মঙ্গলবার, ১৩ মে, ২০১৪

শবে মিরাজের উদযাপন হুকুম



!!! কুর'আন হাদিসের আলোকে শবে মিরাজ উদযাপনের হুকুম !!!

শবে মিরাজের উদযাপন হুকুমঃ
নিঃসন্দেহ ইসরা মিরাজ আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে বড় একটি নিদর্শন যা রাসূল (সঃ) সত্যতা তাঁর আল্লাহ্ নিকট প্রিয় পাত্র হওয়ার বড় প্রমাণ সঙ্গে সঙ্গে এর দ্বারা আল্লাহর অসীম কদুরত এবং তিনি যে সৃষ্টি কুলের ওপরে রয়েছেন তাও প্রমাণিত হয়
আল্লাহ্তাআ’লা বলেনঃ

سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلاً مِّنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ

“পরম পবিত্র মহিমাময় সত্ত্বা তিনি, যিনি তার বান্দাকে রাত্রি বেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদুল হারাম (কাবা) থেকে মসজিদে আকসা(১) পর্যন্ত যার চার দিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি যাতে আমি তাঁকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই নিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রবণকারী দর্শনশীল।
সূরা বনী ইসরাঈল আয়াতঃ ১।

() ফিলিস্তীনে অবস্থিত বাইতুল মাকদিস, যা মুসলমানদের প্রথম কিবলা ছিল

মুতাওয়াতির বা বহু বর্ণনা কারীর সূত্রে প্রমাণিত যে, রাসূল (সঃ) আকাশ ভ্রমণ করেছেন তাঁর জন্য আকাশ সূমহের দরজা খুলে দেয়া হয়, তিনি সপ্তম আকাশ অতিক্রম করেন, অতঃপর তাঁর রব তাঁর সাথে কথা বলেন এবং ওপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেন

প্রথমত আল্লাহ্তা'আলা পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেন, অতঃপর আমাদের নবী মুহাম্মদ (সঃ) সালাত সংখ্যা কমানোর জন্য আল্লাহ্ নিকট বারবার দরখাস্ত করেন, যার ফলে তিনি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত চূড়ান্ত করে দেনআল্লাহ্তা'আলা আরো ঘোষণা দেন যে, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ, তবে প্রতিদিন পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাতের বরাবর দেয়া হবে, কারন প্রত্যেক নেকীর বদলা তার দশগুন করে দেয়া হয়

প্রথম কথা হচ্ছে, ইসরা মিরাজ কোন রাতে সংঘটিত হয়েছিল সহিহ হাদিসে তার নিদিষ্ট তারিখের কোন বর্ণনা নেই যা রয়েছে তা আবার মুহাদ্দিসীনের কিরামের নিকট প্রমাণিত নয়

মিরাজের তারিখ নিদিষ্ট না থাকার পেছনে আল্লাহর বিরাট রহস্য হিকমত রয়েছে দ্বিতীয়ত, এর তারিখ নির্ধারণ থাকার পেছনে ধর্মীয় কোন ফায়দা ছিল না, আর না থাকতে কোন ক্ষতিও নেইকারন রাতে নিদিষ্ট কোন ইবাদত বা রাতকে গুরুত্ব প্রদান করার কোন বিধান ইসলামে নেইনবী (সঃ) তার সাহাবা (রাঃ) আনহুম রাতে কোন অনুষ্ঠান উদযাপন করেননি যদি শবে মিরাজ উদযাপন সওয়াব বা বৈধ কাজ হত তবে অবশ্যই রসূল () তা করতেন এবং উম্মতকে তা বলে যেতেনতার সাহাবায়ে কেরাম আমাদের পর্যন্ত তা পৌঁছে দিতেনকারন, সাহাবায়ে কেরাম নবী () থেকে প্রমাণিত উম্মতের প্রয়োজন সব কিছুই নফল করেছেন, ব্যাপারে তাঁরা সামান্য শিথিলতা প্রদর্শন করেননিআরেকটি বিষয় প্রণিধান যোগ্য যে, সাহাবায়ে কেরাম কল্যাণের ব্যাপারে আমাদের চেয়ে অনেক অগ্রগামী ছিলেন, যদি শবে মিরাজ উদযাপন শরিয়ত সম্মত হত, তবে সে ব্যাপারে তাঁরাই সবার আগে থাকতেন

অতএব, শবে মিরাজের ওপর গুরুত্ব প্রদান, শবে মেরাজ উদযাপন ইত্যাদি ইসলামের অন্তভুর্ক্ত হলে রসূল () অবশ্যই তা উম্মতের নিকট পৌঁছে দিতেনযেহেতু তিনি তা করেননি, তাই প্রমাণিত যে, শবে মিরাজের আনুষ্ঠানিকতা ইসলামি কোন বিষয় নয় আল্লাহ্তা'আলা উম্মতের জন্য তাদের দীনকে পরিপূর্ণ করেছেন অফুরন্ত নেয়ামত দিয়েছেন এবং দীনের মধ্যে যে ব্যাক্তি নতুন কিছু প্রবর্তন করবে যার তিনি অনুমোদন দেননি তাকে তিনি অপছন্দ করেনআল্লাহ্তা'আলা বলেন ---

الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلاَمَ دِينًا

“আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামতকে সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।”
সূরা মায়েদা আয়াত -

আল্লাহ্তা'আলা আরো বলেন

أَمْ لَهُمْ شُرَكَاء شَرَعُوا لَهُم مِّنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَن بِهِ اللَّهُ وَلَوْلَا كَلِمَةُ الْفَصْلِ لَقُضِيَ بَيْنَهُمْ وَإِنَّ الظَّالِمِينَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ

“তাদের কি এমন শরীক দেবতা আছে, যারা তাদের জন্যে সে ধর্ম সিদ্ধ করেছে, যার অনুমতি আল্লাহ দেননি ? যদি চুড়ান্ত সিন্ধান্ত না থাকত, তবে তাদের ব্যাপারে ফয়সালা হয়ে যেত নিশ্চয় যালেমদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।”
সূরা শূরা আয়াত - ২১

আল্লাহ্তা'আলা অন্য আয়াতে বলেন

وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ

“নামায কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং রসূলের আনুগত্য কর যাতে তোমরা অনুগ্রহ প্রাপ্ত হও।”
সূরা নূর আয়াত -৫৬

আল্লাহ্তা'আলা আরো বলেন

مَّنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللّهَ وَمَن تَوَلَّى فَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظًا

“যে লোক রসূলের হুকুম মান্য করবে সে আল্লাহরই হুকুম মান্য করল আর যে লোক বিমুখতা অবলম্বন করল, আমি আপনাকে (হে মুহাম্মদ), তাদের জন্য রক্ষণাবেক্ষণকারী নিযুক্ত করে পাঠাইনি।”
সূরা নিসা আয়াত -৮০

তাই আমাদের সবাইকেই রাসূল () এর দিকে ফিরে যেতে হবে যাদি তা না করি তাহলে রাসূল () এর বিরুদ্ধতা করা হলো যা নিকৃষ্ট বিদা'আত হবে কারন রাসূল () তার সম্মানিত সাহাবায়ে একরামরা শবে মেরাজ পালন করেন নাই

এই ব্যাপারে রাসূল () সহিহ হাদিস
দ্বারা প্রমাণিত যে, বিদা'আত মাত্রই গুমরাহী বা ভ্রষ্ঠতারাসূল () থেকে বিরত থাকার জন্য কাঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন
বিদআতের দিকে লক্ষ্য করি তাহলে আমরা আরও ভয়াবহ চিত্র দেখতে পাব  বিদআত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা) এরশাদ করেন

من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد- صحيح البخاري

“যে ব্যক্তি আমার এই দীনের মাঝে নতুন কিছু উদ্ভাবন করবে, যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে তা প্রত্যাখ্যাত।”

তিনি (সঃ) আরও বলেন,

كل بدعة ضلالة وكل ضلالة في النار-

“প্রত্যেকটি নব উদ্ভাবিত জিনিষই পথভ্রষ্টতা আর পথভ্রষ্টতা দোজখের দিকে নিয়ে যায়।”
বোখারী / মুসলিম।

কারণ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা স্পষ্টভাবে এটা করতে নিষেধ করেছেন

রাসূল (সাঃ) বলেছেন
যে ব্যক্তি দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু আবিষ্কার করবে বা কোন নবাবিষ্কারকারীকে আশ্রয় দিবে তার উপর আল্লাহ এবং সকল ফেরেশতা মানুষের অভিশাপ……. তার ফরয ইবাদাত বা তাওবাহ , নফল ইবাদাত বা ফিদইয়া কবুল করা হবে না ….
বুখারী কিতাবুল জিযিয়াহ হাদিস নাম্বার -৩১৮০

বিদআত পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত বিদআতীর কোন প্রকার তওবাহ করার সুযোগ জুটবে না
আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক বিদআতির বিদআতকে পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত তওবার পথ রুদ্ধ করে দিয়েছেন।” –
সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব /১৩০ পৃষ্টা হাদীস নং ৫৪

বিদআতী নবী (সাঃ) এর হাওযে কাওসারের পানি পান করা হতে বঞ্চিত হবে আবু হাসেম হতে বর্ণিত , তিনি বলেন আমি সাহালকে বলতে শুনেছি তিনি রাসূল (সাঃ) কে বলতে শুনেছেন ,
আমি তোমাদের পূর্বেই হাওযে কাওসারের নিকট পৌঁছে যাব যে ব্যক্তি সেখানে নামবে এবং তার পানি পান করবে সে আর কখনও পিপাসিত হবে না কতিপয় লোক আমার নিকট আসতে চাইবে , আমি তাদেরকে চিনি আর তারাও আমাকে চেনে অতঃপর আমার তাদের মধ্যে পর্দা পড়ে যাবে রাসূল (সাঃ) বলবেন - তারা তো আমার উম্মাতের অন্তর্ভুক্ত তাকে বলা হবে আপনি জানেন না আপনার পরে তারা কি আমল করেছে তখন যে ব্যক্তি আমার পরে (দ্বীনকে) পরিবর্তন করেছে তাকে আমি বলবো --দূর হয়ে যা , দূর হয়ে যা।
সহীহ মুসলিম হাদিস নাম্বার -৪২৪৩

বিদআত সৃষ্টিকারী তার নিজের তার অনুসরণকারী বিদআতের সাথে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির সমপরিমাণ গুনাহের অংশীদার হবে -- রাসূল (সাঃ) বলেছেন
যে ব্যক্তি ভ্রষ্টতার দিকে আহবান করবে সে তার গুণাহ তার অনুসাররি গুণাগ বহন করবে অনুসরণকারীদের গুণাহ সমূহে সামান্য পরিমাণ ঘাটতি না করেই।
বুখারী মুসলিম

