সোমবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৬

মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বশেষ নবী

মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বশেষ নবী
যুগে যুগে মানব জাতির হেদায়েত (সঠিক পথ) দেখানোর জন্যে আল্লাহ তাআলা অনেক নবী ও রাসুলদেরকে পাঠিয়েছেন, আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি শান্তি বর্ষণ করুন। কিন্তু আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে পাঠানোর মাধ্যমে, তাঁর উপরে শ্রেষ্ঠ আসমানী কিতাব কুরআনুল কারীম নাযিল করার মাধ্যমে নবুওতের এই সিলসিলা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আল্লাহ তাআলা আর কোন নবী বা রাসুল পাঠাবেন না। এটা ইসলামী আকিদাহর গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক, যা অস্বীকার করলে বা যা সন্দেহ করলে কোন ব্যক্তির ঈমান নষ্ট হয়ে সে বেঈমান হয়ে যাবে।
আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের ইমাম, হানাফী মাযহাবের প্রখ্যাত আলেম আবু জাফর আত-ত্বাহাবী রাহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু ৩২১ হিজরী) লিখেছেন, নিশ্চয় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর নির্বাচিত বান্দা, মনোনীত নবী এবং সন্তোষপ্রাপ্ত রাসূল। তিনি নবীগণের মধ্যে সর্বশেষ নবী, মুত্তাক্বীদের ইমাম, রাসূলগণের নেতা এবং সৃষ্টিকুলের রব্বের হাবীব (বন্ধু)। আর তাঁর পরবর্তী যুগে নবুওয়াতের যে সব দাবী উত্থাপিত হয়েছে, তার সবগুলই ভ্রষ্টতা ও প্রবৃত্তির অনুসরণ তিনি সত্য, হিদায়াত, নূর ও জ্যোতিসহকারে সকল জিন ও সমস্ত মাখলুকের প্রতি প্রেরিত আকীদাহ আত-তাহাবীয়া।
এ কথার দলিলঃ
(১) আল্লাহ তাআলা বলেন,
مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَٰكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ ۗ وَكَانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا
অর্থঃ মুহাম্মাদ তোমাদের মধ্যে কোন পুরুষের পিতা নয়, বরং সে আল্লাহর রাসুল ও খাতামান-নাবিয়্যিন (সর্বশেষ নবী)। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ। সুরা আহজাবঃ ৪০।
আয়াতের তাফসীরঃ خَاتَمٌ মোহরকে বলা হয়। আর মোহর সর্বশেষ কর্মকে বলা হয়। (যেমন পত্রের শেষে মোহর মারা হয়।) অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে নবুত ও রিসালাতের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর পর যে কেউ নবী হওয়ার দাবী করবে, সে নবী নয়; বরং মিথ্যুক ও দাজ্জাল বলে গণ্য হবে। উক্ত বিষয়ে হাদীস গ্রন্থসমূহে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে এবং এ ব্যপারে উম্মতের সকলেই একমত। কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে ঈসা লাইহিস সালাম-এর অবতরণ হবে, যা সহীহ ও সূত্রবহুল প্রসিদ্ধ বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত। তবে তিনি নবী হয়ে আসবেন না; বরং শেষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মত হয়ে আসবেন। যার ফলে তাঁর অবতরণ হওয়া খাতমে নবুঅত-এর আকীদার সাথে সাংঘর্ষিক নয়।
(২) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছে, অচিরেই আমার উম্মতের মধ্যে ত্রিশ (৩০) জন মিথ্যাবাদীর আবির্ভাব ঘটবে, তারা প্রত্যেকেই নিজেকে নবী হওয়ার দাবি করবে। অথচ, আমিই হচ্ছি সর্বশেষ নবী। আমার পরে আর কোন নবী আসবেনা সহীহ মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ।
প্রাসংগিক কিছু আলোচনাঃ
