শনিবার, ৭ জুন, ২০১৪

তাবলীগ জামাত এর উপরে শায়খ মুজাম্মেল আল-হক্ক এর গবেষণাধর্মী বিশ্লেষণ



তাবলীগ জামাত এর উপরে শায়খ মুজাম্মেল আল-হক্ক এর গবেষণাধর্মী বিশ্লেষণঃ

আলহামদুলিল্লাহ। ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু লা রাসুলিল্লাহ। আম্মা বাআদু

মুহতারাম, শায়খ মুজাম্মেল আল-হক্ক হা’ফিজাহুল্লাহ ঢাকার একটি মাদ্রাসা থেকে পাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি আরব বিশ্বের দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে উচ্চতর ডিগ্রী ও জ্ঞান অর্জন করেন। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি জ্ঞান অর্জন করেছেন তার মধ্যে রয়েছেঃ

- সারা বিশ্বের মাঝে শ্রেষ্ঠ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মদীনা ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, মদীনা, সৌদী আরব।
- কিং সউদ ইউনিভার্সিটি, রিয়াদ, সৌদি আরব। 
- কুয়েত ইউনিভার্সিটি, কুয়েত।

এই মোট ৩টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের উপরে দীর্ঘদিন আলেম-ওলামাদের কাছ থেকে তিনি উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ডিগ্রী অর্জন করেন, কুরান ও সহীহ হাদীসের কষ্টিপাথর দিয়ে হক্ক ও বাতিলের পার্থক্য নির্ণয় করার যোগ্যতা অর্জন করেন। তাবলীগ জামাত, জামাতে ইসলামী এইরকম প্রচলিত কোন দলে যোগ না দিয়ে কুরান, সহীহ হাদীস ও সাহাবীদের আদর্শ অনুযায়ী দ্বীন প্রচারে তিনি আত্মনিয়োগ করেন, যার কারণে কোন দলই তার প্রতি সন্তুষ্ট না, কারণ তিনি সবার মাঝে যেই ভুল-ত্রুটিগুলো আছে সেইগুলো চিহ্নিত করে দেন, তাদেরকে সংশোধন হওয়ার জন্য দাওয়াত দিয়ে থাকেন। আর স্বাভাবিক ভাবেই যারা মানুষকে উপদেশ দেয় মানুষ তাদেরকেই শত্রু বলে মনে করে।

যাইহোক, দীর্ঘদিন ধরে তাবলীগ জামাত, জামাতে ইসলামী ও ইখওয়ানুল মুসলিমিন এইরকম বিভিন্ন দলকে খুব কাছ থেকে দেখে, তাদের আলেম-ওলামাদের সাথে কথা বলে, তাদের বই-পুস্তক পড়ে তাদের কি ভুলগুলো এবং সংশোধনের উপরে লিখালিখি করে থাকেন। কারণ, এই ভুলগুলোর কারণে মুসলিমদের একটি দল আরেকটি দল থেকে দূরে আছে। এইরকম ভুলগুলো সংশোধন করে বিভিন্ন দলগুলো যখন “সুন্নাহ” এর কাছে আসবে তখনই সম্ভব হবে মুসলিমদের ঐক্য। আজকে তাবলীগ জামাত এর উপরে শায়খ মুজাম্মেল আল-হক্ক এর গবেষণাধর্মী বিশ্লেষণ শেয়ার করা হলো।
বারাক-আল্লাহ ফীকুম
admin :
আনসারুস সুন্নাহ
________________________________
তাবলীগ জামাত...
অহমিকা আর আত্ম-প্রবঞ্চনা দ্বীন, ইমান ও আমল ধ্বংসের প্রধান হাতিয়ার যা শয়তান ব্যবহার করে থাকে। এই প্রবঞ্চনার শিকার যারা তাদের বৈশিষ্ট হলঃ

يقولون ما لا يفعلون ويفعلون ما لا يؤمرون-( مسلم/صحيح)

“যা করে না তাই বলে, আর যা করতে বলা হয় নাই তাই তারা করে” (সহীহ মুসলিম)।

يَعِدُهُمْ وَيُمَنِّيهِمْ ۖ وَمَا يَعِدُهُمُ الشَّيْطَانُ إِلَّا غُرُورًا- (النساء/120)

“শয়তান কল্যাণের অঙ্গীকার করে, আশা প্রদান করে, অথচ সে শুধুই ধোঁকা দেয়। (শয়তান মানুষের জন্য যা ক্ষতিকর সেটাকেই সে উপকারী বলে মনে করায়)’’।
সুরা আন-নিসাঃ ১২০।

قال ابن وضاح : وكم من متحبب إلى الله بما يبغضه الله عليه ومتقرب إلى الله بما يبعده منه

ইবনে ওদবাহ বলেনঃ
“কত লোক আছে যারা আল্লাহর মুহব্বাত কামনা করে অথচ তাদের কাজ আল্লাহকে তাদের উপর রাগান্বিত করে তোলে। আবার অনেক আছে আল্লাহর নৈকট্যকামী অথচ, তাদের কাজ আল্লাহ থেকে তাদেরকে দূরেই সরিয়ে রাখে”।

কোরআন-হাদীসকে এক পাশে রেখে অনেক শ্রেণীর ধার্মিক লোক, ধর্মীয় গ্রুপ ও ধর্ম-ব্যবসায়ীরা তাদের নিজ নিজ ধ্যান-ধারনা, দলীয় চিন্তাবিদ, তরীকার মুরুব্বী ও সিলসিলার পীরকে ইসলামের রাহবার ও সনদ বলে ধরে নিয়েছেন। যার ফলে ইসলাম এক হওয়া সত্ত্বেও তার নানান রূপ বর্তমানে দেখা যাচ্ছে। এবং এর উপর ভিত্তি করে সমগ্র মুসলিম উম্মাহ নানান দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

