শনিবার, ২১ জুন, ২০১৪

ভয়ংকর গোপন শিরকঃ- “রিয়া” বা লোক দেখানো ইবাদত



ভয়ংকর গোপন শিরকঃ- “রিয়া বা লোক দেখানো ইবাদত

আপনি বলুনঃ নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কোরবানি এবং আমার জীবন ও মৃত্যু - বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য।
সুরা আল-আনআমঃ ১৬২।

আপনি বলুনঃ আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ। আমার কাছে ‘ওয়াহী করা হয় যে, তোমাদের ইলাহ হচ্ছেন ‘একমাত্র ইলাহ। অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন নেক আমল করে এবং তার পালনকর্তার ইবাদতে কাউকে শরীক না করে।
সুরা আল-কাহফঃ ১১০।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
আমি তোমাদের ব্যাপারে ছোট শিরক থেকে খুব ভয় করছি। সাহাবীরা বললেন – ইয়া রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ছোট শিরক কি? রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তা হলো “রিয়া বা লোক দেখানো ইবাদত। যেদিন আল্লাহ তাআলা বান্দাদের আমলের পুরস্কার প্রদান করবেন, সেদিন রিয়াকারীদেরকে বলবেনঃ যাও, দুনিয়াতে যাদেরকে দেখানোর জন্য আমল করতে, তাদের কাছে যাও। দেখো তাদের কাছ থেকে কোনো পুরস্কার পাও কিনা?”
মুসনাদে আহমাদ, সহীহ ইবনে খুজায়মা, হাদীসটি সহীহ – শায়খ আলবানী।

কোনো কিছু করার ইচ্ছাকে ইসলামে “নিয়ত বলা হয়। নিয়ত ভালো ও খারাপ, দুটোই হতে পারে। কোন ব্যক্তি যখন শুধুমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু তাআলার উদ্দেশ্যে কোনো ইবাদত করে সেটাকে “ইখলাস বলা হয়। আর কেউ যখন লোক দেখানো বা অন্য কোনো উদ্দশ্যে হাসিলের জন্য “ইবাদত করে, যেমন- দুনিয়াবী কোন স্বার্থ হাসিল করা, টাকা পয়সা পাওয়া, আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে খুশি করা, মানুষ ধার্মিক বলুক বা প্রশংসা করুক, এমন খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে কোন ইবাদত করলে সেটাকে “রিয়া বলা হয়। সহজ ভাষায় – রিয়া হচ্ছে লোক দেখানো ইবাদত করা।

নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত, ইসলাম বিষয়ক কিতাব লেখা, ব্লগে ইসলামিক আর্টিকেল লেখা - যেকোনো ইবাদত আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি বা উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে করলে সেটা আল্লাহ তাআলা কস্মিনকালেও কবুল করবেন না। বরং, এইরকম লোকদেখানো বা অন্যকে খুশি করার জন্য ইবাদত করার কারণে এটা – “শিরক এবং এর প্রতিদানে সে যদি তোওবা না করে তাহলে তাকে কঠোর শাস্তি দিবেন। এর জন্য পূর্বেকার সলফে সালেহীনগন কোনো আমল করার পূর্বে ভালোভাবে চিন্তা করতেন তাদের “নিয়ত বিশুদ্ধ আছে কিনা বা ইবাদতে ‘ইখলাস আছে কিনা। উল্লেখ্য রিয়া একপ্রকার শিরক, কিন্তু এটা শিরকে আসগার বা ছোট শিরক। ছোট শিরক মারাত্মক কবীরা গুনাহ, তবে কেউ ছোট শিরক করলে সে মুশরেক, কাফের বা চির জাহান্নামী হয়না। ছোট শিরকের হুকুম হচ্ছে – এটা যদি কেউ করে তাহলে সে বড় গুনাহগার হলো, তোওবা করলে মাফ পাবে, আর তোওবা না করেই মারা গেলে যতই নেককার হয়ে থাকুক না কেনো কেয়ামতের দিন ছোট শিরকে লিপ্ত হওয়ার কারণ আল্লাহ তাকে জাহান্নামে শাস্তি দিবেন। তবে কাফের, মুশরেকের মতো চিরজাহান্নামী না হয়ে শাস্তি মোচন হলে সে জান্নাতে যাবে।

ইখলাস না থাকলে তার পরিণতি কি হবে সেটা আল্লাহ পাক কোরআনুল কারীমে উল্লেখ করেছেনঃ

(আমি ছাড়া অন্যের সন্তুষ্টির জন্য) তারা যেসব আমল করবে, আমি তাদের কৃতকর্মের প্রতি মনোনিবেশ করব, অতঃপর সেইগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করে দেব।
সুরাহ আল-ফুরকানঃ ২৩।

