মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০১৫

ওর্য়াল্ড ভিশন নামে খ্রিষ্টানদের একটা সংস্থা

প্রশ্নঃ আমাদের দেশে ওর্য়াল্ড ভিশন নামে খ্রিষ্টানদের একটা সংস্থা আছে তারা অসহায় দরিদ্র শিশুদের নানা ভাবে সাহায্য করে থাকে এবং তারা উপকৃত হয়। আমার প্রশ্ন হল তাদের সাহায্য মুসলিমদের নেয়া যাবে কিনা?

উত্তরঃ এরকম ওয়ার্ল্ড ভিশন, খ্রীস্টান মিশনারী, ও অন্যান্য এনজিওগুলো যারা কৌশলে দুনিয়ার লোভ দেখিয়ে ইসলাম থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে রাখে, তারা ইসলাম ও মুসলমানদের প্রকাশ্য দুশমন। দরিদ্র মুসলমানদেরকে সম্পদ আর নারীর লোভ দেখিয়ে তাদেরকে খ্রীস্টান বানানোই হচ্ছে তাদের মিশন, সৌদি আরবের মতো আমাদের দেশেও এই সমস্ত প্রতারক লোকদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে মুসলমানদেরকে তাদের ক্ষতি ও ফেতনা থেকে বাঁচানো উচিত। মুসলমান ভাই ও বোনেরা আপনারা ইসলাম ও মুসলমানদের দুশমনকদেরকে চিনতে শিখুন, তাদের ষড়যন্ত্র থেকে নিজে বাঁচুন, অন্যদেরকেও সতর্ক করুন। ইতিমধ্যেই তারা মুসলমানদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মুসলমাদের উপরে চেপে বসেছে, এবার তারা চূড়ান্তভাবে মুসলমানদেরকে কোনঠাসা করে ইসলামের নাম-নিশানা মুছে ফেলতে চায়। প্রতিটি মুসলমান হচ্ছে ইসলামের অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায়, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করলে কোন জিন শয়তান বা মানুষ শয়তান আমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবেনা ইন শা আল্লাহ।

শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০১৫

প্রশ্ন-উত্তর পর্বঃ - ২৮শে মার্চ, ২০১৫।

প্রশ্ন-উত্তর পর্বঃ - ২৮শে মার্চ, ২০১৫।
প্রশ্নঃ ভাই আপনি কি কোনো দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন? বা কোন অরাজনৈতিক ইসলামিক সংগঠন? নাকি শুধুমাত্র কুরআনও সহি সুন্নার দাওয়াত দিচ্ছন?
উত্তরঃ জাযাক আল্লাহু খায়রান, গুরুত্বপূর্ণ সুন্দর এ প্রশ্নটি করার জন্য। মুসলমান হিসেবে আমাদের একমাত্র আদর্শ হচ্ছে মুহাম্মাদ সাঃ, আমরা ক্বুরান ও সুন্নাহ মানি যেইভাবে সাহাবারা মেনেছিলেন। মুসলমানদের মাঝে ৭৩টি দলের মাঝে একটি মাত্র দল জান্নাতে যাবে, তাবেয়ীদের যুগ থেকে সেই দলটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআ'ত বা সংক্ষেপে সুন্নী হিসেবে পরিচিত। আমি নিজেকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআ'ত এর অনুসারী হিসেবেই পরিচয় দেই। এনিয়ে আমাদের পূর্বের এই পোস্টটি দেখার অনুরোধ রইলো -
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/05/blog-post_17.html

প্রশ্নঃnamaz e kono surah porar time e monojog onno dik e thakle oi surah abar porte hbe kina,...jemon ami surah fatiha porlam kintu monojog na thakay ki porlam ta kheyal kora holo na...so oi obosthay ki kora uchit
উত্তরঃ মনোযোগ না থাকলে নামাযে ঐ অংশের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবেন, আর যদি ঠিক পড়ে থাকেন তাহলে আবার পড়তে হবেনা, তবে সুরা ফাতেহাতে ভুল করলে আবার পড়তে হবে, কারণ সুরা ফাতেহা ছাড়া নামায হয়না। আর অন্য সুরা হলে মনে খুত খুত থাকলে নতুন করে পড়তে পারেন। নামাযে মনোযোগ নিয়ে আমাদের এই পোস্টটা দেখুন -
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/03/blog-post_2492.html

প্রশ্নঃ Vai admin jamate namaz aday kale ruku pele ki oi rakat pabo? But Dr. Asadullah galib tar boite likhecen ruku pele rakat pabo na. Pls ans me.
উত্তরঃ  জমহুর অর্থাৎ, বেশিরভাগ আলেমদের মত হচ্ছে, রুকু পেলে রাকাত হয়ে যাবে, এর পক্ষে সহীহ হাদীসের দলীল আছে। ২-১ জন সাহাবী ও কিছু আলেম বলেছেন সুরা ফাতেহা না পেলে রাকাত হবেনা, কারণ সুরা ফাতেহা নামাযের রোকন এবং এনিয়ে তারা কিছু যুক্তিও পেশ করে থাকেন। গ্রহণযোগ্য দলীল থাকার কারণে ও বেশিরভাগ আলেম রুকু পেলে রাকাত হয়ে যাবে, এই মতের পক্ষে থাকায়, আমি বিশ্বাস করি ও আমল করি যে, রুকু পেলে রাকাত হয়ে যাবে। এ ব্যপারে আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। আপনারা শায়খ ইবনে উসাইমিন রহঃ এর দলীল ভিত্তিক এই ফতোয়া দেখুন, তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেছেন,
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/04/blog-post_3255.html

প্রশ্নঃ vai rajtontro o somajtontro ki? islame konti ,keno,gronjoggo/ noi?
উত্তরঃ ইসলামের আদর্শ হচ্ছে মুসলিম আলেম ও নেতাদের শুরাভিত্তিক কমিটির মাধ্যমে খলিফা ও অন্যান্য আমির বা নেতা বাছাই করা। তবে রাসুল সাঃ এর মৃত্যুর ৩০ বছর পর থেকেই মুসলামদের নেতৃত্ব বাছাইয়ে রাজতন্ত্র চালু রয়েছে, আমার জানা মতে আজ পর্যন্ত কোন সাহাবা বা আলেম একে হারাম বলে ফতোয়া দেয়নি। আপনারা সংক্ষিপ্ত আকারে আমাদের এই পোস্ট দেখুন -
https://www.facebook.com/Back.to.Allah.bangla/posts/804396302926452
আর আরো বিস্তারিত জানার জন্য শায়খ আব্দুর রাক্বীব মাদানীর এই লেকচারটা দেখুন -
https://www.youtube.com/watch?v=3ELLqTj9z80
জামাতে ইসলামী, ইখোয়ানুল মুসলিমিন, হিযবুত তাহরীর, আল-কায়েদাহ আইসিস, তাকফিরী ইত্যাদি দলের অনুসারী অল্পবয়ষ্ক লোকদের মনগড়া ফতোয়ার দ্বারা বিভ্রান্ত হবেন না।
আর সমাজতন্ত্র ইসলামের দুশমন নাস্তিকদের আবিষ্কার, যা ইসলামের বিপরীত। এইরকম মানবরচিত তন্ত্র যা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক সেগুলো বিশ্বাস করা বা মেনে নেওয়া শিরক ও কুফর, যদিও তারা যত ভালো ভালো কথা বলুক না কেনো।

