বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৬

প্রিয়নবী মুহা’ম্মাদ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে কুরআনুল কারীমের কয়েকটি আয়াতের তর্জমাঃ (পর্ব-২)

প্রিয়নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে কুরআনুল কারীমের কয়েকটি আয়াতের তর্জমাঃ (পর্ব-২)
(১) প্রিয়নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর সর্বপ্রথম যে ওয়াহী নাযিল হয়েছিলো তা হচ্ছেঃ সুরা আল-আলাক্ব এর প্রথম ৫টি আয়াত। এরপর কিছুদিন ওয়াহী আসা বন্ধ ছিলো। একারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুবই অস্থির ও চিন্তিত হয়ে পড়েন। এরই মাঝে তিনি একদিন আবারও প্রথমবার হেরা গুহায় ওয়াহী নিয়ে আগমনকারী ফিরিশতা (জিব্রাঈল আলাইহিস সালামকে) আসমান ও যমীনের মধ্যস্থলে একটি কুরসীর উপর বসা অবস্থায় (বিশাল আকৃতিতে) দেখেন। এ থেকে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মধ্যে প্রচন্ড ভীতির সঞ্চার হয়। তাই তিনি ঘরে গিয়ে ঘরের লোকদেরকে বললেন, তোমরা আমাকে কোন কাপড় দিয়ে ঢেকে দাও। আমাকে কোন চাদর দিয়ে ঢেকে দাও। ফলে তাঁরা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শরীরে একটি কাপড় চাপিয়ে দিলেন। ঠিক এই অবস্থাতেই আল্লাহ তাআলা সুরাহ আল-মুদ্দাসসিরের এই আয়াতগুলো ওয়াহী হিসেবে নাযিল করেছিলেনঃ
উযু বিল্লাহিমিনাশ-শাইতানির রাযীম। বিসমিল্লাহির-রাহমানির রাহীম।
১. ইয়া আইয়্যুহাল মুদ্দাসসির! হে চাদরাবৃত (অর্থাৎ, নবী মুহাম্মাদ)!
২. আপনি উঠুন এবং মানুষদেরকে সতর্ক করুন,
৩. আপনি আপনার পালনকর্তার মাহাত্ম্য ঘোষনা করুন,
৪. আর আপনার পোশাক পবিত্র রাখুন,
৫. এবং (শিরকের) অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকুন।
সুরাহ আল-মুদ্দাসসিরঃ ১-৫।
উৎসঃ সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম, সুরা মুদ্দাসসির ও ঈমান অধ্যায়।
(২) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআন, সুন্নাহ বা হাদীস, অর্থাৎ যা কিছু দ্বীন হিসেবে মানুষের মাঝে প্রচার করেছেন, সেইগুলো তিনি নিজে বানিয়ে, আন্দাজে বা মনগড়া কোন কথা বলতেন না। আল্লাহ তাআলা তাঁকে যেই ওয়াহী (প্রত্যাদেশ) করতেন, তিনি সেটাই মানুষের মাঝে প্রচার করতেন।
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আর তিনি মনগড়া কোন কথা বলেন না। বরং তিনি শুধুমাত্র তাই বলেন, যা তাঁকে ওয়াহী হিসেবে প্রেরণ করা হয়। সুরা আন-নাজমঃ ৩-৪।
(৩) কাফের-মুশরেকরা মনে করতো কুরআনুল কারীম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রচিত, বা তিনি ইচ্ছা করলেই এর মাঝে ইচ্ছামতো পরিবর্তন করতে পারবেন, নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক। তাই মুশরেকরা তাঁর কাছে কখনো এমন আবদার করেছিলো যে, হে মুহাম্মদ! তোমার এই কুরআন আমাদের পক্ষে মানা সম্ভব না। সুতরাং, তুমি এই কুরআনের পরিবর্তে অন্য কুরআন আমাদের কাছে নিয়ে আসো, তাহলে আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনবো।
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আর যখন তাদের সামনে আমার আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে পাঠ করা হয়, তখন যারা আমার সাক্ষাতের ভয় করে না, তারা বলে, এটা ছাড়া অন্য কোন কুরআন নিয়ে আস। অথবা এই কুরআনের মাঝে পরিবর্তন কর। (হে নবী!) আপনি তাদেরকে বলে দিন, আমার জন্য এটা সম্ভব নয় যে, আমি নিজের পক্ষ হতে এই কুরআনের মাঝে কোন পরিবর্তন করি। আমার প্রতি যা ওয়াহী হয়, আমি তো কেবল তারই অনুসরণ করি। (তোমাদের কথা শুনে কুরআনের মাঝে কোন পরিবর্তন এনে) আমি যদি আমার প্রতিপালকের অবাধ্য হই, তাহলে আমি (নিজের জন্য) এক অতি ভীষণ দিনের শাস্তির আশংকা করি। সুরা ইউনুসঃ ১৫।
মুশরেকদের এমন উদ্ভট, অন্যায় ও অসম্ভব আবদারের প্রত্যাখ্যান করে আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেনঃ এই (কুরআন) বিশ্বজগতের প্রতিপালক (আল্লাহর) নিকট হতে অবতীর্ণ। সে (মুহাম্মদ) যদি নিজে থেকে কিছু রচনা করে আমার নামে চালানোর চেষ্টা করত, তবে আমি অবশ্যই তাঁর ডান হাত ধরে ফেলতাম, এবং তাঁর জীবন-ধমনী কেটে দিতাম। অতঃপর তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে, তাঁকে (আমার পাকড়াও থেকে) রক্ষা করতে পারত। সুরা আল-হাক্কাহঃ ৪৩-৪৭।
(৪) মৃত ব্যক্তি, সে যেই হোক, যত বড় অলি-আওলিয়া হোক না কেনো, তারা আমাদের এই দুনিয়ার মানুষের কোন কথা শুনতে পারেনা। এমনকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-ও মৃত ব্যক্তিদেরকে শুনাতে সক্ষম ছিলেন না।
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আর সমান নয় জীবিত ও মৃত। আল্লাহ শ্রবণ করান যাকে ইচ্ছা তাকে। (হে নবী!) আপনি কবরে শায়িত (মৃত) ব্যক্তিদেরকে শুনাতে সক্ষম নন। সুরা ফাতিরঃ ২২।
(৫) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিচার-ফয়সালা, আদেশ-নিষেধ সমূহ কেনো, কিভাবে এধরণের কোন প্রশ্ন ব্যতিরকে, বিনা দ্বিধায়, সন্তুষ্ট হৃদয়ে গ্রহণ না করা পর্যন্ত একজন মানুষ কক্ষনো ঈমানদার হতে পারবেনা।
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ অতএব, (হে নবী! আমি আল্লাহ) আপনার পালনকর্তার কসম করে বলছি, সেই লোক ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে আপনাকে (নবীকে) ন্যায়বিচারক হিসেবে গ্রহণ না করে। অতঃপর আপনার (নবীর) দেওয়া ফয়সালার ব্যাপারে নিজের মনে কোন রকম আপত্তি থাকে না, এবং তা সন্তুষ্ট চিত্তে কবুল করে নিবে। সুরা আন-নিসাঃ ৬৫।
