হিজাব পর্দা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
হিজাব পর্দা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

Huge Difference!

Huge Difference!
(১) ঢাকা শহরের ব্যস্ত একটা রাস্তা। বিকেল বেলা হেঁটে বাসায় ফিরছি। রাস্তাটা যখন ক্রস করছি তখন আমার একটু সামনেই রিকশায় বসা একটা ছেলে ও মেয়ে, মেয়েটা বোরখা+নিকাব পড়া। ছেলেটা মেয়েটার নিকাব খুলে তার মুখে চুমা দিলো। অবৈধ প্রেমে (জিনায়) লিপ্ত নারী-পুরুষ, বুঝতে কষ্ট হয়না। তবে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, এখনো রাত হয়নি, রাস্তা ভর্তি মানুষ. . .কোন লজ্জা শরম নাই। এভাবেই চলছে আজকালকার যুগের ছেলে-মেয়েদের প্রেমলীলা। এভাবেই লম্পট প্রেমিকের পাল্লায় পড়ে কলেজ-ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া মেয়েরা ইজ্জত নষ্ট করছে। সহশিক্ষার রঙ্গিন দুনিয়ায় অনেক হিজাব-নিকাবী মেয়েরাও বাঁচাতে পারছেনা সাপের মনির চাইতেও মূল্যবান সম্পদ। হয়তোবা, হাদিসের কথা অনুযায়ী ভবিষ্যতে এদের ছেলে-মেয়েরাই গাধার মতো প্রকাশ্যে জিনা-ব্যভিচারে লিপ্ত থাকবে।
(২) বছর দুয়েক আগে আমাদের গ্রামের বাড়িতে দুপুর বেলা যুহরের সালাত পড়ে বাসায় ফিরছি। আমাদের বাসার পাশেই নতুন একটা মহিলা মাদ্রাসা চালু হয়েছে, অল্প দিনেই গ্রামের বেশ কিছু মেয়ে সেখানে পড়াশোনাও শুরু করেছে। আমাদের বাসা ও মহিলা মাদ্রাসার পাশের রাস্তায় উঠলাম, ছুটি হওয়ায় বড় ক্লাসের কয়েকটা মেয়ে বাড়ী ফিরে যাচ্ছে। প্রত্যেকটা মেয়ের পা থেকে মাথা পর্যন্ত কালো বোরখা দিয়ে ঢাকা, হাত মোজা, পা মোজা। এমনকি চোখও যাতে দেখা না যায় সেইজন্যে কালো সানগ্লাসও পড়েছে। আমি খুব অবাক হলাম, সারাজীবন গ্রামে বড় হওয়া মেয়েরা এতো এডভান্স চিন্তা করে কিভাবে? যাই হোক, যখন মেয়েগুলোকে মুখোমুখি রাস্তা ক্রস করার সময় হলো, আমাকে খুব অবাক করে দিয়ে মেয়েগুলো রাস্তার একপাশ ধরে দাঁড়িয়ে গেলো। আমি আশ্চর্য হয়ে মনে মনে সুবহান আল্লাহ বললাম। কারণ, এতদিন হাদীসে পড়েছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে মহিলা সাহাবীরা রাস্তার একপাশ ধরে একেবারে মিশে মিশে হাঁটতেন, যাতে করে কোন পুরুষের সাথে গা বা স্পর্শ লেগে না যায়। এই ব্যপারটা এতোদিন শুধু হাদিসের কিতাবেই পড়েছিলাম। আজকের যুগে মেয়েদের মাঝে ব্যপারটা দেখে সত্যিই এতো চমকে উঠেছিলাম যে, আজ পর্যন্ত সেই ঘটনাটা ভুলতে পারিনি।
যাই হোক, উপরের দুইটা ঘটনা। একটা নারী-পুরুষ সহাবস্থানের সো কলড আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিফলন। আরেকটা এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখান, ক্বুরান ও হাদীস শিক্ষা দেওয়া হয়, আল্লাহর আইন মেনে জীবন পরিচালনা করতে উৎসাহিত করা হয়। দুটোর কি ফলাফল এবং কিয়ামতের দিন তাদের কি প্রতিদান হবে, আর তাদের বাবা-মায়ের কি প্রতিদান হবে, এটা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা না করলেও বুঝতে কষ্ট হয়না।
বিঃদ্রঃ ১ - আমার এই লেখার উদ্দেশ্য এই না যে, কলেজ ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া সব ছেলে-মেয়ে খারাপ, আর মাদ্রাসা পড়ুয়া সব ছেলে-মেয়ে একেবারে ধোঁয়া তুলসি পাতা। ভালো খারাপ সব জায়গাতেই আছে, এমনকি আমার ও আপনার মাঝেও ভালো ও মন্দ স্বভাব আছে। তবে ক্বুরআন-হাদীস পড়া একজন মানুষ যে ক্বুরান ও হাদীস অনুযায়ী চলতে চায়, আর যে ক্বুরান হাদীস পড়েনা, শিরকি কুফুরী মতবাদ ও দার্শনিকতা পড়া, অশ্লীলতার গল্পর নাটক ও কবিতা পড়া, সুদ ও বীমার অংক করা, দুনিয়ার জন্যে যখন তখন তার দ্বীন বিক্রি করে প্রস্তুত এমন একজন মানুষের মাঝে কিছুনা কিছু যে পার্থক্য অবশ্যই থাকবে, এটা কানার ভাই অন্ধও বুঝে। আর সেইজন্য অধিকাংশ ছেলে ও মেয়েদের অবস্থা সামান্য একটু লক্ষ্য করলে খুব সহজেই সেটা ধরা পড়ে।
বিঃদ্রঃ ২ আমার এই পোস্ট কারো অনুভূতিতে আঘাত করলে তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।

#ফাহিশাহ_নারী #দাইয়ুস #তাবাররুজ #সহশিক্ষা #হিজাব_পর্দা #জিনা #দোররা #রজম #জাহান্নাম

রবিবার, ৩০ মার্চ, ২০১৪

ফেইসবুক না ফেতনাবুক?