কিয়ামতের দিন ‘রিয়াকারী বা লোক দেখানো আমলকারীর বিচার সবার প্রথম হবেঃ

কিয়ামতের দিন প্রথমে যেসব লোকের বিচার করা হবে তাদের মধ্যে একজন হচ্ছে ‘শহীদ ব্যক্তি। তাকে উপস্থিত করে আল্লাহ তাঁর নেয়ামতসমূহ স্মরণ করিয়ে দিবেন। সে তা স্বীকার করবে। অতঃপর, আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করবেন আমার দেয়া নেয়ামতের বিনিময়ে তুমি কি আমল করেছ? উত্তরে সে বলবেঃ আমি আপনার দেওয়া নেয়ামতের বিনিময়ে আপনার রাস্তায় জিহাদ করে শহীদ হয়েছি। আল্লাহ বলবেনঃ তুমি মিথ্যা বলছে; বরং তুমি এই উদ্দেশ্যে জিহাদ করে শহীদ হয়েছিলে যাতে করে লোকেরা তোমাকে শহীদ বলে আখ্যায়িত করে। পৃথিবীতে তা বলা হয়ে গেছে। অতঃপর তাকে মুখের উপর উপুড় করে টেনে হিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

অতঃপর, এমন একজন ‘আলেমকে উপস্থিত করা হবে যে দ্বীনি ইলম অর্জন করেছে এবং মানুষকে তা শিক্ষা দিয়েছে এবং কুরআন পাঠ করেছে। অতঃপর তাকে আল্লাহর নেয়ামতসমূহ স্মরণ করানো হবে। সেও তা স্বীকার করবে। আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করবেনঃ আমার দেয়া নেয়ামতের বিনিময়ে তুমি কি আমল করেছ? সে বলবেঃ আমি আপনার দেওয়া নেয়ামতের বিনিময়ে দ্বীনি ইল্ম অর্জন করেছি, অন্যকে তা শিক্ষা দিয়েছি এবং আপনার জন্যে কুরআন পাঠ করেছি। আল্লাহ বলবেনঃ তুমি মিথ্যা বলছো; বরং তুমি এই জন্যে বিদ্যা শিক্ষা করেছিলে যাতে করে মানুষ তোমাকে আলেম বলে। আর এই জন্যে কুরআন পাঠ করেছিলে যাতে লোকেরা তোমাকে কারী বলা হয়। পৃথিবীতে তোমাকে এই সব বলা হয়ে গেছে। এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপের আদেশ দেয়া হবে। অতঃপর নাক ও মুখের উপর উপুড় করে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

এরপর ঐ ব্যক্তিকে আনা হবে যাকে আল্লাহ নানারকম ধন-সম্পদ দান করেছিলেন। আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করবেন, আমার দেয়া নেয়ামতের বিনিময়ে তুমি কি আমল করেছ?
সে বলবেঃ আপনি যেসমস্ত পথে খরচ করা পছন্দ করেন তার কোন পথই আমি বাদ দেইনি, সকল পথেই খরচ করেছি। আল্লাহ বলবেনঃ তুমি মিথ্যা বলছো; বরং তুমি এই জন্য খরচ করেছো যাতে করে মানুষ তোমাকে ‘দানশীল বলে। পৃথিবীতে তোমাকে তা বলা হয়ে গেছে। অতঃপর তাকে মুখ ও নাকের উপর উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপের আদেশ দেয়া হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
সহীহ মুসলিমঃ কিতাবুল ইমারাহ।

রাসূলে আকরাম (সাঃ) বলেছেনঃ
কিয়ামাতের দিন যখন আল্লাহ তায়ালা তাঁর সত্ত্বার কিয়দংশ উন্মোচিত করবেন, তখন ঈমানদার নারী-পুরুষগণ সকলেই তাঁর সম্মুখে সিজদায় পড়ে যাবে। তবে সিজদা থেকে বিরত থাকবে কেবল ঐ সমস্ত লোক, যারা দুনিয়াতে মানুষকে দেখানোর জন্য ও প্রশংসা পাওয়ার জন্য সিজদা (সালাত আদায়) করতো। তারা সিজদা করতে চাইবে বটে, কিন্তু তাদের পিঠ ও কোমর কাঠের তক্তার মত শক্ত হয়ে যাবে।
বুখারী, মুসলিম, মিশকাতঃ ৫৩০৮।

ইচ্ছায বা অনিচ্ছায় যেকোনো শিরক থেকে বাঁচার গুরুত্বপূর্ণ একটা দুয়াঃ
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) শেখানো একটা দুয়া আছে, কেউ যদি প্রতিদিন সকাল বিকাল একবার করে পড়েন, তাহলে আশা করা যায় আল্লাহ তাকে শিরক থেকে হেফাজত করবেন।
আপনি কি জানেন, সেই দুয়াটা কি? 
দুয়াটা হচ্ছেঃ

اللَّهُمَّ  إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لاَ أَعْلَمُ

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আউযুবিকা আন উশরিকা বিকা ওয়া আনা আলাম, ওয়া আস-তাগফিরুকা লিমা লা আলাম।
অনুবাদঃ হে আল্লাহ! আমার জানা অবস্থায় তোমার সাথে শিরক করা থেকে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আর আমার অজানা অবস্থায় কোনো শিরক হয়ে গেলে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
আহমাদ ৪/৪০৩, হাদীসটি সহীহ, সহীহ আল-জামে ৩/২৩৩।
হিসনুল মুসলিমঃ পৃষ্ঠা ২৪৬।

শিরক থেকে বাচার উপায় জানার জন্য পুরো পোস্ট দেখুন এই লিংকেঃ-

http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/04/blog-post_17.html

রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য এই লেকচারটা দেখুনঃ


https://www.youtube.com/watch?v=TQ0P0rWx56g

শুক্রবার, ২০ জুন, ২০১৪

‘উসীলা’ নিয়ে পীরদের মিথ্যা তাফসীর


‘উসীলা’ কি?

