বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৪

শায়খ আলবানী কে ছিলেন?


শায়খ আলবানী কে ছিলেন?

   বিগত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠতম আলেমদের মধ্যে একজন হচ্ছেন মুহা’ম্মাদ নাসিরউদ্দিন আলবানী, যিনি শায়খ আলবানী নামে বেশি পরিচিত কারণ তাঁর জন্মস্থান ছিলো আলবেনিয়াতে। তিনি একজন হাদীস শাস্ত্রের আলেম ছিলেন। অসামান্য জ্ঞানের অধিকারী শায়খ আলবানীর হাদীস শাস্ত্রে তাঁর যে খেদমত, বলা যেতে বিগত কয়েকশত বছরেও এই খেদমত কেউ করতে পারেন নি। আজকে আরব বিশ্বে সর্বজন স্বীকৃত এই আলেমের কাজকে বেদাতপন্থী মূর্খ ছাড়া আরকেউ অস্বীকার করতে পারেনা। নামাযের উপরে উনার গবেষণা ভিত্তিক একটা বই আছে “রাসুলুল্লাহর সালাত” নামে, বলা যেতে পারে নামাযের উপরে শ্রেষ্ঠ বইগুলোর মাঝে একটা। আপনারা এই বইটা অবশ্যই কিনবেন।

***নবী (সঃ) যেউভাবে নামায পড়তেনঃ শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী (রহঃ)
অনুবাদক – এম এন সিরাজুল ইসলাম। এই অনুবাদক ছাড়া অন্যটা কিনবেন না। সেগুলোতে মূল বইয়ের ভুল অর্থ ও বিকৃত করা হয়েছে।

http://islamhousebd.wordpress.com/2011/08/30/নবী-সাল্লাল্লাহু-আলাইহি/


   আমাদের দেশের বেদাতপন্থী অনেক হুজুর-মাওলানারা শায়খ আলবানীর বিরুদ্ধে অনেক আজেবাজে কথা বলে। তাদের মতে তিনি নাকি কোনো আলেম নাহ! শায়খ আলবানীর হাদীসের তাহকীক, সহীহ ও জয়ীফ নির্ধারণ, বিদাত উতখাতের জন্য তাঁর আজীবন প্রচেষ্টা দিয়ে বেদাতীদের ধর্মব্যবসার ১২টা বাজিয়েছেন, এই জন্য কবর-মাজার পূজারী, পীর পূজারীরা তার বিরুদ্ধে লেগেছে।

   কারণ বেদাত যদি উঠে যায় তাহলে বেনামাযী, সুদখোর, ঘুষখোর ইত্যাদি লোকদের বাড়ীতি মীলাদ-কিয়াম, সবিনা খতম, খতমে ইউনুস, খতমে জালালী করে, শবে মেরাজ, কবর যিয়ারত করিয়ে, ইসালে সওয়াব, বুখারী খতম ইত্যাদি অনুষ্ঠান করে হারাম পয়সা খাওয়ার ধান্দা উঠে যাবে। 

   মসজিদের শিরকের চর্চা করে তাবীজ-কবচ লিখে অর্থ উপার্জন করে হারাম ইনকাম বন্ধ হয়ে যাবে।

   লক্ষ লক্ষ পীর, ফকির আর দরবেশ মানুষকে মুরীদ বানিয়ে বাতিল পদ্ধতিতে মানুষের ঈমান নষ্ট করছে আর বাতিল পন্থায় তাদের অর্থ আত্মসাত করছে, এই ধর্মব্যবসা উঠে যাবে।

   এইজন্য এই মাযার পূজারী আর পীর পূজারী আলেমরা শায়খ আলবানীর নামে আজেবাজে কথা বলে। অথচ দেখুন আরব বিশ্বের শ্রেষ্ঠ আলেমরা তাঁর সম্পর্কে কি বলেছেনঃ

   বিগত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠতম আলেম, কুরআন ও সুন্নাহর মুহাক্কিক গবেষক, আরব বিশ্বের সর্বজন স্বীকৃত শীর্ষস্থানীয় আলেমে দ্বীন, সৌদি আরবের সাবে গ্র্যান্ড মুফতি, আল্লামাহ শায়খ আব্দুল আজীজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায রাহিমাহুল্লাহ বলেনঃ
“বর্তমান বিশ্বে আসমানের নিচে আল্লামাহ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানীর মত এত বড় হাদীসের আলেম আমি দেখি নি।”

   শায়খ বিন বায রাহিমাহুল্লাহ এর নিকট এই হাদীসটি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। যেখানে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

“আল্লাহ তায়ালা প্রতি একশ বছরের মাথায় এই উম্মতের জন্য এমন একজনকে পাঠাবেন যিনি দ্বীন ইসলামকে সংস্কার করবেন।”

শায়খ বিন বাজ বলেনঃ “আমার ধারণা, শায়খ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আলবানী হলেন এ যুগের মুজাদ্দিদ বা সংস্কারক। আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।”

   সৌদি আরবের শীর্ষস্থানীয় আলেম, শাইখ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমীন রাহিমাহুল্লাহ বলেনঃ
“শায়খ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আলবানীর সাথে বিভিন্ন বৈঠকে বসার পর (যদিও তা কম) যা বুঝতে পেরেছি তা হল, তিনি সুন্নাহর প্রতি আমলে আগ্রহী এবং আমল-আকীদা উভয় ক্ষেত্রেই বিদআ’ত উখাতে খুবই আগ্রহী। আর তার লিখিত বই-পুস্তক পড়ে তার ব্যাপারে জানতে পারলাম যে, তিনি হাদীসের সনদ ও মতন উভয় ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অধিকারী। এ সকল বই-পুস্তক দ্বারা আল্লাহ তাআ’লা অনেক মানুষকে উপকৃত করেছেন। তার ছাত্ররা যেইভাবে জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে লাভবান হয়েছে ঠিক তেমনি “মানহাজ” বা নীতি নির্ধারণ এবং ইলমে হাদীসের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির ক্ষেত্রেও তারা লাভবান হয়েছেন। এটি মুসলমানদের জন্য বড় একটি বড় প্রাপ্তি। আলহা’মদুলিল্লাহ। আর ইলমে হাদীসের ক্ষেত্রে তার জ্ঞানগর্ভ গবেষণা সত্যি চমকৃত হওয়ার মত।”

আরো জানতে চাইলে নিচের লিংকে দেখুনঃ

http://islamqa.info/ar/110667


Collected and Edited from Shaykh Abdullah Al Kafi

ফাযায়েলে আমলে কি আসলেই #শিরিক আছে? (পর্বঃ- ১)



ফাযায়েলে আমলে কি আসলেই #শিরিক আছে? (পর্বঃ- ১)

অনেকে এমন ভাব ধরে যেনো – ফাযায়েলে আমল মহপবিত্র একটা বই! এই বইয়ে শিরিক বেদাত দূরের কথা, এতোবড় শায়খুল হাদীস সাহেব লিখেছেন, এই কিতাবে কোনো ভুল হইতেই পারেনা!!

