শনিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০১৬

ইলমী পরীক্ষা (পর্ব-২) ১

ইলমী পরীক্ষা (পর্ব-২)
পূর্ণমান: ৫০, সময়: ১০০ মিনিট।
(১) ঈমানদার ব্যক্তির উপমা কোন গাছের মতো?
উত্তরঃ ঈমানদার ব্যক্তির উপমা হচ্ছে খেজুর গাছের মতো, যেই গাছের ফল মিষ্টি এবং যার পাতা কখনো ঝরে পড়েনা। নিচের এই হাদীসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই উপমা দিয়েছিলেনঃ
আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, গাছপালার মধ্যে এমন একটি গাছ আছে, যার পাতা ঝরে পড়ে না। এবং তা হল মুমিনের দৃষ্টান্ত। তোমরা আমাকে বলতে পার, সেটা কোন গাছ? অতঃপর লোকজনের খেয়াল জঙ্গলের গাছ পালার প্রতি গেল। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) বলেন, আমার মনে হতে লাগল যে, সেই গাছটি হল খেজুর গাছ। কিন্ত্বু আমি উত্তর বলতে লজ্জাবোধ করলাম। সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসুলু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনিই আমাদের সেই গাছের নামটি বলে দিন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তা হল খেজুর গাছ। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) বলেন, পরে আমি আমার পিতাকে (অর্থাৎ উমার রাঃ কে) আমার মনে যা এসেছিল সেটা বললাম। তিনি বললেন, তুমি যদি তখন তার উত্তর বলে দিতে যে, সেটা হচ্ছে খেজুর গাছ, তবে আমি অমুক অমুক সম্পদ লাভ করার চাইতেও বেশী খুশি হতাম।
সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশান অনুবাদ, হাদিস নম্বরঃ ৬৮৩৮।
(২) টিভিতে নাটক সিনেমা দেখা হারাম কেনো?
উত্তরঃ টিভিতে নাটক সিনেমা দেখা অনেকগুলো কারণেই হারাম। যেমন
(ক) গায়ের মাহরাম অর্থাৎ যাদেরকে বিয়ে করা জায়েজ এমন নারীদেরকে দেখা পুরুষদের জন্যে সর্ববস্থাতেই হারাম। আর নারীরা শুধুমাত্র প্রয়োজন থাকলে যেমন নারী ডাক্তার না থাকলে পুরুষ ডাক্তারকে দেখানো, মুফতির কাছে ফতোয়া জিজ্ঞেস করা অথবা আলেমের কাছে দ্বীন শিক্ষা করা, ইত্যাদি ক্ষেত্রে নারীরা গায়ের মাহরাম অর্থাৎ যাদেরকে বিয়ে করা জায়েজ এমন পুরুষদেরকে দেখতে পারবে। নাটক-সিনেমাতে নারী বা পুরুষদেকে দেখা কোন প্রয়োজনের মাঝে পড়েনা বরং তা হারাম, ও মূল্যবান সময় নষ্ট। গায়ের মাহরামদেরকে দেখা মানুষের অন্তরে বিপরীত লিংগের প্রতি কামনা-বাসনার সৃষ্টি করে। এই সমস্ত কুফফার, বেদ্বীন ও খবিস প্রকৃতির নারী ও পুরুষদেরকে দেখা সম্পূর্ণ হারাম।
(খ) অশ্লীলতা নাটক ও সিনেমার প্রতি মানুষের মূল আকর্ষণ হচ্ছে অশ্লীল ছবি ও গল্প, যা মানুষকে যিনা ও ব্যভিচারের দিকে উৎসাহিত করে। অথচ ইসলাম সমস্ত অশ্লীলতাকে হারাম করা হয়েছে। এটা খুব অবাক হওয়ার বিষয় না যে, বর্তমান যুগে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া অনেক নারী ও পুরুষ টিভিতে কাফের মুশরেকদের সংকৃতি দেখে তাদের মতো অবাধ যৌনতায় লিপ্ত হচ্ছে।
(গ) গান-বাজনা যা মানুষকে আল্লাহর যিকির ও পরকালকে ভুলিয়ে দেয় এবং হারাম এবং সীমা লংঘনে উৎসাহিত করে।
(ঘ) এই সমস্ত প্রোগ্রামে কাফের মুশরিকরা কৌশলে শিরকি ও কুফুরী মুসলিমদের অন্তরে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে অধিকাংশ বাড়িতে হিন্দী সিরিয়াল চলে। আর সেই সমস্ত বাড়িতে মসজিদের আযান প্রবেশ করার পূর্বেই হিন্দুদের উলু ধ্বনি ও পূজার ঘন্টা আগে প্রবেশ করছে। মুসলিম জাতি হিসেবে আমাদের অবস্থা বড়ই লজ্জাজনক। 
এছাড়া আরো অনেক কারণ রয়েছে, সংক্ষেপে এতোটুকুই উল্লেখ করলাম।
(৩) গায়ের মাহরাম পুরুষের সামনে নারীদের পা কি ঢাকতে হবে?
উত্তরঃ হ্যা হবে। নিচে হাদীসের দলীল উল্লেখ করছি।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি অহংকার বশত (পায়ের গোড়ালীর নীচে) কাপড় ঝুলিয়ে চলবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার প্রতি রহমতের দৃষ্টিপাত করবেন না।