(৬) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৪০ বছর বয়সে নবুওতপ্রাপ্ত হয়ে সর্বপ্রথম মক্কায় তাঁর দাওয়াতী কাজ শুরু করেছিলেন। মক্কার লোকেরা ছিলো তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্বীয়-স্বজন, নিজ গোত্র, বংশ কিংবা জাতির লোক। যদিও ইতিঃপূর্বে মক্কার কাফের-মুশরকেরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একান্ত বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী বলে বিশ্বাস করতো, এমনকি তাঁকে আল-আমীন অর্থাৎ, অত্যন্ত বিশ্বস্ত ব্যক্তি উপাধিও দিয়েছিলো। কিন্তু তিনি যখন নবুওত প্রাপ্ত হয়ে এক আল্লাহ ইবাদতের জন্যে, ঈমান-ইসলামের দিকে দাওয়াত দিলেন, তখন অধিকাংশ মানুষ তাঁকে অস্বীকার করে তাঁকে প্রত্যাখ্যান করলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর জাতির লোকদেরকে সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজাহ আল-কুরআন দিয়ে, বিভিন্ন যুক্তি-তর্ক, দলিল-প্রমান, অতীতের জাতিদের উপর নাযিলকৃত আসমানী কিতাব সমূহে তাঁর নবুওতের সাক্ষীর বর্ণনা দিয়ে তাদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করলেন, তাদেরকে ঈমানের দিকে দাওয়াত দিলেন। এতোকিছুর পরেও তাঁর জাতির লোকদের মাঝে হাতে গোনা অল্প কজন ছাড়া অধিকাংশ লোকই যখন কুফুরীতে লিপ্ত হলো, তাদের এহেন হঠকারীমূলক আচরণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে খুব কষ্ট দিতো। তিনি খুব আশা করতেন, তাঁর জাতির লোকেরা তাঁর দাওয়াতে সাড়া দিয়ে নিজেদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করবে, অন্য জাতির কাছে তাঁর দাওয়াত পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে। কিন্তু তাঁর এই ইচ্ছা পূরণ হবার ছিলোনা, তাই আল্লাহ তাআলা তাঁকে বলেছিলেনঃ
(হে নবী!) আপনি যতই আকাংখা করুন না কেনো, অধিকাংশ লোকই ঈমান আনবে না। সুরা ইউসুফঃ ১০৩।
কাফের-মুশরেকরা ঈমান না আনার কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এতো কষ্ট পেতেন এবং পেরাশানিতে ভুগতেন যে, আল্লাহ তাঁকে সান্ত্বনা স্বরূপ এই কথা বলেছিলেন,
(হে নবী!) তারা এই বাণী (কুরআনের প্রতি) ঈমান না আনার তাদের পিছনে পিছনে ঘুরে দুঃখে আপনি সম্ভবত নিজেকে ধ্বংস করে ফেলবেন। এই দুনিয়ার উপরে যা কিছু আছে, আমিতো সেগুলিকে দুনিয়ার জন্যে সৌন্দর্য করেছি, যাতে করে মানুষকে এই পরীক্ষা করবার জন্য যে, তাদের মধ্যে কর্মে কে উত্তম। সুরা আল-কাহফঃ ৬-৭।
এই আয়াতগুলো দ্বারা আল্লাহ তাআলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বুঝাচ্ছেনঃ দুনিয়ার জীবন মানুষের জন্যে পরীক্ষা। আর আপনিতো শুধুমাত্র একজন সতর্ককারী, উপদেশদাতা মাত্র। আপনার দাওয়াত আপনি দিয়ে যান, যে গ্রহণ করবে সে নিজের উপকার করবে, যে প্রত্যাখ্যান করবে সে নিজেরই ক্ষতি করবে। তাদের কারণে আপনি কষ্ট পাবেন না।
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ হে রসুল! তাদের জন্যে দুঃখ করবেন না, যারা দৌড়ে গিয়ে কুফরে পতিত হয়। সুরা আল-মায়িদাহঃ ৪১।
আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেনঃ তাদের (আপনার বিরোধীতাকারী কাফের মুশরেকদের) আচরণে আপনি দুঃখ করবেন না, এবং তাদের ষড়যন্ত্রে মনোঃক্ষুণ্ণ হবেন না। সুরা আন-নামালঃ ৭০।
(৭) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথম প্রেরিত হয়েছিলেন আরবদের কাছে, আর তাদের ভাষা ছিলো আরবী। সেইজন্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ভাষা ও কুরআনের ভাষাও আরবী হওয়া জরুরী ছিলো। যাতে করে লোকেরা সহজেই নবীর কথা ও কিতাবের ভাষা বুঝতে পারে। এবং নবী ও কিতাবের ভাষা বুঝতে পারিনি একথা বলে কেউ তাঁর দাওয়াতকে অস্বীকার করতে বা তা থেকে দূরে থাকতে না পারে। কিংবা ভাষাগত বুঝের কারণে দাওয়াতী কাজে কোন বিভ্রান্তি না ঘটে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি সব নবীকেই তাদের নিজ জাতির ভাষাভাষী করেই প্রেরণ করেছি, যাতে করে তাদেরকে পরিষ্কারভাবে বোঝাতে পারে। সুরা ইবরাহীমঃ ৪।
আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেন, আলিফ লা-ম রা। এইগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত। নিশ্চয় আমি এই (কিতাবকে) অবতীর্ণ করেছি আরবী ভাষায়, কুরআনরূপে, যাতে করে তোমরা বুঝতে পার। সুরা ইউসুফঃ ১-২।
আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেন, আমি যদি অনারবদের কোন ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ করতাম, তাহলে তারা অবশ্যই বলত, এই (কিতাবের) আয়াতগুলি (বোধগম্য ভাষায়) বিবৃত হয়নি কেন? কি আশ্চর্য যে, এর ভাষা অনারব, অথচ রসুল আরবী! (হে নবী!) আপনি বলুন, ঈমানদার লোকদের জন্য এই (কুরআন) হুদা (পথনির্দেশক) ও শিফা (রোগের চিকিৎসা)। কিন্তু যারা অবিশ্বাসী তাদের কর্ণে রয়েছে বধিরতা, এবং কুরআন হবে তাদের জন্য অন্ধকার স্বরূপ। এরা এমন যে, যেন এদেরকে বহুদূর হতে আহবান করা হয়। সুরা হা মীম সাজদাহঃ ৪৪।
