মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০১৫

“দুনিয়ার জীবন হচ্ছে পরীক্ষা”

দুনিয়ার জীবন হচ্ছে পরীক্ষা
- আনসারুস সুন্নাহ
___________________________
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন,
তোমরা জেনে রাখ, তোমাদের পার্থিব জীবন ক্রীড়া-কৌতুক, সাজ-সজ্জা, পারস্পরিক গর্ব-অহংকার এবং ধন ও জনের প্রাচুর্য ছাড়া আর কিছুই না। (দুনিয়ার জীবনের উপমা হচ্ছে) যেমন এক বৃষ্টির অবস্থা, যার সবুজ ফসল কৃষকদেরকে চমৎকৃত করে, এরপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি তাকে পীতবর্ণ দেখতে পাও, এরপর তা খড়কুটা হয়ে যায়। আর পরকালে আছে কঠিন শাস্তি এবং আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। (সাবধান!) পার্থিব দুনিয়ার জীবন প্রতারণাপূর্ণ ক্ষণস্থায়ী ভোগের সম্পদ ছাড়া আর কিছুই না। [সুরা আল-হাদীদঃ ২০]
___________________________
আল্লাহ কাউকে স্বাস্থ্য, সম্পদ, সৌন্দর্য, স্ত্রী-সন্তান দিয়ে পরীক্ষা করেন, আবার কাউকে এইগুলো না দিয়ে পরীক্ষা করেন। এটা আল্লাহর সুন্নাহ বা নীতি, যা দিয়ে তিনি মানুষদেরকে বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করেন। সুতরাং যাকে যা দেওয়া হয়েছে তাকে সেই ব্যপারে ধৈর্য ধারণ করতে হবে, এবং আল্লাহর উপর আশা রেখে দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় কল্যানের জন্য দুয়া করতে হবে, যদিও সাময়িক অবস্থা তার জন্য কিছুটা অপছন্দনীয় হোক না কেনো। আর এটাই হচ্ছে তাক্বদীরের প্রতি বিশ্বাসের বাস্তবতা, ভালো বা মন্দ সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে এর উপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখা এবং সেই অনুযায়ী আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থেকে আমল করে যাওয়া।
___________________________
দুঃখ বেদনার সম্মুখীন বিপদগ্রস্থ বান্দা-বান্দীদের উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
উযু বিল্লাহিমিনাশ-শাইতানির রাযীম।
১৫২. সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদের স্মরণ রাখবো এবং আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর; অকৃতজ্ঞ হয়ো না।
১৫৩. হে মুমিন গন! তোমরা ধৈর্য্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চিয়ই আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সাথেই আছেন।
১৫৪. আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদেরকে তোমরা মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বুঝতে পারোনা।
১৫৫. এবং অবশ্যই আমি তোমাদিগকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও ধৈর্যশীলদেরকে।
১৫৬. (ধৈর্যশীল হচ্ছে তারাই) যখন তারা বিপদে পড়ে, তখন বলেঃ ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন - নিশ্চয় আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তাঁরই কাছে ফিরে যাবো।
১৫৭. তারাই সে সমস্ত লোক, যাদের প্রতি আল্লাহর অফুরন্ত অনুগ্রহ ও রহমত রয়েছে এবং এসব লোকেরাই হচ্ছে হেদায়েত প্রাপ্ত।

[সুরা আল-বাক্বারাহঃ ১৫২-১৫৭]

সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০১৫

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামআ’ত।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামআত।
কেয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত মুসলমানদের মাঝে নিত্য নতুন অনেক দল ও ফেরকা সৃষ্টি হবে। এই সমস্ত দলগুলোর মাঝে একটি মাত্র দল নাজাত পাবে, বাকি সবগুলো দল জাহান্নামে যাবে।
______________________
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ জেন রাখ! নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্বে ছিল যারা ছিলো (ইয়াহুদী এবং খ্রীস্টানরা) তারা ৭২টি দলে বিভক্ত হয়েছিল, এবং নিশ্চয়ই আমার এই উম্মত (মুসলমানেরা) ৭৩টি দলে বিভক্ত হবে। এদের মাঝে প্রত্যেকটি দল জাহান্নামে যাবে, শুধুমাত্র একট দল ছাড়া। 
সাহাবারা (রাঃ) জিজ্ঞেসা করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, (মুক্তিপ্রাপ্ত) সেই দল কোনটি 
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আজকে আমি এবং আমার সাহাবীরা যার উপরে আছি, সেই পথের উপর যারা থাকবে (তারাই মুক্তি পাবে)।
[তিরমিজী ও আবু দাউদ, মিশকাত হাদীস নং- ১৬৩]
______________________
সাহাবা (রাঃ) এর যুগের শেষের দিকে এবং তাবেয়ীদের যুগের শুরুর দিকেই যখন মুসলমানদের মাঝে মতবিরোধ বৃদ্ধি পেলো এবং [ক্বাদরিয়া, জাহমিয়া, খারেজী, শিয়াদের] মতো নিত্য নতুন দল সৃষ্টি হওয়া শুরু হলো, তখন থেকেই [ক্বুরান, সুন্নাহ এবং সাহাবাদের অনুসারী] নাজাতপ্রাপ্ত দলটি নিজেদেরকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত (সংক্ষেপে আহলে সুন্নাহ বা সুন্নী) নামে পরিচয় দিয়ে আসছে। যেমন সহীহ মুসলিমের ভূমিকাতে ইমাম মুসলিম রহঃ (মৃত্যু ২৬১ হিজরী) প্রখ্যাত তাবেয়ী, ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন রহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু ১১১ হিজরী) এর কথা উল্লেখ করেছেনঃ
মানুষেরা আগে হাদীসের সনদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতোনা। কিন্তু যখন ফিতনাহ এসে পড়ল, তখন তারা বলা শুরু করলেন, তোমাদের হাদীসের রাবী বা বর্ণনাকারীর নাম বল। এরপর কেবল আহলুস সুন্নাহ ব্যক্তিদের হাদীস গ্রহণ করা হত। আর আহলুল বিদআহ হলে তার কাছ থেকে হাদীস গ্রহণ করা হতনা।
[সহীহ মুসলিম, মুক্বাদ্দিমাহ অধ্যায়]
______________________
যারা কোন প্রকার পরিবর্তন ও পরিবর্ধন ছাড়াই নিষ্ঠার সাথে ক্বুরান, সুন্নাহ ও সাহাবাদের আদর্শের অনুসরণ করেন তারাই হচ্ছেন প্রকৃত মুসলমান, তারাই হচ্ছেন আহলে সুন্নাহ। এই অনুসারী মুসলমানদেরকে কোন দল পার্টিতে যোগ দিতে হবেনা বা নাম লিখাতে হবেনা। বরং যারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ইখলাসের সাথে ক্বুরান, সুন্নাহ এবং সাহাবীদের আদর্শ মেনে চলেন - তিনিই হচ্ছে আহলে সুন্নাহ, তিনি পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুন না কেনো। আহলে সুন্নাহর অনুসারী সমস্ত মুসলমানেরা মিলে একটি মাত্র দল, এর বাইরে নতুন কোন দল সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ হারাম। 
এ ব্যপারে প্রখ্যাত ইমাম, আবু জাফর আত-ত্বাহাবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমরা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অনুসরণ করব। আমরা জামাআত হতে বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং জামাআতের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা হতে বিরত থাকব।
