সোমবার, ৩০ জুন, ২০১৪

প্রসংগঃ অলসতা করে সাহরী না খাওয়া



প্রসংগঃ অলসতা করে সাহরী না খাওয়া

অনেকে অলসতা করে শেষ রাতে উঠে সাহরী খেতে চান না, এটা মারাত্মক ভুল।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
“যে ব্যক্তি আমার সুন্নতকে ভালোবাসল সে যেন আমাকেই ভালোবাসল। আর যে ব্যক্তি আমাকে ভালোবাসলো - সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে।”
বুখারী ও মুসলিম, মিশকাতঃ ৩০।

বছরে মাত্র ৩০ দিন (যারা ফরয রোযা ছাড়া নফল/সুন্নত রোযা রাখেন না) পালন করা হয় এই সাহরী খাওয়া – এতো গুরুত্বপূর্ণ একটা সুন্নতকে অবহেলা করা মারাত্মক ভুল। কি আশ্চর্য সুন্দর ধর্ম এই ইসলাম, যা রাব্বুল আ’লামিনের পক্ষ থেকে মুহা’ম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর নাযিল করা হয়েছে – এই ধর্মে বিশ্বাসীদের খাওয়া পানাহার করাও (সাহরী/ইফতারি ইত্যাদি) ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত! সুতরাং, ঈমানদারদের জন্য কোনমতেই গ্রহণযোগ্য নয় যে তারা এইভাবে সুন্নতকে অবহেলা করে। যাই হোক, সাহরী খাওয়ার ফযীলত দেখুন সম্পর্কে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
“তোমরা সাহরী খাও, কারণ সাহরীতে রয়েছে বরকত।”
বুখারীঃ ১৯২৩, মুসলিমঃ ১০৯৫।  

ইচ্ছাকৃতভাবে বা অলসতা করে সাহরী না খাওয়া নিন্দনীয়, কারণ এতে আহলে-কিতাবীদের সাথে সামাজস্য হয়ে যায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
“আমাদের রোযা আর কিতাবধারীদের রোযা (ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদের) রোযার মধ্যে পার্থক্য হল - সাহারী খাওয়া।”
মুসলিমঃ ২৬০৪।

আর ইসলাম ধর্মের একটা বৈশিষ্ট্য হলো – এই ধর্ম ইয়াহুদী-খ্রীস্টান ও কাফেরদের ধর্মের বিপরীত করতে আমাদেরকে আদেশ দেয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
“মুশরেকরা যা করে তার বিপরীত করো।”
সহীহ মুসলিম।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেনঃ
“যে যেই জাতির অনুকরণ করবে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত বলেই গণ্য হবে।”


সর্বশেষঃ সাহরীতে রাতের খাবারের মতো পেট ভর্তি করে ভাত খেতে হবে এমন কোন কথা নেই, হালকা কোন খাবার এমনকি খাবার না থাকলে এক গ্লাস পানি বা একটা শুকনো রুটি বা খেজুর খেলেও সুন্নত আদায় হয়ে যাবে।

শনিবার, ২৮ জুন, ২০১৪

বেশি খাওয়ার কুফল



বেশি খাওয়ার কুফলঃ

রোযা আসলে অনেকে সারাদিন রোযা রেখে ইফতারির সময় পেট ভর্তি করে খায়। এর পরে কষ্ট শুরু হয়, রাতে ইবাদত করা অনেক কষ্ট হয়ে যায়। একসময় আমি নিজেই সাহরীর সময় যত বেশি খাবার ও পানি খাওয়া যায় সেই চেষ্টা করতাম আর মনে করতাম – এতে রোযা রাখা সহজ হবে! অথচ এটা বোকামি, কারণ যারা বেশি খায় তাদের ক্ষুদাও লাগে বেশি + একটু সময় খাবার ছাড়া থাকলে তাদের কষ্ট বেশি হয়। যাই হোক নিচের কথাগুলো সবার আগে আমার নিজেসহ এমন যারা করেন তাদের জন্য কিছু উপদেশ, মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করুনঃ-

ইমাম ইব্রাহীম আন-নাখবী রাহি’মাহুল্লাহ, যিনি ইমাম আবু হা’নীফা রাহি’মাহুল্লাহর উস্তাদ ছিলেন, তিনি বলেছেনঃ
“তোমাদের পূর্বে যারা ছিলো তারা ৩টি কারণে ধ্বংস হয়েছেঃ-
১. বেশি কথা বলা
২. বেশি খাওয়া
৩. বেশি ঘুমানো

ইমাম মুহা’ম্মাদ ইবনে ইদরীস, যিনি ইমাম শাফেয়ী নামে বেশি পরিচিত তিনি বলেছেনঃ-
“আমি গত ১৬ বছরে পেট ভর্তি করে খাইনি। কারন পেট ভর্তি করে খাওয়া
১. শরীরকে ভারী করে
২. বুদ্ধির প্রখরতা কমিয়ে দেয় (ছাত্রদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর)
৩. ঘুম বৃদ্ধি করে এবং

৪. ইবাদতের জন্য বান্দাকে অলস করে দেয়।

“ইয়াওমুল শাওক্ব” বা সন্দেহের দিনে রোযা রাখা হারাম



“ইয়াওমুল শাওক্ব” বা সন্দেহের দিনে রোযা রাখা হারামঃ

শাবান মাসের ২৯ তারিখের পরের দিন রমাযান মাস শুরু হবে যদি চাদ দেখা যায়, আর যদি চাদ দেখা না যায় - তাহলে পরের দিনকে শাবান মাসের ৩০ তারিখ গণনা করতে হবে। অনেকে মনে করে এইরকম রোযা শুরু হবে কি হবে না, যদি চাদ উঠেছে ঠিকই কিন্তু মেঘ বা অন্য কারনে চাদ দেখা না যায় – এই সন্দেহের কারণে – সেই সন্দেহের দিনে অর্থাৎ শাবানের ৩০ তারিখে রমযানের নিয়তে একদিন আগে থেকেই রোযা রাখা শুরু করে। এই কাজটা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন যে এইরকম করবে সে রাসুল সাঃ এর নাফরমানি করলো!