(৮) আল্লাহ তাআলা প্রতিটি মুসলমান ব্যক্তিকে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্য বিশেষ আদব, শ্রদ্ধা, ভক্তি ও মর্যাদা-সম্মান নিবেদন করতে আদেশ করেছেন। এজন্যে আল্লাহ তাআলা রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আগে বেড়ে কোন কাজ করা, কিংবা নিজেদের খেয়াল-খুশি মতো দ্বীনের ব্যপারে তাঁর চাইতে কম-বেশি করতে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করছেন। এমনিভাবে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপস্থিতিতে আমরা স্বাভাবিকভাবে যতটা উঁচু স্বরে কথা বলি, তাঁর সামনে সেইভাবে উঁচু স্বরে কথা বলতে আল্লাহ তাআলা নিষেধ করেছেন। যারা অবহেলাবশত রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি এই সম্মান প্রদর্শনে ত্রুটি করবে, তাদের অজান্তেই তাদের সমস্ত আমল বর্বাদ হয়ে যেতে পারে বলে আল্লাহ কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। আর যারা নবীকে এই সম্মান প্রদর্শন করবে, তাদের অন্তরকে আল্লাহ শুদ্ধ করে দেবেন এবং তাদের জন্যে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার রয়েছে বলে ওয়াদা করেছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন, হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ ও রসুলের সামনে অগ্রণী হয়োনা, এবং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু শুনেন ও জানেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরা নবীর কন্ঠস্বরের উপর তোমাদের কন্ঠস্বর উঁচু করো না, এবং তোমরা একে অপরের সাথে যেরূপ উঁচুস্বরে কথা বলো, তাঁর সাথে সেইরূপ উঁচুস্বরে কথা বলোনা। এতে এমন হতে পারে যে, তোমাদের সমস্ত আমল নিস্ফল হয়ে যাবে, অথচ তোমরা সামান্য টেরও পাবে না। যারা আল্লাহর রসুলের সামনে নিজেদের কন্ঠস্বরকে নীচু করে, আল্লাহ তাদের অন্তরকে তাক্বওয়ার জন্যে শুদ্ধ করে দিয়েছেন। তাদের জন্যে রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার। সুরা আল-হুজুরাতঃ ১-৩।
(৯) প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় অধিকাংশ মানুষই নিজের বাবার বা দাদার বাড়িতে বড় হয়। একারণে মানুষ নানা-নানীর চাইতে দাদা-দাদীর সাহচর্য বেশি পায়। স্বাভাবিকভাবেই সন্তানেরা বড় হয়ে নানা-নানীর চাইতে দাদা-দাদীর কথাই বেশি স্বরণ করে। একারণে অনেকে মেয়ের চাইতে ছেলে সন্তানের আকাংখা বেশি করে, যাতে করে ছেলের মাধ্যমে তার নিজের বংশধারা ও মানুষের মাঝে তার নাম জারী থাকে। আসলে ছেলে বা মেয়ে, উভয়ের সন্তানই একজন মানুষের বংশ। কিন্তু যেহেতু সমাজের মানুষ ছেলের বংশধারাকে বেশি গুরুত্ব দেয়, একারণে আরবরা কোন ব্যক্তির ছেলে সন্তান না থাকলে বা একমাত্র ছেলে সন্তান জন্ম নেওয়ার পরে মৃত্যুবরণ করলে তাকে আবতার বলে হেয় করতো। কারণ তারা মনে করতো, ছেলে সন্তান না থাকলে ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর পরে তাকে স্বরণ করার মতো তার বংশধর বাকি থাকবেনা।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রথম স্ত্রী, যোগ্যতম সংগিনী মা খাদীজাহ রাদিয়াল্লাহু আনহার গর্ভে পরপর চারটি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করেছিলো। তাঁদের পঞ্চম সন্তান হয়েছিলো একটি ছেলে, যার নাম রাখা হয়েছিলো আব্দুল্লাহ। কিন্তু আল্লাহর নির্ধারিত তাকদীর অনুযায়ী সেই ছেলে সন্তানটি বেশিদিন বেঁচে ছিলোনা, শৈশবেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবনে এটা খুব দুঃখজনক একটা ঘটনা হলেও ইসলাম এবং তাঁর সর্বশেষ নবীর শত্রুরা এতে খুব আনন্দ-উল্লাস প্রকাশ করলো এবং এনিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা আরম্ভ করলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে ঘোরতর শত্রুতা পোষণকারী আস ইবনে ওয়াইল তাঁর প্রসংগে কোন কথা শুনলেই বিদ্রুপ করে বলতো, মুহাম্মদের কথা রাখো! সেতো একজন আবতার (যার কোন পুত্র সন্তান নেই)। তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁর নাম-নিশানা শেষ হয়ে যাবে। (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)। কাফের-মুশরেকদের এধরণের কথার জবাব দিয়েছিলেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা।
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
১. নিশ্চয়ই আমি আপনাকে (হাউজে) কাউসার (অথবা প্রভূত কল্যাণ) দান করেছি।
২. সুতরাং আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামায আদায় করুন এবং কুরবানী করুন।
৩. নিশ্চয়ই আপনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী (শত্রুরাই) হচ্ছে আবতার।
সুরা আল-কাউসারঃ ১-৩।
এই সুরাটিতে আল্লাহ তাআলা কাফের মুশরেকদের ঠাট্টা-বিদ্রুপের জবাব দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এই বলে সান্ত্বনা দিলেন যে, আপনি তাদের কথা কষ্ট পাবেন না, আমিতো আপনাকে মর্যাদাপূর্ণ কাউসার দান করেছি। এই কাউসারের কি অর্থ, সেটা নিয়ে আলেমদের দুইটি মত রয়েছে।
এক. হাউজে কাউসার বা পানির ঝরণা।
দুই. প্রভূত কল্যাণ।
ইমাম ইবনে কাসীর (রহঃ) প্রভূত কল্যাণ অর্থটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। কারণ, এই অর্থ নেওয়াতে এমন ব্যাপকতা রয়েছে, যাতে অন্যান্য অর্থও শামিল হয়ে যায়। যেমন সহীহ হাদীসে বলা হয়েছে যে, কাউসার এটা একটি ঝরণা, যা জান্নাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দান করা হবে। কোন কোন হাদীসে কাওসার বলতে হাওয বুঝানো হয়েছে। যে হাওয হতে ঈমানদাররা জান্নাতে যাওয়ার পূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুবারক হাতে পানি পান করবে। জান্নাতের ঐ ঝরণা বা নহর থেকেই পানি সেই হাওযের মধ্যে আসতে থাকবে। অনুরূপ দুনিয়ার বিজয়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মর্যাদা ও খ্যাতি, চিরস্থায়ীভাবে তাঁর সুনাম এবং আখেরাতের প্রতিদান ও বিনিময় ইত্যাদি সমস্ত জিনিসই প্রভূত কল্যাণ এ শামিল হয়ে যায়। তাফসীর ইবনে কাসীর, সুরা কাউসার।