কোন সন্দেহ নেই বিদআতের দিকে আহবান করা বা তার উপর আমল করা পথভ্রষ্টতারই একটি অংশ কারণ রাসূল (সাঃ) বলেছেন – “সব বিদআতই হচ্ছে পথভ্রষ্টতা।”

রাসূল () এর সাহাবাগণ এবং তাঁদের পর সালাফে সালেহিনগণ বিদা'আত থেকে বিরত থাকার জন্য হুশিয়ারি উচ্চারণ ভীতি প্রদর্শন করেছেন মূলত বিদা'আত দীনের মদ্ধে অতিরঞ্জন এবং আল্লাহ দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি নয়া জিনিসের উদ্ভাবন মাত্রযার কারণে দীন ইসলামের ওপর অসম্পূর্ণ তার অপবাদ বর্তায়আর এটাই হচ্ছে বড় ধরনের ফাসাদ জঘন্য অপরাধ এবং আল্লাহ্ বাণী اليوم اكملت اكم دينكم এর সাথে সাংর্ঘষিক বিদা'আতের ভয়াবহতায় বর্ণিত হাদিস সমূহের বিরুদ্ধাচারণ

আশা করি সত্যান্বেষীর জন্য শবে মিরাজ উদযাপন বাতুলতা প্রমাণ হওয়ার জন্য উপস্থাপিত এসব প্রমাণাদীই যথেষ্ট শবে মেরাজের ঘঠনার বিস্তারিত জানতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশিত সহিহ বোখারী ৬ষ্ঠ খন্ড হাদিস নাম্বার দেখুন -৩১০৬/৩৬০৮

সবশেষে কিছু কথা বলতে চাই- - আল্লাহ্তা'আলা মুসলমাদের পরস্পর কল্যাণকামী হতে অবিকৃতভাবে তাঁর দীন প্রচার করতে নির্দেশ দিয়েছেন বরং তাঁর রাসূল () মাধ্যমে বলে দিয়েছেন যে, দীন ইলম গোপন করা হারাম তাই লেখক দেশে দেশে প্রচলিত বিদা'আত থেকে মুসলমানদের সর্তক করা প্রয়োজন মনে করছেন
আল্লাহর নিকট প্রার্থনা, তিনি যেন সমস্ত মুসলমাদের অবস্থা সংশোধন করেন, দীনের সঠিক জ্ঞান দান করেন এবং সকল প্রকার বিদা'আত থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করেনআমিন।

আল্লাহ্তাঁর বান্দা রাসূল (), আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর বংশধর সাহাবিগণের প্রতি দরুদ,সালাম বরকত দান করেনআমীন


Collected from Md Asad

ফেইসবুক মোবাইলে নারী পুরুষের অবৈধ সম্পর্ক



ফেইসবুক মোবাইলে নারী পুরুষের অবৈধ সম্পর্ক 

একবার আমাদের পোস্টে ট্যাগ করার অপশন খুলে দেওয়া হয়েছিলো, কারণ অনেকে রিকোয়েস্ট করেছিলো যে তারা পোস্ট সেইভ করে রাখার জন্য নিজেদেরকে ট্যাগ করে রাখলে সুবিধা হয়। কিন্তু ট্যাগ করার পরে কিছু সমস্যা হয়েছিলো। তাই পরে আবার ট্যাগ করার অপশনটা তুলে দিতে বাধ্য হই।

অনেক দ্বীনি ভাই বোন - তারা নিজেদের ট্যাগ করতেন পোস্টে - যেহেতু অন্য কেউ ট্যাগ করলেও দেখায় আমাদের টাইমলাইন তাই অনেকে মনে করতেন যে, আমরাই বুঝি তাদেরকে ট্যাগ করেছি, তারা আমাদের পরিচিত অথবা বন্ধু!

অনেকে হয়তো আমাদের সম্পর্কে ধারণা করার জন্য অথবা ব্যক্তিগত কৌতূহলে ট্যাগ করেছেন এমন নারী ও পুরুষদের প্রোফাইল ঘুরে দেখেন।

অনেক ভাই-বোন অভিযোগ করেছেন - অনেক নারী পুরুষ তারা ইসলামী পেজে ট্যাগ করে রাখে নিজেদের, ইন শা' আল্লাহ, মাশা'আল্লাহ আর আমীন বলে - কিন্তু এর সাথে ফেইসবুকে তারা অশ্লীল পর্ণ সাইটে লাইক দিয়ে রেখেছে, নাটক সিনেমা, গান, শয়তান কবি সাহিত্যিকদের ফলো করে, খারাপ কথা ও ছবি শেয়ার করে, প্রেম ভালোবাসা ইত্যাদি নোংরামির বিজ্ঞাপন দিয়ে রাখে প্রকাশ্যে এবং নির্লজ্জভাবে...

তারা এই কাজগুলোর সাথে জড়িত, এখন এটা নিয়ে অনেক দ্বীনি ভাই বোন আমাদের কাছে অভিযোগ করেছেন, অনেকে ভুল ধারণা পোষণা করেছেন তাদের সাথে আমাদের যোগাযোগ আছে কিন্তু আমরা তাদেরকে কিছু বলিনা। অনেকে এমনও বলেছেন আমরাও নাকি আসলে ওদের মতোই, এটা নিয়ে মান অভিমান, আর কতো কি...

যাইহোক, বিষয়গুলো সত্যিই খুব দুঃখজনক...
রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, "লজ্জা শরম না থাকলে যা ইচ্ছা তা করো।"

অন্যদের অভিযোগের কথা কি বলবো...এমনও অনেক হয়, বিশেষ কারো কাছে প্রেম ভালোবাসার ও নোংরা কথা প্রেমিক/প্রেমিকাকে না পাঠিয়ে ভুলে আমাদেরকে মেসেজ করে পাঠিয়ে দিয়েছে। 

কি লাভ এই সমস্ত নারী পুরুষদের - শুধু ইসলামী পেজে লাইক দিয়ে রেখেছে - পাশাপাশি নোংরামি দিয়ে জ়ীবনটাকে কলুষিত করে রেখেছে!?

যাইহোক এই সমস্ত প্রবৃত্তি পূজারীদের কথা বাদ, নিচে কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ তুলে ধরা হলো - ফেইসবুক ফেতনা থেকে বাচার জন্য...।

১. জাহেল, দ্বীনের সাথে সম্পর্ক নেই, বেদাতী, প্রবৃত্তি অনুযায়ী চলে এদের সাথে সম্পর্ক রাখবেন না, বাস্তব জীবনেও না ফেইসবুকেও না। কাছের কেউ হলে, উপদেশ দেবেন, বোঝাবেন, দাওয়াত দেবেন। উপদেশ না শুনলে এদের থেকে দূরে থেকে এদের ফেতনা থেকে নিজেকে বাচাবেন। অযথা তর্ক বিতর্ক করে সময় নষ্ট করবেন না।

২. গায়ের মাহরাম নারী ও পুরুষকে বন্ধু হিসেবে নেবেন না। দ্বীনি ভাই বোন বলে প্রাইভেট যোগাযোগ রাখা, ব্যক্তিগত পর্যায়ে সম্পর্ক রাখা - এইগুলো হচ্ছে ধোকা, ধোকা, ধোকা। গায়ের মাহরাম পুরুষদেরকে নারীর মওতের মতো ভয় করতে বলা হয়েছে। আর পুরুষদেরকেও বলা হইয়েছে তাদের জন্য নারী জাতির চাইতে বড় ফেতনা আর নেই। কিন্তু, অবৈধ সংগ পাওয়ার লোভে অথবা ফ্রী টাইম পাস করার জন্য মানুষ আজকে আগুনের দিকে পোকারা যেইভাবে ঝাপিয়ে পড়ে ধ্বংস হয়, সেইভাবেই নারী পুরুষেরা বন্ধুত্ব রেখে ইহকাল ও পরকাল ধ্বংস করছে।

৩. গায়ের মাহরামদের সাথে সমস্ত যোগাযোগ অফ করে দিন। ফেইসবুক, মোবাইলে কোন ধরণের যোগাযোগ রাখেবন না, আর দেখা হওয়ারতো প্রশ্নই আসেনা।

৪. প্রেম ভালোবাসার নোংরামি ছেড়ে দেন। অনেকদিন সম্পর্ক, অকে ছাড়া থাকতে পারিনা - এইসমস্ত কথা বলবেন না। Don't be a Chicken. আল্লাহর দুনিয়া অনেক প্রশস্ত। অতি দ্রুত মেয়ের বাবার সম্মতিতে বিয়ে হয়ে গেলে ভালো। আর না হলে, মেয়ের বাবা রাজি না হলে, বা রাজি হলেও কয়েক বছর পরে বিয়ে এইসব করবেন না। একা একা থাকতে কষ্ট হলে চরিত্রহীন নারী অথবা পুরুষকে বাদ দিয়ে নফল রোযা রাখুন। আর ব্রেক আপ করলে বুক ভেঙ্গে যায়, থাকতে পারিনা - এইরকম হলে ধৈর্য ধরেন। ব্রেক আপের কারণে কেউ মারা যায়না।

৫. যারা জিনা-ব্যভিচার, পরকীয়ায় লিপ্ত - জেনে রাখুন জিনা এমন একটা গুনাহ যার জন্য একজন ঈমানদার বান্দাকেও পাথর মেরে মেরে হত্যা করে ফেলতে বলা হয়েছে। আপনি চিন্তা করতে পারেন, কি ভয়াবহ শাস্তি কাল কেয়ামতের দিনে তাদের জন্য নির্ধারিত? পাথর ছুড়ে হত্যার ভিডিও আসলে আছে, আমি এমন ভিডিও পোস্ট করিনা কারণ অনেকে মানসিকভাবে শকড হবেন। চিন্তা করুন দুনিয়ার বুকে এই কঠিন শাস্তি, জাহান্নামের আগুন আরো কত ভয়াবহ (নাউযুবিল্লাহ)!