যে কোরআন আসলো সকলকে এক সারিতে দাঁড় করাতে, সেই কিতাবের অনুসারীগণ কেন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লো তা আশা করি সহজেই অনুমান করা যায়। শুধু নিজের পক্ষকে জিতানোর উদ্দেশ্যে তর্ক করতে থাকলে কোনই লাভ হবেনা। আসল নকল বুঝে সেমতে নিজেকে মুসলিম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। খামাখাই আন্দাজ নির্ভর হলে কোন লাভ হবেনা।

১. জ্ঞানীগণ বলেছেনঃ যদি বলি, কিভাবে কর? উত্তর দাও কেন কর? এরূপ করলে তো প্রশ্নের উত্তর হয়না। অনুরূপ আপনাকে যদি বলিঃ কিভাবে তাবলীগ করেন? আর আপনি উত্তরে বলেনঃ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “বাল্লেগু আন্নি” (আমার কাছ থেকে প্রচার করো) - তাহলে বলবো, আমাদেরকে তাবলীগ করতে বলা হয়েছে তাতেতো আমাদের কোনই প্রশ্ন নেই। কিন্তু, আমাদের প্রশ্ন হলো, আপনি কিভাবে তাবলীগ করেন সেটা নিয়ে?

এটি বড়ই দুঃখজনক যে, তাবলীগ জামাতের বিশেষ কোন ভুলের কথা বললে যে সব গুণ তাদের আছে, সে সবেরই কীর্তন শুরু করবে; যা শয়তানের ধোঁকা ও শাক দিয়ে মাছ ঢাকার অপচেষ্টা মাত্র।

২. তারা বললেনঃ আল্লাহ্‌ মারুফ (ভালো কাজ) এর আদেশ আর মুনকার (খারাপ কাজ) থেকে মানুষকে নিষেধ করতে বলেছেন। এতে তো কোনই দ্বিমত নেই। কিন্তু মারুফ আর মুনকার কিভাবে বুঝলেন? সঠিক বুঝলেন, না ভুল? অথবা মারুফকে মুনকার বা মুনকারকেই মারুফ মনে করলেন কিনা?

৩. কিসসা-কাহিনী কিন্তু কোরআনেও আছে। কিন্তু সেসব কিসসা আল্লাহ্‌র পক্ষ হতে জিবরাঈল
আলাইহিস সালাম এর মাধ্যমে আল্লাহ্‌র নবীকে বলা হয়েছে। উদ্দ্যেশ্য আয়াতের ভাবার্থ পরিষ্কার করা। কিন্তু তাবলীগ জামাতের কিতাবগুলির কিসসার উদ্দেশ্য, উৎস, প্রকার ও ধরন ভিন্ন। সব হাওয়া থেকে পাওয়া কল্প-কাহিনী। যার কোন নির্ভরযোগ্য উৎস নেই। অথচ ওসব কিসসা কাহিনীই হচ্ছে তাদের দ্বীন শিক্ষার মুল উপাদান!! ঐসব মিথ্যা, বানোয়াট শিরকি আর কুফুরী কাহিনীর উপরেই ভীত গেড়েছে তাদের ঈমান ও আমল!! ঐগুলোই তারা শিখে এবং অন্যদেরকে শিক্ষা দেয়। এভাবেই ইসলামের মূল উতস কুরআন ও সুন্নাহ থেকে শয়তান তাদেরকে দূরে সরিয়ে নিয়েছে। যদিও তারা নিজেদেরকে সফলকাম বলেই মনে করছে!

৪. তাবলীগ জামাতের লোকেরা ঈমান ও আমলের কথা বলেন। অথচ ইমানের যে ধারনা তাবলিগীরা পোষণ করেন, তা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ইমান নয়। আমল সম্পর্কে তাদের ধারনাও কল্পিত ও বানোয়াট।

এসবই প্রায় বেশীর ভাগ দল ও গ্রুপের অবস্থা। এর কারণ তারাও ব্যক্তি বিশেষের অনুকরণ করেন, দল বিশেষের মডেল অনুসরণ করেন যা ইসলাম অনুমোদন করেনা। এ ক্ষেত্রে হজরত আলী রাদিয়াল্লাহু আ’নহু যথার্থই বলেছিলেনঃ

“তোমরা ব্যক্তি বিশেষ থেকে দীন গ্রহণ করবে না, কারণ ব্যক্তিরা হয় বিভিন্ন”।

আমরা জানি যে মানুষের চিন্তা-ভাবনা, শিক্ষা-সংস্কৃতি, বিদ্যা-বুদ্ধি, অনুধাবন শক্তি, বুঝার ক্ষমতা ও যোগ্যতা এক নয়। সব মানুষের আকীদা-বিশ্বাসও এক নয়। তদুপরি, দলীয় আদর্শে মগজ ধোলাই হয়ে থাকলে তো কথাই নেই! তাই নিশ্চিত করেই বলা যায় যে, “ব্যক্তি পূজা” (কোন একজন ব্যক্তির মতবাদকে অন্ধভাবে মেনে চলা) ইসলামে এতো বিভক্তি এনে দিয়েছে।

নিম্নে তাবলীগ জামাতের কতগুলো বিশেষ বিশেষ ত্রুটি সংক্ষেপে উল্লেখ করা হল। আশাকরি তারা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন এবং সংশোধনের পদক্ষেপ নেবেনঃ

- তারা কুরআন-হাদিস ব্যতীত ব্যাক্তি বিশেষের মতামত (হাওয়া বা প্রবৃত্তির) অনুসরণ করেন।

- কুরআন-হাদীস শিক্ষা করেন না, অন্যদেরকেও শিক্ষা দেন ও না।

- কিসসা কাহিনী, স্বপ্ন, রুহানী ফয়েজ, বুজুর্গী, ফানাফিল্লাহ ইত্যাদি কল্পিত মতবাদের বিশ্বাস করেন, যার মাঝে অনেক স্পষ্ট শীরকি চিন্তা-ভাবনা বিদ্যমান।