(১) ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশে কাদিয়ান নামক একটি স্থানে জন্ম গ্রহণকারী মির্জা গোলাম আহমেদ কাদিয়ানী (১৮৩৫-১৯০৮) উনিশ শতকে প্রথমে নিজেকে ইমাম মাহদী বলে দাবী করে. . .আস্তে আস্তে শিরক ও কুফুরীতে উন্নতি করতে করতে এক পর্যায়ে সে নিজেকে নবী এবং পরবর্তীতে মাসীহ দাবী করে। সে মুখে মুখে নিজেকে মুসলমান দাবী করতো এবং কুরআনের প্রতি বিশ্বাস আছে বলে দাবী করতো। কিন্তু সে সুরা আহজাব-এর ৪০ নাম্বার আয়াতের ভুল ব্যখ্যা করে নিজেকে ইসলামের ছায়া নবী হিসেবে দাবী করে। তার প্রচারিত মতবাদকে তার জন্মস্থানের সাথে মিল রেখে কাদিয়ানী ধর্ম বলা হয়, অবশ্য তারা কখনো কখনো নিজেদেরকে আহমাদীয়া মুসলিম বলে পরিচয় দিয়ে থাকে। যাই হোক, মিথ্যা নবীর প্রতি ঈমান আনার কারণে আরব-অনারব সমস্ত মুসলিম আলেমদের মতে, কাদিয়ানীরা অমুসলিম এবং কাফের। এদের বানানো উপসনায়লয়ে মুসলিমদের জন্যে নামায পড়া জায়েজ নয়।
(২) ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পরে কোন ব্যক্তি যদি তার রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা বা কোন দেশের নেতাকে সম্মান ও ভক্তি জানাতে গিয়ে যদি বলে, তিনি আমাদের দেশের নবী, এমন কথা বললে সেই ব্যক্তির ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে। সে যদি মুসলিম থাকতে চায়, তাহলে তাকে পুনরায় কালেমা পড়ে ঈমান আনতে হবে। মুসলমান নামধারী কোন নারী বা পুরুষ যদি এমন কথা লাইক বা শেয়ার করে, তাহলে তারাও ঐ ব্যক্তির সমান বলে গণ্য হবে।
সর্বশেষঃ কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার পূর্বে একের পর এক নিত্য-নতুন ফেতনা মুসলমানদেরকে গ্রাস করবে।  সে সময়ের কঠিন ফিতনাহ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আঁধার রাতের অবিরাম খন্ডের মত কৃষ্ণ-কালো ফেতনা আবর্তিত হওয়ার পূর্বেই তোমরা দ্রুত নেক কাজে মনোনিবেশ কর। (এমন একটা সময় আসবে যখন) মানুষ সকাল বেলা মুমিন কিন্তু বিকেল বেলা সে হবে কাফের। আবার কেউ সন্ধ্যা বেলা মুমিন হবে তো সকাল বেলা হবে কাফের। দুনিয়াবি সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে সে দ্বীনকে বিক্রি করে ফেলবে। সহীহ মুসলীম

সুতরাং, হে মুসলিম ভাই ও বোনেরা! আপনারা দ্বীন শিক্ষা করুন, নিজেদের ও নিজেদের পরিবারের মাঝে দ্বীনের চর্চা গড়ে তুলুন। আর কুফুরী, শিরক ও ফিতনাহ সম্পর্কে সজাগ থাকুন, অন্যদেরকেও সতর্ক করুন। আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক, আর ওয়াকীল হিসেবে আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ঠ। 

ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ফতোয়া দিতে পারেন না; ফতোয়া নিতে হয় আলেমদের কাছ থেকে

ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ফতোয়া দিতে পারেন না; ফতোয়া নিতে হয় আলেমদের কাছ থেকে (পর্ব-২)
গতকাল আমাদের পেইজে এ প্রসংগে একটা পোস্ট করা হয়েছিলো, পোস্টের লিংক
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2015/03/blog-post_56.html
সেই পোস্টে অনেকগুলো প্রশ্ন এসেছিলো। সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নের উত্তর আপনাদের সাথে শেয়ার করা হলো, আশা করি আপনাদের উপকারে আসবে ইংশায়াল্লাহ। সময় ও সুযোগের অভাবে সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব হলোনা বলে দুঃখ প্রকাশ করছি। উল্লেখ্য, অনেকে অপ্রাসংগিক বা আমাদেরকে আক্রমন করে, অজ্ঞতাবশত কিছু অসংগত মন্তব্য করেছেন। আমাদের পেইজের নিয়ম অনুযায়ী সেই সমস্ত মন্তব্যের ব্যপারে কোন উত্তর প্রদান থেকে বিরত থাকা হয়েছে।   
.
