মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

তাওবাকারীর জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাতওয়া

তাওবাকারীর জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাতওয়া

আপনি হয়তো বলতে পারেন, আমি তাওবা করতে চাই কিন্তু আমি তাওবার হুকুম আহকাম সম্পর্কে অজ্ঞ। আমার মনে কতিপয় গুনাহের ব্যাপারে অনেক প্রশ্নের উদ্রেক হয় এর সঠিক তাওবার ব্যাপারে, আল্লাহর যে সব হক নষ্ট করেছি তা পূরণ করার ব্যাপারে এবং বান্দাদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে যা আমি ইতিপূর্বে অন্যায়ভাবে গ্রহণ করেছি। এসব প্রশ্নের উত্তর কি আছে?

আল্লাহর পানে প্রত্যাবর্তনকারী ব্যক্তি! আপনার জন্য এসব প্রশ্নের উত্তর উল্লেখ করবো ইনশাআল্লাহ।

[প্রশ্ন নং ১] 
আমি পাপ করার পর তাওবা করি অতঃপর আমার কু-প্রবৃত্তি আমার উপর বিজয়ী হয়, যার ফলে আবার পাপের পথে ফিরে আসি, এর ফলে কি আমার পূর্বের তাওবা বাতিল হয়ে যাবে এবং আমার পূর্বের ও পরের গুনাহ বাকী রয়ে যাবে?
উত্তর: তাওবা সঠিক হওয়ার জন্য শর্ত হলো পাপ থেকে পূর্ণভাবে মুক্ত হওয়া এবং এজন্য অনুতপ্ত হওয়া, পুনরায় আর তা না করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হওয়া। এরপর যদি আবার কেউ পাপ করে ফেলে তাহলে সে যেন নতুনভাবে পাপ করল, এজন্য তাকে নতুনভাবে তাওবা করতে হবে এবং তার পূর্বের তাওবা ঠিক থাকবে।

[প্রশ্ন নং ৩] 
অতীতে আমি আল্লাহর হক নষ্ট করেছি, নামায পড়িনি, রোজা রাখিনি, জাকাত দেইনি, এখন আমি কি করবো?

উত্তর: নামায পরিত্যাগ করার ব্যাপারে প্রসিদ্ধ মত হলো, এর কাজা আদায় করতে হবে না। কেননা এর সময় পার হয়ে গেছে এবং তা ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। এর ঘাটতি পূরণ করতে হবে বেশী বেশী তাওবা, এসতেগফার পাঠ করে, বেশী বেশী নফল নামায আদায় করে, আশা করা যায় যে মহান আল্লাহ তা ক্ষমা করে দিবেন।

কিন্তু রোজা ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে কথা হলো, রোজা ভঙ্গের সময় যদি সে মুসলমান থেকে থাকে তাহলে তার প্রতি প্রত্যেক রোজার জন্য একজন করে মিসকিনকে খাবার দেয়া ওয়াজিব হবে এবং পরবর্তী রমজান আসার পূর্বেই এই কাফ্‌ফারা প্রদান করতে হবে। এর চেয়ে দেরী করতে পারবে না যদি তার কোন শরয়ী ওজর না থাকে। পূর্বে যত দিনই বাকী আছে সবগুলোরই কাজা আদায় করতে হবে যদিও এর সংখ্যা কয়েক মাস গিয়ে পৌছে।

উদাহরণ: কোন ব্যক্তি ১৪০০ হিজরীতে ৩টি রোজা ভঙ্গ করলো এবং ১৪০১ হিজরীতে ৫টি রোজা ছেড়ে দিলো এরপর সে যদি তাওবা করে, তাহলে তাকে ৮টি রোজার কাজা আদায় করতে হবে। প্রত্যেক রোজার জন্য একজন করে মিসকিনের খানা দিতে হবে।
আরেকটি উদাহরণ: এক মেয়ে ১৪০০ হিজরীতে বালেগা হলো এবং সে লজ্জা করে তার পরিবারের লোকজনকে জানালো না। সে ঐ আট দিন (বা সাতদিন মাসিকের সময়) রোজা রাখল এবং পরে এর কাজা আদায় করলো না। তাহলে তার উপর ঐ আট দিনের রোজার কাজা আদায় করা কর্তব্য হয়ে গেল। এখানে একটি বিষয় অবশ্যই অবগত থাকতে হবে যে, নামায ছাড়া ও রোজা ভঙ্গ করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে যা আহলে ইলমরা উল্লেখ করেছেন। ওলামাদের কেউ কেউ মনে করেন যে, কেউ যদি ইচ্ছা করে রোজা ভঙ্গ করে তবুও কাজা আদায় করতে হবে না।
কিন্তু জাকাত না দেয়া থাকলে অবশ্যই জাকাত প্রদান করতে হবে। কেননা জাকাত এক দিকে আল্লাহর হক এবং অন্য দিকে গরীব মিসকিনের হক। 
বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন মাদারেজুস সালেকীন ১/৩৮৩। 

সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর....

কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর....

প্রশ্নঃ কুরবানীর গোশত বন্টন করার নিয়ম বলুন।
উত্তরঃ আপনার যেইভাবে ইচ্ছা সেইভাবে কুরবানীর গোশত ভাগ করতে পারেন। নিজে, আত্মীয় ও দরিদ্রকের মাঝে ৩ ভাগে করা ফরয ওয়াজিব নয়, এটা কিছু ওলামারা বলেছেন। তবে গরিবদের যেটা দেবেন সেটা সাদাকা হবে, স্বাবলম্বীদেরকে দিলে সেটা হাদিয়া হবে। নিজের অতিরিক্ত থেকে যত বেশি দান করবেন তত বেশি সওয়াব হবে। তবে বিচার বিবেচনা করে নিজের জন্য রেখে গরীবদের মাঝে বন্টন করবেন, আর আত্মীয়দের মাঝে গরীবদেরকে প্রাধান্য দেবেন। আবার কারো পরিবার বড় আর পশু ছোট, গোশতের স্বল্পতার জন্য সে যদি কাউকে না দেয়, কোন দোষ নেই। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। এ নিয়ে বিস্তারিত জানার জন্য এটা দেখুন

নোট ১. কুরবানীর একাংশে আক্বীকা দেওয়া প্রসঙ্গ
http://salafibd.wordpress.com/2012/10/18/aqiqah/

