শনিবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৪

আমার প্রিয় তিন জন জীবিত বড় আলেম

আমাদের প্রশ্ন ছিলোঃ

জীবিত ৩ জন বড় #আলেমের নাম বলুন। একভাই আমাদেরকে প্রশ্ন করেছেন, Addmin আপনার তিন জন প্রিয় আলেম কে কে?

উত্তরঃ আমার প্রিয় তিন জন জীবিত বড় আলেমঃ

১. আল্লামাহ, শায়খ সালিহ আল-ফাওজান (হাফিজাহুল্লাহ)
জন্মস্থানঃ সৌদি আরব।

বর্তমান দুনিয়াতে সবচাইতে বড় আলেমদের মধ্যে একজন। শায়খ বিন বাজ ও শায়খ ইবনে উসাইমিন - ২ জনই তাদের মৃত্যুর পূর্বে যার কাছ থেকে #ইলম নিতে বলেছেন সবার প্রথম শায়খ ফাওজানের নাম বলেছেন। #আকীদাহ ও #ফিকহের উপরে তাঁর বহু কিতাব রয়েছে যা বাংলা, ইংরেজীসহ বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে যেইগুলো আপনারা islamhouse.com ওয়েবসাইটে ফ্রী পাবেন।

তার উল্লেখযোগ্য বইয়ের নাম - কিতাবুত তাওহীদের ব্যখ্যা, বুলুগুল মারামের শরাহ (ব্যখ্যা গ্রন্থ), ফতোয়ায়ে ইসলামিয়া...

তিনি একজন কাজী ও সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া বোর্ডের সদস্যসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। 

২. মুহাদ্দিস, শায়খ আব্দুল মুহসিন বিন আল-আব্বাদ (হাফিজাহুল্লাহ)
হাদীসের উপরে শীর্ষস্থানীয় আলেম, অত্যন্ত প্রবীন এই শায়খ নিয়মিত মদীনাহ ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে ও মদীনার হারামে দারস দেন। তার অনেক ছাত্র রয়েছে।
জন্মস্থানঃ সৌদি আরব।

৩. আল্লামাহ শায়খ উয়াসী উল্লাহ আব্বাস (হাফিজাহুল্লাহ)
তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আপনারা এই লেখাটা পড়তে পারেন।
জন্মস্থানঃ ইন্ডিয়া।

উর্দু ও আরবীতে সমান পারদর্শী আমাদের অতি প্রিয় এই শায়খের #জীবনী পড়ুন এই লিংক এ-


https://www.facebook.com/photo.php?v=697893493576734&set=vb.125167817515974&type=3&video_source=pages_video_set

বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০১৪

তাবলীগ জামাত ও কবর মাযার পূজার শিক্ষা

তাবলীগ জামাত ও কবর মাযার পূজার শিক্ষাঃ

বি ইজনিল্লাহি তাআলা, চলুন আজকে আমরা প্রমান করে দেই তাবলীগ জামাতের লোকেরা #কবর_মাযার_পূজার কিচ্ছা প্রচার করে, কারণ তাদের #ভেজাল_কিতাবগুলোতে তাদের বুজুর্গরা এইগুলো লিখে রেখেছে!

#বড়_লেখা দেখে সম্পূর্ণ লেখা না পড়ে এড়িয়ে যাবেন না। শিরক কি জানুন শিরকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন।

#সম্পূর্ণ লেখা না পড়ে কমেন্ট করা নিষিদ্ধ।

#দলীল_বিহীন গালিগালাজ করে নিজের জন্মের পরিচয় না দিলেই ভালো। হক্ক কথা মেনে না নিয়ে গালি দিয়ে শিরক-বেদাতের দালালী করে কাল কেয়ামতের দিন পার পাবেন না।
__________________________

