শনিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৭

ডা. জাকির নায়েক (পর্ব-১)

ডা. জাকির নায়েক (পর্ব-১)
Zobayer Hosain ভাই আমাদের ইনবক্সে লিখেছেনঃ
As salamu alaikum vai. Apni kmn Achen?? Apni, Zakir Naiek er shob gulo vule nia ekta post diben plz. Allah apnake valo rakhun.
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি বারাকাতুহু। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ ভালো রেখেছেন। আপনি কেমন আছেন? আল্লাহ আপনাকেও অনেক ভালো রাখুন, আমিন। আমি কিছু লিখবো ইনশা আল্লাহ।
__________________________
বর্তমান সময়ে কিছু অল্প বয়ষ্ক লোক রয়েছে যারা দাবী করছেঃ
(১) আমি শুধু ক্বুরআন ও হাদীস মানি, কোন আলেমের তাকলীদ করিনা।
(২) আলেমদেরকে মানা হারাম।
(৩) আমার জন্য শুধু ক্বুরআন ও হাদীসই যথেষ্ঠ, কোন আলেম লাগবে না।
- যদিও তারা দাবী করছে তারা শুধু ক্বুরআন ও হাদীস মানে, কিন্তু সত্যি কথা হচ্ছে তারা নিজেরা ক্বুরআন ও হাদীস পড়েনা বা জানে না। আলেম ওলামাদের সাহায্য ব্যতীত, শুধুমাত্র নিজের যোগ্যতার ক্বুরআন ও হাদীস বুঝা ও ব্যখ্যা করার মতো যোগ্যতায় তারা এখনো পৌঁছাতে পারে নি। কিছু বক্তা ও লেখকদের দুই-চারটা লেকচার শুনে আর কিছু ছোট ছোট কিছু বই পড়ে সামান্য ইলমের স্বাদ পেয়ে তারা মনে করছে, আলেম ওলামাদের সাহায্য ছাড়াই সরাসরি ক্বুরআন ও হাদীস ব্যখ্যা করার ও ফতোয়া দেওয়ার মতো যোগ্যতায় পৌঁছে গেছে। তাদের অনেকে আলেমদের মর্যাদা ও প্রয়োজনীয়তা এবং উসুলে ফিকহকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করে নিজেই ফতোয়াবাজি করে লোকদেরকে বিভ্রান্ত করছে।
- জোরে আমিন বলা, রুকুর পূর্বে ও পরে রাফউল ইয়াদাইন করা এমন দুই-চারটা আমল দেখে অনেকে তাদেরকে আহলে হাদীস বা সালাফী বলে মনে করে, অথচ আহলে হাদীস বা সালাফী দাওয়াতের সাথে এমন অজ্ঞতা-মূর্খতার কোন সম্পর্ক নেই।
- এই সমস্ত লোকেরা যদিও বলে, তারা শুধু ক্বুরআন ও হাদীস মানে, কোন আলেমের তাকলীদ করেনা। কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে, তারা ডা. জাকির নায়েকের অন্ধ অনুসরণ করে, এবং তাকে একমাত্র, অদ্বিতীয় আলেম, তার মতো আলেম দুনিয়াতে আর কেউ নেই বলে মনে করে।
__________________________
আজ আমি ডা. জাকির নায়েকের কয়েকটা ভুল তুলে ধরবো, এবং তার কিছু অনুসারী জেনেই হোক কিংবা না জেনে অন্ধভাবে তার অনুসরণ করছে, তার প্রমান আমি দিবো ইন শাল্লাহ।
__________________________
বিগত ৯-ই জানুসায়ী, ২০১৭-তে আমাদের পেইজে এটা লেখা পোস্ট করেছিলাম, যা নিন্মরূপঃ
(১) আল্লাহ কি সবকিছু করতে পারেন?
উত্তরঃ হ্যা, আল্লাহ সবকিছু করতে পারেন। দলীলঃ
وَكَانُوا أَشَدَّ مِنْهُمْ قُوَّةً ۚ وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعْجِزَهُ مِنْ شَيْءٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ ۚ إِنَّهُ كَانَ عَلِيمًا قَدِيرًا
বাংলা অনুবাদঃ আল্লাহ এমন নন যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর কোন কিছু তাঁকে ব্যর্থ করতে পারে। নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান। সুরা ফাতিরঃ ৪৪।
English Translation : Allah is not such that anything in the heavens or in the earth escapes Him. Verily, He is All Knowing, All Omnipotent. Sura Fatir: 44.
ডা. মুহসিন খান قَدِيرًا এর অর্থ করেছেন,
Omnipotent- having unlimited power, able to anything.
.
وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
বাংলা অনুবাদঃ আর তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। সুরা আল-মুলকঃ ১।
English Translation : and He is Able to do all things. Sura al-Mulk: 1.
.
(২) আল্লাহ কি সন্তান জন্ম দিতে পারেন?
উত্তরঃ সন্তান জন্ম দেওয়া আল্লাহর কাজ নয়। অথবা বলতে হবে, সন্তান জন্ম দেওয়া আল্লাহর জন্য শোভনীয় নয়। দলীলঃ
مَا كَانَ لِلَّهِ أَنْ يَتَّخِذَ مِنْ وَلَدٍ
বাংলা অনুবাদঃ সন্তান গ্রহণ করা আল্লাহর কাজ নয়। সুরা মারইয়ামঃ ৩৫।
English Translation : It befits not (the Majesty of) Allah that He should beget a son." Sura Maryam: 35.
.
(৩) কিন্তু কখনো এই কথা বলা যাবে না যে, আল্লাহ সন্তান জন্ম দিতে পারেন না, অথবা, আল্লাহ অমুক কাজ করতে পারেন না। এইভাবে বললে আল্লাহর প্রতি অক্ষমতা আরোপ করা হয়, অথচ আল্লাহ স্বয়ং নিজে বলছেন, তিনি সব কিছু করতে সক্ষম। আল্লাহ সবকিছু করতে পারেন না, আল্লাহ অমুক কাজ করতে পারেন না বললে আল্লাহর সব কিছু করার ক্ষমতাকে অস্বীকার করে তাঁর প্রতি অক্ষমতার মিথ্যা আরোপ করা হয়।