পীর, ফকির, মাযারওয়ালা, সূফী তরিকত আর মারেফতী লোকেরা যেইভাবে কুরানের আয়াতের মিথ্যা তাফসীর করেঃ

মহান আল্লাহ বলেছেনঃ
“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর (অর্থাৎ পরহেযগার হও), তাঁর নৈকট্য অর্জনের জন্য ‘ওসীলা’ অন্বেষণ কর এবং তাঁর পথে জিহাদ কর যাতে তোমরা সফলকাম হও।”
সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ৩৫।

‘উসীলা’ শব্দের তাফসীরঃ
ইমাম ইবনে কাসীর (রহঃ) তার জগত বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, তাফসীরের ব্যপারে সবচেয়ে জ্ঞানী সাহাবী, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ
“ওসীলা অর্থ হচ্ছে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য মাধ্যম।”
আর সেই মাধ্যম হচ্ছে, বান্দার ঈমান ও নেক আমল যেমন- নামায, রোযা, দুয়া…ইত্যাদি। নিজের ঈমান মজবুত করে, বেশি বেশি নেক আমল করে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারে।

‘নেক আমল’ – যেমন সহীহ আল-বুখারীর হাদীসে আছে, ৩ জন যুবক গুহায় আটকা পড়লে তারা প্রত্যেকে নিজের নেক আমলের উসীলা দিয়ে আল্লাহর কাছে দুয়া করেছিলো, এবং এর মাধ্যমে তারা বিপদ থেকে উদ্ধার পেয়েছিলো।

পক্ষান্তরে, মিথ্যুক পীর সাপেরা নিজেদের বিনা পূজির বংশগত ‘পীরাতির’ জমজমাট ব্যবসার জন্য – কুরানের এই আয়াতে ‘উসীলার’ মিথ্যা, বানোয়াট, মনগড়া তাফসীর করে। তারা বলে, এইখানে উসীলা অর্থে হচ্ছে – পীর বা কোন আল্লাহর অলী। আল্লাহর নৈকট্য পাওয়ার জন্য আমাদেরকে পীর ধরতে হবে, কোন না কোন একজন পীরের মুরীদ হতেই হবে! পীর/অলী ধরা ফরয, তাদেরকে উসীলা দিয়ে আমাদেরকে জান্নাতে যেতে হবে??

এইরকম বানোয়াট তাফসীর করে – এই পীরেরা আল্লাহর অলী হওয়ার দাবী করে, এবং এইভাবে তাদেরকে উসীলা দিয়ে মুরীদেরা জান্নাতে যাবে – এইরকম ধোকা দেয় তাদের মুরীদদের। যেমন, হাক্কানী পীর দাবিদার, চরমোনাই পীর সাহেব তার কিতাবে লিখেছেঃ
“এরূপভাবে পরকালেও তাঁহাদের (ওলীদের) ক্ষমতার সীমা থাকিবে না। হাশরের মাঠে একজন আওলিয়ায়ে কেরামের ‘উসীলায়’ হুজুর ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া ছাল্লামের হাজার গুনাহগার উম্মতকে আল্লাহ্ পাক মাফ করিয়া দিবেন।
আশেক মাশুক, পৃঃ ৮১।

নোট – নবী-রাসুলরাই ইয়া নফসী ইয়া নফসী করবে নিজেদের চিন্তায় – আর ভুয়া কথা বলে আওলিয়ার উসীলায় হাজার হাজার লোক মাফ করে দিবেন? মাফ করার মালিক আল্লাহ, এখানে বলছে নবী (সাঃ) নাকি মাফ করিয়া দিবেন?? এই লোকটার মাথা ঠিক আছে কিনা সন্দেহ। একেতো জাল কথা বলে পীরপূজায় লাগাতে চায়, আর নবী মাফ করার মালিক, এই শিরকি কথা বলে বেড়ায়?

কথিত হাক্কানী পীর চরমোনাই সাহেব মুরীদ বাড়ানোর জন্যে যেইভাবে তার মুরীদদের ব্রেইন ওয়াশ করেঃ
“বান্দা অসংখ্য গুণাহ করার ফলে আল্লাহ্ পাক তাহাকে কবুল করিতে চাননা। পীর সাহেব আল্লাহ্ পাকের দরবারে অুননয় বিনয় করিয়া ঐ বান্দার জন্য দুআ করিবেন, যাহাতে তিনি তাহাকে কবুল করিয়া নেন।
ভেদে মারেফতঃ ৩৪ পৃঃ।

নোট – ডাইরেক্ট কুরান, হাদীস ও ইজমা বিরোধী কথা। কেউ ১০০টা খুন করেও যদি তোওবা করে তাকেও আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ সুরা যুমারে বলছেন, যারা অনেক বেশী যুলুম (পাপ) করে ফেলেছো তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবেনা, এমনও বলেছেন – তোমরা আমাকে ডাকো আমি ডাকে সাড়া দেবো – আর এই পীর সাহেব নামের লোকটা বিনা দলীলে বলে – আল্লাহ নাকি তোওবা কবুল করতে চান না? তাদের মতো ধর্মব্যবসায়ীরা দুয়া করলে আল্লাহ নাকি তোওবা কবুল করবে। এর পরেও অন্ধ পীর ভক্তদের চোখের পর্দা সড়েনা?