তাবলীগ জামাতের লোকেরা চায় ইসলামের দাওয়াত দিতে, কিন্তু তারা দাওয়াত ও তাবলীগ নাম দিয়ে মারাত্মক #সূফীবাদী_বেদাতী দল #দেওবন্দী_মাদ্রাসার আকীদা ও তাদের পথভ্রষ্ট মুরুব্বীদের দিকে দাওয়াত দেয়। সরলমনা মুসলমান, যারা দ্বীন সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, ক্বুরান ও হাদীস সম্পর্কে, ইসলামী আকীদা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান না থাকার কারণে, তাবলীগ জামাতের লোকদের মিষ্টি মিষ্টি কথা শুনে তারা ধোঁকা খায়। তাবলীগ জামাতের মাধ্যমে দেওবন্দী মুরুব্বীরা কি কৌশলে শিরকি-কুফুরীর সূফীবাদী কিচ্ছা-কাহিনী প্রচার করে যাচ্ছে, এটা ধরতে পারেনা।

তাবলীগ জামাতের লোকেরা ক্বুরান হাদীস বুঝে পড়েনা, বছরের পর বছর ধরে ফাজায়েল নামে কিচ্ছা-কাহিনী ও জাল জয়ীফ দিয়ে ভর্তি বেদাতী কিতাবে সবক দেয়। সেইজন্য তাদের দলের লোকেরা না জেনে মিথ্যা, বানোয়াট ও আজগুবী শিরকি কিচ্ছা কাহিনী প্রচার করে। আফসোসের বিষয় হচ্ছে অজ্ঞ এই লোকগুলো কোনদিন চিন্তা করেনা, কত বড় শিরকি কথাবার্তা প্রচার করে উম্মতকে বিভ্রান্ত করে কি ক্ষতি তারা করছে।

সামনে #হজ্জের মৌওসুম উপলক্ষে তাবলীগ জামাতের লোকেরা তাদের মুরুব্বী, মাওলানা #জাকারিয়া_সাহেবের লেখা #ফাজায়েলে_হজ্জ নামে একটা কেতাব অনেক মসজিদে পড়ানো শুরু করেছে, যা তাবলীগ জামাত ভক্ত সবাই জানে।

ফাযায়েলে হজ্জ নামে মারাত্মক বেদাতী এই বইটার পাতায় পাতায় ক্বুরান ও সুন্নাহ বিরোধী, আজগুবী, বানোয়াট, শিরকী, কুফুরী ও বেদাতী কথাবার্তা ও ভুয়া কিচ্ছা দিয়ে ভর্তি। অমুক বুজুর্গ এটা বলে, অমুক সূফী সাপের কেরামতী, কিচ্ছা এইরকম নামে দলীল বিহীন বানোয়াট কাহিনীগুলোর কোন রেফারেন্স দেওয়া নেই। এই বই দিয়ে হাজার হাজার মানুষ যারা হজ্জের উদ্দেশ্যে যায়, তাদেরকে কবর-মাযার পূজার কিচ্ছা পড়ানো হচ্ছে।

এই কাহিনীগুলোর মাঝে অনেক কাহিনী আছে যেইগুলোতে ডাইরেক্ট কবর মাযার পূজার কাহিনী বলা আছে। কবরের কাছে গিয়ে মৃত মানুষের কাছে টাকা পয়সা চাওয়া, খাবার চাওয়া, বিপদে পড়ে ডাইরেক্ট কবরওয়ালার কাছে সাহায্য চাওয়া এইরকম সরাসরি বড় শিরকি কাহিনী লিখে রেখেছে কথিত শায়খুল হাদীস নামের মাওলানা জাকারিয়া সাহেব।

নিচে এইরকম অসংখ্য শিরকি কাহিনী থেকে ২টি উদাহরণ তুলে ধরা হলো। কবর-মাযার পূজা বলতে আসলে কি বোঝায়, সহজ ভাষায় সংক্ষিপ্তভাবে নিচের এই পোস্ট দেখুন আশা করি ইন শা আল্লাহ দিনের আলোর মতো সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।

মাযার পূজা, পীর পুজা - ২টাই হচ্ছে শিরক
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/805143942851688

#উদাহরণ
ফাজায়েলে হজ্জ, ১৩৮ পৃষ্ঠা।
মূল লেখক মাওলানা জাকারিয়া সাহেব, কাকরাইলে মুরুব্বীদের অনুমতি ও দোয়া নিয়ে অনুবাদ করেছেন মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ, প্রকাশনী তাবলিগি কুতুবখানা ৫০ বাংলাবাজার ঢাকা, ফোন ৭১২৩৫৩৮।