এ কথা শুনে নবী পত্নী উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আহা জিজ্ঞাসা করলেন, তাহলে নারীরা চাদরের নিম্নাংশ কতটুকু পরিমাণ ঝুলিয়ে রাখবে? রাসুল বললেন, নারীরা অর্ধেক হাত পরিমাণ কাপড় ঝুলিয়ে রাখবে। উম্মে সালামা আবারও প্রশ্ন করলেন, এ অবস্থায়তো মহিলাদের পা দেখা যাবে। তার উত্তরে রাসুল বললেন, তাহলে নারীরা একহাত পরিমাণ কাপড় ঝুলিয়ে রাখবে, এর বেশি নয়।
সুনানে তিরমিযীঃ ১৭৩১, সুনানে নাসায়ীঃ ৫৩৩৬, হাদীসটি হাসান সহীহ, শায়খ আলবানী, সিলসিলাহ সহীহাঃ ১৮৬৪
এই হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, নারীদের পা ঢেকে রাখা ওয়াজিব, যা সাহাবি পত্নীগণের অজানা ছিল না। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মহিলার পা দেখাতে যদি ফিৎনার আশংকা থাকে, তাহলে নারীদের সমস্ত সৌন্দর্যের আধার মুখমন্ডল দেখা পুরুষদের জন্যে আরো অনেক বেশি ফিৎনার কারণ। সুতরাং, যারা বলে নারীদের চেহারা ঢাকা বা নিকাব পড়া ওয়াজিব নয়, তাদের ফতোয়া কতটুকু দলিল ভিত্তিক ও যুক্তি সংগত, এটা বিজ্ঞ পাঠকদের চিন্তার খোরাক হিসেবে ছেড়ে দিলাম।
(৪) সুরা দুহার শানে নুযুল কি?
উত্তরঃ ওয়াহী নাযিলের শুরুর দিকে একবার অসুস্থতার কারণে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই বা তিন রাত তাহাজ্জুদ সালাতের জন্য উঠতে পারেন নি। এসময় জিব্রাঈল লাইহিস সালাম কোন ওয়াহী নিয়ে আসেন নি। এতে করে আবু লাহাবের স্ত্রী উম্মে জামিল এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! আমার মনে হয়, তোমার শয়তান তোমাকে পরিত্যাগ করেছে (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)! দুই বা তিন দিন ধরে আমি তাকে তোমার কাছে আসতে দেখছি না। তখন আল্লাহ নাযিল করলেন,
শপথ পূর্বাহ্নের! শপথ রজনীর যখন তা গভীর হয়! (হে নবী!) আপনার রব আপনাকে পরিত্যাগ করেন নি এবং আপনার প্রতি রুষ্ট হন নি। [সুরা দুহাঃ আয়াত ১-৩]
সহীহ বুখারী, (ইসলামিক ফাউন্ডেশন অনুবাদ), তাফসীর অধ্যায়ঃ হাদিস নং-৪৫৮৭।
এই সুরা নাযিল করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পক্ষে থেকে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের মন্দ কথার জবাব দিলেন, এবং তাঁর ইহকাল অপেক্ষা পরকাল উত্তম এই কথা বলে তাঁকে সান্ত্বনা দিলেন। 
(৫) খাওয়ার পূর্বে বিসমিল্লাহ না বললে কি ক্ষতি হবে? শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে গেলে কি করতে হবে?
উত্তরঃ খাওয়ার পূর্বে বিসমিল্লাহ না বললে সেই খাবারে শয়তান শরীক হয়, বিসমিল্লাহ বলে খাওয়া শুরু করলে সেই খাবার থেকে শয়তান কিছু খেতে পারেনা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘যে খাবারে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়না, শয়তান সেই খাবারকে তার জন্যে হালাল মনে করে।
সহীহ বুখারীঃ ৩২৮০, সহীহ মুসলিমঃ ২০১৭, সুনানে তিরমিযীঃ ১৮১২, সুনানে আবু দাউদঃ ৩৭৩১।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন যে, ‘‘কোন ব্যক্তি যখন নিজ বাড়িতে প্রবেশের সময় ও আহারের সময় আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করে; অর্থাৎ (বিসমিল্লাহ বলে) তখন শয়তান তার সংগীদেরকে বলে, আজ না তোমরা এ বাড়িতে রাত্রি যাপন করতে পারবে, আর না  তোমরা কোন খাবার খেতে পারবে। অন্যথা যখন সে প্রবেশ কালে আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করে না (অর্থাৎ বিসমিল্লাহ বলে না), তখন শয়তান তার সংগীদেরকে বলে, তোমরা রাত্রি যাপন করার স্থান পেলে। আর যখন আহার কালেও আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করে না (অর্থাৎ বিসমিল্লাহ বলে না), তখন শয়তান তার চেলাদেরকে বলে, তোমরা রাত্রিযাপনের জন্যে জায়গা ও রাতের খাবার দুটোই পেয়ে গেলে।
