সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

বিয়ের পরে পাত্র বা পাত্রীকে জেনে বুঝে নেওয়া

প্রশ্নঃ আসসালামু আলাইকুম। কোন ছেলে যদি কোন মেয়েকে বিবাহের জন্য পছন্দ করে (যেখানে মেয়ের পরিবার এবিষয়ে জানে না), তবে বিবাহের পূর্বে সেই মেয়ের সাথে দীর্ঘদিন দেখা সাক্ষাত করা, কথা-বার্তা বলা, জেনেবুঝে নেওয়া. . .এই ব্যাপার গুলো কতটুকু ঠিক?

উত্তরঃ ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি বারাকাতুহু। জেনে বুঝে নেয়ার ব্যাপার আসলে একজন মানুষকে বিয়ে করার পূর্বে ঠিক কতটুকু দেখতে হবে? অনেকে প্রেম ভালোবাসার নামে অথবা বিয়ের পূর্বে পাত্র অথবা পাত্রীকে জেনে বুঝে নিতে গিয়ে একাকী মেয়ের সাথে দেখা-সাক্ষাত করে, ঘনিষ্ঠতা করে, দীর্ঘদিন ধরে জিনা ব্যভিচার করে শেষ পর্যন্ত জানা বুঝা সব শেষ করে ফেলে। এর পরে অন্য মেয়ে তালাশ করে, জেনে বুঝে নেওয়ার জন্যে। এইগুলো হচ্ছে মেয়ে দেখার নাম করে অবৈধভাবে মেয়েদেরকে ভোগ করার জন্য পুরুষদের ছলনা মাত্র। অনেক সরলমনা মেয়েরা এইভাবে প্রেমিকের কাছে, হবু লম্পট স্বামীর কাছে ইজ্জত হারিয়ে বা ধর্ষিত হয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছে। বিয়ের উদ্দেশ্যে মেয়ের বাবা অথবা কোন মাহরাম পুরুষের উপস্থিতিতে পাত্র সরাসরি নিজে একবার মেয়েকে দেখবে। পছন্দ হলে বিয়ে করবে, আর নয়তো কথা সেখানেই কথা শেষ। এর অতিরিক্ত আর কোন বুঝাবুঝির দরকার নাই। ছেলে-মেয়ে নিজেদের মাঝে কোন ধরণের ব্যক্তিগত দেখা-সাক্ষাত বা যোগাযোগ করবেনা। মূলত যারা সারা জীবন ফ্রী-মিক্সিং পরিবেশে নারীদের সাথে উঠা-বসা করে অন্তর কলুষিত করে ফেলেছে, নারীদের সাথে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত থাকে, তারাই এইভাবে জেনে বুঝে নেওয়ার দাবী জানায়। আর নারীরা দুষ্ট লোকের মিষ্টি কথা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে, নিজের দ্বীনকে বিসর্জন দিয়ে এদের ডাকে সাড়া দেয়। এমন দুশ্চরিত্রে লোকদের থেকে নারীরা সাবধান! নারীদের বুদ্ধির ত্রুটি রয়েছে, একারণে তারা যাতে পুরুষদের লালসা থেকে নিজেদেরকে বাঁচাতে পারে সেইজন্য আল্লাহ তাআ'লা রহমত স্বরূপ তাদের জন্য হিজাব-পর্দার বিধান দিয়েছেন। যারাই হিজাব-পর্দাকে অবহেলা বা ঘৃণা করবে, তারা দুনিয়া এবং আখিরাতে লাঞ্চিত হবে। বর্তমান যুগে ফ্রী মিক্সিং-এ অভ্যস্ত নারীদের চূড়ান্ত পরিণতির দিকে লক্ষ্য বিষয়টা খুবই স্পষ্ট। আল্লাহ আমাদেরকে ও আমাদের পরিবারকে হিফাজত করুন, আমিন।

শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

উম্মু আব্দুল্লাহ আয়িশাহ বিনতে আবু বাকর সিদ্দীকাহ

<3 <3 <3 উম্মু আব্দুল্লাহ আয়িশাহ বিনতে আবু বাকর সিদ্দীকাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা <3 <3 <3
তাঁর নাম হচ্ছে আইয়িশাহ, পিতার নাম আবু বাকর, সিদ্দীকাহ হচ্ছে তাঁর পিতার সূত্রে প্রাপ্ত উপাধি। যদিও তাঁর কোন ছেলে-মেয়ে ছিলোনা, কিন্তু তিনি উম্মু আব্দুল্লাহ বা আব্দুল্লাহর মা, এই নামে নিজের কুনিয়া বা উপনাম গ্রহণ করেছিলেন।
আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মা আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহাকে মাত্র ছয় বছর বয়সে বিয়ে করেন, যখন তিনি নাবালিকা ছিলেন। সাবালিকা হওয়ার পর, নয় বছর বয়সে সংসার করার জন্যে তিনি তাঁকে ঘরে তুলে নেন। তিনি ছিলেন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর তৃতীয়া স্ত্রী এবং একমাত্র কুমারী স্ত্রী। মা আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা অত্যন্ত সুন্দরী মহিলা, তীক্ষ্ম মেধাসম্পন্ন ও প্রখর মুখস্থ শক্তির অধিকারিণী এবং ফকীহা (বিদূষী নারী) ছিলেন। সাহাবীদের মাঝে তিনি চতুর্থ সর্বোচ্চ, মোট ২২১০টি হাদীস বর্ণনা করেছেন। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মা আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহাকে আদর করে সংক্ষেপে আইয়ুশ বলে ডাকতেন। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মা আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহাকে তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে, এমনকি সমস্ত মানুষের মধ্যে তাঁকেই সবচাইতে বেশি মুহাব্বত করতেন, একারণে অন্যান্য স্ত্রীরা তাঁর ব্যপারে ঈর্ষান্বিত হতেন। মা আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহার বয়স কম হওয়ায় আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাথে খেলা-ধূলা করতেন। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মা আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহার সাথে দুইবার দৌড় প্রতিযোগীতা করেছিলেন। প্রথমবার যখন তাঁর বয়স কম ও হালকা-পাতলা ছিলেন, ফলে দ্রুত দৌড়ে তিনি আল্লাহর রাসুলকে হারিয়ে দেন। দ্বিতীয়বার যখন তাঁর একটু বয়স বেশি হয় এবং স্বাস্থ্য কিছুটা ভারী হওয়ায় আল্লাহর রাসুল দৌড়ে প্রথম হয়ে যান। আল্লাহর রাসুল তখন মজা করে বলেন, আমার এইবারের জিত তোমার প্রথমবারের জন্যে প্রতিশোধ। মা আয়িশাহকে আল্লাহর রাসুল বেশী ভালোবাসেন, এটা সাহাবীরাও বুঝে গিয়েছিলেন, তাই সবাই যেইদিন আল্লাহর রাসুল মা আয়িশাহর ঘরে থাকতেন, সেইদিন হাদিয়া বেশী পাঠাতেন। এটা নিয়ে অন্য স্ত্রীরা কষ্ট বোধ করতেন। এটা নিয়ে কিছু ঘটনা ঘটলে, তখন আল্লাহর রাসুল বলেন, তোমরা আয়িশাহকে নিয়ে আমাকে কষ্ট দিয়োনা, এমনকি আয়িশাহর ঘরে অবস্থানকালীন সময়ে জিব্রাঈল ওহী নিয়ে বেশি আসেন। এ থেকে মা আয়িশাহর মর্যদা সবার কাছে আরো পরিষ্কার হয়ে যায়।
মা আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহাকে মাত্র নয় বছর সংসার করে ১৮ বছরে বিধবা হন। যেহেতু তিনি এবং রাসুলের স্ত্রীরা এই উম্মতের সবার জন্যে মায়ের মর্যাদার অধিকারী, তাই তাঁদের কাউকে বিয়ে করা জায়েজ ছিলোনা। নবীর স্ত্রীরা নবীর সংগিনী, দুনিয়া এবং আখিরাতে। এরপর দীর্ঘ প্রায় ৪৫ বছর দ্বীনের খেদমত করে একাকী দিন কাটান। এক বর্ণনা রয়েছে, শীর্ষস্থানীয় তাবেয়ী আলেমদের মধ্যে অন্তত ৮৮জন হিজাব-পর্দার মধ্যে মা আয়িশাহর কাছ থেকে হাদীস শিখেছিলেন। এছাড়া তিনি ফিকহের ব্যপারে দক্ষ ছিলেন।
তাঁর সম্পর্কে কত যে ঘটনা ও বর্ণনা রয়েছে! একবার অতি ধার্মিক, বিদআতী এক মহিলা আসে তাঁর সাথে দেখা করার জন্যে। তারা মাসিক অবস্থায় যেমন ছুটে যাওয়া ফরয রোযার কাজা আদায় করতো, ঠিক তেমনি ছুটে যাওয়া নামাযও কাজা করতো। অথচ, মা আয়িশাহ স্পষ্ট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মহিলাদেরকে আল্লাহর রাসুল মাসিক অবস্থায় ছুটে যাওয়া ফরজ রোযা কাজা করতে আদেশ করেছেন, কিন্তু ছুটে যাওয়া নামায কাজা করতে আদেশ করেন নি। একথা জানতে পেরে মা আয়িশাহ সেই বিদআতী মহিলার সাথে দেখা করেন নি।
তাঁর সম্পর্কে আপনারা যত বেশি জানবেন, ততই তাঁকে ভালোবাসবেন। অনলাইনে আপনারা শায়খ মতিউর রহমান মাদানী হা'ফিজাহুল্লাহর একটা লেকচার পাবেন, মা আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহার জীবনী, এটা আপনারা অবশ্যই শুনবেন।