শায়েখ আবুল খায়ের বলেন, একবার মদীনা মোনাওয়ারায় হাজির হইয়া পাঁচ দিন পর্যন্ত আমাকে উপবাস থাকতে হয়। খাওয়ার জন্য কিছুই না পেয়ে অবশেষে আমি হুজুর (রাসুল সাঃ কে তারা হুজুর নামে ডাকে, এই নামে ডাকা জায়েজ না) এবং শায়ইখানের (আবু বকর ও উমার রাঃ কে শায়খান বলা হয়) কবরের মধ্যে সালাম পড়িয়া আরজ করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি আজ রাতে আপনার মেহমান হবো।
এই কথা আরজ করে মিম্বর শরীফের নিকট গিয়ে আমি শুইয়া পড়লাম। স্বপ্নে দেখি, হুজুরে পাক (সাঃ) তাশরীফ এনেছেন। ডানে হযরত আবু বকর, বাম দিকে হজরত ওমর এবং সামনে হজরত আলী রাঃ । হযরত আলী রাঃ আমাকে ডেকে বলেন, এই দেখ, হুজুর সাঃ তাশরীফ এনেছেন । আমি উঠা মাত্রই মহানবী সাঃ আমাকে একটা রুটি দিলেন, আমি অর্ধেক খেয়ে ফেলি তারপর যখন আমার চোখ খুলিল তখন আমার হাতে বাকী অর্ধেক ছিল (রুটি অবশিষ্টাংশ) ।
সূত্রঃ ফাজায়েলে হজ্জ, ১৩৮ পৃষ্ঠা।

সম্মানিত মুসলিম ভাই ও বোনেরা!!
=> আল্লাহকে ছেড়ে মৃত্যুর পর নবীর রওজায় (কবরে) গিয়ে খাদ্যের জন্য দুয়া করা স্পষ্ট শিরক নয় কি?

=> মৃতুর পর নবী কবরে থেকেও খাওয়াতে পারেন এ আক্বিদাহ পোষন করা শিরক নয় কি??

=> এই রকম শিরকী আকিদাহ কি মানুষকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়, নাকি জাহান্নামের দিকে???

অথচ মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেছেনঃ ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী সকলের জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহর।
সূরা হুদঃ ৬।
______________________

উদাহরণ
তাবলীগ জামাতের লেখক মাওলানা জাকারিয়া কান্ধলবী সাহেব কর্তৃক লিখিত, তাবলিগ জামাতের মূল পাঠ্যসূচি, ফাযায়েলে সাদাকাতে কবর-মাযার পূজার শিক্ষাঃ

মিশরে একজন নেক বখত লোক ছিলেন। অভাবগ্রস্ত হইয়া কোন এক লোক তাহার নিকট আসিলে তিনি চাঁদা উসুল করিয়া তাহাকে দিয়া দিতেন। একদা জনৈক ফকির তাহার নিকট আসিয়া বলিল আমার একটা ছেলে হইয়াছে, তাহার এছলাহের ব্যবস্থার জন্য আমার নিকট কিছুই নাই। এই ব্যাক্তি উঠিল ও ফকিরকে অনেক লোকের নিকট লইয়া গিয়াও ব্যর্থ হইয়া ফিরিল। অবশেষে নৈরাশ হইয়া একজন #দানবীর_ব্যাক্তির_কবরের_নিকট_গিয়া (!) সমস্ত কথা তাহাকে শুনাইল। রাত্রি বেলায় সেই লোকটি কবরওয়ালাকে স্বপ্নে দেখিল যে, সে বলিতেছে, আমি_তোমার_যাবতীয়_অভিযোগ_শুনিয়াছি(!), কিন্তু বলিবার অনুমতি দেওয়া হয় নাই। তুমি আমার ঘরে গিয়া পরিবারস্থ লোকদিগকে বল ঘরের অমুক অংশে যেখানে চুলা রহিয়াছে, উহার নিচে একটা চিনা বরতনে পাঁচশত আশরাফী রহিয়াছে তাহারা যেন উঠাইয়া সেই ফকিরকে দিয়া দেয়
ফাজায়েলে সাদাকাত, মাওলানা জাকারিয়া সাহারানপুরি; অনুবাদক ছাখাওয়াত উল্লাহ; ২য় খণ্ড পৃষ্ঠা নঃ- ৩২২; তাবলিগী কুতুবখানা ১৪২৬ হিজরী।
___________________________

