শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৫

আল্লাহ কোথায়? এনিয়ে পোস্টের লিংক

আল্লাহ কোথায়? তিনি কি সর্ব জায়গায় বিরাজমান??
এনিয়ে ক্বুরানের সবগুলো আয়াতের রেফারেন্স -
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/1135155313183881:0
_____________________________
(ক) আল্লাহ কোথায় আছেন?
(খ) বাংলাদেশের ‘দেওবন্দী’ বড় আলেম, মাসিক মদীনা পত্রিকার সম্পাদক মাওলানা মহিউদ্দীন খান বলেছেন, ‘আল্লাহ কোথায় আছেন’, এই প্রশ্ন করা বেয়াদবী। আল্লাহ কোথায় এই প্রশ্ন করা যাবে? নাকি এই প্রশ্ন করা বেয়াদবী হবে? 
(গ) একজন আমেরিকান তরুণ বক্তা, নোমান আলী খান দাবী করেছেন, ‘আল্লাহ কোথায় আছেন’ এটা জানা এতো জরুরী কোন বিষয় নয়। তিনি প্রশ্ন করেছেন, আল্লাহ কি এই বিষয়টাকে এতো গুরুত্ব দিয়েছেন নাকি?
অনেকে কুরআনের কিছু আয়াতের অপব্যখ্যা করে বলে, আল্লাহ সব জায়গায় বিরাজমান। তার জবাব -
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/1453600488006027:0
_____________________________
“সুবহা’না রাব্বিয়াল আ’লা” কথাটির অর্থ জানেন কি?
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2015/10/blog-post_22.html


“হিযবুত তাওহীদ”

হিযবুত তাওহীদ নামক দলটির প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছে বায়েজীদ খান পন্নী, যার বাড়ি হচ্ছে টাংগাইল। তাদের প্রশংসা ও গুণগান লিখে শেষ করা যাবেনা। নিচে কিছু উল্লেখ করা হলোঃ
(১) বায়েজীদ খান পন্নী নিজেকে ইমাম মাহদী হিসেবে দাবী করেছিলো। অথচ সে ইমাম মাহদী হওয়াতো দূরের কথা, ছোট একটা মসজিদের মুয়াজ্জিন হওয়ার মতো শুদ্ধ উচ্চারণে ক্বুরান তেলাওয়াত করতে পারতোনা।
(২) খারেজীদের মতো তারা সমস্ত মুসলমান এবং মুসলমান শাসকদেরকে কাফের বলে ফতোয়া দেয় এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আহবান জানায়।
(৩) তারা মক্কা মদীনার সমস্ত ইমাম এবং আলেমদেরকেও কাফের বলে ফতোয়া দেয় (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)। অথচ তারা আরবীতে ঈমান শব্দটা লিখতে ও পড়তে পারবেনা।
(৪) দুর্বল চিত্ত এবং কম বুদ্ধির নারীদেরকে তারা সহজেই প্রতারিত করে। তাদের দলে যোগ দিয়ে অনেক নারী স্বামীদেরকে তাদের পথে নেওয়ার চেষ্টা করে। তাদের স্বামীরা নতুন দলে ভর্তি না হলে স্বামীকে ফেলে অন্য পুরুষের সাথে পালিয়ে যায়।
(৫) পুরুষদেরকে তাদের দলে ভর্তি করার জন্যে তারা প্রায়শই তাদের দলের নারীদের রূপ-যৌবনকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করে।
(৬) তারা বিশ্বাস করে দাজ্জাল কোন মানুষ নয়, ইয়াহুদী-খ্রীস্টানরাই হচ্ছে দাজ্জাল।
(৭) তারা যাকাত দেওয়া ফরয বলে মনে করেনা।
(৮) তারা ৩-৪টা ক্বুরানের আয়াতের বাংলা অর্থ ছাড়া ইসলাম সম্পর্কে তেমন কিছুই জানেনা।
(৯) তাদের কেউ দাঁড়ি রাখেনা।
(১০) পন্নী সাহেব তার অনুসারীদেকে মিলিটারিদের কুচকাওয়াজ করার মতো করে নামায পড়তে শিক্ষা দিয়েছে।
(১১) এরা অনেক হাদীসকে অস্বীকার করে এবং নিজের মনমতো ক্বুরানের অপব্যখ্যা করে।
(১২) বায়েজীদ খান পন্নীর ছবি যারা দেখেছেন, কোন পাগলেও তাকে কোনদিন আলেম বলে দাবী করবেনা।

(১৩) এরা খারেজী আকীদাহর অনুসারী, জংগি একটি দল। এদের ব্যপারে মুসলমানদেরকে সতর্ক করা ওয়াজিব।

‘ইবনে তাইমিয়া’ কে ছিলেন?