তিনি রাহিমাহুল্লাহ আরো বলেছেন, যারা আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আক্বীদাহর বিরোধিতা করে, তাদের সঙ্গে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই।
[আল-আক্বীদাহ আত-তাহাবীয়া, ৭৩ ও ১০৫ নং পয়েন্ট]
সুতরাং মুসলমান হিসেবে আমাদের জন্য ওয়াজিব হচ্ছে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের অনুসরণ করা এবং এর বাইরে সমস্ত বিদাতী দল ও ফেরকা থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখা। আল্লাহ আমাদেরকে নাজাতপ্রাপ্ত দলের অন্তর্ভুক্ত করুন আমিন।
______________________
আহলে সুন্নত কথাটির অর্থ হচ্ছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নত বা আদর্শের অনুসারী। নাজাতপ্রাপ্ত দলের লোকেরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেই তাদের একমাত্র এবং চূড়ান্ত আদর্শ বলে মনে করে, তার কথার বিপরীতে কোন ইমাম, দল, তরীকা, বুজুর্গ, মতবাদ কোন কিছুকেই গ্রহণ করেনা।
ওয়াল জামাত কথাটি দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে সাহাবাদের জামাত ও তারা যেই আদর্শের উপর ছিলেন তার অনুসারী। নাজাতপ্রাপ্ত দলের লোকেরা ইসলামকে সেইভাবে গ্রহণ করে, কুরান ও সুন্নাহকে সেইভাবে ব্যাখ্যা করে, বুঝে ও আমল করে, যেইভাবে সাহাবারা করেছিলেন। কারণ - এই উম্মতের মাঝে দ্বীনের ব্যপারে সবচাইতে জ্ঞানী লোকেরা হচ্ছেন সাহাবারা। আর কুরানুল কারীমে আমাদেরকে আদেশ করা হয়েছে সাহাবারা যেইভাবে ঈমান এনেছে সেইভাবে ঈমান আনার জন্য, সাহাবারা যেই তরিকার উপরে ছিলো সেইভাবেই ইসলাম পালন করার জন্য। এছাড়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সরাসরি সহীহ হাদীসে সঠিক দল কারা এর উত্তরে বলেছেন যারা আমার ও আমার সাহাবাদের অনুসরণ করে তারা।   
এখানে একটা ব্যপার লক্ষণীয় তাবলিগ জামাত, জামাতে ইসলামী, বেরেলভী কবর মাযার ও পীর পূজারীরা, সূফীবাদী দেওবন্দী, আইসিস এর মতো খারেজীদের দল, কিংবা আওয়ামীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির মতো সেকুলার দলের মুরীদ - এরা সবাইতো নিজেদেরকে হক্ক দাবী করে! নিজেদেরকে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের অনুসারী মনে করে!!
______________________
এইজন্যই কারো মুখের কথা বা শুধু আমল দেখেই বলা যায়না কে হক্ক আর কে বাতিল। এই সবগুলো দলই যদি সঠিক হতো, তাহলেতো তাদের মাঝে এতো তরীকা হতোনা সবাই আলাদা ভাগ না হয়ে একটামাত্র দলই হতো।
তাই, মানুষের মুখের কথায় না ভুলে আপনাকে একটু যাচাই বাছাই করে দেখতে হবে কিছু পড়াশোনা ও মেহনত করতে হবে, যারা নিজেদেরকে আহলে সুন্নত দাবী করছে তারা আসলেই কুরান ও সুন্নাহ অনুযায়ী সঠিক সেটা বিচার করার জন্যে। আপনাকে ক্বুরান, সুন্নাহ এবং সাহাবীদের আদর্শের সাথে মিলিয়ে দেখতে হবে কার মুখের দাবীর সাথে কাজের মিল রয়েছে, কারা হক্কপন্থী আর কার মনপূজারী বিদাতী।
______________________
সর্বশেষঃ প্রাসংগিক একটা কথা উল্লেখ করার প্রয়োজন মনে করেছি।
সম্প্রতি এক শ্রেণীর টিভি বক্তা এবং ইন্টারনেট লেখকেরা বলছে,
=> আহলে সুন্নাহ বলে নিজেদেরকে পরিচয় দেওয়া যাবেনা, এতে নাকি উম্মতের ঐক্য নষ্ট হয়!
=> শীয়া-সুন্নী বলে কোন কথা ক্বুরানে নাই, সুতরাং নিজেদেরকে সুন্নী বলা যাবেনা। এতে নাকি ক্বুরানের বিরোধীতা করা হয়!!