মন্তব্যঃ নেককার লোকদের কবরের কাছে গিয়ে তাদের কাছে সাহায্য চাওয়া, দুয়া করা, এটাই হচ্ছে কবর-মাযার পূজা। জাকারিয়া সাহেব ফাযায়েলে সাদাকাত নাম দিয়ে ভুয়া কাহিনী প্রচার করে এই শিক্ষাই দিলেন যে - এইভাবে কবরের কাছে প্রার্থনা করা জায়েজ আর এইভাবে কবরবাসীর কাছে সাহায্য চেয়ে নাকি উপকৃতও হওয়া যায় (নাউযুবিল্লাহ - ডাহা শেরেক)!
____________________________

=> তাবলীগ জামাত ও জামাতে ইসলামীর উপরে শায়খ আব্দুর রাক্বীব এর পর্যালোচনা (সংক্ষেপে)


জামাতে ইসলামী তাবলিগ জামাত এই দুইটি দলের মূল সমস্যাটা কোথায়?
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/05/blog-post_15.html

=> তাবলীগ জামাত এর উপরে শায়খ মুজাম্মেল আল-হক্ক এর গবেষণাধর্মী বিশ্লেষণ (বিস্তারিত)

http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/06/blog-post_6404.html

=> তাবলিগ জামাতের সাথে চিল্লা দেওয়া যাবে কিনা এনিয়ে আল্লামাহ, শায়খ ফাউজানের ফতোয়ার লিংক, উল্লেখ্য শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম, শায়খ বিন বাজ, শায়খ আলবানী, শায়খ ফাউজান সহ আরব বিশ্বের বড় বড় ওলামারা তাবলীগ জামাতের গোমরাহীর কারনে সৌদি আরবে তাদের কার্যক্রম ব্যন করে দিয়েছেন।

http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/04/blog-post_2743.html

=> তাবলীগ জামাত ও তাদের মূল দেওবন্দীদের আরো কিছু শিরকি কাহিনীর পোস্ট-মর্টেম দেখুন এই পোস্টেঃ

বাংলাদেশী দেওবন্দী আকাবির (বুজুর্গদের) মাঝে শিরকের প্রাদুর্ভাব
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/05/blog-post_27.html
___________________

(সমাপ্ত)

মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট, ২০১৪

বেনামাযী কাফের

প্রশ্নঃ #বেনামাযীর পাপের কাফফারা কি?

উত্তরঃ মুকাল্লাফ ব্যক্তি, অর্থাৎ যার উপরে শরয়ী শাস্তি প্রদান করার মতো শর্ত পূরণ হয়, এমন কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে নামায ত্যাগ করে সে #কাফের ও #মুর্তাদ বলে গণ্য হবে। শুধুমাত্র তোওবা করে নামায কায়েম করলেই তার এই গুনাহ থেকে ক্ষমা পাবে।

কারণ হচ্ছে মহান আল্লাহ তাআলা সুরা তাওবায় এরশাদ করেছেনঃ
 فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ
অবশ্য তারা যদি তওবা করে, নামায কায়েম করে আর যাকাত আদায় করে, তাহলে তারা তোমাদের দ্বীনী ভাই। সুরা আত-তাওবাঃ ১১।
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা দ্বীনি ভ্রাতৃত্ব বা, কারো মুসলিম হওয়ার জন্য পূর্বশর্ত হিসেবে নামায কায়েম করাকে উল্লেখ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ
 العهد الذى بيننا وبينهم الصلاة فمن تركها فقد نفر
আমাদের ও তাদের (কাফের/মুশরিকদের) মাঝে প্রথম চুক্তি হচ্ছে নামায। অতএব, যে ব্যক্তি নামায ত্যাগ করল সে কুফরী করল।
হাদীসটি ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ বর্ননা করেছেন।

আল্লাহ আমাদেরকে সফলতা দান করুন। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তার পরিবার ও তার সাহাবীদের প্রতি শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন।

