শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৪

কাফের মুশরেকদের বিয়ে করা হারাম




প্লিজ লেখাটা সবাই পড়ুন ও শেয়ার করুনঃ কিভাবে মুসলমান কাফের হয়ে যাচ্ছে…

কেয়ামতের আগে এমন হবে, অনেকে সকাল বেলায় ঈমানদার থাকবে কিন্তু সন্ধ্যা সময় কফের হয়ে যাবে। আবার অনেকে সন্ধ্যা বেলায় ঈমানদার থাকবে ঠিকই, কিন্তু সকাল হতে না হতেই সে কাফের হয়ে যাবে। সে দুনিয়ার ধোকা বা লোভে পড়ে, অথবা বিভিন্ন ফেতনা ফাসাদে পড়ে শিরকি কুফুরীতে লিপ্ত হয়ে কাফের মুর্তাদ হয়ে চিরজাহান্নামী হবে, লা হা’উলা ওয়াকা ক্বুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ।

এক ভাই মেসেজ করে বললেনঃ
মুসলিম ঘরের এক মেয়ে নাকি এক মুশরেক ছেলেকে বিয়ে করতে যাচ্ছে…

নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক। এই কাজ সম্পূর্ণ হারাম। এই মেয়ের যদি আল্লাহ ও তার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি তিল পরিমান বিশ্বাস থাকে, ঈমানদার মুসলিম হিসবে মৃত্যুবরণ করতে চায়, তাহলে অনুরোধ করবো নিচের লেখাটা মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য।
শুধু পড়ার জন্যইনা, বরং এর ভয়াবহতা অনুধাবন করে, এইরকম ঘৃণ্য পাপাচার থেকে তোওবা করে – এই বিয়ে ভেঙ্গে দিতে। অতীত যুগের ঈমানদারদেরকে ঈমান ধরে রাখার জন্য আগুনে পোড়ানো হতো, লোহার চিরুনি দিয়ে গায়ের গোশত আচড়ানো হতো, মাথা থেকে পা পর্যন্ত করাত দিয়ে কেটে দুই টুকরো করা হতো – আর ঈমান রক্ষার জন্য একটা হিন্দু ছেলেকে তুমি ছাড়তো পারোনা?
কত বড় ঈমানদার তুমি, নিজেকে নিজেই একবার প্রশ্ন করে দেখো?

২-৩ মাস আগেও একবোন মেসেজ করে বলেছিলেন, তার পরিচিত এক মেয়ে এক কাফেরকে বিয়ে করেছে – কাজী অফিসে মিথ্যা কথা বলে যে, ছেলে মুসলিম। তার অপদার্থ বাবা-মা জেনেশুনে এইগুলো মেনে নিয়েছে। এরাই হচ্ছে মূল নষ্টের মূল, সন্তানদেরকে খোলামেলা ছেড়ে দেয় জেনা-ব্যভিচারে জন্য। কেয়ামতের দিন এদের সন্তানদেরকে জাহান্নামে দেওয়ার আগে এদেরকেও জাহান্নামে দেওয়া হবে।
___________________________

আজকাল পথভ্রষ্ট কিছু তরুণ তরুণী অবৈধ প্রেম ভালোবাসা ও জিনা ব্যভিচারের সম্পর্ক থাকার কারণে কাফের, মুশরেক, মূর্তিপূজারী, হিন্দুদের বিয়ে করছে, অথবা সামনে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখছে!

এমন আমি নিজে জানি, একটা ছেলে এক হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করে, দুইজন আলাদা আলাদা ধর্মে থাকা অবস্থাতেই! ছেলেটার পরিবার এই সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় ছেলেটা দীর্ঘদিন তার বাবা-মার সাথে যোগাযোগ বন্ধ রাখে ও তার পরিবারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে (অবশ্য ছেলেটা নামাযী, মুসলিম ছিলো কিনা জানা নাই। বর্তমানে সেকি আদৌ তার পরিবারে ফিরে এসেছিলো কিনা জানা নাই)।. উল্লেখ্য ছেলেটা জাফর ইকবালের ছাত্র এবং অন্তরে “জাফর ইকবালের চেতনা ও আদর্শ” লালন করত।

আরেকটা আধা হিজাবী (মাথায় ছোট্ট একটা রুমাল বাধা) মেয়ে হিন্দু ক্লাসমেট প্রেমিকের হাত ধরে বাসা থেকে বেড়িয়ে যায় (অবশ্য, মেয়েটা নামাযী ছিলো কিনা জানা নাই)।
কাফের দেশ সমূহে বসবাস করা অনেক পরিবার ছেলে-মেয়েদেরকে কাফেরদের স্কুলে পাঠায়, সেখানে কাফেরদের ছেলে-মেয়েদের সাথে তাদের সম্পর্ক হয়। এভাবে তারা কাফেরদের সংস্কৃতি ও ধর্মে বড় হয়ে উঠে। একসময় এরা জেনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। মুসলিম ঘরের কতযে মেয়ে কাফেরদের হাত ধরে ঘর থেকে বেড়িয়ে যায়, বিয়ে ছাড়াই তাদের বাচ্চা পেটে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়…

ধিক তোমাদেরকে, ধিক নিকৃষ্ট তোমাদের এই জীবন!
নিজেদেরই ঈমান আছে কিনা সন্দেহ…
বিয়ে করছো একজন কাফের, মূর্তি পূজারীকে?

বাংলাদেশর কুফুরী আইনে এই বিয়ে জায়েজ হলেও আল্লাহর কাছে এই বিয়ে সম্পূর্ণ নাজায়েজ, হারাম।

কোন মুসলিম যদি কোন কাফের/মুশরেক নারী বা পুরুষকে বিয়ে করে, এই বিয়ে কুরান, সুন্নাহ ও সমস্ত আলেমদের ঐক্যমতে হারাম। এই বিয়ের ফলে কোন প্রকার স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক সাব্যস্ত হবেনা। কোন মুসলমান যদি এই বিয়েকে সমর্থন করে, এইগুলো ঠিক মনে করে, যার যার ব্যক্তিগত অধিকার মনে করে, তাহলে কুরান ও সুন্নাহকে অস্বীকার করার কারণে সে নিজেই কাফের ও মুর্তাদ হয়ে যাবে।

বাংলাদেশ, ভারত ইত্যাদি গণতান্ত্রিক, ইসলাম বিরোধী আইন-আদালতের দেশসমূহে এই বিয়ের লাইসেন্স দিলেও, এমনকি (কুফুরী) জাতিসংঘ থেকেও সার্টিফিকেট নিয়ে আসলেও এই বিয়ে কস্মিনকালেও কবুল হবেনা।

এইভাবে অবৈধ বিয়ে করে নারী পুরুষ যতবার মিলিত হবে, প্রত্যেকবার ফেরেশতারা তাদের আমলনামায় জেনা-ব্যভিচারের পাপ লিখে রাখবেন।

এটা পরিষ্কার জেনা, এর ফলে জন্ম নেওয়া সন্তান হবে জারজ !!