আসলে ইনাদের সমস্যা হচ্ছে, কুরআন ও সহীহ হাদীস বাদ দিয়ে, সত্যিকারের আলেমদের কিতাব বাদ দিয়ে ভেজাল আর জাল-জয়ীফের কিতাব পড়তে পড়তে তিনারা শিরক-বেদাত কি বুঝতে পারেন না। কোনটা শিরিক, কেনো শিরিক এইগুলোর সূক্ষ্ম তাতপর্য তারা জানেন না। এইজন্য ফাযায়েলে আমল, নিয়ামুল কুরআন, বেহেশতি যেওর, মকসুদুল মুমিনিনি ইত্যাদি বেদাতী কিতাবে বিভিন্ন কিচ্চা-কাহিনীর আড়ালে কৌশলে সূফীবাদীদের শিরকি বেদাতী কথাবার্তা ঢুকিয়ে দেওয়া আছে, সেইগুলো তারা ধরতে পারেন না। বরং আলিদের কারামত, আওলিয়াদের কাহিনী, কাশফ, শিক্ষণীয় কিচ্ছা, বহুত ফায়দা, মিথ্যা ফযীলত, উপদেশ ইত্যাদি নামে এইসমস্ত শিরক বেদাতকেই তারা ইসলাম মনে করে থাকেন। আর এইগুলোর ব্যপারে কেউ যখন তাদেরকে সতর্ক করে, তারা আকাশ থেকে পড়ে আর গালি দেওয়া শুরু করে।

ফাযায়েলে আমলকে যারা মহাপবিত্র কিতাব মনে করে তাদের জন্য বলছি, এইটা দেওবন্দী সূফীদের লেখা একটা কিতাব - যার মাঝে অনেকে শিরকি, কুফুরী কথা বার্তা, জাল জফীয় হাদীস দিয়ে মিথ্যা ফযীলতের ধোঁকা, ভুয়া ও সম্পূর্ণ বানোয়াট কিচ্চা ঢুকিয়ে দেওয়া আছে। এছাড়া এমন অনেকে কাহিনী আছে আসলে যা একজন মানুষের ঈমানে মারাত্মক বিষ ঢুকিয়ে দেয়।

এর প্রায় পাতায় পাতায় আজগুবী কথাতো আছে, এমনকি এই ভেজাল কিতাবের ৩ নাম্বার পৃষ্ঠাতেই শিরক ঢুকিয়ে দেওয়া আছে – আর অজ্ঞ লোকেরা বছরের পর বছর এই শিরকি কথাটাই পড়ে যাচ্ছে-

ফাযায়েলে আমলের ভূমিকাতেই শিরকঃ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
“পিতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং পিতার অসন্তষ্টিতে আল্লাহর অসন্তুষ্ট।”
তিরমিযী খন্ড ১, পৃঃ ৩৪৬, ইবনে হিব্বানঃ ২০২৬।

এই হাদীস থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, পিতাকে সন্তুষ্ট করলে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন।
কিন্তু পিতাকে সন্তুষ্ট কিভাবে করতে হবে?
কেউ যদি বলে, আমি নামায পড়ি পিতাকে খুশি করার জন্য।
কেউ যদি বলে, আমি রোজা রাখি পিতাকে খুশি করার জন্য।
কেউ যদি বলে, হজ্জ করি পিতাকে খুশি করার জন্য।
এতে কি আল্লাহ সন্তুষ্ট হবেন, নাকি আল্লাহ অত্যন্ত রাগ করবেন???

মহান আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ
“(হে নবী আপনি) বলুন! আমিও তোমাদের মতই একজন মানুষ, আর আমার প্রতি ওয়াহী করা হয়যে, তোমাদের ইলাহই একমাত্র ইলাহ। অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন নেক আমল করে এবং তার পালনকর্তার #ইবাদতে কাউকে শরীক না করে।” (সুরা কাহফঃ ১১০)।

এই রকম আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে খুশি করার জন্য যে ইবাদত করা হয় তাকে আরবীতে #রিয়া বা লোক দেখানো ইবাদত বলা হয়। জানা থাকা প্রয়োজন, রিয়া বা আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে খুশি করার জন্য যে ইবাদত করা হয় ইসলাম সেটাকে #শিরক হিসেবে সাব্যস্ত করেছে, এবং এইরকম রিয়া বা শিরক মিশ্রিত ইবাদত আল্লাহ কস্মিনকালেও কবুল করেন না।

হাদীসে যেই সন্তুষ্টির কথা বলা হয়েছে সেটা এমন না যে, আল্লাহর জন্য কোন ইবাদত আমি এক আল্লাহ তাআ’লাকে খুশি করার জন্য না করে, পিতাকে খুশি করার জন্য করলাম। কেউ যদি এটা করে, তাহলে সে ইবাদতে আল্লাহর সাথে শরীক করে ফেললো – এটাই হচ্ছে #শিরক। ইবাদতের মালিক বা হক্ক হচ্ছেন শুধুমাত্র আল্লাহ পাক, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করা হচ্ছে “শিরক”।

এখানে পিতার সন্তুষ্ট করার পদ্ধতি হবে, পিতার কথা মান্য করা, তাঁর সেবা-যত্ন করা, তাঁর সাথে সুসম্পর্ক রাখা ইত্যাদি। তবে এই কাজগুলো কেউ যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করে সেটার জন্য সে আল্লাহর কাছে প্রতিদান পাবে।

দ্বীনের জন্য বই লেখা একটা ইবাদত, কারণ এটা দাওয়াত ও তাবলীগের অংশ। আর দাওয়াত ও তাবলিগ হচ্ছে আল্লাহর হুকুম মানা, সুতরাং এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আর বই লেখা বা দাওয়াত ও তাবলীগ করা যদি “ইবাদত” হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই সেটা শুধুমাত্র আল্লাহ তাআ’লাকেই খুশি করার জন্যই করতে হবে। অন্য কাউকে খুশি বা সন্তুষ্ট করার জন্য হলে, আল্লাহ সেই দাওয়াতকে, সেই লেখা #বইকে কবুল করবেন না।

বিষয়টা অতি সহজ ও পরিষ্কার, তারপরেও দেখুন তাবলিগ জামাতের লেখক মাওলানা জাকারিয়া সাহেব তার লেখা বইয়ের ভূমিকাতে বলছেনঃ

“মাওলানা ইলিয়াস সাহেব আমাকে আদেশ করেন, তাবলীগে দ্বীনের প্রয়োজনে কুরআন হাদীস অনুসারে একটা সংক্ষিপ্ত বই লিখি। এতোবড় #বুজুর্গের_সন্তুষ্টি_অর্জন আমার পরকালের নাজাতের উসীলা হবে মনে করিয়া আমি উক্ত কাজে সচেষ্ট হই।”
ফাজায়েলে আমল, পৃষ্ঠা – ৩, মূল বইয়ের স্ক্যান করা অংশ ছবিতে দেখুন।

এতোবড় শায়খুল হাদীস, দ্বীনের দাওয়াতের জন্য বই লিখছেন আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য না, তার নেতা মাওলানা ইলিয়াস সাহেবকে সন্তুষ্ট করার জন্য!! নাউযুবিল্লাহ, শিরক, ডাহা শিরক।

অনেক কট্টর তাবলিগী সমর্থক দাবী করে, এইখানে সে তার পীরকে খুশি করতে চাইছে কিন্তু তার উদ্দেশ্যতো ভালো, সে তার পীরকে খুশী করে পরকালে নাজাত পাইতে চায়!