পীর ধরতে হবে, কুরান হাদীসে এমন কোন কথা নাই – সুরা মায়েদার ৩৫ নাম্বার আয়াতে ‘উসীলার’ মিথ্যা তাফসীর করে সূফীবাদী লোকেরা কোটি কোটি লোকদেরকে মুরীদ বানিয়ে তাদের টাকা খাচ্ছে – বিনিময়ে মারাত্মক রকমের এই বেদাতীরা সরলমনা মুসলমানদেরকে শিরক বেদাত শিক্ষা দিয়ে তাদের ঈমান নষ্ট করছে।

উসীলা নিয়ে বিস্তারিত আরো দেখুন এই পোস্টে –


http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/03/blog-post_334.html

জিনদের নাম, পরিচয় ও তাদের কাজঃ


জিনদের নাম, পরিচয় ও তাদের কাজ
মানুষ যেই জিনিস সম্পর্কে জানেনা, সেটাকে বেশি ভয় করে, কারণ অজানা জিনিস দ্বারা ক্ষতির আশংকা থাকে সেজন্য অজানা, অন্ধকার জিনিসের ব্যপারে মানুষ ভয় পায়অনেকে জিন ভয় পায়, অথচ একে ভয় পাওয়ার কিছু নেইআমরা যেমন একটা সৃষ্ট জীব, জিনেরাও আল্লাহর একটা বিশেষ সৃষ্ট জীবতবে সাপের গায়ে পা দিলে যেমন আমাদের ক্ষতি হতে পারে, ঠিক তেমনি জিন সম্পর্কে না জানলে তাদের থেকে আমাদের বিভিন্ন ধরণের ক্ষতি হতে পারেতাই জিন সম্পর্কে যারা ভয় পান, তাদের উচিৎ জিন জগত সম্পর্কে ভালো করে জানাআর তাদের ক্ষতি বা ফিতনাহ থেকে বাঁচার জন্য ক্বুরআন ও হাদিসে যেই নিয়ম ও আমল দেওয়া আছে সেইগুলো নিয়মিত করা, তাহলে জিন সম্পর্কে ভয় আস্তে আস্তে ইং শাআল্লাহ্‌ চলে যাবে আর তাদের থেকে সম্ভাব্য যেই ক্ষতি তা থেকে বেঁচে থাকা যাবে। যাই হোক, কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত কিছু শয়তানের সংক্ষিপ্ত পরিচয় বর্ণনা করা হলো।
(১) ইবলিস আদম লাইহিস সালাম-কে ওয়াসওয়াসা বা কুমন্ত্রনা দিয়ে যেই জিন আল্লাহর আনুগত্য থেকে বিচ্যুত করেছিল, তার নাম হচ্ছে ইবলিসআল্লাহ ইবলিসকে সরাসরি আগুন থেকে সৃষ্টি করেছিলেন, সে হচ্ছে প্রথম জিন, যেমন আদম হচ্ছেন প্রথম মানুষইবলীস যে প্রথম জিন ছিলো, ক্বুরানের এই আয়াত থেকে দলীল নেওয়া হয়েছে, আল্লাহ বললেন, আমি যখন নির্দেশ দিয়েছি, তখন (হে ইবলীস) তোকে আদমকে সেজদা করতে কে বারণ করল? সে (ইবলীস) বলল, আমি তার (আদমের) চাইতে শ্রেষ্ট। আপনি আমাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা সুরা আরাফঃ ১২
হাসান আল-বসরী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ইবলীস কোন ফেরেশতা ছিলোনা, এমনকি এক মুহূর্তের জন্যেও নয়। সে হচ্ছে জিন জাতির পিতা, যেমন আদম আলাইহিস সালাম হচ্ছেন মানব জাতির পিতা সনদ সহীহ, তাফসীর ইবনে কাসীরঃ ৩/৮৯।  
আদম লাইহিস সালাম-কে সিজদা করতে অস্বীকার করে সে আল্লাহর সামনে অহংকার প্রদর্শন করে, এই কারণে সে কাফের হয়ে চির জাহান্নামী ও আল্লাহর লানতপ্রাপ্ত হয়েছে তার সন্তানদের কেউ ঈমানদার মুসলিম, আবার কেউবা কাফের, তাদের পিতা ইবলিসের অনুসারী যারা কাফের জিন, তাদেরকে সাধারণভাবে শয়তান বলা হয় আদম লাইহিস সালাম ও ইবলিসের কাহিনী সংক্ষেপে জানার জন্য আপনারা সুরা ত্বোয়া-হা এর ১১৫-১৩৫ নাম্বার আয়াতের তর্জমা ও তাফসীর পড়ুন
(২) খানজাব খানজাব হচ্ছে বিশেষ একপ্রকার জিন, যারা মানুষ যখন সালাতে দাঁড়ায় তখন তাদেরকে নানান রকম চিন্তা মাথায় ঢুকিয়ে সালাত থেকে অমনোযোগী ও উদাসীন করে তোলে এর ফলে তারা সালাতে ভুল করে, কত রাকাত পড়েছে মনে থাকেনা, কোনটা কি করছে সন্দেহে পড়ে যায়, সুরা-ক্বিরাতে উল্টা-পাল্টা করে। একারণে তাদের সালাতে সওয়াবও কমে যায় তাই আমাদেরকে চেষ্টা করতে হবে যথাযথ খুশু (ভয়) ও খুজু (বিনয়, স্থিরতা) সহকারে মনোযোগী হয়ে সালাত আদায় করার জন্য