এভাবে অবৈধ বিয়ে করে নারী পুরুষ মিলিত হয়ে যে বাচ্চা জন্ম নেবে – এই বাচ্চাগুলো অবৈধ এবং জারজ। এমনকি, জেনা-ব্যভিচারের ফলে বাচ্চা মায়ের পেটে আসার পরে যদি বিয়ে করে অথবা কাফের মুসলিমও হয়ে যায়, তবুও ঐ সন্তানটা “ইসলামী শরিয়াহ” মোতাবেক হারাম বলেই গণ্য হবে। অনেকে গালি দেয় “হারামজাদা” বলে। হারাম মানে নিষিদ্ধ, জাদা মানে সন্তান। এই বিয়ের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানগুলোকে উর্দুতে “হারামজাদা” বলা হয়, বাংলায় বলা হয় জারজ সন্তান, ইংরেজীতে বলা হয়…
যদিও আমাদের দেশে “হারামজাদা” বলে মানুষকে গালি দেওয়া হয়, এটা অন্যায়। কেউ যদি আসলে হারাম সন্তান না হয়ে থাকে, তাহলে তাকে হারামজাদা বলা – মারাত্মক অপরাধ। এটা একদিকে খারাপ ও অন্যায় একটা গালি, তার উপর তার পিতা-মাতার উপর জেনার মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়। আর কারো বাবা-মা যদি আসলেই খারাপ কাজ করে থাকে তবুও তার বাবা-মায়ের পাপের জন্য অন্যায়ভাবে তাদের সন্তানকে অপমান করতে ইসলাম আমাদের অনুমতি দেয়না।

কুরান থেকে দলীল, কাফের ও মুশরেকদের বিয়ে করা হারামঃ
মহান আল্লাহ বলেন:
“আর তোমরা মুশরেক নারীদেরকে বিয়ে করোনা, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে। অবশ্যই মুসলমান দাসী মুশরেক স্বাধীন নারী অপেক্ষা উত্তম, যদিও তাদেরকে তোমাদের কাছে ভালো লাগে। এবং তোমরা (নারীরা) কোন মুশরেকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ো না, যে পর্যন্ত সে ঈমান না আনে। একজন মুসলমান দাসও একজন স্বাধীন মুশরেকের তুলনায় অনেক ভাল, যদিও তোমরা তাদের দেখে মোহিত হও। তারা তোমাদেরকে দোযখের দিকে আহ্বান করে, আর আল্লাহ নিজের হুকুমের মাধ্যমে আহ্বান করেন জান্নাত ও ক্ষমার দিকে। আর তিনি মানুষকে নিজের নির্দেশ বলে দেন যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে”।
সুরা আল-বাকারাহ: ২২১।

বিঃদ্রঃ মুসলমান পুরুষেরা আহলে কিতাবীদের কোনো ধার্মিক ও চরিত্রবান সতী (ইয়াহুদী অথবা খ্রীস্টান) নারীকে বিয়ে করতে পারবে, আল্লাহ এটা হালাল করেছেন। কিন্তু কোনো মুসলমান নারী কোনো অবস্থাতেই ইয়াহুদী বা খ্রীস্টান পুরুষকে বিয়ে করতে পারবেনা।
এটা আল্লাহর বিধান, একজন ঈমানদার হিসেবে আমাদের মনে রাখতে হবে আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী – তিনি আমাদের জন্য সর্বোত্তম বিধান দিয়েছেন – তাতে তিল পরিমাণ সন্দেহ নাই। বিষয়টা আমরা বুঝি বা বুঝি, আমাদের ভালো লাগুক বা না লাগুক। এই কথার দলীল হচ্ছে
“তোমাদের (মুসলমান পুরুষদের) জন্যে হালাল সতী-সাধ্বী মুসলমান নারী এবং তাদের সতী-সাধ্বী নারী, যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তোমাদের পূর্বে, যখন তোমরা তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর তাদেরকে স্ত্রী করার জন্যে, কামবাসনা চরিতার্থ করার জন্যে কিংবা গুপ্ত প্রেমে লিপ্ত হওয়ার জন্যে নয়। যে ব্যক্তি বিশ্বাসের বিষয় অবিশ্বাস করে, তার শ্রম বিফলে যাবে এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে”।
সুরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ৫।

ইয়াহুদী ও খ্রীস্টান ছাড়া সমস্ত হিন্দু, কাফের, মুশরেক, বেদ্বীন নারীকে বিয়ে করা একজন ঈমানদার পুরুষের জন্য সম্পূর্ণ হারাম।

আর কোনো ঈমানদার নারীর জন্য বৈধ নয় কোনো কাফেরকে বিয়ে করা, চাই সে আহলে কিতাব বা অন্য যেকোনো ধর্মের হোক।

এইরকম বিবাহে যারা আবদ্ধ আছে তারা কি করবে?
উত্তরঃ আজকে এই মুহূর্ত থেকে তাদের আলাদা হয়ে যাওয়া ফরয। ছেলে-মেয়েগুলো মুসলিম নারী বা পুরুষের বলেই গণ্য হবে। ছেলে বা মেয়ে যদি সত্যিকারের ঈমান এনে মুসলিম হয়ে থাকে তাহলে উভয়ে আন্তরিক তোওবা করে মুসলিম মেয়ের বাবা/ওয়ালীর অনুমতি সাপেক্ষে বিয়ে করতে পারবে। আর মেয়ে যদি কাফের থেকে মুসলিম হয়, তাহলে তার কাফের বাবা তার ওয়ালী হবেনা, কোন মুসলিম তার ওয়ালী হবে। উল্লেখ্য শুধু সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য মুখে ঈমান আনলে সেই ঈমান কবুল হবেনা। অনেকে নারী আছে আসলে নারী পূজারী, আর অনেক নারী আছে আসলে পুরুষ পূজারী। এরা প্রেমিক বা প্রেমিকের জন্য এমন কোনো খারাপ কাজ নেই যে করতে পারেনা, এমনকি বাপ-দাদার ধর্মও ছাড়তে পারে। এইরকম লোকদেখানো ঈমান আনলে তাকে কোনো মুসলিম নারী বা পুরুষ বিয়ে করতে পারবেনা। ডা. জাকির নায়েকের অনুষ্ঠানে যেমন দেখা যায়, পাক্কা ঈমান সহকারে মুসলিম হয়, নামায পড়ে ইসলামের বিধি বিধান মেনে চলে, শুধুমাত্র তখনই তাকে বিয়ে করা জায়েজ হতে পারে।
___________________________