রমযান তথা নতুন মাস সাব্যস্ত হওয়ার জন্য দ্বিতীয় পদ্ধতি হচ্ছে, আগের মাসকে ৩০ দিন পূর্ণ করা। কেননা চান্দ্র মাস কখনো ত্রিশদিনের বেশি বা ২৯ দিনের কম হতে পারে না। আরবী মাস কখনো কখনো ধারাবাহিকভাবে দুইমাস, তিনমাস অথবা চারমাস পর্যন্ত ত্রিশ দিনের হয়ে থাকে। আবার কখনো দুইমাস, তিনমাস অথবা চারমাস পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে ঊনত্রিশ দিনের হয়ে থাকে। কিন্তু সাধারণত এক মাস, দু মাস পূর্ণ ত্রিশ দিন হলেও তৃতীয় মাস কম অর্থাৎ ঊনত্রিশ দিনের হয়ে থাকে।
সুতরাং কোনো মাসের ত্রিশদিন পূর্ণ হলে, শরীয়তের হুকুম অনুযায়ী পরবর্তী মাসটি এসে গেছে বলে গণ্য হবে। যদিও চাঁদ দেখা না যায়। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি বলেছেনঃ
“তোমরা চাঁদ দেখে সিয়াম পালন করা এবং চাঁদ দেখে সিয়াম ভঙ্গ কর। আকাশ যদি মেঘাচ্ছন্ন থাকে, তখন ওই মাস ত্রিশ দিন হিসাবে গণনা কর।”
মুসলিম: ১০৮১।
ইমাম বুখারীর শব্দ হচ্ছে,  
“চাঁদ যদি অজ্ঞাত থাকে, তাহলে শাবান মাসটি ত্রিশদিন পূর্ণ কর।”
বুখারী: ১৯০৯।
সহীহ ইবনে খুযাইমা গ্রন্থে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আ’নহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম শাবান মাসকে যত বেশি হিসাব করতেন, অন্য মাসকে তত বেশি হিসাব করতেন না। এরপর তিনি চাঁদ দেখে রমযানের সিয়াম পালন করতেন। আর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে শাবান মাসকে ত্রিশ দিন হিসাব করে সিয়াম পালন করতেন।”
ইবন খুযাইমাঃ ১/২০৩; আবূ দাউদঃ ২৩২৫; দারা কুতনী ২/১৫৬।

এসব হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, নতুন চাঁদ দেখার পূর্বে সিয়াম পালন শুরু করা যাবে না, অতঃপর যদি চাঁদ দেখা না যায় তবে শাবান মাসকে ত্রিশ দিন পূর্ণ করতে হবে। অবশ্য শাবানের সে ত্রিশতম দিনটিতে কোনোভাবেই সাওম রাখা যাবে না, চাই রাতে আকাশ পরিষ্কার থাকুক বা মেঘাচ্ছন্ন। কারণ আম্মার রাদিয়াল্লাহু আ’নহু বলেন,
“যে ব্যক্তি সন্দেহের দিন সিয়াম পালন করল, সে আবূল কাসেম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নাফরমানী করল।”
আবূদাউদঃ ২৩৩৪; তিরমিযীঃ ৬৮৬; নাসায়ীঃ ২১৮৮; আর বুখারী মুআ’ল্লাকসূত্রে বর্ণনা করেছেন ৪/১১৯ ফাতহুল বারীসহ।


হে আল্লাহ! আমাদেরকে হেদায়াত অনুসরণের তাওফীক দান করুন এবং ধ্বংস ও দুর্ভাগ্যের উপকরণ উপায়াদি থেকে দূরে রাখুন – আমিন। 

“ইকামতে দ্বীন” এর অর্থ নিয়ে মাওলানা মওদুদীর অপ-তাফসীর

“ইকামতে দ্বীন” এর অর্থ নিয়ে মাওলানা মওদুদীর অপ-তাফসীরঃ

বর্তমানে “ইকামতে দ্বীন” এর অর্থ বলতে অনেকে মনে করেন -

– “ইসলামিক রাষ্ট্র” প্রতিষ্ঠা করা
– “ইসলামিক হুকুমত” কায়েম করা
– রাষ্ট্রে “শরিয়াহ” বাস্তবায়ন করা

“ইকামতে দ্বীন” নাম দিয়ে “ইসলামী রাষ্ট্র” বা “ইসলামী হুকুমত” (শাসনব্যবস্থা) কায়েম করা “ফরয” - এই মতবাদের প্রবক্তা হচ্ছেন “জামাতে ইসলামীর” প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আবুল আলা মওদুদী, যিনি মাওলানা মওদুদী নামে বেশি পরিচিত।

এইসবগুলো অর্থ হচ্ছে ভুল, মওদুদী সাহেবের নিজের মনগড়া অপতাফসীর।

“ইকামতে দ্বীন” এর অর্থ হচ্ছে - একমাত্র আল্লাহ তাআ’লার ইবাদত প্রতষ্ঠিত করা। দলীলঃ-

“তিনি তোমাদের জন্যে দ্বীনের ক্ষেত্রে সে পথই নিধারিত করেছেন, যার আদেশ দিয়েছিলেন নূহকে, যা আমি প্রত্যাদেশ করেছি আপনার প্রতি এবং যার আদেশ দিয়েছিলাম ইব্রাহীম, মূসা ও ঈসাকে এই মর্মে যে, “আক্বীমুদ-দ্বীন” তোমরা দ্বীনকে কায়েম বা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত কর এবং তাতে অনৈক্য সৃষ্টি করো না।”
সুরা শুরাঃ ১৩ নাম্বার আয়াত।

আর, এই দ্বীনকে কায়েম করা বা দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার ৩টি স্তর রয়েছে যা “হাদীসে জিব্রাঈল” থেকে পাওয়া যায়।

হাদীসে জিব্রাঈলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন, জিব্রাঈল (আঃ) তোমাদেরকে “দ্বীন” শিক্ষা দিতে এসেছিলেন।

সেখানে “দ্বীন” এর স্তর হিসেবে ৩টি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিলোঃ

১ – ইসলাম (শাহাদাতাইন বা ২টি স্বাক্ষী দেওয়া- আল্লাহ ছাড়া আর কোন সত্য মাবূদ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, নামায কায়েম করা, যাকাত দেওয়া, রমযান মাসে রোযা রাখ ও সামর্থ্য থাকলে হজ্জ করা)।

২ – ঈমান (আল্লাহর প্রতি, ফেরেশতাদের প্রতি, আসমানী কিতাবসমূহের প্রতি, নবী-রাসূলদের প্রতি, আখেরাত বা মৃত্যুর পরের জীবনের প্রতি ও তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা)। 

৩ – ইহসান (এমনভাবে ইবাদত করা যেন আমি আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছি, এটা না হলে অন্তত এই ধারণা রেখে ইবাদত করা যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে দেখছেন)

এইভাবেই একজন ঈমানদার “ইকামাতে দ্বীন” বা দ্বীন কায়েম করবে, আল্লাহর ইবাদত বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে।

এখানে সবাইকে নিজ নিজ সীমানার মাঝে জিজ্ঞাসা করা হবে। ঈমানদার হিসেবে কার কতটুকু সীমানা সেটা জেনে নেন এই হাদীস থেকে -