আল্লাহ আমাদের নবীর প্রতি, তাঁর সমস্ত স্ত্রী ও বংশধরদের প্রতি শান্তি ও বরকত নাযিল করুন, আমিন।

শুক্রবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

আপনার দ্বীন সম্পর্কে জানুন


(১) সুদী ব্যংকে চাকুরী করা হারাম। শায়খ আব্দুল হামীদ মাদানী বলেছেন, হারাম উপার্জনে লিপ্ত ছেলেকে বিয়ে করা জায়েজ নয়।
(২) জসীম উদ্দিন রাহমানী একজন চরমপন্থী, জাহিল বক্তা। পীরদের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে কিছু রক্ত গরম করা লেকচার দিলেই আলেম হওয়া যায়না। আলেম হওয়ার জন্যে ইলম থাকা প্রয়োজন, হেকমত থাকা প্রয়োজন, কথা ও আচরণে মানুষের মাঝে উত্তম হওয়া প্রয়োজন। জসীম উদ্দিন রাহমানীর দাওয়াত জেএমবি, আইসিসের মতো খারেজী দলের দাওয়াত, সাইয়েদ কুতুবের দাওয়াত - একই দাওয়াত। এদের আদর্শ হচ্ছে মুসলমানদেরকে কাফের ফতোয়া দিয়ে তাদেরকে হত্যা করা।
(৩) প্রেম ভালোবাসা, জিনা ব্যভিচার, বেপর্দা, বেহায়াপনা, বিয়ে, তালাকের মতো বিষয়গুলোতে সমাজের মানুষের অবস্থা কতটা নিচে নেমে গেছে আশ্চর্য হতে হয়। এ থেকে বাঁচার উপায় হচ্ছে পুরুষদের দৃষ্টি ও লজ্জাস্থান নিয়ন্ত্রনে রাখা, নারীদেরকে পূর্ণ হিজাব-পর্দার মাঝে রাখা, নারী ও পুরুষদের আলাদা অবস্থান নিশ্চিত করা, উপযুক্ত বয়সে ছেলে মেয়েদেরকে বিয়ে দেওয়া। অথচ সমাজে সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থা বিরাজ করছে। অধিকাংশ মেয়েই নারী-পুরুষ মিক্সড শিক্ষা ব্যবস্থায় পড়ছে, যার ফলে পুরুষেরা খুব সহজেই তাদেরকে গার্লফ্রেন্ড নামক আধুনিক সমাজের নব্য রক্ষিতা বানিয়ে তাদেরকে অন্যায়ভাবে ভোগ করছে। মুসলমান ভাই ও বোনদের উচিৎ, সারা দুনিয়া জাহান্নামে গেলেও কিভাবে নিজেকে বাঁচানো যায়, কিভাবে নিজের পরিবারকে বাঁচানো যায়, সেই চিন্তা-ফিকির করা। আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন, আমিন।
(৪) ইলম বা দ্বীনি জ্ঞান হচ্ছে বৃষ্টির মতো। বৃষ্টি হলে যেমন শুষ্ক ভূমিতে সবুজ উদ্ভিদ ও লতা পাতা জন্মিয়ে প্রাণের সঞ্চার হয়। ঠিক তেমনি কারো বুকের মধ্যে ঈমানের বীজ থাকলে ইলমের ছোয়া পেলে তার ঈমান লতাপাতা গজিয়ে মজবুত ও সুন্দর হয়। তার আক্বিদাহ ও আমল শুদ্ধ, সুন্দর ও আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। সুতরাং দ্বীনি ভাই বোনেরা ইলম অর্জন করুন। সেজন্য আলেমদের মজলিসে বসার চেষ্ট করুন। প্রকৃত আলেমরা হচ্ছেন ইলমের ধারক ও বাহক। আর আলেম-এর পোশাক পড়া জাহেল লোকেরা মানুষকে জান্নাতের রাস্তা দেখানোর আশা দিয়ে তাদেরকে বিভ্রান্ত করে।
