বুধবার, ২১ মে, ২০১৪

জাহান্নামের কিছু চিত্রঃ পর্ব - ১



জাহান্নামের কিছু চিত্রঃ পর্ব - ১
আজকে তোওবা না করলে আর কোনদিন কি তোওবা করার সুযোগ হবে?
_____________________________

চলুন একটু দেখে নেই - বেনামাযী, ব্যভিচারী, গীবতকারী, অহংকারী, মিথ্যাবাদী, বেপর্দা নারীদের কি শাস্তি...

বেনামাযী ও নামাযে অলসতাকারীর অবস্থাঃ

ইচ্ছাকৃতভাবে যে ব্যক্তি একেবারেই নামায ছেড়ে দিবে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে কাফের হয়ে যাবে। কেননা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ

“আমাদের মাঝে ও তাদের (কাফেরদের) মাঝে অঙ্গিকার হলো নামায। সুতরাং যে ব্যক্তি নামায ছেড়ে দিবে সে কাফের হয়ে যাবে। 

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেনঃ

“আল্লাহর বান্দা এবং কাফের-মুশরেকের মধ্যে পার্থক্য হলো নামায ছেড়ে দেয়া। 

তবে যে ব্যক্তি নামাযের ব্যাপারে অলসতা করবে চাই সে অলসতা যথাসময়ে আদায় না করার মাধ্যমে হোক বা ঘুমের মাধ্যমে হোক কিংবা শরীয়ত সম্মত পদ্ধতিতে নামায আদায়ে ত্রুটির মাধ্যমে হোক, সে কাফের না হলেও তার ব্যাপারে কঠিন শাস্তির হুমকি রয়েছে।

সহীহ বুখারীতে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর দীর্ঘ হাদীছে এসেছে,

“আমরা এক শায়িত ব্যক্তির কাছে আসলাম। তার মাথার কাছে পাথর হাতে নিয়ে অন্য একজন লোক দাড়িয়ে ছিল। দাড়ানো ব্যক্তি শায়িত ব্যক্তির মাথায় সেই পাথর নিক্ষেপ করছে। পাথরের আঘাতে তার মাথা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছে এবং পাথরটি বলের মত গড়িয়ে অনেক দূরে চলে যাচ্ছ্ে‌। লোকটি পাথর কুড়িয়ে আনতে আনতে আবার তার মাথা ভাল হয়ে যাচ্ছে। দাড়ানো ব্যক্তি প্রথমবারের মত আবার আঘাত করছে এবং তার মাথাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিচ্ছে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সফরসঙ্গী ফেরেশতাদ্বয়কে জিজ্ঞেস করলেনঃ কি অপরাধের কারণে তাকে এভাবে শাস্তি দেয়া হচ্ছে? উত্তরে তারা বললেনঃ এব্যক্তি কুরআন শিক্ষা করেছিল। কিন্তু কুরআন অনুযায়ী আমল করেনি এবং সে ফরজ নামাযের সময় ঘুমিয়ে থাকত। কিয়ামত পর্যন্ত তাকে এভাবে শাস্তি দেয়া হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন,

“ধ্বংস ঐ সমস্ত নামাযীদের জন্যে যারা নামাযের ব্যাপারে উদাসীন। (সূরা মাঊনঃ ৪-৫)

হাফেজ ইবনে কাছির (রঃ) এই আয়াতদ্বয়ের ব্যাখ্যায় বলেনঃ

“তারা হয়ত প্রথম ওয়াক্তে নামায আদায় না করে সব সময় বা অধিকাংশ সময় দেরী করে নামায আদায় করে থাকে। অথবা নামাযের রুকন ও শর্তসমূহ যথাযথভাবে আদায়ের ব্যাপারে গাফিলতি করে থাকে অথবা তারা নামাযে মনোযোগ দেয়না এবং নামাযে কুরআন তিলাওয়াতের সময় তারা এর অর্থের মাঝে গবেষণা করেনা।  রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ

“যে ব্যক্তি নামাযের হেফাযত করবে কিয়ামতের দিন নামায তাঁর জন্য আলো, তার ঈমানের দলীল এবং নাজাতের উপায় হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি নামাযের হেফাযত করবেনা কিয়ামতের দিন তার জন্যে কোন আলো থাকবেনা, তার ঈমানের পক্ষে কোন প্রমাণ এবং তার নাজাতের কোন উপায় থাকবেনা। কিয়ামতের দিন সে ফেরাউন, কারূন, হামান, এবং উবাই বিন খাল্‌ফের সাথে হাশরের মাঠে উপস্থিত হবে। 

কোন কোন বিদ্বান বলেছেনঃ বেনামাযীকে উক্ত চার শ্রেণীর নিকৃষ্ট মানুষের সাথে হাশরের মাঠে উঠানোর কারণ হলো মানুষ সাধারণতঃ ধন-সম্পদ, রাজত্ব, মন্ত্রিত্ব ও ব্যবসা-বাণিজ্যে লিপ্ত থেকেই নামায থেকে বিরত থাকে। ধন-সম্পদ নিয়ে ব্যস্ত থেকে নামায পরিত্যাগ করলে কুখ্যাত ধনী কারূনের সাথে হাশর হবে। রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে ব্যস্ত থেকে নামায পরিত্যাগ করলে ফেরাঊনের সাথে হাশর হবে। মন্ত্রিত্ব নিয়ে ব্যস্ত থেকে নামায নষ্ট করলে ফেরাঊনের মনী্ত্র হামানের সাথে হাশর হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে লিপ্ত থেকে নামায ছেড়ে দিলে মক্কার কাফের ব্যবসায়ী উবাই বিন খাল্‌ফের সাথে হাশর হবে। এধরণের অপমানকর অবস্থা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
_________________________________

ব্যভিচারী নারী-পুরুষের করুণ অবস্থাঃ

আল্লাহ তাআলা এবং তদীয় রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ব্যভিচার হারাম করেছেন। ইহা হারাম হওয়া অতি সুস্পষ্ট বিষয়। এমন কোন মুসলিম নারী-পুরুষ পাওয়া যাবেনা যে এর হারাম হওয়া সম্পর্কে অবগত নয়। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

“আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়োনা। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং খুবই মন্দ পথ।
সূরা বানী ইসরাঈলঃ ৩২

ব্যভিচারের ইহকালীন শাস্তি হলো বিবাহিত হলে রজম করা তথা পাথর মেরে হত্যা করা। আর অবিবাহিত হলে একশত বেত্রাঘাত করা।

সহীহ বুখারীতে সামুরা বিন জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর দীর্ঘ হাদীছে কবরে ব্যভিচারীর ভয়াবহ শাস্তির বর্ণনা এসেছে। তিনি বলেনঃ

“আমরা একটি তন্দুর চুলার নিকট আসলাম। যার উপরিভাগ ছিল সংকীর্ণ এবং ভিতরের অংশ ছিল প্রশস্ত। তার ভিতরে আমরা কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলাম। দেখতে পেলাম তাতে রয়েছে কতগুলো উলঙ্গ নারী-পুরুষ। তাদের নিচের দিক থেকে আগুনের শিখা প্রজ্বলিত করা হচ্ছে। অগ্নিশিখা প্রজ্ব্বলিত হওয়ার সাথে সাথে তারা চিৎকার করছে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কারণ জানতে চাইলে ফেরেশতাদ্বয় বললেনঃ এরা হলো আপনার উম্মতের ব্যভিচারী নারী-পুরুষ।  তাদেরকে উলঙ্গ করে এভাবে শাস্তি দেয়ার কারণ এই যে, তারা উলঙ্গ অবস্থায় নির্জনে একত্রিত হয়ে এই জঘণ্য ঘৃণীত কাজে লিপ্ত হয়েছিল। আর নীচের দিক থেকে আগুন দিয়ে তাদেরকে শাস্তি দেয়ার কারণ হলো ব্যভিচার শরীরের নীচের অঙ্গ দিয়েই হয়ে থাকে। 