সহীহ মুসলিমঃ ২০১৮, সুনানে আবু দাউদঃ ৩৭৬৫, সুনানে ইবনু মাজাহঃ ৩৮৮৭, মুসনাদে আহমাদঃ ১৪৩১৯।
খাবার শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে গেলে যা বলতে হয়ঃ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমাদের কেউ যখন আহার করবে, সে যেন শুরুতে আল্লাহ তাআলার নাম নেয় (অর্থাৎ বিসমিল্লাহ বলে)। আর যদি শুরুতে সে আল্লাহর নাম নিতে ভুলে যায়, তাহলে সে যেন বলে
بسمِ اللَّهِ فِي أَوَّلِهِ وَآخِرِهِ
উচ্চারণঃ বিসমিল্লাহি ফী আওওয়ালিহী ওয়া আখিরিহী।
অর্থঃ এই (খাওয়ার) শুরু ও শেষ আল্লাহ্‌র নামে।
সুনানে আবু দাউদঃ ৩৭৬৭, সুনানে তিরমিযীঃ ১৮৫৮, সুনানে ইবনু মাজাহঃ ৩২৬৪, হাদীসটি হাসান সহীহ, শায়খ আলবানী।
(৬) ইয়াহুদী-খ্রীস্টানরা কি কাফের নাকি কাফের নয়? তাদের সাথে বন্ধুত্ব করা যাবে?
উত্তরঃ মুসলিম আলেমদের সর্বসম্মত ঐক্যমতে ইয়াহুদী-খ্রীস্টানরা কাফের বা অবিশ্বাসী, যদিও তারা আল্লাহকে বিশ্বাস করে। তাদের কাফির হওয়ার জন্যে অনেক কারণ রয়েছে তার মাঝে রয়েছে
(ক) সমস্ত মিথ্যা মাবূদ বর্জন করে এক আল্লাহর ইবাদত না করার জন্যে। ইয়াহুদীরা তাদের নবী রাসূলদের যেমন উযায়ির লাইহিস সালাম এবং খ্রীস্টানরা ঈসা লাইহিস সালামকে উপাসনা করার কারণে কাফির ও মুশরিক বলে গণ্য হবে।   
(খ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে আল্লাহর সর্বশেষ নবী হিসেবে ঈমান না আনার জন্যে তারা কাফির।
(গ) আল্লাহর নাযিলকৃত সর্বশেষ আসমানী কিতাব ক্বুরানুল কারীমের প্রতি ঈমান না আনার কারণে তারা কাফির।
উল্লেখ্য, কাফির দেশে বসবাসকারী কিছু লোক যাদের মাঝে রয়েছে জনপ্রিয় এমেরিকান বক্তা নোমান আলী খান, তারা দাবী করেছে কুরানুল কারীমে আল্লাহ তাআলা ইয়াহুদী খ্রীস্টানদেরকে কাফির বলেন নি বা, ক্বুরানের সংজ্ঞা অনুযায়ী ইয়াহুদী খ্রীস্টানদেরকে কাফির বলা সঠিক নয়। এ কথার দ্বারা আসলে ক্বুরানুল কারীম ও ইসলামী আক্বিদাহ সম্পর্কে তাদের মারাত্মক অজ্ঞতা প্রকাশিত হয়। আমাদের জানা থাকা প্রয়োজন যে, সুস্পষ্ট কাফিরদেরকে কাফির না বলা কুফুরী।  
(৭) কানতারা কি?
উত্তরঃ পুলসিরাত পার হওয়ার পর কানতারা বা সাঁকো পথের একটি বাধা রয়েছে। এটি শুধু মুমিনদের পরস্পরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে একজন মুমিন অন্য একজনের মুমিনের উপর যে অন্যায় বা যুলুম করেছে তার পারস্পরিক বদলা নেওয়া হবে।
রাসুলু্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
মুমিনগণ জাহান্নাম থেকে মুক্ত হয়ে জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝে কানতারা বা সাঁকোপথ অতিক্রমকালে তাদের পরস্পরিক দেনা পাওনা পরিশোধের কাজ সমাপ্ত করা হবে, যে দেনা-পাওনা দুনিয়াতে অমিমাংসিত রয়ে গেছে। পারস্পরিক দেনা-পাওনা পরিশোধিত হবার পরই তারা জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি লাভ করবে।
সহীহ বুখারী।
(৮) সুরা তাওবাহর পূর্বে বিসমিল্লাহ নেই কেনো?
উত্তরঃ সাহাবারা যখন মুসহাফ আকারে ক্বুরানের সুরাগুলো একত্রিত করেন, তখন তারা নিশ্চিত ছিলেন না যে, সুরা তাওবা কি নতুন একটা সুরা নাকি পূর্ববর্তী সুরা আনফাল এর অংশ। একারণে সুরা তাওবাকে মুসহাফে পৃথক স্থান দিলেও তার পূর্বে বিসমিল্লাহ-হির রাহমানির রাহীম লিখেন নি।  
(৯) বিয়ের জন্য মোহর কম হওয়া ভালো নাকি বেশি হওয়া ভালো? মোহর কি নগদ নাকি বাকীতে দিতে হবে?
উত্তরঃ বিয়ের জন্য মোহর মেয়ের মর্যাদা এবং ছেলের সামর্থ্য  এই দুইটি জিনিসের দিকে লক্ষ্য করে নির্ধারণ করা উচিৎ। মোহর কম হওয়া ভালো, তবে চাইলে কোন মেয়ে অধিক মোহর দাবী করতে পারে। অহেতুক বেশি মোহর দাবী করে ছেলের জন্যে কষ্টকর করা ঠিক নয়। মোহর সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্যে এই পোস্ট দেখুন