নোট ২. কুরবানীর মাসায়েল
http://salafibd.wordpress.com/2012/10/16/qurban/

প্রশ্নঃ কেউ কারো সাথে ওয়াদা করে তার কাছে মাফ না চেয়ে কেটে পড়লে কি তার তোওবা কবুল হবে?
উত্তরঃ প্রথম দেখতে হবে ওয়াদাটা কি ধরণের। কোন মেয়ে যদি কোন ছেলেকে বিয়ে করার ওয়াদা দেয় তাহলে সেই ওয়াদা অবৈধ। এই ওয়াদা পূরণ করার কিছু নেই, কারণ মেয়ের বিয়ের সিদ্ধান্ত তার ওয়ালীর (লিগ্যাল পুরুষ গার্জিয়ান, বাবার) উপরে নির্ভরশীল। এইক্ষেত্রে ফাও ওয়াদা করার জন্য তোওবা করতে হবে। এইরকম অবৈধ বা হারাম ওয়াদা ভংগ করতে হবে, সেটা রক্ষা করা যাবেনা। জায়েজ কাজে ওয়াদা করলে এবং সেটা ভংগ করলে তার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। তবে এই পাপ কাজ করলেও তার অন্য পাপ থেকে তোওবা কবুল হবে, এটার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে।

প্রশ্নঃ এডমিন ভাই, ঈদের নামায শেষ করে কবরের কাছে সবাই মিলে হাত তুলে দুয়া করা যাবে? প্লিজ জানান
উত্তরঃ ঈদের দিনে নামায পড়ে সম্মিলিতভাবে কবর জিয়ারত করা, কবরে সুরা ইয়াসীন পড়া, ইখলাস ও দুরুদ পড়া ও সম্মিলিতভাবে  হাত তুলে মুনাজাত করা - এই কাজগুলোর কোন দলীল নেই। কবর জিয়ারত করতে হয় অনির্দিষ্টভাবে, কবর জিয়ারতকে ঈদের দিনের সাথে খাস করে নেওয়া মানুষের বানানো তরীকা। আর কবর জিয়ারত করতে গিয়ে কবর বাসীদের জন্য দুয়া করতে হয়, এর বাইরে সেখানে ক্বুরান বা দুরুদ পড়া নিজে বা ভাড়া করে হুজুর এনে - এইগুলো ভারতীয় বেদাত, এইগুলো রাসুল সাঃ এর সুন্নতের বিপরীত। কবর জিয়ারত এর বিস্তারিত বিধান জানার জন্য আল্লামাহ, শায়খ আব্দুল আযীয ইব্ন আব্দুল্লাহ ইবন বায রাহিমাহুল্লাহ এর এই ফতোয়াগুলো পড়ুন -
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/09/blog-post_29.html

প্রশ্নঃ লাইফ ইন্স্যুরেন্স করা কি ঠিক? এখানে সুদী কারবার হয় আবার লোকসানও নেই। ভাই, একটু বুঝিয়ে বলবেন কি??
উত্তরঃ প্রচলিত বাণিজ্যিক ব্যংকগুলোতে যেই ইন্সুরেন্স আছে এটা আসলে এক প্রকার জুয়া অথবা সুদের সংমিশ্রণ। এটা থেকে দূরে থাকবেন, এনিয়ে শায়খ মুজাম্মেল এর এই নোটটা পড়ুন -
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/07/gambling.html

প্রশ্নঃ Ajkay Mugrib er namaz dui rakat poray, dui pashay salam firiya, tin bar astugfur porar por monay holo, ami dui rakat poraychi tarpor sathay sathay dariya giya ak rakat poray sesh boithokay boshay tashahud, duruday ibrahim, dowa masura poray du bar sajdah sahu diya du pashay salam firiya namaz sesh koraychilam. Atay koray ki amar mugrib er 3 rakat foroz namaz adai holo? Jodi o ami shondeho thakar karonay abar mugrib er 3 rakat foroz namaz poraychi.
উত্তরঃ এমনটা করবেন না, ভুল করে কম পড়লে যখনই মনে হবে বাকি রাকাত পড়বেন্ শেষ বৈঠক করে সিজদা সাহু দিয়ে সালাম ফেরাবেন। সিজদা সাহুর সঠিক নিয়ম জানার জন্য এই পোস্ট দেখুন -
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/04/blog-post_18.html

আর হ্যা, সিজদা সাহু দিলে ভুল নামাযের কাফফারা হয়ে সঠিক হয়ে যায়, এর পরে সন্দেহের কারণে আবার নতুন করে পড়বেন না। প্রথম বারে সিজদা সাহু ঠিক মতো দিলে পরে যেটা পড়েছেন সেটা আপনার জন্য নফল হিসেবে গণ্য হবে।

প্রশ্নঃ .Sayyedul istegfar rate ghomanor somoy porleo ki fajilot powa jabe? R ai dhoatite Allah'r sate ,Bhandar akta Oadhar kota bola hoyese.sei Oadhata somporke janale upokrito hotam.
উত্তরঃ যেই ফযীলতের কথা বলা হয়েছে সেটা পেতে হলে সকাল সন্ধায় পড়তে হবে। তবে অন্য যেকোন সময়ে পড়তে পারবেন এবং এটা পড়ে তোওবা করতে পারবেন। তার জন্য সোওয়াব পাবেন কিন্তু জান্নাতে যাবে সেই ফযীলত সকাল সন্ধায় অন্তত ১বার পড়তে হবে।