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, নামাযের জন্য যখন আযান দেওয়া হয় তখন শয়তান সশব্দে বায়ু ছাড়তে ছাড়তে পলায়ন করে, যেন সে আযানের শব্দ না শুনতে পারে আযান শেষ হলে সে আবার ফিরে আসে ইকামত আরম্ভ হলে আবার পলায়ন করে ইকামত বলা শেষ হলে পুনরায় উপস্থিত হয় এবং ওয়াসওয়াসা ঢেলে দিয়ে নামাযী ব্যক্তি ও তার অভীষ্ট লক্ষ্যের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যে সকল বিষয় তার স্বরণ ছিল না, সেই সব জিনিসের প্রতি আকৃষ্ট করে সে বলতে থাকেঃ অমুক বিষয় স্বরণ কর, অমুক বিষয় স্বরণ কর ফলে সেই ব্যাক্তি কত রাকাত নামায পড়েছে, এমনকি সেটাও ভুলে যায় মুয়াত্তা মালিকঃ সালাত অধ্যায় ৩, হাদিসঃ ১৫২
বিঃ দ্রঃ সালাতে ওয়াসওয়াসা প্রদানকারী এই শয়তানের নাম হচ্ছে খানজাব
সালাতে শয়তানের কুমন্ত্রনা থেকে বাঁচার উপায়
সালাতে প্রথম রাকাতে কিরাত পড়ার পূর্বে উযু বিল্লাহিমিনাশ-শাইতানির রাযীম পড়বেন উযুবিল্ললাহদুয়া শুধু প্রথম রাকাতেই পড়া সুন্নত, এর পরের রাকাতগুলোর শুরুতে না পড়লেও হবে, তবে কেউ যদি চায় পড়তে পারবে এই দুয়া পড়ে শয়তান থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়, কারণ সালাতে দাড়ালে খানজাব নামের শয়তান কুমন্ত্রনা দিয়ে সালাত নষ্ট বা ক্ষতি করতে চায় সালাতের মাঝখানে সুরা-কেরাতে বা কত রাকাত, রুকু সেজদা নিয়ে শয়তান খুব বেশি ওয়াসওয়াসা দেয়/সন্দেহে ফেলে দেয় তাহলে কি করতে হবে?
সালাতে ও কেরাতের মাঝে শয়তানের কুমন্ত্রণায় পতিত ব্যক্তি যেই দুয়া করবেঃ ঊযু বিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাজীম, এই দুয়া বলে তারপর বাম দিকে তিনবার থুতু ফেলবে (থুতু ফেলার মতো করে নিঃশব্দে ফুঁ দিবে, কিন্তু থুতু ফেলবেনা)
উসমান ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! শয়তান আমার ও আমার সালাতের মাঝে অনুপ্রবেশ করে এবং কিরাতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সেটা (উপরে যা বলা হয়েছে) বলার নির্দেশ দেন, তিনি সেটা করার পর আল্লাহ তাঁকে সেটা থেকে মুক্ত করেন মুসলিমঃ ৪/১৭২৯, ২২০৩
() ওলহান এরা হচ্ছে একপ্রকার শয়তান জিন, যারা মানুষকে ওযুর সময় ওয়াসওয়াসা দেয় ওয়াসওয়াসাগ্রস্ত মানুষেরা ওযুতে ভুল বেশি করে, সন্দেহ পড়ে এক কাজ কয়েকবার করে, তবুও মনে সন্দেহ থেকে যায় ওযুর অংগ ধোয়া হয়েছে কিনা? এভাবে তারা পানি ও সময় বেশি অপচয় করে
কি করতে হবে? এই ওয়াসওয়াসায় যারা আক্রান্ত তারা মনোযোগের সাথে কোন পাত্রে নির্দিষ্ট পরিমান পানি নিয়ে ওযু করবেন, টেপ ছেড়ে দিয়ে অমনোযোগী হলে শয়তান সহজেই ওয়াসওয়াসা দিবে অবশ্যই আল্লাহর নাম বিসমিল্লাহ বলে আস্তে ধীরে ওযু করা শুরু করবেন, অবশ্যই তাড়াহুড়া করবেন না প্রতিটা অংগ মনোযোগের সাথে উত্তমরুপে ধৌত হচ্ছে কিনা সেই দিকে খেয়াল রাখবেন আর কোন অংগ ধৌত করতে ভুলে গেলে নিশ্চিত হলে মেজাজ খারাপ না করে প্রথম থেকে ওযু শুরু না করে যেই অংগ থেকে ভুলে গেছে সেই অংগ থেকে আবার ধোয়া শুরু করবনে আর ওয়াসওয়াসা পড়লে এই দুয়া পড়বেনঃ উযু বিল্লাহিমিনাশ-শাইতানির রাযীম, এই দুয়া পড়ে শয়তান মনে কি ওয়াসওয়াসা দিচ্ছে সেইদিকে কোন লক্ষ্য করবেন না যেই অংগ থেকে ভুল করেছেন সেখান থেকে ওযু করবেন আস্তে আস্তে মনোযোগী হয়ে ওযু করার অভ্যাস গড়ে তুললে আস্তে আস্তে শয়তানের বিরুদ্ধে বিজয়ী হতে পারবেন ইন শাআলাহ। মনে রাখবেন, এটা একটা মানসিক ব্যপার, আস্তে আস্তে মন ধীর-স্থির করার অভ্যাস করে এই ব্যধি থেকে বেড়িয়ে আসার চেষ্টা করতে হবে, আর তার জন্য আল্লাহর কাছে দুয়া করতে হবে।