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
“জেনে রেখো! তোমাদের প্রত্যেকেই একজন দায়িত্বশীল, আর তোমরা প্রত্যেকেই নিজ অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। অতএব ইমাম, যিনি জনগনের দায়িত্বশীল, তিনি তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন। পুরুষ (গৃহকর্তা) তার পরিবারের দায়িত্বশীল, সে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। নারী তার স্বামীর পরিবার, সন্তান-সন্ততির উপর দায়িত্বশীল, সে এসব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। কোন ব্যক্তির দাস, স্বীয় মালিকের সম্পদের দায়িত্বশীল, সে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। অতএব জেনে রাখ, প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়িত্বাধীন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।
সহিহ বুখারী, খন্ড ৯, অধ্যায় ৮৯, হাদিস নং- ২৫২।

সুতরাং, দেখা যাচ্ছে – কুরান হাদীসে কোথাও “ইকামতে দ্বীন” অর্থ ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্টা করা” অথবা “ইসলামিক হুকুমত কায়েম করা” – এইরকম কোন কথা নেই!

সুতরাং এইরকম যত মনগড়া অর্থ করেছেন – বিংশ শতাব্দীর কিছু দার্শনিক আর চিন্তবিদেরা – এই সবগুলোই ভুল, কুরান ও হাদীসে যার কোন প্রমান নেই।


আপনারা আরো জানার জন্য নির্ভরযোগ্য তাফসীরের কিতাব যেমন ইমাম ইবনে জারীর তাবারানী, ইমাম ইবনে কাসীর, ইমাম কুরতুবীর তাফসীরের কিতাব এর সাথে মাওলানা মওদুদীর সুরা শুরাঃ ১৩ নাম্বার আয়াতের অপতাফসীরকে মিলিয়ে দেখবেন – তিনি যে মনগড়া ব্যখ্যা দাড় করিয়েছেন “ইকামতে দ্বীনের” আপনাদের কাছে বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে যাবে।  

রমযান উপলক্ষে দুয়াগুলোঃ



রমযান উপলক্ষে দুয়াগুলোঃ

নতুন চাঁদ দেখে পড়ার দুয়াঃ

اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَالْإِيمَانِ، وَالسَّلاَمَةِ وَالْإِسْلاَمِ، وَالتَّوْفِيقِ لِمَا تُحِبُّ رَبَّنَا وَتَرْضَى، رَبُّنَا وَرَبُّكَ اللَّهُ

আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হুম্মা আহিল্লাহু আ’লাইনা বিলআমনি ওয়াল ঈমানি ওয়াস্‌সালা-মাতি ওয়াল-ইসলা-মি, ওয়াত্তাওফীকি লিমা তুহিব্বু রব্বানা ওয়া তারদ্বা, রব্বুনা ওয়া রব্বুকাল্লাহ।

“আল্লাহ সবচেয়ে বড়। হে আল্লাহ! এই নতুন চাঁদকে আমাদের উপর উদিত করুন নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সাথে; আর হে আমাদের রব্ব! যা আপনি পছন্দ করেন এবং যাতে আপনি সন্তুষ্ট হন তার প্রতি তাওফীক লাভের সাথে। আল্লাহ আমাদের রব্ব এবং তোমার (চাঁদের) রব্ব।
_________________________________

ইফতারের সময় রোযাদারের দুয়াঃ

ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ العُرُوقُ، وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ

যাহাবায-যামাউ ওয়াবতাল্লাতিল উ’রূকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশা-আল্লা-হু।
“পিপাসা দূরীভূত হয়েছে, ধমনীগুলো সিক্ত হয়েছে এবং সওয়াব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ইন শা’ আল্লাহ।”
আবূ দাউদ ২/৩০৬, নং ২৩৫৯ ও অন্যান্য। আরও দেখুন, সহীহুল জামে’ ৪/২০৯।
__________________________________

ইফতারির সময় দুয়া কবুল করা হয়ঃ

সহীহ ইবনে খুযাইমা ও ইবনে হিব্বান গ্রন্থে এসেছে, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

“তিন ব্যক্তির দোআ ফেরত দেওয়া হয় না।
১. রোযাদার ব্যক্তি ইফতার করা পর্যন্ত,
২. ন্যায়পরায়ণ ইমাম বা রাষ্ট্রপতি,
৩. মযলুম ব্যক্তির দোআ।
তার দোআ আল্লাহ আকাশে মেঘমালার উপরে তুলে নেন এবং এর জন্য আকাশের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় এবং মহান রব বলেন, আমার ইয্‌যত ও মাহাত্ম্যের কসম করে বলছি, অবশ্যই আমি তোমাকে সাহায্য করবো, কিছু সময় পর হলেও।
মুসনাদে আহমাদঃ ২/৩০৫; তিরমিযীঃ ৩৫৯৮; হাদীসটি হাসান সহীহ।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
“রোযাদার ব্যক্তির ইফতারির সময় দুয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয়না।”
ইবনে মাজাহ, হাদীসটি সহীহ।

দুয়া কখন করতে হবে?

"ইফতার করার আগে বা পরে দুই সময়েই দুয়া করা যায়, কারণ হাদীসে বলা হয়েছে ইফতার এর সময় দুয়া, যা ইফতার করার আগে ও পরে উভয় সময়কেই বুঝায়।"
- ফাতওয়া আল-লাজনা আদ-দাইয়িমা।

কমিটির সদস্যবৃন্দঃ
- শায়খ বাকর আবু জায়েদ
- শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনে গুদাইয়্যান
- শায়খ সালেহ আল-ফাওজান
- শায়খ আব্দুল আজিজ আহলুশ শায়খ
___________________________________

রোযাদারকে কেউ গালি দিলে যা বলবেঃ

إِنِّي صَائِمٌ، إِنِّي صَائِمٌ

ইন্নি সাইমুন, ইন্নি সাইমুন)
“নিশ্চয় আমি রোযাদার, নিশ্চয় আমি রোযাদার।”
বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ৪/১০৩, নং ১৮৯৪; মুসলিম, ২/৮০৬, নং ১১৫১।  
_______________________________

রোযার নিয়ত কিভাবে করতে হবে?
রমযান মাসে রোযা থাকা ফরয। রাতের বেলা আপনার যদি নিয়ত থাকে আগামী কাল আপনি রোযা থাকবেন, অথবা সাহরীর সময় উঠে খাওয়া দাওয়া করেন এবং মনে মনে চিন্তা করেন আগামী কাল রোযা থাকার, তাহলেই আপনার নিয়ত করা হয়ে যাবে।