https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/photos/pb.125167817515974.-2207520000.1452344328./1497568256942583/?type=3&size=207%2C206&fbid=1497568256942583

বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারি, ২০১৬

নির্বোধ ও লজ্জাহীন নারী ও পুরুষেরা যখন আলেম


নির্বোধ ও লজ্জাহীন নারী ও পুরুষেরা যখন আলেমঃ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কেয়ামতের একটা লক্ষণ হচ্ছে যে, মানুষ জাহেল (মূর্খ) লোকদের কাছ থেকে ইলম (দ্বীনের জ্ঞান) অর্জন করবে। তাবারানি, জামি আস-সাগীরঃ ২২০৩।
.
(১) তাক্বওয়া নিয়ে লেকচার দিয়ে বেড়ায় অথচ রাত জেগে বার্সা-রিয়েল, টি-টুয়েন্টি, বিশ্বকাপ দেখে আর ফজরের সময় খেলার রেজাল্ট প্রচার করে, অন্যদেরকেও হারাম কাজে উস্কানি দেয়। এই সমস্ত খেলা যেখানে সাবালাক লোকেরা হাটুর উপরে কাপড় পড়ে, খেলার মাঠে বিজ্ঞাপনে উলংগ নারীদের দেখানো হয়, গান বাজনা, চিয়ার লিডার্স, মদ জুয়ার ছড়াছড়ি....এইগুলো দেখা হারাম, তাদেরকে আলেমদের বক্তব্য দিলে ডিফরেন্স অফ অপিনিয়ন বলে ইলম দিয়ে হাওয়াকে (কুপ্রবৃত্তিকে) ঢাকার দুর্বল চেষ্টা করে। সৎ কাজের আদেশ ও অসত কাজের নিষেধ করলে কসমেটিক মুসলিম, হারাম পুলিশ বলে কটাক্ষ করে।
(২) কাফির দেশে বসবাস করে, পুরুষদের সাথে বেপর্দা, ফ্রী-মিক্সিং জব করে গর্ব করে, নিজের স্ট্যাটাস নিয়ে বোকা টাইপের পুরুষদেরকে মুগ্ধ করে। মাঝে মাঝে আধা হিজাবী বা চেহারা প্রদর্শন করে পুরুষদের মাঝে ফিতনাকে আরো বাড়িয়ে দেয়। আর যুক্তিপূর্ণ কথার মাঝে নারী-জাতীয় কমনীয়তা ফুটিয়ে তুলতে পারলে তো কথাই নেই! পুরুষদের কাছে তিনিই হচ্ছেন আলিমাহ, উস্তাদা, মক্কা মদীনার আলেমরাও ফেইল। এক লাইন পড়ে তিন লাইন মনগড়া অপব্যখ্যা করলে ভক্তদের কাছে তিনিইই হচ্ছেন বড় আলিমাহ।
মজার ব্যপার হচ্ছে এ সমস্ত #রুয়াইবিদা (নিচু শ্রেণীর ফালতু লোক) যাদের জিহবা লম্বা কিন্তু জ্ঞান ও বুদ্ধি হচ্ছে খাটো, জন সাধারণের কাছে তারাই বড় আলিম, আলিমাহ। সাধারণ মুসলমানদের কাছে প্রকৃত আলেমদের কোন দাম নেই। আলেমরা নাকি বর্তমান দুনিয়া সম্পর্কে জানেন না, তাদের মতো সুন্দর করে বুঝিয়ে বলেন না। আসলে আলেমরা ঠিকই বলেন, কিন্তু আলেমদের কথা তাদের মনে ধরেনা, কারণ আলেমদের কথা তাদের প্রবৃত্তির সাথে স্যুট করেনা। যেহেতু আলেমদের কথা শুনে প্রবৃত্তির গোলামী করা যাবেনা, তাই প্রকৃত আলেমদের মর্যাদা তাদের কাছে নেই। আরেকটা কথা হচ্ছে, আলেমদের কথা শোনা ও বুঝার জন্যে, তাদের ক্লাস করার জন্যে পরিশ্রম করতে হবে, দ্বীনের জন্যে মেহনত করতে হবে। কিন্তু অনেকে আশা করে, তারা শুধু হা করবে আর আলেমরা সবকিছু রেডিমেড ধরে গিলিয়ে দিবেন। দ্বীন শেখার জন্যে ন্যুনতম চেষ্টা-পরিশ্রম করতে হবে, এই কথা তারা মানতে বা বুঝতে রাজি নন। সস্তায় সবকিছু রেডিমেড জিনিস অল্প শিক্ষিত নামধারী কিছু আলেম/বক্তা তাদের কাছে পৌছে দিচ্ছে, আর এটাকেই তারা প্রকৃত ইসলাম মনে করে লুফে নিচ্ছে।
.
আলী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন,
মানুষ হচ্ছে তিন প্রকার,
(১) আলিম (শিক্ষিত বা দ্বীনের ব্যপারে জ্ঞানী ব্যক্তি)
(২) মুতাআল্লিম (দ্বীনের শিক্ষার্থী), এবং এ দুই প্রকারের লোকজনই হচ্ছে মুক্তির পথে।
(৩) নিম্নমানের এমন লোকজন, যারা যে কোন লোকের কথা অনুসরণ করে এবং তার ডাকে সাড়া দেয়।
[উসুলুস সুন্নাহ (বাংলা), পৃষ্ঠা-১০৭]
.