প্রশ্নঃ Ami ajk akta post porlam macca and modinar emam saheb ra majahab manar karon a la majahabera onader sathe jamatay namaj poren na. admin bhi ami apnak onek respect kori please apnar jana thaklay ans ta deben.
উত্তরঃ মক্কা মদীনার ইমাম ও আলেমরা আকীদা-বিশ্বাস ও আমলে প্রকৃত আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের অনুসারী। তারা মাযহাবের সমস্ত ইমামদেরকে সম্মান করেন ভালোবাসেন ও মেনে চলেন কিন্তু কাউকে অন্ধ অনুকরণ করেন না। তারা মাযহাবের সঠিক রায় মেনে নেন, যেটা ভুল সেটা ক্বুরান ও সুন্নাহ অনুযায়ী সঠিক রায়ের দিকে ফিরে যান, ইমাম আবু হানীফা, মালেক, শাফেয়ী ইমাম আহমাদ তারা সকলেই উম্মতকে ক্বুরান ও সুন্নাহ অনুসরণ কুরতে বলেছেন, তাদেরকে সঠিক-ভুল অন্ধ অনুকরণ করতে নিষেধ করেছেন। পাকিস্থান, ভারত, বাংলাদেশের বিদাতী কবর পূজারী, পীর পূজারী, পেট পূজারী, জাহেল হুজুরেরা না জেনে মক্কা মদীনার আলেমদের নামে কথা বলে, অথচ ইলমের দিক থেকে তারা মক্কা মদিনার আলেমদের ছাত্রের সমান যোগ্যতা রাখেনা।

প্রশ্নঃ Sayedul istigfar r tawba karar john aro akti dua " astagfirullah....hayul qaiumu wa atubu ilaihi" ai 2 dua porar age ki Bismillahir Rahmanir Rahim bolte hobe. Amak akjon bolese Astagfirullah astagfirullah ai jikir karar age Bismillahir Rahmanir Rahim bolte hoy na, ata ki thhik?
উত্তরঃ না বলার প্রয়োজন নেই, বিসমিল্লাহ বলতে হয় ক্বুরান তেলাওয়াতের আগে, অন্য যিকির বা দুয়ার আগে বিসমিল্লাহ বলা জরুরী নয়। তবে যেকোন কাজের পূর্বে বিসমিল্লাহ বলা ভালো, সে হিসাবে বললো ভালো।

প্রশ্নঃ  দাড়ি রাখা কী সুন্নাত না ওয়াজিবব?
উত্তরঃ ওয়াজিব
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/05/blog-post.html

একটা কমেন্টঃ  কাফেলা নামক অনুষ্টানে মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী এই সাহাবী নামক গাছ দেখাইছেন । তিনি তো তখন এটাকে যথাযোগ্য শ্রদ্ধা করলেন । তিনি এই গাছকে নিয়া মহানবী সাঃ সম্পকিত কিছু ঘটনাও বললেন এবং আবেগতাড়িত হ্ইয়া গেলেন । যাই হোক , জানার জন্য্ই বলছি , এ সর্ম্পকে আরো ষ্পষ্ট করে বলুন ।
আমাদের রেসপন্সঃ নুরুল ইসলাম ফারুকী বেরেলবী কবর পূজারী দলে অনুসারী, সে কৌশলে মাযার পূজা প্রচার করেছে। এদের এইরকম বানয়াট কাহিনী দিয়ে মাযার পূজার দিকে মানুষের অন্তরকে নরম করে।

প্রশ্নঃ .sijdai quraner ayat porte nished.dua eunus eta toh quran e ace.erokm onek dua quran e ace.segula ki sijdai porte parbo?plj amr confusion ta dur korun.
উত্তরঃ রুকু সিজদায় ক্বুরান তেলাওয়াত নিষিদ্ধ, ক্বুরানী দুয়াগুলো পড়া যাবে। দুয়া যতটুকু সেটা আয়াত নয়, আয়াতের অংশ, আর উদ্দেশ্য থাকে দুয়া করা, তেলাওয়াত হিসেবে পড়া হচ্ছেনা।   


প্রশ্নঃ আপনি বলছেন যে মসজিদে জামাতের পরে সবাই মিলে হাত তুলে দোআ করা বেদাত সেটা আপনি কোথায় পেলেন দয়া করে হাদিস সহ প্রমাণ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি
উত্তরঃ এটা পড়ূন
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/03/blog-post_4342.html

প্রশ্নঃ tasahud e sahadat angul kokn narabo?puro tasahud e narabo naki duar estangulate?fotoa arkanul islam boi e blce sudu doar estane narabo.duar estan kongula?

উত্তরঃ এটা পড়ূন
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/04/blog-post_4651.html

প্রশ্নঃ টিভিতে ইসলামিক প্রোগ্রাম হালাল না হারাম? কুরআন হাদিস থেকে বলবেন।অনেকেই এই প্রশ্নটা এরিয়ে যায়।

উত্তরঃ টিভিতে ক্বুরান ও সহীহ হাদীস ভিত্তিক অনুষ্ঠান হলে সেতা দেখা অবশ্যই জায়েজ। তবে বিদাতী হুজুরের অনুষ্ঠান দেখা বা বিভ্রান্তিকর কথা হলে এইগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে। আরেকটা বিষয়, ১ ঘন্টা ইসলামী অনুষ্ঠান দেখে আরেক ঘন্টা হারাম অনুষ্ঠান দেখলে সেটা জায়েজ হবেনা। বাসায় শূধু ইসলামী অনুষ্ঠআন চলে সেটা নিশ্চিত হলে টিভি রাখা উচিত, হারাম অনুষ্ঠান দেখে, বা বাড়ির কর্তার আড়ালে স্ত্রী, সন্তানেরা নাটক সিনেমা দেখলে এইরকম পাপাচারে প্রশ্রয় দেওয়া বড় অন্যায়। এই বিষয়ের উপরেতো বই লেখা উচিত। বর্তমান যুগে টিভির মতো ধ্বংসাত্মক ফেতনা খুব কম জিনিসই আছে।

কবর জিয়ারত এর বিধান

কবর জিয়ারত এর বিধান

প্রশ্ন ১ কবর দৃষ্টিগোচর হলে বা কবরের দেয়াল অতিক্রম করলে কবরবাসীদেরকে সালাম করতে হবে কি?
উত্তর পথিক হলেও সালাম দেয়া উত্তম, এরূপ ব্যক্তির যিয়ারতের নিয়ত করে নেয়া উত্তম।

প্রশ্ন ২ যিয়ারতকারীর নির্দিষ্ট কবরের পাশে গিয়ে যিয়ারত করার হুকুম কি?
উত্তর - গোরস্থানের প্রথম কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোআ করাই যথেষ্ট, তবুও যদি নির্দিষ্ট কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোআ ও সালাম করতে চায় করতে পারবে।