ফেইসবুক না ফেতনাবুক?

ফেইসবুক মাধ্যমটার সমালোচনার শেষ নেই। এমনকি এই তথাকথিত ইসলামী পেজের নামেও অনেক ফেতনা ও পাপাচার হচ্ছে। এই ব্যপারে কিছু গাইডলাইন দেওয়া হলো – অবহেলা করবেন না। পাপে জড়িয়ে পড়া মানুষের জন্য সবচাইতে বড় বিপদ – কারণ এর প্রতিদান জাহান্নাম, নাউযুবিল্লাহ!

***নারীদের চেহারা দেখিয়ে (হিজাবী/আধা হিজাবী) ছবি দেখানো সম্পূর্ণ হারাম!
অনেক নারী বেপর্দা ছবি দিয়ে কমেন্ট করে। অনেক পুরুষ এতে তাদের দিকে আকৃষ্ট হয়ে তাদের প্রোফাইলে যায়, তাদেরকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠায়, তাদের সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে...এইভাবে কত যে কাহিনী ও কত পাপ হচ্ছে আল্লাহ ভালো জানেন। নারীরা ছবি দিয়ে কমেন্ট করবেন না, গায়ের মাহরাম পুরুষদেরকে ইসলামী সুরতে ফ্রেন্ড লিস্টে ঢুকাবেন না। আপনি দ্বীন শিখবেন আলেমদের কাছে থেকে তাদের বই পুস্তক পড়ে, ওয়াজ লেকচার শুনে – আপনার কোনো ছেলেকে ফলো করার দরকার নাই। আর কোনো পুরুষেরও দরকার নাই, ইসলাম শেখার নাম করে নারীদের ফলো করার। এই লোকটা মূর্খ, সহীহ আকীদার আলেম ওলামাদের কাছে না গিয়ে যে নারীদের পেছনের ঘুরে (বাস্তবেই হোক, ফোনে যোগাযোগ করে, মেয়ে বন্ধুর কাছ থেকে বা ফেইসবুকে ফ্রেন্ড হয়ে) সে আহলুল হাওয়া – প্রবৃত্তি পূজারী। এ আসলে নারীদের প্রতি আকৃষ্ট, দ্বীনের নামে আসলে মুখোশ পড়ে আছে।

১. নায়ক-নায়িকার ছবি প্রোপিক দিবেন না। এখনো ক্ষেতের মতো ফিল্ম স্টারের ছবি দিয়ে রাখেন? ভালো করে ইসলাম শিখুন...
২. অশ্লীল ছবি প্রোপিক দিবেন না। কি বাজে দেখা যায়, অশ্লীল ছবি দিয়ে রেখেছেন, আবার কমেন্ট করেন ইন শা’ আল্লাহ, মা শা’ আল্লাহ। দুইমুখী নীতি, কমস সেন্সের বিষয়।
৩. নারীর ছবি দিবেন না। এটা ফেইসবুকে সবচেয়ে বড় ফেতনা! নিজেদেরকে ফেতনাবাজের কাতারে ফেলবেন না। হিজাব পর্দা নারীদের সম্মান। ফেইসবুকে থার্ডক্লাস পুরুষদের লাইক পাওয়ার লোভে নিজেদের সম্মানকে বিসর্জন দেবেন না।
*অনেকে মনে করে মাথায় রুমাল বেঁধে মুখ খোলা নারীদের ছবি দেওয়া জায়েজ?...তথাকথিত অনেক ইসলামিক পেজে দেখি নারীদের ছবি আপলোড করে লাইক পাওয়ার আশায়...ভুয়া হিজাবীর ছবিতে অজ্ঞ মুসলমানেরা লাইক দেয়, শেয়ার করে, কমেন্ট করে মা শা’ আল্লাহ!
লা হা’উলা ওয়ালা ক্বুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ...যেমন এডমিন তেমন ফলোয়ার!
৪. পুরুষের ছবিও দিবেন না। দুনিয়ার সব নারী আপনার মাহরাম না। আপনার ছবি দিয়ে নারীদের ফেতনায় ফেলবেন না।
৫. দাঁড়ি বিহীন পুরুষের ছবিতো আরো মারাত্মক। নিজের পাপ কাজের হাজার হাজার স্বাক্ষী রাখছেন!
৬. বাচ্চাদের ছবি দেবেন না, বাচ্চাদের নযর লাগতে পারে।
৭. কার্টুনের ছবি দেবেন না। অনেকে দেখি এমন গার্ল কার্টুন দিয়ে রাখে বেপর্দা! অনেকে ভৌতিক, উদ্ভট, দেখতে খারাপ ছবি দিয়ে রাখে। কি আজিব...!
৮. কোনো প্রাণীর ছবি দিবেন না।
৯. প্রাণীর ছবি দিয়ে, অশ্লীল, অভদ্র, গালি সংবলিত ছবি দিয়ে কমেন্ট করবেন না। পেজে কুরআন ও হাদীস প্রচার করার চেষ্টা করা হয়। দয়া করে সেই পরিবেশ নষ্ট করবেন না।
১০. প্রোপিক হিসেবে ন্যাচারাল বিউটি, বন, পাহাড় এইসব প্রাণহীন বস্তুর ছবি দিবেন।
১১. গায়ের মাহরামদের সাথে যোগাযোগ করবেন না, প্রাইভেট মেসেজে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করবেন না। আপনি বিবাহিত হলে সুখ দুঃখের আলাপ সব স্বামী বা স্ত্রীর সাথে করুন। বিবাহিত না হলে ধৈর্য ধরুন, আল্লাহর কাছে দুয়া করুন। আর বেশি কঠিন মনে হলে রোযা রাখুন। অবৈধ সম্পর্ক যোগাযোগ, মিথ্যে ভালোবাসার পেছনে ছুটবেন না। পুরুষদের জন্য নারীর চাইতে বড় ফেতনা আর নেই। ফেতনাকে ভয় করুন। 
বিঃদ্রঃ দলীল উল্লেখ করা হয়নি এমন একটা পোস্ট, যদিও এর পক্ষে অনেক অনেক দলীল রয়েছে। আমি অনেক আলেম ওলামাকে এইগুলোর ব্যপারে অত্যন্ত কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করতে দেখেছি।
হাদীসটা ভালো করে পড়ুন...

