রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৪

আল্লাহর পরীক্ষা...

আজকে একজনের কথা শুনলাম যাদের ৫ বোনই ব্রেস্ট ক্যন্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেন। কিছু কিছু ক্যান্সার আছে যেইগুলো বংশগত, ব্রেস্ট ক্যান্সার তার মাঝে একটা।

মানুষের জীবনে দুঃখ-কষ্ট ও বিপদ-আপদ দিয়ে আল্লাহ তাদের ঈমানের পরীক্ষা করেন, এর বিপরীতে তাদের গুনাহ-খাতা ও ভুল-ভ্রান্তিকে মাফ করে তাদেরকে পবিত্র করেন ও জান্নাতে উচ্চ মর্যাদার জন্য যোগ্য করেন। আমরা সামান্য বিপদেই অধৈর্য হয়ে নিজেদের ভাগ্যের দোষ দিতে থাকি, অনেকে আল্লাহ সম্পর্কে মন্দ ধারণা করে, তাকদীরের প্রতি অসন্তুষ্ট হন, হতাশ হয়ে পড়ে...

এই সবগুলো অকৃতজ্ঞ, নফরমানি ও ঈমানী দুর্বলতার লক্ষণ। মানুষের স্বভাব সম্পর্কে মহান আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

উযু বিল্লাহিমিনাশ-শাইতানির রাযীম।
৪৯. মানুষ উন্নতি কামনায় কখনো ক্লান্ত হয় না; যদি তাকে অমঙ্গল স্পর্শ করে, তবে সে সম্পূর্ণ রূপে হতাশ হয়ে পড়ে।
৫০. বিপদাপদ স্পর্শ করার পর আমি যদি তাকে আমার অনুগ্রহ আস্বাদন করাই, তখন সে বলতে থাকে, এটাতো আমার প্রাপ্যই ছিলো; আমি মনে করি না যে, কেয়ামত কোনদিন সংঘটিত হবে। আর আমি যদি আমার পালনকর্তার কাছে কখনো ফিরে যাই, তাহলে নিশ্চয়ই তাঁর কাছে আমার জন্য কল্যাণ রয়েছে। অতএব, আমি কাফেরদেরকে তাদের কর্ম সম্পর্কে অবশ্যই অবহিত করব এবং তাদেরকে অবশ্যই আস্বাদন করাব কঠিন শাস্তি।
৫১. আমি যখন মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করি তখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং পার্শ্ব পরিবর্তন করে। আর যখন তাকে অনিষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে লম্বা দোয়া করতে থাকে।
সুরা হা মীম সাজদাহঃ ৪৯-৫১।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
দুনিয়ায় যারা বিপদ-আপদে নিপতিত হয়েছে তাদেরকে যখন কিয়ামতের দিন বিনিময় প্রদান করা হবে তখন বিপদ-আপত মুক্ত ব্যক্তিরা আশা করবে, দুনিয়ায় যদি তাদের চাঁমড়া কাচি দিয়ে টুকরা টুকরা করে ফেলা হত।
সহিহ আত্ তিরমিজি, সংসারের প্রতি অনাসক্তি অধ্যায়, হাদিসঃ ২৪০২, হাদীসটি হাসান সহীহ।

তবে আল্লাহ বিপদ দেন, আবার আল্লাহ আমাদেরকে বিপদ-আপদ ও ফেতনা থেকে বাঁচার জন্য উপায়-উপকরণ অবলম্বন করতে বলেছেন। আপনি যদি সহীহ দুয়ার বই (হিসনুল মুসলিম, ১০০০ সুন্নত...) অথবা সুন্নাহর গ্রন্থগুলো পড়েন (রিয়াদুস সালেহীন, আদাবুল মুফরাদ...), তাহলে দেখবেন রাসুল সাঃ কত ধরণের খারাপ জিনিস থেকে আল্লাহর কাছে বারবার আশ্রয় চাইতেন, মন্দ ভাগ্য থেকে বেঁচে থাকার জন্য দুয়া করতেন। কবরের আজাব, জাহান্নামের শাস্তি, বার্ধ্যক্য জনিত কষ্ট থেকে, ঋণগ্রস্থ হওয়া থেকে, পাপাচার ও কুফর থেকে, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা, দ্বীন ও দুনিয়ার নিরাপত্ত...এমন কত যে দুয়া সুন্নাহর মাঝে এসেছে...

দুয়া ছাড়া আরেকটা উপায় হচ্ছে, দুনিয়াবী উপকরণ গ্রহণ করা। যেমন, বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ালে ব্রেস্ট ক্যান্সারের চান্স কমে যায়। আজকাল মানুষ সন্তান কম নেয় ফলে বুকের দুধ খাওয়ানো কমে গেছে, গর্ভনিরোধক বড়ি, ইঞ্জেকশান নেয়, এই সবগুলো হচ্ছে উচ্চমাত্রার #হরমোন যার দ্বারা শরীরের অনেক কৃত্তিম পরিবর্তন করা হচ্ছে। একারণে ৪০ উর্ধ অনেক নারীদের মাঝে স্থূলতা, ডায়েবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ অনেক জটিল ব্যধি বেড়ে গেছে। এছাড়া পুরুষের সিগারেট তাদের লাংস, হার্ট ধ্বংস করে দেয়, পুরুষদের হার্ট এটাক, ডায়েবেটীস, উচ্চরক্তচাপের বড় একটা কারণ #স্মোকিং। সাধারণ মানুষদের কথা কি বলবো, মেডিকেলে পড়া ডাক্তার যখন দেখি শয়তানের ধোঁকায় পড়ে বিবেক বুদ্ধিকে না খাটিয়ে, হাসপাতালের কম্পাউন্ডেই বসে সিগারেট টানছে, তখন আল্লাহর ঐ আয়াতটার কথা মনে পড়ে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে কিন্তু তার উপর আমল করেনা, তাদের উপমা হচ্ছে পুস্তকবহনকারী #গাধার মতো। কত নিকৃষ্ট সেই উদাহরণ! (সুরা জুমুয়াহ)

যাই হোক, সমস্ত হারাম কাজ থেকে বেঁচে চলা, সুন্নাহর অনুসরণ বা সতর্ক হয়ে জীবন যাপন করলে ও আল্লাহর কাছ থেকে বিপদ থেকে নিয়মিত আশ্রয় চাইলে ইন শা আল্লাহ নিরাপদ থাকা যাবে। প্রসংগক্রমে বলে রাখা ভালো, প্রতিটা নারীর জানা থাকা উচিত ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণগুলি, যাতে করে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সেবাদানকারী এনজিওগুলোর বিভিন্ন প্রচারণা আছে, সেইগুলোর দিকে লক্ষ্য রাখলে আশা করি মা-বোনেরা প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো জানতে পারবেন। তবে খেয়াল রাখবেন, এই এনজিওগুলো আসলে ইসলামের #দুশমনের দ্বারা পরিচালিত, এবং এদের গোপন ষড়যন্ত্র আছে, ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে। বার্থ কন্ট্রোল তার মাঝে একটা, এছাড়া তাদের আরো অনেক প্রোগ্রাম আছে, আপনি বুঝেন আর না বুঝেন, এটাই সত্যি। আর অতি সম্প্রতিতো অষ্টম শ্রেণীর কিশোরী মেয়েদেরকে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, কিভাবে বহু পুরুষের সাথে নিরাপদে(!) শারীরিক সম্পর্কে রাখতে পারে। একটা নারীকে নষ্ট করা মানে একটা পরিবারকে ধ্বংস করা, একটা নষ্ট মেয়েকে যে বিয়ে করবে, তার স্বামী-সন্তান গোটা পরিবারটাই নষ্ট হবে...

সহশিক্ষা ও নারী-পুরুষের ফ্রী মিক্সিং দিয়ে নারীদেরকে #হেজাব পর্দা থেকে বের করে তাদের চরিত্র ও সতীত্ব নষ্ট করার মাধ্যমে মুসলমানদের সমাজকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র ১৮ ও ১৯ দশকের ওরিয়েন্টালিস্টরা (ইসলামের দুশমন) প্রকাশ্যেই ঘোষণা দিয়েছিলো।

হায় আফসোস! আজকে মুসলমানেরা দুনিয়ার লোভে (নারী, সম্পদ, ভোগ-বিলাস...) তাদের শত্রুদের (মানুষ ও জিন শয়তানের) কথা শুনে নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারছে, আর কাফেরদের কাছে প্রতিটা জায়গায় মার খাচ্ছে। যারা আলেম তারা বিপদ থেকে উম্মতকে আগেই সতর্ক করে দেন। আর যারা জাহেল ও প্রবৃত্তির অনুসারী তারাও বিপদটা বুঝতে পারে, কিন্তু সেটা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পরে, ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে যায়। মিশরে মুসলমানদের উপরে যে বিপদ এসেছিলো ওলামায়ে #রব্বানীরা আগেই উপদেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু আবেগের ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে, পথভ্রষ্ট মূর্খ আলেমদের পাল্লায় পড়ে, যেইটা ইসলাম নয় সেটার জন্য শহীদ হওয়ার (আল্লাহর রাস্তায় নয়, শয়তানের রাস্তায়) বাসনা নিয়ে অনেকেই #বেকার তাদের জীবন ও সম্পদ নষ্ট করেছে...

বিপদগ্রস্থ, অসহায় ও দুর্বল ও রোগীদের সেবা বা সাহায্য করা #অন্তর নরম করার একটা আমল, দুনিয়া ও পরকালের অনেক হিসাব মেলাতে সাহায্য করে। মৃত্যু পথযাত্রী বা কঠিন রোগে আক্রান্ত কাউকে দেখতে গেলে অনেক সওয়াব ও ফেরেশতারা যেমন তার জন্য দুয়া করে...তার পাশাপাশি তাদেরকে দেখলে আপনি বুঝতে পারবেন, তাদের তুলনায় আল্লাহ আপনাকে কত বেশি নিয়ামত দান করেছেন।

যে সকল বস্তু তোমরা চেয়েছ, তার প্রত্যেকটি থেকেই তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন। যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা কর, তবে তোমরা সেইগুলো গুণে শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় মানুষ অত্যন্ত জালেম এবং অকৃতজ্ঞ।
সুরা ইব্রাহীমঃ ৩৪।

একটি মাসয়ালাঃ
বিপদ বা পরীক্ষার জন্য কখনো দুয়া করা যাবেনা, বিপদ বা পরীক্ষা কামনা করা সম্পূর্ণ হারাম। বরং পরীক্ষা থেকে বাঁচার জন্য দুয়া করতে হবে। অতীতে এমন হয়েছে, অনেক জ্ঞানী ও আল্লাহওয়ালা লোকও পরীক্ষা কামনা করেছে, কিন্তু পরে অধৈর্য হয়ে গেছে। এমন একজন লোকের কথা ওলামারা উল্লেখ করেছেন, যেকিনা পরীক্ষায় পড়ে অধৈর্য হয়ে পরে ছোট শিশুদেরকে বলতো তার জন্য দুয়া করতে, (ছোট বাচ্চারা নিষ্পাপ, আল্লাহ তাদের দুয়া দ্রুত কবুল করতে পারেন এই আশায়)।  

আল্লাহ আমাদের ও আমাদেরকে পরিবারকে নিরাপত্তা দান করুন, আমিন। 

শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০১৪

আল্লাহর আইন দিয়ে যে দেশ পরিচালনা করেনা বা বিচার করেনা সে কি?