প্রশ্নঃ vai admin,wife ki husband ke paye dore salam kora jayej ase ?
উত্তরঃ না জায়েজ নয়। এটা হারাম ও হিন্দুদের অনুকরণ। বিস্তারিত দেখুন -
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/07/blog-post_3375.html

প্রশ্নঃ আসসালামুআলাইকুম|কোনো বিপদ বা সমস্যায় পরলে আমরা সাধারণত মানত করে থাকি যেমন,টাকা গরীব মসজীদে দান করার মানত |নফল নামাজ বা রোজা মানত করি|এটা কি ঠিক?কিভাবে করা উচিত?
উত্তরঃ ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। এভাবে মানত করা জায়েজ নয়। যদি কিছু করতে হয়, সামর্থ্য অনুযায়ী আগে দান করবেন বা ২-৪ রাকাত যতটুকুই হোক নফল নামায পড়বেন, নেক আমল করে একে উসীলা করে দুয়া করবেন যাতে আপনার নেক আমলের উসীলায় বিপদ থেকে উদ্ধার করেন। বিস্তারিত দেখুন -
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/06/blog-post_12.html

প্রশ্নঃ towbar duata post korben ke?
উত্তরঃ জি, অবশ্যই, এই লিংকে দেখুন -
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/03/blog-post_9982.html

প্রশ্নঃ এশার নামায এর বেতের নামায পড়ার প্রকৃত পধতি কি ? দুই তাশাহুদে বেতের পড়া যায়েয আছে কি না ? অনেকে বলে বেতের নামাযে দুইবার তাশাহুদ পড়া যাবে না । ঠিক তথ্য তুলে ধরবেন প্লিজ ।
উত্তরঃ http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/03/blog-post_122.html

প্রশ্নঃ  amar question : ami Jamaat e islamir ekjon kormi..ami bivinno waz mahfil e sunechi kichu alim ulama amader (Jamaat ) ke salafi der onusari bole kintu ami jani na salafi ta ki? ektu bistarito bolle Asol jinish jante parbo..ar je sob alim ulama ei kotha bole Tara fultoli,sylhet er peer saheb er onusari..thanks
উত্তরঃ সালাফ কথাটির অর্থ হচ্ছে পূর্বে বা প্রথমে যারা ছিলেন। আর আমাদের পূর্বে সবার আগে ছিলেন সাহাবারা, এরপরে সাহাবাদের অনুসারী তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ী ও এর পর যুগে যুগে নেককার আলেম-ওলামারা। দ্বীনের প্রতিি কথা ও কাজে ক্বুরান ও হাদীস মেনে চলা ঠিক সেইভাবে যেইভাবে সাহাবা, তাবে তাবেয়ী, তাবে তােয়ী ও পূর্ব যুগের ইমাম ও আলেমরা মেনে চলতেন - এই নীতি, আদর্শ বা কর্মপন্থাকে সালাফিয়া বলা হয়, আর যারা এ আদর্শ মেনে চলে তাদেরকে সালাফি বলা হয়। সালাফিরাই হচ্ছে প্রকৃত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত যারা সমস্ত শিরক ও বিদাত মুক্ত থেকে রাসুল সাঃ অনুসরণ করে। জামাতে ইসলামী ২-১টা বিষয়ে হয়তোবা সালাফি মানহাজ মানে, তবে তারা সালাফি নয়, বরং তারা সাহাবাদের রাস্তা থেকে সরে গেছে, তাদের কাউকে গালি-গালাজ করে, তাদের ভুল ধরে - এইসবগুলো স্পষ্ট গোমরাহী। এই তিনটা পোস্টে কিছুটা আলোচনা পাবেন -
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআ'তঃ
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/05/blog-post_17.html
সাহাবাদেরকে গালি দেওয়াঃ
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2015/01/blog-post_6.html
মওদুদী সম্পর্কে -
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/06/blog-post_9962.html

প্রশ্নঃ Vai namaz porar majhe amra sura fateha porar por jokhon kuran ar kichu ongso path kori tokhon ki amon hoyna je surati Allah ar mukher kotha ja manuskei nirdesh kore bolche ba nobi ke nirdesh kore bolche. . . . ai bisoy ta alochona korun. . . plz. . .
উত্তরঃ হ্যা এমনটা হয়, যেমন আল্লাহ বলছেন, আক্বিমুস সালাহ - তোমরা নামায কায়েম করো...এখন আমরা এটা তেলাওয়াত যখন করি এর উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহর কথাগুলো স্বরণ করা...এইগুলো যাতে অন্তরে সবসময় থাকে আর সেগুলোর উপর আমল করার জন্য স্বরণ করা।

প্রশ্নঃ Assalamualaikum
Vai ami akta bank job kori jani ata khuv kharap job cause ata suder karbar?amar jiboner akmatro target silo bank jobs er jonno allah nikot sobsomoy doya koresi abong allah ta diyese.
Tobe amar vitore allah rohmote islamic knowledge kisota gobirvabe duktese mone hoy,amar ai change ta jodi job pawar age hoto ,tahole ai job nitam na,akhon amar government age nai,
Tasara ami try korsi jatotuk sombob sud theke
Beche takhar jonno, jemon amar taka ami current account rakhi,gps,fixed deposit,7 years double etc, ami taka rakhi na..
Akhon amar ki koroniyo ?
10 years hole chakri sere dibo strongly niyot koresi,
Cause 10 year por chakri sara sujug ase..
উত্তরঃ ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন ও আপনার জন্যে সহজ করে দিন। আপনি যদি আজকেই এই চাকুরীটা ছেড়ে দেন আর সুদী একাউন্টগুলো বন্ধ করেন, সেটা আপনার জন্যে উপকারী। সুদী ব্যংকে কাজ করা নিয়ে ফতোয়া দেখুন -
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/07/blog-post_10.html
এবং এটা
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2015/01/blog-post_64.html
যেহেতু এটা অনেক বড় একটা ব্যপার, এজন্য আমি পরামর্শ দেবো তোওবা করা সংক্রান্ত এ বইটা আপনি খুব মনোযোগ দিয়ে পড়বেন -
আমি #তাওবা করতে চাই কিন্তু...
তোওবা কি, তোওবা কিভাবে করতে হবে, কিভাবে বুঝবো আমার তোওবা কবুল হয়েছে কিনা, এছাড়া বিভিন্ন ধরণের পাপ যে করে ফেলেছে সে কিভাবে তোওবা করবে তোওবা সংক্রান্ত এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য এই বইটা অবশ্যই পড়বেন।
http://preachingauthenticislaminbangla.blogspot.com/2013/05/blog-post_7620.html

প্রশ্নঃ ফরয গোসলের নিয়মটা বলিয়েন?
উত্তরঃ http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/03/blog-post_9735.html