=> এমন অজ্ঞতাপ্রসূত চিন্তা-ভাবনার পক্ষে তারা ক্বুরানের এই আয়াতকে দলিল হিসেবে পেশ করছে। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, তার চাইতে উত্তম কথা আর কার হতে পারে, যে ব্যক্তি মানুষকে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, নেক আমল করে এবং বলেঃ আমি একজন মুসলিম (আজ্ঞাবহ)? [সুরা হা মীম আস-সাজদাহঃ ৩৩]
______________________
তাদের এই সংশয়ের জবাব হচ্ছেঃ
এমন লোকেরা না পড়েছে ক্বুরান, না পড়েছে হাদীস। ক্বুরান হাদিসের অর্থ না বুঝেই, নিজদের মনগড়া কথার পক্ষে দলিল পেশ করেছে। আমাদের দ্বীন হচ্ছে ইসলাম, আর জাতিতে আমরা মুসলিম। সুতরাং আমাদের পরিচয় হচ্ছে মুসলিম। তার মানে এই না যখন মুসলমানদের মাঝে যখন বিভিন্ন দলের প্রসংগ আসবে তখন হক্কপন্থী দলের পরিচয় দেওয়ার জন্যে আহলে সুন্নাহ নাম নেওয়া যাবেনা। বরং, নতুন কোন দল সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নয় এবং প্রয়োজন থাকা সাপেক্ষে এমন নাম সম্পূর্ণ জায়েজ, কখনো সেটা আবশ্যকও হতে পারে। স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা এবং তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও মুসলিমদেরকে মুসলিম ছাড়াও অন্য নামে ডেকেছন। যেমন -
______________________
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, আর যারা মুহাজিদেরদের মাঝে সর্বপ্রথম, ও আনসারদের মাঝে পুরাতন, এবং পরবর্তীতে যারা তাদেরকে নিষ্ঠার সাথে অনুসরণ করেছে, আল্লাহ সে সমস্ত লোকদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আর তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন কানন-কুঞ্জ, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত হয় ঝরণাসমূহ। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে । আর এটাই হল চূড়ান্ত সফলতা। [সুরা আত-তাওবাহঃ ১০০]
______________________
আলী (রাঃ) বলেন, বিতির সালাত ফরয সালাতের মতো বাধ্যতামূলক নয়, তবে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একে সুন্নত করেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ বিতির (বেজোড়), তিনি বেজোড় সংখ্যা পছন্দ করেন। সুতরাং, হে আহলে ক্বুরআন! তোমরা বিতির পড়তে থাকো। [আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ]
______________________
সুতরাং, দেখা যাচ্ছে অবস্থাভেদে আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল মুসলিম নাম ছাড়াও কখনো মুহাজির, আনসার, আহলে ক্বুরান এমন নামে ডাকে ডেকেছেন। সে অনুযায়ী মুসলমানদের মাঝে যখন বিভিন্ন দল বের হলো তখন থেকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাহ এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবীদের আদর্শের অনুসারী হক্কপন্থী দলটি (হাদীসের পরিভাষায় যাকে ফিরকায়ে নাজিয়া বা মুক্তিপ্রাপ্ত দল বলা হয়), তারা নিজেদেরকে আহলে সুন্নাহ বলে পরিচয় দিয়ে আসছে। এই নামের ব্যপারে প্রাচীনকালের বা বর্তমানের কোন একজন আলেম আজ পর্যন্ত আপত্তি করেন নি, হারাম বা নাজায়েজ ফতোয়া দেওয়াতো দূরের কথা। বরং, অতি উৎসাহী কিছু বক্তা ও লেখক, যারা হাদীসের বাংলা বা ইংরেজী অনুবাদ পড়ে ফতোয়া দেয়, এমন আধা-মুফতিরাই এই সমস্ত বাকোয়াজ করে সাধারণ মানুষদেরকে বিভ্রান্ত করছে। আলাহু মুস্তাআন।
______________________
[সমাপ্ত]