বিঃদ্রঃ আমার এই পোস্টের উদ্দেশ্য হচ্ছে জাহিল আল-মুরাক্কাব লোকদের ব্যপারে সতর্ক করা। যে ব্যক্তি আসলে মূর্খ, কিন্তু নিজেকে আলেম বলে মনে করে, তাকে জাহেল আল-মুরাক্কাব বলা হয়। সুতরাং আমার বক্তব্য উপস্থাপনে ত্রুটি বা দুর্বলতার কারণে কথাগুলো কেউ ব্যক্তিগতভাবে না নিলেই ভালো হয়। আল্লাহ আমাকে এবং আপনাদেরকে উপকারী ইলম দান করুন এবং অজ্ঞতার কারণে হীনমন্যতা ও ইলমের কারণে অহংকার থেকে মুক্ত রাখুন, আমিন।

মঙ্গলবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১৬

অসুস্থ ব্যক্তির পবিত্রতা অর্জন করার পদ্ধতি

অসুস্থ ব্যক্তির পবিত্রতা অর্জন করার পদ্ধতি

সম্মানিত শাইখ ইবনু ঊছাইমীন (রহঃ) বলেনঃ অসুস্থ ব্যক্তি কিভাবে পবিত্রতা অর্জন করবে ও ছালাত আদায় করবে সে ব্যাপারে এটি একটি সংক্ষিপ্ত পত্র। অসুস্থ ব্যক্তির অবস্থার বিচার করে তার জন্য ইসলামী শরীয়তে কিছু বিধান নির্দিষ্ট করা হয়েছে। কেননা আল্লাহ্‌ তাআলা নবী মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে ক্ষমাশীল সর্বোত্তম সঠিক ধর্ম দিয়ে প্রেরণ করেন, যা হচ্ছে সহজ ও সরলতার বৈশিষ্টে অনন্য। আল্লাহ্‌ এরশাদ করেনঃ

]وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ[

তিনি তোমাদের জন্য ধর্মে কোন অসুবিধা রাখেননি। (সূরা হাজ্জ- ৭৮) তিনি আরো বলেনঃ

]يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمْ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمْ الْعُسْرَ[

আল্লাহ্‌ তোমাদের জন্য সহজতা চান, তোমরা অসুবিধায় পড় তিনি তা চান না। (সূরা বাক্বারা- ১৮৫) আল্লাহ্‌ আরো বলেনঃ

]فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ وَاسْمَعُوا وَأَطِيعُوا[

তোমরা সাধ্যানুযায়ী আল্লাহকে ভয় কর এবং তাঁর কথা শোন ও আনুগত্য কর। (সূরা তাগাবুন্ত ১৬)

নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,إِنَّ الدِّينَ يُسْرٌ  নিশ্চয় এই ধর্ম অতি সহজ।

তিনি আরো বলেনঃ

وَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِأَمْرٍ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ

আমি যখন কোন বিষয়ে তোমাদেরকে আদেশ করি, তখন সাধ্যানুযায়ী তা বাস্তবায়ন কর।

উল্লেখিত মূলনীতির ভিত্তিতে ওযর বিশিষ্ট লোকদের জন্য আল্লাহ তাআলা ইবাদতকে সহজ ও হালকা করে দিয়েছেন। যাতে করে তারা কোন অসুবিধা ও কষ্ট ছাড়াই তাঁর ইবাদত সম্পাদন করতে পারে। (আল্‌ হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন)

১) অসুস্থ ব্যাক্তির উপর আবশ্যক হল ছোট নাপাকী থেকে প্রবিত্রতা অর্জনের জন্য পানি দ্বারা ওজু করা এবং বড় নাপাকী থেকে পবিত্রতা হাসিলের জন্য পানি দ্বারা গোসল করা।

২) পানি দ্বারা যদি পবিত্রতা অর্জন করতে না পারে- অপারগতার কারনে বা রোগ বেড়ে যাবে এই আশঙ্কার কারনে বা ভয় করে সুস্থ হতে দেরী হয়ে যাবে, তবে এহেন পরিস্থিতিতে সে তায়াম্মুম করবে।

৩) তায়াম্মুমের পদ্ধতি হল হাত দুটিকে পবিত্র মাটিতে একবার মারবে তারপর তা দিয়ে সমস্ত মুখমণ্ডল মাসেহ করবে, অতঃপর উভয় হাতকে কব্জি পর্যন্ত মাসেহ করবে। আগে ডান হাত পরে বাম হাত।

৪) রুগী নিজে যদি পবিত্রতা অর্জন করতে অক্ষম হয়, তবে অন্য ব্যাক্তি তাকে ওজু বা তায়াম্মুম করিয়ে দিবে।

৫) ওজু বা গোসলের কোন অঙ্গে যদি জখম থাকে আর পানি দিয়ে ধৌত করলে তাতে ক্ষতি হওয়ার আশংকা হয়, তবে তাঁর জন্য তায়াম্মুম করে নিবে।

৬) ভাঙ্গা-মচকা ইত্যাদি কারনে যদি শরীরের কোন অঙ্গে পট্টি বা ব্যান্ডেজ থাকে তবে সে স্থান ধৌত করার পরিবর্তে পানির মাধ্যমে তাঁর উপর মাসেহ করে নিবে। এক্ষেত্রে তায়াম্মুম করবে না। কেননা মাসেহ ধোয়ার পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে।

৭) কোন বস্তু দিয়ে তায়াম্মুম করবে? দেয়াল বা অন্য কোন বস্তু যেখানে ধুলা লেগে আছে তা দিয়ে তায়াম্মুম করা যাবে। দেয়াল যদি মাটি জাতীয় বস্তু ছাড়া অন্য কোন বস্তু দ্বারা লেপন কয়া থাকে যেমন রঙ বা পেইন্ট, তবে সেখানে তায়াম্মুম জায়েজ হবে না। কিন্তু যদি উক্ত দেয়ালে ধুলা লেগে থাকে তবে তাতে তায়াম্মুম করতে অসুবিধা নেই।

