শনিবার, ২৩ জুলাই, ২০১৬

কয়েকটি সংক্ষিপ্ত শব্দের আসল রূপ ও অর্থ, কখন বলতে হয়

কয়েকটি সংক্ষিপ্ত শব্দের আসল রূপ ও অর্থ, কখন বলতে হয়ঃ
(সাঃ) = সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। অর্থঃ আল্লাহ তাঁর প্রতি শান্তি ও দয়া বর্ষণ করুন। এটা নবী মুহাম্মাদ-এর জন্যে দুয়া হিসেবে বলা হয়। এটা ছোট একটা সহীহ দুরুদ।
(আঃ) = আলাইহিস সালাম। অর্থঃ আল্লাহ তাঁর প্রতি শান্তি বর্ষণ করুন। এটা অন্যান্য নবী-রাসুলদের জন্য দুয়া হিসেবে বলা হয়। 
(রাঃ) = পুরুষ সাহাবী হলে রাদিয়াল্লাহু আনহু, আর মহিলা সাহাবী হলে রাদিয়াল্লাহু আনহা, একাধিক সাহাবীদের একসাথে বলতে হলে রাদিয়াল্লাহু আনহুমা। অর্থঃ আল্লাহ তাঁর/তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন। এটা সাহাবীদের জন্যে দুয়া হিসেবে বলা হয়।
(রঃ), (রহঃ), (রাহঃ) = রহমাতুল্লাহি আলাইহি, বা রাহিমাহুল্লাহ। অর্থঃ আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন। এটা মৃত কোন মুসলিম ব্যক্তির জন্যে দুয়া হিসেবে বলা হয়।

(হাফিঃ) = হাফিজাহুল্লাহ। অর্থঃ আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন। এটা জীবিত মুসলমানদের জন্যে দুয়া হিসেবে বলা হয়।

মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই, ২০১৬

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোগান হাফিজাহুল্লাহ

(১) ইমাম তাহাবী রাহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু ৩২১ হিজরী), তার বিখ্যাত আহলে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকীদা নামক কিতাবে উল্লেখ করেছেনঃ আমীর ও শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করাকে আমরা জায়েয মনে করি না, যদিও তারা যুলুম-অত্যাচার করে। আমরা তাদেরকে অভিশাপ দিব না, এবং তাদের আনুগত্য হতে হাত গুটিয়ে নিব না। তাদের আনুগত্য আল্লাহর আনুগত্যের সাপেক্ষে ফরয, যতক্ষণ না তারা আল্লাহর অবাধ্যচরণের আদেশ দেয়। আমরা তাদের মঙ্গল ও কল্যাণের জন্য দুয়া করব। [আকীদাহ আত-ত্বাহাবীয়া]
(২) মুসলিম আমীর বা শাসকদের প্রকাশ্যে সমালোচনা করা জায়েজ নয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন, যে ব্যক্তি সুলতানকে (শাসক/নেতাকে) উপদেশ দিতে চায়, সে যেন প্রকাশ্যে সেটা না করে। বরং তার জন্যে করণীয় হচ্ছে, সে তার সুলতানের হাত ধরে নিয়ে তাকে লোকচক্ষুর আড়ালে ব্যক্তিগতভাবে উপদেশ দেবে। যদি সেই সুলতান তার উপদেশ গ্রহণ করে, তাহলে সেটা তার (সুলতানের) জন্যে ভালো এবং এটাই তার করা উচিৎ। কিন্তু সুলতান যদি উপদেশ গ্রহণ না করে, তাহলে উপদেশদাতা তার দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেলো।
হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি আসিম তার আস-সুন্নাহ নামক গ্রন্থে। শায়খ আলবানী রাহিমাহুল্লাহু হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, যিলাল আল-জান্নাহ।
___________________
(৩) শায়খ মুহাম্মদ আল-আনজারী হাফিজাহুল্লাহ তুরস্কের ক্যু সম্পর্কে বলেছেন,
এরদোগান আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন, তিনি একজন মুসলিম শাসক। আল্লাহর অবাধ্যতা ছাড়া (জায়েজ ও কল্যাণকর বিষয়ে) তাঁর কথা শুনতে ও মানতে হবে। এরদোগান তুরস্কের ওয়ালীউল আমর, যা আমি আমার কয়েকটি লেকচারে উল্লেখ করেছি এবং রেকর্ডকৃতও হয়েছে। ক্যু (সরকারে বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থান) হচ্ছে খুরুজ, এটা খারেজীদের আদর্শ।
(৪) শায়খ আহমাদ আস-সুবাইয়ী হাফিজাহুল্লাহ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোগান সম্পর্কে বলেছেন,