৬. অনেক নির্লজ্জ পুরুষ আছে, পেজে কমেন্ট করে এমন নারীদেরকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠায়, ফ্রেন্ডশিপ করার জন্য অনুরোধ করে মেসেজ পাঠায়। এই সমস্ত নিম্নশ্রেণীর পুরুষ গোটা পুরুষ জাতির কলংক। অনেক বোকা নারী এদেরকে এড করে, এদের সাথে বন্ধুত্ব করে ধোঁকা খায়। অথচ এই বোকা মেয়েটা এটা বুঝেনা, এই লোকের ফেইসবুকে এমন আরো অনেক জায়গায় এমন বন্ধুত্ব করেছে, মোবাইলে কথা বলে...এইরকম নারীদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলে। উদ্দেশ্য কি সেটা নিশ্চয়ই বলতে হবেনা। অবশ্য, অনেক নারীও আছে ওরাও আসলে লম্পট পুরুষদের মতোই। যাই হোক, মোবাইল ফেইসবুক এইগুলোর মাধ্যমে অবৈধ সম্পর্ক, জিনা-ব্যভিচার পরকীয়া অনেকগুণ বেড়ে গেছে। আরো হয়তো সামনে আরো বাড়বে।

৭. ফেইসবুকে হাতে গোনা ২-৪ জন শায়খ ছাড়া অন্যদের কাছ থেকে দ্বীন শেখার কিছু নেই - ফেইসবুকে আছে বেদাতী, জাহেল, জেএমবির মতো কট্টরপন্থী খারেজী, সূফীবাদীদের শিরকি কুফুরী মতবাদের, নষ্ট পচা অন্তরের নারী পুরুষ যারা মানুষকে খবিসের দিকে দাওয়াত দেয়। কুরান হাদীস আলেমদের লেখা বই, ওয়াজ এইগুলো হচ্ছে আমাদের জন্য উপকারী।


সর্বশেষঃ ছবিটার দিকে তাকান ও ঈমানের ব্যপারে সতর্ক হন, ঈমানকে ভালোবাসুন, আল্লাহর জন্য জীবনটা উতসর্গ করার চেষ্টা করুন।

রবিবার, ১১ মে, ২০১৪

ঈমানের শাখা সমূহ কি কি?



ঈমানের শাখা সমূহ কি কি?
_______________________

প্রশ্নঃ আলেমগণ ঈমানের যে সমস্ত শাখা বর্ণনা করেছেন তার সারাংশ বর্ণনা করুন।

উত্তরঃ  ইবনে হিব্বান (রহঃ) কর্তৃক বর্ণিত ঈমানের শাখাগুলো হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ) সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফতহুল বারীতে সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন।

এই শাখাগুলো তিন প্রকার। যথাঃ
১. এমন কিছু শাখা আছে যা অন্তরের সাথে সম্পৃক্ত।
২. কিছু শাখা আছে যা জবানের সাথে সম্পৃক্ত এবং
৩. এমন কিছু শাখা রয়েছে, যা শরীরের সাথে সম্পৃক্ত।

প্রথমত, অন্তরের কাজসমূহঃ
নিয়ত ও বিশ্বাস হচ্ছে অন্তরের কাজ। ঈমানের যেসমস্ত শাখা অন্তরের সাথে সম্পৃক্ত তার সংখ্যা ২৪টি। নিম্নে তা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হল।
১. আল্লাহর প্রতি ঈমান। আল্লাহর যাত (স্বত্তা), সিফাত (গুণাবলী) এবং একত্ববাদের প্রতি ঈমান আনয়নও আল্লাহর প্রতি ঈমানের অন্তর্ভূক্ত। তবে স্মরণ রাখা জরুরী যে, আল্লাহ্ স্বীয় সত্বা ও গুণাবলী কোন সৃষ্টির মত নয়। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ
لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَ هُوَ السَّميْعُ الْبَصِيْر
“কোন কিছুই তাঁর অনুরূপ নয়। তিনি শুনেন এবং দেখেন।”
সূরা শুরাঃ ১১।
২. এই বিশ্বাস করা যে, আল্লাহ্ ব্যতীত অন্যান্য সকল বস্তুই ধ্বংসশীল।
৩. এমনিভাবে আল্লাহর ফেরেশতা
৪. আসমানী কিতাব
৫. নবী-রাসূল
৬. তাকদীরের ভাল ও মন্দ এবং
৭. আখেরাতের প্রতি ঈমান। কবরের প্রশ্নোত্তর, পুনরুত্থান, হিসাব, আমলনামা প্রদান, মীযান (দাঁড়িপাল্লা), পুলসিরাত, জান্নাত এবং জাহান্নামের প্রতি ঈমান আনয়ন করাও অন্তরের কাজ সমূহের অন্তর্ভূক্ত।
৮. আল্লাহকে ভালবাসা, আল্লাহর জন্যেই কাউকে ভালবাসা, আল্লাহর জন্যেই কাউকে ঘৃণা করা।
৯. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে ভালবাসা ও তাঁকে সম্মান করাও অন্তরের কাজ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর উপর দরূদ পাঠ ও তাঁকে ভালবাসা ও সম্মান প্রদর্শন তার অন্তর্ভূক্ত।
১০. তাঁর সুন্নাতের অনুসরণ করা
১১. একনিষ্ঠতার সাথে আল্লাহর এবাদত করা আবশ্যক-এর প্রতি ঈমান আনয়নও অন্তরের কাজের অন্তর্ভূক্ত। “রিয়া” তথা লোক দেখানো আমল ও মুনাফেকী পরিহার করাও এর অন্তর্ভূক্ত।
১২. তাওবা করা
১৩. আল্লাহকে ভয় করা
১৪. আল্লাহর রহমতের আশা রাখা
১৫. আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা
১৬. ওয়াদা বা অঙ্গিকার পূর্ণ করা
১৭. ধৈর্য ধারণ করা
১৮. তাকদীরের লিখনের উপর সন্তুষ্ট থাকা
১৯. আল্লাহর উপর ভরসা করা
২০. বিনয়-নম্রতা প্রদর্শ করা, বড়কে সম্মান করা ও ছোটকে স্নেহ করাও এর অন্তর্ভূক্ত।
২১. অহঙ্কার ও তাকাব্বরী বর্জন করা
২২. হিংসা বর্জন করা
২৩. কাউকে ঘৃণা না করা এবং
২৪. ক্রোধ বর্জন করা।

দ্বিতীয়ত, জবানের কাজসমূহ তথা জবান দ্বারা উচ্চারিত শব্দ ও বাক্যসমূহঃ
ঈমানের শাখাসমূহের মধ্যে থেকে যেগুলোর সম্পর্ক জবানের সাথে তার সংখ্যা হল সাতটি। যথা-
১. তাওহীদের বাক্য অর্থাৎ মুখে “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্” উচ্চারণ করা
২. কুরআন তেলাওয়াত করা
৩. ইলম শিক্ষা করা
৪. অপরকে ইলম শিক্ষা দেয়া
৫. দু’আ করা
৬. যিকির করা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করাও এর অন্তর্ভূক্ত
৭. অযথা কথা-বার্তা থেকে বিরত থাকা।

তৃতীয়ত, শরীরের কাজসমূহঃ
ঈমানের শাখাসমূহের মধ্যে থেকে যেগুলোর সম্পর্ক শরীরের সাথে, তার সংখ্যা হল ৩৮টি। এ শাখাগুলো আবার তিন ভাগে বিভক্ত। যথা-

ক. কতিপয় শাখা ব্যক্তি বিশেষের সাথে সম্পৃক্ত। এগুলোর সংখ্যা পনেরটি। যথা-
১. বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ পবিত্রতা অর্জন করা
২. মিসকীন ও অসহায়কে খাদ্য দান করা
৩. মেহমানকে সম্মান করা
৪. ফরজ রোজা পালন করা
৫. নফল রোযা পালন করা
৬. ইতেকাফ করা
৭. লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করা
৮. হজ্জ পালন করা
৯. উমরা পালন করা
১০. কাবা ঘরের তাওয়াফ করা
১১. দ্বীন ও ঈমান নিয়ে টিকে থাকার জন্যে হিজরত বা দেশ ত্যাগ করা
১২. দ্বীন ও ঈমান বাঁচানোর জন্যে কাফের রাষ্ট্র ত্যাগ করে ইসলামী রাজ্যে চলে যাওয়া
১৩. মানত পূর্ণ করা
১৪. ঈমান বৃদ্ধির চেষ্টা করা ও
১৫. কাফফারা আদায় করা।

খ. কতিপয় শাখা আছে, যা ব্যক্তির সাথে সংশ্লিষ্টদের সাথে সম্পৃক্ত। এগুলোর সংখ্যা মোট ৬টি। যথা-
১. বিবাহের মাধ্যমে চরিত্র পবিত্র রাখা
২. পরিবারের জন্য ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করা
৩. পিতা-মাতার সেবা করা, তাদের অবাধ্য না হওয়া
৪. সন্তান প্রতিপালন করা
৫. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা
৬. মনিবের প্রতি অনুগত থাকা ও অধীনস্তদের সাথে নরম ব্যবহার করা।

গ. এমন কতিপয় শাখা রয়েছে,যা সকল মুসলমানের সাথে সম্পৃক্ত। এগুলোর সংখ্যা হচ্ছে ১৭টি। যথা-
১. ইনসাফের সাথে রাষ্ট্র পরিচালনা করা
২. মুসলিম জামাআতের অনুসরণ করা,
৩. শাসকদের আনুগত্য করা
৪. মানুষের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ মিটিয়ে দেয়া। বিশৃংঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাও এর অন্তর্ভূক্ত।
৫. সৎকাজে পরস্পর সহযোগিতা করা, সৎকাজের আদেশ দেয়া এবং অসৎকাজের নিষেধ করাও এর অন্তর্ভূক্ত।
৬. “হুদুদ” বা দণ্ডবিধি কায়েম করা।
৭. আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ করা ও ইসলামী রাষ্ট্রের সীমানা পাহারা দেয়াও জেহাদের অন্তর্ভূক্ত।
৮. আমানত আদায় করা এবং গণীমতের মালের পাঁচভাগের একভাগ আদায় করাও এর অন্তর্ভূক্ত।
৯. ঋণ পরিশোধ করা
১০. প্রতিবেশীকে সম্মান করা
১১. মানুষের সাথে ভাল ব্যবহার করা
১২. হালালভাবে সম্পদ উপার্জন করা এবং বৈধ পন্থায় তা খরচ করা এবং অপচয় না করা
১৩. সালামের উত্তর দেয়া
১৪. হাঁচি দানকারীর উত্তর প্রদান করা
১৫. মানুষের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকা
১৬. খেলা-তামাশা থেকে বিরত থাকা ও
১৭. রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিষ সরিয়ে দেয়া।

এই হল ঈমানের ৬৯টি শাখা। কতিপয় শাখাকে অন্য শাখার সাথে একত্রিত গণনা না করে আলাদাভাবে হিসাব করলে ৭৭টি হবে। আল্লাহই ভাল জানেন।