ব্যভিচারীর শাস্তির অন্য একটি চিত্রঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মি’রাজের রাত্রিতে একদল লোকের কাছে উপস্থিত হয়ে দেখতে পেলেন তাদের সামনে একটি পাত্রে গোশত রান্না করে রাখা হয়েছে। অদূরেই অন্য একটি পাত্রে রয়েছে পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত কাঁচা গোশত। লোকদেরকে রান্না করে রাখা গোশত থেকে বিরত রেখে পঁচা এবং দুর্গন্ধযুক্ত, কাঁচা গোশত খেতে বাধ্য করা হচ্ছে। তারা চিৎকার করছে এবং একান্ত অনিচ্ছা সত্বেও তা থেকে ভক্ষণ করছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিবরীল ফেরেশতাক জিজ্ঞেস করলেনঃ এরা কোন শ্রেণীর লোক? জিবরীল বললেনঃ এরা আপনার উম্মতের ঐ সমস্ত পুরুষ লোক যারা নিজেদের ঘরে পবিত্র এবং হালাল স্ত্রী থাকা সত্বেও অপবিত্র এবং খারাপ মহিলাদের সাথে রাত্রি যাপন করত। 

মুসলিম ভাই-বোনদের উচিৎ এই ধরণের জঘণ্য পাপের কাজ থেকে বিরত থাকা এবং যেসমস্ত জিনিষ উহার প্রতি আকৃষ্ট করে তা থেকেও সতর্ক থাকা। যেমন নারী-পুরুষের নির্জনে সাক্ষাৎ, বেপর্দা হওয়া, মহিলাদের সৌন্দর্যের স্থান প্রকাশ করা ইত্যাদি। এসমস্ত কাজ মানুষকে ব্যভিচারের প্রতি উৎসাহ যোগায়। তাই এগুলো থেকেও সাবধান থাকতে হবে।
_________________________________

গীবতকারী ও চুগলখোরের কঠিন অবস্থাঃ

গীবতকারী ও চুগলখোরেরা মানুষের মধ্যে বিচ্ছেদ ও ঝগড়া সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একজনের কথা অন্যজনের কাছে বর্ণনা করে থাকে। মানুষের পারস্পরিক ভালবাসাকে শত্রুতায় পরিণত করে। তারা মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোক এবং বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী। তাদেরকে আপনি দেখতে পাবেন একজনের কাছে একরকম এবং অন্যজনের কাছে অন্যরকম চেহারা নিয়ে উপস্থিত হচ্ছে। তারা নিজেদের ইচ্ছা মত যখন যা খুশী তাই বলে থাকে। আল্লাহ তায়া’লা তাদেরকে ধমকি দিয়ে বলেনঃ

“প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর জন্য দুর্ভোগ।
সূরা হুমাজাহঃ ১

তারা নিজেদের কথা এবং কাজের মাধ্যমে মানুষের দোষ বর্ণনা করে থাকে। তারা ক্রোধ ও ঘৃণার হকদার। কারণ তারা মিথ্যা, গীবত, চুগলখোরী, খিয়ানত, হিংসা এবং ধোকা থেকে বিরত হয়না। এজন্যই কবরের আজাবের অন্যতম কারণ হলো চুগলখোরী করা। ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

“একদা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদীনা বা মক্কার কোন একটি বাগানের পাশদিয়ে অতিক্রম করছিলেন। তথায় তিনি দু’জন এমন মানুষের আওয়াজ শুনতে পেলেন যাদেরকে কবরে শাস্তি দেয়া হচ্ছিল। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তাদেরকে আযাব দেয়া হচ্ছে অথচ বড় কোন অপরাধের কারণে আযাব দেয়া হচ্ছে না। অতঃপর তিনি বললেনঃ তাদের একজন পেশাব করার সময় আড়াল করতোনা। আর দ্বিতীয় ব্যক্তি একজনের কথা অন্যজনের কাছে লাগাত। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি কাঁচা খেজুরের শাখা আনতে বললেন। অতঃপর উক্ত খেজুরের শাখাটিকে দু’ভাগে বিভক্ত করে প্রত্যেক কবরের উপর একটি করে রেখে দিলেন। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে জিজ্ঞেস করা হলো আপনি কেন এরকম করলেন? উত্তরে তিনি বললেনঃ হয়ত খেজুরের শাখা দু’টি জীবিত থাকা পর্যন্ত তাদের কবরের আযাব হালকা করা হবে। 

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ

“যখন আমাকে মিরাজে নিয়ে যাওয়া হলো, তখন আমি তামার নখ বিশিষ্ট একদল লোকের কাছ দিয়ে অতিক্রম করলাম। তারা নখগুলো দিয়ে তাদের মুখমন্ডল ও বক্ষদেশে আঘাত করে ক্ষত-বিক্ষত করছিল। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ হে জিবরীল! এসমস্ত লোক কারা? জিবরীল (আঃ) বললেনঃ এরা দুনিয়াতে মানুষের গোশ্‌ত ভক্ষণ করত এবং তাদের মান-সম্মান নষ্ট করত। অর্থাৎ তারা মানুষের গীবত ও চুগলখোরী করত।

কাতাদা (রঃ) বলেনঃ আমাদেরকে বলা হয়েছে কবরের আযাবের এক তৃতীয়াংশ হবে গীবতের কারণে, এক তৃতীয়াংশ পেশাব থেকে সাবধান না থাকার কারণে এবং এক তৃতীয়াংশ চুগলখোরীর কারণে। যেহেতু গীবতকারী এবং চুগলখোর মিথ্যা কথাও বলে থাকে তাই সে মিথ্যাবাদীর শাস্তিও ভোগ করবে। সামুরা বিন জুন্দুব (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর দীর্ঘ হাদীছে এসেছে,

“অতঃপর আমরা এমন এক লোকের কাছে উপস্থিত হলাম যাকে চিৎকরে শায়িত অবস্থায় রাখা হয়েছে। একজন লোক লোহার কেঁচী হাতে নিয়ে তার মাথার পাশে দাড়িয়ে আছে। দাড়ানো ব্যক্তি শায়িত ব্যক্তির মুখের একদিকে সেই কেঁচী প্রবেশ করিয়ে পিছনের দিকে ঘাড় পর্যন্ত চিরে ফেলছে। নাকের ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করিয়ে অনুরূপ করা হচ্ছে এবং চোখের ভিতর প্রবেশ করিয়েও অনুরূপ করা হচ্ছে। একদিকে চিরে শেষ করে অন্যদিকেও অনুরূপ করা হচ্ছে। দ্বিতীয় দিকে চিরে শেষ করার সাথে সাথে প্রথম দিক আগের মত হয়ে যাচ্ছে। আবার প্রথম দিকে নতুন করে চিরা হচ্ছে। হাদীছের শেষাংশে এসেছে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিবরীলকে জিজ্ঞেস করলেনঃ কি অপরাধের কারণে তাকে এভাবে শাস্তি দেয়া হচ্ছে? জিবরীল (আঃ) বললেনঃ এই ব্যক্তি হলো এমন লোক যে সকাল বেলা ঘর থেকে বের হয়েই মিথ্যা কথা বলত এবং সে মিথ্যা চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়তো।

হাদীছে চোগলখোরের কঠিন শাস্তির কথা এসেছে। হুযায়ফা (রাঃ) রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেন,

“চুগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করবেনা।  আম্মার বিন ইয়াসির (রাঃ) নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেন,

“যে ব্যক্তি দুনিয়াতে দু’জনের নিকট দু’রকম কথা বলবে কিয়ামতের দিন তার আগুনের দু’টি জিহ্‌বা হবে।  ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত,

“আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যার সুপারিশ আল্লাহর নির্ধারিত কোন দন্ডবিধি বাস্তবায়ন করার প্রতিরোধ হয়ে দাড়াল সে আল্লাহর সাথে সংগ্রামে লিপ্ত হল। যে ব্যক্তি জেনে-বুঝে অন্যায়ভাবে কারো সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হল সে তা থেকে বিরত থাকার পূর্ব পর্যন্ত আল্লাহর ক্রোধের ভিতরে থাকবে। আর যে ব্যক্তি কোন মুমিন সম্পর্কে এমন কথা বলবে যা তার ভিতরে নেই সে যদি তা বর্জন করতঃ তাওবা না করে মৃত্যু বরণ করে আল্লাহ তাকে রাদাগাতুল খাবালে  প্রবেশ করাবেন। তার উক্ত কথার প্রায়ঃশিচত্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করবে।