সর্বশেষঃ জেনা ব্যভিচারের শাস্তি কি?
বিবাহিত জেনাকারী ও জেনাকারিনীদের দুনিয়াবী শাস্তিঃ
বিবাহিত নারী বা পুরুষ যদি জিনার অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, আর তা ইসলামী বিচারালয়ে প্রমানিত হয় অথবা সে চারবার নিজে থেকেই স্বীকারোক্তি দেয় (শাস্তি মাথে পেতে নেওয়ার জন্য) – (২টার যেকোনো একটা হলেই শাস্তি প্রযোজ্য হবে) তাহলে তার শাস্তি হচ্ছে তাকে "রজম" বা পাথর ছুঁড়ে হত্যা করা হবেঃ
জাবির বিন আব্দুল্লাহ আল আনসারি (রাঃ) হতে বর্ণিত:
বনি আসলাম গোত্রের এক লোক রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে এসে জানালো যে সে জিনা করেছে এবং নিজের বিরূদ্ধে চার বার সাক্ষ্য দিল। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাকে "রজম" বা প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুর নির্দেশ দিলেন, কারণ সে বিবাহিত ছিল।
সহীহ বুখারি ভলিউম ৮, বুক ৮২, নম্বর ৮০৫।
রজম প্রয়োগের এই ঘটনাটি বুখারির ৮টা, মুসলিমের ৯টা, আবু দাউদের ৪টা, মুয়াত্তা ইমাম মালিকের ২ টা সহ মোট ২৩ টা সহীহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
বিঃদ্রঃ জেনাকারী নারী বা পুরুষের এমন ধারণা পোষণ করা মোটেই ঠিকনা, আমাদের দেশে এই নিয়ম নাই - তাই আপাতত কিছু আনন্দ করে নেয়া যাক।
দুনিয়াতে শাস্তি না হলে পরকালের শাস্তি আরো ভয়ংকর। জাহান্নামের আগুনের কড়াইয়ে পুড়া কি ভয়ংকর হতে পারে? ৫ মিনিট চুলার আগুনে ছোট্ট একটা আঙ্গুল দিয়েই দেখতে পারেন সহ্য করতে পারেন কিনা?
কি কঠিন অবস্থা হবে আগুনের কড়াইয়ে যখন উলংগ করে পুড়ানো হবে যার আগুন দুনিয়ার আগুনের ৭০ গুণ আর যেই আগুন কখনো কমবেনা, না শাস্তি কমানো হবে! (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)
যিনাকারীদের পরকালীন শাস্তিঃ
রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ “আমি স্বপ্নে একটি চুলা দেখতে পেলাম যার উপরের অংশ ছিল চাপা আর নিচের অংশ ছিল প্রশস্ত আর সেখানে আগুন উত্তপ্ত হচ্ছিল, ভিতরে নারী পুরুষরা চিল্লাচিল্লি করছিল। আগুনের শিখা উপরে আসলে তারা উপরে উঠছে, আবার আগুন স্তিমিত হলে তারা নিচে যাচ্ছিল, সর্বদা তাদের এ অবস্থা চলছিল, আমি জিবরীল আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলামঃ এরা কারা? জিবরীল আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললঃ তারা হল, অবৈধ যৌনচারকারী নারী ও পুরুষ।

সহীহ আল-বুখারী।

সিজদা সাহু করার সঠিক নিয়ম



সিজদা সাহু করার সঠিক নিয়মঃ ভুল দিয়ে কি ভুল সংশোধন করা যায়?

আমাদের দেশে প্রচলিত অনেক কিছুই যেমন ইমান-আকীদা, নামায, রোযা, হজ্জ যাকাত ইত্যাদি অনেক কিছুর সাথে কুরান ও সুন্নাহর বিপরীত কাজ দেখতে পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “প্রচার করো, একটি মাত্র আয়াত হলেও”।
যেখানে একটি মাত্র আয়াত জানলেও তা প্রচার করতে বলা হয়েছে, আর সেখানে এতো ভুল আর বেদাত দেখে চুপ করে থাকা সমীচিন বলে মনে করছিনা।
তাই, যারা সঠিক ইসলাম জানতে আগ্রহী তাদেরকে বলছি, আপনারা আমাদের পোস্টগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়বেন আর কুরআন, সহীহ হাদীস ও সত্যিকারের আলেমদের সাথে যাচাই করে দেখুন, সত্যি-মিথ্যা যাচাই বাছাই করে – যেটা হক্ক সেটা মেনে নিন।

আজকে সাজদা সাহুর সঠিক নিয়ম বর্ণনা করা হলো।
_______________________________________

সিজদা সাহু সালাম ফেরানোর আগে ও পরে দুইভাবেই করা যায়। তবে আমাদের দেশে বহুল প্রচলিত মকসুদুল মুমিনীণ নামক বেদাতী বইয়ের সাজদা সাহুর নিয়ম ঠিক নয়।

আমাদের দেশে প্রচলিত ভুল নিয়মঃ
শেষ বৈঠকে শুধু আত্তাহিয়্যাতু পড়ে, শুধু ডান দিকে একবার সালাম ফিরিয়ে দুইটা সিজদা দিয়ে আবার আত্তাহিয়্যাতু দুরুদ পড়ে সালাম ফিরানোর নিয়ম - এটা ঠিকনা, কোন সহীহ হাদীসে সেজাদা সাহু এমন আসেনাই। কারো ক্ষমতা থাকলে এইরকমঃ “আত্তাহিয়্যাতু পড়ে শুধুমাত্র ডান দিকে সালাম ফিরিয়ে সিজদা সাহু দেওয়ার” পক্ষে সহীহ হাদীস থেকে দলীল পেশ করুন।

সিজদা সাহু করার সঠিক নিয়ম হচ্ছে - “সালাতে কম বেশি যাই হোক, আত্তাহিয়্যাতু, দরুদ, দুয়া মাসুরা পড়ে তাকবীর দিয়ে পর পর দুটি সিজদাহ দিয়ে সালাম ফিরিয়ে সালাত শেষ করতে হবে।”
বুখারী ও মুসলিম, মিশকাত সালাত অধ্যায় সাহো অনুচ্ছেদ, ১১৮ নাম্বার হাদীস।

অথবা, “সালাতে কম বেশি যাই হোক, সালামের ফেরানোর আগে বা পরে দুইটি (অতিরিক্ত) সাহু সিজদা দিতে হবে।”
সহীহ মুসলিম, নাওয়াতুল আওতার ৩/৪১১।

অর্থাৎ দুইটাই জায়েজ, সালামের আগে বা পরে দুইটা অতিরিক্ত সিজদা দেওয়া।

সালাম ফেরানোর আগে সিজদা সাহু যেভাবে করবেনঃ
সিজদা সাহু দেওয়া ওয়াজিব হয় এমন কোন ভুল করলে, শেষ বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু, দুরুদ, দুয়া মাসুরা পরে আল্লাহু আকবার বলে দুইটি সিজদা সাহু দেবেন। দুই সিজদার মাঝখানে বা সিজদাতে তাসসবীহর পরে দুয়া করতে পারবেন। ২টা অতিরিক্ত সিজদা দিয়ে আর কিছু পড়তে হবেনা, ডানে ও বামে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করবেন।

সালাম ফেরানোর আগে সিজদা সাহু যেভাবে করবেনঃ
সিজদা সাহু দেওয়া ওয়াজিব হয় এমন কোন ভুল করলে, শেষ বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু, দুরুদ, দুয়া মাসুরা পরে ডানে ও বামে দুইদিকে সালাম ফেরাবেন। এরপরে আল্লাহু আকবার বলে দুইটি সিজদা সাহু দেবেন। দুই সিজদার মাঝখানে বা সিজদাতে তাসসবীহর পরে দুয়া করতে পারবেন। ২টা অতিরিক্ত সিজদা দিয়ে আর কিছু পড়তে হবেনা, আবার ডানে ও বামে দুইদিকেই সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করবেন।