প্রশ্নঃ ইবনে তাইমিয়া কে ছিলেন?
উত্তরঃ শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ ছিলেন হিজরী সপ্তম শতাব্দীর একজন মুজাদ্দিদ। তিনি ছিলেন,
(ক) অসাধারণ মেধা, আশ্চর্য স্মৃতিশক্তি, সূক্ষ্ম বিচারশক্তি ও সুদক্ষ তাকির্কতার পারদর্শী আলেমে-দ্বীন,
(খ) অসাধারণ পান্ডিত্যের অধিকারী ফকীহ,
(গ) জারাহ ও তাদীলের ইমাম,
(ঘ) ক্বুরান ও হাদীসের হিফজকারী ও সঠিক ব্যখ্যা প্রদানকারী, এবং
(ঙ) আল্লাহর রাস্তায় মুজাহিদ।
সুবহানাল্লাহি ওয়াবি হামদিহি! ইলমের ময়দানে এবং জিহাদের ময়দানে তাঁর খিদমত এতো বেশি যে, পশ্চিম থেকে পূর্ব পর্যন্ত সমস্ত মুসলিম আলেমরা যুগে যুগে তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন এবং আছেন।
নামঃ ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহর আসল নাম হচ্ছে আহমাদ ইবনে আব্দুল হালিম ইবনে তাইমিয়া। তাঁর উপাধি হচ্ছে শাইখুল ইসলাম। তিনি ইবনে তাইমিয়া নামে বেশি পরিচিত, এটা তাঁর দাদীর নাম। উল্লেখ্য, তাঁর দাদী ছিলেন একজন আলিমাহ, এবং ইবনে তাইমিয়ার অসংখ্য উস্তাদের মাঝে তাঁর দাদীও একজন ছিলেন।  
জন্ম ও মৃত্যুর স্থানঃ ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহর জন্ম হয়েছিলো দামেস্কের হাররান প্রদেশে, আর মৃত্যু হয়েছিলো দামেস্কে।
জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ ও বয়সঃ ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহর জন্ম হয়েছিলো ৬৬১ হিজরি বা ইংরেজী ১২৬৩ খ্রিষ্টাব্দে। আর মৃত্যু হয়েছিলো ৬৫ বৎসর বয়সে, ৭২৮ হিজরি বা ১৩২৮ খ্রিষ্টাব্দে।
জীবনীঃ ইসলামী ইতিহাসের অনন্য প্রতিভার অধিকারী এই আলেমের জীবনী অত্যন্ত ঘটনা বহুল এবং সংগ্রাম মুখর। তাঁর সারাটা জীবন কেটেছে মুসলমানদের মধ্য থেকে শিরক, বিদাত দূর কতার জন্যে মনপূজারীদের বিরুদ্ধে লিখনী, বক্তৃতার মাধ্যমে যুদ্ধ করে কাফির মুশরিকদের বিরুদ্ধে অস্ত্রের জিহাদ করে। বিদাতী আলেমদের চক্রান্তে জীবনে তাঁকে অনেক সময় জেলে কাটাতে হয়েছিলো। এমনকি ইমাম আবু হানীফার মতো তাঁর মৃত্যুও হয়েছিলো জেলখানাতে। ঐতিহাসিকগণদের কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন, তাঁর মৃত্যুর পর প্রায় দুই লক্ষ মুসলমান তাঁর জানাজা পড়ার জন্যে সমবেত হয়েছিলো। তাঁর জীবনী সম্পর্কে জানার জন্যে আপনারা শায়খ আলীমুদ্দিন (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ এই বইটা পড়তে পারেন।
শায়খুল ইসলাম এর জীবনী সম্পর্কে আলোকপাত না করলেও, আমি তাঁর সম্পর্কে আমাদের পূর্ববর্তী আলেমরা কে কি বলেছেন, সে সম্পর্কে কিছু বক্তব্য তুলে ধরছি। 
(১) সহীহ বুখারীর ব্যখ্যাকারী, ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
একজন ইমাম হিসেবে শায়খ তাক্বী উদ্দিন (ইবনে তাইমিয়ার) সম্মান ও মর্যাদা আমাদের কাছে সূর্যের চাইতেও উজ্জ্বল, এবং শায়খুল ইসলাম হিসেবে তাঁর উপাধি আজ পর্যন্ত আমাদের কাছে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। যে ব্যক্তি তাঁকে (ইবনে তাইমিয়াকে) শায়খুল ইসলাম হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকার করবে, সে শায়খের মর্যাদা সম্পর্কে জাহেল, অথবা সে ব্যক্তি পক্ষপাতদুষ্ট। এমন কাজ যে করে সে কতইনা বড় ভুল পন্থা অবলম্বন করলো!
আল-রাদ্দ আল-ওয়াফিরঃ পৃষ্ঠা ১৪৫-১৪৬, আল-জাওয়াহির ওয়াল-দুরারঃ ২/৭৩৪-৭৩৬।
(২) তাফসীরে জালালাইন এর বিখ্যাত লেখক, ইমাম জালাল উদ্দিন সুইয়ুতী রাহিমাহুল্লাহ ইবনে তাইমিয়ার জীবনী সম্পর্কে আলোচনায় বলেছেন,
ইবনে তাইমিয়া হচ্ছেন আমাদের উস্তাদ, ইমাম (নেতা বা আদর্শ), একজন আল্লামাহ (মহা পন্ডিত ব্যক্তি), হাফিজ (ক্বুরান ও অসংখ্য হাদীসের মুখস্থকারী), জারহ ও তাদীলের আলেম, ফক্বীহ, মুজাহিদ, অসাধারণ মুফাসসির, একজন শায়খুল ইসলাম, যাহিদ (দুনিয়া বিমুখ ও পরকালমুখী) লোকদের জন্যে আদর্শ বা নেতা। আমাদের যুগে তাঁর সমান আর কেউ নেই।
তাবাকাত আল-হুফফাজঃ পৃষ্ঠা ৫১৬-৫১৭।
(৩) তাফসীর ইবনে কাসীর এর লেখক, ইমাম ইবনে কাসীর রাহিমাহুল্লাহর প্রধান উস্তাদ ছিলেন ইমাম ইবনে তাইমিয়া। তিনি ইবনে তাইমিয়ার পক্ষ নিয়ে শায়খের বিরোধীতাকারীদের জবাব দিতেন। ইমাম ইবনে কাসীর শায়খের পক্ষে তাঁর ক্বুরানের তাফসীর ও তাঁর বিখ্যাত ইতিহাসের কিতাব আল-বিদায়া ওয়ান নিয়াহা তে অনেক ঘটনা ও ফতোয়া উল্লেখ করেছেন।
(৪) রিজাল শাস্ত্রের বড় আলেম, ইমাম আয-যাহাবী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন,
তিনি (ইবনে তাইমিয়া) হচ্ছেন আমাদের উস্তাদ, একজন শায়খুল ইসলাম। আমাদের যুগে (হিজরী সপ্তম ও অষ্টম শতাব্দীতে) ইলম, সাহস, বুদ্ধিমত্তা, আধ্যাত্বিক উৎকর্ষতা, দানশীলতা, উম্মতের জন্যে কল্যাণকামীতা, সৎ কাজে আদেশ করা ও অসৎ কাজে নিষেধ করার ব্যপারে তাঁর মতো আর কেউ নেই। হাদীসের রিজালশাস্ত্র, দোষ-ত্রুটি বিচার-বিশ্লেষণ ও স্তর নির্ধারণ, মুহাদ্দিসের নিকট হাদীস পৌঁছতে রাবীর কম-বেশি হওয়া সম্পর্কিত জ্ঞান, কোন হাদীস সহীহ নাকি জয়ীফ সেটা নির্ণয় করার জন্যে মতন মুখস্থ সহ যাবতীয় জ্ঞানে তিনি ছিলেন বিশেষজ্ঞ। তাঁর যুগে তাঁর সমান মর্যাদায় কিংবা তাঁর ধারে-কাছেও কেউ পৌঁছতে পারেনি। তিনি যেকোন বিষয়ে তাৎক্ষণিক দলিল প্রমাণ সহকারে আলোচনা করার জন্য পারদর্শী ছিলেন। 
তাবাকাত আল-হানবালিয়াঃ ৪/৩৯০।
(৫) ইরাকের বিখ্যাত হানাফী আলেম, আল্লামাহ মোল্লা আলী ক্বারী রাহিমাহুল্লাহ ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাকে সমর্থন করে বলেছেন, ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা ও তাঁর ছাত্র হাফিজ ইবনুল কাইয়্যিম আহলে সুন্নাত ওয়াল জামআতের বড় আলেম ছিলেন এবং এই উম্মতের ওলী ছিলেন।
মানাকিবুশ-শায়খুল ইসলাম, ৬২৭ পৃষ্ঠা। 
(৬) ভারতগুরু শাহ ওয়ালী উল্লাহ দেহলভী রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
আমি ইবনে তাইমিয়্যা রাহিমাহুল্লাহর অবস্থা যথেষ্ঠ পর্যালোচনা করেছি। তিনি ছিলেন আল্লাহর কিতাব (ক্বুরআন) সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তি। আভিধানিক ও শরীআতী পদ্ধতির ব্যখ্যায় তিনি ছিলেন সূক্ষ্ম দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তি, রাসুলু্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাতের হিফাজতকারী, প্রখর স্মৃতি শক্তিধারী ব্যক্তি। সাহাবা এবং তাবিঈনগণের আদর্শ ও ধ্যান-ধারণা সম্পর্কে এবং তার আভিধানিক ও শরীআতী অর্থগুলো সম্পর্কে তার অগাধ পান্ডিত্য ছিলো এবং তার সব কথার সাথে ক্বুরান ও সুন্নাহর প্রমান আছে।
শাহ ওয়ালী উল্লাহ দেহলভী রাহিমাহুল্লাহ আরো বলেছেন, এই শায়খের (ইমাম ইবনে তাইমিয়্যার) দৃষ্টান্ত এই পৃথিবীতে বিরল। কে আছে এমন ব্যক্তি যে তার লিখনী ও বক্তৃতার সাথে পাল্লা দিতে পারবে? যারা তার সাথে শত্রুতা করেছে তাদের বিদ্যা শায়খের বিদ্যার দশ ভাগের এক ভাগেরও সমান নয়। [মাকতুবাতঃ ২৭-২৮ পৃষ্ঠা]
(৭) ভারতবর্ষের সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব আল্লামাহ শিবলী নুমান রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ইমাম ইবনে তাইমিয়ার মাঝে মুজাদ্দিদ হওয়ার যে বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়েছিলো, তা চার ইমাম (ইমাম আবু হানীফা, ইমাম মালেক, ইমাম শাফেয়ী এবং ইমাম আহমাদ) এর মাঝেও ছিলোনা।
আন-নাদওয়াহ মাকালাতে শিবলী, ৫ম খন্ড, ৬৫-৬৬ পৃষ্ঠা।  
যুগে যুগে মুসলিম নামধারী কিন্তু আসলে বিদাতপন্থী বা মনপূজারী লোকদের মাঝে কমন একটা বদ চরিত্র হচ্ছে তারা আলেমদেরকে এটাক করে, তাদের সম্পর্কে কুৎসা রটনা করে এবং তাদেরকে অপমান করার চেষ্টা করে। আলহামদুলিল্লাহ, মাওলা এবং সাহায্যকারী হিসেবে আল্লাহ একাই তাঁর আওলিয়াদের জন্যে যথেষ্ঠ। যুগে যুগে বিদাতপন্থীরা শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া সম্পর্কে কুৎসা রটনা করেছে এবং আজ পর্যন্ত করছে।
বিংশ শতাব্দীতে জাহমী মতবাদের প্রচারকারী যাহেদ আল-কাউসারী (মৃত্যু ১৯৫১ খৃস্টাব্দ) ইবনে তাইমিয়া সম্পর্কে লিখালিখি করে নিজেকে অপমানিত করেছিলো। কাউসারীর কুকীর্তীর ব্যপারে সতর্ক করে শায়খ বিন বাজ রাহিমাহুলাহ লিখেছিলেন, কাউসারি ঈমানদার পরহেজগার ব্যক্তি ও উলামাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করেছেন। আমরা তার ছাত্র আবু গুদ্দাকে তার উস্তাদের এই সব ব্যপার হতে তওবা করে দূরে সরে আসার জন্যে বারবার বিশেষভাবে আহবান জানাই, কিন্ত সে তা মেনে নেয়নি। বরং, সে তার উস্তাদের মানহাজের উপর অটল রয়েছে। আল্লাহ তাকে হেদায়েত করুন এবং তার অনিষ্ট হতে মুসলিমদের হেফাজত করুন।
সর্বশেষ, ইমাম ইবনে তাইমিয়া অনেক কিতাব এবং ফতোয়া লিপিবদ্ধ করে রেখে গেছেন। বিশেষ করে আক্বীদাহর ব্যপারে তাঁর কিতাবগুলো আহলে সুন্নত ওয়াল জামআতের জন্যে মহামূল্যবান মনি-মুক্তার মতো। আমরা দুয়া করি, আল্লাহ তাআলা ইমাম ইবনে তাইমিয়াকে জান্নাতুল ফেরদাউসে সেই প্রতিদান দান করুন, তিনি যার জন্য উপযুক্ত, আমিন।

রবিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৫

প্রচলিত ধারার দেশের শীর্ষস্থানীয় কিছু শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের ছাত্র এবং ছাত্রীদের অবস্থা

প্রচলিত ধারার দেশের শীর্ষস্থানীয় কিছু শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের ছাত্র এবং ছাত্রীদের সাথে কথা বলে যা পেলামঃ
(১) তাদের বেশিরভাগই সালাত পড়েনা, বা কখনো পড়ে কখনো পড়েনা।
(২) অনেকে ৩-৪টার বেশি সুরা মুখস্থ পারেনা, এইগুলো দিয়েই তারা সালাত পড়ে। সুরাগুলোর অর্থ জানা পরের কথা, তাদের কয়জন সঠিকভাবে পড়তে পারে সে ব্যপারে যথেষ্ঠ সন্দেহ রয়েছে।
(৩) আল্লাহর নাম, পরিচয়, আসমাউল হুসনা সম্পর্কে অনেকে জানেনা। সহজ ভাষায় বলতে গেলে আল্লাহ সম্পর্কে তাদের জ্ঞান খুবই সীমিত।
(৪) একজন মানুষের জন্য যা জানা ফরজ, এমন অনেক কিছুই তারা জানেনা। যদি নাই জানে, মানবে কি করে?
(৫) অধিকাংশ প্রেম-ভালোবাসা বা তার চাইতে নিকৃষ্ট কাজের সাথে জড়িত, এবং এ ব্যপারে তারা মোটেও লজ্জিত বা ভীত নয়।
(৬) হালাল হারাম সম্পর্কে তাদের জ্ঞান খুব বেশি নেই। আর থাকলেও অনেকে সে সবের পরোয়া করেনা।
(৭) ভবিষ্যতে ইসলাম সম্পর্কে জানার বা শেখার আগ্রহ বা চেষ্টা আছে বলে মনে হয়না।
(৮) তাদের মূল চিন্তার বিষয় হচ্ছে দুনিয়া, পরকাল বা মৃত্যুর পরের জীবন সম্পর্কে তাদের বিশ্বাস কম এবং সেটা নিয়ে তারা চিন্তা-ভাবনাও কম করে।
(৯) শেষ কবে ক্বুরান খুলেছিলো, অনেকে মনে করতে পারবেনা।

আরো অনেক কথা বলা যেতে পারে, তবে এখানেই শেষ করলাম। এভাবেই আস্তে আস্তে সেকুলার বা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা আগামী প্রজন্ম, যারা ভবিষ্যতে দেশের হাল ধরবে, তাদেরকে অত্যন্ত কৌশলের সাথে আস্তে আস্তে ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ বা ধর্ম-বিদ্বেষী বানিয়ে তুলছে। আমাদের মুসলিমদের এ ব্যপারে সচেতন হওয়া উচিৎ এবং গার্জিয়ানদেরকে তাদের সন্তানদেরকে ইসলাম শিক্ষা দেওয়ার জন্যে উদ্ধুদ্ধ করা উচিৎ। আখেরী জামানায় ইসলাম নিয়ে টিকে থাকা কিছুটা কঠিন হবে বৈকি, কিন্তু সঠিক জ্ঞান, সম্মিলিত চেষ্টা, আন্তরিক পরিশ্রম থাকলে ইসলামের দুশমনদের প্রতিহত করা সম্ভব। সে জন্যে সবার প্রথম প্রয়োজন হচ্ছেঃ ইলম (জ্ঞান) এবং হেদায়েত (দিক নির্দেশনা)।