প্রশ্নঃ কোন হাদীসে লিখা আছে যে, শুধুমাত্র আলেম বা মুফতিরাই ফতোয়া দিতে পারবে?
উত্তরঃ কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী বিষয়ে সমস্যার সমাধান দেওয়া, সময়ের সাথে সাথে মানব সমাজে উদ্ভুত নিত্য-নতুন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া...এক কথা ফতোয়া দেওয়ার অধিকার শুধুমাত্র মুসলিম সমাজের যোগ্য ইসতেম্বাতকারী, জ্ঞানী ব্যক্তিদের, যাদেরকে আমরা প্রচলিত ভাষায় আলেম বা মুফতি বলে থাকি। এনিয়ে কুরআন ও হাদীসে অনেক বক্তব্য রয়েছে। নীচে দুইটি আয়াত ও তার তর্জমা ও তাফসীর উল্লেখ করা হলো।  
(১) আল্লাহ তাআলা বলেন,
فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
উচ্চারণঃ ফাস-আলু আহলায-যিকরি ই কুতুম লা তাআলামুন।
অর্থঃ যদি তুমি না জানো, তাহলে আহলে যিকির (যারা জ্ঞানী/আলেম) তাদের কাছ থেকে জিজ্ঞাসা করে জেনে নাও। সুরা আল-আম্বিয়াঃ ৭।
আয়াতের তাফসীরঃ এই আয়াতে কোন বিষয় জানা না থাকলে তা আলেমদের দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তাকীদ দেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য অপরিহার্য; যা কেউ অস্বীকার করতে পারে না। সুতরাং এই আয়াতের অর্থ হল, আলেমদের সাহায্য নিয়ে শরীয়তের উক্তি ও বক্তব্য সম্পর্কে জেনে নাও। (আহসানুল বায়ান)
(২) আল্লাহ তাআলা আরো বলেছে,
وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِنَ الْأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ ۖ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَىٰ أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ ۗ وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ لَاتَّبَعْتُمُ الشَّيْطَانَ إِلَّا قَلِيلًا
অর্থঃ আল্লাহ তাআলা বলেছে, আর যখন তাদের নিকটে কোন শান্তি বা ভীতিজনক কোন সংবাদ আসে, তখন তারা সেটা রটনা করতে থাকে। কিন্তু তারা যদি এটা (না করে) সেই সংবাদ রাসুল কিংবা তাদের উলুল আমর (দায়িত্বশীলদের) প্রতি সমর্পণ করত, তাহলে তাদের মধ্যে যারা ইস্তেম্বাতকারী (তত্তানুসন্ধানীগন) তার প্রকৃত অবস্থা উপলব্ধি করতে পারত সুরা নিসাঃ ৮৩।
আয়াতের তাফসীরঃ তাবেয়ী বিদ্বান হযরত কাতাদাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত আলোচ্য আয়াতের ব্যাখায় তিনি বলেছেন, ই আয়াতে ইলা উলিল আমরি মিনহুম এর অর্থ হলঃ তারা যদি তাদের সম্মানিত আলেমদের নিকট বিষয়টি উত্থাপন করত, তাহলে যারা ইস্তেম্বাতকারি (তথ্য সম্বন্ধে গবেষণা করে) এবং তাদের গুরুত্ব দেয়, তারা সেই বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে পারত (তাফসিরে তাবারি, সুরা নিসা, আয়াত ৮৩-এর তাফসীর দ্রষ্টব্য)
উপরের দুইটি আয়াত থেকে স্পষ্টঃ দ্বীনি জ্ঞান অনুসন্ধানী সাধারণ মানুষদের জন্যে আল্লাহর আদেশ হচ্ছে, তারা ইস্তেম্বাতকারী বা আলেমদের নিকট থেকে দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করবে, ফতোয়া জানার জন্যে নিজে নিজে কুরআন হাদীস গবেষণা করে মনগড়া উত্তর বের করবেনা, বা অল্প ইলম নিয়ে ফতোয়াবাজি করে বেড়াবেনা।
.