সাহরী ও ইফতারির ক্যালেন্ডার বা বিভিন্ন বই-পুস্তকে যে দুয়া “নাওয়াইতুয়ান আসামু গাদামান...” এইরকম দুয়া কুরআন হাদীসের কোথাও নাই, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এইভাবে এই দুয়া পড়ে নিয়ত করতেন না। এটা আমাদের দেশীয় মাওলানা সাহেবরা বানিয়ে নিয়েছে যা একটা বিদআত। আর বিদআত মানেই হলো পরিত্যাজ্য।

রমযান মাসের শুরুতে যদি নিয়ত করেন - ইন শা আল্লাহ আমি এই বছর সিয়াম পালন করবো - তাহলে সবগুলো রোযার নিয়ত করা হয়ে যাবে।

আর রমযানের বাইরে, আপনি যখন অন্য নফল, সুন্নত অথবা কাযা রোযা রাখবেন তখন আপনি রাতের বেলা বা ঘুম থেকে উঠে সাহরী খাওয়ার পরে মনে মনে ঠিক করে নেবেন – আমি আগামী কাল অমুক রোযা (বৃহস্পতিবারের সুন্নত রোযা/বিগত রমযানের অমুক কাযা রোযা/আরাফার সুন্নত রোযা) রাখবো।


উল্লেখ্যঃ নফল/সুন্নত রোযার জন্য কেউ যদি আগে থেকে নিয়ত করে না রাখেন, আর ঘুম থেকে উঠে ফযরের ওয়াক্ত হয়ে যাওয়ার পরেও রোযা থাকার নিয়ত করতে পারবে। তবে যত সময় পরে করবেন – ঐ সময়টকুর জন্য নিয়ত না থাকায় ততটুকু অংশের সওয়াব মিস করবেন।  আপনি এভাবেই নামায ও রোযার জন্য নিয়ত করবেন।

ক্বুরানের অনুবাদ কোনটা পড়বো?


ক্বুরানের অনুবাদ কোনটা পড়বো?
উত্তরঃ আজ ২০শে শাবান ১৪৩৭ হিজরী। ইন শা আল্লাহ আর মাত্র ৯/১০ দিন পর থেকেই রমযান মাস শুরু হচ্ছে। রমযান মাসের সম্মান, মর্যাদা ফযীলত সব কিছুই হচ্ছে ক্বুরানুল কারীম নাযিল হওয়ার জন্য। তাই আমাদের উচিত রমযান মাসে ক্বুরানের উপর বেশি মনোযোগী হওয়া। ক্বুরানের হক্ক আদায় করার প্রথম হচ্ছে ক্বুরানুল কারীম তেলাওয়াত করা।
ক্বুরান তেলাওয়াত করার ৩টা স্তর রয়েছেঃ-
১. ক্বুরানের আয়াত আরবীতে সুন্দর সুরে সঠিক উচ্চারণে তেলাওয়াত করা। যারা তাজবীদ পারেন না তারা এই মাসে উস্তাদ রেখে তালীম নিন। শুদ্ধ উচ্চারনে ক্বুরান তেলাওয়াত করা ফরয।
২. ক্বুরানুল কারীমের অর্থ বোঝা এর মর্মার্থ অনুধাবন করা। এটা প্রথম স্তর থেকে আরো বেশি জরুরী। এইজন্য আরবীতে তেলাওয়াতের পাশাপাশি অবশ্যই আপনার ক্বুরানের অনুবাদ, তাফসীর পড়বেন।
৩. ক্বুরানুল কারীমের উপর আমল করা, এর বেধে দেওয়া হালাল ও হারামের সীমানা মেনে চলা।
আমরা যারা আরবী বুঝিনা তাদেরকে ক্বুরানুল কারীম বোঝার জন্য এর বাংলা/ইংরেজী অনুবাদ পড়তে হবে এবং এর সাথে সাথে আয়াতের তাফসীর দেখতে হবে।
ক্বুরানুল কারীমের সবচেয়ে ভালো অনুবাদ করেছেন আল্লামাহ মুহসিন খান ইংরেজীতে। তিনি ক্বুরান ও সহীহ হাদীসের অনুসারী একজন আলেম, তাই তার অনুবাদ প্রচলিত যেকোন অনুবাদের চেয়ে উত্তম ও ক্বুরানের সবচাইতে কাছাকাছি। এছাড়া এর ফুটনোটে তাফসীর ইবনে কাসীর থেকে বিভিন্ন হাদীস ও সংক্ষিপ্ত ব্যখ্যা দেওয়া আছে, যা আয়াতগুলো বুঝতে সাহায্য করে। আমার দৃষ্টিতে এটা বাংলা যেকোন অনুবাদের চাইতে সহজবোধ্য এবং নির্ভরযোগ্য, কারণ এটা একজন আলেম অনুবাদ করেছেন, সংক্ষিপ্ত তাফসীরসহ এবং এর ভাষা সহজ। বিদেশে অনেক মসজিদ ও ইসলামী সেন্টারে এটা বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। উল্লেখ্য আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলীর অনুবাদে অনেক মিথ্যা, অপব্যখ্যা দেওয়া আছে। অনেক ইসলামিক বক্তা আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলীর অনুবাদের প্রশংসা করলেও, মূলত আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলী ছিলেন একজন বাহায়ী/বোহরা শিয়া। এদের অনেক শিরকী কুফুরী আকীদাহ আছে, যা তিনি তার অনুবাদে উল্লেখ করে রেখছেন। তাই আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলীর ইংরেজী অনুবাদ পড়া যাবেনা। যদিও প্রথমে সৌদি আরব থেকে এটা বিনামূল্যে দেওয়া হতো, পরবর্তীতে শায়খ বিন বাজ রাহিমাহুল্লাহকে এ ব্যপারে অবহিত করা হলে তিনি তদন্ত করে এটা নিষিদ্ধ করে করে মুহসিন খানের অনুবাদ প্রচার করার আদেশ দেন।

আর বাংলাতে ভালো অনুবাদের জন্য আপনারা তাফসীর আহসানুল বায়ান এটা পড়তে পারেন। এটা আসলে পাকিস্থানী একজন আলেম - সালাউদ্দিন ইউসুফ এর সংক্ষিপ্ত (৩খন্ডে) তাফসীর, যা বাংলাতে তাওহীদ প্রকাশনী প্রকাশ করেছে। মূল বইয়ের বাংলা অনুবাদ করেছেন শায়খ আব্দুল হামীদ মাদানী ফাইজী। এটা ফ্রী ডাউনলোড করা যাবে এখান থেকে
http://www.islamhouse.com/409362/bn/bn/books/%E0%A6%A4%E0%A6%AB%E0%A6%B8%E0%A7%80%E0%A6%B0_%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%B2_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%A8

এছাড়া শুধু ক্বুরানের অনুবাদের জন্যে তাওহীদ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত "তাইসিরুল ক্বুরান" এই বইটা কিনতে পারেন।

