শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৫

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের উত্তর

একবোন সুন্দর একটা প্রশ্ন করেছেন,
Allah apnake o shofolota dan korun. Vaia Bangladesh e ekhon IS er name e ja ghotse ta onek chintar bishoy. Amra to fetnay pore jaschi. Nirapottahinota r bipod er bhoy jagse sob somoy. Ai bapare amader ke koroniyo?

আমিন...হ্যা, আসলেই চিন্তার বিষয়। এইভাবে আইসিস, জেএমবি, হুজি ইত্যাদি নামকাওয়াস্তে ভুয়া ইসলামিক কিছু দলকে সন্ত্রাসীরূপে দাঁড় করিয়ে যাদের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই, ইসলামের দুশমন মুসলিম দেশগুলোকে হয় ইসলামশূণ্য করে রাশিয়ার মতো নাস্তিক দেশ বানাতে চাচ্ছে অথবা সিরিয়া, আফগানিস্থানের মতো আক্রমন করে প্রত্যেকটা মুসলমান দেশ ধ্বংস করার পায়তারা করছে। আল্লাহ অনেক সময় বিপদ-আপদ দিয়ে মুসলিম জাতিকে পরীক্ষা করেন। সুতরাং হতাশ কিংবা ভয় পেলে চলবেনা, কারণ বি ইজনিল্লাহ দিনশেষে বিজয় মুসলিমদেরই হবে, কাফেররা শুধুমাত্র মুসলিমদেরকে দুনিয়াবি সাময়িক কষ্ট দিতে পারবে। এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় হচ্ছে, ইসলাম এ ফিরে আসা, কারণ ইসলাম এর দ্বারা আল্লাহ মুসলিমদেরকে সম্মানিত করেছেন আর ইসলাম থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে আল্লাহ মুসলিমদেরকে কাফিরদের দ্বারা শাস্তি দিচ্ছেন। ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজ জীবনে আল্লাহর তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা। এবং ইসলাম এর নাম নিয়ে প্রচলিত সমস্ত শিরক ও বিদাত বর্জন করা এবং এর জঞ্জাল থেকে মুসলিম সমাজকে মুক্ত করার জন্যে জিহাদ করা। শয়তান এবং তার গোলাম কাফির, মুশরিক ও মুনাফিকদের ষড়যন্ত্রের ব্যপারে মুসলিমদেরকে সচেতন করা তোলা এবং তা প্রতিরোধ করার জন্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ‘মিশন’ ও তাঁর ‘দায়িত্ব’

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মিশন ও তাঁর দায়িত্ব সম্পর্কে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন,    
উযুবিল্লা-হিমিনাশ শাইতোয়ানীর রাজীম। (অর্থঃ বিতাড়িত শয়তানের কুমন্ত্রনা থেকে আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি)
(২১) অতএব, (হে নবী!) আপনি তাদেরকে উপদেশ দিন, আপনি তো কেবল একজন উপদেশদাতা মাত্র,
(২২) আপনি তাদের উপর জিম্মাদার (বা কর্তৃত্বশীল শাসক) নন,
(২৩) কিন্তু যে মুখ ফিরিয়ে নেয় ও কাফের হবে,
(২৪) আল্লাহ তাকে কঠোর শাস্তি দেবেন।
(২৬) নিশ্চয় তাদের প্রত্যাবর্তন আমারই নিকট,
(২৭) অতঃপর তাদের হিসাব-নিকাশ আমারই দায়িত্ব।
সুরা আল-গাশিয়াহঃ ২১-২৭।
_______________________
শায়খ মুজাম্মেল হক্ক এর কিছু কথা,
সকল সমস্যার মুল মানুষ। মানুষের অনেক শ্রেণীর। তাদের মাঝে সবার বুঝশক্তি সমান নয়। জ্ঞানও একই রকম নয়। শিক্ষাও এক নয়। জন্ম নেওয়া বেড়ে উঠা, লালিত হওয়া ইত্যাদি হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে। তাই মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের মূল বাণী অনুধাবনে দেখা যায় বেজায় ফারাক। শয়তান বেচারা তার সৈন্য-সামন্ত নিয়ে দিবানিশি অভিযান চালিয়েও কখনো ক্লান্ত হয়নি। এমন বাস্তবতার পরাকাষ্ঠা চলছে আবহমান কাল থেকে। হালে একটু বেড়ে উঠেছে এই আর কি।