সন্তান জন্ম দেওয়া, নিজেকে ধ্বংস করা, আল্লাহর মতো দ্বিতীয় আল্লাহ সৃষ্টি করা (নাউযুবিল্লাহি মিং যালিক) - এই ধরণের কাজগুলো ঘোড়ার ডিমের মতোই অসম্ভব ও অস্তিত্বহীন কাজ। এই ধরণের কথা ও কাজ আল্লাহর সুমহান নাম, গুণাবলী ও মর্যাদার সাথে শোভনীয় নয়। কোন কাফের, মুশরেক, নাস্তিক বা মূর্খ ব্যক্তি যদি এই ধরণের প্রশ্ন করে উত্তর বলতে বলতে হবে, এই কাজ আল্লাহর সুমহান গুণাবলী ও মর্যাদার সাথে শোভনীয় নয়
.
(৪) শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, আহলে সুন্নাহর মত অনুযায়ী সবকিছুর পরেই আল্লাহ তালার ক্ষমতা রয়েছে, এবং যা বাস্তব তার সবকিছুই এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। আর এমন সব জিনিস যা সহজাতরূপেই অসম্ভব, যেমন এমন কিছু যা একই সাথে অস্তিত্ববান আবার অস্তিত্বহীন, যার মধ্যে কোন বাস্তবতা নেই এবং যার অস্তিত্ব কল্পনাও করা যায়না, পূর্ববর্তী আলেমদের ইজমা (ঐক্যমত) অনুযায়ী এমন কিছুকে কোন জিনিস হিসেবে অবিহিত করা যায়না। এর অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে (আল্লাহ কি) তাঁর অনুরূপ দ্বিতীয় কাউকে সৃষ্টি করতে পারেন ইত্যাদি এমন ধরণে কথা। মিনহাজ আ-সুন্নাহঃ ২/২৯৪
ইমাম ইবনুল কায়্যিম রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, যেই জিনিসটা অবাস্তব তা কোন জিনিস হতে পারেনা, কাজেই তাঁর (আল্লাহ) ক্ষমতার সাথে এর কোন সম্পর্কই নেই। সবকিছুর ওপরেই আল্লাহর ক্ষমতা আছে এবং কোন বাস্তব জিনিস আল্লাহর ক্ষমতার উর্ধে নয় শিফা আল-আলীলঃ ৩৭৪
(৫) আল্লামাহ সালিহ আল-ফাউজান হাফিজাহুল্লাহকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো,
প্রশ্নকর্তাঃ বর্তমান বিশ্বে একজন বিখ্যাত বক্তা দাবী করেছে, আল্লাহ সবকিছু করতে পারেন না। আমি ১০০০ জিনিসের নাম জানি যেইগুলো আল্লাহ করতে পারেন না। সে কি পথভ্রষ্ট বক্তা? আমরা কি তার ব্যপারে লোকদেরকে সতর্ক করবো?  
শায়খ ফাউজান হাফিজাহুল্লাহ উত্তরে বলেছেন, যে ব্যক্তি বলে যে, আল্লাহ সবকিছু করতে পারেন না, সে একজন মুলহিদ, সে আল্লাহর আসমা ও সিফাতের ব্যপারে ইলহাদ করেছে। এই বক্তা সত্যের উপরে প্রতিষ্ঠিত নয়।
*মুলহিদ বলা হয় এমন ব্যক্তিকে, যে আল্লাহর আসমা ও সিফাতের ব্যপারে ইলহাদ করেছে, হয় আল্লাহর আসমা ও সিফাতকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে অথবা, আল্লাহর আসমা ও সিফাতের অর্থ এমনভাবে বিকৃত করা যা আল্লাহর জন্য শোভনীয় নয়।
আমি ফতোয়াটা সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি, যারা শায়খের নিজের ভয়েস থেকে সম্পূর্ণ ফতোয়া শুনতে চান তারা এই লিংক দেখুন
https://www.youtube.com/watch?v=JpCraS7tlBY
__________________________
উপরে ক্বুরআনে আয়াত এবং শায়খ ফাউজানের প্রশ্নের উত্তর থেকে আসলে পরিষ্কার, আল্লাহ সব কিছুই করতে পারেন, এটা আল্লাহর একটা সিফাত। ক্বুরআন, হাদীস, আজ পর্যন্ত মুসলিম আলেমদের ফতোয়া - আপনারা কোথাও খুঁজে পাবেন না যে, আল্লাহ কোন কাজ করতে পারেন না। একারণে যে ব্যক্তি বলে যে, আল্লাহ ১০০০টা কাজ করতে পারেনা, সে আসলে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা অপবাদ দিলো। আর আল্লাহ সম্পর্কে যে মিথ্যা অপবাদ রচনা করে, তার সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ কি বলেছেন দেখুন, তার চাইতে বড় জালেম আর কে আছে, যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা কথা রচনা করে? সুরা কাহফঃ ১৫।
আল্লাহর কোন আসমা বা সিফাতকে অস্বীকার করাকে ইলহাদ বলা হয়। একারণে যে ব্যক্তি দাবী করে যে, আল্লাহ সব কিছু করতে পারেন না, শায়খ ফাউজানকে তার ব্যপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি তাকে মুলহিদ বলে ফতোয়া দিয়েছেন। ইলহাদ কি এবং ইলহাদ করার হুকুম কি, এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসায়মিন রহিমাহুল্লাহর ফতোয়া আরকানুল ইসলামের এই ফতোয়াটা দেখুন -
https://www.facebook.com/dawati.kaj/posts/1846373775634779?pnref=story
.
যাই হোক, আল্লাহ কি সবকিছু করতে পারেন? - আমার এই পোস্ট লিখার প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো, এক ভিডিওতে ডা. জাকির নায়েক বলেছেন, আল্লাহ সব কিছু করতে পারেন না। এমনকি কথা বাড়াতে বাড়াতে তিনি অন্য এ জায়গায় দাবী করেছেন, তিনি এক হাজারটা কাজের নাম বলতে পারবেন যা আল্লাহ করতে পারেন না। ডা. জাকির নায়েকের বক্তব্যের লিংক