- ইসলামের মূল ভিত্তি হচ্ছে “তাওহীদ” ও “আকীদা” ভিত্তিক। অথচ তাবলিগ জামাতের লোকেরা তাওহীদ ভিত্তিক আকীদা শিক্ষা করাকে নিরুৎসাহিত করেন। অনেকে “তাওহীদ শিখলে, আকীদাহ শিখলে নাকি উম্মতের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি হয়” এইকরম শয়তানী ওয়াসওয়াসাইয় আক্রান্ত। অথচ সমস্ত নবী-রাসূলদের দাওয়াতের প্রথম বিষয় ছিলো “তাওহীদ”, আকীদার সংশোধন।

- তাবলীগ জামাতের লোকেরা সত্যিকারের আলেম ওলামাদেরকে ঘৃণার চোখে দেখেন আর তাদের তরীকার অথবা তাদের তরীকা সমর্থনকারী চরম মূর্খ, বেদাতী, শিরকি-কুফুরী মতবাদ প্রচারকারী উলামায়ে সুকে বড় আলেম বলে মনে করেন, তাদেরকে অনুসরণ করে তারা বিভ্রান্ত হন। অথচ প্রকৃত আলেমগণই হচ্ছেন অন্ধকারের আলো।

- ফাজায়েল (অতিরিক্ত) আমলের উপর বেশী গুরুত্ব দেন অথচ ফারায়েজ (অতি গুরুত্ব পূর্ণ বিষয় সমূহ) কে অবহেলা করেন।

- তাবলিগ জামাতে লোকেরা আমলে সর্বাধিক গুরুত্ব দেন শিক্ষাতে নয়। আমল করার আগেই বড় ফরজ হচ্ছে ইলম শিক্ষা করা, আমল কিভাবে করতে হবে সেটা জানা। অথচ তারা ছোট্ট একটি আমলকে প্রাধান্য দেন। না জেনে ইমান ও আমলে কোনই ফায়দা নেই তা আল্লাহ্‌র রাসুল সঃ বলেছেন। কারণ, এর ফলে তারা অন্ধভাবে আমল করতে গিয়ে শিরক বেদাতে লিপ্ত হবে, কারণ তারা জানেনা কোন আমল ভালো আর কোনটা শিরক-বেদাত।

- পাকিস্থান, বাংলাদেশ, ভারত এমন দেশগুলোতে প্রচলিত অনেক শিরক ও বিদআতের জন্মদাতা ও পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে এই তাবলিগ জামাতের অজ্ঞ লোকেরাই, যারা ২-১ চিল্লা দিয়ে বা সাল (বছর) ঘোরাঘুরি করে নিজদেরকে বড় আলেম মনে করে। আর সাধারণ তাবলিগীরা তাদের মুরুব্বী মনে করে তাদেরকে ফলো করে।

- তাবলীগ জামাতের লোকেরা তাদের মুরুব্বিদের অন্ধ অনুকরণ করে থাকে। তারা তাদের মুরুব্বীদের কথাকে মনে হবে যেন “ওয়াহীর” মত মনে করেন। তাদেরকে কোন ব্যপারে প্রশ্ন করা হলে, প্রায়ই দলীল দিতে পারেনা আর বলে, আমাদের মুরুব্বীরা এইরকম বলেছেন বা এইটা করতে বলছেন। এইভাবে, কুরান হাদীসের দলীল থেকে সরিয়ে সাধারণ তাবলীগ জামাতের অনুসারীদেরকে “অজ্ঞ মুরুব্বীদের” অন্ধ আনুগত্য করার শিক্ষা দিয়ে তাদেরকে গোমরাহ করা হচ্ছে।

- খেয়ালি ও অলৌকিক বিষয়ে অধিক বিশ্বাস করা। শয়তান আড়ালে থেকে অনেক কারসাজি দেখাতে পারে তা কখনো তারা বুঝতে চাননা।

- তারা শুধু আমলের দিকে মানুষকে দাওয়াত দেয় (ভুল আর শুদ্ধ), গুনাহ ও হারাম কাজ থেকে নিষেধ করে না। এইজন্যই তাদের দাওয়াত খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তাদের দাওয়াতের মেইন টার্গেট হলো, ফযীলত বর্ণনা করা, প্রচলিত শিরক বেদাত থেকে মানুষকে সতর্ক করা, হারাম ও পাপাচার থেকে নিষেধ তারা করেন না। এতে করে নাকি লোকেরা দাওয়াতের কথা শুনবেন না! এইরকম খারাপ কাজের বিরোধীতা, সমালোচনা না করায় মুসলিম উম্মতের মাঝে এই জামাত নিরীহ, শান্তিপ্রিয় হিসেবে পরিচিত যার কারণে তাদেরকে কেউ বাধা দেয়না। আওয়ামীলীগ

- তাদের মুরুব্বিরা এমনও বলেছেনঃ নবীগন যে সাগরের তীরে দাঁড়িয়ে হা করে তাকিয়ে থেকেছেন আমরা সেখানে সাঁতার কাটছি - নাউজুবিল্লাহ মিনহুম।

- তাদের কিতাবে লিখা আছে, যে বেহেশতে নামাজ নাই, সে বেহেশত দিয়ে কি হবে?

- আল্লাহ্‌ বলেনঃ হে নবী যা তোমার উপর নাজেল হয়েছে তাই প্রচার কর (সুরা আল-মায়েদাহঃ ৬৭)।

- “তোমার উপর যা নাযিল করা হয়েছে সেটাই হক্ক (সুরা আর-রাআদঃ ১)।
- “এই হকের বাইরে যা সবই হচ্ছে গোমরাহী (সুরা ইউনুসঃ ৩২)।

- অথচ, তাবলীগ জামাতের লোকেরা এই হক্কের (ক্বুরান ও সহীহ হাদীসের) বাইরে থেকেই দ্বীন শেখে এবং মানুষদের মাঝে প্রচার করে!
Collected & Edited from Shaikh Muzammel Al-hoque
___________________________

শায়খ আব্দুর রাক্বীব আল-বুখারীর তাবলীগ জামাত ও জামাতে ইসলামীর “মানহাজ” এর দিক থেকে ত্রুটির সংক্ষিপ্ত আলোকপাতঃ

http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/05/blog-post_15.html

_____________________________ 

“ফুটবল প্রেমিকদের জন্য দুঃখের খবর”