প্রশ্নঃ
মুফতী কাকে বলা হয়?
উত্তরঃ বিস্তারিত জানার জন্যে এই পোস্ট দেখুন -
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2016/06/blog-post.html.
.
প্রশ্নঃ আলেম বা মুফতিদেরকে না পেলে কাকে প্রশ্ন করবো?
উত্তরঃ যদিও আমাদের দেশে ব্যঙ্গের ছাতার মতো যত্র তত্র মুফতি টাইটেলধারী লোক দেখা যায়, কিন্তু প্রকৃত আলেম বা মুফতি আসলে খুব কমই হয়। আর রাসুলু্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীস অনুযায়ীঃ কেয়ামতের একটা লক্ষণ হচ্ছে আলেমদের মৃত্যুর মাধ্যমে আলেমদের সংখ্যা আস্তে আস্তে কমে যাবে, যা বর্তমানে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যাই হোক, আলেমরা তাঁদের অর্জিত জ্ঞান তাঁদের ছাত্রদের মাঝে বিতরণ করে যান। সেই ছাত্ররা তাঁরা নিজেরা সেই মানের বড় আলেম না হলেও, তাঁরা আলেমদের কাছ থেকে দ্বীন সম্পর্কে অনেক জ্ঞান অর্জন করে থাকেন। আমরা সাধারণ মানুষেরা আলেমদের কাছে পৌঁছতে না পারলে, আলেমদের ছাত্রদের মাঝে যারা নির্ভরযোগ্য, তাঁদেরকে প্রশ্ন করে আমাদের সমস্যার সমাধান নিতে পারি।
.
প্রশ্নঃ মুফতি সাহেবরা কি ইসলামের পেটেন্ট নিয়ে রেখেছেন যে, তাঁরা ছাড়া বাকী লোকেরা সঠিক কথা বলার অধিকার নেই?
উত্তরঃ সঠিক কথা বলার অধিকার বলতে আপনি কি বুঝাচ্ছেন? সঠিক কথা বলতে যদি বোঝানো হয় নিজে আলেম-উলামাদের কাছ থেকে ইসলাম শিখে, ইখলাসের সাথে মানুষের কাছে সেই ইলম পৌঁছে দেওয়া, অবশ্যই এটা করার অনুমতি আছে। যারা সত্যিকার অর্থেই দ্বীন সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করেছেন, তাঁদের উপর দাওয়াতের এই মহান কাজ করা ফরয। কিন্তু আপনি যদি ঠিক কথা বলার অধিকার বলতে বুঝান, ফতোয়া দেওয়ার মতো যোগ্যতা অর্জন না করেই নিজে নিজে ফতোয়া দেওয়া শুরু করা এটা হারাম, এমনকি কখনো সেটা কুফুরীর মতো জঘন্য কাজ হিসেবে বিচবেচিত হবে।
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি (বিশুদ্ধ) জ্ঞান ছাড়া ফতোয়া দেয় এর গুনাহ ফতোয়া দাতার ওপর হবে। আবু দাউদঃ ৩৬৫৭, হাদীসটি হাসান সহীহ, শায়খ আলবানী।
আন্দাজে বা অল্প ইলম নিয়ে হালালকে হারাম বলে ফতোয়া দেওয়া অথবা হারাম জিনসকে হালাল বলে ফতোয়া কুফুরী কাজ এবং এর দ্বারা আললাহর প্রতি মিথ্যারোপ করা হয়। আল্লাহ তাআলা কুরআনে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন, তোমরা জিহবা দিয়ে (মনগড়া ফতোয়াবাজি করে) বলোনা এইটা হালাল এইটা হারাম। এর শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ, এমনকি এর দ্বারা কেউ দ্বীন থেকে খারেজ হয়ে কাফের হয়ে যেতে পারে (নাউযুবিল্লাহি মিং যালিক)।
.