(১)
আল্লাহ সব কিছু করতে পারেন? - ডা. জাকির নায়েক। (১:৪৮ সেকেন্ড)
https://www.youtube.com/watch?v=X6Ycq73ddvM
.
(২) আমি ১০০০টা জিনিসের নাম জানি, যেইগুলো আল্লাহ করতে পারেন না (৫:১৮ সেকেন্ড)
https://www.youtube.com/watch?v=2p9acLJEka0
.
(৩) আল্লাহ সব কিছু করতে পারেন বলা অযৌক্তিক (৪:১৯ সেকেন্ড)
https://www.youtube.com/watch?v=Yf5lm3aDhgY
.
নাউযুবিল্লাহি মিং যালিক। মূলত তার এই কথা থেকে লোকদেরকে সতর্ক করার জন্য আমি তার নাম উল্লেখ না করে শুধুমাত্র ভুলটা তুলে ধরেছি। স্পষ্ট কুরআনের আয়াত এবং একজন বিজ্ঞ আলেমের ফতোয়া উল্লেখ করার পরেও, তার কিছু ভক্ত কোনরূপ চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই ডা. জাকির নায়েকের এই কুফুরী কথাকে অন্ধভাবে সমর্থন করে আমাদের পোস্টে মন্তব্য করেছেন,
MD Saiful Islam : জাকির নায়েক তো ঠিক-ই বলেছে। আপনি কি অস্বীকার করতে পারবেন, আসমান, যমিন, আকাশ, পাতাল, সবখানেই আল্লাহর রাজত্ব নেই? যদি সবখানেই আল্লহর রাজত্ব থেকে থাকে, তাহলে একজন ব্যাক্তিকে আল্লাহ যেদিকেই নিয়ে যাকনা কেন, আল্লাহর রাজত্বের ভিতরেই তো সে ব্যাক্তি টি থাকবে। তা নয় কি? যদি না বুঝেন বলেন, উদাহরন দিয়ে বুঝিয়ে দিব ইনশাআল্লাহ।
দেখুন আমাদের এই ভাই ক্বুরানের কথা গ্রহণ না করে, আলেমদের বক্তব্য গ্রহণ না করে কিভাবে নিজের পছন্দের ব্যক্তির কুফুরী কথাকে ভ্রান্ত যুক্তি দিয়ে অন্ধভাবে সমর্থন করছেন। এটা যদি তাকলীদ না হয়, তাহলে তাকলীদ কাকে বলে।
Mizanur Rahman নামক অন্য একজন এক ডিগ্রী বেশি মন্তব্য করেছেন, জাকির নায়েকের কথা ঠিক আছে। তার কথা অনেক উচ্চাঙের, তাই অনেকে ভুলও বুঝে ফেলে
আমরা যখন চরমোনাই পীরের শিরক ও বিদাতের সমালোচনা করি তখন তাঁর মুরিদেরাও ঠিক এইভাবে দাবী করে যে, তাদের পীরের কথা অনেক উঁচু পর্যায়ের, আমরা নাকি বুঝতে পারছিনা!
তাহলে এই সমস্ত পীর-মুরিদের সাথে আমি শুধু ক্বুরআন ও হাদীস মানি এই যিকিরকারী অন্ধভক্তদের পার্থক্য থাকলো কোথায়?
26 June 2016 এই তারিখে Shahidul Islam Naik নামক এক লোক ডা. জাকির নায়েকের আল্লাহ সবকিছু করতে পারেন না এই কথার পক্ষে কলম ধরতে গিয়ে সে প্রশ্ন করেছে, আপনি কি বিশ্বাষ করেন আল্লাহ সবকিছু করতে পারেন? আমরা মুসলিমরা কখনোই বলিনা আল্লাহ সব কিছু করতে পারেন
এটা আশ্চর্যের কোন বিষয় নয় যে, Shahidul Islam Naik এর এমন অজ্ঞতাপূর্ণ কুফুরী কথাতেও ৩৬০ জন অবিবেচক মানুষ লাইক দিয়ে রেখেছে, আর ৫০-৬০ জন কমেন্টে লেখাটিতে বাহবা দিচ্ছে। আপনারা ভুলে যাবেন না, বর্তমানে আমরা কিয়ামতের পূর্বের সে জামানায় আছি, যেই জামানা সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে পূর্বেই সতর্ক করেছিলেন, কেয়ামতের পূর্বে অজ্ঞতা ব্যপকতা লাভ করবে অন্য হাদীসে আছে, অজ্ঞতা (এতো বেশি হবে যেন) বৃষ্টির মতো বর্ষিত হবে