“ফুটবল প্রেমিকদের জন্য দুঃখের খবর”

এইযে ভাইয়া/আপু…
এতো বড় আর্জেন্টিনার পতাকাটা কি আপনার বাসায়?
কি আশ্চর্য!
আপনি কি একজন মুসলমানের সন্তান নন?
একজন মুসলমানের সন্তান হয়ে কি করে আপনি আপনার বাসায় মুশরেকদের দেবতার ছবি ঝুলিয়ে রাখছেন?
আর্জেন্টিনার পতাকার মাঝখানে সে সূর্যের ছবি, সেটা আসলে মুশরেকদের সূর্যদেবতার ছবি। বাসায় আর্জেন্টিনার পতাকা রাখা আর বাসায় দূর্গার ছবি ঝুলিয়ে রাখা দুইটা আসলে একই, দুইটাই মুশরেকদের দেবতার ছবি।
______________________________
এইযে ভাইয়া/আপু…
এতো টাকা খরচ করে ব্রাজিলের জার্সি কিনেছেন, সেটা কি আপনি?
কি আশ্চর্য!
আপনি কি একজন মুসলমানের সন্তান নন?
একজন মুসলমানের সন্তান হয়ে কি করে আপনি আপনার শরীরে ক্রুশ ঝুলিয়ে রাখছেন?
ব্রাজিলের লোগোর মাঝখানে খ্রীস্টানদের ক্রুশের ছবি। আপনি যদি ক্রুশওয়ালা কাপড় গায়ে দেন তাহলে গির্জার সাথে আপনার পার্থক্য কোথায় থাকলো?
________________________________

এইরকম বহু দেশ যেমন ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া…এদের পতাকা, জার্সি আসলে ক্রস। দ্বীন সম্পর্কে উদাসীন, অজ্ঞ মুসলিমরা কাফেরদের ধোকায় পড়ে খ্রীস্টানদের ক্রস গায়ে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়…

তার মানে এই না যে, আপনি অমুক দলের পতাকা ঝুলাতে পারবেন, অমুক দলের জার্সি পড়তে পারবেন!!

ফতোয়াটা ভালো করে পড়ুনঃ
_________________________________
“কাফেরদের নাম সম্বলিত কাপড় পরিধান করা

তাথির আল-ইতিকদ নামক ক্লাসে শায়খ সালেহ আল-ফাওযান (হাফিজাহুল্লাহ) কে প্রশ্ন করা হয়েছিলঃ

(তার ব্যাপারে কি বলা হবে) যে ব্যাক্তি কাফেররা যেই পোশাক পরিধান করে সে তা পরিধান করে, এবং সে পোশাকের পেছনে কাফের খেলোয়াড়ের নাম লেখা থাকে যদিও যিনি পরিধান করছেন তার নিয়ত সে খেলোয়াড় বা কাফেরের অনুকরণ নয়?

শায়খ সালেহ আল-ফাওযানঃ
এটা কাফেরদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধার অন্তর্ভুক্ত। যতক্ষন তার কাপড়ের ওপর কোন কাফেরের নাম অথবা ছবি থাকবে, সেটা কাফেরদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা হিসেবে গণ্য হবে। এমন কাজ করার অনুমতি (ইসলামে) নেই। অন্তত এইটুক বলা যায় যে, এটা হারাম (ইসলামে নিষিদ্ধ একটা কাজ)।. আর যে পরিধান করছে, সে যদি সত্যি সত্যি (কাফেরদেরকে) সম্মান ও শ্রদ্ধা করে থাকে, তাহলে সে (ইসলাম) ধর্মত্যাগের (ইরতিদাদ) ঝুঁকির মধ্যে আছে। নাআ'ম।

From: (Arabic) http://www.sahab.net/forums/index.php?showtopic=120239

Audio clip (Arabic, download) of the original question/answer: http://shup.com/Shup/500033/adran-9.mp3
________________________________

আর এই খেলা দেখা পুরো বিষয়টা নিয়ে জানার জন্য আমাদের এই পোস্টগুলো দেখুনঃ-

https://www.facebook.com/photo.php?fbid=776130425753040&set=a.130928300273259.14132.125167817515974&type=1

https://www.facebook.com/photo.php?fbid=777221855643897&set=a.130928300273259.14132.125167817515974&type=1&relevant_count=1


#গুরুত্বপূর্ণ_একটি_পোস্ট



#গুরুত্বপূর্ণ_একটি_পোস্ট

আজকের কুইজ ও তার উত্তরঃ (ব্যখ্যা-বিশ্লেষণসহ)

বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে আমাদের বিশেষ কুইজ ছিলোঃ
বিশ্বকাপ ফুটবল বা ক্রিকেট উপলক্ষে অনেকেই প্রিয় (কাফের/মুশরেক) খেলোয়াড়ের নাম লেখা জার্সি কিনে পড়ে, অথবা কাফের/মুশরেকদের দেশের পতাকা কিনে উড়ায়। এইকাজগুলো করার হুকুম কি?

১. জায়েজ। কুরান-হাদীসে এর বিপক্ষে কোন কিছু আসে নাই।
২. সম্পূর্ণ হারাম
৩. কাফের মুশরেকদের সম্মান করার কারণে এটা কুফুরী কাজ
৪. কিছুইনা, সব ব্যপারে ধর্মকে টেনে আনা ঠিকনা
____________________

প্রথমে ভুল উত্তরগুলো নিয়ে আলোচনা করি, কারণ অনেকে ভুল উত্তরগুলো দিয়েছেন

১. জায়েজ। কুরান-হাদীসে এর বিপক্ষে কোন কিছু আসে নাই।

=>    যারা এটা বলেছেন, তাদের কাছে আমার প্রশ্নঃ
কোন আলেম এই ফতোয়া দিয়েছেন, ফুটবল খেলা দেখা জায়েজ? আপনি কি নির্ভরযোগ্য কোন আলেমের কাছ থেকে ফতোয়া শুনে এই কথা বলেছেন, নাকি নিজেই এই কথা দাবী করছেন?