প্রশ্ন ৩ মৃত ব্যক্তি যিয়ারতকারীকে চিনতে পারে?
উত্তর - কতিপয় হাদিসে এসেছে যে, যিয়ারতকারী যদি এমন হয় যে দুনিয়াতে তার সাথে পরিচয় ছিল তাহলে আল্লাহ যিয়ারতকারীর সালামের উত্তর দেয়ার জন্য তার রুহ ফিরিয়ে দেন । কিন্তু এ হাদিসের সনদে কিছু ত্রুটি রয়েছে। অবশ্য আল্লামা ইবনে আব্দুল বার রাহিমাহুল্লাহ হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।

প্রশ্ন ৪ উম্মে আতিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত,
«نهينا عن اتباع الجنائز ولم يعزم علينا»
আমাদেরকে জানাযার সাথে চলতে নিষেধ করা হয়েছে, কিন্তু কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি
হাদিসটির ব্যাখ্যা কি?
উত্তর - আবস্থা দৃষ্টে প্রতিয়মান হচ্ছে যে, বর্ণনাকারীর  মতে নিষেধটি কঠোর নয়, তবে আমাদের জেনে রাখা উচিত যে প্রত্যেক নিষেধ হারাম। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।

«ما نهيتكم عنه فاجتنبوه وما أمرتكم به فأتوا منه ما استطعتم» (متفق عليه)

আমি যার থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করি, তোমরা তা পরিত্যাগ কর, আর আমি তোমাদেরকে যার আদেশ দেই, তোমরা তা সাধ্যানুসারে পালন কর। (বুখারি ৩৯১)

এ হাদিস দ্বারা প্রতিয়মান হয় যে, মহিলাদের জানাযার সাথে কবর পর্যন্ত যাওয়া হারাম, তবে পুরুষদের ন্যায় তারা জানাযায় অংশ গ্রহণ করতে পারবে।

প্রশ্ন ৫ একটি হাদিসে আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তিকে কবরের উপর জুতা নিয়ে হাটতে দেখে বললেন, হে জুতা ওয়ালা! তোমার জুতাদ্বয় খুলে নাও। এ হাদিসের উপর কি আমল করা যাবে? জুতা নিয়ে কেউ কবরের উপর হাটা-চলা করতে চাইলে তাকে কি নিষেধ করা হবে?
উত্তর হ্যাঁ, বর্ণিত হাদিসের উপর আমল করা যাবে, সুতরাং কোন অবস্থাতেই কবরের উপর জুতা নিয়ে হাটা-চলা করা জায়েয হবে না। হ্যাঁ, বিশেষ প্রয়োজনে যেমন কবরের উপর যদি কাঁটাদার গাছ থাকে বা মাটি অত্যন্ত গরম হয়, যে কারণে খালিপায়ে চলা অসম্ভব হয়, এমতাবস্থায় জুতা নিয়ে কবরের উপর হাঁটা যেতে পারে, এরূপ কোন বিশেষ প্রয়োজন না হলে তাকে অবশ্যই নিষেধ করা হবে, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। তাকে শরিআতের হুকুম জানিয়ে দেবে।

প্রশ্ন ৬ গোরস্থানে প্রবেশকালে জুতা খুলার বিধান কি?
উত্তর - কবরের উপর দিয়ে হেঁটে গেলে জুতা অবশ্যই খুলতে হবে, আর যদি কবরের উপর দিয়ে না হেটে গোরস্থানের প্রথম কবরের পাশে দাঁড়িয়ে সালাম দেয়, তা হলে জুতা খুলতে হবে না।

প্রশ্ন ৭ জনৈক মহিলাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কবরের পাশে ক্রন্দরত আবস্থায় দেখে বলেছিলেন,
«اتقي الله واصبري»
আল্লাহকে ভয়কর ও ধৈর্যধারণ কর। (বুখারি ও মুসলিম) এ হাদিস কি মহিলাদের কবর যিয়ারত বৈধ প্রমাণ করে না?
উত্তর - সম্ভবত উল্লিখিত ঘটনাটি নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য কবর যিয়ারত বৈধ থাকাকালিন সময়ের ঘটনা। আর মহিলাদের জন্য কবর যিয়ারত নিষিদ্ধকারী হাদিস এ হাদিসের জন্যে নাসেখ বা এ হাদিসকে রহিতকারী।

প্রশ্ন ৮ কিছু কিছু শহরে অনেক মানুষ কববের উপর ঘর তৈরি করে সেখানে বসবাস করে। এটা কতটুকু শরিয়ত সম্মত?
উত্তর এটা নেহায়েত গর্হিত ও নিন্দনীয় কাজ, এ কাজের দ্বারা কবরবাসীদের অপমান করা হয়, তাই তাদেরকে এ কাজ হতে বারণ করা এবং শরিআতের বিধান সম্পর্কে অবহিত করা জরুরী। তারা এসব কবরের উপর যেসব সালাত আদায় করেছে, তা সব বাতিল ও বৃথা। এ অবস্থায় কবরের উপর বসাও অত্যন্ত গর্হিত কাজ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম বলেছেন,

« لا تصلوا إلى القبور ولا تجلسوا عليها » (رواه مسلم)

কবরের দিকে মুখ করে নামাজ পড়বে না এবং কবরের উপর বসবে না। (মুসলিম ২১২২)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লম আরো বলেছেন,

«لعن الله اليهود والنصارى اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد» (رواه البخاري)

আল্লাহ ইয়াহূদী ও নাসারাদের উপর লানত করেছেন, কারণ তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে। (মুসলিম ১০৭৯)

এ হাদিস সম্পর্কে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বাণী দ্বারা তাদেরকে তাদের গর্হিত কাজের জন্য সতর্ক করেছেন।

প্রশ্ন ৯ জনৈক ব্যক্তির কবরের উপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হল, আর ঐ ব্রিজের উপর দিয়ে একটি যাত্রিবাহী গাড়ি যাওয়ার সময় বিরত দিল, যাত্রীদের মাঝে একজন মহিলাও রয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে গাড়িটির যাত্রা বিরতির কারণে সে মহিলা কি কবর যিয়ারতকারীদের অন্তর্ভূক্ত হবে, সে মহিলা কি কবরবাসীদের সালাম করবে?
উত্তর না, মহিলা কবর যিয়ারতকারীদের অন্তর্ভূক্ত হবে না, ব্রিজ কেন কবরের পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেও কবর যিয়ারতকারী বলে গণ্য হবে না। মহিলা যদি পথচারী হয়, তবুও তার পক্ষে কবরবাসীদের সালাম না করা উত্তম।

