শনিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৬

মুমিন কারা? মুমিনদের বৈশিষ্ট্য কি? জান্নাতুল ফেরদাউসে কারা যাবে?

মুমিন কারা? মুমিনদের বৈশিষ্ট্য কি? জান্নাতুল ফেরদাউসে কারা যাবে?
সুরা মুমিনুনের প্রথম ১১টি আয়াতের তর্জমা ও তাফসীর।
উযুবিল্লা-হিমিনাশ শায়তানীর রাজীম। বিসমিল্লাহির-রাহমানির রাহীম।
অর্থঃ বিতাড়িত শয়তানের কুমন্ত্রনা থেকে আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(১) ক্বাদ আফলাহাল মুমিনুন।
অর্থঃ নিশ্চয়ই মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে।
আয়াতের তাফসীরঃ আরবীতে ফালাহ (সফলতা) শব্দের আভিধানিক অর্থ হল চিরা, বিদীর্ণ করা, কাটা। চাষীকে ফাল্লাহ বলা হয়, যেহেতু সেও মাটি চিরে ওর মধ্যে বীজ বপন করে থাকে। মুফলিহ (সফলকাম) সে হয়, যে অনেক কষ্ট ও সংকটের বুক চিরে নিজ লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে। অথবা তার জন্য সাফল্যের পথ খুলে যায়; তার জন্য সে পথ বন্ধ হয় না। শরীয়তের দৃষ্টিতে সফলকাম সেই ব্যক্তি, যে ধূলির ধরায় বাস করে নিজ প্রভুকে সন্তুষ্ট করে নেয় এবং তার বিনিময়ে আখেরাতে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমার অধিকারী বিবেচিত হয়। আর সেই সাথে যদি পার্থিব সুখ-শান্তি লাভ হয়, তাহলে তো সোনায় সোহাগা। তবে সত্যিকার সফলতা পরকালের সফলতা; যদিও দুনিয়ার মানুষ এর বিপরীত দুনিয়ার আরাম-আয়েশ ও সুখ-সম্পদকে আসল সফলতা মনে করে। আয়াতে সেই সব মুমিনদেরকে সফলতার সুসংবাদ শোনানো হয়েছে, যাঁদের মধ্যে উক্ত গুণাবলী বিদ্যমান আছে।
(২) (মুমিন হচ্ছে তারাই) যারা নিজেদের নামাযে খাশিয়ুন (বিনয়ী, নম্র)।
আয়াতের তাফসীরঃ খাশিয়ুন অর্থ আন্তরিক ও বাহ্যিক (অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে) একাগ্রতা ও নিবিষ্টতা। অন্তরের একাগ্রতা হল, নামাযের অবস্থায় ইচ্ছাকৃত খেয়াল, কল্পনা বিহার ও যাবতীয় চিন্তা (সুচিন্তা, কুচিন্তা ও দুঃশ্চিন্তা) হতে হৃদয়কে মুক্ত রাখা এবং আল্লাহর মহত্ত্ব ও মহিমা তাতে চিত্রিত করার চেষ্ট করা। আর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের একাগ্রতা হল এদিক ওদিক না তাকানো, মুদ্রা দোষজনিত কোন ফালতু নড়া-চড়া না করা, চুল-কাপড় ঠিক-ঠাক না করা। বরং এমন ভয়-ভীতি, কাকুতি-মিনতি ও বিনয়ের এমন ভাব প্রকাশ পাওয়া উচিত, যেমন কোন রাজা-বাদশা বা মহান কোন ব্যক্তিত্বের নিকট গিয়ে প্রকাশ হয়ে থাকে।
(৩) যারা অসার ক্রিয়া-কলাপ হতে বিরত থাকে।