"হালালও স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট। আর এ দু'য়ের মাঝে রয়েছে বহু সন্দেহজনক বিষয়-যা অনেকেই জানেনা। যে ব্যক্তি সেই সন্দেহজনক বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকবে, সে তার দ্বীন ও মর্যাদা রক্ষা করতে পারবে। আর যে সন্দেহজনক বিষয়সমূহে লিপ্ত হয়ে পড়ে তার উদাহরণ ঐ রাখালের মত, যে তার পশু বাদশাহর সংরক্ষিত চারণভূমির আশে পাশে চরায়, অচিরেই সেগুলো সেখানে ঢুকে পড়ার আশংকা রয়েছে। জেনে রাখ যে, প্রত্যেক বাদশাহরই একটি সংরক্ষিত এলাকা রয়েছে। আরো জেনে রাখ যে, আল্লাহর যমীনে তাঁর সংরক্ষিত এলাকা হলো তাঁর নিষিদ্ধ কাজসমূহ। জেনে রাখ, শরীরের মধ্যে একটি গোশতের টুকরা রয়েছে, তা যখন ঠিক হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন ঠিক হয়ে যায়। আর তা যখন খারাপ হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন খারাপ হয়ে যায়। জেনে রাখ যে, সে গোশতের টুকরাটি হল কলব।"


[বুখারী, ১ম খন্ড, ঈমান অধ্যায়, হাদীস নং ৫০]

শনিবার, ৮ মার্চ, ২০১৪

প্লিজ লেখাটা এড়িয়ে যাবেন না।



যে সমস্ত বোন ৫ ওয়াক্ত নামায পড়েন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাঃ) কে ভালোবাসেন তাদেরকে বলছি... প্লিজ লেখাটা এড়িয়ে যাবেন না।

প্লিজ, আপনারা আপনাদের ফেইসবুক একাউন্ট থেকে সমস্ত ছবি ডিলিট করে দিন।

গায়ের মাহরাম কোনো পুরুষকে আপনার নখ দেখানো হারাম, এমনকি আপনার পা দেখানোও হারাম (এটা নিয়ে আমদের পেজে বেশ কিছু লেখালিখি করা হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ নিচে লিংক দেওয়া হলো, পড়ে দেখতে পারেন)।
তাহলে চিন্তা করুন, আপনার চেহারা দেখানো কতো বড় হারাম???
আপনি একদিন না একদিন মারা যাবেন নিশ্চিত, হয়তোবা কালকে; হয়তোবা আজকেই মারা যেতে পারেন।
আপনি মারা যাবেন, কিন্তু আপনার একাউন্টে বেপর্দা ছবিগুলো থেকে যাবে।
অনেকে জানবেইনা, বা আপনি মৃত জেনেশুনেও অনেকে আপনার ছবিগুলো দেখবে এইগুলো নিয়ে খারাপ চিন্তা করবে। আপনি যাকে ভালোমানুষ মনে করতেন সেও যে আপনাকে নিয়ে এতো খারাপ চিন্তা করবে! আপনি বেঁচে থাকা অবস্থায় শুনলে হয়তো মরে যেতে ইচ্ছা করতেন...
যতগুলো মানুষ আপনাকে দেখবে কোনো সন্দেহ নেই তারা নিজেরাই পাপী, তাদের অন্তর কলুষিত ও রোগাক্রান্ত।
কিন্তু তাদের পাপের একটা অংশ আপনার কাঁধেও কিন্তু আসবে। কারণ, আপনি তাদের জন্য ফেতনা সৃষ্টি করেছেন।
চিন্তা করুন একটা পুরুষ আপনাকে দিয়ে চোখের জেনা করে একবার গুনাহগার। কিন্তু যতগুলো পুরুষ আপনাকে নিয়ে চোখের জিনা করবে আপনি কতবার গুনাহগার হচ্ছেন?
আফসোসের বিষয়, কাহিনী এখানেই শেষ নাহ!
আপনার বাবা, স্বামী আপনাকে বেপর্দাভাবে রেখে দিয়েছে, আপনাকে হেজাব পর্দা করতে শিক্ষা দেয়নি, আদেশ করেনি আপনি যত পাপ কামাবেন তাতে তাদেরও কিন্তু ভাগ থেকে যাবে। আর এই ভাগ এমন না যে, ভাগাভাগি করে কমতে থাকবে, এর মানে হলো আপনার গুনাহ হবে তার পাশাপাশি অতিরিক্ত আপনি তাদেরকেও গুনাহগার বানাচ্ছেন।

আপনি কি চান চোখের জেনাকারী পুরুষদের বিকৃত রুচি চরিতার্থ করার জন্য আপনি নিজে জাহান্নামে যান? আপনি কি চান এদেরকে খুশিকরতে গিয়ে আপনি আপনার প্রিয়মানুষ বাবা, স্বামীকে জাহান্নামে যাওয়ার জন্য কারণ হতে?