শুক্রবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৫

বৃষ্টি ও শীত

আলহামদুলিল্লাহ, আজ (শুক্রবার, ১৮ই ডিসেম্বর ২০১৫) ফজরের সময় বৃষ্টি হলো। বৃষ্টি আল্লাহর খাস রহমতের একটা অংশ। আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা বলেন,
মানুষ নিরাশ হয়ে যাওয়ার পরে তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং স্বীয় রহমত ছড়িয়ে দেন। তিনিই কার্যনির্বাহী, প্রশংসিত।
[সুরা আশ-শুরাঃ ২৮]
তিনি আরো বলেছেন,
৪৮. তিনিই স্বীয় রহমতের প্রাক্কালে বাতাসকে সুসংবাদবাহীরূপে প্রেরণ করেন। এবং আমি আকাশ থেকে পবিত্রতা অর্জনের জন্যে পানি বর্ষণ করি।
৪৯. তদ্দ্বারা মৃত ভূ-ভাগকে সঞ্জীবিত করার জন্যে এবং আমার সৃষ্ট জীবজন্তু ও অনেক মানুষের তৃষ্ণা নিবারণের জন্যে।
৫০. এবং আমি তা তাদের মধ্যে বিভিন্নভাবে বিতরণ করি, যাতে তারা স্মরণ করে। কিন্তু অধিকাংশ লোক অকৃতজ্ঞতা ছাড়া কিছুই করে না।
সুরা আল-ফুরক্বানঃ ৪৮-৫০।
বৃষ্টি আল্লাহর রহমত, একারণে বৃষ্টির সময় দুয়া বেশি কবুল করা হয়।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
দুইটি বিষয় আছে এমন যেইগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হয়না, আযানের সময় দুয়া ও বৃষ্টির সময়ে দুয়া।
আবু দাউদ, শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, সহীহুল জামিঃ ৩০৭৮।
তবে ডিসেম্বর মাসে, শৈত্য প্রবাহের শুরুর দিকে এই বৃষ্টি দেশে শীতকে আরো বাড়িয়ে দিবে। গ্রীষ্মকালে গরমের কষ্ট এবং শীতকালে শীতের কষ্ট এ দুটোই দুনিয়াবাসীর উপরে জাহান্নামের আযাবের একটা অংশ।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
জাহান্নাম তার প্রতিপালকের নিকট এসে এই বলে অভিযোগ করেছিলো, হে আমার প্রতিপালক! (আগুনের তীব্রতায়) আমার এক অংশ আর এক অংশকে গ্রাস করে ফেলছে। ফলে আল্লাহ্ তাআলা জাহান্নামকে দুইটি শ্বাস ফেলার অনুমতি দিলেন, একটি শীতকালে আর একটি গ্রীষ্মকালে। আর সে দুইটি শ্বাস হলো, তোমরা গ্রীষ্মকালে যে প্রচন্ড উত্তাপ এবং শীতকালে যে প্রচন্ড ঠান্ডা অনুভব কর তাই।
সহীহ বুখারীঃ ৫৩৭।
গ্রীষ্মকালের গরমের কষ্ট এবং শীতকালে শীতের কষ্ট থেকে আমাদের জাহান্নামের কঠিন শাস্তি থেকে বাঁচার জন্যে শিক্ষা নেওয়া উচিৎ এবং আমাদের পাপের কারণে তোওবা করা উচিৎ।
ওযুর পরে একটি সুন্দর দুয়াঃ
اَللَّهُمَّ اجْعَلْنِيْ مِنَ التَّوَّابِيْنَ وَاجْعَلْنِيْ مِنَ الْمُتَطَهِّرِيْنَ.
উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মাজ আলনী মিনাত তাওয়্যাবীনা ওয়াজ আলনী মিনাল মুতা-ত্বাহহিরীন।
অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করো।