আয়াতের তাফসীরঃ (অসার ক্রিয়া-কলাপ) সেই প্রত্যেক কাজ ও কথা, যাতে কোন উপকার নেই অথবা যাতে দ্বীন বা দুনিয়ার কোন প্রকার ক্ষতি আছে। সে সব থেকে বিরত থাকার অর্থঃ সে সবের প্রতি ভ্রূক্ষেপ পর্যন্তও না করা; সে সব বাস্তবে রূপ দেওয়া তো দূরের কথা।
(৪) যারা যাকাত দানে সক্রিয় ।
আয়াতের তাফসীরঃ যাকাতের অর্থ কারো কারো নিকটে ফরয যাকাত (যার বিস্তারিত বর্ণনা অর্থাৎ, তার নিসাব, হকদার প্রভৃতির বিশদ বিবরণ মদীনায় দেওয়া হয়েছে। পরন্তু) তার আদেশ মক্কাতেই দেওয়া হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, এর অর্থ এমন কাজকর্ম ও আচরণ অবলম্বন করা, যাতে আত্মার পবিত্রতা ও চরিত্রের সংশোধন সাধন হয়।
(৫) যারা নিজেদের যৌন অঙ্গকে সংযত রাখে।
(৬) নিজেদের পত্নী অথবা অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত; এতে তারা নিন্দনীয় হবে না।
(৭) সুতরাং কেউ এদেরকে ছাড়া অন্য কাউকে কামনা করলে তারা হবে সীমালংঘনকারী।
আয়াতের তাফসীরঃ এখান থেকে বোঝা যায় যে, ইসলামে মুতআর (কিছু টাকা-কড়ি দিয়ে কোন মহিলাকে সাময়িকভাবে স্ত্রীরূপে গ্রহণ করার, অনুরূপ হস্তমৈথুন করার) কোন অনুমতি নেই। যৌন বাসনা পূর্ণ করার রাস্তা মাত্র দুটি; স্ত্রী-সঙ্গম অথবা মালিকানাভুক্ত ক্রীতদাসীর সাথে মিলন। (যেহেতু বর্তমানে কোথাও কোন দাসী নেই), সুতরাং বর্তমানে যৌন বাসনা পূরণের জন্য কেবলমাত্র স্ত্রীই বাকি রয়ে গেছে। কারণ, অধিকারভুক্ত যুদ্ধবন্দিনী বা ক্রীতদাসীর অস্তিত্ব বর্তমানে বিলুপ্ত। কিন্তু যদি (ভবিষ্যতে মুসলিমদের শক্তিশালী হওয়া এবং নিয়মিত জিহাদের কারণে) কখনও এমন অবস্থা সৃষ্টি হয় যে, যখন ক্রীতদাসী বিদ্যমান থাকবে, তখন তাদের সাথে স্ত্রীর মতই যৌন মিলন বৈধ হবে।
(৮) এবং যারা আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে।
আয়াতের তাফসীরঃ আমানত রক্ষা করা বলতে অর্পিত কর্তব্য পালন করা, গুপ্ত কথা ও মালের আমানতের হিফাযত করা। আর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা বলতে আল্লাহর সঙ্গে কৃত ও মানুষের সঙ্গে কৃত ওয়াদা, অঙ্গীকার ও চুক্তি পূরণ সবই শামিল।
(৯) আর যারা নিজেদের নামাযে যত্নবান থাকে।
আয়াতের তাফসীরঃ পরিশেষে আবার নামাযে যত্নবান হওয়া সফলতার জন্য জরুরী বলা হয়েছে। যাতে নামাযের গুরুত্ব ও মর্যাদা স্পষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু বড় দুঃখের বিষয় যে, আজকাল মুসলিমদের নিকট অন্যান্য নেক আমলের মত নামাযেরও কোন গুরুত্ব নেই। সুতরাং, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রা-জিঊন!
(১০) তারাই হবে উত্তরাধিকারী।
(১১) উত্তরাধিকারী হবে (জান্নাতুল) ফিরদাউসের; যাতে তারা চিরস্থায়ী হবে।