উৎসঃ কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে দু শতাধিক প্রশ্নোত্তরে নাজাত প্রাপ্ত দলের আকীদা শীর্ষক কিতাব থেকে (প্রশ্ন নং-১৫৮)।
লেখকঃ হাফেজ হাকামী (রহঃ)

অনুবাদকঃ আব্দুল্লাহ শাহেদ মাদানী

শনিবার, ১০ মে, ২০১৪

কোয়ান্টাম মেথড : একটি শয়তানী ফাঁদ



কোয়ান্টাম মেথড : একটি শয়তানী ফাঁদ

মানুষকে আল্লাহর ইবাদত থেকে ফিরিয়ে কথিত অন্তর্গুরুর ইবাদতে লিপ্ত করার অভিনব প্রতারণার নাম হ’ল কোয়ান্টাম মেথড। হাযার বছর পূর্বে ফেলে আসা হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান পাদ্রী ও যোগী-সন্ন্যাসীদের যোগ-সাধনার আধুনিক কলা-কৌশলের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মেডিটেশন’। হতাশাগ্রস্ত মানুষকে সাময়িক প্রশান্তির সাগরে ভাসিয়ে এক কল্পিত দেহভ্রমণের নাম দেওয়া হয়েছে Science of Living বা জীবন-যাপনের বিজ্ঞান। আকর্ষণীয় কথার ফুলঝুরিতে ভুলে টাকাওয়ালা সাধারণ শিক্ষিত মানুষেরা এদের প্রতারণার ফাঁদে নিজেদেরকে সঁপে দিচ্ছেন অবলীলাক্রমে। ব্যয় করছেন কথিত ধ্যানের পিছনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ঢেলে দিচ্ছেন হাযার হাযার টাকা। অথচ একটা রঙিন স্বপ্ন ছাড়া তাদের ভাগ্যে কিছুই জুটছে না। অন্যদিকে মুসলমান যারা এদের দলে ভিড়ছে, তারা শিরকের মহাপাতকে লিপ্ত হয়ে দুনিয়া ও আখেরাত দু’টিই হারাচ্ছে। নিম্নে আমরা এদের আক্বীদা-বিশ্বাস ও কর্মনীতি যাচাই করব।

কোয়ান্টামের পঞ্চসূত্র হ’ল, প্রশান্তি, সুস্বাস্থ্য, প্রাচুর্য, সুখী পরিবার ও ধ্যান। বলা হয়েছে, কোয়ান্টাম প্রত্যেকের ধর্মবিশ্বাসকে শ্রদ্ধা করে। সুখী মানুষের সবটুকু প্রয়োজন পূরণের প্রক্রিয়াই রয়েছে কোয়ান্টামে। তাই কোয়ান্টামই হচ্ছে নতুন সহস্রাব্দে আধুনিক মানুষের জীবন যাপনের বিজ্ঞান’। অন্যান্য ডিগ্রীর ন্যায় এখানকার ধ্যান সাধনায় যারা উত্তীর্ণ হয়, তাদেরকে ‘কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েট’ বলে শ্রুতিমধুর একটা ডিগ্রী দেওয়া হয়। তাদের প্রচার অনুযায়ী বাংলাদেশে ফলিত মনোবিজ্ঞানের পথিকৃৎ এবং আত্মউন্নয়নে ধ্যান পদ্ধতির প্রবর্তক প্রফেসর এম.ইউ. আহমাদ নাকি ক্লিনিক্যালি ডেড হওয়ার পরেও পুনরায় জীবন লাভ করেন শুধু ‘তাঁকে বাঁচতে হবে, তিনি ছাড়া দেশে নির্ভরযোগ্য মনোচিকিৎসক নেই’ তাঁর এই দৃঢ় বিশ্বাসের জোরে’ (মহাজাতক, কোয়ান্টাম টেক্সট বুক, জানু. ২০০০, পৃঃ ২২-২৪)।
অর্থাৎ, হায়াত-মউতের মালিক তিনি নিজেই!

প্রথমে বলে রাখি, মানবরচিত প্রত্যেক ধর্মেই স্ব স্ব নিয়মে ধ্যান পদ্ধতি আছে। হিন্দু-বৌদ্ধ যোগী-সন্ন্যাসীদের সাধন-ভজন সম্বন্ধে আমরা কিছুটা জানি। আল্লাহ প্রেরিত ঈসায়ী ধর্মে সর্বপ্রথম সন্ন্যাসবাদের উদ্ভব হয়। যে বিষয়ে আল্লাহ বলেন,

‘আর সন্ন্যাসবাদ, সেটাতো তারা নিজেরাই প্রবর্তন করেছিল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে। আমরা তাদেরকে এ বিধান দেইনি। অথচ এটাও তারা যথাযথভাবে পালন করেনি। তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছিল, তাদেরকে আমরা পুরস্কার দিয়েছিলাম। আর তাদের অধিকাংশ ছিল পাপাচারী’ (হাদীদ ৫৭/২৭)।.

এখানে আল্লাহ তাদেরকে দুইভাবে নিন্দা করেছেন।
১. তারা আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে বিদ‘আত অর্থাৎ নতুন রীতির উদ্ভাবন করেছিল।
২. তারা নিজেরা যেটাকে আল্লাহর নৈকট্য মনে করে আবিষ্কার করেছিল, সেটার উপরেও তারা টিকে থাকতে পারেনি।

ইসলামের স্বর্ণযুগের পরে ভ্রষ্টতার যুগে মা‘রেফতের নামে বিদ‘আতী পীর-ফকীররা নানাবিধ ধ্যান পদ্ধতি আবিষ্কার করে। অতঃপর কথিত ইশক্বের উচ্চ মার্গে পৌঁছে হুয়া হু করতে করতে যখন চক্ষু ছানাবড়া হয়ে ‘কাশফ’ বা ‘হাল’ হয়, তখন নাকি তাদের আত্মা পরমাত্মার মধ্যে লীন হয়ে যায়। একে তাদের পরিভাষায় ফানা ফিল্লাহ বা বাক্বা বিল্লাহ বলে। এরাই ছূফী ও পীর-মাশায়েখ নামে এদেশে পরিচিত। অথচ এইসব মা‘রেফতী তরীকার কোন অনুমোদন ইসলামে নেই। ধ্যানকে কোয়ান্টামের পরিভাষায় বলা হয় ‘মেডিটেশন’ (Medetation)।. যার প্রথম ধাপ হ’ল ‘শিথিলায়ন’ যা মনের মধ্যে ধ্যানাবস্থা সৃষ্টি করে। আর শেষ ধাপ হ’ল মহা চৈতন্য (Super Consciousness)।. যখন তারা বস্ত্তগত সীমা অতিক্রম করে মহা প্রশান্তির মধ্যে লীন হয়ে যায়। যদিও এর কোন সংজ্ঞা তাদের বইতে সুস্পষ্টভাবে নেই।

এক্ষণে কোয়ান্টামের সাথে অন্যদের পার্থক্য এই যে, অন্যেরা স্ব স্ব ধর্মের মধ্যে বিদ‘আত সৃষ্টি করেছে ও স্ব স্ব ধর্মের নামেই পরিচিতি পেয়েছে। পক্ষান্তরে কোয়ান্টাম মেথড সকল ধর্ম ও বর্ণের লোকদের নতুন ধ্যানরীতিতে জমা করেছে। খানিকটা সম্রাট আকবরের দ্বীনে এলাহীর মত। তখন আবুল ফযল ও ফৈযীর মত সেকালের সেরা পন্ডিতবর্গের মাধ্যমে সেটা চালু হয়েছিল মূলতঃ রাজনৈতিক কারণে। আর এ যুগে কিছু উচ্চ শিক্ষিত সুচতুর লোকদের মাধ্যমে এটা চালু হয়েছে ইসলাম থেকে মানুষকে সরিয়ে নেবার জন্যে এবং শিক্ষিত শ্রেণীকে বিশ্বাসে ও কর্মে পুরোপুরি ধর্মনিরপেক্ষ বানাবার জন্যে। যাতে ভবিষ্যতে এদেশ তার ইসলামী পরিচিতি হারিয়ে সেক্যুলার দেশে পরিণত হয়। মুনি-ঋষিরা ধ্যান করে তাদের ঈশ্বরের নৈকট্য লাভের জন্য। পক্ষান্তরে কোয়ান্টামে ধ্যান করা হয় স্ব স্ব ‘অন্তর্গুরু’কে পাওয়ার জন্য।

যেমন বলা হচ্ছে, ‘অন্তর্গুরুকে পাওয়ার আকাংখা যত তীব্র হবে, তত সহজে আপনি তার দর্শন লাভ করবেন। এ ব্যাপারে বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা হয়েছে কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েটদের' (পূর্বোক্ত, পৃঃ ২৪৭)। যেমন একটি ঘটনা বলা হয়েছে, ‘ছেলে কোলকাতায় গিয়েছে। দু’দিন কোন খবর নেই। বাবা কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েট। মাগরিবের নামাজ পড়ে মেডিটেশন কমান্ড সেন্টারে গিয়ে ছেলের বর্তমান অবস্থা দেখার চেষ্টা করতেই কোলকাতার একটি সিনেমা হলের গেট ভেসে এল। ছেলে সিনেমা হলের গেটে ঢুকছে। বাবা ছেলেকে তার উদ্বেগের কথা জানালেন। বললেন শিগগীর ফোন করতে’ (পূর্বোক্ত, পৃঃ ২৪১)।
এমনিতরো উদ্ভট বহু গল্প তারা প্রচার করেছেন।

এক্ষণে আমরা দেখব ইসলামের সাথে এর সম্পর্ক :

১. এটি তাওহীদ বিশ্বাসের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক এবং পরিষ্কারভাবে শিরক। তাওহীদ বিশ্বাস সম্পূর্ণরূপে আল্লাহ কেন্দ্রিক। ইসলামের সকল ইবাদতের লক্ষ্য হ’ল আল্লাহর দাসত্ব ও রাসূল (ছাঃ)-এর আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা ও পরকালে মুক্তি লাভ করা। পক্ষান্তরে কোয়ান্টামের ধ্যান সাধনার লক্ষ্য হ’ল অন্তর্গুরুকে পাওয়া। যা আল্লাহ থেকে সরিয়ে মানুষকে তার প্রবৃত্তির দাসত্বে আবদ্ধ করে। এদেরকে লক্ষ্য করেই আল্লাহ বলেন, ‘আপনি কি দেখেছেন ঐ ব্যক্তিকে, যে তার প্রবৃত্তিকে ইলাহ বানিয়েছে? আপনি কি তার যিম্মাদার হবেন’? ‘আপনি কি ভেবেছেন ওদের অধিকাংশ শুনে বা বুঝে? ওরা তো পশুর মত বা তার চাইতে পথভ্রষ্ট’ (ফুরক্বান ২৫/৪৩-৪৪)। মূলতঃ ঐ অন্তর্গুরুটা হ’ল শয়তান। সে সর্বদা তাকে রঙিন স্বপ্নের মাধ্যমে তার দিকে প্রলুব্ধ করে।