তাফসীরঃ উপরের বাংলা ইংরেজী ২টাই সংক্ষিপ্ত তাফসীর। এর যেকোন একটা পড়া হলে আরো বিস্তারিত তাফসীর পড়বেন তাফসীর ইবনে কাসীর থেকে

মারেফুল কুরান, তাফহীমুল কুরান, ফি যিলালিল কুরান, তাফসীর মাযহারী, তফসীরে আশরাফ আলী থানবী এইগুলো পড়ে শিরক, বিদাত ও ক্বুরানের অপব্যখ্যা নেবেন না। এইগুলোতে আছে সূফীবাদের ভ্রান্ত শিরকি কুফুরী আকীদাহ, আশারি মাতুরিদিদের ভ্রান্ত আকীদাহ, কুরান হাদীসের মনগড়া অপব্যখ্যা।

কুরআনের আরেক নাম হলো ফুরক্বান যার অর্থঃ সত্য মিথ্যার পার্থক্যকারী। আপনি যদি কুরআনের অর্থ বুঝে পড়েন, কুরআনের সঠিক তাফসীর পড়েন, আলেমদের কুরআন শিক্ষার লেকচার শুনেন, তাহলে আপনি এই ফুরক্বান দিয়ে কোনটা সঠিক কোনটা ভুল বুঝতে পারবেন।

তাফসীর হলো হাদীস ও রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর জীবনী দিয়ে কুরআনের আয়াতের ব্যখ্যা। এই আয়াতটা কেনো নাযিল হয়েছিলো, এই আয়াতের আসল অর্থ কি হবে, এই আয়াত থেকে কি শিক্ষা বা আদেশ অথবা নিষেধ পাওয়া গেলো এই হচ্ছে তাফসীরের মূল আলোচনার বিষয়। অনেক সময় তাফসীর জানা না থাকলে আয়াতের আসল অর্থই বুঝা যায়না, ভুল বোঝার সম্ভাবনা থাকে।

তবে খেয়াল রাখতে হবে, তাফসীর নামে কুরআনের অপব্যখ্যা থেকে বেঁচে থাকার জন্য। মারেফুল কুরআন না বা তাফহীমুল কুরআন এই দুইটি তাফসীর আমাদের দেশে খুব প্রচলিত থাকলেও আকীদাগত ভুল ও কুরআনের অপব্যখ্যা থাকায় কুরআন সুন্নাহর আলেমরা ও আরব দেশগুলোতে এই দুইটা তাফসীরকে প্রত্যাখ্যান করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শ্রেষ্ঠ তাফসীর গ্রন্থের মাঝে একটি হলো ইমাম ইবনে কাসীরের তাফসীর ইবনে কাসীর যা বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে। যে কোনো আয়াতের আসল অর্থ জানার জন্য অথবা কোনো প্রশ্ন থাকলে দেরী না করে সবার আগে এই গ্রন্থটিতে চেক করে নিবেন, আসল অর্থ জানার জন্য।

অনলাইনে ফ্রী ডাউনলোড লিংক-

http://www.quraneralo.com/tafsir

যাকাত - শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমিন



রমাযাবনের ৩০ আসরঃ
আজকের বিষয়ঃ যাকাত
- শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমিন

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি পদস্খলন মিটিয়ে দেন ও উপেক্ষা করেন, ক্ষমা করেন আবোল-তাবোল কথা ও ছাড় দেন। যে কেউ তাঁর কাছে আশ্রয় চায় সে সফল হয়, যে কেউ তার সাথে লেন-দেন করে সেই লাভবান হয়, তিনি আকাশকে বিনা খুঁটি উপরে উঠিয়েছেন সুতরাং তুমি চিন্তা কর এবং খাঁটি ও স্বচ্ছ হও। তিনি নাযিল করেছেন বৃষ্টি ফলে ফসলাদিকে দেখা যায় পানিতে সাতরাতে। প্রাচুর্যও প্রদান করেন আবার দারিদ্র্যতাও দেন, কখনও কখনও দারিদ্র্যতা হয় বান্দার জন্য উপযোগী। এমন বহু প্রাচুর্যশীল রয়েছে, যার প্রাচুর্য তাকে গর্ব অহংকারের খুব নিকৃষ্টতম পর্যায়ে নিপতিত করেছে। এ তো ‘কারূন অনেক কিছুরই সে মালিক হয়েছিল, কিন্তু সে সামান্যের ব্যাপারে ছাড় দিতে রাযী ছিল না, তাকে সাবধান করা হয়েছিল কিন্তু সে জাগ্রত হয় নি, তাকে তিরস্কার করা হয়েছিল কিন্তু তিরস্কার তার কাজে আসে নি, বিশেষ করে যখন তার জাতির লোকেরা তাকে বলেছিল, ‘তুমি বেশি খুশি হয়ো না। আমি তাঁর প্রশংসা করি যতক্ষণ পর্যন্ত দিন গড়িয়ে বিকেল হবে, আর রাত পেরিয়ে হবে সকাল।

আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি অমুখাপেক্ষী, দানবীর, প্রশস্ত দান করার মাধ্যমে দয়া করেছেন এবং নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, যিনি আল্লাহর জন্য তাঁর জান ও মাল ব্যয় করেছেন, সত্যকে করেছেন স্পষ্ট ও প্রকাশিত।
আল্লাহ তাআলা তাঁর উপর সালাত পেশ করুন, আর তার সাথী আবু বকরের উপর, যিনি সফরে ও অবস্থানস্থল সর্বদা তার সাথে ছিলেন, কখনও তাকে পরিত্যাগ করেন নি। অনুরূপ উমারের উপর, যিনি দিনের সম্মান ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধিতে ছিলেন সদা সচেষ্ট। আর উসমানের উপর, যিনি আল্লাহর রাস্তায় বহু খরচ করেছেন এবং সংশোধন করেছেন। তদ্রূপ আলীর উপর, যিনি ছিলেন রাসূলের চাচাতো ভাই, তার ব্যাপারে যারা বাড়াবাড়ি কিংবা সম্মানহানি থেকে তাদের থেকে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ মুক্ত; অনুরূপভাবে বাকী সাহাবীগণের উপর এবং যারা সুন্দরভাবে তাদেরকে অনুসরণ করেছেন তাদেরও উপর। আর আল্লাহ তাদের উপর যথাযথ সালামও পেশ করুন।

o  প্রিয় ভাইয়েরা!