প্রশ্নঃ জামাত না পেয়ে একা একা ফরজ নামাজ মসজিদে পড়লে কি একামত দিতে হে?
আর তাকবির গুলো কি জোরে জোরে দিব। বাসায় বা মসজিদে যেখানেই পড়িনা কেন?
আর যে সব নামাজ স্বশব্দে পড়তে হয় যেমন ফজর,মাগরিব ও এশা একা পড়লে মসজিদে বা বাড়িতে স্বশব্দেই কি পড়বো?
কসর নামাজ যদি দু'ওয়াক্ত এক সাথে পড়ি। যহর এবং আসর। দুবারই কি একামত দিতে হবে? আর তাকবির কি জোরে জোরো দিব? প্লিজ রেফারেন্স সহ জানাবেন।
উত্তরঃ ইকামত দেওয়া সুন্নত, সুতরাং দেবেন। ইচ্ছে হলে জোরে বলবেন, জোরে বলাই সুন্নত, জামাত ছুটে গেলে একা পড়লেও জোরে পড়া সুন্নত।
হ্যা, এক আযান, ইকামত ২টা দিতে হবে। জোরে দেওয়া সুন্নত।

প্রশ্নঃ Jomuar namaz miss hoe jay... kaje busy thaki.. ki korbo...??
উত্তরঃ কি কাজ? মুকিম, সুস্থ ও বালেগ পুরুষের জন্য জুমুয়াহ পড়া ওয়াজিব, নামাযের আযান দেওয়া হলে অন্য কাজ করা হারাম হয়ে যায়। কখনো ছুটে গেলে যোহর পড়তে হবে, তবে উপযুক্ত কারণ না থাকলে তোওবা করতে হবে কারণ সেটা গুনাহ।

প্রশ্নঃ Mongol sovajatra te participate kora ki sirok ?
উত্তরঃ এটা মুশরকেদের সংস্কৃতি ও ধর্ম বিশ্বাস এর অংশ, মুশরেকদের ধর্মীয় উতসবে শোরীক হওয়া কোন মতেই জায়েজ না

প্রশ্নঃ SO  whether without the previous wish and order of the Creator does any living or non living must be able to do good or bad ?
উত্তরঃ আল্লাহর ইচ্ছা ও তাকদীর...
তাকদীর আল্লাহ লিখে দিয়েছেন, তাহলে বান্দার দোষ কি?
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/03/blog-post_1471.html

প্রশ্নঃ শবেবরাত কি?
উত্তরঃ শবে বরাত উদযাপন করার কোন সহীহ হাদীস নেই। এটা পড়ূন -
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2015/03/blog-post_8.html

প্রশ্নঃ অনেকে বলেন , মৃত ব্যাক্তির নিকট বসে কোরআন পড়ে কোন লাভ নেই , ৭০০০০ বার লা ইলাহা ইল্লাল্লহ পড়ে বকশে দেয়ার কোন নিয়ম নেই , চল্লিশা করার নিয়ম নেই , প্রতি বছর ম্রতু দিবসে গরীব লোকদের খাওয়ানোর নিয়ম নেই । আপনি কি এই কথাগুলির সঙ্গে একমত ।
উত্তরঃ হ্যা এগুলো বেদাতী আমল
এই লেখাগুলো দেখুন -
http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2014/12/blog-post_28.html

http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2015/02/blog-post_86.html

প্রশ্নঃ ISIS er bepare apnar motamot ki?
উত্তরঃ সমস্ত আলেমরা একমত, তারা বর্তমান যুগের খারেজী দল। এর নিকৃষ্ট খুনির দল যারা অন্যায়ভাবে সুন্নী মুসলমানদের হত্যা করেছে। খারেজীদের প্রধান লক্ষনগুলো তাদের মাঝে পূর্ণ মাত্রায় বিদ্যমান। এখানে অনেক পোশটের লিংক দেওয়া আছে খারেজীদের ব্যপারে -

http://ansarus-sunnah.blogspot.com/2015/01/blog-post_63.html

প্রশ্ন-উত্তর পর্বের ড্রাফট

আস সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
আজকের প্রশ্ন-উত্তর পর্বঃ
বিদায় হজ্জ এর ভাষণে প্রিয়নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন, হে মানুষেরা তোমরা শোনো! আজ তোমরা যারা উপস্থিত আছো, আমার এই বানী যারা উপস্থিত নেই তাদের কাছে পৌঁছে দেবে। কারণ এমন অনেক সময় দেখা যায় যে, যার কাছে কোন বাণী পৌঁছানো হয়, সে সেই বার্তাবাহকের তুলনায় অধিক সংরক্ষণকারী হয়।
সুতরাং, আমাদের উপর দায়িত্ব হচ্ছে, ইসলামের যতটুকু জানি তার উপর আমল করা, তেমনি এর পাশাপাশি ক্বুরান ও সুন্নাহর কথা যথাসম্ভব মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
***ইন শা আল্লাহ, আজ রাত ১০:৩০ পর্যন্ত আমাদের এই পোস্টের কমেন্ট বক্সে দ্বীন সম্পর্কিত আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। কেউ ব্যক্তিগত কোন প্রশ্ন করতে চাইলে আমাদের প্রাইভেট মেসেজে প্রশ্ন পাঠাতে পারেন। আর পুরোনো পোস্টে কারো প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বাকি থাকলে দয়া করে প্রশ্নটা এখানে আবার লিখুন, সাধারণ দুইদিন পর পুরোনো পোস্টগুলো ফলো করা সম্ভব হয়না। আর মেসেজে কারো প্রশ্নের উত্তর দিতে ২দিনের বেশি দেরী হচ্ছে এমন যারা উত্তরের জন্য অপেক্ষা করছেন, দয়া করে মেসেজে একটা কিছু লিখে পুনরায় নক করুন।
আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা দ্বারা আল্লাহ আমাদের দ্বীনি ভাই ও বোনদেরকে উপকৃত করুন, এবং আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করে নিন, আমিন।
বিনীত,

#আনসারুস_সুন্নাহ

শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০১৫

“কমলা লেবু, খেজুর, তুলসী গাছ ও মাকাল ফলের উপমা”