সুনানে তিরমিযীঃ ১/৭৯।

বুধবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৫

‘সুরা কাহাফ’ এর সরল তর্জমা

সুরা কাহাফ এর সরল তর্জমাঃ
উযু বিল্লাহিমিনাশ-শাইতানির রাযীম। বিসমিল্লাহির-রাহমানির রাহীম।
( 1 )   সব প্রশংসা আল্লাহর যিনি নিজের বান্দার প্রতি এ গ্রন্থ নাযিল করেছেন এবং তাতে কোন বক্রতা রাখেননি।
( 2 )   একে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন যা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি ভীষণ বিপদের ভয় প্রদর্শন করে এবং মুমিনদেরকে যারা সৎকর্ম সম্পাদন করে-তাদেরকে সুসংবাদ দান করে যে, তাদের জন্যে উত্তম প্রতিদান রয়েছে।
( 3 )   তারা তাতে চিরকাল অবস্থান করবে।
( 4 )   এবং তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করার জন্যে যারা বলে যে, আল্লাহর সন্তান রয়েছে।
( 5 )   এ সম্পর্কে তাদের কোন জ্ঞান নেই এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরও নেই। কত কঠিন তাদের মুখের কথা। তারা যা বলে তা তো সবই মিথ্যা।
( 6 )   যদি তারা এই বিষয়বস্তুর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করে, তবে তাদের পশ্চাতে সম্ভবতঃ আপনি পরিতাপ করতে করতে নিজের প্রাণ নিপাত করবেন।
( 7 )   আমি পৃথিবীস্থ সব কিছুকে পৃথিবীর জন্যে শোভা করেছি, যাতে লোকদের পরীক্ষা করি যে, তাদের মধ্যে কে ভাল কাজ করে।
( 8 )   এবং তার উপর যাকিছু রয়েছে, অবশ্যই তা আমি উদ্ভিদশূন্য মাটিতে পরিণত করে দেব।
( 9 )   আপনি কি ধারণা করেন যে, গুহা ও গর্তের অধিবাসীরা আমার নিদর্শনাবলীর মধ্যে বিস্ময়কর ছিল ?
( 10 )   যখন যুবকরা পাহাড়ের গুহায় আশ্রয়গ্রহণ করে তখন দোআ করেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে নিজের কাছ থেকে রহমত দান করুন এবং আমাদের জন্যে আমাদের কাজ সঠিকভাবে পূর্ণ করুন।
( 11 )   তখন আমি কয়েক বছরের জন্যে গুহায় তাদের কানের উপর নিদ্রার পর্দা ফেলে দেই।
( 12 )   অতঃপর আমি তাদেরকে পুনরত্থিত করি, একথা জানার জন্যে যে, দুই দলের মধ্যে কোন দল তাদের অবস্থানকাল সম্পর্কে অধিক নির্ণয় করতে পারে।
( 13 )   আপনার কাছে তাদের ইতিবৃত্তান্ত সঠিকভাবে বর্ণনা করছি। তারা ছিল কয়েকজন যুবক। তারা তাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিল এবং আমি তাদের সৎপথে চলার শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছিলাম।
( 14 )   আমি তাদের মন দৃঢ় করেছিলাম, যখন তারা উঠে দাঁড়িয়েছিল। অতঃপর তারা বললঃ আমাদের পালনকর্তা আসমান ও যমীনের পালনকর্তা আমরা কখনও তার পরিবর্তে অন্য কোন উপাস্যকে আহবান করব না। যদি করি, তবে তা অত্যন্ত গর্হিত কাজ হবে।
( 15 )   এরা আমাদেরই স্ব-জাতি, এরা তাঁর পরিবর্তে অনেক উপাস্য গ্রহণ করেছে। তারা এদের সম্পর্কে প্রকাশ্য প্রমাণ উপস্থিত করে না কেন? যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা উদ্ভাবন করে, তার চাইতে অধিক গোনাহগার আর কে?
( 16 )   তোমরা যখন তাদের থেকে পৃথক হলে এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের এবাদত করে তাদের থেকে, তখন তোমরা গুহায় আশ্রয়গ্রহণ কর। তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের জন্যে দয়া বিস্তার করবেন এবং তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজ কর্মকে ফলপ্রসু করার ব্যবস্থা করবেন।
( 17 )   তুমি সূর্যকে দেখবে, যখন উদিত হয়, তাদের গুহা থেকে পাশ কেটে ডান দিকে চলে যায় এবং যখন অস্ত যায়, তাদের থেকে পাশ কেটে বামদিকে চলে যায়, অথচ তারা গুহার প্রশস্ত চত্বরে অবস্থিত। এটা আল্লাহর নিদর্শনাবলীর অন্যতম। আল্লাহ যাকে সৎপথে চালান, সেই সৎপথ প্রাপ্ত এবং তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, আপনি কখনও তার জন্যে পথপ্রদর্শনকারী ও সাহায্যকারী পাবেন না।
( 18 )   তুমি মনে করবে তারা জাগ্রত, অথচ তারা নিদ্রিত। আমি তাদেরকে পার্শ্ব পরিবর্তন করাই ডান দিকে ও বাম দিকে। তাদের কুকুর ছিল সামনের পা দুটি গুহাদ্বারে প্রসারিত করে। যদি তুমি উঁকি দিয়ে তাদেরকে দেখতে, তবে পেছন ফিরে পলায়ন করতে এবং তাদের ভয়ে আতংক গ্রস্ত হয়ে পড়তে।
( 19 )   আমি এমনি ভাবে তাদেরকে জাগ্রত করলাম, যাতে তারা পরস্পর জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাদের একজন বললঃ তোমরা কতকাল অবস্থান করেছ? তাদের কেউ বললঃ একদিন অথবা একদিনের কিছু অংশ অবস্থান করছি। কেউ কেউ বললঃ তোমাদের পালনকর্তাই ভাল জানেন তোমরা কতকাল অবস্থান করেছ। এখন তোমাদের একজনকে তোমাদের এই মুদ্রাসহ শহরে প্রেরণ কর; সে যেন দেখে কোন খাদ্য পবিত্র। অতঃপর তা থেকে যেন কিছু খাদ্য নিয়ে আসে তোমাদের জন্য; সে যেন নম্রতা সহকারে যায় ও কিছুতেই যেন তোমাদের খবর কাউকে না জানায়।
Meaningsবাংলা ভাষা - মুহিউদ্দীন খান
( 21 )   এমনিভাবে আমি তাদের খবর প্রকাশ করে দিলাম, যাতে তারা জ্ঞাত হয় যে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য এবং কেয়ামতে কোন সন্দেহ নেই। যখন তারা নিজেদের কর্তব্য বিষয়ে পরস্পর বিতর্ক করছিল, তখন তারা বললঃ তাদের উপর সৌধ নির্মাণ কর। তাদের পালনকর্তা তাদের বিষয়ে ভাল জানেন। তাদের কর্তব্য বিষয়ে যাদের মত প্রবল হল, তারা বললঃ আমরা অবশ্যই তাদের স্থানে মসজিদ নির্মান করব।
( 22 )   অজ্ঞাত বিষয়ে অনুমানের উপর ভিত্তি করে এখন তারা বলবেঃ তারা ছিল তিন জন; তাদের চতুর্থটি তাদের কুকুর। একথাও বলবে; তারা পাঁচ জন। তাদের ছষ্ঠটি ছিল তাদের কুকুর। আরও বলবেঃ তারা ছিল সাত জন। তাদের অষ্টমটি ছিল তাদের কুকুর। বলুনঃ আমার পালনকর্তা তাদের সংখ্যা ভাল জানেন। তাদের খবর অল্প লোকই জানে। সাধারণ আলোচনা ছাড়া আপনি তাদের সম্পর্কে বিতর্ক করবেন না এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে তাদের কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ ও করবেন না।
( 23 )   আপনি কোন কাজের বিষয়ে বলবেন না যে, সেটি আমি আগামী কাল করব।
( 24 )   আল্লাহ ইচ্ছা করলে বলা ব্যতিরেকে। যখন ভুলে যান, তখন আপনার পালনকর্তাকে স্মরণ করুন এবং বলুনঃ আশা করি আমার পালনকর্তা আমাকে এর চাইতেও নিকটতম সত্যের পথ নির্দেশ করবেন।