উত্তর হচ্ছে, এইরকম ফতোয়া কোন আলেম দেন নি। বরং, আপনি নিজে নিজে মনগড়া ফতোয়াবাজি করেছেন, এইটা মারাত্মক একটা কবীরা গুনাহ, যা অনেক সময় কুফুরী পর্যন্ত হতে পারে (নাউযুবিল্লাহ)!

যারা আলেম না, কুরান ও হাদীস সম্পর্কে যারা অভিজ্ঞ নন তারা দ্বীনের ব্যপারে আন্দাজে নিজে নিজে কোন ফতোয়া (মত) দেওয়া বড় হারাম। সাধারণ মানুষেরা দ্বীনের ব্যপারে যারা “আলেম তাদের কাছে জিজ্ঞাস করে তাদের প্রশ্নের উত্তর জেনে নেবেন। এই ব্যপারে মহান আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
অতএব তোমরা যদি না জান, তবে যারা জ্ঞানী তাদেরকে জিজ্ঞেস কর।
সুরা আল-আম্বিয়াঃ ৭।

অতএব, দ্বীনের ব্যপারে এইরকম নিজে নিজে মনগড়া কথা বলা থেকে, আমার মনে হয় এইটা, আন্দাজ/অনুমানভিত্তিক কথা থেকে আপনাদের জিহবাকে সতর্ক রাখবেন। জিহবার কারনে অনেকে জাহান্নামের অতলে ডুবে যাবে – এই ব্যপারে অনেক হাদীস আছে।

আর আরেকটা কথা, এইখানে বলা হয়েছিলো, কুরান হাদীসে এই ব্যপারে নাকি কোন নিষেধাজ্ঞা আসেনি……?

এই কথা আপনাকে কে বললো, আপনি কি সবগুলো কুরানের আয়াতের অর্থ ও তাফসীর পড়েছেন, সবগুলো হাদীসের অর্থ ও শরাহ পড়েছেন? আপনি কুরান হাদীস না পড়েই, নিজে নিজে বানিয়ে বলছেন, কুরান হাদীসে এইকরম কোন নিষেধাজ্ঞা আসেনি?

আল্লাহকে ভয় করুন, দ্বীন শিখুন, অজ্ঞতা মানুষের থাকতে পারে এটা সবারই আছে, কিন্তু অজ্ঞতা তখন আপনার জন্য অভিশাপ হয়ে যাবে - যখন আপনি এই অজ্ঞতা নিয়ে বসে থাকবেন, দ্বীন না শিখে মনগড়া ফতোয়াবাজি করে বেড়াবেন।

আর বাকি সকলকে বলতে চাই, বর্তমানে টিভি, পত্রিকা, ফেইসবুক, মসজিদ মাদ্রাসায় এমন বহু লোক আছে, যারা আসলে জাহেল (অজ্ঞ/মূর্খ লোক), কিন্তু আলেমের লেবাস ধরে মনগড়া ফতোয়াবাজি করে সাধারণ মানুষদেরকে গোমরাহ করছে। আপনারা এইকম মূর্খ/ভন্ড আলেমদের থেকে সতর্ক থাকবেন।

কুরানের যেই আয়াতগুলোতে ফালতু, বাকোয়াজ কথা ও কাজকর্মকে হারাম ঘোষণা করেঃ
(ঈমানদারদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে) যারা অনর্থক কথা-বার্তায় নির্লিপ্ত।
সুরা আল-মুমিনুনঃ ৩।

এবং যারা মিথ্যা কাজে যোগদান করে না এবং যখন অসার ক্রিয়াকর্মের সম্মুখীন হয়, তখন মান রক্ষার্থে ভদ্রভাবে চলে যায়
সুরা আল-ফুরক্বানঃ ৭২।

আর খেলা-ধূলা নিয়ে বিস্তারিত আমাদের এই পোস্ট দেখুনঃ

https://www.facebook.com/photo.php?fbid=776130425753040&set=a.130928300273259.14132.125167817515974&type=1&relevant_count=1
______________________

৪. কিছুইনা, সব ব্যপারে ধর্মকে টেনে আনা ঠিকনা

=> এই কথাটা প্রথম অপশন থেকে আরো মারাত্মক, কারণ এটা ডাইরেক্ট কুফুরী একটা কথা। যারা এই কথা বলছেন – তারা এই লেখা পড়ে সাথে সাথে কুফুরী কথা বলার কারণে তোওবা করে নেবেন। “সব ব্যাপারে ধর্মেক টেনে আনা ঠিকনা – এইটা নাস্তিক, মুর্তাদ ও সেকুলার (ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী) লোকদের কথা, যারা দ্বীনকে অস্বীকার করে, দ্বীনের হুকুম আহকাম মানতে চায়না, তাদের কথা।

আপনি যখন, কালেমা পড়ে #ইসলাম ধর্মে প্রবেশ করেছেন, আল্লাহকে একমাত্র ‘ইলাহ (মাবূদ) ও রব্ব (মালিক ও প্রতিপালক) হিসেবে মেনে নিয়েছেন – এর পরে আর কোন সুযোগ নেই, আপনি এমন কথা বলবেন, আমি দ্বীনের ঐ ব্যপার মানবো, ঐ ব্যপারে দ্বীনের কোন কিছু বলার থাকতে পারেনা। বরং, ইসলাম একটা পূর্ণাংগ দ্বীনি ব্যবস্থা, যা মানব জীবনের প্রত্যেক ব্যপারই নিয়ন্ত্রন করে। যে এই কথাকে অস্বীকার করে, সে কাফের হয়ে যাবে। বিস্তারিত পড়ুন এই লেখাটাতেঃ-

http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/03/blog-post_9196.html
________________________