কমলা লেবু, খেজুর, তুলসী গাছ ও মাকাল ফলের উপমা
আজ আপনাদের কাছে আমাদের প্রশ্ন ছিলো,
> নিচের কোনটি সর্বোত্তম ও কেন?
১. কমলা লেবু
২. খেজুর
৩. তুলসী গাছ
৪. মাকাল ফল
সঠিক উত্তর হচ্ছেঃ ১. কমলা লেবু
কারণ হচ্ছে, এ চারটির মাঝে শুধুমাত্র কমলার লেবুর ঘ্রাণ ও স্বাদ আছে এবং দুটোই চমৎকার ও মিষ্টি। বাকিগুলোর মাঝে খেজুরের স্বাদ মিষ্টি কিন্তু কোন ঘ্রাণ নেই, তুলসী গাছের সুন্দর ঘ্রাণ আছে কিন্তু তার স্বাদ হচ্ছে তিতা, আর মাকাল ফলের কোন ঘ্রাণও নেই, আর স্বাদও তিতা।
এই চারটি দ্বারা আসলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চার প্রকার মানুষের উপমা দিয়েছলেন। উল্লেখ্য, কাফেরের উদাহরণ এখানে দেওয়া হয়নি, কারণ তারা সরাসরি স্বীকার করে তারা কাফের। কিন্তু যারা মুনাফেক তারা মুখে ঈমানের দাবী করে কিন্তু অন্তরে কুফুরীকে গোপন রাখে। এজন্য তারা লোক দেখানো সালাত-সাওম ও ক্বুরান তেলাওয়াত করে অন্যদেরকে বা কখনো নিজেকেও ধোঁকা দেয়। একারণে তারা মুসলমানদের জন্য সবচাইতে বিপজ্জনক ও ক্ষতিকর।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
কুরআন তেলাওয়াতকারী মুমিনের উপমা হচ্ছে ঠিক উতরুজ্জা (কমলা লেবুর মত এক ধরণের ফল); যার ঘ্রাণ উত্তম এবং স্বাদও চমৎকার। আর যে মুমিন কুরআন পড়ে না তার উদাহরণ হচ্ছে ঠিক খেজুরের মত; যার (সুন্দর) ঘ্রাণ তো নেই, কিন্তু তাঁর স্বাদ মিষ্টি। (অন্যদিকে) কুরআন তেলাওয়াতকারী এমন মুনাফিকের উপমা হচ্ছে সুগন্ধিময় (তুলসী) গাছের মত; যার ঘ্রাণ উত্তম, কিন্তু স্বাদ তিক্ত। আর যে মুনাফিক কুরআন পড়ে না তার উদাহরণ হচ্ছে ঠিক মাকাল ফলের মত; যার (উত্তম) ঘ্রাণ নেই, আর তাঁর স্বাদও তিক্ত (খারাপ)।
রিয়াদুস সালেহীনঃ হাদীস নং- ১০০২।
মূল গ্রন্থের রেফারেন্স - সহীহ বুখারীঃ ৫০২০, সহীহ মুসলিমঃ ৭৯৭, তিরমিযীঃ ২৮৬৫, নাসায়ীঃ ৫০৩৮, আবু দাউদঃ ৪৮২৯, ইবনু মাজাহঃ ২১৪, মুসনাদে আহমাদঃ ১৯০৫৫, সুনানে দারেমীঃ ৩৩৬৩।
আল্লাহ আমাদেরকে মুনাফেকী থেকে বাঁচান। সর্বোত্তম মানুষের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য ঈমান এনে ইসলামের বিধি-বিধান মানার পাশাপাশি নিয়মিত ক্বুরানুল কারীম তেলাওয়াত করতে হবে। প্রতিদিন সুরা মুলক, রাতের বেলা সুরা বাকারার শেষ ২ আয়াত ও সুরা ইখলাস, জুমুয়ার দিনে সুরা কাহফ, প্রত্যেক ফরয সালাতের পরে আয়াতুল কুরসী. . .এমন মাসনুন সুরা ও আয়াতগুলো প্রতিদিনই তেলাওয়াত করার অভ্যাস করতে হবে। আর এর পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় করে (সকালে/সন্ধ্যায়/সালাতের পরে) ক্বুরানের আরবী ও অর্থসহ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ জানার চেষ্টা করতে হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্বুরান পড়া, জানা ও মানার তোওফিক দান করুন, আমিন।
#আনসারুস_সুন্নাহ।  

পারিবারিক জীবনঃ পুরুষদের মাঝে দুইটি মন্দ স্বভাব

পারিবারিক জীবনঃ পুরুষদের মাঝে দুইটি মন্দ স্বভাব
১. জেলাসী না থাকাঃ
সাধারণত জেলাসী মানে হলো কারো ভালো দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়া বা হিংসা করা। এটা খুবই খারাপ, হিংসা মানুষের নেক আমলকে ধ্বংস করে, ব্যক্তিকে মানসিক কষ্টে পোড়ায়। তাই কারো ভালো দেখে তার প্রতি হিংসা করা যাবেনা। বরং, কারো কোনো কল্যান দেখলে বলতে হবে মা শা আল্লাহ তাবারাকাল্লাহ, এই কথা বললে, আপনার চোখের নজর থেকে আপনার কোনো মুসলিম ভাই বা বোনের ক্ষতি হওয়া থেকে নিরাপদ থাকবে।
আমি যেই জেলাসীর কথা বলছি সেটা হচ্ছে, নিজেদের ঘরের নারীদের বাইরে প্রদর্শনী করে বেড়ানো। এর কারণ হলো, তার মধ্যে এই অনুভূতিটা নাই যে, লম্পট পুরুষ তার ঘরের মেয়েদের দিকে খারাপ দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকুক, আজেবাজে মন্তব্য করুক তাতে তার কিছু যায় আসেনা।
এইধরণের বিশেষ অনুভূতিহীন পুরুষদেরকে হাদীসের ভাষায় দাইয়ুস বলা হয়। আর ৩ শ্রেণীর মানুষ জাহান্নামে যাবেই, তাদের মধ্যে এক প্রকার হচ্ছে দাইয়ুস পুরুষ।
২. নারীদের গায়ে হাত তোলাঃ
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর স্ত্রীদের গায়ে কোনোদিন হাত তুলেন নি। নারীদের গায়ে হাত তোলা পুরুষ হচ্ছে নিজেই দুর্বল মানসিক দিক থেকে। এই জন্য নারীদের গায়ে হাত তুলে সে মনে মনে আত্মতৃপ্তি অনুভব করে, বাহাদুরীর কাজ বলে মনে করে। নারীদের মধ্যে অবাধ্যতা চরম মাত্রায় পৌঁছালে তাদেরকে শাসন হিসেবে মৃদু প্রহার করা শরীয়ত সম্মত। তবে আমি যতগুলো কেইস জানি, কোথাও এইরকম কাহিনী হয়েছে, সেটাকে শরীয়তের দিক থেকে জায়েজ বলা যাবেনা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্বামীর খামখেয়ালী আচরণ, বদমেজাজী, রাগকে নিয়ন্ত্রন করতে না পারা. . .স্ত্রীদেরকে মারধদের জন্য এরকম বদ চরিত্রই বেশি দায়ী। আর একথা বলা রাখেনা, স্ত্রীদের অন্যায় মারধর ও নির্যাতনকারী একজন জালেম ও পাপীষ্ঠ লোক। এরকম পাপী লোকদের উচিত যত শীঘ্রই স্ত্রীর কাছ থেকে ক্ষমা চাওয়া।
এদের ব্যাপারে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলেছেন, তোমরা স্ত্রীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো
আল্লাহ আমাদের পারিবারিক জীবনকে সুন্দর করুন।

বিঃদ্রঃ আমার এ লেখায় ভুল-ত্রুটি হলে আল্লাহর মাফ করুন। আর কেউ মনে কষ্ট পেয়ে থাকলে আশা করি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০১৫

ভারতীয় উপমহাদেশে হানাফীরা ৫ ভাগে বিভক্ত হয়েছে

ভারতীয় উপমহাদেশে হানাফীরা ৫ ভাগে বিভক্ত হয়েছেঃ

১. কাদিয়ানী এরা গোলাম আহমাদ কাদিয়ানী নামে এক দাজ্জাল যে মিথ্যা নবুওতীর দাবী করেছিলো তার উম্মত। এরা নিজেদেরকে আহমদীয়া নামে পরিচয় দেয়। এরা পরিষ্কার কাফের ও মুরতাদ।