তবে আমার কাছে আত্তাহিয়্যাতু ও দরুদ, দুয়া মাসুরা পড়ে দুইটা সিজদাহ সাহু দিয়ে সবার শেষে একবারে সালাম ফিরানোকেই সহজ মনে হয়, কারো ইচ্ছা হলে এমন বা অন্য নিয়মেও করতে পারেন। কিন্তু আত্তাহিয়্যাতু পড়ে একপাশে সালাম ফিরিয়ে আবার তাশাহুদ পড়ার কোনো সহীহ হাদীস নেই।

“এক পাশে সালাম ফিরানো বেদাত” – বলেছেন হানাফী বড় আলেম ইবনুল হুমাম আল-হানাফী (ফতহুল কাদীর ১/২২২ পৃষ্ঠা)।

সিজদা সাহু যে কারণে দিতে হয়ঃ

খুব কমন যে ভুলগুলো আমরা নামাযের মধ্যে করি সেগুলো ও সিজদা সাহু করার সঠিক নিয়ম বর্ণনা করা হলো –

সিজদা সাহু করার সঠিক নিয়মঃ আপনি ২ রাকাত বা ৪ রাকাতের শেষ বৈঠকে বসবেন। আত্তাহিয়্যাতু পড়ে দুরুদ শরীফ, দুয়া মাসুরা পড়বেন। এর পর কোনো সালাম না ফিরিয়ে আপনি অতিরিক্ত দুইটা সিজদা দিবেন, প্রত্যেকবার তাকবীর দিবেন সিজদার সময়ে আর, সিজদার তাসবীহ সুবহা’না রাব্বিয়াল আ’লা পড়বেন। পরে দুইদিকে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করবেন।
 
১. ৪ রাকাত নামাযের ১ম বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু না পড়েই দাঁড়িয়ে গেলে কি করবেন?
উত্তরঃ দাড়াতে যাচ্ছেন কিন্তু দাড়ান নি, তাহলে আর দাড়াবেন না, বসেই যাবেন। আত্তাহিয়্যতু পড়ে বাকি নামায পুরা করবেন, কোন সিজদা সাহু দেওয়া লাগবেনা। কিন্তু, দাঁড়িয়ে গেলে আর বসবেন না, বাকি নামায শেষ করে উপরে যেই নিয়মে সিজদা সাহু দিতে বলা হয়েছে সেইভাবে সিজদা সাহু দিয়ে নামায শেষ করবেন।

২. ৪ রাকাত নামাযে ২ রাকাত শেষে সালাম ফিরিয়ে ফেললেন। এমন অবস্থায় আবার দাঁড়িয়ে যাবেন, বাকি দুই রাকাত পূর্ণ করে শেষে সিজদা সাহু দিবেন। এমনকি কেউ যদি উঠে অন্য কোথাও চলে যায় মাঝখানে কথাও বলে তবুও সে ২ রাকাত পড়ে শেষে ২টি সিজদা সাহু দিয়ে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করবেন, নতুন করে ৪ রাকাত আবার পড়তে হবেনা। অনুরূপ ১ রাকাত বা ৩ রাকাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে ফেললেও বাকি ১ রাকাত পড়ে শেষ সেজদা সাহু দিবেন।

৩. ২ বা ৪ রাকাত নামাযে কেউ যদি ভুলে অতিরিক্ত ৩য় বা ৫ম রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যায় তাহলে কি করতে হবে?
উত্তরঃ অতিরিক্ত রাকাত পড়ার আগেই বুঝতে পারে বা রাকাত চলা অবস্থায় মনে পড়ে তাহলে রাকাত পূরণ না করেই বসে যেতে হবে, ইচ্ছা করে অতিরিক্ত ১ রাকাত পড়লে নামায ভেঙ্গে যাবে। বসে তাশাহুদ, দুরুদ, দুয়া মাসুরা পড়ে ২টা অতিরিক্ত সিজদা সাহু দিবেন, প্রত্যেক সিজদায় যাওয়ার আগে ও পরে স্বভাবিক নিয়মে "আল্লাহু আকবার" বলে তাকবীর দিবে। ২টা সিজদা সাহু দিয়ে আবার আত্তাহিয়্যাতু বা অন্য কিছু পড়তে হবেনা। কোনো দুয়া না পড়ে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করবেন।

আর অতিরিক্ত রাকাত পড়ার পরে কিন্তু সালাম ফেরানোর আগে মনে হলে একই নিয়মে ২টা সিজদা সাহু দেবেন। আর যদি সালাম ফেরানোর পরে, এমনকি মাঝখানে অন্য কাজ বা কথা বলার পরে মনে পড়ে তাহলে যখনই মনে হবে তখন ওযু অবস্থায় কিবলামুখী হয়ে সরাসরি আল্লাহু আকবার বলে ২টা সিজদা দিবেন, ২টা সিজদা সাহু দিয়ে ডানে বামে সালাম ফেরাবেন, আগে বা পরে কোনো কিছু পড়তে হবেনা।

৪. রুকু দুইবার বা সিজদা তিনবার করে ফেললেন। বাকি নামায পূর্ণ করে শেষে সিজদা সাহু দিবেন।

৫. কোনো এক রাকাতে রুকু, সিজদায় উলটা পাল্টা করলেন অর্থাত দিলেন না, বা সুরা ফাতেহা পড়েন নাই। এইগুলো নামাযের রুকন, এইগুলো ছাড়া এক রাকাত হয় না। এইরকম কোনো রুকন ছুটে গেলে ঐ রাকাত নামাযের মধ্যে গণ্য হয়না। এইজন্য আপনি পুরো নামায বাদ দিবেন না। ধরুন ৪ রাকাত পড়ছেন, তাহলে বাকিগুলো ঠিক থাকবে, আপনি চতুর্থ রাকাতের বৈঠকের পর সালাম না ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে যাবেন, এক রাকাত অতিরিক্ত পড়ে শেষ বৈঠক করে সিজদা সাহু দিবেন।

৬. নামায ২ রাকাত না ৩ রাকাত পড়া হলো সেটা নিয়ে বা কোনো কিছু একটা করেছেন কিনা সন্দেহ দেখ দিলে প্রথম দ্রুত সিদ্ধান্ত নিবেন কোনটা আপনার কাছে বেশি মনে হচ্ছে, ২ রাকাত না ৩ রাকাত। যেটা মনে বেশি জোরালো হবে সেটাকেই ধরবেন আর অন্যটার চিন্তা মাথা থেকে বাদ দিবেন। আপনি এইভাবে নামায পূর্ণ করবেন আর শেষে সিজদা সাহু দিবেন। আর যদি ২ রাকাত না ৩ রাকাত কোনোটার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে না পারেন, তাহলে কম রাকাত অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে ২ রাকাত ধরে নামায পূর্ণ করবেন আর শেষে সিজদা সাহু দিবেন।

৭. ১ম/৩য় রাকাতে যদি না দাঁড়িয়ে বসে যান তাহলে কি করবেন?
উত্তরঃ কিছুইনা - মনে হলে দাড়িয়ে যাবেন, বাকি নামায শেষ করবেন কোন সাহু সিজদা লাগবেনা। আর যদি বৈঠক করে ফেলেন অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতু পড়া শেষ তাহলে শেষ বৈঠকে সিজদা সাহু দেবেন। উল্লেখ্য, ১ম ও ৩ইয় রাকাতের ২ সিজদার পরে উঠার আগে সরাসরি না উঠে একটু বসে পরে উঠা সুন্নত - একে প্রশান্তির বৈঠক বলা হয়।

***আমি চেষ্টা করেছি সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, অন্য হাদীসে কিতাব ও ফিকহের কিতাব যেমন নায়লুল আওতার, ফাতওয়া আরকানুল ইসলাম, নামাযের উপর বই থেকে সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলার জন্য। কারো বুঝতে সমস্যা হলে, তাহলে এই পোস্ট নিয়ে সন্দেহের মাঝে পড়বেন না, আগে যা করতেন তাই করবেন, নতুনটা করতে গিয়ে বিপদে পড়বেন না। সঠিক না জানা বা বুঝতে সমস্যা হলে কেউ যদি অনিচ্ছাকৃভাবে ভুলভাবে করতে বাধ্য হন, ইন শা’ আল্লাহ তাতে কোন দোষ হবেনা।  

বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৪

শিরক থেকে বাঁচার উপায় কি?