এমন বাস্তবতার মধ্যে সকল মানুষকে একত্রিত করার স্বপ্ন একটি দুঃসপ্ন। এটা একটা রাজনৈতিক ধোঁকা। এটা কোনদিন বাস্তবে রূপান্তরিত হবেনা। কেয়ামতের দিনে আল্লাহ্‌ ফয়সালা করবেন, কে কতটা সঠিক এবং তার কি পাওনা। তিনিই আল্লাহ্‌, যিনি মানুষের শাহারগ (ঘাড়ের মোটা ধমনীর) নিকটে থেকে, সর্ব সময়ের সঙ্গী হয়ে সবকিছু দেখছেন। বিচারও তিনিই করবেন। আমাদের কাজ মানুষকে উপদেশ দেওয়া, ভাল কাজের আদেশ দেওয়া আর মন্দ থেকে ফিরে থাকতে সাহায্য করা। এর বেশী নয়। আমরা জিজ্ঞাসিত হবনা জর্জ কেন ঈমান আনলোনা। জিজ্ঞাসিত হবনা, আব্দুল্লাহ কেন বেহেস্তে গেলনা?

বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১৫

"হায়া" বা লজ্জা-শরমের সাথে ঈমানের সম্পর্ক রয়েছে

"হায়া" বা লজ্জা-শরমের সাথে ঈমানের সম্পর্ক রয়েছে।
আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলেছেন, "ঈমানের ৭০টির বেশি শাখা রয়েছে। এর মাঝে সর্বোচ্চ শাখা হচ্ছেঃ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - এই সাক্ষ্য দেওয়া এবং, সর্বনিন্ম শাখা হচ্ছে রাস্তা থেকে মানুষের জন্যে কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে দেওয়া। আর লজ্জা হচ্ছে ঈমানের বিশেষ একটি শাখা।"
বুখারী ও মুসলিম, ঈমান অধ্যায়।
একটা ছেলে দাড়ি চাছতে লজ্জা বোধ করেনা, টাখনুর নিচে প্যান্ট পড়তে আল্লাহকে ভয় করেনা, অবৈধ প্রেমিকার সাথে কথা বলতে, তার গায়ে হাত দিতে লজ্জজাবোধ করেনা....এমন ছেলের ঈমানের তেজ কতটুকু বাকি থাকে সেটা বুঝতে মোটেও কষ্ট হয়না। 
একটা মেয়ে বোরখা না পড়ে খোলামেলা চলতে লজ্জাবোধ করেনা, বেনামাযী হয়ে থাকতে আল্লাহকে ভয় করেনা, উলংগ-বেহায়াপনার নাটক-সিনেমা দেখতে লজ্জা বোধ করেনা, এমন মেয়ের অন্তরে ঈমানের আলো কতটুকু বাকি থাকতে পারে? 
এ জন্যেই রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, "যখন তোমার লজ্জা না থাকে, তখন যা ইচ্ছা তাই করো।"
নারী-পুরুষ্ ফ্রী-মিক্সিং বা কথা বলা, সেটা বাস্তবে হোক কিংবা মোবাইল বা ফেইসবুকে, গায়ের মাহরামদের দিকে দৃষ্টিপাত করা, অশ্লীল কথা বলা, শোনা বা পড়া, অশ্লীল ছবি দেখা মানুষের লজ্জা-শরমকে নষ্ট করে দেয়।
ইমাম বুখারী (রহঃ) বর্ণনা করেছেন, "রাসুল (সাঃ) কুমারী বা অবিবাহিত পর্দানশীল মেয়েদের চাইতে বেশি লজ্জাশীল ছিলেন।"
সুবহা'নাল্লাহ! 
সেই তুলনায় বর্তমান যুগের একশ্রেণীর নারী-পুরুষের লজ্জা-শরম "হাইওয়ান" বা জন্তু-জানোয়ারের মতো হয়ে গেছে। আগামী দিনে এরা বা এদের ছেলে-মেয়েরাই গাধার মতো প্রকাশ্যে জিনা-ব্যভিচারে লিপ্ত থাকবে।

