শনিবার, ১২ এপ্রিল, ২০১৪

ইসলাম সম্পর্কে সঠিক জানার জন্য কি কি বই পড়বেন?



ইসলাম সম্পর্কে সঠিক জানার জন্য কি কি বই পড়বেন?

জরুরী কিছু বইয়ের নাম দেওয়া হলো, যেইগুলো কিনলে আশা করি উপকৃত হবেন ইন শা আল্লাহ বইগুলো যেটা যে প্রকাশনীর বলা হয়েছে সেই প্রকাশনী ছাড়া অন্য প্রকাশনীরটা কিনবেন না, কারণ অন্য প্রকাশনীরা বিকৃত করে বা সঠিক অনুবাদ না করে ভুল করে একবারে সবগুলো কিনতে না পারলে, আস্তে আস্তে টাকা জমিয়ে আগে গুরুত্বপূর্ণ জরুরী বইগুলো কিনবেন, পরে অন্যগুলো।

বইগুলো ঢাকার কাটাবনে ইসলামী বইয়ের দোকানগুলোতে পাবেন এছাড়া তাওহীদ পাবলিকেশানের দোকানগুলোতে পাবেন বাসায় কুরিয়ারে পাওয়ার জন্য এইখানে ফোনে যোগাযোগ করতে পারেন

তাওহীদ পাবলিকেশন্সঃ
যোগাযোগঃ ৯০ হাজী আব্দুল্লাহ সরকার লেন, বংশাল, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ৭১১২৭৬২, ০১১৯০৩৬৮২৭২, ০১৭১১৬৪৬৩৯৬, ০১৯১৯৬৪৬৩৯৬, ০১৭৫১৭০৪৮৪৮
__________________

#ঈমান_আকীদাঃ
তাওহীদ, শিরকসহ ঈমানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানার জন্য অবশ্যই এই বইগুলো বারবার পড়বেন

. বইয়ের নামঃআকীদাহ আত-তাহাবীয়া
এই বইটাতে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আকীদাহ সংক্ষেপে বলা হয়েছে ইসলামী আকীদাহ সম্পর্কে জানার জন্য খুব সুন্দর ছোট একটি বই
আহসান পাবলিকেশান দাম১৫টাকা

http://www.islamhouse.com/65739/bn/bn/books/আল_আকীদা_আত-তাহাবিয়া

. বইয়ের নামঃকিতাব আত-তাওহীদের ব্যাখ্যা
মূল - শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওহহাব (রহঃ)
ব্যখ্যাঃ শায়খ সালিহ বিন আব্দুল আজীজ শায়খ মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহীম (রহঃ), তাওহীদ পাবলিকেশান/দারুস সালাম পাবলিকেশান, দাম১৫০টাকা
এই বইটা পড়ে সবচাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাওহীদ শিরক সম্পর্কে জানতে পারবেন
       
http://islamhousebd.wordpress.com/kitabut-tawhid/

. বইয়ের নামঃসহীহ আকীদার মানদন্ডে তাবলিগী নিসাব
মুরাদ বিন আমজাদ, তাওহীদ পাবলিকেশান দাম১৫০ টাকা

প্রচলিত তাবলীগ জামাত ফাযায়েলে আমল বইয়ের মাঝে শিরক বেদাত নিয়ে দলীল ভিত্তিক সুন্দর আলোচনা করা হয়েছে এছাড়াও এই বইটা পড়লে প্রচলিত অনেক শিরক, বেদাত জাল হাদী সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানতে পারবেন কেনো এইগুলো শিরক বেদাত সুন্দরভাবে ব্যখ্যা করা হয়েছে

http://islamhousebd.wordpress.com/2013/08/31/সহীহ-আক্বীদার-মানদন্ডে-/
_______________________

#হাদীসের_বই

হাদীসের বই প্রথমেই বুখারী মুসলিম কিনবেন না আগেরিয়াদুস সালেহীনবুলুগুল মারামএই ২টা হাদীসের কিতাব ভালোভাবে পড়ে শেষ করে পরে বুখারী কিনবেন

. বইয়ের নামঃরিয়াদুস সালেহীন” - ইমাম আন-নববী (রহঃ)
শায়খ আলবানী (রহঃ) এর তাহকীকসহ, অবশ্যই তাওহীদ পাবলিকেশারটা কিনবেন কিভাবে কুরআন হাদীস দিয়ে জীবন পরিচালনা করতে হবে জানার জন্য এই বইটা বারবার পড়বেন

http://www.quraneralo.com/riyadh-us-saliheen/

. বইয়ের নামঃবুলুগুল মারাম” - ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ)
ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ) এর সংকলন করা একটা হাদীসের কিতাব সহীহ হাদীস অনুযায়ী কিভাবে নামায, রোযা, হজ্জ যাকাত সহ বিভিন্ন ইবাদতের প্রশ্নের উত্তর বা মাসলা মাসায়েল জানার জন্য প্রয়োজনীয় সবগুলো সহীহ হাদীস তিনি একত্র করেছেন প্রায় ১৫৫০টির মতো হাদীস আছে এই কিতাবে তাওহীদ পাবলিকেশান থেকতাহকীকসহ বেড়িয়েছে, আপনারা অবশ্যইতাওহীদ পাবলিকেশানের তাহকীকসহ বইটা কিনবেন তাহকীক করা বইগুলো এইজন্য কিনবেন কারণ, মূল বইয়ে -১টা যে ভুল ছিলো, তা একদল আলেম গবেষণা করে সংশোধন করেছেন দাম ৪০০টাকা

http://www.waytojannah.com/tahkik-bulugul-maram-bangla/#more-3057


. তাওহীদ পাবলিকেশানের সহীহ আল-বুখারীর অনুবাদঃ

http://www.shorolpoth.com/product/সহীহ-বুখারী-তাওহীদ-পাবলি/

বুখারী শরীফকিনলে অবশ্যই তাওহীদ পাবলিকেশানের অনুবাদটা কিনবেন কারণ, এর অনুবাদ সবচাইতে সঠিক করা হয়েছে এছাড়া অন্যগুলোতে অর্থ বিকৃত করা হয়েছে ইসলামি ফাউন্ডেশানের বুখারীর অনুবাদ ভালো, তবে সেখানে সামান্য কিছু বিষয় বাদ দেওয়া হয়েছে যেগুলো মূল বইয়ে ছিলো এইজন্য তাওহীদেরটাই কিনবেন এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দেওয়া আছে যা আপনাকে হাদীস বুঝতে সাহায্য করবে
_____________________

#ফাতওয়ার_কিতাব
কুরআন সহীহ হাদীস অনুযায়ী সঠিকা ফাতওয়া বা বিভিন্ন ইসলামী প্রশ্নের উত্তর, মাসলা মাসায়েলের সঠিক উত্তর জানার জন্য আল্লামাহ শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন (রহঃ) এর বইটা অবশ্যই কিনবেন পড়বেন সাবধান!! মূর্খ মোল্লা, বেদাতী হুজুর বা ফেইসবুকে অজ্ঞ লোকদের কাছে ফতোয়া জিজ্ঞাস করে নিজের ঈমান দ্বীনকে ধ্বংস করবেন না

বইয়ের নামঃফতোয়া আরকানুল ইসলাম
শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন (রহঃ)
তাওহীদ পাবলিকেশান, দাম২৩৫ টাকা

http://www.quraneralo.com/fatawa-arkanul-islam/

ঈমান, নামায, যাকাত, হাজ্জ রোযা সম্পর্কে জরুরী মাসলা মাসায়েল ফতোয়ার উপরে বইটা সবার কাছে থাকা উচিত পড়ে আমল করা উচিত
________________________