নিশ্চয়ই আপনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী (শত্রুরাই) হচ্ছে আবতার। - এই আয়াত দ্বারা আল্লাহ তাআলা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, আপনি নির্বংশ নন; বরং আপনার দুশমনেরাই নির্বংশ হবে। সুতরাং, মহান আল্লাহ তাঁর বংশকে তাঁর কন্যার পরম্পরা দ্বারা বাকী রেখেছেন। এছাড়া তাঁর উম্মতও তাঁর আধ্যাত্মিক সন্তানের পর্যায়ভুক্ত, যাদের আধিক্য নিয়ে তিনি কিয়ামতে অন্যান্য উম্মতের উপর গর্ব করবেন। এ ছাড়াও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাম সারা বিশ্বে বড় শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে নেওয়া হয়। পক্ষান্তরে, তাঁর শত্রুদের নাম শুধুমাত্র ইতিহাসের পাতাতেই লেখা পড়ে আছে। কারো অন্তরে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নেই এবং কারো মুখে প্রশংসার সাথে তাদের নাম উল্লেখ হয় না।
উৎসঃ তাফসীর আহসানুল বায়ান, সুরা কাউসার।
(১০) মানুষ যখন কারো কটু কথা, বাজে মন্তব্য বা ঠাট্টা-বিদ্রুপ, মিথ্যা অপবাদের কারণে খুব বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তখন অনেক সময় কষ্টে বুকটা সংকুচিত হয়ে আসে। কাফের-মুশরিকরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে মিথ্যাবাদী, যাদুকর, পাগল, কবি, উন্মাদ, গণক ইত্যাদি মিথ্যা অপবাদ দিত। আর মানুষ হওয়ার কারণে আমাদের মতো তিনিও এসব কথায় দুঃখ পেতেন, মুশরিকদের কটু কথার কারণে তাঁর বুক সংকুচিত হয়ে যেত। মহান আল্লাহ সান্ত্বনা দিয়ে তাঁকে বলেছিলেন, আমি জানি তাঁদের কথার কারণে আপনার হৃদয় সংকুচিত হয়ে আসে। কিন্তু আপনি সেইগুলোর দিকে লক্ষ্য না করে, আপনি আমার প্রশংসা করুন, নামায পড়ুন এবং আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন হন। এর দ্বারা আপনার অন্তর শান্তি লাভ করবে এবং আল্লাহর সাহায্য আসবে।
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আমি তো অবশ্যই জানি যে, তারা যেই কথা বলে তার কারণে আপনার হৃদয় সংকুচিত হয়ে যায়। সুতরাং, আপনি আপনার প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন এবং সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হন। আর আপনার ইয়াকীন (দৃঢ় বিশ্বাস) উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত আপনি আপনার প্রতিপালকের ইবাদত করুন। সুরা আল-হিজরঃ ৯৭-৯৯।
এখানে সিজদাকারী বলতে নামায পড়ার আদেশ এবং ইয়াকীন বলতে মৃত্যুকে বুঝানো হয়েছে।
যারা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে, তাদের জন্যে স্বয়ং আল্লাহই যথেষ্ঠঃ সুতরাং (হে নবী!) আপনি যে বিষয়ে আদিষ্ট হয়েছেন, তা প্রকাশ্যে প্রচার করুন এবং মুশরিকদেরকে উপেক্ষা করুন। আপনার বিদ্রূপকারীদের বিরুদ্ধে আপনার জন্য আমি একাই যথেষ্ট। সুরা আল-হিজরঃ ৯৪-৯৫।
(১১) প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে অনুগ্রহ করে আল্লাহ তাআলা নবী বানিয়েছেন, তাঁর পূর্বের ও পরের সমস্ত ভুল-ত্রুটি মাফ করে দিয়েছেন, দুনিয়া ও আখেরাতে সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থান দান করেছেন. . .এমন আল্লাহর অসংখ্য অনুগ্রহের জন্য আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতাবশত তিনি বেশি বেশি নফল ইবাদত করতেন। রাতের বেলায় তিনি এতো দীর্ঘ সময় ধরে তাহাজ্জুদ নামায পড়তেন যে, তাঁর পা ফুলে যেতো। আল্লাহর ভয়ে তিনি এতো বেশি কান্নাকাটি করতেন যে, তাঁর চেহারা, শরীর, নামাযের স্থানের সামনে মাটি পর্যন্ত চোখের পানিতে ভিজে যেত। তাঁর দেখাদেখি তাঁর বিশ্বস্ত সাহাবীরাও কুরআনুল কারীমের উপর আমল করা শুরু করে দেন। এতে মুশরিকরা বলাবলি শুরু করলো, (কুরআনুল কারীম নাযিলের কারণে) এই লোকগুলো তো বেশ বিপদে পড়ে গেলো।
তখন আল্লাহ তাআআলা এই আয়াত নাযিল করেছিলেন, ত্বোয়া হা। (হে নবী!) আমি তো এই কুরআন আপনাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য আপনার উপর নাযিল করিনি। বরং (আমি এই কুরআন নাযিল করেছি) এমন ব্যক্তিকে উপদেশ দেওয়ার জন্য, যে (আল্লাহকে) ভয় করে। সুরা ত্বোয়া হাঃ ১-৩।
অর্থাৎ, মানুষকে কষ্ট দেওয়া ও বিপদে ফেলার জন্যে কুরআন নাযিল হয় নাই। বরং এটা সৎ লোকদের জন্যে শিক্ষণীয় বিষয়। 
আসুন আমরা সকলেই পড়িঃ
আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়া-আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া-আলা আলি ইব্রাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া-আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারা-কতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া-আলা আলি ইব্রাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।

বুধবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৬

৯টি প্রশ্নের উত্তর

________________________
(১) গাজওয়াতুল হিন্দ সম্পর্কে একটু বলবেন?
গাজওয়ায়ে হিন্দ বা হিন্দুস্থানের যুদ্ধ
ভারত বিজয় সম্পর্কিত হাদীসের ব্যপারে আল্লামাহ হামুদ আত-তুয়াইজিরি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, আবু হুরাইরা রাঃ কর্তৃক হিন্দের বিজয় সম্পর্কিত যেই হাদীস বর্ণিত হয়েছে, হাদীসটি যদি সহীহ হয়ে থাকে তাহলে এই বিজয় এখনো সংঘটিত হয়নি। যখন ঈসা আঃ পুনরায় আগমন করবেন তখন হিন্দের বিজয় হবে। আল্লাহ ভালো জানেন। ইফহাত আল-জামআহঃ ১/৩৬৬।
.