আয়েশা (রাঃ) নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেন যে,

“যে ব্যক্তি দুনিয়াতে তার ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করবে (গীবত করবে) কিয়ামতের দিন গীবতকারীর সামনে গীবতকৃত ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় উপস্থিত করা হবে এবং বলা হবে তুমি এখন মৃত অবস্থায় তার গোশত ভক্ষণ কর। যেমনভাবে জীবিতাবস্থায় তার গোশত ভক্ষণ করতে। অতঃপর সে অতি অনিচ্ছা সত্বেও চিৎকার করতে করতে তা ভক্ষণ করবে।
_________________________________

অহংকারীদের অবস্থাঃ
আমর বিন শুয়াইব (রাঃ) তার পিতা, তাঁর পিতা তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

“কিয়ামতের দিন অহংকারীদেরকে মানুষের আকৃতিতে ছোট ছোট পিপীলিকার ন্যায় হাশরের ময়দানে উপস্থিত করা হবে। অপমান ও লাঞ্ছনা তাদেরকে চতুর্দিক থেকে ঘিরে ফেলবে। তাদেরকে জাহান্নামের একটি জেলখানায় একত্রিত করা হবে যার নাম হবে “বুলাস। আগুন তাদেরকে চতুর্দিক থেকে ঢেকে ফেলবে। জাহান্নামীদের শরীরের ঘাম তাদেরকে পান করতে বাধ্য করা হবে।  নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ

“যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবেনা। 

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
“এক ব্যক্তি দম্ভ ও অহংকারের সাথে তার পায়জামা বা লুঙ্গি যমীনের উপর ঝুলিয়ে টেনে টেনে পথ চলছিল। এমন সময় সে যমীনে ধ্বসিয়ে দেয়া হল। কিয়ামত পর্যন্ত সে এভাবে যমীনে ধ্বসতে (নীচের দিকে) যেতে থাকবে।
______________________________________
মিথ্যাবাদীদের পরিণামঃ
সামুরা বিন জুন্দুব (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর দীর্ঘ হাদীছে এসেছে,

“অতঃপর আমরা এমন এক লোকের কাছে উপস্থিত হলাম যাকে চিৎকরে শায়িত অবস্থায় রাখা হয়েছে। আর একজন লোক লোহার বড়শী হাতে নিয়ে তার মাথার পাশে দাড়িয়ে আছে। দাড়ানো ব্যক্তি শায়িত ব্যক্তির মুখের একদিকে লৌহাস্ত্র (চাকু) প্রবেশ করিয়ে পিছনের দিকে ঘাড় পর্যন্ত চিরে ফেলছে। নাকের ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করিয়ে এরূপ করা হচ্ছে। চোখের ভিতর প্রবেশ করিয়েও অনুরূপ করা হচ্ছে। একদিকে চিরে শেষ করে অন্যদিকেও অনুরূপ করা হচ্ছে। দ্বিতীয় দিকে চিরে শেষ করার সাথে সাথে প্রথম দিক আগের মত হয়ে যাচ্ছে। আবার প্রথম দিকে নতুন করে চিরা হচ্ছে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিবরীলকে জিজ্ঞেস করলেনঃ কি অপরাধের কারণে তাকে এভাবে শাস্তি দেয়া হচ্ছে? জিবরীল (আঃ) বললেনঃ এ হলো এমন লোক যে সকাল বেলা ঘর থেকে বের হয়েই মিথ্যা কথা বলতে শুরু করতো এবং সে মিথ্যা চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ত।  আব্দুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) বলেনঃ

“আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন মুমিনের এমন দোষ বর্ণনা করলো যা তার মাঝে নেই সে যদি তা থেকে তাওবা না করে মৃত্যু বরণ করে আল্লাহ তাকে জাহান্নামের ভিতরে জাহান্নামীদের শরীরের ঘাম ও কাঁদা মিশ্রিত স্থানে বসবাস করাবেন।
____________________________________

বেপর্দা মহিলার অবস্থাঃ
যে সমস্ত মহিলা দুনিয়াতে বেপর্দা হয়ে চলা-ফেরা করবে তাদের সম্পর্কে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ

“দুই প্রকারের লোক জাহান্নামে প্রবেশ করবে। কিন্তু আমি তাদেরকে দেখিনি। তাদের এক প্রকার হলো এমন লোক যাদের হাতে গরুর লেজের মত লাঠি থাকবে। তা দিয়ে মানুষকে প্রহার করবে। আর দ্বিতীয় প্রকার হল এমন সব মহিলা যারা দুনিয়াতে পোষাক পরিধান করবে কিন্তু পোষাক সংকীর্ণ হওয়ার কারণে অথবা পোষাক দিয়ে সমস্ত শরীর আবৃত না করার কারণে তাদেরকে উলঙ্গের মত দেখা যাবে। তারা বেহায়াপনা ও অশ্লীল আচরণের মাধ্যমে পুরুষদেরকে নিজেদের দিকে আকৃষ্ট করবে। তাদের মাথার চুলগুলো উটের কুঁজের মত সামনের দিকে ঝুলে থাকবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করা তো দূরের কথা জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবেনা। অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ বহুদূর থেকে পাওয়া যাবে।

মুসলিম রমণীর জন্য বেপর্দায় ঘর থেকে বের হওয়া কবীরা গুনাহর অন্তর্ভূক্ত। এ ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে। পর্দাহীনা মহিলা পর্দা না করার কারণে জাহান্নামের অধিবাসী হওয়ার ভয় রয়েছে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ

“দুনিয়াতে পোষাক পরিধানকারী অনেক মহিলা কিয়ামতের দিন বিবস্ত্র অবস্থায় থাকবে।
  
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর উপরোক্ত কথাটির কয়েক ধরণের ব্যাখ্যা হতে পারে।
১) অনেক মহিলা ধন-সম্পদ ও প্রাচুর্যের মাঝে থেকে দুনিয়াতে সুন্দর পোষাক পরিধান করে শরীর ঢেকে রাখবে। কিন্তু দুনিয়াতে ভাল আমল না করার কারণে আখেরাতে ছাওয়াব থেকে খালী থাকবে।
২) মহিলা দুনিয়াতে কাপড় পরিধান করতো, কিন্তু এমন সংকীর্ণ ও পাতলা পোষাক পরিধান করত যা দ্বারা সতর আবৃত হতনা। তাই প্রতিদান কিয়ামতের দিন উলঙ্গ করার মাধ্যমে তাকে শাস্তি দেয়া হবে।
৩) মহিলা দুনিয়াতে পোষাক পরিধান করতো, কিন্তু পিছনের দিকে ওড়না ঝুলিয়ে দিত যাতে বক্ষ ও শরীরের অধিকাংশ প্রকাশ হয়ে যেত। যার ফলে তাকে উলঙ্গের মত দেখা যেত। পরিণামে তাকে কিয়ামতের দিন বিবস্ত্র করে শাস্তি দেয়া হবে।
  

তাই বুদ্ধিমতী মহিলাদের উচিৎ এ ভয়াবহ অবস্থা ও পরিণতির কথা চিন্তা করা যার একমাত্র কারণ বেপর্দা ও বেহায়াপনা। মুসলিম রমণী যেন ঐ সমস্ত পোষাক ও ওড়নার প্রতি দৃষ্টি না দেয় যা পর্দার মাধ্যম না হয়ে ফিতনার কারণে পরিণত হয়েছে। ভেবে দেখা উচিৎ ঐ রমণীর! যে নিজেকে মুমিন পুরুষদের জন্যে ফিতনার কারণে পরিণত হয়ে তাদেরকে জান্নাতের পথে চলা থেকে পদস্খলন করছে।

সোমবার, ১৯ মে, ২০১৪

কুরানের “তাফসীর” নামে মুসলিম উম্মতের সাথে ধোকা



কুরানের “তাফসীর” নামে মুসলিম উম্মতের সাথে ধোকা…

  আল-কোরান একাডেমী লন্ডন…

  হাফিজ মুনীর উদ্দিন…

কত সুন্দর দুটি নাম – প্রথমটি দেখে মনে হবে কাফের ভূখন্ডে কুরানের বাণী প্রচার করার জন্য একটা প্রচেষ্টা, আর পরেরটা দেখে মনে হবে হয়তোবা কোন জ্ঞানী ব্যক্তি। কারণ মুসলিমদের মাঝে আহা’মদুলিল্লাহ হাফেজ অনেক আছে – কিন্তু দাওয়ার কাজে আলেমদের নামের আগে হাফেজ ব্যবহার করা হয়ে বিশেষ একটা উদ্দ্যেশ্যেই…

যাই হোক - আল-কোরান একাডেমী লন্ডন এর মূল লক্ষ্য কুরানের বাণী প্রচার করা না, এর ফোকাস হচ্ছে সাইয়েদ কুতুবের বাণী প্রচার করা! 