(৫) আহলে হাদিস, সালাফী, সহীহ আকিদাহর অনুসারী, ক্বুরান সুন্নাহর অনুসারী, ডা জাকির নায়েকের অনুসারী - এমন সুন্দর সুন্দর লেবেল থাকলেই যথেষ্ঠ নয়। বৃক্ষ তোমার নাম কি, ফলে পরিচয়। একজন ব্যক্তি নাজাতপ্রাপ্ত দলের অন্তর্ভুক্ত কিনা, সেটা নির্ভর করে তার আকিদাহ ও আমলের উপরে। নাম বা লেবেল সুন্দর, কিন্তু আমল খারাপ হলে জাহান্নামে যেতে হবে। সেইজন্য কোন ব্যক্তি বা দলের অন্ধ অনুসারী হবেন না।
(৬) ইসলামী রাষ্ট্রের নেতা বা আমির ব্যতীত অন্য যে কারো কাছে বাইয়াত করা বিদআত এবং অবৈধ। সুতরাং,
- পীরদের কাছে বাইয়াত করা বিদাত
- কোন আলেমের কাছে বাইয়াত করা বিদাত
- আহলে হাদিস আন্দোলন সংগঠনের কাছে বাইয়াত করা বিদাত
- জামাতে ইসলামীর নেতাদের কাছে বাইয়াত করা বিদাত
- আইসিসের মতো খারেজী দলগুলোর কাছে বাইয়াত করা বিদাত
এইগুলোর কোন একটির কাছে বায়াত করে থাকলে সেই বায়াত ভংগ করা ওয়াজিব। এ ব্যপারে সমস্ত আলেমরা একমত। সুতরাং, এর তার কথা শুনে অজ্ঞতাপূর্ণ বাইয়াতে শরীক হবেন না। এনিয়ে আমাদের লেখা আছে যা ব্লগে পোস্ট করা আছে, কেউ পড়তে চাইলে ইন শা আল্লাহ লিংক দিয়ে দিবো।

(৭) একজন মানুষের জন্য সঠিক ঈমান নিয়ে, নেক আমলের সাথে মৃত্যু বরণ করতে পারাই চূড়ান্ত সফলতা। সেইজন্য দুয়া করতে হবে, ঈমানে সহিত মৃত্যুর জন্য। সয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচার জন্যে। যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে দেখা করতে ভালোবাসে, আল্লাহও তার সাথে দেখা করতে ভালোবাসেন, আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে দেখা করতে অপছন্দ করে, আল্লাহও তার সাথে দেখা করতে ঘৃণা করেন। আল্লাহর সাথে দেখা করার জন্যে আমাদের উচিৎ নেক আমল সংগ্রহ করা। বিশেষ করে, সুরা কাহাফের সর্বশেষ আয়াতে আল্লাহ শর্ত দিয়েছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে দেখা করতে আশা করে যে নেক আমল করে এবং আল্লাহর সাথে কাউকে সরীক না করে। 