শায়খ Muzammel Hoque লিখেছেনঃ
আবু হুরাইরা বলেন, রাসুল সঃ গাজওয়ায়ে হিন্দ (হিন্দুস্থান বা সিন্ধু যুদ্ধের) অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। আমি সে যুদ্ধ পেলে তাতে আমার জান-মাল সব দিয়ে শরীক হবো। যদি মারা যাই তাহলে হবো উত্তম শহীদ। আর যদি জয়ী হয়ে বেঁচে থাকি তাহলে আমি হবো গাজী আবু হুরাইরা। মুসনাদে আহমাদঃ ২/২২৯, নাসায়ীঃ ৩১৭৩।
সাওবান রাঃ রাসুল কারীম সঃ থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেছেনঃ আমার উম্মতের দুইটি সেনা গোষ্ঠী হবে, আল্লাহ তাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করবেন। তার মধ্যে একটি মারিয়াম পুত্র ঈসার সঙ্গী হয়ে হিন্দ (হিন্দুস্থান) বিজয় করবে। মুসনাদে আহমাদঃ ৫/২৭৮, নাসায়ীঃ ৩১৭৫, শায়খ আলবানী সহীহ বলেছেন।
গাজওয়ায়ে হিন্দ সম্পর্কে যেসব হাদিস পাওয়া যায় তম্মধ্যে এই হাদিস দুইটি বিশেষ ভাবে উল্লেখ করার মত। একটি দাঈফ বা দুর্বল, আরেকটি সহীহ বলে কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন। এই যুদ্ধ হয়ে গেছে না আগামীতে হবে তা নিয়ে আলেমদের মাঝে মতের মিল হয়নি। এই যুদ্ধ কখন হয়েছে বা কখন হবে, তা নিয়েও মতানৈক্য রয়েছে। কারণ আল্লাহর রাসুল দিন-কাল ঠিক করে বলেন নি। ইসলাম যেসব বিষয়ে স্থান-কাল ঠিক করে নাই, তা নিয়ে আমাদের অনধিকার চর্চা করা ঠিক নয়। হওয়া না হওয়া নিয়ে সুখ বা দুঃখ প্রকাশ করারও যুক্তি নেই। তা নিয়ে ঝগড়ার অবতারণা করাও সমীচীন নয়। এই জাতীয় হাদিস থেকে উম্মতের জন্য এক প্রলয়ংকার নাটক খাড়া করাও নেহায়েত বাড়াবাড়ি ছাড়া কিছু নয়। হাদীসের ভাষ্য যদি সত্য হিসাবে ধরে নেয়া হয়, আর ধরে নেওয়া হয় যে এই যুদ্ধ হয়ে গিয়েছে, তাহলে তা অস্বীকার করার মত এমন কোন শক্তিশালী দলীল নাই। আর না হয়ে থাকলে ভবিষ্যতে কবে হবে, তা বলার ক্ষমতা কারো নাই।
সুলতান মাহমুদ গাজনাবী গাজনাহ থেকে শুরু করে খোরাসান বুখারা সমরকন্দ হয়ে কাশ্মীর আফগানিস্তান পর্যন্ত রাজ্যের সীমানা বিস্তার করেন। ২৪ বছরের শাসন কালে ১২টি যুদ্ধ করেন এবং সকল যুদ্ধেই জয়লাভ করেন। এত বড় বিজয় ও সফলতা নিশ্চিতভাবে অলৌকিক সাহায্যের বার্তা বহন করে। তিনি ৪২২ হিজরী সনে মৃত্যুবরণ করলে তার ঐ রাজ্য সেলজুকিদের হাতে চলে যায়। সেখান থেকে ৫৮২ হিজরীতে ঘৌরি সুলতানরা দখল করে নেয়। এটাকেই যদি কেউ সেই গাজওয়ায়ে হিন্দ বলে মনে করে তাকে কিইবা বলার থাকতে পারে? নতুবা হয়ত আগামীতে হবে, তাতেইবা এত ব্যতিব্যাস্ত হওয়ার কি কারণ থাকতে পারে?
________________________
(২) assalamualikum....vai meyeder ki onno der dinn er dawat dewa foroj...tader ki dinn er dawat deyar jonno ghor theke jayej ace???....sami jodi na chay tar por o ki ghor theke bahir hoye dinn er dawat deya jabe or proyojon ace...???
১/ নারীদের দাওয়াতের ক্ষেত্র তাদের নিজেদের ঘরে। সফর করে বাইরে যাওয়া তাদের জন্যে ফরজ নয়।
২/ কোন নারী যদি দ্বীনের জ্ঞান সম্পন্ন হয় তাহলে হিজাব পর্দার মধ্যে থেকে সে কোন মহিলা মাদ্রাসা বা গার্লস স্কুলে দ্বীন শিক্ষা দিতে বা নিতে পারে। বা তার নিকট আত্মীয় বা বন্ধুদের visit করতে পারে, মাহরাম সহ।
৩/ স্বামীর অবাধ্য হওয়া যাবেনা। তবে ফিতনাহ আশংকা না থাকলে এবং স্বামীর অধিকারে ত্রুটি না করলে, স্বামীর উচিৎ স্ত্রীকে দ্বীনের ব্যপারে সাহায্য করা।
৪/ প্রচলিত তাবলীগ জামাতের জোড় নামে যেই প্রোগ্রাম এখানে ভুল শিক্ষা দেওয়া হয়, আর এরা নিজেদের মনগড়া পদ্ধতিতে দ্বীন পালন করছে। তাদের ব্যপারে সাবধান থাকতে হবে।
________________________
(৩) নারী জাতিকে কার পাজর থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে?
শুধুমাত্র হাওয়া আঃ কে আদম আঃ এর বুকের বা পাশের বাঁকা একটি হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। ঈসা সাঃ ছাড়া বাকি সমস্ত আদম সন্তান বাবা-মায়ের মাধ্যমে এসেছে। তবে যেহেতু আদম আঃ মাটির তৈরী সেই হিসাবে নারী ও পুরুষ সবাইকে মাটির তৈরী মানুষ বলা হয়। কিন্তু নারী হাওয়া আঃ এর সৃষ্টি সরাসরি মাটি থেকে না হয়ে আদম আঃ থেকে হওয়ায়, সাধারণভাবে বলা হয়, নারীরা পুরুষের বুকের বাঁকা হাড় থেকে সৃষ্টি। আর একারণে নারী ও পুরুষ স্বাভাবিকভাবেই একজন আরেকজনের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে।
________________________
(৪) আসসালামলাইকুম।মৃত্যু মহিলাকে কি পুরুষ কোন ভাই বা পুরুষ আত্বীয় স্বজন দেখতে পারবে? জানার খুব দরকার ছিল।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ...বাবা, চাচা, মামা, সন্তান, আপন ভাই, স্বামী বা মাহরাম যে কেউ দেখতে পারবে। মানুষ মৃত্যুর পরে তার স্বামী/স্ত্রী দেখতে পারবে। আমাদের দেশে অজ্ঞ লোকেরা মনে করে, স্ত্রী মৃত্যুবরণ করলে বিয়ে ভেংগে যায়, তাই তার স্বামী তাকে দেখতে পারবেনা। এবং অনেককে তার মৃত স্ত্রীকে দেখতে দেওয়া হয়না। এটা একটা মারাত্মক অজ্ঞতা।
________________________
(৫) ছেলেরা এখন সারাদিন বউ দের এ চামচামি করে কাজেই এইসব বউ জামাই এর হক রিলেটেড পোস্ট না দিয়ে এক্তু সন্তান এর উপর মায়ের হক রিলেটেড পোস্ট দিলে খুশি হই!!
- যে যেটার ভুক্তভোগী, সে সেটাকেই প্রধান সমস্যা মনে করে। স্ত্রীর গোলামী করে যেমন অনেক পুরুষেরা মায়ের হক্ক নষ্ট করে, তেমনি অনেক পুরুষেরা প্রবৃত্তির অনুসারী হয়ে স্ত্রীর হক্ক নষ্ট করে। দুটো সমস্যাই সমাজে খুব বেশি প্রচলিত।
- একটা মানুষ বড় হয়ে কেমন হবে, সেটা ছোটবেলায় বাবা-মায়ের কাছ থেকে শিখে। অনেক বাবা-মা নিজেরাই সন্তানদেরকে দ্বীন শেখানোর চেষ্টা করেনা, এমন বেদ্বীন সন্তানদের জন্যে বাবা মায়ের হক্ক নষ্ট করা তখন খুব স্বাভাবিক। যে আল্লাহর হক্ক আদায় করেনা, সে মা বাবার হক্ক আদায় না করতে আর কাকে ভয় করবে?