আপনি কি জানেন,

আল্লাহর আইন দিয়ে যে দেশ পরিচালনা করেনা বা বিচার করেনা সে কি?
১. বেদাতী
২. মুনাফেক
৩. কাফের
৪. ফাসেক
৫. মুসলমান
৬. জালেম

উত্তরঃ আল্লাহর আইন দিয়ে যারা বিচার করেনা, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে কাফের বলেছেন, আবার তাকে ফাসেক (পাপাচারী) ও জালেম (অন্যায়কারী/অত্যাচারী) বলেছেন। সুতরাং, অবস্থার উপর নির্ভর করে আল্লাহর আইন দিয়ে যে বিচার করেনা সে বড় কাফের হতে পারে আবার, কখনো সে বড় গুনাহগার ফাসেক জালেম বা পাপী মুসলমানও হতে পারে।

ব্যখ্যাঃ কেউ যদি #শরীয়াহ বা আল্লাহর আইনকে অস্বীকার করে, অথবা কেউ যদি মনে করে, আল্লাহর আইন অচল, আল্লাহর আইন থেকে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র বা তার বা অন্য কারো মত, মোট কথা মানুষের বানানো আইন-কানুন বেশি উত্তম, বর্তমান যুগের জন্য বেশি উপযোগী, অথবা আল্লাহর আইন আর মানুষের আইনকে যদি সমানও মনে করে, তাহলে সে কাফের, মুর্তাদ হয়ে চিরজাহান্নামী হয়ে যাবে।

কিন্তু কেউ যদি আল্লাহর আইনকে স্বীকার করে ও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে, কিন্তু ঘুষ খেয়ে, স্বজনপ্রীতির কারণে, দুনিয়াবী কোন স্বার্থে - আল্লাহর আইন অনুযায়ী বিচার করে না, কিন্তু মানুষের বানানো আইনকে ভুল মনে করে এবং আল্লাহর আইনই শ্রেষ্ঠ ও মানা সবার জন্য মানা ফরয বলে বিশ্বাস রাখে, তাহলে সে ছোট কুফুরী ও বড় অন্যায় করলো, এই কারণে সে #ফাসেক ও #জালেম হবে, কিন্তু সে মুসলমান থাকবে। তোওবা না করে মারা গেলে জাহান্নামে শাস্তি হওয়ার পরে সে জান্নাতে যেতে পারবে।

এই কথার দলীল হচ্ছে ক্বুরানুল কারীমের সুরা আল-মায়িদাহঃ ৪২-৪৭।
আপনারা ইমাম ইবনে কাসীরের তাফসীর গ্রন্থের পাবেন, এনিয়ে সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ এর বক্তব্য, এই আয়াতের তাফসীরে।

এই কারণে সালফে সালেহীন (আগের যুগের নেককার লোকেরা, অর্থাৎ সাহাবারা) ও পরবর্তী যুগের অন্যান্য ওলামারা আল্লাহর আইন অনুযায়ী কেউ বিচার না করলে, প্রথমেই তাকে কাফের বলে ফতোয়া দেন না। আগে নিশ্চিত হতে হবে তার পাপ কি ছোট কুফুরী, নাকি বড় কুফুরী?

ছোট কুফুরী হলে সে ব্যক্তি জালেম কিন্তু মুসলমান। আর বড় কুফুরী হলে সে কাফের।

উল্লেখ্য, খারেজীরা আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের এই নীতি মানেনা, শাসকের কবীরা গুনাহর কারণে সে যদি মুসলিমও হয়, তবুও খারেজীরা তাকে কাফের ফতোয়া দিয়ে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। খারেজীদের ধর্মই হচ্ছে এটা। বর্তমান যুগেও দেশ-বিদেশে এমন কিছু লোক আছে যারা খারেজীদের এই বাতিলের দিকে মানুষকে দাওয়াত দেয়। হিজবুত তাওহীদ এমনই একটা খারেজী দল, যাদের ইমাম হচ্ছে বায়েজীদ খান পন্নী এবং তাদের দাওয়াতী পত্রিকার নাম হচ্ছে দেশেরপত্র।

আধুনিক যুগের ২জন বড় কুফুরী করেছিলো এমন শাসক হচ্ছে, ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন এবং লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট গাদ্দাফি। সাদ্দাম হোসেন ছিলো বাথিস্ট, যে ক্ষমতায় আসার পরে তার দলের লোকেরা আল্লাহর কুশপুত্তলিকা বানিয়ে পুড়িয়ে ফেলে এবং আল্লাহ আজ থেকে মৃত বলে ঘোষণা করে নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক। এছাড়া আরো অনেক শিরকি কাজের জন্য শায়খ বিন বাজসহ অন্য আলেমরা সাদ্দামকে #মুর্তাদ ফতোয়া দিয়েছিলেন। অবশ্য তার ফাসির আগে সে তোওবা করেছে বলে দাবী করে, দাড়ি রাখে, কোর্টে কুরান নিয়ে আসে এবং লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলতে বলতেই সে ফাঁসিতে ঝুলে। তাই হতে পারে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, তাই আমরা এখন আর তাকে কাফের বলবোনা তার ব্যপারে চুপ থাকবো।

আর গাদ্দাফি পুরো #সুন্নতকেই সে অস্বীকার করেছিলো এবং সুন্নতকে শয়তানী বেদাত বলেছিলো, নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক। এছাড়া সে ক্বুল দিয়ে শুরু সুরার (ফালাক, নাস...) পূর্বে ক্বুল শব্দটিকে ক্বুরানের অংশ মেনে নিতে অস্বীকার করে। ক্বুরানের একটা আয়াতও দূরের কথা, কেউ যদি শুধু সন্দেহ করে, আলিফ লাম মীমের আলিফ অক্ষরটা কুরানে আছে কিনা তবুও সে কাফের হয়ে যাবে। গাদ্দাফির সাথে কথা বলে, তার কুফুরী বিস্তারিত জেনে-শুনে আরব দেশের অনেক ওলামা বহু আগে তাকে কাফের ফতোয়া দিয়েছিলেন। কিন্তু লিবিয়ার আহলে সুন্নত দুর্বল ছিলো বলে, ওলামারা গাদ্দাফির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে বলেন নি। যদিও বছর দুয়েক আগে তার বিরুদ্ধে কিছু মানুষ বিদ্রোহ করে এবং এর ফলে বিদ্রোহীরা মুসলমানদের অনেক বড় ক্ষতি ডেকে নিয়ে আসে। শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহীরা মুসলমানদের সবচাইতে বড় শত্রু #আমেরিকার সাহায্য নেয় গাদ্দাফিকে সরানোর জন্য। আর যুদ্ধের পরে বর্তমান লিবিয়ার অবস্থা খুব খারাপ ও বিপদজনক। এইজন্য ওলামারা হচ্ছেন ক্বুরান ও হাদীস সম্পর্কে সবচাইতে জ্ঞানী, নবী রাসূলদের ওয়ারিশ। তাদের কথা না শুনে আবেগে গা ভাসালে সেটা মুসলমানদের বিপর্যয় ডেকে নিয়ে আসে, যা ইতিহাসে অসংখ্যবার প্রমানিত হয়েছে, বারবার একই ঘটনা রিপিট হওয়ার মাধ্যমে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে কিছু মূর্খ বক্তা ও পথভ্রষ্ট আলেম থাকে, যারা ক্বুরান ও হাদীসের ভুল ব্যখ্যা করে ইমশনাল তরুণদের ব্রেইন ওয়াশ করে ধ্বংস ও ফাসাদের দিকে নিয়ে যায়। 

বর্তমানে জীবিতদের মাঝে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান ইচ্ছায়/অনিচ্ছায় ক্বুরান ও সুন্নাহ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করেন না, কিন্তু নিজেকে মুসলিম দাবী করেন এবং মুসলিম দেশগুলোর প্রতি ভালোবাসা দেখান। সম্প্রতি ফিলিস্তিনের গাজাতে তিনি সাহায্যও পাঠিয়েছেন এবং আরব বিশ্বকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে আহবান জানিয়েছেন আল্লাহ তাকে এর জন্য উত্তম প্রতিদান দিন। আমরা তার ভুলের কারণে তাকে গালি দেওয়া জায়েজ মনে করিনা বা তাকে কাফের ফতোয়া দেইনা, বরং তাকে মুসলিম শাসক বলেই মনে করি এবং আল্লাহ যেন তাকে হেদায়েত করেন সঠিক দ্বীনের উপরে, সেই দুয়া করি।

এনিয়ে কারো কোন প্রশ্ন...?

উযু বিল্লাহিমিনাশ-শাইতানির রাযীম।
৪২. অতএব, তারা যদি আপনার কাছে আসে, তবে হয় তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিন, না হয় তাদের ব্যাপারে নির্লিপ্ত থাকুন। যদি তাদের থেকে নির্লিপ্ত থাকেন, তবে তাদের সাধ্য নেই যে, আপনার বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারে। যদি ফয়সালা করেন, তবেন্যায় ভাবে ফয়সালা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিচারকারীদেরকে ভালবাসেন।
৪৩. তারা আপনাকে কেমন করে বিচারক নিয়োগ করবে অথচ তাদের কাছে তওরাত রয়েছে। তাতে আল্লাহর নির্দেশ আছে। অতঃপর এরা পেছন দিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। তারা কখনও বিশ্বাসী নয়।
৪৪. আমি তওরাত অবর্তীর্ন করেছি। এতে হেদায়াত ও আলো রয়েছে। আল্লাহর আজ্ঞাবহ পয়গম্বর, দরবেশ ও আলেমরা এর মাধ্যমে ইহুদীদেরকে ফয়সালা দিতেন। কেননা, তাদেরকে এ খোদায়ী গ্রন্থের দেখাশোনা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল এবং তাঁরা এর রক্ষণাবেক্ষণে নিযুক্ত ছিলেন। অতএব, তোমরা মানুষকে ভয় করো না এবং আমাকে ভয় কর এবং আমার আয়াত সমূহের বিনিময়ে স্বল্পমূল্যে গ্রহণ করো না, যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফায়সালা করে না, তারাই কাফের।
৪৫. আমি এ গ্রন্থে তাদের প্রতি লিখে দিয়েছি যে, প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ, চক্ষুর বিনিময়ে চক্ষু, নাকের বিনিময়ে নাক, কানের বিনিময়ে কান, দাঁতের বিনিময়ে দাঁত এবং যখম সমূহের বিনিময়ে সমান যখম। অতঃপর যে ক্ষমা করে, সে গোনাহ থেকে পাক হয়ে যায়। যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করে না তারাই জালেম।
৪৬. আমি তাদের পেছনে মরিয়ম তনয় ঈসাকে প্রেরণ করেছি। তিনি পূর্ববর্তী গ্রন্থ তওরাতের সত্যায়নকারী ছিলেন। আমি তাঁকে ইঞ্জিল প্রদান করেছি। এতে হেদায়াত ও আলো রয়েছে। এটি পূর্ববতী গ্রন্থ তওরাতের সত্যায়ন করে পথ প্রদর্শন করে এবং এটি খোদাভীরুদের জন্যে হেদায়েত উপদেশ বানী।
৪৭.  ইঞ্জিলের অধিকারীদের উচিত, আল্লাহ তাতে যা অবতীর্ণ করেছেন। তদানুযায়ী ফয়সালা করা। যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করে না, তারাই পাপাচারী।