আপনার দ্বীন সম্পর্কে জানুন

(১) নারীরা ঈদের দিন, বিয়ে উপলক্ষ্যে আনন্দ উদযাপনের জন্য ছোট বালিকাদের কন্ঠে গাওয়া গান শুনতে পারবে। আর সেই ক্ষেত্রে ধফ, যা একমুখী তবলার মতো, সেটা ব্যবহার করতে পারবে।
(২) মুসলিম নারী ও পুরুষদের জন্য উত্তম হচ্ছে সুন্দর ও উপদেশ মূলক কবিতা বা ছন্দ। সীমা লংঘন না হলে এইগুলো বলা, লিখা ও শোনা - সবই জায়েজ। এমনকি স্বয়ং রাসুল সাঃ ছোট কবিতা শুনেছেন, সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত। তবে বর্তমানে কন্ঠ সুন্দর করে গানের মতো যেইগুলো গাওয়া হচ্ছে, মানুষ যেইগুলোকে আদর করে নাশিদ বা ইসলামিক গান নাম দিয়েছে - এইগুলো হচ্ছে ফিতনাহ ও বাকোয়াজ।
(৩) মসজিদে জামাত হয়ে গেলে পরে যারা পৌঁছাবে, তারা কয়েকজন বা অন্তত দুইজনে মিলে জামাত করা যাবে, জামাতের সওয়াব পাওয়া যাবে। এতে কোন বাঁধা নেই, জামাতের পরে দ্বিতীয় জামাত সহীহ মুসলিমের সালাত অধ্যায়ের সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত।
(৪) ফরজ গোসল থাকা অবস্থায় পশু জবাই করা যাবে, কোন সমস্যা নেই।
(৫) যে কোন ফরয নামায একা পড়ার সময় ইকামত দেওয়া ভালো, দিলে সওয়াব পাবেন। না দিলেও নামায হবে।
(৬) আপনারা শুধুমাত্র টিভি, ফেইসবুক, ইন্টারনেটের উপর নির্ভর না করে সত্যিকারে আলেম উলামাদের (যেমন শায়খ বিন বাজ, শায়খ ইবনে উসায়মিন, শায়খ ফাউজান...) ওয়াজ-লেকচার শুনে কিংবা বই-পুস্তক পড়ে দ্বীন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান করবেন। সঠিক জিনিস জানা থাকলে কোনটা সঠিক, কোনটা ভুল ধরতে পারবেন। আমি একটা উদাহরণ দেই। জনপ্রিয় ইসলাম প্রচারক ডা. জাকির নায়েক বলেছেন, "আল্লাহ সব কিছু করতে পারেন না, আমি ১০০০টা জিনিসের নাম জানি, যেইগুলো আল্লাহ করতে পারেন না।" নাউযুবিল্লাহি মিং যালিক! জ্ঞান থেকে বঞ্চিত একশ্রেণীর অল্প ইলম সম্পন্ন লোকেরা ডা. জাকির নায়েকের প্রতি অন্ধ ভক্তিতে এই কুফুরী যুক্তিটাকে সঠিক মনে করছে এবং এটা মানুষের মাঝে প্রচার করছে। কোন ব্যক্তির অন্ধ অনুসরণ দ্বীনকে নষ্ট করে, আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন।
(৭) Mufassial Islam, লিমন ফকির, Asad noor - এই তিন ধর্মত্যাগী শয়তান ইসলামের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যাচার করছে। সাধারণ মানুষের দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের অভাব, একারণে তারা অনেককে বিভ্রান্ত করছে বা ক্বুরআন ও হাদীস নিয়ে সন্দেহের মাঝে ফেলছে। আপনারা নির্ভরযোগ্য মাধ্যম থেকে দ্বীন শিখবেন, এবং সমস্ত মন পূজারী, বিদআ'তী, পথভ্রষ্ট কিংবা নাস্তিকদের লেখা ও কথা থেকে দূরে রাখবেন, কারণ এরা অন্তরে ব্যাধির জন্ম দেয়। এদেরকে গালি-গালাজ করে বা এদের সাথে তর্ক করে সময় নষ্ট করবেন না, তবে এদের শয়তানী সম্পর্কে মুসলিমদেরকে সতর্ক করবেন। এদের মধ্যে কোন এক শয়তান বুখারীতে বর্ণিত সহীহ হাদীস সম্পর্কে সন্দেহে ফেলার চেষ্টা করছে। এমনই একটি হাদীসঃ
আনাছ ইবনে মালিক ও কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত: তারা বলেন, নবি (সাঃ) দিনে বা রাতে পর্যায়ক্রমে (মধ্যবর্তি ফরজ গোসল ছাড়া) ১১ জন বিবির সঙ্গে সঙ্গম করতেন। (৯ জন বিবাহ সুত্রে ও ২ জন শররিয়তী
স্বত্বাধিকার সুত্রের) কাতাদা বলেন, আমি আনাছকে (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলাম, হযরতের কি এতই শক্তি ছিল?
তিনি বললেন,আমাদের মধ্যে এই কথা প্রসিদ্ধ ছিল যে, রাছুলাল্লাহর ৩০ জন পুরুষের শক্তি আল্লাহর তরফ থেকে
প্রাপ্ত ছিলেন। [দ্র: বোখারী, ১ম খ. ১২ সংস্করণ, আ. হক, হাদিছ নং-১৯০,পৃ: ১৪৫; হামিদিয়া লাইব্রেরী]
এই হাদীস বর্ণনার পরে সেই শয়তান লিখেছেঃ
"আমার প্রশ্ন রাসুল (সাঃ) ১১ জন বিবির সঙ্গে সঙ্গম করতেন আর এটা কি সে সাহাবাদের সামনে এসে বলতেন? আসলে কি বলতে পারে? নাকি সাহাবাদের সেই দৃষ্টতা ছিলো যে, রাসুল (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করতে পারে। এমন পেট বানানো হাদীস গুলি রাসুল (সাঃ) মত পবিত্র মহান মানুষটিকে খাটো করেছে। আসলে ভাবতে হবে কোরআন আর হাদীস কি? কোরআন সোষ্টার আর হাদীস সৃষ্টির। কোরআন স্বা পামাণে নিজেই অটুট আর হাদীস নিজের প্রামাণে শত শত কেতাব আর উপমা দিয়ে বোঝাতে আজ শত শত বছর ধরে লড়ছে।"
এই শয়তানের সন্দেহের উত্তরঃ