( 25 )   তাদের উপর তাদের গুহায় তিনশ বছর, অতিরিক্ত আরও নয় বছর অতিবাহিত হয়েছে।
( 26 )   বলুনঃ তারা কতকাল অবস্থান করেছে, তা আল্লাহই ভাল জানেন। নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান তাঁরই কাছে রয়েছে। তিনি কত চমৎকার দেখেন ও শোনেন। তিনি ব্যতীত তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই। তিনি কাউকে নিজ কর্তৃত্বে শরীক করেন না।
( 27 )   আপনার প্রতি আপনার পালনকর্তার যে, কিতাব প্রত্যাদিষ্ট করা হয়েছে, তা পাঠ করুন। তাঁর বাক্য পরিবর্তন করার কেউ নাই। তাঁকে ব্যতীত আপনি কখনই কোন আশ্রয় স্থল পাবেন না।
( 28 )   আপনি নিজেকে তাদের সংসর্গে আবদ্ধ রাখুন যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে আহবান করে এবং আপনি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তাদের থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবেন না। যার মনকে আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, যে, নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্য কলাপ হচ্ছে সীমা অতিক্রম করা, আপনি তার অনুগত্য করবেন না।
( 29 )   বলুনঃ সত্য তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত। অতএব, যার ইচ্ছা, বিশ্বাস স্থাপন করুক এবং যার ইচ্ছা অমান্য করুক। আমি জালেমদের জন্যে অগ্নি প্রস্তুত করে রেখেছি, যার বেষ্টনী তাদের কে পরিবেষ্টন করে থাকবে। যদি তারা পানীয় প্রার্থনা করে, তবে পুঁজের ন্যায় পানীয় দেয়া হবে যা তাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে। কত নিকৃষ্ট পানীয় এবং খুবই মন্দ আশ্রয়।
( 30 )   যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কার নষ্ট করি না।
( 31 )   তাদেরই জন্যে আছে বসবাসের জান্নাত। তাদের পাদদেশে প্রবাহিত হয় নহরসমূহ। তাদের তথায় স্বর্ণ-কংকনে অলংকৃত করা হবে এবং তারা পাতলা ও মোটা রেশমের সবুজ কাপর পরিধান করবে এমতাবস্থায় যে, তারা সিংহাসনে সমাসীন হবে। চমৎকার প্রতিদান এবং কত উত্তম আশ্রয়।
( 32 )   আপনি তাদের কাছে দু ব্যক্তির উদাহরণ বর্ণনা করুন। আমি তাদের একজনকে দুটি আঙ্গুরের বাগান দিয়েছি এবং এ দুটিকে খর্জুর বৃক্ষ দ্বারা পরিবেষ্টিত করেছি এবং দু এর মাঝখানে করেছি শস্যক্ষেত্র।
( 33 )   উভয় বাগানই ফলদান করে এবং তা থেকে কিছুই হ্রাস করত না এবং উভয়ের ফাঁকে ফাঁকে আমি নহর প্রবাহিত করেছি।
( 34 )   সে ফল পেল। অতঃপর কথা প্রসঙ্গে সঙ্গীকে বললঃ আমার ধন-সম্পদ তোমার চাইতে বেশী এবং জনবলে আমি অধিক শক্তিশালী।
( 35 )   নিজের প্রতি জুলুম করে সে তার বাগানে প্রবেশ করল। সে বললঃ আমার মনে হয় না যে, এ বাগান কখনও ধ্বংস হয়ে যাবে।
( 36 )   এবং আমি মনে করি না যে, কেয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। যদি কখনও আমার পালনকর্তার কাছে আমাকে পৌঁছে দেয়া হয়, তবে সেখানে এর চাইতে উৎকৃষ্ট পাব।
( 37 )   তার সঙ্গী তাকে কথা প্রসঙ্গে বললঃ তুমি তাঁকে অস্বীকার করছ, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, অতঃপর বীর্য থেকে, অতঃপর র্পূনাঙ্গ করেছেন তোমাকে মানবাকৃতিতে?
( 38 )   কিন্তু আমি তো একথাই বলি, আল্লাহই আমার পালনকর্তা এবং আমি কাউকে আমার পালনকর্তার শরীক মানি না।
( 39 )   যদি তুমি আমাকে ধনে ও সন্তানে তোমার চাইতে কম দেখ, তবে যখন তুমি তোমার বাগানে প্রবেশ করলে, তখন একথা কেন বললে না; আল্লাহ যা চান, তাই হয়। আল্লাহর দেয়া ব্যতীত কোন শক্তি নেই।
( 40 )   আশাকরি আমার পালকর্তা আমাকে তোমার বাগান অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর কিছু দেবেন এবং তার (তোমার বাগানের) উপর আসমান থেকে আগুন প্রেরণ করবেন। অতঃপর সকাল বেলায় তা পরিষ্কার ময়দান হয়ে যাবে।
( 41 )   অথবা সকালে তার পানি শুকিয়ে যাবে। অতঃপর তুমি তা তালাশ করে আনতে পারবে না।
( 42 )   অতঃপর তার সব ফল ধ্বংস হয়ে গেল এবং সে তাতে যা ব্যয় করেছিল, তার জন্য সকালে হাত কচলিয়ে আক্ষেপ করতে লাগল। বাগনটি কাঠসহ পুড়ে গিয়েছিল। সে বলতে লাগলঃ হায়, আমি যদি কাউকে আমার পালনকর্তার সাথে শরীক না করতাম।
( 43 )   আল্লাহ ব্যতীত তাকে সাহায্য করার কোন লোক হল না এবং সে নিজেও প্রতিকার করতে পারল না।
( 44 )   এরূপ ক্ষেত্রে সব অধিকার সত্য আল্লাহর। তারই পুরস্কার উত্তম এবং তারই প্রদত্ত প্রতিদান শ্রেষ্ঠ।
( 45 )   তাদের কাছে পার্থিব জীবনের উপমা বর্ণনা করুন। তা পানির ন্যায়, যা আমি আকাশ থেকে নাযিল করি। অতঃপর এর সংমিশ্রণে শ্যামল সবুজ ভূমিজ লতা-পাতা নির্গত হয়; অতঃপর তা এমন শুস্ক চুর্ণ-বিচুর্ণ হয় যে, বাতাসে উড়ে যায়। আল্লাহ এ সবকিছুর উপর শক্তিমান।
( 46 )   ধনৈশ্বর্য ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য এবং স্থায়ী সৎকর্মসমূহ আপনার পালনকর্তার কাছে প্রতিদান প্রাপ্তি ও আশা লাভের জন্যে উত্তম।
( 47 )   যেদিন আমি পর্বতসমূহকে পরিচালনা করব এবং আপনি পৃথিবীকে দেখবেন একটি উম্মুক্ত প্রান্তর এবং আমি মানুষকে একত্রিত করব অতঃপর তাদের কাউকে ছাড়ব না।
( 48 )   তারা আপনার পালনকর্তার সামনে পেশ হবে সারিবদ্ধ ভাবে এবং বলা হবেঃ তোমরা আমার কাছে এসে গেছ; যেমন তোমাদেরকে প্রথম বার সৃষ্টি করেছিলাম। না, তোমরা তো বলতে যে, আমি তোমাদের জন্যে কোন প্রতিশ্রুত সময় নির্দিষ্ট করব না।
( 49 )   আর আমলনামা সামনে রাখা হবে। তাতে যা আছে; তার কারণে আপনি অপরাধীদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত দেখবেন। তারা বলবেঃ হায় আফসোস, এ কেমন আমলনামা। এ যে ছোট বড় কোন কিছুই বাদ দেয়নি-সবই এতে রয়েছে। তারা তাদের কৃতকর্মকে সামনে উপস্থিত পাবে। আপনার পালনকর্তা কারও প্রতি জুলুম করবেন না।
( 50 )   যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললামঃ আদমকে সেজদা কর, তখন সবাই সেজদা করল ইবলীস ব্যতীত। সে ছিল জিনদের একজন। সে তার পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল। অতএব তোমরা কি আমার পরিবর্তে তাকে এবং তার বংশধরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করছ? অথচ তারা তোমাদের শত্রু। এটা জালেমদের জন্যে খুবই নিকৃষ্ট বদল।