সাইয়েদ কুতুব তার “মাইলস্টোন” বইয়ে লিখেছে, যা আসলে তার তাফসীর নামক অপতাফসীরের কিতাব থেকে ছোট একটা “তাকফিরী” সংকলনঃ-

“কয়েকশত বছর ধরে পৃথিবীতে কোন মুসলিম উম্মত নেই!”

কেন নেই?
কারণ - অনেক মুসলিম দেশেই “ইসলামী শাসনক্ষমতা” নেই – সমাজে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ইসলামী শরিয়াহ বাস্তবায়িত হয়না।

লোকটা যদি একথা বলেও ক্ষান্ত হতো! সে আরো দূর অগ্রসর হয়ে বলেছে – সমস্ত কাফের দেশগুলো জাহিলিয়া (শিরিকি ব্যবস্থার) মাঝে ডুবে আছে, সমস্ত কমিউনিস্ট, সমস্ত ইয়াহূদী, খ্রীস্টান, গণতান্ত্রিকবাদীরা জাহিলিয়াতে ডুবে আছে…এমনকি পূর্ব থেকে পশ্চিম সমস্ত মুসলিম সমাজও জাহেলিয়াতের শিরকে ডুবে আছে…!!

বর্তমানে যারা নিজেদেরকে মুসলিম বলে পরিচয় দেয় – তাদেরকে উদ্দেশ্য করে সে বলেছে – “তথাকথিত মুসলিমরাও” (!) আসলে জাহিলিয়াতের শিরকে ডুবে আছে – কারণ তারাও আল্লাহকে বাদ দিয়ে ইয়াহুদী-খ্রীস্টানদের মতো অন্যের আইন মেনে নিয়েছে। তাদেরকে “ইলাহ” হিসেবে নিয়েছে (নাউযুবিল্লাহ)!

এই হচ্ছে বিংশ শতাব্দীর “ইসলামীক চিন্তাবিদ” (পড়ুন চিন্তাভেদদের!) অবস্থা।

মাইলস্টোন বইটা পড়লে একটা ব্যাপার স্পষ্ট, লেখক মওদুদীর লেখা “তাফহীমুল কুরান” এ সুরা শুরার ১৩ নাম্বারে “ইকামতে দ্বীন” নাম দিয়ে যেই অপতাফসী করা হয়েছে, তার দ্বারা প্রভাবিত।

সাইয়েদ কুতুবের লেখা সম্পর্কে শায়খ উসাইমিন রাহিমাহুল্লাহ বলেছেনঃ
“এটা থেকে দূরে থাকো, এর মাঝে GREAT CALAMITIES (বড় রকমের বিপদ) আছে”।

সাইয়েদ কুতুবের লেখা সম্পর্কে শায়খ মুক্ববিল রাহিমাহুল্লাহ বলেছেনঃ
 “সাইয়েদ কুতুবের লেখা পড়লে কোন উপকার নেই, কিছু উপকারবিহীন ইমোশনাল কথাবার্তা আর কিছুদিন পরে বুঝতে পারবে, তুমি আসলে জামাহ আত-তাকফিরী হয়ে গেছ”!

এতো গেলো বিগত শতাব্দীর দুইজন উলামায়ে হক্ক এর মূল্যায়ন। এবার তাদের (মওদুদী, কুতুব) আদর্শে গড়া দল  “ইখোয়ানুল মুসলিমিন” এর বর্তমানে সবচাইতে বড় একজন “ধর্মগুরু” শায়খ কারযাভী সাইয়েদ কুতুবের লেখা সম্পর্কে বলেছেনঃ

“সাইয়েদ কুতুবের লেখা অত্যন্ত স্পষ্ট ও পরিষ্কার। সে তার মতবাদে বিশ্বাসী ছাড়া অন্য কাউকে মুসলিম মনে করেনা”!

* হাফিজ মুনীর উদ্দিন ফি যিলালিল কুরানের (সাইয়েদ কুতুবের লেখা) ভূমিকায় লিখেছে – আমি ফি যিলাল দেশের বড় আলেমদেরকে দেখি্যেছি…(কাদেরকে দেখিয়েছি???)

আন্তর্জাতিক খ্যতি সম্পন্ন মুফাসসিরে কুরান, আল্লামাহ দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী(!), ইসলামী ব্যংকের চেয়ারম্যন(জানিনা এই নাম কেন বললো, বড় পজিশানের কারণে নাকি তাকে বিজ্ঞ আলেম মনে করে), অমুক প্রফেসর (আরবী বা ইসলামী কোন বিষয়ের নয়!)…

তারা ফি যিলালের খুব প্রশংসা করেছেন! (কার কথা জানি বলেছে) – সে নিজে অফিসে এসে দুয়া করে গেছে!!


আশা করি, মুনীর উদ্দীন খান এর “মানহাজ” সম্পর্কে এর বেশি বলার প্রয়োজ়ন পড়েনা…

ইমাম যদি রাউফুল ইয়াদাইন না করে বা জোরে আমীন বলে




প্রশ্নঃ ইমাম যদি রাউফুল ইয়াদাইন না করে বা জোরে আমীন বলে যে মুক্তাদী রুকুর আগে ও পরে রাউফুল ইয়াদাইন করা ও জোরে আমীন বলা সুন্নত হিসেবে জানে সেকি ঐগুলো করতে পারবে?

উত্তরঃ হ্যা করতে পারবে, এতে কোন সমস্যা নেই, এই ব্যপারে ফকীহরা মত দিয়েছেন এক মাযহাবের লোকেরা অন্য মাযহাবের ইমামের পেছনে নামায পড়তে পারবে - এতে ইমাম বা মুক্তাদীর কারো নামাযের কোন ক্ষতি হবেনা। শুধুমাত্র চরমপন্থী অজ্ঞ লোকেরাই এইগুলো নিয়ে বাড়াবাড়ি করে। কোন কাজ (রুকু/সেজদা) ইমামের আগে পরে করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ - কিন্তু এমন কাজ যা ইমাম সুন্নত মনে করেনা কিন্তু মুক্তাদী সেটাকে সুন্নত মনে করে, আর সেই কাজটা করলে ইমামের বিরোধীতা হয়না, এমন হলে সে কাজটা মুক্তাদী করতে পারবেন যদিও ইমাম সেটা না করে।


এই ব্যপারে যারা চরমপন্থ অবলম্বন করে, অর্থাৎ বলে - ইমাম না করলে রাউফুল ইয়াদাইন করা যাবেনা বা জোরে আমীন বলা যাবেনা - তারা না জেনে আন্দাজে ফতোয়াবাজি না করে, নিজ নিজ মাযহাবের ফিকহের কিতাব থেকে দেখে নিতে বলবেন।

রবিবার, ১৮ মে, ২০১৪

এফ এম মুফতিদের থেকে সাবধান



এফ এম মুফতিদের থেকে সাবধান!

আলেম হোক আর জালেম হোক, আজকাল টিভিতে ওয়াজ করে, ইউটিউবে ভিডিও ছেড়ে দিয়েই অনেকে নিজেকে বড় “ইমাম”, “মুফতি”, “মুহাদ্দিস” দাবী করছে!

ফেইসবুক ইন্টারনেট ইত্যাদি মাধ্যমে ভালো-মন্দ লিখে অনেকেই এখন “ইসলামিক সেলেব্রেটি” (অজ্ঞ দ্বাইয়ী) হিসেবে জনপ্রিয়…

অনেকে এমন জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে মনগড়া ফতুয়াবাজি শুরু করেছে…

কুরান, হাদীস, ইসলামী জ্ঞানে অভিজ্ঞ আলেম না হয়েই আজকাল মানুষ ফতোয়া দেওয়ার অধিকার দাবী করছে। এমনও আছে বাংলাতে কিছু কুরানের আয়াত বা হাদীসের অর্থ পড়েই ফতোয়া দিচ্ছে, ২-১ বছর ইফতা ডিগ্রী নিয়েই “মুফতি” সেজে বসে আছে!