আয়াতের তাফসীরঃ উক্ত গুণাবলীর অধিকারী মুমিনই কেবলমাত্র সফলতা অর্জন করতে পারবে, যে জান্নাতের উত্তরাধিকারী ও হকদার বিবেচিত হবে। কেবল সাধারণ জান্নাতই নয়; বরং জান্নাতুল ফিরদাউস যা আটটি জান্নাতের সর্বোচ্চ জান্নাত; যেখান হতে জান্নাতের নদীমালা প্রবাহিত হয়েছে। সহীহ বুখারী জিহাদ অধ্যায়, তাওহীদ অধ্যায়। 

মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৬

প্রিয়নবী মুহা’ম্মাদ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে কুরআনুল কারীমের কয়েকটি আয়াতের তর্জমা

প্রিয়নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে কুরআনুল কারীমের কয়েকটি আয়াতের তর্জমাঃ
বিসমিল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহ।
ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহ।
আম্মা বাআদ।
(১) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর একজন সত্য নবী বা প্রেরিত দূত, এই স্পষ্ট ঘোষণা দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেনঃ মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ (মুহাম্মদ আল্লাহর রসুল)। সুরা আল-ফাতহঃ ২৯।
(২) অতীতের নবী-রসুলরা প্রেরিত ছিলেন নির্দিষ্ট একটি জাতির জন্যে বা নির্দিষ্ট একটা সময় পর্যন্ত। পরবর্তী নবী আসলে পূর্বের নবীদের নবুওত রহিত হয়ে যেত। কিন্তু আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর আগমনের সময় থেকে কেয়ামত পর্যন্ত এই দুনিয়াতে আগমনকারী সমস্ত মানুষ ও জিনের জন্যে প্রেরিত হয়েছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (হে নবী!) আপনি বলুন, হে মানুষ! আমি তোমাদের সকলের জন্য সেই আল্লাহর (পক্ষ থেকে প্রেরিত) রসুল; যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্বের অধিকারী। তিনি ব্যতীত অন্য কোন (সত্য) উপাস্য নেই, তিনিই জীবিত করেন ও মৃত্যু ঘটান। সুরা আল-আরাফঃ ১৫৮।
(৩) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একটা মুজিজাহ হচ্ছে তিনি ছিলেন উম্মি নবী অর্থাৎ, এমন নবী যিনি কোন কিতাব (বই) পড়তে বা লিখতে জানতেন না। আর এই উম্মি নবীর প্রতিই সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানী কিতাব কুরআনুল কারীম নাযিল করা হয়েছে, এমন কিতাব যার ছোট একটা সুরার মত করে সুরা সমস্ত মানুষ ও জিন মিলেও নকল করতে পারবেনা।
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ তোমরা আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রসুল, নিরক্ষর নবীর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর; যে আল্লাহ ও তাঁর বাণীতে বিশ্বাস করে, এবং তোমরা তাঁর (নবীর) অনুসরণ কর, যাতে করে তোমরা সুপথ পাও। সুরা আল-আরাফঃ ১৫৮।
আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেনঃ (হে নবী) আপনি তো জানতেন না কিতাব কি জিনিস, আর ঈমান কি! সুরা আশ-শূরাঃ ৫২।
(৪) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর প্রেরিত সর্বশেষ নবী, তাঁর পরে আর কোন নবী আসবেন না।
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ মুহাম্মাদ তোমাদের মধ্যে কোন পুরুষের পিতা নয়, বরং তিনি আল্লাহর রাসুল এবং সর্বশেষ নবী। আর আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্বজ্ঞ। সুরা আল-আহজাবঃ ৪০।
(৫) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে আল্লাহ তাআলা মানুষের উপরে সাক্ষী হিসেবে প্রেরণ করেছেন, কেয়ামতের দিন কে ঈমানদার, আর কে কাফের, তিনি এই সাক্ষী দেবেন। তিনি মানব জাতিকে নেক আমলের পুরস্কার হিসেবে জান্নাতে সুখ-শান্তির জীবনের সুসংবাদ দান করেছেন এবং খারাপ কাজের প্রতিদান হিসেবে জাহান্নামের কঠিন আযাবের সতর্কবাণী শুনিয়েছেন। আর আল্লাহ তাআলা তাঁকে সিরাজাম মুনীরা উপাধি দিয়েছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ হে নবী! আমি আপনাকে পাঠিয়েছি (মানব জাতির উপরে) সাক্ষী হিসেবে, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে। এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহবানকারী, এবং সিরাজাম মুনীরা (উজ্জ্বল প্রদীপরূপে)। সুরা আল-আহজাবঃ ৪৫-৪৬।
(৬) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাহমাতুল্লিল আলামীন বা আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষ, জিন ও যা কিছু রয়েছে, সবার জন্যে বিশেষ রহমত স্বরূপ।
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আমি তো আপনাকে রাহমাতুল্লিল আলামীন (বিশ্বজগতের জন্যে রহমত) হিসেবে প্রেরণ করেছি। সুরা আল-আম্বিয়াঃ ১০৭।
(৭) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সর্বোত্তম চরিত্রের সার্টিফিকেট দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আর নিশ্চয়ই আপনি সুমহান চরিত্রের অধিকারী। সুরা আল-ক্বলমঃ ৪।
(৮) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদর্শকে আমাদের জন্য একমাত্র অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে ঘোষণা করে আল্লাহ তাআলা বলেনঃ তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালের ব্যপারে আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য আল্লাহর রসুলের (চরিত্রের) মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে। সুরা আল-আহজাবঃ ২১।
(৯) যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদেশ মান্য করলো, সে যেনো আল্লাহকেই মান্য করলো। আর যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অবাধ্যতা করলো, সে যেনো আল্লাহর অবাধ্যতা করলো।
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ যে ব্যক্তি রসুলের আনুগত্য করল, সে আসলে আল্লাহরই আনুগত্য করল। সুরা আন-নিসাঃ ৮০।
আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেনঃ পক্ষান্তরে যে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের অবাধ্য হবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা লংঘন করবে, তিনি তাকে আগুনে নিক্ষেপ করবেন। সেখানে সে চিরকাল থাকবে, আর তার জন্য রয়েছে লাঞ্চনাদায়ক শাস্তি। সুরা আন-নিসাঃ ১৪।