২. সম্পূর্ণ হারাম
৩. কাফের মুশরেকদের সম্মান করার কারণে এটা কুফুরী কাজ

এই দুইটা কথাই ঠিক আছে, দুইরকম ক্ষেত্রে

=> কেউ কাফের মুশরেক হওয়ার কারণে তাদেরকে অপছন্দ করে, কিন্তু ব্যক্তিগত প্রবৃত্তির কারণে, তাদের খেলাধূলা দেখে, তাদের খেলার কারণে পছন্দ করে – এমনভাবে এই কাজগুলো করলে – সে নিকৃষ্ট, হারাম একটা কাজ করলো। এদের ব্যপারে, যারা কাফেরদের ভালোবাসে, তাদের ফ্যান হিসেবে তাদের জার্সি পড়ে, পতাকা উড়ায় এদের ব্যপারে্ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এই হাদীস প্রযোজ্যঃ

যে যাকে ভালোবাসে কেয়ামতের দিন সে তার সাথেই থাকবে
সহীহ আল-বুখারী।

=> আর কেউ যদি মনে করে, কোন কাফের এতো মহান যে, তাকে ভালোবাসা জায়েজ, তাকে ঘৃণা করাটা বাড়াবাড়ি হবে, বা যারা ঘৃণা করে তারা চরমপন্থী, গোড়া, কট্টরপন্থী – তারা কুফুরীতে লিপ্ত – কারণ – তারা ঈমানের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ “আল-ওয়ালা ওয়াল বারাহ – কাউকে শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য ভালোবাসা, কাউকে শুধুমাত্র আল্লাহর জন্যেই ঘৃণা করা – এই বিষয়টাকে অস্বীকার করেছেন।
________________________

সর্বশেষ, কুইজ নিয়ে কিছু সন্দেহের জবাবঃ
অনেকে দেখলাম কেনো আমরা প্রশ্ন করি, প্রশ্ন করে আমরা নাকি ফেতনা সৃষ্টি করছি, লাইক পাওয়ার জন্য প্রশ্ন করিএইরকম বিভিন্ন বাকোয়াজ করছেন!

এরা আসলে শরীয়ত সম্পর্কে অজ্ঞ। ফেইসবুকে একটা সমস্যা হচ্ছে, যে যার মতো মন্তব্য করতে পারে, কমেন্ট বক্স সবার জন্য উন্মুক্ত থাকায় মনগড়া ফতোয়াবাজি করতে কোন বাধা নেই, কাউকে ব্যন না করা পর্যন্ত। অথচ, না জেনে, আন্দাজে অনুমানে কথা বলা – এটা চরম একটা মিথ্যা কথা – এবং সুরা নজমে এটাকে কাফের ও মুশরেকদের একটা স্বভাব বলা হয়েছে।

সন্দেহের জবাবঃ
আপনি যদি সহীহ মুসলিমের এক নাম্বার হাদীসটা খুলে দেখেন, দেখতে পাবেন – হাদীসের মূল বিষয়টাই হচ্ছে প্রশ্ন ও উত্তর নির্ভর। সবসময় শুধু দ্বীনি বিষয় বর্ণনা না করে, মাঝে মাঝে প্রশ্ন করা ইসলাম শিক্ষার আদবের একটা অংশ। রাসুলুল্লাহ সাঃ মাঝে মাঝে সাহাবাদেরকে এমন প্রশ্ন করেছেন, এমনকি আল্লাহ সুবহানাহু তাআলাও কুরানুল কারীমে তার পাঠককে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেছেন, যাতে করে তারা চিন্তা ভাবনা করে। তবে একটা বিষয় লক্ষণীয়, কেউ যদি সঠিক উত্তর না জানেন, তিনি বলবেন – আমি জানিনা, আল্লাহু আলাম (আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন)…এইরকম বলা ইসলাম শিক্ষার আদবের অংশ। না জানলে অনুমান ভিত্তিক কথা বলা, আমার মনে হয় এইটাএইরকম বলা সম্পূর্ণ নিষেধ – কারণ এর ফলে সম্ভাবনা আছে অজ্ঞতাবশত আপনি মারাত্মক গুনাহ হয় এমন কথা বলে বসলেন। প্রশ্ন করলে এতে করে, পাঠক বিষয়টা নিয়ে আগ্রহী হয় সঠিক উত্তর জানার জন্য। যারা জানেন না তারা এর মাধ্যমে তাদের জানার মাঝে ত্রুটি আছে বিষয়টা স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে পারেন, আর যারা জানেন তারা আবার জেনে নিয়ে বিষয়টা ঝালাই করে নিতে পারেন।

আর অন্য সকলকে উদ্দেশ্য করে আমাদের পেইজে অনেক গালিবাজ, ফেতনাবাজ, মনগড়া ফতোয়াবাজেরাও একটিভ আছেন যার নিয়মিত বিভিন্ন আজে-বাজে মন্তব্য করে। তাই কমেন্ট বক্সে কে কি লিখছে সেই দিকে লক্ষ্য করবেন না। অনেকে এসে মনগড়া প্রশ্নের উত্তর দিতে থাকে, কমেন্ট বক্সে কোন প্রশ্নের অন্য কেউ উত্তর দিলে তাদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই – অনেকে সঠিক উত্তর দেয়, অনেকে ভুল উত্তরও দেয়, বিষয়টা খেয়াল রাখবেন।

অনেকে বলছেন, সৌদি আরবের লোকেরা ক্রিকেট খেলে
এটা হচ্ছে যারা ঘুরায়া ফিরাইয়া হারামকে হালাল করতে চায় তাদের যুক্তি

আলহা’মদুলিল্লাহ সৌদি আরবে অনেক নেককার ধার্মিক লোকও আছে, আবার ফাসেক পাপাচারী, শেইভ করে, ভুয়া হিজা করে কিন্তু আসলে বেপর্দা এমন অনেক লোকও আছে। তাহলে আপনি কি তাদের হারাম কাজকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করবেন? আর আপনার জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে, সৌদি আরবের বহু বড় বড় উলামাবৃন্দ (যেমন, শায়খ মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহীম রহঃ, শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমিন রহঃ, শায়খ সালেহ আল-ফাওজান হাফিঃ এইরকম অনেক আলেম) এইসমস্ত হারাম ও মুনকার কাজের বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছেন। আরব দেশের আলেমদের বাদ দিয়ে জাহেলদের কাজকর্মকে দলীল হিসেবে নিতে হবে – এইরকম কথা কুরান হাদীসে কোথায় আছে?