#নামায

. নামাযের সঠিক বর্ণনা জানার জন্য আল্লামাহ বিন বাজ রাহিমাহুল্লাহর এই ছোট্ট একটা বই খুব সুন্দর উপকারী ছোট কিন্তু নারী বা পুরুষের সহীহ নামায পড়ার পদ্ধত জানার জন্য এটা অবশ্যই পড়বেন
বইয়ের নামঃনবী করীম সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামায আদায়ের পদ্ধতি” – শায়খ আব্দুল আজীজ বিন আবদুল্লাহ বিন বাজ (রহঃ)
তাওহীদ পাবলিকেশান, দাম১৫টাকা

http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/03/blog-post_7841.html

. “ফতোয়া আরকানুল ইসলাম
শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন (রহঃ)
এই বইয়ের নামায, ওযু গোসল অধ্যায়ের সবগুলো প্রশ্নের উত্তর পড়বেন উত্তরগুলো বুঝে মুখস্থ রাখবেন যাতে করে কেউ আপনাকে প্রশ্ন করলে বইগুলো থেকে সঠিক উত্তরগুলো তাকে বলে দিতে পারেন

http://www.quraneralo.com/fatawa-arkanul-islam/

এইগুলো ছাড়া আরো -১টি বই কিনবেন, আরো বেশি বিস্তারিত দলীল প্রমান প্রয়োজনীয় তথ্য জানার জন্য

. বইয়ের নামঃনবী (সঃ) যেউভাবে নামায পড়তেন
শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী (রহঃ)
অনুবাদকএম এন সিরাজুল ইসলাম, বিশ্ব প্রকাশনী দাম- ১১০ টাকা এই অনুবাদক ছাড়া অন্যটা কিনবেন না সেগুলোতে মূল বইয়ের ভুল অর্থ বিকৃত করা হয়েছে এই বইটাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আছে, দলীল সহকারে

http://islamhousebd.wordpress.com/2011/08/30/নবী-সাল্লাল্লাহু-আলাইহি/

. বইয়ের নামঃসহীহ নামায, দুয়া, হাদীসের আলোকের ঝাড়ফুঁকের চিকিৎসা
লেখকহুসাইন বিন সোহরাব আল-মাদানী
হুসাইন আল-মাদানী প্রকাশনী, দাম১২৫ টাকা (এই বইটার অনলাইন লিংক নাই)

আশা করিএই বইগুলো পড়লেই যথেষ্ঠ নারী বা পুরুষ যেকারো জন্যই কুরান সহীহ হাদীসের আলোকে সুন্নাহ মোতাবেক নামায বর্ণনা করা আছেদলীল প্রমান প্রয়োজনীয় ব্যখ্যা বিশ্লেষণ সহকারে

তবে আরো ২টা বইয়ের নাম দিচ্ছি, যারা আরো বেশি বই পড়তে চান নামাযের উপরে তারা কিনতে পারেন অথব অন্তত সময় করে সফট কপিটা পড়ে নিতে পারেন

. স্বলাতে মুবাশশির - শাইখ আব্দুল হামীদ ফাইযী মাদানী হাফেজাহুল্লাহ বইটি সুন্দরভাবে সালাত আদায়ের জন্য চমৎকার, অসাধারন একটি বই

http://www.islamhouse.com/402231/bn/bn/books/সালাতে_মুবাশ্বির 

. মাসনুন সালাত দুয়া শিক্ষা
শহীদুল্লাহ খান মাদানী, তাওহীদ পাবলিকেশান
মা শাআলাহ এই বইটা খুবই ভালো, আমার নিজের পছন্দের একটা বই

http://www.aldinalislam.com/2012/05/403.php/
______________________

#দুয়া_জিকির__সুন্নতী_আমল

দিনে রাতে যেকোন সময় কখন কি সহীহ দুয়া পড়তে হবে, কি সুন্নতী আমল করতে হবে জানার জন্য এই দুইটা বই অসাধারণ এই ২টা বই সব সময় কাছে রাখবেন, যত সম্ভব মুখস্থ করার চেষ্টা করবেন, না পারলে দেখে দুয়া পড়লেও হবে

. সুন্নত অনুযায়ী আমল শেখার জন্য বইঃ
সকাল থেকে ঘুম থেকে উঠে ঘুমানোর আগে পর্যন্ত ১০০০ এর বেশি কি কি সুন্নত আমল আছে সেটা জানার জন্য "১০০০ সুন্নত" - এই বইটা অবশ্যই অবশ্যই কিনবেন এই বইয়ের সবগুলো আমল কুরান সহীহ হাদীস থেকে নেওয়া হয়েছে
তাওহীদ পাবলিকেশান, দাম মাত্র ৬০ টাকা

http://islamiboi.wordpress.com/category/১০০০-এরও-বেশী-সুনান/

. সুন্নত অনুযায়ী সহীহ দুয়া শেখার জন্য বইঃ
সকাল থেকে ঘুম থেকে উঠে ঘুমানোর আগে পর্যন্ত কি কি সুন্নতী দুয়া আছে সেটা জানার জন্য "হিসনুল মুসলিম" - এই বইটা অবশ্যই অবশ্যই কিনবেন এই বইয়ের সবগুলো দুয়া কুরান সহীহ হাদীস থেকে নেওয়া হয়েছে
আহসান পাবলিকেশান, দাম মাত্র ৫০ টাকা

http://www.islamhouse.com/1588/bn/bn/books/হিসনুল_মুসলিম_বা_কুরআন__হাদীস_থেকে_সংকলিত_দৈনন্দিন_যিকর__দোআর_সমাহার

http://islamhousebd.wordpress.com/2011/08/29/হিস্নুল-মুস্লিম/
____________________

#নবীর_জীবনী

আর-রাহীখুল মাকতুমঃ শায়খ শফিউর রহমনা মুবারকপুরী (রহঃ)
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর শ্রেষ্ঠ জীবনী গ্রন্থের সঠিক অনুবাদ
তাওহীদ পাবলিকেশান

http://islamhousebd.wordpress.com/ar-raheequl-makhtoom/

http://www.shorolpoth.com/product/নবীজির-সাঃ-জীবনী/
_______________________

***রমযানের ফাযায়েল রোযার মাসায়েলঃ
শায়খ আব্দুল আব্দুল হামীদ মাদানী
তাওহীদ পাবলিকেশান
রমযানে সম্পর্ক যাকিছু জানার তা জানার জন্য এই বইটা খুবই ভালো

http://islamhousebd.wordpress.com/ramadhan/
___________________

***হাজ্জ, উমরাহ যিয়ারাতের নিয়ম-বিধান
শহীদুল্লাহ খান মাদানী, তাওহীদ পাবলিকেশান

http://www.aldinalislam.com/2012/05/477.php/
______________________

***নারীদের পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসলা মাসআলাঃ  শায়খ আবু আহমাদ সাইফুদ্দীন বেলাল

http://islamhousebd.wordpress.com/2013/06/29/বই-নারীদের-পবিত্রতার-জর/
________________________

এছাড়া ইসলাম সম্পর্কে জানার জন্য আরো সুন্দর সহীহ জরুরী কিছু বইয়ে নামঃ

***৭০টি কবীরা গুনাহইমাম আয-যাহাবী
কবীরা গুনাহগুলো কি, জাহান্নামে এর শাস্তি কি জানতে এই বই পড়ুন সতর্ক হন

***নবীদের কাহিনীডা আসাদুল্লাহ আল-গালিব
২৫জন নবীর জীবন কাহিনী জানতে পারবেন

***মরণ একদিন আসবেইআব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ
***জাদুটোনা, চোখের নযর, জিনের আসরের চিকিতসা ঝাড়ফুকপীস পাবলিকেশান

***নামায ত্যাগকারীর বিধানশায়খ উসাইমিন
এই ছোট বইটা কিনে সবাইকে দিবেন যারা নামায পড়েনা তারা কুফুরী করছেএইটা জানানো সতর্ক করার জন্য সবাইকে

***মৃত্যুর পর অনন্ত যে জীবনইকবাল কিলানীপীস পাবলিকেশান

***জানাত জাহান্নাম - ইকবাল কিলানীপীস পাবলিকেশান

***তাফসীর ইবনে কাসীর

http://www.quraneralo.com/tafsir

http://www.shorolpoth.com/product/তাফসীর-ইবন-কাছির/


____________________

শুক্রবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৪

প্রসংগঃ আব্দুল মালেক আল-কাউসারী...