সুরা আল-মায়িদাহঃ ৪২-৪৭।

মানসুর হাল্লাজ প্রসংগে---

মানসুর হাল্লাজ প্রসংগে.....
বাংলাদেশে দেওবন্দী সিলসিলার বড় আলেম, সিলেটি পীর নুরূল ইসলাম ওলীপুরী সাহেব তার এক ওয়াজে মনসুর হাল্লাজকে আল্লাহর বড় ওলী বলেছিলেন। তিনি ঐ ওয়াজে বলেছিলেন 'আনাল হক্ব' বলে মনসুর হাল্লাজ কোন ভুল করেন নি। ‘আনাল হক্ব’ (আমিই আল্লাহ, নাউযুবিল্লাহ) আকিদার কারনে যেই ব্যাক্তির মুত্যুদন্ড হয় ‘মুরতাদ’ হিসাবে, সেই ব্যক্তিরে ওলীপুরী বানালেন আল্লাহর বড় ওলী, কি আশ্চার্য্য! দেশে বিদেশে যিনি ওয়াজ করে বেড়ান, তার আকিদায় যদি এরুপ গলদ থাকে তাহলে তিনি কিসের দ্বীন প্রচার করছেন? শিরক আর বিদাত নয়তো?

পীরপন্থীদের মাথার মুকুট, সূফীকুল শিরোমণি মানসুর হাল্লাজ সম্পর্কে সমাজে অসংখ কল্পকাহিনী প্রচলিত। যেগুলো সর্বসাধারণের ঈমান-আকীদায় শিরকি কুফুরী প্রভাব ফেলছে। ইসলামের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ, ইমাম ইবনে কাসীর (রঃ) প্রণীত “আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া”, খতীব আল-বাগদাদী (রঃ) এর “তারিখে বাগদাদ”, ইবনুল জাওজী (রঃ) এর “আল মুন্তাজেম” ও ইমাম আয যাহাবী (রঃ) এর “সিয়ারু আ’লামিন নুবালা” ইত্যাদি নির্ভর যোগ্য গ্রন্থে মানসুর হাল্লাজের আকীদা-বিশ্বাস ও কর্মজীবনের উপর আলোচনা এসেছে। সেখান থেকে সামান্য কিছু আলোকপাত করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ্।

মানসুর হাল্লাজ ২৪৪ হিঃ বা ৮৫৮ খ্রিঃ জন্ম গ্রহণ করে। তার দাদা পারস্যের অধিবাসী ও একজন মাজুসী (অগ্নি উপাসক) ছিল। সে ইরাকের ওয়াসেত শহরে জীবনের একটি অংশ অতিবাহিত করার পর বাগদাদে গমন করে। হজ্জ পালনের জন্য কয়েকবার মক্কায়ও গমন করে। বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত, সে যাদু শিখার জন্য ভারতে আসে। সে বলতঃ أدعو به الى الله – আমি যাদুর মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহ্র দিকে দাওয়াত দেই। (যাদু – কুফুরী ও কবীরাহ গুনাহ!)
“আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া”

ইমাম ইবনুল জাওযী বলেন,
- মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার নানা কৌশল তার আয়ত্তে ছিল। সে তার বেশভূষা পরিবর্তন করে এক শহর থেকে অন্য শহরে যেত। মানুষ তার ব্যপারে দ্বিধা বিভক্ত ছিল। সে Pantheism (সর্বেশ্বরবাদ) ও Zoroastrianism (জরাথ্রুস্ট প্রবর্তিত ও জেনদ্-আবেস্তায় বর্ণিত প্রাচীন পারস্যবাসীর অগ্নি উপাসনার ধর্ম) ইত্যাদি দর্শন দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল। সে সূফীবাদী দর্শন #হুলুল (আল্লাহ্ তায়ালা কোন ব্যক্তি বিশেষের মাঝে প্রবিষ্ট হওয়া বা অবতরণ করা) ও #ওয়াহদাতুল_ওজুদ (স্রষ্টা ও সৃষ্টির মাঝে কোন পার্থক্য নেই, স্রষ্টার আলাদা কোন অস্তিত্ব নেই, সকল সৃষ্টির মাঝে তাঁর অস্তিত্ব বিরাজমান) এই মতবাদের অন্যতম প্রবক্তা।

ওয়াহদাতুল ওজুদ তথা একক অস্তিত্ব এই দর্শনে প্রভাবিত হয়ে সে বলতঃ ما في جبتيي الا الله.- আমার জুব্বার মাঝে যে স্বত্বা রয়েছে তা আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কেউ না।
 أنا الحق - আমি আল্লাহ্ ইত্যাদি। (নাউযুবিল্লাহ!)

হাল্লাজের কবিতা সংকলন ديوان الحلاج- থেকে কয়েক লাইন তুলে ধরলামঃ
فإذا أبصرتني أبصرته/وإذا أبصرته أبصرتنا
أنا أنت بلا شـــــــــك فسبحانك سبحاني
وتوحيدك توحـــــيدي وعصيانك عصيانـــي
كفرت بدين الله والكفر واجب
لديَّ وعـنـد المسلمين قبيـح
مُزِجت روحك في روحي كما
تمزج الخمرة بالماء الزلال
فـإذا مسَّـك شيء مسّنــي
فإذاً أنت أنا في كلّ حـال

মানুষকে সম্বোধন করে হাল্লাজ বলছেঃ
— তুমি আমাকে দেখার অর্থ তাঁকে (আল্লাহ্) দেখা
আর তাঁকে (আল্লাহ্) দেখার অর্থ আমাকে দেখা।

আল্লাহকে সম্বোধন করে বলছে
— নিঃসন্দেহে আমি হচ্ছি তুমি (আল্লাহ্)
তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করা আমারই পবিত্রতা ঘোষণা করা।
তোমার তাওহীদ ঘোষণা করা আমারই তাওহীদ ঘোষণা করা ।
তোমার নাফরমানী করা আমারই নাফরমানী করা।
আমি তোমার দ্বীনের সাথে কুফরী করেছি, কারণ কুফরী আমার জন্য ওয়াজিব হয়েছে। যদিও মুসলিমদের নিকটে তা নিন্দনীয়।
তোমার আত্মা আমার আত্মার সাথে মিশে গেছে
যেরূপে মদ সুপেয় পানির সাথে মিশে যায়।
তোমাকে কিছু স্পর্শ করলে তা আমাকে স্পর্শ করে,
কারণ সর্বাবস্থায় আমিই তো তুমি।

আব্দুর রহমান সুলামী আমর বিন উসমানের সূত্রে বর্ণনা করেনঃ আমর বলেন,
- হজ্জের মৌসুমে আমি হাল্লাজের সাথে মক্কার এক গলিতে হাঁটছিলাম আর কোরআন তেলাওয়াত করছিলাম। হাল্লাজ আমার তেলাওয়াত শুনে বললঃ আমার পক্ষেও এই ধরণের কথা বলা সম্ভব। একথা শুনে আমি তার সঙ্গ ত্যাগ করলাম। (প্রাগুক্ত)

আমর বিন উসমান হাল্লাজকে লানত করত আর বলত, আমার ক্ষমতা থাকলে তাকে নিজ হাতে কতল করতাম । (প্রাগুক্ত)

আবু জুর’য়া আত তাবারী বলেনঃ আমি আবু ইয়াকুব আল আকতা’য় কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেনঃ
- হাল্লাজের প্রতি মুগ্ধ হয়ে আমি আমার বোনকে তার সাথে বিবাহ দেই। কিছু দিন পর আমার নিকট পরিষ্কার হয়ে যায়, সে একজন যাদুকর, প্রতারক, খবীস ও কাফের। (প্রাগুক্ত)

আব্দুর রহমান সুলামী আমর বিন উসমানের সূত্রে বর্ণনা করেনঃ আবু বকর বিন মিনশাদের নিকট এক ব্যক্তি আসল। যার সাথে একটি থলে ছিল । রাতে-দিনে কক্ষনো সে থলেটি নিজের কাছ থেকে দূরে রাখত না। লোকেরা কারণ অনুসন্ধানের জন্য থলেটি খুললে মানসুর হাল্লাজ প্রেরিত একটি চিঠি পেল। যার শিরোনাম ছিল- من الرحمن الرحيم الى فلان ابن فلان- রাহমান রাহীমের পক্ষ হতে.........।

হাল্লাজ চিঠিটির সত্যতা স্বীকার করল। লোকেরা তাকে প্রশ্ন করল, তুমি কি নিজেকে আল্লাহ্ দাবী কর? জবাবে সে বললঃ না, তবে আল্লাহ্ ও আমি তো একই সত্ত্বা। (প্রাগুক্ত)

হাল্লাজ তার খাস মুরিদদের মাধ্যমে পাহাড়ী এলাকার সহজ-সরল মূর্খ মানুষদের প্রতারিত করে হাজার হাজার স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা উপার্জন করেছে। তার মিথ্যা কারামতির কৌশল জেনে ফেলায় একজনকে গুপ্ত ঘাতক পাঠিয়ে হত্যার হুমকিও দিয়েছে। এসব প্রতারণার কাহিনী ইবনে কাসীর আল বিদায়া ওয়ান নিহায়াতে উল্লেখ করেছেন।

বাগদাদের আলেমরা হাল্লাজ কাফের ও মুরতাদ হওয়া ও তাকে হত্যার ব্যপারে একমত পোষণ করেন । তখন বাগদাদ ছিল পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় আলেমদের আবাস। (প্রাগুক্ত)