* আল্লাহ তাআলা বলেন:
তাদের এ মর্মে আদেশ করা হয়েছে যে, তারা নিবিষ্ট মনে একান্তভাবে শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদত করবে, সালাত প্রতিষ্ঠা করবে এবং যাকাত প্রদান করব। আর এটাই হলো সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন। {সূরা আল-বায়্যিনাহ, আয়াত: ৫}
* আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:
আর সালাত কায়েম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও। আর তোমরা নিজদের জন্য মঙ্গলজনক যা কিছু অগ্রে পাঠাবে তোমরা তা আল্লাহর কাছে পাবে প্রতিদান হিসেবে উৎকৃষ্টতর ও মহত্তর রূপে। আর তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। {সূরা আল-মুযযাম্মিল, আয়াত: ২০}
আল্লাহ তাআলা বলেন:
আর তোমরা যে সূদ দিয়ে থাক, মানুষের সম্পদে বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য তা মূলত আল্লাহর কাছে বৃদ্ধি পায় না। আর তোমরা যে যাকাত দিয়ে থাক আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে (তাই বৃদ্ধি পায়) এবং তারাই বহুগুণ সম্পদ প্রাপ্ত। {সূরা আর-রূম, আয়াত: ৩৯}
এ ছাড়াও যাকাত ফরয হওয়ার বিধান সম্পর্কে অনেক আয়াত রয়েছে।

o  হাদীসের আলোকে যাকাতের বিধান:
* ‘আব্দুল্লাহ ইবন ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন:
ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি, যথা- এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্যিকারের মাবুদ নেই। সালাত আদায় করা, যাকাত প্রদান করা, রমযানের সিয়াম পালন করা ও হজ আদায় করা। এ কথা শুনে একব্যক্তি বললেন, হজ তারপর কি রমযানের সিয়াম? তিনি বললেন, না বরং প্রথমে রমযানের সিয়াম তারপর হজ। এ ধারাবাহিকতায় আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি। 
মুসলিম: ১৬।
* অন্য বর্ণনায় রয়েছে: (ইসলামের ভিত্তি হলো) এ সাক্ষ্য প্রদান করা যে ‘এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল। তারপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। 
  বুখারী: ৮; মুসলিম: ১৬
সুতরাং বোঝা গেল, যাকাত ইসলামের একটি রুকন ও মৌলিক ভিত্তিগুলোর একটি।
আর কুরআনের বহু জায়গায় সালাতের পাশাপাশি যাকাতের বিষয়টি আলোচিত হয়েছে।

o  ইজমা:
সকল মুসলিম অকাট্যভাবে একমত যে, যাকাত একটি ফরয বিধান। সুতরাং যাকাত ফরয জেনেও যদি কোনো ব্যক্তি তা অস্বীকার করে, তাহলে সে কাফের হয়ে যাবে।
আর যে যাকাত প্রদানে কৃপণতা করবে বা পরিমানের চেয়ে কম দেবে, সে লাঞ্ছনা ও কঠিন শাস্তির উপযুক্ত হবে।

o  চার ধরনের সম্পদে যাকাত ফরয:
প্রথম প্রকার: ভূমি থেকে উৎপাদিত শস্য ও ফল-ফলাদী
* কারণ, আল্লাহ তাআলা বলেন:
 ‘হে মুমিনগণ! তোমরা তোমাদের বৈধ উপার্জন এবং আমরা তোমাদের জন্য ভুমি থেকে যে শস্য উৎপন্ন করি তা থেকে আল্লাহর নির্দেশিত পথে ব্যয় কর। {সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৬৭}
* অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন:
আর তোমরা ফসল কাটার সময় তার হক (যাকাত) আদায় কর। {সূরা আল-আনআম, আয়াত: ১৪১}

আর সম্পদের সবচেয়ে বড় হক হচ্ছে যাকাত।
* রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
আসমান ও ঝর্ণার পানিতে কিংবা স্বেচ্ছা উৎপাদিত ফসলের মধ্যে এক দশমাংশ আর যা সেচের মাধ্যমে আবাদ হয় তার মধ্যে বিশভাগের এক ভাগ যাকাত প্রদেয়। 
  বুখারী: ১৪৮৩।
ফসলের ওপর যাকাত ফরয হওয়ার নির্ধারিত পরিমাণ হলো  পাঁচ ওসক। কারণ,
* রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
শস্য বা ফলমুলের ওপর যাকাত ফরয হবে না। যতক্ষণ  তা পাঁচ ওসক পরিমাণ না হয়। 
  মুসলিম: ৯৭৯।
আর ওসকের পরিমাণ হলো; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যবহৃত সা এর ৬০ সা সমপরিমাণ। তাহলে নিসাব হলো, তিনশ সা, আর এক সার পরিমাণ হলো ২০৪০ গ্রাম (দুই কেজি চল্লিশ গ্রাম)। সুতরাং নিসাবের পরিমাণ দাঁড়ালো ৬১২ কেজি। তাই এর কমে যাকাত ফরয নয়। ওই নিসাবে বিনাশ্রমে প্রাপ্ত ফসলের যাকাতের পরিমাণ হলো এক দশমাংশ আর শ্রম ব্যয়ে প্রাপ্ত ফসলের এক বিশমাংশ।
o  ফলমূল, শাক-সবজি, তরমুজ ও জাতীয় ফসলের ওপর যাকাত ফরয নয়।
* কেননা ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেছেন, ‘শাক-সবজিতে যাকাত নেই
* তেমনি আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেছেন, ‘আপেল বা এ জাতীয় ফলের ওপর যাকাত ফরয নয়।
* তাছাড়া যেহেতু এগুলো (নিত্যপ্রয়োজনীয়) খাবার জাতীয় শস্য বা ফল নয়, তাই এর ওপর যাকাত নেই। তবে যদি এসব টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয় তাহলে মূল্যের ওপর নিসাব পূর্ণ হয়ে এক বছর অতিক্রান্ত হবার পর যাকাত ফরয হবে। 
দ্বিতীয় প্রকার: যে সকল প্রাণীর ওপর যাকাত ফরয হয়
তাহলো: উট, গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ। যদি এ সকল প্রাণী ‘সায়েমা হয় তথা মাঠে চরে চষে খায় এবং এগুলোকে বংশ বৃদ্ধির জন্য পালন করা হয় এবং তা নিসাব পরিমাণ হয়, তাহলে এদের যাকাত দিতে হবে। উটের নিসাব ন্যূনতম ৫টি, গরুর ৩০টি, আর ছাগলের ৪০টি।