‘জামাতী’ নেতাদের আপোষের নীতি

জামাতী নেতাদের আপোষের নীতি
- আনসারুস সুন্নাহ
________________________
১৯৯৬ সালের আগে জামাতে ইসলামীর ভাইয়েরা খুব প্রচার করতো, নারী নেতৃত্ব হারাম, নারী নেতৃত্ব হারাম. . .প্রধানমন্ত্রী নারী হলে দেশের উপর আল্লাহর কত বড় গজব নাযিল হবে, সেই চিন্তায় চিন্তায় তাদের খাওয়া ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিলো। ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করে বিরোধী দলকে কাবু করার জন্যে যেই দেশের/পার্টির লোকেরা নারী নেতৃকে ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বানায় তারা ১০০% কাপুরুষ, হিজড়া এমন কথাও তারা প্রচার করেছিলো, এবং সেটা কিন্তু ইসলাম কায়েম এর নামেই! বলে রাখা ভালো, এরকম প্রচারণার টার্গেট ছিলোঃ শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া।

যাইহোক, আস্তে আস্তে রাজনীতির মারপ্যাচে পড়ে কিছুদিন পরে দেখলাম তাদের ফতোয়া চেঞ্জ হয়ে গেলো! কারণ তারা সেই দুইজনের একজনকে তাদের বড় #হুজুরনী বলে মেনে নিয়েছিলো। যুগের সাথে তাল মেলানোর জন্য হেকমত, হুদাইবিয়ার সন্ধি, (নিজেদের মনমতো!) ইসলাম কায়েমের জন্যে সাময়িক আপোস ইত্যাদি বলে নারী নেতৃত্বকে জায়েজ করার জন্য তারাই আবার কোমর বেঁধে মাঠে নামলো।

সেইদিন অতীত হয়েছে, বয়স কম হওয়ার কারণে - বর্তমান কর্মীদের অনেকেই হয়তো অতীত জানেনা. . .তাই নির্দ্বিধায় নারী নেতৃত্বের সাথে আপোসের পক্ষে উকালতি করতে তাদের বাধেনা।

কতইনা উত্তম হতো, আমরা সবাই যদি ক্বুরান ও সুন্নাহর আদর্শকে মেনে নিতাম, বিদাতী দলগুলোর আজগুবী ভুয়া ফতোয়াকে ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে মুসলমান হিসেবে একতাবদ্ধ থাকতাম।
________________________
প্রয়োজনীয় কিছু নোট
> নারী নেতৃত্ব হারাম, এবিষয়ে এই উম্মতের ইজমা আছে, কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্পষ্ট বলেছেনঃ যে জাতি নিজেদের শাসকক্ষমতা কোন মহিলার উপর অর্পণ করে, সে জাতি কখনোই কল্যান লাভ করতে পারেনা।
[সহীহ আল-বুখারীঃ ৬৬১৮, আত-তিরমিযীঃ ২২৬২]
নারী নেতৃত্ব নিয়ে কি হুকুম, বিস্তারিত জানতে এটা পড়ুনঃ
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/1108720025827410:0
________________________
>> অনেকে বলতে পারেন, আমরা কেনো আওয়ামীলীগ-বিএনপির বিরুদ্ধে বলছিনা? যেখানে জামাতের লোকেরা মুখে ইসলাম এর কথা বলে
আমাদের জবাব হচ্ছেঃ আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি এরা হচ্ছে দুনিয়া পূজারী অত্যাচারী লোভীর দল। একমাত্র অশিক্ষিত লোভী ছাড়া কোন ধার্মিক মুসলমান এই সমস্ত ভন্ডদের সমর্থন করেনা। কিন্তু জামাতীরা ইসলাম কায়েম এর অপব্যখ্যা দিয়ে একমাত্র তারা ইসলামের ধারক ও বাহক বলে মনে করে। জামাতীদের ক্বুরান ও হাদিসের অপব্যখ্যা, দ্বিমুখী ভন্ডামি নীতির বিরুদ্ধে বললেই অন্যদেরকে নাস্তিক, আওয়ামী লীগের দালাল বলে গালি দেওয়া শুরু করে। তাদের এমন প্রতারণাপূর্ণ কাজ দ্বারা দ্বীনকে ভালোবাসে কিন্তু সঠিক জ্ঞান নেই এমন অনেক তরুণ ভাইয়েরা প্রভাবিত হয়ে গণতান্ত্রিক শিরকি রাস্তায় জান্নাতে খুঁজে বেড়ায়। জামাতে ইসলামীর নেতাদেরকে বাঁচানোর জন্যে বা নিজদের দলীয় স্বার্থে গাড়ি ভাংচুর করে ওহুদ-বদরের জিহাদ মনে করছে। সেইজন্য তাদের ভ্রষ্টতা সবার সামনে তুলে ধরা উচিৎ, যাতে করে মুসলমান সন্তানেরা তাদের চমকপ্রদ কথাবার্তার ধোঁকায় না পড়ে।
________________________
>>> গণতন্ত্র একটি শিরকি মতবাদ, এই তরীকাতে ভোট দেওয়া জায়েজ নয়। বিস্তারিত দেখুন
গণতন্ত্র একটা শিরকী ব্যবস্থাঃ
https://www.facebook.com/photo.php?fbid=681783831854367&set=pb.125167817515974.-2207520000.1388080559.&type=3&src=https%3A%2F%2Ffbcdn-sphotos-a-a.akamaihd.net%2Fhphotos-ak-prn2%2F1470052_681783831854367_813273773_n.jpg&size=515%2C558