প্রশ্ন ১০ একটি হাদিস প্রচলিত আছে,
« اذا مررتم بقبر كافر فبشروه بالنار »
যখন তোমরা কোন কাফেরের কবরের পাশ দিয়ে যাও, তখন তাকে জাহান্নামের সুসংবাদ দাও। এ হাদিসটি কতটুকু শুদ্ধ?
উত্তর - আমার জানা মতে এ হাদিসের বিশুদ্ধ কোন সনদ নেই।

প্রশ্ন ১১- মহিলারা কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কবরবাসীদের সালাম দেবে কি?
উত্তর - আমার জানা মতে কবরবাসীদেরকে মহিলাদের সালাম না-করা উচিৎ। কারণ সালাম বিনিময় কবর যিয়ারতের রাস্তা উম্মুক্ত করবে, দ্বিতীয়ত সালাম দেয়া কবর জিয়ারতের অন্তর্ভুক্ত। তাই মহিলাদের উপর ওয়াজি হচ্ছে সালাম বর্জন করা, তারা যিয়ারত ব্যতীত মৃতদের জন্য শুধু দোআ করবে।

প্রশ্ন ১২ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর জিয়ারতের নিয়ম কি?
উত্তর - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর জিয়ারতের সুন্নত তরিকা এই যে, কবরের দিকে মুখ করে সালাম দেবে, অতঃপর তাঁর দুসাথী আবু-বকর ও ওমরকে সালাম দেবে, অতঃপর ইচ্ছা করলে অন্য জায়গায় গিয়ে কিবলামুখী হয়ে নিজের জন্য দোআ করবে।

প্রশ্ন ১৩ মহিলাগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর যিয়ারত করতে পারবে কি?
উত্তর - মহিলাদের জন্য কবর যিয়ারত করা নিষেধ, যেসব হাদিসে মহিলাদের কবর যিয়ারত থেকে বারণ করা হয়েছে, সেখানে রাসূলের কবরও অন্তর্ভুক্ত, তাই তাদের জন্য জরুরী হচ্ছে রাসূলের কবর যিয়ারত না-করা। মহিলাদের জন্য রাসূলের কবর যিয়ারত বৈধ না অবৈধ এ সম্পর্কে ওলামায়ে কেরাম দুভাগে বিভক্ত, তাই সুন্নতের অনুসরণ ও মতানৈক্য থেকে বাঁচার জন্য মহিলাদের জন্য যে কোন কবর যিয়ারত ছেড়ে দেয়াই শ্রেয়। তা ছাড়া মহিলাদের জন্য কবর যিয়ারত নিষেধ সংক্রান্ত হাদিসে রাসূলের কবরকে বাদ দেয়া হয়নি। এমতাবস্থায় হাদিসের ব্যাপকতার উপর আমল করাই ওয়াজিব, যতক্ষণ না এর বিপরীত কোন সহিহ হাদিস পাওয়া যায়।

প্রশ্ন ১৪ মসজিদে প্রবেশকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর যিয়ারত করতে পারবে কি?
উত্তর - মসজিদে প্রবেশকালে রাসূলকে শুধু সালাম করবে, শুধু কবর জিয়াতর উদ্দেশ্যে যাবে না, তবে মাঝে-সাজে যেতে পারে।

প্রশ্ন ১৫ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা কি জায়েয?
উত্তর - মসজিদে নববি জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা জায়েয। তাই মসজিদে নববির যিয়ারত মূল উদ্দেশ্য করে সফর করবে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয় হিসেবে নবীর কবর যিয়ারত করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«لاتشد الرحال إلا إلى ثلاثة مساجد: المسجد الحرام ومسجدي هذا والمسجد الاقصى» (رواه البخاري)

তিন মসজিদ ব্যতীত অন্য কোথাও সফর করা যাবে নাঃ মাসজিদে হারাম, আমার এ মসজিদ ও মসজিদে আকসা। (বুখারি ২৮১)

প্রশ্ন ১৬ কবর জিয়ারতের জন্য জুমার দিনকে নির্দিষ্ট করা কেমন?
উত্তর - এর কোন ভিত্তি নেই। যিয়ারতকারী সুযোগ বুঝে যখন ইচ্ছা যিয়ারত করবে। জিয়ারতের জন্য কোন দিন বা রাতকে নির্ধারিত করা বিদআত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«من احدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد» (متفق عليه)
আমাদের এ দ্বীনে যে কেউ নতুন কিছু আবিষ্কার করল, তা পরিত্যক্ত। (বুখারি ৮৬১)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন,

«من عمل عملا ليس عيه أمرنا فهو رد» (رواه مسلم)

যে এমন কোন কাজ করল যা আমাদের আদর্শ নয়, তা পরিত্যক্ত।হাদিসটি ইমাম মুসলিম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

প্রশ্ন ১৭ মহিলাদের জন্য কবর যিয়ারত নিষেধ হওয়া সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে কিভাবে কবর জিয়ারতের দোআ শিক্ষা দিয়েছেন?
উত্তর - কবর যিয়ারত প্রথমে সবার জন্য নিষেধ ছিল, অতঃপর সবার জন্য জায়েয হয়, অতঃপর শুধু মহিলাদের জন্য নিষেধ হয়। এ ব্যাখ্যার পরিপেক্ষিতে বলা যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আহাকে কবর জিয়ারতের আদব তখন শিক্ষা দিয়েছিলেন যখন তা সবার জন্য জায়েয ছিল।

প্রশ্ন ১৮ কবরের পাশে দোআ কি দুহাত তুলে করতে হবে?
উত্তর - কবরের পাশে দুহাত তুলে দোআ করা জায়েয আছে, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর যিয়ারত করে কবরবাসীদের জন্য দুহাত তুলে দোআ করেছেন। (মুসলিম)

প্রশ্ন ১৯ কবরের পাশে সম্মিলিত দোয়ার কি হুকুম?
উত্তর - কাউকে দোআ করতে দেখে শ্রোতাদের আমিন আমিন বলায় কোন বাঁধা নেই। তবে পরিকল্পিতভাবে সম্মিলিত দোআ করা যাবে না। অকস্মাৎ কাউকে দোআ করতে দেখে তার সাথে সাথে আমিন আমিন বলা যাবে, কারণ এটাকে সম্মিলিত দোআ বলা হয় না।