প্রসংগঃ আব্দুল মালেক আল-কাউসারী...

ভারত বাংলাদেশে হানাফী হওয়ার দাবীদার দেওবন্দী বেরেলবী সূফীরা হানাফী মাযহাব নাম দিয়ে খামখেয়ালি বশত “ভারতীয় ইসলামকেই” সঠিক মনে করে এবং সত্যিকারের ইসলাম যা সালফে সালেহীনসহ মুহাদ্দিসিনদের মাধ্যেম আমাদের কাছে এসে পৌছেছে সেটাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে। আর এই ভারতীয় ইসলামকে বিজয়ী করার জন্য তারা মিথ্যাচার, হাদীস নিয়ে প্রতারণা, ওলামাদের কথাকে কাট-পেস্ট করে লাগানো…এমন কোনো ঘৃণ্য কাজ নেই যে তারা করেনা।

উম্মতের ঐক্যের দাবীদার কিছু তরুণদের কাছ থেকে আমি প্রথম আব্দুল মালেক নামক জনৈক “হানাফী” (আসলে আশয়া’রি মাতুরিদি) আলেম আব্দুল মালেকের নাম শুনি। মূলত সে আল-কাউসার নামক একটা কট্টর মাযহাবী পত্রিকার লেখক। সে তার ম্যাগাজিনের একটা লেখায় লিখেছেঃ (লিংক কমেন্টে)

“বিভ্রান্তিবশত তারা নিজেদেরকে চার মাযহাবের কোনো একটির সাথে সম্বন্ধ করা থেকে বিরত থাকেন এবং নিজেদেরকে ‘আহলে হাদীস’ বলে পরিচয় দেন।”

তার মতে নিজেকে হানাফী/শাফেয়ী/মালেকী/হাম্বালি পরিচয় না দিয়ে আহলে হাদীস পরিচয় দেওয়া একটা বিভ্রান্তি!

এইসমস্ত আধা-মুফতিদের বাদ দিয়ে চলুন আমাদের অতীত যুগের শ্রেষ্ঠ ইমাম ও আলেমরা আহলে হাদীসদের সম্পর্কে কি বলছেন সেটা দেখি।

১. “ইমাম আহলে সুন্নাহ” নামে পরিচিত, ১০ লক্ষের অধিক হাদীসের হাফেজ, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল রাহিমাহুল্লাহ কাদেরকে বেশি মূল্যায়ন করেছেন, যারা নিজদেরকে “মাযহাবি” নামে পরিচয় তাদেরকে, না যারা নিজেদেরকে “আহলে হাদীস” নামে পরিচয় দেয় তাদেরকে?

ক. ইমাম আহমাদ ইবেন হাম্বল (রহঃ) যখন ৭৩ ফির্ক্বাহর মধ্যে নাজিয়াহ ফির্ক্বাহ (নাজাতপ্রাপ্ত দল) সম্পর্কে বলেছিলেনঃ
“যদি তারা “আহলে হাদীস” না হয় তবে আমি জানিনা তারা অন্য কারা।”
দেখুন সহীহ বুখারীর ৭৩১১ নং হাদীসের ব্যখ্যা, বুখারীর জগদ্বিখ্যাত বাখ্যাগ্রন্থ ইবনু হাজার আল-আসকালানী (রহঃ) এর ফাতহুল বারী, ১৩দশ খন্ড, ২৯৩ পৃষ্ঠা।

আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহঃ) পর্যন্ত একথার সনদের ব্যাপারে ফাতহুল বারীতে বলা হয়েছেঃ
“ইমাম হাকিম (রহঃ) তার মারিফাতু উলূমিল হাদীস গ্রন্থে আহমাদ বিন হাম্বল থেকে সহীহ সনদে বর্ণনা করেন যে এঁরা (নাজাতপ্রাপ্ত দল, আল-ফিরকাহ আন-নাজিয়াহ) যদি আহলে হাদীস না হয় তাহলে আমি জানিনা তারা কারা।”

খ. “আমি আমার পিতা আহমাদ বিন হাম্বালকে এক ব্যক্তির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম, যে তার দ্বীন সংক্রান্ত বিষয়- 'তালাক্ব ও অন্যান্য বিষয়ের ক্বসম' এর ব্যাপারে সওয়াল করতে চায় যে ব্যাপারে সে কিনা পরীক্ষায় নিপতিত হয়েছে। সেখানে "আসহাবে রায়" এর একটি দল এবং"আসহাবে হাদীস" এর এমন একটি দল রয়েছে যারা হাদীস মুখস্ত করেনা এবং হাদীসের সনদ কোনটা দুর্বল আর কোনটা শক্তিশালী তা চেনেনা। এই দুই গ্রুপের উপস্থিতিতে সে কাকে ফতওয়া জিজ্ঞেস করবে? আহলে রায়কে নাকি আহলে হাদীসের ওই গ্রুপটাকে যদিও তাদের হাদীসের ব্যাপারে জ্ঞান কম? তিনি (আহমাদ বিন হাম্বল) বললেনঃ আসহাবে হাদীস বা আহলে হাদীসকে (যদিও ওই আহলে হাদীস হাদীস কম জানে) জিজ্ঞেস করবে, কেননা য'ঈফ হাদীস ও আবু 'হানীফাহর রায় অপেক্ষা শ্রেয়।”
কিতাবুস সুন্নাহ, আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল, ১ম খন্ড ১৮০ পৃষ্ঠা, আমার পিতা ও অন্য মাশায়েখদের কাছ থেকে আবূ হানীফাহর ব্যাপারে কী স্মরণ রেখেছি অধ্যায়।

২. মুহাদ্দিসিনদের ইমাম, আমিরুল মুমিনুন ফিল হা’দীস – অর্থাত হাদীসের ব্যপারে ঈমানদারদের নেতা, মুহা’ম্মাদ ইবনে ইসমাঈল রাহিমাহুল্লাহ যিনি – "ইমাম বুখারী" নামে বেশি পরিচিত তার বক্তব্যঃ
ফাতহুল বারীতে অনুরূপ আছে,
ইমাম আত-তিরমিযী (রহঃ) উপরোক্ত অধ্যায়ের হাদীস উল্লেখ করে বলেছেন, আমি মুহাম্মাদ বিনইসমাঈল (ইমাম বুখারীর আসল নাম) কে বলতে শুনেছি যে তিনি তাঁর উস্তাদ আলী ইবনুল মাদীনীকে বলতে শুনেছেন যে,
“তারা (মুক্তিপ্রাপ্ত দল) হলো আসহাবুল হাদীস।”
৭৩ ফির্ক্বাহর আলোচনায় ইমাম আততিরমিযী এ কথা এনেছেন।
৩. তাফসীরের ইমাম, ইবনে কাসীর রাহিমাহুল্লাহ আহলে হাদীসদের ব্যপারে উল্লেখ করেছেনঃ
তাফসীর ইবনে কাসীরে সুরাহ বানী ইসরাঈলের ৭১ নং আয়াত [ يوم ندعو كل أناس بإمامهم  ] "যেদিন আমি প্রত্যেক মানুষকে তার “ইমা” ধরে ডাকব” এর তাফসীরে ইবনু কাসীর (রহঃ) বলেন,
   هذا أكبر شرف لاصحاب الحديث لأن إمامهمالنبي صلى الله عليه و سلم
অর্থা, এটি আসহাবুল হাদীস তথা আহলে হাদীসের সর্বোচ্চ সম্মান কারণ তাদের ইমাম স্বয়ং নবী (সঃ)।

একই পোস্টে কথিত এই হানাফী মুহাদ্দিসের অন্য একটা বিভ্রান্তির মাঝে রয়েছেঃ

“তাবলীগী জামাত, আকাবিরে দেওবন্দকে গোমরাহ বলার আর মাযহাব ও তাকলীদকে গোমরাহী আখ্যা দেওয়ার যে প্রবণতা, তা সেখানের (সৌদি আরবে) কোনো দায়িত্বশীল আলিম বা অনুসরণীয় মাশাইখের নয়।”