১১ জন স্ত্রীর ব্যপারটা বলি, রাসুল সাঃ প্রত্যেক বিবির ঘর আলাদা ছিলো, আর রাতে তাঁর ঘরের পাশে সর্বদা একজন সাহাবী খেদমত ও পাহারার জন্য প্রস্তুত থাকতেন। তাই রাসুল সাঃ এক রাতে কতজন বিবির ঘরে যেতেন, সেই সাহাবীর জন্য জানা খুব স্বাভাবিক ব্যপার ছিলো। আর রাসুল সাঃ সেই সাহাবীর কাছে এক রাতে গোসল করার জন্য কতবার পানি চাইতেন, সেটা বর্ণনা করা সেই সাহাবীর জন্য খুব সহজ। এভাবেই আসলে আমরা জানতে পেরেছি যে, রাসুল সাঃ এক রাতে তাঁর সব বিবিদের সাথে অবস্থান করেছেন। এর জন্য রাসুল সাঃ নিজের এই কথা সাহাবীদেরকে বলার প্রয়োজন ছিলো না। অথচ এই আহাম্মক শয়তান হাদীসের অর্থ বুঝতে না পেরে হাদীসটাকে পেট বানানো হাদীস বলছে, নাউযুবিল্লাহ। আল্লাহ এদেরকে হেদায়েত করুন, আর নয়তো এদেরকে ধ্বংস করে এদের অনিষ্ট থেকে মুসলিমদেরকে হেফাজত করুন। ইসলামী আইন না চালু থাকায় যেমন নাস্তিক-মুর্তাদেরা যা খুশি বলছে, ঠিক তেমনি এই খবিস মুসলমান নাম নিয়ে মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে। আপনারা এমন শয়তানদের থেকে সাবধান! 