() ক্বারীন ক্বারিন অর্থ হচ্ছে সংগী, প্রত্যেক মানুষের সাথেই শয়তান জিন লেগে থাকে, সংগী হিসেবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন তোমাদের প্রত্যেককে জিনদের মধ্য হতে একজন ক্বারিন (সঙ্গী) দেয়া হয়েছে। সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, এমনকি আপনাকেও ইয়া আল্লাহর রাসুল? তিনি বললেন, হ্যা, কিন্তু এখন সে আমাকে শুধু ভাল কাজ করতে বলে। সহীহ মুসলিমঃ ৭১৩৪।
এরা সবসময় বান্দার অন্তরে খারাপ চিন্তা ঢুকিয়ে দিয়ে পাপ কাজ করতে উতসাহিত করে। এর অন্তরে খারাপ কথাটা নিক্ষিপ্ত করতে পারে, কিন্তু কাউকে কোন কাজ করতে বাধ্য করতে পারেনা। এজন্যে ওয়াসওয়াসার শিকার হয়ে যে পাপ কাজে লিপ্ত হবে, তাকে তার শাস্তি ভোগ করতে হবে, কারণ সে লোভে পড়ে স্বেচ্ছায় খারাপ কাজে লিপ্ত হয়েছিলো। ক্বুরআনে আল্লাহ এদের কথা উল্লেখ করেছেন সুরা ক্বাফে
উযু বিল্লাহিমিনাশ-শাইতানির রাযীম মৃত্যুযন্ত্রণা নিশ্চিত আসবে এ থেকেইতো তুমি টালবাহানা করতে এবং শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে, এটা হবে সেই ভয় প্রদর্শনের দিন প্রত্যেক ব্যক্তি আগমন করবে, তার সাথে থাকবে চালক ও কর্মের সাক্ষী। (তাকে বলা হবে), তুমি তো এই দিন সম্পর্কে উদাসীন ছিলে এখন তোমার কাছ থেকে পর্দা সরিয়ে দিয়েছি ফলে আজ তোমার দৃষ্টি সুতীক্ষ্ণ তার সঙ্গী (আমলনামা লিপিবদ্ধকারী) ফেরেশতা বলবেঃ আমার কাছে যে, আমলনামা ছিল, তা এই তোমরা উভয়েই নিক্ষেপ কর জাহান্নামে প্রত্যেক অকৃতজ্ঞ বিরুদ্ধবাদীকে, যে বাধা দিত মঙ্গলজনক কাজে, সীমালঙ্ঘনকারী, সন্দেহ পোষণকারীকে যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্য গ্রহণ করত, তাকে তোমরা কঠিন শাস্তিতে নিক্ষেপ কর ক্বারীন (তার সঙ্গী শয়তান) বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমি তাকে অবাধ্যতায় লিপ্ত করিনি বস্তুতঃ সে নিজেই ছিল সুদূর পথভ্রান্তিতে লিপ্ত আল্লাহ বলবেনঃ আমার সামনে তোমরা বাকবিতন্ডা করো না, আমিতো পূর্বেই তোমাদেরকে আযাব দ্বারা ভয় প্রদর্শন করেছিলাম আমার কাছে কথা রদবদল হয় না এবং আমি বান্দাদের প্রতি জুলুমকারী নই সুরা ক্বাফঃ ১৯-২৯
(৫) শয়তানের সাংগ-পাংগ উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, শয়তানের চেলা হচ্ছে নয়টি। (১) যালিতুন, (২) অসাইন, (৩) লাকুস, (৪) আওয়ান, (৫) হাফফাফ, (৬) মুররাত, (৭) মুসাইবিত, (৮) দাসিম, (৯) ওলহান।
যালিয়াতুন বাজারে থাকে। বাজারে থেকে সে তার পতাকা উড্ডয়ন করে। অসাইন মসিবত বা বিপদের মধ্যে থাকে। আওয়ান রাজা-বাদশাহদের সংগে থাকে। হাফফাফ মদের সংগে থাকে। মুররাহ গান-বাজনার সাথে থাকে। লাকুস মাজুসী বা অগ্নি পূজারীদের সাথে থাকে। মুসাইবিত, সে এমন সংবাদ দেয় যা ভিত্তিহীন। দাসিম ঘর-বাড়িতে থাকে। বাড়িতে প্রবেশের সময় কোন ব্যক্তি যদি বাড়ির লোকদেরকে সালাম না দেয়, তাহলে দাসিম নামক শয়তানের চেলা বাড়ির লোকদেরকে মধ্যে ঝগড়া সৃষ্টি করে দেয়, শেষ পর্যন্ত স্বামী স্ত্রীকে তালাক দেয়, স্ত্রী খুলা করে স্বামী থেকে পৃথক হয়ে যায়, মারধর করে। ওলহান অযু, নামায ও ইবাদতে ওয়াসওয়াসা দেয়।