(১০) আল্লাহ তাআলার ভালোবাসা পাওয়ার মাধ্যম হচ্ছে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাহ বা তাঁর জীবন আদর্শের অনুসরণ করা।
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (হে নবী!) আপনি বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালবাসো, তাহলে আমার (অর্থাৎ নবীর) অনুসরণ কর। তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেবেন। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। সুরা আলে-ইমরানঃ ৩১।
(১১) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহ বা তাঁর আদেশ-নিষেধ সমূহ মান্য করার উপর জোর দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আর রসুল তোমাদেরকে যা দেন, তা তোমরা গ্রহণ কর। এবং যা হতে তোমাদেরকে নিষেধ করেন, তা থেকে তোমরা বিরত থাক। সুরা আল-হাশরঃ ৭।
(১২) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন তাঁর উম্মতের প্রতি অত্যন্ত স্নেহপরায়ন ও দয়ালু।
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ নিশ্চয়ই তোমাদেরই মধ্য থেকে তোমাদের নিকট এসেছেন এমন একজন রসুল, যার কাছে তোমাদের দুঃখ-কষ্ট খুব কষ্টদায়ক মনে হয়, যিনি তোমাদের অত্যন্ত হিতাকাঙ্ক্ষী, যিনি ঈমানদারদের প্রতি বড়ই স্নেহশীল, করুণা পরায়ণ। সুরা আত-তাওবাহঃ ১২৮।
(১৩) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বশ্রেষ্ঠ নবী এবং আল্লাহ তাআলার সবচাইতে সম্মানিত বান্দা। কিন্তু তিনি কোন ফেরেশতা, নূর বা নুরুল্ললাহ (আল্লাহর নূর) নন।
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (হে নবী!) আপনি বলুন, আমি তো তোমাদের মতই একজন মানুষ। সুরা আল-কাহফঃ ১১০।
আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেনঃ (হে নবী! আপনি বলুন) আমি এমন কথা বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা। সুরা আল-আনআমঃ ৬।
(১৪) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গায়েব বা অদৃশ্যের খবর জানতেন না। একারণে তিনি আল্লাহ তাআলার সাহায্য বা ওয়াহী ব্যতিরেকে নিজে নিজের ভালো বা মন্দ করতে সক্ষম ছিলেন না। আর আল্লাহ তাআলার খাজানা বা ধন-ভান্ডারের উপরেও তাঁর কোন কর্তৃত্ব ছিলোনা।
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (হে নবী!) আপনি বলুন, আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ধন-ভান্ডারের চাবি রয়েছে। আর আমি গায়েব জানি না। সুরা আল-আনআমঃ ৬।
আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেনঃ (হে নবী!) আপনি ঘোষণা করে দিন যে, একমাত্র আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া আমার নিজের ভাল-মন্দ, লাভ-লোকসান, কল্যাণ-অকল্যাণ ইত্যাদি বিষয়ে আমার কোনই ক্ষমতা নেই। আর আমি যদি গায়েবের খবর জানতাম, তাহলে অনেক কল্যাণ লাভ করতে পারতাম, আর কোন প্রকার অকল্যাণ আমাকে স্পর্শ করতে পারত না। সুরা আল-আরাফঃ ১৮৮।
(১৫) আল্লাহ তাআলার সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হওয়া সত্ত্বেও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানতেন না যে, কেয়ামত কবে হবে।
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (হে নবী) লোকেরা আপনাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, সেটা কখন সংঘটিত হবে? এ ব্যাপারে আপনার কি বলার আছে? কেয়ামত (কবে হবে তার) চূড়ান্ত জ্ঞান তো আছে শুধুমাত্র আপনার প্রতিপালকের নিকটেই আছে। সুরা আন-নাযিয়াতঃ ৪২-৪৪।
(১৬) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দায়িত্ব ছিলো লোকদেরকে উপদেশ দেওয়া, তাদেরকে সতর্ক-সাবধান করা। বল প্রয়োগ করে, ভয় দেখিয়ে, জোর-জবস্তি করে লোকদেরকে হেদায়েত করতেই হবে, এমন দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হয়নি।  
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (হে নবী!) আপনি তাদেরকে উপদেশ দিন, আপনি তো কেবল একজন উপদেশদাতা মাত্রআপনি তাদের উপর জিম্মাদার (বা কর্তৃত্বশীল শাসক) নন সুরা আল-গাশিয়াহঃ ২১-২২।  
(১৭) অতীতে অনেক নবী ও রসুল আগমন করেছেন, তাঁরা তাঁদের দায়িত্ব সফলভাবে পালনের পরে দুনিয়া থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন। সুতরাং আল্লাহ তাআলার বিধান অনুযায়ী তাঁর সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও একদিন মৃত্যুবরণ করবেন, এটাই ছিলো স্বাভাবিক বিষয়।
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (হে নবী) আপনিও মৃত্যু বরণ করবেন আর তারাও মৃত্যু বরণ করবে। সুরা আয-যুমারঃ ৩০।
আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেনঃ মুহাম্মাদ তিনিতো আল্লাহর রসুল ছাড়া আর কিছু নন, তার পূর্বে অনেক রসুল মৃত্যু বরণ করেছেন। এখন তিনি যদি মৃত্যুবরণ করেন অথবা নিহত হন, তাহলে তোমরা কি তোমাদের পূর্ব অবস্থায় (কুফুরীতে) ফিরে যাবে? প্রকৃতপক্ষে যে ব্যক্তি তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে, সে আল্লাহর কোন ক্ষতি করতে পারবেনা। আল্লাহ অচিরেই যারা কৃতজ্ঞ তাদেরকে প্রতিদান দিবেন। সুরা আলে ইমরানঃ ১৪৪।
(১৮) আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর প্রতি রহমত প্রেরণ করেন এবং তাঁর ফেরেশতাগণও নবীর প্রতি রহমতের জন্যে দুয়া করেন। সুতরাং আল্লাহ তাআলা আমাদেরকেও তাঁর নবীর প্রতি রহমতের জন্যে দুয়া করতে (অর্থাৎ দুরুদ পড়ার জন্যে) আদেশ করে বলেছেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফিরিশতাগণ নবীর প্রতি সালাত ও সালাম পেশ করেন। সুতরাং, হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি সালাত (দুরুদ) পেশ করো এবং তাঁকে যথাযথভাবে সালাম জানাও। সুরা আহযাবঃ ৫৬।
আসুন আমরা সকলেই পড়িঃ

আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়া-লা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া-লা আলি ইব্রাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া-লা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারা-কতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া-লা আলি ইব্রাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ

আশুরার রোযা কিভাবে রাখতে হবে?

আশুরার রোযা কিভাবে রাখতে হবে?
আল্লামাহ শায়খ সালেহ আল-ফাউজান হাফিজাহুল্লাহকে এই প্রশ্ন করা হলে উত্ততি তিনি বলেছেন, ইমাম ইবনে কাইয়িম রাহিমাহুল্লাহ তাঁর রচিত যাদুল মাআদে আশুরার রোযা রাখার তিনটি পদ্ধতির কথা বর্ণনা করেছেন
(১) সর্বোত্তম হচ্ছেঃ মুহাররামের ৯, ১০ এবং ১১ তারিখ - এই তিন দিন রোযা রাখা। এটা পূর্ণাংগ পদ্ধতি।
(২) দ্বিতীয় সর্বোত্তম পদ্ধতি হচ্ছেঃ ১০ তারিখের পূর্বে অথবা পরে যেকোন একদিন মিলিয়ে দুইটি রোযা রাখা। অর্থাত, ৯, ১০ অথবা ১০, ১১ এই দুই দিন রোযা রাখা।

(৩) সর্বশেষ হচ্ছেঃ শুধুমাত্র ১০ তারিখে একটা রোযা রাখা। এটা জায়েজ আছে, কিন্তু এটা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদেশের বিপরীত। কারণ, ইয়াহুদীদের সাথে বিরোধীতা করার জন্যে তিনি বলেছিলেন, আমি যদি আগামী বছর বেঁচে থাকি, তাহলে ৯ তারিখেও রোযা রাখবো। সহীহ মুসলিম। তবে, যে ব্যক্তি শুধুমাত্র ১০ তারিখ একটা রোযা রাখবে, সেও আশুরার রোযার ফযীলত পাবে।

শুক্রবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৬

গল্পে গল্পে ইসলামী আকিদাহ শিক্ষা (পর্ব-১)