Ijharul islam al-kawsary - "দেওবন্দী"

Ijharul islam al-kawsary - এই নামে এক "দেওবন্দী" অনলাইনে লিখালিখি করে।
____________________________
Ijharul islam al-kawsary তার এক পোস্টে লিখেছেঃ "হুলুলিয়া আকিদার প্রথম ফেরকা বিশ্বাস করে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টির প্রত্যেক অণুতে বিন্দুতে আছেন। সব সৃষ্টির মাঝেই আল্লাহ আছেন...যারাই বিশ্বাস করে যে আল্লাহ তায়ালা সত্ত্বাগতভাবে মাখলুকের মাঝে প্রবেশ করেন, তারাই হুলুলের আকিদায় বিশ্বাসী।"
.
Ijharul islam al-kawsary এর কথা অনুযায়ী দেওবন্দীদের মাঝে হুলুল এর আকিদার প্রমানঃ
প্রশ্ন করা হয়েছিল -
১. আল্লাহ কি সবজায়গায় বিরাজমান?
২. আল্লাহ কি একই সাথে সবজায়গায় বিরাজমান?
৩. আল্লাহ কি সবকিছুর ভিতরে আছেন?
হিন্দুস্থানের দেওবন্দী আলেমদের ফাতাওয়াঃ
১. জি, হ্যা। আল্লাহ তাআলা সব জায়গায় আছেন।
২. জি হ্যা। একই সময়ে তিনি সর্বত্র বিরাজমান।
৩. সকল বস্তুর মাঝেই আল্লাহ তাআলা রয়েছেন।
এ সবগুলো বিষয় কুরআনের আয়াত দ্বারা সাব্যস্ত।
[সূত্রঃ দারুল উলুম দেওবন্দ, উর্দু ফাতাওয়া নং- ৩২৬৪২]
.
শিরকি ফতোয়ার লিংক -
http://darulifta-deoband.org/showuserview.do?function=answerView&all=ur&id=32642&limit=1&idxpg=0&qry=%3Cc%3EFAB%3C%2Fc%3E%3Cs%3EISB%3C%2Fs%3E%3Cl%3Eur%3C%2Fl%3E
____________________________
Ijharul islam al-kawsary লিখেছেঃ "হুলুলিয়া আকিদার দ্বিতীয় ফেরকার বিশ্বাস হলো আল্লাহ তায়ালা আসমানে রয়েছেন। কেউ কেউ বিশ্বাস করে আল্লাহ তায়ালা মেঘের উপরে রয়েছেন। কেউ কেউ আল্লাহ তায়ালাকে সুনির্দিষ্ট দিকে সীমাবদ্ধ মনে করে থাকে যেমন আল্লাহ তায়ালা উপরের দিকে রয়েছেন। যারা আল্লাহ তায়ালাকে একটি দিকে রয়েছেন বলে বিশ্বাস করে তারাও মূলত: হুলুলের আকিদায় বিশ্বাস রাখে।"
- তাহলে রাসুলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি হুলুলিয়া আকিদা রাখতেন নাকি? নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক। বিস্তারিত এই পোস্টে দেখুন -
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/1453600488006027:0?__mref=message_bubble
.
ইজহারীর যা বলেছে (হুলুলিয়া আকিদার দ্বিতীয় ফেরকার বিশ্বাস হলো আল্লাহ তায়ালা আসমানে রয়েছেন), এই কথা আমাদের পূর্ববর্তী কোন আলেম বলেছেন কি?
বরং পূর্ববর্তী আলেমদের ফতোয়াতে পাওয়া যাচ্ছে -
ইমাম ইবনে খুযাইমা (মৃত্যুঃ ৩১১ হিজরী) রাহিমাহুল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি স্বীকার করে না যে, আল্লাহ তাআলা সাত আকাশের উপরে স্বীয় আরশে সমুন্নত, সৃষ্টি জগত হতে সম্পূর্ণ আলাদা, সে ব্যক্তি কাফের। তাকে তওবা করার নির্দেশ দিতে হবে। সে যদি তওবা না করে, তাহলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। অতঃপর তার লাশ ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করতে হবে, যাতে করে কিবলা ওয়ালা মুসলমানগণ এবং জিজিয়া (কর) প্রদানকারী অমুসলিমগণ তার দুর্গন্ধে কষ্ট না পায়। ইমাম আয-যাহাবী রাহিমাহুল্লাহ প্রণীত মুখতাছার উলু দ্রষ্টব্য।
____________________________
ইমাম ইবনে খুযাইমা রাহিমাহুল্লাহ কি হুলুলিয়া আকিদা রাখতেন নাকি?
একারণেই ভাবতে খুব অবাক লাগে না Ijharul islam al-kawsary দেওবন্দীর ধর্মগুরু, জাহমী আকিদার অনুসারী যাহেদ আল-কাউসারী কেনো ইমাম ইবনে খুযাইমা এবং অন্যান্য আলেমদেরকে গালি-গালাজ করতো। উল্লেখ্য, ইযহারের নামের সাথে কাউসারী মূলত তার ধর্মগুরু যাহেদ কাউসারীর নামের সাথে মিলিয়ে রেখেছে।
____________________________
উলামাদের দৃষ্টিতে আবু গুদ্দাহ এবং তার উস্তাদ যাহেদ আল-কাউসারিঃ
আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ যাহেদ আল-কাউসারি এবং হাসান আল-বান্নার মতো ব্যক্তিদের ছাত্র ছিলেন। জাহমিয়া আক্বিদাহর লোক যাহেদ আল-কাউসারি ইবনে তাইমিয়া, ইবনুল কাইয়্যিম এত মতো যুগশ্রেষ্ঠ আলেমদেরকে মালাউন, ষাড় বা এর চাইতে নিকৃষ্ট ভাষায় গালি-গালাজ করেছিলো, আল্লাহু মুস্তায়ান! আবু গুদ্দা তার জাহমিয়া গুরুর মানহাজের উপরেই ছিলেন, যে কারণে ওলামারা জাহেদ আল-কাউসারীর পাশাপাশি তার ছাত্র আবু গুদ্দাহর ব্যপারেও উম্মতকে সতর্ক করেছেন। হাসান আল-বান্নার প্রতিষ্ঠিত সালাফী-সূফী(!) মানহাজের উপর প্রতিষ্ঠিত ইখওয়ানুল মুসলিমিনে আবু গুদ্দাহ দীর্ঘদিন বড় পজিশানে আসীন ছিলেন। যাহেদ আল-কাউসারি এবং হাসান আল-বান্না - এই দুইজনই বিংশ শতাব্দীতে সালাফী আক্বীদাহ এবং মানহাজের বিরোধীতাকারীদের মাঝে শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
__________________________
যাহেদ আল-কাউসারিকে শায়খ বিন বাজ (রাহিমাহুলাহ) অপরাধীপাপী বলে সম্বোধন করেছিলেন। উম্মুল কুরার একজন প্রভাবশালী সূফী প্রফেসর ততকালীন বাদশাহর কাছ থেকে অনুমতি এনে তাদেরকে (কাউসারী ও আবু গুদ্দাকে) শিক্ষকতা করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তাই তাদেরকে কেউ কিছু করতে পারেনি।