ভোট দেওয়া, গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে ফাতওয়াঃ
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/photos/a.130928300273259.14132.125167817515974/694309127268504/
________________________
>>> অনেক বলতে পারেন, জামাতে ইসলামীর নেতারা নারী নেতৃত্বকে জায়েজ বলেনা. . .নারী নেতৃত্বের অধীনে ক্ষমতায় যাওয়ার পরে জামাতে ইসলামীর মুফতি দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বক্তব্য দেখুন
নারী নেতৃত্বকে আমরা হারাম বলিনি, ইসলাম এটাকে হারাম বলেনি। নারী নেতৃত্বকে ইসলাম হারাম বলেনি।
সাঈদীর বক্তব্য তার নিজের মুখ থেকে দেখুন এই লিংকে
https://www.facebook.com/video.php?v=10205902288387040&fref=nf
________________________

[সমাপ্ত]

রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০১৫

স্বামী ও স্ত্রীর হক্ক

স্ত্রীর উপর ফরয দায়িত্ব হচ্ছে স্বামীর আনুগত্য করা, সন্তান এবং ঘরের দেখাশোনা এবং এইগুলোর হেফাজত করা। আর স্বামীর উপর ফরয দায়িত্ব হচ্ছে স্ত্রীদের সাথে উত্তম আচরণ করা, সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের জন্য খরচ করা, তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া যাতে করে তার মৃত্যু সমান দেবর অথবা শ্বাশুড়ী, ননদরা কোন প্রকার শারিরিক বা মানসিক অত্যাচার করতে না পারে। আর সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে একে অন্যের আমানত এবং বিশ্বাস বজায় রাখা, কোন প্রকার অবৈধ সম্পর্ক বা জিনা-ব্যভিচারে না জড়ানো। যারাই এইগুলো লংঘন করবে তারা হয়তোবা সাময়িক পার পাবে কিন্তু অতি শীঘ্রই লাঞ্চিত ও অপমানিত হবে, দুনিয়াতে কিংবা আখেরাতে। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন।
ইন্না বাতসা রাব্বিকা লাশাদিদ
অর্থঃ নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তার পাকড়াও অত্যন্ত কঠোর।

[সুরা আল-বুরুজ]