প্রশ্ন ২০ গোরস্থানের প্রথমাংশে সালাম দিলে সমস্ত কবরবাসীর জন্য সালাম বিবেচ্য হবে?
উত্তর এ সালামই যথেষ্ট, সে ইনশাল্লাহ জিয়ারতের সাওয়াব পেয়ে যাবে। যদি গোরস্থান অনেক বড় হয় আর সে ঘুরে ঘুরে সব দিক দিয়ে সালাম বিনিময় করতে চায় তাও করতে পারবে।

প্রশ্ন ২১ অমুসলিমের কবর যিয়ারত করা কি জায়েয?
উত্তর শিক্ষা গ্রহণের জন্য হলে অমুসলিমের কবর যিয়ারত করা জায়েয। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মায়ের কবর যিয়ারত করে তাঁর জন্যে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনার অনুমতি চেয়ে ছিলেন, কিন্তু তাঁকে এ বিষয়ে অনুমতি দেয়া হয়নি। শুধু জিয়ারতের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

প্রশ্ন ২২ দুঈদের দিনকে কবর জিয়ারতের জন্য নির্দিষ্ট করার কোন ভিত্তি আছে কি?
উত্তর - আমার জানামতে এর কোন ভিত্তি নেই, যিয়ারতকারীর যখন সুযোগ হবে তখন সে যিয়ারত করবে, এটাই সুন্নত।

প্রশ্ন ২৩ মৃতের জন্য দোআ করার সময় কবর মুখী হয়ে দোআ করা কি নিষেধ?
উত্তর না, নিষেধ নয়, মৃতের জন্য দোআ করার সময় কেবলামুখী ও কবরমুখী উভয় বৈধ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তির দাফন শেষে বললেন,

«استغفروا لأخيكم واسألوا له التثبيت فإنه الآن يسأل» (رواه أبوداود)

তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রর্থনা কর এবং তার ইস্তেকামাতের দোআ কর, কেননা তাকে এখন প্রশ্ন করা হবে

এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেননি যে, কিবলামুখী হয়ে দোআ কর।

সুতরাং কিবলামুখী হয়ে দোআ করুক আর কবরমুখী হয়ে দোআ করুক উভয়ই জায়েয। রাসূলের সাহাবিগণ কবরের চতুর্পাশে দাঁড়িয়ে মৃতের জন্য দোআ করতেন।

প্রশ্ন ২৪- দুহাত তুলে মৃতের জন্য দোআ করা কি জায়েয?
উত্তর - কিছু কিছু হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কবর যিয়ারত করে দোআ করতেন তখন দুহাত তুলেই দোআ করতেন। যেমন ইমাম মুসলিম রাহিমাহুল্লাহ উম্মুল মুমিনিন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর যিয়ারত করে তাদের জন্য দোআ করার সময় দুহাত তুলেছেন।

প্রশ্ন ২৫ আমাদের এখানে কিছু সৎকর্মী যুবক বাস করে, তারা নিজেদের সাথে কতক গাফেল লোকদেরকে কবর জিয়ারতের জন্য নিয়ে যেতে চায়, হয়ত তাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় সঞ্চার হবে। এ ব্যাপারে আপনাদের মত কি?
উত্তর - এটা একটি মহৎ কাজ, এতে কোন বাঁধা নেই। এটা ভাল কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করার অন্তর্ভূক্ত। আল্লাহ তাদেরকে উত্তম বিনিময় দান করুন।

প্রশ্ন ২৬ কবরের উপর কোন চিহ্ন স্থাপন করার হুকুম কি?
উত্তর - লিখা বা নাম্বারিং করা ব্যতীত শুধু পরিচয়ের জন্য কবরের উপর চিহ্ন স্থাপন করা যেতে পারে। বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের উপর কিছু লিখতে নিষেধ করেছেন, আর নাম্বারিং করাও লিখার অন্তর্ভূক্ত। তবে কবরস্থ লোকের পরিচয়ের জন্য শুধু পাথর ইত্যাদি রাখা যাবে, কালো বা হলুদ রঙের পাথরও রাখা যাবে। বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবি উসমান ইবন মাজউন রাদিয়াল্লাহু আনহুর কবরের উপর চিহ্ন স্থাপন করেছিলেন।


প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেনঃ আল্লামাহ, শায়খ আব্দুল আযীয ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইব্‌ন বায রাহিমাহুল্লাহ।

রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

যৌতুক হিন্দুদের

হিন্দু ধর্মে মেয়েরা বাবার মৃত্যুর পরে উত্তরাধিকার সূত্রে কোন সম্পত্তি পায়না। এইজন্য হিন্দুরা বিয়ের সময় মেয়ের বাবার কাছ থেকে যা পারে এক কালীন অর্থ সম্পদ আদায় করে নেয়, এটাকে তারা যৌতুক বা পণ বলে।

ইসলাম ধর্ম মূর্তিপূজার ধর্ম থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। মুসলমানদের মেয়েরা বাবার মৃত্যুর পরে উত্তরাধিকারসূত্রে তার ন্যায্য অধিকার পায়। আবার বিয়েতে স্বামী স্ত্রীকে মোহর দেয়, বিয়ের জন্য এই মোহর নির্ধারণ করা ফরয। মোহর হচ্ছে স্ত্রীকে দেওয়া স্বামীর পক্ষ থেকে উপহার। যাইহোক, যেহেতু পাক-ভারত উপমহাদেশে আমাদের মুসলমানদের পূর্ব পুরুষরা ছিলো বৌদ্ধ বা হিন্দু, তাই আমাদের অনেকে মুখে কালেমাকে মেনে নিলেও কাজেকর্মে মুশরেক জাতির মতোই রয়ে গেছে। বেশিরভাগক্্ষেত্রেই, নারীদেরকে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, নানা ছল-ছুতায় তাদের হক্ক নষ্ট করা হচ্ছে। এ ব্যপারে আইন-আদালত সম্পূর্ণ ব্য্র্থ, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য।