8) যমিনের উপর হাত রেখে বা দেয়াল থেকে বা যে বস্তুতে ধুলা আছে তা থেকে তায়াম্মুম করা সম্ভব না হয় তবে কোন পাত্র বা রুমালের মধ্যে কিছু মাটি রেখে দিতে পারে। তারপর তা দিয়ে তায়াম্মুম করবে।

৯) এক ওয়াক্তের সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে তায়াম্মুম করার পর যদি তায়াম্মুম অবশিষ্ট থাকে তবে তা দিয়ে আরেক ওয়াক্তের সালাত আদায় করতে পারবে। এক্ষেত্রে পরবর্তী ছালাতের জন্য আবার তায়াম্মুম করার দরকার নেই। কেননা সে তো পবিত্রই আছে। আর পবিত্রতা ভংকারী কোন কারনও ঘটেনি। এমনিভাবে বড় নাপাকী থেকে যদি তায়াম্মুম করে তবে পরবর্তী বড় নাপাকীতে লিপ্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত আর তায়াম্মুম করতে হবে না। কিন্তু এর মাঝে ছোট নাপাকীতে লিপ্ত হলে তাঁর জন্য তায়াম্মুম করতে হবে।

১০) অসুস্থ ব্যাক্তির উপর ওয়াজিব হল সকল পরকার নাপাকী থেকে স্বীয় শরীরকে পাক-পবিত্র করা। যদি পাক-পবিত্র হতে সক্ষম না হয়, তবে সংশ্লিষ্ট নাপাকী নিয়েই সালাত আদায় করবে। তাঁর উক্ত সালাত বিশুদ্ধ হবে এবং পুনরায় উক্ত সালাত আদায় করতে হবে না।

১১) পবিত্র কাপড় নিয়ে সালাত আদায় করাও অসুস্থ ব্যাক্তির উপর ওয়াজিব। কাপড় নাপাক হয়ে গেলে তা ধৌত করা অথবা তা বদলিয়ে অন্য কাপড় পরিধান করা ওয়াজিব।  কিন্তু এরুপ করাও যদি সাধ্যাতীত হয় তবে সংশ্লিষ্ট নাপাকী নিয়েই সালাত আদায় করবে। উক্ত সালাত বিশুদ্ধ হবে এবং তা আর ফিরিয়ে পড়তে হবে না।

১২) পবিত্র স্থান ও পবিত্র বস্তুর উপর সালাত আদায় করাও রোগীর জন্য ওয়াজিব। যদি সালাতের স্থান নাপাক হয়ে যায় তবে তা ধৌত করা বা কোন পবিত্র বস্তু দ্বারা পরিবর্তন করা বা সেখানে কোন পবিত্র বস্তু বিছিয়ে দেয়া ওয়াজিব। যদি এর কোনটাই সম্ভব না হয় তবুও ঐ অবস্থায় সালাত আদায় করবে এবং তাঁর সালাত শুদ্ধ হবে। অন্য সময় তা ফিরিয়ে পড়ারও দরকার হবে না।

১৩) পবিত্রতা হাদিস করতে অপারগতার কারনে কোন রোগীর জন্য সালাত পরিত্যাগ করা বা কাজা করা কোন ক্রমেই বৈধ নয়। সাধ্যনুযায়ী সে পবিত্রতা অর্জন করবে। তারপর সময়ের মধ্যেই সালাত আদায় করে নিবে- যদিও তখন তাঁর শরীরে বা কাপড়ে বা সালাতের স্থানে নাপাকী লেগেই থাকে যা দূরীভূত করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। কেননা আল্লাহ্‌ তাআলা বলেনঃ فاَتَّقُوا اللهَ ماَ اسْتَطَعْتُمْ  AbÑ: তোমরা সাধ্যনুযায়ী আল্লাহকে ভয় কর। (সুরা তাগাবুন-১৬)


১৪। কোন মানুষ যদি বহুমুত্র রোগে আক্রান্ত থাকে, তবে সে সালাতের ওয়াক্ত আসার আগে যেন ওজু না করে। যখন সালাতের ওয়াক্ত আসবে তখন তাঁর লজ্জাস্থান ধৌত করবে, তারপর উক্ত স্থানে পবিত্র কোন বস্তু বেঁধে দিবে যাতে পেশাব কাপড় বা শরীরে ছড়িয়ে না যায়। তারপর ওজু করে সালাত আদায় করবে। এরুপ সে প্রত্যেক ফরজ সালাতের সময় করবে। এরুপ করা যদি তাঁর উপর অধিক কষ্টকর হয় তবে দুসালাতকে একত্রে পড়া তাঁর জন্য জায়েজ আছে। যোহর এবং আসর একত্রে এবং মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করে নিবে। আর ফরজ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট সুন্নাতের জন্য আলাদা ওজুর দরকার নেই। তবে অন্য কোন নফল সালাত আদায় করতে চাইলে তাকে ফরজের নিয়মে পবিত্রতা অর্জন করতে হবে।

দ্বীনি জ্ঞানের পরীক্ষা (পর্ব-১)

দ্বীনি জ্ঞানের পরীক্ষা (পর্ব-১)

https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/photos/pb.125167817515974.-2207520000.1452007008./1484689118230497/?type=3&src=https%3A%2F%2Fscontent.fmaa1-2.fna.fbcdn.net%2Fhphotos-xla1%2Fv%2Ft1.0-9%2F12341150_1484689118230497_3818109288207489055_n.jpg%3Foh%3Dcd274862e2ac1ad4d9163343711033e1%26oe%3D57169D95&size=489%2C466&fbid=1484689118230497

সোমবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৬

লালন ফকিরের গান শোনা যাবে?