শিরক থেকে বাঁচার উপায় কি?

১. ই’লম বা দ্বীনি জ্ঞান অর্জনঃ
এই কাজটা প্রত্যেক মুসলমান নর ও নারীর উপর ফরয। আল্লাহর আসমা ও সিফাত, এইগুলোর সঠিক অর্থ ও ব্যখ্যা, তাওহীদ কি ও তাওহীদ কতপ্রকার, শিরক কি, শিরক কত প্রকার, কোন কাজগুলো শিরক, এইগুলো কেনো শিরক, কুরআন ও সহীহ হাদীসের উপর ভিত্তি করে দলীল কি – এসম্পর্কে বিস্তারিত জানা থাকলে আপনি শিরককে চিনতে পারবেন ও এইগুলো থেকে বেঁচে থাকতে পারবেন ইন শা’ আল্লাহ। বিশেষ করে আকীদাহ সম্পর্কে ভালো পড়াশোনা থাকা প্রত্যেকটা মুসলমানের জন্য জরুরী। নিচের এই তিনটা বই সংগ্রহ করে অবশ্যই পড়বেন ও আলেমদের কাছ থেকে এইগুলো ব্যখ্যা জেনে নেবেন।

#ঈমান_আকীদাঃ

তাওহীদ, শিরকসহ ঈমানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানার জন্য অবশ্যই এই বইগুলো বারবার পড়বেন।

ক. বইয়ের নামঃ “আকীদাহ আত-তাহাবীয়া”
এই বইটাতে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আকীদাহ সংক্ষেপে বলা হয়েছে। ইসলামী আকীদাহ সম্পর্কে জানার জন্য খুব সুন্দর ছোট একটি বই।
আহসান পাবলিকেশান। দাম – ১৫টাকা।

http://www.islamhouse.com/65739/bn/bn/books/আল_আকীদা_আত-তাহাবিয়া

খ. বইয়ের নামঃ “কিতাব আত-তাওহীদের ব্যাখ্যা”
মূল - শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওহহাব (রহঃ)
ব্যখ্যাঃ শায়খ সালিহ বিন আব্দুল আজীজ ও শায়খ মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহীম (রহঃ), তাওহীদ পাবলিকেশান/দারুস সালাম পাবলিকেশান, দাম – ১৫০টাকা।
এই বইটা পড়ে সবচাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাওহীদ ও শিরক সম্পর্কে জানতে পারবেন।
   
http://islamhousebd.wordpress.com/kitabut-tawhid/

গ. বইয়ের নামঃ “সহীহ আকীদার মানদন্ডে তাবলিগী নিসাব”
মুরাদ বিন আমজাদ, তাওহীদ পাবলিকেশান। দাম – ১৫০ টাকা।

প্রচলিত তাবলীগ জামাত ও ফাযায়েলে আমল বইয়ের মাঝে শিরক বেদাত নিয়ে দলীল ভিত্তিক সুন্দর আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও এই বইটা পড়লে প্রচলিত অনেক শিরক, বেদাত ও জাল হাদী সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানতে পারবেন। কেনো এইগুলো শিরক বেদাত সুন্দরভাবে ব্যখ্যা করা হয়েছে।

http://islamhousebd.wordpress.com/2013/08/31/সহীহ-আক্বীদার-মানদন্ডে-ত/

_______________________
  
২. দুয়া করাঃ
ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত কুফুরী ও শিরক বেঁচে থাকার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হয়। এনিয়ে দুয়া মাসুরা আছে, সালাম ফেরানোর পরে দুয়া আছে, হিসনুল মুসলিম বই থেকে দেখে নেবেন।
ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় যেকোনো শিরক থেকে বাঁচার গুরুত্বপূর্ণ একটা দুয়াঃ
কেউ ৪০ বছর আল্লাহর ইবাদত করলো, কতযে নফল সুন্নত নামায পড়লো, রোযা রাখলো - কিন্তু মরণের আগে শিরক করে তোওবা না করেই মারা গেলো... একটা মাত্র শিরক তার সমস্ত আমল নষ্ট করে দেবে (নাউযুবিল্লাহ)!
কেয়ামতের দিন তার আমলগুলোর কোনো ওযন আল্লাহ তাকে দেবেন না, এইগুলোকে ধূলো বালিতে রূপান্তরিত করে দেবেন।
আর জেনে হোক বা না জেনেই হোক যেকেউ, যেকোনো সময় শিরকে লিপ্ত হতে পারে, যে যত বড় নেককারই হোক না কেনো (মা যা' আল্লাহ)।
এইজন্য শিরক করা অথবা অনিচ্ছায় শিরকে লিপ্ত হওয়া থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হয়।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) শেখানো একটা দুয়া আছে, কেউ যদি প্রতিদিন সকাল বিকাল একবার করে পড়েন, তাহলে আশা করা যায় আল্লাহ তাকে শিরক থেকে হেফাজত করবেন।
আপনি কি জানেন, সেই দুয়াটা কি?  
দুয়াটা হচ্ছেঃ

اللَّهُمَّ  إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لاَ أَعْلَمُ

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ’উযুবিকা আন উশরিকা বিকা ওয়া আনা আ’লাম, ওয়া আস-তাগফিরুকা লিমা লা আ’লাম।
অনুবাদঃ হে আল্লাহ! আমার জানা অবস্থায় তোমার সাথে শিরক করা থেকে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আর আমার অজানা অবস্থায় কোনো শিরক হয়ে গেলে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
আহমাদ ৪/৪০৩, হাদীসটি সহীহ, সহীহ আল-জামে ৩/২৩৩।
হিসনুল মুসলিমঃ পৃষ্ঠা ২৪৬।
______________________

৩. রাতের বেলা ঘুমানোর আগে একবার “সুরা কাফিরুন” পড়াঃ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
“এই সুরাটিতে (ক্বুল ইয়া আয়্যুহাল কাফিরুন বা সুরা কাফিরুন) শিরক থেকে বাঁচার শিক্ষা রয়েছে।”
আবু দাউদঃ ৫০৫৫, তিরমিযী, আহমাদ, ইমাম ইবেন হাজার আসকালানী ও শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
১০০০ সুন্নত, পৃষ্ঠা – ১৬০।
__________________________