________________________
(৬) কোন নারী যদি চাকুরী করতে চাই আর স্বামী চাকরী করতে না দেই তা হলে বিয়ে ভেঙ্গে যায়| অথবা চাকুরী করতে দিলেও টাকা পয়সা স্ত্রীর মা বাবাকে দেই এবং মা বাবাকে নমিনী করে| এ ব্যাপারে শরীয়াতের হুকুম কি?
- জটিল প্রশ্ন, বিয়ের পূর্বে তাদের মাঝে কি কথা হয়েছিলো, চাকুরীর ধরণ কি, চাকরী করলে স্বামীর অধিকার নষ্ট হবে কিনা জানা প্রয়োজন। স্ত্রী শরিয়ত সম্মত কোন চাকরি করছে এমন অবস্থায় স্বামী যদি বিয়ের পূর্বে স্ত্রীকে চাকরি করতে দিবে বলে কথা দেয়, আর চাকরির কারণে স্বামীর অধিকার নষ্ট না হয়, তাহলে বিয়ের পরে স্বামী স্ত্রীকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করতে পারবেনা। আর স্ত্রীর টাকা তার, সে যাকে ইচ্ছা তাকে দিতে পারে। আমি সময় পেলে লিখবো ইন শা আল্লাহ, ভুলে গেলে মনে করিয়ে দিবেন।
যাযাকাল্লাহু বিখাইর|| মেয়েটি চাকুরীর জন্য অনুমতি নিয়েছিল এবং সে সরকারী ব্যাংকে চাকুরী করে|
- সরকারি ব্যংক সুদী প্রতিষ্ঠান। এখানে চাকুরী করা নারী ও পুরুষ সকলের জন্যে হারাম।
________________________
(৭) যদি বিয়ের আগে সহবাস করে আপন জেডার সাথে স্ব ই ইচ্চায় জোর পুর্বক নয়। আর বিয়ের পরে স্বামি তা জানতে পারে। তখন স্বামির কি করা উচিত। দয়া করে একটু বলবেন ভাই উপকার হবে।
[প্রশ্ন নং ২০]
একজন মহিলা বলে, সে এক নেককার লোকের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। সে বিবাহের পূর্বে এমন কিছু কাজ করেছে যা আল্লাহ পছন্দ করেন না। এখন তার মনে বিষয়টি সর্বদা পীড়া দিচ্ছে। এখন তার প্রশ্ন, সে কি তার স্বামীকে পূর্বে যা কিছু ঘটেছে তা জানাবে?
উত্তর: স্বামী স্ত্রীর উভয়েরই কেউ অপরকে জানান ওয়াজিব নয় যে, অতীতে সে কি করেছে। কেউ যদি এসব পঙ্কিলতার দ্বারা পরীক্ষিত হয়ে থাকে তাহলে সে যেন তা আল্লাহর ওয়াস্তে গোপন করে। তার জন্য খালেস তাওবাই যথেষ্ট।
তবে কেউ যদি কুমারী মেয়েকে বিবাহ করে অতঃপর প্রকাশিত হয় যে, মেয়েটি প্রকৃত কুমারী নয়, অতীতে অপকর্ম করার কারণে, তাহলে সে যে মোহর দিয়েছে তা ফেরত নিয়ে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারে। আর যদি সে দেখে যে, সে তাওবা করেছে যার ফলে আল্লাহ তার দোষ গোপন রেখেছেন তাহলে যদি তাকে দাম্পত্যে রেখে দেয় তাহলে অবশ্যই মহান আল্লাহ কর্তৃক নেকী ও সোয়াবের ভাগী হবে।
________________________
(৮) চোখের নজর লাগা সত্যি। হিংসার বশে মানুষের চোখের নজর দ্বারা মানুষের জান-মালের অনেক ক্ষতি, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
________________________
(৯) ছবির ফিতনাহ নিয়ে আমাদের একটা পোস্টে একভাই লিখেছেন, "কিছু ইসলামী ওয়েবসাইটে মহিলাদের মেহেদীযুক্ত হাতের ছবি, বিবাহের আকর্ষণীয় পোশাকে ছবি (যদিও মুখ ঢাকা), আরও কিছু বোরকা পড়া মহিলার ছবি (পেছন দিক হতে তোলা), যেখানে অবয়ব বোঝা যায় কারণ বোরকা খুব অল্প ঢিলেঢালা, এগুলো দেওয়াও জায়েজ হবে বলে মনে হয়না। সবগুলোই ফেতনা বলেই মনে হয়, যদিও মুখও ঢাকা! !আমি এসব ছবি দেওয়ারও বিরোধী!!"

- এইগুলোকে আমিও ফিতনাহ এবং অজ্ঞতা বলে মনে করি। সহীহ আকিদাহ, ভ্রান্ত আকিদাহর...প্রায় সমস্ত ফেইস বুক পেইজে এই কাজগুলো করা হয়। এইভাবে আস্তে আস্তে দাওয়াতী কাজের মান নীচে নামবে, মানুষ আলেমদেরকে বাদ দিয়ে মিডিয়াতে মূর্খ লোকদের রঙচঙ্গা ও জনপ্রিয় ইসলামের দিকে ঝুঁকে পড়বে। আল্লাহু মুস্তায়া'ন।

রবিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৬

ইন্টারনেট মুসলিম, ভার্চুয়াল ইসলাম (পর্ব-৪) - ছবি

ইন্টারনেট মুসলিম, ভার্চুয়াল ইসলাম (পর্ব-৪)
আহলে হাদীস, সালাফী, সহীহ আকিদাহ, ডা. জাকির নায়েক ভক্ত, এমন নামে-বেনামে বিভিন্ন লেবেলধারী অনেক লোকেরা ছবি নিয়ে মারাত্মক ফিতনাহর মাঝে ডুবে আছে। টিভি, ইন্টারনেট থেকে দ্বীন শেখা অনেক ছাত্রদের কাছে ছবি তোলা বা ছবি প্রচার করা যেন ফরয-ওয়াজিব হয়ে গেছে। তাদের অনেকে প্রিয় বক্তাদের ছবি ছাড়া কুরআনের একটা আয়াত প্রচার করতে পারছেন না। প্রতিদিন সকাল-বিকাল প্রিয় বক্তাদের একটা করে ছবি পোস্ট না করলে তাদের দিনটাই যেনো নষ্ট হয়ে গেলো। অমুক শায়খ খুতবা দেবেন, তার একটা ছবি। অমুক বক্তা হজ্জে গেছেন, কাবার সামনে তার একটা সেলফী। অমুক নামায পড়ছেন, দুয়া করছেন, তার একটা ছবি। ছবি প্রচার করার কত যে বাহানা! সাধারণ মানুষের কথা নাহয় বাদই দিলাম. . .তাদের বিশাল বড় বক্তারাই যত্রতত্র নিজেদের, নিজেদের ছেলে-মেয়েদের ছবি তুলে প্রচার করার প্রতিযোগীতায় লিপ্ত। ঈমানদারদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সব সময় নিজেদেরকে আড়াল রাখতে চায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি, মহান আল্লাহ্‌ মুত্তাক্বী, প্রশস্ত অন্তরের অধিকারী ও আত্মগোপনকারী বান্দাকে ভালোবাসেন। সহীহ মুসলিমঃ ৭৬২১।