২. মওদুদী জামাত এরা সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদুদীর অনুসারী। এদের সংগঠনের নাম জামায়েতে ইসলামী। ইসলাম ধর্মের রাজনৈতিক অপব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে তারা গণতন্ত্রের শিরকী কুফুরীকে জায়েজ বানিয়েছে, হরতালকে জিহাদের সমান বানিয়েছে, নির্বাচনকে ওহুদ-বদরের ময়দান বানিয়েছে। আর এই তরীকায় মারামারি করে কেউ মরে গেলে তারা শহীদ হিসেবে সার্টিফিকেট দেয় আর বড় পুণ্যের কাজ বলে মনে করে। ক্ষমতায় যাবার জন্য যেকোনো সময় তারা তাদের নীতি-গতি পরিবর্তন করে। একবার নারী নেতৃত্ব হারাম অনৈসলামিক ফতোয়া দেয়, আবার ক্ষমতায় যাবার জন্য হুদায়বিয়ার চুক্তির দোহাই দিয়ে জায়েজ বলে তর্ক করে।

৩. বেরেলভী এরা আহমাদ রেজা খান বেরেলবীর অনুসারী। এরা নিজেদেরকে রিজভী, বেরেলবী বা কখনো সুন্নী নামে পরিচয় দেয়, যদিও সুন্নতের সাথে তাদের কোনো সম্পর্কে নেই। তাদের কাছে ধর্ম মানেই হলো কবর, মাজার আর পীর পূজা। এদের শিরকি কুফুরী অনেক ক্ষেত্রে হিন্দুদের মতোই। মাযারে সিজদা দেওয়া, পীরকে খুশি করার জন্য পীরের পায়ে খাসি-মুরগি উতসর্গ করা, বিপদে পড়ে আল্লাহকে না ডেকে পীর-বুজুর্গদেরকে ডাকা, বানোয়াট শীরকি কাহিনী দিয়ে ওয়াজ করা...এমন বহু অপকর্মের সাথে জড়িত এই বিদাতী সূফীরা। দেওয়ানবাগি, কুতুববাগী, রাজারবাগি, সাইদাবাদী, আটরশী, মাইজভান্ডারি, মানিকগঞ্জ...এদের প্রধান প্রধান পীরের তরিকাগুলোর নাম। 

৪. দেওবন্দী এরা দেওবন্দ মাদ্রাসা ও তার আলেমদের অন্ধ ভক্ত। তারা মনে করে দেওবন্দ হচ্ছে শ্রেষ্ঠ মাদ্রাসা যদিও ভারতের বাইরে এই মাদ্রাসাকে মানুষ চিনেইনা, এইখানে পড়তে আসাতো দূরের কথা। এরা মক্কা-মদীনার আলেমদের সাথে সাথে উপরে উপরে ভাব দেখায়, কিন্তু অন্তরে তাদের সাথে দুশমনি রাখে ও তাদের নামে মিথ্যা ও বাজে কথা প্রচার করে বেড়ায়। দেওবন্দী আলেমদের মাঝে অনেক শিরকি কুফুরী লক্ষ্য করা যায় যেগুলো বেরেলবীদের মাঝেও দেখা যায়। তবে পার্থক্য হলো দেওবন্দীদের শিরকি কুফুরীগুলো অনেকটা গোপন, অধিকাংশ মানুষই জানেই না।

৫. তাবলিগ জামাত মাওলানা ইলিয়াস সাহেবের স্বপ্নে প্রাপ্ত ধর্ম তাবলিগ জামাত নিজেদের মনমতো দাওয়াত ও তাবলিগের একটা জামাত যাদের মূল উদ্দেশ্য হলো ইসলাম নাম দিয়ে দেওবন্দী মতবাদ প্রচার করে যাওয়া। এরা কুরান হাদীস বাদ দিয়ে ফাযায়েল আমাল নামক একটা ভেজালের কেতাব পড়ে ও আমল করে আমাদের দেশে অনেক বেদাত ও ভ্রান্ত মতবাদের মূল উৎস এই ভেজাল আমল।
____________________________

পরিশেষে, এই ৫টা দলই নিজেদেরকে হানাফী হওয়ার দাবী করে কিন্তু আসলে এরা কেউই প্রকৃত হানাফী নয়। কারণ ইমাম আবু হানীফা ছিলেন খালেস কুরান ও সুন্নতের অনুসারী আর এরা হচ্ছে নিজদের ফেরকার অন্ধ অনুসারী। এইজন্য হানাফী নামে ৫টা দলে ভাগ হয়েছে এবং এক দল আরেক দলের সাথে চরম বিরোধ।


সাধারণ মানুষ হিসেবে আমাদের উচিত এই ৫টা ভ্রান্ত দল থেকেই দূরে থাকা। আর নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী কুরান ও সুন্নতের সত্যিকারের আলেমদের কাছ থেকে ইলম শিক্ষা করে সেই অনুযায়ী জীবন গঠন করা। আল্লাহ আমাদের তোওফিক দান করুন, আমীন।

বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০১৫

+ প্রসংগঃ শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ, মূর্তি, ভাষ্কর্য বানানো?

+ প্রসংগঃ শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ, মূর্তি, ভাষ্কর্য বানানো?
ধ্বংসপ্রাপ্ত আদ জাতির স্বভাব ছিলো উঁচু উঁচু স্তম্ভ নির্মান করা। তাদের কাছে হুদ আলাইহিস সালাতু আস-সালাম কে নবী করে পাঠানো হয়েছিলো। হুদ (আঃ) তার পথভ্রষ্ট জাতির লোকদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, তোমরা কী প্রতিটি উচ্চস্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান করছো নিরর্থক। [সূরা শুআরাঃ ১২৮]

++ প্রশ্নঃ কোন বিবেকবান মুসলমান ইট পাথর দিয়ে বানানো শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ, মূর্তি, ভাষ্কর্যে ফুল-চন্দন, শ্রদ্ধাঞ্জলি বা পুষ্পার্ঘ দিতে পারে?
উত্তরঃ আপনারাই বলুন কোন বিবেকবান মুসলমান শহীদ মিনারে ফুল-চন্দন দিতে পারে?
আমি যখন ছোট ছিলাম তখন গ্রামে বড় হই। গ্রামে আমাদের বাগানে অনেক ফুল ফুটতো. . .সেইজন্য মাঝে মাঝে হিন্দুরা আসতো ফুল নিতে। এই ফুল দিয়ে তারা মূর্তিকে দিয়ে পূজা করতো, তাদের ঠাকুর দেবতাদেরকে শ্রদ্ধা জানাতো। তখন ইসলাম সম্পর্কে এতো কিছু জানতাম না, সেইজন্য আমরা ফুল দিতে তাদেরকে মানা করতাম না। যাই হোক, আমার মনে হয়না কোন মুসলমান এই কথাকে অস্বীকার করতে পারবে যে, ইট-পাথর, মিনার, সৌধ বা স্তম্ভে ফুল দিয়ে পুষ্পাঞ্জলি, শ্রদ্ধাঞ্জলি, পুষ্পার্ঘ দেওয়া. . .এই সংস্কৃতি হিন্দুদের কাছ থেকে এসেছে। হিন্দুরা মূর্তিকে ফুল দেয়. . .আর অজ্ঞ, নামধারী মুসলমান, মুনাফেক শ্রেণীর রাজনীতিবিদেরা অলি-আওলিয়ার নামে, শহীদের নামে, পাথর, সৌধ বা মিনারের নামে ফুল দেয়। এইসমস্ত বিভ্রান্ত লোক যারা পুরো বাঙালি মুসলমানদের উপর এইরকম জঘন্য শিরকি প্রথা চাপিয়ে দিতে চাচ্ছে, তাদেরকে উদ্দেশ্য করে রাসুল সাঃ এর একটি সহীহ হাদীস ও ক্বুরানের একটা আয়াত তুলে ধরতে চাই,