তিনি দাবী করেছেন, সৌদি আরবের শীর্ষস্থানীয় আলেমে দ্বীনগণ শীর্ষস্থানীয় দেওবন্দী সূফীদেরকে ও তাবলিগ জামাতকে ভ্রান্ত বলে মনে করেন না।

যে এই দাবী করে সে আসলে অজ্ঞ, আরব দেশের বর্তমান আলেমে দ্বীনদের ব্যপারে তার কোনো জ্ঞান নেই। অথবা সে একজন প্রবৃত্তির অনুসারী, নিজের মনমতো কথা বলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে।

তাবলিগ জামাতকে “গোমরাহ” বা পথভ্রষ্ট ও “শিরক ও বেদাতের দিকে আহবানকারী জামাত” হিসেবে আখ্যায়িত করে আরব বিশ্বের যেই সমস্ত শীর্ষস্থানীয় আলেমে দ্বীনগণ ফাতওয়া দিয়েছেন তাদের সংক্ষিপ্ত লিস্ট দেওয়া হলো। আসলে এই লিস্ট অনেক বড়, শীর্ষস্থানীয় ৫ জনের নাম দেওয়াই যথেষ্ঠ মনে করছি।

১. শায়খ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম আলে-শায়েখ রাহিমাহুল্লাহ - সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি, সৌদি আরাবিয়া।
২. শায়খ আবদুল আযীয বিন আবদুল্লাহ বিন বায রাহিমাহুল্লাহ - সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি, সৌদি আরাবিয়া।
৩. আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী রাহিমাহুল্লাহ - বিগত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস, শায়খ বিন বাজ যাকে বিগত শতাব্দীর “মুজাদ্দিদ” বলে মনে করতেন।
৪. শায়খ হামুদ আত-তুয়াইজিরি, সুন্নাহর অক্লান্ত সৈনিক। তাবলীগ জামাতের গোমরাহী জানার জন্য ও তাদের থেকে সতর্ক থাকার জন্য যার লেখা বই পড়ার জন্য শায়খ বিন বাজ রেকমেন্ড করেছেন।
৫. শায়খ আব্দুর রাজ্জাক আফিফী, প্রখ্যাত সৌদী আলেমে দ্বীন।

আর বর্তমান জীবিত শ্রেষ্ঠ আরব দেশের আলেম যারা তাবলীগ জামাতকে পথভ্রষ্ঠ ও এই উম্মতের জন্য ফেতনা বলে আখ্যায়িত করেছেন তাদের সংক্ষিপ্ত লিস্টঃ

১. আল্লামাহ শাইখ সালিহ বিন আবদুল্লাহ আল-ফাউজান। আরব, আজম নির্বিশেষে যেই আলেমের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমানিত, শায়খ বিন বাজ, শায়খ উসাইমিন তাদের পরে যার ব্যপারে নির্ভর করার জন্য উম্মতেক উপদেশ দিয়ে গেছেন।
২. শায়খ সালিহ আশ-শুহাইমি
৩. শায়খ রাবী বিন হাদী আল-মাদখালী
৪. শায়খ মুহাম্মাদ বিন হাদী আল-মাদখালী
৫. শায়খ ওয়াসী উল্লাহ আব্বাস

সর্বশেষঃ অতি সম্প্রতি ধোঁকাবাজ কিছু লোক প্রচার করছে – আরব দেশের আলেমরা নাকি তাবলীগের অনেক প্রশংসা করে। তারা নাকি ভারতে তাদের সাথে এসে সম্পর্ক গড়ে তুলছে। এইরকম একজন আলেম (আসলে ভ্রান্ত মানহাজের লোক) এর নাম তারা বলে – আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ!

কানাকে কুড়েঘর দেখিয়ে যদি কেউ বলে এটা হাইকোর্ট সে যেমন কিছুই ধরতে পারবেনা, ঠিক তেমনি আমাদের দেশের কাউকে যদি আরব দেশের একটা খাম্বাকে কেউ দেখিয়ে বলে এটা “শায়খ আলীবাবা”, শতকরা ৯৮% মানুষ বুঝতে পারবেনা এটা আসলে একটা খাম্বা নাকি সে একজন আলেম। কারণ, অধিকাংশ মানুষ দ্বীনের একেবারেই সাধারণ জ্ঞান রাখেনা, কে আলেম কে জাহেল এই জ্ঞান রাখাতো দূরের কথা।

যাইহোক, অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাতে বাধ্য হচ্ছিযে, কথিত এই আরব দেশের বড় আলেম (!) আসলে একজন ইখওয়ানি (মুসলিম ব্রাদারহুড এর নেতা)।

http://en.wikipedia.org/wiki/Abd_al-Fattah_Abu_Ghudda

আর ইখওয়ানুল মুসলিমিন বা মুসলিম ব্রাদারহুডের ব্যপারে আপনার যদি সামান্য হলেই ধারণা থাকে, তাহলে আপনি অবশ্যই জানেন – রাজনৈতিকভাবে সমর্থন পাওয়ার জন্য, সহজ বাংলায় বলতে গেলে ভোট পাওয়ার জন্য ইখওয়ানিরা রাফেজী শিয়াদেরকেও প্রশংসা করে, কবর মাযারপূজারীদের সাথে বন্ধুত্ব করে, সেকুলার মুনাফেকদেরকে খুশি করার জন্য দ্বীনকে কাটা-ছাট করে ইসলামের ভুল ব্যখ্যা দেয়।


একজন সত্যিকারের আলেম, শায়খ বিন বাজের একটা ফাতওয়া এরা খুব প্রচার করে। এরা যে কি পরিমান দ্বিমুখী নীতির উপরে চলে, এটা আরেকটা প্রমান। প্রথমে কিছু তাবলিগী তাদের ব্যপারে ভুল তথ্য দিয়ে শায়খ বিন বাজকে প্রতারণা করে যার উপর ভিত্তি করে তিনি তাদের কিছু প্রশংসা করেন। কিন্তু আস্তে আস্তে আরব দেশের ওলামাদের কাছে যখন স্পষ্ট হয়ে যায়, এই জামাতের মাঝে শিরক বেদাত আছে, তখন শায়খ বিন বাজ যাচাই বাছাই করে তাবলীগ জামাতকে পথভ্রষ্ট ও ৭২টা বেদাতী দলের মধ্যে বলে ফাতওয়া দেন। কিন্তু দ্বিমুখী নীতির তাবলিগীরা বিন বাজের প্রথম ফাতওয়াটার কথাই শুধু বলে, আর অজ্ঞ লোকদের কাছে দ্বিতীয় ফাতওয়াটা না বলে তাদের সাথে আজ পর্যন্ত প্রতারণা করে যাচ্ছে।

পুরুষদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়



পুরুষদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ঃ

সকল প্রশংসা এক আল্লাহর জন্য, যিনি একক, তাঁর কোন শরিক বা অংশীদার নেই, যিনি নিখিল বিশ্বের মালিক, যিনি ইসলামকে মুসলিম উম্মাহ-র জন্য নির্বাচন করেছেন। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁরই বিশেষ বান্দা ও রাসুল আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সাঃ)এর উপর। আসুন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানার চেষ্টা করি।

Ø নামায অস্বীকার করা (ইচ্ছা করে আদায় না করা) কুফরি। যারা মনে করে যে মুসলমানের ঘরে জন্ম নিলেই মুসলিম হওয়া যায় এরা পৈত্রিক সূত্রে নিজেদের মুসলিম দাবী করতে পারে। তবে ইসলামে তাদের অবস্থান কোথায় সেটা নিচের হাদিস দ্বারাই পরিষ্কার বুঝা যাবে।

আবু সুফিয়ান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির (রা) কে বলতে শুনেছি, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ ব্যক্তি এবং শিরক ও কুফরের মাঝখানে নামায ছেড়ে দেয়াই হচ্ছে ব্যবধান।
সহীহ মুসলিম, প্রথম অধ্যায়ঃ কিতাবুল ঈমান, হাদিস নং- ১৫৪।