প্রশ্নঃ আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ, মতিউর রহমান মাদানী তারা ফতোয়া দিবার যোগ্য কিনা?
উত্তরঃ না, তাঁদের কেউই নিজস্ব ফতোয়া দেন না। তাঁরা হচ্ছেন আলেমদের ছাত্র, তাঁরা ফতোয়া দেওয়ার মতো যোগ্য মুফতি বা প্রকৃত আলেমদেরকে অনুসরণ করেন।
.
প্রশ্নঃ আলেম কে? একজন আলেমের কি কি যোগ্যতা থাকা চাই?
উত্তরঃ বিস্তারিত জানার জন্যে এই পোস্ট দেখুন

http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2015/04/blog-post_16.html

রবিবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৬

ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আ’নহা জান্নাতে নারীদের নেত্রী হবেন

ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা জান্নাতে নারীদের নেত্রী হবেন
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মৃত্যুর সামান্য কয়দিন পূর্বের একটি ঘটনা। আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রীরা সকলেই তাঁর কাছে উপস্থিত ছিল এমন সময় ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা হেঁটে (আমাদের নিকট) এল। তার চাল-চলন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু লাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চাল-চলনের মধ্যে কোন পার্থক্য ছিল না। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে দেখে স্বাগত জানালেন এবং বললেন, আমার কন্যার আগমন শু হোক অতঃপর তিনি তাকে নিজের ডান অথবা বাম পাশে বসালেন। তারপর তিনি তাকে কানে কানে গোপনে কিছু কথা বললেন। এতে ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা জোরেশোরে কাঁদতে আরম্ভ করলেন। সুতরাং তিনি (নবী সাঃ) তার অস্থিরতা দেখে পুনরায় তা কানে কানে কিছু কথা বললেন। ফলে (এবার) সে হাসতে লাগল। (আয়িশাহ বলেন) অতঃপর আমি ফাতেমাকে বললাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের মাঝে (তাদেরকে বাদ দিয়ে) তোমাকে গোপনে কিছু বলার জন্য বেছে নেওয়া সত্ত্বেও তুমি কাঁদছ? তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন উঠে গেলেন, তখন আমি তাকে বললাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমাকে কী বললেন? সে বলল, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর গোপন কথা প্রকাশ করব না
অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্যুবরণ করলে আমি ফাতেমাকে বললাম, তোমার প্রতি আমার অধিকার রয়েছে। তাই আমি তোমাকে কসম দিয়ে বলছি যে, তুমি আমাকে বল, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমাকে কী বলেছিলেন সে বলল, এখন বলতে কোন অসুবিধা নেই আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথমবারে কানাকানি করার সময় আমাকে সংবাদ দিয়েছিলেন যে, জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম প্রত্যেক বছর একবার (অথবা দুবার) করে কুরআন তেলাওয়াত করে শোনান। কিন্তু এবছর তিনি আমাকে দুবার শুনালেন। সুতরাং আমি