গল্পে গল্পে ইসলামী আকিদাহ শিক্ষা (পর্ব-১)
ফারজানার খুব ইচ্ছে উচ্চ শিক্ষার জন্যে বিদেশে যাবে। কিন্তু তার বাবা-মা মেয়েকে একাকী বিদেশে যেতে দিতে রাজীনা। বিদেশে গিয়ে কত মেয়ে খারাপ হচ্ছে, কত মেয়ের সর্বনাশ হচ্ছে, কত মেয়ে লিভ-টুগেদার নাম দিয়ে জিনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হচ্ছে, ইয়াহুদী-খ্রীস্টানদেরকে বিয়ে করছে, বিদেশে একাকী জীবন-যাপন করে পরে বাবা-মায়ের কথা আর শোনেনা, অনেকে তো মুর্তাদও হয়ে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে মুসলিম বাবা-মায়েরা মেয়েকে একাকী বিদেশে যেতে দিতে চাইবেনা, এটাই স্বাভাবিক। অনেক বোঝানোর পরেও ফারজানা কিছুতেই বুঝবেনা। শেষে তার বাবা মেয়েদের একাকী সফর করা জায়েজ নয়, শরিয়াতের এই হুকুমের কথা বলে মেয়ে আটকানোর শেষ চেষ্টা করলেন। কিন্তু ততদিনে অনেক দেরী হয়ে গেছে, কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে কিছু বাংলা, কিছু ইংরেজী, আর কিছু ইসলাম পড়ে ফারজানা এখন হাদীসের ধার ধারেনা, নিজের মনমতো কুরআন-হাদীসের অপব্যখ্যা নিয়েই সন্তুষ্ট। সুতরাং, রাসুলু্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কথা না শুনে উল্টা তার পরিবার তার উচ্চ শিক্ষা, তার জীবনের উন্নতির জন্যে বাঁধা দিচ্ছে বলে মনে করলো। সেইজন্যে বাবার মুখে ইসলামী আইন শুনে তার পরিবার ফতোয়া ঝুলিয়ে দিয়ে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চাচ্ছে বলে কটাক্ষ করলো। মানব কল্যাণের মহান উদ্দেশ্য নিয়ে সে রাসুলু্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদেশকে উপেক্ষা করে, বাবা-মায়ের অবাধ্য হয়ে ফারজানা বিদেশে পাড়ি জমালো।
.
নারীদের জন্য একাকী সফর করা হারামঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে নারী আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে জেনে রাখ! তার জন্য অনুমতি নেই যে সে আপন স্বামী অথবা মাহরাম পুরুষ ছাড়া সফর সমান দূরত্বে একাকী ভ্রমণ করবে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩৩৮।
এমনকি কোন নারী হজ্জের মতো ফরজ কাজের উদ্দেশ্যেও মক্কাতে একাকী যেতে পারেনা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোন নারী নিজ মাহরাম সংগী ছাড়া একাকী সফর করবেনা। তখন উপস্থিত এক সাহাবী আরয করলেন, আমি তো অমুক জিহাদে যাচ্ছি। আর এদিকে আমার স্ত্রী হজ্বে যেতে যাচ্ছে। (আমি কি করবো)? জিহাদে বের হবো, নাকি স্ত্রীর সাথে হজ্বের সফরে বের হব।? কারণ আমি ছাড়া তার অন্য কোন মাহরারম সঙ্গী নেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি জিহাদে না গিয়ে তোমার স্ত্রীর সাথে হজ্বের সফরে যাও। সহীহ বুখারী, হাদীস নং- ৩০০৬।
.
ইসলামের কোন বিষয়কে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা বা হেয় মনে করা কুফুরী এবং মুনাফেকের লক্ষণঃ
অনেক নারী ও পুরুষকে যখন ইসলামী শরিয়ান অনুযায়ী কোন হুকুম বর্ণনা করা হয়, অজ্ঞতা কিংবা দুর্বল ঈমানের কারণে অনেকে আল্লাহর আইন নিয়ে হাসি-ঠাট্টা বা কটাক্ষ করে। এটা একটা কুফুরী কাজ, যেকারণে মানুষের ঈমান নষ্ট হয়ে যায়। আজকাল হরহামেশা অনেক লেখক, সাহিত্যিক ইসলাম নিয়ে তির্যক লেখা লিখেন, না জেনে বা না বুঝে এ বিষয়ে পান্ডিত্য দেখাতে গিয়ে ডুবে যান কুফুরীর অতল সাগরে। মুসলমানী নামটুকু ছাড়া তার আর কিছুই বাকী থাকেনা। আল্লাহ পাক এমন লোকদেরকে বলছেন,
(হে নবী!) আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, তারা বলবে, আমরাতো হাসি তামাশা করছিলাম। আপনি বলে দিন, তোমরা কি আল্লাহকে নিয়ে এবং তার আয়াতসমূহ ও তার রাসুলকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করছ? তোমরা কোন অযুহাত দেখিয়ো না, তোমরা তো ঈমান আনার পরে কুফুরী করে ফেলেছো। সুরা তওবাঃ ৬৫-৬৬।
তোমরা কি কিতাবের কিছু অংশকে বিশ্বাস কর এবং কিছু অংশকে প্রত্যাখান কর? তোমাদের যারা এমন করে তাদের পার্থিব জগতে লাঞ্ছনা ও অবমাননা ছাড়া আর কী প্রতিদান হতে পারে? এবং ক্বিয়ামতের দিন তারা কঠিন শাস্তির মধ্যে নিক্ষিপ্ত হবে, আর তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ্ গাফেল নন। সুরা আল-বাক্বারাঃ ৮৫।
মুনাফেকদের প্রথম পরিচয় ছিল, তারা মুসলমানদেরকে নিয়ে হাসি তামাশা করতো, তাদেরকে বোকা ভাবতো। আল্লাহ পাক তাদেরকে ধমক দিয়ে বলেছেন, তারাই বোকা অথচ নিজেরা তা জানে না। সুরা আল-বাকারাহঃ ১৩।
ইমাম নববী (রহঃ) বলেন, কোন ব্যক্তি যদি স্বেচ্ছায় কিংবা কেউ যদি স্পষ্টভাবে এমন কোন কথা বলে যা আল্লাহ ও তার রাসূলের কোন বিধানকে তুচ্ছ করে, তা অবশ্যই কুফুরী।
ইমাম কুরতুবী (রহঃ) লিখেছেন, মজা করার জন্য হোক কিংবা সত্যি সত্যিই হোক, ইসলামের কোন সাধারণ বিষয় নিয়ে হাসি তামাশা করা কুফুরী। এতে কারো দ্বিমত নেই।

ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন, দ্বীনের যে কোন স্পষ্ট বিষয় নিয়ে ঠাট্টা করা কুফুরী। যে এমন করল তার ঈমান ধ্বংস হয়ে কুফুরীতে পরিণত হল।