তাদেরকে বলবো, আপনি আগে ভালো করে কুরআন অর্থসহ বুঝে পড়েন, পরে শিরকি ভেজাল কিতাবের জন্য সাফাই গাইয়েন।
মহান আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ
“জেনে রাখুন, নিষ্ঠাপূর্ণ ইবাদত শুধুমাত্র আল্লাহরই জন্য। যারা আল্লাহ ব্যতীত অপরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে রেখেছে এবং বলে যে, আমরা তাদের ইবাদত এ জন্যেই করি, যেন তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়।”
সুরা যুমারঃ ৩।

এই আয়াতের তাফসীর পড়ে দেখুন – মক্কার কাফের মুশরেকরা আল্লাহকে বিশ্বাস করতো, তারা দেব দেবীকে আল্লাহ মনে করতোনা। কিন্তু তারা দেব দেবীকে খুশি করার জন্য বিভিন্ন কাজ (ইবাদত) করতো আর মনে করতো, এইভাবে তারা আল্লাহর নৈকট্য পাবে, পরকালে মুক্তি পাবে, জান্নাতে যাবে। কিন্তু এইরকম চিন্তাভাবনা ডাহা শিরক ও কুফর এইজন্য ঐ কথা বলার সাথে সাথেই যারা এইরকম কথা বলে তাদেরকে আল্লাহ “মিথ্যাবাদী ও কাফের” বলেছেন। আয়াতের বাকি অংশটুকু হচ্ছেঃ

“নিশ্চয় আল্লাহ তাদের মধ্যে তাদের পারস্পরিক বিরোধপূর্ণ বিষয়ের ফয়সালা করে দেবেন। আল্লাহ মিথ্যাবাদী কাফেরকে সপথে পরিচালিত করেন না।”
সুরা যুমারঃ ৩।

কোনো ইবাদত (নামায পড়া, রোজা রাখা, দাওয়াত দেওয়া, বই লেখা) কেউ যদি কেউ আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে বা অন্য কাউকে সন্তুষ্ট করার জন্য করে আর এর এইভাবে জান্নাতে যেতে চায়, তাহলে সে আসলে মক্কার ঐ মূর্তি পূজারীদের মতোই #শিরকী চিন্তা করলো। কারণ মূর্তি পূজারীরাও মনে করতো দেব দেবীদেরকে খুশী করে পরকালে ওসীলা ধরে জান্নাতে যাবে।

তবে একটা ব্যপার খেয়াল রাখতে হবে কোনটা শিরক হবে, আর কোনটা শিরক হবেনা। যেইটা দুনিয়াবী বিষয় কিন্তু ইবাদত না, যেমন পিতা-মাতার সেবা করা, কাউকে সাহায্য করা, মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করা – এইগুলো যদি কেউ কোনো মানুষকে সন্তুষ্ট করার জন্য করে সেটা শিরক হবেনা। তবে সে যেহেতু অন্য কারো জন্য করছে, সেইজন্য সে সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে। কিন্তু এইগুলো যদি কেউ “শুধুমাত্র আল্লাহকে” সন্তুষ্ট করার জন্য করে, অন্য কোনো কিছুর জন্য না, ভালো কাজ হিসেবে এটা গণ্য হবে এবং সে এর বিনিময়ে সওয়াব পাবে।

আর যেইটা আল্লাহর বেঁধে দেওয়া ইবাদত, যেমন নামায, রোজা, হজ্জ, দাওয়াত, দ্বীনের কাজ করা, বই লেখা – এইগুলো যদি কেউ দুনিয়া অর্জন যেমন টাকা পয়সার জন্য করে, সুনাম কুড়ানোর জন্য, কাউকে খুশি করার জন্য – তাহলে এটা রিয়ার শিরকের গুনাহ হবে যা মারাত্মক কবীরাহ গুনাহর মাঝে পড়বে। আর এইভাবে সে যতবড়ই আমল করে থাকুক না কেনো – আল্লাহ সেই আমল কস্মিনকালেও কবুল করবেন না বরং ইখলাস নষ্ট করার কারণে সে এরজন্য কঠিন শাস্তি পাবে। সর্বশেষ এই বিষয়ে একটা হাদীস পড়ুন ও একটু চিন্তা করে দেখুন আসলেই কি আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কারো সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য দ্বীনের খেদমত করা – বই লিখতে পারবো কিনা?

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
“আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ “শরীকদের মাঝে অংশীদারির অংশ (শির্ক) থেকে আমিই সবচেয়ে বেশি অমুখাপেক্ষী। সুতরাং, যে কেউ এমন আমল করল যাতে আমার সাথে অপরকে শরিক করেছে, আমি #তাকে ও #তার_শির্ককে প্রত্যাখ্যান করি।”

সহীহ মুসলিম, হাদিসটি হাসান সহীহ।


***নিঃসন্দেহে এ থেকে প্রমাণ হয় যে, লোক দেখানো ব্যক্তির আমল বা অন্যকে খুশি করার জন্য যে আমল সেটা আল্লাহ #কবুল_করেন_না, তার বিনিময়ে কোন সওয়াব নেই।

সোমবার, ৩১ মার্চ, ২০১৪

মুনাজাত কিভাবে করতে হবে?



মুনাজাত কিভাবে করতে হবে?

মুনাজাত করার আদব হচ্ছে -

১. যেকোন সময় মুনাজাত করা যায়, দিনে রাতে, দাঁড়ানো, শুয়ে-বসে, ওযু ছাড়া বা ওযু করে। এমনকি গোসল ফরয এমন অবস্থায় বা নারীদের ঋতু অবস্থাতেও দুয়া করতে পারবেন। তবে ফরয নামাযের পরপরই মুনাজাত করবেন না। আগে কিছু সুন্নতী যিকির করে এর পরে ইচ্ছা হলে একাকী মুনাজাত করতে পারেন। অথবা ফরয, সুন্নত সব নামায শেষ করে এর পরে মুনাজাত করবেন। উল্লেখ্য, অনেক মনে করেনঃ নামাযের পরে মুনাজাত করতেই হবে। এটা ঠিকনা, নামাযের পরে আপনার ইচ্ছা হলে মুনাজাত করবেন, না হলে করবেন না আপনার ইচ্ছা। মুনাজাত করা নামাযের অংশ না। সালাম ফেরানোর মাধ্যমেই নামায শেষ হয়ে যায়।

২. ওযু অবস্থায় পশ্চিম দিকে ফিরে দুয়া করা মুস্তাহাব বা উত্তম। তবে এটা জরুরী নয়, ওযু ছাড়া অন্য দিকে ফিরেও মুনাজাত করা যাবে।

৩. মুনাজাতে দুই হাত তোলা মোস্তাহাব, আল্লাহ এটা পছন্দ করে যে মানুষ ভিক্ষুকের মতো তাঁর দরবারে বিনীতভাবে হাত তুলে দুয়া করবে। এইভাবে দুয়া করলে সেটা আল্লাহ কবুল করে নেন।
সালমান আল-ফারসী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

তোমাদের রব লজ্জাশীল ও দানশীল।। তাঁর বান্দা যখন তাঁর নিকট দুই হাত তুলে প্রার্থনা করে, তখন তিনি খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন।
মুসনাদে আহমদ, তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, বুলুগুল মারামঃ ১৫৮১।