৩০৯ হিঃ বা ৯২২ খ্রিস্টাব্দে হাল্লাজকে মৃত্যু দণ্ড দেওয়া হয়।

ইবনে তাইমিয়া বলেনঃ যে আকীদা পোষণ করার কারণে হাল্লাজকে হত্যা করা হয়েছে, সেই আকীদা যদি কেউ পোষণ করে সে মুসলিমদের ঐক্যমত অনুযায়ী কাফের ও মুরতাদ। মুসলিমরা #হুলুল, #ওয়াহদাতুল_ওজুদ ইত্যাদি আকীদা পোষণ করার কারণে তাকে হত্যা করেছে। যেমন সে বলতঃ আমি আল্লাহ্, আসমানে এক প্রভু রয়েছে ও জমিনে আরেক প্রভু রয়েছে। তার কিছু যাদুকরী ক্ষমতা ছিল। যাদুর উপর কয়েকটি বইও লিখেছিল । মাজমুয়ুল ফাতওয়া।

তিনি আরও বলেনঃ
- আমি মুসলিমদের কোন আলেম ও মাশায়েখ সম্পর্কে জানিনা, যারা হাল্লাজ সম্পর্কে ভাল ধারণা রাখে। তবে কিছু লোক হাল্লাজের আকীদা সম্পর্কে না জানার কারণে তার প্রশংসা করেছে। (প্রাগুক্ত)

বর্তমানেও অনেক পীর-মাশায়েখ ও বক্তাকে দেখা যায়, যারা হাল্লাজের মর্যাদা বর্ণনায় অনেক গাজাখোরি কাহিনী বর্ণনা করে থাকে। তারা হয় হাল্লাজের আকীদা সম্পর্কে জানে না অথবা একই আকীদা পোষণ করে গোমরাহিতে লিপ্ত রয়েছে।
আল্লাহ্ আমাদেরকে সবাইকে সঠিক দ্বীন বোঝার তাউফীক দিন, আমীন।

জসীম উদ্দিন রাহমানী ভক্তদের কমেন্টের জবাব


সংগত কারণেই নামগুলো প্রকাশ করা হলোনা।

=> এরূপ করলে আপনার পেইজ থেকে লোকের আস্থা উঠে যাবে @এডমিন……
উত্তরঃ লোকের আস্থা থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হক্ক বলা বেশি জরুরী, হক্ক বললে মানুষ অসন্তুষ্ট হবেই, আর সবার মন জুগিয়ে চললে সেটা ইসলাম ধর্ম হবেনা, মিকচার মেশিন হবে।

১. Jmb 100% right inshoallah. (জেএমবি ১০০% সঠিক, ইন শা আল্লাহ)
উত্তরঃ হক্ক আর বাতিলের বিচার শুধু মুখের দাবী বা গায়ের জোরে প্রতিষ্ঠিত হয়না। বরং কুরান, হাদীস ও সাহাবীদের আদর্শ দ্বারা প্রমানিত হতে হয়।
আমার বুঝে আসেনা, একজন মুসলমানের কাছে জেএমবির মতো একটা সন্ত্রাসী সংগঠন ১০০% সঠিক হয় কি করে? হয় আপনি জেএমবি কারা সেটা জানেন না, অথবা ইসলাম কি সে সম্পর্কে আপনার সঠিক কোন ধারণা নেই। দয়া করে আলেমদের কাছ থেকে ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করুন, সঠিক আকীদাহ সম্পর্কে জানুন। জেএমবির অপকর্মের সংক্ষিপ্ত বর্ণনাঃ

ইসলাম কায়েমের জন্য #জিহাদ নাম দিয়ে জেএমবি রাস্তায়, বাসে, অফিস-আদালতে নির্বিচারে বোমা মেরে নিরস্ত্র নিরীহ মানুষকে হত্যা করা শুরু করে মানুষের মনে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। এদের কারণে আমাদের দেশে অবস্থা এমন হয়েছিলো যে, একসময় বাসে বা ট্রেনে দাড়ি-টুপিওয়ালা কোন লোককে ব্যগ নিয়ে আসতে দেখলেই মানুষ ভয় পেত, না জানি বোমা ফাটিয়ে দেয়! তারা মনে করতো এইভাবে তারা জিহাদ করছে, এবং জিহাদ করে তারা দেশে ইসলাম কায়েম করে ফেলবে। তাদের এই জিহাদে (শয়তানের রাস্তায়) যদি নিরপরাধ কোন মানুষ মারা যায়, তাহলে তাদের কোন পাপ হবেনা। আর আত্মঘাতী বোমা হামলা করে কেউ মারা গেলে সে শহীদ হিসেবে জান্নাতে যাবে। জান্নাতের খেজুর ও হুরের লোভ দেখিয়ে তারা ২০-২৫ বছরের কিছু বোকা কিসিমের আবেগী ছেলেকে আত্মঘাতী বোমা হামলার জন্য ব্রেইন ওয়াশ করে। পরবর্তীতে এরা বিভিন্ন জায়গায় বোমা হামলা করে মানুষ হত্যার করার চেষ্টা করে। এই সবই হচ্ছে জিহাদের #অপব্যখ্যা করে শয়তানের রাস্তায় যুদ্ধ! কোন মুসলমানকে হত্যা করাতো দূরের কথা, মানুষের সামান্য রক্তপাত করার ফযীলতের বর্ণনা নিয়ে হাদীস দেখুনঃ

যে সকল সাহাবী খারিজীদের বুঝাতে চেষ্টা করেন তাঁদের একজন জুনদুব ইবনু আব্দুল্লাহ (মৃত্যু ৬০ হি.) একবার তিনি র্কুরা বা সদাসর্বদা কুরআন তিলাওয়াত ও চর্চায় লিপ্ত খারিজীদের কতিপয় নেতাকে ডেকে বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কাঠিন্য বা উগ্রতার পথ অবলম্বন করবে আল্লাহও তার জন্য কাঠিন্য বা উগ্রতার পথ অবলম্বন করবেন। কেউ যদি কোনো মানুষের হাতের তালুতে রাখার মত সামান্য রক্তও প্রবাহিত করে (যেন যে মুরগী জবাই করছে), তবে সেই রক্ত তার ও জান্নাতের মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়াবে (সে জান্নাত দেখতে পাবে, কিন্তু সেই রক্ত তাকে জান্নাতে প্রবেশ করতে দিবে না) কাজেই যদি কেউ পারে এইরূপ রক্তপাত থেকে আত্মরক্ষা করতে, তবে সে যেন আত্মরক্ষা করে।

এ কথা শুনে উপস্থিত খারেজী লোকগুলি খুব ক্রন্দন করতে লাগল। তখন জুনদুব (রাঃ) বলেন, এরা যদি সত্যবাদী হয় তবে এরা মুক্তি পেয়ে যাবে।...কিন্তু পরে তারা আবার উগ্রতার পথে ফিরে যায়।
জিহাদ আর বোমা মেরে মানুষ হত্যা করা এক নয়, জিহাদ হয় কাফের-মুশরেকদের বিরুদ্ধ যখন মুসলমানদের শক্তি-সামর্থ্য থাকে ও কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মতো শক্তি ও অবস্থার সৃষ্টি হয় তখন। কোন বিপদগামী দল কোন সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে, সেই দেশের বিভিন্ন জায়গাতে বোমা ফাটানো - এইগুলো জেহাদ নয়, এইগুলো নিকৃষ্ট ফাসাদ।

২. জসিম উদ্দিন রহমানী এক জন মুসলিম
উত্তরঃ হ্যা তিনি মুসলিম, কিন্তু তিনি জিহাদ, কিতাল (অস্ত্রের জিহাদ) ও তাকফীর (কাফের ফতোয়া দেওয়া) নিয়ে বিভ্রান্ত হয়েছেন এবং অন্যদেরকেও বিভ্রান্ত করেছেন। তার মতো অল্প ইলম নিয়ে প্রবৃত্তির অনুসারে কথা বলার মতো লোকের ওয়াজ শোনা, নিজের দ্বীনকে ধ্বংস করার শামিল।

৩. বহু দিন পর আপনি নিজের মুখোশটা খুলে দিলেন। কে যে খারায়েজী তা বোঝা যাচ্ছে?
উত্তরঃ জ্বি, অপেক্ষা করুন, ISIS এর মাধ্যমে ইতিমধ্যেই অনেকখানি পরিষ্কার হয়ে গেছে, ইন শা আল্লাহ সামনে আরো স্পষ্ট হয়ে যাবে কে কোন তরীকার অনুসারী।

৪. dhongsho hok tara jara andaje kotha bole, surah jariyat: 10.
ধ্বংস হোক যারা আন্দাজে কথা বলে
সুরা জারিয়াতঃ ১০।
উত্তরঃ আল্লাহ আমাদেরকে আন্দাজে কথা বলা থেকে বেঁচে থাকার তোওফিক দান করুন, আমিন।

৫. ভাই, একটু দয়া করে জানাবেন জসীম উদ্দিন রাহমানী কি কি কারনে খারেজি? আমি শুধুমাত্র জানার জন্যই আপনাকে এই প্রশ্ন টা করছি, জানালে উপকৃ্ত হব ইনশাআল্লাহ ।
উত্তরঃ প্রশ্ন করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। প্রথম কথা হচ্ছে, আমি জসীম উদ্দিন রাহমানীকে খারেজী বলিনি, আমি বলেছি তার মাঝে খারেজী আকীদা আছে। কাউকে বেদাতী বলা, আর কেউ কোন বেদাত করে ২টা কথার মাঝে অনেক পার্থক্য, কেউ ভুল বুঝে কোন বেদাতে লিপ্ত হতে পারে, হয়তো দলীল দিয়ে বুঝালে সে মেনে নিবে, কিন্তু তাকে বেদাতী বা জাহান্নামী বলা যাবেনা, কারণ নাম ধরে কাউকে বেদাতী বলতে পারেন ওলামারা, কারণ তারাই বুঝতে পারবেন কোনটা ভুল আর কোনটা বেদাত। আমরা মানুষের ভুল ধরিয়ে দেবো, কিন্তু নাম ধরে কোন মুসলিমকে কাফের, বা বেদাতী লেবেল লাগাবোনা। আল্লাহ আমাদের বোঝার ও আমল করার তোওফিক দান করুন।  

জসীম উদ্দিনের ভুলগুলো সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলোঃ
ক. পাইকারী হারে #তাকফীর বা কাফের বলে ফতোয়া দেওয়াঃ
খারেজীদের ১ নাম্বার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কবীরাহ গুনাহর কারণে শাসকদেরকে কাফের ফতোয়া দেওয়া ও তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা, অথচ মুসলিম শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা হারাম ও বড় পাপ যা খারেজীদের ধর্ম। জসীম উদ্দিন রাহমানী এবং তার দলের অনুসারীরা মনে করে বর্তমান বিশ্বের সবগুলো মুসলিম দেশের শাসকেরা কাফের, মুর্তাদ এবং এই সরকারগুলো হচ্ছে #তাগুত। এইজন্য তারা বিভিন্ন দেশে সরকারের বিরুদ্ধে বোমাবাজি করে অনেক নিরীহ মানুষকে হত্যা করাকে জিহাদ মনে করে, এবং এইভাবে আত্মঘাতী বোমা হামলার মাধ্যমে মৃত্যুবরণ করে তারা নিজেদেরকে জান্নাতী #শহীদ বলে মনে করে।