আমি চাই আল্লাহর দাসী হিসেবে আপনি নিজেকে সংশোধন করে নেন। আমি ভালো করেই জানি সমালোচনা কারোরই ভালো লাগেনা - কিন্তু আপনার সমালোচনা করা আমার উদ্দেশ্য না। আমি আপনাকে চিনিনা আপনার সাথে আমার কোনো শত্রুতা নেই। আমি চাই একজন মুসলিম বোনকে ইসলামের সুন্দর হিজাব পর্দার দিকে দাওয়াত দিতে।
আর শুধু ফেইসবুকে না জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে হিজাব পর্দা করার চেষ্টা করুন। আধা হিজাবী বা সুন্দরী হিজাবী আপু হয়ে ছলনা করবেন না। শরীয়তের নিয়ম মেনে যেইভাবে হিজাব পর্দা করতে বলা হয়েছে সেইভাবে করুন। আর হিজাব করবেন অবশ্যই নেকাবসহ। নেকাব ছাড়া নারীদের হিজাবকে বলা যেতে পারে চাকাবিহীন গাড়ি। এর তার কথা শুনে বিভ্রান্তিতে পড়বেন না। আমি অসংখ্য দেশি বিদেশি আলেম বিশেষ করে আরব দেশীয় বড় বড় আলেমদের ফতওয়া ও বই দেখেছি অতীতকালের ইমামদের বক্তব্য যাচাই বাছাই করে যা বুঝেছি ইসলাম নেকাব করা ওয়াজিব তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

আপনি মনে করছেন আপনি পর্দা করলে আপনাকে খারাপ দেখা যাবে? আপনাকে তারাই খারাপ হিসেবে দেখবে যারা অন্তরের দিক থেক লম্পট, রুচি বিকৃত ও আপনার সৌন্দর্যকে অন্যাভাবে ভোগ করতে চায়। আপনি হিজাব পর্দা মেনে চললে আল্লাহ আপনাকে ভালোবাসবেন। কার ভালোবাসা বেশি জরুরী আল্লাহর নাকি লম্পট কোনো পুরুষের যে অন্যায়ভাবে আপনার সতীত্ব নষ্ট করতে চায়? আপনি যেই হোন আপনি হিজাব পর্দা করলে দ্বীনদার ধার্মিক ভাইয়েরা আপনাকে সম্মানের চোখে দেখবে।

কারো অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে থাকলে দুঃখিত। হয়তোবা বেশি কথা বলে বিরক্ত করে ফেলছি।

সালামুন আলাইকুম।

Open letter to the sisters




ডিয়ার সিস্টার্স...

আমি খুব ভালো করেই জানিঃ 
প্রচন্ড গরমের সময় মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে বের হলে কি পরিমাণ কষ্ট হয়। এটা যদি লন্ডন, আমেরিকা হতো, আবাহাওয়া এতো চমকার হতো যে, বোরখা পড়লে আরো ভালো লাগে। তাহলে অনেক সহজ হতো - হিজাব পর্দা করা। কিন্তু আমাদের মতো দেশে ধূলা-বালি, গরমে ঘেমে কষ্টকর পরিবেশ।


আমি খুব ভালো করেই জানিঃ 
সবাই বেপর্দা হয়ে চলাফেরা করে, আপনিও এতোদিন করেছেন - এখন হঠাত করে করতে গেলে কেমন কেমন জানি লাগে। ফিলিংসটা খুব ভালোনা। মানুষজন আজেবাজে কথা বলে, হাসি ঠাট্টা করে - কারো কাছেই এইগুলো ভালো অভিজ্ঞতা না + নারী হিসেবে আরো বিব্রতকর অবস্থা। না পারবেন কিছু বলতে, না পারবেন সইতে।

আমি খুব ভালো করেই জানিঃ 
বেপর্দা নারীগুলো যখন পহেলা বৈশাখ বা নাচ গানের আসরে সুন্দর (আসলে উগ্র ও আবেদনময়ী) ড্রেস পড়ে তাদের ছেলেবন্ধুদের মনোরঞ্জন করে বেড়ায় - তখন আপনিও পার্থিব জীবনের ধোকায় পড়ে যান। আপনারও ইচ্ছে করে তাদের মতো সাজগোজ করে বের হতে। 

কিন্তু এতো কষ্ট করে - পূর্ণাংগ হিজাব পর্দা করে জীবন অতিবাহিত করবেন। এর পরের অবস্থা আল্লাহ বলেছেনঃ
"অতঃপর, নিশ্চয়ই কষ্টের পরে রয়েছে স্বস্তি,
নিশ্চয়ই কষ্টের পরে রয়েছে স্বস্তি।"
সুরা আল-ইনশিরাহঃ ৫-৬। 

আর সেই স্বস্তির বিবরণ বিভিন্ন সুরায় বর্ণনা করে হয়েছে, তার মধ্যে আমি একটা মাত্র সুরা থেকে তুলে ধরছিঃ