- ফতোয়া আল-লাজনাহ আদ-দাইয়িমাহ।
সৌদি আরবের শীর্ষস্থানীয় ফতোয়া কমিটির ফতোয়া নম্বরঃ ১৬৪৮৪।

ফতোয়া কমিটির সম্মানিত মুফতীরা হচ্ছেনঃ
১. শায়খ আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বাজ (রহঃ)
২. শায়খ আব্দুল আজিজ আলে-শায়খ (হাফিঃ)
৩. শায়খ সালিহ আল-ফওজান (হাফিঃ)
৪. শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনে গুদায়্যান (রহঃ)
৫. শায়খ বাকর আবু জায়েদ (রহঃ)

শনিবার, ৯ আগস্ট, ২০১৪

চোখ ও সৌন্দর্য


চোখ ও সৌন্দর্যঃ

দৃষ্টি নিচু করুন, কারণ সংযত দৃষ্টি বিনয় ও লজ্জার প্রকাশ। জান্নাতে নারীদের সৌন্দর্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেনঃ

সেখানে (জান্নাতে) তাদের জন্য থাকবে আনতনয়না রমনীগন।
সুরা আর-রাহমানঃ ৫৬।    

পাপী, উদ্ধত, অহংকারী, অবাধ্য, ও লজ্জাহীন নারীদের চক্ষু কোনদিন নিচু হবেনা। তাঁরা পরপুরুষদের সাথে চোখে চোখ রেখে কথা বলতে কোন সংকোচ বোধ করেনা, কারণ তারা ফ্রী মিক্সিং এ অভ্যস্ত, যা সাধারণত পর্দানশীল নারীদের মাঝে থাকেনা। এইজন্য আনতনয়ন নারীদের জন্য সৌন্দর্য ও লজ্জার একটা প্রকাশ।


পুরুষদের জন্য দৃষ্টি নিচু রাখা সংযম এর প্রকাশ, কামনাকে নিয়ন্ত্রন রাখার জন্য অত্যাবশ্যকীয়। যৌনতা সংক্রান্ত অনেক অপকর্মের মূল উতস হচ্ছে দৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রনে না রাখা।

তোওবা ও ঈমানী দুর্বলতা নিয়ে ২টি বই

শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আল-#মুনাজ্জিদের লেখা অত্যন্ত উপকারী ২টা বই, যা সকলের পড়া উচিতঃ

. “আমি #তাওবা করতে চাই কিন্তু...”
তোওবা কি, তোওবা কিভাবে করতে হবে, কিভাবে বুঝবো আমার তোওবা কবুল হয়েছে কিনা, এছাড়া বিভিন্ন ধরণের পাপ যে করে ফেলেছে সে কিভাবে তোওবা করবে – তোওবা সংক্রান্ত এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য এই বইটা অবশ্যই পড়বেন।

http://preachingauthenticislaminbangla.blogspot.com/2013/05/blog-post_7620.html

. “#ঈমানী দুর্বলতা”
দুর্বল ঈমানের লক্ষণসমূহ কি, ও ক্বুরান ও সুন্নাহ অনুযায়ী দুর্বল ঈমানের চিকিতসা কি – এনিয়ে ইমাম ইবনুল কাইয়্যিমের অত্যত্ন গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা পাবেন এই বইয়ে যার অনুসরণ করলে একজন মানুষের জীবন পরিবর্তনা হওয়া সম্ভব।



বই ২টা তাওহীদ পাবলিকেশান, কাটাবনের ইসলামী বইয়ের দোকানগুলোতে এবং শুক্রবারে ঢাকার মোহাম্মাদপুর আল-আমিন মসজিদের সামনে কিনতে পারবেন।

শুক্রবার, ৮ আগস্ট, ২০১৪

মাযার পূজা, পীর পুজা - ২টাই হচ্ছে শিরক

মাযার পূজা, পীর পুজা - ২টাই হচ্ছে শিরকঃ

বাবা মায়ের কাছে টাকা পয়সা চাইলে, ডাক্তারের কাছে চিকিতসার জন্য গেলে যদি শিরিক না হয় তাহলে,

=> শাহ জালালের কবরের কাছে গিয়ে টাকা পয়সা চাইলে,

=> সন্তান পাওয়ার জন্য বায়েজীদ বোস্তামীর মাযারের নামে খাসি-মুরগি মানত করলে,

=> বিপদে পড়ে আব্দুল কাদির জিলানীকে সাহায্য করার জন্য ডাকলে

শিরিক হবে কেনো?