৩০-তম (সর্বশেষ) আসরঃ রমযান মাসের সমাপ্তি

গ্রন্থের নামঃ রমযান মাসের ৩০ আসর
৩০-তম (সর্বশেষ) আসরঃ রমযান মাসের সমাপ্তি
সংকলনেঃ আল্লামাহ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমিন (রহঃ)
________________________________
o    হে আমার ভাই সকল! রমযান মাস শেষ হয়ে গেল। কিন্তু মুমিনের আমল তো মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শেষ হবে না।
* আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿ وَٱعۡبُدۡ رَبَّكَ حَتَّىٰ يَأۡتِيَكَ ٱلۡيَقِينُ ٩٩ [الحجر: ٩٩
আপনি আপনার প্রভুর ইবাদত করুন, আপনার মৃত্যু আসা পর্যন্ত। {সূরা হিজর, আয়াত: ৯৯}
* তিনি আরো বলেন:
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِۦ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسۡلِمُونَ ١٠٢ [ال عمران: ١٠٢
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর যথাযথ তাকওয়া অবলম্বন কর। আর তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। {সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ১০২}
* আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«إِذَا مَاتَ الإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَمَلُهُ ... »
মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়।
তিরমিযোঃ ১৩৭৬।
এখানে একমাত্র মৃত্যুকেই মানুষের আমলের পরিসমাপ্তি ধরা হয়েছে। সুতরাং রমযান মাসের সাওম শেষ হলেও ঈমানদারের আমল সিয়াম পালনের দ্বারাই বন্ধ হয়ে যাবে না; কারণ সিয়াম তো তারপরও প্রতি বছর থাকবে। আর আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা। যেমন, 
* সহীহ মুসলিমে আবূ আইয়ূব আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتًّا مِنْ شَوَّالٍ، كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ»
যে ব্যক্তি রমযানে সিয়াম পালন করবে, অতঃপর শাওয়ালের আরো ছয়টি সিয়াম পালন করবে, সে সারা বছর সিয়াম রাখার সমতুল্য সাওয়াব প্রাপ্ত হবে।
এ ছাড়া প্রতি মাসে তিনটি করে সিয়াম পালন করা: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সম্পর্কে বলেন,
«ثَلَاثٌ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ، وَرَمَضَانُ إِلَى رَمَضَانَ، فَهَذَا صِيَامُ الدَّهْرِ كُلِّهِ»
প্রতি মাসে তিনটি এবং এক রমযানের পর অন্য রমযান সিয়াম পালন করা সারা বছর সিয়াম পালনের সমান।
বুখারীঃ ১১৭৮
* অনুরূপ আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,
«أَوْصَانِي خَلِيلِي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِثَلاَثٍ... «صِيَامِ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ»
আমাকে আমার বন্ধু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনটি বিষয়ে অসিয়ত করেছেন।... এর মাঝে উল্লেখ করলেন: প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম পালন। 
তবে উত্তম হচ্ছে, এ তিন দিনের সাওম أيام الْبِيض অর্থাৎ চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে হওয়া। কারণ, 
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ যর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন:
«يَا أَبَا ذَرٍّ، إِذَا صُمْتَ مِنَ الشَّهْرِ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فَصُمْ ثَلَاثَ عَشْرَةَ، وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ، وَخَمْسَ عَشْرَةَ»
হে আবূ যর! তুমি যখন প্রতি মাসে তিনদিন সিয়াম পালন করবে তখন তা ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে পালন করবে।
* অনুরূপভাবে সহীহ মুসলিমে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আরাফার দিনের সিয়ামের ফযীলত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি উত্তর দিলেন, তা এক বছরের আগের গুনাহ ও এক বছরের পরের গুনাহের কাফ্ফারাস্বরূপ। আর তাঁকে আশুরার সিয়াম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, তা পূর্বের এক বছরের গুনাহ মাফ করে। আর প্রতি সোমাবারের সিয়াম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বললেন, সোমবার আমি জন্মগ্রহণ করেছি ও সোমবার নবুওয়াত প্রাপ্ত হয়েছি এবং সোমবার আমার ওপর কুরআন নাযেল হয়েছে।
* তাছাড়া সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে জিজ্ঞেস করা হলো,
«َأَيُّ الصِّيَامِ أَفْضَلُ بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ؟ فَقَالَ: صِيَامُ شَهْرِ اللهِ الْمُحَرَّمِ»
রমযানের পরে কোন মাসে সিয়াম পালন উত্তম? তিনি উত্তর দিলেন, আল্লাহর মাস মুহাররমের সিয়াম।
* বুখারী ও মুসলিমে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَكْمَلَ صِيَامَ شَهْرٍ قَطُّ إِلَّا رَمَضَانَ، وَمَا رَأَيْتُهُ فِي شَهْرٍ أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ فِي شَعْبَانَ»
আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রমযান ছাড়া অন্য কোনো সময় পূর্ণ এক মাস সিয়াম পালন করতে দেখি নি। তেমনি শাবান মাস ছাড়া অন্য মাসে অধিক নফল সিয়াম পালন করতে দেখে নি।
* অন্য শব্দে এসেছে, তিনি শাবানের অল্পকিছু ছাড়া পুরোটারই সাওম পালন করতেন। 
* আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে অপর বর্ণনায় আছে,
«إنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَتَحَرَّى صِيَامَ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ»
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার সিয়াম পালন করার ব্যাপারে যত্নবান ছিলেন।  এ হাদীসটি আবু দাউদ ব্যতীত ছয় গ্রন্থকারের বাকী সবাই সংকলন করেছেন। আবু দাউদে তা উসামা ইবন যায়েদ থেকে বর্ণিত।
* আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«تُعْرَضُ الأَعْمَالُ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَالخَمِيسِ، فَأُحِبُّ أَنْ يُعْرَضَ عَمَلِي وَأَنَا صَائِمٌ»
বনী আদমের আমল সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। আমার আমল সিয়াম অবস্থায় পেশ হওয়া আমি পছন্দ করি।  