এবং তাদের সবরের প্রতিদানে তাদেরকে দিবেন জান্নাত ও রেশমী পোশাক।
তারা সেখানে সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসবে। সেখানে রৌদ্র ও শৈত্য অনুভব করবে না।
তার বৃক্ষছায়া তাদের উপর ঝুঁকে থাকবে এবং তার ফলসমূহ তাদের আয়ত্তাধীন রাখা হবে।
তাদেরকে পরিবেশন করা হবে রূপার পাত্রে এবং স্ফটিকের মত পানপাত্রে।
পালী স্ফটিক পাত্রে, পরিবেশনকারীরা তা পরিমাপ করে পূর্ণ করবে।
তাদেরকে সেখানে পান করানো হবে যানজাবীলমিশ্রিত পানপাত্র।
এটা জান্নাতস্থিত সালসাবীলনামক একটি ঝরণা।
তাদের কাছে ঘোরাফেরা করবে চির কিশোরগণ। আপনি তাদেরকে দেখে মনে করবেন যেন বিক্ষিপ্ত মনি-মুক্তা।
আপনি যখন সেখানে দেখবেন, তখন নেয়ামতরাজি ও বিশাল রাজ্য দেখতে পাবেন।
তাদের আবরণ হবে চিকন সবুজ রেশম ও মোটা সবুজ রেশম এবং তাদেরকে পরিধান করোনো হবে রৌপ্য নির্মিত কংকণ এবং তাদের পালনকর্তা তাদেরকে পান করাবেন শরাবান-তহুরা
এটা তোমাদের প্রতিদান। তোমাদের প্রচেষ্টা স্বীকৃতি লাভ করেছে।
সুরা আল-ইনসানঃ ১২-২২। 

যারা এখনো হিজাব পর্দায় অভ্যস্ত না, অথবা হিজাব পর্দা করেন কিন্তু তার মাঝে ত্রুটি আছে আল্লাহর ওয়াস্তে আপনারা নিয়ত করেনঃ ইন শাআল্লাহ অতি শীঘ্রই পূর্ণাংগ হিজাব পর্দা করবেন, নেকাবসহ। আজকে নিয়ত করবেন, কালকে এইটা বাস্তবায়ন করার জন্য চেষ্টা করবেন, ইন শাআল্লাহ পড়শু দিন আপনি আপনার লক্ষ্যে পৌঁছতে সক্ষম হবেন।