খ. আলেম ওলামা সেই যেই হোকনা কেনো তাদের চরমপন্থী মতবাদের সাথে একমত না হলে, তাদেরকে তারা দালাল, দরবারী, তাগুতের পাচাটা গোলামের মতো জঘন্য ভাষায় গালি দেয়। যেমনটা আমরা দেখি ডা আব্দুল্লাহ জাহাংগীর স্যারের বেলায়, যিনি মানুষকে কোন দলের দিকে দাওয়াত না দিয়ে ক্বুরান ও সুন্নাহর দিকে দাওয়াত দেন, তিনি খারেজী মতবাদের বিরুদ্ধে লেখালিখির কারণে তাকেও গালি ও মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে এই দলের লোকেরা। এছাড়াও তারা আমাদের দেশের কিছু দ্বাইয়ীকে নাম ধরে #মুর্তাদ ফতোয়াও দিয়েছে। আশা করি সকলেই জানেন, খারেজীরা আলী রাঃ ও মুয়াবিয়া রাঃ ২ জনকেই কাফের ফতোয়া দেওয়া দিয়েছিলো শরীয়াহ বাস্তবায়ন করা হচ্ছেনা, এই দাবী করে। আর অন্য সাহাবীরা আলী ও মুয়াবিয়া রাঃ কে কাফের বলে ঘোষণা করেনি, এইজন্য খারেজীরা অন্য সাহাবাদেরকেও কাফের বলে ফতোয়া দিয়েছিলো।

গ. ISIS জসীম উদ্দিনের ভক্তরা হয়তো মনে করতে পারেন, এইগুলো ছোটাখাট ভুল, কিন্তু খারেজী আকীদা নয়। তাদের জ্ঞাতার্থে বলছি ইরাক ও সিরিয়াতে খেলাফতের দাবীদার কথিত আমিরুল মুমিনুন আবু বকর আল-বাগদাদীর হাতে যারা বায়াত করবেনা তাদেরকে তারা মুর্তাদ ঘোষণা করে হত্যা করার ফতোয়া দিয়েছে। বাগদাদীর অন্ধ অনুসারী চরমপন্থীরা ইরাক ও সিরিয়ার বহু জায়গায় বাশার আল-খবিসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করে, আন-নুসরাহ ও ইসলামিক ফ্রন্ট (বাশারের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত অন্য ২টী মুসলিম দল) তাদের এলাকা দখল করে তাদের অনেক নেতা ও যোদ্ধাদেরকে হত্যা করেছে, তাদের গলা কাটা লাশ নিয়ে উল্লাস করে তারা নিজেরাই সেইগুলোর ভয়ংকর ছবি প্রচার করেছে। একারণে ISIS নিয়ে সিরিয়ান আলেম ও আরব দেশের শায়খরা কি বলেছেন দেখুনঃ

সিরিয়ার আলেমগণ বলেনঃ এই সংগঠনটি অন্যায়ভাবে মানুষকে হত্যা করছে এবং মানুষের সম্পদের উপর আক্রমণ করছে। এদের জিহাদ ইসলামী জিহাদ নয়; বরং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টির শামিল। সিরিয়ার আলেমদের ফতোয়া হচ্ছে এই দলে যোগ দেয়া এবং তাদের সাথে যোগ দিয়ে যুদ্ধ করা হারাম। কেননা তাদের দল ও জিহাদ অস্পষ্ট ও অন্ধকারচ্ছন্ন। তাদের নেতা অপরিচিত, তাদের অর্থের উৎস অজ্ঞাত এবং তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অস্পষ্ট।

শাইখ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ এই খারেজী দল সম্পর্কে বলেনঃ এরা মুসলিমদেরকে কাফের বলে এবং মুসলিমদের রক্তকে হালাল মনে করে। সতরাং যেসব মুসলিম এদের সাথে যোগদান করেছে, তাদের উচিত এদের দল ত্যাগ করা।

শাইখ আদনান আল-আরউর বলেনঃ এরা হাদীছের ভাষ্য মোতাবকে খারেজী অথবা বাশ্শার আল আসাদের তৈরী গুপ্তচর। এই সংগঠনের লোকেরা মোট তিন প্রকারঃ
১. এদের মধ্যে রয়েছে এমন কিছু লোক যারা মুসলমানদের জান-মালের উপর আক্রমণ করে। তারা খারেজদের মত আকীদাহ পোষণ করে।
২. এদের মধ্যে রয়েছে ইসলামের শত্রুদের পক্ষের দালাল ও গুপ্তচর। এদের কর্মতৎপরতা ইহুদী-খৃষ্টান এবং ইসলামের দুশমনদের আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ দ্বারা পরিচালিত।
৩. আরেক শ্রেণীর লোক এদেরকে সঠিক মনে করে ও ভুল বুঝে জিহাদী মনোভাব নিয়েই এদের সাথে যোগ দিয়েছে।

শাইখ আব্দুল আযীয আলফাওযান বলেনঃ এই দল হচ্ছে পাপিষ্ঠ খারেজী দল। ইরাক, আফগানিস্থান ও সিরিয়াতে এরা বহু রক্তপাত ঘটিয়েছে।

ISIS দলের সাথে জেএমবি, জসীম উদ্দিন রাহমানী ও তার ভক্তদের কি সম্পর্ক আশা করি সেটা না বললেও চলবে। ISIS আর জেএমবি, জসীম উদ্দিন রাহমানী ও তার ভক্তদের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে ISISর মতো ক্ষমতা তাদের ছিলোনা বলে এতোদূর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। এদিকটা ছাড়া তাদের আকীদা ও চিন্তা-ভাবনা একই উতস থেকে নেওয়া।

৬. #Admin Apnake onk valo lagto kintu apni Andaze kotha bola start koresen...!!!!! Apni kothay kothay Soudi Shaikh shaikh koren... Kno Quran hadis ki Tader Baper sompotti!!! Apni Jakir naik e Hok bolen na... Apni Josim uddin vai ke hok bolen na... Apnar soudir Shaikh gului ki amader standrad? Sudi Namaz ar Kisu pir/mazar er buruddhe post diyei vabsen aitai Islam!!!!

উত্তরঃ কোন কথাটা আন্দাজে বলেছি, প্রমান করুন।
Apni kothay kothay Soudi Shaikh shaikh koren... Kno Quran hadis ki Tader Baper sompotti!!
জসীম উদ্দিন রাহমানী যে তার ছাত্রদেরকে অহংকারী আর বেয়াদব বানিয়ে রেখে গেছে এধরণের কথা থেকেই কি সেটা প্রমানিত হয়না? ক্বুরান হাদীস কি তাদের বাপের সম্পত্তি - ওলামাদের ব্যপারে যাদেরকে নবী সাঃ তাঁর ওয়ারিশ বলছেন, এই ভাষায় কথা বলা কি তাদের মানহানী করার মাঝে পড়েনা?

রাসুল সাঃ এর যুগে মক্কা মদীনাই ছিলো ইসলামের সেন্টার, সেই থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত সমস্ত যুগেই মক্কা মদীনা হচ্ছে ইসলামের প্রাণকেন্দ্র, আলেম-ওলামাদের মিলনমেলা। ইমাম মালেকের সময় মানুষ ২-৩ মাসের পথের দূরত্ব পার দিয়ে আসতো মদীনার আলেমের (ইমাম মালেকের) কাছ থেকে ফতোয়া নেওয়ার জন্য। বর্তমানেও যদি বলা হয় কোন দেশে সবচাইতে বড় আলেম, সেটা সৌদি আরবেই সবচেয়ে বেশি। আরব দেশের এবং বিশেষ করে সৌদি আরবের ওলামাদের মতো ক্বুরান ও হাদীসের জ্ঞানী অন্য দেশে কম, একথা অজ্ঞ ও বেদাতী লোক ছাড়া কেউই অস্বীকার করেনা। তার মানে এইনা যে, অন্য কোথাও আলেম নেই। বরং, ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম, ইমাম নববী, ইমাম ইবনে তাইমিয়া, ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী ইনাদের কেউই মক্কা-মদীনার নন, তারপরেও এমন বহু ইমাম তারা ছিলেন শ্রেষ্ঠ আলেমদের মাঝে অন্যতম। ভারতীয় উপমহাদেশের কথা যদি বলেন শাহ ওয়ালী উল্লাহ দেহলবী, উবাইদুল্লাহ মুবারকপুরী, শফিউর রহমান মুবারকপুরীসহ আরো আলেম ছিলেন, আছেন। বর্তমানে সৌদি আরব ছাড়াও অন্য দেশেও আলেম আছেন।  

বর্তমানে ওহাবী গালি দিয়ে মক্কা-মদীনার আলেমদের বিরোধীতা করে বেরেলবী কবর পূজারীরা। আলেমদের ব্যপারে বিদ্বেষ রাখা বেদাতীদের প্রধান একটা লক্ষণ।

আর আমি কোথায় ডা জাকির নায়েককে #বাতিল বলেছি? বরং এই পেইজ থেকে ডা জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে কবর পূজারীরা যা বলে তার প্রতিবাদ করা হয়েছে। তবে তিনি যদি কোন ভুল করে থাকেন, সেই ব্যপারে আমরা তার সাথে একমত নই। তার মানে এইনা যে, আমরা তাকে বাতিল বলেছি, ভুল সবাই করতে পারে। নবী রাসুল ছাড়া কেউই ভুলের উর্ধে নয়।
  
৬. জসিম উদ্দিন রহমানীর দোষ একটাই কেন ঊনি জিহাদের কথা বলে, কেন ঊনি জিহাদের আসল অর্থ মানুষের কাছে উপস্থাপন করে। আর জিহাদের কথা শুনলে যাদের কপালে ভাঁজ দেখা যায়, তারাই জসিম উদ্দিন রহমানীকে জংগী/খারেজী/চরমপন্থী/সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যা দেয়। তবে জসিম উদ্দিন রহমানী ১০০ ভাগ হক্বের পথে আছেন কিনা তা একমাত্র আল্লাহ্ই ভাল জানেন।
উত্তরঃ জ্বি, জসীম উদ্দিন যেই জিহাদের কথা বলেন আমরা তার ঘোরতর বিরোধী। তার জিহাদ হচ্ছে বাঘের মতো হুংকার দিয়ে জিহাদের ফতোয়া দাও, জিহাদ ফরযে আইন হয়ে গেছে ফতোয়া দাও, এর পরে নিজেই সেই জিহাদ থেকে পালিয়ে যাও। হয় তিনি ভুয়া জিহাদের ফতোয়া দিয়ে এতোদিন #বেদাত করেছেন, অথবা নিজে জিহাদের ফতোয়া সেই জিহাদ থেকে পালিয়ে থেকে কবীরা গুনাহ করেছেন, আপনাদের শায়খকে বলুন সে কোনটা থেকে তোওবা করবে? জেহাদের ফতোয়া দিয়ে, নাকি জেহাদ থেকে পালিয়ে থাকার গুনাহ থেকে?