আহলে সুন্নাহর অনুসারীগণ প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে শরিয়ত সম্মত একজন বৈধ শাসক বলে মনে করে। (কল্যাণকর ও জায়েজ কাজে) তার আনুগত্য করা মুসলিম শাসক হিসেবে তার অধিকার। তার অবাধ্য হওয়া এবং তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা জায়েজ নয়। জনসমুক্ষে তার সমালোচনা করা নিষিদ্ধ, যদিও তিনি ইখোয়ানুল মুসলিমিন এর মতো একটি দলের সাথে সংযুক্ত, যেই দলটি বিদাতের কারণে আলেমদের পরিচিত। সুতরাং, ইখোয়ানুল মুসলিমিন দলটি তাদের বিদাতের কারণে সমালোচিত, কিন্তু প্রকাশ্যে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সমালোচনা করার অনুমতি নেই।

রবিবার, ১৭ জুলাই, ২০১৬

শুধুমাত্র আকিদাহ সহীহ নয়, মানহাজও শুদ্ধ হওয়া চাই

শুধুমাত্র আকিদাহ সহীহ নয়, মানহাজও শুদ্ধ হওয়া চাইঃ
ড আব্দুল্লাহ জাহাংগীর রাহিমাহুল্লাহর একজন ছাত্র লিখেছে, এদেশের অধিকাংশ আলীমরা যেখানে একে-অপরের বিরুদ্ধে ব্যস্ত সেখানে তিনি (ড আব্দুল্লাহ জাহাংগীর) খ্রিষ্টান মিশনারীদের বিরুদ্ধে দিনের পর দিন পরিশ্রম করেছেন। এবং উম্মতের ঐক্যের জন্যও চেষ্টা করেছেন।
লেখক আমাদের দেশের অধিকাংশ আলেমদের এই বলে সমালোচনা করছে যে, তারা শুধু একে-অপরের বিরুদ্ধে কাঁদা ছোঁড়াছুড়িতে ব্যস্ত।
এমন কিছু লোক বর্তমানে রয়েছে, যারা জারহ ও তাদীলের ইলমকে পছন্দ করেনা, শিরক ও বিদাতের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়া এবং গোমরাহীতে লিপ্ত ব্যক্তদের বিরুদ্ধে মুসলমানদেরকে সতর্ক করার মানহাজে বিশ্বাসী নয়। অবশ্য তাদের এই অবস্থানের পক্ষে তারা বিভিন্ন যুক্তি বা কারণ দেখায়, তবে মূলত এর কারণ হচ্ছে অজ্ঞতা। ফেইসবুক, ইন্টারনেটে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছে, যারা সালাফী মানহাজ সম্পর্কে জানেনা, বা জানলেও তার বিরোধীতা করে। অনেক সালাফী / আহলে হাদিস ভাইয়েরা তাদের লেখা নিয়মিত পড়ে, লাইক-শেয়ার করে অথচ তারা তা ধরতে পারেনা যে, তারা যাদের লেখা পড়ছে মূলত তারা সালাফী মানহাজের বিরোধীতাকারী। এভাবে এক সময় আস্তে আস্তে তারাও সালাফী মানহাজের সাথে শত্রুতা পোষণকারী হয়ে যায়, যা তারা নিজেরাও বুঝতে পারেনা।
যাই হোক, আমি উপরে যেই বক্তব্য তুলে ধরলাম, চলুন দেখি এই বক্তব্য কতটুকু সঠিক আর কতটুকু ভুল।
ড আব্দুল্লাহ জাহাংগীর রাহিমাহুল্লাহকে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছিলো, আমি তাবলীগ জামাতের সাথে তিন দিনের চিল্লায় যাওয়ার জন্য মানত করেছিলাম। এখন আমাকে এই মানত পূরণ করতে হবে কিনা।
উত্তরে তিনি বলেন, জায়েজ কোন কাজ মানত করলে তা পূরণ করা ওয়াজিব হয়ে যায়. . .সুতরাং আপনি তিন দিনের চিল্লার মানত পূরণ করুন।
সূত্রঃ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে, ইউটিউবে এর লিংকও রয়েছে।
ড আব্দুল্লাহ জাহাংগীর রাহিমাহুল্লাহর বক্তব্যের প্রথম অংশ সঠিক জায়েজ কোন কাজ মানত করলে তা পূরণ করা ওয়াজিব হয়ে যায়, কিন্তু পরের অংশ আপনি তিন দিনের চিল্লার মানত পূরণ করুন - এটা ভুল। কারণ হারাম কোন কাজের মানত করলে সেই মানত পূরণ করা যাবেনা।