উত্তরঃ প্রথমেই বলে নেই শিরক কাকে বলে?

শিরক হচ্ছে কোন কিছুকে আল্লাহর সমান মনে করা। কেউ যদি কোন কথা, কাজ বা চিন্তাভাবনা দ্বারা কোনকিছুকে আল্লাহর সমকক্ষ করে দেয় বা কোন ইবাদত আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য করে, সেটাকে শিরক বলা হয়। শিরক হচ্ছে সবচাইতে বড় পাপ যার কারণে একজন মানুষ চিরজাহান্নামী হয়। তবে কেউ যদি আন্তরিক তোওবা করে তাহলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন।

বাবা মা বা কোন মানুষের কাছে কিছু চাওয়া - এটা দুয়া করা নয়। দুয়া হচ্ছে কাউকে চূড়ান্তভাবে দেওয়ার ক্ষমতার মালিক মনে করে তার কাছে ভয়, বিনয় ও আশা নিয়ে ডাকা, কোনকিছু প্রার্থনা করা। যেহেতু বাবা মাকে সেইরকম ক্ষমতার মালিক মনে করা হয়না যেইভাবে আমরা আল্লাহকে সর্বশক্তিমান, সমস্ত কিছু দেওয়ার মালিক মনে করে দুয়া করি, তাই এটা শিরক নয়।

ডাক্তারের কাছে যাই ঔষধ নেওয়ার জন্য, কারন আল্লাহ ঔষধের মাঝে শিফা দিয়েছেন যেমন পানি খেলে পিপাসা দূর হয়। তবে ঔষধ খেলেও শিফা দান করেন আল্লাহ। এইজন্য রোগ হলে ডাক্তার দেখিয়ে ওষধ খেয়ে ভরসা করতে হবে আল্লাহর উপরে। ডাক্তার আমার রোগ ভালো করেছে, ঔষধ জীবন বাচিয়েছে - এইরকম কথা বলা হচ্ছে শিরক।

শাহ জালাল রহঃ মৃত্যুবরণ করেছেন, মৃত্যুর পরে তার সমস্ত কাজ ও ক্ষমতা শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু কেউ যদি তার মৃত্যুর পরে টাকা পয়সা দিতে পারে মনে করে, অলি আওলিয়ারা সব কিছু দেখে শুনে মনে করে, তারা আল্লাহর কাছে সুপারিশ করে যা ইচ্ছা তাই দিতে পারে - এইগুলো হচ্ছে মুশরেক হিন্দুদের দেব-দেবীর আকীদার মতো শিরকি বিশ্বাস। কোন মুসলমান যদি অলি-আওলিয়া সম্পর্কে এইরকম আকীদা বা চিন্তা-ভাবনা রাখে তাহলে সে ওই অলীকে একজন দেবতা হিসেবে গ্রহ্ণ করলো যার কারনে সে মুশরেক হয়ে ইসলাম থেকে বেড়িয়ে যাবে।

অনুরূপভাবে ছেলে মেয়ে দেওয়ার মালিক হচ্ছেন একমাত্র আল্লাহ, অন্য কারো কাছে সন্তান চাওয়া মানে তাকে আল্লাহর সমান ক্ষ্মতার মালিক মনে করা যা বড় শিরক।

আর বিপদ আপদে পড়ে গায়েবি সাহায্য চাইতে হবে আল্লাহর কাছে। আব্দুল কাদির জিল্লানি রহঃ অনেক আগেই মারা গেছেন। তিনি আমাদের কথা শুনতে পারেন না কারন তিন গায়েব জানেন না, গায়েব এর জ্ঞান আচছে শুধুমাত্র আল্লাহর কাছেই। সেইজন্য
গায়েব বা অদৃশ্য থেকে কারো কাছে সাহায্য চাওয়া শিরক। অন্যদিকে এইভাবে সাহায্য চাওয়া হচ্ছে দুয়া করস। দুয়া করা হচ্ছে ইবাদত। যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে দুয়া করে সে হচ্ছে মুশরেক।