বৃহস্পতিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

ফেইসবুকে সময় নষ্ট

ফেইসবুকে কিছু কথিত ইসলামিক লেখক অজ্ঞতাবশত দ্বীনি ব্যপারে বাজে তর্ক ও বেহুদা আলোচনা জুড়ে দেয়। এভাবে তারা নিজেদের সময় নষ্ট করে, সাথে সাথে অন্য অনেকের মূল্যবান সময় নষ্ট করে। অথচ তারা মনে করে তারা ইসলামি দাওয়াতের কাজ করছে। এভাবে অজ্ঞ ইসলামি বক্তা ও লিখকরা নিজেদেরকে ধ্বংস করছে, সাথে সাথে অন্যদেরকেও ধ্বংস করছে। আমি মুসলিম ভাই ও বোনদেরকে অনুরোধ করবো, আপনারা অজ্ঞ লোকদের সাথে তর্ক করে বা অপ্রয়োজনীয় আলোচনায় শরীক হয়ে সময় নষ্ট করবেন না। যাদের আল্লাহর যিকিরে মন বসেনা, আল্লাহর ইবাদত করতে ভালো লাগেনা, তারাই বাজে তর্ক ও বেহুদা কথা ও কাজ করে ফেইসবুকে সময় নষ্ট করে। মনে রাখবেন আপনি ফেইসবুকে দুই মিনিট সময় নষ্ট করলেন সেই দুই মিনিটে যদি অন্তত দুইবার সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি বলেন, সেটা পরকালে আপনার অনেক উপকারে আসবে।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি একবার সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি পাঠ করবে, জান্নাতে তার জন্য একটি খেজুর গাছ রোপন করা হবে।
সুনানে তিরমিযী। ইমাম নাসির উদ্দীন আলবানী রাহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। দেখুন, শাইখের তাহকীকসহ শরহুল আকীদাহ আত-তাহাবীয়া, হাদীস নং- ৪৭৯।
বাজে কথা শোনা ও বলা থেকে বেঁচে থাকার জন্যে ফেইসবুকের ফ্রেন্ড লিস্ট থেকে ফাসেক, বোকা, এবং জাহিল বক্তা ও লিখকদের বাদ দিন। আর ক্বুরান ও সুন্নাহর জ্ঞানে জ্ঞানী এমন বক্তা ও লিখকদের যেমন শায়খ আদুল হামিদ মাদানী, শায়খ আব্দুর রাক্বীব মাদানী, শায়খ আব্দুল্লাহ শাহেদ আল-মাদানী এবং এমন অন্যান্য সত্যিকারের দ্বাইয়ীদেরকে ফলো করবেন। আর দ্বাইয়ী নামের জাহিল বক্তা ও লিখকদের থেকে সাবধান থাকবেন। এরা হচ্ছে বিষের মতো, তাদের কাছ থেকে যতটুকু গ্রহণ করবেন আত্মাকে ততটুকু কলুষিত করবেন।
সর্বশেষ, ফিতনাহ থেকে বাঁচার জন্যে মুমিনদের জন্যে প্রিয় নবীর গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ। যে-ব্যক্তি আল্লাহ ও বিচার দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে আর নয়তো চুপ থাকে। [সহীহ বুখারী ৫৬৭৩]