আর হ্যা, আপনারা যেই জিহাদের কথা বলেন সেইটা শুনে সত্যিই একজন বিবেকবান ঈমানদারের চিন্তার বিষয়। আপনারা দিন-রাত জিহাদ ফরয হয়ে গেছে, জিহাদ ফরয হয়ে গেছে, অন্যরা জিহাদ না করে দরবারী, দালাল, মুনাফেক হয়ে গেছে বলে ফতোয়াবাজি করেন কিন্তু আপনারা নিজেরাও সেই জিহাদ করছেন না। আপনাদের জিহাদ শুধু যারা আপনাদের মতবাদের সাথে একমত না হয় তাদেরকে গালি-গালাজ করার মাঝেই সীমাবদ্ধ। আপনার যদি বিশ্বাস হয় জিহাদ ফরয হয়ে গেছে, তাহলে জিহাদে বেড়িয়ে পড়ু, কেনো অন্যদেরকে গালি-গালাজ করার জন্য বসে আছেন? জিহাদ নিয়ে ফতোয়াবাজি কেনো করছেন? আমরা নামাযের ওয়াক্ত হলে মসজিদে যাই নামায পড়ার জন্য, নিজে নামায না পড়ে বেনামাযীদেরকে নামায ফরয হয়ে গেছে, নামায ফরয হয়ে গেছে গিয়ে বলতে থাকিনা। আপনাদের উচিত হচ্ছে, আপনাদের মতে যদি আপনাদের উপর জিহাদ ফরয হয়ে গেছে তাহলে সব ছেড়ে জিহাদে চলে যান।

এটা হচ্ছে কি-বোর্ড মুজাহিদিনদের বৈশিষ্ট্য - জিহাদ ফরয হয়ে গেছে, জিহাদ ফরয হয়ে গেছে বলে ফতোয়া দেবে, এটা নিয়ে অন্যদেরকে গালি-গালাজ করবে কিন্তু নিজে জিহাদ করবেনা। আর আমাদের দেশে জসীম উদ্দিন রাহমানী হচ্ছে এইরকম কি-বোর্ড মুজাহিদিনদের নেতা, যেকিনা সমস্ত মুসলিমদের উপরে বার্মাতে জিহাদ করা ফরয হয়ে গেছে বলে জিহাদের ফতোয়া দেয়, পরে নিজেই সেই জিহাদ থেকে পালিয়ে থাকে।  

৭. Yahudi o Christan ra Oikko boddho tai tara sokti sali. R mosalmanra oikko boddho noy bole tara dorbol.
উত্তরঃ ক্বুরানে এইজন্যই মতবিরোধ করা হারাম করা হয়েছে, উম্মতের ঐক্য চান মানুষকে সহীহ আকীদা ও শির্ক বেদাতমুক্ত আমলের দিকে দাওয়াত দিন। সঠিক ঈমান ও আমল উম্মতের ঐক্যের জন্য পূর্বশর্ত। শায়খ সালেহ আল-ফাওজানের বক্তব্য শুনুন

https://www.youtube.com/watch?v=DR3nKeF937w

৮. Some Words About Fake Salafi - Sheikh Jashim Uddin Rahmani
এটা একটা ভিডিওর লিংক দিয়েছেন একজন, যেইখানে জসীম উদ্দিন #সালাফী আলেমদের সম্পর্কে জঘন্য মিথ্যাচার করেছেন। জসীম উদ্দিন নামের এক লোক এই ভিডিওতে মিথ্যা কথা প্রচার করেছে, সালাফী ওলামারা নাকি রাফা ইয়াদাইন না করলে, জোরে আমীন না বললে কাফের বলে।
অন্ধ মুকাল্লিদ এই লোকটা কি জঘন্য মিথ্যাচার করেছে আলেমদের সম্পর্কে! রাফা ইয়াদাইন করা, আমিন জোরে বলা সুন্নত, না করলেও নামায হয়ে যাবে, কাফের হওয়ার প্রশ্নই আসেনা, কোন আলেম কোনদিন এইরকম গাজাখুরি ফতোয়া দেন না। তারপরেও হাওয়া অনুযায়ী কথা বলতে অভ্যস্ত এই জাহেল লোকটা নিজে না জেনে ওলামাদের ব্যপারে জঘন্য মিথ্যাচার করে বসল! মিথ্যাবাদীদের প্রতি আল্লাহর লানত আল-ক্বুরান।

আর কি আশ্চর্যের বিষয়, কতো মারাত্মক অন্ধভক্ত তৈরী হয়েছে জসীম উদ্দিনের, এইরকম খোলাখুলি মিথ্যা কথা বললো, আর তার মুরিদ কোনরকম যাচাই-বাছাই ছাড়াই সেটা এসে প্রচার করে বেড়াচ্ছে, আল্লাহু মুস্তায়ান!

৯. apnara je sob alem er puja koren tara tho America r saudi er kina golam tara ja sikhaiya dai tai bole r apni tader theke sune apni bolen... apni ulta palta bolle apnar gunah hobe amr ki tai valo moto study chara aisob boilen na...apnar kon alem ra ai sob niriho manus er pokke kotha bole hok kotha bole 1ta link den- r jassimuddin rahmani se hok kotha bolei tho ajke koste ase r apnar posonder alem ra arame gumacche r fotoa dicche- ai sunun hok kotha kake bole
উত্তরঃ নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক, এটাই হচ্ছে জসীম উদ্দিন রাহমানী ভক্তদের আসল পরিচয় তাদের ভুলগুলো ধরিয়ে দিলে জঘন্য গালি দেওয়া শুরু করে, কাফের ফতোয়া দেয়। আপনারা আলেমদের পূজা করেন ডাইরেক্ট মুশরেক বানিয়ে দিলো?? এরা না জানে ঈমান, আকীদা, না জানে তাওহীদ কি, শিরক কি? এইজন্যই কারো কথা মনমতো না হলেই তাকে #মুশরেক বানিয়ে দেয় এই ফতোয়াবাজ লোকেরা।
আপনি মিথ্যা অপবাদ দিয়েছেন আমাদের উপরে, আমাদের উপরে শিরকের অভিযোগ এনেছেন আগে তোওবা করবেন, এর পরে আপনার অজ্ঞতাপ্রসূত যে প্রশ্ন, তার উত্তর দেওয়া হবে। আর যদি তোওবা না করেন, আমাদের উপর অন্যায় শিরকের অপবাদ দেওয়ার জন্য কাল কেয়ামতের মাঠে মোলাকাত বাকী থাকবে।

১০. vi josimuddin refaranes cara kota bole na. kintu apni refaranes cara josimuddin nie likcen ata tic noy.oner vul gule jante cai. jihad somporke jante cai.

উত্তরঃ সত্যি নাকি? বার্মাতে জিহাদের ডাক দিলো কোন রেফারেন্সের ভিত্তিতে, পরে নিজেই জিহাদের ডাক দিয়ে সেই জিহাদ থেকে পালিয়ে গেলো কোন রেফারেন্সের ভিত্তিতে?

জেএমবি, তাকফিরী, জসীম উদ্দিন রাহমানী

জেএমবি, তাকফিরী, জসীম উদ্দিন রাহমানী, গালিবাজ লোকদের ব্যপারে সতর্কবাণী এবং বাংলাদেশে খারেজী মতবাদের আমদানি (পর্ব -১)...

কিছুদিন পূর্বে #খারেজী কারা, খারেজীদের লক্ষণগুলো কি এইনিয়ে পোস্ট দিলে আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করলাম, কিছু মানুষের অবস্থা যেন জোঁকের মুখে লবণ দিলে যা হয়, ঠিক তেমনি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাদেরকে জাহান্নামের #কুকুর বলেছেন, তাদের ইতিহাস ও পরিচয় নিয়ে পোস্ট দিলাম, এতেও কিছু মানুষ যারা নিজেদেরকে মুসলিম দাবী করে তারা খেপে গিয়ে আমাদেরকে নোংরা ভাষায় গালি ও অভিশাপ দেওয়া শুরু করলো, আমি নাকি সৌদির আরবের দালালী করছি, #মুজাহিদদেরকে খারেজী বলছি, নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক।  

অন্য আরেকটা পোস্টে শায়খ মুনাজ্জিদের ফতোয়ার মাঝে জিহাদের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করার বিষয়টা নিয়ে কেউ যাতে বিভ্রান্ত না হন, সেইজন্য ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ বইটি পড়তে সাজেস্ট করি। এরই প্রেক্ষিতে একজন আমাদেরকে মেসেজ করে অভিযোগ করেন, জসীম উদ্দিন রাহমানী নামের তাদের এক শায়খ ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের সমালোচনা করেছেন, কারণ তিনি নাকি কাফের-মুশরিকেদের সাথে ষড়যন্ত্র করে মুসলিমদেরকে নিরস্ত্র করতে চাচ্ছেন, মুসলিমদেরকে জিহাদ থেকে বিরত রেখে তাঁদেরকে আমেরিকার গোলাম বানাতে চাচ্ছেন!!

মেসেজাদাতা আরো অভিযোগ করে বললেন, আমরা নাকি আওয়ামীলীগ সরকারের দালালী করছি। শুধু দাওয়াতের কথাই বলি, জিহাদের কথা বলিনা!!