ইলম নেওয়ার ব্যপারে সতর্কতা

ইলম নেওয়ার ব্যপারে সতর্কতা
- আনসারুস সুন্নাহ
_________________________
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
কেয়ামতের একটা লক্ষণ হচ্ছে যে, মানুষ জাহেল (মূর্খ) লোকদের কাছ থেকে ইলম (জ্ঞান) অর্জন করবে।
[তাবারানি, জামি আস-সাগীরঃ ২২০৩]
_________________________
আপনারা দ্বীন সম্পর্কে জানার জন্যে ফেইসবুক, ইউটিউব বা ইন্টারনেটে কার লেখা পড়ছেন, কার কথা শুনছেন, কাকে অনুসরণ করছেন বা উস্তাদ (শিক্ষক) হিসেবে কাকে নিচ্ছেন সেই ব্যপারে খুব সতর্ক থাকবেন। কারণ মাজহুল বা অপরিচিত লোক, যে কোন আলেম এর ছাত্র নয় এবং যাকে কোনা আলেম চেনেন না, যার আকিদাহ মানহাজ স্পষ্ট নয়, সে কি হক্কপন্থী নাকি মনপূজারী বিদাতীদের অন্তর্ভুক্ত, এমন লোকের কাছ থেকে ইলম নেওয়া যাবেনা।
_________________________
ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন রাহিমাহুল্লাহ বলেনঃ
এই যে জ্ঞান (দ্বীনের ব্যপারে), এটাই হচ্ছে তোমার দ্বীন। সুতরাং, কার কাছে থেকে তুমি দ্বীনের জ্ঞান নিচ্ছসেই ব্যাপারে সতর্ক থাকো।
[সহীহ মুসলিম, মুকাদ্দিমা]
_________________________
ইমাম শুবাহ রাহিমাহুল্লাহ (মৃত্যুঃ ১৬০ হিজরী) বলেন,
ইলম তার কাছ থেকেই নাও, যে ব্যক্তি পরিচিত।
[আল-জারহ ওয়াত-তাদীলঃ ২/২৮]
_________________________
ফেইসবুকে বিরক্তিকর একটা ব্যপার হচ্ছে, ইসলামিস্ট বা ইসলামিক লেখক নামে এক শ্রেণীর লোকেরা আমি নিজে যা মনে করি সেটাকেই ইসলাম নাম দিয়ে প্রচার করে যাচ্ছে। এদের লেখালেখি, দাওয়াত সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা নির্ভর, তাদের ব্যক্তিগত জীবনকে ঘিরেঃ আজকে আমার এই হইছে, আমি অমুক জায়গায় গেছি, আমার ২ বছরের দুধের বাচ্চা আল্লামাহ হয়ে গেছে, আমার বউ তো রাবেয়া বাসরী হয়ে গেছে, আল্লাহর দুনিয়াতে আমি যে কতোবড় আল্লাহ ওয়ালা, বুজুর্গ লোক - সেটা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের কতই না চেষ্টা! এদের অবচেতন মনে জনপ্রিয়তার প্রতি মোহ, নিজেকে প্রকাশ করতে চাওয়ার ব্যাধি ও রিয়ার শিরক ঢুকে আছে। হাস্যকর ব্যপার হচ্ছে, যথেষ্ঠ পরিমান ইলম ছাড়াই দাওয়াতী কাজে নেমে পড়ায় এই ভ্রান্তিগুলোকেই তারা ইসলামের মহান খেদমত মনে করে ধোকা খাচ্ছে। আপনারা ফেইসবুক, ইউটিউব, পত্রিকা বা ম্যগাজিনের এমন আধা ইসলামিক লেখক, বক্তা, কথিত ইসলামিক পেইজ পড়বেন না, যদিও তারা যতইনা চমকপ্রদ ছবি ও লেখা পোস্ট করুক কারণ এইগুলোর আড়ালে তাদের জাহালত (অজ্ঞতা) ও দ্বোয়ালালাহ (ভ্রষ্টতা) লুকিয়ে আছে, যার দ্বারা অন্যদেরকে বিভ্রান্ত করছে। যেমন নিজের মৌচাকে মধু না থাকলে অন্যদেরকে মধু দেওয়া যায়না, ঠিক তেমনি যার নিজের ইলম নেই, সে অন্যদের লেখা কপি বা নকল করে সে কখনো দ্বাইয়ী বা ইসলাম প্রচারকারী হতে পারেনা।
_________________________
ইলম নিতে এমন আলেমদের কাছ থেকে, যারা সকলের কাছে পরিচিত, যেমন যেমন শায়খ বিন বাজ (রহঃ), শায়খ সালেহ আল-ফাউজান (হাফিঃ), শায়খ আব্দল মুহসিন আল-আব্বাদ (হাফিঃ)। অথবা এমন সত্যিকারের দ্বাইয়ী ও তালেবুল ইলম, যারা আলেমদের ছাত্র, দীর্ঘদিন আলেমদের সাথে থেকে দ্বীন শিক্ষা করেছেন। যেমন আমাদের বাংলা ভাষাতে শায়খ আব্দুল হামীদ মাদানী, শায়খ শহীদুল্লাহ খান মাদানী, শায়খ মতিউর রহমান মাদানী এবং অন্যান্যরা।