আল্লাহ আমাদেরকে বুঝার তোওফিক দান করুন, আমিন। 

মঙ্গলবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

আমার আর বাঁচতে ইচ্ছা করেনা

আমার আর বাঁচতে ইচ্ছা করেনা, মানুষের যত্তগুল ফিলিংস আছে, সম্ভবত সবচাইতে হতাশাজনক ও খারাপ ফিলিংসগুলোর একটা। এনিয়ে আমাদের পূর্বের একটা আবার শেয়ার করছিঃ
দুঃখ কষ্টে পড়লে শয়তান মানুষকে জীবন সম্পর্কে বিষিয়ে তুলে, আমার জীবনের কোন মূল্য নেই, বা আমার জীবনটা নষ্ট হয়ে গেছে এই চিন্তা-ভাবনা অন্তরে ঢুকিয়ে দেয়। এমন অবস্থায় মানুষ আল্লাহ এবং তাক্বদীর সম্পর্কে বাজে ধারণা রাখে, অনেকে হতাশ হয়ে পড়ে। এমন অবস্থায় অনেকে প্রশ্ন করেঃ
(১) আল্লাহ মানুষ কেনো বানাইলেন?
(২) আমি আর বাঁচতে চাইনা।
(৩) বেঁচে থেকে কি লাভ?
(৪) আমি মরে গেলেই ভালো হয়।
আমাদের পরকালের প্রতি বিশ্বাস থাকলে মনে রাখা প্রয়োজন, দুনিয়ার জীবন পরীক্ষা ছাড়া আর কিছুইনা। আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন শুধুমাত্র তার ইবাদত করার জন্যে। আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমে, আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলার মাধ্যমেই মানুষ সুখী হতে পারে। আর দুনিয়ার জীবনের জন্যে যেই জিনিসগুলো প্রয়োজন সেইগুলো পাওয়ার জন্যে চেষ্টা করতে হবে, আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে দুয়া ও সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে....এবং সুখে ও দুঃখে সর্ববস্থাতে ধৈর্য ধরতে হবে। যেই সমস্ত ভাই ও বোনেরা এ ব্যপারে ফিতনাহ (পরীক্ষা) বা শয়তানের ওয়াসওয়াসা (কুমন্ত্রনায়) পড়েছেন, আমি তাদেরকে বলবো আপনারা ঈমান কি, তা শিক্ষা করুন, ক্বুরান সম্পর্কে জানুন। যে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে চায়, আল্লাহ তাকে পথ দেখান। যে আল্লাহ সম্পর্কে ভুল বা বাজে ধারণা রাখে, সে দুনিয়াতে অত্যন্ত কষ্টের জীবন বহন করে। আমি দুয়া করি, আল্লাহ তাঁর সমস্ত বান্দা ও বান্দীদেরকে মাফ করুন, বিশেষ করে যারা দুঃখ-কষ্টের মাঝে আছে তাদের প্রতি রহম করুন, তাদেরকে সুন্দর ফয়সালা দান করুন, আমিন।
দুঃখ ও দুশ্চিন্তার, দারিদ্রতা ও ঋণগ্রস্থ হওয়া থেকে মুক্তির জন্য দুয়াঃ
যারা স্বচ্ছল অবস্থায় শান্তিতে আছেন, তারা যেনো কঠিন পেরেশানি, বড় বিপদ, বড় ঋণের বোঝা, মানুষের, অলসতা, অক্ষমতা, কাপুরুষতার স্বীকার না হন, সেই জন্য নিয়মিত এই দুয়া পড়া উচিৎ। আর যারা এইগুলোর স্বীকার হয়েছেন তারাও নিয়মিত এই দুয়া পড়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবেন।
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ
উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নি আঊযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়াল আজযি ওয়াল কাসালি, ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া দ্বোলাই-দ্বাইনি ওয়া গালাবাতির রিজা-ল
অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অলসতা ও অক্ষমতা থেকে, কৃপণতা ও কাপুরুষতা থেকে, ঋণের বোঝা মানুষের নির্যাতন-নিপীড়ন থেকে। [বুখারীঃ ২৮৯৩]

রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দুআটি বেশি বেশি করে পড়তেন। ফাতহুল বুখারীঃ ১১/১৭৩।  

এতো বড় হুজুর কি ভুল করতে পারে?