ফতোয়াবাজির কিছু নমুনাঃ

Ø  দাড়ি রাখা সুন্নত, দাড়ি রাখা ফরয-ওয়াজিব কিছুনা। মানুষ এমনও বলে – দাড়ি রাখার প্রতি জোর দেওয়া কবীরা গুনাহ!
অথচ, চার মাযহাবের আলেমরা একমত হয়েছেন – দাড়ি রাখা এটা পুরুষদের জন্য শুধু ফরয-ওয়াজিবই না, এটা পৌরুষত্বের প্রতীক – শেইভ করা মুশরেক ও খারেজীদের কাজ!

Ø  আল্লাহর জন্য হলে গান-বাজনা জায়েজ! নাচানাচিও জায়েজ!
চরমোনাই, আটরশি, মাইজভান্ডারী ইত্যাদি পীরের মুরীদেরা এইগুলো নিয়ে বেশরমের মতো তর্ক-বিতর্কও করে!

Ø  নারী পুরুষের মাঝে খারাপ চিন্তা না আসলে(!) তারা দেখা-সাক্ষাত, মেলামেশা করতে পারে
বিষয়টা এমন - আমি মদ খাই কিন্তু মাতাল হইনা, সুতরাং মদ খাওয়া জায়েজ (নাউযুবিল্লাহ)।.
আর খারাপ চিন্তা আসেনা মানে? তুমি কি অসুস্থ নাকি অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক? সেকি তোমার মায়ের পেটের বোন? না হলে, তুমি কি তাকে মায়ের পেটের বোন মনে করো? তোমার জ্ঞাতার্থে জানাতে বাধ্য হচ্ছি – তোমার আগেও এমন কথা বহু মানুষ বলেছে – কিন্তু শেষমেষ ঐ ছেলে মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে গেছে, জেনা করেছে, মেয়ের পেটে বাচ্চাও এসেছে এমনও আছে, পরে মেয়ে এসে ফতোয়া জিজ্ঞেস করে ঐ বাচ্চা এবরশান করানো যাবে কিনা (উত্তর হচ্ছে, নাহ!) – খোজ নিয়ে দেখো সতর্ক হও – প্রবৃত্তির গোলামীকে প্রশ্রয় দিবানা।

এইরকম প্রবৃত্তির গোলামী করে যার মনগড়া কথা বলে, আলেম না হয়েও ফতোয়াবাজি করে আর হালালকে হারাম আর হারামকে হালাল বলে ফতোয়া দেয় তাদের জন্য এই আয়াতঃ

“আপনি কি তাকে দেখেন না, যে তার প্রবৃত্তিকে ‘ইলাহ’ হিসেবে (উপাস্যরূপে) গ্রহণ করে? তবুও কি আপনি তার যিম্মাদার হবেন”?
সুরা আল-ফুরক্বানঃ ৪৩।

এফ এম মুফতিদের মনগড়া ফতোয়াবাজির জন্য কঠর শাস্তিঃ

“তোমাদের মুখ থেকে সাধারনতঃ যেসব মিথ্যা বের হয়ে আসে তেমনি করে তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে বল না যে, এটা হালাল এবং ওটা হারাম। নিশ্চয় যারা আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা আরোপ করে, তাদের মঙ্গল হবে না। তারা যৎসামান্য সুখ-সম্ভোগ ভোগ করে নিক। তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি রয়েছে।”
সুরা নাহলঃ ১১৬-১১৭।

সর্বশেষ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একটা গুরুত্বপূর্ণ হাদীসঃ
“আমার উম্মতের জন্য আমি ৩টা জিনিসের ব্যপারে বেশি ভয় করি। তার মাঝে প্রথম হচ্ছেঃ আয়াম্মায়ে দ্বোয়াল্লিন বা পথভ্রষ্ট ইমাম।
মুসনাদে আহমাদ, হাদীসের সনদ সহীহ।

পথভ্রষ্ট বক্তা, আলেমদের ফেতনার ভয়াবহতা সম্পর্কে শায়খ সালেহ আল-ফাওজান বলেনঃ

“বর্তমান যুগে অন্য অনেক ফেতনার সাথে এই উম্মত সবচাইতে বড় যে ফেতনার সম্মুখীন সেটা হচ্ছে - অনেক দ্বায়ী আছে যারা ইলম ছাড়া অজ্ঞতাবশত মানুষকে গোমরাহী ও বাতিলের দিকে দিকে দাওয়াত দিচ্ছে।”

শনিবার, ১৭ মে, ২০১৪

আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত



তাবলীগ জামাত, জামাতে ইসলামী, চরমোনাই পীর ইত্যাদি দলের শিরক, বেদাত ও ভুলগুলো নিয়ে পোস্ট দিলে অনেকেই প্রশ্ন করেন…

“তাহলে কোন দলটি সঠিক?”

উত্তরঃ যদিও এই পোস্টটাই একটু বড় হয়ে গেছে, তারপরেও আপনারা যদি আমাদের আগের এই পোস্টটা না পড়ে থাকেন – তাহলে এটা পড়ে নিন – তাহলে এই পোস্টটা বুঝতে সহজ হবে।

https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/765496046816478

তাবেয়ীদের যুগ থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত, যুগে যুগে মুসলিম উম্মতের ৭৩টা দলের মাঝে একমাত্র সঠিক ও নাজাতপ্রাপ্ত দল হচ্ছে “আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের” অনুসারীরা।

“আহলে সুন্নত” – কথাটির অর্থ হচ্ছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর “সুন্নত বা আদর্শের” অনুসারী। নাজাতপ্রাপ্ত দলের লোকেরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেই তাদের “একমাত্র এবং চূড়ান্ত আদর্শ” বলে মনে করে, তার কথার বিপরীতে কোন ইমাম, দল, তরীকা, বুজুর্গ, মতবাদ কোন কিছুকেই গ্রহণ করেনা।

“ওয়াল জামাত” – কথাটি দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে সাহাবাদের জামাত ও তারা যেই আদর্শের উপর ছিলেন তার অনুসারী। নাজাতপ্রাপ্ত দলের লোকেরা ইসলামকে সেইভাবে গ্রহণ করে, কুরান ও সুন্নাহকে সেইভাবে ব্যাখ্যা করে, বুঝে ও আমল করে, যেইভাবে সাহাবারা করেছিলেন। কারণ - এই উম্মতের মাঝে দ্বীনের ব্যপারে সবচাইতে জ্ঞানী লোকেরা হচ্ছেন সাহাবারা। আর কুরানুল কারীমে আমাদেরকে আদেশ করা হয়েছে – সাহাবারা যেইভাবে ঈমান এনেছে সেইভাবে ঈমান আনার জন্য, সাহাবারা যেই তরিকার উপরে ছিলো সেইভাবেই ইসলাম পালন করার জন্য। এছাড়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সরাসরি সহীহ হাদীসে সঠিক দল কারা – এর উত্তরে বলেছেন যারা আমার ও আমার সাহাবাদের অনুসরণ করে তারা।    

এখানে একটা ব্যপার লক্ষণীয় – তাবলিগ জামাত, জামাতে ইসলামী, বেরেলভী কবর মাযার পূজারী, সূফীবাদী দেওবন্দী, পীর ফকির - এরা সবাইতো নিজেদেরকে হক্ক দাবী করে!! নিজেদেরকে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের অনুসারী মনে করে!!!