বুঝাতে না পারলে দুঃখিত।

নারীশিক্ষাঃ ইসলাম ও কাফের-মুশরেকদের ষড়যন্ত্র

নারীশিক্ষাঃ ইসলাম ও কাফের-মুশরেকদের ষড়যন্ত্র
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, (দ্বীনের) জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমান (নর ও নারীর) উপর ফর‍য। ইবনে মাজাহ, হাদীস সহীহ
একজন মনীষি বলেছেন, তোমরা আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদেরকে একটা শিক্ষিত জাতি উপহার দেবো
নারীদের একটা গুণ, সেটাকে আপনি ভালো বলেন আর খারাপই বলেন, তাহলো তারা খুব সহজে প্রভাবিত হয়ে যায়। ভালোর দিকে শিক্ষা দিলে ও উৎসাহিত করলে করলে ভালোর দিকে, খারাপ পরিবেশ বা খারাপ সংগীর পাল্লায় পড়লে খারাপের দিকে। সে তুলনায়, পুরুষেরা অনেক বেশি একরোখা, জেদী ও বদ মেজাজী, পুরুষেরা সাধারণত নিজেদের ভুল স্বীকার করতে চায়না, এইজন্য তাদের সংশোধন তুলনামূলক কঠিন। কিন্তু আফসোসের বিষয় হচ্ছে, আমাদের অনেক মুসলমান নারীদের উপর ক্বুরআন ও সুন্নাহর চাইতে কাফের মুশরেকদের প্রভাব বেশি
=> নারীরা টিভি চ্যানেল দেখে হিন্দী বা মূর্তি পূজারীদের, সেই হিসাবে তারা মুশরেকদের সংস্কৃতি সভ্যতার প্রতি বেশি আকৃষ্ট
=> নারীরা পত্রিকা/ম্যাগাজিন পড়ে, গল্পের বই বা উপন্যাস পড়ে দুনিয়া পূজারী সেকুলার, মুর্তাদ, মুনাফেক, হিন্দু লেখক ও ঔপন্যাসিকদের। সে হিসাবে তাদের চিন্তাভাবনা, জীবনের ব্যপারে দৃষ্টিভংগি, মোটিভেশান অনেক ক্ষেত্রেই ইসলামের সাথে সামাজস্যপূর্ণ নয়
=> অধিকাংশ নারীরা পড়াশোনা করে ক্বুরন হাদিস বাদ দিয়ে, বা থাকলেও নামকাওয়াস্তে, লোকদেখানো, কাফেরদের প্রেসিক্রিপশান অনুযায়ী ইসলাম বিরোধী সেকুলার শিক্ষা-ব্যবস্থায়, নারী পুরুষ অবাধ মেলামেশার পরিবেশে, যেখানে খুব সহজেই তাদের ঈমান, চরিত্র ও সতীত্ব নষ্ট হচ্ছে।
দুনিয়াবী ফেতনা-ফাসাদ থেকে বাঁচার জন্য যে উপায়, নারীদেরকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ক্বুর ও সুন্নাহ শিক্ষা দেওয়া, ইসলামী আদর্শে গড়ে তোলা, সেটা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম। বয়ষ্ক নারীদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ক্বুরান ও সুন্নাহ শিক্ষার কোন সুযোগ নাই, বেদাতীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত মসজিদগুলোতে নারীদের প্রবেশ সম্পূর্ন নিষিদ্ধ। অথচ ইসলাম শিক্ষা, ক্বুরান ও সুন্নাহ প্রচার ও প্রসারের সেন্টার হওয়া উচিত ছিলো এই মসজিদগুলো, যেই দায়িত্ব পালনে তারা অনেকক্ষেত্রেই ব্যর্থ! এইভাবে ইসলাম সম্পর্কে প্রায় অন্ধকারে থেকেই বড় হচ্ছে নারীরা, তার মানে দেশের অন্তত ৫০% মানুষ। আমার কথা বিশ্বাস না হলে, প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় দশজন উচ্চশিক্ষিত নারীকে জিজ্ঞেস করে দেখুন, কয়জন অন্তত দশটা সুরার অর্থ ও তাফসীর জানেন? সালাত কি পড়ছেন, তার অর্থ কয়জনে জানে? ঈমান, আকীদাহ, ফিকহ, সুন্নাহ এইগুলো সম্পর্কে অন্তত বেসিক জ্ঞান কয়জন রাখেন?
মা যদি ইসলাম সম্পর্কে ভালো না জানে, ছেলে মেয়ে কোনদিন ভালো মুসলিম হিসেবে গড়ে উঠবেনা। আর এটাই হচ্ছে কাফের মুশরেকদের ইসলামকে ধংস করার পরিকল্পনা। নারীদের সমান অধিকার, নারীদের ক্ষমতায়ন ইত্যাদি নামসর্বস্ব কিছু স্লোগান দিয়ে নারীদেরকে ঘর থেকে বের করে, হিজাব-পর্দা ছাড়িয়ে তাদের মধ্য থেকে ইসলামী আদর্শ নষ্ট করে গোটা মুসলিম সমাজটাকেই ধ্বংস করা
এতো গেলো, নারী শিক্ষা নিয়ে সমস্যা ও বাঁধার কথা। এবার এর সমাধানে আমাদের কি করণীয়? নারীরা যেইভাবে ইসলাম শিখতে পারেনঃ
() ক্বুরনের প্রথম আদেশ ছিলো পড়! তোমার প্রভুর নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন - সে হিসাবে প্রথম শুরু করতে হবে ক্বুরন ও সহীহ হাদীস পড়া এবং জানার মাধ্যমে। ক্বুরআন ও হাদীসের অর্থ জানা, তর্জমা, তাফসীর ও ব্যখ্যা-বিশ্লেষণ জানার চেষ্টা করা।
() ভালো খুতবা হয় এমন মসজিদে জুমুয়াহর সালাত পড়া, ওয়াজ, লেকচার ও বিভিন্ন কোর্সে সরাসরি অংশগ্রহন করা
() ইউটিউব, অনলাইন থেকে সহীহ আকীদার আলেমদের অডিও ও ভিডিও লেকচার নিয়মিত শোনা
() বড় বড় ইমাম ও ক্বুরআন ও সুন্নাহর আলেমদের অনুবাদকৃত বইগুলো সংগ্রহ করা ও বার বার সেইগুলো অধ্যায়ন করে দ্বীনের মৌলিক বিষয়গুলর উপরে ব্যপারে জ্ঞান অর্জন করা।
() সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, ইলম বৃদ্ধির জন্য আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দুয়া করা ও তার জন্য মুজাহাদা বা কঠোর চেষ্টা ও পরিশ্রম করা।