চিল্লা দেওয়া যাবে কিনা, এনিয়ে আল্লামাহ সালিহ আল-ফাওজান হা'ফিজাহুল্লাহর ফতোয়া হচ্ছেঃ এটা জায়েজ নয়, কারণ এটা একটা বিদআত। এভাবে বেড়িয়ে যাওয়া ৪০ দিন, ৪ দিন, ৪ মাস এটা হচ্ছে বিদআত। এটা প্রমানিত যে, তাবলিগ জামাত হচ্ছে ভারতীয় দেওবন্দীদের মধ্য থেকে একটা সূফী জামাত। তারা একদেশ থেকে অন্য দেশে যায় তাদের সূফীবাদ প্রচার করার জন্য। আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের অনুসারী কোন ব্যক্তি, তাওহীদের অনুসারী ব্যক্তির জন্য এটা জায়েজ নয় যে, তাদের সাথে তাবলীগে বেড়িয়ে পড়া। কারণ সে যদি এদের সাথে যায় তাহলে সে তাদেরকে বেদাত প্রচার করতে সাহায্য করলো।
দেখা যাচ্ছে উপরের প্রশ্নের উত্তরে ড আব্দুল্লাহ জাহাংগীর আমাদের আলেমদের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করে স্পষ্ট ভাষায় তাবলীগ জামাতকে পথভ্রষ্ট একটি দল এবং তাদের সাথে চিল্লাতে যাওয়া যাবেনা বলেন নি। বরং, তিনি তাদের কিছুটা সমর্থন করেছেন এবং তাদের সাথে চিল্লাতে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। তাঁর এমন কিছু লিবারেল অবস্থানই হচ্ছে মূল কারণঃ আমাদের দেশের অধিকাংশ আলীমরা যেখানে একে-অপরের বিরুদ্ধে কাঁদা ছোঁড়া-ছুড়ি করে, সেখানে ড আব্দুল্লাহ জাহাংগীর রাহিমাহুল্লাহ এমন করেন নি অনেকের এই বলে তাঁকে প্রশংসা করার। বিদাতী দল এবং ব্যক্তিদের ব্যপারেএমন নরমপন্থার নীতিকে অনেকেই তাদের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করছে এবং এর বিপরীতে সালাফী মানহাজের সমালোচনায় লিপ্ত হচ্ছে।
বিঃদ্রঃ
(১) আলেমরা একজন আরেকজনের বিরুদ্ধ কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি করে এই কথা যারা বলে এদের ব্যপারে সাবধান হন। একজন আলেম আরেকজন আলেমের ভুল ধরেন, এটা খুব স্বাভাবিক এবং এর অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু এই বিষয়টিকে কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি করার মতো নীচু মানের ভাষা দ্বারা বর্ণনা করা আপত্তিকর, এবং তা একজন ব্যক্তির ইলমহীনতার পরিচায়ক। এভাবে এরা মূলত আলেমদেরকেই তুচ্ছ করে।

(২) ড আব্দুল্লাহ জাহাংগীর রাহিমাহুল্লাহর ভুল ধরা, তার ব্যপারে মানুষকে সতর্ক করা - আমার এই লেখার উদ্দেশ্য মোটেও তা নয়। ড আব্দুল্লাহ জাহাংগীর রাহিমাহুল্লাহর কিছু গুণ ছিলো যা সত্যিই প্রশংসনীয় এবং আমাদের সবার জন্য অনুকরণীয়। আমি দুয়া করি আল্লাহ তাঁর সমস্ত দোষ-ত্রুটি ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন। তবে তিনি কিছু ভুল করেছেন, যার একটা উদাহরণ উপরে দেওয়া হলো। সেটাও সমস্যা নয়, ভুল-ত্রুটি সবারই হতে পারে। তবে আমাদের চিন্তার বিষয় হচ্ছে, তাঁর ভুল-ত্রুটিগুলোকে কিছু মানুষ আদর্শ বলে মনে করে, সেইগুলোকে তাদের মানহাজ হিসেবে গ্রহণ করছে। আমরা এমন অজ্ঞতা এবং অন্ধভাবে কোন ব্যক্তির অনুসরণের বিরোধী। 

বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৬

মারেফুল কুরআন নামক তাফসীর

মারেফুল কুরআন নামক তাফসীর
প্রশ্ন (২১/১৪১) : তাফসীর মাআরেফুল কুরআন নামক তাফসীরটি কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে প্রণীত কি?
-আব্দুল্লাহিল কাফী, ছোটবনগ্রাম, রাজশাহী।
উত্তরঃ এ তাফসীরে কিছু ভ্রান্ত আক্বীদা ও আমল এবং বহু স্থানে ভুল তাফসীরের সমাবেশ ঘটেছে। ফলে একে বিশুদ্ধ তাফসীর বলা যায় না। এর মধ্যে উল্লেখিত ভুলগুলোর কিছু দৃষ্টান্ত পেশ করা হলঃ
(১)
নবী বা ওলীর বরাত দিয়েও আল্লাহ তাআলার সাহায্য প্রার্থনা করা কুরআনের নির্দেশ ও হাদীছের বর্ণনায় বৈধ প্রমাণিত হয়েছে (পৃঃ ৯, ৩২৭)। অথচ মৃত নবী বা অন্য কারুর অসীলা দিয়ে প্রার্থনা করা স্পষ্ট শিরক (মুসলিম হা/২০৪; মিশকাত হা/৫৩৭৩)
(২)
সৃষ্ট জগতের মাঝে সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নূর সৃষ্টি করা হয়েছে... এক হাদীছে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম আমার নূর সৃষ্টি করেছেন (পৃঃ ৪২৮)। অথচ এটি সম্পূর্ণ ভুল আক্বীদা এবং হাদীছটি জাল (ছহীহাহ হা/৪৫৮-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)।
(৩)
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাঁর পবিত্র রওজা শরীফে জীবিত আছেন।... এ কারণই তাঁর পরিত্যক্ত সম্পত্তি বণ্টন করা হয়নি এবং এর ভিত্তিতেই তাঁর পত্নীগণের অবস্থা অপরাপর বিধবা নারীদের মত হয়নি (পৃঃ ১০৯৩)। অথচ হায়াতুন্নবী-র এই আক্বীদা পরিষ্কার শিরকী আক্বীদা (যুমার ৩০)
(৪)
কোন না কোন একজন মুজতাহিদ ইমামের তাক্বলীদ করা অপরিহার্য। সকল মুজতাহিদ ইমামই সত্য (পৃঃ ৭৪৩)। অথচ কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণই কেবল অপরিহার্য এবং মুজতাহিদ ইমামগণ ভুলের ঊর্ধ্বে নন
(৫)
আল্লাহ তাআলার কোন আকার নেই (পৃঃ ১৪৬৫)। অথচ কুরতুবী স্বীয় তাফসীরে অন্যের মন্তব্য উদ্ধৃত করেছেন এভাবে যে, আমরা মানুষকে সর্বোত্তম অবয়বে সৃষ্টি করেছি। এর অর্থ অনেকে করেছেন علي صورة الرحمن আল্লাহর আকৃতিতে। অথচ আল্লাহর বাস্তব আকার (صورة مةشخصة) কোথায় আছে ভাবার্থ ব্যতীত? (, ২০/১১৪)। এ বিষয়ে সঠিক আক্বীদা হল এই যে, আললাহর আকার আছে। কিন্তু তার তুলনীয় কিছুই নেই (শূরা ১১)।
(৬)
এলমে তাছাউফও ফরযে আইনের অন্তর্ভুক্ত (পৃঃ ৫৯৬)। অথচ দ্বীনী ইলম হাছিল করা ফরয। ইসলামের সকল ইবাদতের মূল উদ্দেশ্য হল তাযকিয়ায়ে নাফ্স বা আত্মশুদ্ধি। পৃথকভাবে ইলমে তাছাউওফের কোন অস্তিত্ব শরীআতে নেই। বরং কথিত ছুফীবাদের চোরাগলি দিয়েই মুলমানদের মধ্যে অধিকাংশ শিরক প্রবেশ করেছে
(৭) অনুরূপভাবে সূরায়ে
মুহাম্মাদ ৩৮ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম সৈয়ূতীর বরাতে বলা হয়েছে যে, আলোচ্য আয়াতে ইমাম আবু হানীফা ও তাঁর সহচরদেরকে বুঝানো হয়েছে। কেননা তাঁরা পারস্য সন্তান। কোন দলই জ্ঞানের সেই স্তরে পৌঁছেনি, যেখানে আবু হানীফা ও তাঁর সহচরগণ পৌঁছেছেন (পৃঃ ১২৬৩)।
এমনিভাবে অসংখ্য শিরকী আক্বীদা ও বিদ
আতী আমলের প্রচারণা চালানো হয়েছে অত্র তাফসীর গ্রন্থে। অতএব কেউ পড়তে চাইলে জ্ঞান-বিবেক জাগ্রত রেখেই এ তাফসীর পড়তে হবে। কেননা তার মধ্যে অনেক শিক্ষণীয় বিষয় ও রয়েছে।