উপরের বইগুলো ঢাকার কাটাবনে ইসলামী বইয়ের দোকানগুলোতে পাবেন। এছাড়া তাওহীদ পাবলিকেশানের দোকানগুলোতে পাবেন। বাসায় কুরিয়ারে বা ঢাকার বাইরে কেউ পাওয়ার জন্য এইখানে ফোনে যোগাযোগ করতে পারেন।

তাওহীদ পাবলিকেশন্সঃ
যোগাযোগঃ ৯০ হাজী আব্দুল্লাহ সরকার লেন, বংশাল, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ ৭১১২৭৬২, ০১১৯০৩৬৮২৭২, ০১৭১১৬৪৬৩৯৬, ০১৯১৯৬৪৬৩৯৬, ০১৭৫১৭০৪৮৪৮।

বুধবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৪

আল্লাহর কোন সৃষ্টিই বেপর্দা নয়



এই লেখাটা রাজশাহী থেকে দ্বীনি এক বোন লিখে পাঠিয়েছেন। সমস্ত দ্বীনি বোন যারা হিজাব-পর্দাকে ভালোবাসেন না, অথবা আধুনিক হিজাব পর্দার ধোঁকায় পড়ে আছেন, তাদের সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি...
_____________________________

আল্লাহর কোন সৃষ্টিই বেপর্দা নয়। পৃথিবী থেকে শুরু করে পৃথিবীর সকল সৃষ্টির জন্য আল্লাহু পর্দার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। যেমন-পৃথিবীর পর্দা নীল আকাশ; নদ-নদী, সাগর-মহাসাগর এর মাঝে যা কিছু আছে তা্দেরও আল্লাহু পর্দার মধ্যে রেখেছেন পানির পর্দা দিয়ে।এমন কোন ফল নেই যে ফলের পর্দা নেই। এভাবে গোটা সৃষ্টিই রয়েছে পর্দায় পরিবৃত।আল্লাহুর সৃষ্টির সেরা জীব, আল্লাহুর প্রিয় জিনিস মানুষ সে কি করে পর্দার বিধানের বাহিরে থাকতে পারে?

আল্লাহু চোখের পর্দা, শ্রবণ শক্তির পর্দা, বিবেকের পর্দা, ভাল-মন্দ পরখ করার জ্ঞানের পর্দার ব্যবস্থা আমাদের মধ্যে সৃষ্টি করে রেখেছেন। নারীর জন্য সে ব্যবস্থা তিনি সুস্পষ্ট নির্দেশনাও দিয়েছেন।
আল্লাহু রাব্বুল আলামীন সূরা আহযাবের ৫৯ আয়াতে এরশাদ করেছেনঃ

“হে নবী ! আপনি আপনার স্ত্রীগনকে, কন্যাগনকে ও মুমিন মহিলাগনকে বলে দিন, তারা যেন উপর দিক থেকে নিজেদের চাদরের আচল ঝুলিয়ে দেয়, এতে তাদের চেনা সহজতর হবে। ফলে তাদের উত্যক্ত করা হবে না।আল্লাহু ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু”।

এছাড়াও সূরা নূরে আল্লাহু বলেছেনঃ
“হে মুহাম্মদ (সাঃ), মুমিন স্ত্রী লোকদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং নিজেদের যৌনাঙ্গের হিফাযর করে ও নিজেদের সাজসজ্জা প্রদর্শন না করে কেবল সেই সব ছাড়া যা আপনা হতে প্রকাশিত হয়ে পরে”।

আমরা নারীরা আল্লাহুর এই কথা গুলো কি কখন ভেবে দেখেছি, আমরা আজ কোন অবস্থাতে আছি? আল্লাহুর এই আদেশ গুলো মেনে না চলার কারনে প্রতি নিয়ত আমার যে শ্লীলতাহানি শিকার হচ্ছি , সতীত্ব হারাচ্ছি তা কি ভেবে দেখেছি?

আমাদের মাঝে এমন অনেক বোন আছেন যাদের কে পর্দার কথা বলা হলে বলেন মনের পর্দাই আসল পর্দা, আবার অনেকে বলেন আমি কি শালীন পোশাক করছি না, হিজাব পরের কি আছে, আবার আমন অনেক বোনকে দেখা যাই যারা পর্দা করেন ঠিকি কিন্তু ওটাকে পর্দা বলা যাই না।

বোন হে! নবী (সাঃ) এর স্ত্রীগন, কন্যাগন কি শালীন পোশাক পরতেন না? তার পরও কেন আল্লাহু পর্দার বিধান করে দিলেন, বলতে পারো?

আল্লাহু রাব্বুল আলামীন আমাদের জন্য যে সব বিধান দিয়েছেন তা শুধু মাত্র আমাদের ভালোর জন্যই। পর্দার বিধানও তার ব্যতিক্রম নই। পর্দার সাহায্যে নারীরা সকল সামাজিক ফিতনা-ফাসাদ ও বিশৃংখলা থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে পারে।

কিন্তু আমরা নারীরা পর্দা না করার কারনে ফিতনা-ফাসাদ ও বিশৃংখলা মাঝে দিন দিন পতিত হচ্ছি। নারী মায়ের জাত, একদিন তাকে মা হতেই হবে, সে দিন সন্তানকে কি জবাব দিবেন, বলতে পারবেন আমি পবিত্র ছিলাম, আর তুমিও পবিত্রতা রক্ষা করে চলো।

তাই তো কবি আল্লামা আব্দুর রহমান আল-কাশগরী (রহঃ) বলেছেনঃ সন্তানের চরিত্রের ভাল-মন্দ যাচাই হয় তার মাতার চরিত্রের ভিত্তিতে। আর সম্রাট নেপোলিয়ন এর কথাটা তো আমরা সবাই জানিঃ
“Give me a good mother, I shall give you a good nation”।

বোন হে! এসো না আমরা আল্লাহর বিধান মেনে চলি, নিজেদের পবিত্রতা রক্ষা করে চলি, হিজাব পরিধান করি।


(Collected)

কেউ স্বপ্ন দেখলে কি করবে?



কেউ স্বপ্ন দেখলে কি করবে?

***রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, নেক স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে, অতএব যখন তোমাদের মধ্যে কেউ স্বপ্নে এমন কিছু দেখে যা তার কাছে ভালো লাগে সে যেনো তা তার প্রিয় ব্যক্তি ছাড়া অপর কারো নিকট ব্যক্ত না করে। আর সে যদি স্বপ্নে এমন কিছু দেখে যা সে অপছন্দ করে, তখন সে যেনো তা কারো নিকট না বলে। বরং, তার বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলে বিতাড়িত শয়তান হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, আর আশ্রয় প্রার্থনা করে ঐ অনিষ্ট থেকে যা সে দেখেছে। (তিনবার ) সে যেনো তা কারো নিকট না বলে। অতঃপর যে পার্শ্বে সে শুয়েছিলো তা পরিবর্তন করে।
সহীহ মুসলিম ৪/১৭৭২, ১৭৭৩, সহীহ বুখারী- ৭/২৪।

*** রাতে উঠে নামায পড়বে যদি তার ইচ্ছা করে।
সহীহ মুসলিম- ৪/১৭৭৩।

*** হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছিঃ “নবুওতের কিছু অবশিষ্ট থাকবেনা সুসংবাদ সমূহ ছাড়া। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো সুসংবাদ সমূহ কি? তিনি বললেনঃ স্বপ্ন।
সহীহ বুখারী।

***হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) রাসুলুল্লাহ (সাঃ) থেকে আরো বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ “যখন জামানা (অর্থা কিয়ামত) নিকটবর্তী হয়ে যাবে, মুমিনের স্বপ্ন মিথ্যা হয়ে যাবেনা। মুমিনের স্বপ্ন হচ্ছে নবুওতের ৪৬ ভাগের ১ ভাগ।
সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম।

***আবু কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ‘সুস্বপ্ন’, অন্য রেওয়ায়েতে বলা হয়েছেঃ ‘ভালো স্বপ্ন’ – আল্লাহর পক্ষ থেকে হয় আর খারাপ স্বপ্ন হয় শয়তানের পক্ষ থেকে। কাজেই কোনো ব্যক্তি যদি এমন কিছু স্বপ্ন দেখে যা সে অপছন্দ করে তাহলে সে যেনো বাঁ দিকে তিন বার ফুঁ দেয় (থুথু দেওয়ার মতো ফু দেবে, কিন্তু কোন থুতু ফেলবেনা), এবং শয়তানের (ক্ষতি) থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায়। (তাহলে) এ স্বপ্ন তার কোনো ক্ষতি করতে পারবেনা।
সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম।

***জাবির (রাঃ) রাসুলুল্লাহ (সাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ তোমাদের কেউ যখন কোনো অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখে তখন সে যেন বাঁ দিকে তিন বার থুথু দেয় এবং তিনবার শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় অর্থা ‘আউযু বিল্লাহ হিমিনাশ শাইতানির রাযীম’ পড়ে। আর যে পার্শ্বে সে শুয়েছিলো তা পরিবর্তন করে।  সহীহ মুসলিম।


***উপরের সবগুলো হাদীস ‘হিসনুল মুসলিম’ ও ‘রিয়াদুস সালেহীন’ বই থেকে নেয়া***

মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১৪

হালাল/হারাম...

হালাল/হারাম...

বাজার থেকে নতুন পোষাক কিনে সেটা দিয়ে নামায পড়া যাবে, কারণ সেটা পাক। কোন কিছু নাপাক বলতে হলে সেটার জন্য প্রমান থাকতে হবে, দুনিয়ার সবকিছু পাক, সেইগুলো ছাড়া যেইগুলোকে কুরআন ও হাদীসে নাপাক বলে ঘোষণা করা হয়েছে। আর এমনিভাবে যেকোন স্থান বা মাটিতে নামায পড়া জায়েজ ও পাক, যদিনা সেই জায়গায় স্পষ্ট কোনো নাপাকী চোখে পড়ে। অহেতুক সন্দেহ বা ধারণা থেকে কোনো কিছুকে হারাম বা নাপাক বলার অধিকার কারো নাই। তবে হ্যা, কোন একটা কিছু সন্দেহ হলে বা পছন্দ না হলে আর এর পরিবর্তে সন্দেহমুক্ত কিছু থাকলে সেটাই গ্রহন করা উত্তম।

আর খাবার জিনিস সবকিছু হালাল, শুধুমাত্র সেইগুলো ছাড়া যেইগুলোকে কুরআন ও হাদীসে হারাম বলে ঘোষণা করা হয়েছে। হারাম জিনিসের মাঝে রয়েছে - মদ, শূকর, রক্ত, মৃত প্রাণী, হিংস্র প্রাণী ইত্যাদি এমন। এছাড়া সব হালাল। ব্যতিক্রম হচ্ছে মাছ ও আরব দেশের একপ্রকার ঘাসফড়িং (Locust) আছে যেটা খাওয়া হালাল - এইগুলো মৃত হলেও খাওয়া যায়। কেউ যদি কোনটাকে হারাম/মাকরুহ বলতে চায়, তাহলে আমাদেরকে সেটা যে হালাল তার জন্য দলীল পেশ করতে হবেনা, বরং কেউ যদি হারাম/মাকরুহ বলতে চায় - তাহলে তার সেই কথার দলীল দিতে হবে কুরআন ও হাদীস থেকে। কোনো ইমাম বা আলেম, কোন মাযহাব, কোন বুজুর্গ কোনো কিছুকে হারাম/মাকরুহ সাব্যস্ত করতে পারেনা, কুরআন ও হাদীসের দলীল ছাড়া।

এই বিষয়ে সুন্দর একটা উদাহরণ হচ্ছে চিংড়ি মাছ। যদিও চিংড়ি কোন মাছ না, এটা একটা Arthropoda প্রাণী, কিন্তু যেহেতু মানুষ এটাকে খাদ্য হিসেবে খায় আর কুরআন ও হাদীসে কোথাও এটা খাওয়া যাবেনা - এই কথা বলা নাই - সুতরাং এটা খাওয়া সম্পূর্ণ হালাল। অনেকে বিশেষ করে হানাফী মাযহাবের কিছু লোক বলে - এটা মাকরুহ বা আপছন্দনীয় - এই কথার দলীল নেই, তাই আমরা এটাকে হালাল বলেই মনে নেব, মাকরুহ বা আপছন্দনীয় বলবোনা।

সোমবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৪

রোযা সম্পর্কে জরুরী কিছু মাসয়া’লাঃ পর্ব- ২



রোযা সম্পর্কে জরুরী কিছু মাসয়া’লাঃ পর্ব- ২

নিচের প্রশ্নের উত্তরগুলো যারা জানেন না তারা সতর্ক হন – আপনি হয়তো ইসলাম সম্পর্কে এর চাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ অনেক জিনিসই আসলে জানেন না। মনে রাখবেন, অজ্ঞতা মানুষের বড় দুশমন। আজকে হিন্দুরা মূর্তি পূজার করে, নামধারী ভেজাল মুসলিমরা পহেলা বৈশাখে মূর্তিপূজারীদের জাহেলিয়াতের অনুকরণ করে – এর বড় কারণ হচ্ছে অজ্ঞতা। এইভাবে আপনি হয়তো জানেনই না অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস, না জেনে হারাম, শিরক, বেদাতে ডুবে আছেন, নাউযুবিল্লাহ।

ফেইসবুকের ফেতনার মাঝে ডুবে না থেকে, মুনাফেকীর গান না শুনে, টিভিতে জেনা-ব্যভিচার না দেখে, বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ডের নষ্টামিতে না জড়িয়ে, অশ্লীলতা ও পাপাচারে লিপ্ত না হয়ে দ্বীন শেখার পেছনে সময়টাকে কাজে লাগান – আল্লাহু আ’লাম, এর উসীলায় আপনার ভাগ্যের (জান্নাত-জাহান্নাম) ফয়সালা পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে।

   রমযানে ফরয রোজা অথবা রমযানের বাইরে রমযানের কাজা রোজা রাখতে হলে আগের দিন রাতের বেলাতেই নিয়ত করে রাখতে হবে, নয়তো রোজা হবেনাঃ

*রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি ফজরের আগে রোযা রাখার নিয়্যাত না করবে তার রোযা (সিদ্ধ) নয়।
আবূ দাঊদ, তিরমিযী, আহমাদ, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ; তিরমিযী ও নাসাঈ। ইবনু খু্যাইমাহ্ ও ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন। বুলুগূল মারাম ৬৫৬।