() সর্বশেষ, ইন্টারনেটের ফিতনাহ থেকে বেঁচে চলা। ফেইসবুক আর ইসলাম সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। ফেইসবুক হচ্ছে মূল্যবান সময় নষ্ট আর ফেতনা। এখানে বেদাতী, বিশুদ্ধ জাহেল বা পিউর মূর্খ, সূফীবাদী, খারেজী আকীদার লোকেরা নিজেদেরকে আল্লামাহ দাবী করে। আর তাদের ধোকায় পড়ে সাধারণ মানুষের কাছে এই মিথ্যুক দাজ্জালেরাই হচ্ছে ইসলামিক সেলেব্রিটি! আজকাল অনেক বেপর্দা মুফতিনি সাহেবানরাও ফেইসবুক, ইন্টারনেটে ইসলাম সম্পর্কে ফতোয়া দিচ্ছে! ফেবু শায়খরা একদেশে জিহাদ করছে দাবী করে পোস্ট দিয়ে বাহবা কুড়ায়, আর অন্যদেশে ধরা খায়। তাই সাবধান! আলেমদের কাছ থেকে যাচাই করে নিন, যার কথা শুনছেন তিনি কি আসলেই মুফতি, নাকি এফ.এম. মুফতি? তিনি কি আসলেই একজন শায়খ নাকি মিল্ক শায়খ?