এইজন্যই কারো মুখের কথা বা শুধু আমল দেখেই বলা যায়না – কে হক্ক আর কে বাতিল। এই সবগুলো দলই যদি সঠিক হতো, তাহলেতো তাদের মাঝে এতো এতো তরীকা হতোনা – সবাই আলাদা ভাগ না হয়ে একটা দলই হতো।

তাই, মানুষের মুখের কথায় না ভুলে আপনাকে একটু যাচাই বাছাই করে দেখতে হবে – কিছু পড়াশোনা ও মেহনত করতে হবে, যারা নিজেদেরকে আহলে সুন্নত দাবী করছে – তারা আসলেই কুরান ও সুন্নাহ অনুযায়ী সঠিক।
________________________

বিভিন্ন দলের মাঝে যে তর্ক বিতর্ক হচ্ছে – এর মাঝে কারা আসলে হক্কপন্থী? নিচে প্রচলিত কিছু দল যারা নিজেদের হক্ক দাবী করে তাদের ব্যপারে আলোকপাত করা হলোঃ

কবর মাযার পূজারী ফেরকা – ইসলামে মাযার বানানোই হারাম (মুসলিম ও মুসনাদে আহমাদ), রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আদেশ করেছেন – উচু ও পাকা করা কোন কবর (মাযার) দেখতে পেলে সেটা ভেঙ্গে টুকরা টুকরা করে দাও – আর সেখানে মাযার পূজারীদের ধর্মই হচ্ছে মাযার বানিয়ে সেটার পূজা করা। যাদের আকীদা ও আমলে শিরকের ব্যপক প্রাদুর্ভাব – এরা আবার নিজেদের “সুন্নী আন্দোলন” নাম দেয়। আর যারা শিরক বেদাতের সমালোচনা করে তাদেরকে তারা ওহাবী বলে গালি দেয়!
__________________________

জামাতে ইসলামী – রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবন থেকে ইসলাম কায়েমের দুটি পথ পাওয়া যায় – দাওয়াত ও জিহাদ। কিন্তু, শিরকি পদ্ধতির (গণতন্ত্র) কাছে আত্মসমর্পণ করে – কুরান হাদীসের অপব্যখ্যা করে ইয়াহুদী-খ্রীস্টানদের পদ্ধতিতে ইসলাম কায়েম করতে হবে, এই কথা কুরান হাদীসের কোথায় আছে?
আর এদের মূল নেতা হচ্ছে – মওদুদী সাহেব – যিনি নিজে সারাজীবন গণতন্ত্রের বিরোধীতা করেছেন, গণতন্ত্রকে শিরক কুফর বলেছেন। কিন্তু তিনি নিজেই আবার শেষে এই গণতন্ত্রে গিয়ে তার অনুসারীদেরকে বিভ্রান্ত করেছেন। বর্তমানে তারা “ইসলামী গণতন্ত্র” নাম দিয়ে ইসলামের অপব্যখ্যা করে তাদের অনুসারীদেরকে বিভ্রান্ত করছে। মদের আগে যেমন “ইসলাম” শব্দটি বসিয়ে দিলেই সেটা হালাল হয়ে যায়না, ঠিক তেমনি গণতন্ত্রের মতো শিরকি ব্যবস্থার আগে ইসলাম বসিয়ে দিলেই সেটা জায়েজ হয়ে যায়না।

তারপর “ইসলামী রাজনীতি” নাম দিয়ে হরতাল, বিক্ষোভ, মিছিল ভাংচুর, না খেয়ে থাকা (রোযা দিবস), লাঠি নিয়ে বন্দুকের সামনে পাখির মতো গুলি খেয়ে মরা – আমি তাদের সবাইকে চ্যালেঞ্জ করলাম – যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো – কুরান ও হাদীস খুলে আমাকে দেখাও – কোথায় আছে, মুসলমানদের এইরকম কাফেরদের অনুকরণ করে এইগুলো করতে হবে? এছাড়াও, তাদের অনেক আকীদাই ও দৃষ্টিভঙ্গি আসলে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের বিপরীত।
_____________________

তাবলিগ জামাত – মানুষকে দাওয়াত দিতে হবে, তাবলীগ করতে হবে কুরান ও সুন্নাহর, এবং দাওয়াতের পদ্ধতি হতে হবে - নবী মুহা’ম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর তরীকা মোতাবেক।

কিন্তু জাল, জয়ীফ হাদীস আর বানোয়াট শিরকি বেদাতী বুজুর্গদের কিচ্ছা কাহিনী দিয়ে, মিথ্যা ফযীলতের ধোকা দিয়ে উম্মতকে ভুলিয়ে ইসলামের তাবলীগ করতে হবে এই কথা কুরান হাদীসের কোথায় আছে? এই তরীকা ইসলামের নয়, বরং এই তরীকা এসেছে তাদের দলের মূল প্রতিষ্ঠাতা, মাওলানা ইলিয়াস সাহেবের কাছ থেকে।

ইলিয়াস সাহেব নিজেই বলেছে – “আমার দলের শিক্ষা হবে আশরাফ আলী থানবীর (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নয়!) আর এই দলের তরীকা হবে আমার (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নয়!)”।

সে স্বপ্ন দেখেছে – আর সেই স্বপ্ন থেকে “চিল্লা” দেওয়ার তরীকা বের করে কোটি কোটি মুসলিমদেরকে চিল্লা দেওয়ানোর তরীকা আবিষ্কার করেছে। এইরকম চিল্লা দেওয়ার তরীকাটাই বেদাত – তার উপরে এই চিল্লাতে কুরান হাদীস বাদ দিয়ে আছে শুধু ফাজায়েলে! না কোন আকায়েদ, না আছে ফিকহ!

এই ফাজায়েলে আমলের একটা শিরকি কাহিনী তুলে ধরছি। তাবলীগ জামাতের লোকেরা তাদের অনুসারীদের যে বই পড়তে দেয় তার মাঝে একটা হলো “ফাযায়েলে সাদাকাত”।

ফাযায়েলে সদাকাতের ২৪নং শিরোনামে জনাব জাকারীয়া সাহেব “কবরে গিয়ে মৃত ব্যক্তির কাছে কোন কিছু চাওয়া বা দুয়া করার” শিক্ষা দিচ্ছেন – কবরে গিয়ে মৃত ব্যক্তির কাছে চাওয়াই হচ্ছে কবর পূজার মূল শিক্ষা।

“মিশরে একজন নেক বখত লোক ছিলেন। অভাব গ্রস্থ হইয়া কোন লোক তাহার নিকট আসিলে তিনি চাঁদা উসুল করিয়া তাহাকে দিয়া দিতেন। একদা জনৈক ফকীর আসিয়া বলিল আমার একটা ছেলে হইয়াছে। তাহার এছলাহের ব্যবস্থার জন্য আমার নিকট কিছুই নাই। এই ব্যক্তি উঠিল ও ফকীরকে অনেক লোকের নিকট লইয়া গিয়াও ব্যর্থ হইয়া ফিরিল। অবশেষে নৈরাশ হইয়া একজন দানবীর ব্যক্তির কবরের নিকট গিয়া সমস্ত কথা তাহাকে শুনাইল। অতঃপর সেখান হইতে ফিরিয়া নিজের পকেট হইতে একটা দীনার বাহির করিয়া উহাকে ভাঙ্গাইয়া অর্ধেক নিজে রাখিল ও বাকী অর্ধেক ফকীরকে কর্জ দিয়া বলিল ইহা দ্বারা প্রয়োজন মিটাও। আবার তোমার হাতে পয়সা আসিলে আমার পয়সা আমাকে দিয়া দিও। রাত্রি বেলায় সেই লোকটি কবরওয়াকে স্বপ্নে দেখিল যে সে বলিতেছে আমি তোমার যাবতীয় অভিযোগ শুনিয়াছি কিন্তু বলিবার অনুমতি দেওয়া হয় নাই। তুমি আমার ঘরে গিয়া পরিবারস্থ লোকদিগকে বল ঘরের অমুক অংশে যেখানে চুলা রহিয়াছে, উহার নীচ একটা চীনা বরতনে পাঁচ শত আশরাফী রহিয়াছে তাহারা যেন উহা উঠাইয়া সেই ফকীরকে দিয়া দেয়। ভোর বেলায় সেই কবরওয়ালার বাড়ীতে গেল ও তাহাদিগকে তাহার স্বপ্নের কথা শুনাইল। তাহারা বাস্তবিকই সেখান হইতে পাঁচশত আশরাফী উঠাইয়া ফকীরকে দিয়া দিল। লোকটি বলিল ইহা একটি স্বপ্ন মাত্র। শরীয়ত মতে ইহাতে আমল জরুরী নয়। তোমরা ওয়ারিশ হিসাবে ইহা তোমাদের হক্ব। তারা বলিল, বড়ই লজ্জার ব্যাপার, তিনি মৃত হইয়া দান করিতেছেন আর আমরা জীবিত হইয়াও দান করিব না? অতএব সে টাকা লইয়া ফকীরকে দিয়া দিল ফকীর সেখান হইতে একটা দীনারের অর্ধেক নিজে রাখিল ও অর্ধেক তাহার ঋণ পরিশোধ করিল, তারপর বলিল আমার জন্য একদীনারই যথেষ্ট বাকীগুলি দিয়া আমি কি করিব? সে ঐ গুলি ফকীরদের মধ্যে বণ্টন করিয়া দিল। ছাহেবে এতহাফ্ বলেন, এখানে চিন্তা করিবার বিষয় এই যে সবচেয়ে বড় দাতা হইল কে? কবর ওয়ালা না তার ওয়ারিশান? না ফকীর? আমাদের নিকটতো ফকীরই সবচেয়ে বড় দাতা, সে যেহেতু নিজে ভীষন অভাব গ্রস্থ হওয়া সত্ত্বেও অর্ধেক দীনারের বেশী নিল না।”
ফাজায়েলে সাদাকাত ২য় খণ্ড-৩৯৩ পৃঃ।