তাহলে কেউ যদি ইচ্ছা করে নামায না পড়ে আর এই অবস্থায় তার মৃত্যু হয় তাহলে কি সে মুসলিম অবস্থায় মৃত্যু বরণ করল? আর মুসলিম অবস্থায় যদি কারো মৃত্যু না হয় তাহলে তার চিরস্থায়ী ঠিকানা জাহান্নাম। কাজেই নিজেকে মুসলমান দাবী করতে হলে অবশ্যই ৫ ওয়াক্ত নামায আদায় করতে হবে।

Ø আল্লাহ তা'আলা কুরআনে পুরুষ ও নারী উভয়ের পর্দার নির্দেশ দিয়েছেন,
মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে... [সূরা আন-নুরঃ ৩০-৩১]

Ø আজকাল কিছু মুসলিম পুরুষদেরকে দেখা যায় যে এক কানে দুল পড়তে। এর পর পাঞ্জাবীর সাথে উরনা পরতে। এরপর হাতে চুড়ি-বালার মত ব্রেসলেট পরতে। অথচ হাদিসে উল্লেখ রয়েছে,
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (র)......ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা) ঐ সব পুরুষকে লা'নত করেছেন যারা নারীর বেশ ধারন করে এবং ঐ সব নারীকে যারা পুরুষের বেশ ধারন করে।
বুখারী শরীফ, হাদিস নং-৫৪৬৫, পোশাক-পরিচ্ছদ অধ্যায়।

Ø আমাদের দেশে দাড়ি রাখা সম্পর্কে একটি ভ্রান্ত ধারণা আছে, সেটা হল দাড়ি রাখা সুন্নত। অতএব দাড়ি রাখলে ভাল আর না রাখলে একটা সুন্নত পালন করা হল না এই আর কি। জেনে রাখুন, এটা সম্পূর্ণ একটা ভুল ধারণা।
ইবনে ওমর (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের বিপরীত করবেঃ দাড়ি লম্বা রাখবে, গোঁফ ছোট করবে । [বুখারী শরীফ, নবম খণ্ড, হাদিস নং - ৫৪৭২ ইফা]
আল্লাহ তা'আলা কুরআনে রাসূলের (সাঃ) কে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন,
হে ঈমানদারগণ, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ মান্য কর এবং শোনার পর তা থেকে বিমুখ হয়ো না। [আল-আনফালঃ ২০]

Ø অধিকাংশ পুরুষকে দেখা যায় তারা তাদের প্যান্ট পায়ের পাতা পর্যন্ত ঝুলিয়ে দেয়। এর মধ্যে যারা নামাজি তারা নামাজের সময় তাদের প্যান্ট টাকনু পর্যন্ত গুছিয়ে নেয়। আসলে টাকনুর উপর পর্যন্ত কাপড় পরা পুরুষদের সব সময়ের জন্য আবশ্যক, শুধু নামাজের সময় নয়।
আদাম (র)......আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম) বলেছেনঃ ইযারের যে পরিমান টাকনুর নীচে যাবে, সে পরিমান জাহান্নামে যাবে। [বুখারী শরীফ, পোশাক অধ্যায়, হাদিস নং- ৫৩৭১]

এখন আপনি নিজেই ভেবে দেখুন, আপনি কি করবেন। আল্লাহ তা'আলা ও রাসুল (সাঃ) এর নির্দেশ মানবেন নাকি কাফির-মুশরিকদের অনুসরণ করবেন? আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে হেদায়েত দান করুন। আমীন।


Collected from brother Md Nazmul Haque

বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৪

মুসলমান মেয়েরা ফতুয়া-জিন্স পড়তে পারে?




মুসলমান মেয়েরা কি ফতুয়া-জিন্স পড়তে পারে?
- আনসারুস সুন্নাহ
____________________________________
মেয়েদের মধ্যে বিশেষ করে ভার্সিটি পড়ুয়া তরুণীরা নিজেকে স্মার্ট ও আধুনিকা প্রমান করার জন্য ফতুয়া-জিন্স পড়ে থাকে। এই পোশাকের পাপ তিন প্রকারঃ
১. পুরুষদের পোষাক পড়া - রাসুলুল্লাহ (সাঃ) অভিশাপ দিয়েছেন ঐ সমস্ত নারীদের প্রতি যারা পুরুষদের পোশাক পড়ে আর যে সমস্ত পুরুষেদের প্রতি যারা নারীদের পোশাক পড়ে। (আবু দাউদ)।
২. ফাহেশা বা অশ্লীলতা - এই পোশাকে নারীদের শরীরের অবয়ব প্রকাশ পায়, যা ফাহেশা কাজের অন্তর্ভুক্ত।
৩. ওড়না না পড়া - বাইরে বের হলে নারীদের হিজাবের (মাথার ছোট্ট একটা রুমাল না, রেগুলার কাপড়ের উপরে অন্য একটা লম্বা ও ঢোলা কাপড় দিয়ে সারা শরীর ঢাকা কমপ্লিট পর্দা) উপরে এক্সট্রা বুকের উপরে কাপড় দিয়ে বের হওয়ার আদেশ আল্লাহ কুরানেই উল্লেখ করেছেন।
এই মেয়েগুলা প্রাপ্তবয়ষ্কা হলে তারা নিজেরাই আগুনে যাওয়ার পথের দিক হাটছে তবে এদের বাবা বা পুরুষ গার্জিয়ানেরাও এর জন্য দায়ী থাকবেন। একটা মেয়েকে ছোটবেলা থেকে হিজাব পর্দা শেখানো একজন বাবার জন্য ফরয।
সে যদি এই কাজ না করে, উলটা নিজের মেয়েকে কাফের নারীদের মতো অশ্লীল কাপড় চোপড় কিনে দেয় বা টাকা দিয়ে সাপোর্ট করে, তার মেয়ে তার সামনেই লম্পট পুরুষদের কামনার বস্তু হয়ে ঘুরে বেড়াবে আর সে চুপ করে বসে থাকবে, ইসলামে এই ধরণের পুরুষকেই দাইয়ুছ বলে। আর দাইয়ুছের জন্য জান্নাত হারাম।
দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো এমন অনেক আংকেলকে দেখা যায়, যাদের লম্বা দাড়ি সাদা ধবধবে হয়ে আছে, সিজদা দিতে দিতে কপালে কালো দাগ পড়ে গেছে তবুও তার মেয়েদেরকে নষ্টা মেয়েদের মতোই খোলামেলা ছেড়ে দিয়েছেন।
আবার বোকা শ্রেণীর কিছু মহিলা আছে, নিজের মেয়েকে নিয়ে যখন বের হন তিনি ঠিকই বোরখা পড়েন কিন্তু তার কিশোরী বা তরুণী মেয়েকে পুরুষদের জন্য প্রদর্শনীর বস্তু বানিয়ে বের হন। খুব ইচ্ছা হয় আন্টিকে বলি, একটা পুরুষ চল্লিশোর্ধ-পঞ্চাশোর্ধ নারীর দিকে খারাপ দৃষ্টি দেওয়ার সম্ভাবনা কম। আর তরুণীর দিকে নেকাব পড়া থাকলেও তাকাবে। আপনার কাছে যদি একটা মাত্র বোরখা থাকে তাহলে আপনার বোরখাটা আপনার থেকে আপনার মেয়ের জন্যি বেশি জরুরী। 
***এই সমস্ত অজ্ঞ ও বোকাশ্রেণীর বাবা-মায়ের কারনে লক্ষ লক্ষ ছেলে মেয়েরা জাহেল ও পাপীষ্ঠ হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। আল্লাহ আমাদের ও আমাদের পরিবারকে নিরাপদে রাখুন, আমিন।

কুরানের কথা প্রমানিত (ভিডিওসহ):