সাউদী আরবের কিবারুল উলামার সদস্য, শায়খ বাকর বিন আবু যাইদ (রাহিমাহুল্লাহ) তার এক বইয়ে তাদের মানহাজ উন্মোচন করেছিলেন। শায়খ বিন বাজ (রাহিমাহুল্লাহ) অনেক খুশি হয়ে বাকর বিন আবু যাইদ এর প্রশংসা করেন ও ধন্যবাদ দিয়ে একটি পত্র লিখে পাঠান।

শায়খ বিন বাজ (রাহিমাহুলাহ) পত্রে লিখেন যে, কাউসারি ঈমানদার পরহেজগার ব্যক্তি ও উলামাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করেছেন। আমরা তার ছাত্র আবু গুদ্দাকে তার উস্তাদের এই সব ব্যপার হতে তওবা করে দূরে সরে আসার জন্যে বারবার বিশেষভাবে আহবান জানাই, কিন্ত সে তা মেনে নেয়নি। বরং, সে তার উস্তাদের মানহাজের উপর অটল রয়েছে। আল্লাহ তাকে হেদায়েত করুন এবং তার অনিষ্ট হতে মুসলিমদের হেফাজত করুন।
__________________________
ফুযাইল ইবনে আইয়ায রাহিমাহুল্লাহ বলেন, তুমি কোন আহলুল বিদআহর লোকের সাথে বসবেনা। আমি ভয় করি যে, তুমি যদি কোন বিদআতির সাথে বসো, তাহলে আল্লাহর অভিশাপ তোমার উপরেও আসবে।
[ইমাম আল-বারবাহারী, শরাহুস সুন্নাহ]

ইমাম সুফিয়ান আস-সাউরি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি একজন বিদআতির কথা শ্রবণ করে, সে আল্লাহর হেফাজত থেকে নিজেকে বের করে নিলো, এবং তাকে তার উপরেই ছেড়ে দেওয়া হবে।
[ইমাম আল-বারবাহারী, শরাহুস সুন্নাহ]
__________________________
আরো কিছু দেওবন্দী দাবী করছে, আহলে হাদীস শায়খরা অন্যায়ভাবে দেওবন্দী আলেমরা ওহদাতুল ওজুদ আকিদা রাখে দাবী করছে, কিন্তু আসলে দেওবন্দী আলেমরা ওহদাতুল ওজুদ আকিদা রাখে না।
- যে ব্যক্তি দাবী করবে যে, দেওবন্দী ওহদাতুল ওজুদের আকিদাহ রাখেনা সে মিথ্যুক।
দেওবন্দী আলেমদের মুর্শিদ, আশরাফ আলি থানভী, রশিদ আহমেদ গাংগোহীদের পীর ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মাক্কি তার জিয়াউল কুলুব বইয়ে লিখেছেঃ তাওহিদের জাতি হচ্ছে এই যে, বিশ্ব জগতের সব কিছুকে আল্লাহ বলে ধারণা করা। [নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক] যিয়াউল কুলুবঃ উর্দু ৩৫ পৃঃ।