বুঝতে পারছি যে, আমার মৃত্যু খুব কাছে চলে আসছে। সুতরাং তুমি (হে ফাতেমা!) আল্লাহকে ভয় করো এবং ধৈর্য ধারণ করো। কেননা, আমি তোমার জন্য উত্তম অগ্রগামী সুতরাং আমি (এ কথা শুনে) কেঁদে ফেললাম, যা তুমি দেখলে। অতঃপর তিনি আমার অস্থিরতা দেখে দ্বিতীয়বার কানে কানে বললেন, হে ফাতেমা! তুমি কি এটা পছন্দ কর না যে, তুমি মুমিন নারীদের সর্দার হবে অথবা এই উম্মতের নারীদের সর্দার হবে? সুতরাং (এমন সুসংবাদ শুনে) আমি হাসলাম, যা তুমি দেখলে
উৎসঃ হাদীসটি সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে, হাদীসের শব্দাগুলো সহীহ মুসলিম থেকে নেওয়া। সহীহুল বুখারীঃ ৩৬২৪, ৩৬২৬, সহীহুল মুসলিমঃ ২৪৫০, সুনানে তিরমিযী ৩৮৭২, সুনানে ইবনু মাজাহ ১৬২১, মুসনাদে আহমাদ ২৩৯৬২, ২৫৫০১। 

বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০১৬

তেলাওয়াতের সেজদাহ ও সেজদার আয়াত


তেলাওয়াতের সেজদাহ ও সেজদার আয়াত
বিসমিল্লাহ।
আলহামদুলিল্লাহ।
ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহ।
ছোটবেলায় আমরা যখন উস্তাদের কাছে আমপারা বা কুরআন পড়া শুরু করতাম, তখন আমাদের অনেকের মনে একটা ভয় কাজ করত, আর তা হচ্ছে সেজদার আয়াত। কোন সেজদার আয়াত পড়লে বা শুনলে সেজদা দিতে হবে, এই ভয়ে অনেকেই সেজদার আয়াত পড়তে চায়না, বা কোন তেলাওয়াতের সেজদা আছে এমন সুরাতে যখন সিজদার আয়াত আসতো, তখন সেই আয়াত না শোনার চেষ্টা করতো, যাতে করে সেজদাহ দেওয়ার হাত থেকে বেঁচে যায়। এমনকি, বড় হয়েও এখন পর্যন্ত অনেকের মাঝে দেখা যায় যে, তেলাওয়াতের সেজদার আয়াতের ব্যপারে একটা ভয়, আতংক বা অনীহা কাজ করে। অথচ এটা ঠিকনা, তেলাওয়াতের সেজদাহ করা একটা মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত, যা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উপায়। সুতরাং, মহান প্রভুর দরবারে বিনীত হয়ে একটা সেজদা করার সুযোগ লাভ করাতো আমাদের জন্যে একটা সৌভাগ্যের বিষয়। সেজন্য, সেজদার আয়াতকে আমাদের ভয় নয়, বরং আরো বেশি ভালোবাসা উচিৎ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে আল্লাহর কালামকে ভালোবাসার তোওফিক দান করুন, আমিন।
যাই হোক, এবার আমরা মূল আলোচনায় প্রবেশ করি, বি ইজনিল্লাহি তাআলা।
(১) সেজদার আয়াত কি?
কুরআনুল কারীমে এমন কিছু আয়াত আছে, যেইগুলো পড়লে বা শুনলে সেজদাহ করতে হয়, এই আয়াতগুলোকে সেজদার আয়াত বলা হয়। সাধারণত, এই আয়াতগুলোতে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সরাসরি সেজদাহ করার জন্য আদেশ করেছেন, অথবা কখনো উৎসাহিত করেছেন সেজদাহ করার জন্য। এজন্যে এই আয়াতগুলো পড়লে, আয়াতের হক্ক হিসেবে, আল্লাহর আদেশ পালনের জন্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটা সেজদাহ করতেন। আমরা আমাদের প্রিয়নবীর অনুসারী হিসেবে সেই সুন্নতের অনুসরণ করি। সাধারণত কুরআনে বিভিন্ন চিহ্ন ও কথার দ্বারা স্পষ্ট বলা থাকে, এটা সেজদার আয়াত।
(২) কুরআনে সেজদার আয়াত কয়টি ও কি কি?