৪. মুনাজাত করতে হবে বিনীত ভাবে, নিচু স্বরে, মন দৃঢ় আশা নিয়ে যে আল্লাহ সব কিছু করতে পারেন আর তিনি অবশ্যই আমার দুয়া কবুল করবেন। আমি এতো পাপী আল্লাহ কবুল করেন কিনা এইরকম সন্দেহ থাকলে বা আল্লাহ কবুল করবেন না, আমাকে ক্ষমা করবেন না আল্লাহ সম্পর্কে এমন খারাপ ধারণা নিয়ে দুয়া করলে আল্লাহ সেই দুয়া কবুল করেন না। বান্দা যতই পাপী হোক সে আন্তরিক তোওবা করে জান্নাতুল ফিরদাউসের আশা রেখেই দুয়া করবে, বিপদ যত বড়ই হোক আল্লাহ সব ইচ্ছা পূরণ করতে পারেন এই আশা নিয়েই দুয়া করতে হবে। আর যে দুয়া করা হচ্ছে সেইদিকে মনোযোগ রেখে বুঝে আল্লাহর কাছে চাইতে হবে। উদাসীন হয়ে অন্তর থেকে না চেয়ে শুধু মুখে উচ্চারণ করে গেলে বা আন্তরিক দুয়া নাকরে দেখানো দুয়া করলে আল্লাহ সেই দুয়া কবুল করেন না। কান্নাকাটি করে বিনীতভাবে দুয়া করলে আল্লাহ অত্যন্ত খুশি হন।

৫. মুনাজাতের প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা দিয়ে শুরু করতে হবে। এই বলে প্রশংসা করা যেতে পারে

التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ، وَالصَّلَواتُ، وَالطَّيِّباتُ

উচ্চারণঃ আত্তাহিয়্যা-তু লিল্লা-হি ওয়াস্‌সালাওয়া-তু ওয়াত্তায়্যিবা-তু।
অর্থঃ সমস্ত অভিবাদন, সকল সালাত ও পবিত্র কাজ একমাত্র আল্লাহ্‌র জন্য।
অথবা এটা বলে আল্লাহর প্রশংসা করা যাবে

الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ

উচ্চারণঃ আলহামদুলিল্লাহি হামদান কাসীরান ত্বায়্যিবান মুবা-রাকান ফীহি।
অর্থঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যে প্রশংসা পবিত্রতা ও বরকতপূর্ণ।
অথবা এটা বলে আল্লাহর প্রশংসা করা যাবে

الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

উচ্চারণঃ আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন।
অর্থঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক।
***এইরকম যেকোন এক বা একাধিক, বা এইরকম আল্লাহর জন্য প্রশংসামূলক অন্যবাক্য বলা যাবে।

৬. আল্লাহর প্রশংসার পরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি দুরুদ পড়তে হবে। ছোট বড় যেকোন দুরুদ পড়া যাবে আপনার যেটা ভালো লাগে। সর্বোত্তম দুরুদ হচ্ছে দুরুদে ইব্রাহীম, যেটা আমরা নামাযে পড়ি। এটা না পড়ে ছোট অন্য দুরুদও পড়া যাবে। যেমন

اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ عَلَى نَبَيِّنَا مُحَمَّدٍ

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা সাল্লি ওয়াসাল্লিম আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি আমাদের নবী মুহাম্মাদ এর উপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।
সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ১/২৭৩

একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখলেন এক ব্যক্তি দুআ করছে কিন্তু সে দুআতে আল্লাহর প্রশংসা ও রাসুলের প্রতি দরূদ পাঠ করেনি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে লক্ষ্য করে বললেন, সে তাড়াহুড়ো করেছে। অতঃপর সে আবার প্রার্থনা করল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে অথবা অন্যকে বললেন, যখন তোমাদের কেউ দুআ করে তখন সে যেন প্রথমে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও তার গুণগান দিয়ে দুআ শুরু করে। অতঃপর রাসুলের প্রতি দুরুদ পাঠ করে। এরপর তার যা ইচ্ছা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে।” 
আবু দাউদঃ ১৪৮১, তিরমিজীঃ ৩৪৭৭, শায়খ আলবানীর মতে হাদীসটি সহীহ। 

৭. এর পরে নিজের পছন্দমতো নিজের জন্য বা অন্যের জন্য, দুনিয়া বা আখেরাতের যেকোন কল্যানের জন্য দুয়া করতে হবে। সবচাইতে কম কথায় সবচাইতে বেশি প্রার্থনা করার এই দুয়াটা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব বেশি বেশি করতেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অধিকাংশ দোআ হতঃ

اَللهم آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً، وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা আ-তিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাও-ওয়াফিল আ-খিরাতি হাসানাতাও ওয়া-ক্বিনা আযাবান্নার।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাদেরকে দুনিয়ার জীবনে কল্যাণ দাও এবং পরকালে জীবনেও কল্যাণ দান করো। আর আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে বাঁচাও।

বিঃদ্রঃ আল্লাহুম্মা আতিনা...অথবা রাব্বানা আতিনা...এই দুইভাবেই পড়া যায়।
সহীহ মুসলিমের অন্য হাদীসে আছে, “আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন একটি দোআ করার ইচ্ছা করতেন, তখন ঐ দোআ করতেন। আবার যখন (বিভিন্ন) দোআ করার ইচ্ছা করতেন, তখন তার মাঝেও ঐ দোআ করতেন
সহীহুল বুখারী ৪৫২২, মুসলিম ২৬৮৮, তিরমিযী ৩৪৮৩, আবূ দাউদ ১৫১৯, আহমাদ ১১৫৭০।

এছাড়া জীবিত বা মৃত পিতা মাতার জন্য এই দুয়া বেশি করতে হবেঃ

رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا

উচ্চারণঃ রাব্বির হাম-হুমা কামা রাব্বা ইয়ানি সাগিরা।
অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমার পিতা-মাতার প্রতি তেমনি দয়া করো যেইরকম দয়া তারা আমাকে শিশু অবস্থায় করেছিল।


৮. দুয়া করে আমিন অথবা আমিন ইয়া রাব্বাল আলামীন বলবেন। দুয়া শেষ মুখে হাত মোছা বা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা, এইগুলো সহীহ হাদীসে নাই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কাজগুলো করতেন এটা বিশুদ্ধ বর্ণনা দ্বারা প্রমানিত হয়নি। তাই এইগুলো করবেন না। আমিন বলে হাত নামিয়ে ফেলবেন।

এপ্রিল ফুল - পহেলা এপ্রিল



পহেলা এপ্রিল
আ.স.ম শোআইব আহমাদ
সম্পাদনা : ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লী আলা রাসূলিহীল কারীম। আম্মা বাদ,
এপ্রিল মাসে আমাদের দেশে দুটি দিবস পালন করা হয়ে থাকে। পহেলা এপ্রিল এবং পহেলা বৈশাখ বা ১৪ই এপ্রিল। পহেলা এপ্রিল বাংলায় ‘‘এপ্রিল ফুল’’ নামে পরিচিত। এখানে ফুল অর্থ ইংরেজী ফুল অর্থা বোকা, হাবা বা নির্বোধ। ইংরেজিতে বলা হয়ঃ
April Fools’ Day or All Fools' Day. এদিনে ‘‘প্র্যাকটিক্যাল জোক’’ বা বাস্তব বা ব্যবহারিক তামাশার নামে একে অপরকে মিথ্যা বলে ঠকানো হয়ে থাকে। এ উপলক্ষ্যে পাশ্চাত্যের দেশগুলিতে নানা রকম উসবের ব্যবস্থা করা হয়।
এপ্রিল ফুলের রহস্য বুঝতে আমাদের মানব ইতিহাসের কয়েকটি তথ্য জানতে হবে।