মূল উর্দু বইয়ের স্ক্রীনশট সহ অনেক উদাহরণ দেওয়া আছে -
http://umm-ul-qura.org/2015/08/25/the-creed-of-the-deobandi-elders/

অলিপুরী কোন তরীকার হাক্কানী পীর?
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/videos/440996075996681/?__mref=message_bubble
____________________________


বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৭

নারী ও পুরুষের অধিকার নিয়ে ডা. জাকির নায়েকের ভুল ব্যখ্যা

আজ সন্ধ্যায় আমাদের পেইজে প্রকাশিত পুরুষের তুলনায় নারীর অধিকার কেমন? পোস্টে এক ভাই মন্তব্য করেছেন,
আপনি ডা. জাকির নায়েকের নারী এবং পুরুষের অধিকার নিয়ে লেকচারটি শুনলে সঠিক ব্যাখ্যাটা বুঝতে পারবেন। উনি বলেছেন সমান এবং এর সুন্দর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন।
উত্তরঃ ডা. জাকির নায়েক কোন আলেম নন, তার কথার ব্যপারে আপনারা সাবধান থাকবেন। বর্তমানে অল্প ইলম সম্পন্ন একশ্রেনীর লোকেরা অন্ধ ভক্তিতে মনে করেঃ ডা. জাকির নায়েক যা বলেন, তাই বুঝি ক্বুরআন ও হাদীসের মতো অভ্রান্ত! অথচ ক্বুরআন সম্পর্ক গভীর জ্ঞানের অভাবে ডা. জাকির নায়েক এমন কিছু কথা বলেছেন, যা ক্বুরআনের সাথে সুস্পষ্ট সাংঘর্ষিক। উপরে আপনি যা বলেছেন, সেটা তারই একটা উদাহরণ। আপনার কাছে যেটা সুন্দর ব্যখ্যা, ক্বুরআন ও হাদীসের সাথে মিলিয়ে দেখলে সেটা অজ্ঞতা ছাড়া আর কিছুই না। এই বিষয়ে আল্লাহ তাআলা ক্বুরআনুল কারীমে কি বর্ণনা করেছেন, নীচে আমি সংক্ষিপ্তভাবে তা উল্লেখ করছি। যারা অধিক জানতে আগ্রহী, তারা অন্ধভাবে টিভি, ইউটিউব বা ফেইসবুকের অনুসরণ না করে দ্বীনি বই-পুস্তক খুলে, আলেম-উলামাদের বক্তব্য শুনে নিজেদের সংশয় দূর করে নেবেন ইংশা আল্লাহ।
__________________________
(১) আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন,  
الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ
পুরুষ নারীর কর্তা। কারণ, আল্লাহ তাদের একজনকে (পুরুষকে) অপরের (নারীর) উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। সুরা আন-নিসাঃ ৩৪।
আয়াতের তাফসীরঃ এই আয়াতে পুরুষদের কর্তৃত্ব ও দায়িত্বশীলতার দুইটি কারণ বলা হয়েছে। প্রথমটি হল, আল্লাহ প্রদত্তঃ যেমন, পুরুষোচিত শক্তি ও সাহস এবং মেধাগত যোগ্যতায় পুরুষ সৃষ্টিগতভাবেই নারীর তুলনায় অনেক বেশী। (তাফসীর আহসানুল বায়ান)।
(২) উক্ত আয়াত ছাড়াও নারীর ওপর পুরুষের বিশেষ অধিকার ও প্রাধান্যের কথা ক্বুরআনুল কারীমের আরো বিভিন্ন স্থানে রয়েছে। যেমন, মহান আল্লাহ সুরা বাক্বারায় ইরশাদ করেছেন,
وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ ۚ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ ۗ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
পুরুষদের যেমন স্ত্রীদের ওপর অধিকার রয়েছে, তেমনি স্ত্রীদেরও অধিকার রয়েছে পুরুষদের ওপর নিয়ম অনুযায়ী। কিন্তু নারীদের উপর পুরুষদের কিছুটা মর্যাদা আছে। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। সুরা বাক্বারাহঃ ২২৮।
আয়াতের তাফসীরঃ বিশিষ্ট তাফসীরবিদ সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, আল্লাহ তাআলা পুরুষকে স্ত্রীলোকের তুলনায় বিশেষ উচ্চ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য দান করেছেন। তাফসীরে কুরতুবী।
এই আয়াতে নারীর ওপর পুরুষের শ্রেষ্ঠত্বের কথা স্পষ্টরূপে বর্ণনা করা হয়েছে। আর এই শ্রেষ্ঠত্ব যে মর্যাদার শ্রেষ্ঠত্ব, শুধু দায়িত্বের শ্রেষ্ঠত্ব নয়, তা বলাই বাহুল্য। এই আয়াতের তাফসীরে তা সুবিদিত।
(৩) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি যদি কাউকে কারো জন্য সিজদাহ করার আদেশ করতাম, তাহলে নারীকে আদেশ করতাম, সে যেন তার স্বামীকে সিজদাহ করে।’’ তিরমিযিঃ ১১৫৯।