প্রশ্নঃ লালন ফকিরের গান শোনা যাবে? তার মাজারে সাধুদের ব্যপারে কি বলবেন?

উত্তরঃ আমাদের দেশের অনেক মুসলমানেরা মরমী বাউল সাধক লালন শাহের গান শুনে আর মনে করে আধ্যাতিক বা রোমান্টিক গান শুনছে। অথচ লালন শাহ তার কবিতা ও গানের মাঝে সুস্পষ্ট শিরক, কুফর ও ধর্মদ্রোহীতা প্রচার করে গেছে, কারণ মূলত সে ছিলো একজন নাস্তিক। কোন ব্যক্তি লালন শাহের গানের কথা বিশ্বাস করলে তার ঈমান নষ্ট হয়ে সে কাফির মুর্তাদ হয়ে যাবে। এমনকি কেউ যদি সেইগুলো বিশ্বাস না করে, শুধুমাত্র মনোরঞ্জনের জন্যে শুনে, তবুও আল্লাহর লানত ও গজব তার উপরে পড়বে। বর্তমানে লালন ফকিরের ওরশ উপলক্ষ্যে তার মাজারে মদ-গাজা ও বেহায়াপনার আসর বসে, যেখানে বেনামাজী, নাপাক কিছু মুশরেক গিয়ে জড়ো হয়। লালন ফকিরের তরিকাতে বিশ্বাসী বা অনুসারী যারা, তারা নিজেদেরকে মুসলিম দাবী করলেও তারা কাফের। লালন ফকিরের মুরিদেরা তাকে সিজদা করতো, কারণ লালন বিশ্বাস করতো প্রত্যেক মানুষের মাঝেই সৃষ্টিকর্তা বসবাস করেন, নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক! লালনের মুরিদেরা নারী জাতির পূজারী। তারা বিয়ে শাদী ছাড়াই চরণ দাসী নাম নাম দিয়ে নারীদেরকে অবৈধভাবে নারীদেরকে ভোগ করার নীতিতে বিশ্বাসী। কুষ্টিয়া অঞ্চলে লালন পূজারী অনেক মুশরিক রয়েছে, আমাদের উচিৎ তাদেরকে শিরক ত্যাগ করে ঈমান গ্রহণ করার জন্যে দাওয়াত দেওয়া। আর লালনের গানে কৌশলে ২-১টা ধর্মীয় বা আধ্যাত্বিক কথার আড়ালে আসলে যে নাস্তিকতা ও শিরকের দিকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে, এ ব্যপারে সরলমনা মুসলমানদেরকে সতর্ক করতে হবে।  

শনিবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৬

ইয়াসির ক্বাদীর কথা শোনা যাবে?