=> দালাল অর্থ হচ্ছে, যে টাকা খেয়ে নিজের ঈমানকে বিক্রি করে দেয়, ব্যক্তিগত লাভের জন্য ইসলামের দুশমনদের হয়ে কাজ করে। কোনরকম প্রমান ছাড়াই তিনি নিজের মনমতো আমাদেরকে #দালাল বলে ঘোষণা করে বসলেন! অথচ, ইসলামের শিক্ষা হচ্ছে, স্পষ্ট প্রমান ছাড়া কাউকে দালাল বলে গালি দেওয়াতো দূরের কথা কারো সম্পর্কে #খারাপ চিন্তা করাই হচ্ছে পাপ! এমনকি যারা আন্দাজে কথা বলে তারা যেন ধ্বংস হয় বলে ক্বুরানে তাদের ব্যপারে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হয়েছে।

কথা প্রসংগে বলে রাখা ভালো, মেসেজদাতা হচ্ছেন একজন নারী। আর আপনি যদি একটু খোঁজ-খবর জানা থাকে বর্তমান দুনিয়ার বাস্তবতা সম্পর্কে, তাহলে নিশ্চয়ই জেনে থাকবেন, বর্তমানে কিছু #তরুণ যুবক বের হয়েছে যারা মুসলিম দেশগুলোতে বুলেট দিয়ে বা বোমাবাজি করে অথবা, নির্বাচন, ভোট, হরতাল, অবরোধ বা ভাংচুর ইত্যাদি অনৈসলামিক কাজ দিয়ে #শরিয়াহ_কায়েম করতে চান। আর কেউ যদি তাদের প্রচার করা চরমপন্থী মতবাদের সাথে একমন না হন তাহলে তাকে মুনাফেক, দালাল, মুর্তাদ, তাগুতের গোলাম, ইয়াহুদী-খ্রীস্টানদের পাচাটা কুকুর, দরবারী আলেম ইত্যাদি আজেবাজে গালি দেওয়া হচ্ছে। আগে এটা আরব ও ইংরেজী ভাষাভাষী মুসলিমদের মাঝে একটা ট্রেন্ড চালু ছিলো যা বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমদের মাঝেও দেখা যাচ্ছে। আর যেহেতু বর্তমানে অনেক কিছুতেই নারীরা পুরুষদের সাথে সমানতালে কাজ করে যাচ্ছে, তাই এইরকম গালিবাজ ফতোয়াবাজদের মাঝে পুরুষদের পাশাপাশি বাংলাদেশী নারীদের অংশগ্রহণও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অথচ, নারীদের দায়িত্ব ও পুরুষদের দায়িত্ব এক নয়, আর আলেম না হয়ে দ্বীনের ব্যপারে মতামত দেওয়াতো পুরুষদের জন্যই কতোটা জঘন্য ও ভয়াবহ। দুঃখজনক হলেও সত্যি কথা হচ্ছে - ফেইসবুক শায়খ, ইউটিউব মুফতি মুহাদ্দিসদের পাল্লায় পড়ে অনেক পুরুষদের সাথে সাথে অনেক দ্বীনদার নারীরাও #তাকফিরী ফেতনার শিকার হচ্ছেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে নিরাপদ রাখুন।

চলবে (ইন শা আল্লাহ)....   

বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৪

খারেজীদের ফেতনা...

খারেজীদের ফেতনা...

যদিও রাসুল সাঃ এর সময়ে ও পরবর্তীতে আবু বকর, উমার ও উসমান রাঃ এর যুগে কিছু খারেজী আকীদার লোক ছিলো, কিন্তু খারেজীদের ফেতনা সবচাইতে মারাত্মক আকার ধারণ করে আলী রাঃ এর শাসন আমলে। সেই থেকে নিয়ে যুগে যুগে বিভিন্ন নামে-বেনামে খারেজী দল বা ব্যক্তির আবির্ভাব হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বিগত শতাব্দীর বড় আলেম যারা ইতিমধ্যেই মৃত্যুবরণ করেছেন যেমন - শায়খ আব্দুল আজীজ বিন বাজ, শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী, শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমিন এবং বর্তমানে বড় ওলামাদের মধ্যে যারা জীবিত আছেন যেমন - শায়খ সালেহ আল-ফাওজান, শায়খ আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ, শায়খ সালেহ আল-লুহাইধান...এমন বহু আলেম বর্তমান যুগের খারেজী বা খারেজী আকীদা রাখে এমন ব্যক্তি বা সংগঠন নিয়ে স্পষ্ট ভাষায় উম্মতকে সতর্ক করেছেন।

আমাদের দেশে খারেজী আকীদার একটা সংগঠন হচ্ছে জেএমবি, যাদের নেতা হচ্ছে তাদের কথিত শায়খ আব্দুর রহমান (চাউলের ব্যবসায়ী) এবং বাংলা ভাই (আসল নাম সিদ্দিকুর রহমান, বাংলার টিচার)।

এই অজ্ঞ লোকগুলো কিছু খারেজী আকীদার লোকের লেখা পড়ে বাংলাদেশে #জিহাদ ঘোষণা করে এবং বোমা মেরে মানুষ মারার যে সন্ত্রাসী কার্যক্রম তা বাংলাদেশে আমদানি করে মুসলমানদের মনে ত্রাসের সৃষ্টি করে। ততকালীন ক্ষমতাসীন সরকারী দলের মন্ত্রী এমপিরা তাদের দিয়ে কাজ করিয়ে যখন প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়, তখন আমেরিকার চাপে তারাই তাদেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে। তারা নিহত হলেও রেখে যায় তাকফিরি খারেজীদের নিকৃষ্ট বিষ, তাদের অন্ধভক্ত সরলমনা মুসলমানদের অন্তরে।

যাই হোক, ইসলামের নামে, জিহাদের নামে এমন খারেজী আকীদার সন্ত্রাসী কার্যকলাপের আসল চেহারা উন্মোচন করে খারেজী আকীদা কি ও খারেজীদের ইতিহাস নিয়ে অসাধারণ একটা বই লিখেন ডা খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাংগীর। আপনারা আব্দুল্লাহ জাহাংগীর স্যারের লেখা এই আর্টিকেলটা পড়তে পারেন, সংক্ষেপে খারেজীদের সম্পর্কে জানার জন্য।

ইসলামের ইতিহাসে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদঃ একটি পর্যালোচনা

http://assunnahtrust.com/site/?page_id=770

উল্লেখ্য, জেএমবির মতো দল যারা বোমাবাজী করে মানুষ মারে ও খারেজী আকীদার রাখে তাঁদের বিরুদ্ধে লেখালিখি করার কারণে, জসীম উদ্দিন রাহমানী নামের এক লোক ও তার অন্ধ ভক্তরা আব্দুল্লাহ জাহাংগীর স্যারের নামে আজেবাজে কথা বলা শুরু করে। কারণ হচ্ছে, স্যার খারেজীদের বিরুদ্ধে লিখেছেন আর তার এবং তার দলের অনুসারীদের মাঝেও খারেজীদের কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, সেইজন্য ক্ষেপে গিয়ে তারা আব্দুল্লাহ জাহাংগীর স্যারের নামে খারাপ কথা বলা শুরু করে।

যাইহোক, পরবর্তীতে জিহাদ নিয়ে ফতোয়াবাজি করে নিজের মূর্খতা প্রকাশ করা এই লোকটাকে আপনারা বর্জন করবেন। বড় বড় ওলামা যেমন শায়খ বিন বাজ, শায়খ উসাইমিন, শায়খ আলবানী তাঁদের বই বা ফতোয়া থেকে দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করবেন। মনে রাখবেন, যে বেদাতী, খারেজী, কবর, মাযার পূজারী সে কিন্তু মায়ের পেট থেকে এইরকম হয়ে জন্মগ্রহণ করেনি। বড় হয়ে #বেদাতী হুজুরের ওয়াজ শুনে, মূর্খ লোকদের বই পড়েই কিন্তু সে বেদাতী হয়েছে। যাচাই-বাছাই ছাড়া, শুধু ওয়াজ শুনতে ভালো লাগে, ভালো লিখে এর ভিত্তিতেই সবার কথা শুনতে থাকেন, সম্ভাবনা আছে আপনিও একদিন নিজের অজান্তেই কোন বেদাতীর পাল্লায় পড়ে সাহাবীদের তরীকাকে হারিয়ে ফেলবেন (আল্লাহু মুস্তাআন)।


আল্লাহ আমাদেরকে আহলে সুন্নাত ও ওয়াল জামাতের অনুসারী হিসেবেই মৃত্যু দান করুন, আমিন। 

বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৪

জাহান্নামে প্রবেশ করবেনা এমন কোন মানুষ আছে কি?

দাঁড়ি নিয়ে লজ্জা? মুসলিম ভাইদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি...

বর্তমান যুগে (জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত) একটা মেয়ে  #অর্ধনগ্ন হয়ে রাস্তায় চলাফেরা করতে পারে, ওড়না ছাড়াই বা ওড়না গলায় পেচিয়ে, টাইট, গায়ের চামড়া দেখা যায় এমন কাপড় পড়ে চলাফেরা করতে পারে আর আপনি একজন পুরুষ হয়ে নবী সাঃ এর আদেশ মেনে দাঁড়ি রাখতে লজ্জা বোধ করেন?

বিষয়টা ভাবা উচিত, যাদের লজ্জা বেশি করা উচিত আজকে তারাই হচ্ছে বেহায়া, আর লজ্জা যাদের জন্য কাপুরুষতা (সব সময়ে নয়, কখনো কখনো), আজকে ইসলাম মানতে গিয়েই তারাই লজ্জার কাছে পরাজিত?? 

জেনে রাখুন!
জাহান্নামে যেই যাবে - সে NASA র কাফের সাইন্টিস্ট হোক, আর বড় বড় ডিগ্রীধারী ফাসেক, বেদ্বীন মুসলমানই হোক সবার কথা একটাই হবে,
হায়! আমরা যদি শুনতাম ও বুদ্ধি খাটাতাম তাহলে আজকে আমরা আগুনের মাঝে প্রবেশ করতাম না
সুরা মুলক।

জাহান্নাম কি?
সেটা হচ্ছে উত্তপ্ত আগুনের বাসস্থান। আগুনে মানুষকে পুড়িয়ে শাস্তি দেওয়ার জায়গা। দুনিয়াতে কিছুক্ষণ আগুনে পুড়লেই মানুষ মারা যায়, আগুন বুকের ভেতরে প্রবেশ করার আগেই। কিন্তু জাহান্নামীদেরকে ওহুদ পাহাড়ের থেকেও অনেক বড় করে দেওয়া হবে, আর সেখানে তারা মরবেও না, বাচবেও না। সেইজন্য আগুনে পুড়তে পুড়তে আগুন তাদের বুকের ভেতর পর্যন্ত প্রবেশ করবে। আগুনের গরমে এতো বেশি পিপাসার্ত হবে যে, তারা পানি খেতে চাইলে পচা দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ, ফুটন্ত গরম পানি, জাহান্নামে শাস্তিপ্রাপ্ত যিনাকারী নারীদের লজ্জাস্থান থেকে নির্গত পানি খেতে দেওয়া হবে। এইগুলোই তারা উটের মতো ঢোকঢোক করে গিলে খাওয়ার চেষ্টা করবে।

কিন্তু হায় আফসোস!!  
এইগুলো তাদের পিপাসা তিল পরিমান দূর করবেনা। এতো গরম হবে যে, মুখে নেওয়া মাত্রই উপরের ঠোট পুড়ে কপালে চলে যাবে আর নিচের ঠোট পুড়ে বুক পর্যন্ত ঝুলে যাবে। আর গরম পানি খাওয়ার ফলে তাদের পেটের নাড়ি-ভূড়ি পেছনের রাস্তা দিয়ে বের হয়ে যাবে...

কোন মানুষ চিন্তাও করতে পারবেনা আল্লাহর অবাধ্যতা ও নাফরমানীর শাস্তি কত মারাত্মক হতে পারে। যদি বুঝতো তাহলে কোন মানুষ কোনদিন খারাপ কাজ করতে পারতোনা।

এক হাদীসে আছে, আল্লাহ জাহান্নাম বানানোর পরে জিব্রাঈল আঃ কে পাঠালেন যাও দেখে আসো জাহান্নাম কেমন জায়গা। জিব্রাঈল আঃ জাহান্নামের ভয়াবহতা দেখে আশ্চার্যন্বিত হয়ে বললেন, হে আল্লাহ জাহান্নাম এতো খারাপ জায়গা? এই জায়গার ভয়ে কোন মানুষ কি এতে প্রবেশ করবে?
আল্লাহ বললেন, তুমি যাও আবার জাহান্নাম দেখে আসো।
২য় বার জাহান্নাম দেখে এসে জিব্রাঈল আঃ বললেন হে আল্লাহ! জাহান্নামে প্রবেশ করবেনা এমন কোন মানুষ আছে কি?