**দারাকুনীতে আছে, যে রাত্রিতে রোযা রাখার নিয়্যাত না করবে তার রোযা হবে না। (এটা ফরয রোযার জন্য)।

   কিন্তু নফল/সুন্নত রোজা রাতের বেলা নিয়ত না করে ঘুমালেও অন্তত দুপুর হওয়ার আগে কেউ যদি রোযার নিয়ত করে তাহলে রোজা রাখতে পারবে এবং সেই রোজা শুদ্ধ হবে। 

আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা আমাদের কাছে এসে বললেনঃ তেমাদের কাছে কি কোন খাবার আছে? আমরা বললাম, না। তখন তিনি বললেন, তবে আমি এখন রোযাদার। তারপর আর একদিন তিনি আমাদের কাছে আসলেন, আমরা বললাম, আমাদের জন্য মালিদা উপহার দেয়া হয়েছে। তিনি বললেনঃ তা আমাকে দেখাও আমি কিন্তু রোযাদার রূপে সকাল করেছি, তারপর তিনি খাবার খেলেন।
সহীহ মুসলিম, বুলুগূল মারাম ৬৫৭।
[নফল রোযার নিয়্যাত দুপুরের আগ পর্যন্ত করা যায় আর দুপুরের আগে তা ভাঙ্গাও চলে।]

   রোযার কাফফারা কি?
বেশিরভাগ মানুষ মনে করে একটা রোজা ভাংলে ৬০টা রোজা রাখতে হয়। এটা ঠিকনা। কেউ যদি রমজানের ফরয রোজা (অথবা রমজানের ফরয রোজা অন্য সময় কাযা রাখা অবস্থায়) স্ত্রী সহবাস করে তাহলেই শুধু মাত্র তার উপর রোযার কাজা ও কাফফারা দেওয়া ওয়াজিব হয়। এছাড়া অন্যভাবে কেউ যদি ইচ্ছাকৃত/অনিচ্ছাকৃত রোজা ভাঙ্গে তাহলে কোনো কাফফারা দিতে হয়না, তোওবা করবে আর এর পরিবর্তে শুধুমাত্র পরে একটা রোজা কাযা রাখবে।
স্ত্রী সহবাসের মাধ্যমে রোজা ভাংলে রোযার কাফফারা হচ্ছেঃ
১. একজন দাস মুক্ত করা।
এটা সম্ভব না হলেঃ
২. একটানা দুইমাস (৬০দিন) রোজা রাখা। এটা একাধারে রাখতে হবে, মাঝখানে বিরতি দিলে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। অবশ্য নারীরা ঋতুর কারণে বিরতি দিতে পারবে।
এটা সম্ভব না হলেঃ
৩. ৬০ জন দরিদ্র মিসকীনকে খাওয়াতে হবে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কোন একটি লোক এসে বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন্ বস্তু তেমাকে ধ্বংস করেছে? সে বললো রামাযানের রোযা রেখে স্ত্রীর উপর পতিত হয়েছি(অর্থা স্ত্রী সঙ্গম করে ফেলেছি)।. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি কি কোন দাস-দাসীকে মুক্তি দেওয়ার ক্ষমতা রাখ? সে বললোঃ না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দু-মাস কি একনাগাড়ে রোযা রাখতে পারবে? সে বললোঃ না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ৬০ জন দরিদ্রকে খাওয়াতে পারবে? সে বললোঃ না। তারপর সে বসে রইল। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একটি খেজুরের ঝুড়ি বা থলে এলো, যাতে কিছু খেজুর ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেনঃ এইগুলি তুমি সাদকা করে দিবে। সে বললোঃ আমার থেকে বেশি দরিদ্রকে কি দান করতে হবে? মাদীনার দুটি পাহাড়ের মধ্যবর্তী একালায় আমার থেকে বেশি অভাবী পরিবার আর নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার এরূপ কথা শুনে হেসে ফেললেন যাতে তাঁর চোয়ালের ভিতরের দাঁতগুলো পর্যন্ত প্রকাশ হয়ে পড়লো। তারপর তিনি বললেনঃ যাও এটা তোমার পরিবারকে খাওয়াও।
বুলুগুল মারামঃ হাদীস নং- ৬৭৬।
বুখারী, মুসলিম, আবূ দাঊদ, তিরমিযী, আহমাদ, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ্; শব্দগুলো মুসলিমের।

   কেউ যদি অতীতে মুসলিম থাকা অবস্থায় রোজা ভেঙ্গে থাকে, সেটা ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক – তাকে হিসাব করে সেই রোযাগুলো রমাজানের বাইরে কাজা আদায় করে নিতে হবে, একটার পরিবর্তে একটা রোজা কাজা। আর এটা পরবর্তী রমজান আসার আগেই করতে হবে।

   কেউ যদি কাজা রোজা রেখে মারা যায় তাহলে তার আত্মীয়-স্বজনরা সেগুলো তারপক্ষ থেকে আদায় করে নিবে।

আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে মৃত্যুমুখে পতিত হবে আর তার উপর রোযা কাযা থাকবে তার ঐ কাযা রোযা রাখবে তার উত্তরাধিকারী।
বুখারী, মুসলিম, বুলুগূল মারাম ৬৭৯

   নফল রোজা কেউ ইচ্ছা করলে যেকোন সময় ভেঙ্গে ফেলতে পারে, আর এরজন্য কাজা বা কাফফারা কিছুই দিতে হবেনা। তবে ইচ্ছা করলে একদিন ভেঙ্গে অন্যদিন রাখতে পারে, যেমন মাসের ৩দিন রোজা পূর্ণ করার জন্য।

   কারো উপর যদি গোসল ফরয হয় আর সাহরীর সময় উঠতে না পারে ফযর হয়ে যায়, তবুও কোনো সমস্যা নেই। উঠে রোযার নিয়ত করে বা রাতে যদি নিয়ত করা থাকে, গোসল করে ফযর পড়ে রোজা রাখতে পারবে।

আয়িশা ও উম্মু সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রী সঙ্গমজনিত জুনুবী(নাপাক) অবস্থায় সকাল করতেন, তারপর (ফজরের নামাযের আগে) গোসল করতেন ও রোযা রাখতেন। বুখারী, মুসলিম।
মুসলিমে কেবল উম্মু সালামার বর্ণনায় আছে তিনি ঐরূপ রোযার কাযাও করতেন না।
বুলুগূল মারাম ৬৭৮

   নারীরা যদি ফযর ওয়াক্ত হওয়ার আগেই ঋতু থেকে পবিত্র হয়ে যায় তাহলে তারা ঐদিন রোজা রাখতে পারবে। রমযান মাস হলে ঐদিন রোজা রাখা ফরয হবে।

   নারীরা যদি ঋতুর কারণে বা কেউ যদি অন্য জায়েজ কারণে (সফর, অসুস্থতা) রোজা ভংগ করে তাহলে রমযান মাসে দিনের বেলাতেও খাওয়া দাওয়া করতে পারবে – কোন বাঁধা নেই।


   স্বপ্নদোষ হলে, চুল-দাড়ি কাটলে, রক্ত বের হলে রোজা ভাঙ্গেনা।