( 51 )   নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের সৃজনকালে আমি তাদেরকে সাক্ষ্য রাখিনি এবং তাদের নিজেদের সৃজনকালেও না। এবং আমি এমনও নই যে, বিভ্রান্ত কারীদেরকে সাহায্যকারীরূপে গ্রহণ করবো।
( 52 )   যেদিন তিনি বলবেনঃ তোমরা যাদেরকে আমার শরীক মনে করতে তাদেরকে ডাক। তারা তখন তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা এ আহবানে সাড়া দেবে না। আমি তাদের মধ্যস্থলে রেখে দেব একটি মৃত্যু গহবর।
( 53 )   অপরাধীরা আগুন দেখে বোঝে নেবে যে, তাদেরকে তাতে পতিত হতে হবে এবং তারা তা থেকে রাস্তা পরিবর্তন করতে পারবে না।
( 54 )   নিশ্চয় আমি এ কোরআনে মানুষকে নানাভাবে বিভিন্ন উপমার দ্বারা আমার বাণী বুঝিয়েছি। মানুষ সব বস্তু থেকে অধিক তর্কপ্রিয়।
( 55 )   হেদায়েত আসার পর এ প্রতীক্ষাই শুধু মানুষকে বিশ্বাস স্থাপন করতে এবং তাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বিরত রাখে যে, কখন আসবে তাদের কাছে পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অথবা কখন আসবে তাদের কাছেআযাব সামনাসামনি।
( 56 )   আমি রাসূলগনকে সুসংবাদ দাতা ও ভয় প্রদর্শন কারীরূপেই প্রেরণ করি এবং কাফেররাই মিথ্যা অবলম্বনে বিতর্ক করে, তা দ্বারা সত্যকে ব্যর্থ করে দেয়ার উদ্দেশে এবং তারা আমার নিদর্শনাবলীও যদ্বারা তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করা হয়, সেগুলোকে ঠাট্টারূপে গ্রহণ করেছে।
( 57 )   তার চাইতে অধিক জালেম কে, যাকে তার পালনকর্তার কালাম দ্বারা বোঝানো হয়, অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তার পূর্ববর্তী কৃতকর্মসমূহ ভুলে যায়? আমি তাদের অন্তরের উপর পর্দা রেখে দিয়েছি, যেন তা না বোঝে এবং তাদের কানে রয়েছে বধিরতার বোঝা। যদি আপনি তাদেরকে সৎপথের প্রতি দাওয়াত দেন, তবে কখনই তারা সৎপথে আসবে না।
( 58 )   আপনার পালনকর্তা ক্ষমাশীল, দয়ালু, যদি তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্যে পাকড়াও করেন তবে তাদের শাস্তি ত্বরাম্বিত করতেন, কিন্তু তাদের জন্য রয়েছে একটি প্রতিশ্রুত সময়, যা থেকে তারা সরে যাওয়ার জায়গা পাবে না।
( 59 )   এসব জনপদও তাদেরকে আমি ধংস করে দিয়েছি, যখন তারা জালেম হয়ে গিয়েছিল এবং আমি তাদের ধ্বংসের জন্যে একটি প্রতিশ্রুত সময় নির্দিষ্ট করেছিলাম।
( 60 )   যখন মূসা তাঁর যুবক (সঙ্গী) কে বললেনঃ দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে না পৌছা পর্যন্ত আমি আসব না অথবা আমি যুগ যুগ ধরে চলতে থাকব।
( 61 )   অতঃপর যখন তাঁরা দুই সুমুদ্রের সঙ্গমস্থলে পৌছালেন, তখন তাঁরা নিজেদের মাছের কথা ভুলে গেলেন। অতঃপর মাছটি সমুদ্রে সুড়ঙ্গ পথ সৃষ্টি করে নেমে গেল।
( 62 )   যখন তাঁরা সে স্থানটি অতিক্রম করে গেলেন, মূসা সঙ্গী কে বললেনঃ আমাদের নাশতা আন। আমরা এই সফরে পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছি।
( 63 )   সে বললঃ আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন প্রস্তর খন্ডে আশ্রয় নিয়েছিলাম, তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম। শয়তানই আমাকে একথা স্মরণ রাখতে ভুলিয়ে দিয়েছিল। মাছটি আশ্চর্য জনক ভাবে সমুদ্রে নিজের পথ করে নিয়েছে।
( 64 )   মূসা বললেনঃ আমরা তো এ স্থানটিই খুঁজছিলাম। অতঃপর তাঁরা নিজেদের চিহ্ন ধরে ফিরে চললেন।
( 65 )   অতঃপর তাঁরা আমার বান্দাদের মধ্যে এমন একজনের সাক্ষাত পেলেন, যাকে আমি আমার পক্ষ থেকে রহমত দান করেছিলাম ও আমার পক্ষ থেকে দিয়েছিলাম এক বিশেষ জ্ঞান।
( 66 )   মূসা তাঁকে বললেনঃ আমি কি এ শর্তে আপনার অনুসরণ করতে পারি যে, সত্যপথের যে জ্ঞান আপনাকে শেখানো হয়েছে, তা থেকে আমাকে কিছু শিক্ষা দেবেন?
( 67 )   তিনি বললেনঃ আপনি আমার সাথে কিছুতেই ধৈর্য্যধারণ করে থাকতে পারবেন না।
( 68 )   যে বিষয় বোঝা আপনার আয়ত্তাধীন নয়, তা দেখে আপনি ধৈর্য্যধারণ করবেন কেমন করে?
( 69 )   মূসা বললেনঃ আল্লাহ চাহেন তো আপনি আমাকে ধৈর্য্যশীল পাবেন এবং আমি আপনার কোন আদেশ অমান্য করব না।
( 70 )   তিনি বললেনঃ যদি আপনি আমার অনুসরণ করেনই তবে কোন বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করবেন না, যে পর্যন্ত না আমি নিজেই সে সম্পর্কে আপনাকে কিছু বলি।
( 71 )   অতঃপর তারা চলতে লাগলঃ অবশেষে যখন তারা নৌকায় আরোহণ করল, তখন তিনি তাতে ছিদ্র করে দিলেন। মূসা বললেনঃ আপনি কি এর আরোহীদেরকে ডুবিয়ে দেয়ার জন্যে এতে ছিদ্র করে দিলেন? নিশ্চয়ই আপনি একটি গুরুতর মন্দ কাজ করলেন।
( 72 )   তিনি বললেনঃ আমি কি বলিনি যে, আপনি আমার সাথে কিছুতেই ধৈর্য্য ধরতে পারবেন না ?
( 73 )   মূসা বললেনঃ আমাকে আমার ভুলের জন্যে অপরাধী করবেন না এবং আমার কাজে আমার উপর কঠোরতা আরোপ করবেন না।
( 74 )   অতঃপর তারা চলতে লাগল। অবশেষে যখন একটি বালকের সাক্ষাত পেলেন, তখন তিনি তাকে হত্যা করলেন। মূসা বললেন? আপনি কি একটি নিস্পাপ জীবন শেষ করে দিলেন প্রাণের বিনিময় ছাড়াই? নিশ্চয়ই আপনি তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন।
( 75 )   তিনি বললেনঃ আমি কি বলিনি যে, আপনি আমার সাথে ধৈর্য্য ধরে থাকতে পারবেন না।
( 76 )   মূসা বললেনঃ এরপর যদি আমি আপনাকে কোন বিষয়ে প্রশ্ন করি, তবে আপনি আমাকে সাথে রাখবেন না। আপনি আমার পক্ষ থেকে অভিযোগ মুক্ত হয়ে গেছেন।
( 77 )   অতঃপর তারা চলতে লাগল, অবশেষে যখন একটি জনপদের অধিবাসীদের কাছে পৌছে তাদের কাছে খাবার চাইল, তখন তারা তাদের অতিথেয়তা করতে অস্বীকার করল। অতঃপর তারা সেখানে একটি পতনোম্মুখ প্রাচীর দেখতে পেলেন, সেটি তিনি সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিলেন। মূসা বললেনঃ আপনি ইচ্ছা করলে তাদের কাছ থেকে এর পারিশ্রমিক আদায় করতে পারতেন।
( 78 )   তিনি বললেনঃ এখানেই আমার ও আপনার মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হল। এখন যে বিষয়ে আপনি ধৈর্য্য ধরতে পারেননি, আমি তার তাৎপর্য বলে দিচ্ছি।