আবার বিয়েতেও অনেক মুসলমান পুরুষ মোহরানা আদায় করেনা, বা বলে একটা করে আরেকটা। লোক দেখানো মাহরের কথা বলে, কিন্তু সবাই জানে সেটা কোনদিন আদায় করা হবেনা। তার চাইতেও জঘন্য কিছু লোক নির্লজ্জের মতো বিয়ের জন্য মেয়ের বাবার কাছে যৌতুক দাবী করে। তথাকথিত অনেক শিক্ষিত পরিবারে যৌতুক চায়না কিন্তু আশা করে, আকারে ইংগিতে বুঝিয়ে দেয়। গিফট নামের আধুনিক যৌতুক না পেলে বিয়ের পরে শ্বুশুর বাড়ির লোকজন অশান্তি করে।

জাহেলিয়াতের বিষে বিষাক্ত আমাদের সমাজের কতো যে নারী নির্যাতিত ও খুন হচ্ছে যৌতুকের কারণে।

যৌতুক দাবী করা কিংবা আশা করা হারাম, এর টাকা খাওয়া হারাম। যে হারাম অর্থ খায় তাকে হারামখোর বলা হয়। কোম হারামখোরের কাছে মেয়ে বিয়ে দেওয়া ঠিক না।


যাদের পকেটে শ্বশুরবাড়ির হারাম টাকা আছে আজকেই সেই টাকা ফেরত দিয়ে দিন, কেয়ামতের দিন এই টাকা সাপ হয়ে যাবে।

শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

এক লোক দাঁড়ি রাখেনা, সে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে।


শায়খ ফাওজানকে ফোন করে একজন বোন প্রশ্ন করেন, এক লোক দাঁড়ি রাখেনা, সে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। দাঁড়ি না রাখার কারণে তিনি তার বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন।

এটা শুনের শায়খ ফাওজান বললেনঃ সে ঠিক কাজই করেছে। কারণ, দাঁড়ি রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যপারকে যে অবহেলা করে তার মানে সে দ্বীনের অন্য ব্যপারগুলোতেও গাফিলতি করবে। আর এর থেকে যে ছেলে-মেয়েগুলো হবে তারাও সেই রকমই হবে। তাই একে বিয়ে না করে অপেক্ষা করা উচিত, এর প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলে আল্লাহ এর থেকে ভালো কাউকে দেবেন।

ফতোয়ার লিংক -
https://www.youtube.com/watch?v=vLUaq01g8QQ


***ভাই একটু চিন্তা করুন। আলেমরা হচ্ছেন নবী রাসুলদের ওয়ারিশ। শায়খ ফাওজানের মতো একজন যুগশ্রেষ্ঠ আলেম ও ফকীহ উপদেশ দিয়েছেন, দাঁড়ি না রাখলে তাকে বিয়ে না করে অন্য কারো অপেক্ষা করতে। আর আপনি দাঁড়ি রাখাকে হালকা বিষয় মনে করছেন?

শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

খারেজীদের নিয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর

খারেজীদের নিয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর
- আনসারুস সুন্নাহ
__________________________
১. খারেজী কারা?
খারেজী হচ্ছে ৭২টা বেদাতী জাহান্নামী দলের মাঝে প্রাচীন একটা দল, যারা ক্বুরানের আয়াতের ভুল ব্যখ্যা করে আলী রাঃ ও মুয়াবিয়া রাঃ কে মুর্তাদ ফতোয়া দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদের(!) ঘোষণা করে। এরা আলী রাঃ, আমর ইবনুল আস রাঃ সহ বেশকিছু সাহাবী ও অনেক মুসলিমদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিলো। ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে খারেজী মতবাদের অনুসারী বিভিন্ন ব্যক্তি ও দলের উপস্থিতি মুসলিম উম্মাহর মাঝে লক্ষ্য করা যায়।

খারেজীদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য এটা পড়ুন
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/05/httpswww.html
__________________________
২. খারেজীদের সম্পর্কে রাসুল সাঃ কি বলেছেন?
উত্তরঃ খারেজীরা মানুষের মাঝে সবচাইতে ভালো ভালো কথা বলবে, তারা অনেক নামায রোযা করবে, অর্থাৎ ব্যক্তি জীবনে খারেজীরা অত্যন্ত ধার্মিক হবে। এদের বয়স কম হবে, কুরান তেলাওয়াত করবে কিন্তু তাঁর অর্থ না বুঝে অপব্যখ্যা করবে। রাসুল সাঃ এদেরকে জাহান্নামের কুকুর বলেছেন।
__________________________
৩. বর্তমান যুগে কি এমন কোন খারেজী আছে?
উত্তরঃ হ্যা, অবশ্যই আছে এবং দাজ্জাল না আসা পর্যন্ত খারেজীরা বিভিন্ন নাম বা সুরতে মুসলিম উম্মাহর মাঝে বিদ্যমান থাকবে। দাজ্জাল এই খারেজীদের মাঝেই আত্মপ্রকাশ করবে। যদিও কিছু মানুষ বর্তমান যুগের খারেজীদের অস্তিত্বকে অস্বীকার করছে, সম্ভবত তাদের সাথে খারেজীদের লক্ষণ মিলে যাবার কারণে। যাই হোক, মুসলিম উম্মাহর মাঝে যে খারেজীরা থাকবেই এই কথার দলিলঃ