আর বর্তমান যুগের নারী পুরুষেরা যেনো ফেইসবুক ইন্টারনেটে কোন একভাবে নিজেকে, নিজেদের স্ত্রী-সন্তানদেরকে, নিজেদের ঈমান-আমল মানুষের মাঝে প্রচার করে জনপ্রিয়তা বাড়ানোর অসুস্থ প্রতিযোগীতায় লিপ্ত। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই কাজগুলোকে অনেকে তাদের দাওয়াতের(!) প্রধান মাধ্যম বানিয়ে ফেলেছে। আর ইলম থেকে বঞ্চিত লোকেরা এমন অজ্ঞতাপ্রসূত কাজগুলোর জন্যে বাহবা দিচ্ছে। কিছু কিছু মানুষের অজ্ঞতা এতোটাই মারাত্মক যে, অবাক না হয়ে পারা যায়না। যেই সমস্ত আলেমরা যেমন শায়খ বিন বাজ, শায়খ আলবানী, শায়খ ফাউজানছবি তোলার নিষেধাজ্ঞার ব্যপারে সবচাইতে কঠোর ফতোয়া প্রদানকারী, আলেমদের ইখতিলাফ (মতবিরোধের) দোহাই দিয়ে সেই সমস্ত আলেমদের ছবিও প্রচার করতে তারা দ্বিধা বোধ করছেনা। সহিহ আকিদাহ লেবেল নিয়ে এমন অজ্ঞ ইসলাম প্রচারকারীদের ফিতনাহ থেকে আল্লাহ তায়ালা মুসলিম জাতিকে হেফাজত করুন, আমিন।
দাঁড়ি-টুপি পড়া অনেক লোকেরা মনে করে, আমরা পুরুষ মানুষ, আমাদের আবার কিসের লজ্জা? সুতরাং ইচ্ছামতো নিজে ছবি প্রচার করে ফ্যাশান শো করি। আবার অনেক হিজাবী কিন্তু মুখ খোলা মহিলারা মনে করছে, আমিতো হিজাব-পর্দা করছি। সুতরাং, হিজাব পর্দার আড়ালে বাজারের চাইতে নিকৃষ্ট একটা জায়গা ফেইসবুকে নিজের চেহারা বা শরীরের অংগ-ভংগি দ্বারা যদি পুরুষদের চোখে একটু মজা দিতে পারি, তাহলে এতে এমন আর কি ক্ষতি হয়ে গেলো? এইভাবে অনেক নামাযী, ধার্মিক লোকেরাও অমুলসিম কিংবা ফাসেক নায়ক-নায়িকাদের মতো ছবি তোলা এবং প্রচার করার ফ্যাশানে আক্রান্ত। ফেইসবুক, ইন্টারনেটে যত্রতত্র ছবি প্রচার করার ফিতনাহর ব্যপারে বিস্তারিত জানার জন্য আমি আপনাদের কিছু লিংক দিচ্ছি।
.
ইসলামে ছবি অঙ্কনের হুকুম
- শায়খ আব্দুল্লাহ শাহেদ আল-মাদানী
https://www.facebook.com/dawati.kaj/posts/1799829283622562
.
প্রয়োজন ছাড়া ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলার বিধান কি?
- শায়খ আব্দুর রাক্বিব মাদানী হাফিজাহুল্লাহ
https://www.youtube.com/watch?v=YTjFnS-bnP0
.
ফেইসবুকে নিজের ছবি পোষ্ট সম্পর্কে ইসলামী শরীয়তের হুকুম কি?
- শায়খ মতিউর রহমান মাদানী
https://www.youtube.com/watch?v=mYAtrzbjWCk
.
বিঃদ্রঃ
(১) লেখাটা ভালো করে পড়ে, তার অর্থ অনুধাবন না করে কেউ কোন মন্তব্য করবেন না। অপ্রাসংগিক বা যেকোন ধরণের অসংগত কমেন্ট রিমুভ করা হবে।

(২) ব্যক্তিগত কারণে নিয়মিত পোস্ট কিংবা নতুন কোন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। সুতরাং, আমাদের পোস্টগুলোতে প্রশ্ন বা মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার জন্যে সকলকে বিনীতভাবে অনুরোধ করা হলো।

রবিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৬

কোন আমল ‘মসজিদে নববীতে এক মাস ইতিকাফ করার’ চাইতেও উত্তম? শায়খ রাসলান

কোন আমল মসজিদে নববীতে এক মাস ইতিকাফ করার চাইতেও উত্তম?
বিসমিল্লাহ।
আলহামদুলিল্লাহ। ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহ।
আম্মা বাআদ।
আপনার দ্বীন কেমন হবে, সেটা আপনি কার কাছ থেকে ইসলাম শিখছেন তাঁর ঈমান, ইলম ও ব্যক্তিত্বের উপরে নির্ভর করে। আপনি যদি কোন জাহেল (মূর্খ) ব্যক্তিকে নিজের উস্তাদ হিসেবে নেন, আপনি নিজের অজান্তেই কুরআন ও হাদীস শিখার আড়ালে মূর্খতা শিখবেন। আপনি যদি কোন পথভ্রষ্ট বিদআতী লোকের কাছ থেকে দ্বীন শিখেন, তাহলে আপনিও শিরক-বিদআতকে সঠিক দ্বীন বলে মনে করবেন। আপনি যদি কোন তাকফিরী-খারেজী চরমপন্থী মতবাদের অনুসারী কোন ব্যক্তির কাছ থেকে দ্বীন শিখেন, তাহলে বোমা মেরে নিরীহ মানুষ হত্যা, জংগীবাদ, মুসলিম দেশে ফিতনাহ-ফাসাদ সৃষ্টি করাকেই হক্কপন্থী দল বলে মনে করবেন। পক্ষান্তরে আপনি যদি আলেমদের কাছ থেকে দ্বীন শিখেন, তাহলে আপনার দ্বীন হবে নূরান্বিত, জ্ঞানের উপর প্রতিষ্ঠিত, চরমপন্থা ও উদাসীনতা থেকে মুক্ত, মধ্যমপন্থার অনুসরণকারী। এছাড়া আলেমদের দারসে, বক্তব্য ও লিখনীর মাঝে আল্লাহর রহমত, বরকত থাকে, যা জ্ঞানী ও দৃষ্টি সম্পন্ন লোকদের অজানা নয়। আলেমদের ইখলাস ও দ্বীনের প্রতি আন্তরিকতার কারণে তাদের কাছ থেকে শেখা ইলমে বরকতও বেশি থাকে। আপনি দেখবেন, একজন আলেমের শোনা একটা কথা দীর্ঘদিন আপনার মনে থাকবে, সেটার উপর আমল করতে আগ্রহ কাজ করবে। কিন্তু অল্প ইলম সম্পন্ন, আধা ইসলামিক বক্তাদের, কোন রিয়াকারী ব্যক্তির বা লোকের কাছে সম্মান কুড়ানোর জন্যে যেই সমস্ত দাওয়াতী কাজ চলে ইউটিউব, ফেইসবুক বা ইন্টারনেট, তাদের কাছ থেকে সারাদিন কুরআন ও হাদীস শুনবেন, কিন্তু ব্যক্তি জীবনে তার কোন প্রভাব দেখতে পারবেন না।
.