( 79 )   নৌকাটির ব্যাপারে-সেটি ছিল কয়েকজন দরিদ্র ব্যক্তির। তারা সমুদ্রে জীবিকা অন্বেষন করত। আমি ইচ্ছা করলাম যে, সেটিকে ক্রটিযুক্ত করে দেই। তাদের অপরদিকে ছিল এক বাদশাহ। সে বলপ্রয়োগে প্রত্যেকটি নৌকা ছিনিয়ে নিত।
( 80 )   বালকটির ব্যাপার তার পিতা-মাতা ছিল ঈমানদার। আমি আশঙ্কা করলাম যে, সে অবাধ্যতা ও কুফর দ্বারা তাদেরকে প্রভাবিত করবে।
( 81 )   অতঃপর আমি ইচ্ছা করলাম যে, তাদের পালনকর্তা তাদেরকে মহত্তর, তার চাইতে পবিত্রতায় ও ভালবাসায় ঘনিষ্ঠতর একটি শ্রেষ্ঠ সন্তান দান করুক।
( 82 )   প্রাচীরের ব্যাপার-সেটি ছিল নগরের দুজন পিতৃহীন বালকের। এর নীচে ছিল তাদের গুপ্তধন এবং তাদের পিতা ছিল সৎকর্ম পরায়ন। সুতরাং আপনার পালনকর্তা দায়বশতঃ ইচ্ছা করলেন যে, তারা যৌবনে পদার্পন করুক এবং নিজেদের গুপ্তধন উদ্ধার করুক। আমি নিজ মতে এটা করিনি। আপনি যে বিষয়ে ধৈর্য্যধারণ করতে অক্ষম হয়েছিলেন, এই হল তার ব্যাখ্যা।
( 83 )   তারা আপনাকে যুলকারনাইন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুনঃ আমি তোমাদের কাছে তাঁর কিছু অবস্থা বর্ণনা করব।
( 84 )   আমি তাকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম এবং প্রত্যেক বিষয়ের কার্যোপকরণ দান করেছিলাম।
( 85 )   অতঃপর তিনি এক কার্যোপকরণ অবলম্বন করলেন।
( 86 )   অবশেষে তিনি যখন সুর্যের অস্তাচলে পৌছলেন; তখন তিনি সুর্যকে এক পঙ্কিল জলাশয়ে অস্ত যেতে দেখলেন এবং তিনি সেখানে এক সম্প্রদায়কে দেখতে পেলেন। আমি বললাম, হে যুলকারনাইন! আপনি তাদেরকে শাস্তি দিতে পারেন অথবা তাদেরকে সদয়ভাবে গ্রহণ করতে পারেন।
( 87 )   তিনি বললেনঃ যে কেউ সীমালঙ্ঘনকারী হবে আমি তাকে শাস্তি দেব। অতঃপর তিনি তাঁর পালনকর্তার কাছে ফিরে যাবেন। তিনি তাকে কঠোর শাস্তি দেবেন।
( 88 )   এবং যে বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে তার জন্য প্রতিদান রয়েছে কল্যাণ এবং আমার কাজে তাকে সহজ নির্দেশ দেব।
( 89 )   অতঃপর তিনি এক উপায় অবলম্বন করলেন।
( 90 )   অবশেষে তিনি যখন সূর্যের উদয়াচলে পৌছলেন, তখন তিনি তাকে এমন এক সম্প্রদায়ের উপর উদয় হতে দেখলেন, যাদের জন্যে সূর্যতাপ থেকে আত্নরক্ষার কোন আড়াল আমি সৃষ্টি করিনি।
( 91 )   প্রকৃত ঘটনা এমনিই। তার বৃত্তান্ত আমি সম্যক অবগত আছি।
( 92 )   আবার তিনি এক পথ ধরলেন।
( 93 )   অবশেষে যখন তিনি দুই পর্বত প্রচীরের মধ্যস্থলে পৌছলেন, তখন তিনি সেখানে এক জাতিকে পেলেন, যারা তাঁর কথা একেবারেই বুঝতে পারছিল না।
( 94 )   তারা বললঃ হে যুলকারনাইন, ইয়াজুজ ও মাজুজ দেশে অশান্তি সৃষ্টি করেছে। আপনি বললে আমরা আপনার জন্যে কিছু কর ধার্য করব এই শর্তে যে, আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যে একটি প্রাচীর নির্মাণ করে দেবেন।
( 95 )   তিনি বললেনঃ আমার পালনকর্তা আমাকে যে সামর্থ?2470;িয়েছেন, তাই যথেষ্ট। অতএব, তোমরা আমাকে শ্রম দিয়ে সাহায্য কর। আমি তোমাদের ও তাদের মধ্যে একটি সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মাণ করে দেব।
( 96 )   তোমরা আমাকে লোহার পাত এনে দাও। অবশেষে যখন পাহাড়ের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থান পূর্ণ হয়ে গেল, তখন তিনি বললেনঃ তোমরা হাঁপরে দম দিতে থাক। অবশেষে যখন তা আগুনে পরিণত হল, তখন তিনি বললেনঃ তোমরা গলিত তামা নিয়ে এস, আমি তা এর উপরে ঢেলে দেই।
( 97 )   অতঃপর ইয়াজুজ ও মাজুজ তার উপরে আরোহণ করতে পারল না এবং তা ভেদ করতে ও সক্ষম হল না।
( 98 )   যুলকারনাইন বললেনঃ এটা আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ। যখন আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুত সময় আসবে, তখন তিনি একে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবেন এবং আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুতি সত্য।
( 99 )   আমি সেদিন তাদেরকে দলে দলে তরঙ্গের আকারে ছেড়ে দেব এবং শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে। অতঃপর আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করে আনব।
( 100 )   সেদিন আমি কাফেরদের কাছে জাহান্নামকে প্রত্যক্ষ ভাবে উপস্থিত করব।
( 101 )   যাদের চক্ষুসমূহের উপর পর্দা ছিল আমার স্মরণ থেকে এবং যারা শুনতেও সক্ষম ছিল না।
( 102 )   কাফেররা কি মনে করে যে, তারা আমার পরিবর্তে আমার বান্দাদেরকে অভিভাবক রূপে গ্রহণ করবে? আমি কাফেরদের অভ্যর্থনার জন্যে জাহান্নামকে প্রস্তুত করে রেখেছি।
( 103 )   বলুনঃ আমি কি তোমাদেরকে সেসব লোকের সংবাদ দেব, যারা কর্মের দিক দিয়ে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত।
( 104 )   তারাই সে লোক, যাদের প্রচেষ্টা পার্থিবজীবনে বিভ্রান্ত হয়, অথচ তারা মনে করে যে, তারা সৎকর্ম করেছে।
( 105 )   তারাই সে লোক, যারা তাদের পালনকর্তার নিদর্শনাবলী এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয় অস্বীকার করে। ফলে তাদের কর্ম নিষ্ফল হয়ে যায়। সুতরাং কেয়ামতের দিন তাদের জন্য আমি কোন গুরুত্ব স্থির করব না।
( 106 )   জাহান্নাম-এটাই তাদের প্রতিফল; কারণ, তারা কাফের হয়েছে এবং আমার নিদর্শনাবলী ও রসূলগণকে বিদ্রূপের বিষয় রূপে গ্রহণ করেছে।
( 107 )   যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদের অভ্যর্থনার জন্যে আছে জান্নাতুল ফেরদাউস।
( 108 )   সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, সেখান থেকে স্থান পরিবর্তন করতে চাইবে না।
( 109 )   বলুনঃ আমার পালনকর্তার কথা, লেখার জন্যে যদি সমুদ্রের পানি কালি হয়, তবে আমার পালনকর্তার কথা, শেষ হওয়ার আগেই সে সমুদ্র নিঃশেষিত হয়ে যাবে। সাহায্যার্থে অনুরূপ আরেকটি সমুদ্র এনে দিলেও।

( 110 )   বলুনঃ আমি ও তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের ইলাহই একমাত্র ইলাহ। অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন, সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার এবাদতে কাউকে শরীক না করে।