আল্লাহ আমাদের সকলকে চূড়ান্ত সফলতা দান করুন, আমিন।

নেকাব ফরয হওয়ার বিরোধীদের যুক্তি ও তার খন্ডনঃ পর্ব ১



নেকাব ফরয হওয়ার বিরোধীদের যুক্তি ও তার খন্ডনঃ পর্ব ১
যেহেতু আমার জানা মতে দ্বীনের ব্যপারে নিবেদিত এমন বহু নিষ্ঠাবান ভাই ও বোন নেকাব নিয়ে বিভ্রান্তির মাঝে আছেন, তাই ইন শাআল্লাহ এই বিষয়টার উপরে নিয়মিত লেখা হবে যাতে করে সংশয় দূর হয় বি ইজনিল্লাহি তাআলা।
যারা নেকাব ফরয নয় বলে মনে করেন, তারা প্রায়শই একটা যুক্তি দেখানঃ ইহরামের সময় নেকাব পড়া হারাম। কোনো ফরয ইবাদত কখনো হারাম হতে পারেনা, নফল সুন্নত হতে পারে। সুতরাং, এ থেকে বুঝা যায় নেকাব পড়া ফরয নয়, নফল/সুন্নত।
প্রথম কথা হচ্ছেঃ ইনাদেরকে যদি কুরান, হাদীস, সাহাবা ও সমস্ত আলেমদের ফতোয়ার পাশাপাশি নেকাব ফরয হওয়ার পক্ষে কোনো যুক্তি দেখানো হয় তখন তারা ঘোর বিরোধীতা করে বলেন, শরীয়তে কোনো যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। এইকথা আহলে সুন্নতের সকলেই স্বীকার করে শুধু যুক্তি শরীয়তের দলীল নয়। কিন্তু কুরান ও হাদীসে দলীলের পাশাপাশি যদি যুক্তি থাকে তাহলে ইখতিলাফ বা মতবিরোধের সময় সেটা একটা প্লাস পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে। কিন্তু তারাই আবার ফরয না হওয়ার পক্ষে সবচেয়ে বেশি যুক্তি দেখান।
যেমন উপরের যুক্তিটা।
যাই হোক, কেউ যদি বলে ইসলামে কোনো ফরয ইবাদত কক্ষনো কোনো অবস্থাতে হারাম হয়না ইনি আসলে হয় নওমুসলিম অথবা তিনি ইসলাম সম্পর্কে একেবারেই জানেন না!
এমন অনেক প্রমান দেওয়া যায়, সাধারণ অবস্থায় একটা কাজ ফরয, অন্য কোনো অবস্থাতে সেটার হুকুম পরিবর্তন হয়ে যায়, হারাম এমনকি শিরক বা কুফুরীও হতে পারে!
আমরা জানি নামায না পড়লে মানুষের ঈমানই থাকেনা। এই নামায কি কখনো হারাম হয়ে যেতে পারে? তাদের যুক্তি অনুযায়ী নাহ!
তাহলে তাদের কাছে নারীদের ঋতু চলাকালীন সময়ে নামায পড়ার হুকুম কি?
ঋতু অবস্থায় নামায পড়া জায়েজ না হারাম?
রোযা রাখার হুকুম কি?
আমরা জানি নামায পড়ার বড় একটা ফরয হচ্ছে ওয়াক্ত অনুযায়ীই আদায় করা, আগে বা পরে পড়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু সফরে থাকলে কিন্তু এক ওয়াক্ত আগে বা পরে পড়া যায়। এখানে কিন্তু একটা ফরয হুকুম রহিত হয়ে যাচ্ছে।
আদম (আঃ) এর যুগে ভাইবোনের মাঝে বিয়ে হতো, এখন যদি কেউ এই কাজ করে তার গলা কাটা হবে।
আদম (আঃ) কে জিন ও ফেরেশতারা সিজদা করেছিলো, ইউসুফ (আঃ) কে তার ভাই ও বাবা সিজদা করেছিলো। অথচ বর্তমানে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সিজদা করা শিরক!
ইবাদত কখন কিভাবে করতে হবে সেটা আল্লাহ পাক নির্ধারণ করে দেন। এখানে কোনো যুক্তি তর্ক চলবেনা যখন হুকুম চলে আসবে তখন ইমানদারগণ এই কথা বলবেনা, এইটা কেনো বা এইটা এইরকম কেনো?
তাদের একটাই কথা সামিঅনা ওয়া আতাঅনা” – আমরা শুনলাম ও মেনে নিলাম।
এতো গেলো যুক্তি খন্ডন পর্বঃ
তবে মজার ব্যপার হলোঃ তারা যেই যুক্তি নিয়ে আসছেন আসলে সেইটা কি কোনো যুক্তির মাঝে পড়ে?
ইহরাম অবস্থায় নারীদের জন্য আসলেই কি গায়ের মাহরাম পুরুষদেরকে চেহারা দেখানো জায়েজ আছে?
চলুন একটু দেখে নিই কুরান হাদীস কি বলে?
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ইহরামে থাকা অবস্থায় নারীদের জন্য চেহারা ঢেকে রাখা (নেকাব পড়া) অথবা বোরখা পড়া নিষিদ্ধ।
তার মানে এইনা যে একজন নারী ইহরাম অবস্থায় তার নেকাব বা বোরখা খুলে একজন গায়ের মাহরাম পুরুষের সামনে তার চেহারা উন্মুক্ত রাখবেন। বরং তিনি নেকাব বা বোরখা ছাড়া অন্য কোনো কিছু দিয়ে পর্দা করবেন, যেমনটা আয়িশাহ (রাঃ) এর হাদীস থেকে বর্ণিত হয়েছে।
মা আয়িশাহ (রাঃ) বলেনঃ আমরা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সাথে ইহরামে থাকা অবস্থায় ছিলাম। পথচারীগণ আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করত। তারা আমাদের নিকট আসলে আমরা মাথার উপর থেকে খিমার চেহারার উপর ফেলে দিতাম। তারা চলে গেলে সেটা উঠিয়ে নিতাম।
সুনানে আবু দাউদঃ ১৮৩৩, ফাতহুল বারী ৩/৪৭৪।
নারীদের জন্য ইহরামে থাকা অবস্থাতে বা অন্য সময়েও ওয়াজিব হচ্ছে গায়ের মাহরাম পুরুষের সামনে তাদের চেহারা ঢেকে রাখা, কারণ তাদের চেহারাই হচ্ছে পুরষদের জন্য আকর্ষণীয় এমন সৌন্দর্যের কেন্দ্র...
ফাতাওয়া আল-মারআহ আল-মুসলিমাহ, ১/৩৯৯।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, মা আয়িশাহ (রাঃ) এর আমল থেকে স্পষ্টঃ ইহরাম অবস্থাতেও নারীরা গায়ের মাহরাম পুরুষদের সামনে চেহারা ঢেকে রাখবে।
এইখানে তারা আরেকটা বিভ্রান্তির মাঝে পড়েছেন।
কিছু মানুষ বুঝেছেন নেকাব পড়া ফরয শুধুমাত্র রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর বিবিগণের জন্য।
কি হাস্যকর কথা!
কোন হাদীসে এসেছে আবু দাউদে বর্ণিত মা আয়িশাহ (রাঃ) এর উপরের হাদীসটা শুধুমাত্র রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর বিবিগণের জন্য প্রযোজ্য, অন্য মুসলমান নারীদের জন্য প্রযোজ্য নাহ?
এটাইতো হচ্ছে কুরান হাদীসের অপব্যখ্যা।
অথচ সম্মানিত সাহাবীরা আমাদের কাছে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন নেকাব পড়ার আদেশ সমস্ত মুসলমান নারীদের জন্যই প্রযোজ্য।
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) কে নিচের এই আয়াতের তাফসীর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলোঃ
হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিন নারীদেরকে বলুনঃ তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়।
সুরা আল-আহজাব, আয়াত ৫৯।
তখন ইবনে আব্বাস (রাঃ) তিনি তার চেহারা ঢাকলেন, শুধুমাত্র এক চোখ ছাড়া। তার মানে এই আয়াত থেকে বোঝা যাচ্ছে এই আয়াত দ্বারা ঢেকে রাখা দ্বারা চেহারাও ঢেকে রাখতে আদেশ করা হয়েছে। এই তাফসীর বর্ণিত হয়েছে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে।
তাফসীর ইবনে কাসীর।
এতো গেলো সরাসরি সাহাবীদের মুখের কথা থেকে প্রমানিত হলো মুমিন নারীদের জন্য নেকাব পড়া ফরয।

এবার প্রমান দেখাবো রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর যুগে শুধু তাঁর বিবিগণই না, অন্য মুসলমান নারীরাও নেকাব পড়তেন।

নারীদের জন্য নেকাব পড়া কি ফরয/ওয়াজিব?