২. তারা বলেন, মনকে প্রশান্ত করার মতো নামাজ যাতে আপনি পড়তে পারেন সেজন্যই মেডিটেশন দরকার। কেননা নামাজের জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হুযুরিল ক্বালব, একাগ্রচিত্ততা। এটা কিভাবে অর্জিত হয়, তা এখানে এলে শেখা যায়’ (প্রশ্নোত্তর ১৪২৭)।

জবাব : এটার জন্য সর্বোত্তম পন্থা হ’ল ছালাত। এর বাইরে কোন কিছুর অনুমোদন ইসলামে নেই। আল্লাহ বলেন, তুমি ছালাত কায়েম কর আমাকে স্মরণ করার জন্য’ (ত্বোয়াহা ১৪)।. রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যখন সংকটে পড়তেন তখন ছালাতে রত হ’তেন (আবুদাঊদ হা/১৩১৯)।. তিনি বলেছেন, তোমরা ছালাত আদায় কর, যেভাবে আমাকে দেখছ’ (বুখারী হা/৬৩১)।. যারা খুশু-খুযুর সাথে ফরয, নফল ও তাহাজ্জুদ ছালাত নিয়মিতভাবে আদায় করে, তাদেরকেই আল্লাহ সফলকাম মুমিন বলেছেন (মুমিনূন ১-২)।. আর ছালাতে ধ্যান করা হয় না। বরং একমনে বান্দা তার সৃষ্টিকর্তার সাথে একান্তে আলাপ করে (বুখারী হা/৫৩১)।. সর্বোচ্চ শক্তির কাছে নিজের দুর্বলতা ও নিজের কামনা-বাসনা পেশ করে সে হৃদয়ে সর্বোচ্চ প্রশান্তি লাভ করে এবং নিশ্চিত আশাবাদী হয়। অথচ মেডিটেশনের কথিত অন্তর্গুরুর কোন ক্ষমতা নেই। তার সাধনায় নিশ্চিত আশাবাদের কোন প্রশ্নই ওঠে না। কেননা ওটা তো স্রেফ কল্পনা মাত্র। ছালাতে আল্লাহর ইবাদত করা হয়। পক্ষান্তরে মেডিটেশনে অন্তর্গুরুর ইবাদত করা হয়। একটি তাওহীদ, অপরটি শিরক। দু’টিকে এক বলা দিন ও রাতকে এক বলার সমান। যা চরম ধৃষ্টতার নামান্তর।

৩. তারা বলেন, কোয়ান্টাম মেডিটেশনের জন্য ধর্ম বিশ্বাস কোন যরূরী বিষয় নয়। ইসলাম বা অন্য কোনো ধর্মের সাথে এর কোন বিরোধ নেই। তাদের কার্যাবলীতে এর প্রমাণ রয়েছে। যেমন, ‘এখন কোয়ান্টাম শিশু কাননে রয়েছে ১৫টি জাতিগোষ্ঠীর চার শতাধিক শিশু। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, ক্রামা, খ্রিষ্টান, প্রকৃতিপূজারী সকল ধর্মের শিশুরাই যার যার ধর্ম পালন করছে। আর এক সাথে গড়ে উঠছে আলোকিত মানুষ হিসাবে’ (শিশু কানন)।

জবাব : মানুষকে সকল ধর্ম থেকে বের করে এনে কোয়ান্টামের নতুন ধর্মে দীক্ষা নেবার ও কোয়ান্টাম নেতাদের গোলাম বানানোর চমৎকার যুক্তি এগুলি। কেননা অন্তর্গুরুর ব্যাখ্যায় তারা বলেছেন, আধ্যাত্মিকতার পথে অগ্রসর হতে গেলে একজন আলোকিত গুরুর কাছে বায়াত বা দীক্ষা নেয়া প্রয়োজন। এছাড়া আধ্যাত্মিকতার সাধনা এক পিচ্ছিল পথ। যেকোন সময়ই পা পিছলে পাহাড় থেকে একেবারে গিরিখাদে পড়ে যেতে পারেন’ (টেক্সটবুক, পৃঃ ২৪৭)।. অর্থাৎ এরা ‘আলোকিত মানুষ’ বানাচ্ছে না। বরং ইসলামের আলো থেকে বের করে এক অজানা অন্ধকারে বন্দী করছে। যার পরিণাম জাহান্নাম ছাড়া আর কিছুই নয়। কেননা আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন তালাশ করবে, তা কবুল করা হবে না। ঐ ব্যক্তি আখেরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে’ (আলে ইমরান ৮৫)।.

রাসূল (ছাঃ) বলেন, আমি তোমাদের কাছে একটি উজ্জ্বল ও পরিচ্ছন্ন দ্বীন নিয়ে এসেছি’ (আহমাদ, মিশকাত হা/১৭৭)। অতএব ইসলামের প্রকৃত অনুসারীরাই কেবল আলোকিত মানুষ। বাকী সবাই অন্ধকারের অধিবাসী।

৪. তারা বলেন, বহু আলেম আমাদের মেডিটেশন কোর্সে অংশগ্রহণ করেন এবং তারা এর সাথে ইসলামের কোন বিরোধ নেই বলেছেন।

জবাব : অল্প জ্ঞানী অথবা কপট বিশ্বাসী ও দুনিয়াপূজারী লোকেরাই চিরকাল ইসলামের ক্ষতি করেছে। আজও করছে। ওমর (রাঃ) বলেন, ইসলামকে ধ্বংস করে তিনটি বস্ত্ত : (১) আলেমদের পদস্খলন (২) আল্লাহর কিতাবে মুনাফিকদের ঝগড়া এবং (৩) পথভ্রষ্ট নেতাদের শাসন’ (দারেমী)। মনে রাখা আবশ্যক যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর জীবদ্দশায় ইসলাম পূর্ণতা লাভ করেছে। অতএব যা তাঁর ও তাঁর ছাহাবীগণের আমলে দ্বীন হিসাবে গৃহীত ছিল, কেবলমাত্র সেটাই দ্বীন হিসাবে গৃহীত হবে। তার বাইরে কোন কিছুই দ্বীন নয়।

৫. মেডিটেশন পদ্ধতি নিজের উপরে তাওয়াক্কুল করতে বলে এবং শিখানো হয় যে, ‘তুমি চাইলেই সব করতে পার’। এরা হাতে মূল্যবান ‘কোয়ান্টাম বালা’ পরে ও তার উপরে ভরসা করে।

জবাব : ইসলাম মানুষকে মহাশক্তিধর আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করতে শিখায় এবং আল্লাহ যা চান তাই হয়। এর মাধ্যমে মুমিন নিশ্চিন্ত জীবন লাভ করে ও পূর্ণ আত্মশক্তি ফিরে পায়। আর ইসলামে এ ধরনের ‘বালা’ পরা ও তাবীয ঝুলানো শিরক (ছহীহাহ হা/৪৯২)।

৬. তারা বলেন, শিথিলায়ন প্রক্রিয়ায় মানুষের মধ্যে এমন এক ক্ষমতা তৈরী হয়, যার দ্বারা সে নিজেই নিজের চাওয়া-পাওয়া পূরণ করতে পারে। এজন্য একটা গল্প বর্ণনা করা হয়েছে যে, এক ইঞ্জিনিয়ার সপরিবারে আমেরিকায় বসবাস করার মনছবি দেখতে লাগল। ফলে সে ডিভি ভিসা পেয়ে গেল। তারপর সেখানে ভাল একটা চাকুরীর জন্য মনছবি দেখতে লাগল। ফলে সেখানে যাওয়ার দেড় মাসের মধ্যেই উন্নতমানের একটা চাকুরী পেয়ে গেল’(টেক্সট বুক পৃঃ ১১৫)। জবাব : ইসলাম মানুষকে তাকদীরে বিশ্বাস রেখে বৈধভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে বলে। অথচ কোয়ান্টাম সেখানে আল্লাহ থেকে মুখ ফিরিয়ে কথিত মনছবির পূজা করতে বলে।

৭. কোয়ান্টামের মতে রোগের মূল কারণ হ’ল মানসিক। তাই সেখানে মনছবি বা ইমেজ থেরাপি ছাড়াও ‘দেহের ভিতরে ভ্রমণ’ নামক পদ্ধতির মাধ্যমে শরীরের নানা অঙ্গের মধ্য দিয়ে কাল্পনিক ভ্রমণ করতে বলা হয়। এতে সে তার সমস্যার স্বরূপ সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি লাভ করে এবং নিজেই কম্যান্ড সেন্টারের মাধ্যমে সমাধান করতে পারে। যেমন, একজন ক্যান্সার রোগী তার ক্যান্সারের কোষগুলিকে সরিষার দানা রূপে কল্পনা করে। আর দেখে যে অসংখ্য ছোট ছোট পাখি ঐ সরিষাদানাগুলো খেয়ে নিচ্ছে। এভাবে আস্তে আস্তে সর্ষে দানাও শেষ, তার ক্যান্সারও শেষ’ (টেক্সট বুক পৃঃ ১৯৪)।

৮. এদের শোষণের একটি হাতিয়ার হ’ল ‘মাটির ব্যাংক’। যে নিয়তে এখানে টাকা রাখবেন, সে নিয়ত পূরণ হবে। প্রথমবারে পূরণ না হ’লে বুঝতে হবে মাটির ব্যাংক এখনো সন্তুষ্ট হয়নি। এভাবে টাকা ফেলতেই থাকবেন। কোন মানত করলে মাটির ব্যাংকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিতে হবে। পূরণ না হলে অর্থের পরিমাণ বাড়াতে হবে। এখানে খাঁটি সোনার চেইন বা হীরার আংটি দিতে পারেন। ইমিটেশন দিলে মানত পূরণ হবে না (প্রশ্নোত্তর)। এর জন্য একটা গল্প ফাঁদা হয়েছে। যেমন, ‘মধ্যরাতে উঠে মাটির ব্যাংকে পাঁচশত টাকা রাখার সাথে সাথে মুমূর্ষু ছেলে সুস্থ হয়ে গেল’ (দুঃসময়ের বন্ধু..)।