এ ব্যপারে আলেমদের মাঝে কিছুটা ইখতিলাফ বা মতবিরোধ হয়েছে। তবে অনেক আলেম কুরআনে মোট ১৫টি সেজদার আয়াত রয়েছে বলে একমত পোষণ করেছেন। আর সেই আয়াতগুলো হচ্ছেঃ
সুরা আরাফঃ ২০৫, সুরা রাদঃ ১৫, সুরা নাহলঃ ৪৯, সুরা বনী ইসরাঈলঃ ১০৭,  সুরা মারিয়ামঃ ৫৮, সুরা হাজ্জঃ ১৮, সুরা হাজ্জঃ ৭৭, সুরা ফুরক্বানঃ ৬০, সুরা নমলঃ ২৫, সুরা সাজদাহঃ ১৫, সুরা ছোয়াদঃ ২৪, সুরা হা মীম সাজদাহঃ ৩৭, সুরা নজমঃ ৬২, সুরা ইনশিক্বাকঃ ২১, সুরা আলাক্বঃ ১৯।
(৩) সেজদার আয়াত পড়লে বা শুনলে সেজদাহ দেওয়ার হুকুম কি?
আল্লামাহ আব্দুল আজিজ বিন বাজ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, নামাযের ভেতরে কিংবা বাইরে, সেজদাহর আয়াত পড়লে বা শুনলে একটা সেজদাহ দেওয়া সুন্নত, ফরয কিংবা ওয়াজিব নয়। মাজমু ফাতওয়া ওয়া মাক্বালাত সামাহাত আল-শায়খ ইবনে বাজ, ১১/৪০৬। 
আল্লামাহ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসায়মিন রাহিমাহুল্লাহ বলেন, সেজদাহর আয়াত পড়লে বা শুনলে তার জন্যে একটা সেজদাহ দেওয়া সুন্নত, ফরয কিংবা ওয়াজিব নয়। মাজমু আল-ফাতওয়াঃ ১৪/৩১৮।
(৪) তেলাওয়াতের সেজদাহ কিভাবে করতে হয়?
নামযের ভেতরে কিংবা বাইরে সেজদার আয়াত পড়া বা শোনার পর তাকবীর দিয়ে (অর্থাৎ, আল্লাহু আকবার) বলে সরাসরি সেজদাতে চলে যেতে হবেসেজদাতে যাওয়ার পর স্বাভাবিক নামাজের সেজদার মতোই সুবহানা রাব্বীয়্যাল আলা তাসবীহ পড়তে হবে। এরপরে কেউ যদি অন্যান্য সেজদার তাসবীহ পড়তে চায়, পড়তে পারবে। যেকোন সেজদাতে অন্তত সুবহানা রাব্বীয়্যাল আলা এই তাসবীহ পড়া ওয়াজিব। এর অতিরিক্ত অন্য তাসবীহগুলো (যেমন- সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়াবি হামদিকা, আল্লাহুম্মাগ ফিরলী) পড়া সুন্নত বা মুস্তাহাব। উল্লেখ্য, তেলাওয়াতের সেজদাহর জন্যে বিশেষ একটা দুয়া আছে, সেই দুয়াটা মুখস্থ থাকলে সেটা পড়া আরো ভালো। আপনারা সেই দুয়াটা মুখস্থ করতে চাইলে হিসনুল মুসলিম বই থেকে দেখে নিন। তাসবীহ পড়া শেষ হলে, একটা মাত্র সেজদাহ দিয়েই দাঁড়িয়ে যেতে হবে। কারণ, তেলাওয়াতের সেজদার জন্যে সেজদা করতে হয় মাত্র একটা, দুটো নয়। উল্লেখ্য, যদি নামাযের মধ্যে হয় তাহলে আল্লাহু আকবার তাকবীর দিয়ে দাঁড়াতে হবে। আর যদি নামাযের বাইরে হয় তাহলে একটা সেজদাহ দিয়ে দাঁড়িয়ে যাবে, আল্লাহু আকবর বলতে হবেনা বা সালাম ফেরাতে হবেনা। এহচ্ছে তেলাওয়াতের সেজদার সুন্নতী পদ্ধতি।
(৫) তেলাওয়াতের সেজদাহ করার কি ফযীলত?