জিহাদ, কিতাল ও খিলাফাহ - শায়খ মুজাম্মেল

জিহাদ, কিতাল খিলাফাহ - শায়খ মুজাম্মেল
ছয়টি পর্বে আর্টিকেল, সবগুলোর লিংকঃ
_____________________________
প্রথম পর্বের লিংক
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/photos/pb.125167817515974.-2207520000.1409140925./888197884546293/?type=1
_____________________________
দ্বিতীয় পর্বের লিংক
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/photos/a.130928300273259.14132.125167817515974/889014301131318/?type=1
_____________________________
তৃতীয় পর্বের লিংক
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/photos/pb.125167817515974.-2207520000.1409575631./889078881124860/?type=3&src=https%3A%2F%2Ffbcdn-sphotos-d-a.akamaihd.net%2Fhphotos-ak-xap1%2Ft31.0-8%2F10548242_889078881124860_8237928261446029498_o.jpg&smallsrc=https%3A%2F%2Ffbcdn-sphotos-d-a.akamaihd.net%2Fhphotos-ak-xap1%2Fv%2Ft1.0-9%2F10649941_889078881124860_8237928261446029498_n.jpg%3Foh%3D549eaf0992d612730d322f011625f95f%26oe%3D547F3185%26__gda__%3D1416759897_e261f985ea6aff4f20460b9b7ec87f05&size=1000%2C800&fbid=889078881124860
_____________________________
চতুর্থ পর্বের লিংক -
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/photos/pb.125167817515974.-2207520000.1409819769./892278970804851/?type=1&source=42
_____________________________
পঞ্চম পর্বের লিংক -
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/photos/a.130928300273259.14132.125167817515974/906765352689546/?type=1&relevant_count=1
.
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/09/blog-post_41.html
_____________________________
ষষ্ঠ পর্বের লিংক - শেষ পর্ব!
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/09/blog-post_41.html
_____________________________


বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন, ২০১৬

লাইলাতুল ক্বদর কত তারিখে?