এতো বড় হুজুর কি ভুল করতে পারে?
___________________________
দেওবন্দী সূফী আকীদাহর অনুসারী, বাংলাদেশে সবচাইতে বড় মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল, মাওলানা আহমাদ শফি সাহেব তার ইরশাদাতে মুরশিদী বইয়ে লিখেছেনঃ
হোসাইন আহমদ মাদানীকে মদীনায় তার ছাত্ররা প্রশ্ন করলো, রাসুল (সাঃ) কি কবরে জীবিত? তিনি বললেন, আলমে মেছালীতে রাসুল (সাঃ) জীবিত, কিন্ত ছাত্ররা দলিল প্রমাণাদী পেশ করলো যে কোরআনে সূরা যুমারের ৩০নং আয়াতে বলা হয়েছে,
(হে নবী!) নিশ্চয় আপনি মৃত্যুবরণ করবেন আর তারাও মৃত্যুবরণ করবে।
মাদানী ছাত্রদেরকে বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে বুঝাতে চেষ্টা করলেন, কিন্ত তারা বুঝতে অপ্রস্তুত, এরপর মাদানী ছাত্রদেরকে নিয়ে রওযায়ে আতহারের কাছে নিয়ে গেলেন এবং হাত দিয়ে ইশারা করলেন, এই ইশারাতে রাসুল (সাঃ) রওযা (তাঁর কবর) থেকে মাথা উঠিয়ে সকলকে দেখা দিয়ে আবার মাটির নিচে লুকিয়ে গেলেন। [নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক!]
ইরশাদাতে মুরশিদী, পৃষ্ঠা ৪২।
_____________________________
মন্তব্যঃ ডাহা বানোয়াট এবং মিথ্যা একটি কাহিনী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনদিন কবর থেকে উঠে এসেছেন, ইতিহাসে এমন কোন প্রমান নেই। যে এই দাবী করে সে একজন কাজ্জাব (চরম মিথ্যাবাদী), সে একজন দাজ্জাল (মারাত্বক রকমের ধোঁকাবাজ)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা প্রচার করে তার জন্য কি প্রতিদান রয়েছে নিচের এই হাদীসে দেখুন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার উপরে মিথ্যারোপ করে, সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে নির্ধারণ করে নেয়।
সহীহ বুখারীঃ ১০৭; সহীহ মুসলিম।
_____________________________
একদিন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি আমার উম্মাতের জন্য একটি বিষয়কে দাজ্জাল এর থেকেও বেশী ভয় করি।
(একজন সাহাবী বললেন), আমি ভয় পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল, সেটি কি? তিনি বললেন, বিপথগামী এবং পথভ্রষ্ট আলেম।
মুসনাদে ইমাম আহমাদঃ ২১৬২১, তাবরানীঃ ৭৬৫৩, হাদীসটি সহীহ।
আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেনঃ
(ফিতনার যুগে) কিছু লোক এমন হবে, যারা জাহান্নামের দরজার দিকে মানুষকে দাওয়াত দিবে (অর্থাৎ তাদের দাওয়াত এমন ভ্রষ্টতাপূর্ণ হবে, যা জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে); যারা তাদের ডাকে সাড়া দিবে তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে

সহীহ বুখারীঃ হাদীস নং-৩৩৩৬, ৬৬৭৯।

সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

Huge Difference!