অনেকে বলছেন, আমি অমুক মুসলিম দেশ, আমি ইরান ইত্যাদি। যেই কাজটাই হারাম, সেই কাজটা কাফের দেশের লোকেরা করুক, আর মুসলিম দেশের লোকেরা করুক – কাউকেই সমর্থন করা যাবেনা। করলে আপনি নিজেও গুনাহগার হবেন। আর ইরান কোন মুসলিম দেশ না, এইটা শিয়া খারেজীদের দেশ। আপনি ইরানকে সমর্থন করেন মানে আপনি ঈমান আকীদাহ সম্পর্কে কিচ্ছু জানেন না। ফেইসবুক বাদ দিয়ে আলেমদের শরণাপণ্ণ হন, ইসলাম সম্পর্কে জানার জন্য।
____________________

যদিও পোস্টটা এমনিতেই অনেক বড় হয়ে গেছে, তারপরেও যারা হেদায়েতের অনুসরণ করবেন তাদের জন্য সুখবর নিয়ে নাযিল করা কুরানের এই আয়াতগুলো শেয়ার না করে পারলাম না!

যারা মনোযোগ সহকারে কথা শুনে, অতঃপর যা উত্তম, তার অনুসরণ করে, তাদেরকেই আল্লাহ সৎপথ প্রদর্শন করেন এবং তারাই হচ্ছে বুদ্ধিমান
সুরা আল-যুমারঃ ১৮।

“আল্লাহ যার বুক ইসলামের জন্যে উম্মুক্ত করে দিয়েছেন, অতঃপর সে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত “নূর (আলোর) মাঝে আছে। (সে কি তার সমান, যে এরূপ নয়) যাদের অন্তর আল্লাহ স্মরণের ব্যাপারে কঠোর, তাদের জন্যে দূর্ভোগ। তারা সুস্পষ্ঠ গোমরাহীতে রয়েছে”।

সুরা আল-যুমারঃ ২২।

বৃহস্পতিবার, ৫ জুন, ২০১৪

যাদুকরেরা যাদু কিভাবে করে?



যাদুকরেরা যাদু কিভাবে করে?

যাদুকরেরা বিভিন্ন মন্ত্র, সংখ্যা, দুর্বোধ্য লেখা, কখনোবা কুরানের আয়াতের অংশ দিয়ে শয়তান কাফের জিনদের সাথে যোগাযোগ করে। ঐ দুর্বোধ্য লেখাগুলোতে মারাত্মক রকমের শিরকি ও কুফুরী কথাবার্তা লেখা থাকে, আর মানুষ শিরক কুফর করে জাহান্নামে যাওয়ার উপযুক্ত হলে  শয়তান জিনেরা খুশি হয়। কারণ, শয়তান জিনেরা ইবলিসের অনুসারী, আর ইবলিস ও তার অনুসারীদের সাথে আদম (আঃ) ও তার সন্তানদের চিরদিনের শত্রুতা, যেইদিন থেকে আদম (আঃ) কে সেজদা করতে অবাধ্য হয়ে ইবলিস কাফের ও চিরঅভিশপ্ত হয়েছে। তাই, শিরক ও কুফর করে কোন মানুষ কাফের হয়ে গেলে, ইবলিস ও তার অনুসারীরা তাকে সাহায্য করে, এই সাহায্যের একটা অংশ হচ্ছে “যাদু”, যা আসলে জিনেরা বিভিন্ন কাজ করে মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

ছবি পরিচিতিঃ পোস্টের ছবিটা আসলে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করার জন্য “যাদুর তাবীজ” এর ছবি, যা একজন রোগীকে রুকিয়া (শরীয়ত সম্মত ঝাড়ফুক) করার সময় জিন স্বীকার করে “যাদুর তাবীজ” কোথায় রাখা আছে বলে দেয়।

বক্স ১ – কুরানের একটা আয়াতের কিছু অংশ নেওয়া হয়েছেঃ
“অতঃপর আমি কেয়ামত পর্যন্ত তাদের মধ্যে পারস্পরিক শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিয়েছি”।
সুরা আল-মায়েদাঃ ১৪।

বক্স ২ – যাদের উপর যাদু করা হয়েছে তাদের নাম

বাকি আকাউকিগুলো আসলে বিভিন্ন মন্ত্র ও নাম্বার যার মাধ্যমে জিনদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। আউযুবিল্লাহ, এর মাঝে শিরক ও কুফর রয়েছে।


এইজন্য, যাদু যে করে, যাদু যে করায় – উভয়েই কাফের ও মুর্তাদ হয়ে যায়। যাদুকরের শাস্তি হচ্ছে তাকে হত্যা করে ফেলা। 

মঙ্গলবার, ৩ জুন, ২০১৪

নারীরা কি বাইরে কাজ করতে পারবে?



নারীরা কি বাইরে কাজ করতে পারবে?