কুরানের কথা প্রমানিত (ভিডিওসহ):
আসমান ও জমীনে যা কিছু আছে সবকিছুই আল্লাহর অনুগত।
আল্লাহ বলেন, “আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় সকলেই তাঁর প্রতি অনুগত এবং তাঁর দিকেই ফিরে যাবে”
সুরা আলে-ইমরান, আয়াত ৮৩।
সুতরাং, সকল পশু প্রাণী এমনকি কুকুর-বিড়াল পর্যন্ত আল্লাহর অনুগত অর্থা তারাও “মুসলিম”।
শুধুমাত্র মানুষ আর জিন এই দুই জাতির মধ্যেই আল্লাহর অবাধ্য বা অমুসলিম হতে পারে। আর যারা অমুসলিম হয়, কুফুরী করে তাদেরকে আল্লাহ পশুর থেকেও নিকৃষ্ট বলেছেন – কারণ পশু হলেও তারা কিন্তু আল্লাহর অবাধ্য নয়। আল্লাহ বলেন,
সমস্ত জীবের মাঝে আল্লাহর কাছে তারাই সবচেয়ে বেশি নিকৃষ্ট, যারা কাফির হয়েছে, অতঃপর আর ঈমান আনেনি”
সুরা আনফাল, আয়াত ৫৫।
“আপনি কি মনে করেন যে, তাদের অধিকাংশ শোনে বা বোঝে? তারা তো চতুস্পদ জন্তুর মত, বরং তার চেয়ে বেশি পথভ্রষ্ট”
সুরা আল-ফুরক্বান, আয়াত ৪৪।
“আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা কাফের, তারা জাহান্নামের আগুনে চিরকাল থাকবে। তারাই হচ্ছে সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিকৃষ্ট”
সুরা আল-বায়্যিনাহ, আয়াত ৬।
কাফির, মুশরেকরা কেনো সবচাইতে বেশী নিকৃষ্ট? কারণ তারা তাদের রব্বকে স্বীকার করেনা, একমাত্র আল্লাহকে উপাসনা না করে বহু মাবুদের পূজা করে।
অবশ্য আল্লাহকে না মানার কারণে মানুষ হিসেবেও তারা অনেক নিচে নেমে যায়। নিজের মেয়েকে ধর্ষণ করে বছরের পর বছর, মানুষকে হত্যা করে রক্ত, মাংশ খায়, মা-বাবাকে খুন করে আরো কতো নিকৃষ্ট কাজ করতে পারে তা একজন সুস্থ মানুষ কোনোদিন কল্পনাই করতে পারবেনা।
ভিডিওটাতে দেখুন, একটা কুকুরেরও স্বজাতির প্রতি যে দয়া মায়া দেখা যায়, চীনা কাফের মুশরেকদেরা তার ধারে কাছেও নাই
রাস্তায় এক্সিডেন্ট করে একটি কুকুর মাঝপথে পড়ে থাকতে দেখে অন্য আরেকটা কুকুর এগিয়ে যায় বাঁচানোর জন্য। আস্তে আস্তে সে সরিয়ে নেয়, পরে মানুষ এসে উদ্ধার করলে প্রাণে বেঁচে যায় কুকুরটা।
পক্ষান্তরে চীনের মার্কেটে একটা বাচ্চা এক্সিডেন্ট করে পড়ে থাকে, একে একে একুশজন চীনা (যাদের ৯০% বা তার বেশী কাফের, মুশরেক অথবা নাস্তিক) আহত বাচ্চাটাকে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালেও অনেক দেরী হয়ে যাওয়ায় আর বাচানো সম্ভব হয় নি বাচ্চাটাকে।
তবে এখন মুসলমান দেশগুলোতে নামধারী অনেক মুসলমানদের মধ্যেও ডাইরেক্ট শিরকি আর কুফুরী ঢুকে পড়েছে। মাজার পূজা, কবর পূজা, পীর পূজা, জাদু, জ্যোতিষী, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ – ইত্যাদি ঈমান নষ্টকারী কুফুরী আর শিরক ঢুকে পড়েছে। আর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমাদের আগেই বলে দিয়েছিলেন, “আমার উম্মতের একটা অংশ মুশরেকদের সাথে মিশে যাবে”। আর সত্যিই মুসলমানদের মধ্যে বড় একটা অংশ এখন শিরকের সাথে জড়িত – আর এইজন্য মুসলমানদেশগুলোতেও এখন কাফেরদের মতো অমানবিক, বর্বর কর্মকান্ড চোখে পড়ছে – যা এইকিছুদিন আগেও কল্পনা করা যেতোনা।

নিজে শিরক সম্পর্কে সচেতন হন, শিরক আর কুফুরীর বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলুন। শিরক আর কুফুরীর কারণে সমাজ, দেশ ও জাতি ধংস হয়। 

শায়খ আলবানী কে ছিলেন?


শায়খ আলবানী কে ছিলেন?

   বিগত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠতম আলেমদের মধ্যে একজন হচ্ছেন মুহা’ম্মাদ নাসিরউদ্দিন আলবানী, যিনি শায়খ আলবানী নামে বেশি পরিচিত কারণ তাঁর জন্মস্থান ছিলো আলবেনিয়াতে। তিনি একজন হাদীস শাস্ত্রের আলেম ছিলেন। অসামান্য জ্ঞানের অধিকারী শায়খ আলবানীর হাদীস শাস্ত্রে তাঁর যে খেদমত, বলা যেতে বিগত কয়েকশত বছরেও এই খেদমত কেউ করতে পারেন নি। আজকে আরব বিশ্বে সর্বজন স্বীকৃত এই আলেমের কাজকে বেদাতপন্থী মূর্খ ছাড়া আরকেউ অস্বীকার করতে পারেনা। নামাযের উপরে উনার গবেষণা ভিত্তিক একটা বই আছে “রাসুলুল্লাহর সালাত” নামে, বলা যেতে পারে নামাযের উপরে শ্রেষ্ঠ বইগুলোর মাঝে একটা। আপনারা এই বইটা অবশ্যই কিনবেন।

***নবী (সঃ) যেউভাবে নামায পড়তেনঃ শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী (রহঃ)
অনুবাদক – এম এন সিরাজুল ইসলাম। এই অনুবাদক ছাড়া অন্যটা কিনবেন না। সেগুলোতে মূল বইয়ের ভুল অর্থ ও বিকৃত করা হয়েছে।

http://islamhousebd.wordpress.com/2011/08/30/নবী-সাল্লাল্লাহু-আলাইহি/


   আমাদের দেশের বেদাতপন্থী অনেক হুজুর-মাওলানারা শায়খ আলবানীর বিরুদ্ধে অনেক আজেবাজে কথা বলে। তাদের মতে তিনি নাকি কোনো আলেম নাহ! শায়খ আলবানীর হাদীসের তাহকীক, সহীহ ও জয়ীফ নির্ধারণ, বিদাত উতখাতের জন্য তাঁর আজীবন প্রচেষ্টা দিয়ে বেদাতীদের ধর্মব্যবসার ১২টা বাজিয়েছেন, এই জন্য কবর-মাজার পূজারী, পীর পূজারীরা তার বিরুদ্ধে লেগেছে।

   কারণ বেদাত যদি উঠে যায় তাহলে বেনামাযী, সুদখোর, ঘুষখোর ইত্যাদি লোকদের বাড়ীতি মীলাদ-কিয়াম, সবিনা খতম, খতমে ইউনুস, খতমে জালালী করে, শবে মেরাজ, কবর যিয়ারত করিয়ে, ইসালে সওয়াব, বুখারী খতম ইত্যাদি অনুষ্ঠান করে হারাম পয়সা খাওয়ার ধান্দা উঠে যাবে। 

   মসজিদের শিরকের চর্চা করে তাবীজ-কবচ লিখে অর্থ উপার্জন করে হারাম ইনকাম বন্ধ হয়ে যাবে।

   লক্ষ লক্ষ পীর, ফকির আর দরবেশ মানুষকে মুরীদ বানিয়ে বাতিল পদ্ধতিতে মানুষের ঈমান নষ্ট করছে আর বাতিল পন্থায় তাদের অর্থ আত্মসাত করছে, এই ধর্মব্যবসা উঠে যাবে।