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
মান তাশাব্বাহা বি ক্বাওমিন ফা হুয়া মিনহুম অর্থাৎ, কোন ব্যক্তি যেই জাতির অনুকরণ করবে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত বলেই গণ্য হবে।
সুতরাং যারা হিন্দুদের অনুকরণ করবে তারা হিন্দুদের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে, যারা ইয়াহুদী-খ্রীস্টানদের অনুকরণ করবে তারা ইয়াহুদী-খ্রীস্টানদের অন্তর্ভুক্ত বলেই গণ্য হবে।

মহান আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন,
নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেন আর তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত করে দেন। আর জালিম (মুশরিকদের) জন্য কোন সাহায্যকারী নেই। [সূরা আল-মায়িদাহঃ ৭২]

+++ আমরা শুধু যুদ্ধে নিহতদের শ্রদ্ধা জানাই...
দেশকে ভালোবাসা খারাপ কিছুনা...

১. শ্রদ্ধা জিনিসটা শুধু মন থেকে আসে, হিন্দুদের মতো গান বাজনা, ঢাক ঢোল পিটিয়ে, মাযারে, মূর্তির সামনে ফুল দিয়ে, শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমির মতো করে জয়োতসব করে কোটি কোটি টাকা খরচ করে, মানুষের সময় ও শক্তি নষ্ট করে শ্রদ্ধা জানানোর দরকার আছে বলে মনে হয় না, ইসলাম এই সমস্ত বিজাতীয় সংস্কৃতি টোটাল হারাম করেছেI কত মানুষ না খেয়ে আছে,শীতের রাতে কষ্ট করে আর গণতন্ত্রবাদী বিভ্রান্ত লোকেরা কোটি কোটি টাকার ফুল কিনে দেশের সম্পদ ও টাকা নষ্ট করছে। এরা দেশের শত্রু।

২. "দেশপ্রেম ঈমানের অংগ" - এটা একটা জাল হাদীস, যা নাইন-টেনের বোর্ডের বইয়ে অর্ধ-শিক্ষিত হুজুরেরা লিখে রেখেছে। সবাই নিজের দেশকে ভালোবাসে, এটা খারাপ কিছুনা। তবে এটা নিয়ে জাতীয়াবাদী চিন্তাভাবনা, আমরা শ্রেষ্ঠ, আমরা আলাদা জাতি - এই ধরণের উগ্রপন্থী চিন্তাভাবনা ইসলামের শীক্ষা বিরোধী, যা হিটোলারের মতো লোকের জন্ম দিয়েছিলো। দেশকে ভালোবাসা জায়েজ, কিন্তু দেশপ্রেমের দোহাই দিয়ে হিন্দুয়ানি কৃষ্টি-কালচার বা অনৈসলামিক সভ্যতা চালানোর অপচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

[[ দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ- এই কথাটিকে ইমাম ইবন জাওযি রহঃ, ইমাম আস-সাগানি রহঃ, ইমাম নাসির উদ্দিন আলবানি রহঃ জাল হাদিস বলে প্রমাণ করেছেন। ]]

এই হাদিসটি মুসলমানদের মিথ্যা আশা দেয় যে তারা দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা না করেও দেশ প্রেমের জন্য জান্নাতে যেতে পারবে। যেই দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয় নি এবং যেই দেশের সরকার ইসলামের নিয়ম অনুসারে দেশ পরিচালনা করে না, সেই দেশের জন্য প্রেম ঈমানের অঙ্গ হতে পারে না। ঈমানের একটি অত্যাবশ্যকীয় দাবি হচ্ছে আল্লাহ যেটা আমাদের জন্য ভালো বলেছেন সেটাকে মনে প্রাণে ভালো মানা এবং আল্লাহ আমাদের জন্য যেটাকে খারাপ বলেছেন, সেটাকে মনে প্রাণে ঘৃণা করা।

এই ধরণের জাল হাদিস ব্যবহার করা হয় ধর্মের দোহাই দিয়ে দেশের মুসলমানদের মধ্যে দেশের প্রতি অন্ধ ভালবাসা সৃষ্টি করার জন্য। কাফির সরকার দ্বারা পরিচালিত কাফির শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত একটি দেশের প্রতি প্রেম আর যাই হোক, অন্তত আল্লাহর প্রতি ঈমানের অঙ্গ নয়।


তবে এটা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে দেশের আইন মেনে চলা এবং দেশের উপকার করা মুসলমানদের জন্য অত্যাবশ্যকীয়, যতক্ষণ না সেটা ধর্মের বিরুদ্ধে না যাচ্ছে।

মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০১৫

কাকে ‘বন্ধু’ হিসেবে নিচ্ছেন?

কাকে বন্ধু হিসেবে নিচ্ছেন?
অনেকে নিজে নামায পড়ে, গান শুনেনা ঠিকই কিন্তু. . .বেনামাযী, দ্বীনের ব্যপারে উদাসীন, গান-বাজনা ও অশ্লীল নাটক সিনেমাতে আসক্ত, অবৈধ সম্পর্কে জড়িত এমন ফাসেক ছেলেদেরকে বন্ধু বানায়. . .তাদের সাথে উঠা-বসা করে আর দ্বীনের ব্যপারে স্যাক্রিফাস করে চলে. . .তাদের পাপ কাজগুলো দেখে আর মনে মনে সেইগুলোর প্রতি লালায়িত থাকে। আবার অনেকে নিজে হিজাব-পর্দা করে কিন্তু. . .অহংকারী বেহিজাবী নারীদেরকে বন্ধু বানায়, তাদেরকে উপদেশ দেয়না. . .আস্তে আস্তে অজ্ঞ ও ফাসেক বান্ধবীর পাল্লায় পড়ে তারাও একসময় ছেলেদেরকে বন্ধু হিসেবে নেয় ও তাদের সাথে উঠা-বসা করে, ঘুরতে বের হয়, ছবি তুলে নেটে প্রচার করে, কূটনামী ও বাতিল চিন্তা-ভাবনার দিকে ঝুঁকে পড়ে। এ ধরণের অদূরদর্শী আচরণের কারণে তারা একসময় নিজেদের দ্বীনের ক্ষতি করে. . .।
সেইজন্য, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে সতর্ক করে বলেছেন, একজন মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের অনুসারী হয়ে থাকে। সুতরাং সে যেনো লক্ষ্য রাখে, সে কার সাথে বন্ধুত্ব করছে।   
আত-তিরমিজিঃ ২৩৭৮, হাদীসটি হাসান সহীহ, শায়খ আলবানী রহঃ।  
একজন কবি কতইনা সুন্দর বলেছিলেন,
সৎ সঙ্গে র্স্বগবাস, অসত্ সঙ্গে র্সবনাশ!