প্রিয় পাঠক! বুঝতে পারছেন, কত সুচতুরভাবে মানুষকে আল্লাহ থেকে সরিয়ে নিয়ে তাদের কম্যান্ড সেন্টারে আবদ্ধ করা হচ্ছে এবং সেই সাথে মাটির ব্যাংকে টাকা ও গহনা রাখার ও তা কুড়িয়ে নেবার চমৎকার ফাঁদ পাতা হয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে রোগ ও তা আরোগ্য দানের মালিক আল্লাহ। আল্লাহর হুকুম আছে বলেই মুমিন ঔষধ খায়। ঔষধ আরোগ্যদাতা নয়। বরং আল্লাহ মূল আরোগ্যদাতা। এই বিশ্বাস তাকে প্রবল মানসিক শক্তিতে শক্তিমান করে তোলে। এজন্য তাকে মেডিটেশন বা কম্যান্ড সেন্টারে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। মাটির ব্যাংকে টাকা রাখারও দরকার হয় না। বরং গরীবকে ছাদাক্বা দিলে তার গোনাহ মাফ হয় (মিশকাত হা/২৯)।
৯. অন্যান্য বিদ‘আতীদের ন্যায় এরাও কুরআন-হাদীছের অপব্যাখ্যা করেছে মুসলমানদের ধোঁকা দিয়ে দলে ভিড়ানোর জন্য। যেমন-

(ক) ‘সকল ধর্মই সত্য’ তাদের এই মতবাদের পক্ষে সূরা কাফেরূনের ‘লাকুম দ্বীনুকুম ওয়া লিয়া দ্বীন’ শেষ আয়াতটি ব্যবহার করেছে। যেন আবু জাহলের দ্বীনও ঠিক, মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর দ্বীনও ঠিক। এই অপব্যাখ্যা ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিকরা ও তাদের পদলেহীরা করে থাকে। কোয়ান্টামের লোকেরাও করছে। অথচ ইসলামের সারকথা একটি বাক্যেই বলা হয়েছে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ আল্লাহ ছাড়া কোন মা‘বূদ নেই। একথার মধ্যে সকল ধর্ম ও মতাদর্শকে অস্বীকার করা হয়েছে। কোয়ান্টামের অন্তর্গুরু নামক ইলাহটিকেও বাতিল করা হয়েছে।

(খ) তারা বলেন মেডিটেশন একটি ইবাদাত। যা রাসূল (ছাঃ) হেরা গুহায় করেছেন’। অথচ এটি স্রেফ তোহমত বৈ কিছু নয়। নিঃসঙ্গপ্রিয়তা আর মেডিটেশন এক নয়। তাছাড়া নবী হওয়ার পরে তিনি কখনো হেরা গুহায় যাননি। ছাহাবায়ে কেরামও কখনো এটি করেননি।

(গ) তারা সূরা জিন-এর ২৬ ও ২৭ আয়াতের অপব্যাখ্যা করে বলেছেন, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা গায়েবের খবর জানাতে পারেন। অতএব যে যা জানতে চায় আল্লাহ তাকে সেই জ্ঞান দিয়ে দেন’ (প্রশ্নোত্তর ১৭৫৩)। অথচ উক্ত আয়াতে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তাঁর মনোনীত রাসূল ছাড়া তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারু নিকট প্রকাশ করেন না। এ সময় তিনি সামনে ও পিছনে প্রহরী নিযুক্ত করেন’। অর্থাৎ আল্লাহ তাঁর রাসূলের নিকট ‘অহি’ প্রেরণ করেন এবং তাকে শয়তান থেকে নিরাপদ রাখেন। এই ‘অহি’-টাই হ’ল গায়েবের খবর, যা কুরআন ও হাদীছ আকারে আমাদের কাছে মওজুদ রয়েছে। রাসূল (ছাঃ)-এর মৃত্যুর পর ‘অহি’-র আগমন বন্ধ হয়ে গেছে। অতএব কোয়ান্টামের গুরুরা চাইলেও গায়েবের খবর জানতে পারবেন না।

(ঘ) তারা সূরা বুরূজ-এর বুরূজ অর্থ করেন ‘রাশিচক্র’। যাতে আল্লাহকে বাদ দিয়ে রাশিচক্র অনুযায়ী মানুষের ভাল-মন্দ ও শুভাশুভ নির্ধারণের বিষয়টি তাদের শিষ্যদের মনে গেঁথে যায়। অথচ এটি হিন্দু ও তারকা পূজারীদের শিরকী আক্বীদা মাত্র।

(ঙ) তারা সূরা আলে ইমরানের ১৯১ আয়াতটি তাদের আবিষ্কৃত মেডিটেশনের পক্ষে প্রমাণ হিসাবে দাঁড় করিয়েছেন (প্রশ্নোত্তর ১৭৫৩)।. ঐ সাথে একটি জাল হাদীছকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করেছেন যে, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, সৃষ্টি সম্পর্কে এক ঘণ্টার ধ্যান ৭০ বছরের নফল ইবাদতের চেয়ে উত্তম’ (প্রশ্নোত্তর ১৭২৪)।. অথচ উক্ত আয়াতে বলা হয়েছে যে, আল্লাহর সৃষ্টি বিষয়ে গভীর গবেষণা তাকে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি প্রার্থনায় উদ্বুদ্ধ করে’। কোয়ান্টামের কথিত অন্তর্গুরুর কাছে যেতে বলে না। আর হাদীছটি হ’ল জাল। যা আদৌ রাসূল (ছাঃ)-এর বাণী নয়। কোন কোন বর্ণনায় ৬০ বছর ও ১০০০ বছর বলা হয়েছে’ (সিলসিলা যঈফাহ হা/১৭১)।

পরিশেষে বলব, কোয়ান্টাম মেথডের পূরা চিন্তাধারাটাই হ’ল তাওহীদ বিরোধী এবং শিরক প্রসূত। যা মানুষের মাথা থেকে বেরিয়ে এলেও এর মূল উদ্গাতা হ’ল শয়তান। মানুষকে জাহান্নামে নেবার জন্য মানুষের নিকট বিভিন্ন পাপকর্ম শোভনীয় করে পেশ করার ক্ষমতা আল্লাহ তাকে দিয়েছেন (হিজর ৩৯)।. তবে সে আল্লাহর কোন মুখলেছ বান্দাকে পথভ্রষ্ট করতে পারে না (হিজর ৪০)।. শয়তান নিজে অথবা কোন মানুষের মাধ্যমে প্রতারণা করে থাকে। যেমন হঠাৎ করে শোনা যায়, অমুক স্থানে অমুকের স্বপ্নে পাওয়া শিকড়ে বা তাবীযে মানুষের সব রোগ ভাল হয়ে যাচ্ছে। ফলে দু’পাঁচ মাস যাবত দৈনিক লাখো মানুষের ভিড় জমিয়ে হাযারো মুসলমানের ঈমান হরণ করে হঠাৎ একদিন ঐ অলৌকিক চিকিৎসক উধাও হয়ে যায়। এদের এই ধোঁকার জালে আবদ্ধ হয়েছিল সর্বপ্রথম নূহ (আঃ)-এর কওম। যারা পরে আল্লাহর গযবে ধ্বংস হয়ে যায়। আমরাও যদি শিরকের মহাপাপ থেকে দ্রুত তওবা না করি, তাহ’লে আমরাও তাঁর গযবে ধ্বংস হয়ে যাব।


অতএব হে মানুষ! সাবধান হও!

মঙ্গলবার, ৬ মে, ২০১৪

আমি যদি দূর থেকে কোনো নারীকে ভালোবাসি তাহলে কি গুনাহ হবে?

প্রেম-ভালোবাসা

প্রশ্ন - আমি যদি দূর থেকে কোনো নারীকে ভালোবাসি তাহলে কি গুনাহ হবে?

উত্তর- আলহামদুলিল্লাহ।

গুনাহ ও দুষ্কর্মের দরজাগুলো বন্ধ করার জন্য শরিয়ত এসেছে। যা কিছু মানুষের মনোজগৎ ও বিচার-বিবেচনা শক্তিকে নষ্ট করে দেয়ার মাধ্যম তা বন্ধ করার জন্য শরিয়ত সকল ব্যবস্থাই গ্রহণ করেছে। আর প্রেম-ভালোবাসা, নরনারীর সম্পর্ক, সব থেকে বড় ব্যাধি ও মারাত্মক আপদ।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ রা. বলেন [ দ্র: মাজমুউল ফাতওয়া: ১০/১২৯]

"ইশক বা প্রেম একটি মানসিক ব্যাধি। আর যখন তা প্রকট আকার ধারণ করে শরীরকেও তা প্রভাবিত করে। সে হিসেবে তা শরীরের পক্ষেও ব্যাধি। মস্তিষ্কের জন্যও তা ব্যাধি। এ-জন্যই বলা হয়েছে, এটা একটা হৃদয়জাত ব্যাধি। শরীরের ক্ষেত্রে এ ব্যাধির প্রকাশ ঘটে দুর্বলতা ও শরীর শুকিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে।"

তিনি আরও বলেন, [দ্র: মাজমুউল ফাতওয়া: ১০/১৩২] 

'পরনারীর প্রেমে এমন সব ফাসাদ রয়েছে যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেও গুনে শেষ করতে পারবে না। এটা এমন ব্যাধির একটি যা মানুষের দীনকে নষ্ট করে দেয়। মানুষের বুদ্ধি-বিবেচনাকে নষ্ট করে দেয়, অতঃপর শরীরকেও নষ্ট করে।"

বিপরীত লিঙ্গের প্রতি প্রেম-ভালোবাসার ক্ষতি জানার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, এটা হলো হৃদয়ের বন্দিদশা, আর প্রীতিভাজনের জন্য দাসত্ব, প্রেম-ভালোবাসা অসম্মান, অপদস্থতা ও কষ্টের দরজা। এগুলো একজন সচেতন মানুষকে এই ব্যাধি থেকে দূরে সরাতে যথেষ্ট। 

ইবনে তাইমিয়াহ রা. বলেন: [ দ্র: মাজমুউল ফাতওয়া: ১০/১৮৫] 