   এইজন্য এই মাযার পূজারী আর পীর পূজারী আলেমরা শায়খ আলবানীর নামে আজেবাজে কথা বলে। অথচ দেখুন আরব বিশ্বের শ্রেষ্ঠ আলেমরা তাঁর সম্পর্কে কি বলেছেনঃ

   বিগত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠতম আলেম, কুরআন ও সুন্নাহর মুহাক্কিক গবেষক, আরব বিশ্বের সর্বজন স্বীকৃত শীর্ষস্থানীয় আলেমে দ্বীন, সৌদি আরবের সাবে গ্র্যান্ড মুফতি, আল্লামাহ শায়খ আব্দুল আজীজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায রাহিমাহুল্লাহ বলেনঃ
“বর্তমান বিশ্বে আসমানের নিচে আল্লামাহ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানীর মত এত বড় হাদীসের আলেম আমি দেখি নি।”

   শায়খ বিন বায রাহিমাহুল্লাহ এর নিকট এই হাদীসটি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। যেখানে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

“আল্লাহ তায়ালা প্রতি একশ বছরের মাথায় এই উম্মতের জন্য এমন একজনকে পাঠাবেন যিনি দ্বীন ইসলামকে সংস্কার করবেন।”

শায়খ বিন বাজ বলেনঃ “আমার ধারণা, শায়খ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আলবানী হলেন এ যুগের মুজাদ্দিদ বা সংস্কারক। আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।”

   সৌদি আরবের শীর্ষস্থানীয় আলেম, শাইখ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমীন রাহিমাহুল্লাহ বলেনঃ
“শায়খ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আলবানীর সাথে বিভিন্ন বৈঠকে বসার পর (যদিও তা কম) যা বুঝতে পেরেছি তা হল, তিনি সুন্নাহর প্রতি আমলে আগ্রহী এবং আমল-আকীদা উভয় ক্ষেত্রেই বিদআ’ত উখাতে খুবই আগ্রহী। আর তার লিখিত বই-পুস্তক পড়ে তার ব্যাপারে জানতে পারলাম যে, তিনি হাদীসের সনদ ও মতন উভয় ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অধিকারী। এ সকল বই-পুস্তক দ্বারা আল্লাহ তাআ’লা অনেক মানুষকে উপকৃত করেছেন। তার ছাত্ররা যেইভাবে জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে লাভবান হয়েছে ঠিক তেমনি “মানহাজ” বা নীতি নির্ধারণ এবং ইলমে হাদীসের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির ক্ষেত্রেও তারা লাভবান হয়েছেন। এটি মুসলমানদের জন্য বড় একটি বড় প্রাপ্তি। আলহা’মদুলিল্লাহ। আর ইলমে হাদীসের ক্ষেত্রে তার জ্ঞানগর্ভ গবেষণা সত্যি চমকৃত হওয়ার মত।”

আরো জানতে চাইলে নিচের লিংকে দেখুনঃ

http://islamqa.info/ar/110667


Collected and Edited from Shaykh Abdullah Al Kafi

ফাযায়েলে আমলে কি আসলেই #শিরিক আছে? (পর্বঃ- ১)



ফাযায়েলে আমলে কি আসলেই #শিরিক আছে? (পর্বঃ- ১)

অনেকে এমন ভাব ধরে যেনো – ফাযায়েলে আমল মহপবিত্র একটা বই! এই বইয়ে শিরিক বেদাত দূরের কথা, এতোবড় শায়খুল হাদীস সাহেব লিখেছেন, এই কিতাবে কোনো ভুল হইতেই পারেনা!!

আসলে ইনাদের সমস্যা হচ্ছে, কুরআন ও সহীহ হাদীস বাদ দিয়ে, সত্যিকারের আলেমদের কিতাব বাদ দিয়ে ভেজাল আর জাল-জয়ীফের কিতাব পড়তে পড়তে তিনারা শিরক-বেদাত কি বুঝতে পারেন না। কোনটা শিরিক, কেনো শিরিক এইগুলোর সূক্ষ্ম তাতপর্য তারা জানেন না। এইজন্য ফাযায়েলে আমল, নিয়ামুল কুরআন, বেহেশতি যেওর, মকসুদুল মুমিনিনি ইত্যাদি বেদাতী কিতাবে বিভিন্ন কিচ্চা-কাহিনীর আড়ালে কৌশলে সূফীবাদীদের শিরকি বেদাতী কথাবার্তা ঢুকিয়ে দেওয়া আছে, সেইগুলো তারা ধরতে পারেন না। বরং আলিদের কারামত, আওলিয়াদের কাহিনী, কাশফ, শিক্ষণীয় কিচ্ছা, বহুত ফায়দা, মিথ্যা ফযীলত, উপদেশ ইত্যাদি নামে এইসমস্ত শিরক বেদাতকেই তারা ইসলাম মনে করে থাকেন। আর এইগুলোর ব্যপারে কেউ যখন তাদেরকে সতর্ক করে, তারা আকাশ থেকে পড়ে আর গালি দেওয়া শুরু করে।

ফাযায়েলে আমলকে যারা মহাপবিত্র কিতাব মনে করে তাদের জন্য বলছি, এইটা দেওবন্দী সূফীদের লেখা একটা কিতাব - যার মাঝে অনেকে শিরকি, কুফুরী কথা বার্তা, জাল জফীয় হাদীস দিয়ে মিথ্যা ফযীলতের ধোঁকা, ভুয়া ও সম্পূর্ণ বানোয়াট কিচ্চা ঢুকিয়ে দেওয়া আছে। এছাড়া এমন অনেকে কাহিনী আছে আসলে যা একজন মানুষের ঈমানে মারাত্মক বিষ ঢুকিয়ে দেয়।

এর প্রায় পাতায় পাতায় আজগুবী কথাতো আছে, এমনকি এই ভেজাল কিতাবের ৩ নাম্বার পৃষ্ঠাতেই শিরক ঢুকিয়ে দেওয়া আছে – আর অজ্ঞ লোকেরা বছরের পর বছর এই শিরকি কথাটাই পড়ে যাচ্ছে-

ফাযায়েলে আমলের ভূমিকাতেই শিরকঃ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
“পিতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং পিতার অসন্তষ্টিতে আল্লাহর অসন্তুষ্ট।”
তিরমিযী খন্ড ১, পৃঃ ৩৪৬, ইবনে হিব্বানঃ ২০২৬।

এই হাদীস থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, পিতাকে সন্তুষ্ট করলে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন।
কিন্তু পিতাকে সন্তুষ্ট কিভাবে করতে হবে?
কেউ যদি বলে, আমি নামায পড়ি পিতাকে খুশি করার জন্য।
কেউ যদি বলে, আমি রোজা রাখি পিতাকে খুশি করার জন্য।
কেউ যদি বলে, হজ্জ করি পিতাকে খুশি করার জন্য।
এতে কি আল্লাহ সন্তুষ্ট হবেন, নাকি আল্লাহ অত্যন্ত রাগ করবেন???