সুতরাং, আপনারা মুত্তাক্বী, ধার্মিক ও নামাযী, সত্যবাদী, বিনয়ী. . .যে মানুষকে সৎ কাজের দিকে আহবান জানায় ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করে. . .এমন কোন ব্যক্তি ছাড়া অন্য কাউকে বন্ধু বানাবেন না। তবে সবার সাথে ভালো ও সৌহার্দমূলক আচরণ করবেন, তাদের সামনে ইসলামের অনুপম সৌন্দর্য তুলে ধরুন উত্তম আচরণের মাধ্যমে, কিন্তু তাদেরকে আন্তরিক বন্ধু বানাবেন না।

এক ভাই প্রশ্ন করেছেন,

এক ভাই প্রশ্ন করেছেন,
aslamoalikum admin, apnader aiy pager shate prai 2 teke 3 bochor, alhumdolillah apnader mehnot o allahor bises rohmoter karone, nijeke onek bodlate parlam, alhumdolillah dari rekesi,proshno holo oju korar somoy mukh dowar por darite pani dibo naki hat dowar por, janale kub upokrito hobo, jajakallah kayer
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো লাগলো আপনার কথার শুনে, আপনি কেমন আছেন?
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে হেদায়েত করেন। আমরা শুধু মানুষের কাছে পোঁছে দিতে পারি. . .হেদায়েতের মালিক একমাত্র আল্লাহ। 
আর এতেই থেমে যাবেন না, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকীদা ও মানহাজের অনুসারী সত্যিকারের আলেমদের সাথে যোগাযোগ রাখুন, তাদের কাছ থেকে উপকৃত হওয়ার চেষ্টা করুন। পথভ্রষ্ট, অজ্ঞ ও বিদাতী বক্তা ও আলেমদের বিভ্রান্তির ব্যপারে সজাগ থাকুন। নিজের ব্যপারে আত্মতুষ্টি বা অতি আত্মবিশ্বাসে ভুগবেন না, এভাবে হেদায়েতের পরেও অনেকে গোমরাহ হয়। সর্বদা নিজেকে ইলম শীক্ষা ও নেক আমলের মেহনতে ব্যস্ত রাখুন, ফালতু ও বেহুদা কাজ থেকে বেঁচে চলুন। আল্লাহ আমাদের সকলকেই তোওফিক দান করুন ও তাঁর অসীম দয়ার মাঝে দাখিল করুন আমিন।

প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, মুখ মন্ডল ধৌত করার সময় দাড়িতে আঙ্গুলগুলো দিয়ে খিলাল করবেন।

সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০১৫

হায়রে পুরুষ. . .!

হায়রে পুরুষ. . .!
=> মজার একটা ব্যপার হচ্ছে কোথাও কোন নারীদের উপস্থিতি দেখলে একগাদা লোক মাছির মতো সেই দিকে ছুটে, একটু সংগ পাওয়া বা প্রেম করার লোভে. . .
=> একটা মেইল আইডি থেকে যত সুন্দর ইসলামি লেখা পোস্ট করা হোক না কেনো, অনেকে সেইগুলো পড়ার সময়ই পায়না. . .কিন্তু একটা মেয়ে যাই পষ্ট করুক, আমার মন খারাপ :(, আমার পাখি খায়না :O, আজকে তরকারিতে লবণ বেশি হয়ে গেছে...আপুদের লেখার প্রশংসায় কিছু ভাই অজ্ঞান...আর মুখে রঙ মেখে, টাইট হিজাবের ছবি যদি কোন নারী পোস্ট করে তাহলেতো কথাই নেই ব্যস! শুরু হয়ে যাবে মা শা আল্লাহ, কত সুন্দর হিজাব লেখার প্রতিযোগিতা...

এই সমস্ত লোকদেরকে ঘোল খাওয়ানোর জন্য দুষ্টবুদ্ধির লোকেরা প্রায়ই ফেইক আইডি খুলে ধোকা দেয়. . .এমনই একটা ঘটনা শুনুন।

বিঃদ্রঃ ফেইক আইডি খোলা ও ব্যবহার করা, নারীদের ছবি নেটে দেওয়া সম্পূর্ণ হারাম। নেটে পরিচিত আমার পরিচিত প্রবাস একভাইয়ের কাছ থেকে লেখাটা সংগ্রহ করা। আমার উদ্দেশ্য হচ্ছে, নিম্নমানের পুরুষদের লুলামি থেকে সতর্ক করা ও বোনেরা যাতে এ সমস্ত রুয়াইবিদাদেরকে প্রশ্রয় না দেন।
==============================
মাস দুয়েক আগে আমার আগের আইডিটি ব্লক হবার পর খুবই হতাশ হয়ে ভাবলাম কি করে এখন সময় কাটানো যায়। মাথায় একটি মনগড়া বুদ্ধি এলো, সুন্দরী একটি মেয়ের ছবি দিয়ে একটা মেয়ের নামে একটি ফেইক একাউন্ট খুলে ফেললাম তারপর কি এক অবাক করার মতো কান্ড ঘটেগেলো !!

একের পর এক  ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট গ্রহণ করতে করতে আমি অনেকটা বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। সাপ্তাখানেকের মধ্যেই আমার এফবি ফ্রেন্ডের  তালিকা বড় হতে বৃহত আকার ধারন করতে থাকে ।

চ্যাটে কথা বলার জন্য এর মধ্যে অনেকেই পাগল হতে থাকলো, আমার নিকট হতে তেমন রেসপন্স না পেয়ে কাউকে কাউকে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠতেও দেখলাম।

এর মধ্যে আমিও শতাধিক ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠালাম, তাতে ৯৯%  সাড়া পেলাম।

দিন যতই যেতে থাকলো মেয়ের সাথে চ্যাট-পাগল বন্ধুরা মরিয়া হয়ে উঠলো, আমি তাদেরকে কলেজ ও পরীক্ষার বাহানা দিয়ে পরে কথা হবে, এই বলে নিজেকে চ্যাট করা থেকে বিরত রাখলাম ।

পাকিস্তান, ইন্ডিয়া, স্প্যানিশ ভাষাবাসি ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো হতে অসংখ্য ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট আসতে থাকে। আমিও তা এক্সেপ্ট করতে থাকি, এবার শুরু হয় এফবি'র ফ্রী ফোন থেকে বিরতিহীন কল, ফোন কল আসতেই থাকলো। এই কারণে ফোন অফ করে ঘুমানো ছাড়া আমার পক্ষে আর কোন উপায় ছিলনা।

পাকিস্তান ও ইন্ডিয়ার যুবকেরা আমাকে তাদের সুন্দর সুন্দর ছবিসমূহ পাঠাতে থাকে। ফোনে একবার হলেও কথা বলতে সবিনয় অনুরোধ করতে থাকে।

আহা !! তারা যদি জানতো আমি মেয়ে নয় আমি একজন আস্ত পুরুষ, তাহলে কি তারা আমার সাথে কথা বলতে এভাবে পাগল হতো ?