আদম আলাইহিস সালাম-এর মাধ্যমে পৃথিবীর বুকে মানব জাতির পথ চলা শুরু। তাঁর সন্তানেরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ক্রমান্বয়ে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। পরবর্তী প্রথম রাসূল ছিলেন নূহ আলাইহিস সালাম। নূহ আলাইহিস সালাম-এর প্লাবনের পর তাঁর সন্তানেরা ক্রমান্বয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। তাঁর তিন ছেলের নাম ‘‘হাম’’, ‘‘সাম’’ ‘‘ইয়াফিস’’।. হামের বংশধরগণ ক্রমান্বয়ে আফ্রিকায় চলে যান। সামের বংশধরগণ মূলত মধ্যপ্রাচ্যে বসবাস করেন এবং কেউ কেউ পার্শবতী দেশগুলিতে ছড়িয়ে পড়েন। ভারতের দ্রাবিড়গণও তাদেরই বংশধর বলে বুঝা যায়। ইয়াফেসের বংশধরগণ অনেকে ইরানে বসবাস করেন। আরেক দল আর্য’’ নামে ভারতে আসেন এবং আরেক দল ইউরোপে চলে যান। এজন্য ইউরোপ, ভারতের আর্য ও প্রাচীন ইরানের ভাষা, কৃষ্টি ও ধর্মের মধ্যে অনেক অনেক মিল পাওয়া যায়। তার একটি দিক হলো পহেলা এপ্রিল।
বসন্তের শেষে ভারতে হিন্দুরা হোলি উসর পালন করেন। হিন্দুদের বিশ্বাস অনুসারে ভগবান বিষ্ণুর অবতার বা মানবরূপ শ্রীকৃষ্ণের সাথে গোপিনীদের লীলাখেলার স্মৃতিপালন ও উদযাপনে তারা এ উসব করেন। এ হোলি উসবেরই প্রাচীন ইউরোপীয় রূপ ছিল প্রাচীন রোমান ধর্মের হিলারিয়া (Hilaria) সব। এ উপলক্ষ্যে নানারকম অশ্লীল, অশালীন আনন্দ উসব প্রচলিত ছিল ইউরোপে।

ইউরোপে খৃস্টধর্ম আগমনের পরে ‘‘ভিন্নমতের’’ কারণে লক্ষ লক্ষ খৃস্টান, ইয়াহূদী ও মুসলিমকে হত্যা ও আগুনে পোড়ানো হলেও, খৃস্টান পোপ-পাদরিগণ ধর্মকে সহজ করার নামে সকল প্রকার পাপাচার প্রশ্রয় দিয়েছেন। এ কারণে খৃস্টান ইউরোপে এপ্রিল ফুল দিবস নামে হিলারিয়া বা হোলি উসবের বিভিন্ন প্রকারের পাপাচার, মিথ্যাচার ও অশ্লীলতা প্রশ্রয় দেওয়া হয়। এমন একটি মহাপাপ, মিথ্যাচার ও বর্বরতা ছিল স্পেনের মুসলিমদের সাথে খৃস্টানগণের ‘‘এপ্রিল ফুল’’

স্পেনের অত্যাচারিত মানুষদের আহবানে সাড়া দিয়ে মুসলিম বাহিনী ৯২ হিজরী মুতাবেক ৭১১ খৃস্টাব্দে স্পেনে প্রবেশ করে। মুসলিমগণই ইউরোপের মানুষদেরকে জ্ঞানবিজ্ঞান শিক্ষা দেন। মুসলিম স্পেনের গ্রানাডা, কর্ডোভা ও অন্যান্য শহরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা পড়তে আসত। প্রায় আট শত বসর মুসলিমগণ স্পেন শাসন করেন। শেষ দিকে তাদের মধ্যে আভ্যন্তরীন কোন্দল ছড়িয়ে পড়ে। ফলে খৃস্টানগণ ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন অঞ্চল মুসলিমদের থেকে ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয়। ৮৯৮ হিজরী মুতাবেক ১৪৯৩ খৃস্টাব্দে রাজা ফার্দিনান্দ ও রানী ইযাবেলার যৌথ খৃস্টান বাহিনী মুসলিমদের শেষ রাজধানী গ্রানাডা দখল করতে সক্ষম হয়। তারা এ সময়ে ‘‘এপ্রিল ফুল’’ নামে মুসলিমদের প্রতারণা করে তাদের মধ্যে গণহত্যা চালাতে সক্ষম হয়।

বিশ্বের যে কোনো ঐতিহাসিকের বই পড়ে দেখুন, ৮০০ বসরের শাসনামলে মুসলিমগণ কখনোই খৃস্টানদেরকে ধর্মান্তরিত করতে চেষ্টা করেন নি বা দেশ থেকে বের করে দেন নি। ইয়াহূদী-খৃস্টানগণ মুসলিম শাসনামলে সর্বোচ্চ নাগরিক অধীকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করেছেন। কিন্তু মুসলিমদের পরাজিত করার পরে পাদরীগণের নেতৃত্বে খৃস্টানগণ মুসলিমদের উপর যে ভয়াবহ গণহত্যা চালিয়েছেন তার কোনো নযির বিশ্বের ইতিহাসে পাবেন না। লক্ষ লক্ষ মুসলিমকে মসজিদে আটকে আগুনে পুড়িয়ে, পাহাড় থেকে ফেলে, সমূদ্রের মধ্যে জাহাজ ডুবিয়ে ও গণজবাই অনুষ্ঠানে জবাই করে হত্যা করা হয়। অনেককে জোর করে ধর্মান্তরিত করা হয়। এরপরও প্রায় একশত বসর পরে ১৬০৯ খৃস্টাব্দের ৪ আগস্ট প্রায় ৫০ লক্ষ মুসলিমকে স্পেন থেকে বিতাড়িত করা হয়। কার্ডিনাল বা খৃস্টান ধর্মগুরুর আদেশে জ্ঞানবিজ্ঞানের মূল সূত্র লক্ষ লক্ষ আরবী পুস্তক পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

শুধু মুসলিমগণ নয়, ইয়াহূদীদের উপরও খৃস্টানগণ একইরূপ অত্যাচার করে। অনেককে জোর করে খৃস্টান বানায়। অধিকাংশকে স্পেন থেকে বিতাড়িত করে। বিতাড়িত ইয়াহূদীরা ইউরোপের কোনো দেশে ঠাই না পেয়ে মুসলিম তুরস্কে এসে শান্তিতে বসবাস করতে থাকে। জুইশ এনসাইক্লোপিডিয়া ও অন্যান্য সকল এনসাইক্লোপিডিয়া ও ইতিহাস গ্রন্থে আপনারা এ সকল তথ্য দেখতে পাবেন।