Be aware of “American Islam”
প্রশ্নঃ ইয়াসির ক্বাদীর কথা শোনা যাবে?
উত্তরঃ ইয়াসির ক্বাদী আজকে একটা পোস্ট দিয়েছে (আমার ফ্রেন্ডলিস্টের কারো কারো লাইক-কমেন্ট এর কারণে চোখে পড়লো)। সেই পোস্টের আপডেট, ২রা জানুয়ারী ২০১৫ দুপুর ২:৩৪ পর্যন্তঃ  
12,024 others like this.
378 comments
3,217 shares
অতীতের মতো এবারও ডিসেম্বর মাস আসতেই বিদাতী এবং মুশরিকদের প্রতি নরমপন্থী হওয়ার জন্যে শরিয়াত সম্পর্কে তারা বাধনহীন কলম একটু বেশি বেগবান হয়েছে। একটি বিষয়ে শরিয়াতে কি হুকুম এবং মুসলিম হিসেবে সেই ব্যপারে আমাদের দৃষ্টিভংগি কেমন হওয়া উচিৎ, সে সম্পর্কে পূর্ব থেকে ইলম না থাকলে সরলমনা অনেক ভাই ও বোনেরাই ইয়াসির ক্বাদীর চমকপ্রদ যুক্তি-তর্ক উপস্থানপন দেখে বিভ্রান্ত হন। ইয়াসির ক্বাদী সেই লেখাতে কি লিখেছেন বা তার কি বিভ্রান্তি বা ভুল ছিলো, সেই বিশ্লেষণে না গিয়ে, মদীনা ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে ছাত্র থাকা অবস্থাতেই সেখানকার শায়খরা তার সম্পর্কে কি বলেছিলেন সেটা তুলে ধরছি
(১) শায়খ মুহাম্মাদ বিন হাদী আল-মাদখালী হাফিজাহুল্লাহ বলেন, ইয়াসির ক্বাদী একজন মিথ্যুক, হিজবী...।***
(২) ইয়াসির ক্বাদী এবং তাঁর সহপাঠীদের সাথে কিছু ব্যপারে মতবিরোধ হয়। ইয়াসির ক্বাদী তখন তার সহপাঠীদের নিয়ে শায়খ ইব্রাহীম আর-রুহাইলি হাফিজাহুল্লাহ-র সাথে কথা বলেন। সেই বৈঠকের পর শায়খ ইব্রাহীম আর-রুহাইলি ইয়াসীর ক্বাদীকে বলেন, তোমার বরং তোমার সহপাঠীদের কাছ থেকেই শেখা উচিৎ।
(৩) ইয়াসির ক্বাদী এমেরিকাতে কবরপূজারী সূফী, রাফেজী শীয়াসহ সমস্ত শিরক বিদআত প্রচারকারী পথভ্রষ্ট দলের সাথে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহায়তার চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। এ ব্যপারে শায়খ মুহাম্মাদ বিন হাদী আল-মাদখালী হাফিজাহুল্লাহ বলেন, ইয়াসির ক্বাদী যেই নীতির উপরে আছে, এই নীতির উপরে থেকে কেউ যদি মদীনা ইসলামিক ইউনিভার্সিটি নয়, খোদ কাবা শরীফ থেকে ডিগ্রী নিয়ে আসলেও সেই ডিগ্রী তার কোন উপকারে আসবেনা।
(৪) এমেরিকা, ইংল্যান্ডের মতো কুফফার দেশগুলোতে বসবাসকারী মুসলিমদের ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নারী পুরুষ ফ্রী-মিক্সিং ইত্যাদি সম-সাময়িক বিষয়ে মক্কা-মদীনা বা অন্যান্য দেশের বড় আলেমদের ফতোয়া জিজ্ঞেস করা ঠিক নয়, বরং কাফের দেশে অবস্থানকারী হামযা ইউসুফ, ইয়াসির ক্বাদী, শুয়াইব ওয়েব...এমন ব্যক্তিদেরকেই জিজ্ঞেস করতে হবে। ইয়াসির ক্বাদী এমন বক্তব্য প্রচার করা শুরু করলে শায়খ সালেহ আল-ফাওজান হাফিজাহুল্লাহকে এ ব্যপারে প্রশ্ন করা হলে শায়খ ফাওজান বলেন, এই ব্যক্তি তোমাদেরকে আলেমদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চাচ্ছে।
*** শায়খ মুহাম্মাদ বিন হাদী আল-মাদখালী হাফিজাহুল্লাহ ইয়াসির ক্বাদীকে কেনো মিথ্যুক বলেছনে, একথা আমার জানা না থাকলেও সে যে মিথ্যা কথা বলে বা ভুল তথ্য উপস্থাপন করে তার ভক্ত-শ্রোতাদেরকে বিভ্রান্ত করে, আমি আপনাদেরকে এমন দুটি উদাহরণ দিচ্ছি।
(ক) ২০১৩ সালে ইয়াসির ক্বাদী দাবী করে, ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ কাফেরদের উৎসব উপলক্ষ্যে তাদেরকে শুভেচ্ছা জানানো যাবে বলে ফতোয়া দিয়েছেন, যা আসলে বানোয়াট, বাস্তবতার সম্পূর্ণ বিপরীত। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিমসহ সমস্ত আলেমরা এব্যপারে একমত যে, কাফেরদের উৎসব উপলক্ষ্যে তাদেরকে শুভেচ্ছা জানানো হারাম।
(খ) ২০১৪ সালে ইয়াসির ক্বাদী দাবী করে, শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী ও শায়খ আব্দুল আজিজ ইবনে বাজ মানব রচিত আইন দ্বারা বিচারকারী ব্যক্তিকে সর্ব অবস্থাতেই মুসলিম বলেছেন।
এখানে আসলে আলেমদেরকে হেয় করার জন্যে তাদের কথাকে খন্ডিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী, শায়খ আব্দুল আজিজ ইবনে বাজ এবং অন্য আলেমরা মানব রচিত আইন দ্বারা বিচারকারী ব্যক্তিকে তার আকীদাহ অনুযায়ী কখনো ফাসেক জালেম কিন্তু মুসলিম কখনো কাফের হবে বলে ফতোয়া দিয়েছেন। তারা সর্ববস্থায় কাফের বা সর্ববস্থায় মুসলিম বলে ফতোয়া দেন নি।
ইয়াসির ক্বাদীর বিভ্রান্তিকর কিছু কথার স্ক্রীনশট ছবিতে দেওয়া হলো, আপনারা আরো ডিটেইলস জানার জন্যে তাকে নিয়ে আমাদের পূর্বের এই পোস্ট Shake ইয়াসীর ক্বাদী (The Unqualified Qadhi)
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/04/shake-unqualified-qadhi.html
এবং আবু মুসসাব-এর এই ভিডিওটা দেখতে পারেন
https://www.youtube.com/watch?v=d6ux72MnP-s
সর্বশেষঃ একদিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি আমার উম্মাতের জন্য একটি বিষয়কে দাজ্জাল এর থেকেও বেশী ভয় করি।
(একজন সাহাবী বললেন), আমি ভয় পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল, সেটি কি? তিনি বললেন, বিপথগামী এবং পথভ্রষ্ট আলেম।
মুসনাদে ইমাম আহমাদঃ ২১৬২১, তাবরানীঃ ৭৬৫৩, হাদীসটি সহীহ।
ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন রাহিমাহুল্লাহ বলেন, এই যে জ্ঞান (দ্বীনের ব্যপারে), এটাই হচ্ছে তোমার দ্বীন। সুতরাং, কার কাছে থেকে তুমি দ্বীনের জ্ঞান নিচ্ছ, সেই ব্যাপারে সতর্ক থাকো।
আলী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন,
মানুষ হচ্ছে তিন প্রকার,
(১) আলিম (শিক্ষিত বা দ্বীনের ব্যপারে জ্ঞানী ব্যক্তি)
(২) মুতাআল্লিম (দ্বীনের শিক্ষার্থী), এবং এ দুই প্রকারের লোকজনই হচ্ছে মুক্তির পথে।
(৩) নিম্নমানের এমন লোকজন, যারা যে কোন লোকের কথা অনুসরণ করে এবং তার ডাকে সাড়া দেয়।

[উসুলুস সুন্নাহ (বাংলা), পৃষ্ঠা-১০৭]