আমি তো মুসলমান! আমি পূজা করতে যাই না, পূজা দেখতে যাই

আমি তো মুসলমান! আমি পূজা করতে যাই না, পূজা দেখতে যাই. . .
=> বলা হয় মুসলমানদের দেশ, রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম. . .কিন্তু স্কুল-কলেজ, ইউনিভার্সিটি, অফিস, আদালাতে, রাস্তা-ঘাটে সামান্য কয়েকজন মুশরিকের জন্য বিশাল মূর্তি স্থাপন করা হচ্ছে, পূজার গান-বাজনা দিয়ে পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে।
=> বর্তমান যুগের এমন অনেকে রয়েছে যারা নিজেদেরকে ঈমানদার দাবী করে, কিন্তু পূজার দিনগুলোতে মুশরিকদের দেব-দেবীর মূর্তি দেখার জন্য ভীড় জমান।
=> পূজা উপলক্ষ্যে মুশরিকদের সাজানো জাক-জমকপূর্ণ ডেকোরেশান, গান-বাজনার আর বেহায়া মেয়েদের রূপে পাগল হয়ে লক্ষ লক্ষ মুসলমান পুরুষ ও নারীরা আল্লাহকে ভুলে গিয়ে মুশরিকদের সাথে মিলে-মিশে পূজা উদযাপন করছে।
=> অনেকে মুশরিকদের সাথে বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার কারণে পূজা উপলক্ষ্যে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।
=> অনেক নেতা-কর্মীরা অমুসলিমদের মাঝে জনপ্রিয়তা ও ভোট পাওয়ার জন্য, ক্ষমতার লোভে প্রতিবেশী মুশরিক দেশের সমর্থন পাওয়ার জন্য মুশরিকদের মন্দিরে পূজার উদ্বোধন করছেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার বলে মুসলমানদেরকে মূর্তি পূজার দাওয়াত দিচ্ছেন।
_____________________________
পূজা উপলক্ষ্যে মুশরিকদেরকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন?
বাংলাদেশের হিন্দুদের মাঝে সবচাইতে বড় পূজা হচ্ছে দুর্গা পূজা। অপর একটি বৃহত্তর পূজা হচ্ছে সরস্বতী পূজা। নাম শুনে বুঝা যায়, দুর্গা, সরস্বতী হচ্ছে মহিলার নাম। পূর্ব-পশ্চিম, মুশরিক যেখানের হোক, তাদের মাঝে সাধারণ একটা স্বভাব হচ্ছেঃ নারী পূজা করা।
মহান আল্লাহ বলেন, তারা (মুশরিকরা) আল্লাহকে বাদ দিয়ে শুধু নারীর পূজা করে এবং বিদ্রোহী ও অবাধ্য শয়তানের পূজা করে। সুরা নিসাঃ ১১৭।
উবাই ইবনু কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, প্রত্যেকটা মূর্তির সাথে একটা করে নারী জ্বিন থাকে। আহমাদঃ ২১২৬৯, সনদ হাসান, ইবনু কাসীর, তাফসীর সুরাহ নিসাঃ আয়াত-১১৭।
মক্বা বিজয়ের পরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদেশ অনুযায়ী খালিদ বিন ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বিখ্যাত উযযা মূর্তি ধ্বংস করার সময় সেখান থেকে কালো কুচকুচে রঙ্গের, উস্কু-খুস্কু চুল বিশিষ্ট একটা নগ্ন নারী জ্বিন বের হয়ে আসে। তিনি সেই জিনকে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করে দ্বিখন্ডিত করে ফেলেন। নাসাঈ কুবরাঃ ১১৫৪৭, তাবাকাত ইবনু সাদঃ ২/১৪৫-১৪৬।
_____________________________
কুরআনে আল্লাহ পাক ফিতনাহ শব্দ দ্বারা কয়েকটি বিষয়কে বুঝিয়েছেনঃ
(১) পরীক্ষা (test, trail),
(২) আযাব বা শাস্তি (punishment, torment),
(৩) শিরক (associating partner with Allah).
যেমন মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, ফিতনাহ মানুষ হত্যার চাইতে জঘন্য। সুরা আল-বাক্বারাহঃ ১৯১।
এই আয়াতের তাফসীর সম্পর্কে আবুল আলিয়া, মুজাহিদ, আল-হাসান, জাহহাক, ইকরিমা, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, কাতাদাহ (আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি রহম করুন), ক্বুরানের তাফসীরকারক হিসেবে প্রসিদ্ধ এই সমস্ত তাবেয়ীরা সকলেই বলেছেন, এই ফিতনার অর্থ হচ্ছেঃ শিরক
অর্থাৎ এই আয়াতের উদ্দিষ্ট অর্থ হচ্ছে, শিরকের পাপ মানুষ খুনের চাইতে নিকৃষ্ট। সুতরাং, মুশরিকদের পূজা উপলক্ষ্যে যারা তাদেরকে শুভেচ্ছা জানাবে, তাদের উৎসবে শরীক হবে, তারা খুনের চাইতে নিকৃষ্ট পাপকে সমর্থন জানানো এবং তাতে শরীক হওয়ার জঘন্য পাপে লিপ্ত হলো।
.
আজকাল অনেক পূজা মন্ডপে হিন্দুদের চাইতে মুসলমানদেরকেই বেশি দেখা যায়। এমনিভাবে কালের ব্যবধানে এক সময় নামধারী এই মুসলমানেরা ঈমান থেকে বের হয়ে মূর্তি পূজার শিরকে লিপ্ত হবে। এটা আখেরী জামানাতে কেয়ামতের একটা লক্ষণ। এ সম্পর্কে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহীহ হাদীসগুলো আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।
_____________________________
(১) কেয়ামতের পূর্বে মুসলিম নামধারী কতগুলো লোক মূর্তি পুজা করবেঃ