"পুরুষের হৃদয় যদি কোনো নারীর সাথে এঁটে যায়, যদিও সে নারী তার জন্য বৈধ হয়, তাহলেও তার হৃদয় থাকে ওই নারীর কাছে বন্দি। নারী তার অধিপতি হয়ে বসে, পুরুষ তার ক্রীড়নকে পরিণত হয়, যদিও সে প্রকাশ্যে তার অভিভাবক; কেননা সে তার স্বামী। তবে বাস্তবে সে নারীর কাছে বন্দি, তার দাস। বিশেষত নারী যদি জানতে পারে যে পুরুষ তার প্রেমে মুগ্ধ। এমতাবস্থায় নারী তার উপর আধিপত্য চালায়, জালেম ও স্বৈরাচারী শাসক যেমন তার মাজলুম, নিষ্কৃতি পেতে অপারগ দাসের উপর শাসন চালায়, ঠিক সেভাবেই নারী তার প্রেমে হাবুডুবু-খাওয়া পুরুষের উপর শাসন চালায়। বরং এর থেকেও বেশি চালায়। আর হৃদয়ের বন্দিদশা শরীরের বন্দিদশা থেকে মারাত্মক। হৃদয়ের দাসত্ব শরীরে দাসত্বের চেয়েও কঠিনতর।"

আর বিপরীত লিঙ্গের প্রতি ভালোবাসা ওই হৃদয়কে স্পর্শ করতে পারে না যে হৃদয়ে আল্লাহর ভালোবাসা ভর্তি রয়েছে। সে-তো কেবল ওই হৃদয়েই স্থান পায় যা শূন্য, দুর্বল, পরাস্ত। এধরনের হৃদয়েই বিপরীত লিঙ্গের প্রতি ভালোবাসা স্থান পায়। আর এটা যখন শক্তিশালী পর্যায়ে পৌঁছে, প্রকট আকার ধারণ করে তখন কখনো আল্লাহর ভালোবাসাকেও অতিক্রম করে যায় এবং ব্যক্তিকে শিরকের দিকে ঠেলে দেয়। এজন্যই বলা হয়েছে, প্রেমপ্রীতি শূন্য হৃদয়ের আন্দোলন। 

হৃদয় যখন আল্লাহর মহব্বত ও স্মরণ থেকে শূন্য হয়ে যায়, আল্লাহর কাছে দুয়া-মুনাজাত ও আল্লাহর কালামের স্বাদ গ্রহণ করা থেকে যখন শূন্য হয়ে যায় তখন নারীর ভালোবাসা, ছবির প্রতি আগ্রহ, গান-বাজনা শোনার আগ্রহ তার জায়গা দখল করে। 

শায়খ ইবনে তাইমিয়াহ রা. বলেন: [দ্র:মাজমুউল ফাতওয়া: ১০/১৩৫] 

"হৃদয় যদি একমাত্র আল্লাহকে ভালবাসে, দীনকে একমাত্র তার জন্য একনিষ্ঠ করে, তাহলে অন্য কারও ভালোবাসার মুসীবত তাকে স্পর্শ করতে পারে না। প্রেম-ভালোবাসার কথা তো বহু দূরে। প্রেম-ভালোবাসায় লিপ্ত হওয়ার অর্থ, হৃদয়ে আল্লাহর মহব্বতের অপূর্ণতা। এ-কারণে ইউসুফ আলাইহিস সালাম, যিনি একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকে মহব্বত করতেন, তিনি এই মানবীয় ইশক-মহব্বত থেকে বেঁচে গেছেন। আল কুরআনে ইরশাদ হয়েছে: 

(এমনি ভাবেই হয়েছে যাতে আমি তার থেকে মন্দ ও নির্লজ্জ বিষয় সরিয়ে দেই। নিশ্চয় সে আমার মনোনীত বান্দাদের মধ্যে একজন ছিল।) 
[ সূরা ইউসূফ: ২৪] 

পক্ষান্তরে মিসরের প্রধানের স্ত্রী ও সম্প্রদায় ছিল মুশরিক। ফলে সে প্রেম-ভালোবাসায় আক্রান্ত হয়।‘

তাই একজন মুসলমানের উচিত এই ধ্বংসের পথ থেকে সরে আসা। এ থেকে নিজেকে রক্ষা করা ও নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। যদি এ-ক্ষেত্রে ঢিল দেয়, বা কোতাহি করে এবং প্রেমের নদীতে তরী ভাসায় - যার প্রতি দৃষ্টি দেয়া হারাম তাকে বার বার দেখে দেখে, যা শোনা হারাম তা বার বার শোনে শোনে, বিপরীত লিঙ্গের সাথে কথা বলাকে তুচ্ছ জ্ঞান করে করে, আর এভাবেই ডুবে যায় প্রেম-ভালোবাসায়, তাহলে সে নিশ্চয় গুনাগার, পাপী, শাস্তি ও আযাবে উপযোগী। 

এমন অনেক মানুষ আছে যে শুরুতে ঢিল দিয়েছে, মনে করেছে যখন ইচ্ছে করবে ফিরে আসতে পারবে, নিজেকে মুক্ত করতে পারবে, অথবা বিশেষ সীমানা পর্যন্তই যাবে। তবে যখন ব্যাধি রগরেশায় অনুপ্রবেশ করেছে, তখন না কাজে এসেছে কোনো ডাক্তারে আর না কোনো ওষুধে। 
কবি বলেন:

প্রেম প্রেম খেলেছে
এক পর্যায়ে বনে গেছে প্রেমিক,
তারপর প্রেম যখন তাকে করেছে বিজয়
হয়েছে সে অপারগ,
ভ্রম হয়েছে বিশাল ঢেউকে ছোট্ট বলে,
 ফলে যখন দাঁড়িয়েছে তাতে শক্তভাবে,
 গিয়েছে সে চির নিমজ্জনে। 

রাওজাতুল মুহিব্বিন গ্রন্থে ইবনেল কাইয়েম রা. বলেন : [ দ্র:পৃষ্ঠা: ১৪৭] 

"যখন কারণটা তার ইচ্ছায় সংঘটিত হয়েছে, তখন এর থেকে তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও যা জন্ম নেবে সে ব্যাপারে সে মাযুর নয়, তথা উযর পেশ করার অধিকার সে হারিয়ে ফেলে। আর এতে সন্দেহ নেই যে বার বার দৃষ্টিনিক্ষেপ করা এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে চিন্তা করে যাওয়া মাদক সেবনের মতোই, অর্থাৎ ব্যক্তিকে কারণ সংঘটিত করার অপরাধেই কেবল অভিযুক্ত করা হয়। "

ব্যক্তি যদি এই মারাত্মক ব্যাধি থেকে দূরে থাকার জন্য আগ্রহী হয়, অতঃপর সে হারাম জিনিস দেখা থেকে দৃষ্টিকে ফিরিয়ে রাখে, হারাম জিনিস শোনা থেকে কান বন্ধ করে রাখে, মনের মধ্যে শয়তান যে কুমন্ত্রণা দেয় তা দূরে সরিয়ে দেয়, এর পরেও যদি এই ব্যাধির অগ্নিকণা তাকে স্পর্শ করে-ক্ষণিক দৃষ্টির কারণে, অথবা এমন কোনো লেনদেনের কারণে যা মূলতঃ বৈধ ছিল- অতঃপর এভাবে যদি কোনো নারীর প্রতি মহব্বত জন্মে যায়, তাহলে আশা করা যায়  কোনো গুনাহ হবে না, ইনশাআল্লাহ। আল কুরআনে ইরশাদ হয়েছে: 

(আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোনো কাজের ভার দেন না) 
[ সূরা আল বাকারা: ২৮৬] 

ইবনে তাইমিয়াহ রা. মাজমুউল ফাতওয়ায় বলেন: [ দ্র:১১/১০]

"যদি ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোনো বাড়াবাড়ি ও সীমালংঘন না হয়, তাহলে, তাকে যা পেয়ে বসল তাতে গুনাহ হবে না।"

ইবনেল কাইয়েম রা. বলেন: [ দ্র: রাউযাতুল মুহিব্বিন:১৪৭]

"যদি, অবৈধ নয় এমন কারণ হেতু প্রেম জন্ম নেয়, তাহলে ব্যক্তিকে দোষারোপ করা হবে না। যেমন কেউ তার স্ত্রী অথবা দাসীর প্রেমাক্রান্ত ছিল, অতঃপর যেকোনো কারণে তাদের বিচ্ছেদ ঘটল, কিন্তু প্রেমের ভাব থেকে সে নিষ্কৃতি পেল না, এমতাবস্থায় তাকে দোষারোপ করা হবে না। অনুরূপভাবে যদি হঠাৎ দৃষ্টি পড়ে যায় এবং সে সাথে সাথে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়, কিন্তু অনিচ্ছাকৃতভাবেই তার হৃদয় প্রেমাক্রান্ত হয়, তাহলেও তাকে দোষারোপ করা যাবে না। তবে তাকে অবশ্যই চেষ্টা করতে হবে দমন করার জন্য এবং তা থেকে সরে আসার জন্য।"

ব্যক্তিকে চেষ্টা করে যেতে হবে তার হৃদয়ের চিকিৎসার জন্য প্রীতিভাজনের সকল স্মৃতি থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নিতে- আল্লাহর মহব্বত দিয়ে নিজ হৃদয়কে ভরপুর করে, আল্লাহর মহব্বত আঁক্ড়ে ধরে নিজেকে অমুখাপেক্ষী করে। আর যারা বুদ্ধিমান ও আমানতদার নসিহতকারী এমন ব্যক্তিদের পরামর্শ নিতেও সঙ্কোচবোধ করবে না, অথবা মনোচিকিৎসকদের শরণাপন্ন হতেও ভুলবে না। তাদের কাছে হয়তো কোনো এলাজ পাওয়া যেতে পারে। এর পাশাপাশি সে হবে ধৈর্যশীল, আল্লাহর কাছে ছাওয়াব প্রার্থী, পবিত্রতা অবলম্বনকারী, গোপনকারী। এরূপ করলে আল্লাহ তার জন্য ছাওয়াব লিখবেন ইনশা আল্লাহ। 

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ রা. বলেন: [ দ্র: মাজমুউল ফাতওয়া:১০/১৩৩]

"যদি ব্যক্তি প্রেমাক্রান্ত হয়, অতঃপর সে পবিত্রতা অবলম্বন করে, ধৈর্য ধরে, তাহলে আল্লাহ তার তাকওয়ার জন্য ছাওয়াব দেবেন। কেননা শরিয়তের দলিল থেকে জানা যায়, ব্যক্তি যদি দৃষ্টি-কথা-কর্মের ক্ষেত্রে হারাম বিষয় থেকে বেঁচে থাকে, আর ব্যাপারটা ফাঁস্ করে না দিয়ে গোপন করে, কোনো মাখলুকের কাছে শিকায়েত করতে গিয়ে হারাম কথায় জড়িয়ে না যায়, সে যদি কোনো নির্লজ্জ বিষয় ফাঁস্ না করে দেয়, প্রীতিভাজনের অন্বেষণে বের না হয়, আল্লাহর আনুগত্য ও পাপ থেকে ধৈর্য ধরে, তার হৃদয়ে যে প্রেমযন্ত্রণা রয়েছে তার ক্ষেত্রেও ধৈর্য ধরে, যেভাবে বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি বিপদে ধৈর্য ধরে, তাহলে আল্লাহকে ভয়কারী ও ধৈর্যধারণকারীদের মধ্যে সে শামিল হবে। ইরশাদ হয়েছে: 

(নিশ্চয় যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করে ও সবর করে, নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের প্রতিদান বিনষ্ট করেন না।" 

আল্লাহই ভালো জানেন।

- শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ 

মুসলিমরা কিভাবে বিজয়ী হবে?