নারীদের জন্য নেকাব পড়া কি ফরয/ওয়াজিব?

প্রশ্নঃ নেকাব দিয়ে মুখ ঢেকে রাখা কি নারীদের ইসলামিক পোশাকের জন্য অপরিহার্য?

উত্তরঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
হিজাবএকটি আরবী শব্দ যার অর্থ ঢেকে রাখা অথবা গোপন রাখা। কোনো কিছুকে হিজাব বলার অর্থ, ‘যার দ্বারা কোনো কিছুকে ঢেকে রাখা হয়
দুইটা বস্তুর মাঝে পর্দা হিসেবে যাই আসে সেটাকেই হিজাব বলা হয়।
এমন যেকোনো কিছুকেই হিজাব বলা হয় যার উদ্দেশ্য হলো ঢেকে রাখা এবং কাউকে এর কাছে পৌঁছতে বাঁধা দেওয়া, যেমন – (দরজা/জানালার) পর্দা, দারোয়ান, কাপড় ইত্যাদি।

খিমারশব্দটির মূল উস হচ্ছে খামর, যার অর্থ হচ্ছে ঢেকে রাখা
উদাহরণ স্বরূপঃ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “খামমিরু আনিয়াতাকুম” – তোমরা তোমাদের পাত্রগুলো ঢেকে রাখো। এমন কোনো কিছু যা অন্য কোনো কিছুকে ঢেকে রাখে তাকে খিমারবলে।
কিন্তু বর্তমানে সাধারণভাবে খিমারশব্দটি দিয়ে ঐ কাপড়টাকেই বুঝানো হয় যার দ্বার একজন নারী তার মাথা ঢেকে রাখেন। কখনো কখনো, এই অর্থের প্রয়োগ তার শাব্দিক অর্থের সাথে সামজস্যপূর্ণ।
কিছু মুফতি খামরকে এই বলে সংজ্ঞায়িত করেছেন, “যে কাপড় মাথা, কপাল ও ঘাড় ঢেকে রাখে।
হিজাব ও খিমারের মাঝে পার্থক্য হলো, হিজাব হলো এমন কাপড় যা নারীর সম্পূর্ণ শরীর ঢেকে রাখে আর সাধারণত খিমার দ্বারা এমন কাপড়কে বোঝানো হয়, যার দ্বারা তার মাথা ঢেকে রাখা হয়।
নিকাবহচ্ছে এমন কাপড় যা একজন নারীর মুখ ঢেকে রাখে (তানতাকিব)।
হিজাব ও নেকাবের মাঝে পার্থক্য হচ্ছেনঃ হিজাব দ্বারা একজন নারীর সম্পূর্ণ শরীর ঢাকা হয়। অপরদিকে নেকাব দিয়ে একজন নারীর শুধুমাত্র মুখ ঢাকা হয়।

শরীয়ত সম্মত একজন নারীর পোশাক হচ্ছে, যা তার মাথা, মুখ ও সম্পূর্ণ শরীর ঢেকে রাখে।
কিন্তু নেকাব ও বোরখা যা কিনা একজন নারীর শুধু চোখ দেখা যায় নারীদের মধ্যে ব্যপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অবশ্য তাদের মাঝে অনেকেই এটা ঠিকমতো পড়েন না। বোরখা ও নেকাবকে ইসলামিক উস থেকে নেওয়া এমন কিছু মনে করে কিছু আলেম একে পড়তে নিষেধ করেছেন। এর কারণ অনেকে এটা ঠিকভাবে পড়েন না যার ফলে মানুষ একে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে করেনা এবং এর প্রতি অবহেলা করে। অনেকেই এমন নেকাব আবিষ্কার করছে যা শরীয়ত অনুমোদন দেয়না। এই সমস্ত নেকাবে চোখ খোলা রাখতে গিয়ে গাল, মুখ ও কপালের অংশ উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে।
নারীদের নেকাব ও বোরখা যদি এমন হয় যা শুধুমাত্র তার দুই চোখ উন্মুক্ত রাখে, আর শুধুমাত্র বাঁ চোখের সমানই উন্মুক্ত রাখা হয় যেইরকম সাহাবাদের কাছ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তাহলে সেটা ব্যবহার করার অনুমতি আছে। আর যদি এইরকম না হয়, তাহলে নারীকে এমন কোনো কিছু পড়তে হবে যা তার পুরো মুখ ঢেকে রাখে।

শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন (রহঃ) বলেনঃ
শরীয়ত সম্মত হিজাবের অর্থ হচ্ছেঃ একজন নারী তার সম্পূর্ণ আওরাহ (দেহের এমন অংশ যা প্রদর্শন করা তার জন্য হারাম) ঢেকে রাখবেন। একজন নারীর উচিত হচ্ছে তার জন্য যা ঢেকে রাখা ফরয তা ঢেকে রাখে, এর মধ্যে প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তার চেহারা। কারণ একজন নারীর চেহারাই হচ্ছে তার প্রতি কামনা বাসনার মূলবিন্দু।
একজন নারীর জন্য ওয়াজিব হচ্ছে সে তার চেহারা এমন কোনো পুরুষের সামনে প্রকাশ করবেনা, যে তার গায়ের মাহরাম। এথেকে আমরা জানতে পারি, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে চেহারা ঢেকে রাখা। এর অনেক দলীল রয়েছে কুরানুল কারীমে, রাসুল্লাহ (সাঃ) এর সুন্নাতে ও সাহাবা, পূর্ববর্তী ইমাম ও আলেমদের ফতওয়াতে। এইগুলোর উপর ভিত্তি করে বুঝা যায়, একজন নারীর জন্য ওয়াজিব হচ্ছে তার সমস্ত শরীর একজন গায়ের মাহরামের সামনে ঢেকে রাখা।
ফাতাওয়া আল-মারআহ আল-মুসলিমাহ, ১/৩৯১, ৩৯২।