Huge Difference!
(১) ঢাকা শহরের ব্যস্ত একটা রাস্তা। বিকেল বেলা হেঁটে বাসায় ফিরছি। রাস্তাটা যখন ক্রস করছি তখন আমার একটু সামনেই রিকশায় বসা একটা ছেলে ও মেয়ে, মেয়েটা বোরখা+নিকাব পড়া। ছেলেটা মেয়েটার নিকাব খুলে তার মুখে চুমা দিলো। অবৈধ প্রেমে (জিনায়) লিপ্ত নারী-পুরুষ, বুঝতে কষ্ট হয়না। তবে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, এখনো রাত হয়নি, রাস্তা ভর্তি মানুষ. . .কোন লজ্জা শরম নাই। এভাবেই চলছে আজকালকার যুগের ছেলে-মেয়েদের প্রেমলীলা। এভাবেই লম্পট প্রেমিকের পাল্লায় পড়ে কলেজ-ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া মেয়েরা ইজ্জত নষ্ট করছে। সহশিক্ষার রঙ্গিন দুনিয়ায় অনেক হিজাব-নিকাবী মেয়েরাও বাঁচাতে পারছেনা সাপের মনির চাইতেও মূল্যবান সম্পদ। হয়তোবা, হাদিসের কথা অনুযায়ী ভবিষ্যতে এদের ছেলে-মেয়েরাই গাধার মতো প্রকাশ্যে জিনা-ব্যভিচারে লিপ্ত থাকবে।
(২) বছর দুয়েক আগে আমাদের গ্রামের বাড়িতে দুপুর বেলা যুহরের সালাত পড়ে বাসায় ফিরছি। আমাদের বাসার পাশেই নতুন একটা মহিলা মাদ্রাসা চালু হয়েছে, অল্প দিনেই গ্রামের বেশ কিছু মেয়ে সেখানে পড়াশোনাও শুরু করেছে। আমাদের বাসা ও মহিলা মাদ্রাসার পাশের রাস্তায় উঠলাম, ছুটি হওয়ায় বড় ক্লাসের কয়েকটা মেয়ে বাড়ী ফিরে যাচ্ছে। প্রত্যেকটা মেয়ের পা থেকে মাথা পর্যন্ত কালো বোরখা দিয়ে ঢাকা, হাত মোজা, পা মোজা। এমনকি চোখও যাতে দেখা না যায় সেইজন্যে কালো সানগ্লাসও পড়েছে। আমি খুব অবাক হলাম, সারাজীবন গ্রামে বড় হওয়া মেয়েরা এতো এডভান্স চিন্তা করে কিভাবে? যাই হোক, যখন মেয়েগুলোকে মুখোমুখি রাস্তা ক্রস করার সময় হলো, আমাকে খুব অবাক করে দিয়ে মেয়েগুলো রাস্তার একপাশ ধরে দাঁড়িয়ে গেলো। আমি আশ্চর্য হয়ে মনে মনে সুবহান আল্লাহ বললাম। কারণ, এতদিন হাদীসে পড়েছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে মহিলা সাহাবীরা রাস্তার একপাশ ধরে একেবারে মিশে মিশে হাঁটতেন, যাতে করে কোন পুরুষের সাথে গা বা স্পর্শ লেগে না যায়। এই ব্যপারটা এতোদিন শুধু হাদিসের কিতাবেই পড়েছিলাম। আজকের যুগে মেয়েদের মাঝে ব্যপারটা দেখে সত্যিই এতো চমকে উঠেছিলাম যে, আজ পর্যন্ত সেই ঘটনাটা ভুলতে পারিনি।
যাই হোক, উপরের দুইটা ঘটনা। একটা নারী-পুরুষ সহাবস্থানের সো কলড আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিফলন। আরেকটা এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখান, ক্বুরান ও হাদীস শিক্ষা দেওয়া হয়, আল্লাহর আইন মেনে জীবন পরিচালনা করতে উৎসাহিত করা হয়। দুটোর কি ফলাফল এবং কিয়ামতের দিন তাদের কি প্রতিদান হবে, আর তাদের বাবা-মায়ের কি প্রতিদান হবে, এটা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা না করলেও বুঝতে কষ্ট হয়না।
বিঃদ্রঃ ১ - আমার এই লেখার উদ্দেশ্য এই না যে, কলেজ ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া সব ছেলে-মেয়ে খারাপ, আর মাদ্রাসা পড়ুয়া সব ছেলে-মেয়ে একেবারে ধোঁয়া তুলসি পাতা। ভালো খারাপ সব জায়গাতেই আছে, এমনকি আমার ও আপনার মাঝেও ভালো ও মন্দ স্বভাব আছে। তবে ক্বুরআন-হাদীস পড়া একজন মানুষ যে ক্বুরান ও হাদীস অনুযায়ী চলতে চায়, আর যে ক্বুরান হাদীস পড়েনা, শিরকি কুফুরী মতবাদ ও দার্শনিকতা পড়া, অশ্লীলতার গল্পর নাটক ও কবিতা পড়া, সুদ ও বীমার অংক করা, দুনিয়ার জন্যে যখন তখন তার দ্বীন বিক্রি করে প্রস্তুত এমন একজন মানুষের মাঝে কিছুনা কিছু যে পার্থক্য অবশ্যই থাকবে, এটা কানার ভাই অন্ধও বুঝে। আর সেইজন্য অধিকাংশ ছেলে ও মেয়েদের অবস্থা সামান্য একটু লক্ষ্য করলে খুব সহজেই সেটা ধরা পড়ে।
বিঃদ্রঃ ২ আমার এই পোস্ট কারো অনুভূতিতে আঘাত করলে তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।

#ফাহিশাহ_নারী #দাইয়ুস #তাবাররুজ #সহশিক্ষা #হিজাব_পর্দা #জিনা #দোররা #রজম #জাহান্নাম