এইরকম - অসংখ্য ভুয়া শিরকি কাহিনী দিয়ে তাবলীগ জামাতের লোকেরা তালীম করে আর নিজেদেরকে হক্ক দাবী করে।
______________________

পীর, ফকির – পীর ফকিরেরা “আল্লাহর ওয়ালী” দাবী করে তার মুরীদদের জান্নাতে নেওয়ার গ্যারান্টি দেয়! তারা গায়েব জানে, তাদের কবরের আযাব থেকে বাচাবে, ঈমানের সহিত মৃত্যু হবে, কেয়ামতে জান্নাতে নিয়ে যাবে – এইরকম মিথ্যা ধোকা দিয়ে সাধারণ সরলমনা লোকদের মুরীদ বানায় আর তাদেরক কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা খায়!

অনেকে বলে হাক্কানী পীর ভালো, ভণ্ড পীর খারাপ!

হাক্কানী পীরেরাই সূফীবাদ নাম দিয়ে জঘন্য শিরকি কুফুরি কথা-বার্তা বলে, মানুষের মাঝে প্রচার করে, জান্নাতের গ্যরান্টি দেয় মুরীদদের, বাশ ধরে নাচা, বাশের উপরে উঠে বানরের মতো ঝুলে থাকে আর দাবী করে এইভাবে নাকি তারা মাওলাকে পেয়ে গেছে…হাক্কানী পীরদের মাঝেই এতো ভন্ডামি তাহলে চিন্তা করে দেখুন, ভন্ড পীরেরা কত বড় ভন্ড!  

তথাকথিত এক হাক্কানী পীর চরমোনাই সম্পর্কে জানতে এই পোস্ট দেখুন –



সর্বশেষঃ আমাদের করণীয় – আমাদের উচিত নির্ভরযোগ্য আলেম দ্বীনদের কাছ থেকে সত্যিকারে দ্বীন শেখা, কুরান ও হাদীস শিক্ষা করা, সেই অনুযায়ী জীবন গড়ার জন্য সর্বাত্বক চেষ্টা করা, সমস্ত প্রকার শিরক, বেদাত, পাপাচার ও ভ্রান্ত ফেরকা বা দলগুলো থেকে দূরে থাকা। আল্লাহ আমাদের সকলে সেই তোওফিক দান করুন – আমিন। 

শুক্রবার, ১৬ মে, ২০১৪

বিবর্তন মতবাদ একটি “কুফুরী” মতবাদ



বিবর্তন মতবাদ একটি কুফুরী মতবাদঃ
রাসুলু্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘প্রতিটি সন্তান ইসলামের ওপর জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু তার পিতা-মাতা তাকে ইহুদি, খ্রিস্টান কিংবা পৌত্তলিক অর্থাৎবিপথগামী বানায়।’’ সুনানে আত-তিরমিজি।
.
মুসলিমদের ঘরে জন্মগ্রহণকারী প্রতিটি বাবা-মায়ের উপর ফরয দায়িত্ব হচ্ছে ছোট থেকেই সন্তানদেরকে ঈমান শিক্ষা দেওয়া, ইসলাম শিক্ষা দেওয়া, যাতে করে বড় হয়ে তারা আল্লাহর অনুগত বান্দা হয়ে জীবন পরিচালনা করতে পারে। সন্তানদেরকে ছোটবেলা থেকে ইসলাম শিক্ষা না দিলে, কুরআন ও সুন্নাহ শিক্ষার আলোয় আলোকিত না করলে স্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে তারা বেনামাযী, ফাসেক (পাপীষ্ঠ), এমনকি কাফের, মুশরেক বা নাস্তিক হয়ে যেতে পারে। সেইজন্য, সন্তানদেরক ছোট থেকেই কুরআন ও হাদীস শিক্ষা দিয়ে ইসলামের উপরে গড়ে তুলতে হবে, এবং যাবতীয় শিরক, কুফর ও কবীরাহ গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার জন্যে ট্রেনিং দিয়ে গড়ে তুলতে হবে।
.
বলা হয়ে থাকে, আমাদের দেশের শতকরা ৮৫ ভাগ মানুষ হচ্ছে মুসলমান। অথচ, দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই দেশের স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মুসলমান সন্তানদেরকে ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক, যেইগুলো বিশ্বাস করলে মানুষের ঈমান নষ্ট হয়ে মুর্তাদ হয়ে যাবে, এমন ভ্রান্ত মতবাদ শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এটা আসলে কাফের-মুশরেক ও নাস্তিকদের একটা ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র। বিজ্ঞান, ফিলোসফি, সাহিত্য শিক্ষা দেওয়ার নামে সিলেবাসে এমন বিষয়বস্তু ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা ইসলামের সাথে সম্পূর্ণ বিপরীত। এমনই একটা ভ্রান্ত মতবাদ হচ্ছেঃ বিবর্তন মতবাদ।
.
বিবর্তন মতবাদ অনুযায়ী মানুষ সৃষ্টি হয়েছে বানর জাতীয় একটা প্রাণীর ধীরে ধীরে পরিবর্তনের মাধ্যমে। আগে বানরের মতো একটা প্রাণী ছিলো, এই দুনিয়াতেইআস্তে আস্তে তারা পরিবর্তিত হয়ে মানুষের মতো রূপ ধারণ করে। এই মতবাদ সম্পূর্ণ কুরআন বিরোধী। কুরআনুল কারীম অনুযায়ীঃ আল্লাহ মানুষকে সরাসরি মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, সেটা এই দুনিয়াতে নয়, জান্নাতে। আল্লাহ তাআ'লা প্রথম আদম আলাইহিস সালাম-কে সৃষ্টি করে জান্নাতে বসবাস করতে দেন তার স্ত্রী হাওয়া আলাইহিস সালাম-এর সাথে। পরে তারা উভয়ে নিষিদ্ধ বৃক্ষ খেলে তাদেরকে দুনিয়াতে পাঠান।
আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন, আমি মানুষকে পচা কাদামাটি থেকে তৈরী শুস্ক ঠনঠনে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছি। এবং জিনকে এর আগে লু এর আগুনের দ্বারা সৃজিত করেছি। আর আপনার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদেরকে বললেনঃ আমি পচা কর্দম থেকে তৈরী বিশুষ্ক ঠনঠনে মাটি দ্বারা সৃষ্ট একটি মানব জাতির সৃষ্টি করব। অতঃপর যখন তাকে ঠিকঠাক করে নেব এবং তাতে আমার রূহ থেকে ফুক দেব, তখন তোমরা তার সামনে সেজদায় পড়ে যেয়ো। সুরা আল-হিজরঃ ২৬-২৯।
এই আয়াতগুলো থেকে স্পষ্ট, আল্লাহ আদম আলাইহিস সালাম-কে সৃষ্টি করেছেন সরাসরি মাটি থেকে, অন্য কোন কিছু থেকে নয়। এছাড়া বিবর্তনবাদের মূল বক্তব্যে, সমগ্র জীব জগত কারো বিশেষ সৃষ্টি, এই কথাটাকেই অস্বীকার করা হয়েছে। বিবর্তনবাদীদের মতে মানুষ, গাছ,পশু-পাখি এইগুলো এমনি এমনি সৃষ্টি হয়ে গেছে, এইগুলো আসলে প্রাকৃতিকভাবেই সৃষ্টি হয়েছে
.
বায়োলজিক্যাল সাইন্স ও মেডিকেলে অধ্যায়নরত ভাই-বোনেরা সাবধান!
কুরআন হাদীস সম্পর্কে অজ্ঞ, বিবেক-বুদ্ধি হারিয়ে কাফেরদের কুফুরী মতবাদে অন্ধবিশ্বাসী কলেজ-ইউনিভার্সিটির শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কথা শুনে বিবর্তনবাদের মতো স্পষ্ট কুফুরী মতবাদের কবলে পড়ে ঈমানহারা হবেন না। আপনার বুঝে আসুক, আর না আসুক, দুনিয়ার মানুষ যদি কুরআনের বিপক্ষে ১০০০টা যুক্তি প্রমান উপস্থাপন করুক না কেনো, একজন মুসলিম হিসেবে আপনি কুরআনের কথা বিশ্বাস করতে বাধ্য। কারণ, কুরআন কোন মানুষের রচনা নয়। এই কুরআন সমস্ত সৃষ্টিজগতের স্রষ্টা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত, যিনি এই পুরো পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন, যিনি সর্বজ্ঞানী। কেউ যদি মনে করে কুরআনের একটা শব্দ বা অক্ষর ভুল, এমনকি কেউ যদি সন্দেহ করে, তাহলে সে কাফের ও মুর্তাদ হয়ে যাবে।
আর যদি বিজ্ঞান, বিবেক, যুক্ত-প্রমান এর কথা বলেন, বিবর্তবাদ বিশ্বাস করতে পারে একমাত্র তারাই যাদের আকল (বুদ্ধি) লোপ পেয়েছে বা mentally retard শুধুমাত্র তারাই।
.
দুনিয়ার সবচাইতে বড় মূর্খতা হচ্ছে বিবর্তনাবাদ ও নাস্তিকতা। নাস্তিকরা গরু পূজারী মুশরিকদের চাইতেও নিকৃষ্ট। কারণ, যারা গরুর পূজা করে তারাও ইলাহ, মাবূদ বা সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকার করেনা। কিন্তু তারা ভুল ইলাহর উপাসনা করে। কিন্তু হায় আফসোস! বিবর্তনবাদীরা নাস্তিকরা তাদের সৃষ্টিকর্তাকেই চিনতে পারেনি! সৃষ্টিকর্তাকে না চেনার কারনে সৃষ্টিকর্তার তুচ্ছ এক সৃষ্টি, প্রকৃতি বা আকাশ-বাতাসকেই তাদের মাবূদ হিসেবে বানিয়ে নিয়েছে।
.
নাস্তিকদের উদ্দেশ্যে আল্লাহর প্রশ্নঃ
তারা কি এমনি এমনিই সৃষ্টি হয়েছে, না তারা নিজেরাই তাদের স্রষ্টা? সুরা তুরঃ ৩৫।
.
আপনি জেনে আশ্চর্য হবেন যে, বিবর্তনবাদী নাস্তিকরা, আসলে এই দাবী করতে চায়ঃ তারা এমনি এমনিই সৃষ্টি হয়েছে, তাদেরকে কেউ সৃষ্টি করেনি। অবশ্য যাদের মধ্যে মূর্খতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছেছে, তাদের কেউ কেউ এমনও দাবী করে থাকে যে, তারা নিজেরাই তাদের স্রষ্টা। এমন বিবেক বর্জিত প্রবৃত্তি পূজারীরা পশুর চাইতে নিকৃষ্টঃ
(১) আল্লাহ্ তাআলা বলেন, আর আমি সৃষ্টি করেছি জাহান্নামের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ। তাদের অন্তর আছে, কিন্তু তার দ্বারা তারা চিন্তা-ভাবনা করে না, তাদের চোখ আছে কিন্তু তার দ্বারা তারা দেখেনা, আর তাদের কান আছে কিন্তু তার দ্বারা তারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তাদের চাইতেও নিকৃষ্টর। তারাই হল উদাসীন ও শৈথিল্যপরায়ণ। সুরা আল-আরাফঃ আয়াত ১৭৯।
(২) যে ব্যক্তি শুধুমাত্র নিজের হাওয়া বা কামনা-বাসনা ও কুপ্রবৃত্তি দ্বারা পরিচালিত হবে, তার উপমা হচ্ছে চতুষ্পদ জন্তুর মতো নির্বোধ, যারা উত্তম কথা শুনেওনা, বুঝেওনা। আল্লাহ্ তাআলা আরো বলেছেন, আপনি কি তাকে দেখেন না, যে ব্যক্তি তার প্রবৃত্তিকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছে? তবুও কি আপনি তার যিম্মাদার হবেন? আপনি কি মনে করেন যে, তাদের অধিকাংশ কথা শোনে অথবা বুঝতে পারে? তারা তো চতুষ্পদ জন্তুর মতোই; বরং তার চাইতেও পথভ্রষ্ট। সুরা আল-ফুরক্বানঃ আয়াত ৪৩-৪৪।