রমযান মাস শেষ হওয়ার দ্বারা রাত জাগরণ কিন্তু শেষ হয়ে যায় না; বরং বছরে প্রত্যেক রাতে নফল সালাত ও তাহাজ্জুদ পড়ার মাধ্যমে রাতের কিয়াম শরীয়তে অনুমোদিত। আর আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামে কথা ও কাজ দ্বারা সারা বছর তাহাজ্জুদ সালাত আদায়ের বিষয়টি প্রমাণিত।
* সহীহ বুখারীতে মুগীরাহ ইবন শুবা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, 
كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيَقُومُ لِيُصَلِّيَ حَتَّى تَرِمَ قَدَمَاهُ، فَيُقَالُ لَهُ، فَيَقُولُ: «أَفَلاَ أَكُونُ عَبْدًا شَكُورًا»
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে এত অধিক নফল সালাত আদায় করতেন যে, তাঁর পা মুবারক ফুলে যেত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, আমি কি শুকরগুজার বান্দা হব না?
* অনুরূপ আব্দুল্লাহ ইবন সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«أَيُّهَا النَّاسُ، أَفْشُوا السَّلَامَ، وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ، وَصَلُّوا بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ تَدْخُلُونَ الجَنَّةَ بِسَلَامٍ»
হে লোকসকল! তোমরা সালামের প্রসার কর, খাদ্য খাওয়াও,  আর যখন মানুষ ঘুমে থাকে তখন রাতে নফল সালাত আদায় কর, তাহলে তোমরা শান্তির সাথে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।
* অনুরূপ আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«َأَفْضَلُ الصَّلَاةِ، بَعْدَ الْفَرِيضَةِ، صَلَاةُ اللَّيْلِ»
ফরয সালাতের পর সর্বোত্তম সালাত হলো রাতের (তাহাজ্জুদ) সালাত।

আর রাতের সালাতে সব ধরনের নফল এবং বিতর অন্তর্ভুক্ত। রাতের সালাত দু দু রাকাত করে আদায় করতে থাকবে। সময় শেষ হওয়ার ভয় হলে এক রাকাত মিলিয়ে বিতর পড়ে নেবে। অথবা চতুর্থ আসরে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে সেভাবেও পড়া যেতে পারে।
* বুখারী ও মুসলিমে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا، حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرُ فَيَقُولُ: مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ، مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ، مَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَه»
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রতি রাতে এক তৃতীয়াংশ বাকী থাকতে (শেষ রাতে) প্রথম আসমানে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন, আমাকে কে ডাকবে যে আমি তার ডাকে সাড়া দেব? আমার কাছে চাওয়ার মত কে আছে যে আমি তাকে দান করবো? কে আছে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে যে আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।