আলেমদের কাছ থেকে শোনা কোন কথা যে অন্য সাধারণ মানুষের কাছ থেকে শোনা কথার চাইতে অনেক বেশি উপকারী হয়, আমি আমার ব্যক্তিগত একটা উদাহরণ থেকে বলি। কয়েক বছর পূর্বে আমি মিশরীয় একজন আলেম, আল্লামাহ সাঈদ রাসলান হাফিজাহুল্লাহর একটা টেপ থেকে একটা হাদীস শুনেছিলাম। এতো সুন্দর ও আশ্চর্যজনক একটা হাদীস, এতোদিন পরেও আজ পর্যন্ত যতবারই হাদীসটার কথা মনে পড়ে, সাথে সাথে শায়খ রাসলানের কথা মনে পড়ে যায়। নীচে আমি হাদীসটার তর্জমা আপনাদের সামনে পেশ করছি। আমি আপনাদেরকে উৎসাহিত করবো জনপ্রিয়তা লোভী, অল্প ইলম সম্পন্ন বক্তা ও লিখকদের কথা না শুনে আহলে সুন্নাহর আলেমদের কথা শোনার জন্যে। সেটা হতে পারে আলেমদের লেকচার শোনার মাধ্যমে, তাদের বইয়ের অনুবাদ পড়ে। অথবা সরাসরি আলেমদের কাছ থেকে দ্বীন শিখেছেন, এমন তালিবুল ইলমদের ওয়াজ-লেকচার শোনার মাধ্যমেও আপনারা আলেমদের থেকে উপকৃত হতে পারেন।
.
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এসে বললো, ইয়া রাসুলুল্লাহ! মানুষের মাঝে আল্লাহর কাছে সবচাইতে বেশি প্রিয় কারা? আর কোন আমল আল্লাহর কাছে সবচাইতে বেশি প্রিয়? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, মানুষের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচাইতে বেশি প্রিয় হচ্ছে তারা, যারা মানুষের জন্যে সবচাইতে বেশি উপকারী ব্যক্তি। আর আল্লাহর কাছে সবচাইতে বেশি প্রিয় আমল হচ্ছেঃ একজন মুসলমানকে খুশি করা, অথবা তার কোন একটা দুঃখ দূর করা, অথবা তার ঋণ মাফ করে দেওয়া অথবা ক্ষুধার্ত অবস্থায় তাকে খাদ্য দেওয়া। মদীনার এই মসজিদে (মসজিদে নববীতে) এক মাস ইতিকাফ করার চাইতে কোন এক মুসলমান ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করার জন্যে তার সাথে হাঁটা আমার কাছে বেশি প্রিয়। যে ব্যক্তি নিজের রাগ দমন করে আল্লাহ তার দোষত্রুটি গোপন রাখবেন।
হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আসবাহানী এবং ইবনে আবি দুনিয়া। শায়খ সাঈদ রাসলান হাফিজাহুল্লাহ বলেন, হাদীসটি হাসান লি গায়রি।
.
উপরোক্ত হাদীস অনুযায়ী, আল্লাহর কাছে সবচাইতে প্রিয় হচ্ছে যারা মানুষের জন্যে সবচাইতে বেশি উপকারী। সুতরাং, আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার একটা উপায় হচ্ছে মানুষের উপকার করা। সেটা হতে পারে কথার দ্বারা, অর্থের দ্বারা, শক্তি দ্বারা. . .এমন যেকোন কিছু। আর একজন মুসলিম ভাইয়ের সাহায্য পূরণের জন্যে চেষ্টা করা, সেই উদ্দেশ্যে কিছু সময় ও শক্তি ব্যয় করা মসজিদে নববীতে এক মাস ইতিকাফ করার চাইতেও উত্তম।
সুবহানাল্লাহ!
চিন্তা করে দেখুন, মানুষের উপকার করা কত বড় সওয়াবের একটা কাজ!
.
মানুষকে উপকার করার কয়েকটি মাধ্যমঃ
(১) মুসলিম ব্যক্তিকে রক্ত দেওয়া বা তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেওয়া। এটা অনেক বড় একটা সাদাকাহ।
(২) মুসলিম ব্যক্তির অভাব পূরণের জন্যে বৈধ পন্থায় তার হয়ে কারো কাছে কোন কিছুর জন্যে সুপারিশ করা।
(৩) মুসলিম ভাইয়ের কর্ম সংস্থানের জন্যে সাহায্য করা, অবশ্যই সেটা বৈধ কোন পন্থায়। ঘুষ, অন্যায় লবিং, প্রশ্ন ফাঁস এমন হারাম কোন মাধ্যমে নয়।
(৪) মুসলিম ভাই বোনদের বিয়ের জন্যে সৎ পাত্র-পাত্রীর চেষ্টা করা।
(৫) মানুষকে দ্বীন শিক্ষা দেওয়া, অথবা তারা যাতে সঠিক জ্ঞানের উৎস খুঁজে পায়, সে ব্যপারে সাহায্য করা।
এমন আরো অনেক মাধ্যম রয়েছে। আপনি চেষ্টা করলে আল্লাহই আপনাকে নেক আমলের জন্যে রাস্তা দেখাবেন। তবে মনে রাখবেন, যখনই কোন নেক আমল করবেন, তার পূর্বে অন্তরকে ইখলাসা দ্বারা পবিত্র করে নিবেন। নেক আমলের উদ্দেশ্য হতে হবে শুধুমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা, লোক দেখানো, সামাজিকতা রক্ষা, কারো মন রাখা, লোকের আবদার রক্ষা করা, করতে হয় এইজন্যে করা, এমন দায়সারা যাতে না হয়। তাহলে কোন সওয়াব পাওয়া যাবেনা। শুধুমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা এই উদ্দেশ্যে অন্তরে রাখলে নেক আমলের সওয়াব পাওয়া যাবে। অন্তরে সওয়াবের আশা ও নিয়ত না থাকলে, অথবা নিয়তে খারাপী থাকলে, সেটা যতই ভালো আমল হোকনা কেনো, তার জন্যে এক ফোঁটা সওয়াব দেবেন না। আল্লাহ আমাদেরকে বুঝার ও আমল করা তোওফিক দান করুন, আমিন।   
.
বিঃদ্রঃ পোস্টটা এমনিতেই বড় হয়ে গেলেও একটা কথা না বলে পারছিনা। দ্বীন শিক্ষার্থী ভাই ও বোনদের দ্বীন শিখার আদব নিয়ে শায়খ রাসলানের খুব সুন্দর ও অত্যন্ত উপকারী একটা বই রয়েছে।
অনলাইনে আপনারা বইটা ফ্রী পাবেন এই লিংকে-
https://www.missionislam.com/knowledge/books/mannersknowseeker.pdf
.
শায়খ রাসলান হাফিজাহুল্লাহর খুতবার ছোট্ট একটা অংশ দেখতে পারবেন এই লিংকে
https://www.youtube.com/watch?v=a5JcbmjgHsg
এই ভিডিওটার বাংলা অনুবাদ করা হয়েছে
https://www.youtube.com/watch?v=P_V40z7bPJA