উৎসঃ ইবনে হাজার আসকালানী, আল-ইসতিদাদ লি-ইয়াওমিল মাআ (পরকালের পাথেয়)। 

কার্টুন দেখা, ইলেকট্রনিক্স গেমস খেলা কি জায়েজ?



কার্টুন দেখা, ইলেকট্রনিক্স গেমস খেলা কি জায়েজ?

কার্টুন দেখা নিয়ে প্রশ্নঃ
কার্টুন ছবি দিয়ে বানানো ইসলামিক মুভি দেখা ও এইগুলো কেনার ব্যপারে শরীয়তের হুকুম কি? উল্লেখ্য, এইগুলোতে শিশুদের জন্য তাতপর্যপূর্ণ শিক্ষামূলক কাহিনী থাকে যা ভালো চরিত্র, মাতা-পিতার প্রতি অনুগত হওয়া, সততা, নিয়মিত সালাত আদায় করা ইত্যাদি বিষয়ের দিকে শিশুদেরকে উতসাহিত করে। এই ইসলামিক কার্টুনগুলোর উদ্দেশ্য হচ্ছে, টিভির বিকল্প হিসেবে প্রতিস্থাপন করা যা কিনা ব্যপকতা লাভ করেছে। যাইহোক, বর্তমানে আমরা যে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি সেটা হচ্ছে – এই কার্টুনগুলোতে হাতে আকা মানুষের ও প্রাণীর ছবি থাকে। প্রাণীর ছবি আকা এই কার্টুনগুলো দেখা কি আমাদের জন্য জায়েজ হবে? দয়া করে আমাদেরকে উপদেশ দিন। আল্লাহ আপনাদেরকে সর্বোত্তম পুরষ্কার দিন।  

উত্তরঃ কার্টুন ছবি ক্রয় করা, বিক্রি করা বা এইগুলো কোন কাজে ব্যবহার করা জায়েজ নয় – কারণ এতে হারাম ছবি বিদ্যমান। সন্তানদেরকে লালন-পালন করা, তাদেরকে শিক্ষা দেওয়া, আদব-কায়দা শেখানো, সালাত আদায় করতে এবং সালাতের ব্যপারে যত্নবান হতে উতসাহিত করা – এইরকম বিষয়গুলো শিক্ষা দিতে হবে ইসলাম সম্মত উপায়েই।

আল্লাহ আমাদেরকে সফলতা দান করুন। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তার পরিবার ও তার সাহাবীদের প্রতি শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন।

ফাতওয়া আল-লাজনাহ আদ-দাইয়িমাহঃ ১ম খন্ড পৃষ্ঠা ৩১৫।
স্থায়ী ফাতওয়া কমিটির ফাতওয়া নং ১৯,৯৩৩।

স্থায়ী ফাতওয়া কমিটির সদস্যবৃন্দঃ-
১. সদস্যঃ আল্লামাহ, শায়খ বাকর আবু জায়েদ রাহিমাহুল্লাহ
২. সদস্যঃ আল্লামাহ, শায়খ সালেহ আল-ফওজান হাফিজাহুল্লাহ
৩. ডেপুটি চেয়ারম্যানঃ আল্লামাহ, শায়খ আব্দুল আজিজ ইবনে আবদুল্লাহ আলে-শায়খ হাফিজাহুল্লাহ
৪. চেয়ারম্যানঃ “ইমাম আব্দুল আজিজ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে বাজ রাহি'মাহুল্লাহ

মূল ফতোয়ার লিংকঃ-

http://alifta.net/Search/ResultDetails.aspx?languagename=en&lang=en&view=result&fatwaNum=true&FatwaNumID=19933&ID=10695&searchScope=7&SearchScopeLevels1=&SearchScopeLevels2=&highLight=1&SearchType=EXACT&SearchMoesar=false&bookID=&LeftVal=0&RightVal=0&simple=&SearchCriteria=AnyWord&PagePath=&siteSection=1&searchkeyword=#firstKeyWordFound
________________________

অনুবাদকের নোটঃ
সম্মানিত আলেমদের ফতোয়া হচ্ছে, হাতে অংকন করা প্রাণীর ছবি থাকায় এই কার্টুনগুলো, যদিও এইগুলো ‘ইসলামিক বলে দাবী করা হচ্ছে – তবুও এইগুলো দেখা বা ক্রয় করা হারাম।

কারণ, হাতে ছবি অংকন করা সম্পূর্ণ হারাম ও কবীরা গুনাহ। প্রাণীর ছবি অংকন করা কবীরা গুনাহ ও চিত্র অংকনকারীদেরকে কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে – এনিয়ে কিছু সহীহ হাদীসঃ-