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
এমন কিছু মানুষ আসবে, যারা ক্বুরান তেলাওয়াত করবে কিন্তু ক্বুরান তাদের গলার নিচে যাবেনা। যখনই তাদের কোন দল বের হবে তাদেরকে কেটে ফেলা হবে।
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাঃ বলেন, রাসুল সাঃ যখনই তাদের কোন দল বের হবে তাদেরকে কেটে ফেলা হবে এই কথাটা প্রায় ২০ বারের বেশি সময় বলার পরে বললেন, যতখক্ষণ পর্যন্ত না তাদের (অর্থাৎ, খারেজীদের) মধ্য থেকেই দাজ্জাল বের হবে।
শায়খ আলবানী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন, সহিহ ইবনে মাজাহঃ ১/৭৫-৭৬, নং-১৪৪।
__________________________
৪. খারেজীদের ব্যপারে হুকুম কি?
উত্তরঃ আহলে সুন্নাহর শাসকদের যদি ক্ষমতা থাকে তাহলে তাদেরকে দমন করার জন্য তাদেরকে হত্যা করতে হবে, এটা রাসুল সাঃ এর আদেশ। যদিও তারা নিজেদের মুসলিম দাবী করে এবং অনেক ইবাদত করে, কিন্তু তাদের ধ্বংসাত্মক কাজ ও মনোভাবের কারণে তাদেরকে যে হত্যা করবে আল্লাহর কাছ থেকে সে বিরাট প্রতিদান পাবে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
শেষ যামানায় একদল তরুণ বয়সী, নির্বোধ লোকের আবির্ভাব ঘটবে, যারা সবচাইতে উত্তম কথা বলবে। তারা ইসলাম থেকে এত দ্রুত গতিতে বের হয়ে যাবে যেইভাবে তীর ধনুক থেকে বের হয়ে যায়। তাদের ঈমান তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তোমরা তাদেরকে যেখানেই পাবে সেখানেই হত্যা করবে। কারণ যে তাদেরকে হত্যা করবে তার জন্য ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট নেকী রয়েছে।
বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদঃ ৪৭৬৭, নাসাঈ।
__________________________
প্রশ্নঃ আধুনিক যুগে এমন কিছু খারেজীর নাম বলুন।
উত্তরঃ বর্তমান যুগেও এমন কিছু খারেজী লক্ষ্য করা যায়, বা এমন অনেক ব্যক্তি বা দল আছে যাদের মাঝে খারেজীদের গুণ দেখা যায়। যেমন -
১৯৭৯ সালে সৌদি আরব সরকারকে কাফের ফতোয়া দিয়ে জুহাইমান আল-ওতাইবি নামের এক লোক বিদ্রোহ করে ক্ষমতা দখল করার চেষ্টা করে। সে তার কিছু স্বপ্নকে ইমাম মাহদীকে নিয়ে বর্ণিত হাদীসের সাথে মিলিয়ে তার এক আত্মীয়কে যে কিনা ক্বুরাইশ বংশের ছিলো, তাকে ইমাম মাহদী বলে বিশ্বাস করা শুরু করে। আনুমানিক ৩০০-৪০০ লোক নিয়ে সে প্রথমে কাবা দখল করে এবং সেখানে তাদের মধ্য থেকে একজনকে ইমাম মাহদী দাবী করে তার হাতে বায়াত করে তাকে শাসক হিসেবে মেনে নিতে দাবী করে। এরা মসজিদুল হারাম যেখানে কেয়ামত পর্যন্ত রক্তপাত কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, সেখানে অনেক মানুষদেরকে হত্যা করে। অবস্থা এতো সংকটময় দেখে ইমাম বিন বাজ রহঃ সহ তখনকার বড় আলেমরা ফতোয়া দেন এ খারেজী হয়ে গেছে এর ক্ষতি থেকে মুসলিমদের বাচানোর জন্য কাবাঘরে এদের উপর আক্রমন করা জায়েজ হবে, যদিও হারামে রক্তপাত চিরদিনের জন্য নিষিদ্ধ। কিন্তু সংকটপূর্ণ অবস্থায় মাসয়ালা পরিবর্তন হয়ে যায়, আর এর মতো লোককে না সরালে সে আরো ফেতনা ও রক্তপাত করবে, তাই এইক্ষেত্রে হারামে তাদের উপর আক্রমন করলে গুনাহ হবেনা। যাইহোক তাদের উপর আক্রমন করা হলে তারা একটা টানেলে আশ্রয় নেয় যেখান থেকে তাদেরকে ধরা যাচ্ছিলোনা, তাদেরকে ধরতে কোন সৈন্য গেলে তাদেরকে গুলি করে হত্যা করতো। পরে বিষাক্ত গ্যাস প্রয়োগ করে ও টানেলে পানি ঢেলে তাতে কারেন্ট দিয়ে তাদেরকে আহত করে জুহাইমানসহ তার প্রায় ৭৭জন সাথীকে গ্রেফতার করা হয়। কথিত ইমাম মাহদী আগেই মারা গিয়েছিল আক্রমনের সময়। গ্যাসে জুহাইমানের চেহারা কালো হয়ে যায়, পরে শরিয়াহ মোতাবেক জুহাইমানসহ আনুমানিক ৭০ জনের মতো খারেজীকে প্রকাশ্যে কতল করা হয়।
জুহাইমানকে এই ভিডিওতে দেখতে পারবেন
https://www.youtube.com/watch?v=5Aot1WeZVqw
__________________________
বর্তমান যুগে আলেমদের সর্বসম্মত ঐক্যমতে কথিত "খিলাফতের" দাবীদার আইসিস বা আইএস খারেজীদের একটি দলের মাঝে অন্তর্ভুক্ত। আইসিস এর জাহেল মুফতিরা সমস্ত মুসলিম শাসকদেরকে এবং তাদের নেতা আবু বকর বাগদাদীর কাছে যারা 'বায়াত' করবেনা তাদেরকে 'মুর্তাদ' ফতোয়া দিয়ে ইরাক এবং সিরিয়াতে অনেক সুন্নী মুসলিমদেরকে হত্যা করেছে, এবং বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম এবং কাফের দেশগুলতে বোমা মেরে নির্দয়ভাবে মানুষ হত্যা করছে। এরা ক্বুরান ও হাদীসের অপব্যখ্যাকারী দল, যাদের প্রধান কাজ হচ্ছে জিহাদ সম্পর্কে ভুল ধারণা প্রচার করা, যাকে বাহানা করে ইয়াহুদী এবং খ্রীস্টানরা মুসলিম দেশগুলো আক্রমন করে মুসলিমদেরকে হত্যা করতে পারে। দুঃখের বিষয় হচ্ছে, দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞ অনেক সরলমনা তরুণ নারী ও পুরুষদেরা এদের চমকপ্রদ কথা শুনে এবং হলিউড স্টাইলে ডিজিটাল স্টুডিওতে বানানো HD ভিডিও দেখে এদের ব্যপারে ধোঁকা খাচ্ছে। এই সমস্ত খারেজীদের ব্যপারে মুসলিম জাতিকে সতর্ক করা ওলামা এবং দ্বাইয়ীদের জন্যে ওয়াজিব (বাধ্যতামূলক দায়িত্ব)।
__________________________