সায়েমা ওই সকল প্রাণীকে বলে, যেগুলো সারা বছর বা বছরের অধিকাংশ সময় চারণভূমিতে ঘাস খেয়ে বেড়ায়। যদি এসব প্রাণী সায়েমা না হয়, তবে এর ওপর যাকাত ফরয নয়। কিন্তু যদি এগুলো দ্বারা টাকা-পয়সা কামাই করার উদ্দেশ্য থাকে; যেমন বেচা-কেনা, স্থানান্তর ইত্যাদির মাধ্যমে টাকা-পয়সা আয় করা, তাহলে তা ব্যবসায়িক পণ্য হিসেবে বিবেচিত হবে; আর তখন সেগুলো সায়েমা কিংবা মালুফাহ (যাকে ঘাস কেটে খাওয়ানো হয়) যা-ই হোক না কেন তাতে ব্যবসায়িক পণ্যের যাকাত আসবে; যদি তা স্বয়ং নিসাব পরিমাণ হয় অথবা এসবের মূল্য অন্য ব্যবসায়িক সম্পদের সঙ্গে যুক্ত করলে নিসাব পরিমাণ হয়।

তৃতীয় প্রকার: স্বর্ণ-রৌপ্যের ওপর (নিসাব পরিমাণ হলে) সর্বাবস্থায় যাকাত ফরয। কারণ,
* আল্লাহ তাআলা বলেন:
আর যারা সোনা ও রূপা জমা করে রাখে অথচ তা আল্লাহর নির্দেশিত পথে ব্যয় করে না (যাকাত দেয় না)। আপনি তাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সংবাদ প্রদান করুন। কিয়ামত দিবসে ওই সোনারূপাকে জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করে তা দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ ও পৃষ্ঠে ছেকা দেয়া হবে এবং বলা হবে এ হলো তোমাদের সে সকল ধন-সম্পদ যা তোমরা নিজেদের জন্য সঞ্চয় করে রাখতে। সুতরাং আজ জমা করে রাখার স্বাদ গ্রহণ কর।
সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ৩৪-৩৫।
আয়াতে ‘জমা করে রাখা বলতে আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় না করা বুঝানো হয়েছে। আর আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করার সবচেয়ে বড় খাত হচ্ছে, যাকাতে ব্যয় করা।
* তাছাড়া সহীহ মুসলিমে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
যে সকল সোনা-রূপার মালিকগণ তাদের সম্পদ থেকে নির্ধারিত হক (যাকাত) আদায় না করে, কিয়ামত দিবসে তার জন্য কতগুলো আগুনের পাত প্রস্তুত করে তা জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করে তা দ্বারা ওই লোকদের ললাট ও পিঠে চেপে ধরা হবে। তাপ কমে গেলে উত্তপ্ত করে পুনরায় চেপে ধরা হবে। পঞ্চাশ বছর দীর্ঘ সময় বান্দাদের হিসাব-নিকাশ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এভাবে শাস্তি চলতেই থাকবে।
  মুসলিম: ৯৮৭।

* ‘সোনা-রূপার হক আদায় না করার অর্থ, যাকাত আদায় না করা। যা অন্য বর্ণনায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। যেখানে এসেছে,
যে সকল সোনা-রূপার মালিকগণ তাদের সম্পদের যাকাত আদায় না করে....’।
সোনা-রূপার যাবতীয় প্রকারে যাকাত ফরয হবে। চাই তা হোক টাকা পয়সা, চাকা বা টুকরা, পরিধেয় অলংকার বা ধার দেওয়ার মত অলংকার অথবা অন্য প্রকার সোনা-রূপা এসব কিছুর ওপর যাকাত ফরয। কারণ সোনা-রূপার উপর যাকাত ফরয করে বর্ণিত সকল আয়াত বা হাদীস ব্যাপকভাবে এর উপর প্রমাণবহ।
* ‘আবদুল্লাহ ইবন ‘আমর ইবন ‘আস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
একদা একজন মহিলা তার মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মুখে এলেন। ওই মেয়ের হাতে স্বর্ণের দুটি ভারি ও মোটা বালা ছিলো। তা দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি এসবের যাকাত দাও? মেয়েটি বলল, না। তিনি বললেন, তুমি কি এটা পছন্দ কর যে কিয়ামতের দিন আল্লাহ এসবের দ্বারা দুটি আগুনের চুড়ি বানিয়ে তোমার হাতে পরিয়ে দেবেন? মেয়েটি এ কথা শুনে বালা দুটি খুলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দিয়ে বলল, এসব আল্লাহর রাস্তায় দান করলাম। 
 আহমাদ ২/১৭৮; আবু দাউদ: ১৫৬৩; নাসাঈ ৫/৩৭; তিরমিযী: ৬৩৭। ইবনুল কাত্তান এটাকে সহীহ হাদীস বলেছেন। শাইখ উসাইমীন এর সনদকে ‘শক্তিশালী বলেছেন।
* অন্য এক হাদীসে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এলেন, তখন আমার হাতে কয়েকটি বড় বড় রূপার আংটি ছিল। তিনি বললেন, এসব কী? আমি বললাম, আপনার সামনে সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্য এগুলো তৈরি করেছি। তিনি বললেন, তুমি কি এসবের যাকাত প্রদান করো? আমি বললাম, না। তিনি বললেন,  তোমার জাহান্নামে যাওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট। 
 আবু দাউদ: ১৫৬৫; বাইহাকী ৪/১৩৯; হাকেম ১/৩৮৯-৩৯০। হাকেম বলেছেন বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী, ইমাম যাহাবী তার সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। শাইখ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী তার ইরওয়াউল গালীল গ্রন্থে (৩/২৯৭) বলেছেন, হাদিসটি তারা দুজন যেমন বলেছেন তেমনই।
হাদীসটি আবু দাউদ সংকলন করেছেন। অনুরূপ বাইহাকী ও হাকেম, আর তিনি সেটাকে সহীহ বলেছেন এবং আরও বলেছেন যে, এটি বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী।
ইবন হাজার ‘আত-তালখীস গ্রন্থে বলেন, এটি বুখারী শর্ত অনুযায়ী। ইবন দাকীকিল ‘ঈদ বলেন, এটি মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী। 