মহান আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ
“(হে নবী আপনি) বলুন! আমিও তোমাদের মতই একজন মানুষ, আর আমার প্রতি ওয়াহী করা হয়যে, তোমাদের ইলাহই একমাত্র ইলাহ। অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন নেক আমল করে এবং তার পালনকর্তার #ইবাদতে কাউকে শরীক না করে।” (সুরা কাহফঃ ১১০)।

এই রকম আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে খুশি করার জন্য যে ইবাদত করা হয় তাকে আরবীতে #রিয়া বা লোক দেখানো ইবাদত বলা হয়। জানা থাকা প্রয়োজন, রিয়া বা আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে খুশি করার জন্য যে ইবাদত করা হয় ইসলাম সেটাকে #শিরক হিসেবে সাব্যস্ত করেছে, এবং এইরকম রিয়া বা শিরক মিশ্রিত ইবাদত আল্লাহ কস্মিনকালেও কবুল করেন না।

হাদীসে যেই সন্তুষ্টির কথা বলা হয়েছে সেটা এমন না যে, আল্লাহর জন্য কোন ইবাদত আমি এক আল্লাহ তাআ’লাকে খুশি করার জন্য না করে, পিতাকে খুশি করার জন্য করলাম। কেউ যদি এটা করে, তাহলে সে ইবাদতে আল্লাহর সাথে শরীক করে ফেললো – এটাই হচ্ছে #শিরক। ইবাদতের মালিক বা হক্ক হচ্ছেন শুধুমাত্র আল্লাহ পাক, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করা হচ্ছে “শিরক”।

এখানে পিতার সন্তুষ্ট করার পদ্ধতি হবে, পিতার কথা মান্য করা, তাঁর সেবা-যত্ন করা, তাঁর সাথে সুসম্পর্ক রাখা ইত্যাদি। তবে এই কাজগুলো কেউ যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করে সেটার জন্য সে আল্লাহর কাছে প্রতিদান পাবে।

দ্বীনের জন্য বই লেখা একটা ইবাদত, কারণ এটা দাওয়াত ও তাবলীগের অংশ। আর দাওয়াত ও তাবলিগ হচ্ছে আল্লাহর হুকুম মানা, সুতরাং এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আর বই লেখা বা দাওয়াত ও তাবলীগ করা যদি “ইবাদত” হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই সেটা শুধুমাত্র আল্লাহ তাআ’লাকেই খুশি করার জন্যই করতে হবে। অন্য কাউকে খুশি বা সন্তুষ্ট করার জন্য হলে, আল্লাহ সেই দাওয়াতকে, সেই লেখা #বইকে কবুল করবেন না।

বিষয়টা অতি সহজ ও পরিষ্কার, তারপরেও দেখুন তাবলিগ জামাতের লেখক মাওলানা জাকারিয়া সাহেব তার লেখা বইয়ের ভূমিকাতে বলছেনঃ

“মাওলানা ইলিয়াস সাহেব আমাকে আদেশ করেন, তাবলীগে দ্বীনের প্রয়োজনে কুরআন হাদীস অনুসারে একটা সংক্ষিপ্ত বই লিখি। এতোবড় #বুজুর্গের_সন্তুষ্টি_অর্জন আমার পরকালের নাজাতের উসীলা হবে মনে করিয়া আমি উক্ত কাজে সচেষ্ট হই।”
ফাজায়েলে আমল, পৃষ্ঠা – ৩, মূল বইয়ের স্ক্যান করা অংশ ছবিতে দেখুন।

এতোবড় শায়খুল হাদীস, দ্বীনের দাওয়াতের জন্য বই লিখছেন আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য না, তার নেতা মাওলানা ইলিয়াস সাহেবকে সন্তুষ্ট করার জন্য!! নাউযুবিল্লাহ, শিরক, ডাহা শিরক।

অনেক কট্টর তাবলিগী সমর্থক দাবী করে, এইখানে সে তার পীরকে খুশি করতে চাইছে কিন্তু তার উদ্দেশ্যতো ভালো, সে তার পীরকে খুশী করে পরকালে নাজাত পাইতে চায়!

তাদেরকে বলবো, আপনি আগে ভালো করে কুরআন অর্থসহ বুঝে পড়েন, পরে শিরকি ভেজাল কিতাবের জন্য সাফাই গাইয়েন।
মহান আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ
“জেনে রাখুন, নিষ্ঠাপূর্ণ ইবাদত শুধুমাত্র আল্লাহরই জন্য। যারা আল্লাহ ব্যতীত অপরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে রেখেছে এবং বলে যে, আমরা তাদের ইবাদত এ জন্যেই করি, যেন তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়।”
সুরা যুমারঃ ৩।

এই আয়াতের তাফসীর পড়ে দেখুন – মক্কার কাফের মুশরেকরা আল্লাহকে বিশ্বাস করতো, তারা দেব দেবীকে আল্লাহ মনে করতোনা। কিন্তু তারা দেব দেবীকে খুশি করার জন্য বিভিন্ন কাজ (ইবাদত) করতো আর মনে করতো, এইভাবে তারা আল্লাহর নৈকট্য পাবে, পরকালে মুক্তি পাবে, জান্নাতে যাবে। কিন্তু এইরকম চিন্তাভাবনা ডাহা শিরক ও কুফর এইজন্য ঐ কথা বলার সাথে সাথেই যারা এইরকম কথা বলে তাদেরকে আল্লাহ “মিথ্যাবাদী ও কাফের” বলেছেন। আয়াতের বাকি অংশটুকু হচ্ছেঃ

“নিশ্চয় আল্লাহ তাদের মধ্যে তাদের পারস্পরিক বিরোধপূর্ণ বিষয়ের ফয়সালা করে দেবেন। আল্লাহ মিথ্যাবাদী কাফেরকে সপথে পরিচালিত করেন না।”
সুরা যুমারঃ ৩।

কোনো ইবাদত (নামায পড়া, রোজা রাখা, দাওয়াত দেওয়া, বই লেখা) কেউ যদি কেউ আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে বা অন্য কাউকে সন্তুষ্ট করার জন্য করে আর এর এইভাবে জান্নাতে যেতে চায়, তাহলে সে আসলে মক্কার ঐ মূর্তি পূজারীদের মতোই #শিরকী চিন্তা করলো। কারণ মূর্তি পূজারীরাও মনে করতো দেব দেবীদেরকে খুশী করে পরকালে ওসীলা ধরে জান্নাতে যাবে।

তবে একটা ব্যপার খেয়াল রাখতে হবে কোনটা শিরক হবে, আর কোনটা শিরক হবেনা। যেইটা দুনিয়াবী বিষয় কিন্তু ইবাদত না, যেমন পিতা-মাতার সেবা করা, কাউকে সাহায্য করা, মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করা – এইগুলো যদি কেউ কোনো মানুষকে সন্তুষ্ট করার জন্য করে সেটা শিরক হবেনা। তবে সে যেহেতু অন্য কারো জন্য করছে, সেইজন্য সে সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে। কিন্তু এইগুলো যদি কেউ “শুধুমাত্র আল্লাহকে” সন্তুষ্ট করার জন্য করে, অন্য কোনো কিছুর জন্য না, ভালো কাজ হিসেবে এটা গণ্য হবে এবং সে এর বিনিময়ে সওয়াব পাবে।

আর যেইটা আল্লাহর বেঁধে দেওয়া ইবাদত, যেমন নামায, রোজা, হজ্জ, দাওয়াত, দ্বীনের কাজ করা, বই লেখা – এইগুলো যদি কেউ দুনিয়া অর্জন যেমন টাকা পয়সার জন্য করে, সুনাম কুড়ানোর জন্য, কাউকে খুশি করার জন্য – তাহলে এটা রিয়ার শিরকের গুনাহ হবে যা মারাত্মক কবীরাহ গুনাহর মাঝে পড়বে। আর এইভাবে সে যতবড়ই আমল করে থাকুক না কেনো – আল্লাহ সেই আমল কস্মিনকালেও কবুল করবেন না বরং ইখলাস নষ্ট করার কারণে সে এরজন্য কঠিন শাস্তি পাবে। সর্বশেষ এই বিষয়ে একটা হাদীস পড়ুন ও একটু চিন্তা করে দেখুন আসলেই কি আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কারো সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য দ্বীনের খেদমত করা – বই লিখতে পারবো কিনা?

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
“আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ “শরীকদের মাঝে অংশীদারির অংশ (শির্ক) থেকে আমিই সবচেয়ে বেশি অমুখাপেক্ষী। সুতরাং, যে কেউ এমন আমল করল যাতে আমার সাথে অপরকে শরিক করেছে, আমি #তাকে ও #তার_শির্ককে প্রত্যাখ্যান করি।”

সহীহ মুসলিম, হাদিসটি হাসান সহীহ।


***নিঃসন্দেহে এ থেকে প্রমাণ হয় যে, লোক দেখানো ব্যক্তির আমল বা অন্যকে খুশি করার জন্য যে আমল সেটা আল্লাহ #কবুল_করেন_না, তার বিনিময়ে কোন সওয়াব নেই।