আবু হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কিয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ যুল-খালাসার পাশে দাওস গোত্রের মহিলারা কোমর দুলিয়ে নাচবে। সহীহ বুখারীঃ ৭১১৬; সহীহ মুসলিমঃ ৭১৯০ (৫১/২৯০৬)।
নোটঃ যুল-খালাসাহ হল দাওস গোত্রের দেবতার মূর্তি। ইয়ামানের যুলখালাস নামক স্থানে দাওস বংশের এই মূর্তি ছিল, কোন বর্ণনায় এই স্থানের নাম তাবালাহ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞতার যুগে তারা এই মূর্তির ইবাদত করতো, সেখানে তাওয়াফ (চক্কর) দেয়া হতো।
.
(২) মুসলিমদের কোনো কোনো বংশ মূর্তি পূজা আরম্ভ করবে আর কিছু সংখ্যক মুশরিকদের সাথে মিলে যাবেঃ
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আযাদকৃত দাস সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি আমার উম্মাতের ব্যাপারে পথভ্রষ্ট ইমাম বা নেতাদেরকে ভয় করছি। অচিরেই আমার উম্মাতের কোনো কোনো গোত্র বা সম্প্রদায় প্রতিমা পূজায় লিপ্ত হবে, এবং আমার উম্মতের কতগুলো গোত্র মুশরিকদের সাথে যোগ দিবে। আবু দাউদঃ ৪২৫২; ইবনু মাযাহঃ ৩৯৫২; সহীহ, শায়খ আলবানি রাহিমাহুল্লাহ।
.
(৩) কেয়ামতের পূর্বে লাতউজ্জার পূজা এমনভাবে শুরু হবে যেইভাবে জাহেলিয়াতের সুময় (অন্ধকার যুগে) প্রচলিত ছিলঃ
আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, রাত ও দিন শেষ হবে না, যতক্ষন পর্যন্ত না লাত ও উযযা দেবতার পূজা আবার শুরু করা হবে।
এ কথা শুনে আমি (আয়িশায়) বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ নাযিল করেছেন, তিনি তাঁর রাসুলকে পাঠিয়েছেন হিদায়াত ও সত্য দ্বীন সহকারে, সকল দ্বীনের উপর বিজয়ী করার জন্য, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। সুরা আত-তাওবাঃ ৩৩।
এই আয়াত নাযিলের পর আমি তো (আয়িশাহ) মনে করেছিলাম যে, এ প্রতিশ্রুতি পূরন করা হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তা অবশ্যই হবে। তবে যতদিন আল্লাহ ইচ্ছা করবেন ততদিন পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। অতঃপর তিনি এক মনোরম বাতাস প্রেরন করবেন। ফলে যাদের অন্তরে সরিষার দানা পরিমান ঈমান আছে তাদের প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করবে। পরিশেষে যাদের মাঝে কোন কল্যাণ (ঈমান) নেই তারাই শুধু বেঁচে থাকবে। অতঃপর তারা আবার পিতৃ-পুরুষদের ধর্মের (শিরকের) দিকে ফিরে যাবে। সহীহ মুসলিমঃ ৭১৯১ (৫২/২৯০৭)।
.
(৪) মুসলমান হয়েও যারা মুশরিকদের দেব-দেবী দেখতে যাবে, তাদের উপরে আল্লাহর গজব বর্ষিত হবেঃ
উমার ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের উৎসবের দিনগুলোতে তাদের উপাসনালয়ে প্রবেশ করো না। কারণ, সেই সময় তাদের উপর আল্লাহর গযব নাযিল হতে থাকে। ইমাম ইবনুল ক্বাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ তাঁর আহকামুল জিম্মাহ (১/৭২৩-৭২৪), সহীহ সনদে বায়হাক্বী থেকে এই রেওয়ায়েতটি বর্ণনা করেছেন।
_____________________________
মানুষ চায় প্রবৃত্তির অনুসরণ করতে। এই সুযোগে আলেম নাম নিয়ে একশ্রেনীর জাহিল লোকেরা শ্রোতাদের মাঝে জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য ক্বুরআন ও হাদীস বিকৃত করে, সম্মানিত আলেমদের ফতোয়া নিয়ে মিথ্যা কথা বলে হালালকে হারাম আর হালালকে হারাম বানিয়ে দেয়। ইলম থেকে বঞ্চিত সরলমনা মুসলমানেরা প্রবৃত্তির অনুসারী এমন লোকদেরকেই মধ্যমপন্থী, BALANCED, যুগোপযোগী শায়খ বলে মনে করে ধোঁকা খায়। এমনই একটা বাস্তব উদাহরণ হচ্ছে, এমেরিকান ইসলামের ধারক-বাহক ইয়াসির UNQUALIFIED ক্বাদী। আমার এই পোস্ট এমনিতেই বড় হয়ে যাওয়ায় এনিয়ে কথা না বাড়িয়ে কৌতূহলী পাঠকদের জন্য একটা লিংক শেয়ার করছি
(1) Why You Are Doing To Muslims by Abu Mussab Wajdi Akkari
https://www.youtube.com/watch?v=z_xSfWL7ctU
.
(2) Be aware of American Islam
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/photos/a.130928300273259.14132.125167817515974/1496079073758168/?type=3&hc_ref=SEARCH
_____________________________
মহান আল্লাহ আমাদেরকে এবং আমাদের পরিবারকে প্রকাশ্য ও গোপন, নামে ও বেনামে, সকল ধরনের মূর্তি পূজা এবং যাবতীয় শিরকি কর্মকাণ্ড থেকে হেফাযত করুন (আমিন)।