  সোনার নিসাব পূর্ণ না হলে তার ওপর যাকাত ফরয হবে না। আর সে নিসাব হলো, ২০ দিনার। কারণ,
* রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোনার ব্যাপারে বলেছেন,
(স্বর্ণের যাকাত হিসেবে) তোমার ওপর কিছুই ওয়াজিব হবে না যাবৎ তোমার কাছে বিশ দিনার পরিমাণ স্বর্ণ না হবে। 
  আবু দাউদ: ১৫৭৩।
* দিনার বলতে ইসলামী দিনার উদ্দেশ্য যার ওজন এক মিছকাল। মিছকাল সমান সোয়া চার গ্রাম। সে হিসাবে সোনার নিসাব হলো ৮৫ গ্রাম। যা সাউদী মাপে এগার জুনাইহ ও এক জুনাইহ এর তিন সপ্তমাংশ। 
  এ দেশীয় মাপে ৭.৫ ভরি হয়। [অনুবাদক ও সম্পাদক]
o  রূপার নিসাব পূর্ণ না হলে তাতে যাকাত ফরয নয়। আর তার নেসাব হলো: পাঁচ ওকিয়্যা। কারণ,
* রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ صَدَقَةٌ»
পাঁচ ওকিয়্যার কম রূপার ওপর যাকাত নেই। 
  বুখারী: ১৪৫৯; মুসলিম: ৯৭৯।
এক ওকিয়্যা সমান ৪০ ইসলামী দিরহাম।
সে মতে রূপার হিসাব হলো: ২০০ দিরহাম।
আর এক দিরহাম হলো, এক মিসকালের সাত দশমাংশ। এর মোট ওজন ১৪০ মিসকাল, যার বর্তমান প্রচলিত ওজন হলো: ৫৯৫ গ্রাম।  যা আরবী ৫৬ রৌপ্য রিয়াল মুদ্রা।
  যা এ দেশীয় মাপে ৫২.৫ ভরি। [অনুবাদক ও সম্পাদক]

রৌপ্য ও স্বর্ণের যাকাতের পরিমাণ হচ্ছে, চার দশমাংশ বা ৪০ ভাগের এক ভাগ।

o  কাগজের তৈরি নোট (টাকা) এর ওপরও যাকাত ফরয; কারণ নোটগুলো রূপার বদলেই চলমান। সুতরাং এসব রূপার স্থলাভিষিক্ত হবে এবং এর মূল্যমান রূপার নিসাবের সমপরিমাণ হলে তাতে যাকাত ফরয হবে।
o  সোনা-রূপা ও কাগজের নোট ইত্যাদি ওপর সর্বাবস্থায় যাকাত ফরয। চাই তা হাতে মজুদ থাকুক বা অন্য কারো যিম্মাদারীতে থাকুক।
এ থেকে বুঝা যায়, সব ধরনের ঋণ, চাই তা কর্জ হোক বা বিক্রয়কৃত বস্তুর মূল্য হোক কিংবা ভাড়া বা এ ধরনের যা-ই হোক না কেন, তার ওপর যাকাত ফরয। তারপর যদি সে ঋণ এমন লোকের কাছে থাকে যে সচ্ছল এবং সহজে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তখন সে প্রতি বছর অন্যান্য সম্পদের সঙ্গে সঙ্গে এসবের যাকাত দিবে, অথবা সে ঋণ আদায় করা পর্যন্ত দেরী করে যত বছর যাকাত দেয় নি তত বছরের যাকাত হিসেব করে আদায় করবে।
আর যদি দরিদ্র বা ঋণ আদায়ে টালবাহানাকারী লোককে ঋণ দেয়া থাকে, যার কাছ থেকে সেটা আদায় করা কঠিন হয়ে পড়ে  তাহলে ঋণ আদায় হওয়ার পর শুধু ওই ঋণ উসুল করা বছরের যাকাত প্রদান করবে; পূর্ববর্তী বছরগুলোর যাকাত দিতে হবে না।

o  সোনা-রূপা ছাড়া অন্য সকল খনিজ পদার্থ যদিও তা আরও মূল্যবান হয়, তাতে যাকাত ফরয নয়। তবে তা যদি ব্যবসার পণ্য হয়ে থাকে; তাহলে নিসাব পূর্ণ হলে অবশ্যই ব্যবসায়ী পণ্য হিসেবে যাকাত দিতে হবে।

চতুর্থ প্রকার: ব্যবসায়ী পণ্য
ব্যবসায়ী পণ্য বলতে বুঝায়: এমন যাবতীয় বস্তু যা দ্বারা মুনাফা অর্জন কিংবা ব্যবসার উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে। যেমন, জমি, জীব-জন্তু, খাবার, পানীয় ও গাড়ী ইত্যাদি সব ধরনের সম্পদ।
সুতরাং বছরান্তে সেগুলোর মূল্য নির্ধারণ করে তার চার দশমাংশ বা ৪০ ভাগের এক ভাগ যাকাত দিতে হবে। চাই সেটার মূল্যমান ক্রয়মূল্যের সমপরিমান হোক, অথবা কম হোক অথবা বেশি হোক। 
মুদি দোকানদার, মেশিনারি দোকানদার বা খুচরা যন্ত্রাংশ বিক্রেতা  ও এ জাতীয় ব্যবসায়ীদের কর্তব্য হলো, ছোট বড় সকল অংশের মূল্য নির্ধারণ করে নেবে, যাতে কোনো কিছু বাদ না পড়ে। পরিমাণ নির্ণয়ে যদি জটিলতা দেখা দেয়, তাহলে সতর্কতামূলক বেশি দাম ধরে যাকাত আদায় করবে, যাতে সে সম্পূর্ণভাবে দায়িত্বমুক্ত হতে পারে।
o  মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্তু যথা খাবার, পানীয়, বিছানা, আসবাবপত্র, থাকার ঘর, বাহন, গাড়ী, পোশাকের (ব্যবহার্য সোনা-রূপা ছাড়া) ওপর যাকাত নেই। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
 ‘মুসলিমের দাস-দাসী, ঘোড়ার ওপর যাকাত নেই। 
বুখারী: ১৪৬৪; মুসলিম: ৯৮২।
o  অনুরূপভাবে ভাড়া দেওয়ার জন্য প্রস্তুতকৃত পণ্য যেমন জমি-জমা, গাড়ী ইত্যাদির ওপর যাকাত আসবে না। তবে সেসব থেকে প্রাপ্ত অর্থের ওপর বছর পূর্তির পর সেটা দ্বারা স্বয়ং নিসাব পূর্ণ হোক বা এ জাতীয় অন্য সম্পদের সাথে মিশে নিসাব পূর্ণ হোক তাতে যাকাত দেয়া ফরয হবে। 

o  প্রিয় মুসলিম ভাইয়েরা! তোমরা তোমাদের সম্পদের যাকাত যথাযথভাবে আদায় কর, আর এতে তোমাদের মন যেন খুশী থাকে। বস্তুত এটা লাভজনক, জরিমানামূলক নয়। মুনাফাস্বরূপ, ক্ষতিস্বরূপ নয়। তোমরা তোমাদের সকল যাকাতযোগ্য সম্পদ ভালোকরে হিসেব কর। আর আল্লাহর কাছে যা তোমরা ব্যয় কর তা কবুল করার জন্য এবং যা তোমাদের কাছে অবশিষ্ট রেখেছ তাতে বরকত দেওয়ার জন্য প্রার্থনা কর।
আর সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য।

আল্লাহ সালাত ও সালাম পেশ করুন আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তার পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর উপর।