কারণ জাহান্নামকে ঢেকে রাখা হয়েছে #শাহওয়াত বা কামনা-বাসনা দিয়ে। আর প্রতিটা মানুষই নিজের নফস বা প্রবৃত্তি ও কামনা বাসনা অনুযায়ী চলতে পছন্দ করে।

চরিত্রহীন অবৈধ প্রেম-ভালোবাসার গান শুনতে ভালো লাগে, জেনা-ব্যভিচারের ও যৌন কামনাকে উস্কে দেয় এমন হিন্দী নাটক সিনেমা দেখতে অভ্যস্ত ভালো লাগে, নারী-পুরুষের অবৈধ সম্পর্ক, যোগাযোগ, ভালোবাসা, বন্ধুত্ব ও পরকীয়া, যিনা, হারাম টাকা-পয়সা, ইনকাম ও খাবার, মদ-জুয়া, সিগারেট, একজনের আড়ালে আরেকজনের গীবত করে আনন্দ পায় আরো কত শত যে কারণ আছে যা মানুষের শাহওয়াত দ্বারা ঢেকে রাখা হয়েছে কিন্তু পরিণতি হচ্ছে জাহান্নামের #আগুন।


আল্লাহ আমাদেরকে শোনার ও সত্যিকারের বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করার তোওফিক দান করুন, আমিন।

নিয়ত নিয়ে প্রশ্নের উত্তর


ভাই আমরা ভক্ত হবো রাসুল সাঃ এর, তিনি যা বলেন সেটাই চূড়ান্ত, কোন মানুষের কথা দাম দিতে গেলে - একেকজন একেক কথা বলে, সেইজন্যই মতবিরোধ হয়। আপনার মক্তবের হুজুর এক কথা বলে আবার আরব দেশের অন্য মক্তবের হুজুরেরা অন্য কথা বলে, সেই জন্য ২ দলই যদি কথা বলে তর্ক ও মতবিরোধ হয় তাহলে মসলমানদের ঐক্য নষ্ট হবে। তার চেয়ে কেমন হয়, কারো কথায় না গিয়ে আমরা রাসুল সাঃ এর আদর্শকে যদি ২জনেই মেনে নিই আমাদের মাঝে কোন মতবিরোধ হবেনা। আর মুসলমানদের সকল মতবিরোধের সমাধান এইভাবেই করতে হবে।

এবার আপনার প্রশ্নের ব্যপারে আসি...
 
রাসুল সাঃ বলেছেন,
তোমরা ঠিক সেইভাবে নামায পড়ো যেইভাবে আমাকে নামায পড়তে দেখেছো। 
সহীহ বুখারী।

রাসুল সাঃ কি নামায শুরু করার আগে নাওয়াইতুয়ান উসালিল্লাহি তাআ
লা এই দুয়া পড়ে নিয়ত করতেন? কেউ যদি বলে, হ্যা করতেন তাহলে তাঁকে জিজ্ঞাস করুন, এই কথার দলীল কি? ক্বুরানের কোন সুরাতে অথবা সহীহ কোন হাদীসে আছে এই দুয়া পড়ে রাসুল সাঃ নামায পড়তেন? যদি থাকে তাহলে আয়াত নাম্বার বা হাদীস নাম্বার কত আমাদেরকে বলবেন, আমরা ইন শা আল্লাহ খুঁজে দেখবো।

কিন্তু সত্য কথা হচ্ছে, রাসুল সাঃ এই দুয়া পড়তেন
এইরকম কোন প্রমান নেই, এই দুয়া আসলে মক্তবের হুজুরেরা আর বোগদাদী কায়দার লেখক সাহেবেরা বানিয়ে নিয়েছে, আর এইরকম দুয়া করে নামায শুরু করা বেদাত।

বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী......যেকোন হাদীসের কিতাব খুলে দেখুন
রাসুল সাঃ আল্লাহু আকবর নামায শুরু করতেন, নাওয়াতু...এই দুয়া পড়তেন না। নাওয়াইতু না পড়ে যদি রাসুল সাঃ এর নামায হয়ে যায় আমার আপনার কেন হবেনা? নবীকে পাঠানোই হয়েছে তাঁকে হুবুহু ফলো করার জন্য। হুজুর সাহেবকে ফলো করতে হয় নাই।

#নিয়ত_কিভাবে_করতে_হবে?

নিয়ত অর্থ হচ্ছে
কোন কাজ করতে ইচ্ছা করা বা সংকল্প করা

নিয়ত করতে হবে অন্তরে, মুখে উচ্চারণ করে দোয়া পড়েনা। এর জন্য কোনো দুয়া পড়তে হবেনা বা মুখে কোনো কিছু বলতে হবেনা।

নামায পড়ার জন্য
আপনি কোন ওয়াক্তের কত রাকাত কি নামায (ফরয/সুন্নত/নফল) পড়ছেন - অন্তরে শুধুমাত্র এই ধারণা বা ইচ্ছা থাকলেই নিয়ত করা হয়ে যাবে।
প্রত্যেক কাজের শুরুতে এইরকম অন্তরে নিয়ত করে নেওয়া
ফরয

যে কোনো আমলের পূর্বে নিয়ত না করলে, সেটা কবুল করা হয়না। কিন্তু মুখে নাওয়াইতু দোয়া পড়ে উচ্চারণ করে যে নিয়ত পড়া হয় সেটা হচ্ছে বেদাত
কারণ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এইভাবে দুয়া করতেন না। মনে রাখবেন, আমলের পূর্বে অন্তরে নিয়ত করা ফরয, কিন্তু মুখে উচ্চারণ করে নাওয়াইতু দুয়া পড়া নিয়ত করা বেদাত।

সর্বশেষঃ নিয়ত করা ফরয, নিয়ত পড়া বেদাত।

বুঝাতে না পারলে ক্ষমাপ্রার্থী।

নামায ও রোযার জন্য নিয়ত কিভাবে করতে হবে?

# প্রত্যেক কাজের আগে নিয়ত করা ফরয। নিয়ত অর্থ হচ্ছে ইচ্ছা করা বা সংকল্প করা। নিয়ত ছাড়া কোনো ইবাদত আল্লাহ কবুল করেন না।

ধরুন কেউ একজনকে টাকা দান করলো
কিন্তু সে এর টাকা দেওয়ার আগে সে আল্লাহর কাছে কোনো সওয়াব বা প্রতিদানের আশা করলোনা তার মানে হলো সে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নিয়ত (ইচ্ছা) করে নাই। তাই আল্লাহ তাআলা তাকে কোনো সওয়াব দেবেন না। কিন্তু সে যদি টাকা পয়সা দান করা বা যেকোনো একটা নেক আমলের আগে শুধুমাত্র এক আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নিয়ত করে, তাহলেই কেবলমাত্র সে এর বিনিময়ে প্রতিদান পাবে।

নামাযের নিয়ত কিভাবে করতে হবে?
আপনি যখন ওযু করছেন তখন আপনার ইচ্ছা থাকে নামায পড়া। এইযে আপনি ইচ্ছা করলেন অথবা মনে মনে চিন্তা করলে নামায পড়ার জন্য
এটাই হচ্ছে আপনার নিয়ত। 
আর যখন জায়নামাযে দাড়াবেন নামায পড়ার জন্য, তখন শুধু আপনি মনে মনে ঠিক করে নেবেন
এটাকি সুন্নত নামায না ফরয নামায? যদি কোনো সুন্নত নামায পড়েন তাহলে মনে মনে ঠিক করে নেবেন এটা সুন্নত নামায। এর পরে আল্লাহু আকবার বলে তাকবীর দিয়ে হাত বাঁধবেন। আপনি এভাবেই নামায শুরু করবেন। এর পরে যদি ফরয নামায পড়তে চান তাহলে তার আগে মনে মনে ঠিক করে নেবেন এটা আমার ফরয নামায।

আর বাগদাদী কায়দায় দেওয়া
নাওয়াইতুয়ান উসা লিল্লাহি তাআলা... এইরকম দুয়া কুরআন হাদীসের কোথাও নাই, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এইভাবে এই দুয়া পড়ে নিয়ত করতেন না। এটা আমাদের দেশীয় মাওলানা সাহেবরা বানিয়ে নিয়েছেন, যা একটা বিদআত। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমাদেরকে তাঁর মতো নামায পড়তে আদেশ করেছেন (বুখারী), হুজুর মাওলানা সাহেবের বানানো তরীকায় নামায পড়তে বলেন নাই।

রোযার নিয়ত কিভাবে করতে হবে?
রমযান মাসে রোযা থাকা ফরয। রাতের বেলা আপনার যদি নিয়ত থাকে আগামী কাল আপনি রোযা থাকবেন, অথবা সাহরীর সময় উঠে খাওয়া দাওয়া করেন এবং মনে মনে চিন্তা করেন আগামী কাল রোযা থাকার, তাহলেই আপনার নিয়ত করা হয়ে যাবে।

সাহরী ও ইফতারির ক্যালেন্ডার বা বিভিন্ন বই-পুস্তকে যে দুয়া
নাওয়াইতুয়ান আসামু গাদামান... এইরকম দুয়া কুরআন হাদীসের কোথাও নাই, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এইভাবে এই দুয়া পড়ে নিয়ত করতেন না। এটা আমাদের দেশীয় মাওলানা সাহেবরা বানিয়ে নিয়েছে যা একটা বিদআত। আর বিদআত মানেই হলো পরিত্যাজ্য।

আর রমযানের বাইরে, আপনি যখন অন্য নফল, সুন্নত অথবা কাযা রোযা রাখবেন তখন আপনি রাতের বেলা বা ঘুম থেকে উঠে সাহরী খাওয়ার পরে মনে মনে ঠিক করে নেবেন
আমি আগামী কাল অমুক রোযা (বৃহস্পতিবারের সুন্নত রোযা/বিগত রমযানের অমুক কাযা রোযা/আরাফার সুন্নত রোযা) রাখবো।

উল্লেখ্যঃ নফল/সুন্নত রোযার জন্য কেউ যদি আগে থেকে নিয়ত করে না রাখেন, আর ঘুম থেকে উঠে ফযরের ওয়াক্ত হয়ে যাওয়ার পরেও রোযা থাকার নিয়ত করতে পারবে। তবে যত সময় পরে করবেন
ঐ সময়টকুর জন্য নিয়ত না থাকায় ততটুকু অংশের সওয়াব মিস করবেন। 

আপনি এভাবেই নামায ও রোযার জন্য নিয়ত করবেন।