, রোযা, হজ্জ যাকাত দিতে পারেন, না এমনিতেই দিতে পারেন? আসলে ইসলামের অধিকাংশ বিধান মানবীয় ফিতরাতের সাথে সামঞ্জস্য রাখে তা মানতে সরকারি ক্ষমতার প্রয়োজন হয় না।

৪. ঈমান ও আক্বীদা হচ্ছে ইসলামের মূল বিষয়, তা বিশ্বাস করতে কি কোন সরকারের প্রয়োজন হয? ধরুন আরকানে ঈমানের যাবতীয় কিছু, আল্লাহর প্রতি, রাসূলগণের প্রতি, কিতাব সমূহের প্রতি, ফেরেশতাগণের প্রতি, শেষ দিনের প্রতি ও ভাগ্যের ভাল মন্দের প্রতি ঈমান রাখতে কি সরকারের দরকার হয়?

৫. ইসলামে যে সব ক্রাইমের শস্তির বিধান রয়েছে, সে সবের জন্য সরকারি ক্ষতার প্রয়োজন আছে, যাকে ‘হুদুদ’ বলা হয়। এসব হুদুদ বিশ্বের কোন মুসলিম দেশে বাস্তবায়ন করা হয় না, শুধুমাত্র সউদী আরব ছাড়া। তার পরেও তো আমাদের দেশের ইকামতে দ্বীন পন্থিীরা দিন-রাত সউদী আরবের সমালোচনাই করে যায়। তাহলে কোন ইসলামী রাষ্ট্র চান তারা?

৬. বর্তমানে যে সব মুসলিম ভাই অমুসলিম দেশে বসবাস করেন, তারা যদি ঈমান ও সৎ আমলের সহিত মারা যান, তাহলে তারা জান্নাত পাবেন না কি? তাহলে ইসলামী হুকুমত জান্নাত পাওয়ার জন্যও তো জরুরী নয়।

৭. সেই ইসলামী হুকুমত যদি কায়েম করতে হয়, তাহলে তার পদ্ধতিটা কি হওয়া উচিৎ? গণতন্ত্রের ভোটের নিয়মে নাকি অন্য কিছু? গনতন্ত্র কি ইসলাম?

শেষে বলি, ইসলামী হুকুমত কায়মে হোক, তার জন্য চেষ্টা করা হোক, কিন্তু তা হতে হবে ব্যাপক তাওহীদ ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক দাওয়াতের মাধ্যমে ব্যক্তির সংশোধন। অতঃপর সমাজ ও দেশের পরিবর্তন, অতঃপর ইসলামী হুকূমত। যেমন ছিল নবী (সাঃ) এর তরীকা, ক্ষমতার বলে নয়, দাওয়াতী সংশোধনের মাধ্যমে দেশ গঠন।

Collected from Shaykh Abdur Raquib

শায়খের ফেইসবুক আইডিঃ


https://www.facebook.com/araquib2?fref=nf

#বেপর্দা মেয়ের জন্য দায়ী কে?


#বেপর্দা মেয়ের জন্য দায়ী কে?

আল-ফকীহ, আল্লামাহ শায়খ ইবনে উসাইমিন (রহঃ) বলেনঃ
"ছোট মেয়েদের সংক্্ষিপ্ত পোশাক পড়ানো ঠিক নয়, কারণ এতে তারা এই পোশাক পড়তেই অভ্যস্ত হয়ে যাবে।"
ফাতওয়া আল-মারয়াহঃ ১৯/২৬৬।


মন্তবতঃ আমাদের দেশের শতকরা ৯০% মেয়েই বেপর্দা, বেহিজাবী সম্ভবত তার বড় একটা কারণ, তাদের বাবা মা ছোটবেলায় সংক্্ষিপ্ত পোশাক পড়িয়ে তাদের লাজ-লজ্জার অনুভূতিটুকু নষ্ট করে দিয়েছে অথচ লজ্জা-শরম ঈমানের গুরুত্বপূর্ন একটা অংগ। এইজন্য মুসলিম নারীদের অলংকার হিজাব-পর্দার কথা শুনলে তাদের এলার্জি শুরু হয়ে যায়। যাইহোক, সাবালিকা হওয়ার পরে জান্নাত/জাহান্নাম ব্যক্তিগত চয়েজ। বাবা-মা শিক্ষা দেয় নাই এইরকম কোন অজুহাত গ্রহণ্যোগ্য নয়।

#খারেজীদের ফেতনাঃ

#খারেজীদের ফেতনাঃ

খারেজীরা হচ্ছে ৭২টা বেদাতী জাহান্নামী দলের একটি, যাদের ব্যপারে রাসুল সাঃ বলেছেন, তারা হচ্ছে জাহান্নামের #কুকুর!

এদের ২-১জন রাসুল সাঃ এর জামানাতেই আত্মপ্রকাশ করে। পরবর্তীতে উসমান রাঃ এর সময়ে তাকে অবরোধ করে তাকে কুরান তেলাওয়াত করা অবস্থায় শহীদ করে। আলী ও মুয়াবীয়া রাঃ কে কাফের ফতোয়া দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করে এবং পরবর্তীতে আলী রাঃ কেও শহীদ করে এই চরমপন্থী দলটি। সেই থেকে আজ পর্যন্ত ক্বুরান, হাদীসের অপব্যখ্যাকারী কট্টরপন্থী এই দলের অনুসারী, বা এদের মতালম্বী লোকেরা বিভিন্ন মুসলিম সমাজে বিদ্যমান।

সহীহ হাদীস ও সাহাবাদের জীবনী থেকে #খারেজীদের কিছু লক্ষণঃ

১. কবীরা গুনাহর কারণে মুসলমানদেরকে কাফের ফতোয়া দেওয়া। কাফের ফতোয়া দেওয়া তাদের নেশা।
২. নামায, রোযা ইত্যাদি ইবাদত অনেক বেশি করবে।
৩. মুসলিম শাসকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে।

৪. আলেমদের সাথে সবচাইতে বেশি শত্রুতা রাখবে এবং তাদেরকে বিভিন্ন আজেবাজে গালি দিবে, তাদের নামে মিথ্যা অপবাদ রটনা করবে। উসমান রাঃ এর বিরুদ্ধে এটা শুরু করেছিল।