#নাস্তিকতা_একটি_মানসিক_ব্যাধি

জীবন আলোকিত করার জন্য যেই দুয়া পড়তে হয়…



জীবন আলোকিত করার জন্য যেই দুয়া পড়তে হয়…

আমরা কাউকে ধার্মিক মনে করলে বলি “নূরানী” বা আলোকিত। কেয়ামতের দিন ঈমানদারদের সামনে ও পেছনে সত্যিই নূরান্বিত থাকবে। মহান আল্লাহ বলেনঃ

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ তা’আলার কাছে তওবা কর, আন্তরিক তওবা। আশা করা যায়, তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মন্দ কর্মসমূহ মোচন করে দেবেন এবং তোমাদেরকে প্রবেশ করাবেন এমন জান্নাতে, যার তলদেশ দিয়ে নদী প্রবাহিত। সেদিন আল্লাহ নবী এবং তাঁর বিশ্বাসী সহচরদেরকে অপদস্থ করবেন না। তাদের নূর তাদের সামনে ও ডানদিকে ছুটোছুটি করবে। তারা বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের নূরকে পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয় আপনি সবকিছুর উপর সর্ব শক্তিমান।”
সুরা তাহরীমঃ ৮।

আমাদের অন্তর, জ়ীবন যাতে করে আল্লাহ নূর দান করেন তার জন্য একটা দুয়া আছে, যা প্রত্যেকবার মসজিদে যাওয়ার সময় পড়া সুন্নত। তাই ভাইদের উচিত এই দুয়াটা মুখস্থ করা এবং মসজিদে যাওয়ার সময় প্রত্যেকবার পড়া। আর যেই সমস্ত বোনদের মসজিদে যাওয়ার সুযোগ নেই, তারাও মুখস্থ করে সুন্দর এই দুয়াটা পড়তে পারেন মুনাজাতের সময়।

মসজিদে যাওয়ার সময় দুয়াঃ

اللّهُـمَّ اجْعَـلْ في قَلْبـي نورا ، وَفي لِسـاني نورا، وَاجْعَـلْ في سَمْعي نورا، وَاجْعَـلْ في بَصَري نورا، وَاجْعَـلْ مِنْ خَلْفي نورا، وَمِنْ أَمامـي نورا، وَاجْعَـلْ مِنْ فَوْقـي نورا ، وَمِن تَحْتـي نورا .اللّهُـمَّ أَعْطِنـي نورا

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মাজআ’ল ফী ক্বালবী নূরান, ওয়া ফী লিসানী নূরান, ওয়াজআ’ল ফী সাম্‘য়ী নূরান, ওয়াজআ’ল ফী বাসারী নূরান, ওয়াজআ’ল মিন খলফী নূরান, ওয়া মিন আমামী নূরান, ওয়াজআ’ল মিন ফাওকী নূরান, ওয়া মিন তাহ্‌তী নূরান, আল্লা-হুম্মা আ‘তিনী নূরান।

অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি আমার অন্তরে নূর (বা আলো) দান করুন, আমার যবানে নূর দান করুন, আমার শ্রবণশক্তিতে নূর দান করুন, আমার দর্শনশক্তিতে নূর দান করুন, আমার সামনে নূর দান করুন, আমার পেছনে নূর দান করুন, আমার উপরে নূর দান করুন, আমার নীচে নূর দান করুন। হে আল্লাহ! আমাকে নূর দান করুন।
সহীহ মুসলিমঃ ৭৬৩।

অডিও শুনুন এইখানেঃ-


https://www.youtube.com/watch?v=UOakQCrn2dg