লাইলাতুল ক্বদর কত তারিখে?
(১) শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন রাহিমাহুল্লাহ তাঁর রমযান মাসের ৩০ আসর নামক বইয়ে লিখেছেন,
লাইলাতুল ক্বদর রমযান মাসের শেষ সাত দিনের মধ্যে (২৩-৩) যেকোন এক দিনে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কেননা, আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে কতিপয় সাহাবী রমযানের শেষ সাত দিনে লাইলাতুল ক্বদর স্বপ্নে দেখেছিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি দেখতে পাচ্ছি যে তোমাদের সবার স্বপ্ন শেষ সাত দিনের ব্যাপারে এসে একাত্মতা ঘোষণা করছে। সুতরাং, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ক্বদরের রাতকে নির্দিষ্ট করতে চায়, সে যেন শেষ সাত দিনের মধ্যে তা নির্ধারণ করে সহীহ বুখারীঃ ২০১৫, সহীহ মুসলিমঃ ১১৬৫।
অনুরূপভাবে সহীহ মুসলিমের হাদীসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা রমযানের শেষ দশ রাতে লাইলাতুল ক্বদর অন্বেষণ কর। যদি তোমাদের কেউ দুর্বল থাকে অথবা অক্ষম হয়, তাহলে সে যেন শেষ সাত রাতে সেটা খুঁজতে অপারগ না হয় সহীহ মুসলিমঃ ১১৯৫।
আর শেষ সাত দিনের বেজোড় রাতগুলোর মধ্যে ২৭-তম রাত্রিটিই লাইলাতুল ক্বদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ, উবাই ইবন কাআব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই সে রাতটিকে জানি, যে রাতটিতে কিয়াম করার (নামায পড়ার) জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে আদেশ দিয়েছিলেন। আর তা হচ্ছে, রমযানের ২৭-তম রাত সহীহ মুসলিমঃ ৭৬২ 
(২) শায়খ মুহাম্মাদ নাসির উদ্দীন আলবানী রাহিমাহুল্লাহ তাঁর তারাবীহ ও ইতিকাফ নামক বইয়ে লিখেছেন,
সবচাইতে অগ্রগণ্য মত অনুযায়ী ২৭শে রমযানের রাত্রিই হচ্ছে লাইলাতুল ক্বদর তাঁর এই মতের পক্ষে তিনি দলিল হিসেবে নীচের এই হাদীসটিকে পেশ করেছেন।
উবাই ইবনে কাআব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, যিনি ছাড়া আর কোন (সত্য) উপাস্য নেই, সেই সত্ত্বার কসম! লাইলাতুল ক্বদর রমযান মাসেই লুক্কায়িত রয়েছ। (এ কথা বলার সময়) তিনি ইন শা আল্লাহ না বলেই কসম করলেন। তারপর বললেন, আল্লাহর কসম! সেটি কোন রাত? আমি অবশ্যই সে রাতটিকে জানিলাইলাতুল ক্বদর হচ্ছে সেই রাত, যে রাতে নামায পড়ার জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে নির্দেশ প্রদান করেছেন। আর তা হচ্ছে, ২৭শে রমযানের রাতলাইলাতুল ক্বদরের নিদর্শন হচ্ছেঃ ঐ রাত শেষে সকালে সূর্য এমন পরিষ্কারভাবে উঠবে যে, তাঁর কোন কিরণ থাকবেনা।
অন্য একটি বর্ণনায় এটিকে তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে মারফূ সূত্রে বর্ণনা করছেন।