অনেকে প্রশ্ন করে, গণতন্ত্র না করে মুসলিমরা কিভাবে ক্ষমতায় যাবে?
    
মুসলিমরা কিভাবে ক্ষমতায় যাবে প্রশ্ন না করে, আসলে প্রশ্ন করা উচিত বর্তমান মুসলিমরা কি ক্ষমতা (=আল্লাহর সাহায্য) পাওয়ার যোগ্য?

সিরিয়ায় মুসলিমদের গণহত্যা করা হচ্ছে, ফিলিস্তিনে বিগত প্রায় ৬৭ বছর ধরেই চলছে মুসলিমদের উপর নির্যাতন চলছে, ইরাক, আফগানিস্তান, সোমালিয়া, চেচনিয়া, বসনিয়া, মালি, আফ্রিকান বিভিন্ন দেশে, ভারতসহ প্রায় সবদেশেই মুসলিমরা আজ নির্যাতিত।

এছাড়াও মুসলিমরা আজ আল্লাহর অবাধ্য, দ্বীন থেকে বেড়িয়ে অনেকে কাফের মুশরেকদের সাথে মিশে যাচ্ছে। আপনি দেখে বুঝবেন না, কে গণেশ কার্তিক আর কে হাসান, কে হুসাইন! কে স্বরস্বতী কে আয়িশাহ, ফাতেমা। নামধারী মুসলিমরা হিন্দুদের মতো কপালে সিদুর, তিলকচিহ্ন পড়ে, ধুতি পড়ে, উল্কি আকে, শহীদ মিনার স্মৃতি স্তম্ভ বানিয়ে মুশরেদের মতো ইট পাথরের পূজা করে, অলি আওলিয়া নাম দিয়ে, মাযার বানিয়ে, পীরের পূজা করে এইগুলোকে দেবতার মতো উপাসনা করে…

এইরকম আল্লাহদ্রোহীতার কারণে মুসলিমদেরকে আল্লাহ বিভিন্ন ভাবে শাস্তি দিচ্ছেন। আমাদের দেশের সাভারে একটা মাত্র বিন্ডিং ধসে প্রায় ১৫০০র মতো মানুষ মারা গেলো, গত সপ্তাহে আফগানিস্থানে পাহাড় ধসে অল্প কিছু সময়ের মাঝেই পুরো গ্রামের ২৫০০র বেশি মানুষ নিহত হলো – এইগুলো আল্লাহর গজব – কারণ মুসলিমদের মাঝে শিরক বেদাত, হারাম, ফাসেকী ঢুকে গেছে। এইভাবে আজাব গজন দিয়ে মুসলিমদের দ্বীনে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন আল্লাহ তাআ’লা।

মহান আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ
“আল্লাহ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা তাদের নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে।”
সুরা রা’দঃ আয়াত ১১।

আল্লাহ তাআ’লা আরো বলেনঃ
“তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও নেককাজ করে, আল্লাহ তাদের সাথে ওয়াদা করেছেন যে, তাদেরকে অবশ্যই পৃথিবীতে শাসনকর্তৃত্ব দান করবেন। যেমন তিনি শাসনকতৃ্ত্ব দান করেছিলেন তাদের পূর্বে যারা ঈমানদার ছিলো তাদেররকে এবং তিনি অবশ্যই সুদৃঢ় করবেন তাদের ধর্মকে, যা তিনি তাদের জন্যে পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়-ভীতির পরিবর্তে অবশ্যই তাদেরকে শান্তি দান করবেন। তারা শুধুমাত্র আমারই ইবাদত করবে এবং আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না।”
সুরা নূরঃ ৫৫।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
“যখন তোমরা ঈনা পদ্ধতিতে (ব্যবসা নাম দিয়ে কৌশলে সুদ খাওয়ার একটা পদ্ধতি) কেনা-বেচা করবে, গরুর লেজ আকড়ে থাকবে (অর্থাৎ পশু পালনে বেশি মনোযোগী হয়ে যাবে), কৃষিকাজ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকবে এবং জিহাদ পরিত্যাগ করবে তখন আল্লাহ তোমাদের উপর অপমান চাপিয়ে দেবেন। যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমরা তোমাদের “দ্বীনে” প্রত্যাবর্তন করবে ততক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের উপর থেকে সেই অপমান উঠিয়ে নেওয়া হবেনা।”
হাদীসটি সহীহ, সিলসিলাতুল আহা’দীস আস-সহীহা’হঃ ১১।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, বর্তমানে মুসলিমদের উপর যে দুঃখ দুর্দশা এসেছে, যে লাঞ্চনা-গঞ্জনা, কাফেরদের পক্ষ থেকে নির্যাতন ও অপমানের শিকার হচ্ছে মুসলিমরা প্রতিনিয়ত, বিভিন্ন আসমানী জমীনের বালা মুসীবত আসছে মুসলিমদের উপরে, যেমন -
১. ইন্দোনেশিয়াতে সুনামিতে লক্ষাধিক মানুষ পানিতে ডুবে নিহত
২. বাংলাদেশের সাভারে বিন্ডিং ধ্বসে ~১৫০০র মতো নিহত
৩. আফগানিস্তানে ভূমিধ্বসে নিমিষের মাঝে ~২৫০০র মতো মাটিচাপা পড়ে নিহত
৪. বার্মা, ভারতের গুজরাট, আসাম, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে, মিশর, সিরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিমদের গণহত্যা, খুন, ধর্ষণ, বাড়ি থেকে উচ্ছেদ ইত্যাদি

এসবই হচ্ছে মুসলিমদের পাপের ফসল। মুসলিমদেরকে আল্লাহ তাআ’লা বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন (আল্লাহর ইবাদত করা, মানুষকে সেইদিকে আহবান করা…) সেটা তারা করছেনা – এরফলে তাদের উপর অপমানের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন আল্লাহ। এই অপমানের ও আজাবের শিকার হয়েও যারা নিজেদের সংশোধন করবেনা, পাপাচার ও অবাধ্যতায় লিপ্ত থাকবে, আল্লাহ তাদের কাছ থেকে দ্বীনকে কেড়ে নিয়ে তাদের পরিবর্তে অন্য জাতিকে আনবেন। যেমনটা আমরা দেখতে পাই, আন্দালুস বা স্পেনে। এক সময় সেখানে মুসলিমদের রাজত্ব ছিলো, কিন্তু সেখানকার মুসলিমরা দ্বীনকে ভুলে দুনিয়াকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, ইমাম ইবনে হাজম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, মুসলিম সমাজের অবস্থা এতো খারাপ হয়েগেছিলো যে, মেয়েরা প্রকাশ্যে তাদের কপালে টাকার অংক লিখে রাখতো। একের পর এক মুসলিম দেশের পতন হচ্ছিলো – মুসলিমরা আল্লাহর দ্বীনে ফিরে না এসে পাপাচারে লিপ্ত ছিল। তাদের আল্লাহদ্রোহীতা ও সীমা লংঘনের জন্য দেখুন – আজকে স্পেনে স্থানীয় মুসলিম নেই বললেই চলে, সেখানকার মসজিদগুলো হয়ে গেছে যাদুঘর!

আজকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশগুলোর দিকে লক্ষ্য করে দেখুন –
১. কোটি কোটি মানুষ কবর মাযার পূজা, পীর পূজায় লিপ্ত। সূফীবাদের শিরক, বেদাত ও কুসংস্কারে ডুবে আছে গোটা সমাজের লোকেরা। এমন অনেক মুসলমান আছে যাদের আকীদা আসলে কাফের মুশরেকদের মতোই। যেমনটা রাসুল (সাঃ) বলেছিলেন, আমার উম্মতের একটা অংশ মুশরেকদের সাথে মিশে যাবে, তারা মূর্তি পূজা করবে।
২. দেশ চলে হয় খ্রীস্টান আব্রাহাম লিংকনের গণতন্ত্র, নয়তো নাস্তিক কার্ল মার্ক্স, লেলিন এর সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ সহ বিভিন্ন ইসলামবিরোধী মানবরচিত মতবাদ, আইন ও সংবিধান দিয়ে (আল্লাহর আইনের বিপরীতে মানব রচিত আইন=কুফুরী, শিরক)।
৩. অধিকাংশ মানুষই হচ্ছে বেনামাযী (বেনামাযী=কাফের)।
৪. রাস্তাঘাটে, প্রত্যেকে মোড়ে মোড়ে সুদী ব্যংক বা এনজিওর ব্রাঞ্চ। (সুদখোর=আল্লাহ ও তার রাসুলের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত)।
৫. রাস্তা-ঘাটে প্রকাশ্যে খুন করছে অত্যাচারী, জালেম সম্প্রদায় কোন বিচার নেই, আইন আদালাত নেই।
৬. বেহায়া, বেপর্দা, অর্ধনগ্ন নারী যারা পতিতা শ্রেণী নারীদেরকে (দেশি-বিদেশী নায়িকা, গায়িকা) অনুকরণ করে (জীবনযাত্রা, চালচলন, পোশাক আশাকে)।
৭. স্কুল কলেজ, অফিস রাস্তা-ঘাটসহ পুরো সমাজ ব্যবস্থায় জিনা ব্যভিচার, পরকীয়া, অশ্লীলতার ব্যপকতা।


যতদিন পর্যন্ত না, মুসলিমরা নিজেদের সংশোধন করে দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করে ততদিন পর্যন্ত তাদের সমস্যার সমাধান হবে না। আবার একশ্রেণীর মানুষ যেটা মনে করে, দ্বীন প্রতিষ্ঠ মানে শুধু রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামী আইন চালু করা – না, কুরান হাদীসে শুধু খলিফা, সুলতান, প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীকে সংশোধন করলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলা হয়নি, বরং বলা হয়েছে – জাতির পরিবর্তন, মুসলিম জাতিকে দ্বীনে ফিরে আসা।