১. সাঈদ ইবনে আবুল হাসান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এমন সময়ে তাঁর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আবু আব্বাস! আমি এমন ব্যক্তি যে, আমার জীবিকা হস্তশিল্পে। আমি এসব ছবি তৈরি করি। ইবনে আব্বাস (রা) তাঁকে বলেন, (এ বিষয়) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি যা বলতে শুনেছি, তাই তোমাকে শোনাব।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি বলতে শুনেছিঃ
যে ব্যক্তি কোন প্রাণীর ছবি অংকন করে আল্লাহ্ তাআলা তাকে শাস্তি দিবেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে ছবির মাঝে প্রাণ দিতে পারে। আর সেই ছবির মাঝে সে কখনোই প্রাণ দিতে পারবে না।
(এ কথা শুনে) লোকটি ভীষণভাবে ভয় পেয়ে গেল এবং তার চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে গেল। এতে ইবনে আব্বাস (রা) বললেন, আক্ষেপ তোমার জন্য! তুমি যদি এ কাজ না-ই ছাড়তে পার, তবে এ গাছপালা এবং যে সকল জিনিসের প্রাণ নেই, তা অংকন করতে পার।
সহীহ আল-বুখারী, চতুর্থ খণ্ড, হাদিস নং- ২০৮৪ (ইসলামী ফাউন্ডেশান)।

২. মুসলিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা (একবার) মাসরুকের সাথে ইয়াসার ইবনে নুমায়রের ঘরে ছিলাম। মাসরুক ইয়াসারের ঘরের আঙ্গিনায় কতগুলো মূর্তি দেখতে পেয়ে বললেনঃ আমি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে শুনেছি এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন যেঃ
(কিয়ামতের দিন) মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হবে তাদের, যারা ছবি বানায়।
সহীহ বুখারী, নবম খণ্ড, হাদিস নং- ৫৫২৬ (ইসলামী ফাউন্ডেশান)।

৩. মা আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাবূক যুদ্ধের) সফর থেকে প্রত্যাগমন করলেন। আমি আমার ঘরে পাতলা কাপড়ের পর্দা টাঙ্গিয়েছিলাম। তাতে ছিল (প্রানীর) অনেকগুলো ছবি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এটা দেখলেন, তখন তা ছিঁড়ে ফেললেন এবং বললেনঃ
কিয়ামতের সে সব মানুষের সবচেয়ে কঠিন আযাব হবে, যারা আল্লাহ্র সৃষ্টির (প্রানীর) অনুরূপ তৈরি করবে
আয়েশা (রাঃ) বলেন, এরপর আমরা তা দিয়ে একটি বা দু'টি বসার আসন তৈরি করি।
সহীহ আল-বুখারী, নবম খণ্ড, হাদিস নং- ৫৫৩০ (ইসলামী ফাউন্ডেশান)।
____________________________

ইলেকট্রনিক্স গেমস নিয়ে আলোচনাঃ
অনেক মুসলমান ভাই ও বোনেরা মোবাইল, কম্পিউটারে গেমস খেলার নেশায় আসক্ত। একটু সুযোগ পেলেই গেমস খেলায় মেতে উঠেন। অথচ এইগুলোর মাঝে অনেক হারাম জিনিস জড়িত।
বর্তমান স্মার্টফোন, প্লে স্টেশন, কম্পিউটারে বেশিরভাগ গেমনগুলোর মাঝে প্রাণীর চরিত্র অংকন করা থাকে, সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে এটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কারঃ-
যেই সমস্ত গেমসগুলোতে হাতে আকা প্রাণীর ছবি থাকে, সেইগুলো খেলা হারাম। এছাড়া এই গেমসগুলোতে আরো অনেক হারাম বিষয় যুক্ত আছে। যেমনঃ-

১. মিউজিক, গান, বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র।
২. বেপর্দা নারীদের নগ্ন ও অশ্লীল ছবি।
৩. কাফেরদেরকে সম্মান করা, তাদের নষ্ট সংস্কৃতিকে প্রচার করে মুসলিম যুব সমাজকে ধ্বংস করা।
৪. অনেক গেমসে কুরানুল কারীম, কাবা, মুসলিমদেরকে কৌশলে হেয় করা, এইগুলোকে অপমান করা হয়। অনেক মুসলমান এইগুলো না জেনেইে খেলতে থাকে।
৫. কাফেরদের ধর্মীয় শিরকি-কুফুরী বিশ্বাস ও কাফেরদের চিহ্নকে কৌশলে মুসলিমদের মাঝে প্রচার করা।
৬. অপ্রয়োজনীয় বেহুদা কাজে প্রচুর সময় নষ্ট, যেই কাজটা আসলে ইলম শিক্ষা করা, ইবাদতের জন্য ব্যয় করা দরকার ছিলো। জান্নাতে গেলেও মানুষ অবসর সময়কে নষ্ট করার জন্য আফসোস করবে!
৭. হ্যারি পটারসহ অনেক কার্টুন, সিনেমা ও গেমসে যাদু, জোতিষি  এই জিনিসগুলোর মতো শিরকি কথাবার্তা প্রচার করা হয়। মুসলিমদের সন্তানেরা দ্বীন জানেনা, এই সমস্ত শিরকি জিনিস নিয়েই পড়ে আছে, নাউযুবিল্লাহ!
৮. মদ, জুয়াতে ছোট বাচ্চাদেরকে অভস্ত করা। এইভাবে ভার্চুয়াল মদ, জুয়ার ছবি দিয়ে মুসলমানদেরকে এইগুলোর প্রতি নমনীয় ও আকৃষ্ট করা হচ্ছে, আস্তে আস্তে যাতে করে সত্যিকারের মদ জুয়াতে লিপ্ত হয়।

সুতরাং, মুসলিম ভাই ও বোনদের প্রতি অনুরোধ –

মোবাইল, কম্পিউটার থেকে হারাম কার্টুন ও হারাম গেমস ডিলিট করুন – আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করুন।