    তাছাড়া রয়েছে, দৈনিক ১২ রাকাত সুন্নাতে মুআক্কাদাহ। চার রাকাত জোহরের পূর্বে ও দুরাকাত পরে। দুরাকাত মাগরিবের পর। দুরাকাত ইশার পর ও দুরাকাত ফজরের সালাতের পূর্বে।
* উম্মে হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে শুনেছি,
«مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يُصَلِّي لِلَّهِ كُلَّ يَوْمٍ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً تَطَوُّعًا، غَيْرَ الفَرِيضَةِ، إِلَّا بَنَى اللهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ»
যদি কোনো মুসলিম বান্দা ফরয ছাড়া বার রাকাত সুন্নাত সালাত প্রতিদিন আদায় করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করেন।

    আরও রয়েছে পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাত আদায়ের পর কিছু যিকর। এ যিকর করতে আল্লাহ তাঁর কিতাবে নির্দেশ দিয়েছেন, অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করেছেন।
* আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿ فَإِذَا قَضَيۡتُمُ ٱلصَّلَوٰةَ فَٱذۡكُرُواْ ٱللَّهَ قِيَٰمٗا وَقُعُودٗا وَعَلَىٰ جُنُوبِكُمۡۚ [النساء: ١٠٣
অতঃপর যখন তোমরা সালাত সম্পন্ন কর, তখন দণ্ডায়মান, উপবিষ্ট ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ কর। {সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১০৩}
* অনুরূপভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ফরয সালাত থেকে সালাম ফিরাতেন, তখন তিনবার ইস্তেগফার করতেন। অতঃপর এ দোআ পড়তেন:
«اللهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ، تَبَارَكْتَ ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ»
হে আল্লাহ! আপনিই শান্তি আর আপনার কাছ থেকেই আসে শান্তি; আপনি বড়ই বরকতময় হে সম্মান ও প্রতিপত্তির অধিকারী
* রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন,
«مَنْ سَبَّحَ اللهَ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ، وَحَمِدَ اللهَ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ، وَكَبَّرَ اللهَ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ، فَتْلِكَ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ، وَقَالَ: تَمَامَ الْمِائَةِ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ غُفِرَتْ خَطَايَاهُ وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ»
যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয সালাতের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার ৩৩ বার মোট ৯৯ বার। সর্বশেষে ১০০ পূর্ণ করতে বলবে:
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
তাহলে তার গুনাহ সমুদ্র ফেনা পরিমাণ হলেও আল্লাহ তা মাফ করে দেবেন।
o    সুতরাং হে আমার ভাইগণ! আপনারা পূণ্যের কাজে বেশি করে আত্মনিয়োগ করুন। পাপ ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকুন। যাতে আপনাদের পার্থিব জীবন সুখময় হয় আর মৃত্যুর পর চিরস্থায়ী শান্তির অধিকারী হতে পারেন।
* আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿مَنۡ عَمِلَ صَٰلِحٗا مِّن ذَكَرٍ أَوۡ أُنثَىٰ وَهُوَ مُؤۡمِنٞ فَلَنُحۡيِيَنَّهُۥ حَيَوٰةٗ طَيِّبَةٗۖ وَلَنَجۡزِيَنَّهُمۡ أَجۡرَهُم بِأَحۡسَنِ مَا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ ٩٧ [النحل: ٩٧
পুরুষ ও নারীদের মধ্য থেকে যে ঈমানসহ সৎকর্ম করে, আমরা তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং তাদেরকে তাদের কার্যের উত্তম পুরস্কার দেব। {সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৯৭}
হে আল্লাহ! আপনি আমাদের ঈমানের ওপর মজবুত রাখুন এবং আমলে সালেহ করার তাওফীক দিন। হায়াতে তায়্যিবাহ দান করুন। আমাদেরকে পুণ্যবান ব্যক্তিদের সঙ্গী বানান।
আর সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য, যিনি সৃষ্টিকুলের রব। আল্লাহ সালাত ও সালাম পেশ করুন আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর।

------------------------