আল্লামাহ, শায়খ সালেহ আল-ফাওজান হা’ফিজাহুল্লাহ বলেনঃ
নারীদের ঘরের বাইরে কাজ করার জন্য ৩টি শর্তঃ

১. কাজ করা বা অর্থ উপার্জন করার প্রয়োজন রয়েছে তাহলেই শুধুমাত্র কাজ করবে।

২. কাজ করা নারীর জন্য দ্বিতীয় প্রধান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে, সংসার কাজের থেকে বেশি প্রাধান্য পাবে। ( এই হিসাবে টাইম পাস করার জন্য, নিজের পায়ে দাঁড়ানো বা স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য, ডিগ্রীকে কাজে লাগানো এইগুলো কোন শরীয়তি কোন ওযর নয়, নারীদের ঘর ছেড়ে বাইরে কাজ করার)

৩. নারীর কাজের ক্ষেত্রে কোন পুরুষের উপস্থিতি না থাকা।অর্থাৎ, নারী ও পুরুষের কাজের পরিবেশ আলাদা হওয়া।
______________________

আর যারা শরীয়তের ধার ধারেন না, নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী চলতে চান – দয়া করে তারা এই আয়াতটা ভালো করে পড়ুন, এর ব্যখ্যা-বিশ্লেষণ, হুকুম-আহকাম ভালোভাবে জেনে নিন। আল্লাহর কাছে জবাব দেওয়ার মতো যথেষ্ঠ কারণ আছে কিনা নিজেই বিচার করবেন।

“আর তোমরা গৃহে অবস্থান করবে, জাহেলিয়াতের (মূর্খতা যুগের) মত নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না। তোমরা নামায কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে।”

সুরা আল-আহজাবঃ ৩৩। 

প্রশ্নঃ সন্তানদের উপর রোযা কখন থেকে ফরয হয়?



প্রশ্নঃ সন্তানদের উপর নামায, রোযা কখন থেকে ফরয হয়?
উত্তরঃ সন্তান যখন বালেগ/বালেগাহ অর্থাৎ প্রাপ্ত বয়ষ্ক হয় তখন তাদের উপরে নামায-রোযা ফরয হয়। যদিও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৭ বছর বয়স থেকেই সন্তানদেরকে নামায পড়ানোর জন্য অভ্যেস করার আদেশ দিয়েছেন , আর ১০ বছর বয়স থেকে তাদেরকে নামাযের জন্যে শারীরিক শাস্তি দিতে বলেছেন। বালেগ না হলে তখন তাদের উপর নামায ফরয হয়না, কিন্তু প্রাপ্ত বয়ষ্ক হওয়ার পর যাতে তারা নিয়মিত নামাযে অভ্যস্ত হয় সেইজন্য আগে থেকেই তাদেরকে ট্রেনিং দিয়ে গড়ে তুলতে হবে। যাইহোক, প্রাপ্ত বয়ষ্ক হওয়ার লক্ষণ হচ্ছে ৪টিঃ
১. নাভীর নিচে লজ্জাস্থানের আশেপাশে শক্ত কালো লোম গজানো
২. জাগ্রত অথবা নিদ্রাবস্থায় বীর্যপাত হওয়া
৩. নারীদের জন্য হায়েজ বা ঋতু শুরু হওয়া
৪. এই ৩টার যেকোন একটা প্রকাশিত হলেই সেই ছেলে বা মেয়ে সাবালক/সাবালিকা বলে গণ্য হবে এবং তার উপর রোযা সহ শরীয়াতের অন্য বিধানগুলো ফরয বলে গণ্য হবে। এর কোনটাই প্রকাশিত না হলে, বয়স ১৫ হলেই সন্তান সাবালক/সাবালিকা বলে গণ্য হবে।

সূত্রঃ ফতোয়া আরকানুল ইসলাম এ শায়খ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমিন (রহঃ) এর ফতোয়া অবলম্বনে।

“জান্নাতুল ফিরদাউস” পাওয়ার জন্য কি আমল করতে হবে?



“জান্নাতুল ফিরদাউস” পাওয়ার জন্য কি আমল করতে হবে?

উত্তরঃ সংক্ষেপে উত্তর দেওয়া আছে সুরা কাহাফের ১০৭ নাম্বার আয়াতেঃ

“নিশ্চয়ই যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের অভ্যর্থনার জন্যে আছে জান্নাতুল ফেরদাউস।”
সুরা কাহাফঃ ১০৭।

সুতরাং, শিরক বেদাত মুক্ত, ভেজাল ও ভ্রান্ত আকীদাহ মুক্ত, কুরান ও সহীহ হাদীস অনুযায়ী বিশুদ্ধ “তাওহীদে” বিশ্বাসী ঈমানদার হয়ে যারা নেক আমল করে তাদের প্রতিদান হিসেবে রয়েছে জান্নাতুল ফিরদাউস।

এখন এই নেক আমলগুলো যারা করে তাদের সবচাইতে বড় কিছু গুণাবলী উল্লেখ করা হয়েছে সুরা মুমিনুনের প্রথম দিকের আয়াতগুলোতেঃ

আ’উযু বিল্লাহিমিনাশ-শাইতানির রাযীম। বিসমিল্লাহির-রাহ’মানির রাহীম।
১. নিশ্চয়ই ঈমানদারগণ সফলকাম হয়ে গেছে,
২. (ঈমানদার হচ্ছে তারাই) যারা নিজেদের নামাযে ‘খাশিয়ুন’ বিনয়ী-নম্র;
৩. যারা অনর্থক কথা-বার্তায় নির্লিপ্ত (গান-বাজনা, বাকোয়াজ, ফালতু ও অসার কাজ ও কথা, বেহুদা খেলাধুলা…এইগুলো থেকে নিজেকে হেফাজত করে চলে),
৪. যারা যাকাত দান করে থাকে
৫. এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে (যিনা-ব্যভিচার ও অশ্লীল কাজ থেকে)।
৬. তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না।
৭. অতঃপর, কেউ এদেরকে (পুরুষদের ক্ষেত্রে স্ত্রী বা দাসী, নারীদের ক্ষেত্রে স্বামী) ছাড়া অন্য কাউকে (প্রেমিক-প্রেমিকা, উপপতি, উপপত্নী…) কামনা করলে তারা সীমালংঘনকারী হবে।
৮. এবং যারা আমানত ও অঙ্গীকার সম্পর্কে হুশিয়ার থাকে।
৯. এবং যারা তাদের নামাযসমূহের হেফজত করে।
১০. তারাই উত্তরাধিকার লাভ করবে,
১১. তারা “ফিরদাউস” বা শীতল ছায়াময় উদ্যানের উত্তরাধিকার লাভ করবে। এবং তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।

সুরা আল-মুমিনুনঃ ১-১১।