কেউ কউ আমাকে আজেবাজে ছবি পাঠাতে থাকে । নানা রকম চমকপ্রদ কথা বলতে থাকে ।
এই অবস্থা থেকে আমি কিভাবে মুক্তি পাবো তা নিয়েই ভাবতে থাকি ।


গত সাপ্তাহে এফবি কর্তৃপক্ষ মাত্রা অতিরিক্ত এক্টিভিটি ও মিসইউস করার কারণে একাউন্টটি বাতিল ঘোষণা করলে আমি স্বস্থির নি:শ্বাস ফেলতে সক্ষম হই।

সর্বশেষঃ একজন নারী একজন পুরুষের ঈমানকে কিভাবে বরবাদ করে দিতে পারে, আর কত সহজে মানুষ শয়তানের ধোঁকায় পতিত হয় পরীক্ষামূলক এই কাজের মাধ্যমে আবার প্রমানিত হলো।

রবিবার, ২২ মার্চ, ২০১৫

পাঠ্য বইয়ে দুষ্ট ‘বই’

পাঠ্য বইয়ে দুষ্ট বই
- লেখক : মাওলানা মুহাম্মদ শরীফ।

১৬ লাইনের একটি কবিতা। নাম : বই
ছাপা হয়েছে পঞ্চম শ্রেণীর আমার বাংলা বইএর ৩৫ তম পৃষ্ঠায়। সেদিন দেখলাম এক স্নেহভাজনের হাতে। কবিতার অর্থ সে বুঝতে চাচ্ছে। কবিতার বক্তব্য অনুযায়ী কোন ধরনের বই পড়তে হবে আর কোন ধরনের বই বাদ দিতে হবে- সে জানতে চাচ্ছে। তখন কবিতার আকারে যা ছাপা হয়েছে, তা দেখলাম। পাঠ শিখি অংশে এর যে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে তা-ও পড়লাম। দেখলাম এ কবিতার লেখকের নাম এবং চমকে উঠলাম।

কিছু কিছু বই পড়তে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং কিছু কিছু বই পড়তে মানা করা হয়েছে তাতে। নাম বই হলেও কিছু বইয়ের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে ওই কবিতায়। বলা হয়েছে-

যে-বই তোমায় দেখায় ভয়
সেগুলো কোনো বই-ই নয়
সে-বই তুমি পড়বে না।
যে-বই তোমায় অন্ধ করে
যে-বই তোমায় বন্ধ করে
সে-বই তুমি ধরবে না।

প্রশ্ন হচ্ছে, এই ভয় দেখানো আর অন্ধ করা-বন্ধ করা বই আসলে কোন্ বইগুলো?
এর অর্থ বোঝার জন্য ওই কবিতার লেখক-এর নামটি আগে দেখা যেতে পারে। সে নামটি হচ্ছে, হুমায়ুন আজাদ। ইসলাম ধর্ম বিরোধী লেখালেখির কৃতিত্বের কারণে তার ভক্তরা তাকে বলে থাকে - প্রথাবিরোধী লেখক
এদেশীয় অন্য বহু নাস্তিকের মতো তিনিও ধর্মের বিরুদ্ধে বিষোদগারের শুরুটা করতেন রাজাকার ও পাকিস্তান প্রসঙ্গ দিয়ে। এরপরই সরাসরি আঘাত করতেন ইসলাম ধর্মকে। খোলাখুলি ও ন্যাক্কারজনক উপায়ে। তার একটি বড় রচনা আমার অবিশ্বাস। আরেকটি উস্কানিমূলক ও ইসলামবিদ্বেষী রচনা : নারী। তাছাড়া তার অন্যান্য রচনা, গল্প-উপন্যাস, কলাম ও সাক্ষাৎকারেও তীব্র আর ঝাঁঝালো ইসলাম-বিদ্বেষের বহু দৃষ্টান্ত বিদ্যমান। সেই ব্যক্তিরই লেখায় ভয় দেখানো আর অন্ধ করা-বন্ধ করা বই মানে যে কোন্ ধরনের বই- এটা বুঝতে বাকি থাকার কথা নয় কোনো সচেতন পাঠকের। অথচ পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের কর্তারা সেটা বুঝেন না- এটা কি কল্পনা করা যায়! তারপরও কোমলমতি বাচ্চাদের পড়ার জন্য, মুখস্থ করার জন্য এবং ভাবগ্রহণের জন্য এমন একটিকবিতা কেন পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে- এটা একটা বড় প্রশ্ন।

পাঠ শিখি অংশে বলা হয়েছে- যেসব বই তোমাকে স্বার্থপর করে, ঈর্ষাকাতর ও হিংসাজরজর করে তোলে সেসব বই তুমি পড়বে না। এখানে একটি বড় প্রশ্ন সৃষ্টি হয়। সেগুলো কোনো বই-ই নয়, তুমি পড়বে না,তুমি ধরবে না বলে হিংসাত্মক, আক্রমণাত্মক ও জেদী বাক্য যে লেখায় ছাপা হয়- সেটা কি কোমলমতিদের মনকে খুব আলোকিত করে? খুব উদার করে? হিংসা, বর্জন ও ঘৃণা-আশ্রয়ী এই কবিতার চেয়েও সংকীর্ণ ও হিংসাদুষ্ট কোনো বই কি বাংলাভাষায় লেখা হয়েছে? তাছাড়া আপাদমস্তক চিন্তায় ও লেখায় প্রথাবিরোধী (পড়ুন : ইসলাম-বিদ্বেষী) এক লেখকের এ জাতীয় উস্কানিমূলক কবিতা কি শিশুদের জন্য বাধ্যতামূলক করা খুব জরুরি ছিল? তাকে যারা চেনেন তারা সবাই একমত যে, ভয় দেখানো আর অন্ধকরা-বন্ধকরাদিয়ে তার উদ্দেশ্য ইসলামী বিশ্বাস ও বিধি-বিধান সম্বলিত বই। এটা তো তার অন্যান্য লেখা থেকেও পরিষ্কার।

ভয় দেখানো বলে তার উদ্দেশ্য হওয়ার কথা-জাহান্নামের ভয় বা দোযখের ভয়ে গুনাহর কাজ পরিহার করা। আর অন্ধ করাবন্ধ করা-র মর্ম তো পরিষ্কার। এদের মতো অবিশ্বাসীরা ধর্মবিশ্বাসকেই বলে অন্ধ বিশ্বাস। আর সেই বিশ্বাসে স্থির থাকার চেষ্টা করার মানেই মনকে বন্ধ করা।

আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে, বাচ্চাদের জন্য কবিতা নামে কিছু ছাপানো হলে সেটা তো কোমল ও কাব্যময় কিছুই হওয়া উচিত। অথচ ঘৃণা ও আক্রোশে (ধর্মবিদ্বেষী) রচিত কাব্যহীন কিছু ভোঁতা গদ্যের ছত্রকেও এখানে কবিতা হিসেবে চালিয়ে দেয়া হয়েছে। যেমন : যে-বই তোমায় দেখায় ভয় / সেগুলো কোনো বই-ই নয় / সে-বই তুমি পড়বে না।

তিনটি লাইন কি একসঙ্গে কোনো কবিতা হয়েছে? এতে কি কবিতার কোনো ভাব / ব্যঞ্জনা বা চরিত্র উপস্থিত? কবিতার কোনো সাধারণ ছাত্রও দেখে-শুনে এ জিজ্ঞাসার উত্তর খুঁজে দেখলে ভালো হয়।


একজন প্রথিতযশা, কীর্তিমান ইসলাম-বিদ্বেষী ও আক্রোশ-প্রবণ পন্ডিত লেখকের নামমাত্র কবিতার নাম : বই। বাচ্চাদের বইয়ে এ জাতীয় দুষ্ট বই অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে নীতি-নির্ধারকদের আরেকবার ভাবা উচিত বলে অভিভাবকরা মনে করেন।