এ হলো খৃস্টানদের এপ্রিল ফুলের ইতিহাস। যদি ইসলামে প্র্যাকটিক্যাল জোক নামে বা আনন্দ উল্লাসের নামে মিথ্যা বলার অনুমতি থাকত তাহলেও এ দিনে কোনো মুসলিম আনন্দ করতে পারতেন না। কারণ প্রথমত তা প্যগান বা মুর্তিপূজকদের ধর্মীয় উসবের অংশ ও অনুকরণ। দ্বিতীয়ত এ দিবসটি মুসলিমদের জন্য দুঃখের ও প্রতিবাদের দিন, আনন্দের নয়। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা হলো, হাসি-মস্করার নামে মিথ্যা বলা ইসলামে কঠিনভাবে নিষিদ্ধ ও হারাম।
মিথ্যা ইসলামে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হারাম গোনাহগুলির অন্যতম। মিথ্যা বলা মুনাফিকের অন্যতম চিহ্ন। মিথ্যা সর্বাবস্থায় হারাম। সবচেয়ে জঘন্যতম মিথ্যা হলো আল্লাহ বা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে, হাদীসের নামে বা ধর্মের নামে মিথ্যা বলা। এরপর জঘন্য মিথ্যা হলো মিথ্যার মাধ্যমে কোনো মানুষের অধিকার নষ্ট করা, সম্পদ দখল করা বা মিথ্যা কথা বলে কিছু বিক্রয় করা। বিভিন্ন হাদীসে এরূপ কর্মের জন্য কঠিন অভিশাপ ও কঠিন শাস্তির কথা বলা হয়েছে।
ইসলামে হাসি-মস্করা, আনন্দ ও বিনোদনকে উসাহ দেওয়া হয়েছে। কিন্ত সে জন্য মিথ্যা বলা বৈধ করা হয় নি। রাসূলুল্লাহ নিজে হাঁসি-মস্করা করতেন, কিন্তু মিথ্যা পরিহার করতেন। এক বৃদ্ধাকে বলেন, কোনো বুড়ো মানুষ তো জান্নাতে যাবে না। এতে বেচারী কান্নাকাটি শুরু করে। তখন তিনি বলেন, বুড়োবুড়িকে আল্লাহ জোয়ান বানিয়ে জান্নাতে দিবেন। অপর একব্যক্তি তাঁর কাছে এসে সফরের জন্য একটি উট চান। তিনি বলেন, তোমাকে আমি একটি উটনীর বাচ্চা দিব। লোকটি হতাশ হয়ে বলে, বাচ্চাতে আমার কি হবে? তিনি বলেন, সকল উটই তো উটনীর বাচ্চা। এরূপ অনেক ঘটনা হাদীসে রয়েছে। সাহাবীগণও হাসি-মস্করা করতেন, তবে মিথ্যা বর্জন করতেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
‘‘যে ব্যক্তি মানুষ হাসানোর জন্য মিথ্যা বলে তার জন্য ধ্বংস! তার জন্য ধ্বংস! তার জন্য ধ্বংস!’’ অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
‘‘যে ব্যক্তি সর্বদা মিথ্যা বর্জন করে, মস্করা বা কৌতুক করতেও মিথ্যা বলে না, তার জন্য জান্নাতের মধ্যদেশে একটি বাড়ির জন্য আমি দায়িত্ব গ্রহণ করলাম।’’
মস্করা বা কৌতুকচ্ছলে কাউকে ভয় পাইয়ে দেওয়াও জায়েয নয়। এক সফরে সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ -এর সাথে ছিলেন। একজন সাহাবী ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তখন অন্য একজন গিয়ে তার রশিটি নিয়ে আসেন। এতে ঘুমন্ত ব্যক্তি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে উঠে পড়েন। তার ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থা দেখে সাহাবীগণ হেসে উঠেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা হাসছ কেন? তারা ঘটনাটি বললে তিনি বলেন:
‘‘কোনো মুসলিমের জন্য বৈধ নয় যে, সে অন্য মুসলিমকে ভয় পাইয়ে দিবে।’’

আমরা অনেক সময় কৌতুকভরে বা ভুলানোর জন্য শিশুদের সাথে মিথ্যা বলি। অথচ এরূপ মিথ্যাও মিথ্যা এবং গোনহের কাজ। শুধু তাই নয়, এরূপ মিথ্যার মাধ্যমে আমরা শিশুদেরকে মিথ্যায় অভ্যস্ত করে তুলি এবং মিথ্যার প্রতি তাদের ঘৃণা ও আপত্তি নষ্ট করে দিই। কিশোর সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনু আমির বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ আমাদের বাড়িতে বসা ছিলেন, এমতাবস্থায় আমার মা আমাকে ডেকে বলেন, এস তোমাকে একটি জিনিস দিব। রাসূলুল্লাহ বলেন, তুমি তাকে কি দিতে চাও? তিনি বলেন: আমি তাকে একটি খেজুর দিতে চাই।
রাসূলুল্লাহ বলেন:
‘‘তুমি যদি তাকে কিছু না দিতে তবে তোমার নামে একটি মিথ্যার গোনাহ লেখা হতো।’’
নিজের সাথে নিজে মিথ্যা বলাও বৈধ নয়। আর এজন্যই কেউ যদি নিজের মনে শুধু নিজের জন্যই কোনো বিষয়ের কসম করে যে, আমি অমুক কাজটি করব বা করব না, কিন্তু পরে তার ব্যক্তিগত কসম না রাখতে পারে তবে তাকে কসমের কাফ্‌ফারা দিতেই হবে। কাজেই নিজের মনে নিজের জন্য কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা পূরণ করুন, নিজের মনকে মিথ্যায় অভ্যস্ত করবেন না।

শুধু নিশ্চিত মিথ্যাই নয়, মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা আছে এরূপ কথা বলতে বা যা কিছু শোনা যায় সবই বলাবলি করতে নিষেধ করেছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম । তিনি বলেন:
‘‘একজন মানুষের মিথ্যাবাদি হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শুনবে তাই বলবে।’’
এ অপরাধটি আমরা সকলেই করি। ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র, বিশ্ব ইত্যাদি সম্পর্কে মুখরোচক গল্প, গণমাধ্যমের খবর ইত্যাদি যা কিছু শুনি তাই বলি। অথচ বিষয়টি সঠিক কিনা সে সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে কথা বলা ঠিক নয়। যদি কোনো মানুষের ব্যক্তিগত মর্যাদাহানী বা গীবত জাতীয় কিছু না হয়, তবে সে ক্ষেত্রে বড়জোর বলা যেতে পারে যে, অমুক একথা বলেছে বলে শুনেছি, সত্য মিথ্যা বলতে পারি না।
সর্বদা সত্য বলুন। সত্যপ্রীতি আপনাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

‘‘তোমরা সর্বদা সত্য আঁকড়ে ধরবে; কারণ সত্য পুণ্যের দিকে ধাবিত করে আর পুণ্য জান্নাতে নিয়ে যায়। একজন মানুষ যখন সর্বদা সত্য বলতে থাকে এবং সত্য বলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে তখন সে এক পর্যায়ে আল্লাহর কাছে ‘‘সিদ্দীক’’ বা মহাসত্যবাদী বলে লিখিত হয়ে যায়। আর তোমরা মিথ্যা সর্বোতভাবে বর্জন করবে। কারণ মিথ্যা পাপের পথে পরিচালিত করে এবং পাপ জাহান্নামে নিয়ে যায়। একজন মানুষ যখন মিথ্যা বলে এবং মিথ্যা বলার সুযোগ খুঁজে বেড়ায় তখন সে এক পর্যায়ে আল্লাহর নিকট মহামিথ্যাবাদী বলে লিখিত হয়ে যায়।