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আদম সন্তান যখন কোন সেজদার আয়াত পড়ে অতঃপর সেজদাহ করে, তখন শয়তান তার কাছ থেকে কাঁদতে কাঁদতে চলে যায় আর বলেঃ হায় আফসোস, আমার কি দুর্ভাগ্য! আদম সন্তানকে সেজদাহ করতে আদেশ করা হয়েছে, আর সে সেজদাহ করেছে। একারণে তাকে জান্নাত দেওয়া হবে। আর আমাকে সেজদাহ করতে আদেশ করা হয়েছিলো, কিন্তু আমি সেই আদেশ অমান্য করেছিলাম। একারণে আমি জাহান্নামে যাবো। সহীহ মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ।
(৬) সুরা মুখস্থ করার সময় সেজদার আয়াত বারবার পড়লে কয়টা সেজদাহ দিতে হয়?
আল্লামাহ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসায়মিন রাহিমাহুল্লাহ বলেন, কেউ যদি মুখস্থ করার জন্যে একই সেজদার আয়াত বারবার পড়ে, তাহলে প্রথম একবার পড়ার পরে একটা সেজদাহ দিলেই হবে। এরপরে সে যখন একই সেজদার আয়াত পুনরায় পড়বে, তখন আবার সেজদাহ না দিলেও হবে। মাজমু আল-ফাতওয়াঃ ১৪/৩১৮।
(৭) তেলাওয়াতের সিজদার জন্য ওযু থাকা ফরয কি না?
এ ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন, ওযু থাকতেই হবেকোন কোন আলেম বলেছেন তেলাওয়াতের সিজদার জন্যে ওযু থাকা ফরয নয়, ওযু ছাড়াও তেলাওয়াতের সিজদাহ করা যাবে কারণ, আব্দুল্লাহ বনে মার রাদিয়াল্লাহু আনহু ওযু ছাড়াই তেলাওয়াতের সেজদা করতেন।  এখান থেকে অনেক আলেম দলিল নিয়েছেন, যেহেতু তেলাওয়াতের সিজদা কোন নামায নয়, একটা সেজদাহ, আর কুরআন বা হাদীসে কোথাও তেলাওয়াতের সিজদার জন্যে ওযু থাকতেই হবে, একথা উল্লেখ নেই, তাই ওযু সহ কিংবা ওযু ছাড়া, সর্বাবস্থাতেই তেলাওয়াতের সিজদাহ করা যাবে। মাজমু ফাতওয়া ওয়া মাক্বালাত সামাহাত আল-শায়খ ইবনে বাজ, ১১/৪০৬। 
(৮) মোবাইল, কম্পিউটার কিংবা অডিও ভিডিও রেকর্ডিং থেকে কুরআন তেলাওয়াত শোনার সময় কি তেলাওয়াতের সিজদাহ করতে হবে?

নাহ, করতে হবেনা। অনেক আলেমের মতে, রেকর্ডিং থেকে কুরআন তেলাওয়াত শোনার সময় তেলাওয়াতের সিজদাহ করার প্রয়োজন নেই। শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজঃ মাজমু ফাতওয়া শায়খ ইবনে বাজ ১১/৪১৫; মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসায়মিনঃ আল-শরাহ আল-মুমতি ৪/১৩৩।