_________________________

শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০১৫

Moosaa Richardson Exposes the True Ignorance & Manhaj of Nouman Ali Khan

:::  Moosaa Richardson Exposes the True Ignorance & Manhaj of Nouman Ali Khan :::
People today call Qur'an experts...
They say I don't bother with the sunnah! I go into Quranic miracles, based on the language, based on tafseer by opinions, tafseer by scientific miracles, and they say I am not able to go through Sunnah to sort out the authentic from the inauthentic. It's a vast science, I have no skills in it...
We say :
Thank You, You are DISMISSED.
Thank You, You are DISMISSED.
Do not ever speak about the book of Allah.Thank You.
Shut down your classes, shut down your TV programs, shut down your commercialization of the tafseer. Shut it down and go learn the DEEN, if you wish to talk about the book of Allah.
ESSENTIAL. These are from the ABCs.
Full Speech Link:

https://www.youtube.com/watch?v=PvbMyu3XEpk&feature=youtu.be&app=desktop

শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০১৫

বাসে বা ট্রেনে চলন্ত অবস্থায় নামায পড়ার নিয়ম

বাসে বা ট্রেনে চলন্ত অবস্থায় নামায পড়ার নিয়মঃ
=> যদি সম্ভব হয় তাহলে ওযু করে নামায পড়বেন, ওযু করা সম্ভব না হলে তায়াম্মুম করে নামায পড়বেন। তায়াম্মুম এর জন্যে মাটি না পেলে কাঁচের গ্লাসে হালকা ধূলার প্রলেপ থাকলে সেখানেই হাত স্পর্শ করে তায়াম্মুম করা যাবে।
=> যদি সম্ভব হয় তাহলে কিবলার দিকে (আমাদের দেশে পশ্চিম দিকে) ফিরে নামায পড়বেন, কিবলা নির্ধারণ করা সম্ভব না হলে আন্দাজে সূর্যের অবস্থান দেখে যেই দিকে কিবলা মনে হবে সেইদিকে ফিরেই নামায পড়বেন।
=> যদি সম্ভব হয় তাহলে দাঁড়িয়ে নামায পড়বেন, দাঁড়িয়ে সম্ভব না হলে বসেই পড়েবেন।
=> বসে নামায পড়লে অসুস্থ মানুষের মতোই ইশারায় রুকু-সিজদা করবেন, রুকুর সময় সামনের দিকে একটু ঝুঁকে, আর সিজদাহর সময় রুকু থেকে একটু বেশী ঝুঁকে ইশারায় সিজদা করবেন।

অবশ্য চলন্ত পথে এই অসুবিধা দূর করার জন্যে জার্নির মাঝখানে বিরতি দিলে যোহর ও আসর এবং মাগরিব ও ইশার নামায একসাথে জমাকসর করে পড়তে পারবেন।