রবিবার, ৩০ মার্চ, ২০১৪

শরীয়তঃ- তরীকতঃ - মারেফত- হাকিকতঃ



Collected from Shaykh Monoar Hossen

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ বলেছেন। রাসুল সা.ইসলামকে ভাঙেননি। শরীয়াহকে অটুট রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। যত ভাল নিয়তই থাক ইসলামকে এভাবে ভাগ করা কতটুকু যৌক্তিক?
শরীয়তঃ- তরীকতঃ - মারেফত- হাকিকতঃ
_______________________________________________________
ক) শরীয়তঃ ইসলামী জীবন ব্যবস্থার যাবতীয় বিধানকে শরীয়ত বলা হয়। সর্বপ্রথম শরীয়তের পূর্ণ অনুসারী হতে হয়। শরীয়তের যাবতীয় বিধানের মধ্য দিয়ে সুফী তার প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রিত করে প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে আল্লাহর অনুগত করেন। শরীয়তের পূর্ণ অনুসরণ ব্যতীত কেউ সুফী হতে পারবে না। সুফীরা এ কথাটি জোর দিয়ে বললেও তাদের আচার-আচরণ এর সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ অনেক সুফীকেই দেখা যায় তারা মারেফতের দোহাই দিয়ে শরীয়তের বিধান মানতে আদৌ প্রস্তুত নন।
খ) তরীকতঃ সুফীদের পরিভাষায় তরীকত হচ্ছে; শরীয়তের যাবতীয় বিধান অনুশীলনের পর তাকে আধ্যাত্মিক গুরুর শরণাপন্ন হতে হবে। এ পর্যায়ে তাকে বিনা প্রশ্নে গুরুর আনুগত্য করতে হবে।
গ) মারেফতঃ সুফীদের পরিভাষায় মারেফত হচ্ছে, এমন এক স্তর যার মধ্যে বান্দাহ উপনীত হলে সৃষ্টি রহস্য সম্পর্কে অবগত হতে পারে। এ স্তরে পৌঁছতে পারলে তার অন্তর আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠে। তখন তিনি সকল বস্তুর আসল তত্ত্ব উপলব্ধি করতে শুরু করেন। মানব জীবন ও সৃষ্টি জীবনের গুপ্ত রহস্য তার নিকট সপষ্ট হয়ে ভেসে ওঠে।
ঘ) হাকিকতঃ সুফীদের ধারণায় তাদের কেউ এ স্তরে পৌঁছতে পারলে আন্তরিকভাবে আল্লাহর প্রেমের স্বাদ ও পরমাত্মার সাথে তার যোগাযোগ হয়। এটা হচ্ছে সুফী সাধনার চুড়ান্ত স্তর। এ স্তরে উন্নীত হলে সুফী ধ্যানের মাধ্যমে নিজস্ব অস্তিত্ব আল্লাহর নিকট বিলীন করে দেন।

উপরোক্ত নিয়মে ভক্তদের নামকরণ করা ও স্তরভেদ করা একটি বানোয়াট পদ্ধতি। ইসলামের প্রথম যুগে এগুলোর কোন অস্থিত্ব ছিল না। পরবর্তীতে সুফীরা এগুলো নিজের খেয়াল খুশী মত তৈরী করেছে।

ফেইসবুক না ফেতনাবুক?



ফেইসবুক না ফেতনাবুক?

ফেইসবুক মাধ্যমটার সমালোচনার শেষ নেই। এমনকি এই তথাকথিত ইসলামী পেজের নামেও অনেক ফেতনা ও পাপাচার হচ্ছে। এই ব্যপারে কিছু গাইডলাইন দেওয়া হলো – অবহেলা করবেন না। পাপে জড়িয়ে পড়া মানুষের জন্য সবচাইতে বড় বিপদ – কারণ এর প্রতিদান জাহান্নাম, নাউযুবিল্লাহ!

***নারীদের চেহারা দেখিয়ে (হিজাবী/আধা হিজাবী) ছবি দেখানো সম্পূর্ণ হারাম!
অনেক নারী বেপর্দা ছবি দিয়ে কমেন্ট করে। অনেক পুরুষ এতে তাদের দিকে আকৃষ্ট হয়ে তাদের প্রোফাইলে যায়, তাদেরকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠায়, তাদের সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে...এইভাবে কত যে কাহিনী ও কত পাপ হচ্ছে আল্লাহ ভালো জানেন। নারীরা ছবি দিয়ে কমেন্ট করবেন না, গায়ের মাহরাম পুরুষদেরকে ইসলামী সুরতে ফ্রেন্ড লিস্টে ঢুকাবেন না। আপনি দ্বীন শিখবেন আলেমদের কাছে থেকে তাদের বই পুস্তক পড়ে, ওয়াজ লেকচার শুনে – আপনার কোনো ছেলেকে ফলো করার দরকার নাই। আর কোনো পুরুষেরও দরকার নাই, ইসলাম শেখার নাম করে নারীদের ফলো করার। এই লোকটা মূর্খ, সহীহ আকীদার আলেম ওলামাদের কাছে না গিয়ে যে নারীদের পেছনের ঘুরে (বাস্তবেই হোক, ফোনে যোগাযোগ করে, মেয়ে বন্ধুর কাছ থেকে বা ফেইসবুকে ফ্রেন্ড হয়ে) সে আহলুল হাওয়া – প্রবৃত্তি পূজারী। এ আসলে নারীদের প্রতি আকৃষ্ট, দ্বীনের নামে আসলে মুখোশ পড়ে আছে।