শায়খ সালিহ আল-ফওজান (হাফিঃ) বলেনঃ
দলীলের উপর ভিত্তি করে সঠিক ফতওয়া হচ্ছে, একজন নারীর চেহারা তার আওরাহ যা কিনা অবশ্যই ঢেকে রাখতে হবে। এটা তার শরীরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংগ। কারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি একজন নারীর চেহারাকেই দেখে, তাই একজন নারীর চেহার হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আওরাহ। এই যুক্তি হলো শরীয়াতের দলীলগুলো ছাড়াই অন্য আরেকটা যুক্তি একজন নারীর চেহারা ঢেকে রাখা তার জন্য ওয়াজিব এই কথা প্রমানের জন্য।

উদাহরণ স্বরূপ আল্লাহ বলেন,
“(হে নবী আপনি) ঈমানদার নারীদেরকে বলুনঃ তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না জুয়ুবিহিন্নাহ’ (শরীর, চেহারা, ঘাড় ও বুকের) উপর ফেলে রাখে...
সুরা আন-নূর, আয়াত ৩১।

ওড়না জুয়ুবের উপর ফেলে রাখার মাঝে মুখ ঢেকে রাখাও অন্তর্ভুক্ত।
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) কে নিচের এই আয়াতের তাফসীর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলোঃ
হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিন নারীদেরকে বলুনঃ তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়।
সুরা আল-আহজাব, আয়াত ৫৯।
তখন ইবনে আব্বাস (রাঃ) তিনি তার চেহারা ঢাকলেন, শুধুমাত্র এক চোখ ছাড়া। তার মানে এই আয়াত থেকে বোঝা যাচ্ছে এই আয়াত দ্বারা ঢেকে রাখা দ্বারা চেহারাও ঢেকে রাখতে আদেশ করা হয়েছে। এই তাফসীর বর্ণিত হয়েছে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে।

এই ব্যপারে সুন্নাতে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। যেমন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ইহরামে থাকা অবস্থায় নারীদের জন্য চেহারা ঢেকে রাখা (নেকাব পড়া) অথবা বোরখা পড়া নিষিদ্ধ।
তার মানে এইনা যে একজন নারী ইহরাম অবস্থায় তার নেকাব বা বোরখা খুলে একজন গায়ের মাহরাম পুরুষের সামনে তার চেহারা উন্মুক্ত রাখবেন। বরং তিনি নেকাব বা বোরখা ছাড়া অন্য কোনো কিছু দিয়ে পর্দা করবেন, যেমনটা আয়িশাহ (রাঃ) এর হাদীস থেকে বর্ণিত হয়েছে।
মা আয়িশাহ (রাঃ) বলেনঃ আমরা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সাথে ইহরামে থাকা অবস্থায় ছিলাম। পথচারীগণ আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করত। তারা আমাদের নিকট আসলে আমরা মাথার উপর থেকে খিমার চেহারার উপর ফেলে দিতাম। তারা চলে গেলে সেটা উঠিয়ে নিতাম।
সুনানে আবু দাউদঃ ১৮৩৩, ফাতহুল বারী ৩/৪৭৪।
নারীদের জন্য ইহরামে থাকা অবস্থাতে বা অন্য সময়েও ওয়াজিব হচ্ছে গায়ের মাহরাম পুরুষের সামনে তাদের চেহারা ঢেকে রাখা, কারণ তাদের চেহারাই হচ্ছে পুরষদের জন্য আকর্ষণীয় এমন সৌন্দর্যের কেন্দ্র...
ফাতাওয়া আল-মারআহ আল-মুসলিমাহ, ১/৩৯৯।
শায়খ ফওজান আরো বলেনঃ শুধুমাত্র দুই চোখ খোলা থাকে এমন বোরখা ও নেকাব দিয়ে নারীদের জন্য চেহারা ঢেকে রাখা জায়েজ, কারণ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর যুগে এর প্রচলন ছিলো বলে জানা যায়। এছাড়া এটা (নেকাব+বোরখা) জরুরত (প্রয়োজনীয়তার) অন্তর্ভুক্ত। যদি এটা সমাজে বহুল প্রচলিত থাকে এবং শুধুমাত্র দুই চোখ ছাড়া অন্য কোনো কিছু প্রদর্শিত না হয়, তাহলে এমন কোনো কিছু দিয়ে হিজাব পর্দা করতে কোনো বাঁধা নেই।

এ ব্যপারেই আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।।।
ফাতাওয়া আল-মারআহ আল-মুসলিমাহ, ১/৩৯৯।

প্রশ্ন ও উত্তর প্রস্তুত করেছেনঃ শায়খ মুহাম্মাদ সালিহ আল-মুনাজ্জিদ।
IslamQA
প্রশ্ন নং- ২১১৩৪।

লিঙ্কঃ http://www.islam-qa.com/en/ref/21134

আরো বিস্তারিত দলীল দেওয়া হয়েছে এই ফতোয়াটাতেঃ


http://www.islamqa.info/en/ref/11774