সহীহ মুসলিমঃ ৭৬২, আবু দাউদঃ ১৩৭৮, মিশকাতঃ ২০৮৮, সহীহ আবু দাউদঃ ১২৪৭। 

মঙ্গলবার, ২৮ জুন, ২০১৬

সিদরাতুল মুনতাহা ও রফরফ

সিদরাতুল মুনতাহা ও রফরফ
আরবী সিদরাহ শব্দের অর্থ হচ্ছে কুল বা বড়ই গাছ, আর মুনতাহা শব্দের অর্থ হচ্ছে শেষ সীমানা। সুতরাং, সিদরাতুল মুনতাহা অর্থ হচ্ছেঃ একেবারে শেষ সীমানায় অবস্থিত বড়ই গাছ। এই গাছটি সাত আসমানের উপরে, একেবারে শেষ সীমানায় অবস্থিত, যা অত্যন্ত সুন্দর ও সুসজ্জিত। এই গাছটিকে সিদরাতুল মুনতাহা বলা হয় কারণ এটা হচ্ছে আল্লাহ তাআলার আরশ ও তাঁর সমগ্র সৃষ্টির মাঝে একটা সীমানা বা বাউন্ডারী। সিদরাতুল মুনতাহার উর্ধে কোন ফেরেশতা গমন করতে পারেনা, এমনকি আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত কোন ফেরেশতাও না। সিদরাতুল মুনতাহার উর্ধে আল্লাহর আরশে মুল্লাকা অবস্থিত।
মিরাজের রাত্রিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে একা রেখে চলে যান, কারণ সিদরাতুল মুনতাহার সীমানা অতিক্রম করে আরশের দিকে অগ্রসর হলে আল্লাহ তাআলার নূরে জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম-এর ডানাগুলো পুড়ে যেত। আর তাঁর যাওয়ার অনুমতিও ছিলোনা।
আল্লাহ তাআলা যত ওয়াহী (আদেশ বা বিধানাবলী) নাযিল করেন, তা আরশ থেকে প্রথমে সিদরাতুল মুনতাহা নাযিল করা হয়। অতঃপর, সেখান থেকে ওয়াহী বহনকারী সংশ্লিষ্ট ফেরেশতাদের মাধ্যমে তা দুনিয়াতে প্রেরিত হয়। অনুরূপভাবে, বান্দাদের আমলনামা সমূহ প্রথমে সিদরাতুল মুনতাহা নিয়ে আসা হয়। অতঃপর, এখান থেকে আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। ফেরেশতা বা নবী-রাসুল কেউই সিদরাতুল মুনতাহার স্থান অতিক্রম করতে পারেননি, একমাত্র আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছাড়া।
মিরাজের রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিরে এসে সিদরাতুল মুনতাহা সম্পর্কে বলেছিলেন, আমি সিদরাতুল মুনতাহা দেখলাম। এর ফল (বড়ই) যেন হাজার নামক স্থানের (বড়) মটকার ন্যায়। আর তার পাতা যেন হাতীর কানের মতো বড়। সিদরাতুল মুনতাহার মূল থেকে চারটি ঝরনা প্রবাহিত হয়েছে। দুইটি ঝরণা ভেতরে, আর দুইটি ঝরণা বাইরে। এই (চারটি ঝরণা) সম্পর্কে আমি জিবরাঈলকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, ভেতরের দুইটি ঝরণা জান্নাতে অবস্থিত। আর বাইরের ঝরণা দুইটির একটি হল (ইরাকের) ফুরাত, আর অপরটি হল (মিশরের) নীল নদ।
সিদরাতুল মুনতাহা অতিক্রম করার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে রফরফ নামক একটি বাহন আরশে মুআল্লাকা পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। রফরফ আরবী শব্দ, যার অর্থ হচ্ছেঃ রেশমী কাপড়, বালিশ, চাদর, মাদুর ইত্যাদি। রফরফ হল সবুজ রংয়ের গদি বিশিষ্ট একটা পালকী বিশেষ, এক প্রকার বাহন, যার মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সিদরাতুল মুনতাহা থেকে আরশে মুআল্লাকা গিয়েছিলেন।
অতঃপর, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে এক টুকরা মেঘ আচ্ছাদিত করে ফেলে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সিজদায় লুটিয়ে পড়েন। এসময় মহান আল্লাহ তাঁর বান্দার অতীব নিকটে আসেন এবং তাঁর দিকে ঝুকে পড়েন। এ সময় উভয়ের মাঝে দূরত্ব ছিল দুই ধনুক বা, দুই গজেরও কম। তখন আল্লাহ তাঁকে ওয়াহী করেন। এই ঘটনা আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারীমেও উল্লেখ করেছেন, অতঃপর তিনি নিকটবর্তী হলেন এবং ঝুলে গেল। তখন (তাঁদের মাঝে ব্যবধান ছিলো) দুই ধনুকের ব্যবধা বা তার চাইতেও কম। তখন আল্লাহ স্বীয় বান্দার প্রতি যা ওয়াহী (প্রত্যাদেশ) করার তা করলেন সুরা আন-নাজমঃ ৮-১০।

উল্লেখ্য, মিরাজের রাতে আল্লাহ তাআলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে যা ওয়াহী করেছিলেন, তার মাঝে অন্যতম ছিলোঃ দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত বা নামায ফরয করার বিষয়টি। প্রথমে আল্লাহ তাআলা আমাদের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছিলেন। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন এই আদেশ নিয়ে ফিরে আসছিলেন, তখন সাইয়্যিদিনা মুসা লাইহিস সালাম তাঁকে বলেন, হে মুহাম্মাদ আপনার উম্মতের লোকদের জন্যে দিনে-রাতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামায আদায় করার বোঝা ভারী হয়ে যাবে, যার কারণে তারা তা আদায় করবেনা। সুতরাং, আপনি আল্লাহর কাছে আবার যান এবং নামায কমিয়ে নিন। এভাবে কমাতে কমাতে শেষ পর্যন্ত আল্লাহ নামাযকে কমিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত করে দেন। এরপরে আরো কমানোর জন্যে আল্লাহর কাছে যেতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংকোচ বোধ করলেন। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁর দয়াবশত আমাদের জন্যে পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করলে তার জন্য প্রথমে নির্ধারিত পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাযের সওয়াব দান করবেন বলে ঘোষণা করলেন। সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী, সুবহানাল্লাহিল আযীম।