১. নায়ক-নায়িকার ছবি প্রোপিক দিবেন না। এখনো ক্ষেতের মতো ফিল্ম স্টারের ছবি দিয়ে রাখেন? ভালো করে ইসলাম শিখুন...
২. অশ্লীল ছবি প্রোপিক দিবেন না। কি বাজে দেখা যায়, অশ্লীল ছবি দিয়ে রেখেছেন, আবার কমেন্ট করেন ইন শা’ আল্লাহ, মা শা’ আল্লাহ। দুইমুখী নীতি, কমস সেন্সের বিষয়।
৩. নারীর ছবি দিবেন না। এটা ফেইসবুকে সবচেয়ে বড় ফেতনা! নিজেদেরকে ফেতনাবাজের কাতারে ফেলবেন না। হিজাব পর্দা নারীদের সম্মান। ফেইসবুকে থার্ডক্লাস পুরুষদের লাইক পাওয়ার লোভে নিজেদের সম্মানকে বিসর্জন দেবেন না।
*অনেকে মনে করে মাথায় রুমাল বেঁধে মুখ খোলা নারীদের ছবি দেওয়া জায়েজ?...তথাকথিত অনেক ইসলামিক পেজে দেখি নারীদের ছবি আপলোড করে লাইক পাওয়ার আশায়...ভুয়া হিজাবীর ছবিতে অজ্ঞ মুসলমানেরা লাইক দেয়, শেয়ার করে, কমেন্ট করে মা শা’ আল্লাহ!
লা হা’উলা ওয়ালা ক্বুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ...যেমন এডমিন তেমন ফলোয়ার!
৪. পুরুষের ছবিও দিবেন না। দুনিয়ার সব নারী আপনার মাহরাম না। আপনার ছবি দিয়ে নারীদের ফেতনায় ফেলবেন না।
৫. দাঁড়ি বিহীন পুরুষের ছবিতো আরো মারাত্মক। নিজের পাপ কাজের হাজার হাজার স্বাক্ষী রাখছেন!
৬. বাচ্চাদের ছবি দেবেন না, বাচ্চাদের নযর লাগতে পারে।
৭. কার্টুনের ছবি দেবেন না। অনেকে দেখি এমন গার্ল কার্টুন দিয়ে রাখে বেপর্দা! অনেকে ভৌতিক, উদ্ভট, দেখতে খারাপ ছবি দিয়ে রাখে। কি আজিব...!
৮. কোনো প্রাণীর ছবি দিবেন না।
৯. প্রাণীর ছবি দিয়ে, অশ্লীল, অভদ্র, গালি সংবলিত ছবি দিয়ে কমেন্ট করবেন না। পেজে কুরআন ও হাদীস প্রচার করার চেষ্টা করা হয়। দয়া করে সেই পরিবেশ নষ্ট করবেন না।
১০. প্রোপিক হিসেবে ন্যাচারাল বিউটি, বন, পাহাড় এইসব প্রাণহীন বস্তুর ছবি দিবেন।
১১. গায়ের মাহরামদের সাথে যোগাযোগ করবেন না, প্রাইভেট মেসেজে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করবেন না। আপনি বিবাহিত হলে সুখ দুঃখের আলাপ সব স্বামী বা স্ত্রীর সাথে করুন। বিবাহিত না হলে ধৈর্য ধরুন, আল্লাহর কাছে দুয়া করুন। আর বেশি কঠিন মনে হলে রোযা রাখুন। অবৈধ সম্পর্ক যোগাযোগ, মিথ্যে ভালোবাসার পেছনে ছুটবেন না। পুরুষদের জন্য নারীর চাইতে বড় ফেতনা আর নেই। ফেতনাকে ভয় করুন। 
বিঃদ্রঃ দলীল উল্লেখ করা হয়নি এমন একটা পোস্ট, যদিও এর পক্ষে অনেক অনেক দলীল রয়েছে। আমি অনেক আলেম ওলামাকে এইগুলোর ব্যপারে অত্যন্ত কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করতে দেখেছি।
হাদীসটা ভালো করে পড়ুন...

"হালালও স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট। আর এ দু'য়ের মাঝে রয়েছে বহু সন্দেহজনক বিষয়-যা অনেকেই জানেনা। যে ব্যক্তি সেই সন্দেহজনক বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকবে, সে তার দ্বীন ও মর্যাদা রক্ষা করতে পারবে। আর যে সন্দেহজনক বিষয়সমূহে লিপ্ত হয়ে পড়ে তার উদাহরণ ঐ রাখালের মত, যে তার পশু বাদশাহর সংরক্ষিত চারণভূমির আশে পাশে চরায়, অচিরেই সেগুলো সেখানে ঢুকে পড়ার আশংকা রয়েছে। জেনে রাখ যে, প্রত্যেক বাদশাহরই একটি সংরক্ষিত এলাকা রয়েছে। আরো জেনে রাখ যে, আল্লাহর যমীনে তাঁর সংরক্ষিত এলাকা হলো তাঁর নিষিদ্ধ কাজসমূহ। জেনে রাখ, শরীরের মধ্যে একটি গোশতের টুকরা রয়েছে, তা যখন ঠিক হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন ঠিক হয়ে যায়। আর তা যখন খারাপ হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন খারাপ হয়ে যায়। জেনে রাখ যে, সে গোশতের টুকরাটি হল কলব।"


[বুখারী, ১ম খন্ড, ঈমান অধ্যায়, হাদীস নং ৫০]

নবী সম্পর্কে আকীদাহ



বেদাতপন্থীরা কতোবড় আহাম্মক...

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নাকি মৃত্যুবরণ করেন নি!!?

*রাসুলুল্লাহ (সাঃ) মৃত্যুবরণ করেন নি, তাহলে সাহাবীরা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে কবর দিলেন কেনো?
সাহাবীরা কি জিন্দা মানুষকেই কবর দিয়ে ফেললেন (নাউযুবিল্লাহ)!!

ওহ...
বেদাতীরাতো রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে মানুষ বলাই চরম অপরাধ মনে করে!!

আসলে যারা কুরআনের আয়াতকে অস্বীকার করে এরা যে কতবড় বোকা হতে পারে, এটা তার একটা বাস্তব প্রমান...দেখুন আল্লাহ কি বলছেন, আর বেদাতীরা আমাদেরকে কি বলতে চায়...

আল্লাহর পক্ষ থেকে অগ্রীম ঘোষণা, নবী মৃত্যুবরণ করবেন...
...(হে নবী) নিশ্চয় আপনার মৃত্যু হবে এবং তাদেরও মৃত্যু হবে।...
সুরা যুমারঃ ৩০।

আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষণা, নবী একজন মানুষ ও আল্লাহর দূত (নবী/রাসুল)...
...বলুনঃ আমি ও তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের ইলাহই একমাত্র ইলাহ...
সুরা কাহফঃ ১১০।

বাংলাদেশের কয়েকটি পথভ্রষ্ট দলের লোকেরা বিশ্বাস করে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) মৃত্যুবরণ করেন নি, তিনি আমাদের মতোই তাঁর কবরে জীবিত আছেন...
কট্টরপন্থী আরো কিছু লোক মনে করে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কারো কারো জন্য হাত বের করে দেন মুসাহাফা করার জন্য, কারো সালামের জবাব দেন...
এইজন্য অনেকেই বিপদে পড়ে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর কবরে গিয়ে তাঁর কাছে সাহায্য চায়, তাঁর কাছে দুয়া করে...নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক...
সম্পূর্ণ কুফুরী ও শিরিকি কথাবার্তা, এইসব ভুয়া কিচ্চা লেখা আছে এদের ভেজাল কিতাবে...আর সাধারণ মানুষ অজ্ঞতার জন্য এই শেরেকী ধরতে পারেনা, এইগুলো বিশ্বাস করে মনে করে এইটা বড় কেরামতের কথা...
লা হা'উলা ওয়ালা ক্বুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ...এইসব কেরামত না - এইসব মিথ্যা ভুয়া কাহিনী নবীর নামে চালিয়ে কবর পূজার দরজা উন্মুক্ত করেছে বিদাতী আলেমরা...
ইন শা' আল্লাহ এইসমস্ত কুফুরী আকীদার পোস্ট মর্টেম করা হবে...

তবে সংক্ষেপে একটা দলীল উল্লেখ করা হলো...

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর দুনিয়ার জিন্দেগী শেষ হয়ে গেছে। মৃত্যুর পরে আমাদের সবার আরেকটা জিন্দেগী আছে। কবরের জীবনকে বলা হয় - হায়াতে বরযখ বা পর্দার জীবন। এই জীবন দুনিয়ার জীবন থেকে আলাদা। আর একবার যে হায়াতে বরযখে চলে যায় সে আর কোনো দিন দুনিয়াতে আসতে পারেনা। এটাই আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আকীদা। পক্ষান্তরে কবর পূজারীরা অনেক কুসংস্কার বিশ্বাস করে, এইজন্য নবী রাসুল ও অলি-আওলিয়াদের কাছে সাহায্য চাওয়ার নামে কবর-মাযার পূজায় লিপ্ত।